«

»

Nov ০৫

কিছু কথা কিছু ভাবনা

ভুমিকা

আধুনিক বিজ্ঞানের কোন ছাত্রকে matter বা পদার্থের সংজ্ঞা জিজ্ঞাসা করলে হয়তবা সে বলবে পদার্থের অনেক সংজ্ঞা আছে, তবে সাধারণভাবে পদার্থ সংজ্ঞায়িত করা হয় এমন উপাদান হিসেবে যা স্থান দখল করে এবং এর ভর আছে। পদার্থের মৌলিক উপাদানে থাকে এটম বা পরমাণু তাই প্রতিটি বস্তুর অস্তিত্বে আছে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতম পরমাণু তথা এটমের সংযোজন। পদার্থ  মূলত পরমাণু দিয়ে গঠিত,যারা আবার প্রোটন,নিউট্রন,এবং ইলেকট্রন দিয়ে গঠিত হয়। তাহলে বুঝা যায় এটম বা পরমাণু হচ্ছে পদার্থের সর্বনিম্ন একক উপাদান যা একটি উপাদানের সমস্ত রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে। বিজ্ঞান প্রমান করে atoms and molecules are always in motion এটম স্থির নয় এবং সর্বদা চলন্ত অবস্থায় ।  আমাদের নজরে না পড়লেও এ প্রক্রীয়া সব সময় চলছে!

আমরা অনেকে হয়তবা জানিনা বা খোজ রাখিনা যে আমাদের শরীরের কোষগুলোও (body cell) নিয়মিতভাবে  ঝরে পড়ে গিয়ে সে শরীর তার নিজস্ব চরম পরিবর্তন করে যাচ্ছে!  আমাদের দেহের কোষগুলি ক্রমাগত বিভক্ত, পুনর্জন্ম এবং মরন হয়। তবে প্রতিটি কোষের জীবনচক্র ভিন্ন। আসলে,শরীরের ৯৮% পরমাণু প্রতি বছর প্রতিস্থাপিত হয়। আর প্রতিস্থাপনের এ প্রক্রীয়ায় প্রতিটি মানুষের দেহ তার জীবনে অনেক বার রিমডেলিং হয়। তাই আজ আপনি আপনার শরীরের যে অংশ স্পর্শ করছেন একটু পরে সেখানে হাত রাখা মানে আপনি আগের জায়গায় হাত রাখছেন বলতে পারেন না। কাল আপনি যাকে জড়িয়ে ধরে কামনাতৃপ্তিতে পুলকিত হয়েছেন বা তার কোন অঙ্গ স্পর্শ করে আদর করেছেন আজ আবার তা করলেও কালকের স্পর্শ আর আজকের মাঝে অনেক তফাৎ আছে। উভয়ের দেহ অঙ্গের যে অনেক অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে তা আমরা বুঝতেই পারিনা।

তা হলে বুঝা গেল বস্তু জগতে এখানে সব কিছু সদা পরিবর্তনশীল আর সৃষ্টি জগতের কোন বস্তু আমাদের চোখে প্রতিনিয়ত একই রকম দেখতে লাগলেও সে যে সব সময় ভিন্ন তা স্বীকার করতে হবে। তাই প্রশ্ন জাগে বিভিন্ন মুহূর্তের তথাকথিত বাস্তবতার আমাদের এই পর্যবেক্ষণ our observation of reality, is it really real as we perceive ?  চিন্তা করেন আল্লাহর সৃষ্টি কত রহস্যময়! আল্লাহর মহত্ব ও মহিমা বুঝতে হলে অনেক নিদর্শন একজন বিশ্বসীর কাছে প্রকাশ পেতে পারে।

প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এ দুনিয়ায় মানুষের মন ও প্রকৃতিও পরিবর্তন হচ্ছে তাই মানুষের পক্ষে সঠিক রাস্তায় চলাও খুবই কঠিন। আপনার আমার ঈমান তথা আল্লাহর উপর বিশ্বাস আর আস্তাও  কিন্তু পরিবর্তনশীল। আপনি অনেক লেখা পড়া করে ভাববেন আপনার বিশ্বাস আগের মত থাকবে তা আশা করতে পারেন না। নানা প্রশ্ন না ভাবনা আপনার ঈমানকে দূর্বল করে দিতে পারে আবার বাড়িয়ে দিতে পারে! এক মাত্র আল্লাহর বিশেষ দয়া ছাড়া সঠিক পথে চলা দুস্কর। এজন্য সুরা ফাতিহায় আমাদেরকে শিখানো হয়েছে," ইহদিনাস সিরাতাল মুসতাকি’-ম" অর্থাৎ আমাদেরকে সরল পথ দেখাও। এখানে  মহান আল্লাহর সাহায্য চাওয়া শিখানো হয়েছে । আল্লাহর সাহায্য ছাড়া উপায় নাই।

একিভাবে মুসলমানদেরকে আরো দোয়া শিখানো হয়েছে। রাসুল সাঃ) নিয়মিত যে সকল দোয়া করতেন তার অন্যতম একটি হচ্ছে: ইয়া মুক্বাল্লিবাল কুলুবি ছাব্বিত ক্বালবি আলা দ্বীনিকা। অর্থঃ হে মনের গতি পরিবর্তনকারী,আমার মনকে সত্য দ্বীনের উপর স্থিত কর।

আমরা পবিত্র কোরআন থেকে আরো শিখতে পাই, রব্বানা লা তুজিগ কুলুবানা বাদা ইজ হাদাইতানা ওয়া হাবলানা মিল্লাদুনকা রহমআতান ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহাব।“ 

অর্থ:
"হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে সত্যলংঘনে প্রবৃত্ত করোনা এবং তোমার নিকট থেকে আমাদিগকে অনুগ্রহ দান কর। তুমিই সব কিছুর দাতা।"
***সুরা আলে ইমরান; আয়াত: ৩:৮।  আমীন।

প্রশ্ন জাগে। 
আসলেই আমরা কি সত্যিকার ভাবে আমাদেরকে চিনতে পেরেছি? মানূষ হিসাবে আমাদের সীমাবদ্ধতা এবং দুর্বলতা সম্পর্কে কি সচেতন? আর কতটুকু ধৈর্য ও আন্তরিকতার সাথে আমরা আল্লাহর উপর আশা ভরসা রাখি?

চিন্তা করুন যে দিন এ পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার সময় আসবে তখন হয়ত আমার আপনার পাশে আমাদের স্ত্রী,ছেলে মেয়ে সহ পরিবারের অনেকই থাকবে। কিন্তু তারা পাশে থেকেও আপনার জীবন বাঁচাতে পারবে না! ওরা সবাই তখনও থাকবে এ পৃথিবীতে কেবল আপনি থাকছেন না চলে যেতে হচ্ছে তখন আল্লাহ ছাড়া কে আপনার ভরসা?

সে জন্য বিশ্বাসীরা সব সময় বলে "আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট;কতই না চমৎকার কর্ম বিধায়ক”। 
সহীহ বুখারীতে ইবন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, কুরআনের বাণী (হাসবুনাল্লাহ ওয়া নিমাল ওয়াকিল, নিমাল মাওলা ওয়া নিমান নাসির) এ বাক্যটি ইব্রাহীম আঃ তখন উচ্চারণ করেছিলেন যখন তাকে অগ্নিকুন্ডলীতে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। একই বাক্যটি নবী মুহাম্মদ (সাঃ) উচ্চারণ করেছিলেন যখন লোকেরা তাকে বলল, তোমাদের সাথে মোকাবেলা করার জন্য লোকেরা সমাবেশ করেছে বহু সাজ-সরাঞ্জম সুতরাং তাদের ভয় করুন। তিনি বলেছিলেন, হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল নিমাল মাওলা ওয়া নিমান নাসীর। (সূরা আল ইমরানঃ ১৩৭)

এবার আরো কিছু গভীরে আলোচনা করা যাক।

গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন : “The unexamined life is not worth living.” অর্থাৎ পরীক্ষাবিহীন জীবন যাপনের কোনো মূল্য নেই | প্রশ্ন আর উত্তরের দিয়ে তিনি জগতকে বুঝতে চেয়েছেন  অর্থাৎ তার দর্শন হল প্রশ্ন করা আর উত্তর খোঁজার মধ্য দিয়েই জীবনকে পরীক্ষা করা। সক্রেটিসের ছাত্র প্লাতোর দার্শন ছিল সব সময় কোন বিষয়ের চিরস্থায়ী প্রকৃত স্বরূপ জানতে হবে। এই পরিবর্তনশীল চাকচিক্য দেখে কোন কিছুর সঠিক ধারনা পাওয়া যায় না ।  

আরেক  দার্শনিক অ্যারিস্টটলের দর্শন ছিল  জ্ঞানসাধনা। তার মেটাফিজিক্স পুস্তেক যে কথাগুলো আছে তাতে প্রকাশ পায়  দার্শনিক প্রথমে একটা দুর্বোধ্য হেয়ালির সম্মুখীন হবে। তারপর সেই হেয়ালির সমাধান করার চেষ্টা করবে দর্শন শাস্ত্রের মাধ্যমে। দার্শনিকের জ্ঞান চর্চা হবে শুধু জ্ঞানের উদ্দেশ্যে,অর্থের জন্য নয়। আর এ খোঁজার পথে যেসব বস্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সেগুলিকে প্রথমে জানতে হবে তখনই হেয়ালির সমাধান পাওয়া যাবে। তার মেটাফিজিক্সের বেটা বই পড়লে এইরকম দার্শনিক হেয়ালির উদাহরণ ও সমাধান দেখা যায়। রোমান দার্শনিকগণ অনেক গুরুত্ব পূর্ণ কথা বলে গেছেন। অনেক  দার্শনিকদের কাজ হলো যা কিছু অনুভব করা যায় সেই সব কিছুকে পরীক্ষা করা। এই পরীক্ষার উপযুক্ত মানদন্ড নির্মান করা। তারা বলেন যা সত্য তার কোন বিরোধ বা contradiction থাকতে পারে না। বিরোধ বা contradiction হলো ভুল তথা মিথ্যা ।

প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিকগণ তাদের ন্যায়  দর্শনে ১৬ টা পদার্থের বিচারের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব লাভের কথা বলেছেন। এই পদার্থগুলি হলো : প্রমাণ, প্রমেয়, সংশয়, প্রয়োজন, দৃষ্টান্ত, সিদ্ধান্ত, অবয়ব, তর্ক, নির্ণয়, বাদ, জল্প, বিতণ্ডা, হেত্বাভাস, ছল, জাতি, নিগ্রহস্থান এইগুলি দিয়ে জাগতিক পদার্থের বিচারে সাহায্য করে। ওদিকে চীনা দার্শনিকদের মাঝে  কনফুসিয়াস-এর নাম উল্লেখযোগ্য। কনফুসিয়াস বলেছিলেন সমস্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা উচিত।

এ প্রসঙ্গে বলা যায় ইউরোপে খৃষ্টধর্ম বিকৃত হয়ে রোমান পাদ্রীদের কায়েমি স্বার্থের হাতিয়ার হয়ে যাওয়ায় মধ্যযুগে গ্যালিলিও, ব্রুনো, পারাসেলসাস ইত্যাদি বিজ্ঞানীরা যে ভাবে অত্যাচারিত ও নিগৃহীত হতে হয়েছিল সে রকম কোন উদাহরণ ইসলামের ইতিহাসে নাই।

বলা হয় দর্শন মানুষকে জগতের পদার্থগুলিকে পরীক্ষা করে হিতাহিত নির্ণয় করতে শেখায়। তাই ইসলামিক দৃষ্টিকোন থেকে দার্শনিক চিন্তাভাবনা কোন দুষের নয়। ইসলামী সভ্যতার স্বর্ণযুগে দর্শনিক চিন্তাভাবনা নিষিদ্ধ  ছিল না।

ইসলামী দর্শন বলতে কি বুঝায়?

“ইসলামী দর্শন (Islamic philosophy)দর্শন হল জীবন বিশ্বজগৎ নৈতিকতা সমাজ এবং মুসলিম বিশ্বের অন্তর্ভুক্ত আরও অনেক বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত সমস্যার উপরে নিয়মতান্ত্রিক গবেষণা, অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা। ইসলামী দর্শন মূলত দুই ভাগে বিভক্তঃ কালাম ও ফালসাফা। ফালসাফা গ্রিক শব্দ, এটি গ্রিক দর্শন থেকে উৎসরিত| অপরদিকে কালাম অর্থ কথা বা বক্তব্য,এটি যুক্তিতর্ককে দর্শনে ব্যবহার করে।  ৮ম শতাব্দীতে বাগদাদে সর্বপ্রথম স্বাধীনভাবে দার্শনিক অনুসন্ধান হিসেবে প্রাচীন ইসলামী দর্শনের উদ্ভব ঘটে| ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দী হল প্রাথমিক ইসলামী দর্শনের ব্যাপ্তিকাল, এ সময়কালকে ইসলামি স্বর্ণযুগ বলা হয়| দার্শনিক আল-কিন্দি এর সূচনা করেন এবং ইবনে রুশদের[৪] হাতে এই প্রাথমিক সময়কালটির সমাপ্তি ঘটে| ইসলামী দর্শন বলতে সাধারণত ইসলামী সমাজে সৃষ্ট দার্শনিক ভাবধারাকে বোঝানো হয়। সুত্র বিশ্বকোষ । এটির সাথে ধর্মীয় আনুষ্টানিকতা পালনে তথা মাসলা মাসায়েল বিষয়ের উপর ব্যখা দেয়ার দক্ষতাপূর্ণ ইমাম ও স্কলারদের মতামতের সম্পৃক্ততা নেই তাঁদের অনেকে এসব চিন্তা ভাবনা ফেতনা হিসাবে দেখতেন এবং এসব থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেছেন।

তবে আজ কাল অনেকে বলেন, ইসলামে বিশ্বাসী মুতাজিলিরা দর্শনের চোখ দিয়ে ইসলামকে বুঝতে ও কোরআনের দার্শনিক ব্যাখা দিতে যে চেষ্টা করেছিলেন সেটি সাধারন মুসলিম সমাজে বিভ্রান্ত ছড়াবে সে ভয় না করে সে সময় মুসলিম সমাজে তাদেরকে কিছুটা গুরুত্ব দিলে হয়তবা আজকাল দার্শনিক চিন্তা মানে ঈশ্বরকে না খুঁজার ও অস্বীকার করার যে প্রবণতা তা অনেকটা অবসান হত। সেই সাথে বেদাত আর আকিদা বিশ্বাসের নামে বর্তমান এক শ্রেনীর কট্টর সৌদি সালাফিদের আক্ষরিক কোরআনিক ব্যাখা দেয়ার বদলে যুক্তি ও দর্শন ভিত্তিক  ব্যাখায় ভিন্নমত সহনশীলএকটি শান্তিপূর্ণ সুষ্টু বুদ্ধিজীবী ও দক্ষ ধার্মিক সমাজ মুসলিম বিশ্বে গড়ে উঠতে সহায়ক হত। “আল্লাহু আলেম”।  

এ কথা ঠিক দার্শনিক চিন্তায় যদি বিশ্বের স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না পায় কিংবা আল্লাহ ও তাঁর রসুল (স:)শিক্ষাকে দর্শন দিয়ে বুঝানো না যায় সে দর্শনের কোন মূল্য নাই ইসলামে। এখানেই তফাৎ নাস্তিকতার দর্শন চিন্তা ও নবী রসুলের চিন্তাভাবনা ও আদর্শ।

আসলে দার্শনিকগণের জ্ঞান আসে তাঁদের নিজশ্ব প্রচেষ্টা ও চিন্তা ভাবনার প্রখরতা থেকে আর নবী রসুলদের চিন্তাভাবনা ও শিক্ষার উৎসহ হচ্ছে ঐশী জ্ঞান বা ওহীর জ্ঞান।

নবী রসুলদের মিশনের  পিছনে একমাত্র মহা বিশ্বের স্রষ্টার এবাদত ও নির্দেশ মেনে চলে সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছাড়া তাদের নিজশ্ব কোন স্বার্থ থাকেনা তার প্রমাণ আমরা যেমন শেষ নবী মোহাম্মদ (স:) এর জীবনে দেখতে পেয়েছি তেমনি অতীতের আন্যান্য নবীদের মাঝেও ছিল। (সুরা ইয়াসিন) “অতঃপর শহরের প্রান্তভাগ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায় তোমরা রসূলগণের অনুসরণ কর। অনুসরণ কর তাদের,যারা তোমাদের কাছে কোন বিনিময় কামনা করে না,অথচ তারা সুপথ প্রাপ্ত। আমার কি হল যে,যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে,আমি তাঁর এবাদত করব না?” (২১-২২)

নবীদের কাছে যখন ঐশী জ্ঞান বা ওহীর জ্ঞান আল্লাহ দেন এবং নবুয়তের দায়িত্ব দেন তখন ইচ্ছা করলেও তাদের পক্ষে ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয় যেমন কোরআনে আল্লাহ মোহাম্মদ (স:) হকুম দেন  “হে চাদরাবৃত! [ সুরা মুদ্দাসসির ৭৪:১ ] উঠুন, সতর্ক করুন” [ সুরা মুদ্দাসসির ৭৪:২ ]। একিভাবে আল্লাহ মুসা (আ:) কে তাঁর স্ত্রী ও সংসার নিয়ে মাদাইনে পড়ে থাকতে না  দিয়ে  সেই ফেরআউনের রাজ প্রসাদে গিয়ে তৌহিদের বানী প্রচার করতে হুকুম দেন। সে কাহিনী কম বেশী আমরা জানি।

নবীদের সাথে ওহী মারফৎ আল্লাহর কথোপকতন কি ছিল তা  আল্লাহ পবিত্র কোরআনে আমাদেরকে জানিয়েছেন। রসুলরা যেমন আল্লাহর বার্তাবাহক আর রসুলদের অনুসারীদেরও দায়িত্ব হল রসুলকে যে বার্তা দেয়া হয়েছিল তা প্রচারের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সমাজে একামতে দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করা যাতে সমাজে শান্তি শৃঙ্খলা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে সে প্রচেষ্টার কৌশল (strategy) ও যৌক্তিক উপস্থাপনা (presentation) হতে হবে সময়োপযোগী।

আমাদেরকে কোরআনের আয়াতের তরজমা করে ধারনা দেয়া হয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হিদায়ত দেন আর যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন বা হিদায়ত দেন না! কথাটা কি সত্যি? যে আল্লাহ মানুষের স্রষ্টা ও রিজিক দাতা তিনি কিভাবে তার সৃষ্টিকে বিভ্রান্ত হতে ছেড়ে দিবেন? সত্যি কথা হচ্ছে আল্লাহ তার বান্দাকে সঠিক পথে চলার জন্য যুগে যুগে নবী রসুল পাঠিয়েছেন যারা তা গ্রহণ করেছে তারা সঠিক পথ পেয়েছে আর যারা তা গ্রহণ করতে চায় না তাদেরকে বিভ্রান্ত হতে আল্লাহ বাধা দেন না। অর্থাৎ যে অবিশ্বাসী কিংবা বিশ্বাসে আন্তরিক নয় ও বিভ্রান্ত হতে চায় আল্লাহ তাকে সে সুযোগ দেন এই অর্থে উপরোক্ত কথা বুঝতে হবে। আবার কেউ ভুল করে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর রাস্তায় ফিরে আসলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন বলেছেন। (সুরা যুমার)।

আল্লাহ হচ্ছেন বিশ্বাসীদের তথা যারা ঈমান এনেছে তাদের সহায়ক এবং তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথ দেখান আর যাদের ঈমান নাই তাদের সহায়ক হচ্ছে তাগুত শক্তি তখন আল্লাহ সে ব্যক্তিকে আলো থেকে অন্ধকারে নিয়ে যান। (সুরা বাকারা) অতএব হেদায়তের ব্যপারে কোন জবরদস্তি নাই। লা ইকরাহা ফিদ দ্বীন। আল্লাহর মহত্ব ও মহিমা বুঝতে হলে অনেক নিদর্শন একজন বিশ্বসী কাছে প্রকাশ পেতে পারে যখন সে চিন্তা ভাবনা করে।

আজকাল দেখা যায় অনেকে সুন্নাহ ও হাদিসের মাঝে তফাৎ যে আছে তা বুঝতে বলেন। তাদের কথা হল হাদীস ও সুন্নাহর মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে এবং যদিও প্রায়ই সমার্থকভাবে ব্যবহার করা হয়,তবে তা আলাদা রাখা উচিত। বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার দাবী রাখে ভবিষ্যতে কখনও করা যেতে পারে। যেহেতু প্রতিটি হাদীস আমলের উপযোগী নয়, আর সুন্নাহ্ আমলের উপযোগীতাকে বলা হয়, তাই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন

, "আমি তোমাদের মধ্যে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা সে দু'টি আঁকড়ে ধরে থাকবে, পথভ্রষ্ট হবে না- আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ। "(মিশকাত, হাদীস: ১৮৬)।

এখানে তাঁর রাসূলের হাদীস বলা হয়নি। সুতরাং সব হাদীস সুন্নাহ্ নয়,কিন্তু সব সুন্নাহ হাদীস।

ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় ইসলামী সভ্যতায় মুসলিম বিজ্ঞানীরা, প্রায় হাজার বছর আগে, জ্ঞানের অগ্রগতিতে ছিলেন, এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তাদের অগ্রযাত্রায় তাদের ধর্ম বিশ্বাস কখনও কোন বাধা ছিলনা। ইসলাম তার অনুসারীদেরকে নিরলসভাবে জ্ঞান অর্জনে উৎসাহ দেয় কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে  প্রাকৃতিক জ্ঞানের চিন্তা ও ভাবনার প্রতি পাঠকদের ভাবতে উৎসাহ দেয়।

References

  1. বিষ্ময়কর মহাগ্রন্থ আল কুরআন
  2. বিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার এর সাক্ষ্য দ্বারা আল কুরআন আল্লাহর বাণী হওয়ার প্রমান দেয়।

২ comments

  1. 1
    Mijan

    সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ। হাদিস ও সুন্নাহর পার্থক্য বিষয়ে লিখা পাবো এই আশায় রইলাম। জাজাকাল্লাহ্‌।

    1. 1.1
      মহিউদ্দিন

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.