«

»

Apr ০৮

ডোনাল্ড ট্রাম্প: মুসলিমবিদ্বেষী হিন্দুত্ববাদী ও মূত্রমনাদের জন্যে ভয়াবহ দুঃসংবাদ

নির্বাচনের আগে ট্রাম্প যতগুলো মুসলিম-বিরোধী বক্তব্য দিয়েছে এবং নির্বাচনের পর মুসলিম ব্যানের দুইবার চেষ্টা করা হয়েছে, সব করা হয়েছে যেই লোকের দ্বারা সে হলো স্টিভ ব্যানোন। সে একজন হোয়াইট সুপ্রিমিষ্ট, ইসলাম-বিদ্বেষী। আমেরিকাতে ইসলাম-বিদ্বেষী সবার সাথে তার ভালো সখ্য আছে, সে ইসলামি বিশ্বের সাথে সরাসরি যুদ্ধ চায়। অনেকে তাকে মজা করে বলে প্রেসিডেন্ট ব্যানোন, কারণ ট্রাম্প যা করছে সবই ব্যানোনের উপদেশে। তাকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে নিয়োগ দেয় ট্রাম্প। সে আবার ছুপা ইহুদী-বিদ্বেষী। ট্রাম্প তার সন্তানদের মধ্যে ইভাংকাকে সবচেয়ে বেশী ভালোবাসে, ইভাংকা তার বয়ফ্রেন্ড কুশনারকে বিয়ের জন্যে ইহুদী ধর্মে দীক্ষিত হয়। কুশনার হলো অর্থোডক্স ইহুদী এবং ইভাংকাও এখন ইহুদী। সেই কারণে স্টিভ ব্যানোনের সাথে কুশনারের ঝগড়া হতো হোয়াইট হাউজে। তবে যাই হোক, স্টিভ ব্যানোন ট্টাম্পের বন্ধু হলেও তার মেয়ের জামাই কুশনারকেই আগে রাখবে, তাই ট্রাম্প দুই দিন আগে ব্যানোনকে ন্যাশানাল সিকিউরিটি  কাউন্সিল হতে বের করে দেয়

ন্যাশানাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে আরেক জেনারেল মাইকেল ফ্লেন যে ইসলামকে ক্যান্সার বলেছে সে রাশিয়ার দূতের সাথে অবৈধ যোগাযোগ করায় তাকে বাদ দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয় জেনারেল ম্যাকমাস্টারকে। ম্যাকমাস্টার ট্রাম্পকে বলেছে শুধু ইসলামি সন্ত্রাসবাদ বা ইসলামি চরমপন্থি না, র‌্যাডিক্যাল ইসলামি সন্ত্রাস শব্দটাও না বলার জন্যে, এতে আমেরিকার লাভের চেয়ে ক্ষতি হয় বেশী। এই রকম ধারণা পোষণ করে ট্রাম্পের ডিফেন্স মিনিস্টার জেমস ম্যাট্টিসও। ট্রাম্প আবার তাকে খুব মানে এবং তার কথা শুনে। সিআইএ এর বর্তমান প্রধান মাইক পোম্পিও সেইম ধার্ণা পোষন করে।

সিরিয়ার কষাই, ৫ লক্ষ সিরিয়ানদের হত্যাকারী, ৫০ লক্ষ সিরিয়ানদের দেশছাড়া করে শরনার্থী বানিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করানো বাশার আল-আসাদের বিমান ঘাঁটিতে মিশাইল হামলা করেছে ট্রাম্প। কারন সে বারবার স্যারিন গ্যাস নামক রাশায়নিক অস্ত্র ব্বহার করেছে সিরিয়ানদের বিরুদ্ধে। প্রতেকটা হিন্দুত্ববাদী, মূত্রমনা, হোয়াইট সুপ্রিমিষ্ট এবং ইসলাম-বিদ্বেষীরা আবার সিরিয়ার কষাই আসাদের সমর্থক। এখন আসাদের বিমান ঘাঁটিতে হামলা করার কারণে কানাডার ইসলাম-বিদ্বেষী তারেক ফাতাহ থেকে শুরু করে ফ্যাট বয় আলেক্স জনস এবং লন্ডনের ইসলাম-বিদ্বেষী ক্যাটি হপকিনস সব ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষেপা। তারা বলতেছে এখন থেকে তারা আর ট্রাম্পকে সমর্থন দিবে না। তারা কষাই আসাদের বিরুদ্ধে হামলা করার বিরোধী।
তাই বলা যায়, ট্রাম্পের ঘাড়ে যে হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট ও বিদ্বেষীরা ছিলো, তা এখন অনেকটাই নাই। হোয়াইট সুপ্রিমিস্ট ও ইসলাম বিদ্বেষীরা ট্রাম্পকে এখন বরং ঘৃণা করা শুরু করেছে। মুসলিম ও ইসলাম বিদ্বেষীরা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন যে ট্রাম্পের মাধ্যেমে মুসলিমদের ধ্বংস করবেন, সে আশায় এখন গুড়েবালি।

৬ comments

Skip to comment form

  1. 6
    মজলুম

    @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন: ঘৃনাবাদিরা বাস্তবতা এবং সত্যকে চোখে দেখা এবং মনের মধ্যে উপলব্ধি করতে পারেনা। ঘৃনা হলো কুয়াসার মতো, মনে ঘৃনা থাকলে সব কিছু ঝাপসা দেখে এবং তার উপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেয়। সেই জন্যেই এরা লুজার।

  2. 5
    মজলুম

    @এম_আহমদ: রাষ্ট্র বিজ্ঞানে ফরেন পলিসি এভাবেই পড়ানো হয়। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্যে অভ্যন্তরীন গোয়েন্দা সংস্হা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা নির্বাচিত প্রতিনিধিকে ব্রিফিং দেবে। তার উপর ভিত্তি করে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত নেন।

    আসাদকে আমেরিকা হত্যা করবেনা, যদি না সে কোন আমেরিকান নাগরিক বা সৈন্যকে আসাদ বাহিনী হত্যা করে। তবে সে তেহরান বা মস্কোতে নির্বাসনে যেতে পারে বা বসনিয়ার কষাই মুসলিমদের উপর গনহত্যাকারী মিলেসচিবের মত হগের আন্তর্জাতিক আদালতে পাঠানো হতে পারে। আইএসআইএস এর ঘাঁটি রাকা দখলের আগ পর্যন্ত তার বিরুদ্বে কিছু করা হবে না। ১৬ ই এপ্রিলে তুরস্কের রেফারেন্ডেমের পর রাকা অভিযান শুরু করা হবে।

     

    গত ৬ বছর সিরিয়ার সব ঘটনা প্রবাহ খুব ক্লোজলি মনিটর করেছি প্রথম দিন হতেই। আসাদের ফলোয়ারদের সাথে অফলাইন ও অনলাইনে ইন্টারেকশন করেছি। এদেরকে আমার মানুষই মনে হয় না, এদের ক্রাইম গুলো দেখলে ইসরাইলের ক্রাইমগুলো তুলসী পাতা হয়ে যায়। ইসরাইলি কার্ড দেখিয়ে আরব স্বৈরাচার এবং কুফরী বাথিসমের অনুসারি গাদ্দাফি, নাসের, সাদ্দাম ও আসাদেরা ক্ষমতায় আকঁড়ে থাকে। এরা সোভিয়েত হতে সব রকম সাহায্য নিয়েও ইসরাইলের একটা পশম ছিড়তে পারেনা, কিন্তু সেই অস্র দিয়ে নিজ দেশের সাধারন জনগন মারতে পারে নিজের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে। আমার সামনের সিরিজে এই ব্যাপারে কিছু লিখা হবে।

    ক্রুসেড যুদ্বের আগে ও শিয়া-সুন্নী কলহ ভয়াবহ ছিলো। এখন যেমন দ্বাদশী শিয়ারা লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও ইরান দখল করেছে তখন ইসমাইলি শিয়াদের হাতে মরক্কো হতে কায়রো হয়ে বাগদাদ, জেরুজালেম, দামেস্ক ও আলেপ্পো দখলে ছিলো। ইসমাইলি শিয়ারা ভুল শিক্ষার মাধ্যমে তাদের মতবাদ প্রচার করে মুসলিম বিশ্ব দখলে মত্ত ছিলো। সেই দুঃসময়ে সেলজুক নিজামুল মুলক এগিয়ে এসে স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, ওগুলুকে বলা হতো নিজামিয়া। ক্রুসেড বিজয়ী সালাদিন আইয়ুবি সেই নিজামিয়া ভার্সিটি থেকেই গ্রেজুয়েট হয়েছেন। সেখানে ধর্মিয় শিক্ষা সহ রাজনৈতিক ও সামরিক শিক্ষা দেওয়া হতো। সেই জন্যে ইসমাইলি শিয়ারা হাসান ইবনে সাবার গুপ্তঘাতক দিয়ে নিজামুল মুলক কে হত্যা করে।

  3. 4
    মজলুম

    @এস. এম. রায়হান: এদের আপনি একবেলা খাবার দিলে অন্নদাতা বলে পূজা করা শুরু করবে। আবার পরে আপনি দূর্বল হলে আপনার পিছনে ছুরি বসিয়ে দিবে। এদের কাছে ভগবান আর রাক্ষসকে বদল করতে সময় লাগেনা।

  4. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    এটাইকেই বোধ হয় বলা হয় গণেশ উল্টে যাওয়া। নাস্তিকরা সব সময়ই লুজার -- কমি্‌উনিজমের থেকে শুরু করে সকল নষ্ট মতবাদের সমর্থন দিয়ে গেছে এরা -- বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এবারও হবে।

  5. 2
    এম_আহমদ

    একেক প্রেসিডেন্টকে আনা হয় এবং তার ও সাঙ্গপাঙ্গদের মাধ্যমে কিছু কাজ করিয়ে নেয়া হয়। সে ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের রস-কস যখন আর থাকে না অর্থাৎ এরা যখন লেইম-ডাক (lame duck) হয়ে পড়ে তখন আগের দল থেকে নতুন তৈরি হওয়া মুখগুলোকে আবার সামনে আনা হয়। মানি এভাবেই সরকার বদল হয়। আর এই চক্কর এভাবেই চলছে। এখন ট্রাম্পের মাধ্যমে আসাদকে শেষ করাই উদ্দেশ্য। আরও উদ্দেশ্য আছে, তবে মূল উদ্দেশ্য এই ভৌগলীক অঞ্চলকে ইসরাইলের জন্য খালি করা, এবং তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। আমার মনে হয় এই শতকের মধ্যভাগেই সেটা হয়ে যাবে। আর মুসলমানদের আত্মকলহ এতই গভীরে যে তারা কিছুই করতে পারবে না। আরবের ৭ম শতকের গোত্রীয় কলহ ধর্মতত্ত্বে অনুপ্রবেশ করে আজ গোটা মুসলিম বিশ্বে বিস্তৃত হয়ে আছে।

  6. 1
    এস. এম. রায়হান

    পেগ্যানদের কাউকে দেবতা বানাতে এবং ছুঁড়ে ফেলতে এক মুহূর্তও সময় লাগে না! প্রয়োজনে তারা ট্রাম্পকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে অন্য কাউকে দেবতা বানাবে! যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় হিন্দুদের উপর বর্ণবাদী হামলা হওয়ার পর ভারতের কোনো এক জায়গায় ট্রাম্প দেবতার কুশ-পুত্তলিকা জ্বালানো হয়েছিল! কাজেই তাদের জন্য আসলে দুঃসংবাদ বলে কিছু নাই!

Leave a Reply

Your email address will not be published.