«

»

Dec ০৮

মরক্কোর রোজনামচা -১

প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, মরক্কোতে আমি পর্যটক হিসাবে বেড়াতে আসিনি। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির নগণ্য কর্মী হিসাবে আমার কোম্পানি আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে চাপে ফেলে আমাকে আসতে বাধ্য করেছে । সঙ্গত কারণে-মরক্কোর হাল-চিত্র পর্যটকের দৃষ্টিতে দেখিনি বা দেখতে পাইনি ।

তাছাড়া রাত দিন যেভাবে চাপের মধ্যে থেকে কাজ করে যেতে হয় তার জন্য সে ভাবে দেখার সময়ও নেই। এখানে আমাদের প্রতিদিন ১৫/১৬ ঘণ্টা কাজ করে যেতে হয়। দম ফেলার সময় নেই । বেশির ভাগ সাপ্তাহিক বন্ধের দিন; পুরোটা অলস ঘুমে কাটিয়ে দেই। মাসে, দু’মাসে যখন কোন সুহৃদ বাইরে যাবার জন্য আহ্বান জানায়, তখন কাজের টেনশন থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়ার জন্য তাদের সাথে কখনো সাগর সৈকতে কখনো পাহাড়ে কখনো বা শহর ঘুরতে বেড়াই। অন্যদিকে মরক্কোর বিভিন্ন সিটি যথা খামিসাত, মেকনেস, রাবাত, সালে, লারাস,ফেজ, তাঞ্জিরের ভিন্ন ফ্যাক্টরিতে সাব-কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয় আর ঐ সব ফ্যাক্টরির কাজ আমাকেই দেখতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে থাকতে হয়। এক এক শহর বেশ দূরত্বে অবস্থিত;অগত্যা আমাকে ঐ সব শহরের হোটেলে রাত কাটাতে হয়। গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির মালিকদের অনুরোধে; বায়ার বা বায়ারের প্রতিনিধি হিসাবে তাদের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে,বেশীর ভাগ সময় নাইটক্লাব,বিঙ্গোক্লাব কিংবা ফাইভ-স্টার হোটেলে যেতে হয়। দিন যায় কথা থাকে । আমার বর্ণনায় মরক্কান গার্মেন্টস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের আপ্যায়নের চিত্র বারবার উঠে আসবে।

রিডারদের কাছে অনুরোধ, মরক্কোর সাড়ে তিন কোটি মানুষের এর মধ্যে মাত্র আঙ্গুলে গুনা জনাকয়েক জন নর নারী আমার বর্ণনা আমার রোজনামচা আসবে। এই কয়েকজন বিচ্ছিন্ন নর নারীর কৃত কর্মের জন্য বাকী কোটি কোটি মরক্কোর মানুষকে ভুল বুঝবেন না। সব দেশে ভাল মন্দ মানুষ আছে। আমাদের দেশে তার ব্যতিক্রম নেই। যারা আমাদের রাজধানীর অভিজাত এলাকায় যাওয়া আসা আছে,তারা ভাল করে বুঝবেন কি বলতে চাইছি। আমাদের ঐ মুষ্টিমেয় কয়েকজন নর নারীর ভূমিকার জন্য সারা দেশের মানুষকে দোষারোপ করা যাবে কি?

যদিও নাম দিয়েছি “মরক্কোর রোজনামচা” কিন্তু এখানে শুধু মরক্কোর ঘটনা নয় শারজাহ, কুয়েত ও লন্ডনেরও ঘটনা বিবৃত হবে। যেহেতু কাহিনীর কেন্দ্রীয় স্থান মরক্কো তাই মরক্কোর নাম প্রাধান্য পেয়েছে।

আমার এই লিখায় স্থান কালের বর্ণনা গত ভুল থাকা স্বাভাবিক। কাজেই এখানে বর্ণিত ঘটনাগুলোকে বাস্তবতার নিরিখে বিচার না করে মনোরঞ্জন মূলক বলে বিবেচনা করলে যথার্থ হবে।

পুর্বকথন
১৯৯৩ সালের জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ। সকাল ৯টা । দুবাই আল মাকতুম ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে কুয়েত এয়ার ওয়েজের বোয়িং 747-400 করে মাত্র ১ঘন্টা ৫০ মিনিটে কুয়েত ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌছি। গ্যাঙয়ের মধ্যে দিয়ে হেটে মুল টার্মিনাল ভবনের ইমিগ্রেশন কাউন্টারের সামনে দাড়াই। খুঁজতে থাকি কোন কাউন্টার ট্যুরিস্টদের জন্য। হাতের ডান পাশের কাউন্টারের উপরে FOR TOURIST VISA লেখা সাইন দেখতে পাই। এই কাউন্টারে মাত্র দুই থেকে তিন লোক লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।
বাম পাশের কাউন্টারগুলো শ্রমিকদের জন্য। সে সব কাউন্টারের লম্বা লাইন। কাউন্টারের বসা অফিসারকে পাসপোর্ট বাড়িয়ে দিতেই কোন আপিল মোশন ছাড়াই পাসপোর্টে সিল মেরে আমার হাতে রিটার্ন দিয়ে দেয়।
আমাকে শারজাহ অফিস জানিয়ে দিয়েছিলো, কুয়েত এয়ারপোর্টে আমাকে রিসিভ করতে লোক থাকবে।
লাউঞ্জের কাঁচের গ্লাসের অপর পাশে খুঁজতে থাকি আমাকে যে রিসিভ করতে এসেছে অচেনা সেই লোকটিকে। হঠাত দেখি আমার জন্মদাতা মরহুম মৌলানা আব্দুল বারী সিদ্দিকীর নাম উল্লেখ করা সাদা কাগজ; দুহাত দিয়ে মেলে ধরে একজন আরবীয় পোশাক পরা লোক দাঁড়িয়ে আছে। বুঝতে পারি লোকটি ভুল করে আমার নামের বদলে আমার জন্মদাতার নাম লিখে আমাকে জানান দিচ্ছে যে সে আমাকে রিসিভ করতে এসেছে।
আজ কুয়েত এয়ারপোর্টে যে ভাবে আমি ইমিগ্রেশন পার হয়ে এলাম, যে ভাবে আমাকে রিসিভ করতে লোক এসেছে। তা দেখে মনে পড়ে যায় আজ থেকে ১০ বছর আগের স্মৃতি। সেদিন কি ভাবে আমি এই এয়ারপোর্টে লাঞ্ছিত হয়েছিলাম—-।

কৈশোরে স্বপ্ন দেখতাম কোন একদিন সাত সাগর পাড়ি দিয়ে ভিনদেশে যাব। সেখানে গিয়ে ফুল গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করার মত সর্ব সুখ করতলগত করবো! রাজা বাদশাহের হালতে না হয় আমির কিংবা জমিদারদের মত শান আর শওকতে জীবন কাটাবো। স্বপনরা দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছিল ; যার কারণে ভর যৌবনে বিদেশ পাড়ি দিলাম। বিদেশ বলতে বিদেশ! তবে লাস ভেগাস, মন্ট্রিয়ল, নিউইয়র্ক ,টরেন্টো,প্যারিস বা লন্ডন নয় মরুভূমির একটি দেশ,যার নাম কুয়েত।

২৫ শে সেপ্টেম্বর ১৯৮২ সালে তারিখ বাংলাদেশ বিমানে করে কুয়েত এয়ার পোর্টে এসে পৌছাই। মনের মধ্যে ফুর্তি, চোখে স্বপন! আহা এসে পড়েছি! টাকার খনিতে! এবার আমারও হবে রাশি রাশি টাকা! কাড়ি কাড়ি টাকা! বাড়ি গাড়ি!!! সবার আগে দৌড়ে ইমিগ্রেশনের জন্য কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়ালাম। হাত বাড়িয়ে আমার সবুজ পাসপোর্টখানা কাউন্টারে বসা আরবি পোশাক পরা লোকটির দিকে ঠেলে দিলাম। লোকটি পাসপোর্ট হাতে নিয়ে কি যেন আরবিতে বলল-যার কিছুই আমি বুঝতে না পেরে বোকার মত ফ্যাল ফ্যাল করে অফিসারের দিকে তাকিয়ে রই! এবার লোকটি ধমকে কি যেন বলে উঠে। আর ইশারা করে আমার পিছনের লোককে এগিয়ে আসতে ! আমি লাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ভাবছি! কি আমার ভুল হয়েছে! এর মাঝে বার কয়েক ভয়ে ভয়ে কেঁপে কেঁপে আংরাজিতে জিজ্ঞাস করি কোথায় আমার ভুল! সে কেন আমার পাসপোর্টে সিল মেরে দিচ্ছেনা। যতবার আমি বলি- তত বার ধমক দিয়ে বলে- ইয়াল্লা রুহ—
একে একে আমার সাথে যে আরও ৯ জন এসেছিল সবার পাসপোর্টে সিল লাগিয়ে তারা চলে গেল।
এরপর পুরো ঐ ফ্লাইটের সব যাত্রীও চলে গেল! রীতিমত ভয় ধরে গেছে আমার মনে! শরীর কাঁপছে ! হায় আমি কি ভুল করেছি! যার জন্য অফিসার আমার পাসপোর্টে সিল মেরে দিচ্ছেনা! তবে কি আমাকে বাংলাদেশে ফিরে যেতে হবে! তাহলে যায়গা জমি বিক্রি করে যে টাকা খরচ করে এলাম তার কি হবে! কি জবাব দেব পরিবারের সবাইকে! জুয়া খেলার দান ধরার মত করে জমি বিক্রি করে বিদেশ আসার ব্যবস্থা করেছি, যাতে সংসারের সচ্ছলতা ফিরে আসে! শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এয়ার পোর্টের মধ্যেও আমার গলা শুকিয়ে কাঠ! আর গা বেয়ে দর দর করে ঘাম ঝরছে!

শুধু আল্লাহ আল্লাহ জপছি আর কাঁদছি! কি অজানা অপরাধে আমি এই শাস্তি পাচ্ছি! এই সময় দেখি আমার বয়সী একটি ছেলে এয়ারপোর্টের ফ্লোর মোব দিয়ে পরিষ্কার করে চলছে, তাকে দেখে মনে হলও সে আমার শহরের হবে! দৌড়ে গিয়ে তাকে বলি- ভাই (সে সময় আমার ভাবার অবসর ছিলনা এই ছেলেটি কি সত্যি বাংলাদেশী না ভারতীয়! ) আমি খুব বিপদে পড়েছি আপনি আমাকে সাহায্য করেন।
ফ্লোর ক্লিন করে করে আমার দিকে না তাকিয়ে ছেলেটি বলে- ভাই আমার সাথে কথা বলবেন না, সুপার ভাইজর দেখতে পেলে আমার চাকরী চলে যাবে!

খাটি সিলেটী ভাষায় উত্তর শুনে আমি যেন বুকে তিন কলস শক্তি ফিরে পেয়ে গেলাম।
বলি- ভাই আপনার আল্লাহর দোহাই আমারে বাচাইন!
এবার ছেলেটি বলে- আমি তো আপনার কিছু করতে পারবো না তবে-
দূরে এক ব্যক্তিকে দেখিয়ে বলে- উনার কাছে যান। উনি আমাদের ইনচার্জ তিনি আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন।

আমি উল্কার বেগে ঐ লোকটি দিকে ছুটে আসি।কিন্তু তার নিকটে যেতে পারিনা। সে হাফ পার্টিশন করা রুমের মধ্যে বসে আছে। মাথায় গোল সাদা টুপি। দূর থেকে দেখে তাকেও আমার শহরের লোক বলে মনে হয়েছে,কোথায় যেন দেখেছি দেখেছি লাগছে!

আমি চিৎকার করে তাকে ডাকি – ও ভাইসাব! আমারে বাচাইন আমি বড় বিপদর মধ্যে পড়ছি!!
ডাক শুনে লোকটি সিলটি ভাষায় জিগায়- কিতা হইছে ছোট ভাই!

ভাই! আহারে আমার গলায় এখন তিন কলস পানি আইছে! ইমিগ্রেশন কাউটার দেখিয়ে বলি- ভাই ঐ বেটায় আমার পাসপোর্টে সিল মারি দেরনা। ওখানে গেলে খালি ধমকায়। ভাই আমি কিতা অপরাধ করলাম! আমারে ভিতরে যাইতে দিচ্ছেনা কেনে! আমি কিতা অখন দেশে ফিরত যাইমু!!

সেই টুপি ওয়ালা সিলটি ভাইসাব এবার চিৎকার করে ঐ ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে আমার ঘটনা যানতে চান। আমি শুধু আমার সিলটি ভাইসাব যে লোকটিকে মুহাম্মদ বলে ডেকেছে তা বুঝেছি কিন্তু বাকী কিছু বুঝিনি। ইমিগ্রেশনের লোকটি সিলটি ভাইসাবকে কি জানায়।

এরপর সিলটি ভাইসাব আমাকে জিগান- ভাই তোমার আকামা কই?
আমি জিগাই- আকামা কিতা!
তিনি জানতে চান তোমার কাছে কামের ওয়ার্কপার্মিট নাই!
এবার আমি বুঝতে পারি!
-ভাই এইটি তো আছে!
তিনি বলেন- তাহলে সেই কাগজ তারে দেখান নাই কেন?
আমি বলি- ভাই তারে কেমনে আমি হে কাগজ দেখাই! এই কাগজ তো আমার সাইড ব্যাগের মধ্যে!
তিনি জিগান- সাইড ব্যাগ কই?
আমি জানাই- এইটি তো আমার সাথে নেই। এইটি বিমানে ঢুকার মুখে বিমানের লোকেরা রাইখা দিছে আর কইছে কুয়েত গেলে পামু!
দূরে কনভয় বেল্টের মধ্যে আমার ব্যাগ ঘুরেছিল।
আমি ভাইরে কই- ভাই দেখেন, দেখেন ঐ তো আমার সাইড ব্যাগ দেখা যাচ্ছে।
এবার কাস্টমের পুলিশকে আমার দেশি ভাই কিছু বলেন। তারপর আমাকে বলেন- যাও ওখান থাকি ব্যাগ নিয়া আও।

আমার জন্য অপেক্ষারত দালাল উঠে দাঁড়িয়েছে চলে যাবে। বুঝতে পেরেছে যে, আমার আর ভিতরে ঢুকার কোন চান্স নেই। ঠিক তখনই আমি কাউন্টার পেরিয়ে বাইরে আসি, খোকন নামের যে ছেলেটি আমাদের সাথে এসেছিল সেই প্রথম আমাকে দেখতে পায়।
চিৎকার করে বলে- দেখ দেখ ঐ সিরাজ আসছে! চলবে-

[বিঃঅঃ আপনি যদি এই ব্লগ পড়ে থাকেন তাহলে দু/চারটি কথায় আপনার ভালোলাগা মন্দলাগা অনুভুতি জানিয়ে গেলে আমি খুশি হবো। ধন্যবাদ]

পর্ব ২

১২ comments

Skip to comment form

  1. 6
    শাহবাজ নজরুল

    চমত্কার শুরু !!!

    1. 6.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
       

  2. 5
    কিংশুক

    একদম বাস্তব কথনই মনে হচ্ছে, অনেকটা উপন্যাসের ঢংগের। পড়ে যাচ্ছি ভাই।

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      অসংখ্য ধন্যবাদ। সাথে থাকবেন।

      1. 5.1.1
        S.A.Gafur.

        This is a nice article comprising thrill, and suspense. OK,dusto carry on.

         

        1. 5.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          অসংখ্য ধন্যবাদ সাইয়েদ গাফুর, তোমার মত একজন পাঠক পেয়ে আমি গর্বীত! আশাকরি সাথে থাকবে।

  3. 4
    Lutfunnesa

    সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশের লোক বলেই হয়তো লেখালেখিতে একই ধরনের কমলালেবুর গন্ধ পাচ্ছি। সহজবোধ্য ঝরঝরে ভাষা। ভালো লাগলো পড়তে।

    1. 4.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশের লোক মানে? আমরা এক শহরের লোক।  আপনার ভালোলাগা আমাকে অনুপ্রণিত করবে। এই ভাবে সাথে থেকে উতসাহিত করে যাবেন। ধন্যবাদ।

  4. 3
    Monowar Bin Zahid

    আসলে আম্রার সিলেটি মানুশ যে বালা ইতা অইন্ন জেলার মাইনশে বুজইন্না। তার আম্রারে সিলেটি ‘ফুড়ি’ খইয়া চেতাইন। খুভ খারাপ লাগে। আম্রা কিন্তু তারারে অনেখ সম্মান দেই।
    --
    (অ-সিলেটিদের জন্যে -- ‘খ’ এর উচ্চারণ ‎خ‎ এর মতো)

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      কিতা কইতাম, আপ্নে তো হক্কলতা বুঝইন।

      অন্য জেলার লোকেরাও আমাদের সম্মান করেন, মাঝে মাঝে কেউ কেউ একটু কৌতুক করেন মাত্র। ধন্যবাদ।
       

  5. 2
    মুনিম সিদ্দিকী

    আহমদ ভাই সালাম।

    আমার এই সিরিজের প্রথম মন্তব্যকারী হিসাবে আপনার মন্তব্য ইতিহাস থাকবে। প্রথম মন্তব্যকারী হিসাবে আপনাকে ধন্যবাদ।

    ১। পাঠক দিতেই চেয়েছিলাম কিন্তু পাঠক উল্লেখ করলে পাঠিকারা যদি নাখোশ হোন সেই ভয়ে ভিনদেশী হলেও প্রচলিত সনের প্রচলিত রিডার শব্দ দিয়ে একটি ব্যালেন্স বজায় রাখার ইচ্ছায় আমি সজ্ঞানে রিডার শব্দটি ব্যবহার করেছি।

    ২। আমি ইচ্ছাকৃত ভাবে বিশুদ্ধ বাংলা ভাষায় লেখার চেষ্টা করিনি, আমি প্রচলিত ভাষায় কাহিনী বলে যাবার পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে গেছি, যাতে পাঠক কমলালেবুর গন্ধ লাভ করতে পারেন।

    ৩। হাল-চিত্র বর্ণনায় আমি ইচ্ছাকৃত ভাবে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহার করার চেষ্টা করে যাচ্ছি, যাতে আমার বর্ণনার সাথে সাথে রিডারবর্গ মনে আসে তারাও আমার সাথে সাথে ঘটনায় উপস্থিত থেকে অবলোকন করে চলছেন। আর সেই জন্য সজ্ঞানে বেড়াতে আসিনি বলেই উল্লেখ করেছি। 

    ৪। আমরা যারা গার্মেন্টসের কর্মী আমরা ক্রেতা বলিনা বায়ার বলি, কাজেই প্রচলিত শব্দকে আমি ধরে রাখতে চেষ্টা করেছি। কারণ আমার কাহিনীর সকল উৎস গার্মেন্টসকে কেন্দ্র করে। তাই গার্মেন্টসের ব্যবহার কৃত বহু শব্দ ইংরেজিতে প্রচলিত যার বাংলা কেউ বুঝতে পারবেনা। 

    ৫। আমি যে ভাবে দেখেছি, যেভাবে শুনেছি, যে ভাবে বলেছি যে ভাবে অংশ নিয়েছি ঠিক সেই ভাবে পাঠকি ঢঙ্গে বর্ণনা করে যেতে চেষ্টা করেছি। 

    ৬। এই লেখার সময় আমি অন্য কোন লেখকের ভ্রমণ কাহিনী পড়িনি, পড়িনি এই ভয়ে যাতে আমার নিজস্ব স্টাইল বা ধারা বদলে গিয়ে তাদের মত হয়ে উঠে। 

    ৭। সাহিত্যের বিচারের কি হবে তা আমি জানিনা তবে আমি চেষ্টা করেছি আমার দোআঁশ ঢঙ্গের সাথে পাঠককে যেন চুম্বকের মত ধরে রাখতে পারি। জানি তাতে আমি সফল হবো কিনা।

    আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  6. 1
    এম_আহমদ

    [১] ঘটনা যেন শেলির এই পঙতির মত:

        Our sweetest songs are those that tell of saddest thought.

    জীবনটা সর্বত্রই এভাবে, না হয় অন্যভাবে। আশা আকাঙ্ক্ষা ঘিরে জীবনের খেলা। তৃষার তাড়না যেখানে হাজির করে সেখানে হয়ত দেখা যাবে মরীচিকা! এভাবেই আমরা জীবন সায়াহ্নে আসি। এই গানটি দেখন।  মোর না মিটিতে আশা ভাঙ্গিল খেলা। কবি নজরুল সঙ্গীতে এক মহান ব্যক্তিত্ব। সন্দেহ নেই।

    [২] লেখাটি আরও এডিট করবেন। ‘রিডার’ এর পরিবর্তে পাঠক, ‘বায়ারের’ পরিবর্তে ক্রেতা, ‘বেড়াতে আসিনি’ এর পরিবর্তে বেড়াতে যাই নি, এভাবে আরও কিছু কথা বদলালে ভাল হতে পারে মনে হয়। ‘নগণ্য কর্মী’ বলার দরকার নেই। একজন কর্মি –এটাই যথেষ্ট। যেকোনো কোম্পানিতে প্রত্যেকটি ভূমিকা ও অবস্থান গুরুত্বের।

    লেখাটি বেশ সুন্দর হয়েছে। চালিয়ে যান।  

Leave a Reply

Your email address will not be published.