«

»

Feb ০৮

দ্যা প্রোপাগান্ডা মেশিন এফেক্টঃ যেভাবে সাধারন মানুষের অজান্তে তাদের ব্রেইন ওয়াশ করা হয়।

বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মনোবিজ্ঞান, প্রিন্ট ও ডিজিটাল মিডিয়ার চরম উৎকর্ষতা শুরু হয়। এই তিনের যৌথ মিলনে অপপ্রচার হয়ে উঠে এক ভয়ংকর অস্র। গতানুগতিক যুদ্ধের বাইরে আরেকটা নতুন যুদ্ধ শুরু হয়, যার নাম মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। অস্ট্রিয় মানসিক রোগ চিকিৎসক  সিগমুন্ড ফ্রয়েড যে ধর্মে ছিল ইহুদী, মনঃসমীক্ষণ (Psychoanalysis) নামক মনোচিকিৎসা পদ্ধতির উদ্ভাবক এবং মনোবীক্ষণের জনক হিসেবে পরিগণিত। তার আপন ভাগিনা ছিল এডওয়ার্ড বার্নায়েজ, ১৮৯০ এর দিকে সে আমেরিকা পাড়ি জমায়। পণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারে সে ছিল অসাধারণ। কিভাবে গণতান্ত্রিক সমাজে লোকদের ব্রেইন ওয়াশ করা যায়, ম্যানিপুলেট করা যায়– এসবই তিনি মার্কিন সরকারকে শিখাতেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলেও আমেরিকা যোগ দেয়নি, উড্রো উইলসন পরে এডওয়ার্ড বার্নায়েজকে দিয়ে আমেরিকান জনগণের ব্রেইনওয়াশ করতে থাকেন জার্মানের বিরুদ্ধে। যেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যোগ দিলে আমেরিকান জনগণ তা সমর্থন করে। বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন, লিফলেট, ব্যানার, সাইনবোর্ডে প্রোপাগান্ডা চালানো হয় জার্মানের বিরুদ্ধে। 

সে একটা বই লিখে, যার নাম প্রোপাগান্ডা। ওখানে প্রোপাগান্ডার সকল কলাকৌশল লিখা আছে। প্রোপাগান্ডা শব্দটা তখন পজিটিভ শব্দ হিসেবেই ছিল যার বাংলা হবে প্রচার। পরে নাৎসি প্রোপাগান্ডা মন্ত্রী জোসেফ গোয়েলবস তার এই কলাকৌশল প্রয়োগ করে। এমনভাবে সে এই প্রোপাগান্ডা চালায় যে এই শব্দটাই পরে নেগেটিভ হয়ে যায়। যার বাংলা অর্থ এখন হবে অপপ্রচার। গোয়েলবস মূলত ইহুদীদের প্রোপাগান্ডার স্টাইল দিয়েই ইহুদীদের দমাতে কাজ করেন। 

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্ব দুইভাগ হয়ে  স্নায়ু যুদ্ধের ভিতর দিয়ে যায়। আমেরিকা প্রোপাগান্ডার জনক হলেও ১৯১৭ এর বলশেভিক বিপ্লবের পরে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও প্রোপাগান্ডা শিখে ফেলে। নাৎসিদের প্রযুক্তি গুলো মিত্র শক্তি আমেরিকা ও রাশিয়া ভাগাভাগি করে নেওয়ার মতো জোসেফ গোয়েলবসের প্রোপাগান্ডার স্টাইল, কৌশল ও ওরা ভাগাভাগি করে নেয়। প্রোপাগান্ডা সেইম হলেও আমেরিকা ইউরোপের গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদের আর সোভিয়েত ও তাদের কম্যুনিস্ট রাষ্ট্র গুলোর মধ্যে প্রোপাগান্ডায় কিছু পার্থক্য থাকে।  সহজ ভাষায় বলতে গেলে সূক্ষ্ম ও স্থূল প্রোপাগান্ডা। বিস্তারিত বলতে গেলে আবার আলাদা পোষ্ট লাগবে। আমেরিকা হল ব্রিটিশ ধূর্তদের উত্তরসূরি। তার সাথে এডওয়ার্ড বার্নায়েজের মতো প্রপাগান্ডিস্ট ইহুদীরা এসে আমেরিকার প্রোপাগান্ডা মেশিন আরও শক্তিশালী ও সূক্ষ্ম করে ফেলে, এরা মূলত লিবারেল ইহুদি। বিপরীতে সোভিয়েত ব্লকের প্রোপাগান্ডিস্ট গুলো হল মাথা মোটা। এরা নিজ দেশেই অত্যাচার করে নিজেদের প্রোপাগান্ডা খাওয়াবে জনগণকে।  আরও সহজ ভাষায় বলতে গেলে পশ্চিমের সাংবাদিক/বুদ্ধিজীবী/লেখক/বিশ্লেষকরা হলেন মোটা দাগে লিবারেল আর সোভিয়েত ব্লকের  সাংবাদিক/বুদ্ধিজীবী/লেখক/বিশ্লেষকরা হলেন বামপন্থী। 

বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা পশ্চিমা লিবারেল মিডিয়ার শিকার আর বাংলাদেশের মুসলিমরা বামপন্থী মিডিয়ার শিকার। 

বামপন্থীরা অস্রের মুখে ওদের প্রোপাগান্ডা গিলাতে চায়। ওদের থাকে ডিয়ার লিডার কমরেড। ডিয়ার লিডারের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবেনা। ডিয়ার লিডার ও তাদের কমরেডরা জনগণকে চুষে খাবে, লুটপাট করবে। জনগণকে এন্টি-ইম্পিয়ারিলিজম ও মহান বিপ্লব এগিয়ে নেওয়ার কথা বলবে আর শিখানো হবে খাবার না পেলেও খুশি থাকো কারন আমরা মহান বিপ্লবকে এগিয়ে নিচ্ছি। ডিয়ার লিডার ও কমরেডরা খাবেন দামী দামী কাস্পিয়ান ক্যাভিয়ার। 
বাংলাদেশে ডিয়ার লিডার হলেন গডমাদার ওরফে মাদারে হিউম্যানটি। উনারা এই দেশকে লুটপাট করে খাবেন আর জনগণকে শুধু চেতনার সিরাপ খাওয়াবেন। জনগণকে শিখানো হয় যে, আপনার ব্যাংকগুলো লুটপাটে খালি হলেও কোন চিন্তা নাই, আমরা মহান চেতনাকে আগায়া নিতেছি। ভাত, পিয়াজ না খেলেও সমস্যা নাই, চেতনার জন্যে একটু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে, নইলে আপনি দেশপ্রেমিক নন, এটা আপনার দেশ নয়, আপনি বরং পাকিস্তান, তুরস্ক বা সৌদি আরব চলে যান। 

 

গোয়েলবসের বিখ্যাত উক্তি যে একটা মিথ্যা বারবার বলতে থাকো, এক সময় তা মানুষ বিশ্বাস করে নিবে। মানুষের মনোজগতে তা কিভাবে কাজ করে তা দেখুন। এই পোষ্টা একটু দেখে নিন তাহলে অবচেতন মন ও সচেতন মনের অবস্থা বুঝতে পারবেন। 

সচেতন মন হল দরজায় দাঁড়ানো দারোয়ানের মতো আর ভিতরে হল অবচেতন মন। আপনি ঢাকায় বাস করেন, রাজনৈতিক জ্ঞান তেমন নেই আপনার। আপনি বাসায় টিভি খুললে দেখেন খবরে/টকশোতে দাড়ি টুপি ওয়ালা হুজুরেরা খুব খারাপ। ওরা রাজাকার, ওরা মৌলবাদী, ওরা জঙ্গি, ওরা মধ্যযুগীয়। রাস্তায় বেরুলে পোষ্টার, দেওয়াল লিখন, সাইনবোর্ডে এসব দেখেন। পত্রিকার খবরেও এসব দেখেন। হুজুরদের দুই একটা ক্রাইম যদি কোন রকম খুঁজে পায় তাহলে তিলকে তাল বানিয়ে নয় বরং তালগাছ বানিয়ে সব মিডিয়ার অপপ্রচার দেখেন। 
এগুলো প্রতিদিন দেখতে থাকলে আপনার সচেতন মন যদি—-
— মন থেকে না বলে
 —বা কোন সন্দেহ সৃষ্টি না করে 
—বা একটু খুঁজে দেখতে হবে এই খবর সত্য কিনা, এটাও না করে

তাহলে এই প্রোপাগান্ডা সচেতন মনের দারোয়ানের সামনে দিয়ে অবচেতন মনে ঢুকে পড়ে। অবচেতন মনে ঢুকে পড়লে এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা তার বিশ্বাসে পরিণত হয়। তারপর দাঁড়ি টুপি ওয়ালা হুজুর রাস্তায় দেখলেই আপনার ব্রেইনে মাইক্রো সেকেন্ডে বলে উঠবে এরা হল রাজাকার, জঙ্গি, জানোয়ার, অমানুষ, মৌলবাদী, মধ্যযুগীয়। 

পশ্চিমা লিবারেল মিডিয়া গত ৩০ বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে তেমন করেছে। শুধু হুজুরের জায়গায় মুসলিম পড়ে নিন। এখন পশ্চিমে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে হেট ক্রাইম হচ্ছে তা এই লিবারেল মিডিয়ার অবদান। সাধারণ মানুষগুলোর অবচেতন মনে মুসলিম বিরুধী প্রোপাগান্ডা ঢুকে পড়ায় এরা মুসলিমদের মনে মনে ঘৃণা করে, আর যে বেশী উত্তেজিত সে মুসলিমদের উপর আক্রমণ করে বসে। অথচ এই আক্রমণকারী পশ্চিমা লোকটার সাথে ঐ মুসলিমের কোন লেনদেন নাই, সে জানেও মুসলিম লোকটা কি করে, কোথায় থাকে, সে খারাপ না ভালো, সে সন্ত্রাসী না মৌলবাদী। তবুও তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, আর এসবই পশ্চিমা লিবারেল মিডিয়ার অবদান। একজন রাজনৈতিক জ্ঞানহীন সাধারণ লোককে কিভাবে অন্য লোকদের ঘৃণা করা শিখানো হয়, এসবই তার উধাহারন। 

আমাদের দেশে শুধু সেক্যুলারেরা নয়, মধ্যবিত্ত ও প্রগতিশীল! মুসলিমদের মধ্যেও এই রেটরিক দেখতে পাবেন যে হুজুরদের কারনেই দেশের এই অবস্থা। কারনটা হল মিডিয়ার অপপ্রচার। হুজুরেরা কি এই দেশের সরকার ছিল? সচিবালয়ের সচিব? পুলিশ/আর্মী, বিজিবি আছে? বড় বড় ঋনখেলাফী ব্যবসায়ী? মিথ্যাবাদী সাংবাদিক?  না কোনটাই নয়। বরং হুজুরদের খারাপ জানার কারন হল মিডিয়ার অপপ্রচার। বিশ্বের অবস্থা বুঝতে হুজুরদের জায়গায় মুসলিম পড়বেন। আসলে ব্যাপারটা হল উল্টা, যারা হুজুরদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে, ওদের জন্যেই দেশের এই অবস্থা। সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে পড়ালেখা করা আবুল বারাকাতরা ও তেমনি। এরা হুজুরদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে বই লিখবে, ওরা নাকি দেশটা শেষ করে করে দিলো। অথচ সত্য বিষয় হল উনি জনতা ব্যাংক কে শেষ করে দিলেন ৫০০০ কোটি টাকা লুট করে। 

গতবছর আমেরিকা কি নাটক যে করলো সিরিয়ান/ইরাকি শরণার্থী নিয়ে। এই দেশগুলোতে লক্ষ লক্ষ লোক হত্যা করবেন নির্বিচারে আর কয়েক হাজার লোককে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় দিয়ে বাহবা কুড়াবেন। আর মুসলিমদের অপমান করবেন। সর্প হয়ে দংশন করো, ওঝা হয়ে ঝাড়ো। এরা মসুল ও রাকা শহরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়ে দিয়েছে কার্পেট বোম্বিং করে। হাজার হাজার নিরীহ লোক এখনো ধংস্তোপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ওরা আমাদের দেশের সংসদের মতো, ওরাই সরকারী দলে, ওরাই বিরুধী দলে। আর আমরা বোকা জনগণ। অথচ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের মিশর, সিরিয়া, লেবানন, সৌদি, ইরান,তুরস্ক এরা সবাই ইউরোপ থেকে আসা সকল শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। এজন্যে তাদের জাতিসংঘের মতো কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার দরকার হয়নি। খুবই দুঃখ লাগে এসব দেখলে। এই যে ইউরোপের একটা দেশ পোল্যান্ড। এরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলার আর স্টালিনের গণহত্যায় চ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছিলো। হাজারে হাজারে এরা আশ্রয় নেয় ইরানে ও অন্যান্য মুসলিম দেশে। আর এরা এখন মুসলিম রিফিউজি নেওয়া দুরের কথা, পুরা ইউরোপের সবচেয়ে বড়ো মুসলিম জেনোফোবিক অথচ ঐ দেশে কোন মুসলিম বাস করেনা। এরা মুসলিম উপর হলোকাস্ট চালানোর আহবান জানায়। 

প্রত্যেক মানুষই কোন না কোন ভাবে বা কোন না কোন লেভেলে প্রোপাগান্ডার শিকার। প্রোপাগান্ডার শিকার ব্যক্তিটার মনে হবে সে স্বাধীন চিন্তা, মুক্ত চিন্তা করছেন কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। প্রোপাগান্ডা যখন সচেতন মন পেরিয়ে অবচেতন মনে ঢুকে যায় তখন উক্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেনা যে সে প্রোপাগান্ডার শিকার। 

যারা এই পোষ্ট এই পর্যন্ত পড়ে ফেলেছেন তারা প্রায় সবাই মুসলিম হিতৈষী। এবার আপনার নিজেরা কতটুকু প্রোপাগান্ডার শিকার তা দেখুন। ১৯৯০ সালে আমেরিকা ইরাকের উপর অবরোধ আরোপ করে। সেই অবরোধে ইরাকের শিশুদের ঔষধ ও ব্যান করা হয়। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত শুধু ৫ লক্ষ ইরাকি শিশু মারা যায় ঐ অবরোধে, পুরুষ-নারীদের কথা বাদই দিলাম। বিল ক্লিনটনের ঐ সময়কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন মেডিলিন অলব্রাইট, তাকে সিবিএস নিউজের এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেছেন, এই ৫ লক্ষ শিশুকে হত্যা করা কি ঠিক ছিলো। উত্তরে মেডিলিন বলেছেন,  ৫ লক্ষ শিশু হত্যা ঠিক আছে। আমেরিকার ডেমোক্রেট ও লিবারেলের নয়নের মনি হলেন এই মেডিলিন। ২০১৬ তে ডেমোক্রেট ন্যাশনাল কংগ্রেসে উনি হিলারির সমর্থনে বক্তব্য দেন, মুসলিমদের পক্ষে! দুই লাইন ও বলেন। টেড-এক্সে লেকচার দেন। উনাকে কেউ সন্ত্রাসী ও বলবেনা, সন্ত্রাসের সমর্থক ও বলবেনা। 

অনেক মুসলিমদের এসব ব্যাপারে ক্ষোভ ছিলো আমেরিকার বিরুদ্ধে, যেমন মাহাথির মোহাম্মদ, জাকির নায়িক। ১৯৯৮ সালে জাকির নায়িক সিঙ্গাপুরে একটা লেকচার দেন মিসকসেপশান এবাউট ইসলাম এর উপরে। তার কিছু দিন আগে বিন লাদেনের আল-কায়েদা তানজানিয়া ও কেনিয়ার মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায়, ২২৪ জন লোক মারা যায়। 

 প্রশ্নোত্তরে এক ছেলে উনাকে প্রশ্ন করেন বিন লাদেন কে নিয়ে। জাকির নায়েকের উত্তর ছিলো, খবরে আমিও দেখেছি সে এটা করেছে, ওটা করেছে। কিন্তু আমি সঠিক কি তা জানিনা। আমি বিন লাদেনকে চিনিওনা।তবে যদি সে সবচেয়ে বড়ো সন্ত্রাসী আমেরিকাকে সন্ত্রস্ত করে তাহলে আমি তাকে সমর্থন করি। ৯/১১ এর তিন বছর আগে উনি এটা বলেন, আর এখন উনার বিরুদ্ধে ব্রিটেন/ইন্ডিয়ার বা ইসলাম বিদ্বেষীদের সবচেয়ে বড়ো অভিযোগ তার এই কথাটা। বিল ক্লিনটনের সরকারে থেকে মেডিলিন ৫ লক্ষ শিশু হত্যা করেছে ও তার পক্ষে বলেছে, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কারো কোনও অভিযোগ নেই। আর জাকির নায়িক ২২৪ লোক হত্যায় জড়িত ছিলেন না, ডাইরেক্টলী বলেন ও নাই যে সমর্থন করেন, বলেছেন "যদি"। 

এখন জাকির নায়িক সন্ত্রাসের সমর্থক, উস্কানি দাতা। কিন্তু যারা ৫ লক্ষ শিশু হত্যা করেছোএবং  তার পক্ষে বলেছে, তাদেরকে সবাই ভাবে নৈতিকতার কাণ্ডারি। ৯/১১ এর পরে আমেরিকা কি করেছে আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়ায়, সোমালিয়ায়, ইয়েমেনে, তা বাদ দিলাম। ৯/১১ এর আগে যে ৫ লক্ষ শিশু হত্যা করে তার পক্ষে সাফাই গেয়েছে, কখনো ৯/১১ এর কথা মনে হলে এই শিশুদের কথা মনে আসে? ৯/১১ এর নিহত তিন হাজার বনাম ৫ লক্ষ ইরাকি মুসলিম শিশু। না আসবেনা, এই শিশুদের জন্যে প্রতিবছর কেউ ফুল নিয়ে আসেনা, এক মিনিট নীরবে দাঁড়ায় না, মার্কার দিয়ে কেউ তাদের কথা কাগজে লিখেনা, মাবতাবাদিরা তাদের জন্যে কাঁদেনা, মিডিয়া তাদের পক্ষে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কোন অনুষ্ঠান প্রচার করেনা, বিশ্লেষক ও ইন্টালেক্টচুলেরা তাদের জন্যে লিখেনা। এই হতভাগ্য শিশুরা শুধু একটা সংখ্যা। বরং আমরা ৯/১১ নিয়ে মাতামাতি করি কারন আমরাও তাদের প্রোপাগান্ডা মেশিনের নির্মম শিকার। 

পিউ রিসার্চের মতে সারা আমেরিকাতে ২৭ লক্ষ মুসলিম বাস করে। আর আমেরিকা ১৯৯০ থেকে এ পর্যন্ত ইরাক, আফগানিস্তান, সোমালিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান(ড্রোন), সিরিয়াতে ৩০ লক্ষ মুসলিম হত্যা করেছে আর মুসলিমদের হাতে ১৯৯০ থকে এ পর্যন্ত ৩৫০০ এর মতো আমেরিকান সিভিলিয়ান মারা গেছে। তবুও এই আমেরিকার মুসলিমদের প্রতিক্ষণে এ্যাপোলোজি করতে হয়, এপোলোজিস্ট হতে হয়। শুধু তুলনাটা দেখুন, মাথা ঘুরবে, আকাশ পাতাল ব্যবধান। গত ৩০ বছরে আমেরিকা যত মুসলিম হত্যা করেছে তত মুসলিম পুরা আমেরিকাতেই বাস করেনা। তবুও আমরা এ্যাপোলোজিস্ট হই ওদের কাছে, কারনটা হলো এই প্রোপাগান্ডা মেশিন। বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা এই প্রোপাগান্ডা মেশিনের শিকার হয়ে নিজেরা অপরাধ বোধ ও ইনফেরিয়র কমপ্লেক্সটিতে ভুগিতেছে। 

পূর্ব ও পশ্চিমে বাস করা মুসলিমরা অপরাধবোধে ভুগলেও পূর্বের থেকে পশ্চিমে বাস করা মুসলিমরা বেশী অপরাধবোধে ভোগে। তার কারন হলো ল্যান্ড অব প্রপাগান্ডা মেশিনে তারা বাস করে। 

পশ্চিমে মোটা দাগে তিন ক্যাটাগরীর মুসলিমরা থাকে। এরা হলো,

১ঃ ট্যালেন্ট— এর ব্রেইনড্রেইন হয়ে মুসলিম দেশ হতে পশ্চিমে পাড়ি জমায় উচ্চ বেতন ও লিভিং কন্ডিশনের জন্যে। কর্পোরেশনের লোকেরা স্থানীয় সাদাদের চেয়ে কম বেতন কাজ করিয়ে নিতে পারে, সেইম কাজ হলেও। 
২ঃ অড জব— এরা খালাসি বা বিভিন্ন মাধ্যেমে পশ্চিমা দেশে গিয়ে থালা, বাসন মাজা, রান্না করা, এইসব কাজ করে পরে হয়তো ওয়েটার হয়েছে বা নিজেই একটা রেস্টুরেন্ট খুলে বসেছে। এদেরকেও কোম্পানির লোকেরা ভালো পায় কারন সাদারা ঘন্টায় এতো কম ডলারে কাজ করতে অনীহা দেখায়। 
৩ঃ চোর-ডাকাত— এরা মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক নেতা, আমলা, সামরিক জেনারেল, অসাধু ও ঋনখেলাপি ব্যবসায়ী। এরা মুসলিম দেশগুলো লুটপাট করে খেয়ে সব টাকা পশ্চিমে পাঠিয়ে বাকি জীবন ছেলে মেয়ে নিয়ে ওখানে মাজ মস্তিতে থাকে। এরা জানে পশ্চিমা দেশগুলো ভুলেও বিচারের জন্যে এদের নিজ দেশে পাঠাবেনা। 

যেটাই হোক, সবদিক দিয়ে ঐ পশ্চিমাদেশগুলোর ই লাভ। অথচ এই মুসলিমরা ইহুদীদের মতো নয় যে  যেই দেশে মাইগ্রেট হবে পরে সেই দেশের ব্যাংক খাত, মিডিয়া, ক্ষমতা সব দখল করে ওদের উপর ছড়ি ঘুরাবে। অথচ এই সংখ্যালঘু মুসলিমদের ভিলেন বানিয়ে ফেলেছে মিডিয়া। 

সবশেষে ম্যালকম এক্স আকা মালেক শাবাজের কথা দিয়েই শেষ করছি। 

যদি তুমি সতর্ক না হও, তাহলে সংবাদপত্র তোমাকে শিখাবে মজলুমদের ঘৃনা করতে আর জালিমদের ভালোবাসতে যারা মজলুমদের উপর অত্যাচার করে। 

২৩ comments

Skip to comment form

  1. 10
    Anonymous

    রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে ।মুসলিমদের বিরুদ্ধে অতীতে যে সব জাতী যুদ্ধ করেছে তারা সবাই শেষ হয়েছে ।এই জয়নবাদীরা ও শেষ হবে ।শুধু ধৈর্য্য ধরে দেখার অপেক্ষা ।

     

  2. 9
    সত্য সন্ধানী

    মজলুম ভাই সালাম নিবেন, কি বলব ভেবে পাচ্ছি না। আসলে মন্তব্য করার মত কিছু খুজেই পাচ্ছি না। এক কথায় সদালাপের অন্যতম সেরা একটা লেখা পড়লাম। খুবই সময়োপযোগী লেখা। অশেষ ধন্যবাদ।  আল্লাহ পাক আপনার এই প্রচেষ্টার উত্তম প্রতিদান দিন এই দোয়া করি!

  3. 8
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ধন্যবাদ, আপনার কথাই সত্য। আমি নিজের সীমাবন্ধতাগুলো জানার চেষ্টা করি। ২০০৬ সালে যেভাবে জামায়াতকে দেখতাম -- আজ সেভাবে দেখি না। জ্ঞানত আমি জামায়াতের আকিদা নিয়ে কথা বলি না -- কারন ওদের গঠনতন্ত্র পড়ে অবাকই হয়েছি। আর তা জেনেই তাদের  রাজনৈতিক কার্যকলাপকে আরো জঘন্য মনে হয়েছে। 

    হয়তো হেফাযতের বিষয়ে আমার ভুল ধারনা আছে -- তবে আপাতত তাদের নেতাদের ভিন্নমতের প্রতি অসহিস্ঞুতার বিষয়টা বড়ই দৃষ্টিকটু মনে হয়। বাংলাদেশে যখনই যাই তখন বইপত্র আনার চেষ্টা করি। খুবই হতাশ হই তাদের ইসলাম বিষয়ক লেখালেখিগুলো দেখে। একটা বইও পড়ে শেষ করতে পারিনি। যাই হোক -- আপনার কথামতো আমি হয়তো আরো গভীর ভাবে জানার চেষ্টা করবো। দেখা যাক কি হয়। 

    দোয়া করবেন। প্রতিদিনই একটা নতুন দিন -- নতুন কিছু জানার শেখার সুযোগ থাকে। তবে যে বিষয়ে সতর্ক থাকি তা হলো কারো অনুসরন করা -- অন্ধের মতো কারোই অনুসরন করতে চাই না। সম্পূর্ন বিপরীত মেরু থেকে আজ ইসলামের পথে এইটুকু এসেছি সম্পূর্ন যুক্তি বুদ্ধি আর কোরান-হাদিস অনুসরন করে -- কারো মতবাদকে অন্যর উপর প্রাধান্য দিতে চাই না -- সবার মতামত তার নিজের -- আর অবশেষে আমাকেই আমার কৃতকর্মের জন্যে জবাবদীহি করতে হবে। 

    অন্য প্রসংগগুলো বাদ দিলাম। ভাল থাকেন। 

  4. 7
    মজলুম

    বাংলাদেশের সুবিধাবাধী মুসলিমদের মধ্যে আরেকটা রেটরিক প্রচলিত  আছে যে উনারা হুজুর নিয়ে কিছু চুটকি বলবে। এর মধ্যে একটা চুটকি হলো এই রকম, এক হুজুর ওয়াজে বলতেছে  মেয়ে লোকের বানানো কাঁথা ব্যবহার করা হারাম। পরে হুজুর বাড়িতে গেলে বউয়ের কাছে কাঁথা চায়। বউ বলে, আপনি না বললেন মেয়ে লোকের বানানো কাঁথা  ব্যবহার করা হারাম। তখন হুজুর বললো যে, আরে ওটাতো বলছি ওদের জন্যে, আমার জন্যে না। 

    এসব বলে উনারা হাসাহাসি করবেন। নামাজ পড়বে না, যাকাত দিবেনা, সুদ খাবে, ঘুষ খাবে, বেপর্দা চলবে। উনাদের ধারনা, নামাজ, যাকাত, সুদ, ঘুষ, বেপর্দার কথা হুজুররা বলে, তাই তাদের একটা দোষ বর্ননা করে নিজেরা হাসাহাসি করলাম। নিজের মনকে বুঝ দিলাম, ওগুলো আর পালন করতে হবেনা। 

    হুজুরেরা ভুল করলে, তাদের হিসাবও আল্লাহর কাছেই দিতে হবে, তারা ফ্রী পাচ পাবেনা। আর আপনি যে নামাজ পড়েন না, যাকাত দেন না, সুদ খান, ঘুষ খান, বেপর্দা চলেন এসবের হিসাব ও আপনাকে দিতে হবে। হুজুরের দোষ ধরে চুটকি বলে নিজের মনকে বুঝ দিতে পারলেও আল্লাহ কে আর বুঝ দেওয়া যাবেনা বিচারের ময়দানে। 

    তেমনি কেউ যদি বলে যে হুজুরেরা ১০০ দলে বিভক্ত, একদল আরেক দলের নিন্দা করে। ওরাইতো ভালোনা। এসব বলে কেউ যদি ফ্যাসীবাদকে সমর্থন দেয় ও ফ্যাসীবাদের অন্যায় কার্জক্রমকে সমর্থন দেয় তার হিসাব ও আল্লাহর কাছে দিতে হবে। হুজুরদের দোষের জন্যে ওরা যেমন ফ্রী পাচ পাবেনা, তেমনি আপনি ও ফ্যাসীবাদকে সমর্থন দিয়ে ও ফ্যাসীবাদের অন্যায় কার্জক্রমকে সমর্থন দিয়েও ফ্রী পাচ পাবেন না। 

    সবাইকে সকল ব্যাপারে শুধু আল্লাহকে ভয় করতে হবে। আর প্রত্যেককেই তার নিজের ব্যাপারে হিসাব দিতে হবে। 

  5. 6
    মহিউদ্দিন

    প্রোপাগান্ডা মেশিন এফেক্ট সাধারণ মানুষকে কিভাবে ব্রেইন ওয়াশ করে বুঝতে আপনার লিখাটি  খুবই অর্থপূর্ণ হয়েছে।   লিখাটি সময়উপযোগী ও সদালাপের পাঠকদের জন্য এক অনন্য উপহার বলা যায়।  আজ এ প্রোপাগান্ডা মেশিন যাদের হাতে তাদের শিকার হচ্ছে যে অসহায় মুসলিম সেটাও স্পষ্ট হয়েছে।
    আমার এক লিখায় উল্লেখ করেছিলাম , Philip M Taylor তার লিখা, Munitions of the Mind” (A history of Propaganda from the ancient world to present day) পুস্তকে লিখেছেন,

    Propaganda thus become the enemy of independent thought and an intrusive and unwanted manipulator of the free flow of information and ideas in humanity’s quest for peace and truth.”  অর্থাৎ
    প্রচারণা এইভাবে পরিনত হয় স্বাধীন চিন্তার শত্রু রূপে এবং মানুষের শান্তি ও সত্য সন্ধানের প্রচেষ্টায় সঠিক তথ্য ও মতামতের অবাধ প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা করে।

    প্রোপাগাণ্ডা বা প্রচারণার মাধ্যমেই হয় প্রতারণা এবং এর কুফলের তুলনা হয়না।   লাগাতর প্রচারণার মাধ্যমে ফিরাউন-নমরুদের ন্যায় অতি দুর্বৃত্তদেরও ভগবান রূপে প্রতিষ্ঠা দেয় যায়।   হিটলার, মুসোলিনি, স্টালিন, জর্জবুশ ও ব্লেয়ারের ন্যায় গণহত্যার নায়কদের যে নিজ নিজ দেশে নেতা রূপে প্রতিষ্ঠা মিলেছিল সেটি তো প্রচার-প্রোপাগান্ডার জোরেই।  লাগাতর প্রচারের মাধ্যমে মানুষের স্মৃতির মানচিত্রই পাল্টে দেয়া যায়। সবচেয়ে বড় স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ, গণতন্ত্র ও মানবতা বিরোধী তথা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা যারা লালন করে তারাই হয়ে যায় দেশ প্রেমিক!

    1. 6.1
      মজলুম

      প্রোপাগান্ডার পিছনের প্রোপাগান্ডা আরো ধূর্তামী। ঐ যে কমেন্টে একজন বললেন, আম্রিকার মিডিয়া খুব উন্নত, উনারা ট্রাম্পের বিরুদ্বে বলে। লিবারেল মিডিয়ার ধূর্তামী নিয়ে বললে আরেক পোষ্ট হয়ে যাবে আর উনি হার্টফেল ও করতে পারেন ওটা শুনলে। অবশ্য চরম ব্রেইনওয়াশ হলে আলাদা ব্যাপার, তার কোন চিকিৎসা নাই।  আমেরিকাকে ওরা নিজেরাই বলে ল্যান্ড অব ফ্রী, এখানে নিজের যা খুশি তাই করবেন। বস্তুত এখানে ওদের ব্রেইন চালায় মিডিয়া। ওরা সকালে কি দিয়ে নাস্তা করবে সেটাও মিডিয়া দ্বারা প্রভাবিত, আর বাদবাকি বিষয়তো বাদই দিলাম। তাই ফ্রী বলে কিছু নাই, আর মনবিজ্ঞানে সবচেয়ে বেশী গবেষনা হয় আমেরিকাতেই। পোস্ট পড়া ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ

  6. 5
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আমাদের দেশে শুধু সেক্যুলারেরা নয়, মধ্যবিত্ত ও প্রগতিশীল! মুসলিমদের মধ্যেও এই রেটরিক দেখতে পাবেন যে হুজুরদের কারনেই দেশের এই অবস্থা। 

    -- এই আলোচনাটা কোথায় হয়? কিসের প্রেক্ষিতে হয়? 

    মুসলিম -- ইসলাম -- হুজুর সব কিছু এক কাতারে ফেলে দিলে সমস্যা। বাংলাদেশের হুজুর বলতে যাদের বুঝায় -- সেই লেবাসের লোকজন একদম ধোয়া তুলশী পাতা এইটা বলা যাবে না। বোমাবাজীর সাথে এক সময় মুফতি শব্দটা একাকার হয়ে গিয়েছিলো। ইসলামের নামে গনহত্যাকে জায়েজ করার চেষ্টাও এই হুজুররাই করেছে। তাই শুধুমাত্র আণ্যের দিকে আংগুল তুলে সমস্যার পুরোটা দেখানো কঠিন। ৭১ ্‌এর এতো বড় একটা জুলুম হলো বাংলাদেশের মানুষের উপর -- তার বিষয়ে খুব কম হুজুরই কথা বলেন -- যদিও বলেন তাও সেই অপরাধে আড়াল করে। অন্যদিকে যাবা বলেন তাদেরকে "কাফের" পর্যন্ত ঘোষনা দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তবলিগের মতো শান্তিপূর্ণ কাজটাও রাস্তায় টেনে এনে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছেন হুজুরাই -- যারা আলেমদের মতভেদ নিজেদের মধ্যে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই ব্যর্থতার দায় সাধারন মানুষকে পোহাতে হয়েছে আর বাম-নাস্তিক মিডিয়াতো এই সুযোগের অপেক্ষাই থাকে। 

    অবশ্যই প্রপাগান্ডা আছে -- বিশেষ করে জাতীয়তাবাদকে উস্কে দেওয়ার এবং তার মধ্যমে গোষ্ঠী তৈরী করে শক্তিশালী হওয়ার পথ হিসাবে প্রপাগান্ডা ব্যবহার করা হয়। আপনার ভাষায় মাদারে হিউম্যানিটি এখন ভিলেন -- কার্যত এইটা মুদ্রা এক পিঠ -- অন্যপিঠে আছে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের গোষ্ঠী -- সেখানেও আছে মাদারে গনতন্ত্র -- সেইটাও একটা ব্রেনওয়াশের ফল -- একাধারে ২১ বছর নিরবিচ্ছিন্ন প্রপাগান্ডা করে সেই গোষ্ঠী তৈরী হয়েছে। সেইদিকটাও খেয়াল রাখতে হবে। প্রকৃতপক্ষে সমাজে একটা সাম্যাবস্থা তৈরী হয় একটা উগ্রতাকে মোকাবেলায় আরেকটা উগ্রতা সৃষ্টি মাধ্যমে। 

    এই সত্য যে প্রপাগান্ডায় তারাই বিশ্বাস করে যারা বিশ্বাস করতে চায় -- তারাই বিচারে পর বিচারকে অস্বীকার করে -- নিজের দলের নেতাদের অতিমানবীয় গুলাবলীতে ভূষিত করে -- তাদের কোন সমালোচনা সহ্য করতে পারে না। বস্তত শুধু বাম মিডিয়াকেই প্রপাগান্ডার উৎস হিসাবে দেখা ঠিক হবে না -- এই প্রপাগান্ডা নানান ভাবে চলে। এর ফলে নেতাদের অপরাধে শাস্তি হলে কর্মীরা অন্ধের মতো আচরন করে। 

     

    শত্রুরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকবেই -- নিজেদের শক্তিকে সংহত করা এবং নিজেদের পরিশুদ্ধ না করে শত্রুর সাথে বন্ধুত্ব করার জন্যে নিজেদের ভিভাজন গুলো কাজে লাগানো থেকে বিরত থাকা দরকার। 

    1. 5.1
      মজলুম

      — এই আলোচনাটা কোথায় হয়? কিসের প্রেক্ষিতে হয়?  মুসলিম — ইসলাম — হুজুর সব কিছু এক কাতারে ফেলে দিলে সমস্যা। বাংলাদেশের হুজুর বলতে যাদের বুঝায় — সেই লেবাসের লোকজন একদম ধোয়া তুলশী পাতা এইটা বলা যাবে না। বোমাবাজীর সাথে এক সময় মুফতি শব্দটা একাকার হয়ে গিয়েছিলো।

      এই আলোচনাটা সব প্রেক্ষিতেই হয় যারা বাম মিডিয়ার হাতে মগজ ধোলাই হওয়া পাবলিক। হুজুরদের কারনেই দেশটা গোল্লায় গেলো, মোল্লাদের কারনেই এই দেশ শেষ। অথচ এরা মসজিদ মাদ্রাসার বাইরে কোথাও নেই। ছোট একটা সরকারী চাকরীও করেনা আর সব দোষ ওদের ঘাড়ে।  মুসলিম-ইসলাম-হুজুর দের বিরুদ্বে যে প্রোপাগান্ডা হয় তার স্টাইল ও প্যাটার্নের সাদৃশ্য নিয়ে উধাহারনের  পর উধাহারন দিতে পারবো। কিন্তু হুজুরদের প্রোপাগান্ডার শিকার হওয়ার বিষয়টা আপনার মাথায় ঢুকবেনা কারন আপনার মধ্যে আছে মাদ্রাসা ও হুজুর বিদ্বেষ। 

      পোষ্টেই বলেছি, হুজুরদের ক্রাইম একটা পেলে সেটাকে তিল থেকে তাল বয় বরং তালগাছ বানিয়ে দেয় মিডিয়া। তুলশীপাতা বলিনি আমি।  বাম মিডিয়ার প্রোপাগান্ডায় মুফতির সাথে বোমাবাজী একাকারতো হবেই তাদের কাছে যারা বাম মিডিয়ায় মগজ ধোলাইয়ের শিকার। যেমন ইসলাম ও সন্ত্রাসকে একাকার করে দেওয়া আমেরিকান মিডিয়ার দ্বারা মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয় অনেকে।   

          ইসলামের নামে গনহত্যাকে জায়েজ করার চেষ্টাও এই হুজুররাই করেছে। তাই শুধুমাত্র আণ্যের দিকে আংগুল তুলে সমস্যার পুরোটা দেখানো কঠিন। ৭১ ্‌এর এতো বড় একটা জুলুম হলো বাংলাদেশের মানুষের উপর — তার বিষয়ে খুব কম হুজুরই কথা বলেন — 

       

      এটা আপনিও জানেন, আমিও জানি, অল্প কিছু হুজুর ছিলো ইসলামের পক্ষে জায়েজ করতে চাওয়া। কিন্তু বেশীরভাগই চুপ ছিলো বা এখনো আছে। দুই দেশের দুই সেক্যুলার গ্রুপের মধ্যে যুদ্বে ওরা বিব্রতই ছিলো, ভাইয়ে ভাইয়ে যুদ্ব দেখে এমনটিই হয়েছে। আলি(রাঃ) ও আয়েশার(রাঃ) এর মধ্যে সিফফিনের যুদ্ব আর জামালের যুদ্বে বেশীরভাগ সাহাবীই নিউট্রাল ছিলেন বা অংশগ্রহন করেন নি। ঐ যুদ্ব নিয়ে ওরা মাতামাতিও করেনা। এটা ইসলাম ও মুসলিমদের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করেই ওরা করেছে।  যুদ্বের পরেও ওদের  কাছে আলি(রাঃ) হলেন আহলে বায়েত ও আসাদুল্লাহ বা আল্লাহর সিংহ। আর আয়েশার(রাঃ) ওদের কাছে উম্মাতুল মুসলিমিন। কিন্তু ঐ যুদ্ব নিয়ে মাতামাতি করে একদিকে শিয়ারা আর আরেক দিকে নুসাইবি/খারেজিরা। 

       

      এই দেশে মুসলিমদের উপর গনহত্যা দেখে আমিও যুদ্বাপরাধীদের বিচার সমর্থন দিয়েছি, এখন দেখি এটার আড়ালে ফ্যাসিবাদ আর লুটপাটোক্রেসী হাসে। কয়েকটা জামাতের লিডারকে ফাঁসি দিয়েই যুদ্বাপরাধের বিচার শেষ, আর কোন যুদ্বাপরাধী নাই দেশে। গ্রাম বাংলায় একটা প্রবাদ বলে যে, কাঁথায় প্রসাবের জন্যে পানিপড়া দিলাম, পরে দেখি ২ নাম্বারটা করে দিলো। যে ঘৃনার উৎপাধন এরা করে ফেলেছে, জানিনা কবে এর থেকে নিস্তার পাবে এই দেশ।

       

      মাদারে হিউম্যানিটি আমার কাছে কখনো হিরো ছিলোনা, ওটা নিউট্রাল ছিলো। এখন দেখি ওটা শুধু ভিলেন না, ওটা ডাইনি, এই পালের গোদা হলো এই দেশের সকল লুকায়িত/প্রকাশিত ইসলাম বিদ্বেষীদের পাহারাদার। এই গডমাদারের আন্ডারে ওরা অভয়াশ্রম নিয়ে বংশবৃদ্বি করতেছে। 

       আর বিএনপির প্রপাগান্ডা! বিএনপি প্রোপাগান্ডার প ও বুঝেনা। বুঝলে কি আর আজকে এদের এই দশা হতো নাকি। এই দেশের মিডিয়া সব সময় বামদের হাতেই ছিলো। 

      আর নিজে নিজে ইসলাম শিখা ও বুঝা ঠিক না, এতে চরম বিভ্রান্ত হবেন, বা ইসলামকে কাস্টমাইজ করে নিজের সুবিধা অনুযায়ী চলবেন। কিছু আলেমের সাহচার্যে থাকুন, ওদের সাথে ইসলামের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন।  আপনার যেহেতু বেলাল ফিলিপসকে ভালো লাগে, আর উনিও কানাডায় থাকে,  উনার সাথে কথা বলার একটা এপোয়েন্টমেন্ট নিন। উনার সাথে ৭১, পাকিস্তান, জামাত, হুজুর নিয়ে আলোচনা করুন, দেখুন উনি কি জবাব দেয়, কেনো হুজুরেরা চুপ থাকে ৭১ নিয়ে।  ইসলামে ব্যাক্তিগত ক্ষোভ, ক্রোধের কিছু নাই, বরং ইসলাম ও মুসলিমদের বৃহত্তর স্বার্থ দেখতে হয়। ইসলাম ও মুসলিমদের বৃহত্তর স্বার্থের জন্যে নিজের ক্ষোভ ও ক্রোধকেও ভুলতে হয়, যেহেতু মসুলিমদের মূল কাজ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি আর পরকালে তার কাছ থেকে মহা পুরস্কার নেওয়া। দুনিয়ের ক্ষোভ, ক্রোধ দিয়ে কি হবে যদি তার সন্তুষ্টই না পাওয়া যায়। 

      ফেসবুকে আওয়ামী সেক্যুলারদের আনফলো করে দিন। আপনি আগামীকাল কি লিখবেন দেশের ব্যাপরে সেটা আজকে আওয়ামী সেক্যুলারদের ফেসবুক টাইমলাইন দেখলেই বলে দেওয়া যায়।

      দুই রাকাত ইস্তেখারার নামাজ পড়ুন। আর মুনাজাতে বলবেন, হে আল্লাহ আমি যে এই ফ্যাসিবাদকে সমর্থন দিচ্ছি, এটা যদি আমার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যানের জন্যে হয় তাহলে আমাকে এটার উপর অটল রাখিও। আর যদি এই ফ্যাসিবাদ সমর্থন আমার দুনিয়া ও আখেরাতের জন্যে অকল্যানকর হয় তাহলে তাহলে এ থেকে আমার মনকে উঠিয়ে দিবেন।  তারপর হয়তো স্বপ্নে দেখতে পারবেন রেজাল্ট, বা মনে মধ্যে বুঝতে পারবেন। ঐ রেজাল্টটা পরে এই পোষ্টে কমেন্ট করতে পারেন।  আর এটাই একমাত্র কমেন্ট আপনার সাথে এই পোষ্টে, আপনি আরো মন্তব্য করলে আমি তার উত্তর দেবোনা। আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক দুনিয়াতে ও আখিরাতে। 

      1. 5.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        কি আর করা -- আপনি যা বলছেন তাই ঠিক। কারন কথায কথায় আলোচনার পথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকী একটা অপমানজনক বিষয। তবে আমার কাছে বিষয না -- কারন আমি জানি আমি কি বলছি।

        যাই হোক --  নিজেদের দুরাবস্থার জন্যে পরাজিতরাই অন্যের উপর দোষ চাপায় -- এতে একটা সাময়িক স্বস্থি আছে। শত্রুরা যে কখন ছাড় দেবে না এইটাতো স্বাভাবিক। বরঞ্চ আজকের এই দুরাবস্থার জন্যে নিজেদের ত্রুটিগুলোর দিকে নজর দেওয়া জরুরী বলেই মনে করছি। বাংলাদেশে আলেম সমাজের কথা বলেন -- উনারা যতটা ইসলাম নিয়ে কথা বলেন -- তার চেয়ে বেশী সময় ব্যয় করেন পরষ্পরের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে। ইউটিউবে শত শত ওয়াজ দেখি -- এরা শুধু নিজেদের বিরুদ্ধে লেগে আছে। তবলীগের নিজেদের ভিতরের মতভেদ -- যা আলেমদের ব্যাখ্যার পার্থক্য তা নিজেরা সমাধান করতে বা কনটেন্ড করতে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিক দলের মতো দখলদারী মনোভাব প্রদর্শন করলো -- একদল কাকরাইল আরেকদল এয়াপোর্টের রাস্তা দখল করে জনগনের ভোগান্তি তৈরী করলো। এই বিষয়ে বাম-নাস্তিকরা শুধু দর্শক ছিলো -- কিন্তু তাদের মুখে এই সুখাদ্য তুলে দিলো কারা? নিশ্চয় এই বিষয় বুঝার জন্যে কোন থিয়োরীর প্রয়োজ হয় না। 

        রাজনীতিতে আলেমদের প্রভাব বহুদিনের -- যখর হো মো এরশাদের কঠিন অববস্থা -- তখন হাফেজ্জিহুজুর এগিয়ে এলেন -- আলেম সমাজের সমাবেশ করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করে এরশাদকে বৈধতা দিলেন -- বিনিময়ে এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঘোষনা দিলো -- ইসলামের এতো বড় অপমান বোধ হয় আগে কথাও হয়নি -- যে সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম ঘোষনা করা আছে -- সেই সংবিধানে সুদ বৈধ -- পতিতাবৃত্তি বৈধ -- মদ আমদানী বৈধ -- তারপরও আলেম সমাজ খুশী -- কারন রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম -- মানে কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। 

        ইসলামে নামে জঙ্গীবাদ -- হলিআর্টিজানের মতো ঘটনা ইসলাম যতটা ক্ষতি করে -বাংলাদেশের সকল বাম নাস্তিকরা মিলে ইসলামের এতো ক্ষতি করতে পারতো না। যখন কোন আলেম জঙ্গীবাদ বিরোধী ফতোয়া দেয় -- তাকে কাফের ঘোষনা করে আরেকদল -- এইটা নিশ্চয় বাম নাস্তিকদের কাজ নয়। 

        সুতরাং শুধুমাত্র প্রপাগান্ডা আর বাম নাস্তিকদের দিকে আংগুল তুলে সব কিছু ঢেকে ফেলা যাবে না। দ্বিধাগ্রস্থ আলেম সমাজ আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন বড় ইস্যুতে ন্যায়ের পক্ষে দাড়াতে পারেনি। ইসলাম রক্ষার নামে আজ এই শক্তি -- কাল ঐ শক্তির সাথে সমঝোতা করা ছাড়া কিই বা করেছেন উনারা। এক সময় আওয়ামীলীগ কাফের বলে পাকিস্থানী আর রাজাকাররা মিলে আওয়ামীলীগ মেরেছে -- তারপর ইসলাম রক্ষার নামে ইমানী আন্দোলন করতে সেইদিন হেফাযত ঢাকাএসে তান্ডব করলো -- তখন শুনলাম আওয়ামীলীগ এথিস্ট পার্টি -- এখন দেখি সেই এথিষ্ট পার্টির সাথে হেফাযতের দরহম মহরম।

        আপনার আমার বিষয়ে উদ্বেগের জন্যে ধন্যবাদ জানাই -- তবে আমার নিজের কথা না বলে একজন আলেমের কথা দিয়েই শেষ করি। টিভিতে টকশো করা আলেম ড. মনজুর ই ইলাহীর সাথে অনেক সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছিলো -- উনি তখন টরন্টোর একটা মসজিদের ইমামতি করার সুযোগ পেয়েছিলেন (যদিও কোন্দলের কারনে কয়েক মাস পর উনাকে বিদায় নিতে হয়েছিলো) -- প্রচুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে -- তার মধ্যে উনি বলছিলেন -- বাংলাদেশে প্রতি বছর হাজার হাজার হাফেজ -- মুফতি বের হয় -- কিন্তু একজনও আলেম তৈরী হয় না -- আমার প্রশ্ন ছিলো কেন? উনি বললেন -- সবাই মুখস্ত বিদ্যায় শিক্ষিত হয় -- চিন্তা ভাবনা বা গবেষনা হয় না সেখানে। কথাটা আমার না -- একজন আলেমের। যদি বাংলাদেশে আলেমদের দিকে তাকাই দেখবো কথাটা কতটা সত্য। মাদ্রাসা (আলিয়ার কথা বাদ -সেখানে না হাঁস না সজারু তৈরী হয়) গুলো তাদের বইএর স্তুপের নীচে কোরানকে চাপা দিয়ে রেখেছে -- বাংলা ভাষাভাষীর জন্যে কোরান পড়া কত কঠিন তা ভুক্তভোগীরাই জানে। অন্যদিকে বাংলাদেশের আলেমদের প্রধান ভাষা উর্দ্দু এবং ফার্সি। এখন ইসলামী পরিভাষার বাংলা প্রতিশব্দ তৈরী করা হয়নি -- বরঞ্চ বাংলা ভাষা ইসলাম বিরোধী বলে কথা শুনে এসেছি । জল বলা যাবে না কারন এইটা হিন্দু শব্দ -- বলতে হবে পানি -- এই ধরনের সাম্প্রদায়িক চিন্তার ভিতরে ইসলামকে আটকে রাখা হয়েছে। এখানে আলেমদের কোন ইতিবাচবক ভূমিকা দেখিনি। 

        চিন্তুা করবেন না আমার জন্যে -- দোয়া করবেন। আমার সেই জ্ঞান নেই যা দিয়ে আমি নতুন পথ বানাবো -- আমিও আলেমদের অনুসরন করি -- কিন্তু কলহ প্রিয় দ্বিধান্বিত দুনিয়া নিয়ে ব্যষ্ত এবং কোন ভৌগলিক সীমানার জন্যে ইসলাম হেফাযতকারীদের এড়িয়ে চলি। কারন উনার তাদের জ্ঞানে কারনে বিনয় থেকে সরে গিয়ে অহংকারী হয়ে উঠেছেন। ফলে কথা কথা ভিন্নমতের মানুষকে কাফের কাফের -- বাতেল ঘোষনা করতে ভয় পাননা। 

        আমার মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার দরকার নেই -- আপনার সময় নষ্ট করা ঠিক না। কারন আপনি অনেক উচ্চ মার্গে বিচরন করেন। আমি নিজের কথাই ভাবি -- এবং নিজের জন্যে শংকিত থাকি। 

        ধন্যবাদ। 

          

         

        1. 5.1.1.1
          মজলুম

          আমার অনেক পোষ্টেই দেখবেন দুই একটা মন্তব্য করে আর মন্তব্য করবোনা বলে দেই। দিনশেষে এই আলোচনা/তর্ক-বিতর্ক রিয়েলী ডাজনট মেটার। 
          আর আপনাকে ফলো করি ২০০৬ থেকে, এক যুগ হয়ে গেছে। তাই আপনি কোন বিষয়ে কিভাবে বিতর্ক করেন, কিভাবে পাল্টা যুক্তি দেন, কিভাবে কাউন্টার যুক্তি দেন তা সবই জানি। আমার মন্তব্যের পরে আপনি আবার কি যুক্তি আর কথা ইউজ করবেন সেটা  আগে থেকেই বলে দিতে পারি। আপনার লেখালেখির স্টাইল ও প্যাটার্ন মুখস্থ আছে। সেজন্যে বেহুদা তর্কে যাইতে ইচ্ছে করেনা। তবে আপনার অনেক উন্নতি হয়েছে ইসলামের জানাশোনার ব্যাপারে। সেই ২০০৬/৭ এ যখন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকের সাথে জোট করে শিবির দৌড়াতেন সামু ব্লগে তখন ইসলাম বিষয়ে আপনার কিছু মন্তব্যে দেখেছি, খুবই ত্রুটি ছিলো। এখন অবশ্য ঐ ধরনের কথা দেখিনা, আপনি ইসলাম বিষয়ে জানাশোনা অনেক উন্নতি করেছেন। 

          এটাই হলো একজন মুসলিমের কাজ, সে প্রতিদিন নিজের ইমান ও আমলের উন্নতি করতে হবে। যদি কখনো সে নিজেকে পার্ফেক্ট মনে করে তাহলে সে শয়তানের ধোঁকা খেয়ে পথভ্রষ্ট। আমি, আপনি, আমারা কেউ পার্ফেক্ট না, আমাদের প্রতিদিন ইমান ও আমলে উন্নতি করতে হবে। 
          আমাদের প্রত্যেকটা কথা ও কাজের আগে ভাবতে হবে, এটা কি নিজের নফসের খুশির জন্যে নাকি আল্লাহর খুশির জন্যে। 

          গুলশানের হামলা নিয়ে হুজুরদের দোষ দেওয়া যেতো যদি তারা ঐ হামলা সমর্থন করতো, কিন্তু করে নাই। এখন হুজুর বিদ্বেষী হওয়ায় আপনার কাছে মনে হলো গুলশান হামলার জন্যে হুজুর বিরুধী প্রোপাগান্ডা ঠিক আছে। ঠিক যেমন ইসলাম/মুসলিম বিদ্বেষীরা মনে করে ৯/১১ হামলার জন্যে মুসলিম বিরুধী ডিহিউমানাইজ প্রোপাগান্ডা ঠিক আছে। শুধু বিদ্বেষ থাকায় এই মানুষগুলো সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করতে পারেনা। 

          ড. মনজুর ই ইলাহী আপনাকে যা বলেছে সেটা ভেরিফাই করার জন্যে দয়া করে কয়েকটা কওমী মাদ্রাসা ঘুরে আসুন। দাওরা পাশের পর ওরা আরো দুই বছর ইসলামি গবেষনায় কাজ করে। ঢাকাতে অনেকগুলো ইসলামিক রিচার্স সেন্টার রয়েছে, সেগুলোতে ঢু মারতে পারেন। নিজের চোখেই দেখে যান। 

          জল/পানি আর বাংলা ভাষা হিন্দু—- এগুলো কিছু লোকে যতনা বলে তার চেয়ে বাম/সেক্যুলার গোস্ঠী বেশী প্রচার করে নিজেদের এজেন্ডা এগিয়ে নেওয়ার জন্যে। আর আপনার উপর ওদের লেখালেখির অনেক প্রভাব আছে। 

          আর বেলাল ফিলিপসের সাথে দেখা করলে খুশি হতাম। শুধু ইসলামি বই আর ভিডিও দেখে ইসলাম শেখা যায় না, যেমনি মেডিক্যাল বই পড়ে নিজে নিজে  ডাক্তারি চিকিৎসা করা যায়না, একজন ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে হয়।  ধন্যবাদ

    2. 5.2
      সত্য সন্ধানী

      জিয়া ভাই, আপনার হয়ত ভাল লাগবে না, তবু একটা বই পড়ার অনুরোধ রইল। পিনাকী ভট্টাচার্যের "মুক্তি যুদ্ধের বয়ানে ইসলাম" এই বইটা পড়ে দেখুন। সেখানে বেশ কিছু রেফারেন্স আছে। নিজেই চেক করে দেখে নিবেন, যে ওগুলা সঠিক কিনা।

      আশা রাখি আপনার এই হুজুর বিদ্বেষ কেটে যাবে ইনশাল্লাহ।

       

      1. 5.2.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আপনাকে ধন্যবাদ -- ইনশাল্লাহ একটা বই জোগার করতে পারলেই পড়বো। তবে বিষয়তো একটা না -- প্রচুর বিষয় আছে যা বাংলাদেশের আলেম হিসাবে দাবীদার লোকজন করছে এবং করেছে যা ব্যাখ্যার বাইরে। তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সেইটা একটা বিরাট প্রসংগ। বস্তুত আমি কোন আলেমের বিপক্ষে না -- তাদের প্রতি বিদ্ধেষ থাকার প্রশ্নই আসে না। তবে যা দেখি খালি চোখে তা বলি -- অনেকগুলোই তাদের বিপক্ষে যায়। কি করবো বলুন। 

        একটা উদাহরন দেই -- মুফতি ইব্রাহিমকে খুবই পছন্দ করতাম -- উনি ষ্পষ্ট ভাষায় কথা বলেন। যদি্ও উনি জামায়াতের সাধে সংশ্লিষ্ট -- সেইটা বিরেচনায় আনতাম না। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গী উনার ব্যক্তিগত বিষয় -- ইসলামের বিষয়ে কোন ফেতনা না করলেই হলো। কিন্তু যেদিন ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে বললেন -- সিস্টেম করলে হারামও হালাল হয়ে যায় -- যেমন বিয়ে না করলে যে কোন সম্পর্ক হারাম -- আর বিয়ে সেই বিষয়গুলো হালাল। উনি বললেন -- সুদ হারাম -- কিন্তু প্রসেসের মাধ্যেম সুদও হালাল হয়ে যায় -- কথাটা শুনে কিছুক্ষন স্তত্ব হয়ে গিয়েছিলাম -- এই কথাইতো ইহুদীরা বলে -- তারা তাদের সকল হারাম বিষয়গুলো একটু টুইস্ট করে হালাল বানিয়ে নিয়েছে। একজন জ্ঞানী মানুষ যখন প্রকাশ্যে এই টুইষ্টের ফতোয়া দেয় তখন কোরানের আয়াত মনে পড়ে যায় -- যেখানে খৃষ্টান আর ইহুদী আলেমদের কথা বলা হয়েছে যারা মানুষদের বিভ্রান্ত করছে। 

        দেখুন -- বাংলাদেশের আলেম সমাজ যতটা না সুপার ফিসিয়াল বিষয়ে কথা বলে -- সমাজের অনাচার অবিচার আর ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড নিয়ে ততটাই নিরব। শুধুমাত্র ঢাকা শহরেই কয়েক হাজার ক্লিনিক আছে যেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার ভ্রুহ হত্যা করা হচ্ছে -- এই নিয়ে কোন আলেমের উচ্চকণ্ঠ হতে দেখিনা -- বরঞ্চ এরা পরষ্পরের বিরুদ্ধে দিনরাত ফতোয়া দিয়ে বেড়াচ্ছে। 

        যাই হোক -- শেষ কথা হলো কোন আলেম আমার সাহায্যে আসবে না -- আমাকে আমার কর্মফলে জন্যে দাড়াতে হবে -- সেইটাই আসল সত্য। 

  7. 4
    মজলুম

    গতকাল সিরিয়ার ইদলিব  শহরে রাশিয়ার বিমান হামলায় একটা বাড়ি ধ্বসে যায়। ধংসস্তুপে চাপা পড়ে এক মহিলা মারা যায়। এখনো তার লাশ ধংসস্তুপের নিচে আর তার ছেলে পাশে দাড়িয়ে আরবীতে কেঁদে কেঁদে বলছে, আম্মু আমাকে মাফ করে দাও, ক্ষমা করে দাও। আমি তোমাকে বাঁচাতে পারি নাই, সাহায্য করতে পারিনা। দেখুন ছেলেটার বুকফাঁটা আর্তনাদ। এরপরও তথাকথিত বিশ্বের ইন্টালেকচুয়াল আর বিশেজ্ঞরা বলবে, এই লোকগুলা র‍্যাডিকেল হয় কেনো? গত কয়েকদিনে রাশিয়া আর আসাদ বাহিনী কয়েক শত সিরিয়ান লোককে বিমান হামলা করে হত্যা করেছে। এমন কোন দিন নাই, যেখানে কোন না কোন মুসলিম দেশে বিমান, হ্যালিকাপ্টার ও ড্রোনের দ্বারা সাধারন মুসলিমদের হত্যা করা হয়না। সাধারন মুসলিমদের লাশ হওয়ায় এগুলো মিডিয়াতে আসেনা। তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু  চলে আসে। 

    প্রতিদিন মুসলিমদের উপর হত্যাকান্ডের অল্পকিছু ট্রাক করে এই ওয়েবসাইট। 
    এটা তাদের ফেসবুক পেজ আর এটা তাদের টুইটার একাউন্ট। 

    দ্যা ইন্টারচেপ্টে মেহেদি হাসানের ভিডিও 'দ্যা ড্রোন ব্লো ব্যাক' দেখে এখানে একলোকের স্ট্যাটাস দেখুন

    ২০১০ সালে ব্রিটিশ-পাকিস্তানি নাগরিক ফয়সাল শাহজাদ নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে সন্ত্রাসী হামলার প্রচেষ্টায় গ্রেপ্তার হয়, যে হামলা সফল হলে নিহত হতে পারত শতাধিক নিরাপরাধ বেসামরিক নাগরিক।

    পরবর্তীতে কোর্টে যখন বিচারক তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন সে ইনোসেন্ট সিভিলিয়ানদেরকে হত্যা করতে চেয়েছিল, উত্তরে সে বলেছিল, আমেরিকা যখন পাকিস্তান-আফগানিস্তানে ড্রোন হামলা করে, তখন তারা নারী-শিশু কিছুই বিবেচনা করে না, তারা শুধু গণহারে মুসলমানই হত্যা করে। তার হামলার প্রচেষ্টা ছিল সেটারই জবাব, সেটারই ব্লো-ব্যাক।

    ব্লো-ব্যাক নিয়ে ইন্টারসেপ্টের জন্য মেহদী হাসানের নির্মিত ভিডিওটা দেখতে পারেন, কমেন্টে দিচ্ছি, কিভাবে মার্কিন ড্রোন হামলাগুলো আসলে সন্ত্রাস কমায় না, বরং বাড়ায়। একেকটা ড্রোন হামলায় সন্ত্রাসী মরে একজন বা দুইজন, কিন্তু তার সাথে নিরীহ সিভিলিয়ান মরে আরো দশ-বারো জন।

    আমরা এসি রুমের নিচে ল্যাপটপে বসে খুব বিশেষজ্ঞ মতামত দিতে পারি, আত্মঘাতী বা বোমাহামলাকারীরা সবাই সিআইএ-মোসাদের এজেন্ট। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে যদি কারো বাপ-ভাই-মা-বোন-সন্তান একের পর এক ড্রোন হামলায় মারা যেতে থাকে, আর কোথাও তার বিচারের বিন্দুমাত্র আশ্বাসও না থাকে, তাহলে তার সেটার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে পাল্টা "সন্ত্রাসী" হয়ে ওঠাটাই স্বাভাবিক।

    সন্ত্রাসী তৈরি করার এটাই সবচেয়ে সহজ উপায়। আমেরিকান কর্মকর্তারাও অনেকে এটা স্বীকার করছেন। তারা বলছেন এটা হচ্ছে ইনভেস্টমেন্ট।

    উল্টা দিকে আমরা যে ভাবি প্রতিটা মুসলিম নামধারী সন্ত্রাসী হামলাকারী আসলে আমেরিকার এজেন্ট, তাদেরকে আমেরিকা ব্রেইন ওয়াশ করে আর ক্যাপ্টাগণ খাইয়ে দ্য মাঞ্চুরিয়ান ক্যান্ডিডেট স্টাইলে তৈরি করেছে, সেটা যে আসলে কত রিস্কি, সেটার উদাহরণ গতকাল নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত ইয়াসির আরাফাতের উপর একটা অসাধারণ আর্টিকেলের ভেতরের একটা ঘটনা পড়লেই বোঝা যায়।

    আরাফাতকে কিভাবে শ্যারনের নেতৃত্বে ইসরায়েলিরা অসংখ্যবার হত্যার চেষ্টা করেছিল, সেটা নিয়ে লেখা মাইন্ডব্লোয়িং ঐ আর্টিকেল নিয়ে একটা ফিচার আর্টিকেল লিখছি Roar বাংলার জন্য, তাই এখানে আর বেশি কিছু বললাম না। শুধু একটা ঘটনার কথা বলি, সে সময় ইসরায়েল কয়েক মাস ধরে এক ফিলিস্তিনিকে ব্রেইন ওয়াশ করে আরাফাতকে হত্যার জন্য প্রস্তুত করেছিল। এরপর তাকে মিশনের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানোর পাঁচ ঘন্টার মধ্যেই সে স্বেচ্ছায় ফিলিস্তিনি বাহিনীর কাছে অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করে ঘটনা ফাঁস করে দিয়েছিল।

    জ্বী, ব্রেইন ওয়াশ করে এক-দুইজন এজেন্ট তৈরি করা যায়। হাজার হাজার যোদ্ধা বা আত্মঘাতী হামলাকারী তৈরি করা যায় না, তাতে অনেকগুলোই ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তার চেয়ে ইরাক-আফগানিস্তান-সিরিয়ার মতো সিভিলিয়ানদের উপর অ্যাটাক অনেক বেশি কার্যকর।

    1. 4.1
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      একটি বিষয়, সিরিয়ার আসাদ যদি প্রথমেই নিজের ক্ষমতা জনগনদের দিয়ে দিত, তাহলে সিরিয়ায় ঘটে যাওয়া বিগত বছর ধরে যুদ্ধ, দাঙ্গাহাঙ্গামা , ধ্বংস……. থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত থাকত? নাকি অন্য কোন কারন? ইঙ্গ-ইসরাইল কি অন্য কোন পথ অবলম্বন করে সিরিয়া আক্রমণ করত? আপনার কি অভিমত?

      ধন্যবাদ।

      1. 4.1.1
        মজলুম

        এটার জন্যে এই আর্টিক্যালটা দেখতে পারেন। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত ভাবে বর্ননা করেছেন লেখক। 

  8. 3
    Kamal

    তারপরও আমেরিকান মিডিয়া ছাড়া আমাদের চলবে না। যেকোনো ব্যাপারে ওদের রেফারেন্স ছাড়া আপনার কথা বিশ্বাসযোগ্য হবে না, ওদের মানবাধিকার ও অন্যান্য সংস্থার বক্তব্য আমলে না নিয়ে উপায় নেই। ওদের মিডিয়া উচ্চমানসম্পন্ন, আমাদের মিডিয়া ফালতু, নিম্নমানের। ডোনাল্ড ট্রাম্প বা বুশকে খুঁচিয়ে প্রশ্ন করতে হলে আমেরিকান সাংবাদিকই লাগবে, আমাদের দেশের সাংবাদিকরা পারবে এসব?

    1. 3.1
      মজলুম

      আপনার মন্তব্যটা বুঝতে পারি নাই। এটা কি মজা করলেন না সত্যি সত্যি বললেন?

      1. 3.1.1
        Kamal

        মজা করব কেন? আমেরিকান মিডিয়ার কোয়ালিটি ভাল, আমাদের মিডিয়ার কোয়ালিটি নিম্নমানের। এটা তো যে কেউ বুঝবে।

        1. 3.1.1.1
          মজলুম

          তারপরও আমেরিকান মিডিয়া ছাড়া আমাদের চলবে না। যেকোনো ব্যাপারে ওদের রেফারেন্স ছাড়া আপনার কথা বিশ্বাসযোগ্য হবে না, ওদের মানবাধিকার ও অন্যান্য সংস্থার বক্তব্য আমলে না নিয়ে উপায় নেই। 

          আমেরিকান মিডিয়া যে কিছু মানুষকে চরম বিভ্রান্ত করতে পারে আপনি তার বেস্ট উধাহারন। আপি মনে হয় পোষ্ট না পড়েই মন্তব্য করেছেন। আমেরিকান মিডিয়া কিভাবে চলে তা বুঝতে এই 5  মিনিটের ভিডিও দেখুন। নোয়াম চমস্কির ম্যানুফেকচারিং কনসেন্ট বইটা পড়ুন। এর বাংলাও পাবেন, সংহতি প্রকাশন বের করেছে। স্টানলি ফিশের বই, দেয়ার ইজ নো সাচ এ থিংসস এজ ফ্রী স্পিচ বইটা পড়ে নিন। এই দুই বই পাবেন এই ফোল্ডারে।  নোয়াম চমস্কি ও এডওয়ার্ড হ্যারমেনের লিখিত দ্যা পলিটিক্যাল ইকোনোমি অব হিউম্যান রাইটস পড়তে পারেন। তখন বুঝবেন ওদের হিউম্যান রাইটস গ্রুপ কিভাবে কাজ করে। 

          ২০০৩ সালে যখন ইরাকে ভয়ংকর মরনাস্র আছে বলে হামলা চালায়, তখন আমেরিকার সকল নিউজপেপার, সিএনএন থেকে ফক্স নিউজ, ওয়াশিংটন পোষ্ট থেকে নিউইউর্ক টাইমস, সবাই এই প্রপাগান্ডা চালিয়েছে যে ইরাকে ভয়ংকর মরনাস্র আছে, গনতন্ত্রের জন্যে যুদ্ব করা প্রয়োজন বলে এডিটোলিয়াল লিখেছে। এখন আপনার কাছে মনে ওদের মিডিয়া উচ্চমানের। হ! উচ্চমানের, সেটা হলো উচ্চ মানের হিপোক্রেসী ও ধুর্তামী। আমি পোষ্টেই বলেছি, আমেরিকার মিডিয়া হলো লিবারেলদের হাতে, এদের প্রোপাগান্ডা সূক্ষ আর বামপন্হীদের প্রোপাগান্ডা স্থূল। আমাদের দেশের মিডিয়া হলো মাথামোটা বামদের হাতে। মগজধোলাই হওয়া থেকে বেরিয়ে আসুন। ধন্যবাদ

  9. 2
    এম_আহমদ

    লেখাটি অপূর্ব হয়েছে। মনের দিক দিক থেকে আমি অনেকটা ক্লান্ত-শ্রান্ত। তাই লেখাটি পড়ে বেশ কিছু চেতনা অনুভাব করলাম। "চেতনা" শব্দটি কষ্টের সাথে ব্যবহার করলাম, এর চাইতে ভাল সমার্থক কোন শব্দ মনে হচ্ছে বলে। প্রোপাগান্ডায় মাথা ধোলাই হওয়া চান্দুগণের ব্যবহারের ফলে শব্দটি এখন প্রায় ভারতি দালালির implication এ চলে এসেছে।

    1. 2.1
      মজলুম

      এই দেশে আওয়ামিইজম বুঝতে হলে কম্যুনিজম ও সোভিয়েত ব্লকের রাস্ট্রগুলো কিভাবে চালিয়েছে তা দেখতে হবে। কিছু ধোঁয়াসা আইডিয়াকে মিষ্টি শরবত বলে জনগনকে এরা খাওয়ায়। চেতনা আর দেশপ্রেম মুখে আওড়ানো হলো ধাঁড়ি শয়তানের কাজ, আসল উদ্দেশ্য হলো জনগনের সম্পদ হরিলুট।  পাঠ ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ

  10. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    বিশ্ব বিবেক, মানবতা,  মিডিয়া……. কোন কিছু নেই, ঠিক কিন্তু আমাদের আল্লাহ্‌ আছেন। দুনিয়াব্যাপী মুসলমানদের চরম অবমাননা কিন্তু আমরা নিরাশা নই। মালিকি ইয়াওমিদ্দিন সব সময় পাঠ করি & অন্তরে ধারণ করি।

     

    মজলুম ভাই,

    আসসালামু আলাইকুম।

    ভাল লাগল আপনার লিখা। অনেক কিছু জানতে পারলাম। ধন্যবাদ। ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

    1. 1.1
      মজলুম

      নিরাশ হওয়া মুসলিম অভিধানে নেই। মুসলিমরা কখনই নিরাশ হয়না। কিছু না থাকুক, একেবারে খালি হাতে থাকলেও তারা নিরাশ হয় না। তারা জানে তাদের আল্লাহ আছেন আল্লাহ জালিমদের কিছু সময় একটু অবকাশ দিচ্ছেন। পোস্ট পড়া ও মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.