«

»

Sep ৩০

বন্দী করেছিল তালেবান আর মুক্তি দিয়েছে ইসলাম

আমেরিকায় ৯/১১/২০০১ সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্থানে তালেবানদের হাতে বন্দী হয়েছিলেন প্রখ্যাত বৃটিশ "সান্ডে এক্সপ্রেস" পত্রিকার সাংবাদিক ইভন রিডলে। দশ দিন বন্দী রেখে তালেবানরা তাঁকে মুক্তি দেয়। ইভন আফগানিস্থানে প্রবেশ করেছিলেন বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ‘‘অসভ্য আর ইসলামী জঙ্গী” তালেবানদের সংবাদ সংগ্রহ করতে কিন্তু তালেবানদের কাছে বন্দী হয়ে তিনি নিজেই তখন হয়ে গিয়েছিলেন বড় সংবাদ। অবশ্য বন্দী অবস্থায় তালেবানরা সাংবাদিক ইভন রিডলের প্রতি কোন প্রকার খারাপ ব্যবহার বা অত্যাচার করেনি বলে তিনি নিজেই বলেছেন আর সেজন্য মিডিয়া পরবর্তিতে তার কাহিনী নিয়ে আর অলোচনার আগ্রহ দেখায়নি ফলে ইভান রিডলের বন্দী কাহিনী মানুষ ভুলে গিয়েছে। তবে সে ঘটনার দুই বছর পর ইভন রিডলের জীবনে আসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় যার ফলে তিনি গ্রহণ করেন ইসলাম ধর্ম।

কিছুদিন পূর্বে মালোশিয়ার কুয়ালালামপুরে এক ইসলামিক সম্মেলনে যখন বক্তব্য রাখছিলেন ইভন রিডলে তখন শ্রোতারা অত্যন্ত মনযোগ দিয়ে তার বন্দী জীবনের কাহিনী শুনছিলেন। ইভন রিডলে সেপ্টেম্ভর ২৮, ২০০১ সালে গাধার পিঠে চড়ে বেআইনিভাবে আফগানিস্থানে ঢোকার পথে হঠাৎ তার ক্যামেরা পড়ে যাওয়ায় তালেবান পুলিশের নজরে পড়েন আর তখনই বোরখা পরিহিতা ইভন রিডলে গ্রেফতার হন।

কিন্তু তালেবানদের কাছে তথাকথিত অসভ্য আর ইসলামী জঙ্গী হিসাবে যে দূর্ব্যবহার পাওয়ার আশঙ্খা ছিল তা না পেয়ে তাঁর সঙ্গে তাদের মার্জিত ও ভদ্র ব্যবহার ইভন রিডলের কাছে ছিল অনেকটা আশ্চর্যের ব্যাপার। বন্দীশালায় নিয়মিত তিন বেলা খাবার পরিবেশন করা হত যদিও শুরুতে ইভন হাঙ্গার স্ট্রাইক করছিলেন আর তারা তাঁকে "সিষ্টার" ও "মেহমান" বলে ডাকত। ইভন রিডলের মন্তব্য হল, "সেই সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা আমাকে দিয়েছে অত্যন্ত মূল্যবান এক শিক্ষা যা হচ্ছে ক্ষমতাবান স্থানের ক্ষমতাশীল ব্যক্তিদের সকল প্রচারে বিশ্বাস না করা। আজ আমি যখন সেই অভিজ্ঞতার দিকে ফিরে তাকাই আর দেখতে পাই গুয়ানতেনামা বে'য়ের ও আবু গারীবের বন্দীশালায় বন্দীদের করুণ হৃদয় বিদারক অবস্থা তখন আলাহর কাছে জানাই হাজার শোকরীয়া যে আমি বন্দী হয়েছিলাম বিশ্বের সবচেয়ে অসভ্য আর ইসলামী জঙ্গী তালেবানদের হাতে।" তালেবানদের বন্দীশালায় অবস্থানকালে একদিন আফগানী এক মুসলিম ধর্মীয় নেতা এসে ইভনকে প্রশ্ন করলেন তিনি কি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন? উত্তরে না বল্লে শাস্তি পাওয়ার ভয়ে ইভন জবাব দিয়েছিলেন যে তিনি কোরআন অধ্যায়ন করবেন যদি তাকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তির পর সে অঙ্গীকার রক্ষার্থে ইভন কোরআন অধ্যায়ন শুরু করলে তার জীবনে চলে আসে আধ্যাত্মিক মুক্তি এবং যার ফলে অগাষ্ট ২০০৩ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং সে সময় বিবিসির সংবাদে এ খবরের হেডিং ছিল ফ্রম ক্যাপটিভ টু কন্ভার্ট্। ইভন রিডলে সাম্প্রতি "ইন দি হ্যান্ডস্ অফ তালেবান" ও "টিকেট টু প্যরাডাইস" নামে দুটি বই প্রকাশ করেছেন। তবে "টিকেট টু প্যরাডাইস" বইখানা ইসরাইলে প্রচার নিষিদ্ধ। কারণ কাভার পৃষ্টায় হামাস যোদ্ধাদের ছবি আছে।

 

৪ comments

Skip to comment form

  1. 4
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    যদি তালেবানদের তাক্বওয়া আর ইখলাসের সাথে নিজেদের তুলনা করি,তাহলে আমার মতে আমাদের উচিত তাঁদের পা ধোয়া পানি খাওয়া।

  2. 3
    সত্তুক

    আমি ও তালেবান দের নিয়ে পোস্ট দিতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু সময় আর খোঁজ পূর্ণ হচ্ছে না। কেন যেন মনে হয় ওদের ব্যাপারে আমরা অনেক অনেক ভুল জানি। বাংলাদেশী কিছু বন্দীর কথা প্রথমআলো তে ছাপা হয়েছিল অনেক আগে। তার সাথে জাকির নায়েকের কিছু কথা। উপরের বর্ণনা করা ঘটনা ইত্যাদি ইত্যাদি এ এরকম মনে হবার কারন, গুছানো যাচ্ছে না। যাক, ভালো লাগলো পোস্ট টা।

  3. 2
    বুড়ো শালিক

    পোস্ট ভালো লাগলো, তবে রায়হান ভাইয়ের কথায় একমত পোষণ করছি।

  4. 1
    এস. এম. রায়হান

    একটু দেখেশুনে পোস্ট দেন। প্রথম পাতায় আপনার তিনটা পোস্ট। শেষের দুটি পর পর দিয়েছেন। একটি ব্লগে প্রথম পাতায় একজনের বড় জোর দুটি পোস্ট থাকতে পারে, তাও পর পর দিলে চোখে লাগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.