«

»

Dec ২৬

অর্বাচিনের সংলাপ !! ১

সেই ৬৯ সালের কথা। সারা পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনের উত্তাপ আমাদের ছোট্ট মহকুমা শহরেও এসে লেগেছে। আমাদের মৌলভী বাজার সরকারী কলেজের ছাত্র কেন্দ্রিক এই আন্দোলন চলছিল। কলেজে পড়ুয়া বড় ভাইরা কলেজের লেখাপড়া ফেলে দিয়ে কখনও আমাদের শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনীর প্রকাণ্ড শিরিষ গাছের নিচে ট্রাফিক আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে পথ সভা চালাতেন, কখনও আমাদের পৌরসভার অফিসের সামনের শিশু পার্কের মুক্ত মঞ্চে সভা করতেন। এই সব সভায় শুধু পূর্ব বনাম পশ্চিমের মধ্যে বৈষম্যের কথা জ্বালাময়ী ভাষায় উল্লেখ করতেন।

এই বৈষম্যের কথা উঠলেই যে বিষয়টি আগে উঠে আসত সেটি হচ্ছে আমাদের সোনালী আঁশ পাটের কথা। নেতারা সারা গা ঝাঁকিয়ে বজ্রকন্ঠে বলতেন- ভাইয়েরা, আমরা পূর্বপাকিস্তানীরা পাট ফলাই। সেই পাট বিক্রি হয়ে বিদেশে চলে যায়, কিন্তু সেই পাটের টাকা আমাদের পূর্ব পাকিস্তানে আসেনা। সেই টাকা পাঞ্জাবীরা পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাচ্ছে। যে কৃষক পাট ফলাচ্ছে সে কৃষক এক বেলা পেট ভরে ভাত খেতে পায়না, অথচ এই পাটের টাকা দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের শহর করাচী এবং রাওয়ালপিন্ডির রাস্তা সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সেই সময় এমন কোন বাঙ্গালী ছিলেন না যিনি এই অসম বৈষম্যের কথা শুনে পাঞ্জাবী তথা পশ্চিম পাকিস্তানীদের মুখে থুথু নিক্ষেপ করতে চান নাই। কারণ আমরা না খেয়ে মরব আর আমাদের টাকা দিয়ে তারা তাদের জন্য আলীশান রাস্তা বানাবে, তা কোন মতে মেনে নেওয়া যায়না।

কিন্তু আমাদের নেতারা যা কখনও বলেন নাই।  পাকিস্তান হবার আগে ১৮৫৫ সাল থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত দীর্ঘ ৯২ বছরের এই পাটের টাকা কোথায় যেত? এই পাট বিক্রির টাকায় তখন আমাদের কৃষক কি দুই বেলা খেতে পেরেছিল? এই পাটের টাকায় কি পূর্ব বাংলার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়েছিল, না স্কুল কলেজ, হাসপাতাল হয়েছিল?

আমাদের নেতারা বলেন নাই, পৃথিবীর মধ্যে সব চেয়ে বেশী ভাল মানের পাট এই পূর্ব বাংলায় ফলন হত, অখণ্ড ভারতের ৮০ ভাগ পাট আমাদের কৃষক উৎপাদন করতেন। আর ২০ ভাগ পাট পশ্চিম বাংলায় উৎপাদন হত। কিন্তু সব কটি জুটমিল স্থাপন করা হয়েছিল পশ্চিম বাংলার কলকাতা নগরীর হুগলী নদীর দুই পাশে। জুট মিল থেকে যারা লাভবান হতেন তারা ছিলেন কলকাতার লোকজন। এই পূর্ব বাংলার জূটের টাকায় কলিকাতা নগরী রাস্তাঘাটের জৌলুষ বৃদ্ধি পেয়েছিল।  ১৯৩৯ সালের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে, ঐ সময় কলকাতাতে ৬৮৩৭৭টি লুমস পাটের পণ্য উৎপাদন করে চলছিল।  কিন্তু তাঁর একটিও পূর্ব বাংলায় ছিলনা। আমরা ছিলাম শুধু পশ্চিম বাংলা কাচা পাটের যোগানদার, আবার সেই পাট তৈরি পণ্যের ক্রেতা! দেশ ভাগের পর এই পশ্চিম বাংলার হিন্দু ভাইয়েরা আমাদের প্রাপ্য  আমাদের ভাগের একটি টাকাও ফেরত দেন নাই। আমাদের দেশের সরকারী কর্মচারীদের বেতন দেবার মত কোন টাকা আমাদের ব্যাংকে রেখে যায় নাই। দেশ ভাগের প্রথম কয়েক মাসের বেতন ইস্পাহানী কোম্পানী চালিয়ে নিয়েছিল।

আমাদের নেতারা জানান নাই, ভারত ভাগ হবার পর ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মাত্র ২০ বছরে পূর্ব পাকিস্তানে ৭৬টি পাটকল স্থাপিত হয়েছিল, যার ফলে এই দেশের হাজার হাজার মানুষের কৃষিখাতের বাইরে শিল্পখাতে কর্মের সংস্থান হতে পেরেছিল।

আমাদের নেতা জানান নাই এই ৭৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠা করার মত তখন পূর্ব বাংলা কোন মুসলিম বাঙ্গালীর মূলধন যোগানোর মত ক্ষমতা ছিলনা।

আমাদের নেতারা জানান নাই  পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু লোক যারা তাদের নিজেদের অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এই ৭৬টি শিল্প প্রতিষ্ঠান।

আজ বিশ্বায়নের যুগে আমাদের সরকার গুলো বিদেশীদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন এই দেশে এসে তাদের পুঁজি খাটাতে ব্যবসা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা করতে। এবং আজ আর ২২ পরিবার নয় ভারতীয় সহ শতশত বিদেশীরা আমাদের দেশে তাদের ব্যবসা বাণিজ্য চালাচ্ছে, তারা তাদের লাভের টাকা তাদের দেশে নিয়ে যাচ্ছে, কই আজ তো কেউ আর তাদেরকে লুটেরা বলে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করছেন না???/

[যেটি বলতে চাই আমরা যারা নিজদেরকে মুসলিম বলে দাবি করি তাদের অবশ্যই সত্য কথা বলতে হবে। এবং সত্য কথা জানাতে হবে।]

 

৮৬ comments

Skip to comment form

  1. 29
    রাজদরবার

    মুক্তিযুদ্ধে হিন্দুদের সংখ্যা কত ছিল তা বুঝতে একটি পরিসংখ্যানই যথেষ্ট।   তাহলো ৬৭৬ জন খেতাবধারী মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে মাত্র ৬ জন হিন্দু!  শতকরা হিসাবে তা এক শতাংশও হয় না। link

  2. 28
    মুনিম সিদ্দিকী

    ভারতের মুসলিমরা যে কত সুখে আছেন তা জানতে ভারতীয় মুসলিমের লেখা ব্লগ পড়ে দেখুন।
     
    http://www.somewhereinblog.net/blog/faridsworld07/29755978

  3. 27
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    মুনিম ভাই, অতীতে মূক্তমনায় সাঈদ কামরান মির্জা ওরফে ডঃ খোরশেদ আলম চৌধুরী যখন আফগানিস্তান ও ইরাকে ডেইজী কার্টার বোমা মেরে নিরীহ মানুষ হত্যা নিয়ে আনন্দিত হত তখন এই বুয়েটিয়ান তার সমালোচনা করত। আজকে আপনি যখন ৭১ ও এর কিছু আগে বিহারীদের আওয়ামীলীগারা হত্যা ও জুলুম করার বিষয়টি তুলে ধরেন তখন আপনি হয়ে যান জামাতী ও রাজাকার। ৭১এ পাকিস্তানীদের বাঙালীদের উপর হত্যা-জুলুম যেমন অন্যায় তেমনি কোন নিরীহ বিহারীকে হত্যা ও জুলুমও অন্যায়। দুটি ভুল কখনই সঠিক ফল হতে পারে না। এটা ইসলাম কেন যেকোন সভ্য আইনও মেনে নিবে না।
    ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ শুধুই সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা পাকিস্তান চাননি বরং তার সাথে মুজিবও ছিল। এমনকি ভাসানীও আসামীদের বলেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দিতে। তারা কেউই চাননি যে পরে এই পশ্চিম পাকিস্তানীরা আমাদের উপর এইভাবে নির্যাতন করুক। ভারত বিভাজনের ফলই হল আমাদের এই ৫৬ হাজার বর্গমাইল প্রাপ্তি। আমাদের সংবিধানে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ভুখন্ডকেই বর্তমান বাংলাদেশের এলাকা বলা হয়েছে। ৪৭এর বিভাজনকে অস্বীকার একমাত্র অখন্ড ভারতের দালালরাই করতে পারে। তাদের কাছে মুসলমানদের নিজস্ব সকীয়তার থেকে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে পৌত্তলিক সংস্কৃতি অনেক প্রিয়। আপনার এই পোষ্টে পুনরায় পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়নি এবং ৭১ও আমরা পুনরায় ভারতে যুক্ত হয়ে যাইনি। এর সরল অর্থই হল এটা ৪৭এর অবদান। আবারও বলছি এটা না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ কেন এই অঞ্চলের মুসলমানরা বাঙালীই হতে পারত না।

    1. 27.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ শুধুই সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা পাকিস্তান চাননি বরং তার সাথে মুজিবও ছিল। এমনকি ভাসানীও আসামীদের বলেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে যোগ দিতে। তারা কেউই চাননি যে পরে এই পশ্চিম পাকিস্তানীরা আমাদের উপর এইভাবে নির্যাতন করুক। ভারত বিভাজনের ফলই হল আমাদের এই ৫৬ হাজার বর্গমাইল প্রাপ্তি। আমাদের সংবিধানে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের ভুখন্ডকেই বর্তমান বাংলাদেশের এলাকা বলা হয়েছে। আপনার এই পোষ্টে পুনরায় পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়নি এবং ৭১ও আমরা পুনরায় ভারতে যুক্ত হয়ে যাইনি। এর সরল অর্থই হল এটা ৪৭এর অবদান। আবারও বলছি এটা না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ কেন এই অঞ্চলের মুসলমানরা বাঙালীই হতে পারত না।

       
      যথার্থ।

  4. 26
    সাদাত

    মানুষের হাতে সময় নষ্ট করার এত সময় কোথা থেকে আসে?
    অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা পরিহার করা ইসলামের সৌন্দর্য। বেশি কথায় বেশি ভুল, বেশি মিথ্যার সম্ভাবনা।
    এখানে যারা পক্ষে বিপক্ষে কথা বলছেন একজনের মধ্যেও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে পাচ্ছি না। যা হয়ে গেছে তা নিয়ে এত কথার কি আছে? আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন। অতীতের ব্যাপারে ‘যদি’ এটা হতো বা এটা না হতো, তাহলে এটা হতো বা এটা হতো না, এসব বলার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে হাদিসে। হ্যাঁ ভবিষ্যতের ব্যাপারে বুদ্ধিমত্তা খাটানো যেতে পারে। কিন্তু ভবিষ্যতের কোন দিকনির্দেশনা এই আলোচনায় দেখতে পারছি না।

    1. 26.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্যই করেন

      এই কথা আমি আমার ব্যক্তি জীবনের সকল উত্থান পতনের সময় আমি মেনে থাকি। তাই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিবর্তনকে এক ভাবে দেখি। ভারত ভাগ আল্লহর মর্জিতে হয়ে যেমন বাংলাদেশও আল্লাহর মর্জিতে হয়েছে সে আমার বিশ্বাস। তবে আমি তো বলি নাই যে এ হলে ভাল হতো এই হলে খারাপ হত! এই ভাবে কোন মুমিন  স্বজ্ঞানের বলতে পারেনা। ধন্যবাদ।

  5. 25
    মুনিম সিদ্দিকী

    যাদের পাকিস্তান নাম এবং ভারত ভাগের কথা শুনলে শরীর এবং মনে প্রবল জ্বর উঠে এবং তাতে বিকার গ্রস্থ হয়ে পড়েন তাদেরকে অনুরোধ করব অধুনা প্রকাশিত  বংগবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানে লেখা ডাইরী ৫২৫টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে পড়ে দেখবেন। কপিরাইট আইন দ্বারা এই বইয়ের কোন কিছু প্রকাশ করা নিষিদ্ধ করা আছে তাই ইচ্ছা থাকলেও প্রকাশ করতে পারছিনা। নতুবা সুন্দর সুন্দর কথা গুলো এখানে কোট করে দিতাম।

    1. 25.1
      রাজদরবার

      শেখ মুজিব অনেক কথা বলেছিলেন হিন্দুদের অত্যাচার নিয়ে। তার বইয়ের বেশ বড় একটি অংশ হিন্দুদের হিংস্রতা, শঠতা এবং সাম্প্রদায়িকতা নিয়েই লেখা।
       
      যাই হোক এখানে কিছু উল্লেখ করা হয়েছে। http://www.somewhereinblog.net/blog/dastaar/29747278

  6. 24
    ahmadullah

    পড়লাম। কয়েকটা কথা আমার বুঝে আসে না। এক. শরীরের আকারের তুলনায় সবচে বেশি ওজনের অঙ্গ মাথা তো সবার সাথেই আছে। পাকিস্তানের অন্যায়কে এই পোস্টে মুনীম সাহেব হালাল করেননি একটি শব্দ কিংবা অক্ষর দ্বরাও। কিন্তু জানতে চেয়েছেন,এই একই জুলুম পূর্বেও তো ছিল। তখন কে খেয়েছিল পাটের টাকা?? তথ্য যারা চেয়েছেন, অন্যায় করেন নি। তবে তাদের কাছে প্রশ্ন, পাটের অস্তিত্ব তো ভারত বিভাগের পর অটোমেটিকভাবে আবিস্কার হয়ে যায়নি। পাট তো এদেশের বহু পুরাতন সম্পদ। তাই মুনীম ভাইর কথাগুলো অসাধারণ। পাকিদের জুলুমের কথা উঠলে নাপাকি মানে অন্যদেরগুলো কেন উঠবে না? আর এর জন্য কিসের তথ্যের প্রয়োজন??  দুই.একটা ভুল আমরা প্রায় সবাই করি। কোন শাসকগোষ্ঠী খারাপ আজীবন তাদের নিরপরাধ প্রজাদের উপরও জুলুম করা অন্যায়। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী আমাদের উপর জুলুম করেছে, কিন্তু তাই বলে পাকিস্তান রাষ্ট্র বা জনগনের সাথে স্থায়ী বিদ্বেষ অবিবেচনা ও অন্ধত্ব থেকে সৃষ্ট। পাকিস্তানের জনগন তো এই বাংলার শাসন চেয়েই ৭০এর নির্বচানে শেখ সাহেবকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু সৈরা শাসকদের মুকাবেলায় জনগন এরচে বেশি আর কীইবা করার ছিল? তাছাড়া কোন জাতি বা গোষ্ঠির অন্যায় বংশ পরম্পরা তাদের পরবর্তীপুরুষদের উপর চাপানো নেহায়েত মুর্খতা। ইংল্যন্ডও তো আমাদের উপর জুলুম করেছিল। ওরা তো আমাদেরকে শৃং্খলে আবদ্ধ করে রেখেছিল ২৫০ বছর। কৈ তাদের সাথে কেন স্থায়ী শত্রুতা নেই? কেন আমরা পাকিস্তানের নাম শুনলেইনাক শিটকাই???ah .

    1. 24.1
      মোঃ মোস্তফা কামাল

      ahmadullah ভাই, অনেক ধন্যবাদ। আমার মনের কথাটাই বলেছেন।
      মুনিম ভাই এই পোষ্টে কখনই পাকিস্তানী শাসকদের বৈষম্য, অন্যায় ও জুলুম-নির্যাতনকে বৈধতা দেন নাই। অন্যায় অন্যায়ই।
      উনার সাথে আমি ১০০০% একমত যে ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। ৪৭এ ভাগ না হলে এই অঞ্চলের মুসলমানদের অবস্থা চরম শোচনীয় হত। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ তার উৎকৃষ্টা উদাহরণ।

  7. 23
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    একটি রাষ্ট্রের উপাদান হল ১) জনগণ, ২) ভূখন্ড, ৩) সার্বভৌমত্ব ও ৪) সরকার। আমাদের বাংলাদেশের এই ৫৬ হাজার বর্গমাইল ভুখন্ড ১৯৪৭ সালে প্রাপ্ত। এই বিভাজন না হলে ৫৬ হাজার বর্গমাইল দিল্লীর শিকল পড়ে থাকত। আজকে পশ্চিমবঙ্গের সুনীল, সমরেশ সাহিত্যিক গায়ক এরা এক বাক্যে বলেন বাংলাদেশ না হলে তাদের বাণিজ্য কেন কদরই থাকত না। হাজার আইন করেও কোলকাতায় বাংলার প্রচলন করানো যায়নি। সেখানে হয় হিন্দি অথবা ইংরেজী বলতেই নিজেদের ষ্ট্যাটাস সিম্বল মনে করে ভারতীয় বাঙালীরা। নিজেদের শিল্প ও বাণিজ্য খুবই কম। সবই অবাঙালীরা নিয়ন্ত্রণ করে। গোটা ভারতের ৪-৫টি রাজ্য ছাড়া সবার জিডিপি বাংলাদেশের চেয়ে কম। এগুলো এক লাফে ৭১এ চলে আসেনি। কাশ্মীর ও সেভেন সিষ্টার্স স্বাধীনতার জন্য চেষ্টা করেও সফল হচ্ছে না। তখন ৪৭এ ভাগ না হলে বাংলাদেশ কিভাবে হত?

    1. 23.1
      Sam

      Mr. Kamal,
      I completely agree with you. It was not possible for Bangladesh to become Independent if it was not part of Pakistan. Some people just don't accept the facts or knowingly deny the facts!
      Thanks,

      1. 23.1.1
        Nazrul Islam Khan

        @মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত: @মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত:একসমময়ে আমরা বৃটিশ শোষনের যাতাকলে পিষ্ট হয়েছি , এরপর পাকিস্তানি আর এখন নিজ দেশে ।মুলে হচ্ছে সেই ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র ব্যাবস্থা ।। যতদিন পর্যনন্ত এর পরিবর্তন না হবে ততদিন কোন না কোন ভাবে আমাদের জুলুম চলতেই থাকবে।
         

  8. 22
    আহমেদ শরীফ

    ভারত ভাগের ফলাফল হল পশ্চিম পাকিস্তানী পাঞ্জাবি হার্মাদদের হাতে পূর্ব বাংলার ভাগ্যকে তুলে দেয়া যার ফলে দুই যুগ বা সুদীর্ঘ ২৪ বছরব্যাপী এক দুঃস্বপ্নের ভেতর দিয়ে বাঙ্গালি মুসলমানদের যেতে হয়। ফ্যাসিবাদী মনমানসিকতার প্রকাশ তারা শুরু থেকেই ঘটানো শুরু করে।

    ১/ প্রথমেই আকস্মিকভাবে মুখের ভাষার ওপর আক্রমণ চালিয়ে বসে। জোর করে তাদের ভাষা ভিন্ন একটি জাতিসত্বার ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। স্বভাবতঃই অনিবার্যভাবে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্রজনতা সংঘটিত হয় '৫২ র ভাষা আন্দোলন। শহীদ হন আবদুস সালাম, বরকত, আবদুল জব্বার প্রমুখ। "উর্দু, এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা" _ উদাত্ত কন্ঠে ঘোষনার সময় পূর্ব পাকিস্তানের সুবিশাল জনগোষ্ঠির কথা জিন্নাহর মাথাতেই আসে নি।

    ২/ আদমজি পরিবার কর্তৃক জুটমিল এজন্যেই পশ্চিম পাকিস্তানী অর্থায়নে স্থাপিত হয়েছিল কেন না বোম্বে থেকে ভারত ভাগের সময় মুসলিম ব্যাঙ্ক করাচিতে স্থানান্তরিত হয় বিধায় বিনিয়োগ তথা অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বা নীতি নির্ধারণ পশ্চিম পাকিস্তানীদের হাতেই ছিল। কাজেই মুসলিম ব্যাঙ্কিংয়ের পুরো নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পশ্চিম পাকিস্তানীদের কব্জায়, পাকিস্তানের প্রথম রাজধানী হিসেবে। বাঙ্গালি মুসলমানদের ম্যানেজার বা দক্ষ শ্রমিকের মর্যাদা দেয়া হত না, বরং উর্দুভাষী বিহারিদের পক্ষপাতমূলক নেকনজরে দেখা হত, খাটুনি বেশি হলেও বাঙ্গালি শ্রমিকদের যথাযোগ্য মজুরি দেয়া হত না। ১৯৫৪ সালের আদমজি জুটমিলে বিহারি-বাঙ্গালি সংঘর্ষের মূল কারণও এটিই।

    ৩/ নবজাতক পাকিস্তান সে সময় শিক্ষিত প্রশাসনিক কর্মকর্তা সংকটে ভুগছিল, স্বাধীনতাপূর্ব অবিভক্ত ভারতের সিভিল সার্ভিস কর্মকর্তাগণ অধিকাংশই শিখ ও হিন্দু ছিলেন যারা স্বেচ্ছায় ভারতভাগের সময় ভারতের অংশে চলে যান। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কম থাকার অজুহাতে বাঙ্গালিদের প্রশাসনিক পদ কমই দেয়া হয়, ফলতঃ গভর্ণর জেনারেলসহ ঢাকার প্রশাসনিক উচ্চপদগুলো পশ্চিম পাকিস্তানী আর পাকিস্তানী নাগরিকত্বধারী বিহারি উদ্বাস্তুদের দিয়ে পূর্ণ করে ফেলা হয়।

    বাকিগুলো ধীরে ধীরে বলা হবে। আপাততঃ এটুকু বলা যায় যে ভারতভাগ পূর্ব বাংলার দূর্ভাগা মুসলমানদের জন্য বয়ে আনে ২ যুগব্যাপী দুঃস্বপ্ন, শোষণ, বঞ্চনা আর বিশ্বাসঘাতকতার শোচনীয় ইতিহাস। আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ 'ভারত ভাগ' এর ফসল নয়, বরং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে আলাদা হওয়ার ফসল।

    1. 22.1
      sami23

      আহমদ শরীফ ভাইয়া,
      "এটুকু বলা যায় যে ভারতভাগ পূর্ব বাংলার দূর্ভাগা মুসলমানদের জন্য বয়ে আনে ২ যুগব্যাপী দুঃস্বপ্ন, শোষণ, বঞ্চনা আর বিশ্বাসঘাতকতার শোচনীয় ইতিহাস"

       একটি দেশের সামাজিক ব্যবস্থা কি দুই যোগে পাল্টে যাওয়া কি সম্ভব?নাকি তার পিছনের ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলোর ধারাবাহিকতা অন্যতম কারণ।ভারতভষ ভাগ হওয়ার আগে পূর্ববাংলার আর্থ-সামাজিক,রাজনৈতিক,প্রাসানিক,অর্থনীতি ব্যবস্থা,শিক্ষাদীক্ষার অবকাঠামো,ইত্যাদির মানসম্পন্ন বা উন্নত ছিল?ইতিহাস কি এরকম সাক্ষ্য দেয়?শুধু কি পাকিস্তান আমলে পুব বাংলাদেশের মানুষ অবহেলা,বঞ্চিত,নির্যাতিত,ছিল?পাকিস্তানের শাসনের ইতিহাস শুধু সেই অপশাসনের ধারাবাহিকতা ছিল মাত্র।বাংলার মুসলমানদের ইতিহাসে প্রায় দুইশত বছর যাবত, মুসলমানদের প্রতি, হিন্দুদের উৎপীড়ন, অবিচার,শোষণের, ইতিহাস কি বিলীন হয়ে গেছে।দেখুনতো দেশ ভাগের আগে পুব বাংলার মুসলমানদের অবস্থা উল্লেখ করে ডঃ এ র মল্লিক,তার ব্রিটিশ পলিসি এবং মুসলিম ইন বেঙ্গল বইতে কি  বলেছেন  “thus long year association with non Muslim people who Far outnumbered them . cut off from original home of Islam, and living with half coverts Hinduism. the Muslim had greatly deviated from the Hinduism. the Muslim had become indianite. This deviation from the faith apart, the Indian Muslim in adopting the case system of Hindus,Had givens a disastrous blow to the Islamic conception of brotherhood and equality in which their strength had rested in the past and present thus in the 19th century the picture of a disrupted society. Degenerate and weakened by division and sub division to degree. It seemed, beyond the possibility of repair. no wonder sir  mohammed iqbql said surley we have out hindued the Hindus himself. we are suffering from a double caste system religious caste system and social caste system- which we have either learned or inherited from the Hindus. This is one of the quit ways in which the conquered nation revenged themselves on their conquerors “
      "আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ 'ভারত ভাগ' এর ফসল নয়, বরং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করে আলাদা হওয়ার ফসল"
       
      ইতিহাস কি এককথার সমর্থন দেয়? ইতিহাস দিকে তাকালে দেখা যায়ে যে, বঙ্গভঙ্গ রদের মাধ্যমে বাংলাদেশের বীজ রোপিত হয় এবং লাহোর প্রস্তাবের মাধ্যমে তা ক্রমে বিস্তার লাভ এবং স্বাধীনতার যোদ্ধৃয়ের মাধ্যমে তা পরিপূর্ণতা লাভ করে।এ স্মপকে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও চিন্তাবিদ ডঃঅশোক মিত্র বলেন “১৯০৬ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ না হলে অর্থাৎ তখন যদি বঙ্গ বিভাগে বাঙালির মুসলিম মধ্যবিত্ত বিকাশ ঘটতো এবং বিকশিত বাঙালির মুসলমান মধ্যবিত্ত সাথে হিন্দুরা সমঝোতা করে ফেলত। ফলে ১৯৪৭ দেশ বিভাগ হতো না এবং দেশ ভাগ না হলে পাকিস্তানের জন্ম হতো না”। যদি পাকিস্তানের জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম না।বঙ্গভঙ্গের ঘটনাপ্রবাহ পূর্ববাংলা মানুষদের  শিখিয়ে দিয়েছে- জাতীয় জীবনে টিকে থাকতে হলে শক্তি সাহস ঐক্য সংহতি অর্জন করে আত্ম-নির্ভরশীল হতে হবে।বঙ্গভঙ্গ সেদিন রদ হলেও পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে যে স্বাতন্ত্র্যবোধ জাগ্রত হয়েছিলো- তারই ধারাবাহিকতায় বাংলা আর অবিভক্ত থাকতে পারেনি।স্বাধীন বাংলাদেশ হচ্ছে ঐতিহাসিক অনিবার্যতা,যা দীর্ঘকাল ধরে হয়ে আসছিল তার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে এই বাংলাদেশ। 
       

      1. 22.1.1
        আহমেদ শরীফ

        এক ফোঁটা মুত্রই কিন্তু এক মণ দুধকে অপবিত্র করে দিতে যথেষ্ট। ভারতভাগের ফলে পশ্চিম পাকিস্তানীদের হাতে পড়ে পূর্ব বাংলা তথা পূর্ব পাকিস্তান তথা বাঙ্গালি মুসলমানদের যে অবর্ণনীয় দূর্গতি ভাগ্যে জুটেছে তাতে যেটুকু অর্জন যাও বা ছিল ম্লান হয়ে গিয়েছে।

        আর 'ভারতভাগের ফলে বাংলার মুসলমানরা কি পেল' শীর্ষক আলোচনায় কোনমতেই '৪৭-'৭১ প্রসঙ্গকে এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। পশ্চিম পাকিস্তানীরা কিরকম তার পরিচয় তারা '৪৭-'৭১ পর্যন্তই শুধু নয় এর পরেও দিয়েছে এবং এখনও 'সমারোহের' সাথেই দিয়ে যাচ্ছে। আর যুদ্ধাপরাধী রাজাকার ও তস্য সহযোগী সংগঠন তাদের পরিচয় '৭১ এও দিয়েছে স্বাধীনতা উত্তর ৪০ বছর ধরে দিয়ে চলেছে, এখনও 'সমারোহের' সাথেই দিয়ে চলেছে। কারো রুপ-রস-গন্ধ-প্রকৃতি-পরিচয়-আচরণ জনগণের অজানা নেই।
         
        ভারতের হিন্দুগণ সংখ্যাগুরু হওয়ার সুবিধা নিয়ে বুদ্ধি আর রাজনৈতিক ক্ষমতার কারণে স্বার্থোদ্ধার করাটা যদি শোষকের ভূমিকা হয় তাহলে পশ্চিম পাকিস্তানীরা শত বা সহস্র নয় লক্ষগুণে কদাকারভাবে শোষক-অত্যাচারীর ভূমিকা নিয়েছিল। ভারতীয় হিন্দুগণ অতীতের ঋণ বিরাট পরিমাণে শোধ করেছে তখন, যুদ্ধকালীন সময়ে ঘোষিত 'স্বাধীন বাংলাদেশ'কে সমর্থন দিয়ে, যখন অনেক মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দিয়ে পাকিস্তানের অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সমর্থন করেছে। যেখানে মুসলিম ভাই 'ইয়াহিয়া' গণহত্যার নির্দেশ দিয়ে বেসামরিক জনগণের ওপর সামরিক বাহিনী চাপিয়ে দিয়ে বিমানে চড়ে কেটে পড়ে, ইন্দিরা গান্ধী 'পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ইন্টারফিয়ারেন্স' এর অভিযোগের জবাবে বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেন এই বলে যে প্রতিবেশীর ঘরে আগুন লাগলে মানুষ হিসেবে তাঁরা নিশ্চুপ-নিষ্ক্রিয় থাকতে পারেন না। কোটির কাছাকাছি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে, আহার-চিকিৎসার ব্যবস্থা করে, যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক বাহিনী দিয়ে সাহায্য করে ভারত প্রতিবেশীর কাজ করেছে, ভ্রাতৃপ্রতিম ভূমিকা পালন করেছে।

        ভারতভাগের পর ভারত রাষ্ট্র হিসেবে প্রাচ্যের আদর্শ বৃহত্তম 'যুক্তরাজ্য' গঠন করেছে, গণচীনের সাথে প্রতিযোগিতা করছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আজো সিন্দবাদের ভূতের মত তাদেরই কাঁধে চেপে রয়েছে। নিজেরা নিজেদের মসজিদে বাজারে বোমা মেরে নিজেদের খতম করছে।

  9. 21
    sami23

    মুনিম ভাই,
    পাকিস্তানের আমলের অর্থনীতি পর্যালোচনা করা আগে,আপনাকে দেশভাগের আগে পুব বাংলার ইতিহাস অর্থনীতি,অবস্থা কেমন ছিল বা তার সে অবস্থার কারণ গুলো কি ছিল সেই ইতিহাসের দিকে আলোকপাত করতে হবে। ইস্ট ইন্ডীয়া কোম্পানি আগমনের পর থেকে বাংলার অর্থনীতি যে হিন্দুদের হাতে চলে যায়ে,বিশেষ করে কোম্পানির হিন্দু কর্মচারীদের বাংলার অর্থনীতির বারোটা বাজে তা মুঈনউদ্দিন আহমদ খানের,Muslim struggle for freedom in Bangladesh বইতে এক ইংরেজের মন্তব্য খেয়াল করলে পাওয়া যাবে,”ইংরেজ তাদের আইন কানুন যে একটি মাত্র শ্রেণীকে ধ্বংসের মুখ থেকে রক্ষা করছিল তা তাদের নিযুক্ত এদেশিয় গোমস্তা দালাল প্রতিনিধি গন”।আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছ ইংরেজের ভূমি ইজারাদার নীতি,এবং চিরস্থায়িবন্দোবস্থ ব্যবস্থা,যাহার ফলে হিন্দুরা মুসলমানদের জমিদারী দখল করে।সেই জমি খাজনার ব্যাপারটা চলে যায়ে চরম সেচ্ছারিতার পর্যায়ে।যা দরুন কৃষকদের জীবন এত বেশি দুর্বিষহ হয়ে পড়ে তারা যে তারা ৩৭ টাকা থেকে ৬০ টাকা হারে সুদে টাকা নিতে হতো।ভাই, ভারতবর্ষে হিন্দু শাসনের পরিবতে মুসলিম শাসন কখনও হিন্দুরা মেনে নিতে পারেনি।তাদের সেই ক্ষোভের এবং বিস্ফোরণ ঘটে মধ্যভারত রাজপুত,মারাঠা শিখদের বিদ্রোহের মাধ্যমে এবং নবাবের সিরাজরদ্দৌলার পরাজয় মাধ্যমে সার্থক হয়েছিল।দেড় শতাব্দী যাবত মুসলমানরা সামাজিক,রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক,শিক্ষাদীক্ষায়ে,বৈষম্য শিকার হয়।সেই সময়ে হিন্দু লেখকরা,বিশেষ করে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত,হেমন্ত বন্দোপাধ্যয়,বঙ্কিম চট্রোপাধ্যয়,এবং শরৎ চট্রোপাধ্যয়, মত লেখরা মুসলমানদের ও পবিত্র কোরআন কে হেয় করে লেখা প্রকাশ পায়।বিশেষ করে শরৎ বাবুর ভূমিকাটা উল্লেখ করা মত।উনিশ শতকে বঙ্কিমের বন্দে মাতরমে উদ্ধত হয়ে দেশ মাতৃকা রক্ষা নামে ইংরেজ এবং মুসলমান দের উপর আক্রমণ মাত্রাটা ক্রমশই বাড়তে থাকে।ইংরেজ এবং মুসলমানদের হত্যা করতে সর্বশ্রেণী হিন্দুদের কে প্রশিক্ষণ দেওয়াটা এখন ইতিহাসের পাতায়ে এখন বিলীন হয়ে যায়নি।তখন অত্যাচার মাত্রাটা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যা যে, হিন্দুরা বাদ্য যন্ত্র বাজাত মসজিদে নামাজের সময় এবং কোরবানি দেওয়া থেকে নিষেধ করা মত পর্যায়ে চলে গিয়েছিল।এসব কাজে হিন্দু রাজনৈতিকদের ভূমিকা কতটুকু ছিল শুদ্ধি অভিযানের নেতা লালা হযদয়াল ১৯২৫ time of India তে এক বিবৃতিতে বলেন “হয় মুসলমানরা হিন্দু ধম গ্রহণ করবে নয়তো জীবন মান সম্মান সঙ নিয়ে ভারত ত্যাগ করবে”।একই সময় আজ সমাজের নেতা সত্য দেব ঘোষণা করেন যে “আমরা শক্তি অর্জন করার পর মুসলমানদের নিকট ঐ শতগুলি পেশ করব কোরআন আর ঐশী গ্রন্থ হিসাবে মানা চলবে না, রাসুল(সাঃ)কে নবী বলে স্বীকার করা চলবে না,মুসলমানি অনুষ্ঠান ত্যাগ করতে হবে এবং আরবির পরিবতে হিন্দি ভাষায় উপাসনা কর হবে”। ১৯০৬ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের ষড়যন্ত্র ইতিহাস হিন্দু বাবুদের,কারো অজানা নয়। অর্থনীতি,চাকরী বাকুরি,শিক্ষাদীক্ষায় তখনকার মুসলমানদের অবস্থান ইতিহাস থেকে বিলীন হয়ে যায়নি,যায়নি হিন্দু জমিদার বাড়ি সামনে আমাদের বাবা দাদাদের জুতা হাতে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা গুলো।এসব পরও কেউ যদি বলে ধম উপর ভিত্তি করে দেশ ভাগ হয়েছে সেটা হবে, এক চোখ বন্ধ রেখে বিচার করা সমতুল্য।  

    1. 21.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাই এখন আর হিন্দু বা অন্য কেউ লাগবে না, অবস্থা যা দেখছি তাতে দেখছি আমাদের ইসলাম পছন্দ দলের কাউকে কাউকে দিয়ে তারা যা করতে সক্ষম হয় নাই এখন তা অতি সহজে করতে পারবে। কুড়াল যখন গাছ কাটে তখন গাছ ফরিয়াদ জানায় কুড়ালের কাছে- ভাই কুড়াল তুমি আমাকে কেন কাটছ? কুড়াল বলে- আমার কি তোমাকে কাটার সাধ্য ছিল? যদিনা তোমার জাত ভাই আমাকে সাহায্য না করত! আর আপনি যে ইতিহাস বর্ণনা করছেন তা তারা পড়ে দেখবেনা। কারণ তারা জ্ঞান পাপী, তারা তাদের উদ্দেশ্য কি তা ভাল ভাবে জানে।

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  10. 20
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    মুনিম ভাই, আমার মন্তব্যে ১৯৪৭-৭১ পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী ও তাদের আচরণকে ফেরেশতা বানানো হয়নি। তারা বৈষম্য, জুলুম করেছে বলেই ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীন হই। কিন্তু ভারত এক থাকলে কোন কালেও বাংলাদেশ স্বাধীন হত না। আপনার সাথে একমত যে ভারত বিভাজন সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। পরবর্তীতে শাসকগোষ্ঠীর কিছু অন্যায় আচরণ হলেও এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মুসলমানগণ উপকৃত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।
    এই পুরো প্যারাকে বিবেচনায় না নিয়ে খন্ডিত অংশ বললে অন্ধদের হাতি দেখার মত হয়। এই কারণেই ভারত আলীগ সরকার হতে একতরফা সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের হাতে হারিকেন ধরিয়ে দেয়।
     

  11. 19
    আহমেদ শরীফ

    পরবর্তীতে শাসকগোষ্ঠীর কিছু অন্যায় আচরণ হলেও এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মুসলমানগণ উপকৃত হয়েছে।

     
    উদ্দেশ্য এবং বিধেয় স্পষ্ট ।

    1. 19.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      রবি ঠাকুরের সামান্য ক্ষতি কবিতাটা নিশ্চয় মনে পড়ছে!
      ২৪ বছরের লাঞ্ছনা আর বঞ্জনার পর ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন, ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রম, এক কোটি শরনার্থীর বসতবাড়ী হারানো, লন্ঠন, অগ্সি সংযোগের ৯ মাস বিভিষীকাময় দিনযাপনের শেষ দিকে শত শত বুদ্ধিজীবি হত্যা অনেকের কাছে সামান্য ক্ষতিই মনে হবে -- তাদের চেহারা লুকিয়ে রাখার মতো চেষ্টা করে লাভ নেই। 
       
      আগেও বলেছি -- আবারো বলছি -- এই অপরাধ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধ -- কারন এরা ইসলামের ব্যানার ব্যবহার করেছে পুরো কর্মকান্ডে। বিশ্বের ইতিহাসের ২য় বৃহত্তম গণহত্যাকে সামান্য ক্ষতি বলে যারা মুসলমানের লাভ খোঁজে -- তাদের জন্যে দোয়া করা ছাড়া আর কি করা যায়! 
       

      1. 19.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        আগেও বলেছি — আবারো বলছি — এই অপরাধ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধ — কারন এরা ইসলামের ব্যানার ব্যবহার করেছে পুরো কর্মকান্ডে। বিশ্বের ইতিহাসের ২য় বৃহত্তম গণহত্যাকে সামান্য ক্ষতি বলে যারা মুসলমানের লাভ খোঁজে — তাদের জন্যে দোয়া করা ছাড়া আর কি করা যায়!

        ঠিক আছে অন্যায় অবিচার হলে তাঁর বিচার অবশ্য হতে হবে। একজন মুসলিম হিসাবে আপনার কাছে প্রশ্ন বাংগালী হত্যা ধর্ষণ অপরাধ কিন্তু অবাগাংলী হত্যা ধর্ষণ কি অপরাধ নয়? আমার কাছে তো তাই মনে হচ্ছে। যদি তা না হত তাহলে একই মানতা বিরোধী অপরাধের জন্য এক দল ইন্ডেমনিটি পেয়ে পার পেয়ে যাবে তা কি করে হয়? দেখুন -- THE BANGLADESH NATIONAL LIBERATION STRUGGLE (INDEMNITY) ORDER, 1973

        আর এই অপরাধের মূল আসামীদের বিচারে কথা আসছেনা কেন? তাদেরকে ক্ষমা চাইতে বলছেন কেন? এক অপরাধের দুই বিচার কেন? আর এই ধরণের এক অপরাধে দুই ধরণের বিচার করার নিয়ম ইসলামের কোথা পেয়েছেন?

        1. 19.1.1.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          মুনিম ভাই --
           

          ঠিক আছে অন্যায় অবিচার হলে তাঁর বিচার অবশ্য হতে হবে। 

          -- এখানে  "হলে" ্(!) শব্দটা কি ইচ্ছা করেই ব্যবহার করেছেন? আপনার কি পাকিস্তানী এবং এর দোসর রাজাকার আলবদরের অন্যায় এর বিষয় এখনও সন্দেহ আছে। নাকি ভাই ভাই বলে কিছুটা নমনীয় ভাষা ব্যবহার করছেন। 
          আ্মি যতটুকু জানতাম আপনি পড়াশুনা করেন -- যে লিংকটা দিলেন তা কি শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আপনার অজ্ঞতা প্রসূত নাকি দৃষ্টিভংগীর বিষয়। ভাল করে পড়ে দেখুন আইনে কি আছে। কোথায় ঢালাও ইনডেমনিটি দেওয়া আছে? আপনার কোন বিচারের বিষয় থাকলে অবশ্যই বিচার চাইতে পারেন। তবে এই আইন প্রনয়নের ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতার থাকলে সেইটুকু ঠিক করে নেন -- নতুবা মনের অজান্তেই রাজাকারদের প্রতি সমর্থন চলে যাবে। 
           
           
          এবার ঠিকঠাকমতো জামাতের প্রপাগান্ডা মেশিনের মাইথপিস হয়ে আসলেন -- অবশ্য এর চেয়ে বেশী কিছু আপনার নিকট আশা করি না। আপনার সেই সাহস নাই বলার যে মুক্তিযুদ্ধে "পাকিস্তানীরা "সামান্য" কিছু ক্ষতি করেছে যা দেশ রক্ষার জন্যে করেছে। আপনি কিন্তু ঠিকঠাক জামাতের সুরেই কথা বললেন --
           
          আর এই অপরাধের মূল আসামীদের বিচারে কথা আসছেনা কেন?
          >> কে বলেছে তাদের বিচার চাই না -- আর পাকিস্তানীদের ওয়াদা ভংগের বিষয়টাও মনে রাখবেন এখানে। বাংলাদেশের ৪০ বছর সময় লেগেছে ঘরের ভিতরের অপরাধীর বিচারের ব্যবস্থা করতে -- আশা করি অচিরেই পাকিস্তানী অপরাধীদের বিচারের বিষয়টি সামনে আসবে। অবশ্য তার আগে আপনাদের মতো তথাকথিত মুসলিম জাতিয়তাবাদীদের বিষয়টা মিমাংসা করতে হবে। কারন এরা একটা অন্যয়কে আরেকটা অন্যায়ের আড়ালে নিয়ে অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নেয়। 
           
          তাদেরকে ক্ষমা চাইতে বলছেন কেন?
           
          >>> অপরাধীদের ক্ষমা চাইতে কে বলেছে? একটা রাষ্ট্র আরেকটা রাষ্ট্রকে ক্ষমা চাইতে বলেছে। এইটাই মানবসভ্যতা ইতিহাস। একটা অপরাধ করে একদল মানুষ এবং রাষ্ট্রকে ব্যবহার করে সেই অপরাধ করে -- পরে একদল সভ্য মানুষ সে্ই রাষ্ট্রের অপরাধের স্বীকার করে এবং ক্ষমা চায়। অবশ্যই পাকিস্তানী এবং তাদের দোসরা সভ্য এই কথাটা কেউই এখন পর্যণ্ত দাবী করেনি। আপনি রাষ্ট্র আর ব্যক্তিকে এক করে ফেলেছে -- হয় জ্ঞানে অভাবে -- অথবা ইচ্ছাকৃত ভাবেই -- কারন এতে আপনার মুসলিম জাতির বিষয়টি দূর্বল হয়ে যাচ্ছে। এইটা নিশ্চিত যে পাকিস্তানীরা যদি মুসলমান পরিচয়ে পরিচিত না হতো -- আপনি হয়তো এই ঘোরের মধ্যে পড়তে না। 
           
          এক অপরাধের দুই বিচার কেন?
          >>> এইটা কি বললেন? কোথায় দুই বিচার হলো? রাজাকার আলবদর ছিলো পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সাহায্যকারী বাহিনী -- যারা সকল অপরাধের সাথে জড়িত ছিলো -- তাদের বিচারের বিষয়ে আপনি এতো উতালা হচ্ছেন কেন? আগে কি রাজাকারদের বিচার হয়েছে?
           
          আর এই ধরণের এক অপরাধে দুই ধরণের বিচার করার নিয়ম ইসলামের কোথা পেয়েছেন?
          আর এই অপরাধের মূল আসামীদের বিচারে কথা আসছেনা কেন?
           
          তাদেরকে ক্ষমা চাইতে বলছেন কেন? এক অপরাধের দুই বিচার কেন? আর এই ধরণের এক অপরাধে দুই ধরণের বিচার করার নিয়ম ইসলামের কোথা পেয়েছেন?
           
          -- আপনার এই প্রশ্নটা আপনি নিজেই হয়তো বুঝেননি। শুধুমাত্র রাজাকারদের বিচার কাতর হয়ে ইসলামের বিষয়টি টেনে আনছেন। যদি আপনি বলেন আমার আগের কমেন্টের কথা -- সেইটা কনটেক্সে চিন্তা করুন -- দুই বিচার মানে দুইটা দৃ্ষ্টি অপরাধ করার বিচার বলছি -- সেকুলার আইন এখন বিচার হচ্ছে -- কিন্তু তার ইসলামের অনুশাসন ভংগ করে যে অপরাধ করেছে তার বিচার হবে না -- সেইটা নিশ্চিত হতো যদি শরিয়া আইনে তাদের বিচার হতো। 
           
          মুনিম ভাই -- আপনার এই অপরাধীদের পক্ষে বিতর্ক না মানবতার পক্ষে অবস্থানকে পরিষ্কার করছে -- না করছে ইসলামের পক্ষে অবস্থান পরিষ্কার। যদি মনে করেন ৭১ সালে একদল লোক ইসলামের নামে গনহত্যা, ধর্ষন লুটপাট অগ্নিসংযোগ করে সঠিক কাজ করেছে -- তা পরিষ্কার করে উচ্চারন করুন -- এতে কমপক্ষে আপনার অবস্থানটা জানতে পারবো। অবাক হবার কিছু নেই স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও মওদুদ আহমেদ গং একটা বড় রাজনৈতিক দলে ছত্র ছায়ায় বসে সব কিছু বিতর্কিত করে যাচ্ছে -- আর জামায়াত তো এখনও ইসলামের নামে একদল অপরাধীর পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েই আছে -- আপনি কে মুখোশে আড়ালে বিতর্ক তৈরীর চেষ্টা করছেন -- সোজা ভাষা কথা বলুন। সেইটা ভাল। 

        2. মুনিম সিদ্দিকী

          এখানে  "হলে" (!) শব্দটা কি ইচ্ছা করেই ব্যবহার করেছেন? আপনার কি পাকিস্তানী এবং এর দোসর রাজাকার আলবদরের অন্যায় এর বিষয় এখনও সন্দেহ আছে। নাকি ভাই ভাই বলে কিছুটা নমনীয় ভাষা ব্যবহার করছেন।

          এখানে  "হলে" (!) শব্দটা কি ইচ্ছা করেই ব্যবহার করেছেন? বক্তার সব শব্দই তার নিজ ইচ্ছাতে ব্যবহৃত হয়, তবে দলীয় কারেক্টনেস ওয়ালাদের ব্যাপার ভিন্ন হতে পারে।  আপনি আপনার নিজের শব্দাবলী যদি অন্যের ইচ্ছায় করে থাকেন এবং সেভাবে অন্যকে দেখে থাকেন, তবে সেটা আপনার সমস্যা। আপনি যে অপরাধের কথা বলছেন, সেই অপরাধ ও বিচারের গোটা প্রেক্ষিতে ‘হলে’ শব্দের ব্যবহার হয়েছে। এখানে নমনীয় বা কঠোর ভাষা ব্যবহারের কি আছে? ‘বিচার’ শব্দেই দোষ/নির্দোষ যাচাই বাচাই বুঝায়। বিচারের আগে কেউ দোষী হয় না, (তবে দলিয় কারেক্টনেস ওয়ালাদের এ থেকে আলাদা করা যেতে পারে), শুধু অভিযুক্ত হয়। আপনি কেন বার বার এইসব কথা এইখানে উত্থাপন করেন? আমার ব্লগটি আপনার এই জাতীয় বিষয় নিয়ে নয়। “পাকিস্তানী… দোসর, রাজাকার, আলবদরের অন্যায় এর বিষয় এখনও সন্দেহ আছে’, আপনার এমন ধরনের কথার উত্তর আমাকে কতবার দিতে হবে? আপনার কাছে যদি আসামীদের ব্যাপারে ‘সন্দেহাতীত-তথ্যাদি’ থেকে থাকে তবে তা নিয়ে কোর্টে যান, সেখানে ফায়দা হতে পারে।

          আ্মি যতটুকু জানতাম আপনি পড়াশুনা করেন — যে লিংকটা দিলেন তা কি শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আপনার অজ্ঞতা প্রসূত নাকি দৃষ্টিভংগীর বিষয়। ভাল করে পড়ে দেখুন আইনে কি আছে। কোথায় ঢালাও ইনডেমনিটি দেওয়া আছে? আপনার কোন বিচারের বিষয় থাকলে অবশ্যই বিচার চাইতে পারেন। তবে এই আইন প্রনয়নের ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতার থাকলে সেইটুকু ঠিক করে নেন — নতুবা মনের অজান্তেই রাজাকারদের প্রতি সমর্থন চলে যাবে।

          আপনার কথাতে মনে হচ্ছে আপনি যেন আইনের কোন এক মহাপণ্ডিত, আইনের ‘ক’ অক্ষর শুনে করিমগঞ্জের কলাহাটি পর্যন্ত বুঝে ফেলেন! যে লিঙ্কটা আমি দিয়েছি তা ‘অজ্ঞপ্রসূত’ দিলাম কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর আমি দেবো কিভাবে? এখানে প্রশ্নকারীর অজ্ঞতা প্রকাশ পায়, না যাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে তার? এই লিঙ্কের তথ্য যদি আলোচ্য বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত হয়না, তবে সেই বিষয় ও তথ্যের পার্থক্য দেখিয়টী আমার লিঙ্কায়ণের অসারতা  দেখাবেন। আপনার আইনী ‘মহাজ্ঞান’ ও ‘ব্যাখ্যা’ দেখে আমি অভিভূত হবো,  এবং আইন সম্পর্কে জ্ঞাত হবো এবং রাজাকারদের প্রতি নিজের মনের ‘অজানা’ সমর্থন অমনিতেই চলে যাবে! এক কাজ করেন, গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে আইনের স্কুল খুলে সবাইকে আইন শিখিয়ে দেন, তবেই সকলের সমর্থন রাজাকারদের থেকে অমনিতেই চলে যাবে। Opps! তা হয় কীভাবে? বিএনপি ও জামাতের আইনজীবীরাও রাজাকার-সমর্থক থেকে যায়! শুনেন আরেকটি কথা। আপনার কথাবার্তার ব্যাখ্যানির্দেশক শব্দ নির্বাচনে, যেমন ‘ঢালাওভাবে’, ‘আংশিক-সত্য’, ভয়ংকর, ইত্যাদিতে আমার কোনও আস্থা নেই। আপনি নিছক একজন দলীয় কর্মীর মত আচরণ করে যাচ্ছেন,শুধু রাজনৈতিক বিষয়ে  এই ধরণের আচরণের বাইরে আপনার কাছ থেকে আর কিছু আশাকরা যায়  না। তবে আমার ধারণা তো আমারই ধারণা।  

          এবার ঠিকঠাকমতো জামাতের প্রপাগান্ডা মেশিনের মাইথপিস হয়ে আসলেন — অবশ্য এর চেয়ে বেশী কিছু আপনার নিকট আশা করি না।

          আপনার জামাতি পেয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। আপনার প্রোপাগাণ্ডামূলক কথাবার্তা, দলীয় আনুগত্যতা, উগ্র জাতীয়তাবাদ ইত্যাদিকে যে’ই চ্যালেঞ্জ করে, তার সাথে আপনি জামাতের সূত্র পেয়ে যান। এটা নতুন কিছু নয়। বর্তমানে যে ব্রিটিশ ব্যারিস্টার জামাতের কেসে পরামর্শ দিচ্ছে তাকে  আপনার স্বদলীয় লোক এবং বামপন্থিরা জামাতের লোক বলছে। গবেষক শর্মিলা বোস তার ‘ডেড রেকোনিং’ প্রকাশ করার পর তার সাথেও জামাতের টাকা, এসআইএসের টাকা ইত্যাদি তকমা জুড়ছে। জয়া চাটার্জির ব্যাপারেও কিছুটা। বাংলাদেশের অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও লেখকের ব্যাপারেও তাই। আপনাদের কথা বার্তায় মনে হচ্ছে যেন   আপনারা দুনিয়ার সবকিছু বুঝেন, আর কেউ নয়। মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধের ইতিহাস, যুদ্ধপরাধ, ইত্যাদি বিষয়ে যেন আপনাদের একান্ত মনোপলি। এগুলো যেন আপনাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ‘সম্পত্তি’ আপনারা যে ব্যাখ্যা দেবেন সেটাই চূড়ান্ত ব্যাখ্যা হবে। তবে শুনেন, আমার দৃষ্টিতে, নিছক দলীয় প্রোপাগাণ্ডিস্ট। আমাতে যদি আপনি জামাতের সূত্র পান, তবে কী হয়েছে? যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে ‘ন্যায়-বিচারের’ প্রশ্ন তুললে কেউ জামাতি হয়ে যায় না,যারা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে এবং এমন ধারণা কেউ পোষণ করলে তাকে গণতান্ত্রিক আদর্শের ধারক বলে ভাবা যায়না।

          আপনার সেই সাহস নাই বলার যে মুক্তিযুদ্ধে "পাকিস্তানীরা "সামান্য" কিছু ক্ষতি করেছে যা দেশ রক্ষার জন্যে করেছে

           
          এখানে আপনি মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন। ক্ষতি যদি ‘সামান্য’ হত, তবে সামান্য বলতাম। যেটা সামান্য নয় সেটাকে ‘সাহস’ করে ‘সামান্য’ বলাতে ‘সাহসের’ কিছু নেই। আমি কোনো একদর্শি দলীয় লোক নই।

          আপনি কিন্তু ঠিকঠাক জামাতের সুরেই কথা বললেন -আর এই অপরাধের মূল আসামীদের বিচারে কথা আসছেনা কেন?

           
           মূল অপরাধীর কথা তুললেই তা জামাতী হয়ে যাওয়া মূর্খামী মনে করি। আপনি যখন নিজেও বলছেন তাদের বিচারের কথা আনবেন, তবে আপনিও তো সেই জামাতি।

           
          আর পাকিস্তানীদের ওয়াদা ভংগের বিষয়টাও মনে রাখবেন এখানে। … আশা করি অচিরেই পাকিস্তানী অপরাধীদের বিচারের বিষয়টি সামনে আসবে। অবশ্য তার আগে আপনাদের মতো তথাকথিত মুসলিম জাতিয়তাবাদীদের বিষয়টা মিমাংসা করতে হবে। কারন এরা একটা অন্যয়কে আরেকটা অন্যায়ের আড়ালে নিয়ে অপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নেয়।

          আমাদের মত ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদীদের’ বিষয়টি কীভাবে কী করবেন? ‘মুসলিম জাতির’ সাথে অন্যায় সম্পর্কিত হয় কিভাবে? যে কেউ ইসলামের নাম নিয়ে যুদ্ধ করেছিল বলেই এখন  ‘ইসলাম’ও বাদ দিতে হবে নাকি? একাত্তরে কেউ যদি মুসলিম জাতীয়তার নামে অন্যায় করে থাকে, তবে সে অন্যায় ব্যক্তির সাথেই জড়িত থাকে, জাতীয়তার সাথে নয়। আপনার হিবিজিবি জাতীয়তার চিন্তা আমি মোটেই বুঝতেই পারছি না। আপনি যে দুইটি পোস্ট দিয়েছেন, তাতে কখন মুসলিম জাতি আছে, কখন নাই, কখনো কাগজে ইত্যাদির গাজাখিচুড়ি এসেছে। এই দুই ব্লগ যদি কিছু প্রমাণ করে থাকে তবে তা হচ্ছে আপনি জাতি ও জাতীয়তা সম্পর্কে কিছুই বুঝেননি। কোথাও যেন জামাতিরা মুসলিম জাতীয়তা ব্যবহার করেছে তাই আপনি ছটফট খাচ্ছেন। আপনি নিজেও কখনো স্বীকারও করছেন যে আপনার লেখায় ‘দুর্বলতা’ রয়েছে। তাছাড়া আপনি কোরানের কোনও বিশেষজ্ঞ নন, হাদিসের নন, ইসলামি ইতিহাসের নন, সমাজ দর্শনেরও নন। আপনার কথাতেই ‘মুসলিম জাতি ও জাতীয়তা’ শেষ হয়ে যায় না। এই বিষয়ে প্রামাণিক কথাবার্তা আসতে হবে মুসলিম বিশ্বের বরেণ্য আলেম উলামাদের কাছ থেকে। আপনি তো তেমন কেউ নন। আপনার লেখায় যদি এতটুকু বলতে পারতেন যে অমুক বরেণ্য আলেম  আপনাকে বলেছেন, তাহলেও ধরে নেয়া যেত আপনি তার কাছ থেকে কিছু জেনে নিয়েছেন। আমরা সব দিনই জানি মুসলিম জাতি আছে। আর জাতি যদি থেকে থাকে তবে জাতীয়তাও আছে। ফুল থাকলে ফুলেলের ধারণা আছে, যে বস্তু অস্তিত্বশীল, সেই অস্তিত্বের ব্যাপারে ধারণাও থাকতে পারে। একাত্তরে জামাতিরা যেসব শব্দ ব্যবহার করেছে সেগুলো খুঁজে খুঁজে অর্থের অসারতা দেখাতে হবে এমন লোকদের অস্তিত্বেও ‘পাগলামি’ আছে। মুসলিম জাতি আছে এবং তাদের জাতীয়তাও আছে এবং এই ধারণার সাথে অপরাধের সংশ্লিষ্টতা নেই। এর ধারণার মাধ্যমে কেউ অপরাধ ঢাকতে চাচ্ছে বলে আমি শুনিনি, দেখিও নি এবং এইসব অনাবশ্যক ধারণা যারা পোষণ করে, তাদের ব্যাপারে আমার বলার কিছু নেই। জিয়া ভাই আপনার চিন্তার পরিমণ্ডল যদি জামাত দখল করে নেয়, তবে তাতেও আমার বলার কিছু নেই।
           
          জিয়া ভাই আপনি এর পরে যত কথা বলেছেন তা হল এক ধরণের  পুনরাবৃত্তি। আগেই বলেছি, একাত্তরে কেবল আপনার বাবা নন, আমারসহ, আরও অসংখ্য মানুষের ক্ষতি হয়েছে, প্রাণহানি হয়েছে। তবে আপনার সমস্যা যে কী তা আমি বলতে পারবো না, তবে অতি ছোট বেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনা হয়তো আপনার মনে বিরাট প্রভাব ফেলেছে যা আপনি অতিক্রম করতে পারছেন না। আমি আপনার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ আপনার মন শান্তি দান করুন। আপনার মনের জ্বালা নিবারণ করুন। আর যারা একাত্তরে অপরাধ করেছে আমিও তাদের বিচার চাই। তবে ন্যায় বিচার। যে বিচার নিয়ে কেউ আঙ্গুল তোলে কথা বলতে না পারে, কেউ যেন বলে বসেনা যে এই বিচার ষড়যন্ত্রমূলক, বিচার নয়, যা গত এক বৎসরের দেশে বিদেশে আলোচনায় আসছে।   তবুও আপনাদের যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। আমি এক কথা বার বার বলতে পারবো না। আমার এই ব্লগে আপনি অনেক বিতর্ক করেছেন, যদিও এসব বিতর্কের স্থান এই ব্লগের বিষয় ছিল না। আপনার আইনী-পাণ্ডিত্য ও আপনার দলের ‘নৈতিকতা’ আলাদা ব্লগ লিখে প্রকাশ করুন।  আপনার জাতীয়তাবোধ নিয়ে আপনি থাকুন, আর আমারটা নিয়ে আমাকে থাকতে দিন। আপনি যে বিতর্ক করছেন, এই ব্লগটি সেই বিতর্কের নয়। ধন্যবাদ।   

        3. আহমেদ শরীফ

          ঠিক আছে অন্যায় অবিচার হলে তাঁর বিচার অবশ্য হতে হবে। 

          বিচারের আগে কেউ দোষী হয় না

          পাকিস্তানী… দোসর, রাজাকার, আলবদরের অন্যায় এর বিষয় এখনও সন্দেহ আছে’, আপনার এমন ধরনের কথার উত্তর আমাকে কতবার দিতে হবে? আপনার কাছে যদি আসামীদের ব্যাপারে ‘সন্দেহাতীত-তথ্যাদি’ থেকে থাকে তবে তা নিয়ে কোর্টে যান, সেখানে ফায়দা হতে পারে।

          এক কাজ করেন, গ্রামে গ্রামে, শহরে শহরে আইনের স্কুল খুলে সবাইকে আইন শিখিয়ে দেন, তবেই সকলের সমর্থন রাজাকারদের থেকে অমনিতেই চলে যাবে।

          বর্তমানে যে ব্রিটিশ ব্যারিস্টার জামাতের কেসে পরামর্শ দিচ্ছে তাকে  আপনার স্বদলীয় লোক এবং বামপন্থিরা জামাতের লোক বলছে।

          আমাতে যদি আপনি জামাতের সূত্র পান, তবে কী হয়েছে? যুদ্ধাপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে ‘ন্যায়-বিচারের’ প্রশ্ন তুললে কেউ জামাতি হয়ে যায় না

          মূল অপরাধীর কথা তুললেই তা জামাতী হয়ে যাওয়া মূর্খামী মনে করি।

          আর যারা একাত্তরে অপরাধ করেছে আমিও তাদের বিচার চাই। তবে ন্যায় বিচার। যে বিচার নিয়ে কেউ আঙ্গুল তোলে কথা বলতে না পারে, কেউ যেন বলে বসেনা যে এই বিচার ষড়যন্ত্রমূলক, বিচার নয়, যা গত এক বৎসরের দেশে বিদেশে আলোচনায় আসছে। তবুও আপনাদের যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। আমি এক কথা বার বার বলতে পারবো না।

           
          মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।
           

      2. 19.1.2
        আহমেদ শরীফ

        ২৪ বছরের লাঞ্ছনা আর বঞ্জনার পর ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন, ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রম, এক কোটি শরনার্থীর বসতবাড়ী হারানো, লন্ঠন, অগ্সি সংযোগের ৯ মাস বিভিষীকাময় দিনযাপনের শেষ দিকে শত শত বুদ্ধিজীবি হত্যা অনেকের কাছে সামান্য ক্ষতিই মনে হবে — তাদের চেহারা লুকিয়ে রাখার মতো চেষ্টা করে লাভ নেই।

        চেহারা লুকানো নেই বরং তাদের মুখোশ উম্মোচিত হয়ে গেছে।
         

        আগেও বলেছি — আবারো বলছি — এই অপরাধ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধ — কারন এরা ইসলামের ব্যানার ব্যবহার করেছে পুরো কর্মকান্ডে। বিশ্বের ইতিহাসের ২য় বৃহত্তম গণহত্যাকে সামান্য ক্ষতি বলে যারা মুসলমানের লাভ খোঁজে — তাদের জন্যে দোয়া করা ছাড়া আর কি করা যায়!

        তারা উদ্দেশ্য ছাড়া মাঠে নামেনি। তাদের উদ্দেশ্য ভারতভাগের দায় হিন্দুদের ওপর চাপিয়ে ২ যুগ ব্যাপী পশ্চিম পাকিস্তানীদের অপকর্মের খতিয়ানকে হালকা করে দেখানো। 'কিছু অন্যায় আচরণ' যেন জনমানসে 'ব্যাপার না' বা 'এরকম তো হয়েই থাকে' গোছের দুষ্টুমি হিসেবে প্রতিভাত হয় এবং ভারতবিরোধিতার চিরাচরিত দলীয় সংষ্কৃতির দায়টিও উদ্ধার হয়।

        কিন্তু বাস্তবতা হল ভারতের সাথে থাকলে ৪৭ থেকে ৭১ পর্যন্ত যা হয়েছে তা কখনোই হত না। কিছু বৈষম্য হয়তো হত কিন্তু বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গণহত্যার মত নৃশংসতা কখনোই হত না। কাজেই ভারত ভাগের ফলে বাঙ্গালি মুসলমানগণ পেয়েছেন ২ যুগ ব্যাপী দুঃস্বপ্ন। স্বাধীন বাংলাদেশ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে রক্তাক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে আলাদা হওয়ার ফসল। 

        1. 19.1.2.1
          আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          কিন্তু বাস্তবতা হল ভারতের সাথে থাকলে ৪৭ থেকে ৭১ পর্যন্ত যা হয়েছে তা কখনোই হত না। কিছু বৈষম্য হয়তো হত কিন্তু বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গণহত্যার মত নৃশংসতা কখনোই হত না। কাজেই ভারত ভাগের ফলে বাঙ্গালি মুসলমানগণ পেয়েছেন ২ যুগ ব্যাপী দুঃস্বপ্ন। স্বাধীন বাংলাদেশ পশ্চিম পাকিস্তান থেকে রক্তাক্ত যুদ্ধের মাধ্যমে আলাদা হওয়ার ফসল। 

          -- একদম সত্য কথা বলেছেন। যারা মনে হিন্দু শোষকদের চেয়ে মুসলমান শোষক ভাল। ঢাকা শহরের একজংগল ইটকাঠের উন্নতি অনেক বড় পাওনা  -- ৩০ লক্ষ মানুষ জীবন তাদের কাছে সামান্য ক্ষতি -- তাদের জন্যে রইল করুনা। 
           

  12. 18
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    যাহা সত্য তাহা গ্রহণ কর, আর যাহা মিথ্যা তা বর্জন কর(আল হাদিস)!
    [Note: অনুগ্রহ করে সদালাপের নীতিমালা পড়ুন।

      হাদিসের ক্ষেত্রে উৎস উল্লেখ না করে কোন কিছুকে হাদিস বলে লেখা যাবেনা।

    সূত্র উল্লেখ না করে ‘আল হাদিস’ বলে দেওয়ার এই প্রবণতা মোঃ মোস্তফা কামালের অন্ততঃ পাঁচ বছরের পুরানো। ২০০৭ সালে সদালাপে প্রকাশিত ‘আবেগ ও বিবেক-২’ নামে একটি প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন “শেখ মুজিব মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করলেও সুদ কিন্তু নিষিদ্ধ করেন নি। আর এই সুদ বিশেষ করে চক্রবৃদ্ধি সুদ সমন্ধে হাদিসে বলা আছে ১০০০ বোতল মদ এবং ৪০ বার ব্যাভিচার করার সমান”। তখনো এব্যাপারে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে তিনি যত্নবান না হলে, তার ‘মন্তব্য’ মডারেশন হয়ে প্রকাশ হবে। -- সম্পাদক, সদালাপ।]

    মুনিম ভাই, আমার মন্তব্যে ১৯৪৭-৭১ পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী ও তাদের আচরণকে ফেরেশতা বানানো হয়নি। তারা বৈষম্য, জুলুম করেছে বলেই ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীন হই। কিন্তু ভারত এক থাকলে কোন কালেও বাংলাদেশ স্বাধীন হত না। আপনার সাথে একমত যে ভারত বিভাজন সম্পূর্ণ সঠিক ছিল। পরবর্তীতে শাসকগোষ্ঠীর কিছু অন্যায় আচরণ হলেও এই ৫৬ হাজার বর্গমাইলের মুসলমানগণ উপকৃত হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।
     
    যখন কংগ্রেসে মুসলমানদের জন্য ২৫% কোটা দিল না ফলে মুসলীমের জন্ম হল। তখনই জিন্নাহ সহ, নওয়াব সলিমুল্লাহ সহ প্রমুখ মুসলমান নেতারা ভেবে দেখলেন যে মুসলমানদের জন্য পৃথক দেশ ছাড়া কোন উপায় নেই। তখন নেহেরু বলেছেন "মুসলমানরা আরবের খেজুর বাগান হতে আসছে, তাই তারা সেখানেই চলে যাক"। আর বর্তমানে ভারতের শিবসেনা, আর.এস.এসতো বটেই বিজেপিও বলে সেই দেশের জাতীয় সংগীত হবে "বান্দে মা তরম"। যে গানে ৩৩ কোটি দেব-দেবীর নাম আছে। বিজেপি বলে এই গানই বাধ্যতামূলক করা হবে। কোন কোন উগ্র সংগঠন বলে যে ভারতে কোন মুসলমান থাকতে পারে না, তাদেরকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করতে হবে এবং তাদের বর্ণ হবে শূদ্রদের হতেও নিম্ন। ভারতে মাত্র ৭টি রাজ্য বাদে বাকী সব জায়গায় গরু জবাই নিষিদ্ধ। কিছুদিন আগে শিবসেনা বলে "ভারতীয় সব মুসলমানদের উচিত সালমান খানের মত বাসায় গণেশের মূর্তি রাখা"। আজকে ভারত এক থাকলে সালমান খানের মত বহু মোনাফেক ইমানদার মুসলমান হত। যারা আস্তে আস্তে বাকী বহু মুসলমানের ইমানই নষ্ট করে দিত। কংগ্রেস মুখে যতই ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলুক আসলে সে ব্রাম্মণবাদেরই সমর্থক ও সহায়ক। এই কারণেই ১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদ ভাঙা ও বোম্বের দাঙ্গায় হাজারও মুসলিম হত্যা-নারী ধর্ষণ, ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলিম নিধন এবং ২০০৮এ উড়িষ্যায় খ্রীষ্টান নিধন। যার হোতাদের বিচার হয়নি। বরং এক বাল ঠাকরের মৃত্যুতে রাজকীয় শবযাত্রা এবং নরেন্দ্র মোদী ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রী। ঠিক যেমন বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিল।
     
    আর আমাদের দেশে আলীগ ও হাসিনা গং বলে যে এই দেশ নাকি মুসলমানের দেশ নয়। এই দেশে সবাই ধর্মনিরপেক্ষ। হাসিনা দূর্গা পুজার সময় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে বলে "মা দূর্গার আশীর্বাদে এবারের ফসল ভাল হয়েছে"(নাউযুবিল্লাহ)। মুহিত সিলেটে মন্দির উদ্বোধনের সময় ইসলামী কায়দায় দোয়া করে। এটাই হল বাংলাদেশে আলীগ, সমমনা সুশীলদের আচরণ। এরাই বলে ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ ভুল ছিল।
     
    ভারত ৭১এর মুক্তিযুদ্ধে আমাদের কোন বন্ধুত্বের মহত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে সাহায্য করেনি। প্রমাণ ২০০৭ সালে রাহুল গান্ধীর মন্তব্য "আমার পরিবার ও কংগ্রেস যখন চেয়েছে পাকিস্তান ভাঙবে তা ভেঙে ছেড়েছে"। ৭১এ যুদ্ধ চলাকালীন সময় ইন্দিরা গান্ধী তাজউদ্দিনকে দিয়ে ৭টি অসম চুক্তি করায় যে স্বাধীন বাংলাদেশ হলে আমাদের কি কি করতে হবে। এগুলো নিম্নরুপ;
     
    ১. প্রশাসনিক বিষয়ক: যারা সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে শুধু তারাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োজিত থাকতে পারবে। বাকীদের জন্য জায়গা পূরণ করবে ভারতীয় প্রশানিক কর্মকর্তাবৃন্দ।
     
    ২. সামরিক বিষয়ক: বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশে অবস্থান করবে। ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাস থেকে আরম্ভ করে প্রতিবছর এ সম্পর্কে পুনরীক্ষণের জন্য দু’দেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
     
    ৩. বাংলাদেশের নিজস্ব সেনাবাহিনী বিষয়ক: বাংলাদেশের নিজস্ব কোন সেনাবাহিনী থাকবেনা। অভ্যন্তরীণ আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য মুক্তিবাহিনীকে কেন্দ্র করে একটি প্যারামিলিশিয়া বাহিনী গঠন করা হবে।
     
    ৪. ভারত-পাকিস্তান সর্বাত্মক যুদ্ধ বিষয়ক: সম্ভাব্য ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অধিনায়কত্ব দেবেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান। এবং যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তি বাহিনী ভারতীয় বাহিনীর অধিনায়কত্বে থাকবে।
     
    ৫. বণিজ্য বিষয়ক: খোলা বাজার ভিত্তিতে চলবে দু’দেশের বাণিজ্য। তবে বাণিজ্যের পরিমাণের হিসাব নিকাশ হবে বছর ওয়ারী এবং যার যা প্রাপ্য সেটা র্স্টার্লিং এ পরিশোধ করা হবে।
     
    ৬. পররাষ্ট্র বিষয়ক: বিভিন্ন রাষ্ট্রের সংগে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রশ্নে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংগে যেগাগাযোগ রক্ষা করে চলবে এবং যতদুর পারে ভারত বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে সহায়তা দেবে।
     
    ৭. প্রতিরক্ষা বিষয়ক: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবে ভারত।
     
    ” (অলি আহাদ রচিত “জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ৭৫”, বাংলাদেশ কোঅপারেটিভ বুক সোসাইটি লি: প্রকাশিত, চতুর্থ সংস্করণ ফেব্রুয়ারী ২০০৪, পৃষ্ঠা-৪৩৩,৪৩৪)।
     
    ভারতই গায়ের জোরে মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ কাশ্মীর দখল করে নিয়েছিল। তারপর হায়দ্রাবাদও দখল করে নেয়। ফলে পাকিস্তানকে মার্কিনি ও চীনের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। স্বাধীন বাংলাদেশে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ভারত শান্তিবাহিনীকে লেলিয়ে দেয়। শহীদ জিয়াউর রহমান চীনের সহায়তায় ভারতের মদদপুষ্ঠ শান্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান। পরবর্তীতে এরশাদ ও খালেদার আমলেও এই প্রতিরক্ষা চলে। কিন্তু ভারতের চাপে হাসিনা কয়েকটি অসম শর্তে শান্তিবাহিনীর সাথে তথাকথিত শান্তি চুক্তি করেন। অথচ দেখেন শ্রীলংকার রাজপক্ষে বিচ্ছিন্নতাবাদী তামিলদের স্বাধীনতার স্বাদ গুড়িয়ে লংকার অখন্ডতা রক্ষা করছেন। ভারত ও পশ্চিমারা যখন দেখল তামিলরা বিমান নিয়ে লংকান সামরিকবাহিনী ও দেশের বিভিন্ন সম্পত্তিতে হামলা করছে তখন মুখে কুলুপ এটেছিল। আর রাজপক্ষে যখন তামিলদের সন্ত্রাসীদের নির্মূল করল তখন ভারত সহ এই পশ্চিমারা মানবাধিকারের ধূয়া তুলল। আমাদের এই বুয়েটিয়ানও প্রভাকরণ ও তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ব্যার্থতায় অত্যন্ত ব্যাথিত। বাংলাদেশের নদীর পানি, সীমান্ত, একতরফা ব্যাবসায়িক সুবিধা নিয়ে সেই বিগত ৪০ বছরের উপর ভারত বিমাতা সুলভ আচরণ করছে সেটা কোন দোষের নয়। কিন্তু আপনি এর প্রতিবাদ করলে আওয়ামী-বাকশালী ও ভাদাদের কাছে ভারত ও হিন্দু বিরোধী হবেন। এমনকি জামাতী, রাজাকার ও পাকিস্তানপন্থী হয়ে যাবেন। 

  13. 17
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    আমাদের নেতারা জানান নাই, ভারত ভাগ হবার পর ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত মাত্র ২০ বছরে পূর্ব পাকিস্তানে ৭৬টি পাটকল স্থাপিত হয়েছিল, যার ফলে এই দেশের হাজার হাজার মানুষের কৃষিখাতের বাইরে শিল্পখাতে কর্মের সংস্থান হতে পেরেছিল।
     
    দারুণ এক পোষ্ট মুনিম ভাই।
    ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন হওয়ার পর ভারতীয় পাট শিল্প প্রায় ১২ বছর পিছিয়ে থাকে। শুধু জুট মিলই নয় চিনি কল, পেপার মিল এবং বস্ত্র কারখানাও পাকিস্তান আমলেই এ অঞ্চলে গড়ে উঠে।
    আপনি নিশ্চয়ই জানেন বৃটিশ আমলে শত শত মুসলিম রোগী অথচ ডাক্তার হিন্দু, মক্কেল গুলো মুসলিম কিন্তু উকিল হিন্দু। এ ভাবেই মুসলমানগণ বৃটিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য পিছিয়ে ছিল যেখানে এই অঞ্চলের হিন্দুরা সেই ১৭৭০ এর পর হতেই ইংরেজী সহ পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণ করতে থাকে। পরবর্তীতে মুসলমান গণ ১৯০০ সালের পর শিক্ষা দীক্ষা, ব্যাবসা বাণিজ্যে আগানোর জন্য পূর্ববঙ্গ ও আসামকে নিয়ে আলাদা রাজ্য করলে রবীন্দ্র নাথ সহ হিন্দুরা এর প্রবল বিরোধীতা করে। এই নিয়েই রবীন্দ্র রচনা করে "আমার সোনার বাংলা"। এই বাংলা = পশ্চিমবঙ্গ+বাংলাদেশ। র্দূভাগ্যজনক ভাবে এটি আমাদের জাতীয় সংগীত। এই হিন্দুরা শুধুই মুসলমানদের আলাদা রাজ্য নয় বরং শিক্ষায় আগানোর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করে। অনেকে ১৯৪৭ সালের বিভাজনের মধ্যে জিন্নাহন সাম্প্রদায়িকতা খুজে পায় অথচ কংগ্রেসের নেহেরু ও হিন্দু মহাসভার বল্লভ ভাই প্যাটেল যে মূলত ভারত ভাঙে সেটা মুখে আনে না। এই ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজিত না হলে ১৯৭১ স্বাধীন বাংলাদেশ কেন এই অঞ্চলের মুসলমানরা বাঙালী হওয়ারও মর্যাদা পেত না। বৃটিশ আমলতো বটেই এখনও ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের বাঙালী বলে না। কারণ হিন্দুদের দৃষ্টিতে তাদের পৌত্তলিক কিছু আচার না পালন করলে সে বাঙালী নয়।
    উপরে একজন বুয়েটিয়ান(সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) যিনি চান না বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমান্ত থাকুক। তাকে এক সময়ে বলেছিলাম যে ২০০৬ সালে মনমোহন সিং কর্তৃক নিযূক্ত বিচারপতি রাজবিন্দর শেখর একটা রিপোর্ট দেন। এটা শেখর বা সাচার কমিটি নামে পরিচিত। এই রিপোর্টে বলা হয় বিগত ৬০ বছরে ক্ষমতাসীন তথা সরকার গুলোর চরম অবহেলার জন্যই ভারতীয় মুসলমানগণ ব্যাপক অনগ্রসর এবং শোচনীয় অবস্থায় আছে;
    http://en.wikipedia.org/wiki/Sachar_Committee
    এই কথাটাই উক্ত ভারত প্রেমিককে বললে তিনি বলেন "শেখর কেডা?"। তাইলেই বুঝেন এদেরকে কেন ভারতের দালাল বলা হয়! আপনি স্রেফ পশ্চিমবঙ্গের দিকেই তাকান সেখানে ২৩-২৪% মুসলমান হলেও সরকারী চাকুরীতে মাত্র ২% মুসলমান। আজকে ভারত একদেশ থাকলে এখানকার সব মুসলমান মিস্কিনের জাতিতে পরিণত হত। বর্তমান ভারতে শুধু মুসলমান কেন নিম্ন বর্ণের কোটি কোটি হিন্দুদের অবস্থাও চরম শোচনীয়। এই সবই ভারতের ব্রাম্মণবাদী নীতির ফসল। এত সব কিছু জেনেও তারা এখানে ঢালাও ভাবে পাকিস্তানের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করবে। এরা আক্ষরিক অর্থেই জ্ঞান পাপী !
    অনেক ধন্যবাদ মুনিম ভাই।
     

    1. 17.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আসলে ইতিহাস যদি পড়েন তাহলে দেখবেন, মুসলিম লীগ আর আমাদের উলামায়ে কেরামগণ ভাবলেন যে মুসলিমদের দেশ পাকিস্তান হয়ে গেছে এখন আর ইসলামের কোন ক্ষতি করার ক্ষমতা নাই। ভারত ভাগ হবার পর আমাদের আলেম সমাজ রাজনীতি থেকে দূরে চলেগেলেন! যার কারণে বৃটিশদের মাথাকামানো ফ্যাক্ট্ররী থেকে সেকুলার শিক্ষায় শিক্ষিতদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে উনারা নামাজ রোজা এবাদত বন্ধেগীতে পড়ে রইলেন। আর অন্যদিকে পাকিস্তানী মুসলিমলীগের নেতারা হিন্দু সম্পত্তি দখল এবং ক্ষমতার হালুয়া রুটি খেতে মশগুল হয়ে পড়েন। আসলে সম্পদ লুন্ঠনের যুদ্ধ শেষ হলেও দর্শনের যুদ্ধ কখনও শেষ হয়না। বিশেষ করে ইসলামী দর্শনের বিরোধী হচ্ছে সারা দুনিয়ার অন্যান্য দর্শন। তাই ৪৭ এ দেশ ভাগ হলেও তারা কিন্তু তাদের যুদ্ধ থামিয়ে আমাদের মত ঘরে বসে থাকে নাই। তারা তখন অন্য ধরণের যুদ্ধ শুরু করে। সেটি হলো বুধিভিত্তিক যুদ্ধ, সেই যুদ্ধ চলে শিক্ষার আড়ালে, সে যুদ্ধ চলে খেলাধুলার নামে, সে যুদ্ধ চলে নাটক সিনেমা, সাংস্কৃতি আড়ালে, তারা তাদের এই কাজে আমাদের নতুন প্রজন্মদেরকে বেছে নেয়, কারণ নতুন প্রজন্মের তো অখণ্ড ভারতে আমরা কি রকম অত্যাচারিত হয়েছিলাম তাঁর চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা ছিলনা। বিজ্ঞানের সূত্র তো ক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া হয়। তাই অখণ্ড ভারতে মুসলিমদের উপর যে ক্রিয়া হয়েছিল তাদের বাপ দাদারা নিগড়িত হয়েছিল এই নতুন প্রজন্ম অনুধাবন করতে পারে নাই। তাই নতুন প্রজন্মদের ৯০ ভাগই এখন বলে থাকেন ভারত বিভাগ ভুল ছিল। এখন তো তারা সীমান্ত উঠিয়ে দেবার দাবী তোলেছেন। অচিরে আমরা ব্যাকটু প্যাভেলিয়ান!!! ভালই হবে!!

      1. 17.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        সব দোষ নন্দ ঘোষের -- এই ফর্মূলায় সব দোষ ভারতের মানে হিন্দুদের। এইটা একটা জাতীয়তাবাদের জন্ম দিয়েছে। এই জাতীয়তাবাদী ঘৃনা থেকেই আজকের বাংলাদেশে আরেক শ্রেণী গড়ে উঠেছে যারা ইসলামের নামে সব কিছুই জায়েজ করে নিতে চায়। বাংলাদেশের জন্ম হওয়ার জন্যে পাকিস্তানীদের কাছে কৃজ্ঞতা প্রকাশ যেন ধর্ষনের ফলে ভাই এর জন্মের মতো। মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ হওয়ার কি লাভ হয়েছে ইসলামের সেই প্রশ্নটা করছি ্‌আবারো --
         
        ১) একদল মুসলমান নিজের বাসভুমি ত্যাগ করে পাকিস্তানে হিজরত করলো -- তাদের একদল বিহারী নামে চিহ্নিত হলো -- তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা বললে হয়তো আমি অনেকের মুখ কালো করে দেবো। এরা কিন্তু একটা মুসলিম দেশে এসেছিলো নিরাপদে থাকতে। অন্য পাশে একদল হিজরত করে মুহাজির নামে একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে চলে গেলো -- এতো বছর পর আজও এরা পাকিস্তানী মুলধারায় মিশতে পারেনি -- মুহাজির কওমী মুভমেন্ট নামে আলাদা দল করে করাচী অঞ্চলে কোন ভাবে টিকে আছে -- মাঝে মধ্যেই দাঙ্গায় এদের জীবন লন্ডভন্ড হয়ে যায়। 
         
        ২) পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই ইসলামের নামে একদল শাসক চেপে বসলো শাসনে -- যারা সামরিক শাসনের পর সামরিক শাসনের মাধ্যমে জনগনকে যতটা পারা যায় দমন করেছে -- এক দিকে ৩০ লক্ষ মানুষ (যাদের অধিকাংশ মুসলমান ছিলো) হত্যা আর ২ লক্ষ মা বোন যারা মুসলমান ছিলো তাদের ধর্ষন করা হয়েছে।
         
        ৩) অন্যদিকে জন্ম লগ্ন থেকেই আমেরিকা আর চীনের দালালী করে দেশে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে -- স্বাধীনতাকামী বেলুচদের দমনের জন্যে তালেবান নাম দিয়ে আমেরিকান ড্রোনকে আমন্ত্রন জানিয়েছে। সেই জন্যে কেউই সামান্যই লজ্জিত না। 
         
        ৪) বাংলাদেশ জন্মের পর ইসলামের নামে একদল শাসকের জন্ম হয়েছে -- যারা সংবিধানে বিসমিল্লাহ বসিয়েছে -- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বানিয়েছে কিন্তু ইসলামে হারাম মদ পতিতালয় জুয়া বন্ধ করার মতো সামান্য কাজ করেনি -- কিন্তু ইসলামের নামে ধর্ষন-গনহত্যাকারী-অগ্নিসংযোগকারী-লুটপাটকারীদের রক্ষাই করেই রীতিমতো শাসনের বসিয়েছে। 
         
        ৫) এখন যখন সেই দুষ্কর্মকারীদের বিচার হচ্ছে -- যাদের আসলে দুইবার বিচার করা উচিত -- কারন এরা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে আর সাথে সাথে এরা ইসলামকে অপমানিত করেছে সুতরাং শরিয়া আইনে এদের বিচার করেই আমরা আমাদের উপর ইমানী দায়িত্ব পালন করতে পারতাম) -- কিন্তু দেখছি একদল সেই বিচার বন্ধের জন্যে রাস্তায় নিরীহ মানুষ মারছে -- বাসে আগুন দিচ্ছে -- পুলিশের উপর হামলা করে দেশের মানুষকে ভীত করে ত্রাসের কাছে জিম্মি করে বিচার বন্ধ করতে চাচ্ছে -- এইটা কোন ইসলাম।
        ৬) যে ভারতের বিরুদ্ধে দিনরাত গিবত করেন -- হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ ভারতের কাছে মুসলমানরা কোন কিছু আশা করতে পারে না -- হিন্দুরা তো মুশরেক -- তারা আমাদের বন্ধু না -- কিন্তু তারাই আমাদের মা-বোনদের আশ্রয় দিয়েছিলো -- যখন মুসলমান বোনেরা মুসলমান ভাইদের কাছে ধর্ষিতা হচ্ছিলেন। আর সেই কাজটাও হচ্ছিলো ইসলামের নামে একটা একটা দেশের ভৌগলিক সীমানা অখন্ড রাখার চেষ্টায়। তখন ইসলামী নেতারা ইসলাম গেলো ইসলাম গেলো বলে বোনদের ধর্ষনের জন্যে তুলে দিয়েছে -- তারজন্যে আজও লজ্জিত না।
         
        কিভাবে এই সব অন্যায়কে সমর্থন করে মানুষ? মুসলমানদের শিক্ষা কি এই যে পাশের দেশের বিধর্মীদের দিকে আংগুল তুলে দেশে অরাজকতাকে উপেক্ষা করা? এখনও আপনি ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে চাইছে পাকিস্তানের জন্ম আমাদের ( মানে মুসলমানদের) জন্যে ভাল হয়েছে -- কিন্তু কেন সেই সময়ে আমরা ভারতে রেখে আসা মুসলিম ভাইদের কথা একবারও ভাবিনি কেন? যে পুরো ভারত মুসলমানদের শাসনে থেকে হাজার বছর সেখানে স্বার্থপরের মতো একটা কোনায় এসে আত্নতৃপ্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছি -- যেখানে মুসলমান ভাই মুসলমান ভাই এর বুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে -- মুসলমান ভাই মুসলমান বোনকে ধর্ষন করেছে -- এর চেয়ে বড় জালেম কি ভারতের হিন্দুরা? তাদের জুলুম কি এতো বেশী হয়েছে যে ভারতে কোন মুসলমান ৭১ এর পর বাংলাদেশে মুসলিম দেশ হিসাবে মাইগ্রেট করেছে -- একটাও না -- বরঞ্চ মুসলিম দেশ হিসাবে গর্বকরা বাংলাদেশের ঘুষ দূর্নীতি আর অপশাসন আর ইসলামের নামে বুকে বোমা বেঁধে মানুষ হত্যার কারনে আজ বসবাসের অনুপোযোগী একটা জনপদে পরিনত হয়েছে।
         
        আত্নতৃপ্তিতে বিভোর না হয়ে আত্নজিজ্ঝাসা আর আত্নসমালোচনা করার সময় এসেছে -- এখন আমাদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন করা দরকার -- মুসলিম জাতির ঘোরের মধ্যে থেকে আমরা নিজেদের ঈমানকে আর কতো পরীক্ষার মধ্যে ফেলবো।
         
        ধন্যবাদ।  

        1. 17.1.1.1
          সরোয়ার

          জিয়া ভাই,
          আপনার আলোচনা থেকে অনেক কিছু নতুনভাবে অনুধাবন করতে পারছি। আগে আমার কাছে অনেক কিছুই অস্পষ্ট ছিল। সার্বিক প্রেক্ষাপট আমার বিবেচনাতে সেভাবে আসেনি। আপনাকে অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনার পরিশ্রম আমাকে দিয়ে অন্তত সার্থক হয়েছে।

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন


          সরোয়ার 
          অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমার জন্যে দোয়া করো যেন আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করেন।
           
           

        3. আহমেদ শরীফ

          @জিয়া ভাই,

          কিছু বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু আপনার এই অসাধারণ কমেন্টটিতে প্রাঞ্জলভাবে আপনি সবই বলে দিলেন। কিছু বলার আর অবশিষ্ট তেমন নেই। আল্লাহপাক আপনাকে ও আপনার পরিবারবর্গকে কেয়ামাত পর্যন্ত তামাম দুনিয়ার ইনসানিয়াতের হেদায়েতের জরিয়া হিসেবে কবুল করুন। আমিন। 

          বাস্তবতা হল আজকের দুনিয়ায় গ্লোবাল ভিলেজের মুক্ত আবহে বর্ণবাদ সাধারণভাবে অনেকটাই দূরীভূত প্রতীয়মান হলেও খোদ ইনসাফের শ্রেষ্ঠ আদর্শ ইসলামের অনুসারীদের কেউ কেউ মনে মনে এক ধরণের জাত্যাভিমানপ্রসূত বর্ণবাদী ধ্যানধারণা পোষণ করেন এটা খুবই দুঃখজনক। ইসলামী আদর্শের প্রকৃত ব্যবহারিক অনুসরণের চেয়ে আনুষ্ঠানিক আড়ম্বরসর্বস্ব নিতান্ত কাগুজে পরিচয়টা নিয়ে ঢাকঢোল পেটানোতেই ইসলামের দায়িত্ব শেষ করতে চান যা ইসলামের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক।  

          পাঞ্জাবীরা ইসলামের দোহাই দিয়ে পূর্ববাংলার বাঙ্গালি মুসলমান ভাইদের শোষণ-নিপীড়নের যে নজির সৃষ্টি করেছে তা মানবজাতির ইতিহাসে বিরল। ব্র্যান্ডিতে ডুবে থাকা জিন্নাহ-নারী ও সুরাসক্ত আইয়ুব খান বা লারকানার প্রিন্স ভুট্টো _ কারো ব্যক্তিগত জীবন ইসলামী মূল্যবোধের ধারে কাছেও ছিল না অথচ তারাই হলেন 'ইসলামী রাষ্ট্রের' কর্ণধার, ফলে সেখানে ইসলাম ও মুসলিমদের কি অবস্থা হবে সহজেই অনুমেয়!

        4. 17.1.1.2
          মুনিম সিদ্দিকী

          সব দোষ নন্দ ঘোষের — এই ফর্মূলায় সব দোষ ভারতের মানে হিন্দুদের। এইটা একটা জাতীয়তাবাদের জন্ম দিয়েছে। এই জাতীয়তাবাদী ঘৃনা থেকেই আজকের বাংলাদেশে আরেক শ্রেণী গড়ে উঠেছে যারা ইসলামের নামে সব কিছুই জায়েজ করে নিতে চায়। বাংলাদেশের জন্ম হওয়ার জন্যে পাকিস্তানীদের কাছে কৃজ্ঞতা প্রকাশ যেন ধর্ষনের ফলে ভাই এর জন্মের মতো। মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ হওয়ার কি লাভ হয়েছে ইসলামের সেই প্রশ্নটা করছি ্‌আবারো

           
          না জিয়া ভাই, ‘যত দোষ, নন্দ-ঘোষ’ সবই ভারত ভাগ করে পাকিস্তান সৃষ্টিকারীদের। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ক্ষমতাসীন  দল পুকুর চুরি করে থাকে তবে আরেকটি সাগর চুরি করছে। এই চুরির অঙ্কের সংখ্যা ছোট কালকুলেটরের স্ক্রীণে ধরার মত নয়। এখন এই যে শ্রেণী ডাকাতি করছেঃ বন, মাছ, বিমান, ব্যাঙ্ক, ভূমি, স্টোক-এক্সচ্যঞ্জ ইত্যাদি লুটছে এরা কারা করছে? কারা এখন স্বাধীন দেশে জনগনের সম্পদ শোষণ করছে? এখন তো বৃটিশরা নেই নেই পাকিস্তানীরা ? এরা কারা?  এরা কি আপনার দলের লোক? আজকের ‘চোরেরা’ মানুষের দৃষ্টি  অন্যকে-ঘৃণা মাধ্যমে তাদের জগণ্য অপরাধসমূহ আড়াল করছে। মিথ্যা কাহিনীর ফিল্ম, নাটক, গান দিয়ে লারে-লাপ্পা করছে। যারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাচ্ছে তারাই এই মিথ্যার বেশাতি করে যাচ্ছে।
           
          কোন রাষ্ট্র ও শিল্পপতি যেমন এক নয় তেমন সাবেক পাকিস্তান রাষ্ট্র ও পাকিসগতানের শিল্পতি-ধনাঢ্য শ্রেণী এক নয়, যেমন বাংলাদেশ ও বাঙালী শিল্পপতি এক বস্তু নয়। উগ্রজাতীয়তাবাদি প্রচারণা চালাতে হলে এই দুটাকে এক করে ‘শোষনের’ আওয়াজ তোলা হয়,  আপনি সেই শোষণের গান গাচ্ছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে বিগত চার দশক ধরে যে ‘শোষণ’ হচ্ছে, যে ধর্ষণ হচ্ছে, যে হত্যা হচ্ছে, যে গুম হচ্ছে, যে চাপাতি-নৈরাজ্য চলছে, তা আপনার চোখে পড়ে না পড়বেও না এবং এগুলো নিয়ে কখনো ব্লগও লিখবেন না। কারণ? কারণ আপনি সত্য বলতে ভয় পান। কিন্তু আরও দুই প্রজন্মের পর যারা আসবে তারা আপনি কিংবা আমার কারো চোখ রাংগানী দেখবেনা। তারা ঠিকই ইতিহাস পেয়ে যাবে যেমন করে  লোক মাটি থেকে সুঁই তোলে আনে।
           
          পাকিস্তান রাষ্ট্র, শিল্পায়ণের প্রকৃতি ও তদানিন্তন আর্থ-সামাজিক অবস্থা বুঝা এবং সেই বুঝ নিয়ে আপনি কি কিছু লিখতে পেরেছেন? একাত্তরে আপনি পিতা হারিয়েছেন, এবং   অবরোদ্ধ শহরে কার্ফু থাকার জন্য জরুরী মুহূর্তে হাসপাতালে নিয়ে আসা যায় নাই আমার সন্তান সম্ভাবনা বোনকে আমরা অকালে হারিয়েছিলাম। আপনার মত আরো অসংখ্য লোক তাদের প্রিয়জন  হারিয়েছেন। এমন কারো মনের আক্রোশ যদি অপরাধের প্রেক্ষিত মূল অপরাধী  অতিক্রম করে একটি দেশ ও সেদেশের পুরো নাগরিকদের প্রতি বিদ্বেষে রূপান্তিত হয়, তবে সেটা বিচার চাওয়া নয় সেটি প্রতিশোধ পরায়ণ মনের প্রকাশ। ইসলাম বলে অপরাধীকে শাস্তি দেবার অপরাধী মা বাবা ভাই বোন বা জ্ঞাতিকে নয়।  নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীরা এটাকেই ঘৃণা চাষের উপরকরণ করেছে এবং সর্বসাধারণে ছড়াচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে আপনি তাদের শিকারদের একজন। কথা হচ্ছে সত্য কথা সরাসরি বলতে গেলে আপনি মনে করতে পারেন আপনার ব্যক্তিকে আক্রমণ করা হয়েছে। অথচ আমি যা দেখছি তা আমার কাছে এভাবেই সত্য। বরং জাতির মধ্যে ঘৃণা বিদ্বেষ ছড়ানো ত্যাগ করে সামনের দিকে জাতিকে নিয়ে যান। কারণ আপনার এক পোস্টে আপনি বলেছেন আমরা সমান ২ভাগে বিভক্ত। তাহলে কি করতে জোর জুলুম করে বাকী অর্ধেককে তা মানাতে বাধ্য করবেন?
           
          ভারত বিভাগ হওয়ায় যদি অন্যায় হয়ে থাকে, তবে আপনারা আবার ভারতে সংযুক্ত হয়ে যান। একটি আন্দোলন তো এখন বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানেও (কিছুটা) চলছে, আপনি যদি সেই আন্দোলনের লোক হয়ে থাকেন, তবে চালিয়ে যান। ভারত-বিভক্তিতে ক্ষতি ছিল একথা আপনি ভাবলে আমার করার কিছুই নেই।
          আরেকটি কথা পাকিস্তান ইসলামী জাতীয়তাদের জন্ম দেয়নি। ভারত বিভক্তিও দেয় নি।  মুসলিম জাতির ধারণা ব্রিটিশ-খেদাও, পাকিস্তান গড়, ৯/১১ ইত্যাদিতে প্রসূত হয় নি । আমিও যেন সমাজ-বিজ্ঞানী, রাষ্ট্র বিজ্ঞানী বা ‘ইসলাম-পণ্ডিত’ নই, আপনিও নন। সুতরাং এগুলো যার যার মধ্যেই রাখা যেতে পারে। আপনি যে প্রত্যয়ে আপনার ইতিহাস বিদ্যা ও জাতীয়তাবাদের কথা ঝাড়েন, তা হাস্যকর ঠেকায়। আমি শুধু এখানে ‘তথ্য’ উপস্থানপন করছি, অন্য কিছু নয়। 

           
          ১) একদল মুসলমান নিজের বাসভুমি ত্যাগ করে পাকিস্তানে হিজরত করলো — তাদের একদল বিহারী নামে চিহ্নিত হলো — তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা বললে হয়তো আমি অনেকের মুখ কালো করে দেবো। এরা কিন্তু একটা মুসলিম দেশে এসেছিলো নিরাপদে থাকতে। অন্য পাশে একদল হিজরত করে মুহাজির নামে একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলে চলে গেলো — এতো বছর পর আজও এরা পাকিস্তানী মুলধারায় মিশতে পারেনি — মুহাজির কওমী মুভমেন্ট নামে আলাদা দল করে করাচী অঞ্চলে কোন ভাবে টিকে আছে — মাঝে মধ্যেই দাঙ্গায় এদের জীবন লন্ডভন্ড হয়ে যায়। 
           

          ১। বর্তমান পাকিস্তানিদের কথা বাদ দেন ভাই। ভাল কথা বলুন না এই দেশে আসা বিহারীদের ভাগ্যে কি ঘটেছিল? কারা ঘটিয়েছিল?
           

          ২) পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই ইসলামের নামে একদল শাসক চেপে বসলো শাসনে — যারা সামরিক শাসনের পর সামরিক শাসনের মাধ্যমে জনগনকে যতটা পারা যায় দমন করেছে — এক দিকে ৩০ লক্ষ মানুষ (যাদের অধিকাংশ মুসলমান ছিলো) হত্যা আর ২ লক্ষ মা বোন যারা মুসলমান ছিলো তাদের ধর্ষন করা হয়েছে।

           (২) ‘করিম বিদ্যার্জনের জন্য বাড়ী থেকে বের হয়ে গিয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার পক্ষে বিদ্যার্জন করা সম্ভব হয় নি।’ এখন করিমের ব্যর্থতার দোয়াই দিয়ে জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্য ব্যর্থ প্রমাণ করা যায় না। ইসলাম-বিদ্বেষী সম্প্রদায় পাকিস্তানের দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করে অনেক কিছু প্রমাণ করতে চায় এর এর সাথে বাংলাদেশে  বিশেষ একটি দল রয়েছে, যারা সব কথায় করিমের উদ্ধৃতি। করিম এই পারে, করিম সেই পারেনি, করিম এই বলেছে, করিম সেই বলেছে ইত্যাদি। করিম তো বিদ্যার্জন করতে পারে নি। আপনার দল বা আপনার কাছে  ভারত ভাগের কোন অর্জন নেই। আপনারা ভারত ভাগের দিকে তাকালে কেবল ধর্ষণ দেখেন। নিজেদের ধর্ষণ দেখেন না, পবিত্র ভারতেও যে করাপ্টশন হয়, লুট হয়, ধর্ষণ হয়, সেটা দেখবেন না। কেউ আপনারকে সেদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে আপনারা বলবেন, ‘ভারত-বিদ্বেষী’। আপনার দেশের বিহারীদের অবস্থা কি? রুহিঙ্গাদের অবস্থা কি? আপনার ভারত ভাগের বিদ্বেষের মূল স্থান অন্য কোথাও খুঁজলে মনে হয় ভাল হয়। যারা প্রথম থেকেই মুসলিমদের পৃথক দেশ প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে ছিল, তারা সে দেশ প্রতিষ্ঠার পর পরই সেই দেশকে ব্যর্থতায় পর্যবেশিত করতে আত্মনিয়োগ করে এবং তারা সফলকাম হয়। কিন্তু চার দশক ব্যাপী হত্যা, ধর্ষণের কাহিনী শুনিয়ে নিজেদের ধর্ষণ, হত্যা, গুম, চোরি চামারি কতদিন চলবে সেটাই হচ্ছে এখন প্রশ্ন। মানুষ বুঝতে পেরেছে আরেকদল ‘শোষক’ একাত্তরের নামে ‘শোষণ’ করছে এবং তাদের পক্ষে রয়েছে একদল চামচা চাটুকার, যেমন ছিল পাকিস্তানে। মানুষ আজ শোষণের গল্পের বিভিন্ন দিক দেখতে শিখেছে।

          ৩) অন্যদিকে জন্ম লগ্ন থেকেই আমেরিকা আর চীনের দালালী করে দেশে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে — স্বাধীনতাকামী বেলুচদের দমনের জন্যে তালেবান নাম দিয়ে আমেরিকান ড্রোনকে আমন্ত্রন জানিয়েছে। সেই জন্যে কেউই সামান্যই লজ্জিত না।

           (৩) পাকিস্তান কার দালালি করেছে আর ভারত কার দালালি করেছে, সে আলোচনায় আমার যাবার দরকার নেই। আমার ‘করিম’  বিদ্যার্জন করতে পারেনি, তাই এক কথা দিয়ে অন্য কথা ঘোচানোর দরকার নেই। আপনি করিমের গল্পে পড়ে থাকুন আমার আপত্তি নেই। তবে বর্তমান তৃতীয় বিশ্বে  কোন দেশ  অন্য দেশের দালালী করছে না?

          ৪) বাংলাদেশ জন্মের পর ইসলামের নামে একদল শাসকের জন্ম হয়েছে — যারা সংবিধানে বিসমিল্লাহ বসিয়েছে — রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বানিয়েছে কিন্তু ইসলামে হারাম মদ পতিতালয় জুয়া বন্ধ করার মতো সামান্য কাজ করেনি — কিন্তু ইসলামের নামে ধর্ষন-গনহত্যাকারী-অগ্নিসংযোগকারী-লুটপাটকারীদের রক্ষাই করেই রীতিমতো শাসনের বসিয়েছে। 

           (৪)  এইটি তো নতুন কিছু নয়। আমাদের জাতির পিতা এই পথে হাটা দেখিয়েছিলেন!  বিশ্বাস না হয় তো আমেরিকা যে দলিল অবমুক্ত করেছে যাতে ৭৪ এর অক্টোবরে মুজিব কিসিঞ্জার বৈঠক গণভবনে হয়েছিল সেই দলিল দেখে নিবেন। এবং এর মাত্র ৩ মাস বাদে ২৫শে জানুয়ারী বাকশাল কায়েমের দিন সংসদে মুজিব যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা পড়ে নিবেন।

          ৫) এখন যখন সেই দুষ্কর্মকারীদের বিচার হচ্ছে — যাদের আসলে দুইবার বিচার করা উচিত — কারন এরা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে আর সাথে সাথে এরা ইসলামকে অপমানিত করেছে সুতরাং শরিয়া আইনে এদের বিচার করেই আমরা আমাদের উপর ইমানী দায়িত্ব পালন করতে পারতাম) — কিন্তু দেখছি একদল সেই বিচার বন্ধের জন্যে রাস্তায় নিরীহ মানুষ মারছে — বাসে আগুন দিচ্ছে — পুলিশের উপর হামলা করে দেশের মানুষকে ভীত করে ত্রাসের কাছে জিম্মি করে বিচার বন্ধ করতে চাচ্ছে — এইটা কোন ইসলাম।

          (৫) আচ্ছা কেউ যদি পুলিশের উপর হামলা করে তাহলে সে ব্যাক্তি রাস্ট্রের উপর হামলা করে ফেলে। কাজেই  কে সেই ব্যক্তি তাকে বিচারের কাঠগড়ায় সরকার কেন আনছেনা? অপরাধ তাদের আন্তর্জাতিক তাহলে কেন আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের বিচার হচ্ছেনা। আর অপরাধ যদি দেশের আইনে হচ্ছে তাহলে সেই আদালতকএ কেন আবার আন্তর্জাতিক তকমা লাগানো হলো?  এবিষয়ে আর বলার দরকার নেই। আগামী দিনের ইতিহাস বলে দেবে কার ভূমিকা কি?

          ৬) যে ভারতের বিরুদ্ধে দিনরাত গিবত করেন — হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠ ভারতের কাছে মুসলমানরা কোন কিছু আশা করতে পারে না — হিন্দুরা তো মুশরেক — তারা আমাদের বন্ধু নাকিন্তু তারাই আমাদের মা-বোনদের আশ্রয় দিয়েছিলো — যখন মুসলমান বোনেরা মুসলমান ভাইদের কাছে ধর্ষিতা হচ্ছিলেন। আর সেই কাজটাও হচ্ছিলো ইসলামের নামে একটা একটা দেশের ভৌগলিক সীমানা অখন্ড রাখার চেষ্টায়। তখন ইসলামী নেতারা ইসলাম গেলো ইসলাম গেলো বলে বোনদের ধর্ষনের জন্যে তুলে দিয়েছে — তারজন্যে আজও লজ্জিত না।
           
          কিভাবে এই সব অন্যায়কে সমর্থন করে মানুষ? মুসলমানদের শিক্ষা কি এই যে পাশের দেশের বিধর্মীদের দিকে আংগুল তুলে দেশে অরাজকতাকে উপেক্ষা করা? এখনও আপনি ইনিয়ে বিনিয়ে বলতে চাইছে পাকিস্তানের জন্ম আমাদের ( মানে মুসলমানদের) জন্যে ভাল হয়েছে — কিন্তু কেন সেই সময়ে আমরা ভারতে রেখে আসা মুসলিম ভাইদের কথা একবারও ভাবিনি কেন? যে পুরো ভারত মুসলমানদের শাসনে থেকে হাজার বছর সেখানে স্বার্থপরের মতো একটা কোনায় এসে আত্নতৃপ্তি পাওয়ার চেষ্টা করেছি — যেখানে মুসলমান ভাই মুসলমান ভাই এর বুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে — মুসলমান ভাই মুসলমান বোনকে ধর্ষন করেছেএর চেয়ে বড় জালেম কি ভারতের হিন্দুরা? তাদের জুলুম কি এতো বেশী হয়েছে যে ভারতে কোন মুসলমান ৭১ এর পর বাংলাদেশে মুসলিম দেশ হিসাবে মাইগ্রেট করেছে — একটাও না — বরঞ্চ মুসলিম দেশ হিসাবে গর্বকরা বাংলাদেশের ঘুষ দূর্নীতি আর অপশাসন আর ইসলামের নামে বুকে বোমা বেঁধে মানুষ হত্যার কারনে আজ বসবাসের অনুপোযোগী একটা জনপদে পরিনত হয়েছে।
           
          আত্নতৃপ্তিতে বিভোর না হয়ে আত্নজিজ্ঝাসা আর আত্নসমালোচনা করার সময় এসেছে — এখন আমাদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন করা দরকার — মুসলিম জাতির ঘোরের মধ্যে থেকে আমরা নিজেদের ঈমানকে আর কতো পরীক্ষার মধ্যে ফেলবো।
           
           

           (৭) কিভাবে এই সব অন্যায়কে সমর্থন করে মানুষ?” কেউ কোন দিন কোন অন্যায়কে সাপোর্ট দিচ্ছেনা। শুনেন সেই ৭১ এ আমার পাশের বাসার মাসী উনার পুকুরে বাসন ধুতে ধুতে বললেন- বাবা মুনিম তোদের জন্য খুব দূঃখ হচ্ছে! তোরা মুসলিম মনে করে পাকিস্তান আনলে এখনপাকিস্তানীরা তোদের মেরে ফেলবে কারণ তদের তো আর ভারতে যাবার যায়গা নাই। আমরা তো হিন্দু আমরা ভারতে গেলে সেখানে থাকতে পারব। সেই দিন ভারতে যারা গিয়েছিল তাদের মধ্যে ৯০ ভাগ হিন্দু ছিল। আর মুসলিমদের মধ্যে তারাই গিয়েছিল যারা দেশকে মুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধে যোগ দিতে। আপনি যদি থানা ওয়ারী মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দেখেন তাহলে দেখতে পাবেন মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় ৯৯ ভাগ মুসলিম ছেলে পেলেই ছিল। তো আপনি যে ভাবে আশ্রয় নিয়ে রঙ তুলি দিয়ে ছবি আকলেন তা তেমন ছিলনা। প্রধানত  শরনার্থীদের মধ্য হিন্দুর ভাগ বেশি ছিল  বলেই তাদের জাত ভাইদের ভারত আশ্রয় দিয়েছিল। তারা আমাদের মত না, আমরা আমাদের জাত ভাই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে পারিনা।
          তবে তর্কের খাতিরে তর্ক করলেও সেই দুর্দিনে ভারত আমাদেরকে সাহায্য করেছিল, তাঁর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
          আর আপনি অকারণে আবিস্কার করেছেন আমার ভারত বিদ্ধেষীতা! আমি ভারত বিদ্ধেষী নই। আমি ৪৭ এর আগের প্রজন্ম নই। তাই তাদের সাথে আমার বিদ্ধেষের কোন কারণ থাকতে পারেনা। তবে ভারতে উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমি সন্দিহান। গত ৪০ বছরে তাদের সাথে আমাদের যত চুক্তি হয়েছে তাঁর কোনটিও যথার্থ ভাবে বাস্তব হয় নাই তাই।  আর ৭১ সালে ২৫ শে মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত পাক বাহিনীরা হত্যা ধর্ষণ করেছিল সে সময় কে মুসলিম লীগ কে জামাত বাছ বিচার করে নাই। ৭১ এর যারা প্রাইম অপরাধী তাদেরকে তো আপনারা ছেড়ে দিলেন। তাদের বিচার করলেন না। এখন এদেশীয় তাদের সাপোটার্দের বিচার করছেন, তা করুন তবে তা যেন দেশে বিদেশে গ্রহণ যোগ্য হয়। নতুবা এর ফলাফল বাংলাদেশের জন্য খারাপ হতে পারে।
           
          আমি ভাগের পরের দুই/একটি ওইতিহাসিক তথ্যের উল্লেখ করএছি। কোনো উগ্রজাতীয়াবাদীপক্ষ সেই তথ্যের মোকাবেলা করতে পারবে না। উগ্ররা ‘তথ্য’ ‘তথ্যের ব্যাখা’ ও প্রোপাগাণদার মধ্যে পার্থক্য দেখে না। আমি দেখি। আমি শুধু ‘তথ্য’ উত্থাপন করছি। আমার লেখাটি আপনি যখন  আংশিক সত্য, ভয়ংকর ইত্যাদি অহেতুক কথা দিয়ে দেখেছেন, কিন্তু কাজ হয় নি,  তাই এটাকে এখন ‘ইনিয়ে-বিনিয়ে’ বলছেন। আপনি সত্যকে ভয় পান। দলের পার্থিব স্বার্থ রক্ষার জন্য আপনি সব যায়গায়  সত্য কথা বলতে পারছেন না। তাই কোথাও সত্য দেখলে ভীত হয়ে পড়েন। আমি মুসলিম জাতীয়তাবাদ আলোচনা করিনি।  আমি বর্তমান পাকিস্তানের ও ভারতীয় মানুষের অবস্থা আলোচনা করিনি। আপনাদের মত লোকেরা সব কথাতেই পাকিস্তান জুজু দেখতে চায়। হয়ত তাদের মনের ভিতরে কোন রুগ রয়েছে। বস্তুনিষ্ঠ আলোচনার সর্বত্র প্যান-প্যান, ঘ্যান, ঘ্যান করার জরুরি হয়না। আপনি করছেন, করে যান। আমি তো সব সময়ই দেখছি আপনার এই একই গান। এই পচা রেকর্ডটি তাদের কানে বাজান, যারা আপনার কাছ থেকে এটা আগে কোনো দিন শুনে নি।
           
          আর এখন মুসলিম জাতি নেই, থাকলেই কাগজে, নামে মাত্র, অথবা অন্যকিছু –
           
          এগুলোর পরিবর্তে আমরা মুসলিম জাতির ঐতিহাসিক অস্থিত্ব, আমরা এখনো দেখনো দেখছি মাশরিক মাগ্রিব পর্যন্ত এই জাতির পুণর্জাগরণ। আপনি আর আপনারা যদি সেটা না দেখে থাকেন, তবে আমার বলার কিছু নেই। আপনি আর আপনারা “মুসলিম জাতির ঘোরের মধ্য  থেকে বের করে হিন্দু জাতির সাথে একত্র করে আপনাদের ঈমানকে পরীক্ষার হাত থেকে বাচান”।
           
           

  14. 16
    মিজানুর রহমান মিলন

    না আসলে আপনার সঙ্গে আমি কিয়দংশ একমত । কারন হল আপনি ভারত বিভাগের ফলাফল তুলে ধরেছেন তা ঠিক আছে কিন্তু যে পাকিস্থানীরা আমাদের শোসন করেছে, নির্যাতন করেছে এটা তো আপনার অজানা নয়। তাই বলেছিলাম উন্নয়নের কথা যদি বলেন সেটা তো ব্রিটিশরাও করেছে । ঢাকা ইউনিভার্সিটি হয়েছে ব্রিটিশ আমলে আর রাজশাহী ইউনিভার্সিটি সহ আরো মনে হয় দু’একটা বিশ্ববিদ্যাল হয়েছিল পাকিস্থানী আমলে । মুধু তাই আমি দেখেছি পাকিস্থানী আমলে দেশের অনেক ভাল ভাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়েছে যেমন রংপুরের কারমাইকেল কলেজ, পাবনার এডওয়ার্ড কলেজ এরকম অনেক। তাই আমি বলেছিলাম পাকিস্থানীদের আমলে ‍উন্নয়ন হয়েছে তা আমরা অস্বীকার করব না কিন্তু তাদের নির্যাতন ও শোষনের তুলনায় সেই উন্নয়ন নস্যি তা বিট্রিশ হোক আর পাকিস্থানী হোক।

    ভারত বিভাগ অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক অনেক ভাল হয়েছে । আপনি কি করে বললেন যে আমি ভারত বিভাগের বিপক্ষে ? তাহলে তো আপনি আমার বক্তব্য বুঝতে পারেন নি । হয়তো বা আমি বুঝাতে পারি নি । আপনার লেখার প্রেক্ষিতে বলব আপনি কি স্বাধীন বাংলাদেমের বিরোধী ?

    আমি এর আগেও বলেছি আমাদের অত্মসমালোচনা করতে হবে । আপনি যদি আপনার নোটে এটা উল্লেখ করতেন যে পাকিস্থানী আমালে এরকম এরকম উন্নয়ন হয়েছিল কিন্তু এখন তো আমরা স্বাধীন সেই তুলনায় উন্নয়ন হচ্ছে না কেন ? ভিয়েতনাম আমাদের চেয়ে পরে স্বাধীন হওয়ার পরেও এখন অনেক উপরে গেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে তাহলে আমরা পারিনা কেন ? আমাদের তো জাতিভেদ নেই যেমন আছে মালয়শিয়ায়, যেমন আছে ভারতে আর আমাদের তো ধর্মীয়ভেদও নেই যেমন আছে আরব রাস্ট্রগুলোতে শিয়া, সুন্নি, কুর্দিসহ নাম নাম জানা অনেক গোষ্ঠী । সুতরাং আমাদের তো আরো পই পই করে ‍উন্নতির দিকে যাওয়ার কথা্ ? তাই না ?

    1. 16.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভারত বিভাগ অবশ্যই আমাদের জন্য অনেক অনেক ভাল হয়েছে ।

      ব্যাস আমার এইটি জানার ইচ্ছা ছিল।

      আপনার লেখার প্রেক্ষিতে বলব আপনি কি স্বাধীন বাংলাদেমের বিরোধী ?

      আমি বিরোধী তা আমার কোন লেখায় প্রমাণ করে বা কোন লাইনে প্রমাণ করে তা কি উল্লেখ করবেন? না শুধু পাকিস্তানীদের অন্যায় অবিচার এই লিখায় উল্লেখ না করার জন্য?
      যাক আলোচনায় অংশ গ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ।

  15. 15
    ফুয়াদ দীনহীন

    আপনার লেখর থ্রেডটা বেশ রাজনিতিক হয়ে গেছে, বক্তব্যও অগুছালো, মুল বক্তব্য বুঝা কঠিন। তাই, আপনি এ ধরনের না লিখে বরং নিরোপেক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে “৪৭এ পাকিস্থান আন্দোলনের উতস ও ফলাফল শিরোনামে কিছু লিখতে পারেন”। 

    1. 15.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      মতামতের জন্য ধন্যবাদ।

    2. 15.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাল কথা যেটি আপনার বক্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছেনা, তাহল- আপনি কি ভারত ভাগকে ভুল মনে করেন? আশাকরি জবাবটি আপনি দিবেন! আর যারা আমার এই পোস্টটি পড়েছেন তারাও অন্ততঃ এর জবাব দিয়ে যাবেন। ধন্যবাদ।

      1. 15.2.1
        ফুয়াদ দীনহীন

        মুনিম ভাই,
        কয়েকদিন আগে আমার হায়দ্রাবাদী ফ্রেন্ড বলল, তোমরা আমাদের কেন একা ফেলে গেলে ? মাঝে মাঝে মনে হয়, মরলে সবাই মরতাম, বাচলে সবাই একসাথে বাচতাম।
        আমি কি জবাব দিব মুনিম ভাই, একটু যদি বলতেন। 

        1. 15.2.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          ভাই ৬৩/৬৫ বছর পরে এসে কে কি বলে তা দিয়ে ইতিহাস নির্ধারণ করা যায় না, আপনার সেই বন্ধুকে জিজ্ঞাস করেন যে -- ভারত ভাগের  ফলে  মুসলিম ভারতের মুসলমানদের একটি বিরাট অংশের জীবনে যে বিশাল মহাকল্যাণটি এসেছে সেটি। অবিভক্ত ভারতে সেটি অসম্ভব ছিল। ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মুসলমানদের চেয়েও অধিক। অথচ করাচী বা ঢাকা শহরের মত একটি শহরে মুসলমানদের মাঝে যে সংখ্যক ডাক্তার-ইঞ্জিনীয়ার ও অন্যান্য শিক্ষিত প্রফেশনাল গড়ে উঠেছে বা শহরটিতে যে পরিমাণ উন্নত ঘরবাড়ী, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদ জমা হয়েছে তা কি সমগ্র ভারতের মুসলমানদের মাঝেও আছে?
          ধন্যবাদ।
           

        2. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          ভারত ভাগের  ফলে  মুসলিম ভারতের মুসলমানদের একটি বিরাট অংশের জীবনে যে বিশাল মহাকল্যাণটি এসেছে সেটি। অবিভক্ত ভারতে সেটি অসম্ভব ছিল। ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মুসলমানদের চেয়েও অধিক। অথচ করাচী বা ঢাকা শহরের মত একটি শহরে মুসলমানদের মাঝে যে সংখ্যক ডাক্তার-ইঞ্জিনীয়ার ও অন্যান্য শিক্ষিত প্রফেশনাল গড়ে উঠেছে বা শহরটিতে যে পরিমাণ উন্নত ঘরবাড়ী, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সম্পদ জমা হয়েছে তা কি সমগ্র ভারতের মুসলমানদের মাঝেও আছে? 
           
          -- ভারত ভাগ ছাড়া ্এই পার্থিব উন্নতি কেন সম্ভব হতো না সেইটা একটু খোলসা করা দরকার।এইটা হলো আয়ুব খানের ভারক বিরোধী নীতির একটা প্রপাগান্ডা মাত্র। ভারতের মুসলমানদের বিষয়ে একটু যাচাই বাছাই করে দেখুন -- ভারতের আইআরএফ যে পরিমান ইসলাম প্রচারের সাফল্য পেয়েছে তার বিপরীতে ঢাকা শহরে ইসলামী নামের দলগুলো গাড়ী ভাংগা আর জংগী প্রদর্শন করে মানুষকে ভীত করা ছাড়া কি করেছে। 
          আ্পনি পার্থিব কিছু উপাদানকে মুসলমানদের লাভ হিসাবে দেখাচ্ছেন -- সেই হিসাবে আপনার জন্যে দ্বিজাতী তত্ত্ব ঠিক আছে। পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠী এইটাই চেয়েছিলো -- ভারতের শোষকদের সাথে প্রতিযোগীতা না গিয়ে ইসলামের নামে মুসলমানদের মাথায় কাঠাল ভেঙগে খাও -- এইটার ধারাবাহিকতায় এখন দেশী শোষকরা অর্থবিত্তে উন্নত হচ্ছে -- এইটা কি আসল এমুসলমানদের কোন কাজে লাগবে? খুবই ভেবে উত্তর দেবেন? 

        3. মুনিম সিদ্দিকী

          আচ্ছা আপনি কি বলতে গেলেই পাকিস্তানী জুজুর প্রশ্ন কেন টেনে নিয়ে আসেন? আজ হয়তো পাকিস্তানী জুজুর দোহাই পেড়ে এই দুই/তিন প্রজন্মকে ভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেওয়া সম্ভব হলেও একদিন ইনশাল্লাহ সেই সময় আসবে যখন সেই প্রজন্ম কি সত্য কি মিথ্যা তা বুঝতে সক্ষম হবে। তবে যাই করেন, যে করে হয় না কেন ক্ষুদ্র হলেও আমরা আল্লাহর নেয়ামত হিসাবে যে একটি স্বাধীণ দেশ পেয়েছি সেটি ব্যর্থ হয় এমন কোন কাজে আমাদের প্রতিবেশীকে সাহায্য করতে কাউকে অনুপ্রাণিত করবেন না। শুধু নিজের অবস্থান দিয়ে সব বিচার করবেন না। আপনি কানাডায় অভিবাসী তাই যদি আমাদের স্বাধীনতা অরক্ষিত হয়ে পড়ে তাহলে সে আচ আপনার গায়ে না লাগলে আমরা যারা এই দেশে পড়ে আছি তাদের অবস্থা কেমন হবে তা চিন্তা করে দেখবেন। ভারত যদি গত ৬৫ বছরে তাঁর দেশে প্রমাণ করতে পারত যে তারা ঠিক, তাদের ভারতে মুসলিমরা দুধ বিচানো বিচায় বাস করছে তাহলে আমিও আমার ভুল বুঝতে পারতাম। কিন্তু তা হবার নয়, কারণ আর কিছু নয় কারণ হচ্ছে ইসলাম। এর জন্য রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন যে, হিন্দু-মুসলিমের মিলনে হিন্দুদের বাঁধা ধর্ম নয় আচার, আর মুসলিমদের বাঁধা আচার নয় ধর্ম। সালমান রুশদী সে এক কথা বলেছিল যে, মুসলিমরা কোরআনের আদেশের বাইরে যেতে পারবেনা। রবীন্দ্রনাথ আর রুশদী যে সত্য বুঝতে পারল, সেই সত্য আমাদের এখনকার অনেক মুসলিম বুঝতে পারছেন না দেখে অবাক হচ্ছি।

          যাক আল্লাহ আমাদেরকে শুধু নামাজ রোজা আর এবাদত বন্দেগীতে পড়ে থাকতে নির্দেশ দেন নাই আমাদেরকে দুনিয়ায় বিজয়ী হয়ে বেঁচে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন । তাই তো রাসুল সাঃ রাজনীতি করে গেছেন, মুসলিমদের জন্য রাষ্ট্র কায়েম করে গেছেন। এবং সেই রাষ্ট্র কায়েম করতে গিয়ে ২৩ বছর অনেক যুদ্ধের মুখামুখি হতে হয়েছিল। রাসুল সাঃ এর সাহাবায়ে কেরামগণও রাজনীতি করে গেছেন, রাষ্ট্রকে বর্দ্ধিত করে গেছেন। তাইতো রাসুল সাঃ অনুসারীরা পৃথিবীর বুকে অসংখ্য সম্রাজ্য রাস্ট্র স্থাপন করতে পেরেছিলেন। রাজনীতি করেছিলেন বলেই ১৩ শত বছর অর্ধ পৃথিবীকে শাসন করতে পেরেছিলেন। মুসলিমদের সৌভাগ্যের জন্য যদি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের দরকার না হতো তাহলে কি তা করতেন? যাক ভাই রাজনীতি নিয়ে আপনি যা ভাল বুঝেন সেই ভাবেই চলেন। আমি যা ভাল বুঝি সেই ভাবেই চলব। আল্লাহ আপনার ভুলের জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না এবং আমার ভুলের জন্য আপনাকেও পাকড়াও করবেন না। আপনার পথ আপনার জন্য আমার পথ আমার জন্য। আল্লাহ হাফেজ।

        4. আহমেদ শরীফ

          ভারতের আইআরএফ যে পরিমান ইসলাম প্রচারের সাফল্য পেয়েছে তার বিপরীতে ঢাকা শহরে ইসলামী নামের দলগুলো গাড়ী ভাংগা আর জংগী প্রদর্শন করে মানুষকে ভীত করা ছাড়া কি করেছে।

           
          ইসলামের উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনন্যতা, অপূর্ব মানবতাবাদী সৌন্দর্যকে ঢেকে দেয়ার কালোমেঘের বাতাবরণ এরা সৃষ্টি করেছে ইসলামের নাম দিয়েই। যার ফলে গণবিচ্ছিন্ন হতে হতে এরা ইসলামী আদর্শের ধারক-বাহক দাবিদার সেজে আজ ইসলামকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। যার ফলে আরো ইসলামের শত্রুদের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সংকীর্ণতা তৈরির।   আর 'ইসলামী আন্দোলন' এর কথা শুনলে সাধারণ মুসলমানদের আজ জলাতঙ্ক রোগির মত অবস্থা হয়। এ অবস্থা সৃষ্টির জন্য এইসব মূর্খদের অবিমৃষ্যকারিতাই দায়ী।
           

  16. 14
    আহমেদ শরীফ

    ১০ ই এপ্রিল '৭১ 'প্রোক্লেমেশন অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স' জারি এবং নির্বাচিত গণপরিষদ সদস্যদের দ্বারা মুজিবনগর সরকার শপথ নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববঙ্গে পাকিস্তান রাষ্ট্রের আইনি মৃত্যু ঘটে যায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষনার ফলে বাংলাদেশে ওই মূহুর্ত থেকে সব পশ্চিম পাকিস্তানী বিদেশি নাগরিক। বিদেশি হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানীরা অস্ত্রের জোরে বাংলাদেশকে পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে রাখতে চেয়েছিল। আইনিভাবে দখলদার বাহিনী বেআইনি অবস্থানের জন্য যুদ্ধাপরাধী। নয় মাস ধরে গোটা বাংলাদেশে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ-ধর্ষণ-লুটপাট-অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল তার সবই ছিল মানবতার বিরুদ্ধে দখলদার বাহিনীর অপরাধ। যুদ্ধকালীন এসব অপরাধ স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ব্যতিক্রম এবং 'রোম ডিক্লারেশন' অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ। '৭১ এ যেসব পাকিস্তানী সামরিক কর্মকর্তা, সেনা ও বেসামরিক ব্যক্তি এদেশে খুন-ধর্ষণ-অগ্নিসংযোগ-লুটপাট করেছে তারাও আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধে অপরাধী। এদের বিচারের দাবি আজও আগুনের লেলিহান শিখায় দাউ দাউ করে জ্বলছে বাংলার পথে প্রান্তরে।

    শঙ্কর প্রসাদ দে
    সংবাদ পৃ: ৬
    ১৫ নভেম্বর ২০১২

    'জেনিভা কনভেনশন' অনুযায়ী সুবিধা পেয়ে আর ভারতীয় সৈন্যদের দয়ায় জানে বেঁচে পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরতে পারলেও 'রোম ডিক্লারেশন' তাদের বিচার এখনও বাকি আছে। আর মুসলিম হয়ে মুসলিমের বিরুদ্ধে এত বড় অকল্পনীয় নজিরবিহীন জুলুম করার বিচার কাল কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে আল্লাহপাকের সামনে বাকি আছে। যেখানে না সাক্ষীর অভাব হবে, না মোটা টাকা দিয়ে কোন ধরণের উকিল নিয়োগ করে বা লবিং করে বাঁচা সম্ভব হবে।

    সেদিন ওইসব নির্যাতিত-নিহত শহীদদের অভিমানী আত্মাগুলো সশরীরেই সমস্ত তথ্যপ্রমাণসহ হাজির থাকবে। মড়াখেকো ভাগাড়ের শকুনের মত হিংস্র হায়েনার মত যারা নিজ মুসলিম ভাইবোনদের মাংস খুবলে খুবলে খেয়েছে সেইসব নরাধমদের ন্যায়বিচার আল্লাহপাকের সামনে হবে ইনশাআল্লাহ।

    1. 14.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      'জেনিভা কনভেনশন' অনুযায়ী সুবিধা পেয়ে আর ভারতীয় সৈন্যদের দয়ায় জানে বেঁচে পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরতে পারলেও 'রোম ডিক্লারেশন' তাদের বিচার এখনও বাকি আছে। আর মুসলিম হয়ে মুসলিমের বিরুদ্ধে এত বড় অকল্পনীয় নজিরবিহীন জুলুম করার বিচার কাল কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে আল্লাহপাকের সামনে বাকি আছে। যেখানে না সাক্ষীর অভাব হবে, না মোটা টাকা দিয়ে কোন ধরণের উকিল নিয়োগ করে বা লবিং করে বাঁচা সম্ভব হবে। 
       
      -- একটা অসাধারন মন্তব্য পড়ার পর কি আর কিছু বলার থাকে! আপনাকে হূদয়ের গভীর থেকে অভিনন্দন। 

    2. 14.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      আমি এত বার উল্লেখ করার পরও আপনাদের ভাইরাস আক্রান্ত মন থেকে তা ছাড়ানো যাচ্ছেনা! এই ব্লগ আমি লিখিনাই মুসলিম জাতীয়তা নিয়ে, লিখিনাই পাকিস্তানী রাজনীতি নিয়ে কিছু, আমি লিখিনাই ইসলামী রাজনীতি নিয়ে, লিখিনাই ৭১ এর প্রসঙ্গ, লিখি নাই গণহত্যার বিষয় নিয়ে, তাহলে বার বার আপনারা আমার মূল বিষয় “ ভারত ভাগের ফলে বাংলার মুসলিম সমাজের কি লাভ হয়েছিল” এর বাইরের বিষয় নিয়ে আসার মানে কি?

      এখানে অপ্রাসঙ্গিক হলে যে বিচারের কথা উল্লেখ করছেন, তাঁর সাথে আমি একমত, এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আমি ২০০১ সালে একটি পিটিশনও অনএয়ারে দিয়েছিলাম, Bangladeshi Nation Demand Justice তা এখানে দেখতে পাবেন। তারপরও বলছি এই ব্লগে অপ্রাসঙ্গিক কিছু বক্তব্য নিয়ে এলে আমি ইগনোর করে যাব। ধন্যবাদ।

  17. 13
    আহমেদ শরীফ

    কলেজে পড়ুয়া বড় ভাইরা কলেজের লেখাপড়া ফেলে দিয়ে কখনও আমাদের শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌমুহনীর প্রকাণ্ড শিরিষ গাছের নিচে ট্রাফিক আইল্যান্ডে দাঁড়িয়ে পথ সভা চালাতেন, কখনও আমাদের পৌরসভার অফিসের সামনের শিশু পার্কের মুক্ত মঞ্চে সভা করতেন। এই সব সভায় শুধু পূর্ব বনাম পশ্চিমের মধ্যে বৈষম্যের কথা জ্বালাময়ী ভাষায় উল্লেখ করতেন।

     
    কলেজ পড়ুয়া 'মুসলিম জাতিয়তাবাদ' এ বিশ্বাসী ছেলেরা ইসলামের দোহাই দিয়ে অন্ততঃ মুসলিম ছাত্রদের রগ তো কাটেনি তখন। জ্বালাময়ী বক্তৃতা আসে কোথা থেকে গোটা দেশে আগুনের হলকা বয়ে না গেলে ? দাবানল যখন লাগে তখন হলকা তো সব জায়গাতেই ছড়াবে। যে কোন আন্দোলনেই যেমন ভাষা আন্দোলন থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন _ সর্বক্ষেত্রেই তো সচেতন ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ন অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে সবসময়, এমনকি দরকার হলে 'জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য' করেই। দেশের শিক্ষাঙ্গণগুলোতে পাকিস্তানী হানাদার নরপশুরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে কি পরিমাণ ছাত্র নির্যাতন-হত্যা করেছে তার ইয়ত্তা নেই। "কলেজে পড়ুয়া বড় ভাইরা কলেজের লেখাপড়া ফেলে দিয়ে" _ গোটা জাতি যখন বর্হিশক্তি হানাদারদের শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে একত্রে বারুদের মত বিস্ফোরিত হচ্ছে সেসময় জনতার ভবিষ্যৎ সচেতন ছাত্রসমাজের আর কি করা স্বাভাবিক ছিল বলে মনে করেন ?

     
    পাট বিক্রি হয়ে বিদেশে চলে যায়, কিন্তু সেই পাটের টাকা আমাদের পূর্ব পাকিস্তানে আসেনা। সেই টাকা পাঞ্জাবীরা পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাচ্ছে। যে কৃষক পাট ফলাচ্ছে সে কৃষক এক বেলা পেট ভরে ভাত খেতে পায়না, অথচ এই পাটের টাকা দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের শহর করাচী এবং রাওয়ালপিন্ডির রাস্তা সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
     

    ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু পশ্চিম পাকিস্তানে ছিল, পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকশ্রেণীর আশ্রয়-প্রশ্রয়-উৎসাহ ছিল বলেই তো পাকিস্তানী ব্যবসায়ীরা লুন্ঠনের পরিকল্পিত স্বর্গরাজ্য কায়েম করতে পেরেছিল। 'ইসলামী জাতিয়তাবাদ' এবং 'মুসলিম ভ্রাতৃত্ববোধ' এর দোহাই দিয়ে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখিয়ে এরকম জঘন্য পূঁজিবাদী তস্করবৃত্তিকে কি ইসলামী তাত্বিক পরিভাষায় কি বলা যায় ? কাফির নয় , মুনাফিকের স্থান জাহান্নামের সর্বনিকৃষ্ট স্তরে।

    জুট মিল থেকে যারা লাভবান হতেন তারা ছিলেন কলকাতার লোকজন। এই পূর্ব বাংলার জূটের টাকায় কলিকাতা নগরী রাস্তাঘাটের জৌলুষ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

    পাকিস্তানী আমলের আলোচনায় শুধু নামগুলো বদলে দিলেই হবে। কলকাতার লোকজনের জায়গায় 'পশ্চিম পাকিস্তানী' আর কলিকাতা নগরীর জায়গায় 'পশ্চিম পাকিস্তান' পড়তে হবে।

    ১৯৩৯ সালের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে, ঐ সময় কলকাতাতে ৬৮৩৭৭টি লুমস পাটের পণ্য উৎপাদন করে চলছিল।  কিন্তু তাঁর একটিও পূর্ব বাংলায় ছিলনা। আমরা ছিলাম শুধু পশ্চিম বাংলা কাচা পাটের যোগানদার, আবার সেই পাট তৈরি পণ্যের ক্রেতা!

     
    রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বাণিজ্যিক কৌশল হিসেবে হয়তো সেটা হয়েছিল। কলকাতার বয়েস শত শত বছরের পুরনো প্রতিষ্ঠিত বিস্তৃত প্রাণকেন্দ্র নগরী। অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতেও হিন্দুরা সাধারণ মুসলিমদের তুলনায় শিক্ষাদীক্ষা-শিল্পসংষ্কৃতি অনেক অনেক এগিয়ে ছিলেন। পূর্ববাংলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমরা হয় জমিদার না হয় কৃষক মজুর শ্রেণীর। পূর্ব বাংলার লোকদের সেই যোগ্যতা থাকলে নিজেরাই অধিকার বাগিয়ে নিতে পারতেন। নিজেদের অধিকারের কথা বলার দরজাও বন্ধ ছিল না।

    দেশ ভাগের পর এই পশ্চিম বাংলার হিন্দু ভাইয়েরা আমাদের প্রাপ্য  আমাদের ভাগের একটি টাকাও ফেরত দেন নাই। আমাদের দেশের সরকারী কর্মচারীদের বেতন দেবার মত কোন টাকা আমাদের ব্যাংকে রেখে যায় নাই।

     

    পশ্চিম পাকিস্তানী ভাইয়েরা কয় হাজার কোটি টাকা ফেরত দিয়েছে সেই পরিসংখ্যানটি যদি একটু দেখাতেন কৃতার্থ হতাম। স্থুল ভাষায় বলতে গেলে তারা শুধু টাকা নিয়ে যায় নি, লুট করা টাকা ফেরত চাইতে গেলে হুমকি-ধামকি এমনকি শেষটায় আর্মি নামিয়েছে, বুদ্ধিজীবিদের হত্যা করেছে পুরো দেশটাতে নয় মাস ধরে অবর্ণনীয় নৃশংসতায় গণহত্যা-ধর্ষণ-লুটপাট চালিয়েছে মুনিম ভাই এটা ততটা দুঃখের নয় যে ভারতীয় হিন্দুরা চতুর কৌশলে বুদ্ধি ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে ডমিনেট করেছে সুযোগ পেলে আজকের দুনিয়ায় অনেকেই করে _ কিন্তু ইসলামের কথা বলে ইসলামের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্র গঠন করে নিজে মুসলিম ভাই হয়ে অন্য মুসলিম ভাইদের ওপর এইরকম অকল্পনীয় দুঃস্বপ্নের মত নারকীয় পৈশাচিক জুলুম-নির্যাতনের নজিরবিহীন কুৎসিত ইতিহাস সৃষ্টির শোচনীয় কৃতিত্বের রেকর্ডটি আমার মনে হয় 'পাকিস্তান' ছাড়া আর কোন দেশের মুসলিম এখনো ভাঙ্গতে পারেনি।   

    দেশ ভাগের প্রথম কয়েক মাসের বেতন ইস্পাহানী কোম্পানী চালিয়ে নিয়েছিল।

    কারণ ইস্পাহানীকে এদেশেই ব্যবসা করতে হবে। ইস্পাহানী কোন দয়ার দান দেয় নি। বরং সেই সুবাদে আজ স্বাধীনতার ৪০ বছর পর্যন্ত যথেচ্ছ ব্যবসা বিস্তার করে করে নির্বিঘ্নে সম্পদের বিশাল পাহাড় গড়ে তুলে সসম্মানে এখনো এ দেশে থাকতে পারছে।

    যখন এদেশ থেকে লাখে লাখে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে সব কিছু হারিয়ে সপরিবারে হিজরত করে করে বর্ডার পার হয়ে কোনমতে কলকাতায় পৌঁছোয়, প্রায় কোটির কম বা বেশি লোক হয় সেখানে শরণার্থী হিসেবে, যে কোন দেশের জন্যই সংখ্যাটা মামুলি নয়। তাদের কলকাতার হিন্দু দাদারা ফেলে দিতে পারেন নি, বরং নিজেরা হাজারো সমস্যায় আকন্ঠ ক্লিষ্ট নিমজ্জিত থাকলেও মাসের পর মাস ধরে প্রতিবেশী দেশের এই বিশাল শরণার্থীকূলকে খাদ্য-বস্ত্র-চিকিৎসা তো বটেই যতরকম উৎসাহ জোগানো থেকে শুরু করে সমর সাহায্য পর্যন্ত করে হাত ধরে স্বাধীনতা পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন।
     

     

    1. 13.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ১) আহমেদ ভাই আপনি প্রথমে আসলেন এই ব্লগটিকে ‘মুসলিম জাতি’ বিষয়ক ‘প্রতীক্ষিত’ ব্লগ হল কি না তাই দেখতে এবং এর সাথে কটাক্ষ স্বরে অহেতুক প্রশ্ন নিয়ে। আমি আপনাকে বারণ করলে আপনি আমার ‘উৎসাহ-দাতার’ ভূমিকায় গেলেন। আমার দুঃখ পাওয়া, জ্বলে ওঠা, হ্যাপি থাকা, ইজি টেক করা ইত্যাদি কতকিছু বললেন। আমাকে জ্বালিয়ে তোলে নাকি আমার কাছ থেকে ‘তথ্য-সমৃদ্ধ এপিক’ ব্লগ নামানোর ‘মহতী-উদ্দেশ্য’ছিল –এই বিবৃতি দিলেন। কিন্তু তবুও যেন ‘মুসলিম জাতি’ বিষয়ক কথাটি আপনার মন থেকে গেল না।

      ২) এবারে এসেছেন কিছু উদ্ধৃতি মেরে কিছু অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন নিয়ে। এগুলোতে আগের সেই ‘মুসলিম জাতি’ শীর্ষক বিষয় দেখা যাচ্ছে। প্রথম উদ্ধৃতি মেরে অপ্রাসঙ্গিকভাবে ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদ’, ‘রগ কাটা’, ‘বিশ্বাসী ছেলেদের ইসলামী দোহাই’, ‘জীবন মৃত্যু পায়ের ভৃত্য’ ইত্যাদি নানান ফালতু কথা নিয়ে। এর সাথে আবার হানাদার, হত্যা, আরও কতকিছু। আমি ভাই আপনার কোনো কথাই বুঝি নি। এসব কেন করছেন? আপনার কোনো সমস্যা থেকে থাকলে তা অন্য কোনো উপায়ে নির্ধারণ করুন। হতে পারে আপনি আমার বহুত উপরের কেলাশের শিক্ষিত লোক, আমার ধরা-ছোঁয়ার বাহিরের। তাই আপনার নিজের মত কাউকে বের করে তার সাথে আপনার এসব কথা শেয়ার করুন।

      ৩) দ্বিতীয় উদ্ধৃতি হচ্ছে প্রোপাগান্ডা বিষয়ক। আপনি কিছু বলতে হলে রাওয়ালপিন্ডির রাস্তা সোনায় তৈরি হয়েছিল কি না সেই সেই বিষয় দেখাবেন। রাওয়ালপিন্ডিতে সোনার রাস্তা থাকলে সেদিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করবেন। কিন্তু তা না করতে পেরে ‘ইসলামী জাতীয়তা’, ‘মুসলিম ভ্রাতৃত্ব’ জাহান্নাম, কাফির ইত্যাদি বিড়বিড় করলেন। কেন? আপনার সমস্যা কোথায়? এখানেও প্রোপাগাণ্ডিস্ট কথা ছাড়া কি আর বলতে পারলেন? তাও আবার অপ্রাসঙ্গিকভাবে। মূল কথা আপনার সমস্যা যে কোথায় আর সমাধান যে কি -তা আমার জানা নেই।

      ৪) তারপর বাকী উদ্ধৃতিগুলো আমার একই প্যারাগ্রাফ থেকে নিয়ে ‘পশ্চিম-পাকিস্তানের ভায়েরা’ কত টাকা ফিরত দিতে পেরেছে, কত টাকা লুট করেছে, বুদ্ধিজীবী হত্যা করেছে, নয় মাস লুণ্ঠন করেছে, তারা ইতিহাসের নজিরবিহীন কুৎসিত ইতিহাস রচনা করেছে ইত্যাদি বয়ান করলেন। এসব বয়ান কি আমি আর কখনো শুনি নি যে অপ্রাসঙ্গিকভাবে, যেকোনো কসরতে আমাকে শোনাতে হবে? এগুলো যারা শুনেনি তাদেরকে না শুনিয়ে অপাত্রে জ্ঞানের মুক্তাগুলো নষ্ট করছেন কেন?
      আর ‘তথ্য-সমৃদ্ধ এপিক ব্লগ নামানোর মহতী-উদ্দেশ্যে’ আমার সাথে এসব অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা না বলে নিজেই সেই তথ্য-সমৃদ্ধ ‘মুসলিম জাতী’ শীর্ষক প্রবন্ধ লিখে ফেলেন। এতে আমাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ হবে। আর আমিও আপনার অপ্রাসঙ্গিকতা থেকে রেহাই পেয়ে যাবো। কিন্তু এর পরও যদি অপ্রাসঙ্গিক কিছু দেখতে পাই তাহলে ignore করা হবে। ভাল থাকুন।

      1. 13.1.1
        আহমেদ শরীফ

        মুনিম ভাই

        আপনার একটা সমস্যা হল যার সাথেই কোন বিষয়ে দ্বিমত হবে সেই বিষয়টির আলোচনার পাশাপাশি আপনার ব্যক্তিগত বিদ্বেষের প্রকাশ ঘটিয়ে ফেলেন। করে বসেন ব্যক্তিআক্রমণ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিষয়ের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে ব্যক্তিই, যা অভিপ্রেত নয়। ভিন্নমত প্রকাশের ভঙ্গি ভিন্নভাবেও হতে পারে, সুস্থ-পরিশীলিত ভঙ্গিতেও হতে পারে। যাই হোক মে বি সাম ডে ইউ ইউল লার্ন, উই ক্যান হোপ এট লিস্ট

        আপনাকে সুক্ষভাবে একটি খোঁচা দিলেও বাস্তবিকই তা ছিল একটি প্রসঙ্গে আপনারই প্রতিশ্রুত আলোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া। এই পোস্টে আমি যে কমেন্ট করেছি কোনটাই অপ্রাসঙ্গিক নয়। এখানে কেউ কেউ মুসলিম পূণর্জাগরণের আভাস পাচ্ছেন কেউ বা বাহবা দিচ্ছেন সত্যকথনের জন্যে। কিছু কিছু কমেন্টে আপনি সত্যবচন করেছেন এটা অস্বীকার করব না, কিন্তু মূল পোস্টের যে আমেজ তাতে মুসলিম প্রীতির নামে পশ্চিম পাকিস্তান প্রীতির ব্যাপারটা কিন্তু স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাওয়ালপিন্ডির রাস্তা সোনা না কি রুপা দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল তার কোন পরিসংখ্যানে আমার যাবার দরকার নেই কারণ পশ্চিম পাকিস্তানীদের বৈষম্যের চালচিত্র এত স্পষ্টভাবে বহুল প্রচারিত যে সেটি ঐতিহাসিক ন্যূনতম জ্ঞানটুকু প্রায় সকলেরই আছে। পশ্চিম পাকিস্তানীদের নির্মম শোষণ ও চরম বৈষম্যের কারণেই পূর্ব পাকিস্তান তথা অধুনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বাস্তবতা হচ্ছে ভারত ভাগের ফলে বাঙ্গালি মুসলমানদের 'ফ্রম ফ্রাইং প্যান টু ফায়ার' এর অবস্থা হয়েছিল। শুধু পাটের হিসেব করলে হবে না, পশ্চিম পাকিস্তানের দ্বারা যে বহুমুখী অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা আজো পূরণ হয় নি। তার মধ্যে একটি এটাও যে পশ্চিম পাকিস্তানীদের পশুসুলভ বৈষম্যের ফলে 'পাকিস্তান' প্রজন্মান্তরে একটি গালিতে পরিণত হয়েছে, তাদের কারণে ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, ভারতের সাংষ্কৃতিক ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যে পরিণত যে বাংলাদেশ আজ দেখতে পাচ্ছেন তার জন্য দায়ী পশ্চিম পাকিস্তানীদের মুঢ়তা, অবিমৃষ্যকারিতা।

        ভারত ভাগের ফলে লাভবান হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানীরাই, পূর্ব বাংলায় দীর্ঘসময় ধরে ব্যপক লুন্ঠনের ধারাবাহিকতা চালিয়ে বিপুল সম্পদ কুক্ষিগত করে নিয়ে গেছে নিজেদের দেশে, উন্নয়নের সিংহভাগ হয়েছে তাদের দেশেই। পূর্ব বাংলার মুসলমানদের নিরন্তর বঞ্চনা-শোষণ-বিশ্বাসঘাতকতাই জুটেছে।  

        1. 13.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          আমি আর কথার পুনরাবৃত্তিতে যেতে চাচ্ছি না। আপনি দেখছি আমার সমস্যা আমার চেয়ে ভাল বুঝেন ! হেদায়তের মালিক আল্লাহ তাই উনার উপর আমাকে ছেড়ে দিলে হয় না ভাই?  আপনারা শোষণ ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে আপনি থাকুন। আমি ইতিহাসের তথ্য নির্ভর লিখার বিষয়ের বাইরে গিয়ে  শোষণ নির্যাতন, লুণ্ঠণ, টাকা ফিরৎ, ও repression নিয়ে আলোচনা করতে চাইনা, তাহলে আমার মূল বিষয়কে  ফোকাস থেকে দূরে চলে যাবে, আর মনে হচ্ছে কেউ কেউ সেই চেষ্টা করছেন।   কোন ব্যক্তি যখন সেই কোন বিষয়কে মিথ্যা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় তখনই সে বা তারা ইচ্ছা করে অন্য বিষয়ের অবতারনা করে, যেমন কোন এক শর্মা তা করে। ভাই আমি শীতকালের সংগীত শীতকালে গাই, যখন তখন  গাওয়ার ইচ্ছা করি না।  আচ্ছা আহমেদ ভাই এবারে যে কথাগুলো আনছেন, তা কি আগে আনেন নি?  “দেশ-প্রেম” প্রতিষ্ঠায় নেমেছেন?  ভাল, ভাল আমার উপর  দিয়ে তাঁর শুভ সুচনা হোক!! ধন্যবাদ।
           

  18. 12
    মিসাইল ম্যান

    ভাই, সুন্দর লিখেছেন । ঐতিহাসিক তথ্য নিয়ে লেখা । আশা করি সবাই উপকৃত হবে ।

    1. 12.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

  19. 11
    শামস

    অনেক বছর আগে একজন ব্রিটিশের লেখা বই পড়েছিলাম। এখন নামও মনে করতে পারছি না। ভারতীয় উপমহাদেশের লেখকদের বই এর চেয়ে অভারতীয়ের লেখাকে বেশী বাস্তবধর্মী বলে মনে করতাম। অভারতীয়রা হয়তো নিজেদের দিকে অনেক কিছুকে দেখাতে চাইবে, কিন্তু এ উপমহাদেশের নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠির জন্য তুলনামূলকভাবে বেশী নিরপেক্ষ থাকবে। আমার ধারণা ভুলও হতে পারে। লেখক মহত্না গান্ধিকে খুব কাছে থেকে দেখেছেন তার সাথে আলাপচারিতাও করেছেন। তিনি বইতে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে গান্ধীর কংগ্রেস মূলত হিন্দুদের সংগঠন! তিনি এও দেখিয়েছিলেন, দেশভাগের পূর্ব মুহূর্তে গান্ধী যেসব রায়ট হওয়া জায়গা ভ্রমণ করেছিলেন সেগুলো ছিল সেসব জায়গা যেগুলোত হিন্দুরা নির্যাতিত হয়েছিলেন! তিনি তিনটি জায়গার উল্লেখ করেছিলেন এর মধ্যে বাংলাদেশের নোয়াখালীও ছিল। কলকাতার দুটো জায়গাতেও তিনি যান যেগুলোতেও হিন্দুরাও নির্যাতিত হয় বেশী। কলকাতার জায়গাগুলোর কথা খেয়াল নেই, অনেক খুজেও পেলাম না। ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস নিয়ে অভারতীয়দের আগ্রহ খুব কম বলে মনে হল, তথ্য পেতে খুব সমস্যা। যাইহোক, নোয়াখালীর রায়ট নিয়ে তথ্য ঘেটে পেলাম যে সেখানে হিন্দুরা নির্যাতিত হয়েছিল! কিন্তু তারপরও আমার মনে হয়েছে লেখক কংগ্রেসের উপর কিছুটা ক্ষ্যাপা, পুরো তথ্যকে তিনি সঠিকভাবে নাও দিতে পারেন, কিন্তু তা ভেরিফাই করার চেষ্টা করেও জানতে পারি নাই! যাক, গান্ধী আধ্যাত্নিক ঘরণার হিন্দু হলেও তিনি প্রথাগত হিন্দুধর্মের বিরুদ্ধাচারণ করেছেন। তিনি তার বাল্যকালের ঘনিষ্ঠ মুসলিম বন্ধু শেখ মাহতাবের সাথে ছাগলের মাংস খান (Gandhi, His Life and Message for the World, Louis Fischer) যা তার ধর্ম, সমাজ ও পরিবার কল্পনাও করতে পারেনি। ধর্মের প্রথাকে ভাঙ্গার জন্য তিনি পতিতালয়েও গিয়েছিলেন (Gandhi’s Passion, The Life and Legacy of Mahatma Gandhi, Stanley Wolpert), তবে তিনি সেখানে যাওয়া ও আসার বাইরে কিছুই করেননি বলে স্বীকার করেন। তাছাড়া গোত্রের প্রথার বিরোধীতা করে তিনি যখন লন্ডনে পড়ালেখা করতে যান তখন তাকে সমাজচ্যুতও করা হয়।  ইংল্যান্ডে আইনব্যবসায় ব্যর্থ হয় দক্ষিণ আফ্রিকাতে যান মুসলিম বন্ধুর আমন্ত্রণেই। সেখানে কংগ্রেস সৃষ্টি ও এর চাদা যারা দিতো প্রথমদিকে তাদের সিংহভাগই ছিল  সেখানকার ধনী মুসলিম ব্যবসায়ীরা। ট্রেনে প্রথম ক্লাস টিকেট পান নাই তাছাড়া জোহেন্সবারগের গ্রান্ড ন্যাশনাল হোটেলে থাকার জন্য রুম চেয়েও পান নাই ব্রিটিশদের বর্ণবাদী আচরণের কারণেই। এসব ঘটনা তার জীবণে না ঘটলে তিনি হয়তো কংগ্রেসে এভাবে জড়াতেন না।
     
    একসময় ছিল ব্রান্মণরা নীচুজাতদের উপর অবর্ণনীয় অত্যাচার করত। সপ্তম শতকের পরপর রাজপূত ব্রান্মণরা যখন ক্ষমতায় আসল তারা সতীদাহ প্রথা, অল্পবয়সে বিয়ে ইত্যাদি প্রচার চালায় জোরেসোরে। তারাতো বৌদ্ধদের রাজ্যচ্যুত করে একেবারে দেশছাড়াই করে। তাদের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্যই ব্যাপকহারে মানুষ ইসলাম গ্রহণ করে। এই পূর্ববঙ্গ মানে আজকের বাংলাদেশ মূলত সেই নীচুজাতরা, ধর্মান্তরিত মুসলিম। এখানেও আশরাফ মুসলিম ছিল কিন্তু সংখ্যায় কম. সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমের ধর্মকে হিন্দু ধর্ম থেকে আলাদা করা যেতো না। এমনকি ঊনিশ শতকের শেষ দিকেও এন্ডারসন (The Peoples of India, J. D. Anderson, Cambridge at the University Press,1913) যখন ভারতে চাকরির সুবাদে ছিলেন তখন মুসলিম ও হিন্দুদের ধর্মকে আলাদা করতে পারছিলেন না। ভারতে তখন নীচুজাতের লোকেরাই মাংস খেতো, মুসলিমরাও খেতো। ধর্মীয় আচারের দিকে থেকে তারা ছিল 'প্যাগান্‌' হিন্দু মুসলিম আলাদা করে চেনা যেতো না. অবশ্য তিতুমীর, হাজী শরীয়তুল্লাহর মত অনেকেই এর বেশ আগেই মুসলিমদের সংস্কারের জন্য আন্দোলন করেছিলেন, যা পরবর্তীতে স্বাধীনতা আন্দোলনে শেষ হয়। তাদের আন্দোলন অনেকটাই ধর্মীয় বলয়ের মধ্য থেকে হলেও অনেক নিষ্পেষিত হিন্দুরাও এতে যোগ দিয়েছিল! কারন অত্যাচারীরা ছিল ইংরেজ ও তাদের নিয়োগকৃত রাজারা ছিলেন উচুজাতের হিন্দু! এতোসব বলার কারণ হল এই পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের উঠে আসাটা দেখা, তাহলেই বুঝা যাবে তাদের সামাজিক ও মানসিক অনগ্রসরতাকে। সেটা অনেক ঐতিহাসিক লেখকের লেখাতেই পাওয়া যাবে।

    আসল কথা হলো উনিশ শতকের শেষ পর্যন্ত হিন্দু  ও মুসলিমদের মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সবদিকে থেকেই পার্থক্য ছিল খুবই কম! আরো উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল ১৯০০ শতকের আগে ভারতীয় উপমহাদেশে বলতে গেলে কোন ধর্মীয় দাঙ্গা হয়নি। আহমেদাবাদে ১৭১৪-১৬ ও ১৭৫০ সালে কিছু বিক্ষিপ্ত দাঙ্গা হলেও সবচেয়ে ভয়াবহ হয় ১৯৪৬-৪৭ সালের দিকে। তবে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশী হয় ১৯২৩-২৬ সালের মধ্যে (http://www.isn.ethz.ch/isn/Digital-Library/Publications/Detail/?ots591=0c54e3b3-1e9c-be1e-2c24-a6a8c7060233&lng=en&id=29056)।  তবে উল্লেখ করার মত প্রথম দাঙ্গা হয় ১৯০৭ সালে বঙ্গভঙ্গের রেশ ধরে। রাজনীতি, অর্থনীতিতে একেবারে পিছিয়ে থাকা মুসলিমদের জন্য বঙ্গভঙ্গ ছিল নতুন প্রাণ পাবার মতো, অপরদিকে মুসলিমদের এই উন্থান ও ক্ষমতায় অংশ চাওয়া ছিল হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের জন্য আশংকার। পূর্ববঙ্গের মুসলিমরা একে সমর্থন দিলেও পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু অভিজাতরা এর বিরোধীতা করে, অনেক জাতীয়তাবাদী লেখাও প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য রবীন্দ্রনাথের 'আমার সোনার বাংলা' ও সেই সময়েই বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতা করেই লেখা (বাংলা উইকিপিডিয়া)। অপরদিকে মুসলিমরা অধিকতর অংশীদারিত্বের জন্য ১৯০৬ সালে ঢাকা'য় প্রতিষ্ঠা  করে মুসলিম লীগ।

    ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে বিচ্ছিন্ন কিছু পাওয়া যাবে না, যার ধারাবাহিকতা ৪৭ পর্যন্ত গড়িয়েছে। বঙ্গভঙ্গ ব্যর্থ হবার পর ৪০ এর দশকে বাঙ্গালী আলাদা হবার একটা চেষ্টা করেছিল (তবে এ নিয়ে আমার পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকয় আপাতত আনছি না). পূর্ববঙ্গে নেতৃত্বের অভাব ছিল, তার কারণও বলা হয়েছে। তবে স্যার সলিমুল্লাহসহ ঢাকার নবাবরা তাও কিছু করেছিল, কিন্তু সেটা একটা স্বাধিকার আদায়ের প্রাথমিক ক্ষেত্র তৈরীর জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। বঙ্গভঙ্গ পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের জন্য আশার আলো হয়ে এলেও তা অধিকতর শক্তিশালীদের প্রবল বিরোধীতার মুখে নিভে যায়। নয়তো ঢাকায় হয়তো মুসলিম লীগ গঠিত হতো না, পাকিস্তান নামক একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের অংশও হতে হতো না।
     

    1. 11.1
      মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

      একটা বিষয়ে দ্বিমত আছে।পতিতাবৃত্তি হিন্দু ধর্মে অবৈধ নয়।তার প্রমাণ বেশ্যার দরজার মাটি ছাড়া দূর্গাপূজা হয় না।তাই গান্ধী পতিতালয়ে গিয়ে ধর্মের আইন ভাঙেননি।

      1. 11.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        একটা বিষয়ে দ্বিমত আছে।পতিতাবৃত্তি হিন্দু ধর্মে অবৈধ নয়।তার প্রমাণ বেশ্যার দরজার মাটি ছাড়া দূর্গাপূজা হয় না।তাই গান্ধী পতিতালয়ে গিয়ে ধর্মের আইন ভাঙেননি।

        দূর্গা পুজা সর্ব ভারতীয় হিন্দুদের পুজা নয়, হাল আমলে এই পূজা চালু করা হয়েছে বর্ণ সম্প্রদায়ে বিভক্ত জাত পাতে আবদ্ধ হিন্দুদের মধ্যে ঐক্য গড়ার সেতু বন্ধন হিসাবে, এই পূজা প্রাচিন কাল থেকে সার্বজনীন ছিলনা। তাও এই পূজা শুধু বাংগালী হিন্দুদের মধ্যেই প্রচলিত আছে। কাজেই গান্ধী বাংগালী ছিলেন তাই উনার পুজাও দূর্গা ছিলনা। এবং উনার জাতপাত সংস্কার ইত্যাদী বাঙ্গালী হিন্দুদের চেয়ে পার্থক্য তো ছিল।
        তবে একটি জিনিস লক্ষ্য করুন ইতিহাস যদি পড়েন তাহলে দেখবেন যে অতীতে এই ভারতে হিন্দুদের মধ্যে কখনও কোন ঐক্য ছিলনা। এক সম্প্রাদায় অন্য সম্প্রদায়ের সাথে মারামারীতে নিয়োজীত থাকত। আজ সেই যায়গায় ওরা ঐক্য বদ্ধ হচ্ছে আর আমরা মুসলিমরা দিন দিন শুধু অনৈক্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি! ধন্যবাদ।

    2. 11.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      বঙ্গভঙ্গ পূর্ববঙ্গের মুসলিমদের জন্য আশার আলো হয়ে এলেও তা অধিকতর শক্তিশালীদের প্রবল বিরোধীতার মুখে নিভে যায়। নয়তো ঢাকায় হয়তো মুসলিম লীগ গঠিত হতো না, পাকিস্তান নামক একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের অংশও হতে হতো না।

       
      এই কথাটি যশোবন্ত সিং তাঁর জিন্না নামক বইতে উল্লেখ করেছেন। সেদিন যদি বঙ্গ ভঙ্গ রদ না হতো তাহলে ভারত ভাগ হতনা। আর এই সত্য থেকে আমার এই পোস্টের বক্তব্য সত্য বলে প্রমাণিত হয় যে ভারত ভাগের আসল নিউক্লিয়ার্স ছিলেন আমাদের বাংগালী মুসলিম রাজনীতিবিদ। আমি তাদের সেই দিনের সেই দুরদর্শী সিদ্ধান্ত নেবার জন্য ধন্যবাদ জনাই। কারণ তাদের সেই সিদ্ধান্তের কারণে আমরা আজ এক স্বাধীন দেশের নাগরিক হতে পারা গৌরব অর্জন করতে পেরছি। নতুন পৃথিবীর বুকে বাংলা ভাষী জাতী গোষ্ঠির কোন স্বাধীন দেশের জন্ম হতে পারতনা। আমরা ভারতীয় পরিচয়ে বেঁচে থাকতে হত।
      আর ২য় কথা হলো ৪০ এর লাহোর প্রস্থাবের সময় মুসলিম রাজনীতিবিদ্গণ চিন্তা করতে পারেন নাই যে, ভারত ভাগের সময় বাংলাও ভাগ হয়ে যাবে। যখন হিন্দুদের প্রবল বিরুধীতার মূখে বাংলা ভাগ অব্অধারিত হয়ে উঠল, তখন বাংলার মুসলিম নেতারা চরম হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন, কারণ পূর্ব বাংলার কাটামো তখন একটি স্বাধীন দেশ হবার মত ছিলনা। তখন পুর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকা ছিল একটি গ্রাম্য জনপদের মত , তখন আমাদের সিলেট শহরের চেয়ে ঢাকা ছিল অনেক অনুন্নত । মতিঝিল দিলখুশা ছিল জংগলম্য। তখন এই পূর্ব বংগে না ছিল কলকারখানা না ছিল ব্যবসা বাণিজ্য। শুধু  ছিল পশ্চিম বংগের কাচা মালের যোগানদার।  এই সব বিচার বিবেচনা করেই সুরওয়ার্দি চেয়েছিলেন বৃহৎ বাংলা ঘটনের। যখন জিন্নাহ বুঝতে পারলেন যে কলকাতা বাংলা ভাগে পাকিস্তানে আসবেনা তখন তিনিও পুর্ব বাংলাকে পাকিস্তানে অংশ বানাতে নারাজ ছিলেন। কিন্তু তখন বাংগালী মুসলিমদের অনুরোধে তা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পূর্ব বাংলার ভাগ্য ভাল যে, সেই সময়ে আমাদের সিলেট জিলা অখণ্ড আসাম থেকে পূর্ব বাংলার সাথে গণ ভোটের মাধ্যমে যোগ দিয়েছিল। নতুবা পূর্ব বাংলার অবস্থা আরও করুণ দাড়াত। সিলেট চা বাগান, কাঠ, বাশ, চুনা পাথর, সারীবালি, সিমেন্ট , গ্যাস, কমলা, আনারস ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদ ছিল বলেই বাংলাদেশকে গড়ে এই সব জিনিষ অন্য দেশ থেকে আমদানী করতে হয় নাই।
      আপনার কমেন্ট আমার এই ব্লগের মান উন্নত করেছে।  আমি বুঝতে পেরেছি যে আপনি ইতিহাসকে কেমন করে বিচার বিশ্লেষণ করার নিয়ম সেই ভাবেই করেছেন। কোন প্রকার আবেগকে ইতিহাস আলোচনার এনে মিশ্রণ করে নাই। ধন্যবাদ।

  20. 10
    shamima

     
     
    @ মুনিম

    আমার লেখায় আমি যে তথ্য তোলে ধরেছি তা বাস্তব ও চাক্ষুষ সত্য। এগুলো সত্যায়ণের প্রয়োজন নেই।

     
    সাধু! সাধু! সাধু! দীর্ঘ ৯২ বছর বৃটিশ শাসনামলের কথা আমাদের নেতারা যা বলেন নি আপনি আজ তা জেনে ফেলেছেন, অথচ আর কেউ জানেনা তা আপনাকে কে বললো।
     

    এই কথা ঠিক যে ৩০ লাখ মানুষকে মেরে পশ্চিম পাকিস্তানীরা ভুল করেছিল বলেই পাকিস্তান ভেংগে গেছে।

     
    আর যা’ই করুন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করবেন না।
     

    কলেজে পড়ুয়া বড় ভাইরা কলেজের লেখাপড়া ফেলে দিয়ে সভায় শুধু পূর্ব বনাম পশ্চিমের মধ্যে বৈষম্যের কথা জ্বালাময়ী ভাষায় উল্লেখ করতেন।

     
    পাকিস্তানের জন্য দুঃখ হয়, তাই না?
     
    সম্পূর্ণ লেখাটা বাংলাদেশের মানুষের মনে, নতুন প্রজন্মের মগজে সাম্প্রদায়ীক বিষ ছড়ানোর ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে লেখা।  
     
     
     

    1. 10.1
      সত্য সন্ধানী

      @শামিমা,

        আর যা’ই করুন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করবেন না।

       

       

      মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তো সবাই জানতে চায়  ম্যাডাম, আমার মত সবাই যাদের জন্ম হয়েছে মুক্তি যুদ্ধের এক যুগ পরে তারাও। তা কিভাবে সঠিক ইতিহাস জানা যাবে? বাম ঘেষাদের বই অথবা অগ্নি ঝরানো (!) লেখকদের লেখা পড়ে এবং অবশ্যই সেটা বিনা প্রশ্নে মেনে মেয়ার মাধ্যমে, নাকি প্রশ্ন করার অধিকার থাকবে? আমি  কিন্তু সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন করতে চাই।

      যদি প্রশ্ন করার স্বাধীনতা আমার না থাকে তবে আমি স্বাধীন দেশের কেমন ধরনের স্বাধীন নাগরিক সেটা জানিয়ে বাধিত করবেন। 

       

      বি.দ্র মুনিম ভাই,লেখাটি আজ আবার পড়লাম। আপনি এসব লেখা প্রায় ছেড়ে দিয়েছেন কেন? আরো লিখুন প্লিজ। আপনার কিছু লেখা আমার মধ্যে অনেক চিন্তার উদয় করেছে। অনেকেই অনেক প্রশ্ন করতে শিখবে এভাবে। 

       

  21. 9
    আহমাদুল্লাহ

    প্রিয় মুনীম ভাই! জানি না আপনি কি ভাববেন, আমি আপনার লেখাগুলোতে নতুনত্ব পাই। যেন ভিন্ন কিছু মাল মশলা থাকেই আপনার লেখনীতে। গতানুগতিকতার বাইরে ভাববার মতো মেধকবী এ সমাজে খুব বেশি নেই। মন খুলে দুআ করি, দয়াময় আপনার কলমকে কবুল করুন। শক্তি দিন আপনার লেখনীতে।

    1. 9.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়া আর কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।

  22. 8
    ভানু ভাস্কর

    পাকি ভাই, হেঁদু দাদা, ব্রিটিশ হুজুর- সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সব দাদা ভাইয়েরা সমান, চর্মচক্ষুতে পার্থক্য করা কঠিন। ৪৭ এর পরে আমাদের সব হবে মার্কা মিথ্যে কথা দিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে ক্ষমতা নেয়া-ই ছিল আসল কথা। ধর্মের নামে রাজনীতি  তথা মিথ্যের নীতি যারা তখন করেছিল তাদের মুখে থু ছেটাই, এখনো যারা করে তাদের মুখে থু!!! ওয়াক থু!
    দেশ বিভাগে বাংলাদেশ কিচ্ছু পায়নি, পাকি ভাইয়েরা একটা বোমার ল্যাবোরেটরি পেয়েছে অবশ্য।
    দেশ বিভাগ না হলে কি হত বলা মুসকিল। না হওয়াটা হত আমার চিন্তার সাথে মানানসইঃ বিশাল এক ভূখন্ড- ৫০-৬০ কোটি মুসলমান, ১০০ কোটি হিন্দু -- মন্দ কি।
    "দেশ বিভাগ না হলে মুসলিম দের যে কি হত!"- এই দুই নম্বরি কথা অনেকে বলে। মুসলিমদের এখনই বা কি হচ্ছে এখানে!!!
     

    1. 8.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ধন্যবাদ।

    2. 8.2
      সত্য সন্ধানী

      “দেশ বিভাগ না হলে মুসলিম দের যে কি হত!”

      তেমন কিছু হত না শুধু ব্রাহ্মন্যবাদী ভারতের হাত থেকে এই বাংলাদেশ অংশ স্বাধীন হতে পারত বলে মনে হয় না।

      মুসলমান রা ভারতে খুব সুখেই আছে। মোদী খমতায় আসার পরে মহারাষ্ট্র সহ বেশ কিছু রাজ্যে গরু হত্যা নিষিদ্ধ হয়ে গেছে।
      অবশ্য এতে আর সমস্যা কি? গরু খাওয়া তো আর ফরজ কাজ না!বরং এতে রামরাজ্যে দেবতার সাথে সনাতন ধর্মের ধর্মানুভুতিও সুরক্ষা করা হল তা কেন জানি এই যবন জাতি বুঝতে চায় না।

      যবন রা এখনো বোঝে না যে ভোটাধিকার আসলেই তাদের জন্য বোঝা। এটা না থাকলে অন্তত পচে যাওয়া কংগ্রেস তো আর ভোটের রাজনীতি করতে পারত না।

      সাইফ আলী খানের জমিকে শত্রু সম্পত্তি আইন দিয়ে আদালতের মাধ্যমে দখল করা যেতেই পারে;যবন কে দেশে থাকতে দিয়েছি এইত অনেক বেশি।
      অত:পর (কল্পনায়)
      দরকার হলে দাড়িতে ট্যাক্স বসাব যেমন রাজা গনেশ বসিয়েছিলেন এতে সমস্যা কি? যবনদের হয়ে যারা দেশ ভাগ করল তাদের তো বেশির ভাগের দাড়ি নেই কাজেই এতে ধর্মানুভুতি আহত হয় না। আসলে যদি কখনো এমন চিন্তা করিই আমরা সেটা তাদের ভালর জন্যেই করব। কোন ম্লেচ্ছ সন্ত্রাসী আর কোন ম্লেচ্ছ শান্তিপ্রিয় এটার একটা চিনহ থাকার দরকার আছে না?
      মাথা মোটা গুলি বোঝেই না যে আমরা তাদের খুব শুভাকাংখী;অশিক্ষিত বর্বর যবন জাতটা বুঝলই না কোনদিন। সবাই তো আর যবন হরিদাস না!

      1. 8.2.1
        সত্য সন্ধানী

        লিঙ্ক ১

        লিঙ্ক ২

  23. 7
    মিজানুর রহমান মিলন

    মুনিম ভাই, আপনার লেখাটি পড়লাম। আপনি পাকিস্থানীদের কেন আড়াল করার চেষ্ট করছেন ? আপনি কি বলতে চান পাকিস্থানীরা আমাদের শোষন করেনি ? হ্যাঁ, সেসময় বাঙ্গালীরা কপর্দকহীন ছিল এটা সত্য। কোটিপতি খুজে পাওয়া যেত না কিন্তু এ দোষটা কি বাঙ্গালীর ? নাকি ইংরেজ, কলকতার দাদা বাবু সহ পশ্চিম পাকিস্থানিদের ? আর উন্নয়নের কথা যদি বলতে চান তাহলে ব্রিটিশরা কি আমাদের দেশে উন্নয়ন করেনি ? আজকে আমি দেখতেছি আমাদের দেশে ব্রিটিশদের করা রেল, সেতু, ভবন তাদের করা রাস্তাঘাট তাহলে কি ব্রিটিশদের প্রশংসা করব ? কিন্তু সেই উন্নয়নের তুলনায় যদি আপনি তাদের শোষন ও নির্যাতনের তুলনা করেন তাহলে তো সেই তথাকথিত উন্নয়ন নস্যি। ঠিক পাকিস্থানীদের ক্ষেত্রেও তাই । তাদের করা কিছু উন্নয়রে চিত্র তুলে ধরে আমরা তাদের অপকর্মকে বৈধতা দিতে পারি না তবে হ্যা, এটা বলা যায় আমরা ৭১ এ স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে আমাদের উন্নয়ন কতটুকু হয়েছে ? কতটুকু হওয়ার কিছু ছিল ? কেন আমরা আমাদের দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন করতে পারি নি ? আমাদের আত্মসমালোচনা করতে হবে কিন্তু পাকিস্থানী আমলের তথাকথিত উন্নয়ন দিয়ে নয়। আশা করি বুঝতে পারছেন । ভাল থাকবেন।

    1. 7.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      মুনিম ভাই, আপনার লেখাটি পড়লাম। আপনি পাকিস্থানীদের কেন আড়াল করার চেষ্ট করছেন? আপনি কি বলতে চান পাকিস্থানীরা আমাদের শোষন করেনি?
      =এখানে আড়াল করার কি কথা হল? আমি একটি তথ্য উপস্থাপন করেছি। ইতিহাস হচ্ছে নিছক তথ্য। এটাকে কেউ অপব্যাখ্যা করে, কেউ সঠিক মূল্যায়ণ করে এবং ফ্যাসিস্টরা তা দিয়ে কেবল প্রোপাগাণ্ডা করে। আরও অনেক ধরনের লোক তা দিয়ে অনেক কিছু করে। তথ্য যেখানে রয়েছে, সেখানে এত কথা বলার কি থাকতে পারে ভাই?
      হ্যাঁ, সেসময় বাঙ্গালীরা কপর্দকহীন ছিল এটা সত্য। কোটিপতি খুজে পাওয়া যেত না কিন্তু এ দোষটা কি বাঙ্গালীর? নাকি ইংরেজ, কলকতার দাদা বাবু সহ পশ্চিম পাকিস্থানিদের?

      =১৯৪৭ যদি আপনি কপর্দকহীন থেকে থাকেন, তাহলে পাকিস্তানীরা আপনাকে কপর্দহীন করেনি। এটা যদি স্বীকার করেন তবে আলোচনার পার্থক্য অনেকটা কমিয়ে আসে। আর আগে আপনাকে কারা কারা শোষণ করেছিল সেটা অন্য কথা। আমি যদি শোষণের কান্নাকাটি করি তবে সাথে সাথে এটাও বিবেচনা করার দরকার আছে যে আমি কেন বার বার শোষিত হই, আমি কেন এত বেকুব।

      আপনার ছিলেন আর উন্নয়নের কথা যদি বলতে চান তাহলে ব্রিটিশরা কি আমাদের দেশে উন্নয়ন করেনি? আজকে আমি দেখতেছি আমাদের দেশে ব্রিটিশদের করা রেল, সেতু, ভবন তাদের করা রাস্তাঘাট তাহলে কি ব্রিটিশদের প্রশংসা করব?

      = ব্রিটিশরা যে রেল লাইন তৈরি করেছিল দেশ ভাগ হবার পর কি সেই লাইনগুলো তুলে নিয়েছিল? না, নেয় নি। লক্ষ্য করলে ব্রিটিসের সময়েও উন্নতি দেখা যাবে এবং ভাগের পরও বেশি না হয় কিংবা পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় অনেক কম হলেও কিছু না কিছু উন্নয়ন তো হয়েছিল। শুধু বিদ্বেষে অন্ধ হয়ে ঐতিহাসিক তথ্যকে চুপিয়ে রাখা কি ঠিক?
      কিন্তু সেই উন্নয়নের তুলনায় যদি আপনি তাদের শোষন ও নির্যাতনের তুলনা করেন তাহলে তো সেই তথাকথিত উন্নয়ন নস্যি। ঠিক পাকিস্থানীদের ক্ষেত্রেও তাই। তাদের করা কিছু উন্নয়্নের চিত্র তুলে ধরে আমরা তাদের অপকর্মকে বৈধতা দিতে পারি না

      = আমি তো কারো অপকর্মকে বৈধতা দেবার জন্য এই লেখা পোস্ট করিনাই। আপনি যেভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করছেন, তার প্রকৃতি দেখে কেন জানি মনে হচ্ছে এখানে কি জনসভার কোন বক্তিতা বিবৃতি দিচ্ছি? ঐতিহাসিক কোন বিষয় আলোচনা করলেই তা তথ্য ভিত্তিক আলোচনা করতে হবে।

      তবে হ্যা, এটা বলা যায় আমরা ৭১ এ স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে আমাদের উন্নয়ন কতটুকু হয়েছে ? কতটুকু হওয়ার কিছু ছিল? কেন আমরা আমাদের দেশের কাঙ্খিত উন্নয়ন করতে পারি নি?

      =এই প্রশ্নগুলো তো আমারও। দুই দশকে তো পাকিস্তানীরা আমাদের সবকিছু নিয়ে গেল কিন্তু তাদেকে তাড়িয়ে দেবার চার দশক পরও যদি সর্ব-সাধারণের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন না হয়ে থাকে তবে তা নিশ্চয় অন্য কোথাও আমাদের ব্যররথতা থেকে যাচ্ছে এবং এখন তা সবাইকে বিবেচনা করতে হবে।

      আমাদের আত্মসমালোচনা করতে হবে কিন্তু পাকিস্থানী আমলের তথাকথিত উন্নয়ন দিয়ে নয়। আশা করি বুঝতে পারছেন।

      = আমি তো বার বার উল্লেখ করছি যে এই লেখা পাকিস্তানী আমলের সাফাই গাওয়া নয় শুধু দেশ বিভাগের সাফাই গাওয়া। তবে অন্ধ বিদ্বেষ বুকে না ধারণ করে আত্মসমালোচনার স্থানেই আত্ম সমালোচনা করি, নিজের ব্যর্থতা অপরের ঘাড়ে চাপিয়ে লারে-লাপ্পা করি না ভাই,ওখন্ড ভারতে আমাদের উপর যা করা হয়েছিল তাঁর বদলা নেবার জন্য কোন জাতি ধর্মের নামে বিদ্বেষ রাখি না, প্রচারও করি না। অতীত যা হয়েছে তা ফিরে আসবেনা, আমরা আগামী দিনের জন্য যা করার করে যাব। আবারও বলছি -এই পোস্টটি পাকিস্তানীরা কি করেছিল বা না করেছিল তাঁর উপর নয়, এই পোস্টটি হচ্ছে ভারত ভাগ হওয়াতে আমরা বাংগালী মুসলিমরা লাভবান হয়েছি না ক্ষতি গ্রস্থ হয়েছি সেটিই তোলে ধরা। তাই অখণ্ড ভারতে আমরা কেমন ছিলাম এবং ভারত ভাগের ফলে আমরা কি পেয়েছিলাম তারই তথ্য উদ্গাটন করার চেষ্টা করছি। এই লেখস পশ্চিম পাকিস্তান এবং পূর্ব পাকিস্তানের ২৩ বছরের উপরে নয়। আপনিও ভাল থাকুন, ধন্যবাদ।

  24. 6
    Md. Aminur Islam Khokon

    Nice and informative article well done brother.

    1. 6.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  25. 5
    zafar idris

    চোরে শোনেনা ধর্মের কাহিনী/ দেশটা চালায় চাপাতি বাহিনী।
    ধন্যবাদ

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      বড় সত্য কথা বলেছেন। বর্তমান বিশ্ব আজ হয়ে পড়েছে শুধু কুপাকুপি, কারো কুপাকুপি দেখা যায় কারো দেখা যায় না। ধন্যবাদ।

  26. 4
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আপনার লেখার তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবো না -- ধরে নিচ্ছি ্‌আপনি সত্য কথাই লিখেছেন -- যদিও তথ্যের সূত্র দেননি। সেই দিকে না গিয়ে আপনার লেখার শেষ লাইনটা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।
    আপনিও জানেন নিশ্চয়ই আংশিক সত্য অনেক সময় মিথ্যার চেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। আংশিক সত্যের উপন্থাপনের কারনটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ন। আপনার এই আংশিক সত্যের উপস্থাপন যদি ১) আপনার বর্নিত "হিন্দু ভাই" দের দোষ দেখিয়ে পাকি ভাইদের দোষ আড়াল করতে চান -- সেইটা এক পয়েন্ট ২) আর যদি "ইসলামি পুনর্জাগরনের ইশারা" দিতে চান তবে অন্য পয়েন্ট।
    ইতিহাসে এই পাঠেও একটু ত্রুটি আছে -- পাকিস্তানীদের পক্ষে সাফাই গাওয়ার মতো মুসলিমলীগ, নেজামে ইসলামী, পিডিপি আর জামাত তখনও সক্রিয় ছিলো এবং একটা নির্বাচনে তাদের বিপুলভাবে পরাজিত হতে হয়েছে। আপনি আজ সেই প্রসংগ নতুন করে তুলে কাদের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাচ্ছেন -- সেইটাও বেশ চমকপ্রদ বটে। 
     

    1. 4.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনার লেখার তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবো না

       
      = জিয়াভাই  আপনার মন্তব্যের সুচনায় এই বাক্য উল্লেখের মাধ্যমে সে প্রশ্ন উত্থাপিত করে ফেলেছেন, তা  নিশ্চয় আপনার না বুঝার কথা নয়।  
       

      ধরে নিচ্ছি ‌আপনি সত্য কথাই লিখেছেন — যদিও তথ্যের সূত্র দেননি।

       
      =আপনি এমন ভাষায় কথা বলবেন কেন? আমি কি মিথ্যা লিখি, না আপনি আমাকে কোন মিথ্যায় পেয়েছেন যে এখন এমন ভাবে ধরে নিয়ে বা মনে করি বলে আমার কথা ‘সত্য’ হিসেবে মেনে নেবেন?  আপনি ধরে নেবেন কেন, আর আপনি কি সর্বদা আপনার সব লেখায় তথ্যসূত্র দিয়ে যান? আপনার লেখাগুলি একটু চেক করে দেখেন। আর আমি যে পাট নিয়ে এখানে প্রশ্ন উত্থাপন করেছি, তাঁর সত্যাসত্য বের করতে এমন কোন জটিল কিছু নয়। গুগুলসের সার্চে পাটের ইতিহাস কিংবা হিষ্ট্রি অব জুট লিখে সার্চে দিলে তেল পানি আলাদার মত নিরেট সত্য সামনে চলে আসবে।
       

      আপনিও জানেন নিশ্চয়ই আংশিক সত্য অনেক সময় মিথ্যার চেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

       
      এই বুঝটি একান্ত আপনার। আংশিক সত্য আপনাতে শুধু তার আপন সত্যের ‘আংশিক’ সত্যই দেখাতে পারে এবং সত্য বুঝতে সহায়ক অবলম্বন হতে পারে। আবার কথাটা এভাবেও হতে পারে, যারা সত্যকে ভয় পায়, তারা আংশিক সত্যকেও ভয় পায়। একটি ভাল বস্তুর ক্ষুদ্র অংশও ভাল। কিন্তু কথা হচ্ছে যে এই লেখাকে আপনি ‘আংশিক-সত্য’ বলছেন,  সেটার ‘মূল সত্যটি’ কি, তা’ই তো প্রথমে দেখাবেন, তারপরই কারো কথাকে আংশিক বলে উল্লেখ করবেন। দেখান তো, দেখি সেই সত্যটা  কি?
       

      আংশিক সত্যের উপন্থাপনের কারনটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ন

       
      = যা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল তা কি ‘মিথ্যার চেয়ে ভয়ংকর’  হওয়ার কারণে, না তার আপন সত্যের উপাদান হিসেবে দেখানোর কারণে?
       

       আপনার এই আংশিক সত্যের উপস্থাপন যদি ১) আপনার বর্ণিত "হিন্দু ভাই" দের দোষ দেখিয়ে পাকি ভাইদের দোষ আড়াল করতে চান — সেইটা এক পয়েন্ট ২) আর যদি "ইসলামি পুনর্জাগরনের ইশারা" দিতে চান তবে অন্য পয়েন্ট।

       
       =প্রথমত ‘আংশিক’ কথাটা আপনার নিজের, ভয়ংকরও আপনার একান্ত নিজের বুঝ। তাছাড়া যে বিষয় আমি উপস্থাপন করেছি সেই বিষয় নিয়ে ২ মিনিট ব্যয় করে ভাবনার মত আপনার সময় না থাকে এবং এই বিষয়টির  উপর আপনি স্থিরীকৃত কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারছেন না,তাহলে শুধু যদি এই হয়, যদি সেই হয় বলে এই নিয়ে অনিশ্চিত প্রশ্ন বা অভিযোগ উপস্থাপন কেন করছেন?
       
      আমার লেখায় যে আমি যে তথ্য তোলে ধরেছি তা বাস্তব ও চাক্ষুষ সত্য। এগুলো সত্যায়ণের প্রয়োজন নেই। যেসব কারখানা ও মিলের কথা  উল্লেখ করেছি , সেগুলোর অস্তিত্ব যদি ভারত বিভাগের পূর্বেই থেকে থাকে,  তবে সেই তথ্য তো আপনিই উপস্থাপন করে  আমার তথ্যের অসারতা প্রমাণ করবেন।
       
      একটি কথা পরিস্কার করে বলছি- আমার এই লেখার উদ্দেশ্য প্রকৃত সত্য তোলে ধরা। এখানে নায়ককে ভিলেন আর ভিলেনকে নায়ক বানানোর কোন উদ্দেশ্য কাজ করছেনা। আর এই সব লিখে আমি কোন রাজনৈতিক ফায়দাও হাসিল করার কোন বাসনা নাই। আমি শুধু সত্য প্রকাশ করছি এর জন্য যে, যারা বলেন থাকেন ভারত বিভাগ ভুল ছিল, তাদের দাবী যে সত্য নয় তা প্রমাণ করতে। ভারত বিভাগ, পাকিস্তান, আর পাকিস্তানের ২৪ বছর কিন্তু এক নয়, এই বিষয়টি খুব খেয়াল করে পরিমাপ করতে পারলে সব সত্য বুঝা সহজ হবে। ১৯৭১ সালে আপামর জনতা কত ত্যাগ স্বীকার করেছিল, একটি সামাজিক ন্যায় বিচার ভিত্তিক স্বাধীন দেশের জন্য, আপামর জনতা কিন্তু দেশ স্বাধীন করে দিয়েছিল, দেশকে একটি রাজনৈতিক দলের হাতে তোলে দিয়েছিল, এর পর আজ দীর্ঘ ৪১ বছর পার হয়ে গেছে কিন্তু দেশ কি সেই সামাজিক ন্যায় বিচার কায়েম করতে পেরেছে? এখন আপনার কাছে প্রশ্ন- এই যে ব্যররথতা তাঁর জন্য কে দায়ী? সেই আপামর জনতা যারা দেশ স্বাধীন করেছিল? না এই ৪১ বছরে যারা শাসন করেছে এই দেশ তারা? শাসকদের ব্যররথতার জন্য কি আপামর জনতার উদ্দেশ্য এবং কর্ম ভুল হবে?
       
      ঠিক সেই ৪০ এর লাহোর প্রস্তাব ৪৬ গণভোটের মাধ্যমে আমাদের বাবা দাদারা ভারত ভাগের এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তা বাস্তবায়ন করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তিতে আয়ুব বা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনৈতিক নেতাদের আঞ্চলিকতার কারণে, আমাদের সাথে খারপ ব্যবহার করার দ্যায় দায়িত্ব কোন ভাবে যারা ভারত ভাগ করেছিলেন তাদের উপর বর্তায় না। তাদের স্বপনে ২৪ বছরের পাকিস্তানের যে হাল ছিল তা ছিলনা। আমি আবারও বলছি আমি ২৪ বছরে অন্যায় জুলুমকে আড়াল করতে এই ইতিহাস নিয়ে লেখছিনা, আমি শুধু ভারত ভাগ যে ভুল ছিলনা তা তোলে ধরতে  এই ভাগের জন্য বাংগালি মুসলিমরা যে সব চেয়ে বেশি লাভবান হয়েছিল তা প্রমাণ করতে এই লিখা লিখছি এবং আগামীতে এই বিষয়ে আরো লিখে যাবার ইচ্ছা আছে।
       
      ধন্যবাদ।

      1. 4.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        সত্য কথা বলার যে ডিসক্লেইমারটা দিলেন তার জন্যেই এই কথাগুলো বলা। আর পূর্নাঙ্গ সত্য হলো -- পাকিস্তানী পুঁজিপতিরা কোন চ্যারিটি করার জন্যে বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তানে) পাটকল স্থাপন করেনি -- সোজা হিসাবে তাদের ব্যবসার সর্বোচ্চ মুনাফা করার জন্যেই করেছিলো। আজ যেমন গার্মেন্টস গড়ে উঠছে শুধুমাত্র সস্তা শ্রমের জন্যে -- তেমনি পাটকলগুলো কাঁচামাল আর শ্রমিকের জন্যেই এখানে গড়ে তুলেছিলো। তার কোন মাহাত্য বর্ণনার দরকার ছিলো না। এতে প্রমানিত হয়না ভারত থেকে আলাদা হয়ে খুব ভাল কাজ হয়েছিলো। 
         
        আর পাট এবং পাটজাত দ্রব্য ছিলো পাকিস্তানে প্রধান রপ্তানীদ্রব্য -- অর্জিত বৈদেশিকমুদ্রাগুলো চলে যেতো পশ্চিমের উন্নয়নের জন্যেই -- আপনার লেখায় সত্যের সেই অংশটা আসেনি। 
         
        যাই হোক -- মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ প্রান দিয়ে প্রমান করেছে পাকিস্তান নামক একটা কিম্ভুদকিমারার রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাঙালীদের যাওয়া ছিলো একটা বিরাট ভুল। -- এর পর আর কি প্রমান চান!

        আমাদের পূর্বপুরুষের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো পূর্ববাংলার আলাদা স্বাধীনতার দাবী না করা। ধর্মের নামে একদল প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে আমাদের আজও সেই বোধা বহন করে চলতে হচ্ছে। ৪৭ সালেই আমরা একটা আলাদা রাষ্ট্র পেতে পারতাম। কিন্তু মুসলিম জাতির নামে প্রতারনার কারনেই তা হয়নি।

         
         

        1. 4.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          তাহলে যে সত্যটি তুলে ধরেছিলাম, সেটা সত্যই ছিল এবং ভয়ানক ছিল না এটাই প্রতিষ্ঠিত হল।

          আর পূর্নাঙ্গ সত্য হলো — পাকিস্তানী পুঁজিপতিরা কোন চ্যারিটি করার জন্যে বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তানে) পাটকল স্থাপন করেনি — সোজা হিসাবে তাদের ব্যবসার সর্বোচ্চ মুনাফা করার জন্যেই করেছিলো।

          বিশ্বের কোথাও কোন ব্যবসা চ্যারিটি করার জন্য করা হয়না। এমন কি ইসলাম ধর্মেও সৎ ভাবে ব্যবসা করার নির্দেশ দিয়েছে চ্যারিটির জন্য ব্যবসা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়নাই। তাই ব্যবসা করা কোন গহির্ত কাজ নয়।
           

           আজ যেমন গার্মেন্টস গড়ে উঠছে শুধুমাত্র সস্তা শ্রমের জন্যে — তেমনি পাটকলগুলো কাঁচামাল আর শ্রমিকের জন্যেই এখানে গড়ে তুলেছিলো। তার কোন মাহাত্য বর্ণনার দরকার ছিলো না।

          এখানে আপনি পুরো সত্য কথা বলছেন না। এরা শুধু সস্তা শ্রমের জন্য এখানে কল গুলো স্থাপন করে নাই। যেহেতু আমাদের এখানে কোন মিল ছিলনা তাই ভারত ভাগ হবার পরও আমাদের কাচা পাটকে প্রসেসিং করতে ভারতে পাঠানো ছাড়া কোন পথ ছিলনা। সে কারণে দেশ ভাগ হবার পরও পাট থেকে বিবিধ লাভ থেকে আমাদের পূর্ব বাংলা বঞ্চিত ছিল। যার কারণে আমাদের দেশে মিল স্থাপন জরুরী হয়ে পড়ে। সেই সময় বাংগালী মুসলিমদের সেই মিল করার মত মুলধন ছিলনা, তাই বাস্তব অবস্থার সাড়া দিয়েই তারা এসেছিল , মিল স্থাপন করেছিল। যার ফলে এখানে কর্ম সংস্থান হয়েছিল। কম পারিশ্রমিক দিক বা না দিক, এইটি সত্য তো এই সব মিল গুলোতে যারা কাজ করত তারা মুফতে বা তাদেরকে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করায় নাই।
          পুঁজিপতিরা কেন পুঁজি নিয়োগ করে সেটা অন্য আলোচনা। বাঙালী পুঁজিপতিরাও কি পাকিস্তানীদের  চেয়ে ভিন্ন কিছু করছেন বলে দেখা যাচ্ছে? পুঁজিপতিরা আপনাতেই এক শ্রেণী, এটাও ভিন্ন কথা। কিন্তু আজ যেকোনো পুঁজিপতিকে আমরা পায়ে তেল দিয়ে আনতে হচ্ছে, কেননা সোনা দিয়া আমরা রাস্তা তৈরি করতে পারি নি,  আমাদেরকে প্রতারিত করেছে এবং আজো প্রতারিত করে যাচ্ছে। তাছাড়া পুঁজিবাদ ও শ্রম-সম্পর্ক এই পোস্টের মূল কথা নয়, যেদিন সেই আলোচনা প্রসঙ্গে পোস্ট আসবে সেদিন সে আলোচনা হতে পারে।

           এতে প্রমানিত হয়না ভারত থেকে আলাদা হয়ে খুব ভাল কাজ হয়েছিলো।

          তাঁর মানে ভারতের সাথে থাকাটাই ভাল ছিল! সেটি আপনার একান্ত ভাবনা। তাই এই ভাবনাকে গণ মানুষের ভাবনা ভাবার দরকার নাই। আজকে প্রেক্ষাপটে এই ভাবে ভাবতে পারলে সেই সময় এই প্রেক্ষাপট ছিলনা।
           

          আর পাট এবং পাটজাত দ্রব্য ছিলো পাকিস্তানে প্রধান রপ্তানীদ্রব্য — অর্জিত বৈদেশিকমুদ্রাগুলো চলে যেতো পশ্চিমের উন্নয়নের জন্যেই — আপনার লেখায় সত্যের সেই অংশটা আসেনি। 
           

          এই অভিযোগটি সেই ৬৬ সাল থেকেই শুনে আসছি, আমি তো আর এই অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করে আমার পোস্টে উল্লেখ করিনাই। আর এই অভিযোগটি স্বাধীনতা উত্তর সকল প্রজন্ম ভালভাবে জানে। তাই জানা  বিষয়কে নতুন করে জানাবার প্রয়োজন বোধ করিনাই। তাই আমার এই পোস্টে উল্লেখ করিনাই। জানা কথা উল্লেখ না করলেই সত্য ছুপানো হয় না।  এই কথা জানা তাই যে সত্য জানা নাই সেইটি আমার এই পোস্টে প্রকাশ করেছি মাত্র। আজকে তো শুধু পাট দিয়ে শুরু করেছি আশা আছে বাকি অজানা কথা গুলো সামনে নিয়ে আসার, যদি আল্লাহর মর্জি হয় তাহলে সেই চেষ্টা আমি করে যাব।
          আচ্ছা কিছু প্রশ্ন আপনার কাছে রাখছি উত্তর দিলে খুশী হব। ঐ সব কল মালিকরা কি বিনা পয়সায় পাট চাষিদের কাছ থেকে পাট নিয়ে যেত? ঐ সব মালিকরা কি তাদের কলে কর্মরত শ্রমীকদেরকে তাদের কাজের মজুরী কি দিতনা? ঐ সব মালিকরা কি দেশের আইন অনুযায়ী ট্যাক্স খাজনা পরিশোধ করতনা? যদি করে থাকে তাহলে ঐ টাকা কোথায় থেকে আসত? এই টাকা কি সেই অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা থেকে প্রাপ্ত ছিলনা? ঐ সময় কি লেটার অব ক্রেডিট না খোলেই নগদ ডলার ক্রেতারা মিল মালিকের হাতে তোলে দিত? না ঐ বৈদেশিক মুদ্রা সরকারী ব্যাংকের মাধ্যমে আসত? যদি ব্যাংকের মাধ্যমে আসতো তা সেই ব্যাংক কে নিয়ন্ত্রণ করত? সরকার না এই মিল মালিকরা? যদি সরকার নিয়ন্ত্রণ করত তাহলে সেই প্রাপ্ত টাকা ব্যয়ের জন্য মিল মালিকরা কি ভাবে দায়ী হবে?
          আমি পাকিস্তানের বিভিন্ন সরকার যে বৈষম্য আচরণ করেছিল তাঁর বিরুদ্ধে তো কোন প্রশ্ন তোলি নাই। আমি শুধু ফোকাস করছি ভারত ভাগের ফলে বাংলার মুসলিমদের ভাগ্যে কি প্রাপ্ত হয়েছিল।

          যাই হোক — মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ মানুষ প্রান দিয়ে প্রমান করেছে পাকিস্তান নামক একটা কিম্ভুদকিমারার রাষ্ট্রব্যবস্থায় বাঙালীদের যাওয়া ছিলো একটা বিরাট ভুল। — এর পর আর কি প্রমান চান!

          আপনি জোর করে বললে তো ইতিহাসকে বদলাতে পারবেন না। এই কথা ঠিক যে ৩০ লাখ মানুষকে মেরে পশ্চিম পাকিস্তানীরা ভুল করেছিল বলেই পাকিস্তান ভেংগে গেছে কিন্তু তাঁর মানে এই নয় যে বাংগালী মুসসলিমদের এক পাকিস্তানে যাওয়া ভুল ছিল। ইতিহাস পড়ে দেখুন, যদি ভারত ভাগ না হতো তাহলে আজকের পাকিস্তান যে অঞ্চল নিয়ে গঠিত সেই অঞ্চলের মুসলিমরা তারা তাদের রাজ্য বা প্রদেশ শাসন করতে পারত। তারা হিন্দুদের কাছে নত হয়ে চলতে হত না, কারণ তারা মেজরিটি ছিল, আর তারা সেখানের জায়গীরদার জমিদার ছিল এবং তাদের প্রজারাও মুসলিম ছিল তাই সেখানের লোক জন অর্থনৈতিক ভাবে শোষিত হলেও আমাদের পূর্ব বাংলার মুসলিমদের মত ধর্মীয় এবং সামাজিক দিক থেকে বঞ্চনার শিকার ছিলনা। তাই পাকিস্তান না হলেও তাদের হারানোর কোন কিছু ছিলনা। কিন্তু আমাদের ছিল। আমাদের মানুষের মত মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকার উপায় ছিলনা। তাই দেশ ভাগ বাংগালী মুসলিমদের স্বার্থেই হয়েছিল।

          আমাদের পূর্বপুরুষের সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো পূর্ববাংলার আলাদা স্বাধীনতার দাবী না করা।

          কেন তখন আলাদা ভাবে পূর্ব বাংলাকে স্বাধীন করা সম্ভব ছিলনা তাঁর জবাব এই ক্ষুদ্র পরিষয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। এই উত্তর দিতে হলে আলাদা পোস্ট দিতে হবে। চেষ্টা করব ।

          ধর্মের নামে একদল প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে আমাদের আজও সেই বোধা বহন করে চলতে হচ্ছে। ৪৭ সালেই আমরা একটা আলাদা রাষ্ট্র পেতে পারতাম। কিন্তু মুসলিম জাতির নামে প্রতারনার কারনেই তা হয়নি।

           এখানে আপনি সত্য ইতিহাস বলেন নাই। দেশ ভাগ হয়েছিল ধর্মস্থান কায়েমের জন্য নয়। দেশ ভাগ হয়েছিল এর জন্য যে, রাজনীতিতে পিছিয়ে পড়া মুসলিমরা যখন রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ল তখন তারা বুঝতে পেরেছিল গণতান্ত্রীক রীতি নীতে দেশ পরিচালিত হয় ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন করে। এবং সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটের মাধ্যমেই সরকার নির্বাচন হয়। কাজেই হিসাব করে বুঝা গিয়েছিল শতকরা দশ ভাগ মুসলিমরা কখনও সে সরকার গঠণ করতে পারবেনা। বৃটিশ প্রভূর পরিবর্তে হিন্দু প্রভু লাভ ছাড়া আর কিছু হবেনা সেই স্বাধীন ভারতে। বৃটিশদের সাথে মুসলিমদের রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও সামাজিক বা ধর্মীয় বিরোধছিলনা। কিন্তু হিন্দুদের সাথে সব ধরনের বিরোধ ছিল। মুসলিমরা প্রথম দেশ ভাগের ইচ্ছা না করে শুধু পৃথক নির্বাচন দাবী করেছিল। যা শুনে জহর লাল নেহেরুর বাবা মতিলাল নেহেরু বলেছিলেন- যদি মুসলিমরা কংগ্রেসের কথা না মানে পৃথক নির্বাচন দাবী করে তাহলে তাদেরকে জুতা মেরে আরবের খেজুর গাছের তলে পাঠিয়ে দিবেন। এবং এরপর থেকেই ভারতের মুসলিমরা বুঝতে পারে যে, তাদের সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক মুক্তির জন্য আলাদা দেশের প্রয়োজন, তাই তারা সেই দাবি তোলেছিল। তাদের দাবী ছিল রাজনৈতিক তাদের দাবী ছিলনা সেই দেশ হবে ধর্মস্থান। এবং যারা এই সময়ে এই দাবী আদায়ের নেতৃত্বে ছিলেন তারা কেউই ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না। তারা বৃটিশদের সেকুলার শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। কাজেই তারা কোন ভাবেই ধর্মস্থান বানানোর পরিকল্পনা নেন নাই। আর যারা পাকিস্তানকে ধর্মস্থান বানাতে চাইতেন তারা কখনও পাকিস্তানের রাজনীতে সরকার ঘটন করতে পারেন নাই। কাজেই পাকিস্তান যে একটি মুসলিম জাতীয়তার ভিত্তিতে ধর্মরাস্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা দাবী করা ভুল। আর পাকিস্তানের নাগরিক পরিচয় মুসলিম জাতিয়তা ছিলনা ছিল-পাকিস্তানী।
          যখন একটি ভূখন্ডে কোন একটি মানব সম্প্রদায় অন্য একটি মানব সম্প্রদায় দ্বারা শোষিত হন বা অত্যাচারিত হন তখন স্বাভাবিক নিয়মেই অত্যাচারিত মানব সম্প্রদায় প্রতিবাদি হয়ে উঠে তখন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়, আর সেটি হতে পারে, সেই দ্বন্ধ যখন অঞ্চলে অঞ্চলের সাথে হতে পারে সেই দ্বন্ধ বর্ণে বর্ণে হতে পারে, সে দ্বন্ধ শ্রেণীতে শ্রেণিতে যেমন হতে পারে তেমন করে দুই ধর্মের মানুষদের মধ্যে হতে পারে। আর যখন দুই ধর্মের মধ্যে হবে তখন সবাই ধর্ম ভিত্তিক ঐক্য দিয়েই তা মোকাবেলা করবে এইটিই স্বাভাবিক নীতিরীতি। কাজেই ৪৭ যেটি হয়েছিল সেটি স্বাভাবিক ছিল সে সময় আমাদের আন্দোলন ধর্মীয় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিল। সেই বিভাজনের পর পর পাকিস্তানকে মুসলিম মেজরিটির দেশ গঠণ করলেও সেই দেশের মানুষদের পরিচয় মুসলিম ছিলনা। পাকিস্তানের জনক বলেছিলেন, যারা পাকিস্তানে বাস করবে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষ তাদের জাতিয়তা পাকিস্তানী হবে।  কাজেই কেউ দেশ ভাগ প্রতারণার মাধ্যমে হয় নাই।  
          ১৯৪৭ সালে আলাদা ভাবে বাংলাদেশ গঠন হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন,সেভাগ কি ভাবে সম্ভব হত? আমাদের সুরওয়ার্দী তো চেষ্টা করেছিলেন বৃহত বাংলা করার জন্য তা তো ব্যর্থ হয়েছিল সেই ৬০%৪০% পারসেন্টের কারণে।  আর পুর্ব বাংলা আলাদা করা কি ইসলাম ও মুসলিম কার্ড ছাড়া সেই কাজ সম্ভব হত? আলাদা হওয়ার প্রসঙ্গ ও ভিত্তিটা কি ছিল? আপনার দৃষ্টিতে আপনার পূর্বপুরুষরা ভুল মনে হলেও আমার দৃষ্টিতে তারা ভুল ছিলেন না। যারা এখন ভারতের সাথে fসিমান্ত ছাড়া একত্রিত হওয়ার বাসনা পোষণ করেন, আপনি তাদের বাসনায় একত্রিত হলেও আমার বলার কিছু নেই। আমাদের পূর্বপুরুষ ভারতের শক্তির মোকাবেলায় সেই স্বাধীনতাকে ‘অর্থবহ’ স্বাধীনতা হবে বলে মনে করতেন না, এবং তাদের ধারণা অগ্রীমভাবে কত যে সত্য ছিল সেটা আমরা এখন তিলে তিলে অনুভব করছি, স্বাধীনতা শুধু ফ্লাগ তুলে নাচানাচি করতে পারার নাম নয়। সেই অনুভূতি ও অবজারভেশন আপনার ভিন্ন হলে আমার বলার কিছু নেই। ধন্যবাদ।  
           

  27. 3
    motahiruddinahmedsunny

    নবাব সিরাজের পতনের পর ইংরেজদের সাথে দালালি করে হিন্দুরা এই ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানদের তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিনত করে ছিল !! এই কথা গুলি এই ইতিহাস গুলি এখন আমাদের মিডিয়া ও টকশো ,তে আলোচিত হয় না ————-- পড়ে খুব ভাল লাগল , জাযাকাল্লাহুলখাইরান মুনিম ভাই , আপনার লেখায় ইসলামি পুনর্জাগরনের ইশারা পাওয়া যায় ।

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      শুধু হিন্দুরা নয় সাথে মুসলিমরাও ছিল। শোষকের যেমন জাত হয়না তেমন করে বেঈমানদের কোন ধর্ম থাকেনা। ধন্যবাদ।

  28. 2
    আহমেদ শরীফ

    আশা করেছিলাম 'মুসলিম জাতি' শীর্ষক কোন পোস্ট পাওয়ার, যেরকম ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
    বিশদ তথ্যনির্ভর একটি বিশ্লেষণাত্মক লেখা যাতে আলোচনার সুযোগ পাওয়া যাবে …  এটি কি সেই প্রতিক্ষীত পোস্টটি নয় তাহলে ?
     

    1. 2.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      মানুষের মনে কত ধরণের আশা আসতে পারে, তবে তা পুর্ণ হবে কি হবেনা আল্লাহর হাতে। 

      1. 2.1.1
        আহমেদ শরীফ

        তাই তো দেখছি  …

        1. 2.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          যাক আপনার এই ধরণের অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তর দিতে চাইনাই তাই এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করেছিলাম তবে ভেবে দেখলাম না এড়িয়ে গিয়ে যা ভাবছি তা বলে দেওয়া ভাল।
           
          আচ্ছা শরিফ ভাই আপনি কি আমার এই পোস্টে মুসলিম জাতীয়তাবাদের কিছু দেখতে পেয়েছেন?  আমি যদি অন্য কোথাও জাতীয়তাবাদের উপর লেখার কোনো ইঙ্গিত দিয়ে থাকি, তাহলে কি পরবর্তীতে আমি যে কোনো বিষয়ে লিখলেই আপনি সেই পোস্টে এসেই “এটি কি সেই প্রতিক্ষীত পোস্টটি নয় তাহলে?’ প্রশ্ন উত্থাপন করবেন? আমার আমার কাছে আমার এই লেখার সাথে  আপনারএই প্রশ্নের কোন মিল দেখতে পাচ্ছি না। তবে অবশ্য আপনার স্বাধীনতা আছে যে, কোনো  একটি লেখা দেখে যা ইচ্ছা ভাববার এবং অন্যকে যে কোন প্রশ্ন করার, সেটা একান্ত আপনার ব্যাপার। আমি দুঃখিত! ধন্যবাদ।  
           
           

        2. আহমেদ শরীফ

          আপনি দুঃখ পান সে উদ্দেশ্যে আমি কমেন্টটা করিনি বরং আপনি জ্বলে ওঠেন এবং আগের জমানার মত একটি তথ্যসমৃদ্ধ এপিক পোস্ট নামান সেটাই ছিল মহতি উদ্দেশ্যে। যাই হোক এই প্রসঙ্গেও আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।

          বি হ্যাপি এন্ড টেক ইট ইজি।

  29. 1
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    ভালো লিখেছেন ভাইজান ।আপনার কিন্তু রাজাকার ট্যাগ খাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

    1. 1.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      এর জন্য কি সত্য বলা বাদ দিতে হবে? আমি যা বলেছি  তা যদি সত্য না হয়ে থাকে তাহলে প্রমাণ করুন ।  ধন্যবাদ।

      1. 1.1.1
        মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

        ভাইজান,আপনি যা বলেছেন,তা শতভাগ সত্য।কিন্তু এই দেশে সত্য কথা বলা মানেই কোনো উপাধি পেয়ে যাওয়া।সত্য কথাগুলো নির্ভয়ে লেখার জন্য আপনাকে থাম্বস আপ্‌।

Leave a Reply

Your email address will not be published.