«

»

Apr ১৩ ২০১৭

হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধিদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতঃ সনদ ও ভাস্কর্য

হেফাজতে ইসলামের প্রতিনিধিদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সাক্ষাত এবং আলোচনা কৌতুহল উদ্দীপক। দু’টি বিষয় জানা গেল-

১।  কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে-ই-হাদিসকে স্নাতকোত্তর স্তরের মর্যাদা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্নাতকত্তোর শিক্ষার একক্রেডিটেশন একটি রিগোরাস প্রসেস। ইন্ডিয়াতে এ কাজটি করে ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন (ইউজিসি), মালয়েশিয়াতে করে মালেশিয়ান কোয়ালিফিকেশন এজেন্সি (এমকিউএ), ইংল্যান্ডে করে  ব্রিটিশ একক্রেডিটেশন কাউন্সিল, জার্মানিতে করে ভিশেনসাফটসরাটস (Council of Science and Humanities),  আমেরিকায় হয় কাউন্সিল ফর হায়ার এডুকেশন এককেরিটেশন (সিএইচইএ) দ্বারা। বাংলাদেশেও ইউজিসি রয়েছে। ইউজিসির কোন কমিটি কি দাওরায়ে-ই-হাদিস বিষয়টি নিয়মতান্ত্রিক পর্যালোচনা করে রিকমেন্ড করেছে? কওমি মাদ্রাসার ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে যারা এই স্তর অতিক্রম করবে; তারা ভবিষ্যতে প্রত্যাশার সাথে বাস্তবের অমিল দেখে হতাশ হবেনাতো?

উচ্চশিক্ষা একক্রেডিটেশন (accreditation) প্রধানমন্ত্রীর কাজ কিনা জানা নেই। পূর্বে অন্য কোন দেশে কি সরকার প্রধান এরকম ঘোষণা দিয়ে একটি ডিগ্রিকে স্নাতকোত্তর স্তরের মর্যাদা দিয়েছেন?

  ২।  প্রধানমন্ত্রীও সুপ্রিম কোর্টের সামনের শাড়ী পরিহিত রোমান দেবী থেমিস [জাসটিসা (Justitia)] –এর ভাস্কর্যটি উপযোগি মনে করেন না। এ বিষয়ে তিনি প্রধান বিচারপতির সাথে কথা বলবেন।

ছবি ১- সুপ্রিম কোর্ট চত্ত্বরে রোমান দেবী জাসটিসা- শাড়ী ভার্সান

জাসটিসার ভাস্কর্য প্রথম দেখেছিলাম বার্নে পিপাসার্ত হয়ে পানি খেতে গিয়ে। সুইজারল্যান্ডে শহর জুড়ে অনেক জায়গায় ফাউন্টেন থাকে। সেই পানি পেয়, সুস্বাদু, ও শীতল। কাছেই দোকান থেকে পানির বোতল কিনলে যেখানে প্রায় দু ফ্রাঙ্ক পড়বে সেখানে ফাউন্টেন থেকে পানি খেলে পয়সা লাগে না। জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের জাসটিসা ফাউন্টেনেও পানি রয়েছে। তবে সেখান থেকে পানি খাওয়া হয়নি। পানি খাই বা না খাই কোথাও জাসটিসা কে প্রণাম করতে হয়নি। সুপ্রিম কোর্টে যে জাসটিসার ভাস্কর্য বসিয়েছে তার সামনে দিয়ে হেঁটে গেলেও প্রণাম করা বা পূজা করা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে এটি থাকা বা না থাকা খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ হবে কেন বুঝতে পারছি না।

জাসটিসা সিম্বোলিক। চোখে কাপড় ইন্ডিকেট করে বিচার প্রক্রিয়া অপরাধী ধনী না গরিব, রাজা না প্রজা এসব দেখবে না। বা হাতে দাঁড়িপাল্লা ইন্ডিকেট করে কেসের মেরিট-ডিমেরিটের যথাযথ পরিমাপ। ডান হাতে তলোয়ার ইন্ডিকেট করে রায়ের সফল প্রয়োগ। যেহেতু অনেক দেশের (অষ্ট্রেলিয়া, ইরান, মার্কিন যুক্ত্ররাষ্ট্র, হাঙ্গেরি)  আদালত প্রাঙ্গণে এই ভাস্কর্যটি রয়েছে এটাকে অনেকটা প্রফেশনাল সিম্বলিজমের অন্তর্ভূক্ত বলে মনে করা যায়।

মিথলজি থেকে নেওয়া এরকম সিম্বল ডাক্তারি প্রফেশনেও রয়েছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজে  হেথায় হোথায় ‘সাপ জড়ানো লাঠি’- র ছবি দেখে ডিএমসিতে অধ্যয়নরত বন্ধু আরিফকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তোদের এখানে এত সাপ কেন? হেসে উত্তর ছিল- “এরে রড অফ এসক্লিপিয়াস বলে। মানে হল- প্রত্যেক সাপের জন্য লাঠি আছে- প্রত্যেক রোগের জন্য ঔষধ আছে।”

   

(ক)

(খ)

ছবি – (ক)বার্নে লেডি জাসটিজ ফাউন্টেন। (খ)- ফ্রাঙ্কফুর্টে  জাসটিসা

    

ছবি ৩ – বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর পতাকা, কেন্দ্রে রড অফ এসক্লিপিয়াস এর প্রতীক।

প্রাসঙ্গিকঃ

ক- জাসটিসা রাখা নিয়ে আলোচনায় অজয় রায় বলেছেন, inter alia, “বর্ষীয়ান এই শিক্ষক বলেন, ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম।“ (সোর্সঃ ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয়: অজয় রায় )

একসময়  তিনি আমাদের প্রতিবেশী একটি ব্লগের উপদেষ্টা ছিলেন। এখনো কি আছেন? থাকলে, একথাগুলি তাঁর ওখানে একবার বলা দরকার।

খ- একটি বিষয় জানা যায় নি। সাক্ষাতে, ২০১৩ সালের ০৫-০৬ ই মে  হেফাজতে ইসলামের যে ছেলেগুলিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে কি কোন প্রতিকার বা বিচার চেয়েছেন?

ধন্যবাদ। সবাইকে বাংলা ১৪২৪ সালের নববর্ষের শুভেচ্ছা।

 

১৮ comments

Skip to comment form

  1. 17
    শামস

    মঈনুদ্দিন খান বাদল, কি আস্পর্ধা এই বামদের। এদের কোন ভোটব্যাংক নাই, মানুষ পুছে না, একসময়ের সন্ত্রাসী, অথচ এখন লাই পেয়ে মাথায় বসে ছড়ি ঘুরাচ্ছে।

    https://www.facebook.com/Fujail-Ahmad-Najmul-%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%B2-%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%B2-663231703755633/?pnref=story

  2. 16
    শামস

    সম্পাদক সাহেব,
    আগে কমেন্ট সেকশনে ছবি, ভিডিও আপলোডসহ অনেক অপশন ছিল। এখন সেসব নেই কেন?

  3. 15
    এম ইউ আমান

    @শামস
    “যেই করুক, কওমীদের অনেকে এতে সুফল পাবে।“
    সেটিই কাম্য। দাওরায়ে হাদিস সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিস ও আরবি) এর সমমানের মর্যাদা দিয়ে ১৩ই এপ্রিল রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রনালয় প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। দেশে-বিদেশে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন এর পদের পাশাপাশি এখন যেহেতু তারা বিসিএস সহ অন্যান্য চাকুরিতে জেনারেল লাইনের গ্রাজুয়েটদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারবে, ভবিষ্যতে সামগ্রিকভাবে তারা কেমন পারফর্ম করে সেটি দেখার আগ্রহ থাকল। “তবে তারা যদি সিলেবাস আরো যুগোপযুগী করে এবং স্কিলবেসড কিছু যোগ করতে পারে তাহলে সেটা তাদেরই মঙ্গল।“- এ বিষয়ে একমত।
    “ইউরোপিয়ানদের ভাস্কর্য/মূর্তি প্রীতির সাথে মুসলিম প্রধান দেশের মূর্তি স্থাপনের মধ্যে পার্থক্য আছে।“
    ইনডিড। ইউরোপে রেঁনেসার একটি বড় উপাদান চিত্রকলা ও ভাস্কর্য। মুসলিমরা কারুকার্য ও ক্যালিগ্রাফির দিকে অধিক মনযোগ দিয়েছে। দু’টির ধরণ আলাদা। বেশীদূরে না গিয়ে আগ্রার তাজমহল ও কলকাতার ভিক্টরিয়া মেমোরিয়ালের দিকে তাকালেই সেটি পরিস্কার হয়। তাজমহলে আছে কারুকার্য, কবিতা, কোরান শরীফের আয়াত। এর সামনে-পিছনে-পাশে তাজমহলের আর্কিটেক্ট আহমেদ লাহোরি অথবা সম্রাট শাহজাহানের কোন মূর্তি নেই। অন্যদিকে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ঢুকতে সিঁড়িতেই দেখবেন বিশাল সিংহাসনে কুইন ভিক্টরিয়া (মূর্তি) বসে আছেন। লর্ড কার্জনের প্রচেষ্টায় তৈরী হয়েছিল বলে তাঁর একখানা স্ট্যাচুও সেখানে আছে। এছাড়া আরো কত-কি।
    থেমিস-এর উপাসনা বহুকাল হল উঠে গেছে। তার নামে কোন মন্দির ছিল কিনা সেটাও নির্ণয় করা যায় না। থেমিসের ভাস্কর্যটি কাঠ, পাথর, লোহার মত ক্লীব একটি বিষয়।

  4. 14
    সত্য সন্ধানী

    @এম ইউ আমান: ভাইরে,

    অক্সিজেন দেব নেই কে বলেছে? অবশ্যই আছে। বেদে বায়ু দেব আছে না? অক্সিজেন তো বায়ুর উপাদান, বায়ু থেকে আলাদা না, তা মাস্ক পড়েই বা লাভ কি? এর চেয়ে আসেন দম আটকে মারা যাই।
    ১হাজার বছর এর মধ্যে পুজা করা হয়নি তাই যেহেতু থেমিজ সৌন্দর্য বাড়াতে পারে, তবে বাকি গ্রীক দেবতা গুলি কি এক হাজার বছরে পুজিত হয়েছে?

    ভালবাসার দেবী আফ্রোডাইট/ইনানা/ইশতার এরাও পুজিত হয়নি। কাজেই সুপ্রীম কোর্টের শোভা বাড়াতে বরং এরাই বেশি অগ্রগন্য!

    তা থেমিজ কেন? কারন এটা জাস্টিসা তাই? তাই এটাকে একেবারে ন্যায় বিচারের যায়গা মত বসানো হল?
    আর মন্দির বানিয়ে কেউ পুজা করলে আমার সমস্যা থাকার কারন আছে কি? এই দেশে তো আর খালি মুসলিম রা বাস করে না, হিন্দু রা মুর্তি বানিয়ে যুগ যুগ ধরেই পুজা করছে। সেখানে থেমিজের পুজা কেউ করলে এতে আমি আপত্তি করার কে? আমার তো আপত্তি এই খানে যে আমাকে যে যায়গায়। বিচারের আশায় যেতে হবে সৌন্দর্য বাড়াবে আইনের দেবী!!

    ধন্যবাদ।

  5. 13
    সত্য সন্ধানী

    @এম ইউ আমান:
    @এম ইউ আমান:
    ভাই আপনারা লেখক, আমি তুচ্ছ পাঠক মাত্র, আর মনে হয় বিতর্ক না এগুনোই ভাল। বামন হয়ে চাঁদে হাত দেয়ার শখ আমার নেই।
    মুশকিলে পড়েছি আমি আমার নাম নিয়ে। সত্য সন্ধানী যে কেউ হতে পারে,
    জানি না চিল সন্ধানী কয়জন হয়। তাই নাম যেহেতু শুরু থেকেই সত্য সন্ধানী নিয়েছি তাই কি আর করা।
    ///চিলের পিছনে দৌড়ালে তো চিল সন্ধানী হবে, সত্য সন্ধানী হওয়া যাবে কি করে?///
    যাক ধরেই নিলাম এই কথাটা সাধারন অর্থে বলা হয়েছে, সেটা না হলে হবে খুবই অপ্রত্যাশিত আর হতাশার বিষয়।
    সাধারন বাঙালী জনতা কোন দিকে যায় সেটা আপনার না জানার কথা না।
    ধন্যবাদ ভাল থাকেন।

  6. 12
    এম ইউ আমান

    @সত্য সন্ধানী:

    ওয়াসসালাম। থেমিস/জাসটিসা র ভাস্কর্যটি যদি প্রভোক করার জন্য ইন্সটল করা হয়; সেটার একরকম রেসপন্স, আর যদি কোর্ট প্রাঙ্গনে প্রাসঙ্গিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য করা হয় তাহলে অন্যরকম বিষয়। গ্রিক-রোমান পৌরাণিক কাহিনী/ চরিত্র ও হিন্দু পৌরানিক কাহিনী/চরিত্র –এ মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। হিন্দু পুরাণ –এর হনুমানকে (লঙ্কাযুদ্ধে রামকে সাহায্য করার জন্য) ইন্ডিয়ায় অনেক জায়গায় পূজা করা হয়। তার জন্য ডেডিকেটেড মন্দিরও আছে। অথচ থেমিস/জাসটিসাকে এখন বা নিকট অতীতে (অন্ততঃ লাস্ট ১০০০ বছরে) কোথাও উপাসনা করা হয় বলে জানা নেই। তার ভাস্কর্যটি কাঠ, পাথর, লোহার মত ক্লীব একটি বিষয়। একটি ক্লীব ভাস্কর্য যেটি সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বসানো হয়েছে , সঙ্গত কারণেই মনে করছি দেশের আইন মেনেই সেটা করা হয়েছে, সেরকম একটি বেনাইন বিষয় দেশকে সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে এরকম চিন্তা কতটা যুক্তিযুক্ত? এতো সহজে কেউ বা কোন গোষ্টি সংঘাত তৈরী করতে পারবে আর সেই সব গর্তে আমাদের পা দিতে হবে তার কি মানে আছে?
    যেহেতু এটি পাবলিক বিষয়, দেশের সাধারণ জনগণের রুচি-পছন্দ-মতামত এখানে একটি মূখ্য বিষয়। বিষয়টি নিয়ে হেফাজতের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে ‘আলোচনা’ করে ওটি সরাতে চেয়েছেন, এটি একটি ম্যাচিউর ও পজিটিভ ডেভেলপমেন্ট।
    চিলের পিছনে দৌড়ালে তো চিল সন্ধানী হবে, সত্য সন্ধানী হওয়া যাবে কি করে?
    ধন্যবাদ।

  7. 11
    সত্য সন্ধানী

    ///আর ভাস্কর্য-কে কেউ পুজা বা সেজদা করতেছে না। এটা থাকা বা না-থাকা কি যায় আসে?//
    যায় আসে তো অবশ্যই। যদি থেমিজ পুজা কেউ করতে চায় আলাদা মন্দির বানাক সমস্যা নাই। যেমন হিন্দুরা আলাদা মন্দির বানিয়ে পুজা করে।
    কিন্তু দেশের গুরত্বপুর্ন যায়গায় এমন মুর্তি থাকবে কেন যাদের এক সময় পুজা করা হত?
    সে ক্ষেত্রে লাত মানাত উজ্জা এদের মুর্তির ক্ষেত্রেও একই যুক্তি দেয়া যায়, থাক না মুর্তি কেউ তো পুজা করছে না।

    একু ভাবে যাবতীয় প্রাচীন প্যাগান মুর্তি দের বেলাতেও একই কথা প্রোজোয্য হতে পারে। যেমন ইনানা, ব’আল, ডুমুযি, প্যান, ইশতার আরো কতই তো আছে। থেমিজ কিন্তু এদের থেকে আলাদা কিছু নয়।

    1. 11.1
      এম ইউ আমান

      বুঝতে পারলাম, মন্দির বানিয়ে পূজা করলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু হিন্দু ধর্মাবলমম্বীরা মন্দিরের ভিতরে থেকে সূর্য প্রণাম তবে কিভাবে করবেন? জানালা দিয়ে তাকিয়ে? তাছাড়া পবন দেব রয়েছেন। অক্সিজেন দেব অবশ্য নেই। যা কিছুর পূজা হয় বা আগে হয়েছে সেসব আশেপাশে দেখে আঁতকে উঠে সেগুলি একেবারে বাদ দিতে হলে তো ভূ-গর্ভে অক্সিজেন মাস্ক পরে থাকা ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু পাতালে যদি আবার যক্ষরা এসে ঝামেলা করে তখন কি উপায়?  

  8. 10
    সত্য সন্ধানী

    @মোঃ তাজুল ইসলাম:

    ওয়ালাইকুমুস সালাম ভাই।
    মুর্তি বা সদৃশ্য ভাষ্কর্য যে কোরান শরীফে হারাম সেটা গুগুলে একটু সার্চ দেয়াতে এই সদালাপেরই একটা লেখা পেয়ে গেলাম।
    লেখক কে জবাব দিচ্ছেন ‘সাদাত’ ভাই।
    http://www.shodalap.org/ccamurad/1623/

  9. 9
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ভাই সত্য সন্ধানী,
    আসসালামু আলাইকুম।
    প্রথমেই বলি, আমার কথায় যদি আপনি বা অন্য কোন ভাই আহত হোন, সে জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা। আমাদের মাঝে মতের অমিল হতেই পারে, সেজন্য আলোচনা করি।
    সুপ্রিমকোর্ট হোক বা প্রেসিডেন্ট কার্যালয় হোক বা রাজধানীর প্রধান স্থান হোক…. ভাস্কর্য যেখানেই হোক, তার সাথে ইসলামের কি সম্পর্ক তা আমার বুঝে আসে না। কোরানে কোথাও বলা নেই, ভাস্কর্য হারাম। বরং কোরানে পাই, সুলায়মান(আ)-র আমলে ভাস্কর্য বানানোর কথা। আমাদের নবী(স) যখন আয়েশা(রা)-র সাথে সংসার শুরু করেন, আয়েশা মাটির পুতুল নিয়ে খেলা করতেন, অনেকগুলো পুতুল ছিল। নবী(স) কখনই বলেননি, পুতুল হারাম। বোখারী এবং অন্যদের হাদীস।
    আর ভাস্কর্য-কে কেউ পুজা বা সেজদা করতেছে না। এটা থাকা বা না-থাকা কি যায় আসে? এর সাথে ঈমানের কি সম্পর্ক? একটা ভাস্কর্য কোর্টের সামনে থাকলে, কিভাবে সেটা শির্ক হয়? আর আমি এও বলি না, কোর্টের সামনে ভাস্কর্য থাকতেই হবে।

    “সূরা আল ইমরান:142 -- তোমাদের কি ধারণা, তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ আল্লাহ এখনও দেখেননি তোমাদের মধ্যে কারা জেহাদ করেছে এবং কারা ধৈর্য্যশীল।”
    >> কি লিখা? আর আমরা কি বুঝি?

    কিয়ামতের ময়দানে কোর্টের সামনে ভাস্কর্য কেন ছিল? সেজন্য আপনাকে বা আমাকে জিজ্ঞেস করা হবে না।
    আমরা বাঙ্গাল মুসলমানরা আসল জিনিষ রেখে নকল জিনিষ নিয়া ব্যস্ত থাকি।

    আমার অন্তরে “তাকওয়া” প্রতিষ্ঠিত হল কিনা, সে নিয়ে চিন্তা করি না। আমার নামাজ সহি হচ্ছে কিনা তা নিয়ে চিন্তা করি না। অথচ চরম পেরেশানে আছি টুপি আর টাকনুর উপরে কাপড় আছে কিনা?

    ভাস্কর্য থাকা কিংবা না থাকা ২-টোই অর্থহীন।
    ধন্যবাদ।

  10. 8
    সত্য সন্ধানী

    @মোঃ তাজুল ইসলাম:

    ///সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য নির্মূল নিয়ে তারা যা করছে, তা তাদের অজ্ঞতার ফল। একশ্রেনী জ্ঞ্যানহীন মুসলিম দল।////

    তাহলে এই উস্কানীমুলক ভাষ্কর্যের বিরুদ্ধে কথা না বলাই কি জ্ঞানী মুসলিম এর লক্ষন হত?

    সেক্ষেত্রে আমি অজ্ঞানী আর মুর্খ মুসলিম হিসাবে এই নগ্ন মুর্তিকে শয়তানের মুর্তি বলে মনে করে থাকি,তাই এটা কোন ভাবেই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সামনে রাখার সমর্থন করতে পারি না।

    তবে যদি সেটা করাই হয় স্বাভাবিক, সেটার সমর্থন করা হয় দাড়ী টুপি সর্বস্ব ইমানদার, সেক্ষেত্রে আসুন সঠিক ইমানদার হই।এ জন্যে গ্রীক/রোমান আরো কিছু দেব দেবীর ভাষ্কর্যের চিন্তা করি।

    ১-যেহেতু প্রধান মন্ত্রী দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীয় বটে, তাই তাঁর কার্যালয়ের সামনে অ্যাথেনার ভাষ্কর্য স্থাপন যদি করে কেউ, আমরা সঠিক মুসলিম হবার প্রয়াসে। জানেন নিশ্চয়ই অ্যাথেনা হল বীর দের রক্ষাকারিণী দেবী!

    ২- অ্যারেস যুদ্ধ দেবতা, তাই আর্ম ফোর্সের হেড কোয়ার্টারের সামনে অ্যারেসের ভাষ্কর্য স্থাপন করুক কেউ।

    ৩- থেমিজ যেহেতু স্বর্গীয় আইনেরও দেবী তাই জাতীয় সংসদের সামনেও তার আরেকটি ভাষ্কর্য স্থাপন করা যেতে পারে, মুসলিম দের চুপ করে থাকা লাগবে ভাল মুসলিম হিসাবে।

    ৪- অ্যাথেনা জ্ঞানেরও দেবী, তাই দেশের বিদ্যাপীঠ গুলিতেও অ্যাথেনার ভাষ্কর্য বসানো হোক, সমস্যা কি শুধুই তো সিম্বল; দাড়ী টুপি ইমানদার ছাড়া ভাল মুসলিম দের তো এ নিয়ে হই হই রই রই করা যাবে না!
    এভাবে কিন্তু লিস্ট অনেক বড় করা যায়, অনেক বিভৎস দেব দেবীর ভাষ্কর্যের পক্ষে সাফাই দেয়া যায় ‘শুধুই সিম্বল’ এই কথা বলে।

    তাহলে সারা দেশের গুরত্বপুর্ন স্থান গুলো এভাবে নানা ভাষ্কর্য সিম্বলে ভরিয়ে দেয়া হোক, আর ভাল মুসলিম হবার তাগিদে আমরা সব হাসি মুখে মেনে নেই, কি বলেন?

    আজ যারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সামনে নোংরা নগ্ন ভাষ্কর্য রেখে গেল উদ্যেশ্য মুলক ভাবে, কাল তারা যদি কোন মসজিদের পুর্বদিকের গলিতে ভাষ্কর্য রেখে দাবী করে এটা তারা নিজেদের জায়গায় করেছে তবু কি জ্ঞানী মুসলিম হবার জন্য চুপ করে থাকা উচিত সবার?

  11. 7
    সত্য সন্ধানী

    @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন:
    ভাই সালাম,

    ///অবশ্যই এই মুর্তি সরিয়ে ফেলা উচিত – কারন এইটা একটা বিকৃত মুর্তি আর নাস্তিকদের কৌশলের প্রতীক।///
    শতভাগ সমর্থন করছি।

  12. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @শামস --

    কওমি সনদের যে স্বীকৃতি সেটা কওমীদের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থার যে অবস্থা গত ৭/৮ বছরে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হতে যাচ্ছে, তাতে এই স্বীকৃতিতে কওমীদের সিলেবাস খুব একটা সমস্যা হয়তো হবে না. হয়তো দেখা যাবে শ্রমবাজারে কওমীরা ভালো করছে। তবে তারা যদি সিলেবাস আরো যুগোপযুগী করে এবং স্কিলবেসড কিছু যোগ করতে পারে তাহলে সেটা তাদেরই মঙ্গল।

    >>> আপনার সাথে একমত। এই স্বীকৃতি কওমী শিক্ষা জন্যে একটা গেইট খুলে দিয়েছে। বাকী কাজটা কওমী নেতাদের প্রজ্ঞা আর বিচক্ষনতার উপর নির্ভর করবে। আমিও আশাবাদী এরা ভাল করবে। কারন এতো সুশৃংখল জীবন যাপনকারী মানুষ এরা -- এদের ভাল না করার কোন সুযোগ নেই।

  13. 5
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    ১) আমার মনে হয় না এইটা কোন সমস্যা হবে। বিএ বা বিকম পাশ করে যদি বিসিএস দিয়ে সরকারী চাকুরী পাওয়া যায় -- তবে মাদ্রাসার ছাত্ররাও তা পাবে -- শুধু কয়টা গাইড মুখস্ত করতে হবে।

    বস্তুত এই প্রক্রিয়া দীর্ঘ দিনের বলেই জানি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পরপরই কওমী মাদ্রাসা শিক্ষাকে একটা শৃংখলার মাঝে আনার চেষ্টা করে সরকার -- পরে বিএনপি জামায়াত সরকার মৌখিক ভাবে এই বিষয়ে আশ্বাস দেয়। সমস্যা হচ্ছিলো পাঠক্রম নিয়ে -- কওমীর নেতারা প্রথমত সরকারের কোন নিয়ন্ত্রন চাইছিলো না -- এবং তারা মনে করতো দ্বীনি শিক্ষার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন বৈধ নয়। তাদের দৃষ্টিভংগী পরিনত হয়েছে। মধ্যে যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং হেফাযতের আন্দোলন ইত্যাদির কারনে প্রক্রিয়া কিছুটা বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে -- কিন্তু এবার সরকার তাদের দাবী মতোই স্বীকৃতি দিয়েছে। এইটা ইউজিসির অধীনে হবে না -- সরকারী নিয়োগের বেলায় প্রযোজ্য হবে। তাদেরকে একটা কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে আসতে হবে। মুলত সরকার তাদের উপর ছেড়ে দিয়েছে পুরো শিক্ষা পদ্ধতি এবং পাঠক্রম সংস্কারের বিষয়টা।

    আর প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সব কিছুই উদ্বোধন করে -- তাতে বিষয়টা গুরুত্ব পায় -- কারন এর বাইরে কারো কথা মানুষ বিশ্বাস করে না -- তাই প্রধানমন্ত্রী একটা সমাবেশ করে ঘোষনা দিয়েছে -- অবশ্যই এর পিছনে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের বিষয়টা রয়েছে।

    ২) বৃটিশ আমলে তৈরী হওয়া হাইকোর্ট -- পাকিস্তান -- বাংলাদেশ মিলিয়ে শত বর্ষ অতিক্রম করলো -- এতোদিন এখানে কোন প্রতীকের দরকার হলো না -- হঠাৎ করে একটা কৃুচি দিয়ে শাড়ী পড়িয়ে গ্রীক দেবীকে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হলো। বিষয়ট অত্যান্ত অপ্রয়োজনীয় এবং উষ্কানী মুলক। যদি স্মরন করি -- এয়ারপোটের সামনে লালনের মূর্তি নিয়েও একই ঘটনা হয়েছিলো -- পরে মূর্তি সরানো হয়েছিলো। তার থেক এসকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত ছিলো। এই মূর্তি ( যা ভাষ্কর্য বলে চালানো চেষ্টা চলছে) জনগনের অর্থে জনগনের স্থাপনায় বসানোর আগে যথেষ্ট আলোচনা এবং জনমত যাচাই করার দরকার ছিলো।

    যদি কানাডার কথাই ধরি -- সামান্য একটা রাস্তার বাঁক বদলানোর আগে তার প্রস্তাব ছবিসহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয় -- জনগনের মতামত চাওয়া হয় -- অবশেষে একটা গনশুনানী করা হয় (টাউনহল মিটিং) -- তার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহন করা হয়।

    কিন্তু বাংলাদেশে একদল লোক তাদের মতাদর্শকের কৌশলে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টার ফলেই এই বিতর্ক। লক্ষ্য করবেন -- এই মুর্তির পক্ষে বাম-নাস্তিকরা কঠিন অবস্থানে -- তেমনি হেফাযত বিপক্ষে কঠিন অবস্থান। আসলে আমরা আস্তিকতা -- নাস্তিকতার যে যুদ্ধ চালাচ্ছি তারই একটা ফ্রন্ট হলো এই মুর্তি -- একদল কৌশলে জনগনের অর্থ ব্যয় করে লিমিট টেস্ট করে। অবশ্যই এই মুর্তি সরিয়ে ফেলা উচিত -- কারন এইটা একটা বিকৃত মুর্তি আর নাস্তিকদের কৌশলের প্রতীক।

    অবশ্যই অজয় রায়ের কথার গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই। কারন উনারা সময় সময় এই ধরনের কথা বলে কৌশলগত কারনে। কিন্তু উনারা কখনই যৌক্তিক কথা বলে না -- কেন মুর্তি স্থাপন করা হলো -- কে করলো -- কেন করলো -- এইকথা বলে না। কিন্তু একটা বাচ্চা মেয়ে ওড়না পড়ার কথা বললে উনাদের মাথায় আকাশ ভেংগে পড়ে। শাহবাগের আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী নাস্তিকদের লেখালেখি বিষয়ে জানতে পারার পর নাস্তিকদের বিষয়ে কঠিন অবস্থা নিয়েছে বলেই জানি। অবশ্যই মুসলমানদের চিন্তা দর্শনকে উপেক্ষা করে একদল মানুষের দর্শন চাপিয়ে দেওয়ার মতো অজনপ্রিয় কাজ করে ভোটের রাজনীতিতে লুজার হতে চাইবে না শেখ হাসিনা -- তাই সমীকরনের সমাধানের জন্যে ব্যালেন্স করার পথেই উনি হাঁটছেন।

    ধন্যবাদ আপনার লেখার জন্যে।

  14. 4
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আমান ভাই,
    আসসালামু আলাকুম।
    লিখাটি সুন্দর। অল্পকথায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরেছেন।

    >>সুপ্রিম কোর্টে যে জাসটিসার ভাস্কর্য বসিয়েছে তার সামনে দিয়ে হেঁটে গেলেও প্রণাম করা বা পূজা করা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে এটি থাকা বা না থাকা খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ হবে কেন বুঝতে পারছি না।<<
    আমাদের বাঙ্গাল মুসলমানদের ঈমান থাকে দাড়ি-টুপির মধ্যে, অন্তরে নয়। ৫ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে বেহেস্তে চলে যাবেন, এই ধারনা নিয়ে তারা থাকেন। আত্মশুদ্ধি & তাকওয়া তাদের কাছে মুখ্য নয়। নবী মোহাম্মদ(স)-র সবচেয়ে বড় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্নত হল "সত্যবাদিতা"। সর্বদা সত্য কথা বলা। জীবনে কোন মোল্লা বা মসজিদের ঈমাম বা জুম্মার খতিবকে বলতে শুনিনি এই সুন্নতের ব্যপারে কথা বলতে। জঙ্গী তৈরি হওয়া খুব সহজ। জিহাদের ফাদে এদের ব্রেইন ওয়াশ করে ISIS তৈরি করা খুব সহজ। তারা তাদের নিজেদের মতবাদ ব্যতীত অন্য সকল মতবাদকে ঘৃনা করে। কওমী মাদ্রাসেত শিক্ষা ব্যবস্থায় সুস্থ চিন্তা আমি দেখি না।

    সুপ্রিম কোর্টের ভাস্কর্য নির্মূল নিয়ে তারা যা করছে, তা তাদের অজ্ঞতার ফল। একশ্রেনী জ্ঞ্যানহীন মুসলিম দল।

  15. 3
    শামস

    কওমি সনদের যে স্বীকৃতি সেটা কওমীদের কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশে সেক্যুলার শিক্ষাব্যবস্থার যে অবস্থা গত ৭/৮ বছরে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে হতে যাচ্ছে, তাতে এই স্বীকৃতিতে কওমীদের সিলেবাস খুব একটা সমস্যা হয়তো হবে না. হয়তো দেখা যাবে শ্রমবাজারে কওমীরা ভালো করছে। তবে তারা যদি সিলেবাস আরো যুগোপযুগী করে এবং স্কিলবেসড কিছু যোগ করতে পারে তাহলে সেটা তাদেরই মঙ্গল।

    এই স্বীকৃতিটা রাজনৈতিক হবার সম্ভাবনাই বেশি। বিএনপিও তাদের খুশি রাখার জন্য ২০০৬ সালেই এ নিয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। এতদিন কেন আটকে ছিল সেটাই প্রশ্ন। যেই করুক, কওমীদের অনেকে এতে সুফল পাবে।

  16. 2
    শামস

    থেমিসের মূর্তিটি কি সাধারণ কোন নারী মূর্তি?

    “Themis also represents the law and undisputed order, the divine right. She was the goddess that created the divine laws that govern everything and are even above gods themselves.”

    ইউরোপিয়ানদের ভাস্কর্য/মূর্তি প্রীতির সাথে মুসলিম প্রধান দেশের মূর্তি স্থাপনের মধ্যে পার্থক্য আছে. আধুনিক ইউরোপিয়ান সভ্যতা গ্রীক সভ্যতাকে পুনর্জীবিত করতে গিয়ে পৌত্তলিকতাকেও দারুণভাবে আঁকড়ে ধরে। গ্রিকদের পতনের পর খ্রিস্টান ইউরোপ গ্রীক প্যাগানদের নিজেদের ধর্মে স্থান দিয়েছে, তাদের একটা যোগসূত্র আছে. অপরদিকে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ইসলামী সভ্যতা মূলত কারুকার্য এবং স্থাপত্য নির্ভর আর্টকে আলিঙ্গন করেছে। আচ্ছা এমনকি ভারতে যে মুসলিমরা ৫শো বছর শাসন করলো সেখানে শাসকদের মূর্তির ব্যাপ্তি কতটুকু!

    মূর্তিটা কোন সাধারণ নারীর নয়, একটা উদ্দেশ্যমূলক এবং আরাধ্য একজন নারীর, যিনি দেবী। দেবী এখানে জাস্টিসের প্রতীক, আর এজন্যই সুপ্রিমকোর্টের প্রাঙ্গণে বসানো। কথা হলো, মূর্তি কিভাবে জাস্টিসে ভূমিকা রাখে, কিভাবে ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্যে মানুষকে এবং বিচারককে ইন্সপায়ার করে, যাদের সাথে এই নারীদেবীর কোন সংযোগ নাই! আর দেবী যদি নিছক হয়ে থাকে, তাহলে যার এর পেছেনে অর্থ ঢালছে তাদের আইনের আওতায় আনা দরকার, অযথা রাষ্ট্রের টাকা খরচ করার জন্য।

    কোন সার্পেন্ট গড এর সাথে থেমিসের তুলনা মানানসই হতো!

  17. 1
    সত্য সন্ধানী

    আসসালামু আলাইকুম আমান ভাই,

    ////সুপ্রিম কোর্টে যে জাসটিসার ভাস্কর্য বসিয়েছে তার সামনে দিয়ে হেঁটে গেলেও প্রণাম করা বা পূজা করা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে এটি থাকা বা না থাকা খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ হবে কেন বুঝতে পারছি না।////

    এর আগে কি কোনদিন সুপ্রীম কোর্টের সামনে কোন মুর্তি ছিল? তখনও কিন্তু ন্যায় বিচার হয়েছে।

    কে এই মুর্তি স্থাপন করল, আর কেন করল, সেটাই কিন্তু একটা বড় প্রশ্ন।দেশে যে কারনেই হোক হরতাল অবরোধ, জালাও পোড়াও বন্ধ হয়েছে। রাজনিতি বিদদের নিয়ে ভাবছি না, সাধারন মানুষ হিসাবে একটু স্বস্তিতে আছি কিছুটা।
    আবার কি দেশ কে অস্থিতিশীল অবস্থায় ঠেলার জন্যেই থেমিজের মুর্তি বসানো হয়েছিল? আল্লাহ ভাল জানেন।

    আরেকটা ককথা এই কেন হবে বা কেন হবে না এই প্রশ্ন দ্বারা এদেশের মানুষকে বিচার করাটা হয়ত একটু বিপদজনক। এ দেশের মানুষ কিন্তু চিলে কান নিয়ে গেছে তাই চিলের পেছনেই ছুটবে, জায়গা মত হাত দিয়ে দেখবেও না যে কান যায়গা মত আছে কি নাই।

    আর থেমিজের মুর্তি বসিয়ে কিন্তু কোন লাভ হয়নি,আইন আগেও যেমন নিজস্ব গতিতেই চলেছে এখনও সেভাবেই চলবে! শুধু দেশ আবার একটা সংঘাতের দিকে যাচ্ছিল। শেখ হাসিনা একটা বিচক্ষন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই মনে করি।

    ডাক্তারী বিদ্যার সিম্বল আর বিচারের সিম্বলে মনে হয় কিছু পার্থক্য আছে। মানে বিজাতীয় দের আবিষ্কার করা চিকিৎসা নিতে মানুষ কোনদিনই আপত্তি করেনি, আপত্তি করেছে বিজাতীয়দের জীবন দর্শন নিজের করে নিতে। থেমিজের মুর্তি সর্বোচ্চ আদালত প্রাংগনে শোভা বাড়ালে মানুষের মনে সেই আশংকা জন্ম নেয়াটা খুব বেশি অস্বাভিক বলে মনে হয়নি আমার।

    ধন্যবাদ, ভাল থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.