«

»

Dec ২৫

দ্যা মিডিয়া এফেক্ট! মুল্যবান বলি বনাম মুল্যহীন বলি!!!!

প্রখ্যাত লেখক নোয়াম চমস্কির  বিখ্যাত বই ম্যানুফাকচারিং কন্সেন্টঃ দ্যা পলিটিক্যাল ইকোনমী অফ ম্যাস মিডিয়াতে তিনি দেখিয়েছেন আমেরিকা ও তার বন্ধুরাষ্ট্রের হাতে কেউ নিহত হলে সে হয় মূল্যহীন বলি। আমেরিকার শত্রুর হাতে কোন আমেরিকান বা তার বন্ধুরাষ্ট্রের কেউ নিহত হলে সে হয় খুবই মুল্যবান বলি। আমেরিকা ও তার বন্ধুরাষ্ট্র যেমন, ইসরাইল, মিশর, পাকিস্তান বা তৎকালীন চিলি, গুয়েতমালার হাতে হাজার হাজার লোক নিহত হলেও এসবই মূল্যহীন বলি। কোন মিডিয়া এদের নিয়ে ব্রিফিং দিবেনা, এদের নিয়ে কোন হেডলাইন হবে না, এদের নিয়ে কোন নিউজ কভারেজ হবে না, কেউ তাদের জন্যে দুঃখ প্রকাশ করবেনা।
কারনটা হলো এই লোকগুলো আমেরিকা ও তার বন্ধুরাষ্ট্রের হাতে নিহত হয়েছিলো।

বিপরীতে যদি আমেরিকার শত্রুদের হাতে কোন আমেরিকান বা তার বন্ধু রাষ্ট্রের কেউ নিহত হয় তাহলে হোক সে মাত্র একজন লোক, সে হবে খুবই মূল্যবান বলি। মিডিয়াগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা, দিনের পর দিন ঐ লোকটার ব্যাপারে বলে যাবে। বড় বড় হেডলাইন হবে খবরের পাতায়, বড় বড় লেখক, বুদ্ধিজীবীরা নিহত লোকটার পক্ষে কলম ধরবেন। টিভি নিউজে কমেন্টেটরেরা অনর্গল বলে যাবেন ঐ নিহত লোকটার জন্যে, কত বর্বর, কতো নিষ্ঠুর ছিলো ঐ লোকগুলো যারা তাকে হত্যা করেছে। এ নিয়ে চলবে বিরামহীন প্রচারনা।

  কিছুদিন আগে মালালাকে তালেবানরা হত্যার চেষ্টা চালায় কিন্তু সে বেঁচে যায়।মালালা হয়ে উঠে হিরো, ইউরোপিয় ইউনিয়ন সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হতে অনেক পদক পাওয়ার পর সর্বশেষ সে পায় নোবেল পুরস্কার।
বিপরীতে নাবিলা রহমান নামক ৮ বছর বয়সী বালিকা যার উপর আমেরিকান ড্রোন হামলায় সে সহ তার পরিবারের ৭ জন শিশু আহত হয়, ঘটনাস্থলেই তার দাদী মারা যায় তাকে নিয়ে নেই কোন দুঃখ প্রকাশ, নেই ক্ষমা প্রার্থনা, নেই কোন খবর বা শিরোনাম।

Malala and Nabila: worlds apart

 

২০০৭ হতে ২০১২ পর্যন্ত শুধু ড্রোন হামলায় ২০০ এর মতো শিশু নিহত হয়। এতো গেলো ড্রোনের হিসাব তার বাইরে আছে পাকিস্তানি আর্মির বিমান হামলা পুরা পশতুনদের এলাকায়।  গত জুন মাস হতে পাকিস্তান আর্মি উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অপারেশান জরবে-আজব শুরু করে আমেরিকার সাথে। পাকিস্তান আর্মি মিডিয়া ব্লাকআউট করে রাখলেও ইন্টারনেটের যুগে একটা মোবাইল দিয়েই অনেক কিছু প্রচার করা যায়।  সে সময় ইসরাইল গাজায় হামলা করেছিলো, আমি তখন টুইটারে ওয়াজিরিস্তানের অনেককেই ফলো করছিলাম। তারা অনেকগুলো ছবি টুইট করেছিলো ওয়াজিরিস্তান ধ্বংসের আর বলেছিলো গাজার চেয়েও বেশী লোককে হত্যা করা হচ্ছে এই উত্তর ওয়াজিরিস্তানে কিন্তু আমাদের আর্তনাদ কারো কানে পৌছায় না।

http://www.youtube.com/watch?feature=player_detailpage&v=fuHbC9KI9rA

এই ভিডিওতে দেখুন, মাইলের পর মাইল শুধু ঘর বাড়ি ধ্বংসের ছবি। এগুলো পাকিস্তানি আর্মি করে সিস্টিমেটিকেলি। এগুলো গেরিলা যুদ্বের বিরুদ্বে ভয়ংকর কৌশল, গেরিলাদের মনোবল ভেঙ্গে দেওয়ার জন্যে তাদের ঘরবাড়ি সব ধ্বংস করে দেওয়া হয়। তাদের স্ত্রী, সন্তানদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
পাকিস্তান আর্মি ২০০১ হতে আফগানিস্তান যুদ্ব শুরু হলে এই রকম অপারেশন রাহে-রাস্ত, অপারেশান রাহে-নাজাত, ব্লাক থান্ডারস্ট্রোম সহ অনেকগুলো যুদ্ব চালায় দক্ষিন ওয়াজিরিস্তানে, বুনারে, সোয়াতে, ওরকজাইতে, বাজাউরে, ফাটায়  এবং উত্তর ওয়াজিরিস্তানে।

পাকিস্তানের উপজাতীয় এলাকায় পশতুনদের উপর পাকিস্তান আর্মির নির্যাতন দেখুন যা কোন মিডিয়াতেই দেখবেন না।

পশতুন মুসলিমদের ঘর হতে তুলে নিয়ে চোখ বেঁধে লাইনে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হচ্ছে যা কোন মিডিয়াই প্রকাশ করবে না।

পশতুন মুসলিমদের উপর পাকিস্তান আর্মির অত্যাচার, না দেখলে বিশ্বাস হবে না, বৃদ্ধলোককেও  ছাড়েনি নির্যাতন হতে এই পাষণ্ডরা।

আফগানিস্তান যুদ্বে পাকিস্তান কতটুকু জড়িত তার একটা ছোট্ট তথ্য দিলে সবাই বুঝবেন। আফগানিস্তান মূলত পাহাড় পর্বত ঘেরাও একটা দেশ। নেই কোন সমুদ্র বন্দর। ১ লক্ষ ন্যাটো ও আমেরিকান সৈন্যের জন্যে একটা দেশে যুদ্ব চালাতে যতগুলো বোম্ব, বুলেটের ম্যাগজিন, ট্যাংক, এম-১৬ রাইফেল, কামান, হাভবি যান, সাঁজোয়া যান, হেলিকপ্টার,  এগুলো চালানোর জন্যে তেল, সৈন্যদের খাবার দাবার এই সবকিছুই নৌপথে আনতে হয়। আফগানিস্তানের নৌবন্দর নেই বলে এইসব পাকিস্তানের করাচী নৌবন্দর দিয়ে আনলোড করা হয়। পরে পাকিস্তানি সৈন্যদের পাহারায় এইসব মালামাল পশতুন উপজাতিদের এলাকা দিয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশ করে ২০০১ এর ৮ ই অক্টোবর হতে যেদিন আমেরিকা আফগান যুদ্ব শুরু করে এবং এখনো করে যাচ্ছে।

আফগানিস্তান যুদ্বে যতজন আফগান মুসলিম নারী,পুরুষ, বৃদ্ব, শিশু নিহত হয়েছে এবং হচ্ছে তাদের প্রত্যেকের রক্ত পাকিস্তানি সৈন্যদের হাতে লেগে আছে।
কয়েকদিন আগে তালেবানের হামলায় ১ শয়েরও বেশী কিশোর নিহত হলে সারা বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়, ওবামা হতে ক্যামেরুন। বিবিসি হয়ে সিএনএন সহ সব নিউজ মিডিয়া তোলপাড় করা শুরু করে। কয়েকদিন ধরে চলে  এই নিউজের কভারেজ। এই কিশোরদের পিতা-মাতার করুন আর্তনাদ দেখা যায় মিডিয়াগুলোতে। এদের জন্যে পালন করা হয় ১ মিনিট নিরবতা, পলান করা হয় শোক দিবস। জ্বালানো হয় মোমবাতি। করা হয় মিছিল, স্বাক্ষর করা হয় শোক বইতে।

২০০৬ এর অক্টোবরে উপজাতি এলাকার বাজাউরের একটা মাদ্রাসায় মার্কিন হামলায় সম্পূর্ন ধ্বংস করে দেওয়া হয়, মাদ্রাসার কোন চিহ্নই রাখা হয়নি। সে হামলায় ৯০ জনের মতো লোক মারা যায় যার ৭০ জনই মাদ্রাসা পড়ুয়া শিশু কিশোর। প্রথম দিকে পাকিস্তান আর্মি দাবী করে হামলাটা তারা করেছে, পরে ধরা খাওয়ার পর স্বীকার করে ঐ হামলাটা করেছে আমেরিকা।
না না.. ওদের জন্যে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে নি, কোন সংবাদ পত্রের হেডলাইন হয় নি ওরা। টিভিতে ঘন্টার পর ঘন্টা ধরে সেই শিশুদের ছিন্ন বিচ্ছিন্ন শরীর দেখানো হয়নি, নিউজ ব্রিফ ও ছিলো না। মিডিয়াতে দেখা যায় নি ঐ শিশুদের পিতা-মাতার করুন আর্তনাদ। ওদের জন্যে ছিলোনা কোন নিরবতা, ছিলোনা কোন শোক দিবস, জ্বালানো হয়নি মোমবাতি। কেউ করেনি মিছিল, কেউ স্বাক্ষর করেনি শোক বইয়ে।

 

 

৮ comments

Skip to comment form

  1. 6
    মজলুম

    আপনি জগা খিচুড়ি বানিয়েছেন আমার মন্তব্য না বুঝতে পারার কারনে। 

    নামাজে ইমাম সাহেবের সূরায় (ভূল?) ভুল করা ও ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ খুন করা মত অপরাধের মাত্রার মাঝে বিস্তর তফাত রয়েছে এবং তা বোঝার মত জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরী।

    এই দুটো মিলালো কে? আমার মন্তব্যটা আবার ঠান্ডা মাথায় পড়ুন।

    তুমি আমাদের সন্তানদের মারো, আমিও তোমাদের সন্তানদের মারবোঃ পাকিস্তানি তালিবান
    পাকিস্তানি তালেবান আর আফগানিস্তানের তালেবান এবং পাকিস্তান আর্মির আমেরিকার পা চাঁটা, লাল মসজিদ ধ্বংস এবং মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসায় শত শত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শহীদ করা, আমেরিকার গোলামি করে হাজার হাজার মুসলিম হত্যা করা বুঝার জন্যে এই ডকুমেন্টারিটি দেখুন।

    এক ঘন্টার এই ডকুমেন্টারিটি অবশ্যই দেখুন আফগানিস্তান-পাকিস্তান-আমেরিকার সম্পর্ক বুঝতে হলে।

    1. 6.1
      মাহফুজ

      মি. মজলুম-
      যারা জানেনা তাদের জন্য আপনার দেয়া লিংকে নুতন কিছু থাকতে পারে।

      আফগানিস্তান-পাকিস্তান-আমেরিকার সম্পর্ক বোঝার জন্য কি শুধু এই ডকুমেন্টেই যথেষ্ট!!??

      আপনি বলেছিলেন- //ওদের সন্তানদের হত্যার সময় আমি এবং আপনি তো বলিনা পাকিস্তানি সৈন্যদের কর্মকান্ড ইসলামি নয়, তাহলে এখন কেন পাকি সৈন্যদের বাচ্চাদের হত্যার সময় গলা বড়ো করে বলবো ইহা ইসলামিক নহে!!!//

      পাকিস্তানি সৈন্যদের কর্মকাণ্ড ইসলামি নয় এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা। নামে মুসলিম হলেও তারা পাকিস্তান নামক এমন একটি জগাখিচুড়ি রাষ্ট্রের অধীনে কাজ করছে যার কর্ণধাররা কখনই সত্যিকার ইসলামের জন্য নিবেদিত নয় এবং ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিও করে নাই। কাজেই তাদের কর্মকাণ্ড ইসলামের পক্ষে নয় বরং সাংঘর্ষিক হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং সচেতন মুসলিম মাত্রই এর বিপক্ষেই বলবেন ও থাকবেন।
      কিন্তু তালিবানরা তো ইসলামি সমাজ ও কোরআনের বিধান বাস্তবায়নের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে নিজেদের দাবি করে। কাজেই মুসলিম সমাজের কাছে তাদের যে কোন কর্মের নজরদারি করা এবং তারা ইসলামের পথে কতটা সঠিক ও বেঠিক কাজ করছে তার বিশ্লেষণ ও সমর্থন কিংবা অসমর্থন করার ও বলার দাবি রাখে। ইসলামের স্বার্থে এটা অত্যন্ত জরুরী বলে আমি মনে করি।

  2. 5
    মাহফুজ

    @ভাই মজলুম,
    বুঝেই হোক বা না বুঝেই হোক, আমার সরল সোজা ও সার্বজনীন বক্তব্যকে নিজের গায়ে মেখে অনেক কথাই বলেছেন। তাই জবাব দেয়ার প্রয়োজন বোধ করছি-

    আপনি বলেছেন- //এই দাবীতো তালেবানরাও করে নাই, আপনি কোথায় পেলেন এই অদ্ভুদ তথ্য??? নাকি ভুল করে ভুলো মনে লিখে ফেললেন? মনগড়া লেখা যে কোন কিছুই ক্ষতিকর।//

    আপনার এই উক্তি প্রমাণ করে যে, আপনি চেতন কিংবা অবচেতন মনে কিছুটা হলেও তালেবানদের সাপোর্ট করেন। আর এই সাপোর্ট করার অধিকার আপনার আছে। কিন্তু আমার বক্তব্যকে তো আপনি না বুঝেই ভুল বলে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়ার ও মনগড়া বলে তাচ্ছিল্য করার চেষ্টা করলেন। এরূপ মনোভাব কিন্তু আপনার জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে।

    আপনি/ আমি কাদের সাথে ওঠা বসা করি বা না করি, কাদেরকে পছন্দ বা সাপোর্ট করি বা না করি, সেটা বড় কথা নয়। আমাদের এই সমূদয় চিন্তাভাবনা, কথা, লেখালেখি ও কর্মকাণ্ড আল্লাহর বিধান অনুসারে সমর্থনযোগ্য কিনা সেটাই আসল কথা।

    আপনি বলেছেন- //যেই লোকগুলা তাদের সন্তান হারালো সে ছাড়া আমি আপনি মোটেই ওদের মনের যন্ত্রনা বুঝতে পারবো না।
    ওদের সন্তানদের হত্যার সময় আমি এবং আপনিতো বলিনা পাকিস্তানি সৈন্যদের কর্মকান্ড ইসলামি নয়, তাহলে এখন কেন পাকি সৈন্যদের বাচ্চাদের হত্যার সময় গলা বড়ো করে বলবো ইহা ইসলামিক নহে!!!
    এটা কি হিপোক্রিসি নহে?!! //

    সন্তান হারানোর যন্ত্রণা সন্তানহারারাই ভাল বুঝবে- এ ব্যাপারে কোন দ্বিমত থাকতে পারেনা।
    পাকিস্তানি সৈন্যদের কর্মকাণ্ড সত্যিকার অর্থে কখনই ইসলামিক ছিলনা এবং প্রকৃত অর্থে তারা ইসলামের ঝাণ্ডা ওড়ানোর ম্যাণ্ডেটও তারা গ্রহণ করে নাই। সুতরাং তাদের কোন কর্মকাণ্ড গলা বড়ো করে অনৈসলামিক বলাটা হাস্যকরই মনে হয়। বরং তাদের যে কোন অনৈসলামিক ও অমানবিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই ইমানের দাবি। কিন্তু তাই বলে তাদের দোষের জন্য নিরাপরাধ শিশুদের হত্যা করা ইসলামের অনুসারীদের কাজ হতে পারেনা।
    যারা ইসলামের ঝাণ্ডা সমুন্নত করার জন্য মনেপ্রাণে বদ্ধপরিকর, তাদেরকে মেপে মেপেই পথ চলতে হবে। তা না হলে তাদের যে কোন ধরনের পদস্খলনের জন্য নিজেদের ব্যর্থতাকেই স্বীকার করে নিতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে।
    আফগান তালিবানরা হয়ত এই হত্যাযজ্ঞকে সমর্থন করে নাই। কিন্তু পাকিস্তানী তালেবানের একটি গ্রুপ যে এটি ঘটিয়েছে তা তারা খোলাখুলিভাবেই বলেছে। ইসলামের জন্য তারা যতই নিবেদিতপ্রাণ হোক না কেন, কোন যুক্তি দেখিয়ে তাদের এই নিষ্ঠুরতাকে কোন মুসলিমই সমর্থন করতে পারেনা। নামাজে ইমাম সাহেবের সূরায় (ভূল?) ভুল করা ও ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ খুন করা মত অপরাধের মাত্রার মাঝে বিস্তর তফাত রয়েছে এবং তা বোঝার মত জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য জরুরী। আর এর জন্য অবশ্যই এর ওর মতাদর্শকে না মেনে বরং সর্ব প্রথমে ও সবসময় আল্লাহর ঐশী বিধান এবং সেই অনুসারে রাসূলের আদর্শকেই প্রাধান্য দিতে হবে।
    ইসলামের অনুসারী হোক বা না হোক, ঠাণ্ডা মাথায় নিরাপরাধ মানুষ বিশেষ করে শিশুদের হত্যাকারী ও তাদের প্রতি মৌন কিংবা সরব সাপোর্টার মাত্রই হিপোক্র্যাট এবং তাদের স্থান নির্ঘাত জাহান্নাম।
    তাই আমি আহ্বান জানিয়েছি- “আসুন! মুসলিম হিসেবে শান্তির লক্ষে সকল অন্যায় হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই”
    ধন্যবাদ-

  3. 4
    মজলুম

    আপনি হয়তো আমার লেখালেখির সাথে পরিচিত না। আমি এজন্যেই কোন ইসলামি দল বা মতবাদের সাপোর্টার নই। বর্তমানে এই দলবাজি, মতবাদ বাজি হলো জাহেলিয়াত যুগের গোত্র বাদের মত। গোত্র বাদীরা যেমন তাদের নেতাদের কথায় উঠবস করে, নেতাদের কথার বাইরে যেতে পারেনা, নিজ গোত্রকে ধূর্ততার সাথে ডিফেন্ড করা এইসব। মালালা ইউসুফজাইকে হত্যা চেষ্টার সময় আমি তালেবান সহ ওদের অনেক সাপোর্টারদের সাথে অনেক বিতর্ক করেছি, বিরোধীতা করেছি। তালেবান কিছু সাপোর্টারদের মিথ্যাচার ধরিয়ে দিয়েছি। তার মানে নয় যে মালালাকে নিয়ে বিশ্ব যে খেলটা খেললো তার সাপোর্টার আমি।
    আমি নিজে তাবলীগ জামাতে যাই, খুব ভালো লাগে। সেখানেও আমীরের ভুল, তাবলীগে আসা লোকদের  কিছু কাজের ভুল ধরিয়ে দেই। আবার কেউ অযথা তাবলীগের সমালোচনা করলে তার জবাব ও দেই।

    ইমাম সাহেব যত বড় ইমামই হোক না কেন যদি নামাজের সূরায় ভূল করে আর মুক্তাদি ভূলটা হয়েছে জেনেও ইমাম সাহেবকে উচ্চস্বরে শুদ্ধটা না শুনিয়ে দেয় তাহলে মোক্তাদিও গুনাহগার হবে।

    ইসলাম সম্পর্কে যতই পড়ি ততই তার ন্যায় বিচারের সিস্টেম দেখে অবাক হয়ে যাই। ইসলাম কখনোই নিরপরাধকে শাস্তি দেওয়ার পক্ষে নয়। ইসলাম পিতার জন্যে পুত্রকে বা পুত্রের জন্যে পিতাকে শাস্তি দেওয়ার বিপক্ষে, ফুলস্টপ, কোন কিন্তু নাই, কোন দ্বৈত অর্থবোধক কিছু নাই।

    পাকিস্তানি সৈন্যদের বাচ্চাদের হত্যাকান্ড মোটেই ইসলাম সমর্থিত নয়, হোক  সে দাঁড়ি বা মোচ ঘজানো শিশু।

    গত ১৩ বছর ধরে যাদেরকে আমেরিকার সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে  পাকিস্তানি সৈন্যরা  জঙ্গি বিমান দিয়ে, ড্রোন দিয়ে, কামান দিয়ে হত্যা করে যাচ্ছে। যেখানে তাদের ছোট ছোট বাচ্চারা নিহত হচ্ছে, তাদের নারীরা নিহত হচ্ছে, তাদের লোকেরা তুষার পড়া বরফ শীতে শরনার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন যাপন করছে তাদেরকে এসব বুঝানো সম্ভব নয়। যেই লোককে সাপে কাটে সে ছাড়া আর কেউই সাপের বিষের যন্ত্রনা বুঝবে না কোন বই পড়ে, মুভি দেখে, টিভি দেখে।
    যেই লোকগুলা তাদের সন্তান হারালো সে ছাড়া আমি আপনি মোটেই ওদের মনের যন্ত্রনা বুঝতে পারবো না।
    ওদের সন্তানদের হত্যার সময় আমি এবং আপনিতো বলিনা পাকিস্তানি সৈন্যদের কর্মকান্ড ইসলামি নয়, তাহলে এখন কেন পাকি সৈন্যদের বাচ্চাদের হত্যার সময় গলা বড়ো করে বলবো ইহা ইসলামিক নহে!!!

    এটা কি হিপোক্রিসি নহে?!! 

    আমার এই পোষ্ট তালেবানদের হামলা সঠিক/বেঠিক, ইসলামিক/অনিসলামিক  কিনা তার উপর ছিলো না।  শুধু মূল্যবান বলি এবং মূল্যহীন বলি দেখিয়েছিলাম।

    পাকিস্তানের ক্যান্টোনমেন্টে স্কুল ছাত্রদের মৃত্যুতে শোক পালন করায় কিংবা মাদ্রাসার নিরাপরাধ শিশু কিশোরদের মৃত্যুতে নিরবতা পালন না করার অযুহাতে প্রতিশোধ নেবার জন্য ঠাণ্ডা মাথায় নিরাপরাধ কোন মানুষকে হত্যা করা কোন মুসলিমের কাজ হতে পারে না।

    এই দাবীতো তালেবানরাও করে নাই, আপনি কোথায় পেলেন এই অদ্ভুদ তথ্য??? নাকি ভুল করে ভুলো মনে লিখে ফেললেন? মনগড়া লেখা যে কোন কিছুই ক্ষতিকর।

  4. 3
    মাহফুজ

    পিতার অপরাধের জন্য নিরাপরাধ পুত্রকে কিংবা পুত্রের অপরাধের জন্য নিরাপরাধ পিতাকে শাস্তি দেয়ার কোন বিধান ইসলামে নেই। এই বিধান বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী সব মানুষের জন্য সমান। পাকিস্তানের ক্যান্টোনমেন্টে স্কুল ছাত্রদের মৃত্যুতে শোক পালন করায় কিংবা মাদ্রাসার নিরাপরাধ শিশু কিশোরদের মৃত্যুতে নিরবতা পালন না করার অযুহাতে প্রতিশোধ নেবার জন্য ঠাণ্ডা মাথায় নিরাপরাধ কোন মানুষকে হত্যা করা কোন মুসলিমের কাজ হতে পারে না। পাকিস্তানের ক্যান্টোনমেন্টে নিরাপরাধ স্কুল ছাত্রদের না মেরে যদি সরাসরি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এই অপারেশন চালানো হত, তাহলে হয়ত এর পক্ষে যুক্তি দেখানো যেত। কিন্তু যে ঘটনাটা ঘটেছে তা কোন দিক থেকে মোটেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
    আসুন! মুসলিম হিসেবে শান্তির লক্ষে সকল অন্যায় হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই

  5. 2
    anas

    now i know the reason why they killed those kids. surely they paid for their army fathers.

    1. 2.1
      মজলুম

      গত ১৩ বছর ধরে মার্কিনিদের গোলাম নাপাকি সৈন্যরা  পশতুন একটা এলাকাও অক্ষত রাখেনি, সব লন্ডভন্ড ও ধংস করা হয়েছে ওদের প্রভু মার্কিনিদের খুশি করতে। লক্ষ লক্ষ লোক হয়েছে নিহত, আহত, ধর্ষিত। লক্ষ লক্ষ লোক হয়েছে শরনার্থী। হাজার হাজার শিশু হয়েছে এতিম, হাজার হাজার নারী হয়েছে বিধবা। আর আফগানিদের সাথে পাকিদের বিশ্বাসঘাতকতার জন্যে মোল্লা জয়িফের বই, মাই লাইফ উইথ তালিবান পড়তে পারেন। এমন হারামি আর বিশ্বাস ঘাতক দুনিয়াতে দ্বিতীয়টা নেই। যতগুলো ড্রোন হামলা হয় পশতুনদের এলাকায় সব তথ্য গ্রাউন্ড  হতে নাপাকি গোয়েন্দারা ওদের প্রভু আমেরিকাকে দেয় কোথায় কোথায় হামলা করতে হবে।   আর বাংলাদেশে নাপাকি সৈন্যদের গোলাম জামাত-শিবির  নাপাকি আর্মিদের দাঁড়ি মোচ গজানো নিহত শিশুদের জন্যে মিছিল করে, শোক বইয়ে স্বাক্ষর করে। কিন্তু এই গোলাম জামাত-শিবিরকে পশতুনদের নিহত ছোট ছোট দুধের বাচ্ছাগুলোর জন্যে মিছিল করতে দেখবেন না। বাজাউরে সম্পূর্ন ধংস করা মাদ্রাসায় ৭০ টা শিশু নিহতের জন্যেও এই গোলামদের দেখা পাবেন না। মার্কিনিদের গোলাম হলো নাপাকি সৈন্যরা আর নাপাকি সৈন্যদের গোলাম হলো আমাদের দেশের জামাত-শিবির। গোলাম এগুলো নাপাকিদের চেয়েও খারাপ এবং নিম্ন স্তরের।

       

  6. 1
    মজলুম

    Thanks for the nice comment!

Leave a Reply

Your email address will not be published.