«

»

Aug ১৪

বেঞ্চমার্ক মুহাম্মদ (স):। লাইফ ইজ বিউটিফুল । প্লাস জেনে নিন তার বিবাহ নিয়ে কিছু কথা!

যুদ্বটার নাম হুনায়ন। মুহাম্মদ(সঃ) এর প্রায় শেষ সময়ে এই যুদ্ব সংগঠিত হয়। এই যুদ্বে প্রচুর গনিমতের মাল পাওয়া যায়। ২২০০০ উট, ৪০০০০ ছাগল, ১১৩,৪০০ গ্রাম রোপ্য, ৬০০০ যুদ্ববন্ধী যাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু ছিলো। গনিমত মাল বন্টনের সময় সবকিছুই মক্কার বেদুইনদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন। যুদ্ববন্ধী সবাইকে মুক্ত করে দিলেন। মদিনার সাহাবিদের কিছু না দেওয়ায় তারা বললো, রাসূল এখন তার লোকদের পেয়ে আমাদের ভুলে গেছেন। রাসূলের কানে এই কথাটি গেলে তিনি সকল মদিনার সাহাবীদের একত্রিত করে বললেন, হে মদিনার আনসার সাহাবীরা, তোমাদের কাছে কি এটা প্রিয় নয় যে, মানুষেরা গনীমতের সম্পদ সাথে নিয়ে বাড়ি ফিরবে, আর তোমরা আল্লাহর রাসূলকে নিয়ে বাড়ি ফিরবে। এই কথাটা শুনার পর মদিনার আনসার সাহাবীরা কাদঁতে শুরু করলেন। আবু বকর,ওমর,উসমান, আলী এরা সহ মদিনার আনসার সাহাবী সবাই খালি হাতে শুধু রাসূলকে সাথে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরলো, আর বললো হ্যাঁ রাসূল আমরা এতেই খুশি। এটাই রাসূলের শিক্ষা।হুয়ায়ন যুদ্ব নিয়ে বিস্তারিত বললে পোষ্টা বড় হয়ে যাবে।যুদ্বের শুরুতেই মুসলিমরা পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায়, তখন এই মক্কার বেদুইনরা মুসলিমদের দলে থেকেও বলেছিলো আজ মুসলিমদের পরাজয় কেউই ঠেকাতে পারবে না। এরা পালিয়ে গিয়েছে। পরে উমর,আলি (রঃ) সহ মদিনার আনসার সাহাবীদের দ্বারা যুদ্বের গতিপথ পাল্টে বিজয় ঘটে। মুসলিমদের বিজয় দেখে বেদুইনরা ফিরে আসে রাসূলের কাছে এসে গনিমতের মাল চাইছে এবং রাসূল ওদের মাঝেই সব মাল বন্টন করে দেন। সুত্র

 

আবু বকর (রঃ) যখন ইসলাম কবুল করেন, তিনি তখন ব্যবসায়ী ছিলেন। শেষের দিকে তাবুক যুদ্বের সময় তার ঘরে আসবাবপত্র বলে কিছুই নাই, এমনি ঘরে কিছু হাড়ি পাতিল ছিলো তা বিক্রি করে তাবুক যুদ্বের ফান্ডে দিয়ে দেন। ইসলাম গ্রহনের আগের সাহাবীদের অবস্হা ইসলাম গ্রহনের পর অনেক খারাপ হয়ে যায়। এরা দুনিয়ার বদলৌতে আখিরাতকে কিনে নিয়েছে।

আমরা আমাদের নেতা নেত্রীদের বা সিনিয়র লোকদের দেখলে দাড়িয়ে সম্মান জানাই, কিন্তু যে সাহাবীরা রাসূলের জন্যে নিজেদের জান কোরবান করতে সধা প্রস্তুত ছিলেন তারা রাসূল আসলে দাড়াতেন না। কারন রাসূল এটার অনুমদোন দেন না।
তিরমিযী ০৪৬:৩১৮ হাদিসঃ ০০৬
আমরা ঘরের চাকর বাকর বা ছোট ছেলে মেয়েদের সাথে কেমন আচরন করি। হযরত আনাস (রঃ) বলেন আমি রাসূলের খেদমতে ১০ বছর কাটিয়েছি, তিনি কখনোই আমার কোন কাজে বিরক্ত হয়ে উহ! শব্দটা বলেন নাই। কখনো বলে নাই তুমি এটা কেন করছো বা এটা কেন করো নাই। ১০ বছর রাসূলের খেদমতে থেকে আনাস (রঃ) বলছে মুহাম্মদ(সঃ) হচ্ছেন সবচেয়ে ওয়েল বিহেবড মানুষ।

আমাদের কেউ গালি দিলে আমরাও প্রতিউত্তরে গালি দেই। একবার কিছু ইহুদি রাসূলের ঘরের সামনে এসে তার সাথে দেখা করতে চাইলো এবং বলতে লাগলো মৃত্যু পতিতো তোমাদের উপর।(ঐ সময়ে ইহুদী যা বলে অভিবাধন জানাতো, সেই শব্দগুলো জিহবা দিয়ে একটু টুইস্ট করে দিলে হয়ে যেত, তোমাদের মৃত্যু হোক) প্রতিউত্তরে আয়েসা(রঃ) বললো, আমাদের উপর নয় বরং তোমাদের উপর মৃত্যু পতিত হোক। এসব শুনে রাসূল বললেন, হে আয়েশা, দয়ালু হওয়ার চেস্টা করো, খারাপ ভাষা ব্যবহার হতে নিজেকে সংযত রাখো। আয়েশা (রাঃ) বললেন, আপনি কি শোনেন নি, তারা কি বলেছে। রাসূল বললেন হে আয়েশা, আমি বরং তোমাকে সব সময় এটাই বলবো।

আমাদের এই গরীব দেশের প্রেসিডেন্ট/ প্রধান মন্ত্রীতো দূরের কথা, গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বাড়িঘর রাসূলের চেয়েও উন্নত মানের থাকে। তার ঘর ছিলো পাথর, মাটি দিয়ে গড়া, উপরে খেজুর পাতার ছাদ। বুখারিঃ১/৭১,৫৫৫,৫৬০

আমাদের সবার ঘরে এবং সেই সময় মদিনায় লোকদের ঘরে কত কি আসবাব পত্র থাকে। চেয়ার টেবিল, খাট পালং, আলনা, দোলনা আরো কতো কি। রাসূলের ঘরে কি ছিলো,
একবার উমর (রঃ) রাসূলের ঘরে প্রবেশ করেন, তিনি দেখেন তার ঘরে শুধু একটা চামড়ার ব্যাগ, আর কিছুই নাই। রাসূল খেঁজুর পাতার মাদুরে শুয়েছেন, মাদুরের দাগ তার শরীরে লেগে আছে। আমার চোখে পানি এসে গেলো রাসূলের এই করুন অবস্হা দেখে। রাসূল বললেন, হে উমর তুমি কাঁদছ কেনো। উমর বললো, আমি কাদবো না কেন, আপনার ঘরে কোন আসবাবপত্রই দেখছি,মাদুরের দাগ আপনার শরীরে লেগে আছে। অথচ রোমের কায়সার আর পারস্যের খসরু রাজারা কতো বিলাসে থাকে প্রাসাদে। মুহাম্মদ(সঃ) বললেন হে উমর, আমার লক্ষ্যতো বিলাসিতা নয় বরং খোদার সন্তুস্টি সহীহ মুসলিমঃ বুক ০০৯ হাদিস নাম্বারঃ ৩৫০৭

রাসূলুল্লাহ (সঃ) যে বালিশে শুতেন, সেই বালিশটা ছিলো খেজুর গাছের আঁশ দিয়ে বানানো। সহীহ মুসলিমঃ বুক নং ০২৪ হাদিস নং ৫১৮৫

কোন লোক মারা গেলে রাসূল জিজ্ঞাসা করতেন এই লোকটা কোন দেনা রেখে মারা গিয়েছে কিনা। যদি সে দেনা রেখে মারা যায় তাহলে রাসূল তার দেনা পরিশোধ করতেন। যদি সে সম্পত্তি রেখে মারা যায়, তাহলে ওটা স্রেফ তার উত্তরসূরীদের জন্যে।
সহীহ বোখারীঃ ভলিউম ৩ বুক নং ৩৭ হাদিস নং ৪৯৫

অনেকেই বলবে কোরান শরীফে বলা হয়েছে গনীমতের মালের ৫ ভাগের এক ভাগ রাসূলের জন্যে বরাদ্দ করা হয়েছে। সূরাঃ৮ আয়াত-১ ও ৪১ঐ সম্পদ কোন বিলাসিতার জন্যে ব্যয় করতেন না। সেই সম্পদ জনসাধারনের মাঝে বিলিয়ে দিতেন, যতক্ষন পর্যন্ত না ঐ সম্পদ শেষ না হয়।
বুখারী শরীফঃ ভলিউম ৪ হাদিস নং ৩২৬

আমরা বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে রসনা বিলাস, পেটপূজা করি। নিজে ভালো ভালো খাই এবং গরীব দুঃখীদের সাহায্যের কথা বলি, কিন্তু করিনা । আল্লাহর রাসূল যা বলতেন তাই করতেন। তিনি এখানে হিপোক্রিসী করতেন না। যেটা আমাদের সভ্য সমাজের লোকেরা করে থাকে। তিনি বলেছেন, ক্ষুদার্তকে খাবার দাও, অসুস্থকে দেখতে যাও এবং গোলাম/দাসকে টাকা দিয়ে মুক্ত করে দাও।
বুখারী শরীফ, ভলিউম ৭ বুক নং ৬৫ হাদিসস নং ২৮৬

রাসুলের পুরা পরিবারটা কখনো কখনো পুরা মাস কাটিয়েছে শুধু খেজুর এবং পানি খেয়ে। ওদের রান্না করার কোন খাবার ও ছিলোনা বলে একমাস কোন চুলাও জ্বলেনি।
সহিহ মুসলিম বুক নং০৪২ হাদিস নং ৭০৮৯

আপনার কাছে খাদ্য নেই বা কম খাদ্য আছে, আপনি খেয়ে না খেয়ে আছেন। কিন্তু তার চেয়েও বেশী কস্টকর হলো, আপনার আছে এবং ছিলো কিন্তু তা নিজে না খেয়ে বিলিয়ে দিয়েছেন ক্ষুদার্তের মাঝে।
রাসূল এবং তার পরিবার সারাজীবন পরপর তিনদিন পেটপুরে খেতে পারেন নি। একদিন খেয়েছেনতো আরেকদিন না খেয়ে থেকেছেন। মহানবীর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এভাবেই চলেছিলো প্রতিদিন।
সহিহ বুখারীঃ ভলিউম ৭, বুক নং ৬৫, হাদিস নং ২৮৭

তৎকালীন সময়ে আরবে এবং গ্রিসে নারী শিশু হত্যার প্রচলন ছিলো প্রথার মতো। অনেকে কোন মেয়ে শিশুই নিতোনা। কেউ কেউ একটা মেয়ে শিশুর বেশী নিত না, একটা মেয়ে শিশু থাকলে বাকিগুলোকে জীবন্ত কবর দিয়ে দিতো। একটা গর্ত করে ওখানে গর্ভবতী নারীর বাচ্ছা ডেলিভারি করা হতো। শিশুটি যদি মেয়ে হতো তাহলে গর্তের মধ্যেই মাটি চাপা দিতো। সেই সময়েও মা বাপ হারিয়ে বড় হওয়া নিরক্ষর লোকটি পরপর চারটি মেয়েশিশু জন্ম দেন এবং লালন পালন করে। এই সামাজিক ট্যাবু ভেঙ্গে দেন নবী হওয়ার আগেই। হযরত যয়নব (রঃ), রোকাইয়া(রঃ), কুলসুম(রঃ) এবং সবার ছোট ফাতিমা (রঃ) সবাইকে খুব ভালোবাসতেন, সবচেয়ে বেশী ভালোবাসতেন সবার ছোট ফাতিমা (রঃ) কে। এর জন্য তার নবী হওয়ার দরকার পড়েনি। মূলত তারও প্রায় বিশ বছর পর কোরানে এই আয়াতটা নাজিল হয়, কন্যাশিশুটা বিচারের দিন খোদার কাছে প্রশ্ন করবে কি অপরাধে তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হলো? সুরাঃ তাকয়ির আয়াতঃ ৮এবং ৯

কন্যাশিশু একে একে চার জন জন্মানোর পরেও মুখ কালো করেননি, খাদিজা(রঃ)কে দোষারুপ করেন নি, বংশের বাতি নিভে যাওয়া নিয়ে মাথা ঘামান নি। নিজের কন্যাদের এমন ভালোবাসতেন যে বলতেন, ফাতিমা আমার শরীরের অঙ্গের মতো। আমার মেয়ে ফাতিমাকে যে কস্ট দেয়, সে যেন আমাকেই কষ্ট দেয় । তারও প্রায় ২০ বছর পর কন্যাশিশু জন্মানোয় মুখ কালো রাখা বা পুত্রশিশু জন্মনিলে খুব খুশি হওয়ার উপর নিষেধাঙ্গা আরোপ করা হয় পবিত্র কোরানে, সূরা নাহোলঃ আয়াত ৫৮-৫৯।

দুই তিনটা কন্যাশিশু লালন পালন করে বড় করার মধ্যে অসংখ্য ফজিলতের কথা বর্ননা করে গেছেন।

বর্তমানে স্ত্রীদের কাছে কতজন স্বামী উত্তম হবেন? মুহাম্মদ(সঃ) বলে গেছেন, তোমাদের মাঝে সবচেয়ে ভালো যার উত্তম চরিত্র রয়েছে, এবং তাদের মাঝে সবচেয়ে উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। তিরযিমী শরীফঃ বুক নাম্বার ১০ হাদিস নাম্বার ১১৬২।

কখনো বাইরে থকে ঘরে প্রবেশ করলে যদি দেখতেন তার স্ত্রী এখনো রান্না করছে, তাহলে তিনি তার স্ত্রীর পাশে থেকে রান্নার কাজে সাহায্য করতেন। তার স্ত্রীদের গায়ে হাত তোলা তো দূরের কথা, কখনো একটা ধমক ও দেন নি তাদের। কখনো কথায় মনমালিন্য হলে ওখান হতে উঠে যেতেন শুধু। বিশ্বনবী হয়েও তিনি স্ত্রীদের থেকে পরামর্শ গ্রহন করতেন। হুদায়বিয়ার সন্ধির কঠিন মূহূর্তেও তিনি তার স্ত্রী হযরত সালমা(রঃ) এর পরামর্শই গ্রহন করেন।

তিনি মায়ের কাছে কমই ছিলেন, মায়ের মমতা বুঝার আগেই তার মা আমেনা(রঃ) দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছে। তবুও তিনি বলে গেছেন, বেহেশত হলো মায়ের পায়ের নিচে। সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস নাম্বার ২৭৭১

মাকে দিয়েছেন পিতার চেয়েও তিনগুন বেশী মর্যাদা ও অধিকার।

ইনিই সেই মহামানব, মক্কা জয় করার পর প্রতিশোধ নেওয়ার পূর্ন শক্তি থাকার পরও প্রতিশোধ নেন নি, ক্ষমার মহাত্ব দেখিয়েছেন। নবী হওয়ার আগেই আল-আমিন উপাধি পেয়েছেন। আরব বিশ্বে যুদ্ব হানাহানি বন্ধের জন্যে গড়ে তুলেছেন শান্তিসংঘ। নবুয়্যতের আগে ও পরে সর্বোপরী তিনি ছিলেন একজন আদর্শ কিশোর, আদর্শ তরুন, আদর্শ যুবক, আদর্শ সন্তান, আদর্শ স্বামী, আদর্শ বাবা, আদর্শ নানা, আদর্শ নেতা, আদর্শ প্রতিবেশী, আদর্শ দার্শনিক এবং আদর্শ বিপ্লবী। তিনি ছিলেন একজন নবী ও দার্শনিক। নিজ দর্শনে আহবান জানিয়েছেন সবাইকে, নিজেও চলেছেন সেই একি দর্শনে, সেই একি দর্শনে করে গিয়েছেন এক বিপ্লব। সাদা-কালো, আরব, অনারব, পূর্ব-পশ্চিম, উঁচুজাত-নিচুজাতের ভেদাবেদ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। এজন্যেই বার্নার্ড লুইসে মতো লেখক, গত জর্জ বুশ সরকারের উপদেস্টাকেও স্বিকার করতে হয় ইসলাম হচ্ছে বিশ্বে প্রথম ইউনিভার্সাল সিভিলাইজেশান, যেখানে আরব, চীনা, তুর্কি, কুর্দী, ভারতীয়, ইউরোপীয়, আফ্রিকার লোকদের একটা সভ্যতা গড়ে উঠে। নিজস্ব দর্শনের পুথি রেখে পরবর্তি কারো উপর বিপ্লবের ভার দেন নি, তিনি নিজেই এই বিপ্লব সফল করে যান।

১০ comments

Skip to comment form

  1. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    সদালাপে ্‌আমার পড়া রসুল (সঃ) এর উপর শ্রেষ্ঠ লেখা -- আল্লাহ আপনাকে যথার্থ পুরষ্কার দেবেন -- এই দোয়া করছি। 

     

     

    1. 6.1
      মজলুম

      আমিন। আচ্ছা গফুর কেনো বাসে পোস্টে লিখে অনেক সময় ব্যয় করেসেন। সেইম সেক্স ম্যারেজ নিয়ে এই আর্টিক্যালটা পড়ে, এবং আরেকটু এদিক সেদিক দেখি একটা পোস্ট দিতে পারবেন? হিজরাদের বিবাহের বিরুদ্বে কথা বললে জেল জরিমানা করা হচ্ছে কানাডাতে। পুরা শয়তানাইজেশান হয়ে যাচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো। নেক্সটে ইনচেস্ট, পশুকামিতার বিরুদ্বে বললেও জেল ঝরিমানা করা হবে। পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ বছর খুবই কঠিনভাবে যাবে পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষকরে সাদা বর্নবাদিদের কারনে। তা নিয়ে আমি পরে লিখবো। পড়ার জন্যে ধন্যবাদ

  2. 5
    মহিউদ্দিন

    রাসুল (স:) জীবনী নিয়ে লিখা শুরু করেছেন দেখে আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আসলে  রাসুল (স:) জীবনী নিয়ে আমরা যত আলোচনা করব ততই  আমাদের আমাদের আধ্যাত্মিক এবং পার্থিব জীবনের  কল্যাণ বয়ে আনবে। একটি উত্তম প্রচেষ্টা চালিয়ে যান সাথে আছি। অনেক ঘটনা আমাদের জানা থাকলেও এ সব আমাদেরকে বার বার আলোচনা করতে হবে চিন্তা করতে হবে। জাজাক আল্লাহ। 

    1. 5.1
      মজলুম

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ

  3. 4
    এম_আহমদ

    হুনাইনের যুদ্ধ নিয়ে আলাদা করে সদালাপে কোন কিছু আসে নি; অন্তত আমি স্মরণ করতে পারছি না। সুতরাং, এটি একটি উত্তম উদ্যোগ হয়েছে। এজন্য মাজলুম ভাইকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। তবে, আমি সম্পূরকভাবে আরও কয়েকটি কথা এখানে সংযোগ করতে যাচ্ছি, যা নিম্নরূপ:

    পরাজয়ের  বড় কারণ

    হুনাইনের যুদ্ধে হাওয়াযিনদের পরাজয়ের একটি বড় কারণ এই ছিল যে তারা তখন এক অত্যৎসাহী যুবক, মালিক বিন আওফের নেতৃত্বাধীন, তবে তিনি ভাল যোদ্ধা ছিলেন। তিনি এই এই যুদ্ধের সিদ্ধান্ত এভাবে নেন যে প্রত্যেক গোত্র ও উপগোত্র তাদের পরিবার-পরিজন, উট-ভেড়ি এবং যাবতীয় সম্পদ যুদ্ধের ময়দানে নিয়ে আসবে, যাতে করে কেউ পলায়নের চিন্তা করতে না পারে। এটি ছিল সেদিনের এক যুদ্ধ-নীতি। কিন্তু বিষয়টি অনেকের মনঃপুত না হওয়ায় আগের নেতা নেতা বৃদ্ধ দুরাইদ বিন সিম্মাকে পালঙ্গে বহন করে আনা হয়, তিনি তখন অন্ধ। তিনি এই সিদ্ধান্ত শুনে হতবাক হয়ে যান। বলেন, সর্বনাশ –এটা তো ঠিক নয়। তিনি বলেন, তোমরা বরং নারী-শিশু ও সকল সম্পদ দূরের পাহাড় চূড়ায় স্থাপন করে ময়দানে গিয়ে যুদ্ধ কর, যাতে পরাজয় হলেও সর্বনাশ না হয়। কিন্তু মালিক বিন আওফ রাগান্বিত হয়ে পড়েন এবং আত্মহত্যার করবেন বলে তার গোত্রকে ব্ল্যাকমেইল করেন। নবীর (সা) জীবনী লেখক স্যার জন গ্লাব মালিকের কথা ও প্রতিক্রিয়া এভাবে অনুবাদ করেন, “you are an old fool who is senile. We will not do what you say. Follow me, O Hawazin, or I shall fall on my own sword and kill myself”  (Glubb. J. [1998]. The Life and times of Muhammad. London:  Madison Books. P.321). 

    হুনাইন ও হাওয়াযিন

    হুনাইন হচ্ছে মক্কা ও তায়িফের মধ্যবর্তী একটি বড় উপত্যকা। এখানের আশে পাশের অঞ্চল ঘিরে হাওয়াযিন গোত্রের বসবাস ছিল। তারা প্রধানত তিনটি বড় গোত্রের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। এদের একটি ছিল বানু সাদ। এই সাদ গোত্রের আবু যুআইবের কন্যা হালিমা আস-সাদিয়্যার গৃহে শিশু মুহাম্মাদ (সা) লালিত হয়েছিলেন। এখানে রাসূলের এক দুধ-বোন ছিলেন যার নাম ছিল শাইমা, যিনি এই শিশু মুহাম্মাদকে  কুলে-কাঁধে নিয়ে সংসারের কাজে ভেড়ি পালনসহ মায়ের সহযোগিতা করতেন। একবার শিশু মুহাম্মাদ শাইমাকে কামড় মেরেছিলেন। এই দাগ তার বাহুতে থেকে যায়।

    হুনায়নের যুদ্ধে শাইমা বন্দিনী

    হুনায়েনের যুদ্ধে শাইমাও বন্দিনী হয়ে পড়েন। কিন্তু তিনি সৈন্যদেরে হাঁকিয়ে বলতে থাকেন, ‘তোমরা আমাকে তোমাদের নেতার  কাছে নিয়ে চল; সে আমার ভাই!’ বিষয়টি ঔৎসুক্যের হয়ে পড়লে তারা তাকে নবীর (সা) কাছে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘হে মুহাম্মাদ, আমি তোমার বোন!’ শাইমা তখন বৃদ্ধা। প্রায় ৫৬/৫৭ বছর অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। নবীর (সা) মা জীবিত থাকাকালীন হালিমা একবার মক্কায় এসেছিলেন, সাথে হয়ত শাইমাও এসে থাকতে পারেন, তবে এর পরে এক দীর্ঘ কাল অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। নবী (রা) তার কথা শুনে তো মেরে গেলে, তিনি তার বাহুর সেই দাগ দেখিয়ে বলেন, ‘মনে আছে?’ নবী তৎক্ষণাৎ চিনে ফেলেন। তিনি বোনের জন্য শ্রদ্ধায় তার গায়ের শাল মাটিতে বিছিয়ে তাকে ওখানে সাদরে বসতে বলেন। এত কাল পরে এভাবে দেখে তিনি কেঁদে ফেলেন। উভয়ই কাঁদেন। শাইমা ইসলাম গ্রহণ করেন। তারপর রাসূল (সা) শাইমাকে বলেন,  তিনি চাইলে তার সাথে থাকতে পারেন, এখানে সসম্মানে থাকবেন, আর চাইলে তার নিজ গোত্রে চলে যেতে পারেন এবং তিনি সেই ব্যবস্থাও করে দেবেন। শাইমা তার গোত্রে চলে যেতে চান। নবী (সা) তাকে ৩ জন দাস, একজন দাসী, ও কিছু বকরি উপহারসহ নিরাপত্তার লোক দিয়ে তার নিজ এলাকায় পৌঁছিয়ে দেন।

    রিদ্দার যুদ্ধ

    আবু বাকরের (রা) খেলাফত কালে যখন চতুর্দিক থেকে অনেক গোত্র যখন বিদ্রোহ ঘোষণা করে, তখন এই হাওয়াযিন গোত্রও সেই বিদ্রোহে দাঁড়িয়ে যায়। তখন তিনি এই বৃদ্ধ বয়সে বিদ্রোহ দমনে উঠে দাঁড়ান। ফলে এখান থেকে কেউ আবু বকরের বিপক্ষে বিদ্রোহ জোরদার করতে পারে নি।

    হাওয়যিন যুদ্ধের অনেক ঘটনা ও বিষয় রয়েছে যা দেশ, জাতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে শিক্ষণীয় আলোকবর্তীকা দান করে।

    1. 4.1
      মজলুম

      সালাম আহমেদ ভাই। ভালো করেছেন যুদ্বের ব্যাকগ্রাউন্ড  দিয়ে। হুনায়নের যুদ্বে মূল শিক্ষামূলক ঘটনা বলে আমি মনে করি টা হলো যারা বেশী ত্যাগ স্বীকার করেন তারা খালি হাতেই ফিরে যান, কোন গনীমত, ক্ষমতা, ধন সম্পদ কিছুই চান না, শুধু আল্লাহ ও রাসূলের সন্তুষ্টি চান।

  4. 3
    Rahul Khan

    Nice article, Thank you sir..

    1. 3.1
      মজলুম

      পড়ার জন্যে ধন্যবাদ

  5. 2
    মজলুম

    আমার অনেক ব্লগ ডিলিট হয়ে গেছে ঐখানে, এই পোষ্টা এখানে দিলাম ব্যাকাপের জন্যে। এক মোদিমনা কিছু প্রশ্ন করেছে, তার উত্তর ও কিছু দিয়েছি, পরে সামু আমাকে ব্যান করলে সে আবার প্রশ্ন করে, তাই তার শেষের প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিতে পারিনি।

    অমিয় উজ্‌জ্‌বল বলেছেন: লেখক হুনায়নের যুদ্ধের উদাহরণ দিয়েছেন। এই যুদ্ধে গণিমত ২২০০০ উট, ৪০০০০ ছাগল, ১১৩,৪০০ গ্রাম রোপ্য, ৬০০০ যুদ্ববন্ধী যাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু ছিলো। গনিমত মাল বন্টনের সময় নবীজি সবকিছুই মক্কার বেদুইনদের মধ্যে বিলিয়ে দিলেন।

    নবীজি মহানুভব, বড় মাপের মানুষ। প্রশ্ন রাখি এর আগের যুদ্ধ গুলিতে কি হয়েছিল?

    তিনি একজন মহাপুরুষ সবসময়ের জন্যই। নাকি শুধু হুনায়নের যুদ্ধের জন্যই?

    লেখক বলেছেন: আপনি এসব প্রশ্ন শুরুতেই করলে ভালো হতো, অনেক দেরীতে এসেছেন, তবুও ভাল্লাগতেছে। বেটার লেট দেন নেভার।

    পড়ে নিন বদর যুদ্বের ইতিহাস। বদর যুদ্বে বন্দীদের নিজেদের মেহমানের মতই সেবা যত্ন করা হয়েছিলো। সাহাবিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো ওদের দেখশুনা করার। মদিনার সাহাবিরা নিজেরা পানি আর খেজুঁর খেয়ে যুন্দবন্দীদের রুটি আর মাংস খেতে দেয়। শিক্ষিত যুদ্ববন্দীদের মুক্তিপন ছিলো অশিক্ষিত মদিনার মুসলিমদের শিক্ষা দেওয়া। যুদ্ধবন্দীদের ট্রিটমেন্ট নিয়ে ইসলামিক আইন গুলো দেখে নেবেন একবার,

    ১৪০০ বছর আগের ইসলামিক আইন গুলো দেখে নেবেন একবার, তার পর জেনেভা কনভেনশানের সাথে মিলিয়ে দেখবেন। রাসূল যেটা করে গেছেন ১৪০০ বছর আগে, জেনেভা কনভেনশান করেছে তা কিছুদিন আগে।

     

    অমিয় উজ্‌জ্‌বল বলেছেন: আরো প্রশ্ন আছে।

    ১. তিনি বলেছেন, ক্ষুদার্তকে খাবার দাও, অসুস্থকে দেখতে যাও এবং গোলাম/দাসকে টাকা দিয়ে মুক্ত করে দাও।

    বুখারী শরীফ, ভলিউম ৭ বুক নং ৬৫ হাদিসস নং ২৮৬

    দাসকে মুক্ত করতে বলেছেন। নিষিদ্ধ করেননি কেন? বলবেন কি? সমস্যা ছিল কি কোন? তিনি দাসপ্রথাকে হারাম করে দিলেই তো হতো। তা হলে আর কেনা বেচা হয়না। তিনি চাইলে সেটা পারতেন ও।

    ২.রাসুলের পুরা পরিবারটা কখনো কখনো পুরা মাস কাটিয়েছে শুধু খেজুর এবং পানি খেয়ে। ওদের রান্না করার কোন খাবার ও ছিলোনা বলে একমাস কোন চুলাও জ্বলেনি। এরকম অবস্থাতেও তিনি একের পর এক বিয়ে করে পরিবারের সদস্যা সংখ্যা বাড়িয়েছেন। এটা কতটা দায়িত্বশীলতার পরিচয়?

    ৩. তৎকালীন সময়ে আরবে এবং গ্রিসে নারী শিশু হত্যার প্রচলন ছিলো প্রথার মতো। অনেকে কোন মেয়ে শিশুই নিতোনা। কেউ কেউ একটা মেয়ে শিশুর বেশী নিত না, একটা মেয়ে শিশু থাকলে বাকিগুলোকে জীবন্ত কবর দিয়ে দিতো। একটা গর্ত করে ওখানে গর্ভবতী নারীর বাচ্ছা ডেলিভারি করা হতো। শিশুটি যদি মেয়ে হতো তাহলে গর্তের মধ্যেই মাটি চাপা দিতো। এটা বহুল শ্রুত। কিন্তু কতটা বিশ্বাসযোগ্য? তাহলে এত গণিমতের মাল (বিশেষত নারী) কোথ্থেকে এল ? বিয়ে করার মত এত নারীই বা পেলেন কোথায়? হযরত খাদিজার মত একজন নারী সেসময় এত বড় ধনকুবের ব্যবসায়ী হয়ে উঠলেন কি করে, যেখানে কিনা নারীদের বেঁচে থাকারই অধিকার নাই?

    লেখক বলেছেন: উত্তর সবগুলো দেখে নেন।

    নাম্বার ১ঃযুদ্ব তখন উভয় পক্ষের মধ্যেই হতো। অমুসলিম কাফিরেরাও মুসলিম যুদ্ববন্দীদের দাস হিসেবে নিয়ে যেতো। দাস প্রথা ঐ সময় বন্ধ করলে কাফিরদের সাথে মুসলিমদের ওয়ার অফ ব্যালেন্সই হতোনা।

    মুসলিমদের দাস দাসী নেওয়ার পদ্বতি বলছি আপনাকে, যেমন বদর বা ওহুদ যুদ্ব সংগঠিত হলো, সেই যুদ্বে যে সকল নর এবং নারী সশরীরে উপস্হিত ছিলেন তাদেরকেই দাস দাসী বানানো হতো। এটা তখন কাফিরদের বেলায়ও একি রকম ছিলো। এবং তাদের সম্পদ ছিলো ঐ যুদ্বে নিয়ে এসেছে তাই গনীমত।

    এটা এরকম ছিলোনা, যে আপনি বিজয়ী এলাকার ঘরে ঘরে গিয়ে নরী পুরুষদের তুলে আনবেন আর দাস বানাবেন, ওদের সম্পত্তি লুন্ঠন করে গনীমতের মাল বানাবেন। ঐ সময়ে ওটাই প্রচলিত ছিলো।

    সময় থাকলে ইসলামের দাস ও তাদের প্রতি ট্রিটমেন্টগুলো এবং সমসাময়িক অন্যান্য লোকদের দাস বানানো তাদের প্রতি ট্রিটমেন্টগুলো দেখবেন।

    নাম্বার ২ঃআপনাকে বলছিলাম স্পিরিট অফ ইসলাম পড়ে আসেন। উনি এমন নয় যে উনার কাছে কিছু ছিলো না, গরীব ছিলেন। খাদিজার সকল সম্পত্তি উনি পেয়েছেন, কিন্তু নিজে ভোগ করেন নি, গরীব অসহায়দের দান করে গেছেন। তার বিয়ে গুলো ভোগ বিলাসে জন্যে ছিলোনা। ভোগের জন্যে হলে খাদিজার জীবিত অবস্হায় যখন যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময় ছিলো(২৫ থেকে ৫১) তখন বিয়ে করতে পারতেন। খাদিজার মৃত্যু পরবর্তী মদিনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কারনে, গোত্রে গোত্রে চলা যুদ্ব, ব্লাড ফিউড বন্ধে, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জনকে বিয়ে করেছেন(৫১ হতে ৬০)।

    এবার আপনিই বলুন, উনি বলতেন আমি ভোগবিলাস করতে পারিনা, আমিতো চাই পরকাল। ভোগ বিলাসের সাথে দায়িত্বশীলতার কোন সম্পর্ক নাই।

    নাম্বার ৩ঃ কোট করা লেখাটাই পড়েন নাই আপনি। কেউ একটা মেয়ে সন্তানের পর আর নিতোনা, কেউ একটাও নিতোনা।

    গ্রীসে 200 B C তে প্রাচিন গ্রীস শহর ডিলপিতে ৬০০০ পরিবারের মধ্যে মাত্র ১% এর মতো লোকদের ২ টা মেয়ে সন্তান ছিলো। ৭৯ টা পরিবারের মধ্যে ১২৮ টা পুত্র সন্তানের বিপরীতে ২৮ টা কন্যা সন্তান ছিলো।

    নারীদের অধিকার কোন কালেই ছিলোনা, উপন্যাস সেন্স এন্ড সেন্সাবেলিটি পড়ুন বা মুভিটা দেখে নিন। ইংল্যান্ডে কিছুদিন আগেও মেয়েরা পিতার সম্পত্তি, স্বামীর সম্পত্তি হতে ভাগ পেতো না। কিন্তু ইসলাম ওটা করে গিয়েছে ১৪০০ বছর আগে।

  6. 1
    মজলুম

    মুহাম্মদ(সঃ) এর বিয়ে নিয়ে কিছু কথাঃ

    হযরত মুহাম্মদ(সঃ) এর সকল বিবাহ নিয়ে সৈয়দ আমির এক শতক আগেই লিখে গেছেন তার স্পিরিট অফ ইসলাম বইয়ে । তিনি দেখিয়েছেন তার বিবাহগুলো সবই ছিলো বিভিন্ন কারনে বিশেষ করে তৎকালিন আরব সমাজে বিভিন্ন গোত্রে গোত্রে ব্লাড-ফিউড যুদ্ব-সংঘাত বন্ধে রাজনৈতিক কারনে বিবাহ করেন। ১১ টা বিবাহের মধ্যে শুধু হযরত আয়েশা(রঃ) ছাড়া বাকি সবাই ছিলো আগে কয়েকবার বিবাহ হওয়া তালাকপ্রাপ্তা, বদর-ওহুদ যুদ্বে নিহতের বিধবা স্ত্রী। রাসূলের প্রত্যেকটা বিবাহের কারনগুলো বিস্তারিত জানতে বইটা এখানে হতে ডাউনলোড করেন । বাংলায় পড়তে চাইলে বাংলাবাজারে মল্লিক ব্রাদার্সের বইয়ের দোকান হতে নিতে পারেন। ফ্রীতে পড়তে চাইলে বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশান লাইব্রেরীতে গিয়ে পড়ে আসতে পারেন।

    আপনি হযরত মুহাম্মদ(সঃ)কে নিয়ে যত ভালো লিখাই লিখেন না কেন, কিছু লোক এসে উনার বিবাহ নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য করবে। মুহাম্মদ (সঃ) কে তার সময়ের লোকেরা নবু্য়্যতের আগে উনার চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ ও আচার আচরন দেখে আল-আমিন উপাধি দেয়। নবুয়্যত প্রাপ্তির পর সেই একই লোকেরা তাকে পাগল, যাদুকর, কবি, উন্মাদ সহ বিভিন্ন অপবাদ দেয়। তার বিরুদ্বে কুৎসা রটনা, কবিতা লেখা ও পঙ্গক্তি আবৃতি করতো। এই লোকগুলা সর্বক্ষন উনার দোষত্রুটি, ছিদ্রাঅন্বেষন খুঁজে বেড়াতো। ওরা এতই ছিদ্রাঅন্বেষী ছিলো যে হযরত আয়েশার(রঃ) এর নামে মিথ্যা যিনার অপবাদ দিয়ে এক যুদ্ব হতে ফিরার সময়। হযরত মুহাম্মদ(সঃ) ছিলেন এদের জন্যে এক ভয়ংকর শত্রু, কিন্তু কখনোই হযরত মুহাম্মদ(সঃ) এর নামে তার বিবাহ নিয়ে বা হযরত আয়েশার (র) এর বিবাহ নিয়ে কোন কুৎসা রটনা করেনি।

    হযরত মুহাম্মদ(সঃ) এর বিবাহ নিয়ে কুৎসা রটনা করা মূলত ক্রুসেড যুদ্বের পর খ্রিষ্টান মিশনারী দ্বারা। তাহলে কেন হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর মৃত্যুরও অনেক পরে চলা ক্রুসেডের পর খ্রিষ্টান মিশনারীরা রাসূলের বিবাহ নিয়ে অপপ্রচার চালায়?

    এর উত্তর দিয়ে গেছেন বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ প্রফেসর উইলিয়াম ওয়াট তার বই মুহাম্মাদ এট মদিনাতে। অক্সফোর্ড প্রেস হতে প্রকাশিত ১৯৫৬ সালে। আমি লিখছি তার বই হতে, কয়েক শতক ধরে খ্রিষ্টান শাসকদের জন্যে মুসলিমরাই ছিলো একমাত্র চ্যালেন্জ। মুসলিমদের হাতে বাইজেন্টাইন সম্রাজ্যের সিরিয়া ও মিশর হারানোর বেদনায় ব্যাথিত। স্পেন ও সিসিলি হারানোয় কাতর তারা। ক্রুসেড যুদ্বে এসে মুসলিমদের নৈতিকভাবে দৃঢ়তা দেখে হতাশাগ্রস্হ। তারা চেয়েছিলো তাদের শত্রুরা হবে খুবই জগন্য, বিপরীতে পেয়েছে নৈতিক দৃঢ়তা সম্পন্ন ও chivalrous । ক্রুসেড যুদ্বের সময় বহু ঘটনা এমন আছে যে একজন খ্রিষ্টান নারীকে বাঁচাতে গিয়ে ১০ টা মুসলিম সৈন্য প্রান হারিয়েছে। সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীকে তার চিরশত্রু ক্রুসেডাররাও চেভালরাস নাইট উপাধি দিয়েছে। তারপর হতেই এরা হযরত মুহাম্মদ(সঃ)এর বিবাহ নিয়ে কুৎসা রটনা করে। পৃথিবীর সব বিখ্যাত লোকদের এত কুৎসা রটনা করা হয়নি বা তার বিরুদ্বে এত বই লেখা হয় নি যতটা লেখা হয়েছে হযরত মুহাম্মদ(সঃ) এর বিরুদ্বে। সেই সময়ে খ্রিষ্টানডোমের লোকদের যৌনবিকারগ্রস্হতা, অবাধ যৌনাচার ও অজাচার নিয়ে জানতে চাইলে মারিও পুজোর দ্যা ফ্যামিলি বইটা পড়ে দেখতে পারেন।

    আপনার আশে পাশে কিছু লোককে দেখবেন এরা সারাক্ষন কোন মেয়ে কি করছে, তার ওড়না কতটুকু বাতাসে উড়ছে, কতটুকু লিপিস্টিক লাগিয়েছে, কোন ছেলের সাথে দেখেছে এইসব নিয়ে আলোচনায় মেতে উঠে। কোন স্কুলের মেয়েরা কতো খারাপ, কোন ভার্সিটির মেয়েরা নস্ট, নোংরা, চিনাল এসব নিয়ে মেতে থাকে। এই শ্রেনীর লোকেরা দুইজন একসাথে দেখা হলেই চলে এইসব নিয়ে আলোচনা। এরা মেয়েদের বিশেষ অঙ্গকে লিচু,আমা,ডালিমের সাথে তুলনা করা, চটি লেখে বিভিন্ন জায়গায়। এদের সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর নিলেই দেখবেন এই লোকগুলোর চরিত্রও ভালোনা, কিন্তু পরের দোষ খুঁজে বেড়ায়। যেমনি খ্রিষ্টানডোমের মিশনারীরা হযরত মুহাম্মদ(সঃ) এর দোষ খুঁজে বেড়ায়।

    আমাদের বেগম রোকেয়া এবং কবি নজরুল তাদের লেখালেখিতে মোল্লাতন্ত্র, ধর্মের অপব্যবহার, পরুষতন্ত্রের বিরুদ্বে বলে গেছেন। নজরুলতো একধাপ এগিয়ে গিয়ে খোদার বিরুদ্বে ও অভোযোগ করেছেন, কিন্তু কখনোই হজরত মুহাম্মদ(সঃ)কে নিয়ে কুৎসা রটনা করেন নি বা তার বিরুদ্বে বলেন নি।

    বহু বিবাহ নিয়ে বলতে গেলে যখন শ্রিকৃষ্ণের কথা বলবেন বা রাজা সলোমানের কথা বলবেন তখন কিছু লোক এসে বলবে আমরা তো নাস্তিক, যুক্তিমনস্ক ও মুক্তমনা। আমরা বহুবিবাহ সমর্থন করিনা। চলুন কিছু নাস্তিক দেখি,

    জোসেফ স্টালিনঃ ইকাতেরিনা (১৯০৬-১৯০৭), নাদেজদা(১৯১৯-১৯৩২), রোসা (১৯৩২-১৯৩৮)। স্টালিন নাদেজদা অত্যন্ত জগন্যভাবে খুন করেসূত্র

    স্টালিন মেয়েদের উঠিয়ে এনে তার রক্ষিতা বানাতো, এটা নিয়ে বই ও মুভিও তৈরী হয়েছে। তার সাথে রোসা বিবাহ হয়েছে কিনা তা নিয়ে মতবেদ আছে। তাছাড়া তার সর্বশেষ স্ত্রী প্রয়াত হয় ১৯৩২ সালে মতান্তরে ১৯৩৮ সালে, তাহলে তার মৃত্যু পর্যন্ত স্ত্রী ছাড়া তিনি কিভাবে ছিলেন?

    মূলত বাকি জীবন সে রক্ষিতা দিয়েই কাটিয়ে দেয়। সূত্রঃ বই ইয়ং স্টালিন।

    মাও সেতুং: মাও সেতুং মোট চারটা বিয়ে করেন। লুও ইজিংও (১৯০৭-১৯২৩), ইয়াং কাইহুই (১৯২০-১৯৩০), হে জেঝেন(১৯২৮-১৯৩৯), জিয়াং কিং(১৯৩৯-১৯৭৬)। মাও সেতুং তার স্ত্রী ছাড়াও অনেক রক্ষীতা রাখতো। এটা পাওয়া যায় মাও সেতুং ব্যাক্তিগত ডাক্তার লীর বই দ্যা প্রাইভেট লাইফ অফ চেয়ারম্যান মাও তে। এখানে উল্লেখ্য যে চীনে হাজার বছর ধরে চলে এসেছে এক স্ত্রীর সাথে একের অধিক রক্ষিতা রাখা। মাও সেতুং ও তার ব্যতিক্রম ছিলোনা।

    তাছাড়াও বর্তমান চীনে কম্যুনিস্ট পার্টির লিডার ও কমরেডরা এক স্ত্রীর সাথে এক বা একাধিক রক্ষিতা ও রাখে।

    এই লোকগুলাই এখন আমাদের নৈতিকতার চবক দেয়। চালনী বলে সুঁইরে তোর যে ফুটা………..

Leave a Reply

Your email address will not be published.