«

»

May ০৮

চেপে রাখা ইতিহাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

 

পোষ্টটির সঙ্কলিত অংশে কিছু তথ্য বিকৃতি ও মনগড়া বিদ্বেষমূলক ব্যাখ্যা রয়েছে (বিস্তারিত মন্তব্য সেকসানে দেখুন)। এরূপ বিদ্বেষপ্রসূত সঙ্কলিত লেখা সদালাপের ব্যানারে প্রমোট করতে আমরা স্বস্তি বোধ করি না। ধন্যবাদ- সম্পাদক, সদালাপ।

 

[সদাশয় সম্পাদক, সদালাপ, বরাবরেষু- এই ব্লগে কোথাও কোন বিকৃত তথ্য ও মনগড়া বিদ্বেষ মূলক ব্যাখ্যা নেই।  যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ইতিহাস থেকেই  তোলে ধরা হয়েছে। ধন্যবাদ- মুনিম সিদ্দিকী। ]

আজ ২৫শে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। আজ থেকে ১৫০ বছর পূর্বে তিনি জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। কবিগুরুর জন্ম এবং মৃত্যু দিন বাঙ্গালীরা ঘটা করে পালন করে আসছেন। তাই আজকের এইদিনে কবিগুরুর কিছু চাপা পড়া ইতিহাস নিয়ে আমার এই সংকলিত প্রবন্ধ।

আজকের বাংলাদেশ তথা পূর্ববাংলার মানুষ ধর্মীয়,সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক জাগরণের মূল উৎস হচ্ছে প্রতিবেশী বর্ণহিন্দুদের প্রবল আন্দোলনে পূর্ববাংলা ও আসামকে নিয়ে নতুন করে সৃষ্টি প্রদেশকে বাতিল করার সময় থেকে। যা ইতিহাসে বঙ্গ ভঙ্গ আন্দোলন নামে পরিচিত।

বিহার বাংলা এবং আসাম নিয়ে বঙ্গ প্রভিন্স ছিল। যা ছিল আয়তে বিশাল, ব্রিটিশদের জন্য প্রশাসনিক কার্যে নজরদারী করা বেশ কঠিন ছিল। তাছাড়া পূর্ব বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ছিল মুসলিম এবং তাঁদের জীবন যাপন ছিল ছিল অত্যন্ত মানবেতর। যদিও পূর্ববাংলা ছিল সমস্ত বাংলার কাচা মালের উৎস ভূমি কিন্তু এই সব মানুষদের উন্নতির জন্য কেউ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। পূর্ব বাংলার সম্পদ দিয়ে বছরের পর বছর পশ্চিম বাংলার মানুষের উন্নতি ঘটলে পূর্ব বাংলার মানুষের কোন পরিবর্তন ঘটেনি।

ব্রিটিশরা তাঁদের প্রশাসনের সুবিধা এবং মানবেতর জীবন যাপনকারী পূর্ব বাংলার মানুষের উন্নতির জন্য বৃহৎ বাংলাকে ভাগ করেছিল। আর এই মহৎ কাজটি করেছিলেন ভারতের তৎকালীন বড়লাট লর্ড কার্জন। পূর্ব বাংলার মুসলিমগণ এই নতুন সৃষ্ট প্রদেশ হবার ফলে কিছুটা অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং উন্নতির মুখ দেখে ছিল।

এই নতুন প্রদেশ সৃষ্টির ফলে বর্ণহিন্দুদের যুগ যুগ ধরে ভোগ করে আসা কায়েমি স্বার্থে আঘাত করে তখন বর্ণ হিন্দুরা বঙ্গ মাতার অঙ্গচ্ছেদ অজুহাত খাঁড়া করে নতুন প্রদেশকে বাতিল করতে রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নতুন প্রদেশ বাতিলের জন্য রসুনের শিকড়ের মত হিন্দু জমিদার, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা এক হয়ে যান। সেই সময় ভারতীয় কংগ্রেস শুরু করে স্বদেশী আন্দোলন। কংগ্রেসি নেতা বাল গঙ্গাধর তিলক হিন্দু জাতীয়তাবাদের জনক শিবাজীকে সীমাহীন ভাবে মহৎ বীর নায়ক বানানোর পিছনে ছিল সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের প্রাচীর গড়ে তোলার আয়োজন। শিবাজী ভারতের সকল হিন্দুর জাতীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ১৯০৪ সালে তিনি শিবাজী উৎসব চালু করেন। এর আগে তিনি ১৮৯৩ সালে পুনায় প্রতিষ্ঠা করেন “গো-রক্ষিণী সভা” আর এই সব আয়োজনের মাধ্যমে হিন্দু মুসলিমের মধ্যে তৈরি করেন সাম্প্রদায়িক হানাহানি। ব্রিটিশ সরকার ১৮৯৭ সালে এর জন্য তিলককে গ্রেফতার করেন। তখন অসাম্প্রদায়িক চেতনার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারতের সাম্প্রদায়িকতার জনক তিলককে মুক্ত করতে রাস্তায় নেমে পড়েন। তিনি মুক্ত করার জন্য টাকা সংগ্রহের জন্য দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করতে দ্বিধা-বোধ করেনি। শুধু অর্থ ভিক্ষা করে ক্ষান্ত হননি তিনি তিলকের আবিষ্কৃত শিবাজীর প্রদর্শিত পথে ভারতের হিন্দুদের মুক্তি দেখতে পেয়েছিলেন বলে তিনিও শিবাজী বন্দনায় মেতে উঠেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘শিবাজী উৎসব' কবিতা লিখে এ আন্দোলনে শরীক হয়েছিলেন। তিনি লিখলেন:

সেদিন শুনিনি কথা
আজি মোরা তোমার আদেশ
শির পাতি লব,
কণ্ঠে কণ্ঠে বক্ষে বক্ষে
ভারতে মিলিবে সর্বশেষ ধ্যান-মন্ত্র তব।
ধ্বজা ধরি উড়াইব বৈরাগীর উত্তরী বসন
দরিদ্রের বল,
এক ধর্ম রাজ্য হবে এ ভারতে
এ মহাবচন করব সম্বল।
মারাঠির সাথে আজি হে বাঙ্গালী
এক কণ্ঠে বল ‘জয়তু শিবাজী।
মারাঠির সাথে আজি হে বাঙ্গালী,
এক কণ্ঠে বল ‘জয়তু শিবাজী’
মারাঠির সাথে আজি হে বাঙ্গালি,
এক সঙ্গে চলো মহোৎসবে সাজি।
আজি এক সভা তলে
ভারতের পশ্চিম পুরব দক্ষিণ ও বামে
একত্রে করুক ভোগ এক সাথে একটি গৌরব
এক পুণ্য নামে।—

‘শিবাজী-উৎসব’ নামক কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলতে চেয়েছেন যে,শিবাজী চেয়েছিলেন হিন্দুত্বের ভিত্তিতে ভারতজুড়ে এক ধর্ম রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু বাঙালিরা সেটা বোঝেনি। না বুঝে করেছে ভুল। এই কবিতা আর তিলকের সাম্প্রদায়ীক আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথের মত ব্যক্তিত্ব শরীক হয়ে কবির কবিতা দিয়ে যে শিবাজী-ভক্ত সৃষ্টি করে ছিলেন তাতে লাভের লাভ হয়েছিল এই যে, গো-খাদক মুসলিমদের প্রতি হিন্দুরা বিদ্বেষী হয়ে পড়ে। কারন মুসলিমরা গরু খায় অথচ গরু তাঁদের উপাস্য। তাই গরু হত্যা করা মহা অপমান। তাই শুরু হয় হিন্দু মুসলিমের মধ্যে গরু রক্ষা নিয়ে মারা মারি। অথচ মুসলিমরা যতটুকু গো মাংস খায় তার চেয়ে বেশি ইংরেজরা খায় কিন্তু তার জন্য তাঁরা ইংরেজদের সাথে মারামারি হানাহানি করেনা বা বিবাদ বিদ্বেষ পোষণ করে না।

কাজী নজরুল মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েও যে ভাবে শেষ বয়সে মা আনন্দময়ীর গান রচনা করে হিন্দু মুসলিমের মধ্যে একটি মিলন আনার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু বিশ্ব কবির সমগ্র সাহিত্যের ভাণ্ডারে হাজার বার ‘আনন্দময়ী মা’র আগমন হলেও সে আকাশে একটি বার ঈদের চাঁদ কিংবা মোহররমের চাঁদ উঠেনি।

রবীন্দ্রনাথ তার বিচার, মাসী, বন্দীবীর, হোলীখেলা কবিতায় এবং সমস্যা, পুরাণ, দুরাশা ও কাবুলিওয়ালা গল্পে যে ভাবে মুসলিমদের চিত্র উপস্থাপন করেছেন তা পড়েও প্রাথমিক দিকে রবীন্দ্রনাথ মুসলিমদের প্রতি কী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন তাও অনুমান করা যাবে।

প্রাথমিক দিকে রবীন্দ্রনাথের কেমন ছিল মুসলিমদের প্রতি ভালবাসা তার ‘রীতিমত নভেল’ নামক ছোটগল্পে পড়লে জানতে পারা যাবে।

“আল্লাহো আকবর শব্দে বনভূমি প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠেছে। একদিকে তিন লক্ষ যবন সেনা অন্য দিকে তিন সহস্র আর্য সৈন্য। … পাঠক, বলিতে পার … কাহার বজ্রমন্ত্রিত ‘হর হর বোম বোম’ শব্দে তিন লক্ষ ম্লেচ্ছ কণ্ঠের ‘আল্লাহো আকবর’ ধ্বনি নিমগ্ন হয়ে গেলো। ইনিই সেই ললিতসিংহ। কাঞ্চীর সেনাপতি। ভারত-ইতিহাসের ধ্রুব নক্ষত্র।”

শুধু তাই নয় -‘দুরাশা’ গল্পের কাহিনীটি আরো স্পর্শকাতর। এখানে দেখানো হয়েছে, একজন মুসলিম নারীর হিন্দু ধর্ম তথা ব্রাহ্মণদের প্রতি কি দুর্নিবার আকর্ষণ এবং এই মুসলিম নারীর ব্রাহ্মণ হবার প্রাণান্তকর কোশেশের চিত্র।

সবেধন নীলমণি রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনে যখন নিজ হাতে লিখতে পারতেন না তখন শ্রুতি লিখন করে যে মুসলমানির গল্পটি তিনি লিখিয়েছিলেন সেই গল্পের নায়ক হবি খাঁর এই উদারতার কারণ হিসাবে হবি খাঁ'র মা যে হিন্দু অভিজাত রাজপুতিনী ছিলেন তা উল্লেখ করে গেছেন। তাই প্রমাণিত হয় যে মুসলিম একক ভাবে মহৎ হতে পারেনা।

মুসলমান সমাজের প্রতি রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায় ‘কণ্ঠরোধ’ (ভারতী, বৈশাখ-১৩০৫) নামক প্রবন্ধে। সিডিশন বিল পাস হওয়ার পূর্বদিনে কলকাতা টাউন হলে এই প্রবন্ধটি তিনি পাঠ করেন। এই প্রবন্ধে উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্রনাথ একটি ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে বলেন-

“কিছুদিন হইল একদল ইতর শ্রেণীর অবিবেচক মুসলমান কলিকাতার রাজপথে লোষ্ট্র খন্ড হস্তে উপদ্রবের চেষ্টা করিয়াছিল। তাহার মধ্যে বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে- উপদ্রবের লক্ষ্যটা বিশেষরূপে ইংরেজদেরই প্রতি। তাহাদের শাস্তিও যথেষ্ট হইয়াছিল। প্রবাদ আছে- ইটটি মারিলেই পাটকেলটি খাইতে হয়; কিন্তু মূঢ়গণ (মুসলমান) ইটটি মারিয়া পাটকেলের অপেক্ষা অনেক শক্ত শক্ত জিনিস খাইয়াছিল। অপরাধ করিল, দণ্ড পাইল; কিন্তু ব্যাপারটি কি আজ পর্যন্ত স্পষ্ট বুঝা গেল না। এই নিম্নশ্রেণীর মুসলমানগণ সংবাদপত্র পড়েও না, সংবাদপত্রে লেখেও না। একটা ছোট বড়ো কাণ্ড – হইয়া গেল অথচ এই মূঢ় (মুসলমান) নির্বাক প্রজা সম্প্রদায়ের মনের কথা কিছুই বোঝা গেল না। ব্যাপারটি রহস্যাবৃত রহিল বলিয়াই সাধারণের নিকট তাহার একটা অযথা এবং কৃত্রিম গৌরব জন্মিল। কৌতূহলী কল্পনা হ্যারিসন রোডের প্রান্ত হইতে আরম্ভ করিয়া তুরস্কের অর্ধচন্দ্র শিখরী রাজপ্রাসাদ পর্যন্ত সম্ভব ও অসম্ভব অনুমানকে শাখা পল্লবায়িত করিয়া চলিল। ব্যাপারটি রহস্যাবৃত রহিল বলিয়াই আতঙ্ক চকিত ইংরেজি কাগজ কেহ বলিল, ইহা কংগ্রেসের সহিত যোগবদ্ধ রাষ্ট্র বিপ্লবের সূচনা; কেহ বলিল মুসলমানদের বস্তিগুলো একেবারে উড়াইয়া পুড়াইয়া দেয়া যাক, কেহ বলিল এমন নিদারুণ বিপৎপাতের সময় তুহিনাবৃত শৈলশিখরের উপর বড়লাট সাহেবের এতটা সুশীতল হইয়া বসিয়া থাকা উচিত হয় না।”

এই প্রবন্ধে উল্লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি শব্দ প্রয়োগ লক্ষ্য করলে মুসলমান সমাজের প্রতি রবীন্দ্রনাথের উগ্র সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির একটা সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়।
বলা প্রয়োজন যে, রবীন্দ্রনাথের পরিবারের জমিদারী ছিল পূর্ববঙ্গের কুষ্টিয়া, শিলাইদহ, পাবনার শাহজাদপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চলে। আর এইসব অঞ্চল ছিল মুসলিম প্রধান। এই উন্নাসিক মানসিকতা ও বক্তব্য তার জমিদারীতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলিমদের প্রতি উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গির একটা উজ্জ্বল উদাহরণ।
‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে প্রতাপাদিত্যের উক্তি- খুন করাটা যেখানে ধর্ম, সেখানে না করাটাই পাপ। যে মুসলমান আমাদের ধর্ম নষ্ট করেছে তাদের যারা মিত্র তাদের বিনাশ না করাই অধর্ম।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের মুসলিম বিদ্বেষ এবং বিরোধিতার অবস্থান চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়। এখানেও তিনি সাম্প্রদায়িক ভূমিকায় অবতীর্ণ। তার নাটকের এই বক্তব্য হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটায় এবং হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ভূমি তৈরি করে দেয়। তাই ঐতিহাসিকভাবে বলা হয়- বিশ শতকের প্রথম দশক থেকে শুরু হওয়া হিন্দু মুসলিম দাঙ্গার দায়ভার রবীন্দ্রনাথ কোনো ক্রমেই এড়াতে পারেন না।

মুসলিম জননেতা সৈয়দ নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী রবীন্দ্রনাথের মুসলিম বিদ্বেষমূলক লেখনী বন্ধ করার আহবান জানালে রবীন্দ্রনাথ জবাবে বললেন-

"মুসলমান বিদ্বেষ বলিয়া আমরা আমাদের জাতীয় সাহিত্য বিসর্জন দিতে পারি না। মুসলমানদের উচিত তাহারা নিজেদের সাহিত্য নিজেরাই সৃষ্টি করার।…." (এখানে লক্ষ্য করুন যে কবিকে আমরা আমাদের কবি বলে গর্ব করি এবং তাঁর সংকলিত গান আমার সোনার বাংলাকে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দিয়েছি সেই কবি কিন্তু এই পূর্ববাংলার মানুষকে কখনও বাঙ্গালী বলে স্বীকার করে নাই। আমাদেরকে মুসলিম বলেই চিহ্নিত করে গেছেন)

১৯০৫ সালের ২০ জুলাই নতুন প্রদেশ ঘোষণা দেয়া হয়। কার্যক্রম শুরু হয় ১৬ অক্টোবর থেকে। এ সময় বাংলাদেশে আমাদের প্রতিবেশী সমাজ সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের জন্ম দেয়। রবীন্দ্রনাথ এই সময় বঙ্গ মাতার অঙ্গচ্ছেদের দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে গগন হরকরা নামক এক বাউলের করুন বিয়োগাত্মক সুরে রচিত “আমার মনের মানুষ যে রে কোথায় পাব তারে” গীতকে নকল করে “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি" গানটি রচনা করেন, এবং তখন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত সঙ্গীত হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল।

বঙ্গভঙ্গ রোধের জন্য ১৯০৮ সালের ৩০ মে তারিখে কলিকাতার যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদকীয়তে সন্ত্রাসী আন্দোলন শুরুর জন্য আহবান জানানো হয়েছিল এভাবে-

মা জননী পিপাসার্ত হয়ে নিজ সন্তানদের জিজ্ঞাসা করছেন ‘রক্ত দে।' একমাত্র মানুষের রক্ত ও মস্তক ছাড়া মা-জননীর পিপাসা নির্বৃত্ত হবে না। (দেখুন: বঙ্গভঙ্গ থেকে বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা-৩৪, আব্বাস আলী খান)
১৯১১ সালের ডিসেম্বর মাসে সম্রাট পঞ্চম জর্জ ও রাণী ভারতে আসেন। তাঁকে বিশাল সংবর্ধনা দেয়া হয়। সে উপলক্ষে ব্রিটিশ সম্রাটকে তেল মেরে রবীন্দ্রনাথ লিখেন-
জনগণ মন অধিনায়ক, জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা
তব শুভ নামে জাগে, তব শুভ আশিষ মাগে
গাহে তব জয় গাঁথা।
জন গণ মঙ্গল দায়ক জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা।

ব্রিটিশের প্রতি ভারতের হিন্দু সম্প্রদায়ের আনুগত্য দেখে সম্রাট দিল্লীর দরবারেই বঙ্গভঙ্গ রদ বা বাতিল করার ঘোষণা দেন। মুসলমানরা ঘৃণাভরে সরকারের বিশ্বাস ভঙ্গের প্রতিবাদ জানায়। বঙ্গভঙ্গ রদের মধ্য দিয়েই সেদিন জন্ম নিয়েছে ভারত ভাগের ভ্রূণ এবং আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের ভ্রূণ।
রবীন্দ্রনাথ ছিলেন প্রাচীন ভারতের বৈদিক ঋষি মন্ত্রে বিশ্বাসী। তিনি ভারতকে প্রাচীন আর্য ঋষিদের তপোবন হিসেবে ফিরিয়ে নিতে সচেষ্ট ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের শান্তি নিকেতনকে তাই প্রাচীন ভারতের ঋষিদের তপোবনের আদলে গড়ে তুলতে চেয়েছেন তিনি। রবীন্দ্র নাথের মহাভারতের কল্পনা ছিল এরূপ:
হেথায় আর্য, হেথায় অনার্য
হেথায় দ্রাবিড় চীন
শকহুনদল মোঘল পাঠান
একদেহে হলো লীন।…

আমাদের দেশের একশ্রেণীর সেক্যুলার প্রগতিশীল ভাবুক বুদ্ধিজীবী সংস্কৃত সেবী রয়েছেন, যারা সেক্যুলারিজমের আড়ালে রবীন্দ্রচর্চা করার কাজে ব্যস্ত। তাদের উদ্দেশ্য কিংবা মিশন হচ্ছে এ দেশের সংখ্যাগুরুর সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে বদলে ফেলে সেখানে কলকাতার বাবু সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। তাদের ভাবভঙ্গিতে মনে হয় এ দেশকে ব্রাহ্মণ্যবাদী সাংস্কৃতিক বলয়ের আওতায় নিয়ে যাওয়াই তাদের একমাত্র দায়িত্ব। তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করে থাকেন, রবীন্দ্রনাথ হচ্ছেন আমাদের জাতীয় মানসের আরাধ্য দেবতা। রবীন্দ্রনাথ আমাদের সকল কাজের প্রেরণার উৎস। এদের অনেকে রবীন্দ্রনাথকে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের প্রেরণা শক্তি হিসেবেও বিবেচনা করে থাকেন। জানতে ইচ্ছা করে রবীন্দ্রনাথ কি কোনদিন বিশাল ভারতের মধ্যে স্রেফ বাঙালীদের জন্য পৃথক কোন রাষ্ট্র চেয়েছেন? রবীন্দ্রনাথ কি কোনদিন রাষ্ট্রভাষা বাংলা চেয়েছেন? তিনি তো ভাষার প্রশ্নে আগাগোড়াই হিন্দিকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে ছিলেন।
রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে হলে সাংবাদিক-সাহিত্যিক রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। আবুল মনসুর আহমদের রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে আরো সুস্পষ্ট অভিমত ছিল তা হচ্ছে:
..মেজরিটি মানুষের সাথে নাড়ির যোগ না থাকিলে কেউ জাতীয় কবি হইতে পারেন না। রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি হইয়াও বাংলার জাতীয় কবি নন। তিনি বাংলা জাতীয় কবি নন এই সহজ কারণে যে, বাংলায় কোন জাতি নাই। আছে শুধু হিন্দু-মুসলমান দুইটি সম্প্রদায়। তিনি বাংলার কৃষ্টিরও প্রতীক নন, এই সহজ কারণ যে, এখানে কোন জাতীয় কৃষ্টিই নাই। এখানে আছে দুইটি কৃষ্টি। একটা বাঙালী হিন্দু কৃষ্টি, অপরটি বাঙালী মুসলিম কৃষ্টি। ….(বিস্তারিত দেখুন : বাংলাদেশের কালচার)
১৯০৫ সালে নতুন প্রদেশ পূর্ব বাংলাকে বাতিল করতে ব্রিটিশ সরকারকে বাধ্য করতে যতো পথ অবলম্বন করা প্রয়োজন তখন বর্ণ হিন্দুরা করেছে। বাংলায় জ্বালায় পুড়াও হত্যা, ধ্বংস করার মত সন্ত্রাসী আন্দোলনের জন্মও তারাই তখন দিয়েছিল। ১৯৪৭ সালে ঐ বর্ণহিন্দুরা বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করে হিন্দুস্থানে যোগদান করেছিল স্রেফ মনস্তাত্ত্বিক কারণে, জাত্যাভিমানে, ম্লেচ্ছ মুসলমানদের ছোঁয়া থেকে বাঁচবার জন্য। দুঃখের বিষয়, আমাদের এই সময়ে এক শ্রেণীর সাহিত্যিক-সাংবাদিক বিভিন্ন সভা সেমিনার বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটক, রেডিও টিভিতে আকারে ইঙ্গিতে এটাই বুঝতে চেষ্টা করে থাকেন যে, সীমানার অস্তিত্বের চেয়ে সাংস্কৃতিক ঐক্যই মূখ্য।

আগেই উল্লেখ্য করা হয়েছে যে, রবীন্দ্রনাথের পরিবারের জমিদারী ছিল পূর্ববঙ্গের কুষ্টিয়া, শিলাইদহ, পাবনার শাহজাদপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চলে। আর এইসব অঞ্চল ছিল মুসলিম প্রধান। মুসলিমরা চিরকাল চাষাভূষা থাকুক এই চিন্তা ভাবনায় রবীন্দ্রনাথ তার বিশাল জমিদারীতে একটি পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেছেন এমন কোন প্রমাণ নেই।

রবীন্দ্রনাথ বড় উচ্চস্তরের কবি হলেও তিনিও ছিলেন মানুষ, আর মানুষ তাঁর স্বীয় পরিবেশের প্রভাব থেকে সহজে মুক্ত হতে পারেনা তেমন করে রবীন্দ্রনাথও প্রাথমিক জীবনে পরিবেশের প্রভাব ছিল। তবে একথা সত্য যে তিনি পরিণত বয়সে সে প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পেরেছিলেন।

[এই ব্লগের লেখা আমার কোন মৌলিক লেখা নয় আমি তিন জন লেখকের লেখা থেকে নিয়েছি- লেখার রেফারেন্স হিসাবে সৈয়দ মোস্তফা কামালের" সিলেট রেফারেন্ডাম ও জনপ্রতিনিধি" পৃস্টা ৯৬-৯৭।প্রকাশক -রেনেসাঁ পাবলিকেন্স। প্রথম প্রকাশ ২০০২ ২য় প্রকাশ ২০০৩।

২য় বই- গোলাম আহমদ মোর্তজার- "চেপে রাখা ইতিহাস" পৃস্টা-২৯০-২৯৩। প্রকাশক- বিশ্ববংগীয় প্রকাশন, মদীনা মার্কেট মেমারী বর্ধমান, ভারত। ৩। নেট থেকে। ]

৬২ comments

১ ping

Skip to comment form

  1. 32
    জনী

    মুনিম ভাইকে ধন্যবাদ লেখার জন্য। ভুল মানুষের হয়, হবে আর যেকোনো ঐতিহাসিক লেখা লিখতে গেলে সব লেখক ই অনেক লেখা সংগ্রহ করে কিছুটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লিখে। বাংলাদেশের তথাকথিত বুদ্ধি জিবী আনিসুল হক আর জাফর ইকবাল এর কথা বললে তো বলতে হয় তারা সরাসরি লেখা চোর। আর জিয়াউদ্দিন যেভাবে মুনিম ভাই ভাইকে এটাক দিলেন সেটা কখনো কাম্য নয়। আমি দৃঢ ভাবে বলতে পারি লেখাটা যদি সংগ্রাম থেকে কিছুটা নেওয়া হয়েও থাকলেও আপনি এইভাবে সদালাপের সিনিয়র ব্লগার কে এই ভাবে আচরণ করতে পারেন ননা। জামায়াত এর পত্রিকা থেকে নেওয়াতে আপনার গাত্র দাহ শুরু হয়, তবে বিডি নিউজ, প্রথম আলো থেকে নিলে আপনার মুখ চুপ থাক্তো। উল্লেখ্য মীর কাসেম আলীর মৃত্যু তে যে লেখা লিখেছিলো জিয়াউদ্দিন সেটা পুরাটা বীডি নিউজ, প্রথম আলোর কপি পেস্ট। নিজের বেলায় ষোল আনা, অন্যর বেলার কিছুনা। ৭১ এর মহান যুদ্ধে পাক- সমর্থনে জামায়াত কে ঘৃণা করতে পারলে, ইংরেজ দের পক্ষে চামচামি করার জন্য রবি ঠাকুর কে কেনো ঘৃনা করা যাবে না। ১৯০৫ এর বংগবংগের ইতিহাস মুসলিম দের & বাংগালি মুসলিম দের জন্য এক বিজয় ইতিহাস, সেটা সহ্য করতে না পেরে ৬ বছর এর মাথায় ধর্মের অজুহাত দিয়ে ১৯১১ সালে বৃটিশদের মারফত তা ব্রেক করেছিলো হিন্দুরা, রবিন্দ্রনাথ চিলো সেই কালপ্রিট দের অন্যতম। রবিন্দ্রনাথ ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার বিরুধি, আজ সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে যেভাবে পূজা হয়, তার আংশিক ও প্রতিষ্ঠাতা স্যার সলিমুল্লাহ কে স্মরন করা হয়না। জিয়াউদ্দিন আর কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌঃ একই শিকডের। প্রকাশ্যে মুসলিম ভাব ভিতরেই কমুনিষ্ট। সব কিছুই তে রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধর চেতনার দোহাই দেওয়া তাদের কাজ। অথচ মুক্তিযোদ্ধার চেলে হয়েও অহংকার করিনা। সদালাপ এর পাঠক হিসাবে বলছি সব কিছুতে রাজনিতি টানবেন না। আর সদালাপ এর লেখক গুলা তো নির্দিষ্ট সুতরাং এভাবে এটাক কাম্য নয়।

  2. 31
    সুমন

    রবীন্দ্রনাথ বুঝতে বুঝতে সময় পার করে মুসলমানদের চিনেছিলেন।

  3. 30
    মো. মাহমুদ হোসাইন শামীম

    প্রথমেই ধন্যবাদ জনাব মুনিম ভাইকে যিনি অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে খুব সুন্দর ভাবে রবীন্দ্রনাথে বিষ বাষ্পকে উপস্থাপন করেছেন৤ আসলে জিয়াউদ্দিনের মত লোক যাদের কাজই হল মানুষের তথা ইসলাম বিরোধীতা করা৤ দলীয় বিবেচনায় যে কোন সমালোচনা করা৤ জিয়া উদ্দিনের মত বাঙ্গালী যারা তাদের স্বভাব হল এই রকম যে, ‘‘মেরেছ কলসী কানা, তাই বলে কি প্রেম দিব না? জ্ঞানের ভান্ডার যত বড় আর ছোট হউক না কেন তা যদি মানবতার কোন কল্যাণ বয়ে না আনে তবে সেই জ্ঞানের কোন মূল্য আছে? রবীন্দ্রনাথের যে জ্ঞান তা মুসলমান তথা মানবতার কোন কল্যাণ বয়ে আনছে৤ যে জাতি (মুসলমান) গোষ্ঠি সারা পৃথিবীর কর্ণধার তাদের সম্বন্ধে কোন একটি বাক্যও বলল না তার কোন লেখা লেখনিতে৤ আর যাও বা দ ‘একটি  কথা বলেছেন তা মুসলমানদের কে অপমান, অপদস্ত বা তাচ্ছিল্য করার জন্য৤ মুসলমানদের যে মানুষই মনে করতেন না সেই কবি বা লেখককে দিয়ে আমাদের কোন দরকার আছে? এখন জিয়াউদ্দিনেরা যেটা করে সেটা হল ইসলামারে বিলোধীতা করা কারণ আমি এখন আমি যদি নজরুলের কথা বলি যে তিনি মুসলমানদের প্রাণের কবি, তিনি তৌহিদের কবি৤ জাগরণের কবি, আল্লাহর একত্ববাদের কবি৤ পিছিয়ে পড়া, জড়া-জীর্ণ করে রাখা মুসলমানদের শত শৃঙ্খল ছিড়ে বেরিয়ে এসে মানবতার জয়গান গাওয়ার কবি৤ তাহলেই আমি রাজাকার মৌলবাদী ইত্যাদি হয়ে যাব৤ রবীন্দ্রনাথ যত বড় জ্ঞানী বা কবি হউকনা কেন তা দিয়ে আমি কি করব যদি সেটা আমার কোন কাজে না আসে? আর যে কাজ গুলো রবীন্দ্রনাথ করেছে মুসলমানদেরকে দাবিয়ে রাখার জন্য তা মিথ্যা? তা কি কেউ অস্বীকার করতে পারবে? এই যে ইসলামের কথা বললেই মৌলবাদী৤ আর রবীন্দ্রনাথের কথা বললেই বাঙ্গালী৤ এর চেয়ে মানসিক দৈন্যতা আর কি আছে? ধর্ম, শিক্ষা দীক্ষা, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্তৃতিক, কোন দিক দিয়েই যাতে মুসলমানরা এগিয়ে যেতে না পারে তার সবগুলো কাজই রবীন্দ্রনাথে করেছে ৤ এর পরেও রবীন্দ্রনাথের পদলেহন করা শুধুমাত্র বিবেক বুদ্ধিহীন জানোয়ারদের পক্ষেই সম্ভব৤ কোন মানুষের পক্ষে তা সম্ভব নয়৤ ঐ যে জিয়া সাহেব বললেন দৈনিক সংগ্রামের কথা ৤ নজরুল মানেই ইসলাম আর রবীন্দ্রনাথ মানেই বাঙ্গালী৤ যদিও রবীন্দ্রনাথ নিজেও বাঙ্গালীদের মানুষ মনে করতেন না৤ ‘‘ রেখেছ বাঙ্গালী করে মানুষ করনি…৤ এটা রবীন্দ্রনাথেরই কথা নাকি? যাই হোক যেটা মুসলমানদের কোন কাজে আসবে না আমরা সেটা গ্রহণ করব না৤ ‘‘দুর্জন বিদ্যান হলেও পরিতাজ্য৤ সর্পের মাথার মণি থাকিলেও সে কি বিষধর নহে? অনেক ধন্যবাদ জনাব মুনিম ভাই ৤ আপনি অযথাই জিয়া সাহেবের সাথে তর্ক করেছেন৤ না তর্ক করাই ভাল৤

  4. 29
    Mojibur Rahman Mintu

    কি আর মন্তব্য করবো ! একেই বলে জ্ঞানের বিড়ম্বনা ।  লিখাটির কপিরাইট, তথ্যসুত্র নিয়ে যেরকম আগ্রাসি তৎপরতা চালানো হয়েছে এতে প্রকৃত লিখাটির অপমৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই। বিষয়টা যেনো মৃত্যর পর লাশের উপর আঘাত হানার মত। মুুনিম সিদ্দিকী তথ্যসূত্র প্রকাশে যতটুকু ভুল না করেছেন তারচেয়ে তাকে বেশী শাস্তি দেয়া হয়েছে, এটা যেনো বাঙালীদের চিরন্তন রীতি। যা এখনও অনেকে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়নি ।

    আমি বিষয়টাকে অন্যভাবে দেখি। এই লিখাতে অনেক তথ্য ছিলো যা আমার অজানা। মুুনিম সিদ্দিকীর কাট-পেস্ট হোক আর মেধার মেৌলিকতার কারণেই হোক, তা জানতে পেরেছি। এজন্য তাকে অনেক ধন্যবাদ। ধন্যবাদ শামীমাকে।

    জগতে কিছু লোক থাকবেই, যাদের খেয়ে দেয়ে কাজ নেই। কেবল তারা ছিদ্র খুজে বেড়ায়!!!

  5. 28
    Syedamq Ialam

    very nice

  6. 27
    মোঃ মাহবুবুর রহমান

    ভাই, রবীন্দ্রনাথ এই উপমহাদেশের একমাত্র ভাষা হিন্দি করার জন্য আবেদন করছিলো সে সম্পর্কে কোনো তথ্য বা রেফারেন্স দিলে উপকৃত হতাম ।

  7. 26
    shamima

    এখানে আলোচনা হওয়া উচিৎ ছিল বঙ্গভঙ্গ সত্যিই কি বঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থে ছিল আর বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথের ভুমিকা কী ছিল তা নিয়ে। লেখক এখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রবীন্দ্রনাথের আলোচনার চেয়ে অপ্রাসঙ্গীক অন্যান্য ব্যক্তি ও বিষয়াদি টেনে এনে হিন্দুসম্প্রদায়কে মুসলিম বিদ্বেষী প্রমাণের চেষ্টাই করেছেন। কেন বঙ্গ ভঙ্গের প্রয়োজন হলো এর সূচনা কোথায়, পরিকল্পনাকারী কে বা কারা, কার স্বার্থ এখানে জড়িত, এসব নিয়ে সেই সময়ের সমাজ বাস্তবতা, শাসক-প্রশাসন, রাজনীতি সামনে এনে আলোচনা করা উচিৎ। সল্প পরিসরে তা মোটেই সম্ভব নয়। এ নিয়ে একটি ব্লগে আলোচনা হয়েছে তা থেকে কিছুটা তুলে দেয়া হলো বাকিটুকু আপনারা লিংক থেকে জেনে নিতে পারবেন-

    বঙ্গভঙ্গের সূচনা বিশশতকের প্রথম দশকে। এই আলোচনায় যাওয়ার আগে আমাদেরকে জানতে হবে, কী ভাবে আত্মচেতনা শিক্ষিত শ্রেণী গড়ে ওঠে আর কি কি কারণে শ্রেণী বৈষম্য সৃষ্টি হয়। আরো মনে রাখতে হবে এ আলোচনায় জড়িত দুই সম্প্রদায় একই ভাষার মানুষ একটা সময় পর্যন্ত বা বহুকাল পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক বজায় রেখে শান্তিপূররণ সহাবস্থান করে এসেছে। আত্মচেতনা শিক্ষিত শ্রেণী থেকেই গড়ে ওঠে, প্রকাশ পায় এবং ধীরগতিতে রাজনৈতিক-সামাজিক ঘটনাবলীর টানে ছড়িয়ে যায়। এর পেছনে মূল কারণ অর্থনৈতিক স্বার্থপূরণ, সুযোগ-সুবিধা অর্জন। এই সূত্রে স্বাতন্ত্র্যবাদী চেতনার প্রকাশও ঘটতে পারে, যা এক পর্যায়ে সাম্প্রদায়িকতার চরিত্র অর্জন করে। এমনকি হতে পারে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত। হিন্দু ভূস্বামী ও এলিটশ্রেণীর ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ব, রাজনৈতিক হিন্দুত্ববাদ এবং শিক্ষা ও পদমান মর্যাদায় উঠতি মুসলমান শিক্ষিতশ্রেণী ও স্বল্পসংখ্যক উর্দুভাষী বিত্তবান বা ভূস্বামী মুসলমানের উচ্চাকাংকার টানে পারস্পরিক সম্পর্কে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়। ১৯০৫ সালে ভাইসরয় কার্জনকৃত বঙ্গভঙ্গ এবং তা রদ করতে ব্যাপক গণআন্দোলন ওই পটভূমি তৈরি করে। ১৯০৬ সালের অক্টোবরে আগা খানের নেতৃত্বে এক সম্ভ্রান্ত মুসলমান প্রতিনিধি দল ভাইসরয় মিন্টোর সঙ্গে দেখা করে তাদের সুযোগ-সুবিধা বিষয়ক দাবি-দাওয়া পেশ করেন। যদিও দাবি মুসলমান সম্প্রদায়ের পক্ষে কিন্তু সেসব ছিল ওইসব অভিজাত, ভূস্বামী ও কিছু সংখ্যক উচ্চমধ্যশ্রেণীর আর্থ-সামাজিক স্বার্থপূরণের উদ্দেশ্যে। অন্যদিকে ব্রিটিশ কুটনীতি তৈরি ছিল দুই সম্প্রদায়ের চলার জন্য পৃথক পথ তৈরি করে দিতে। এই পথ ধরে পরবর্তী সময়ে উঠতি মুসলমান মধ্যবিত্ত তাদের সুযোগ-সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে স্বাতন্ত্র্যবাদী পথ ধরে। স্বতন্ত্র পরিচিতি যে তাদের লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে শাসকশ্রেণীর আচরণে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভাইসরয় মিন্টোর স্পষ্ট মনোভাব- ‘৬ কোটি জনসংখ্যাকে সরকারবিরোধী ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে’ (ভিপি মেনন, ট্রান্সফার অব পাওয়ার ইন ইন্ডিয়া, ১৯৫৭)। এ মন্তব্য লেডি মিন্টোর ডায়েরি থেকে উদ্ধৃত।

     মোটামুটি হিসেবে বিশ শতক থেকে রাজনৈতিক-সামাজিক ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়। তবে এর পাশ্চাৎপদ তৈরি হয়েছিল পূর্বাপর ব্রিটিশ কুটনীতি ও উনিশ শতকে হিন্দুত্ববাদিতার রাজনীতিকরণের মধ্য দিয়ে। সেই সঙ্গে ইসলামের নামে ধর্মীয় সংস্কার ও ধর্মবাদী আত্মচেতনার প্রকাশ। আবার এ কথাও ঠিক যে, উনিশ শতক অবধি সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। হিন্দু-মুসলমান পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করেছে পারস্পরিক স্বাতন্ত্র্য ও সহযোগিতা নিয়ে।

    বঙ্গভঙ্গের পক্ষে কার্জন সাহেব ও তার শীর্ষ আমলাগণ যুক্তি হিসেবে যাই বলুন না কেন এর মূল কারণ বঙ্গে শাসকবিরোধী আন্দোলন, বিপ্লবী কর্মকাণ্ড ও ক্রমবর্ধমান স্বদেশীচেতনার প্রকাশ। এ আন্দোলন ছিল প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়ের। স্বল্পসংখ্যক নেতৃস্থানীয় মুসলমান শাসকবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত হন। বঙ্গভঙ্গের মূল লক্ষ্য ছিল ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের শক্তি হ্রাস করা এবং মুসলমানপ্রধান প্রদেশ তৈরি করে তাদের সুযোগ-সুবিধার প্রসার ঘটিয়ে বঙ্গীয় মুসলমানের সমর্থন নিশ্চিত করা। বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা ১৯০৫ সালের ২০ জুলাই, সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় ১৬ অক্টোবর ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে। কিন্তু এ বিভাজনের প্রতিক্রিয়া হয় ব্যাপক যা অভাবিত শাসকশ্রেণীর জন্য। ভূস্বামী, মধ্যবিত্ত, পেশাজীবী ও ছাত্রকুলের এ আন্দোলন প্রধানত হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও শুরুতে মুসলমান সম্প্রদায়ের স্বনামখ্যাত অনেক নেতা বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন। যেমন আবদুল হালিম গজনভি, ব্যারিস্টার আবদুর রসুল, লিয়াকত হুসেন, আবুল হুসেন, দীদার বক্স, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রমুখ নানা পেশার খ্যাতিমান ব্যক্তি। কিছুসংখ্যক মুসলিম সাময়িকী আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার হয়। কারণ মূলত জাতিগত আবেগ। বাঙ্গালী-বাঙ্গালীত্ব।

    তবে নতুন প্রদেশ গঠন উপলক্ষে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিচার এবং রক্ষণশীল চেতনার কারণে উচ্চবর্গীয় অনেকে যেমন নবাব সলিমুল্লাহ, নওয়াব আলী চৌধুরী প্রমুখ বঙ্গভঙ্গের পক্ষ সমর্থন করে প্রচারে নামেন। তাদের পক্ষে সুবিধা তৈরি হয় যখন স্বদেশী আন্দোলনে ক্রমে হিন্দুত্ববাদী প্রভাব প্রকাশ পেতে থাকে (শীলা সেন)। ‘স্বদেশী জিনিস কিনুন’ ‘স্বদেশী শিল্প গড়ে তুলুন’ স্লোগান জাতীয়তাবাদী হওয়া সত্তেও সে আবেদন পশ্চাৎপদ মুসলমান মধ্যবিত্ত মানসে উদ্দীপনা সৃষ্টি করেনি। আর প্রধানত উর্দুভাষী উচ্চবিত্ত বা ভূস্বামী মুসলমানের রক্ষণশীলতায় বাঙালি জাতীয়তাবাদের আবেদন সাড়া না জাগানোরই কথা।

     বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন দমনে শাসকশ্রেণী সাম্প্রদায়িকতা প্রচারের পথ গ্রহণ করে। এ কাজে সমর্থন জোগায় নবাব সলিমুল্লাহ প্রমুখ ভূস্বামী ও রক্ষণশীল মুসলমান সমাজপতিগণ। প্রচারের কাজে লাগানো হয় মোল্লা-মৌলবীদের। কিছুকাল পরেই পূর্ববঙ্গে বঙ্গভঙ্গের পক্ষে জনমত বাড়তে থাকে। স্বদেশী আন্দোলনের হিন্দুকর্মীদের কর্মসূচিগত বাড়াবাড়ি মুসলমান জনতার মনে অসন্তোষ তৈরি করে। বিষয়টা রবীন্দ্রনাথ তার একাধিক লেখায় উল্লেখ করেছেন। সমালোচনা করেছেন স্বদেশী আন্দোলনে হিন্দুয়ানির অনুপ্রবেশ নিয়ে, তাদের জবরদস্তি নিয়ে।

     সিপাহী বিদ্রোহের সময়ে ইংরেজরা একটা ধাক্কা খেয়েছিল। এই বিদ্রোহকে সামাল দিতে তাদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছিল। সিপাহী বিদ্রোহের সঙ্গে প্রজাদের যোগ ছিল না। তারা উনিশ শতকের শেষভাগে প্রজাসাধারণের উত্থানকে ভয় পাওয়া শুরু করে। তবে এই উত্থানটা তখনই ভয়ঙ্কর হয়ে দেখা দেবে যখন সকল ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে আসবে। ইংরেজরা হিসেব করে দেখল—মুগলদের শাসনকালে হিন্দুরা ধর্মীয় প্রসঙ্গে কখনোই বিদ্রোহী হয়ে উঠেনি। তারা তাদের নিজস্ব ধর্মের খোলসে ঢুকে পড়েছে। কিন্তু মুগলশাসকরা হিন্দুদের শাসনকার্যে কাজে লাগিয়েছে। এজন্য উত্তম সরকারী কর্ম পাবার জন্য বহু হিন্দু ফার্সী শিখে নিয়েছে। বিপরীতক্রমে ভারতের মুসলমানগণ নিম্নবর্গ থেকে ধর্মান্তরিত বলে শাসনকার্যের উপযোগী শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে ছিল। ফলে খাজনা আদায় থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ে সকলপ্রকার শাসনকার্যে মুসলিম শাসকবর্গ হিন্দু ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়-বৈশ্যদের কাজে লাগিয়েছে। আবার যখন ইংরেজরা মুসলমান শাসকদের কাছ থেকে শাসনদণ্ড গ্রহণ করেছে তখন মুসলমানগণ শাসনক্ষমতা থেকে দূরে সরে গেছে—নিজস্ব ধর্মীয় খোলসের মধ্যে ঢুকে পড়েছে।

    ইংরেজরা শিক্ষিত-দক্ষ-অভিজ্ঞ-উচ্চাভিলাসী হিন্দু সম্প্রদায়কে কাজে লাগিয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ও এক্ষেত্রে ইংরেজদের কাছ থেকে সকলপ্রকার শিক্ষা-চাকরীসহ বৈষয়িক সুবিধাদি আদায় করেছে। তারা হয়েছে বাবু শ্রেণী। মুসলমানদের চেয়ে হয়েছে অর্থবান। ফলে এই দিক থেকে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ভেদরেখা ছিল। তবে এই ভেদরেখাটি নিম্নবর্গের হিন্দু মুসলমানদের মধ্যে ছিল না। এই নিম্নবর্গের মানুষরা ছিল সবদিক থেকেই পিছিয়ে পড়া শ্রেণী। এমন কি নিম্নবর্গের হিন্দুরা উচ্চবর্গের হিন্দুদের কাছে ছিল দলিত—আর নিম্নবর্গের মুসলমানগণ উচ্চবর্গের মুসলমান বা আশরাফ শ্রেণীর কাছে ছিল আতরাফ বা নিচুজাত। তাহলে দেখা যাচ্ছে রেশারেশিটা ছিল উচ্চবর্গের হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে।

    সৈয়দ মুজতবা আলী এই উচ্চবর্গের বিভেদ বিষয়ে ‘বঙ্গে মুসলিম সংস্কৃতি প্রবন্ধে’ লিখেছেন—”আজ যদি শুধুমাত্র সংস্কৃত পুস্তকপত্র থেকে ভারতবর্ষের ইতিহাস লিখতে হয় তাহলে এ দেশে মুসলমান ধর্ম আদৌ প্রবেশ করেছিল কিনা সে নিয়ে বিলক্ষণ তর্কের অবকাশ থাকবে। অথচ আমরা ভালো করেই জানি, মুসলমান-আগমণের পর প্রচুর সংস্কৃত পুস্তক লেখা হয়েছে, ব্রাহ্মণপণ্ডিতগণ রাজন্যবর্গের পৃষ্ঠপোষকতা পাননি সত্য, কিন্তু তাঁদের ব্রহ্মোত্তর দেবোত্তর জমিজমার উপর হস্তক্ষেপ না হওয়ার ফলে তাঁদের ঐতিহ্যগত বিদ্যাচর্চা বিশেষ মন্দীভূত হয়নি। কিন্তু এইসব পণ্ডিতগণ পার্শ্ববর্তী মুসলমানদের সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অচেতন থেকেই আপন আপন লেখনী সঞ্চালন করেছেন। …সেই ষঢ়দর্শননির্মাতা আর্য মণীষীগণের ঐতিহ্যগর্বিত পুত্রপৌত্রেরা মুসলমান আগমণের পর সাত শত বৎসর ধরে যে আপন চতুষ্পাঠীতে দর্শনচর্চা করলেন, কিন্তু পার্শ্ববর্তী গ্রামের মাদ্রাসায় ঐ সাত শত বৎসর ধরে যে আরবীতে প্লাতো থেকে আরম্ভ করে নিওপ্লাতনিজম তথা কিন্দী, ফারাবী, আলিসীনা, গজ্জালী, আবু রূশদ ইত্যাদি মণীষীগনের দর্শনচর্চা হল তার কোনো সন্ধান পেলেন না। মুসলমান মৌলানারাও কম গাফিলী করলেন না। যে মৌলানা অমুসলমান প্লাতো-আরিস্তোতলের দর্শনচর্চায় সোৎসাহে সানন্দে জীবন কাটালেন তিনি একবারের তরেও সন্ধান করলেন না, পাশের চতুষ্পাঠীতে কিসের চর্চা হচ্ছে। তিনি জানতেও পারলেন না যে, তিনি প্লাতোর আদর্শবাদ দৃঢ়ভূমিতে নির্মাণ করার জন্য যেসব যুক্তি আকাশ-পাতাল থেকে আহরণ করেছেন তাঁর পাশের চতুষ্পাঠীতেই হিন্দু দার্শনিক শঙ্করাচার্যের আদর্শবাদ সমর্থনার্থে সেইসব যুক্তিই খুঁজে বেড়াচ্ছে। তিনি ‘গুলাত’ নাস্তিকদের জড়বাদ যেভাবে খণ্ডণ করছেন, ব্রাহ্মণও চার্বাকের নাস্তিকতা সেইভাবেই খণ্ডন করছেন। সবচেয়ে পরমাশ্চর্য, তিনি যে চরক-সুশ্রুতের আরবী অনুবাদে পুষ্ঠ বু আলী সিনার চিকিৎসাশাস্ত্র—‘য়ুনানী’ নামে প্রচলিত (কারণ তার গোড়াপত্তন গ্রীক ‘আইওনিয়ান=য়ুনানী’ চিকিৎসাশাস্ত্রের উপর)-আপন মাদ্রাসায় পড়াচ্ছেন, সুলতান বাদশার চিকিৎসার্থে প্রয়োগ করছেন, সেই চরক-সুশ্রুতের মূল পাশের টোলে পড়ানো হচ্ছে।” এই হল বিভাজনচিহ্ণ। এই বিভাজন রেখাকে চতুর ইংরেজ ঠিকই বুঝে নিয়েছিল। বুঝে নিয়েছিল এই বিভাজন রেখায় স্ফুলিঙ্গ দিলে আগুন জ্বলে উঠবে। দুপক্ষকেই জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেবে।

    ফলে সরকার সে সময় ডিভাইড এন্ড রুল নীতি করে। তারা ঠিক করে হিন্দু মুসলমানদের ব্যবহার করা হবে একে অন্যের বিরুদ্ধে। এ জন্যে শিক্ষা ও চাকরীর ক্ষেত্রে মুসলমানদের কিছু বাড়তি সুযোগসুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা (শাসক ইংরেজরা) আশা করে অচিরেই পূর্বে সুবিধাভোগী হিন্দুরা মুসলমানদের এই সুবিধাপ্রাপ্তিকে সন্দেহ করা শুরু করবে।——---বাকিটুকু এখানে

     

     

     

     

     

  8. 25
    এম_আহমদ

    গতকাল একটি মন্তব্য দিতে গিয়ে লেখা বড় হয়ে গিয়েছিল তাই সব কথা আনতে পারিনি। তখন বিদ্বেষ ও তথ্য বিকৃতির অভিযোগটা দেখা দরকার ছিল যা এবারে বলব। কিন্তু তার আগে রবীন্দ্রনাথ নিয়ে আরও কয়েকটি কথা বলি। 

    রবীন্দ্রনাথের কিছু কিছু লেখায় তার স্বজাতি ও স্বধর্ম প্রাধান্য পেয়েছে এবং কিছু কিছু অনেক কথা এমনভাবে প্রকাশ পেয়েছে যা ইসলাম ও মুসলমানদের কাছে সুখ-পাঠ্য হয় না। আমরা আজকে মাল্টি-কালচারাল সমাজে পড়াশুনা ও বসবাস করার ফলে এই কালের সামাজিক বাস্তবতাকে এমনভাবে দেখি যা আগে দেখা হত না। আমাদের কথাবার্তা আমাদের বাস্তবতার আলোকে সাজিয়ে বলি। কিছু নিয়ম মেনে চলি। আমরা অনেকে জমিদার নই, (আপনারা কেউ হলে মাইন্ড করবেন না), তাই আমাদের স্বাধীনতার সীমা অনুভব করে কথা বলি। কিন্তু কেউ জমিদার হলে বা সেই বাস্তবতায় বড় হলে ‘জমিদারের মত’ কথা বলতে পারে এবং জমিদারের চামচা তার justificationও দিতে পারে। বাংলায় একটি কথা আছে, বাঁশ থেকে তার কঞ্চি দঢ়। মূল কথা রবীন্দ্রনাথ আমাদের যুগের নন, আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তার থেকে অনেকটা আলাদা এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেদিন রবীন্দ্রনাথের সামনে যেসব প্রসঙ্গ এসেছে তিনি সেগুলোকে তার সামাজিক আঙ্গিকেই উল্লেখ করেছেন, কথা বলেছেন। তার সমাজ ও মুসলমানদের সমাজের যে বাস্তবতা দেখেছেন তার আলোকেই বলেছেন। তিনি সেই সমাজের সন্তান। বাস্তবিক কারণেই তার অনেক কথা তার সমাজ, আদর্শ ও বিশ্বাসের লোকদের কাছে সঠিক এবং appreciated হলেও মুসলিমদের কাছে বেমানান বা অসুন্দর হয়ে থাকতে পারে। তিনি মুসলমানদের audience করে বা readership ভেবে প্রধানত লেখালেখি করেননি। ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ ইতিবাচক/নেতিবাচক অনেক কথা বলেছেন। খুঁজ করলে পাওয়া যাবে কিছু কিছু কথা মুসলমানদের প্রতি সহানুভূতিশীল আবার কিছু কিছু কথা inconsiderate. এখন কী করা হবে? কেউ যদি বেছে বেছে তার লেখা থেকে যা আপাত সুন্দর, যা মুসলমানদের ব্যাপারে পজিটিভ তা তুলে এনে তাকে অতিমানব ভাবতে শুরু করে এবং অপর সেই ব্যক্তি যে নেতিবাচক কথাগুলো দেখতে যায় তার দিকে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষী বলে ধেদিয়ে আসে, তখন বুঝতে হবে কে রবীন্দ্রনাথের ব্যাপারে কোথায় অবস্থান নিয়েছে। আমার মনে হয় এসবের দরকার নেই। রবীন্দ্রনাথ তো এই দু ধরণের লেখার সমন্বয়েই মানুষ। তিনি ব্রাহ্মণ, তিনি জমিদার তিনি আরও অনেক কিছু। তার লেখার কিছু কিছু স্থানে মুসলমানগণ তুচ্ছ-হীন হয়ে এসেছেন, তিনি রামরাজ্যের স্বপ্ন দেখেছেন –এগুলো সত্ত্বেও আমি তাকে appreciate করতে পারি। আমি যদি রবীন্দ্রনাথের সাথে কথা বলতে পারতাম তবে তার রামরাজ্য আর আমার খিলাফত রাজ্য নিয়ে আলোচনা করতাম –সমস্যা কী। আমার খিলাফতে যদি তার রামরাজ্যের চেয়েও বেশি সুবিধা বা অন্তত সমতুল্য কিছু দিতে পারি, অথবা তিনি যদি তার রামরাজ্যে আমার খিলাফতি রাজ্যের সমতুল্য সুবিধা দিতে পারেন, তবে ধস্তাধস্তির চেয়ে আমিই হয়ত তার রামরাজ্যেই থেকে যেতে পারি –এটাই সামাজিক compromise . আমি উদার হলে অনুদার জগতকেও সুন্দর ব্যাখ্যায় সাজিয়ে নিতে পারি। যেখানে ব্যর্থ হব সেখানে আর কী করা, আমিও তো সীমিত মানুষ। আমার আগের মন্তব্যে রবীন্দ্রনাথের গুণ appreciation এর স্থানের কথা উল্লেখ করেছি, সেটা এখন আর পুনরাবৃত্তি করতে যাচ্ছি না, ওঠাই আমার অবস্থান। কিন্তু সবাই তো সব কিছু একভাবে দেখেন না। জগত তো এমন নয়। কিন্তু কেউ যতক্ষণ পর্যন্ত সীমার ভিতরে থেকে বস্তুনিষ্ঠ কথা বলবেন তখন আমাকে সেটাও দেখতে হবে।

    বিদ্বেষ ও তথ্য বিকৃতি

    রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন লেখার উদ্ধৃতি থেকে মুনিম ভাই এখানে যে ছোট সংকলন প্রবন্ধ দিয়েছেন এবং রবীন্দ্রনাথের লেখার আলোকেই যে কয়েকটি মন্তব্য করেছেন তাতে সব স্থানে একমত না হলেও ‘বিদ্বেষ’ কীভাবে প্রকাশ পেল সেটা দেখতে পাইনি। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথের লেখা কোথায় এবং কীভাবে ‘বিকৃত’ হল তাও দেখতে পাইনি। আমি তো দেখলাম তার মন্তব্য রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতির ভিতরেই ছিল। আমি তার উদ্ধৃতির কয়েকটি অংশ সামনে আনছি এবং স্কয়ার বন্ধনীর মধ্যে আমার প্রশ্ন/মন্তব্য দিচ্ছি যাতে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। 

    রবীন্দ্রনাথের “এক ধর্ম রাজ্য হবে এ ভারতে/এ মহাবচন করব সম্বল,” [এটা কোন ধরণের বাণী? এটা তো উপন্যাস নয় যে ঔপন্যাসিক ব্যাখ্যায় নিতে পারি।] ‘একদিকে তিন লক্ষ যবন সেনা অন্যদিকে তিন সহস্র আর্য সৈন্য…কাহার বজ্রমন্ত্রিত ‘হর হর বোম বোম’ শব্দে তিন লক্ষ ম্লেচ্ছ কণ্ঠের ‘আল্লাহো আকবর’ ধ্বনি নিমগ্ন হয়ে গেল…[এই expression টা কোন ধরণের জাতীয় ঐক্য ও অসাম্প্রদায়িকতার আবেগ বহন করে? ] তার লেখার কিছু কিছু জাগার বিদ্বেষ অনুভূত হলে মুসলিম নেতা সৈয়দ নবাব নওয়াব আলী তা বর্জনের আহবান করলে উত্তর এই হয়, ‘মুসলমান বিদ্বেষ বলিয়া আমরা আমাদের জাতীয় সাহিত্য বিসর্জন দিতে পারি না। মুসলমানদের উচিত তাহারা নিজেদের সাহিত্য নিজেরাই সৃষ্টি করার।….” [এতে কী ধরা পড়ে? তার রচিত সাহিত্য তিনি কার মনে করতেন?] তারপর ‘কিছুদিন হইল একদল ইতর শ্রেণীর অবিবেচক মুসলমান কলিকাতার রাজপথে লোষ্ট্র খণ্ড হস্তে উপদ্রবের চেষ্টা করিয়াছিল। তাহার মধ্যে বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে- উপদ্রবের লক্ষ্যটা বিশেষরূপে ইংরেজদেরই প্রতি। … মূঢ়গণ (মুসলমান) ইটটি মারিয়া পাটকেলের অপেক্ষা অনেক শক্ত শক্ত জিনিস খাইয়াছিল। অপরাধ করিল, দণ্ড পাইল; … এই নিম্নশ্রেণীর মুসলমানগণ সংবাদপত্র পড়েও না, সংবাদপত্রে লেখেও না। একটা ছোট বড়ো কাণ্ড – হইয়া গেল অথচ এই মূঢ় (মুসলমান) নির্বাক প্রজা সম্প্রদায়ের মনের কথা কিছুই বোঝা গেল না। … ব্যাপারটি রহস্যাবৃত রহিল বলিয়াই আতঙ্ক চকিত ইংরেজি কাগজ কেহ বলিল, … মুসলমানদের বস্তিগুলো একেবারে উড়াইয়া পুড়াইয়া দেয়া যাক …’ [এই expression টা কেমন দেখায়? ইচ্ছে হচ্ছে না কিছু বলার তাই বলছি না।]

    আমার কাছে বড় আকারের একটি বই রয়েছে এসব নানান পার্থক্যের কথা বার্তা নিয়ে। আমি কিন্তু চাচ্ছি না মুনিম ভায়ের ডেটা-সেটের বাইরে কিছু আনতে। মুনিম ভাই যে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং এগুলোর আলোকেই যে মন্তব্য করেছেন তাতে কোথায় ‘বিদ্বেষ’ কোথায় এবং কোনভাবে প্রকাশ পেল? রবীন্দ্রনাথের লেখার আলোকে তিনি কীভাবে সাম্প্রদায়িকতা এনেছেন? সবাই কি কেবল রবীন্দ্রনাথের ইতিবাচক কথাগুলো বেঁচে বেঁচে “রবীন্দ্র-গীতি” গাইতে হবে, আর না হলে বিদ্বেষী ভাবা হবে? মুনিম ভাই যদি উদ্ধৃতিগুলোর কোথাও ‘বিকৃতি’ করে থাকেন তবে কোন অরিজিনাল টেক্সটের মোকাবেলায় বিকৃতিটা হল জানতে পারলে ভাল হত। আজ বাংলাদেশে অসংখ্য আলোচনার বস্তুর সাথে রবীন্দ্রনাথও একজন। তার লেখায় কেউ কেউ অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা পান, কেউ কেউ ‘অসাম্প্রদায়িক’ সমাজ ব্যবস্থা গড়ার ইঙ্গিত পান –ভক্তরা ক-অক্ষরের মধ্যে করিমগঞ্জের কলাহাটি পর্যন্ত দেখবেন –এটাই স্বাভাবিক। রবীন্দ্রনাথকে তাদের মত দেখতে না পারলে এটা অনেকাংশে হয়ত sacrilege হয়ে দেখা দিতে পারে।   

    আমি চেষ্টা করি যে লেখক বিদ্বেষী হয়েও ‘গুণবান’ হলে তার জন্য সুন্দর একটি স্থান পেতে । সবাই জানেন বঙ্কিমের লেখা মুসলিম বিদ্বেষী। তার উপন্যাসের যেখানে মুসলিম চরিত্র এসেছে এবং মুসলিম সামাজিকতা এসেছে সেখানে নেতিবাচক অর্থে এসেছে। আমি বলি ঠিক আছে। সাহিত্য যদি সমাজের প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকে তবে তিনি তার সামাজিক বিদ্বেষকে সাহিত্যে স্থান দিয়ে সেই বাস্তবতা ইতিহাসকে preserve করেছেন। মুসলমানদের প্রতি তাদের যে attitude ছিল তা এখন আর হারিয়ে যাবে না। আর তা যদি উপন্যাস হয়, তবে তার নায়কী চরিত্রায়ন দেখব, প্লট দেখব, সামাজিকতা অঙ্কন দেখব, প্লটে প্লটের সম্পর্ক, সমন্বয় অ সম্পর্ক দেখব, গল্পটির আবেদন দেখব, পরিমণ্ডল দেখন –সেখানে বিদ্বেষ হয়ত একটি মাত্র বস্তু হবে। কবিতা বা সংগীত হলে সেগুলোর শৈল্পিক স্থান দেখব, এভাবে অবস্থান নেয়াটাই ভাল মনে করি। তবে কারো লেখাকে select করে করে তাকে উঁচু/নিচু না করে তার সব দিক দেখাই ভাল। 

    1. 25.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      দারুণ সম্বৃদ্ধ তথ্য। কষ্ট করে লেখার জন্য ধন্যবাদ।

  9. 24
    মুনিম সিদ্দিকী

    কোন বিশেষ ব্যক্তির সাথে অন্য এক সাধারণ ব্যক্তির সম্পর্ক ভক্তির ভিত্তিতে গড়ে উঠে সেখানে যুক্তিকে কুযুক্তি এবং তিক্ত মনে হওয়া স্বাভাবিক। কাজেই যারা রবী ঠাকুরকে মহামানবের আসনে স্থান দিয়েছেন তাঁদের পক্ষে সত্য অবিশ্বাস্য হয়ে উঠে।

    আপনি আমার এই ব্লগ না পড়েই মন্তব্য করেছেন। আমি এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা তোলেই প্রমাণ করেছি যে তিনি তাঁর পরিবেশের প্রভাব থেকে মুক্ত ছিলেন না। যদি পরিবেশের বিরুদ্ধে থাকতেন তাহলে তাকে রবীন্দ্রনাথ হয়ে উঠা সম্ভব হত কিনা তাও বিবেচনা করে দেখতে হয়।

    যদি পারেন তাহলে যা উল্লেখ করেছি সেই গুলোকে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট খন্ডন করে দেখান। ধন্যবাদ।

  10. 23
    সমুদ্র

    রবীন্দ্রনাথ মুসলিম বিদ্বেশী ছিলেন বলে কখনই মনে হয়নি।তার কোন লেখা দিয়েই এটা প্রমান করা যাবে না। বরং সনাতন হিন্দু ধর্মের বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন।

  11. 22
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    মুনিম ভাই, কথা ঐ একটাই সত্য অনেক সময় অনেকের কাছে খুব তিক্ত বলে মনে হয়। আইউব খানও বাঙালী মুসলমানদের বিভিন্ন শিরকী-কুফরী কর্মকান্ড দেখে সমালোচনা করেছিলেন বলে তাকে আজও সেই কারণে অপবাদ পেতে হয়। অথচ এই সংক্রান্ত বিষয়ে আইউব খান মোটেও ভুল বলেননি। বরং কোরআন হাদিস মতে সত্যই বলেছিলেন।

    যাই হৌক এই পোষ্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ মুনিম ভাই। আপনার থেকে নিয়মিত পোষ্ট আশা করি।

  12. 21
    এম_আহমদ

    ১)ক, সংকলন-প্রবন্ধ

    প্রথমত আপনার ‘সংকলন’ প্রবন্ধটি পড়ে মনে হয়েছে যে লেখাটি খুবই সময়োপযোগী। তবে উপরে ‘প্ল্যারিজমের’অনেক কথা দেখছি। শামস ভাইয়ের মন্তব্যের পরে বিষয়টি আরও বর্ধিত হয়েছে দেখে আশ্চর্য হয়েছি। ‘সংকলন’ আর যাই হোক নিজের সৃষ্টি নয়। তাই কোনো সংকলক যদি প্রথমেই বলে ফেলেন যে তার লেখা অন্যের কাছ থেকে আনা অর্থাৎ সংকলন করা তখন সেটাতে “প্ল্যারিজমের”মূল ধারণা বিচ্ছিন্ন হয়। কেননা, প্ল্যারিজমের মূল কথা হচ্ছে অন্যের কাজকে ‘নিজের নামে’ চালিয়ে দেয়া। কিন্তু লেখক সেটা করেন নি। তিনি ‘সংকলন’ বলে চালিয়েছেন। এখন কোথা থেকে সংকলন করেছেন সেটা যদি রেফারেন্স করে না দিয়ে থাকেন এবং কেউ সেই কথা উত্থাপনের পর তা দাখিল করে দেন, তখন কীসের অপরাধ বাকি থাকে? তারপরও যদি তাকে ‘প্ল্যারিজমের’ অপরাধে ধাওয়া করা হয়, তবে বুঝতে হবে, সম্ভবত তাকে ‘অন্য কোনো কারণে’ ধাওয়া করা হচ্ছে, প্ল্যারিজমের কারণে নয়। আমাদের অনেকের জীবনটা বই-পুস্তকের মধ্যেই কেটে যাচ্ছে। আইনও দেখেছি, আইনের সহানুভূতিও দেখেছি এবং আদর্শিক দ্বন্দ্বের আইনি কৌশলও দেখেছি। আমাদেরকে প্রথমে ব্যক্তির innocence দেখতে হয়। তারপর অন্য কিছু। কেউ কোনো-বস্তু চুরি করে এনে বলে না ‘এটা চুরির মাল’। কেউ কোনো ভুল করলে বলা যেতে পারে, ‘ভাই, এখানে নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে, এটার প্রতি আপনি সতর্ক থাকবেন।' কিন্তু প্রথম থেকেই বেমানান হয়ে যাওয়াটাই বেমানান দেখায়।

    ১)খ, সংকলিত লেখা যদি সদালাপে নিয়ম বহির্ভূত হয়, তবে মুনিম ভাইকে বলব আপনি এটা সরিয়ে ফেলেন। কিন্তু সংকলন নীতির ভিতরে হলে, এবং সংকলনের উৎস দেয়ার পরও, প্ল্যাজরিজমের সম্পাদকীয় নোটিশসহ লেখাটিকে বেমানান দেখায়। উৎস উল্লেখের পর যদি লেখাটি নীতির অনুকূল হয়ে যায়, তবে সম্পাদকীয় নোটিশ তোলে নিলেই মনে হয় ভাল। তবে নোটিশহ হলে আমি বলব সরানোই উচিৎ। তবে এটা আমার নিছক অভিমত।        

     

    ২) রবীন্দ্রনাথ

    উপরে শামিমা (Shamima) বলছেন, ‘রবীন্দ্রনাথও দোষে গুণে একজন মানুষ। সমালোচনা হতেই পারে, হওয়া উচিৎ। কিন্তু এমন একজন সাহিত্যিক, গবেষক, কবির সমালোচনা শুধুমাত্র মানুষের মনে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ জাগ্রত করার লক্ষ্যে করা ঠিক নয়।’  এটি একটি সুন্দর মন্তব্য।

    রবীন্দ্রনাথ একজন ব্রাহ্মণ পরিবারের লোক ছিলেন। ১৮৬১ সালে যখন তার জন্ম তখন তা পলাশী থেকে ১০৪ বছর দূরে এবং চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত থেকে ৬৮ বৎসর দূরে। সবগুলো বন্দোবস্ত হিন্দুদের হাতে চলে যাবার পর এতদিনে মুসলমানদের সামাজিক অবস্থা অতি করুণ হয়ে পড়েছে। ওরা সর্বত্রই তখন দরিদ্র প্রজা-শ্রেণী, (সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া)।. জমিদারের অধীনস্থ দরিদ্রের পক্ষে অনেক রকমের খাজনা দিয়ে কোনো রকমে জীবন যাপনের পর শিক্ষা সংস্কৃতির কথা ভাবা অকল্পনীয়। রবীন্দ্রনাথ জন্মের পর থেকে যে বাস্তবতায় বড় হয়ে ওঠেছেন সেখানে তার ও তার জীবন যাপনের প্রণালীর মূলে ছিল মুসলিম দরিদ্র প্রজা ও তার জমিদার পরিবার। তার পরিবারের সম্পর্ক ছিল অতীত থেকে গড়ে ওঠা ইংরেজদের সাথে এবং তাদের মতো অপরাপর ব্রাহ্মণ/হিন্দু জমিদারদের সাথে। তারা সেই সুদূর আর্য-রক্তের লোক, যে রক্ত ফিরিঙ্গিদের গায়ে, গায়ের রঙ-রূপও হাজার বৎসরে তেমন বদলায়নি। একথাটি বাস্তবতা অর্থে, সময়ের এত দূরত্বের পর কেউ কারো বাপ-বেটা থাকেননি। মুসলমানগণ ও অ-ব্রাহ্মণ ও হিন্দুরা অনার্য। তবে বাকী অনার্যরা তাদের বশীভূত হলেও মুসলমানরা তেমন বশীভূত হয়নি। মুসলিম শাসনামলে তো ব্যাপার উল্টোই ছিল। রবীন্দ্রনাথের আমলে ব্রাহ্মণ ও হিন্দুদের দাপটে মুসলিম-শ্রেণী ছিল একধরণের আণ্ডার-ডগ। তাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বিলীন হয়েছে এবং ব্রাহ্মণ/হিন্দুরা ইচ্ছে করেই ম্লেচ্ছ ঐতিহ্য ধ্বংস করে যাচ্ছেন। ‘১৮৭৫ সালে নবীনচন্দ্র সেন ‘পলাশীর যুদ্ধ’ কাব্য লেখেন (যাকে মহাকাব্য বলা হয়), যাতে মুসলমান বাদশাহদের নিষ্ঠুরতা, মূর্তি ভাঙ্গার, লুট করার, ধর্ষণ করার অনেক ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে; এটাকেই মুসলিম শাসনের বৈশিষ্ট্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। নীতিভ্রষ্ট লম্পট ব্যক্তি লম্পট ব্যক্তি হিসেবে সিরাজুদ্দৌলার চরিত্রকে চিরস্থায়ী রূপ দিতে সম্ভবত অন্য কোনো রচনা এই কাব্যের মত সফল হয়নি।’ (জয়া চ্যাটার্জির, বাঙলা ভাগ হল: হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা ও দেশ বিভাগ ১৯৩৩-১৯৪৭, ঢাকা: দি ইউনিভারসিটি প্রেস, পৃ ২০১) রবীন্দ্রনাথ এগুলো পড়েই বড় হয়ে থাকবেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে মানুষ তার যুগের সন্তান। আমরা আজ যা বলছি বা লিখছি তা আমাদের পূর্ববর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান যেভাবে নানা আলোচনা ও সমালোচনায় সন্নিবেশিত হয়ে আসছে তারই আলোকে। রবীন্দ্রনাথ মানুষ হিসেবে তার পিয়ার গ্রুপ, তার সমাজ, তার ধর্ম, তার আদর্শ ইত্যাদির নিরিখে চিন্তা করবেন এবং লিখবেন –এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষ তার সমাজ ও কালের গণ্ডি পেরিয়ে, তার সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে ওঠে কিছু বলতে পেরেছে কী না, সেটাই হতে পারে বিবেচ্য। রবীন্দ্রনাথকে আমরা জমিদার হিসেবে পাই, তার জমিদারিতে কিছু মুসলমান নিপীড়িত হবে এটাও পাই। তিনি ব্রাহ্মণ সমাজের চিন্তা করবেন এটাও স্বাভাবিক।  রামরাজ্যের চিন্তা করতে পারেন –এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু এতকিছু পরও তার লেখায় এমন কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় যা মানুষের প্রাণকে স্পর্শ করে –সে যেকোনো সমাজ ও ধর্মের হোকনা কেন। এখানেই তার সার্থকতা। এখানেই তার বৃৎ গুণ। এখানেই আমরা প্রকৃত appreciation এর স্থান খুঁজে পাই। আবার সংগীতের মুল বিষয় হয় সূর। সেখানে জাতিভেদ, সময় ও স্থান নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে। কবিতায়ও রবীন্দ্রনাথ মানবিক অনুভূতির স্থানকে গভীর থেকে স্পর্শ করতে পেরেছেন।

    রবীন্দ্রনাথ মূলত একজন কবি ও সংগীতকার। এখানে তার বলিষ্ঠ অবস্থান আছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে ‘রবির-অতি-ভক্তরা’ রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যে ধর্মীয়-রূপ দেন, সেটার জন্য রবীন্দ্রনাথ দায়ী নন, বরং চাটুকার, মস্তিস্কশুন্যরাই দায়ী। যারা ইসলাম থেকে সরে গিয়েছে এবং যারা শুধু গরু খেয়ে, এবং ঈদে পরবে মুসলমান হয়ে এক সুমহান ইসলামের অনুসারী, তারা হিন্দু সংস্কৃতিকে বাঙালীত্বের নামে অনুসরণ করছে এবং এই পরিসরে তাদের বড় একটা অবস্থান করে নিয়েছে। এখানে রবীন্দ্রনাথ তাদের আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের একজন বড় আইকন। রবীন্দ্রনাথ হচ্ছেন সামনে রাখার একটা উপকরণ, অজুহাত। এদের কাছে তাদেরই ‘সৃষ্ট’ রবীন্দ্রনাথ একজন ‘দেবতা’, যদিও শব্দে উচ্চারিত হচ্ছে না। তাদের ‘দৈবিক-উৎসর্গে’ যখন তাওহীদ-পন্থিরা সমালোচনা করেন তখন তাদের গায়ে জ্বালা ওঠে, তারা মনে করে ওরা হিন্দু বিদ্বেষী। পাকিস্তান আমলে তারা বর্তমানের মত বৃক্ষ-তলে, শাখা-প্রশাখায় ‘রবীন্দ্র-কান্না’করতে পারেনি কারণ রাষ্ট্র-যন্ত্র তাদের হাতে না থাকায় ওখান থেকে তেমন উৎসাহ পায়নি, তাই তারা নিগৃহীত ভেবেছে। এখন নিজেদের হাতে রাষ্ট্র-যন্ত্র থাকায় আদর্শিক কান্না homage এ পরিণত করা হয়েছে। অনেক কর্মকাণ্ড ও আয়োজন একধরণের পূজাই বলা যেতে পারে। তাদের পূজায় যারা সম্মত নন –ওরা আজকে মৌলবাদী

    জাতীয় সংগীত ও জাতীয় মানস

    বর্তমানের জাতীয় সংগীত বঙ্গবন্ধুর পছন্দের ছিল না –এটা সর্বজন জ্ঞাত। যেসব কমিউনিস্ট পন্থিরা ১৯৬২ থেকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখছেন, আন্দোলন করছেন তাদের একাংশ শুধু পূর্বপাকিস্তান নিয়ে বাংলার স্বাধীনতা দেখত না, বরং পশ্চিম বঙ্গসহ। ১৯০৫ বঙ্গভঙ্গ হলে তা রদ করার উদ্দেশ্যে হিন্দুরা যে আন্দোলন করে তাতে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন অগ্রণী-ভূমিকায়। ‘আমার সোনার বাংলা’ ছিল দুই বাংলা একত্রীকরণের গান। যদিও রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ও মুসলমানদেরকে এক জাতি ভাবতেন না, তবে প্রয়োজনেই দুই বাংলার ভৌগলিক ঐক্য চেয়েছিলেন। মনে রাখতে হবে তখন কিন্তু ব্রিটিশের অধীনে দেশ দুটি হয়ে যায়নি, এটা প্রশাসনিক বিভক্তি ছিল। তবুও হিন্দুদের আন্দোলনের মুখে ব্রিটিশ রাজ বিভক্তি ঠিকিয়ে রাখতে পারেনি। ১৯১১ সালে তা রদ করতে হয়। কিন্তু এই হিন্দুরা কেন আবার ১৯৪৬ সালে রেফারেণ্ডাম করে বাংলাকে ভাগ করে একাংশ ভারতে নিয়ে গেল? পরবর্তীতে দুই বাংলা একত্র করার স্বপ্ন ‘খাটি’ বাঙালীদের মন থেকে যায় নি। ‘সোনার বাংলা’ গান প্রতীক হয়ে তাদের মনে বেঁচে যায়। আ’লীগের একজন প্রয়াত নেতার একটু কাহিনী শুনাই। তার নাম সৈয়দ ইসলাহ উদ্দীন আহমদ, আমার এক বন্ধুর পিতা। একজন উচ্চতর সিভিল সার্ভিস পজিশন থেকে পারিবারিক ঐতিহ্যের টানে চাকুরী ছেড়ে ১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ঐ সালে তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে ১৯৬৬ সালে ছয় দফায় এবং ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে এবং একাত্তরের মুক্তি যুদ্ধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন। কিন্তু তার একটি বই ‘এক জাতি, দুটি দেশ’ নামে প্রকাশ করে বঙ্গবন্ধুকে একটি কপি দেন। কিন্তু পরে বঙ্গবন্ধু নিজেই এটি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন এবং ইসলাহ উদ্দীন জেলে ঢুকে পঁচতে থাকেন জিয়ার আবির্ভাব পর্যন্ত। ইসলাহ উদ্দীন পরে তার ‘দারিন্দ্র বিমোচনের সংগ্রাম’ বইয়ের ভূমিকায় ঐ বিষয়টি এভাবে উল্লেখ করেন: ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যার অল্পকাল পূর্বে ভারতীয় হাইকমিশনার এই পুস্তকখানির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর কাছে একখানি প্রতিবাদলিপি প্রেরণ করেন। বঙ্গবন্ধু তার হত্যার দুই দিন পূর্বে ভারতীয় হাই কমিশনারের মনোরক্ষার্থে  “বইখানি বাজেয়াপ্ত করা হলো” বলে ফাইলে লিখে দেন।’ (ভূমিকা, সৈয়দ ইসলাহ উদ্দিন আহমদ, (২০০৫), দারিদ্র বিমোচনের সংগ্রাম, ঢাকা উৎস প্রকাশন)। 

    বাংলাদেশ নানান আদর্শের দ্বন্দ্বের একটি দেশ –এ কথা অনেক লেখায় বলেছি। ১৯৭১ যখন রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার বাংলা’ জাতীয় সংগীত নির্বাচন করা হয়, তখন এর পিছনে দুই বাংলা একত্রীকরণের নিবিড় ঐতিহাসিক উদ্দেশ্য জুড়িয়ে দেয়ার অভিপ্রায় একান্ত উড়িয়ে দেয়া যায় কীনা সন্দেহ। কিন্তু ১৯০৬ সালে ব্রাহ্মণ জমিদার কবির কার্যালয় ও জমিদারির ভুখণ্ড একত্রিকরণের উদ্দেশ্য ও সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রচিত সংগীত বৃহত্তরভাবে একাত্তর সালে জমিদারি ও প্রজা-প্রথা বিপরিবর্তিত জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও ধ্যান ধারণার কতটুকু প্রতিফলন ঘটায় তা রবীন্দ্র-ভক্তির ঊর্ধ্বে ওঠে দেখার যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। অর্থের দিক থেকে এই গানটি ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশক থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে। রবীন্দ্রনাথ যে আম্র-কাননের কথা বলেন (ফাগুনে তোর আমারে বনে ঘ্রাণে পাগল করে), সেটা জমিদারের বাস্তবতা। আমাদের কার কার আম্র-বন, আম্র-কানন রয়েছে? আমি তো আমাদের এলাকায় আম্র-বন দেখিনি। বাড়ীতে ২/৪টা আগের গাছ আছে, আর এমন বাস্তবতা সাধারণ জনগণের। ৯০ ভাগ জনগোষ্ঠী আবার ‘দিন ফুরালে সন্ধ্যাকালের’ যে চিত্রটি তুলে ধরা হয়েছে তা মুসলমানের নয়। তবে এই অংশ সঙ্গীতে গাওয়া হয় না বলে বাদ দিলেও গোটা গানটি জাতীয় নাগরিক সত্তার জীবন বৈশিষ্ট্য কতটুকু ধারণ করে সেটা অবশ্যই আলোচনার বিষয় হতে পারে।

    তাছাড়া গানটি ‘মা’এখানে প্রধানত দেবী, (যদিও আমরা এটা সেভাবে দেখি না।)। হিন্দুদের দেব-দেবী anthropomorphic, ওরা জল, স্থল, গগণ ইত্যাদিতে রূপায়িত হয়ে আসেন। এখানে প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মাটি ‘মাতৃ-দেবী’ হয়ে কবির চোখে ধরা দিয়েছেন যেভাবে ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা, মম অসীম গগণ বিহারী, তুমি আমারি, তুমি আমারি, তুমি আমার সাধের সাধনা …’ পঙতিতে সন্ধ্যাকাশে ব্রহ্মা কবির দৃষ্টিপটে অপূর্বরূপে (anthropomorphically) আত্মপ্রকাশ করেছিলেন সেভাবে।  দেশ-মাতৃকা ১৭শো অথবা ১৮শোতে উপাস্য হয়ে আসেন, মূল আন্দোলনের বিষয়টি ও কালটি এখন স্মরণ করতে পারছি না। প্রায় দুই শো বৎসরে মুসলমানগণও ধীরে ধীরে নিজেদের চিন্তায় দেশ-মাতৃকাকে হেয়ালীভাবে স্থান করে দিয়েছেন –আজ এটি বিষয় হিসেবে মুসলমানদের সামনে উত্থাপন করলে তা বিস্ময় হয়ে দেখা দিতে পারে যেভাবে  তা দুই আড়াই শো বছর আগের মুসলমানদের কাছে উল্টোভাবে দেখা দিত। ভূখণ্ডকে মা হিসেবে দেখে তার প্রতি homage জ্ঞাপন যে জিনিস সেই জিনিস দেশের প্রতি ভালবাসা থেকে ভিন্ন বস্তু। প্রথমটির সম্পর্ক পৌত্তলিকতায় এবং দ্বিতীয়টি আর যা’ই হোক ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়। এগুলো অল্প কথায় বলা কঠিন বরং সমস্যাও।

    তারপর গানটির সূর গোটাটাই অপরজনের কাছ থেকে ধারণ করার বিষয়টি অনেকে উত্থাপন করেছেন। [এটা rel="nofollow">গগণ হরকরা থেকে আনা]  তবে যে যুগে এটা করা হয়েছিল, সেযুগে কপি-রাইটের বিষয় এত শক্ত ছিল না। বরীন্দ্রনাথও এটা সেভাবে দেখেননি। তবে গানটির সম্পর্ক উপনিষদের সাথে জড়িত এটাই বরং তাৎপর্যপূর্ণ।  

    গগন হরকরার এই গানটি সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “কথা নিতান্ত সহজ, কিন্তু সুরের যোগে এর অর্থ অপূর্ব জ্যোতিতে উজ্জ্বল হ’য়ে উঠেছিল। এই কথাটিই উপনিষদের ভাষায় শোনা গিয়েছে, “ত্বং বেদ্যং পুরুষং বেদ মা বো মৃত্যু পরিব্যথাঃ” – যাকে জানবার সেই পুরুষকেই জানো, নইলে যে মরণ-বেদনা। পণ্ডিতের মুখে এই কথাটিই শুনলুম, তাঁর গেঁয়ো সুরে, সহজ ভাষায় – যাঁকে সকলের চেয়ে জানবার তাঁকেই সকলের চেয়ে না-জানবার বেদনা – অন্ধকারে যাকে দেখতে পাচ্ছে না যে শিশু, তারই কান্নার সুর – তার কণ্ঠে বেজে উঠেছে। “অন্তরতর যদয়ামাত্মা” – উপনিষদের এই বাণী এদের মুখে যখন “মনের মানুষ” বলে শুনলুম, আমার মনে বড়ো বিস্ময় লেগেছিল।”[উইকি] স্মর্থব্য যে জাতীয় সংগীতের সাথে যদি কোরান হাদিস বা ইসলামি কৃষ্টি-কালচারের কোন সম্পর্ক থাকত, তবে আমাদের “অসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী” কি বলত? 

    1. 21.1
      এম_আহমদ

      প্ল্যারিজমের=প্ল্যাজরিজম

    2. 21.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনার মূল্যবান বক্তব্য সংযোজনের জন্য ধন্যবাদ।

  13. 20
    রাজদরবার

    সদালাপ কর্তৃপক্ষ,

    “"ভালো মানুষী ধর্ম নয়; তাতে দুষ্ট মানুষকে বাড়িয়ে তোলে। তোমাদের ‘মুহম্মদ’ সে কথা বুঝতেন, তাই তিনি ভালো মানুষ সেজে ধর্মপ্রচার করেননি।”" গোরা অপন্যাসে এ জঘন্য লিখা এসেছে।
    ( নাঊযুবিল্লাহ! )

     

    কর্তৃপক্ষ এধরণের কথা যে লিখতে পারে, তার প্রতি একজন মুসলমানের কি মনোভাব থাকা উচিত?

     

    রবীন্দ্রনাথের জন্মের পাঁচশ বছর আগেও গৌড়ের মুসলিম সুলতানরা বাংলা ভাষার পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। সুতরাং রবীন্দ্রনাথ ছাড়া বাংলা ভাষা অচল, এটি মনে করার কোন কারণ নেই। রবীন্দ্রনাথের উক্তিই প্রমাণ করছে, সে আমাদের কেউ নয়।

    কালেমা শরীফে হুযূরপাক সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক থাকা সম্পর্কে তার দুষ্ট, সাম্প্রদায়িক, ইসলাম অবমাননা, হুযূরপাক সল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে বেয়াদবী মূলক কটাক্ষ উক্তি করেছে তার ‘বীর গুরু’ প্রবন্ধে । সে বলেছে, “"দেব-দৈত্য সকলেই নিজের উপাসনা প্রচলিত করিতে চায়; গোরখনাথ রামানন্দ প্রভৃতি ধর্মমতের প্রবর্তকেরা নিজে নিজে এক-একটা পন্থা বাহির করিয়া গিয়াছেন। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করিবার সময়ে মুহম্মদ নিজের নাম উচ্চারণ করিতে আদেশ করিয়া গিয়াছেন।”" নাঊযুবিল্লাহ!

     এরকম বহু উক্তি দেখানো যাবে। যদি কর্তৃপক্ষ চান তাহলে অনলাইনের রবীন্দ্র রচনাবলীর ওয়েবসাইট থেকেও রেফারেন্স দেয়া সম্ভব।

    রবীন্দ্রনাথ তার লেখায় যেভাবে ইসলাম ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষপোষণ করত, সে তুলনায় মুনিমভাই কিছুই করেননি।

    1. 20.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাই সত্য কথা তিক্ত হলেও সত্য আর সত্য সবার জানা উচিত। ধন্যবাদ।

  14. 19
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    বাল্যকালে “জল পড়ে পাতা নড়ে” থেকে শুরু করে আশি বছর বয়সে মৃত্যুর অব্যবহিত পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত “তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি, বিচিত্র ছলনাজালে, হে ছলনাময়ী!” যিনি সাহিত্য রচনা করেছেন তাঁর মতামত তরুণ-যুবক-পৌঢ়-বৃদ্ধ জীবনের এই ফেজগুলির সাথে-সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, হয়। রবীন্দ্রনাথকে উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্রনাথ  বলা, যেমনটি লেখক বলেছেন, (…এই প্রবন্ধে উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্রনাথ একটি ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে বলেন-) বিদ্বেষপ্রসূত

    লেখাটিতে কিছু তথ্য বিকৃতি ও মনগড়া বিদ্বেষমূলক অপব্যাখ্যা রয়েছেঃ

    লেখা হয়েছে-

    ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে প্রতাপাদিত্যের উক্তি- খুন করাটা যেখানে ধর্ম, সেখানে না করাটাই পাপ। যে মুসলমান আমাদের ধর্ম নষ্ট করেছে তাদের যারা মিত্র তাদের বিনাশ না করাই অধর্ম।

    অতঃপর উপসংহার টানা হয়েছে এই বলে যে-

    এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের মুসলিম বিদ্বেষ এবং বিরোধিতার অবস্থান চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়।

    যশোহরের ভূঁইয়া প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের তীব্র নেতিবাচক ধারণা যেটি তিনি লিখিতভাবে বৌ-ঠাকুরাণীর হাট উপন্যাসের ভূমিকায় প্রকাশ করেছিলেন:


    সেটি বিবেচনায় না নিয়ে বরং প্রতাপাদিত্যর কথাই রবীন্দ্রনাথের কথা বলে ধরে নিয়ে যে উপসংহার টানা হয়েছে তা মনগড়া বিদ্বেষমূলক অপব্যাখ্যার আওতাধীন।

    লেখা হয়েছেঃ

    সে উপলক্ষে ব্রিটিশ সম্রাটকে তেল মেরে রবীন্দ্রনাথ লিখেন-

    জনগণ মন অধিনায়ক, জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা

    তব শুভ নামে জাগে, তব শুভ আশিষ মাগে

    গাহে তব জয় গাঁথা।

    জন গণ মঙ্গল দায়ক জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা।

    রবীন্দ্র-বিরোধী এরকম প্রচারণা বেশ আগের কিন্তু আসল ঘটনা জানা যায় ১৯৩৭ সালের ২০ নভেম্বর রবীন্দ্রনাথের একটি চিঠি থেকেঃ

     “…সে বৎসর ভারতসম্রাটের আগমনের আয়োজন চলছিল। রাজসরকারে প্রতিষ্ঠাবান আমার কোনও বন্ধু সম্রাটের জয়গান রচনার জন্যে আমাকে বিশেষ করে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শুনে বিস্মিত হয়েছিলুম, সেই বিস্ময়ের সঙ্গে মনে উত্তাপেরও সঞ্চার হয়েছিল। তারই প্রবল প্রতিক্রিয়ার ধাক্কায় আমি জনগণমন-অধিনায়ক গানে সেই ভারতভাগ্যবিধাতার জয় ঘোষণা করেছি, পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর পন্থায় যুগ-যুগ ধাবিত যাত্রীদের যিনি চিরসারথি, যিনি জনগণের অন্তর্যামী পথপরিচায়ক, সেই যুগযুগান্তরের মানবভাগ্যরথচালক যে পঞ্চম বা ষষ্ঠ কোনো জর্জই কোনক্রমেই হতে পারেন না সে কথা রাজভক্ত বন্ধুও অনুভব করেছিলেন।… [গানের পিছনে রবীন্দ্রনাথ, সমীর সেনগুপ্ত, প্যাপিরাস, ২০০৮, পৃ. ১১৬]

    এই এভিডেন্স লেখাটিকে তথ্য বিকৃতির দায়ে দায়ী করে।

    এরূপ বিদ্বেষপ্রসূত সঙ্কলিত রচনাকে সদালাপের ব্যানারে প্রমোট করতে আমরা স্বস্তি বোধ করি না। বিখ্যাত ব্যক্তিদের সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণার পূর্বে তথ্যের যাচাই বাছাই বিধেয়। সদালাপে এটি আরো বিশেষভাবে প্রয়োজনীয় কারণ আমরা ইসলাম-বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে কাজ করি। পোষ্টের তথ্যের অথেনটিসিটি চেকের ব্যাপারে ডিউ ডিলিজেন্সে কম্প্রমাইজ করার সুযোগ নেই।

    বিদ্বেষতাপ্রসূত এসব ছাইভস্ম-এর সঙ্কলন সদালাপে ডাম্প না করে, মুনিম সিদ্দিকী সাহেব মৌলিক রচনায় মন দেবেন এটিই আমাদের প্রত্যাশা।

    ধন্যবাদ। সম্পাদক, সদালাপ।

    1. 19.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      রবীন্দ্রনাথকে উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্রনাথ  বলা, যেমনটি লেখক বলেছেন,

      আসলে এইটি মিস্টেক আমি এই ভাবে বলতে চাইনি-  আমি যা চেয়েছি তা হচ্ছে-

      এই প্রবন্ধে উল্লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি শব্দ প্রয়োগ লক্ষ্য করলে মুসলমান সমাজের প্রতি রবীন্দ্রনাথের উগ্র সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির একটা সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়।

      আপনি রায়হান ভাইয়ের ২ নং কমেন্ট লক্ষ্য করুন, রায়হান ভাই এই বিষয়ে আমাকে নোটিশ করেছিলেন। আমি তাঁর উত্তরে তাকে জানিয়েছিলাম যে তা মিস্টেক। এবং তা তখন আমি ঠিক করে দিয়েছিলাম। জানিনা তা আবার ফিরে কেমন করে আসল!!!!

      আপনাদের সদালাপের ফর্ম নতুন তাই এডিটিং করতে অসুবিধা হয়েছিল। আপনারা আপডেট বাটন ২টি রেখেছেন আমি ভুলে ১মটিতে ক্লিক করে সমস্যায় পড়ে যাই। যখন বুঝলাম ভুল বাটনে ক্লিক করে বসেছি তখন এডিট করা পেজে ফিরে যেতে পারছিলামনা। আমার মেহনত বেথা গেল! পরে যখন আবার এডিট করতে যাই তখন নোটিশ এলো অটো সেইভ কপি আছে। ভাবলাম আমার সেই কপি তাই  ইয়েস বাটনে ক্লিক! এখন বুঝতে পারছি যে যেটি অটো সেভ ছিল তা পুরান ভার্সন ছিল।

      ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে প্রতাপাদিত্যের উক্তি- খুন করাটা যেখানে ধর্ম, সেখানে না করাটাই পাপ। যে মুসলমান আমাদের ধর্ম নষ্ট করেছে তাদের যারা মিত্র তাদের বিনাশ না করাই অধর্ম।

      সেটি বিবেচনায় না নিয়ে বরং প্রতাপাদিত্যর কথাই রবীন্দ্রনাথের কথা বলে ধরে নিয়ে যে উপসংহার টানা হয়েছে তা মনগড়া বিদ্বেষমূলক অপব্যাখ্যার আওতাধীন।

      আপনার যুক্তিবোধে প্রশংসা করে এর সাথে দ্বিমত না করে পারলামনা। কারণ নাটকের চরিত্র থেকে যখন ঐ ডায়লগ মারা হয় তখন দর্শক কিন্তু এইটি কার ডায়লগ ইত্যাদি মনে করে গবেষনা করেনা। ঐ ডায়লগ সরাসরি দর্শক মুসলিম হলে তাঁর মনে নেতিবাচক ক্রিয়া করবে এবং হিন্দু হলে উল্লাসিত হয়ে উঠবে। আমি নিজে নাটক করেছি যাত্রা পালা দেখেছি তাই আমি জানি একটি চরিত কিভাবে দর্শকদের মনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। কাজে যার ডায়লগ হোক নাট্যকারে মাধ্যমে তা জন থেকে জনান্তের প্রচার হচ্ছে। তাই লেখক এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দায় থেকে মুক্তি পেতে পারেন না।

       

      সে উপলক্ষে ব্রিটিশ সম্রাটকে তেল মেরে রবীন্দ্রনাথ লিখেন-

      জনগণ মন অধিনায়ক, জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা

      তব শুভ নামে জাগে, তব শুভ আশিষ মাগে

      গাহে তব জয় গাঁথা।

      জন গণ মঙ্গল দায়ক জয় হে ভারত ভাগ্য বিধাতা

       

      এইটি যে ব্রিটিশ সম্রাট আগমনে লিখেছিলেন তা তো আমি নিজে দেখিনি, আমি গোলাম আহমেদ মোর্তজার বই থেকে উল্লেখ করেছি, এই তথ্য যদি ভুল ছিল তাহলে সে বই ৭ বা ৮ ম সংস্করণ প্রকাশ হলো কেমন করে? তাও আবার ভারতে যেখানে রবীন্দ্রনাথে জন্ম ভূমি!

       

      ইতিহাস তো ইতিহাস যা নির্মম সত্য তা প্রকাশ করে। এইটি ঠিক কোন ব্যক্তিই যুব কালে যে দৃষ্টি ভংগী ধারন করেন পৌঢ়ত্বে এসে তা না ধারণ করতে পারেন। এবং রবীন্দ্রনাথের বেলা এই সত্য আরও প্রবল। যুবক কালে মুসলিম বৈরিতা করলেও শেষ সময়ে হিন্দু মুসলিমের মধ্যে মিলন সম্প্রীতি ঘটাতে চেষ্টা করেছিলেন এবং অনেক সময় মুসলিমদের পক্ষ নিয়ে স্বজাতির সমালোচনা করেছিলেন। ধন্যবাদ।

  15. 18
    নীরব সাক্ষী

    যেহেতু বাংলাদেশের ৯০% মানুষ জানেন না – সেহেতু এই বিষয়ে কথা না বলাটা একটা অন্যায় হয়েছে

    আমি কি কোথায়ও বলেছি যে আপনি প্লাজিয়ারিজম ইস্যুটি তুলে অন্যায় করেছেন? আপনি ঠিক কাজ করেছেন। অন্যদিকে মুনিম সাহেব  মন্তব্যে রেফারেন্স উল্লেখ করেছেন আপনার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে। আমার মন্তব্যের ফোকাস ছিল চৌর্যবৃত্তি দায়ে দোষী প্রমাণ করার বিষয়টি বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে।   

     

     

  16. 17
    নীরব সাক্ষী

     প্ল্যাজিয়ারিম নামক শব্দের সাথে আমাদের দেশে শিক্ষিত মানুষ অপরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভবত ৯০% এর বেশী শিক্ষকদেরও  প্ল্যাজিয়ারিম নিয়ে তেমন ধারণা নেই! ছাত্রদের কথা বাদই দিলাম। তাদের প্রজেক্ট রিপোর্ট, থিসিসের পুরোটাই  প্ল্যাজিয়ারিমের দোষে দুষ্ট। এদের অনেকেই জানে না এর ভয়াবহতা। বেশীর ভাগই না জেনে  প্ল্যাজিয়ারিম করে থাকে। এটা শুধু আমাদের দেশে নয়। পুরো এশিয়াতেই প্রায় একইরকম অবস্থা। 

    ২০১০ সালে হাঙ্গেরীর প্রসিডেন্ট  প্ল্যাজিয়ারিমের দায়ে পদত্যাগ করেছেন। পিএইচডি থিসিসে কিছু অংশ হুবুহু কপি করেছিলেন। বিরোধীদল তা জনসম্মখে আনে। জামার্নীর জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট প্রার্থীও  প্ল্যাজিয়ারিমের দায়ে রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন। অনেক নামকরা বিজ্ঞানীও  প্ল্যাজিয়ারিমের কারণে নিমিষেই সাধারণ মানুষের কাছে ভিলেন হয়ে গেছেন। অস্ট্রেলিয়াতে এশিয়ান অরিজিন অনেক ছাত্রের ডিগ্রী কেড়ে নেয়া হয়েছে  প্ল্যাজিয়ারিমের কারণে।

    আমার দেখা মতে মুমিন সাহেব ও জিয়া উদ্দিন সাহেব দু;জনই চরমভাবে বিপরীত মেরুর রাজনৈতিক আদর্শের ব্লগার। হয়ত মুনিম সাহেব দৈনিক সংগ্রামের ইস্যুটি চেপে যেতে চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে জিয়া সাহেব ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের কারনে সংগ্রামের বিষয়টি হাইলাইট করতে চেয়েছেন। এখানে যতটুকু না  প্ল্যাজিয়ারিম ইস্যু, তার চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শই আমার কাছে মূখ্য মনে হয়েছে। 

    সদালাপ  নৈতিকভাবেই  প্ল্যাজিয়ারিমকে সাপোর্ট করে না। এডিটর সাহেব তো তা স্মরণ করেই দিতে পারেন। কিন্তু মুনিম সাহেবকে  চৌর্যবৃত্তির দায়ে দোষী করা আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও  প্ল্যাজিয়ারিম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়, সেখানে মুনিম সাহেবের মত সাধারণ ব্লগার তেমন অবগত থাকার কথা নয়। 

    রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে রবীন্দ্রনাথ বা কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে টানাটানির আমি পক্ষপাতি নই। কিন্তু আমাদের দেশে    শুধুমাত্র  ভিন্ন মেরুর রাজনৈতিক আদর্শের কারণে এনাদেরকে নিয়ে টানা-হেঁচড়া হয়ে থাকে। আশা করি এ বিষয়টি নিয়ে আর  বিতর্ক হবে না। মুনিম সাহেব ইতিমধ্যেই নীজের অবসাধনতা বা ভুল বুঝতে পেরেছেন। সবাই ভালো থাকবেন। 

    1. 17.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      প্ল্যাজিয়ারিম ইস্যু, তার চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শই আমার কাছে মূখ্য মনে হয়েছে। 

       

      যেহেতু বাংলাদেশের ৯০% মানুষ জানেন না -- সেহেতু এই বিষয়ে কথা না বলাটা একটা অন্যায় হয়েছে। এই ধরনের চিন্তার বিষয়টা কেমন যেন অসস্থিকর ঠেকে। সততা শাশ্বত। এইটা কোন ভৌগলিক সীমানায় সংজ্ঞা বদলায় না। আমি অভিযোগ করলাম -- সেইটাই এখন মূখ্য হয়ে গেলো -- কারন আমি ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের বিশ্বাসী তাই আমার আবিযোগ করার আধিকার খর্ব হয়ে যায় -- কেন গোপনে অভিযোগ জানালাম না -- সেইটাও একটা আভিযোগ।

      লেখাটা প্রকাশ্যে হয়েছে -- আমার লেখা কেউ কপি/পেস্ট করলে আমি অসততার দায় নিতে পারি না -- কিন্তু যখন কেউ অসসতা অবলম্বন করে -- তা বলে দেবার মধ্যে কোন অপরাধ দেখি না। 

       

       বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও  প্ল্যাজিয়ারিম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়, সেখানে মুনিম সাহেবের মত সাধারণ ব্লগার তেমন অবগত থাকার কথা নয়। 

       

      -- যদি কেউ তা ধরিয়ে দেয় তাকে অস্বীকার করে নানান অজুহাত তৈরী করা নিশ্চয়ই কোন বিশেষ জ্ঞানের দরকার হয় না। বাংলাদেশের সর্বত্র দূর্নীতিতে ছেয়ে আছে তার মানে এই না যে দূর্নীতি জায়েজ হয়ে যায় বা তার বিরুদ্ধে কথা বলাটা অশোভন হয়ে যায়। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে অসসতাকে সমর্থন করাটা কি ভাল কোন কাজ হলো?

    2. 17.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      সত্যি বলছেন এই প্ল্যাজিয়ারিম শব্দটি আমি এই প্রথম শুনলাম। জিয়া ভাইকে ধন্যবাদ যে এই শব্দটির সাথে পরিচিত করতে। তবে এখনো শিওর নই কতটুকু কপি করা যাবে এবং যাবেনা সেই বিষয়ে তবে ভবিষ্যতে এই ভাবে কিছু উল্লেখ করলে বলব- অমুক ঐ বিষয়ে এই বলেছেন- তাহলে বোধহয় ঝামেলা এড়ানো যাবে। ধন্যবাদ।

      1. 17.2.1
        শামস

        কপিরাইটের আইন কানুন অনেক কড়া মনে হলেও এতে অনেক ফাকফোকড়ও আছে। যেমনঃ ধরা যাক আপনি সুত্র উল্লেখ করলে সংবাদপত্রের কোন আর্টিকেল হুবহু তুলে দিতে পারেন। আর ফেয়ার ইউস একাডেমিক লেভেলে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে অনেক সময় একে এক্সপ্লোয়েটও করা হয়। যাক সে দিকে আর না বাড়াই।

        আপনি প্রথম ভুল করেছেন সুত্র না দিয়ে, যেটা মন্তব্যে দিয়ে দিয়েছেন, তারপর আর কথা আগানোর কথা ছিল না। আর আপনি হারিয়ে যান নাই যে, প্রশ্ন করে সদুত্তর পাওয়া যাবে না। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে হয়েছে! সদালাপে সৌদি আরবের শিরচ্ছেদের ইস্যু নিয়ে এর আগে পুরো লেখা সুত্রসহ এসেছে, ফলে তাতে কোন অসুবিধা হয় নাই।  

        আপনি লেখা পোস্ট করেছেন ৮ই মে সম্ভবত দূপুরে, আজকে ৯ই মে। আমার যতদূর দেখেছি সম্পাদক সাহেব এই ধরণের ইস্যুর ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার সময় দেন, নয়তো লেখায় এডিট করেন বা নোট দেন, কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে সেই সুযোগ না দিয়েই লেখার প্রথমে তিনি সম্পাদকের নোট দিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টিকে আরো ভালোভাবে হ্যান্ডল করা যেতো! ধন্যবাদ।  

        1. 17.2.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          আমার এই সাহস আছে কেউ আমাকে ভুল ধরিয়ে দিলে তা মেনে নিতে দ্বিধা করিনা। তবে জিয়াভাইয়ে চাপাচাপিতে বুঝলাম তিনি আমার উপর ক্ষেপে আছেন! যাক ভালই হল। একটি ভুল তো শিখতে পারলাম।

  17. 16
    কবরের ডাক

    অনেক তথ্যপূর্ণ লেখা। ধন্যবাদ। 

    কোন লেখাই কেউ সম্পূর্ণ নিজের থেকে লেখেনা। বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগৃহীত তথ্য উপাত্তের আলোকেই লেখে। লেখায় এটা উল্লেখ না করলেও এমনিতেই বুঝা যায়।  কারো যদি একান্ত জানার দরকার হয় যে, লেখাটা লেখকের একেবারে নিজস্ব কিনা, তাহলে সে জিজ্ঞাসা করে নিলেই পারে। মুনিম ভাই সংকলিত বলার দ্বারাই আশা করি সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিয়েছেন। সূত্র উল্লেখ করেন নাই মানেই এই নয় যে, লেখাটা তিনি একেবারে নিজস্ব বলে দাবী করছেন।কারণ আগেই বলেছি, এটা এমনিতেই বুঝা যায়। এরকম ভাবাটা আমার কাছে ছিদ্রান্বেষী স্বভাব মনে হয়। আর ইন্টারনেটে কোন কিছু ছাপা হলে আমি মনে করি সেটার আর কোন স্বত্ব টত্ত্ব  থাকেনা। এখানে চুরির প্রশ্ন কিভাবে আসে? যার জিনিষ তাঁর কাছেইতো আছে। কেউ যদি এটাকে চুরি মনে করে, করেন; আরেকজনের উপর আপনার মত চাপিয়ে দেন কেন? 

    1. 16.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনাকে ধন্যবাদ।

  18. 15
    Juebry

    জিয়া সাহেব বড়ই মজার মানু্ষ। উনার জামাতের নেতাদের নিয়ে লিখা যখন আমাদের সময়ের মত লক্ষ কোটি বহুল পঠিত দৈনিকে স্টাফ রিপোর্টারের বরাত দিয়ে বেআইনিভাবে ছাপা হয়-তখন কিন্তু উনি “প্লেইজারিজমের” জিহাদ ঘোষণা করেননি। বরঞ্চ উনার লিখা জামাতের নেতাদের দুর্নীতি প্রচার করেছে বিধায় আমাদের সময়ের ছাপানো ভালো হয়েছে বলেও মত দিয়েছিলেন!

    মুনিম সাহেব বিরোধী মতের মানু্ষ। সুযোগ খুঁজছিলেন জিয়া সাহেব। আর যাই কোথায়? একেবারে চৌর্য্যবৃত্তি বলেই ছাড়লেন। বড় ফ্যাক্টর হচ্ছে জামাতি পত্রিকার সাথে মিলে যাওয়া। জিয়া সাহেবের উদ্দেশ্য সৎ হলে মুনিম সাহেবকে ইমেলে জানাতে পারতেন। একে অপরের সাথে ইমেলে যোগাযোগ যে কখনো হয়নি এমনটি নয়।

    মুনিম সাহেব ভুল করলে স্বীকার করতে কার্পণ্য করেন না। কিন্তু জিয়া সাহেব ইনিয়ে বিনিয়ে নিজের বক্তব্য ঠিক বলেই জাহির করেন। কখনো ভুল স্বীকার করেছেন চোখে পড়েনি। প্রকৌশলী হিসাবে উনি কতটা সফল জানিনা- তবে উকিলি পেশায় ভালো করতেন সন্দেহ নাই।

    1. 15.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      জিয়া সাহেবের উদ্দেশ্য সৎ হলে মুনিম সাহেবকে ইমেলে জানাতে পারতেন। 

      -- আমি একটা বিরাট অন্যায় করে ফেলেছি উনার এই কপি/পেস্টের বিষয়টা পাবলিকলি বলে। তাই্ তো! আমার প্রথম কমেন্টটা দেখেন। 

      খুবই মজার বিষয় হলো -- যখন কেউ অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে -- কেন অভিযোগ করা হয়েছে -- এইভাবে কেন বলা হলো ঐ ভাবে কেন বলা হলো না ইত্যাদি বলে অভিযোগকারীকে হেয় করা কিন্তু অসততার পক্ষেই অবস্থান গ্রহন করা হয়। অবশ্যই এই নতুন কিছু না না -- বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় অপরাধ করা কোন বিষয় না -- বিষয় হলো বিচার চাওয়া। 

    2. 15.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাই আপনি কে আমি জানিনা তবে আপনি নিশ্চয় আমার আপনজনদের কেউ। তবে আমাকে সাপোর্ট করতে গিয়ে আপনি একান্ত কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা ওপেন ফোরামে না আসলে ভাল হত। লেখাটি হুবহু অনুকরণ নয় তবে যেটুকু আমি প্রয়োজনীয় মনে করেছি সেটুকু এনেছি।আমার অবশ্য সংকলিত না বলে রেফারেন্স উল্লেখ করলে ভাল হত। তবে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর অনেকের কাছে পীর সাহেবের মত তাই তাঁর সম্পর্কে  বিন্দুমাত্র নেতিবাচক কিছু বরদাশ করা যায়না। অথচ ভারতের নাগরিক গোলাম আহমদ মোর্তজা সাহেব খোদ কলিকাতায় বাস করে রবীন্দ্রনাথকে সমালোচনা করে লিখেছেন তাতে তো ভারতীয় বাংগালীদের আঁতে ঘা লাগে নাই। বরং সেই বইয়ে ভারতে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ভূমিকা লিখে দিয়ে বইকে সম্মানিত করেছেন।

      যে যতই নেতিবাচক বলে বলুক ইতিহাস কাউকে ছেড়ে কথা বলেনা। ধন্যবাদ।

      1. 15.2.1
        jubery

        মুনিম সাহেব,
        আমি আপনার আপনজন নই। আমি আপনার লেখার একজন সচেতন পাঠক। সবকিছুর সাথে যে একমত হই- তা কিনতু নয়। এখানে প্লেজারিজমের ব্যাপারটা বডড বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে। আর প্লেজারিজমের ব্যাপারে জিয়া সাহেব যেভাবে সততা, নৈতিকতার কঠোরতা আপনার সাথে প্রয়োগ করেছেন- উনার লিখা আমাদের সময়ে ছাপা হলে -কঠোরতা দুরে থাক- উনি নমনীয় ছিলেন। এমনকি প্রচার হয়ে ভালো হয়েছে- এরপ মন্তব্য করেছিলেন যতদুর মনে পড়ে। কাজেই সততা, নৈতিকতার ব্যাপার মুখ্য ছিল না।

        আপনার একটা বড় গুন আপনি ভুল স্বীকার করেন। এতে আপনার গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে বৈকি কমবে না। প্লেজারিজমের ব্যাপারটা বাংলাদেশে কয়জন জানে? ইওরোপ, আমেরিকায় ভিন্ন ব্যাপার। নিচে দেখুন ড: বারাকাতের মত উচু মাপের মানুষ কি বিপদে পড়েছিলেন প্লেজারিজমের দায়ে।আমার মনে হয়না উনি জেনে শুনে এটা করে থাকবেন।
        http://ns.bdnews24.com/details.php?id=137736&cid=2

  19. 14
    এস. এম. রায়হান

    @মুনিম ভাই,

    আপনি একটা বিষয় হয় বুঝতে পারছেন না, কিংবা বুঝেও বুঝতে চাচ্ছেন না। আপনার লেখাতে রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগ-সম্বলিত যে তথ্যগুলো এসেছে সেগুলো আপনার উল্লেখিত দুটি বই-সহ আরো অনেক জায়গাতে থাকতে পারে, আছেও। কিন্তু কথা সেটা নয়। কথা হচ্ছে আপনি অন্য একটি লেখা থেকে দাঁড়ি-কমা-সেমিকোলন সহ বড় একটা অংশ সরাসরি কপিপেস্ট করেছেন -- যেটি সদালাপের নীতিমালার পরিপন্থী।

    যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমি মনে করি না যে বিশেষ কোনো পত্রিকায় কোনো বিষয়ে লেখা ছাপানো হলেই সেটি বাই-ডিফল্ট মিথ্যা হয়ে যায়। কিন্তু এই কথা আপনার লেখার কোথাও উল্লেখ নেই। বুঝতে পারছি আপনি সঙ্গত কারণে সেই পত্রিকার সূত্র উল্লেখ করেননি বা করতে চাচ্ছেন না। এটাই যদি আপনার মনে থাকে তাহলে সরাসরি কপিপেস্ট করার আগেই ভেবে দেখা উচিত ছিল। শুধু তথ্যগুলো নিয়ে নিজ ভাষায় লিখতে পারতেন। কিন্তু তা না করে আপনি শর্টকাট মারতে যেয়ে সূত্র উল্লেখ করেননি। ভুল যে কারো হতে পারে। তবে নিজের ভুল বুঝতে পেরে ভবিষ্যতে যেনো একই ধরণের ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখাই সততা ও সত্যবাদীতার পরিচায়ক বলে মনে করি।

    1. 14.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      @এস. এম. রায়হান:

      রায়হান ভাই আমি এত বুরবক নই যে জিয়া ভাইয়ের কথা বুঝিনাই। আমি বুঝেছি এবং আমার বিবেকও বলছে জিয়া ভাই যা বলছেন তা সত্য। আমার উচিত হয়নি রেফারেন্স ডিটেলস নাদিয়ে এই অনলাইন করা। আসলে অনেক কিছু অনেক সময় ঘটে যায় যা একটু সতর্ক হলে এড়িয়ে যাওয়া যেত।

      এবার কথা হলো মূল লেখা ২০০২ সালে বই আকারে প্রকাশ হয়েছে। আর সংগ্রাম পত্রিকায় তা প্রকাশ হয়ে গত বছর ১১ই মে। আর লেখকের বই আমার কালেকশনে আছে ২০০৭ থেকে। ঐ বইতে যে তথ্য দেয়া আছে তা সংগ্রামের ঐ লেখায় হুবহু আছে, তবে লেখা পড়লে দেখতে পাবেন ঐ লেখায় লেখক শুধু রবীন্দ্রনাথ নিয়ে লেখননি, তাঁর লেখাতে ইশ্বরচন্দ্র, বঙ্কিম চন্দ্র আরও অনেক খ্যাতনামা হিন্দু লেখকদের সাম্প্রদায়ীক লেখার উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন। আমি শুধু রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক তথ্যগুলো সেখান থেকে নিয়েছি। এবং ভারতের গোলাম আহমেদ মোর্তজা সাহেবের বই থেকেও শুধু রবিন্দ্রনাথ বিষয় তথ্য আমি নিয়েছি। তবে ভাগ্য ভাল গোলাম মোর্তজার লেখার কোন ভার্চুয়াল এডিশন নেই থাকলে হয়তো টাইপের কাজ কমাতে সেখান থেকে কপি করে চুরি করার অপরাধে অপরাধী হয়ে যেতাম। আর জিয়া ভাই বার বার বলছেন আমি কেন সংগ্রাম থেকে কপি করেছি সেটি স্বীকার করছিনা। আসলে নেট বলতে আমি যে নেট থেকে কিছু তথ্য নিয়েছি, যেমন রবীন্দ্রনাথের দুরাশা গল্প বা কবিতাগুলো কথা যে সবে সাম্প্রদায়ীক চিত্র পাওয়া যায় সেই গুলো। আমি সে নেটে ইউ আর এল দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ঐ নেটে রবীন্দ্রনাথকে আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করা  আছে তাই আমি সে লিংক দিতে চাচ্ছিনা।

      আমি কপি বলতে যা বুঝি তা হচ্ছে কারো কোন লেখা পুরোটি হুবহু মেরে দেয়াকে, আমার এই ব্লগে সে ভাবে ছিলোনা ছিল ততটুকু যতটুকুকে আমার কাছে যথার্থ মনে হয়েছে। এই লেখা দেবার পর বুঝতে পারলাম আংশিকও রেফারেন্স না দিয়ে উল্লেখ করলে চুরির অপরাধে অপরাধী হতে হয়।  এখনও যদি লেখা সদালাপের নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়ে থাকে তাহলে লেখাকে ড্রাফট করে নিতে হবে। ধন্যবাদ।

  20. 13
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    মুনিম ভাই    আমি খুবই খারাপ ধরনের মানুষ। বিশেষ করে বিতর্কের ক্ষেত্রে। আশা করি বিষয়টা লক্ষ্য করে থাকবেন।  সোজা রাস্তায় হাঁটলে সমস্যা যে হয় তা বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই। আগের বারে তিনটা রেফারেন্সের কথা বলেছিলেন -- সেখানে দুইটা বই আর ৩নং টা ছিলো -- নেট থেকে।    এবার নেটের কথাটা বেমালুম চেপে যাচ্ছেন কেন?   সংগ্রামের লেখায় ভদ্রলোক ইন-লাইন রেফারেন্স দিয়েছেন। যেমন -- দেখুন লেখার মধ্যে বলা হচ্ছে --   

    মা জননী পিপাসার্ত হয়ে নিজ সন্তানদের জিজ্ঞাসা করছেন ‘রক্ত দে।' একমাত্র মানুষের রক্ত ও মস্তক ছাড়া মা-জননীর পিপাসা নির্বৃত্ত হবে না। (দেখুন: বঙ্গভঙ্গ থেকে বাংলাদেশ, পৃষ্ঠা-৩৪, আব্বাস আলী খান) 

      এখানে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির আব্বাস আলী খানের বই এর রেফারেন্স দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু উনি ইন লাইন রেফারেন্স দিয়েছে তাই তার শেষ রেফারেন্স দেওয়ার দরকার হয়নি।    আপনি যেহেতু লেখাটা হুবুহু কপি করেছেন সেহেতু ইন লাইন রেফারেন্স হিসাবে আব্বাস আলী খানের কথাও এসে গেছে -এখন আপনি বললেন দৈনিক সংগ্রামে সৈয়দ সাহেবও আপনার মতো দুইটা বই থেকে রেফারেন্স নিয়েছে। এই কথা লেখক কোথাও বলেননি -- কারন উনি লেখার ভিতরেই উনার রেফারেন্স গুলো দিয়েছে -- যেমন বাংলাদেশ কালচার ইত্যাদি।     যাই হোক -কপি/পেস্টের সমস্যা হলো যতই এডিট করা হোক না কেন মুল লেখার ছাপ থেকেই যায়। আমি অবাক হই না -- একটা চরম সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে রবি ঠাকুরকে মূল্যায়নের জন্যে আপনি জামায়াতের প্রচার বিভাগের লেখা কপি/পেস্ট করেন।    ধন্যবাদ। 

    1. 13.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আমি অবাক হই না – একটা চরম সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে রবি ঠাকুরকে মূল্যায়নের জন্যে আপনি জামায়াতের প্রচার বিভাগের লেখা কপি/পেস্ট করেন।

      জিয়া ভাই  আমার সম্প্রদায় যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিরাট মর্যাদায় ভূষিত করেছে,। তাঁর লেখাকে আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা দিয়ে। তাই বিচার করে দেখতে হবে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই যবনদের কি দিয়ে গিয়েছিলেন? আমি যখন ইতিহাস খুজেও রবীন্দ্রনাথের লেখায় আমাকে আমার সম্প্রদায়কে খুঁজে পাইনা। আর সে সত্যটি উল্লেখ করলেই আপনি অভিযোগ করে আমি সাম্প্রদায়ীক। হ্যা আমি সাম্প্রদায়ীক আমার সম্প্রদায়ের প্রতি তিনি কি করে গিয়েছিলেন তা তো উল্লেখ করে যাব। আপনি দেখাতে পারবেন যে তিনি আমাদেকে বাঙ্গালী বলে কাছে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন?

      ইসলাম বলে মুসলিমরা যুদ্ধ এবং বিচারের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্র চরম পন্থা গ্রহণ করবে কিন্তু অন্যান্য ক্ষেত্র মধ্যপন্থা।ধর্মের বিষয়ে কথা বললে আপনি রে রে করে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ নিয়ে খাঁড়া হোন এবং সদালাপে সেই ভাবে প্রকাশ করা নীতি বহির্ভুত বলে নোটিশ জানান। কিন্তু  যখন এই সদালাপে উগ্র জাতিয়তাবাদী হিংসায় প্রতিপক্ষকে নানা ভাবে ঘায়েল করেন তখন সদালাপে এই বিষয়ে কেউ নোটিশ করেন না।

       

      একটি কথা মনে রাখুন। আল্লাহ তালা যা যা হারাম করেছেন তা আমি হারাম মনে করি। আপনি বা কোন দল গোত্র যা হারাম ঘোষণা দেয় তা আমি হারাম মনে করিনা। আমি হিটলার,চেংগিশখা,  যেই হোক না কেন, তাঁর লেখায় তাঁর চরিত্রে যদি ভাল কিছু পাই তাহলে তা গ্রহণ করতে দ্বিধা করিনা। কাজেই আব্বাস আলী, মওদুদী তাঁদের লেখা আমি পড়ি। তাঁদের সকল লেখাকে হয়তো গ্রহণ করতে পাইনা কিন্তু তাঁরা যে সব সময় ফালতু লিখেন কিংবা পাকিস্তান সাপোর্ট করেছেন দেখে তাঁদের লেখা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবোনা বা রেফারেন্স দিতে পারবোনা তা মানি মানিনা। জ্ঞানের মধ্যে রাজনীতি ইতিহাসের মধ্যে রাজনীতি টেনে এনে তা হারাম করতে আমি রাজী নই।

      আপনারা বলে যিনি একবার রাজাকার তিনি সব সময়ের জন্য রাজাকার, যিনি একবার মুক্তিযোদ্ধা তিনি সব সময়ের জন্য মুক্তিযোদ্ধা না হতে পারেন। এইটি একটি চরম অবৈজ্ঞানিক এবং উগ্রবাদী দৃষ্টির পরিচায়ক। আমি এর সাথে কখনও একমত হতে পারিনা।  যারা এই দর্শন প্রচার করে তাঁরা মানুষকে এক অচলায়তনে আবধ্য রাখতে চায়। যা দেশের প্রগতির অন্তরায়।

      আমি বিশ্বাস করি রাজাকার সময়ে কারণে মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে তেমন করে মুক্তিযোদ্ধাও সময়ের প্রয়োজনে রাজাকার হয়ে যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতীত ভুলে শেষ জীবনের কথাকে আমরা অনুসরণ করে যেতে হয় তাহলে কেন প্রতিটি মানুষের শেষ সময়ের কার্য দিয়ে তাকে বিচার করা হবেনা?

      আমি এও বিশ্বাস করি অপরাধী বিচারে মাধ্যমে শাস্তি দেয়ার। কিন্তু একজনের অপরাধের জন্য অপঅরাধী গোটা সম্প্রদায়কে কোন ভাবে দায়ী করা যায়না।

      আমি ইসলামী ভ্রাতৃত্বে বিশ্বাসী, তাঁর কেউ যদি অপরাধ করে দুনিয়াতে সাক্ষী প্রমাণ বা বাদীর দুর্বল অবস্থানের কারণে পার পেয়ে যায় তো যাক, আমি জানি সে এই দুনিয়া থেকে পার পেয়ে গেলেও আখেরাতে আল্লাহর শাস্তি থেকে পার পাবেনা।

      তাই ইসলামী ভ্রাতৃত্ব যাতে অটুট থাকে সে পন্থাকে আমি উত্তম মনে করি।

      আশাকরি আমার সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিষ্কার হবে।

      ধন্যবাদ।

       

       

       

  21. 12
    শামস

      ↵

    মনে হচ্ছে নিজেদের মধ্যে দোষ ধরার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে।ভুল হলে শুদ্ধ করার সুযোগের রাস্তাতা যেন বন্ধ! মুনিম ভাই প্রথমে লেখায় উল্লেখ না করলেও, মন্তব্যেই তা উল্লেখ করেছেন, মূল লেখায় পরে করেছেন।

     

    যাক মুনিম ভাই তার অবস্থান ব্যাখা করেছেন বই এর সুত্রসহ। অভিযোগ থেকে উপসংহারে আসার আগে উনি আরো কিছু সময় পেতে পারতেন। সম্পাদক সাহেব দেখলাম ইতিমধ্যেই নোট দিয়েছেন। আপনি কি উত্তর পেয়েছেন? যদি পেয়ে থাকেন তাহলে উপরের নোটটা এখনো কেন? আর যদি উত্তর না পেয়ে থাকেন তাহলে কিছু  প্রশ্নের উত্তর আশা করছি।  

    কপিরাইট আইন অনুযায়ী-

    ১) একজন লেখক একটা বই এর কতটুকু কপি করতে পারেন?

     

    ২) ইলেক্ট্রনিক কাজের কতটুকু কপি করতে পারেন?
     

    ( মুনিম ভাই যতটুকু কপি করেছেন তা এক পৃষ্ঠার বেশি হবে না। বই এর পৃষ্টা কত জানি না। কিন্তু কমপক্ষে ৯৬ পৃষ্ঠার বেশি, অর্থাত কপি করা হয়েছে <১%)

     

    ধন্যবাদ।

     

    1. 12.1
      আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

      এইটা কপি রাইটের প্রশ্ন না -- নৈতিকতা এবং সততার প্রশ্ন। ইন্টারনেটে প্রচুর লেখা পাওয়া যায় -কিন্তু তার কপি/পেস্ট করে নিজের নামে চালানোর দায়ে গত মাসে টরন্টো স্কুল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে রিজাইন দিতে হয়েছে -সে একজন প্রাক্তন ছাত্রের লেখা কপি করেছিলো। 

      কত পার্সেন্ট লেখা কপি করা হলো তা বিষয় না -- বিষয়টা হলো মুল লেখকের নাম এবং লেখার শিরোনাম উল্লেখ করা হলে যদি পাঠক বুঝতে পারেন কতটুকু কার লেখা তাতেই সমস্যার সমাধান হয়। এখানে যদি মুনিম ভাই লেখা থেকে সুষ্পষ্ট ভাবে সৈয়দ মোস্তফা কামালের লেখা এবং উনার মন্তব্যগুলো আলাদা করে উপস্থাপন করতেন অথবা লেখায় মুল লেখার সূত্র দিতেন অথবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন -তা হলেই অভিযোগটা তোলার সুযোগ হতো না। উনি বারবার উনার অবস্থান বদলাচ্ছেন -এখন বলছেন উনি এবং সৈয়দ মোস্তফা কামাল যেহেতু একই সূত্র থেকে লেখাটা তৈরী করেছেন -- তাই একই ধরনের হয়েছে। কিন্তু আসল কথা হলো 

      সৈয়দ মোস্তফা কামালের লেখার উপর উনি কিছু সংযোজন করেছেন -- যেখানে লেখার মুল বক্তব্য, ভাব এবং বাক্যরীতির কোন পরিবর্তন হয়নি- যাকে প্লেজারিজম হিসাবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে এবং অনলাইন লেখকদের জন্যে এইটা একটা বিরাট নৈতিকতার প্রশ্ন। 

       

      ধন্যবাদ। 

      1. 12.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        যাক জিয়া ভাই এবার আবার পড়ে দেখে নিন। আপনার কথিত অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে পারি কিনা? তবে সত্যি বলছি এত লেখা লেখি করে এলাম কিন্তু জানতাম না যে একজন লেখকের লেখার কিছু অংশ যে টুকুতে আমি হুবহু একাত্বতা পোষণ করি তা আমার লেখায় হুবহু তোলে ধরা যায়না। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে সতর্ক থাকব।এই বিষয়টি সামনে আনার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

      2. 12.1.2
        শামস

        কত পার্সেন্ট লেখা কপি করা হলো তা বিষয় না – বিষয়টা হলো মুল লেখকের নাম এবং লেখার শিরোনাম উল্লেখ করা হলে যদি পাঠক বুঝতে পারেন কতটুকু কার লেখা তাতেই সমস্যার সমাধান হয়।

        এটা কি ঠিক হলো? আপনি কতটুকু কপি করেছেন সেটা কেন গুরুত্বপূর্ণ হবে না! আপনি ১%, ২%, ২০% বা ১০০% কপি করছেন সেটা অবশ্যই ধর্তব্যের মধ্যে নিতে হবে. তা না হলে প্ল্যাজিয়ারিজ্ম এর মানদন্ড কি? সেই মনদন্ডটা পাওয়া যায় কপিরাইট আইনে। একটি বই এর ১০% কপি করলে সেটা সেই মানদন্ড অনুযায়ী সমস্যা নেই।

        অবশ্যই মুনিম ভাই ভুল করেছেন, যেটা সংশোধনের সুযোগের চেয়ে দোষারোপ করার প্রবণতাই বেশি চোখে লেগেছে! 

        কিন্তু পরিহাস হলো যেই রবীন্দ্রনাথ এর বিরদ্ধে লেখা নিয়ে প্ল্যাজিয়ারিম এর অভিযোগ উঠে আসছে সেই বেচারা রবীন্দ্রনাথও প্ল্যারিয়াজিম এর দোষে দুষ্ট! হুমায়ুন আহমেদ এর কোনো বইতে তার প্রমান সহ উল্লেখ ছিল। চাইলে খুঁজে দেখতে পারি 🙂

  22. 11
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    ভুল বানানের জন্য দুঃখিত!

    তবে আমান ভাই দয়া করে মনে রাখবেন কি সদালাপে বা অন্য কোথাও আমি বাংলা ভাষায় দক্ষতা দেখাতে আসিনি। আমার মনের ভাবার্থই আপনাদের সাথে শেয়ার করি।

    যে রবীন্দ্রনাথ মুসলমানদের হীন দৃষ্টি এবং এক বর্বর শিবাজীর ভক্ত তার রচিত জাতীয় সংগীত গাইতে আমি মোঃ মোস্তফা কামাল বাধ্য নই। এই গান মুসলমানদের হিংসা করে লেখা হয়েছে। এই গানকে ভক্তির অর্থই রবীন্দ্রনাথ ও শিবাজীকেই ভক্তি করা। এটা আপনার কাছে ধৃষ্টতা বলে মনে হলে করার কিছু নাই।

    জাতীয় সংগীত কোন ধর্মগ্রন্থের বাণী নয় যে পরিবর্তন অসম্ভব! আমি এই সংগীত গণভোটের মাধ্যমে বাতিল করার পক্ষে। ফ্রান্স ও রাশিয়ায় একাধিক বার জাতীয় সংগীত পরিবর্তিত হয়েছে। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য রবীন্দ্রনাথের চেতনা হুমকি স্বরুপ। কারণ রবীন্দ্র অখন্ড ভারতের স্বপ্নদ্রষ্টা। শেক্সপিয়ার ইংরেজী সাহিত্যের সম্রাট হতে পারেন কিন্তু মার্কিন জাতীয়তাবাদের জন্য কিছু নন। রীবন্দ্রনাথকে আমাদের বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ হতে বাদ দিতে হবে।

  23. 10
    এম ইউ আমান

    এটা অবশ্য জানা ছিলো না, দীর্ঘ দিন বাংলায় লেখালেখি করেও রবীন্দ্রনাথ কিভাবে লিখতে হয় সেটা না জানা সম্ভব। যার নামই ঠিকমত লেখা যায়না তার রচিত জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া আসলেই ঠিক না।

    কোন দেশে জন্মে, বড় হয়ে, সে দেশের জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ব্যাপারে

    কোনদিন গাইবও না

    এরকম ধৃষ্টতাপূর্ণ কথা যে বলা যায় না, সেটা কি জানা আছে?

    1. 10.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আমান সাহেব ৮০ দশকে আকাশবানী কলকাতা থেকে একটি অনুষ্ঠান প্রচার করত, সে অনুষ্ঠানের নাম ছিল" আসল-নকল" সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ছায়াছবির গান একটি গান প্রচার করা হত তারপর যে হিন্দি গান থেকে সেই গানটি নকল করা হয়েছিল সেটি প্রচার করা হত। তখন আমি তরুণ ছিলাম। এই সব শুনে আমাদের মেধার দ্বীনতা আমাকে লজ্জিত করত। তখন জানতাম যে একটি গানের সুর ১০০ ভাগ অনুকরন করে কথা বদল করে লিখলেও তা নকল বলে প্রতিওমান হয়। সেই হিসাবে আমাদের জাতীয় সংগীত  যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সেটিও তো পুরো নকল।এই গীতিটি গগণ নামক এক ডাক পিয়নের ছিল- "আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে"- এই গীতের সুর নকল করে আমার সোনার বাংলা লেখা হয়েছে। এই অনুকরন যদি রবীন্দ্রনাথ না করে আমি করতাম তাহলে দেখতে পেতেন জিয়া ভাই ঠিকই আমার গলায় চেপে ধরতেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বলে কেউ তাকে সে অপবাদ দিতে সাহস পাবেনা। এই কাজ যে শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করেছেন তা নয় কাজী নজরুল ইসলামের গানেও নকল করার ইতিহাস পাওয়া যায়।

       

  24. 9
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    মুনিম ভাই, আমি অনেক আগে থেকেই জানতাম রবীন্দ্র নাথ ইসলাম বিদ্বেষী। কারণ এই শিবাজী ছিল ইতিহাসের বর্গী যে হাজার হাজার মুসলিম হত্যা করছে। আর এরই ভক্ত রবীন্দ্র নাথ। যেদিন জানছি এই কথা সেইদিন থেকে রবীন্দ্রর রচিত জাতীয় সংগীত আর গাই না। কোনদিন গাইবও না।

    এখানে এক আওয়ামী অন্ধ সমর্থকের কথা হচ্ছে রবীন্দ্রর মুসলিম বিদ্বেষের বিষয়টা একজন জামাতী লেখক তুলে ধরছে তাই সেটা মিথ্যা হয়ে গেল। মানে সত্য ইতিহাস অস্বীকার করা হল। জ্ঞান পাপী আর কাকে বলে। এদের কথা হল কেউ চুরি করবে কিন্তু আপনি তাকে চোর বলতে পারবেন না।

  25. 8
    এম ইউ আমান

    ব্রাহ্ম ধর্মের অনুসারী একেশ্বরবাদী “ আমার মাথা নত করে দাও, তোমার চরণ ধুলার তলে” বলে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে গীতাঞ্জলি দেওয়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিনে পোষ্ট এসেছে দেখে আগ্রহ নিয়ে পড়তে গিয়ে বড়-সড় হোঁচট খেয়েছি।

    রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগের বেশীরভাগই তিনি কি করেছেন তা নিয়ে নয়। তিনি কি করেন নি সেগুলি নিয়ে। কে কি করেননি সেগুলি নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা চালানোর চেষ্টা যে বাতুলতা, সে কথাটি প্রয়াত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, তাঁর পরিণত বয়সে ২০০৫ সালের দিকে দেশ পত্রিকায় বেশ ভালভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। সেই সাথে তরুণ বয়সে, লাথির ধাক্কায়, রবীন্দ্র রচনাবলী ধুলায় লুটায় এরকম বালখিল্য লেখার জন্য লজ্জ্বিত হয়ে প্রকাশ্যে তা ব্যক্ত করেছিলেন।

    লেখাটি যেহেতু লেখকের মৌলিক রচনা নয়, রবীন্দ্র-বিদ্বেষী একটি পত্রিকা থেকে খুঁজে-পেতে, সেখান থেকে প্রথম হাফের মেজরিটি অংশ কপি-পেষ্ট করে,  লেখার তথ্য- প্রসংগ, রচনার সময়কাল ইত্যাদি বিশ্লেষণ না করে প্রকাশ হয়ে এসেছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা সঙ্কলক-লেখকের সাথে হয়তো হতে পারবেনা।

    রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে, সদালাপে পূর্বে প্রকাশিত, ফরিদ আলমের একটি পোষ্ট (পরবর্তীতে ড্রাফট করা) থেকে, ইসলামের নবী সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ধারণা কেমন ছিল- সেটা পড়া যেতে পারেঃ     

    মুহাম্মাদের আবির্ভাব কালে পৌত্তলিক আরবীয়রা যে তাঁহার একেশ্বরবাদ সহজে গ্রহণ করিয়াছিলেন তাহা নহে, তাই বলিয়া তিনি তাহাদিগকে ডাকিয়া বলেন নাই, তোমাদের জন্য যাহা সহজ তাহাই তোমাদের ধর্ম, তোমরা বাপ দাদা ধরিয়া যাহা মানিয়া আসিয়াছে তাহাই তোমাদের সত্য। তিনি এমন অদ্ভুত অসত্য বলেন নাই যে, যাহাকে দশ জন মিলিয়া বিশ্বাস করা যায় তাহাই সত্য, যাহাকে দশ জন মিলিয়া পালন করা যায় তাহাই ধর্ম। একথা বলিলে উপস্থিত আপদ মিটিত কিন্তু চিরকালের বিপদ বাড়িয়া চলিত। (গ্রন্থ: সঞ্চয়; প্রবন্ধ: ধর্মের অধিকার)

    এমন সময়ে মুহাম্মাদের আবির্ভাব হইল। মর্ত্য লোকের স্বর্গ রাজ্যের আসন্ন আগমন প্রচার করিয়া লোক সমাজে একটা হুলস্থুল বাধাইয়া দেওয়া তাঁহার উদ্দেশ্য ছিল না। সেই সময় আরব সমাজে যে উচ্ছৃঙ্খলতা ছিল তাহাই যথা সম্ভব সংযত করিতে তিনি মনোনিবেশ করিলেন। পূর্বে বহুবিবাহ, দাসী সংসর্গ ও যথেচ্ছ স্ত্রী পরিত্যাগের কোন বাধা ছিল না, তিনি তাহার সীমা নির্দিষ্ট করিয়া দিয়া স্ত্রীলোককে অপেক্ষাকৃত মান্য পদবীতে আরোপণ করিলেন। তিনি বার বার বলিয়াছেন, স্ত্রী বর্জন ইশ্বরের কাছে নিতান্ত অপ্রিয় কার্য। কিন্তু এই প্রথা সমূলে উতপাটিত করা কাহারও সাধ্যায়ত্ত ছিল না। এজন্যই তিনি স্ত্রী বর্জন একেবারে নিষেধ না করিয়া অনেকগুলো গুরুতর বাধার সৃষ্টি করিলেন। (গ্রন্থ: সমাজ; প্রবন্ধ: প্রাচ্যসমাজ)

    1. 8.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      জনাব আমান সাহেব জিয়া ভাই বা সদালাপ নীতিমালার কারণে যে আপত্তি তোলে আনা হয়েছিল আমি তা সংশোধন করে দিয়েছি। আশাকরি আপনারা আবার একটু চেক করে নিবেন।এরপরও যদি কোন আপত্তিকর কিছু থাকে জানালে সেটুকুও সংশোধন করার চেষ্টা করে যাব। আর যদি আপত্তিকর কিছু না থাকে তাহলে আমার এই ব্লগ থেকে আপনার সতর্কি করণ বাক্যগুলো তোলে নিলে খুশী হব।,ধন্যবাদ।

  26. 7
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    নীরব সাক্ষী   -- আপনি কি দেখছেন না উনি এখনও বলছেন নেট থেকে লেখাটা পেয়েছেন -- যা শুরুতে উনি বলেননি। এখনও বলছেন না উনি লেখাটা সংগ্রামের অনলাইন থেকে কপি/পেস্ট করেছেন। এখানে দরীয় দৃষ্টি ভংগী কোথায় দেখলেন? আমিতো মুল লেখাটার লিংক দিয়েই দিয়েছি -- আপনার সন্দেহ থাকরে যাচাই করতে পারেন।  ধন্যবাদ। 

  27. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

     ৩ নেট থেকে। 

     

    -- আপনি এখনও স্বীকার করছেন না লেখাটা দৈনিক সংগ্রামের থেকে কপি পেস্ট করার হয়েছে। 

    সমস্যা হলো একটা চরম সাম্প্রদায়িক দৃষ্টি ভংগী নিয়ে একটা লেখা কপি/পেস্ট করে সদালাপে পোস্ট করার পর তা সদালাপের রেপুটেশনে জন্যে কতটা মংগলজনক হবে তা ভাবার সুযোগ আছে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যরে সমালোচনার নামে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার সদালাপ করবে কিনা তা সম্পাদকের বিবেচনা উপর ছেড়ে দিলাম। লক্ষ্যনীয় যে রবীন্দ্রনাথের কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে যথেষ্ঠ জ্ঞান না নিয়েই শুধু মাত্র একটা সাম্প্রদায়িক ঘৃনার থেকেই এই লেখাটা সংকলন করা হয়েছে বলে লেখক (সংকলক) জানিয়েছেন --

    আর এই সংকলিত ব্লগের উদ্দেশ্য যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংগালীর প্রতুভু বলে প্রচার করছেন। যা আমার কাছে নতুন ধর্মের মত মনে হয়েছে এবং রবীন্দ্রনাথকে সেই ধর্মের প্রবর্তক বলে মনে হচ্ছে। শুধু একজনকে মহামানব বানাতে তাঁর  ভাল গুলো প্রচার করবেন কিন্তু তাঁর ত্রুটিগুলো চাপা দিয়ে যাবেন সেটি কি এক চক্ষু বিশিষ্ট মানুষের মত হয়ে যাচ্ছেনা। সমালোচনা থেকে আল্লাহ রাসুল সাঃ বাদ যান না কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে কেন বাদ দেয়া যাবে?

     

    সদালাপের নীতিমালার অংশ বিশেষ --

     

    ঘৃণা-বিদ্দ্বেষ, ও অশ্লীলতা দোষে দুষ্ট লেখা বা মন্তব্য প্রকাশ করতে আমরা অপারগ।

    সদালাপ মৌলিক লেখাকে অগ্রাধিকার ও একমাত্র অধিকার দিতে চায়। লেখায় উপযুক্ত ও পর্যাপ্ত রেফারেন্স ব্যবহার আমরা উৎসাহিত করি। কপি-পেষ্ট লেখা বা প্লেইজারিজম (অন্যের লেখা নিজের বলে চালানোর প্রচেষ্টা) আমরা কঠিনভাবে নিরুৎসাহিত করি।

     

    বিশেষ করে জামায়তের ইসলামী নামক একটা এন্টি বাংলাদেশ এন্টি বাংলা সংস্কৃতির প্রচার বিভাগের থেকে লেখা নিয়ে কপি পেস্ট করে তা সদালাপ প্রচার করার বিষয়ে সম্পাদকীয় নীতিমালার বিষয়টি বিবেচনার দাবী করছি। 

     

    ধন্যবাদ। 

    1. 6.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      জিয়া এই আমি যাদের লেখা থেকে নিয়েছি তা আবারও বইয়ের নাম পৃস্টা সহ উল্লেখ করছি। আমি যে বই থেকে নিয়েছি সংগ্রামও সে বই থেকে নিয়েছে।

      লেখার রেফারেন্স হিসাবে সৈয়দ মোস্তফা কামালের" সিলেট রেফারেন্ডাম ও জনপ্রতিনিধি" পৃস্টা ৯৬-৯৭।প্রকাশক -রেনেসাঁ পাবলিকেন্স। প্রথম প্রকাশ ২০০২ ২য় প্রকাশ ২০০৩।

      ২য় বই- গোলাম আহমদ মোর্তজার- "চেপে রাখা ইতিহাস" পৃস্টা-২৯০-২৯৩। প্রকাশক- বিশ্ববংগীয় প্রকাশন, মদীনা মার্কেট মেমারী বর্ধমান, ভারত।

      যাক আমি লেখাটি আবার সংশোধণ করার চেষ্টা করছি।

  28. 5
    shamima

    রবীন্দ্রনাথও দোষে গুণে একজন মানুষ। সমালোচনা হতেই পারে হওয়া উচিৎ। কিন্তু এমন একজন সাহিত্যিক, গবেষক, কবির সমালোচনা শুধুমাত্র মানুষের মনে সাম্প্রদায়ীক বিদ্বেষ জাগ্রত করার লক্ষ্যে করা ঠিক নয়। তথ্য বিকৃতি আর লেখকের চৌর্যবৃত্তি নিয়ে না'ইবা কিছু বললাম।

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      তথ্য বিকৃতি আর লেখকের চৌর্যবৃত্তি নিয়ে না'ইবা কিছু বললাম।

      তথ্য বিকৃতি কোথায় আছে দেখিয়ে দিন, ভুল হলে সংশোধন করে নেব, চৌর্যবৃত্তি বলে যে অভিযোগ করেছেন তা ঠিক নয় -- আমি শুরুতে এইটি সংকলিত প্রবন্ধ বলে উল্লেখ করেছি। বিভিন্ন জনের লেখা থেকে তথ্য নিয়ে এই ব্লগ তৈরি করেছি।

       

      এই লেখা আমি তিন জন লেখকের বই থেকে নিয়েছি- ১।  আমাদের সিলেটের শিকড় অনুসন্ধানী লেখক সৈয়দ মোস্তফা কামালের সিলেটের রেফারেন্ডাম বই থেকে। ২। ভারতে প্রখ্যাত লেখক আহমেদ মর্তুযার, চেপে রাখা ইতিহাস থেকে। ৩। নেট থেকে। ঐতিহাসিক যে কোন লেখা কি মৌলিক লেখা বলে দাবী করা যায়?  একাধিক ব্যক্তির লেখা থেকে এই প্রবন্ধ সংকলিত করেছি বলেই এই প্রবন্ধের শুরুতে এই লেখাকে সংকলিত প্রবন্ধ বলে উল্লেখ করেছি, যা দিয়ে আমি এই লেখার মৌলিকত্ব যে আমার নয় তা উল্লেখ করেছি।

      আর এই সংকলিত ব্লগের উদ্দেশ্য যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংগালীর প্রতুভু বলে প্রচার করছেন। যা আমার কাছে নতুন ধর্মের মত মনে হয়েছে এবং রবীন্দ্রনাথকে সেই ধর্মের প্রবর্তক বলে মনে হচ্ছে। শুধু একজনকে মহামানব বানাতে তাঁর  ভাল গুলো প্রচার করবেন কিন্তু তাঁর ত্রুটিগুলো চাপা দিয়ে যাবেন সেটি কি এক চক্ষু বিশিষ্ট মানুষের মত হয়ে যাচ্ছেনা। সমালোচনা থেকে আল্লাহ রাসুল সাঃ বাদ যান না কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে কেন বাদ দেয়া যাবে?

  29. 4
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    রবীন্দ্রনাথ কে নিয়ে বাংলাদেশের কিছু মানুষের মাঝে একটা ঘৃনার চাষাবাদ হয়। বিশেষ করে দেখেছি -- মোনেম খান রবীন্দ্র সংগীত লেখার জন্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষকদের নির্দেশ দেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রচর্চা বন্ধ করে দেন। তারপর মুক্তিযুদ্ধের সময় গোলাম আযম রবীন্দ্র নাথকে হিন্দু হিসাবে চিহ্নিত করে তাকে বর্জনের নির্দেশ দিয়েছিলো। সবই ইতিহাস। সেই চর্চা অব্যহত আছে আজও।   

     

    এইটা হলো আমাদের দৈন্যতা। বিশেষ করে বাংলাদেশের একদল মধ্যবিত্তের সাহিত্য আর ভাষা নিয়ে হীনমন্যতার বহিপ্রকাশ হলো রবীন্দ্রনাথকে সাম্প্রদায়িক আর মুসলিম বিদ্বেষী হিসাবে প্রচার করার চেষ্টা।  মজার বিষয় হলো যারা রবীন্দ্রনাথকে মুসলিম বিদ্বেষী হিসাবে প্রচার করে তারাই আবার নজরুলকে ইসলামের কবি হিসাবে প্রচার করার চেষ্টা করে। এই যে কত বড় মূর্খতা বলার অপেক্ষা রাখে না। কলকাতায় পুঁজার সময়  নজরুলের যে গানগুলো পুঁজার প্যান্ডেলে বাজানো হয় তা নিশ্চয়ই নজরুলকে মুসলিম জাগরনের কবি হিসাবে উপস্থাপন করে না।

     

    সেই যাই হোক -- আমাদের দৈন্যতা থেকে মুক্তি দেবার কেউ নেই যতদিন আমরা উদার ভাবে চিন্তা করতে না শিখবো।   

     

    এবার আসি লেখার বিষয়ে। লেখাটা পড়ে অবাক হলাম এই কারনে যে কবি গুরুর বিশাল রচনা ভান্ডার থেকে সামান্য কয়েকটা বাক্য যোগাড় করে তাঁকে সাম্প্রদায়িক মুসলিম বিদ্বেষী প্রচার করার যে কাজটা মুনিম ভাই করেছে -- বলার অপেক্ষা রাখে না যে উনাকে রবীন্দ্র গবেষক হিসাবে একটা পুরষ্কারও দেওয়া যেতে পারে। হাজার হাজার গান আর কবিতা নাটক আর উপন্যাস থেকে এই সারসংক্ষেপ বের করে আনার জন্যে প্রচুর গবেষনার দরকার।  চেয়েছিলাম লেখার মাঝের অসামঞ্জ্যস্যতার বিষয়ে কিছু লেখি। পড়তে গিয়ে কেমন যেন মনে হলো -- দীর্ঘ দিন ধরে মুনিম ভাই এর লেখার সাথে পরিচিত -- কিন্তু বাক্য আর শব্দ চয়ন কেমন যেন ভিন্ন ধাঁচের। তাই সার্চ দিয়ে যা  পেলাম তা হলো উনি জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের একটা লেখার কিছু বাক্য পরিবর্তন করে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছে।  বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশ বিরোধী দৈনিক সংগ্রাম রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এই ধরনের লেখা ছাপাবেই -তাতে অবাক হবার কিছু নেই -- কিন্তু অবাক হই মুনিম সিদ্দিকী যখন অন্যের লেখা নিজের নামে চালিয়ে বিশেষজ্ঞ হবার একটা প্রয়াস নেন।  সাধারনত অন্যের লেখা নিজের নামে চালানোর জন্যেএ লেখকে প্লাজারিজমের দায়ে নিষিদ্ধ করা হয় -- মুনিম ভাই এই বিষয়ে কি বলেন?    

    1. 4.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      মজার বিষয় হলো যারা রবীন্দ্রনাথকে মুসলিম বিদ্বেষী হিসাবে প্রচার করে তারাই আবার নজরুলকে ইসলামের কবি হিসাবে প্রচার করার চেষ্টা করে। এই যে কত বড় মূর্খতা বলার অপেক্ষা রাখে না। কলকাতায় পুঁজার সময়  নজরুলের যে গানগুলো পুঁজার প্যান্ডেলে বাজানো হয় তা নিশ্চয়ই নজরুলকে মুসলিম জাগরনের কবি হিসাবে উপস্থাপন করে না।

      না। আমি নজরুলকে সে ভাবে ভাবিনি। এক সময় নজরুলের প্রতি আবেগ থাকলে এখন নেই। আমি উনাকে উনার জীবনের লেখক জীবনের শেষের দিকের লেখার কারণে তাকে মুসলিম বলে দাবী করতে পারিনা। তবে লেখককে সমালোচনা করা গেলেও লেখকের ভাল লেখা গুলো থেকে জ্ঞান বর্ধন করতে অসুবিধা নেই।

       

      পড়তে গিয়ে কেমন যেন মনে হলো – দীর্ঘ দিন ধরে মুনিম ভাই এর লেখার সাথে পরিচিত – কিন্তু বাক্য আর শব্দ চয়ন কেমন যেন ভিন্ন ধাঁচের। তাই সার্চ দিয়ে যা  পেলাম তা হলো উনি জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রামের একটা লেখার কিছু বাক্য পরিবর্তন করে নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছে।  বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশ বিরোধী দৈনিক সংগ্রাম রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এই ধরনের লেখা ছাপাবেই -তাতে অবাক হবার কিছু নেই – কিন্তু অবাক হই মুনিম সিদ্দিকী যখন অন্যের লেখা নিজের

      নামে চালিয়ে বিশেষজ্ঞ হবার একটা প্রয়াস নেন। 

       

      আপনি এই প্রবন্ধের শুরু বোধহয় পড়েনি অথবা আপনার চোখ ফাঁকি দিয়ে গেছে- আমি শুরুতে উল্লেখ করেছি যে- তাই আজকের এইদিনে কবিগুরুর কিছু চাপা পড়া ইতিহাস নিয়ে আমার এই সংকলিত প্রবন্ধ।

      এই লেখা আমি তিন জন লেখকের বই থেকে নিয়েছি- ১।  আমাদের সিলেটের শিকড় অনুসন্ধানী লেখক সৈয়দ মোস্তফা কামালের সিলেটের রেফারেন্ডাম বই থেকে। ২। ভারতে প্রখ্যাত লেখক আহমেদ মর্তুযার, চেপে রাখা ইতিহাস থেকে। ৩। নেট থেকে। ঐতিহাসিক যে কোন লেখা কি মৌলিক লেখা বলে দাবী করা যায়?  একাধিক ব্যক্তির লেখা থেকে এই প্রবন্ধ সংকলিত করেছি বলেই এই প্রবন্ধের শুরুতে এই লেখাকে সংকলিত প্রবন্ধ বলে উল্লেখ করেছি, যা দিয়ে আমি এই লেখার মৌলিকত্ব যে আমার নয় তা উল্লেখ করেছি।

      আর এই সংকলিত ব্লগের উদ্দেশ্য যারা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বাংগালীর প্রতুভু বলে প্রচার করছেন। যা আমার কাছে নতুন ধর্মের মত মনে হয়েছে এবং রবীন্দ্রনাথকে সেই ধর্মের প্রবর্তক বলে মনে হচ্ছে। শুধু একজনকে মহামানব বানাতে তাঁর  ভাল গুলো প্রচার করবেন কিন্তু তাঁর ত্রুটিগুলো চাপা দিয়ে যাবেন সেটি কি এক চক্ষু বিশিষ্ট মানুষের মত হয়ে যাচ্ছেনা। সমালোচনা থেকে আল্লাহ রাসুল সাঃ বাদ যান না কিন্তু রবীন্দ্রনাথকে কেন বাদ দেয়া যাবে?

      1. 4.1.1
        আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

        আমি ,মন্তব্যের শুরুতেই বলেছি -- আমাদের দৈন্যতা থেকে রবিঠকুরে সমালোচনা করি এবং আপনিও তাই্ করেছেন -- সামলোচনা করার জন্যে হাতের কাছে যা পেয়েছেন তাই নিয়ে ঝাপ দিয়েছেন। অবশ্যই রবি ঠাকুর সমালোচনার উর্দ্বে নয় -- রবি ঠাকুরের সবচেয়ে বড় সমালোচক নিরোদ সি চৌধুরী থেকে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের বইগুলো আশা করি আমরা জানি। আপিনও অবশ্যই সামলোচনা করার অধিকার রাখেন -- কিন্তু চৌর্য্যবৃত্তিকে তা দিয়ে জায়েজ করার চেষ্টা করছেন কেন?

         আমি আপনার লেখা না পড়লে কিভাবে জানলাম যে এই লেখাটা আপনার না। লেখার ভাষারীতি এবং বাক্য গঠনই সন্দেহের কারন আমি আগেও বলেছি। কয়েকটা বাক্য আপনার নিজের যা পুরো লেখা থেকে আলাদা করা যায় সহজেই। 

         

        খুবই লজ্জিত হলাম। আপনার লেখাটা পুরোটাই দৈনিক সংগ্রামের কপি/পেস্ট করে সামান্য কিছু এডিট করেছেন। লেখার তথ্য সূত্র দিতে হয় লেখার শেষের দিকে -- সেইটাও দেন নাই। এইটা সরাসরি চৌর্যবৃত্তি। খুবই লজ্জার একজন বোদ্ধা লেখক হয়েও আপনি চৌর্যবৃত্তিকে এড়াতে পারলে না।

         

        আপনি কোথাও সূত্র বলেন নি -এখনও বলছেন "নেট থেকে" -- এইটা কোন সূত্র হলো না। এখানে আপনি চালাকি করছেন ইচ্ছা করেই দৈনিক সংগ্রামের সূত্রটা দেননি -- কারন আপনি জানেন লেখাটা কপি/ পেস্ট করা। যযে কোন লেখা হুবুহু পেস্ট করলে তা একটা কোটেশনের মধ্যে রাখতে হয় -- কিন্তু আপনি পুরো লেখার কাঠামো এবং ধারনা কপি/পেস্ট করে সেখানে আপনার কিছু কথা ঢুকিয়ে দিয়েছে -- যা প্লাজারিজমের হিসাবে বিবেচ্য একটা অপরাধ। 

        "সংকলিত:" একটা শব্দ তা দিয়ে আপনার কপি'/পেস্ট জায়েজ হয়ে যাচ্ছে না। দৈনিক সংগ্রামের লেখা আর আপনার লেখাটা পাশাপাশি রাখলেই দেখা যাবে আপনি কি কাজটা করেছেন। 

         

        Plagiarism is the "wrongful appropriation" and "purloining and publication" of another author's "language, thoughts, ideas, or expressions," and the representation of them as one's own original work. The idea remains problematic with unclear definitions and unclear rules.The modern concept of plagiarism as immoral and originality as an ideal emerged in Europe only in the 18th century, particularly with the Romantic movement.

        Plagiarism is considered academic dishonesty and a breach of journalistic ethics. It is subject to sanctions like expulsion.

        Plagiarism is not a crime per se but in academia and industry it is a serious ethical offense, and cases of plagiarism can constitute copyright infringement.

         

        আশা করি এই নিয়ে আর বিতর্ক না করে স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করবেন। 

         

        1. 4.1.1.1
          শামস

          খুবই লজ্জিত হলাম। আপনার লেখাটা পুরোটাই দৈনিক সংগ্রামের কপি/পেস্ট করে সামান্য কিছু এডিট করেছেন। লেখার তথ্য সূত্র দিতে হয় লেখার শেষের দিকে – সেইটাও দেন নাই। এইটা সরাসরি চৌর্যবৃত্তি। খুবই লজ্জার একজন বোদ্ধা লেখক হয়েও আপনি চৌর্যবৃত্তিকে এড়াতে পারলে না।

           

          এটা একজন লেখকের বিরুদ্ধে (তাও সদালাপের লেখক) গুরুতর অভিযোগ যা রিপিটেডলি এসেছে। লেখক সুত্র আগে না দিলেও (সিওর না!) পাঠকের প্রশ্নের উত্তরে সুত্রের উল্লেখ করার পরও তাকে আবার সেই একই অভিযোগে অভিযুক্ত করাটা বিষ্ময়কর! তবে লেখক লেখার শুরুতেই তা নিশ্চিত করেছেন যে এটি সংকলন। সংকলন সাধারণত নিজের লেখা হয় না, অতএব অরিজিনাল হবার প্রশ্নই আসে না। নয়তো এটাকে সংকলন বলা হতো না। তবে এটা সাহিত্যেরই অংশ।

          উল্লেখ করা প্ল্যাজিয়ারিজম এর সজ্ঞানুযায়ীঃ

          Plagiarism is the "wrongful appropriation" and "purloining and publication" of another author's "language, thoughts, ideas, or expressions," and the representation of them as one's own original work.

           

           আর সৈয়দ মুস্তাফা কামাল ও মুনিম সিদ্দিকীর লেখার মধ্যে শব্দের তুলনামূলক একটা হিসেব করে যা পেলাম তাঃ  

          সৈয়দ মুস্তাফা কামালঃ ৯৭৫ শব্দ।

          মুনিম সিদ্দিকীঃ ১৫৭৫ শব্দ।

          মোট মিলঃ ৫০০ (আনুমানিক!!)

          অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য অংশ অন্য জায়গা থেকে সংকলন (!) করা হয়েছে।   ব্যাপারটাতে আশাহত হলাম। ভালো লাগেনি!       

           

        2. নীরব সাক্ষী

          চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ কিন্তু মারাত্নক। তাই ভেবে-চিন্তে করা উচিত। বিখ্যাত ব্লগার জিয়া উদ্দীন সাহেবের কাছে এরূপ আশা করিনি। সবকিছুকে দলীয় ভাবধারা অনুযায়ী দেখা উচিত নয়।  

        3. আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

          "language, thoughts, ideas, or expressions,"

           

          -- সমস্যাটা এখানেই। উনি সংকলন করেছেন -- কি সংকলন করলেন? কার লেখা থেকে সংকলন করলেন তা বললেন না। এখনও উনি বলছেন না যে দৈনিক সংগ্রামের একটা কপি/পেস্ট করেছেন। মুল আইডিয়া, ভাষা এবং প্রকাশ ভংগী সবই সৈয়দ মুস্তফা কামালের -উনি তার মধ্যে কিছু শব্দ পাঞ্চ করেছেন। কোনগুলো উনার কথা আর কোন গুলো সৈয়দ মুস্তফা কামালের কথা তা বুঝার সুযোগ নেই। সুতরাং এইটাকে সংকলন না বলে সংযোজন, বা পুনর্লিখন বলা সঠিক হতো -- অবশ্যই মুল লেখা এবং লেখকের নামসহ সূত্র উল্লেক করা একান্ত কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। 

           

          একজন লেখকের কখনই উচিত নয় সে পাঠককে বিভ্রান্তির মাঝে রাখে। যদি লক্ষ্য করেন দেখবেন মুনিম ভাই শুরুর দিকে মন্তব্যের জবাব দিচ্ছিলেন এমন ভংগিতে যে লেখাটার উনার নিজেরই। 

          এই ধরনের লেখা সদালাপে প্রকাশ করার বিষয়ে বিশেষ আপত্তি জানিয়ে রাখলাম। 

        4. মুনিম সিদ্দিকী

          এই ভাবে যদি হিসাব করেন তাহলে জিয়া ভাই যে লিংক দিয়েছেন সেটিও মেপে দেখুন সৈয়দ সাহেবের লেখার ভিতরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং আবুল মনসুর আহমদ, এবং অন্যান্যদের লেখা কোট করেছেন তাও ৬শত শব্দের কম হবেনা। তাহলে সৈয়দ মোস্তফা কামালের লেখা শব্দ-৯৭৫ থেকে ৬০০ বাদ দিলে ঐ লেখায় মোস্তফাকামালে নিজস্ব সংযোজন মাত্র ৩৭৫ শব্দ।

          কথা এইটি নয় কথা হল কোন ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে লেখতে গেলে অন্যের লেখা কপি করা যায়, এবং সুত্র উল্লেখ করতে হয়। আমি এই খানে ভুল করে ফেলেছি। এই ধরণের লেখা নিয়ে আমার অনেক আগের পরিকল্পনা ছিল। এবং লেখেছিলাম। গত কাল যখন জানতে পারলাম যে আজ ২৫ শে বৈশাখ তখন ভাবলাম যে আমার সে লেখাটি পোস্ট করি। কিন্তু অনেক খুজাখুজি করে পাচ্ছিলাম না । তখন আমি তাৎক্ষণিক ভাবেই পুন লিখা লিখতে বসি। তাই রেফারেন্স দেবার কথা মনে আসেনি। রাতে বাসায় ফিরে যখন জিয়াভাইদের অভিযোগ পড়ি তখন আমার হাতের কাছে বই গুলো ছিলোনা যে, তাঁর পৃষ্টা উল্লেখ করে দিতে পারি। এখন অফিসে এসেছি -- রেফারেন্স দিচ্ছি- পারলে দেখে নিবেন। জিয়া ভাই যেটি বলছেন আমি সংগ্রাম থেকে নিয়েছি তা সত্য নয়। সংগ্রাম লেখককের যে বই থেকে নিয়েছে আমিও সেই বই থেকেই নিয়েছি।

          লেখার রেফারেন্স হিসাবে সৈয়দ মোস্তফা কামালের" সিলেট রেফারেন্ডাম ও জনপ্রতিনিধি" পৃস্টা ৯৬-৯৭।প্রকাশক -রেনেসাঁ পাবলিকেন্স। প্রথম প্রকাশ ২০০২ ২য় প্রকাশ ২০০৩।

          ২য় বই- গোলাম আহমদ মোর্তজার- "চেপে রাখা ইতিহাস" পৃস্টা-২৯০-২৯৩। প্রকাশক- বিশ্ববংগীয় প্রকাশন, মদীনা মার্কেট মেমারী বর্ধমান, ভারত।

  30. 3
    করতোয়া

    মনের মধ্যে অনেকদিনের একটা প্রশ্ন। মনে হচ্ছে আপনি উত্তর দিতে পারবেন। নজরুলের যেমন হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতিকে প্রশংসা করে অনেক কাব্য গান রচনা করেছিলেন তেমনি মুসলমান বা ইসলাম সংস্কৃতিক ভিক্তিক কোন কাব্য বা গীত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আছে কিনা?

     

    অনেক তথ্যপূর্ন পোষ্ট ধন্যবাদ আপনাকে।

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      এছাড়া সমগ্র রবীন্দ্র সাহিত্যের বিশ্বভারতীতে হাজার বার ‘আনন্দময়ী মা’র আগমন হলেও সে আকাশে একটি বার ঈদের চাঁদ কিংবা মোহররমের চাঁদ উঠেনি।

      এই লাইনে তো আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া আছে।

  31. 2
    এস. এম. রায়হান

    এই প্রবন্ধে উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্রনাথ একটি ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে বলেন-

    এই প্রবন্ধে উল্লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি শব্দ প্রয়োগ লক্ষ্য করলে মুসলমান সমাজের প্রতি উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী যবন, ম্লেচ্ছ রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গির একটা সম্যক পরিচয় পাওয়া যায়।

    কী লিখতে চেয়েছেন আর কী লিখেছেন, ঠিক বুঝি নাই। ভাষা ঠিক করেন।

    1. 2.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আমি পোস্ট করার পর দেখছি এইটি মিস্টেক হয়ে গেছে। এখন ঠিক করে দিচ্ছি।

  32. 1
    দ্য মুসলিম

    এতকিছু জানতাম না আগে। ধন্যবাদ পোষ্টের জন্য।

  1. 0

Leave a Reply

Your email address will not be published.