«

»

Oct ০৩

এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কি দরকার নাই? 

মানুষের দেহের রোগ মানব জীবনের এক বড় সমস্যা আর এই সমস্যার সমাধানে মানুষের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় বলতেই হয়।  ভাবতে অবাক লাগে মানব দেহের রোগের যেন অন্ত নাই আর সে রোগ সারাতে কত জাতের ঔষধ বাজারে আসছে আর বড় বড় মাল্টিনেশন্যল ঔষধ কোম্পানীরা কুটি কুটি টাকা মুনাফা লুটছে! এক অসুখ সারাতে ঔষধ খেয়ে তার সাইড এফেক্ট আরেক রোগের জন্ম দিচ্ছে। তবে রোগ আরোগ্যের এই চক্রে মানব সভ্যতা কিন্তু অনেক দূরে অগ্রসর হচ্ছে বলে অনেকেই ভাবতে পারেন! যুক্তি হবে বড় বড় মাল্টিনেশন্যল ঔষধ কোম্পানীরা যেমন লাভবান হচ্ছে ও পুঁজিবাদীরা তাদের পুঁজি যেমন বৃদ্ধি করতে পারছে তেমনি হাজার হাজার লোক তাদের কোম্পানীতে চাকুরীও পাচ্ছে । তাহলে মানুষের দেহের রোগের বিস্তার মানব সভ্যতা ও উন্নতির সহায়ক বলতে হবে তাই নয় কি? তবে দেহ রোগের আরোগ্যের জন্য এত প্রচেষ্টা থাকলেও মনের রোগের চিকিৎসায় তেমন কোন চিন্তা ভাবনা বর্তমান সভ্যতার নাই! হয়তবা এ জন্য যে তাতে মানবতার কল্যাণ হবে কি না নিশ্চত না হলেও সেথায়  অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার যে সুযোগ নাই এবং পুজিবাদীর স্বার্থ নাই সে কথা স্বীকার করতেই হয়! আর বর্তমান সভ্যতার আসল কথা হল যেখানে অর্থ উপার্জনের সুযোগ নাই সে চিন্তা করারা দরকার নাই! সেটি শুধূ বোকারাই করতে পারে।  

কেউ হয়তবা বলবে কি বলেন ভাই, মনের রোগের চিকিৎসা  নাই?  আমাদের দেশে পাবনাতে কি পাগলা গারদ নাই? আমেরিকা ইউরোপের এত বড় বড় মনস্তাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক এরা কি কিছুই করছে না?"

আপনার প্রশ্ন সঠিক মনে হলেও আমি যে রোগের কথা বলছি এরা কেউ সে রোগের  চিকিৎসা করে না বা করতে চায় না এবং  তাদেরকে সে প্রশিক্ষণও দেয়া হয়না। তারা পারে আপনার মস্তিষ্কের ভিতরে সমস্যা দেখা দিলে নিউরোলজিষ্ট যখন কিছু করতে পারেনা তখন সাইকোলজিষ্ট বলবে আপনি মানসিক রোগী, ডিপ্রেশনে পড়েছেন কিংবা আবুল তাবোল বকছেন এক কথায় উন্মাদ হয়ে গিয়েছেন তাই আপনাকে শান্ত করার প্রচেষ্টায় তখন অর্থের বিনিময়ে কোন একটি ঔষধ কিংবা ইনজেকশন পুশ করবে, কিছুদিন হাসপাতালে রাখবে, কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আপনার সাথে বসে আপনাকে থেরাপি দিয়ে পজিটিভ চিন্তায় অনুপ্রাণিত করবে।  তবে আমি সে মানসিক রোগের কথা বলছিনা আমি বলছি  সেটি মানুষের ঠাণ্ডা মাথায় উন্মাদ না হয়েও সৃষ্টি হয় সে রোগের কথা। যে রোগের কারণে মানুষ তার স্রষ্টাকে নিয়ে ভাবতে চায় না, সে চিন্তাও সে করতে চায়না। "ফি ক্বুলুবিহিম মারাদুন্ন –  তাদের হৃদয় তথা অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত …. – আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা অশান্তি সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো শান্তি স্থাপনকারী।" (আল কোরআন ২: ১০-১১),  আমি সেই রোগের কথা বলছি যার কারণে মানুষের মনে জবাবদিহিতার আত্মচেতনা জাগে না ফলে পৃথিবীতে ঘটছে নানা অন্যায় অত্যাচার।

আজ সভ্যতার এত উন্নতির পরেও দেশে দেশে কত মানুষের জীবন বিপন্ন! তাদের জান মাল বাড়িঘর, মান ইজ্জত  কিছুই সুরক্ষিত নয়। যার ফলে এ পৃথিবীতে মানুষ পশু থেকে নিরাপদ থাকতে পারবে মনে হলেও মানুষ থেকে মানুষ নিরাপদ নয়। অসহায় মানুষের প্রতি নির্মম ব্যবহারে মানবতা কি করুন অবস্থা হয় তা বিশ্বাস না হলে জিজ্ঞাসা করেন উখিয়া ক্যাম্পের সেই হতভাগা পিতা মাতাকে। সম্প্রতি এক সাংবাদিকের রিপোর্টে আসে " সেই হতভাগা পিতা মাতা সন্তান হারিয়ে যারা এখন পাগলপারা। এর মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধ পিতা। সন্তানের কথা বলতেই ঢুকরে কেঁদে উঠেন। একটি ছবি হাতে দিয়ে বলেন, ছবিই আমাদের একমাত্র শেষ সম্বল। নৃশংসভাবে ছেলেকে হত্যা করে মগ বাহিনী। ধরে নিয়ে যাওয়ার সাতদিন পর বাড়ির পাশে ফেলে যায় একমাত্র ছেলে সালেহ আহমেদের ক্ষতবিক্ষত লাশ। তারপর তাদের এসে বলে যায়, বাংলাদেশে চলে যেতে, নচেৎ পুরা পরিবারকে পুড়িয়ে দেয়া হবে। তাই প্রাণ বাচাতে আসতে হয় বাংলাদেশে।"  জিজ্ঞাসা করেন বাংলাদেশের আশ্রয় কেন্দ্রে সেই অবুঝ এতিম ছেলে মেয়েদেরকে যাদের সামনে তাদের পিতামাতাকে হত্যার সেই ভয়ঙ্কর তাজা স্মৃতি নিয়ে কান্নায় তাদের বুক ভিজচ্ছে!  রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমার সেনাবাহিনীর আত্যাচারের শত শত ছবি আসছে সামাজিক মিডিয়া ও টিভিতে। অনেকে  মনের   কষ্টে  এখন আর সে সব দেখতেও চায় না! এখানে দেখেন।
ইতিহাস সাক্ষী দেয় রোহিঙ্গারা গত কয়েক শতাব্দী ধরে মায়ানমারে বসবাস করে আসছে কিন্তু সে দেশের সরকার সেনাবাহিনীর অত্যাচারে  লাখো লাখো মানুষ তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয় এবং মানবত্বর জীবন কাটাচ্ছে বাংলাদেশের আশ্রয় কেন্দ্রে। এদের সংখ্যা অচিরেই দশ লক্ষের উপরে অর্থাৎ মিলিয়নের উপরে ছাড়িয়ে যাবে!  কি কষ্ট কত যন্ত্রণা!
রোহিঙ্গারা ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিশেষ করে প্যলেষ্টাইনে গত ৬০ বছর ধরে কি হচ্ছে আমারা জানি। একসময় ছিল তাদের প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর রাজা বাদশাহরা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল এখন তেমন নাই। এখন তাদের প্রাধান্য অন্য কিছুতে। আরব বসন্তকে পরাজিত করে তারা ব্যস্ত যাতে ভবিষ্যতে আর কখনও সে সব দেশে গণতন্ত্রের নাম কেউ না নিতে পারে সে ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা। মিশরে কি হয়েছে আমরা দেখেছি, সিরিয়া ও ইয়েমেনে কিভাবে অসংখ্য মানুষ মরছে তা তো আমরা জানি। এ সবই হচ্ছে কারণ মানুষ তার মনের রোগের চিকিৎসা করতে ইচ্ছুক নয়। ওদের মনে যে আসলেই কোন রোগ আছে সেটি তারা বিশ্বাস করতে চায় না!

কিন্তু সভ্যতার লেবাস পরে মানুষ কেন এই অবস্থায় উপনিত হল এর উত্তর খোঁজারকি দরকার নাই? 

৪ comments

Skip to comment form

  1. 3
    মোঃ সুমন চৌধুরী

    সকল দেশের মুসলিমদের এক হতে হবে ।

  2. 2
    Ahnaf

    আপনি প্রজ্ঞা বলতে কি বুঝাতে চাচ্ছেন ভাই?

  3. 1
    Md Amir

    আল্লাহ্‌ কোরানে বলেন, তোমরা ইসলামের পথে আহবান কর প্রজ্ঞার সাথে। 

    প্রজ্ঞা কি জিনিষ? বেশীর ভাগ তাবলিগ জামাতীদের মধ্যে প্রজ্ঞা জিনিষটা নেই- তা লক্ষ্য করেছি। সহমত।

    1. 1.1
      মহিউদ্দিন

      “তাবলিগ জামাতীদের মধ্যে প্রজ্ঞা জিনিষটা নেই”

      আপনার এ কথা আমার এ লিখার সাথে প্রাসঙ্গিক লাগেনা। যাক সদালাপে স্বাগতম। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.