«

»

Dec ০৩

হাসিনার না খালেদার, দোষটা আসলে কার?

হিটলার, স্টালিন থেকে শুরু করে সাদ্দাম, মোবারক, গাদ্দাফি বা বাশার আল আসাদের মত পৃথিবীর স্বৈরাচারীরা স্বৈরাচার হয় টপ লেভেল হতে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত এদের একটা সাপোর্ট বেইস থাকার কারনে। টপ লেভেল হতে তৃণমূল পর্যন্ত স্বৈরাচারদের এই সাপোর্ট বেইস উক্ত স্বৈরাচারের কারনে সকল ধরনের রাষ্ট্রিয় সুবিধা ভোগ করেন। এই সাপোর্ট বেইস ধীরে ধীরে ফুল ফর্মে দুর্নিতীগ্রস্হ হয়ে পড়ে। তাই যখনি কেউ এই স্বৈরাচারদের পতনের জন্যে আন্দোলন চালায় তখনি এই সাপোর্ট বেইস উক্ত স্বৈরাচারকে ধরে রাখার জন্যে আপ্রান চেষ্টা চালায়। কেননা উক্ত স্বৈরাচারের পতন হলে তার দূর্নিতী গ্রস্হ সাপোর্ট বেইসের ও পতন তথা সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা হতে বন্চিত হবে এই গোষ্ঠী।

আমরা বারবার স্বৈরাচারদের নাম মুখে আওড়াড়েও এই সাপোর্ট বেইস ধারনার বাইরে  থেকে যায় যারা মূলত ঐ স্বৈরাচারের মেরুদন্ড।  
এই দেশে হাসিনা/খালেদার এই সাপোর্ট বেইস টপ লেভেল হতে তৃণমূল হয়ে প্রত্যেকটা সেক্টর হয়ে প্রবাসে পর্যন্ত রয়েছে। এরা প্রত্যেকেই তার তার সরকারের সময় নিজের আখের গোছাতে বড়ই পটু। এক নায়ক তন্ত্র হটানো সহজ কিন্তু দুইনায়ক তন্ত্রের স্বৈরাচার হঠানো বড়ই কঠিন। কাকতলীয়ভাবে যদি এখন তৃতীয় শক্তির উত্থান হয় এবং গনতন্ত্রের মাধ্যমেই ক্ষমতায় যায় তখন দেখবেন এই লীগ ও দল মিলে জোটগঠন করে তাদের দুই বিপরীতমুখী সাপোর্ট বেস একাকার হয়ে তৃতীয় শক্তির বিরুদ্বে আন্দোলন শুরু করছে। কারন দুই নায়কতন্ত্রের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দূর্নিতি, চুরি, স্বজনপ্রীতির সুযোগ আর নাই। যখনি এই দুইনায়কতন্ত্রের ক্ষমতা চ্যালেন্জে পড়েছে এরা মিলে গেছে আরেক স্বৈরাচার হুমু এরশাদের বিরুদ্বে। গত ফখরুল-মইনুদ্দিনের সময়ও এদের কন্ঠস্বর গুলো মিলে গেছে।

এই লীগ/দলের সাপোর্ট বেইস দেশের সবাইকে জুজুর ভয় দেখাবে এইভাবে,  "এরা বাংলাদেশকে ভারত/পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এরা দেশকে রামরাজ্য/তালিবানি  বানাতে চায়। এরা 'র' এবং আইএসআইয়ের টাকা খেয়ে নির্বাচন করে। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির সম্মোক্ষীন, অতএব আমাদের ভোট দিন  "

এই সাপোর্ট বেইসের বাইরে উক্ত দুই দলের আরেকটা সমর্থক গোষ্ঠী আছে যারা বলবে দুটো দলই খারাপ কিন্তু…………………………লীগের চেয়ে বিএনপি/ বিএনপির চেয়ে লীগ কম খারাপ তাই ঐ দলকে সমর্থন করি।

এবার আসি ওভারঅল বাংলাদেশীদের মনোভব নিয়ে। এরা বড়ই আবেগী এবং হুজুগে। এরা যাকে ভালোলাগে তার খুব উপরে উচ্চাসীন করে রাখবে যেন তার কোন সমালোচনাই করা যাবেনা। তার সমালোচনা করাটাই যেন গুনাহ হবে। যাদেরকে এদের ভালো লাগেনা, এরা ওদের চরম ঘৃনা করবে, তার নামে ভালো কোন কথাই এদের সহ্য হবেনা।
তাই মুজিব, জিয়া, ইউনুস, জাফর ইকবাল হতে শুরু করে হেফাজতের শফিকে নিয়ে এই রকম মনোভব পোষন করে। ঈসা (আঃ) কে একদল লোক অতি ভক্তি করতে করতে খোদা বানিয়েছে। আরেকদল ইহুদি তাকে ঘৃনা করতে করতে তাকে জারজ সন্তান(নাউযুবিল্লাহ) বলে ডাকে।
আলী (রঃ)কে সাবাই বা শিয়ারা অতি ভক্তি করতে করতে খোদা বানিয়ে ফেলে আর খারেজী তাকে ঘৃনা করতে করতে হত্যাই করে ফেললো। খারেজীদের যেই লোকটা আলী(রঃ) কে হত্যা করেছে খারেজীরা তাকে মর্যাদাবান লোক ভাবে। অতিভক্তি এবং অতি ঘৃনাই মানুষকে গোমরাহ এবং সত্য হতে বিমুখ করে দেয়। মুসলিমরা বরাবরই মধ্যমপন্হা অবলম্বন করলেও বাঙালী মুসলিমরা বড়ই ব্যাতিক্রম।

আমাদের আরেকটা মনোভব হলো গ্রুপিং। কেউ আমাদের মাঝে জনপ্রিয় হলে তার একটা সমর্থক গোষ্ঠী তৈরী হবে এবং একটা বিরোধী গোষ্ঠী তৈরী হবে। যেমন হুমায়ন আহমেদ, জাফর ইকবাল, ইউনুসকে নিয়ে করা হয়। কয়েকদিন আগে দুই মডেল মেহজাবিন ও ফারিয়ার মাঝে সমস্যা দেখা দিলে ফেসবুকে দেখলাম দুই গ্রুপ। একদল মেহজাবিনের সাপোর্টার তাই সে ফারিয়ার বিরুদ্বে। আরেক দল ফারিয়ার সাপোর্টার তাই সে মেহজাবিনের বিরুদ্বে। এই গ্রুপিংয়ে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিরুদ্বে কুৎসা রটনা করবে, গীবত করবে।

আমাদের আরেকটা মনোভব হলে কৃত্রিম বিভেদ। রাজনৈতিকভাবে সব সেক্টরে লীগ ও দলের বাইরেও আমাদের বিভেদগুলো আবহমান। সিলোডি বনাম চাঁটগাইয়া, নোয়াখাইল্লা বনাম বরিশাইল্লা, নজরুল বনাম রবিন্দ্র, পাবলিক বনাম প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি।

থাইল্যান্ডে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভকারীরা কয়েকটা মন্ত্রনালয় দখল করেছে কিন্তু পুলিশও তাদের গুলি করছে না, তারাও মন্ত্রনালয়ে আগুন দিচ্ছেনা। এই দেশে পুলিশ যেমন বর্বর, বিক্ষোভকারীরাও তেমনি। মিশরের পুরা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে, সকল ব্রাদারহুডের নেতাদের জেলে ভরে, এক রাতে কয়েক হাজার হত্যা করার পরও ওরা একদিন ও হরতাল দেয় নি।  হরতাল ওদের ডিকশনারিতে নাই। কিন্তু এই দেশে হরতালও গনতান্ত্রিক অধিকার(অবশ্য শুধু বিরুধী দলে থাকলে)।
এত নির্যাতন নিপিড়নের পরও ব্রাদারহুড রাস্তায় গিয়ে সাধারন মানুষের গাড়ি ভাঙছেনা, জ্বালাচ্ছে না, রেললাইন উপড়াচ্ছেনা।

পৃথিবীতে ২০০ এর ও বেশী দেশ আছে। কেউই প্রবাসে গিয়ে শুধু  রাজনীতিই করেনা এরা রাজনৈতিক কোন আলাপ ও করে না। ব্যাতিক্রম এই দেশটা। এরা বিদেশে গিয়েও উক্ত দেশের লীগ/দলের সভাপতি/সহ সভাপতি হয়। এই ব্যতিক্রম দেশের লোকদের প্রিয় টপিকও হলো রাজনীতি।
আজকে কেউ যদি বলে দেশটা ডুইবা গেলো চলেন শাহবাগে যাই। সবাই দৌড় দিবে শাহবাগের দিকে। আরেক জন যদি আইসা বলে ইসলাম ডুইবা গেলো চলেন শাপলা চত্বরে যাই। এবার সবাই দৌড়বে শাপলা চত্বরের দিকে।

এই ওভারঅল বাংলাদেশীদের নিয়ে আমার একটা সূত্র আছে। নিচে সূত্রটা দেওয়া হলো।

ঘটনা/দূর্ঘটনা + রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি = ফলাফল

যেকোন ঘটনা/দূর্ঘটনা যেমন, বিডিআর বিদ্রোহ, ফেলানি হত্যা, সীমান্তে হত্যা, মুজিব হত্যা, জিয়া হত্যা, বাসে আগুন দেয়া, ১৯৯১ এর নির্বাচন, ১৯৯৬ এর নির্বাচন, ২০০১ বা ২০০৮ এর নির্বাচন  এর সাথে যোগ করুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কতটা কোন দলের দিকে কত ডিগ্রীতে ঘুরে আছে। অতপর ফলাফল পাবেন।

দুই একটা উধাহারন দিলাম।

বিডিআর বিদ্রোহ+ আওয়ামী দৃষ্টিভঙ্গি = এটা বিএনপির পিন্টু তথা বিরুধী দলের কাজ।
বিডিআর বিদ্রোহ + বিএনপি দৃষ্টিভঙ্গি = এটা নানক তথা আওয়ামিলীগ এবং ভারতের কাজ।
মুজিব হত্যা+ আওয়ামী দৃষ্টিভঙ্গি= স্বাধীনতাকে ধংস করার জন্যে স্বাধীনতা বিরুধীদের কাজ।
মুজিব হত্যা + বিএনপি দৃষ্টিভঙ্গি= দেশকে বাঁচানোর জন্যে বাকশাল হটিয়ে সঠিক কাজই করা হয়েছে।
জিয়া হত্যা +  আওয়ামী দৃষ্টিভঙ্গি= এই হিটলারকে মেরে দেশ উদ্ধার হয়েছে।
জিয়া হত্যা + বিএনপি দৃষ্টিভঙ্গি= এটা ভারত তথা "র" এর কাজ।

২০০১ এর নির্বাচন + আওয়ামী দৃষ্টিভঙ্গি=  স্হুল কারচুপি করা হয়েছে।
২০০১ এর নির্বাচন + বিএনপি দৃষ্টিভঙ্গি= নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে।

২০০৮ এর নির্বাচন + আওয়ামী দৃষ্টিভঙ্গি = এমন নিরপেক্ষ নির্বাচন ইতিপূর্বে আর হয় নাই।
২০০৮ এর নির্বাচন + বিএনপি দৃষ্টিভঙ্গি = ডিজিটাল কারচুপি হয়েছে।
বিএনপির সময় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি + বিএনপি দৃষ্টিভঙ্গি = বিশ্ববাজারে সবকিছুর দাম বাড়লে এখানে বাড়বে না।

আওয়ামীলীগের সময় দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি + আওয়ামী দৃষ্টিভঙ্গি = মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে।  

এই গেল ওভারঅল একটা জাতিকে নিয়ে কিছু আলোচনা।   আল্লাহপাক কোরানে সূরা রদে ১১ নাম্বার আয়াতে বলেন,  আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না, যে পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের অবস্থা পরিবর্তন করে।
যে জাতি যেমন সেতো হাসিনা/খালেদাকেই নেতা হিসেবে পাবে, মাহাথির মোহাম্মদ পাবে না। কারন মাহাথির মোহাম্মদকে নেতা হিসেবে গ্রহন করার মানসিকতাও আমাদের নাই।

সবশেষে আমার প্রিয় নচিকেতার মুখামুখি এ্যালবামের একটা গানের কয়েকটা লাইনে শেষ করছি। নচিকেতা গানের মাঝে কিছু কথাও তাও দিলাম। পুরো গান শুনুন এখানে,

http://www.youtube.com/watch?v=_cJjQ9u05YE

মন্ত্রীরা সব হারামজাদা আস্ত বদের ঝাঁড়ি, তুরুক নাচে মন্ত্রীসভা  এখন বাইঝি বাড়ি।
গত ইলেকশানে আমাদের ওখানে একজন জিতেছেন। তো জিতার অনেক কড়াকডিং হচ্ছে। দেখি আমার পরিচিত একজন নাচছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম তুই নাচিশ কেন। সে বললো, নান্টুদা জিতে গেছে। আমি বললাম তাতে তোর কি?
সে বললো কাকা, পল্টুদা হেরে গেছে।
আমি বললাম পল্টুদা হেরে গেছে তাতেইবা তোর কি?
সে বললো, কাকা পল্টুদাতো চোর ছিলো।
আমি বললাম, আর নান্টুদা?
সে বললো, আরে সেতো আরো বড়ো চোর।

আরে মানুষ সালাও মাথা মোটা ভোট দিতে যায় নেচে। দেশের মানুষতো কোন ছাড় মন্ত্রীরাতো কুলাঙ্গার, ভালো দাম পেলে ওরা বাপকেও দিবে বেঁচে।
 

 

১১ comments

Skip to comment form

  1. 5
  2. 4
    মাহফুজ

    এখানে আমন্ত্রণ-
    আগে মানুষের চিন্তন ও বিবেকের পরিবর্তন চাই- তারপরে তো বিপ্লব।

    1. 4.1
      মজলুম

      মানুষের চিন্তা ও বিবেকের পরিবর্তনটাই সবচেয়ে বড় বিপ্লব। ঐ বিপ্লবটা করতে পারলেই গদি পাল্টানোর বিপ্লবটা এমনি এমনিই হয়ে যাবে। প্রথমটা না করে পরেরটা করা পুরোই অর্থহীন।

      ধন্যবাদ মতামতের জন্যে।

  3. 3
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    পুলিশ সরকারী বাহিনী, এবং সামরিক বাহিনী-ও সরকারের অনুগত। কিছু মানুষের দাবি পুলিশ, সামরিক বাহিনী কেন জনগণের পক্ষে কথা বলছে না। এটা কখনোই সম্ভব না এবং হলেও ভালো হতো না। কারন তাহলে সিভিল সরকার সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের ভয়ে কোন কাজ করতে পারবে না, বরং সামরিক বাহিনীর অনুগত থেকে সবসময় কাজ করে যেতে হবে। কিছুদিন আগে তুরস্কে কিছু মানুষ সরকারের বিরুদ্ধে যা করেছিলো তা যদি সামরিক বাহিনী মদদ দিত অথবা পুলিশ বাহিনী ঐসমস্ত জনগণের পক্ষে কথা বলতো, তাহলে কি তুরস্কের ইসলামপন্থী সরকার টিকে থাকতে পারতো?

    বর্তমান সিস্টেম পরিবর্তন না হলে আর্মি ক্ষমতা দখল করলেই বা লাভ কি? আমরা কি পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত? দূর্নীতি, সুবিধাবাদ যে হারে বাংলাদেশীদের রন্ধ্রে ঢুকে গেছে তা কি এত সহজে বের হয়ে যাবে?

    তথাকথিত মুসলিম বাংলাদেশীদের বিবেক ইসলামের পরিচয় পাওয়া যায় যখন দেখি চাকরীর বাজারে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি আকাংখিত, বিসিএস পরীক্ষার প্রথম পছন্দ পুলিশ।

    আবারো প্রশ্ন আমারা কি প্রস্তুত ভালো কিছুর পরিবর্তনের জন্য?

    1. 3.1
      মজলুম

      বর্তমান সিস্টেম পরিবর্তন না হলে আর্মি ক্ষমতা দখল করলেই বা লাভ কি? আমরা কি পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত? দূর্নীতি, সুবিধাবাদ যে হারে বাংলাদেশীদের রন্ধ্রে ঢুকে গেছে তা কি এত সহজে বের হয়ে যাবে?

      এটাই মূলকথা।   হাসিনা, খালেদা  গেলেই কি বা আসলেই কি। হাসিনা ২০০১ এ ও গিয়েছিলো। খালেদাও ২০০৬ এ গিয়েছিলো। মুজিব হত্যা হয়েছে, জিয়া হত্যা হয়েছে, তো!!!  কি পরিবর্তনটা হয়েছে।  আওয়ামী পান্ডা এবং বিএনপির পান্ডাদের হাতে এই দেশের মানুষ মার খেতেই থাকবে।   যে দেশের ৫ কোটি লোক নিম্ম গরিবত্বের মধ্যে আছে। যেই দেশে পুষ্টিহীনতায় মানুষের উচ্চতা ছোট হয়ে গেছে।    তবুও ঘুমিয়ে আছি বা নেতাদের কথায় নেচে যাচ্ছি।

       

  4. 2
    ফাতমী

    আমার ফেইসবুকের স্ট্যাটাস ১ ডিসেম্বর, "শয়তান তো আমদের মধ্যেই বসবাস করে, আমাদের মনে ভিতরে। হাসিনা খালেদা কইলেই কি আমরা বাসে আগুন দিয়ে দিব কিংবা লগি বইটা নিয়ে মানুশের উপর ঝাপিয়ে পরব? তারা বললেই আমাদের পুলিশ ভাই নিজেদের রাষ্ট্রিয় দায়িত্ব ভুলে দলীয় আচরণ করবেন, দেশবাসীকে সামান্য শান্তনাটুকুও দিবেন না? দোষ আসলে খালেদা হাসিনার নয়, দোষ আমাদের, পাপী আসলে আমরাই। আমরা অবিচার দেখলে স্বজাতিয়ত্বের ভিত্তিতে সমর্থন দেই। আমরাই অবিচারে কথা বলি না। তাহলে দোষটা কার? প্রতিটি ছোট ছোট অন্যায় কিন্তু বড় হয়ে ফিরে আসে। একদিন বুঝবেন। আল্লাহ পাক আমাকে মাফ করুন।" 

    1. 2.1
      মজলুম

      ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে।

      কয়দিন আগে এক রেষ্টুরেন্টে খেতে গেলাম। টিভিতে বাস ভাঙ্গার দৃশ্যে অনেকেই বলে উঠলো ভাঙ্গ, ভাঙ্গ। বাস ভাঙ্গার দৃশ্যে দেখে ওদের মুখে তৃপ্তির হাসি দেখলাম। আমার মনটা প্রচন্ড বিষিয়ে উঠলো। অনেকের সাথে আলাপ আলোচনায় বুঝলাম এই দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠি এই ভাঙ্গচুরের সমর্থক, এটা শুধু পরিবর্তন হয় কখন কার দল ক্ষমতায় তার উপর ভিত্তি করে।
      এ আমাদের কেমন কুৎসিত মানসিকতা। লীগের নানক এবং দলের নোমান ভাইয়ের বাস পোড়ানোর কথাবার্তা ইউটিউবে পাওয়া যায়। তবুও এদের অন্ধত্ব ঘুচবেনা।

      তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির মত, যে লোক কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চারদিককার সবকিছুকে যখন আগুন স্পষ্ট করে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে, তারা কিছুই দেখতে পায় না।তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।  সুরা বাকারাঃ ১৭ এবং ১৮

  5. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    অনেক ধন্যবাদ মজলুম ভাই। রাজনীতি নিয়ে সদালপে খুব ভাল একটা লিখা পরলাম। সাপোর্ট বেসের কথা ভাল বলেছেন কিন্তু পুলিশ বাহিনী, সশস্র বাহিনী-কে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন? রাজনীতিবিদের যেমন বিবেক-বুদ্ধি নেই, ঐসব বাহিনীর তো আরও নেই এবং ওরা সাপোর্ট বেস থেকে আরও ভয়ংকর। সরকারের গদির পাহারা, বসের গদি আর নিজের গদির সুরক্ষায় ব্যস্ত। দেশের মানুষের উপর শোষণ ও নিপীড়ন তারা তো এমনি এমনি করে না। চোর-ডাকাত বিশ্বাস করা যায় কিন্তু পুলিশ বিশ্বাস করা যায় না।

    বাংলাদেশের এই চরম সঙ্কট অবাস্থার সমাধানের পথ কি? সূরা রাদের ১১ নম্বর আয়াত কেমন করে বাস্তবায়ন হবে এই  দেশে?

    1. 1.1
      জামশেদ আহমেদ তানিম

      বিপ্লবের সূচনা হতে হবে সাধারণ মানুষের তরফ থেকে। সাধারণ মানুষ যদি নীতিগতভাবে একত্রিত হতে না পারে, ব্যাক্তি পূজা না ছাড়তে পারে তাহলে সূরা রাদের ১১নম্বর আয়াতই প্রযোজ্য।

      1. 1.1.1
        মজলুম

        এ জন্যে সাধারন মানুষকে জাগাতে হবে। কোন দলের লেঁজুড়বৃত্তির বাইরে এসেই জাগাতে হবে। এই জনগন ১০ বছর হাসিনার এবং ১০ বছর খালেদার শাসন দেখেছে। গত ২০ বছরে পেলাম কি? ভারত যেই তরতর করে এগিয়ে যাচ্ছে সেটা মাত্র ২০ বছরে ওরা করেছে গত ১৯৯১ হতে। মাও সেতুংয়ের সময়কালে তার ভুল শাসনে লক্ষ লক্ষ লোক না খেয়ে মরেছে,  চীনের সুপার পাওয়ার হয়ে এগিয়ে যাওয়াটাও ওরা করেছে গত ২৫ বছরের মধ্যে । এর আগে চীন, ভারত দুটোই ছিলো ভুখা, নাঙ্গা দেশ হিসেবে সারা বিশ্বে পরিচিত।

    2. 1.2
      মজলুম

      মন্তব্য করার জন্যে ধন্যবাদ।
      র‌্যাব পুলিশ আনসার বিডিআর, যখন যে ক্ষমতায় তখন তার। এরা রক্ষক হয়ে আজ ভক্ষক। গত বিএনপির সময় দেখেছি র‌্যাবের বিরুদ্বে কি মেকি কান্না আওয়ামীলীগারদের। আর বিএনপির হাতে তালি। এখন ওদের বিরুদ্বে বিএনপির মেকি কান্না আর আওয়ামীলীগদের হাতে তালি।

      এই সমস্যা সমাধানের জন্যে কয়েক লাইনেতো আর হবে না। মালেশিয়ায় যেদিন আনোয়ার ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করা হয় সেদিন তার সাপোর্টাররা ভার্সিটি হতে বেরিয়ে আসছিলো আন্দোলন করার জন্যে। আনোয়ার ইব্রাহিম তাদের বলেছিলেন তোমার ভার্সিটিতে ফিরে যাও, লেখাপড়া করো, তোমাদের ভবিষৎত আছে।

      একটা দেশ হতে নেতা, নেত্রী, মন্ত্রী, পাতিনেতা, ধাঁড়ি নেতা সবই কিন্তু এই জনগন হতেই আসে। আমাদের এই জনগনের কত পার্সেন্ট আসলেই সৎ?  আই মিন এই জনগনের বেশীরভাগই সুযোগের অভাবেই সৎ। সুযোগ ফেলে এদের কয়জন সৎ থাকে। কেউ বলবেন অভাবে স্বভাব নষ্ট, আমি বলবো স্বভাবের কারনেই এদের অভাব। যে দেশে প্রবাদ বাক্য হয় সৎ লোকের ভাত নাই, সে দেশ হতে কি বেরোতে পারে।

      যে দেশে মিথ্যুক, ঘুষখোর, ধোঁকাবাজদের  বুদ্বিমান হিসেবে ধরা হয়। যে দেশে কেউ সৎভাবে জীবন যাপন করলে, ঘুষ না খেলে, ধোঁকাবাজ না হলে তাকে সবাই বলে বোকাসোকা, সহজ সরল মানুষ। সেই দেশে একটা ছেলে ছোটকাল হতেই ধরে নিবে এই দেশে বাঁচতে হলে অসৎ! ই হতে হবে।
      এই ঢাকা শহরেই  কতজন লোক এই শহরের রিকশাওয়ালাদের সাথে ভালো ব্যবহার করে। কতোজন তাদের কাজের বুয়া বা রাস্তার টোকাইদের সাথে ভালো ব্যবহার করে।

      যে দেশের মানুষেরা এখনো বুঝেনা একজন নাগরিক হিসেবে কি সুযোগ পাবে তার দেশের সরকার হতে। এরা মনে করে এরা প্রাচিন যুগের কোন রাজার অধীনে বাস করছে। রাজা যেমন চালায় তেমনে চলে। রাজায় যদি  কিছু কখনো সখোনো দেয় সেটাকে অনেক বেশী বনে করি। পুরাপুরি সামন্তবাদ এখানে।

      সূরা রদের ১১ নাম্বার আয়াত বাস্তবায়ন করতে হলে প্রথমেই এই জাতিকে ডিপলিটিসাইজড করতে হবে। প্রতিটা সেক্টরকে রাজনীতি মুক্ত করতে হবে। ছাত্র রাজনীতি, প্রবাস রাজনীতি সহ আইনজীবি, মৎসজীবি, তাঁতি, শ্রমিক, কৃষক, যুব, সেচ্ছাসেবক সহ এই সেক্টরগুলো হতে রাজনীতি নিষিদ্ব করতে হবে।
      ১৮ বছর হওয়ার আগ পর্যন্ত এই দেশের কোন নাগরিক যে কোন পলিটিক্যাল এ্যাকটিভিতে  জড়িত হতে পারবেনা। মনে রাখবেন সে সকল ধরনের ধর্মীয় এবং সামাজিক সচেতনতা মূলক কাজে এবং আন্দিলনে কাজ করতে পারবে, কিন্তু কোনভাবেই রাজনৈতিক কর্মকান্ডে যোগ দিতে পারবেনা।
      সারা দেশব্যাপী নতুন নতুন কর্মসংস্হান সৃষ্টি করতে হবে বেকারত্ব রোধ করার জন্যে, রকার হলে সারা দেশকেই শিল্পায়ানের আওয়াত নিয়ে আসতে হবে। এই বেকারত্ব রোধ করা গেলে কেউ আর দুই একশো টাকার জন্যে বা এক পোটলা বিরিয়ানির জন্যে কোন মিছিলে যাবেনা, পিকেটিং করবে না, কারো গাড়ি ভাংবে না বা জ্বালাবে না।

      এবং অবশ্যই ১০০% শিক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে শুধু শিক্ষা নয় সুশিক্ষা দিতে হবে। যেই সুশিক্ষায় সেই নাগরিক কোন অন্যায় কর্মকান্ডে এবং দূর্নিতীতে জড়িত হবে না। যেই সুশিক্ষায় থাকবে সহনশীলতা, থাকবে একে অন্যের প্রতি মমত্ববোধ এবং সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। সকলের তরে সকলেই আমরা প্রত্যেকেই আমরা পরের তরে।

      তুরস্কের ফেতুল্লাহ গুলেনের পরিচালিত হাজার খানেক স্কুল রয়েছে, যেই স্কুল হতে গ্রেজুয়েট হয়েছেন বর্তমান তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোগান সহ একেপি পার্টির প্রায় সব নেতারা। এই স্কুলগুলো দিয়ে তুরস্কে ইসলামী ভাবধারা পুনঃ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এদের নিয়ম হলো কেউ ঐ স্কুল হতে গ্রেজুয়েট হয়ে বের হলে তার চাকরীর টাকার একটা অংশ ঐ স্কুলে দান করা হয়। যাতে আরো বেশী স্কুল চালানো যায়।   আমাদের ও সেরকম কিছু ভাবতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.