«

»

Mar ৩১

চেতনা ৪৭ চেতনা ৭১ আমার ভার্সন!!

ভারত বাংলাদেশ অভিন্ন সীমান্ত নিয়ে অবস্থান হলেও দেশ ২টির সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের চিন্তা চেতনা ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং চর্চিত কালচারের মধ্য আছে অনেক ব্যবধান। উদাহরণ স্বরূপ- ভারতে সম্ভাষণের ভাষা হিসেবে নমস্তে বা নমস্কার সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়। এটা তাঁদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়ে আছে। বাংলাদেশে সম্বোধনের ভাষা হিসেবে আসসালামু আলাইকুম ব্যবহৃত হয়। এটা আবার বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত সম্ভাষণের রীতি। কথাটি আরবি হলেও এর অর্থ অত্যন্ত সুন্দর । এর অর্থ -আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। দুই দেশের গণ মানুষের প্রচলিত সম্ভাষণ রীতি তাঁদের ধর্মীয় চেতনাকে উদ্ভব হলেও সেই সম্ভাষণের মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামি আবিষ্কারের কোনও সুযোগ নেই। ধর্ম সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যায় এবং সংস্কৃতি ধর্মের সঙ্গে মিশে যায়।এতেও দূষণীয় কিছু খোঁজার সুযোগ নেই। কারণ এটা আমাদের এবং তাদের জাতীয় রীতি। এটা আমাদের পাশাপাশি অবস্থানরত ২ দেশের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছে। এই ভিন্নতার দ্বারা প্রমাণ করে যে আমরা অভিন্ন সীমান্ত এক আকাশ এক বাতাস গ্রহণ করলেও আমরা অভিন্ন জাতি নই।
যদি আমরা অভিন্ন জাতি হতাম তাহলে ৪৭ এ ভাগ হতাম না। যারা ঐ ভাগকে দুঃখ জনক বলেন কিংবা ভুল বলেন তাঁরা বাস্তবতা ভুলে থাকতে চান বা ইচ্ছা করে ঐ ভাগের অনির্বাযতাকে ভুল ভাবে মূল্যায়ন করেন। কারণ বাস্তব সত্য যে ঐ ভাগ কোন চেঙ্গিস, হালাকু, নাদির শাহ, হিটলার, মুসলিনি, লেনিন, স্টেলিন, মাওসেতুং কিংবা ইয়াহিয়া, টিক্কা অস্ত্র প্রয়োগের দ্বারা চাপিয়ে দেয়নি। ৪৭ এর ভাগ হয়েছিল শান্তি পূর্ণ ভাবে সম্পূর্ণ ভাবে গণতান্ত্রিক পন্থায় নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণের রায় দ্বারা।
আমাদের সমাজে রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে এখন ইঞ্জিনিয়ারিং বলে একটি শব্দ প্রচলিত হয়েছে যা বেশি করে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বলে শুনা যায়। ইলেকশনের মত কেউ কেউ আমাদের জাতীয় ইতিহাসেও ইতিহাস ইঞ্জিনিয়ারিং করতে নেমে পড়েছেন। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ফলে জাতি কি মাশুল দিচ্ছে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি, এর চেয়ে বেশি মাশুল দিতে হবে ইতিহাস ইঞ্জিনিয়ারিং এর ফলে। কথিত শাহবাগের জাগরণকে সামনে রেখে কেউ কেউ দাবী করছেন যে, এই কথিত (আবেগ প্রসূত! তারুণ্যের উচ্ছ্বাস! অতি বিপ্লবী চেতনা!) শাহবাগ জাগরণ নাকি ৪৭ এর চেতনাকে দাফন করে ৭১এর চেতনার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়েছে!
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নেয়ার মত ইতিহাসে ইঞ্জিনিয়ারিং করে সাময়িক ভাবে কিছু তারুণ্যকে বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হলেও ঘটে যাওয়া ইতিহাসকে এবং সেই ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রভাবকে চিরতরে ডিলিট করা সম্ভব হবেনা। এই তরুণরা যখন পরিপূর্ণ বয়সে উপনীত হবে তখন তাঁরা সেই বাস্তবতা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে।

ইতিহাস ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বারা যে ইতিহাস আমাদের তরুণদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ ভাবে তোলে ধরা হয় না তা হচ্ছে যে, ১৯৪৬-এর নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ যারা এই আজকের শাহবাগের প্রজন্মে বাবার বাবা মানে দাদারা ব্যাপকভাবে পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দিয়েছিল। এত ব্যাপকভাবে ভোট পিতামহরা দিয়েছিলেন যে খোদ বর্তমান পাকিস্তানের পাকিস্তানী পিতামহরা পাকিস্তানের পক্ষে তত ভোট দেননি। কার্যত বাংলাদেশের মানুষের নিরঙ্কুশ সমর্থনের কারণেই পাকিস্তান অনিবার্য হয়ে ওঠে। বাংলাদেশের প্রবাদ প্রতিম নেতারা পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। ১৯৪০ সালে শের-এ-বাংলা একে ফজলুল হক লাহোরে মুসলিম লীগের অধিবেশনে পাকিস্তান প্রস্তাব উত্থাপন করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান আন্দোলনের পক্ষে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। (শেখ মুজিবুর রহমানের সেদিনকার ভূমিকা তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে সবিস্তারে উল্লিখিত) কিন্তু আবুল হাশেম প্রমুখ বাঙ্গালী নেতাদের অ সময়োচিত অতি বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী আদলে রাষ্ট্র পরিচালনার অভিলাষ প্রকাশ হয়ে পড়ায় সদ্য ক্ষমতা প্রাপ্ত পাকিস্তানী সংসদ সদস্য যারা ছিলেন জমিদার জায়গিরদার, সামন্ত প্রভু শ্রেণীর প্রতিনিধি তাঁর তাঁদের শ্রেণী স্বার্থ রক্ষার জন্য পাকিস্তানের সমস্ত ক্ষমতা তাঁদের মধ্যে কুক্ষিগত করে রাখেন। তার পরের অভিজ্ঞতা তিক্ততা, বঞ্চনা ও তাচ্ছিল্যের অভিজ্ঞতা। এই অঞ্চলের যেসব নেতা পাকিস্তান সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন তারাই পাকিস্তানে হলেন উপেক্ষিত। এই উপেক্ষা ও বঞ্চনা থেকেই বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ রোপিত হয়েছিল। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ বঞ্চনার বিরুদ্ধে অব্যাহত সংগ্রামেরই পরিণতি।

ইতিহাস ইঞ্জিনিয়ারিং দ্বারা আর একটি ঐতিহাসিক সত্য গোপন করে যান যে, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলেই সেই পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যেই সীমিত আকারে হলেও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে একটি বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশ ঘটেছিল। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সূতিকাগার। এই মধ্যবিত্তরাই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণশক্তি। ১৯৪৭-এ পূর্ববাংলা যদি বৃহৎ ভারতের অঙ্গীভূত হতো তাহলে এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশ লাভ হত কিনা তাঁদের নেতৃত্ব দ্বারা স্বাধীন বাংলাদেশের উদ্ভব ঘটত কিনা সে ব্যাপারে প্রবল সন্দেহ পোষণ যুক্তিসঙ্গত।

যে ভৌগোলিক সীমা রেখায় আমাদের অবস্থান, সেই বিশ্বের সর্ব বৃহৎ বদ্বীপ গাঙ্গেয় এলাকাকে বঙ্গ বলে আর এই বঙ্গ শব্দটি পৃথিবীর প্রাচীনতম একটি শব্দ। বঙ থেকে বঙ্গ এর উৎপত্তি এর অর্থ জলাশয় অর্থাৎ নদীমাতৃক এলাকা। এই শব্দের প্রাচীনত্ব প্রায় পাঁচ হাজার বছরের।

ইতিহাসের চাঞ্চল্যকর উত্থান-পতনের মধ্যদিয়ে কখনো বঙ্গদেশ, বঙ্গীয় এলাকা, বঙ্গ প্রদেশ, বাঙ্গাল সরকার, বাঙ্গাল মুলুক, বাঙ্গালা প্রেসিডেন্সী, পূর্ববাংলা, পূর্বপাকিস্তান, আর এখন বাংলাদেশ।

জনগোষ্ঠীর কথা-শুরু দ্রাবিড় ও আষ্ট্রিক সভ্যতা থেকে এরপর বৌদ্ধ সভ্যতা। আমাদের এই পূর্ব বঙ্গে আর্যরা কোন সময়ে সমাদৃত হয়নি। বরং আমাদের এই জনগোষ্ঠী বহিরাগত আর্যদের বিরুদ্ধে শতাব্দী পর শতাব্দী যুদ্ধ করেছে। নবদ্বীপ কেন্দ্রিক অবাঙালী, কর্ণাটকিয়,সেন বংশের শাসনকে কিছুতে মেনে নেয়নি। আর এই সন্ধিক্ষণে ঐতিহাসিক প্রয়োজনে এই গাঙ্গেয় বদ্বীপে মুসলিম শাসকদের আগমন, শুধু শাসক বৃন্দ নয় সাথে মুক্তবুদ্ধি সম্পন্ন সূফী সাধকদের আগমন হয়। যুগের পর যুগ এই শত শত সাধকদের অক্লান্ত চেষ্টায় এই অঞ্চলের গণ মানুষের বিশাল অংশ সূফীদের প্রচারিত জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করে। সুফিদের এই বিরাট সাফল্যের একটাই কারণ সুফিরা তাদের মতবাদ প্রচারের সময় স্থানীয় কৃষি ভিত্তিক সংস্কৃতি ও লোকাচার, স্থানীয় ভাষা ও সাহিত্যকে গ্রহণ করেছিলেন বিশাল হৃদয় দিয়ে।

আর এর ফলেই পূর্ব বাংলায় স্থানীয় কৃষি ভিত্তিক সংস্কৃতি ও সভ্যতার সঙ্গে সূফী দর্শনের সমন্বয় এবং স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের ভাষা সাহিত্য এবং জাতিয় জীবনে তার প্রতিফলন হয়। ইংরেজদের আগমনের বহু পূর্বে বাংলার মুসলিম সুলতানরা যুগের পর যুগ যে ভাবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করে গেছেন, তা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। এর পাশাপাশি শতাব্দীর পর শতাব্দী শত শত সূফীদের নিরলস প্রচেষ্টায় বহিরাগত জন্ম সূত্রে মুসলমান, ধর্মান্তরিত মুসলমান এবং স্থানীয় দলিত সম্প্রদায়ের মধ্যে নিবিড় একাত্মতা সৃষ্টি হয় যার ফলে এক নয়া বাঙ্গালী দর্শনের ভ্রূণ সৃষ্টি আর এখান থেকেই সূচনা হয় অপরাপর বাঙ্গালীদের থেকে ভিন্ন এক বাঙ্গালী জাতির সত্ত্বা।
শত শত শতাব্দী অতিক্রম করে অধুনা ১৭৫৭, ১৮৫৭, ১৯০৫, ১৯১১,১৯২৮, ১৯৪০, ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৬, ১৯৬৯,১৯৭০ কালের ধারা পেরিয়ে আমরা পেয়েছি ১৯৭১। এই বাস্তবতা হচ্ছে ৭১ এর চেতনার, ৭১এর চেতনা আকাশ ফুঁড়ে হঠাৎ করে বাঙ্গালীর জাতীয় জীবনে নাজেল হয় নাই। বা কোন এক নেতার যাদুর প্রভাবে জাতীর ধ্যান ধারনার প্যাটার্ন চেঞ্জ হয়ে যায় নাই। আমাদের পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে ৭১ এসেছে দীর্ঘ ক্রম বিবর্তনের মাধ্যমে। তাই শাহবাগের কথিত জাগরণ দ্বারা যারা প্রমাণ করতে চান যে ধর্ম এখন আর জাতী গঠনের অপরিহার্য কোন উপাদান নয়। তাই ধর্মীয় সকল উপাদানকে পদদলিত করে বাঙ্গালা দেশী জাতি এখন বিশুদ্ধ ধর্মনিরপেক্ষ জাতিতে পরিণত হয়ে গেছে। তারা সম্পূর্ণ ভ্রান্তিতে পড়ে আছেন, তাঁরা কোন এক বিদেশী শক্তি দ্বারা ব্রেইন ওয়াশ হয়ে এই ভাবে ভাবছেন।
এই দেশের জনগণ এই দেশের মাটির স্বভাবের মত। এই দেশের মাটি বর্ষায় কর্দমাক্ত হয়ে খুব নরম হয়ে পড়ে আবার গ্রীষ্মের খরদাহে পাঁথরের মত শক্ত হয়ে পড়তে দেরি হয়না। এই দেশের মানুষের ধর্ম যখন আক্রান্ত হয় তখন মানুষ তা প্রতিরোধ করতে উঠে পড়ে তখন জানান দেয় যে তাঁরা মুসলিম। আবার যখনই দেশের ভাষা কিংবা অঞ্চল আক্রান্ত হয় তখন তা প্রতিরোধ করতে উঠে পড়ে তখন তাঁরা জানান দেয় যে তাঁরা বাঙ্গালী। এইটি চরম সত্য। তাই এই জাতীর উপাদান থেকে যেমন ইসলামকে বিসর্জন দেয়া যাবেনা তেমন করে বাঙ্গালিত্বকে বিসর্জন দেয়া যাবেনা।
অতএব ৭১ এর চেতনায় খোদা দ্রোহী তাগুদি শক্তির সাথে সহবস্থান থাকতে পারেনা। ৭১ এর চেতনায় সকল মত পথ এবং ধর্ম ভীরু মানুষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে সহবস্থান থাকবে। আর এই দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির মাধ্যমে বসবাস করে আসছে। কাজেই ২০১৩ সালে এসে এ প্রজন্মের কিছু তরুণদের কাছ থেকে আমাদেরকে নতুন করে বাঙ্গালিত্বের দীক্ষা নেবার অবকাশ নাই।
অর্বাচীনদের চেতনার নামে এই শান্তি প্রিয় জনপদে নতুন করে আগুন লাগাবার চেষ্টা করবেন না! যদি আগুন একবার লেগে যায় তাহলে সে আগুন শুধু কোন একপক্ষকে পুড়ে ছাই করবেনা পক্ষ বিপক্ষ সবাইকে সে আগুনের লেলিহান শিখা খাদ্য বানাবে। কারণ আগুনের ধর্ম হচ্ছে পুড়ে ছারখার করে ভস্মতে রূপান্তরিত করা। যদি কোন জনপদে শান্তি না থাকে তাহলে সেই জনপদের কোন চেতনাই কাজে আসবেনা। অতএব সাধু সাবধান!!!

১৫ comments

Skip to comment form

  1. 7
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    পোষ্টটির জন্য ধন্যবাদ জানাতে দেড়ী হওয়াতে দুঃখিত মুনিম ভাই। আর কমেন্ট 6.2 এর জন্য আবারও ধন্যবাদ।

  2. 6
    শাহবাজ নজরুল

    ১৯৪৭ আমাদের ধারাবাহিকতারই অনন্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ -- এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ সে সময়ের বাস্তবতা ও পূর্ব বাংলার জনমানুষের মনের ইচ্ছারই প্রতিফলন। সেই বঙ্গভঙ্গের অনুপ্রেরণাতে আসে ১৯৪৭ এর দেশ বিভাগ। এর পরে ১৯৭১ এর বাংলাদেশ। তাই ১৯৪৭ বনাম ১৯৭১ এরকম একরৈখিক ভাবে ইতিহাস পর্যালোচনা করলে অনেক সমস্যা। তবে ১৯৪৭ এর দ্বিজাতি-তত্ত্ব যে অসম্পূর্ণ ও এর পশ্চিমা নেতারা যে এই এই তত্ত্বের বস্তবায়নে অসততার পরিচয় দিয়েছেন তা হয়ত অস্বীকার করবেন না। সার্বিক বিচারে দেখা যায় ১৯৪৭ এ দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ বিভাগের জন্যে পূর্ব বাংলা মুসলিম লীগের ছিল অকুন্ঠ সমর্থন। এতে আপনি যেভাবে বললেন সোহরাওয়ার্দি, এ কে ফজলুল হক, ভাসানী, শেখ মুজিব ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন। তারা মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যে মুসলিম লীগের দেখানো প্রতিশ্রুতিতে বিস্বাসী ছিলেন। সোহরাওয়ার্দীকে অনেকেই ডাইরেক্ট এ্যকশন ডে এর ব্যপক হত্যাযজ্ঞের জন্যে পরোক্ষভাবে দায়ি করেন। সোহরাওয়ার্দি তখন পাকিস্তানের অনুকূলে এতই বিশ্বাসী ছিলেন তিনি হয়ত ১৯৪৬ সালের রায়টকে তিনি পরোক্ষ সমর্থনও দিয়েছিলেন। কিন্তু দেশ বিভাগের অব্যবহিত পরেই দেখা যায় দ্বিজাতি তত্ত্বে পশ্চিমা নেতারা সব কিছু ভুলে গিয়ে নেমে পড়লেন নতুন কলোনিয়ালিজমে -- পূর্ব-পশ্চিমের দ্বন্দ্বই চালু রইলো -- কেবল পশ্চিমা ব্রিটিশদের বদলে শাসকের স্থানে আসলেন পশ্চিম পাকিস্তানীরা। আর তাই ১৯৪৭ এর পরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম ভাবধারার সাথে যুক্ত হলো বাঙ্গালী পরিচয়। সেই ধারাবাহিকতায় এলো ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ -- তাই ১৯৭১ হলো ১৯৪৭ এরই ধারাবাহিকতা -- এটাকে অস্বীকার করা মানে নিজের গড়ে ওঠাকে অস্বীকার করা।

    তবে যেভাবে বললাম ১৯৪৭ এর দ্বিজাতি তত্ত্ব নির্ভূল তত্ত্ব ছিলোনা। ভারতে থাকা বিশাল মুসলিম জনগোষ্টীর ব্যপারে দ্বিজাতী তত্ত্ব সমাধান দিতে পারেনি -- বলতে গেলে এ বিষয়ে এই তত্ত্ব নিরব। এটা এই তও্বের বিশাল ব্যার্থতা। আর, আরেকটি কথা আমি সবসময় চিন্তা করি -- ভারতে মুসলিম'রা সবসময় সংখ্যা লঘিষ্ট ছিল -- কিন্তু তার পরেও তারাই ব্রিটীশদের আগমনের আগে ৭০০ বছর এই দেশ শাসন করেছে। সেই ৭০০ বছরে দ্বিজাতি তত্ত্বের কোনো অস্তিত্ব আমরা তেমন করে দেখতে পাইনা কেন? মুসলিম'রা তখন ভারতবর্ষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাঙ্গেনি কেন? কেবল তারা শাসকের আসনে ছিল বলে? এই বিষয়ে একটু সুচিন্তিত মতামত দিন।
     
     

    1. 6.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      দ্বিজাতী তত্ত্বের কথা শুনলে আমার একটা কৌতুক মনে পড়ে। এক ছেলে দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়ী ফিরে বলছে -- মা, মানির মান আল্লাহ রাখছে। 
      মা জিজ্ঞাসা করছে -- বাবা, কি হইল। 
      ছেলে বলছে -- বাবারে হাটে পাবলিক জুতাপেটা করছে, আমি কোন রকম পালাইছি। মাগো, মানির মান আল্লাহ রাখছে। 
      মা আর কি বলে -- হতাশ হয়ে তাকিয়ে থাকলো। 
       
      ———--
       
      সেই সময়ের প্রেক্ষিতে মুসলিমলীগের কোন্দল আর পূর্ব পশ্চিমের নেতাতের দূর্বলতা আর আপোষকামীতার কারনে কংগ্রেসের কাছে কৌশলে পরাজিত হয়ে ভারতের পুরো মুসলিম জনগোষ্ঠীতে তিন ভাগ করে আমরা এক কোনায় মুখ লুকিয়ে বগল বাজাচ্ছিলাম -- আমরা জিতছি। কয়দিন পরই টের পেলাম -- আরে একি -- পাকিস্তানী মোছুয়ারা তো দেখি ইংরেজ থেকেও বড় অত্যাচারী। ফলে ভারতের মুসলমানরা তিনভাগ হয়ে গেলো। বাকী রইল ভারতের সংখ্যা গরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায় -- যারা আর্যদের থেকে শুরু করে মুসলিমদের কাছে অধিনস্থ থাকলো হাজার বছর -- আমাদের নেতাদের পরষ্পরের বিদ্বেষ, নিজেদের ক্ষমতালোভ আর পরস্পরের প্রতি অবিশ্বাস সন্দেহের ফলে হিন্দুরা একটা বিশাল দেশের শাসন ক্ষমতা পেলো। 
       
      আজই আমরা স্বার্থ পরের মতো ভারতে ফেলে আসা মুসলিমদের, ভারত থেকে মাইগ্রেট করা মুসলিমদের (রিজিউজি, বিহারী, মুহাজের হিসাবে এখনও পরিচিত) কথা চিন্তা করি না। কারন আমদের অহংকার এতো বেশী হয়ে গেছে যে -- একদল লুটেরা মদ্যপ আর দূর্নীতিবাজদের নেতা বানিয়ে আমরাও আত্ন তৃপ্তিতে ভুগছি আর ভাবছি -- একটা ইসলামী বিপ্লব হবে। 
       
      মায়ার হয় সেই সকল সাম্প্রদায়িক এবং আঞ্চলিকতার কারনে অন্ধ হয়ে যাওয়া কথিত মুসলিমদের জন্যে -- যারা প্রায়শই ভুলে যায় -- আল্লাহ পুরো বিশ্বকে ইসলামের জন্যে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন -- একটা ভৌগলিক সীমা নিজেদের আবদ্ধ রেখে এক ভাই আরেক ভাইকে কাফের ফতোয়া দিয়ে পরষ্পরের প্রতি বিদ্বেষ আর কলহকে এরা জেহাদ বিবেচনা করে একটা অন্ধকারে বসবাস করছে। আল্লাহ ওদের মনের রোগ উপসম করুন। 

    2. 6.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      (এই দীর্ঘ কমেন্ট শাহবাজ ভাইকে উদ্দেশ্য করে বলা। তারপরও জিয়া ভাইয়ের কাছে অনুরোধ থাকবে যে – ও! মুনিমের কমেন্ট! ম- তে মুনিম তুই ছুপা জামাতি তুই ছুপা জামাতি!!! তাই পুরোটা পড়ার দরকার নাই। মুনিম কি বলবে তা আমার জানা আছে। সেই ভাবে না নিয়ে কষ্ট করে পড়ে দেখুন। সময় নিয়ে আমার আকুতি গুলো বুঝার চেষ্টা করুন। তারপর যদি কিছু বলার থাকে বলবেন। না হয় বলবেন না। কিন্তু দোহাই শুধু জিতে যাবার জন্য বলার হলে কিছু বলবেন না। )
      শাহবাজ ভাই, পৃথিবীতে ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জাতি আর রাষ্ট্রকে বাঁচার মত বাঁচতে হলে শক্তির ভারসাম্য ধরে রাখার প্রয়োজন পড়ে। সেই তত্ত্বটি মাথায় রেখে আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করি তাহলে প্রকৃত সত্য কি তা আমরা দেখতে পারব।
      যে ৭শত বছরের কথা উল্লেখ করেছেন সেই সময়ের ভারতের স্থানীয় হিন্দু সমাজের আর্থিক সামাজিক, ধর্মীয় অবস্থান বিবেচনায় আনতে হবে। বুঝতে হবে তখন তাঁরা কেমন ছিল? এই সময়ে যারা বিশ্বশক্তি তাঁরা কেন বিশ্বশক্তি হলো? সেটি যদি বুঝি- তাহলে বুঝতে পারবেন তখন মুসলিমরা কেমন ছিল। তখন চরম গোত্রগত অনৈক্য আর শোষণ নিপীড়নে নিমজ্জিত ছিল গোটা ভারতবর্ষ। মুসলিমরা সাহস, বিদ্যা বুদ্ধি জ্ঞান-বিজ্ঞানে অগ্রসর ছিল এবং ইসলামী জীবন দর্শন এবং ভ্রাতৃত্ব বোধের এক মজবুদ বন্ধনে আবদ্ধ ছিল।  স্থানীয়দের অনৈক্য এবং অনগ্রসরতা বিরাট সংখ্যক মানুষকে  মানুষের মৌলিক অধিকার থেকে  বঞ্চিত করে শোষণের যাতা কলে পৃষ্ট করে রাখা হয়েছিল। সেই সব মানুষকে সেই সব অপশাসন থেকে মুক্ত করেই এই দেশে মুসলিমরা ৭শত বছর শাসন করতে পেরেছিল। ৭ শত বছরে মুসলিমরা কোন বিভেদের নীতি গ্রহণ করেনি এমন কি হিন্দুদেরকে হীন বল করতেও কোন ফন্দি ফিকির করেনি।  
      পরে যখন মুসলিমরা ইসলামী চেতনা থেকে দূরে চলে গেল, ভোগ বিলাসী জীবনের দাস হয়ে গেল। নিখাদ মুসলিম শাসক পরিবারে আন্ত-ধর্মীয় বিয়ের মাধ্যমে এবং বিজাতীয় কালচার মুসলিম পরিবারে অনুপ্রবেশ করে। যে ভাবে স্পেনে ঘটেছিল। শক্তিতে যখন মুসলিমদেরকে পরাভূত করা যাচ্ছিলোনা তখন কৌশলে মুসলিম রাজ পরিবারে বিধর্মী সুন্দর সুন্দর মহিলাদেরকে বিয়ের মাধ্যমে অনুপ্রবেশ করিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাই পরবর্তী বংশধরগণ ইসলামী চেতনায় বলীয়ান হয়ে থাকতে পারেননি বলেই এক সময় স্পেন থেকে মুসলিমরা নির্মূল হতে হয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষী এই ভারতেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল। যার পরিণতিতে মুসলিমরা তাঁদের শৌর্য বীর্য হারিয়ে ফেলেছিল।
      অন্য দিকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু ভাগ্য অন্বেষী লোক মুসলিম শাসকদের উদারতার সুযোগ গ্রহণ করে সামান্য দলিল লেখক বা ঘোড়ার সহিস থেকে ক্রমে ক্রমে উচ্চপদে উঠে আসতে পেরেছিল, অর্থ বিত্তের মালিক হতে পেরেছিল। আর সে ধারা চরম বিকাশ লাভ করেছিল- মুসলিম নবাবদের আমলে। তখন থেকেই এদেশীয় হিন্দুরা যাদের অন্নে প্রতিপালিত হয়ে ছিল তাদেরকে হটিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের বাসনা নিয়ে ধীরে ধীরে সে পথে এগুতে লাগে। মুসলিম শাসকদের নৈতিক অধঃপতন, এবং মুসলিমদের মধ্যে অনৈক্য যখন প্রকট হয়ে উঠে তখন বেনিয়া ইংরেজদের সাথে মিলিত হয়ে তাঁরা কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার মত করে ভারত থেকে মুসলিম শাসনের যবনিকা টেনে আনে।
      যে ভাবে ৭৫ প্রবর্তিতে জিয়া বুঝতে পেরেছিলেন যে তাকে সদ্য ক্ষমতা হারা আওয়ামীলীগ তাঁর ক্ষমতা গ্রহণকে মেনে নিবেনা। তাই জিয়া বাধ্য হয়ে নিজের ক্ষমতাকে ধরে রাখতে আওয়ামীলীগ বিরোধী শিবিরের দিকে হাত বাড়াতে হয়েছিল। সেদিন যদি জিয়া ক্ষমতায় না এসে তাহের আসতেন তিনিও সেই এপথ ধরতে বাধ্য হতেন। কারণ আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে ক্ষমতার জন্য ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।
      হিন্দুরা মুসলিমদের নাক কেটে ইংরেজকে ভারতের ক্ষমতায় এনেছিল। ইংরেজরাও সদ্য ক্ষমতা হারা মুসলিমদের সমর্থন যে পাবেনা তা বুঝতে পেরেই হিন্দুদের সাথে তাঁদের মিত্রতা অটুট রাখতে বাধ্য হয়েছিল। পারস্পারিক লেনদেনের ভিত্তির ফলে বিপুল ভাবে হিন্দু সমাজের উত্থান ঘটে। অন্যদিকে মুসলিমদের মান সম্মান জায়গা জমিদারী হারিয়ে পথের ফকির হয়ে যাবার ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। মুসলিমদেরকে রাস্ট্রশক্তি থেকে দূরে রাখতেই  পরিকল্পিত ভাবেই হিন্দু ইংরেজরা মিলিত ভাবে রাষ্ট্রশক্তির সাহায্য তা করতে পেরেছিল।
      ব্রিটিশ ভারতের মুসলিমদের আর্থ সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় অবস্থা আর মুসলিম শাসিত ৭শত বছরে তাঁদের অবস্থা সমান ছিলনা।  ব্রিটিশদেরকে বিতাড়িত করেই যে আবার সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিমগণ ভারত শাসন করতে সক্ষম হতে পারত তা আকাশ কুসুম সহজ কল্পনা ছাড়া কিছু ছিলনা এবং ভুলে গেলে চলবেনা যে ব্রিটিশদের হাত ধরে এই দেশে তখন ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতার মালিক হবার রাজনৈতিক প্রথা চালু হয়ে যায়। আর সেই প্রথায় সগোত্রীয়, সসম্প্রদায়,স্ব ধর্মীয়দের স্বার্থরক্ষার চিন্তা চেতনা প্রধাণ্য থাকে।
      ইতিহাস সাক্ষী মুসলিমরা প্রথম ভারত বিভাগ করতে চায়নি, তাঁরা সমমর্যাদা চেয়েছে। তাঁরা দাবী করেছিল ব্রিটিশ শাসিত ভারতে মুসলিমদের প্রতি বিমাতা সুলভ ব্যবহার করা হয়েছে। কাজেই সেই গ্যাপ কাভার করার জন্য বিশেষ সুবিধা দিতে হবে। কিন্তু হিন্দুরা তা মেনে নেয়নি। তাঁরা বলেছিল সুবিধা প্রাপ্ত আর সুবিধা বঞ্চিত বলে কোন প্রশ্ন উঠাতে পারবেনা সাধারণ ভোটের মাধ্যমে সব নির্ধারিত হবে। ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হলে কি হয় তা আজ দেখতে পারবেন ভারতে মুসলিমদের জীবনের মান এবং শাসনে প্রশাসনে তাঁদের কেমন অংশ গ্রহণ তাঁর সংখ্যা দেখে।  আমার কথার বাস্তবতা প্রমাণ করতে আপনি দেখুন যে দেশে আপনি বর্তমানে অবস্থান করছেন সেই সে দেশের ভোটের অবস্থা।
      যখন এক ভারতে থাকার সকল প্রকার চেষ্টা সাধনা বিফলে যায় তখন মন্দের ভাল বলেই কংগ্রেস, মুসলিমলীগ ভারত ভাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। আপনারা মনে করবেন না শুধু বাঙ্গালী মুসলিম আর পাঞ্জাবী মুসলিম মিলে পাকিস্তান বানিয়েছিল ভারত ভাগ করেছিল। না। তখন সারা ভারতের মুসলিমরা ভারত ভাগের দাবীর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছিল, আন্দোলনে শরীক হয়েছিল। যদিও তাঁরা জানতে যে তাঁদের অঞ্চল তাঁদের স্বপ্নের রাষ্ট্র পাকিস্তানের অংশ হবেনা। কেন তাঁরা এই সত্য জেনেও সেদিন এই আন্দোলনে শরীক হয়ে নিজের জীবন ধন মান বিসর্জন দিয়েছিলেন? এদেরকে কি সুখে থাকতে ভূতে কিলিয়ে ছিল?
      তাঁদের মনের যে যন্ত্রণা ছিল তা আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকদের বুঝা বড় কঠিন। আপনার যদি কখনও দাঁতে ব্যথা হয়ে থাকে তাহলে অন্যের দাঁতের ব্যথার মর্ম আপনি বুঝতে পারবেন নতুবা নয়। তাই অতীতকে অতীত দিয়েই বিচার করতে হবে। আজকে দিয়ে নয়। আমাদের পূর্বসূরিদের কাছে তখন আর কোন রাস্তা ছিলনা। যাতে হিন্দু মুসলিমদের মধ্যে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে পারত।
      একজন মুসলিমের ঈমানী বিশ্বাস যে- যা ঘটে তা আল্লাহর হুকুমেই ঘটে।  ভারত বিভক্তি কোন ছোট খাট বিষয় ছিলনা যা আল্লাহর হুকুম ছাড়া ঘটে থাকবে এবং একজন মুসলিমের ঈমানী বিশ্বাস যে-  আল্লাহ যা ঘটান তা বান্দার মঙ্গলের জন্য ঘটান।  ৪৭ এর দেশভাগকে সে ভাবে দেখলেই সব সমস্যা চুকে যায়।
      তারপরও যদি কেউ বিচার বিশ্লেষণ করে দেখতে চান দেখতে পারেন ভাগ হওয়ায় ভারতীয় মুসলিমদের ঝুলিতে কি কি সংযোজন হতে পেরেছে। সেই সব কি আমরা পেতাম অখণ্ড ভারতে থাকলে?
      আমি আবার বলছি ভারত বিভাগ ছিল মন্দের ভাল। পৃথিবীতে এমন কোন মতবাদ বা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেই যে তা শত ভাগই সকলের জন্য কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসতে পারে। এইটি আজকের উন্নত দেশেগুলোর দিকে হিসাব নিকাশ মিলালেও তা পাবেন না। কোথাও না কোথাও কোন কালো হোল দেখতে পাবেন।
      ভারত বিভাগের কারণে যারা ভারতে ফেলে আসা মুসলিমদের অসহায়ত্বের জন্য কান্নাকাটি করছেন তারা কি বুঝতে পারছেন না, ভারত ভাগ না হলে অখণ্ড ভারতে হিন্দু মুসলিম শক্তির ভারসাম্য থাকতো না। আজ ভাগ হওয়ার কারণেই পাকিস্তান বাংলাদেশের হিন্দুদের কথা মাথায় রেখে ভারতের মুসলিমরা একটি বাড়তি নিরাপত্তা পাচ্ছে বা দিতে বাধ্য হচ্ছে।
      সেদিন সেই মুসলিমটি যার অঞ্চল পাকিস্তানে আসবেনা জেনেও পাকিস্তান সমর্থন করেছিলেন তাঁর কারণ ছিল নিরাপত্তা। যদি তিনি আক্রান্ত হোন তাহলে যাতে তিনি একটি নিরাপদ আশ্রয়ে গিয়ে জীবন সম্মান রক্ষা করতে পারেন।
       
      আপনি সোহরাওয়ার্দি এবং ডাইরেক্ট একশনকে যে ভাবে মূল্যায়ন করেছেন তা তাঁদের প্রতি সুবিচার করেননি। আপনি যদি শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্বাস করেন তাহলে তাঁর ডাইরি পড়ে দেখুন – সেদিনে কি হয়েছিল! কারা কি করেছিল! কারা প্রথম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে ছিল! আপনাদের মত শিক্ষিত জনদের কাছ থেকে মাঝে মধ্যে এমন সব কথা শুনে মনে পড়ে গোয়েবলসীয় তত্ত্বের কথা! মিথ্যাকে বার বার উপস্থাপন করতে থাকলে মিথ্যাই শেষ পর্যন্ত সত্য হয়ে যায় নতুন জেনারেশনের কাছে!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
      একটি কথা বুঝার চেষ্টা করবেন। মুসলিমরা পৃথিবীর যেখানে বাস করেনা কেন,তারা সে দেশকে তাঁর নিজের দেশ মনে করে। সে লুণ্ঠন করে সেদেশের সম্পদ অন্যদেশে পাচার করেনা। কাজেই যারা ভারতের অংশে ছিল তা সেখানেই থাকার ইচ্ছা রেখেছিল। কিন্তু যে দাঙ্গার কথা আপনি উল্লেখ করলেন সেই দাঙ্গায় সব কিছু উলট পালট করে দিয়েছিল। এর এই দাংগার সূচনা ভারত অংশে শুরু হয়েছিল। হিন্দুরা শুরু করেছিল। কারণ ভারত ভাগে মুসলিমদের ভাগ্যে প্রাপ্তির আনন্দ ছিল এবং হিন্দুদের মনে হারানোর ব্যথা ছিল। এবং নিয়ম বলে যারা বঞ্চিত হয় তাদের মনেই প্রতিশোধের প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে।
      আপনি মুজিবের ডাইরি পড়ে দেখুন কি ভাবে পরিকল্পিত ভাবে বিহারে মুসলিমদের গ্রামের পর গ্রামে  ঘর-বাড়িতে আগুন লাগিয়ে পুড়ে ফেলা হয়েছিল, কি ভাবে হাজার হাজার মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছিল। কি ভাবে হাজার হাজার মুসলিম মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এই ভাবে শুধু বিহারে নয়, আসামে, ত্রিপুরায় পশ্চিমবঙ্গে এক ঘটনা ঘটেছিল। তাই সেদিন প্রাণ বাঁচাতে হাজার হাজার মুসলিম সহায় সম্বল হারা হয়ে পূর্ব পাকিস্তানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। এবং এর পরিণাম ভাল হয়নি, সেই সব সহায় সম্বল হারা, প্রিয়জন হারা, নারীদের ইজ্জত হারানো মানুষ গুলো পূর্ব পাকিস্তান এসেই তাঁরা এই দেশের হিন্দুদের উপর অনুরূপ ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। যা আমাদের সকলের জন্য লজ্জাকর। ইসলাম এই ভাবে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয়নি কিন্তু কার্য কারণ কখনও মানুষকে পশুত্বের পর্যায়ে নামিয়ে ফেলে তা সে যে কোন ধর্ম আর মত পথের হয়ে থাকেনা কেন।
      ঐ সব মানুষের বেশীর ভারত থেকে এসে সীমান্ত এলাকায় বস্তি স্থাপন করেছিল।  আজ পর্যন্ত সীমান্ত এলাকার মানুষের হালচাল পর্যবেক্ষণ করে দেখুন তাঁরা কিন্তু ইসলামপন্থী দলের সমর্থক বেশি। কারণ তাঁদের বেদনাদায়ক অতীত তাদেরকে সেই অবস্থানে টেনে রেখেছে।
      এইটি স্বাভাবিক। ৭১ এ যারা একই ভাবে নিগড়িত হয়েছিলেন তাঁরা আজও সেই দাগ ভুলে যেতে পারছেন না তেমন করে অনেকেই ৪৭ এর সে দাগকে ভুলে যেতে পারছেন না।
       যে কোন কারণে আপনার শরীরের কোন অংশ জখম হয়ে গেলে তখন স্বাভাবিক ভাবেই মলম পট্টি ,সেলাই ব্যান্ডেজ, ঔষধ পথ্য দিয়ে জখমের যন্ত্রণা এবং দগদগে ঘাকে শুকিয়ে ফেলা হয় কিন্তু সেই জখমের দাগ শরীরে থেকেই যায়। মানুষ জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকে তাই এই দাগ বয়ে বেড়ালেও সব সময় সেই দাগের কারণ তাঁর মনে থাকেনা। কিন্তু কোন কারণ বশত যদি সেই শুকনো দাগের দিকে তাঁর নজর যায় তখন তাঁর স্মৃতিতে সে ঘটনা সতেজ হয়ে আসে। কেউ  ইচ্ছা করলেও দাগকে মিলিয়ে দিতে পারেনা। তবে সময় হচ্ছে বড় নিরাময়কারী হয়ত ১০, ২০, ৫০,১০০ বছর পর তা মিলিয়ে যাবে। কিন্তু কেউ যদি সেই পুরানো শুকনো দাগকে উপড়ে ফেলতে চায় তাহলে তাকে আবার এর একটি দাগ সৃষ্টি করতে হয়। যা কখনও ভাল কিছু বয়ে নিয়ে আসেনা।
      আমার এত কথা বলার উদ্দেশ্য নয় আমি ৪৭ এ বসে থাকব বা পড়ে থাকব। না । আমি সেখানে পড়ে থাকতে পারিনা। মানুষের ইতিহাস এগিয়ে যাবার ইতিহাস। আমিও মানুষ আমিও এগিয়ে যাবার চেষ্টায় আছি। ৪৭ পর ৭১ এসেছে আমাদের জীবনে সেটিও আমাদের প্রয়োজন ছিল। ৭১ এর মধ্যেও আমি আটকে থাকতে পারিনা, আমাকে আরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমার সন্তানের জন্য একটি সুরক্ষিত জনপদ রেখে যেতে হবে, যে জনপদে যেন আমার সন্তান আবার ৪৭ পূর্বে ফিরে যেতে বাধ্য না হয়। আমার সন্তানের জন্য একটি সুরক্ষিত জনপদ রেখে যেতে হবে, যে জনপদে যেন আমার সন্তান আবার ৭১ পূর্বে ফিরে যেতে বাধ্য না হয়। এক সময় ভারতে ধর্ম ভিত্তিক বিভাজন দরকার ছিল। এক সময় পাকিস্তানে অঞ্চল ভিত্তিক বিভাজন দরকার ছিল। কিন্তু এখন স্বাধীন বাংলাদেশে ঐসব বিভাজনের দরকার নাই। এখন যে শ্রেণীগত বিভাজন আছে সেটি আমাদের অতিক্রম করে যেতে হবে। একটি ন্যায় বিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরিকে যেতে হবে।
      মনে রাখবেন আমার এত বলার উদ্দেশ্য একটি- তা হচ্ছে আমি আমার অতীতকে ভুল বলিনা তেমন অতীতে ফিরে যেতেও বলিনা। বলছি শুধু সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা। যেখানে ৪৭ পূর্ব ব্যথা যেখানে ৭১ পূর্ব ব্যথার পূনঃআবির্ভাব থাকবেনা।

      1. 6.2.1
        শাহবাজ নজরুল

        মুনিম ভাই,
        আপনার সাথে কথা বলে সবসময় আনন্দ পাই -- আমাদের সব বিষয়ে একমত হতেই হবে এমন কথা নেই -- তবে আপনার সিন্সিয়ারিটিকে আমি সবসময় শ্রদ্ধার চোখে দেখি। আপনার বিশাল থিসিস পড়লাম। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি জানা হলো। এর অনেক অংশের ব্যাখ্যার সাথে আমি একমত। তবে মতদ্বৈততাও আছে। তা নিয়ে নাহয় আরেকদিন কথা হবে।
        আবারো মুনিম ভাই -- অসংখ্য ধন্যবাদ পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলাপ আলোচনা করা জন্যে। খোলা মন নিয়ে আলাপ করলেই না দেখা জিনিষগুলো পরিষ্কার হয়।
        ধন্যবাদ।
         
         

  3. 5
    আবদুস সামাদ

     আপনার আলোচনাটি বেশ ভাল লাগল৷ তাই লিখতেই হল৷ যারা দাদার অস্তিত্ব অস্বীকার করে বাপকে পেয়েছে বলে মনে করে, তারাই ৪৭কে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিতে চায়৷ আর তাই তারা দাদার জন্মের কারণ বা প্রয়োজনিয়তা অস্বীকার করে ইসলামকে ঝেঁটিয়ে দেশ ছাড়া করতে চায়৷ এতে যাদের ষোল আনা লাভ তারাই ইন্ধন যোগাচ্ছে৷ তারা জানেনা ইসলামের শিকড় কত নীচে পর্যন্ত চলে গেছে৷ আপনাকে ধন্যবাদ৷

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আলোচনায় অংশ নেবার জন্য ধন্যবাদ।

  4. 4
    দ্য মুসলিম

    অতএব ৭১ এর চেতনায় খোদা দ্রোহী তাগুদি শক্তির সাথে সহবস্থান থাকতে পারেনা। ৭১ এর চেতনায় সকল মত পথ এবং ধর্ম ভীরু মানুষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে সহবস্থান থাকবে। আর এই দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির মাধ্যমে বসবাস করে আসছে। কাজেই ২০১৩ সালে এসে এ প্রজন্মের কিছু তরুণদের কাছ থেকে আমাদেরকে নতুন করে বাঙ্গালিত্বের দীক্ষা নেবার অবকাশ নাই।

     

    সহমত।

    1. 4.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ধন্যবাদ।

  5. 3
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    দ্বিজাতি তত্ত্ব পরম সত্য! কংগ্রেস নামে ধর্মনিরপেক্ষ আসলে সে হিন্দুত্ববাদ তথা ব্রাম্মণবাদের প্রতিই দূর্বল। এই কারণেই ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। ভারতের দালাল মাওলানা আযাদের সমমনা কিছু ব্যাতীত বাকীরা ঠিকই উপলদ্ধি করেন যে ভারত হতে আলাদা হওয়া ছাড়া মুসলমানদের বৃহৎ অংশের কোন উপায় নেই। এটাই ২০০৬ সালে প্রমাণিত হয়। ভারত সরকার কর্তৃক নিযূক্ত সাচার কমিটি রিপোর্ট দেয় যে বিগত ৬০ বছরে ক্ষমতাসীনদের চরম অবহেলায় ভারতীয় মুসলমানগণ ব্যাপক অনগ্রসর;
    আজাদ ভারতের গোলাম মুসলমান!
    http://www.somewhereinblog.net/blog/faridsworld07/29755978
    http://en.wikipedia.org/wiki/Sachar_Committee
    মজার কথা হল ভারতে এতদিন বেশীর ভাগই তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ কংগ্রেসই ক্ষমতায় ছিল। ভারতে বহু হিন্দু মুসলমানদের বিজাতীয় মনে করে। ১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদ ও বোম্বে দাঙ্গা, ২০০২ গুজরাট দাঙ্গার মূল হোতা বাজপেয়ী, আদভানী, বাল ঠাকরে, মোদী এদের বিচারতো দূর এদেরকে একদিনের জন্যও জেলে নেওয়া যায়নি। ভারতীয় বিচার বিভাগও বাবরী মসজিদ নির্মাণে আদেশ দিতে টালবাহানা করে।
    ১৯৭১ এ যে ঘটনায় আমরা পাকিস্তান হতে স্বাধীন হয়েছি তা ইসলামের সাথে দ্বন্দের জন্য নয়। বরং পিপিপি ও জুলিফিকার ভুট্টোর প্রতারণা ও নোংরা রাজনীতির জন্য। পিপিপি তখনতো বটেই এখনও পুরোপুরী ইসলামপন্থী দল নয়। কিন্তু এই ভুট্টো কারাসাজির মাধ্যমে মুসলিম লীগ, জামাত, নেজামে ইসলামদের মুসলমানিত্বের দোহাই দিয়ে তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করতে চেয়েছিল। তাই ১৯৭১ আমাদের স্বাধীনতা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। তখন ভারত আমাদের এমনি এমনি সাহায্য করেনি। ভারতের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান ভাঙা আমাদের স্বাধীনতার প্রতি আন্তরিকতা বা মহৎ কোন উদ্দেশ্যে নয়। ২০০৭ সালে রাহুল গান্ধী আসল সত্য বলে দিয়েছে;
    OurFamilyDividedPakistan,Rahul Gandhi
    http://news.webindia123.com/news/articles/India/20070415/636970.html
    যুদ্ধ চলাকালী সময়েই তাজউদ্দিনকে দিয়ে ৭ দফা চুক্তি করিয়ে নেয় ইন্দিরা গান্ধী
    ” (অলি আহাদ রচিত “জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ৭৫”, বাংলাদেশ কোঅপারেটিভ বুক সোসাইটি লি: প্রকাশিত, চতুর্থ সংস্করণ ফেব্রুয়ারী ২০০৪, পৃষ্ঠা-৪৩৩,৪৩৪)
    যা পুরোপুরি মেনে চললে বাংলাদেশ এতদিনে সিকিমের ভাগ্য বরণ করত। এই বিষয়ে শেখ মুজিব একটি ভাল কাজ করছেন যে বাংলাদেশ থেকে ১৯৭২ সালেই ভারতীয় সৈন্যদের ফিরিয়ে নিতে ইন্দিরাকে বাধ্য করেন। ভারত তাজউদ্দিনকে দিয়ে চেষ্টা করেছিল যে মুজিব যেন ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের লাহোরে ও.আই.সি সম্মেলনে না যান;
    http://shodalap.com/oldsite/rAGC_3rd_NOV.pdf
    তারপরেও ভারতের সব অসম শর্ত তার পক্ষে উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বস্তুত ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই স্বাধীন-সার্বভৌম সচেতনতার জন্য ওসমানী, জিয়া, মেজর জলিলরা ভারতের শ্যেন দৃষ্টিতে পতিত হন। ভারত জানে বাংলাদেশের ১৯৪৭ সালের পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া বা তার চিরস্থায়ী গোলামী করার সবচেয়ে বড় বাধা হল ইসলাম ও মুসলিম সত্ত্বা। তাই আলীগ ও তথাকথিত সেক্যুলার মার্কা দালালদের দিয়ে এই দেশের সংবিধান ও মানুষের মন থেকে ইসলামী মূল্যবোধকে ধ্বংস অথবা অনেক দূর্বল করে দিতে চায়। এই বিষয়ে কোলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার ২২শে জানুয়ারী ২০১২ সালে লিখে;
    "তিনি(হাসিনা) জানেন, ইসলামী সত্তাকে মোকাবেলা করতে হবে বাঙালী জাতিসত্তা দিয়েই"
    http://www.mediafire.com/?5u19wa3h3e5348u
    এই বাঙালী জাতিসত্তা হইল পৌত্তলিকতা যা তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার মোড়কে!
    এছাড়াও ভারতের অন্যায় ও একতরফা সুবিধা আদায়ে যদি আলীগ ছাড় দেয় তাইলে সেটা বন্ধুত্ব। আর এটা না দিয়ে শক্ত দেন দরবার করতে চাইলে হয় ভারত বিরোধীতা। ২০০৮ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানানোর খোয়াব দেখিয়েছিল হাসিনা। বলেছিল ভারত সহ নেপাল, ভুটান ও চীনকে ট্রানজিট দিলে বাংলাদেশ হাজার হাজার কোটি টাকা আয় করবে। আর এখন হাসিনার উপদেষ্টা মসিউর বলে "ভারত হতে ফি চাওয়া অসভ্যতা"। এরাই আজকে শাহবাগের ছুতায় ১৯৪৭কে অস্বীকার করে ভারতীয় ব্রাম্মণবাদী আধিপত্যকে কায়েম করার চেষ্টা করছে। এটা খুবই স্বাভাবিক যদিও এরা সংখ্যায় বেশী নয়। এখন তীব্র গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে এই সেক্যুলারের নামে পৌত্তলিকদের চিন্তা ও কর্মকান্ড দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপক চিহ্নিত করে জাতীয় ভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাই আপনার কমেন্ট আমারব্লগের পরিপুরক হয়েছে। যারা ব্লগ পড়ে দ্বিধায় থাকলে আপনার লিঙ্কগুলো পড়ে সে দ্বিধা কাটতেও পারে। ধন্যবাদ।

  6. 2
    মহিউদ্দিন

    অতএব ৭১ এর চেতনায় খোদা দ্রোহী তাগুদি শক্তির সাথে সহবস্থান থাকতে পারেনা। ৭১ এর চেতনায় সকল মত পথ এবং ধর্ম ভীরু মানুষের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে সহবস্থান থাকবে। আর এই দেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির মাধ্যমে বসবাস করে আসছে। কাজেই ২০১৩ সালে এসে এ প্রজন্মের কিছু তরুণদের কাছ থেকে আমাদেরকে নতুন করে বাঙ্গালিত্বের দীক্ষা নেবার অবকাশ নাই।

    ভাগ্য ভাল এ যুদ্ধটা মোনাফেকরাই শুরু করেছে তাই মুসলিমরা বিশেষকরে আমাদের আলেম-ওলামাগণ সেই ষড়যন্ত্রের মূলে কুঠারাঘাত করে তাদের ঈমানী দায়িত্বই পালন করছেন। কোন মুসলিমদের এখন বসে থাকার সুযোগ নাই। ইনশাল্লাহ সত্যের জয় হবেই।
     
     

    1. 2.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ইনশাল্লাহ সত্যের জয় হবেই। ধন্যবাদ।
       
       

  7. 1
    এম_আহমদ

     

    কথিত শাহবাগের জাগরণকে সামনে রেখে কেউ কেউ দাবী করছেন যে, এই কথিত (আবেগ প্রসূত! তারুণ্যের উচ্ছ্বাস! অতি বিপ্লবী চেতনা!) শাহবাগ জাগরণ নাকি ৪৭ এর চেতনাকে দাফন করে ৭১এর চেতনার পূর্ণ বিকাশ ঘটিয়েছে!

    শাহবাগ যদি ৪৭ সালের চেতনা দাফন করার আন্দোলন হয়ে থাকে তবে তাদের নিজেদের কথাতেই ঐতিহাসিকতা প্রমাণিত হয়ে পড়ে। অর্থাৎ 'বিচার' আসল উদ্দেশ্য ছিল না, এর পিছনে ঐতিহাসিক দর্শন এবং এর পিছনেও ছিল ষড়যন্ত্র। ওখানে যুবক-যুবতীর নৃত্য-কীর্তন, রাত্রি-যাপন, বেহায়াপনা, পানীয় ও সংগীতের উন্মাদনা, আল্লাহ-রাসূল বিরোধী আওয়াজ এবং পিছনে পিছনে ষড়যন্ত্রকারীদের আনাগোনা, বক্তৃতা, নেতৃত্ব -সবকিছু সেই ঐতিহাসিকতার সূত্র উন্মুক্ত করে দেয়। এগুলো দেখেই আমাদের আলেম-ওলামাগণ সেই ষড়যন্ত্রের মূলে কুঠারাঘাত করেন। নারারে তকবীরের আওয়াজেই দাফন-কার্য ত্যাগ করে শয়তান-পক্ষ তিন দলে ফেটে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঐতিহাসিক-সূত্রে যারা লা ইলাহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল আর যারা লা ইলাহাকে সাথে নিয়ে যুদ্ধ করেছিল সেই দুই দল আবার দিবালোকের মত স্পষ্ট পড়ে। মনে রাখবেন মুনাফিকরা শেষ analysis এ মুশরিক এবং এতেই চিরন্তন বিভক্তির দুইভাগ: কাফির ও কাফিরদের সহযোদ্ধাগণ এক পক্ষের এবং ঈমাদারগণ অপর পক্ষের। এখন পরাজিত পক্ষ ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিজয় দেখাতে ব্যস্ত। অনেক ব্যাখ্যা নিছক হাস্যকর।

    1. 1.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      মনে রাখবেন মুনাফিকরা শেষ analysis এ মুশরিক এবং এতেই চিরন্তন বিভক্তির দুইভাগ: কাফির ও কাফিরদের সহযোদ্ধাগণ এক পক্ষের এবং ঈমাদারগণ অপর পক্ষের।

       
      সহমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.