«

»

May ২৮

বিংশ শতাব্দীতে মুসলিমদের পতন ও যেভাবে মুসলিমরা বিজয়ী হবে। মীর জাফর | পর্ব ২

বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে মুসলিমদের পতনে অনেক কবি ও সাহিত্যিক অনেক কিছু লিখেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কবি আল্লামা ইকবাল ও কবি কাজী নজরুল ইসলাম। নজরুল তার অনেক কবিতায় মুসলিমদের পতন নিয়ে খুবই ব্যাথিত ছিলেন। তেমন কয়েকটা কবিতা হলো আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান।

আর হলো বাজিছে দামামা বাধরে আমামা, নজরুল এক বিস্ময়। কিন্তু বাঙালী মুসলিমদের দুর্ভাগ্য, এরা নজরুল কে বুঝেনি, সে অনেক সহজে কঠিন বিষয় গুলো কয়েক লাইনে তুলে নিয়ে আসতো। আর কবি আল্লামা ইকবাল মুসলিমদের অবস্হা দেখে খোদার কাছে অভিযোগ করে কবিতা লিখেছেন "শিকওয়া" বা অভিযোগ। পরে আরেকটা কবিতা লিখেন "জবাবে শিকওয়া" নামে। এখানে দেখতে পারেন তার দুই কবিতার অল্প অংশ নিয়ে সাজানো হয়েছে। উর্দু ও ফার্সিতে লিখা তার অনেক কবিতা আছে। এখানে দেখতে পারেন শিকওয়া কবিতার আবৃতি

১৪০০ বছর পর আজ মুসলিমদের এই অবস্হা কেনো, এই নিয়ে সবার প্রশ্ন। যদি আদম (আঃ) হতে মুহাম্মদ(সঃ) পর্যন্ত সকল নবী ও রাসুলের সময়টা দেখি তাহলে দেখবেন যে সকল নবীকে পাঠানো হতো তার নিজের জাতির কাছে। কখনো দুই বা তিন জন নবী থাকতো একসাথে(মুসা(আঃ) ও হারুন (আঃ)। কখনো নবী পিতার ছেলেকে ও মহান আল্লাহ নবী বানাতেন(ইয়াকুব(আঃ) ও ইউসুফ(আঃ)। কখনো দেখা যেত যে একজন নবীর মৃত্যুর পর তার জাতির যে কয় জন মুসলিম হয়েছে তারা আবার কাফের হয়ে যেত। হাদিস হতে দেখা যায় যে রাসূল(সঃ) একবার স্বপ্নে দেখেন যে শেষ বিচারের দিন বিচার শেষ হওয়ার পর সকল নবী ও রাসূলরা তাদের জাতি/উম্মতের মধ্যে যারা জান্নাতি তাদের কমান্ড করে মহান আল্লাহর সামনে দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করছে।

বিভিন্ন দেশ বা আমাদের দেশের স্বাধীনতা দিবসে যেমন দেখা যায় যে প্রেসিডেন্ট স্টেজে দাড়িঁয়ে আছে। আর সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গ্রুপ, বিজিবি, পুলিশ, আনসারের ছোট ছোট গ্রুপকে একজন কমান্ডার কমান্ড দিয়ে প্রেসিডেন্টের স্টেজের সামনে দিয়ে যাচ্ছেন আর প্রেসিডেন্টকে স্যালুট দিচ্ছেন। প্রথমে সেনাবাহিনীর পদাতিক বাহিনীর একদল কুচকাওয়াজ করতে করতে প্রেসিডেন্ট কে স্যালুট করে চলে যাচ্ছে। তার গোলন্দাজ বাহিনীর গ্রুপটা আসছে, স্যালুট দিচ্ছে আর চলে যাচ্ছে। তার পর আসছে বিমান বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ইত্যাদি।

রাসুল(সঃ) দেখলেন বহু নবী একা প্রবেশ করছেন জান্নাতে। তারপর দেখলেন যে বহু নবী একজন বা দুই জন বা তিন জনের মত তার জাতির লোকদের নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করছে। তারপর দেখলেন যে এক বিশাল গ্রুপ জান্নাতে প্রবেশ করছে। রাসুলল(সঃ) ভাবলেন এটা মনে হয় তার উম্মত। পরে দেখলেন যে এটা মূসা(আঃ) এর জাতি। মুহাম্মদ(সঃ) এর উম্মতের গ্রুপটাই হবে সবচেয়ে বড়।

একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন, একজন আল্লাহর নবী। যে তার সারাটা জীবন তাওহীদের বানী শুনিয়ে মানুষকে মুসলিম হতে বলেছে, কিন্তু তার জাতির লোকেরা মুসলিম হয় নাই। বা দুই তিন জন হয়েছে। একটু চিন্তা করলেও অবাক হওয়ার কথা।

আজ আমাদের শেষ রাসুল(সঃ) চলে গেছেন ১৪০০ বছর আগে তবুও মুসলিমরা গনহারে কাফির হয়ে যায় নি বা ইসলাম পৃথিবী হতে নিঃশেষ হয়ে যায় নি। কারন এই ইসলামকে হেফাজত আল্লাহ করছেন এবং করবেন কিয়ামত পর্যন্ত। আরেকটা কারন হলো পবিত্র কোরান। এই রকম কিতাব আগে নাজিল হয়নি। ফেরেশতারাও এই কোরান পড়ার সৌভাগ্য অর্জন করেনি। যে কোরানকে পাহাড়ের উপর অবতীর্ন করলে পাহাড় ও ধংশ হয়ে যেতো।

মুসলিমদের সর্বশেষ খেলাফত বা পাওয়ার হাউজ ছিলো অটোমান/উসমানি/তুর্কি খেলাফত। আর সর্বশেষ খলিফা হিসেবে ধরা হয় সুলতান আবদুল হামিদ (দ্বিতীয়) কে। যদিও তার পরে আরো কয়েকজন খলিফা হয়েছেন, ওরা ছিলো নামমাত্র। তার খেলাফত কাল ছিলো ১৮৭৬ থেকে ১৯০৯ পর্যন্ত। তুর্কি খেলাফত তখন প্রায় ধংশ প্রাপ্ত, সুলতান আবদুল হামিদ অন্তত ৩০ বছর তুর্কি খেলাফত কে ধংশ হতে ঠেকিয়ে রেখেছেন। খেলাফতের অধীনে থাকা দেশগুলোতে দেশীয় জাতিয়তাবাদের উত্থান, টাকা-পয়সা লোন করে প্রায় দেওলিয়া হওয়ার মত অবস্হা তুর্কি খেলাফতের। সাথে ছিলো গ্রান্ড ভিজিয়ের নামক সরকারি লোকগুলোর অনেকেই ফ্রিম্যাসনারী হওয়া, ইউরোপিয়ান কলোনিস্টদের সাথে গোপনে গাদ্দারি করা।
জায়োনিষ্টের প্রতিষ্ঠাতা থিওডর হার্লজ একবার অনেকগুলো স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে আব্দুল হামিদের সাথে দেখা করে ১৮৯৬ সালে। সে ইহুদীদের জন্যে ফিলিস্তিন কিনতে চান সুলতান হামিদের কাছে। অনেক সাহায্য সহযোগিতার অফার দেন। সুলতান আব্দুল হামিদ উত্তর করেন ফিলিস্তিনকে ইহুদীদের দেওয়ার চেয়ে একটা খন্জর আমার বুক এপোড় ওপোড় করে দিক। যেই ভূমির জন্যে আমার পূর্বপুরুষরা রক্ত দিয়েছেন তা আমি কখনোই দেবোনা। পরে এই জায়োনিস্টরা চলে যায় এবং আব্দুল হামিদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ১৯০৯ সালে ইয়ং টার্ক, সচিব নামক ভিজেয়ারদের ষড়যন্ত্রে তাকে খলিফাচ্যুত করে এক্সাইলে পাঠানো হয়।

তুর্কি সরকার এখন আব্দুল হামিদকে নিয়ে টিভি সিরিয়াল বানিয়েছে। আমাদের এই উপমহাদেশের মুসলিমরা তাকে যে সাহায্য করতো তা উঠে এসেছে। তার সাহায্যেই এই উপমহাদেশে খেলাপত আন্দোলনটা শুরু হয় যা বঙ্গভঙ্গ না হওয়ার পর আরও জোরদার হয়। সেই আন্দোলনে ছিলেন এ কে ফজলুল হক, সোয়ওহার্দির মত লোকেরা।

সেই সময়ে খেলাফতের অধিনে মক্কার শাসক ছিলেন হুসাইন বিন আলি নামক মীর জাফর। বর্তমানে জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ হলো মীরজাফর হুসাইন বিন আলির নাতি। হুসাইন বিন আলিকে ব্রিটিশরা অফার করে সে যদি ব্রিটিশদের ফিলিস্তিন দখলে সাহায্য করে তাহলে তাকে একটা স্বাধীন আরব রাজ্য গড়ে দিবে। ১৯১৭ সালে হুসাইন বিন আলির সাহায্যে ব্রিটিশরা ভুমধ্যসাগর ঘেষা জাফা এলাকা যা ফিলিস্তিনের দক্ষিনে অবস্হিত, সেখান হতে তুর্কি খেলাফতের অধিনে থাকে জেরুজালেম আক্রমন করে। তখন মিশর ছিলো ব্রিটিশদের দখলে। ব্রিটিশ পুতুল শাসক এবং আরেক মীর জাফর মিশেরর হুসাইন কামাল আর তার মিশরীয় সেনাবাহিনী গাজা এলাকা হতে জেরুজালেমে প্রবেশ করে ব্রিটিশদের সাহায্য করে তুর্কি খেলাফতের বিরুদ্বে। আজ থেকে ১০০ বছর আগে ১৯১৭ সালে জেরুজালেম যুদ্বে ব্রিটিশরা দখল করে নেয় বর্তমান ফিলিস্তিনকে মীর জাফরদের সাহায্য।
আরব মীর জাফরদের সাহায্যে ফিলিস্তিন ১৯১৭ সালে দখল হওয়ার পর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী জেমস বেলফোর একটা চিঠি লিখে ওয়াল্টার রথচাইল্ড নামে ধনী ইহুদীকে। যা কুখ্যাত বেলফোর ডিক্লারেশন হিসেবে পরিচিত।যে ফিলিস্তিনে ইহুদীদের জন্যে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা হবে। তখন হতে সারা বিশ্ব হতে ইহুদীদের ফিলিস্তিনে এনে স্হানীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন করা হয়। ফিলিস্তিনি মুসলিমরা নিজ দেশেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ে।

চলবে………………………..

আগের পর্বঃ বিংশ শতাব্দীতে মুসলিমদের পতন ও যেভাবে মুসলিমরা বিজয়ী হবে। অস্তমিত সূর্য | পর্ব ১

 

৫ comments

Skip to comment form

  1. 3
    বখতিয়ারের ঘোড়া

    ভাই মুসলীম শাসকদের সম্রাজ্য বিস্তার ও অর্ধজাহান শাসন এর ইতিহাস সম্পর্কিত কিছু বাংলা বই সাজেস্ট করেন।।

    ইতিহাস সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।। 

    ইংরেজীও চলবে।।  তবে বাংলা হলে ভালো হয়।।  

  2. 2
    শামস

    খেলাফত শেষের দিকে নামেমাত্র থাকলেও, সেটার গুরুত্ব ছিল। যতদূর জানি, আরব জাতীয়তাবাদের নামে ক্ষমতালিপ্সু কিছু গোষ্ঠীর দ্বারা ছোট ছোট স্বাধীন (আসলে পরাধীন) রাজ্যের উৎপত্তি  এই খেলাফতের পতনে বিশেষভাবে দায়ী। 

    পড়লাম, চলুক।

    1. 2.1
      মজলুম

      খেলাফত পতনের জন্যে দায়ী মূলত চারটা। ১ঃ কলোনিয়ালিস্ট পাওয়ার ব্রিটিশ, ফ্রান্স ও রাশিয়ান জার। ২ঃ ইয়ং টার্ক নামক এক আত্বপরিচয়হীন সেক্যুলার টুর্কিরদের উত্থান। ৩ঃ আরব বিশ্বের ব্রিটিশদের সাথে হাত মিলিয়ে গাদ্দারী। ৪ঃ বলকান অঞ্চলে দেশীয় জাতিয়তাবাদের উত্থান। 

      এই চারের মধ্যে আরব বিশ্বের গাদ্দারীটা সবচেয়ে ভয়াবহ ছিলো, সেই গাদ্দারীতে ইয়ং টার্ক নামক তুর্কি সেক্যুলাররা আরো শক্তিশালি হয়। আমরা যেমন গাদ্দারের কথা মনে হলে মীরজাফরের কথা মনে ভেসে উঠে, তেমনি তুর্কি মুসলিমদের ও গাদ্দারীর কথা মনে হলে আরবদের কথা ভেসে উঠে। 
      পাঠ ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। 

  3. 1
    Anonymous

    আসসালামু আলাইকুম মজলুম ভাই।

    ধন্যবাদ রমজানের প্রথম দিনে ভাল একটি লিখা পেলাম। তবে ১ম পর্বের পর বেশী সময় নিয়েছেন ২য় পর্ব টি। 🙂

    প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জার্মানির পরাজয়ের মুল কারন ইহুদীদের বিশ্বাস ঘাতকতা। নিজেদের স্বাধীন ভুমির জন্য বৃটিশদের সাথে হাত মিলিয়ে জার্মানিকে পরাজিত করে। জার্মান পরে ঠিকই বোঝতে পারে ইহুদীদের চক্রান্ত। হিটলারের ইহুদী নিধন ইহাই অন্যতম প্রধান কারন।

    ২-টি বিষয় জানতে চাই। ১. মুসা(আ) ইহুদীদের বর্তমান ফিলিস্তিনে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই ভুমি তো ইহুদীদের আদি ভুমি এবং তাদেরই অধিকার। বরং মুসলমানরাই তাদের ভুম দখল করে আছে। তাই নয় কি? 
    ২. ইহুদীরা আমাদেরই ভাই, যেমন খৃষ্টানরা। এদের সাথে মুসলমানদের এত দাঙ্গা-হাঙ্গামা, খুনাখুনী কেন? এক ইসরাঈল সকল মুসলিম দেশের জন্য বিষফোঁড়া।

    ধন্যবাদ ভাই।

    1. 1.1
      মজলুম

      উত্তরঃ ১ , ইব্রাহিম(আঃ) এর সময়ে সত্যের পতাকাবাহীদের অধীনে জেরুজালেম থাকবে, এই মর্মে প্রমিস করা আছে। মূসা(আঃ) এর সময়ে উনি জেরুজালেম মুক্ত করতে পারেন নি ইসরাইলিদের জন্যে। পরে তার অনুসারী জোসুয়া জেরুজালেম ইসরাইলিদের জন্যে মুক্ত করেন। রাসূল(সঃ) এর জিবদ্দসায় জেরুজালেম মুক্ত না করতে পারলেও মিরাজের রাত্রিতে তিনি সেখানে গিয়েছেন। খলিফা উমরের(রাঃ) এর সময় বিনা রক্তপাতে জেরুজালেম মুক্ত হওয়ার পর স্থানীয় লোকেরাই ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে মুসলিম হয়। তাদের মধ্যে ইহুদী ও খ্রিষ্টান ই ছিলো সবচেয়ে বেশী। আর ইহুদীদেরতো জেরুজালেমে রোমান এম্পায়ার দাসের মতো করে রাখতে এবং খাটাতো। মুসলিমদের হাতে মুক্ত হওয়ার পর এরা ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে। ঐ মুসলিমদেরকেই ফিলিস্তিনি মুসলিম বলা হয়। মুসলিমরা ইহুদীদের ভূমি দখল করেনি বরং ইহুদীদের রোমানদের হতে মুক্ত করেছে। আর এখন ১৯১৭ এ ব্রিটিশদের হাতে দখল হওয়ার সারা বিশ্ব হতে ইহুদী এসে ফিলিস্তিন দখল করেছে। 

      উত্তরঃ ২,  পারস্য ও রোমানদের মধ্যে যুদ্বে মক্কা পিরিয়ডে মুসলিমরা রোমানদের আহলে কিতাবের অনুসারী  ভেবে টাদের পক্ষ নিতো আর মক্কার মুশরিকরা নিতো পারস্যের মুশরিকদের। ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের আহলে কিতাব বলে সম্মানিত করা হয়েছে। ইসলামি বিভিন্ন আইন কানুনে এদের  অনেক ছাড় দেওয়া হয়েছে। সূরা মায়েদাতে বলা আছে যে মুসলিমদের জন্যে তারা সবচেেয়ে কাছের হলো খ্রিষ্টান। মদিনাতে ইহুদীর বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র, মদিনা সনদ ভেঙ্গে গাদ্দারী করা, কুরাইশদের মুসলিমদের বিরুদ্বে উত্তেজিত করা, এই সব কারনে এদেরকে মদিনা হতে বিতাড়িত করা হয়। ক্যাথেলিক রোমান সম্রাজ্যে ও অর্থডক্স বাইজেন্টাইন সম্রাজ্য গায়ে পড়ে এসে মুসলিমদের সাথে তাবুক ও মুতার যুদ্ব করে। এরপর কোরানের যুদ্বের আয়াতগুলোতে ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের কথা ব্যাপকভাবে বলা আছে। কোরানের সেই বাণীর সত্যতা আমরা ১৪০০ সাল পরে এসেও দেখছি যে পবিত্র কোরান ই সত্য। 

      পোষ্ট পড়া ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.