«

»

Dec ৩১

মরক্কোর রোজনামচা ৭

মরক্কোর রোজনামচা পর্ব-৭
নতুন ফ্যাক্টরি চালু হলে অনেক দিকেই অসম্পূর্ণতা নিয়েই চলতে হয়। ফ্যাক্টরির প্রোডাকশন ম্যানেজারের দায়িত্ব লাভ করার সাথে সাথে, আমার উপর এক সাথে অনেক গুলো দায় দায়িত্ব বর্তায়। সব সময় প্রচণ্ড চাপের মধ্যে পড়ে যাই। কেমন করে দিন আসে, দিন যায়, রাত আসে রাত যায়, তা অনুভবে আসেনা। আমরা চার দেয়ালের মধ্যে স্বেচ্ছাবন্দী । এ যেন রূপান্তরিত শ্রম দাস। ঘড়ি ধরে খাওয়া আর ঘুমানো আর ঘড়ি ধরে ঘুম থেকে উঠা। তবে ভাববেন না, যে যত কাজ তত মাল মানে অর্থ প্রাপ্তি হচ্ছে! পুলিশ তুমি যত মারো বেতন তোমার একশো বারো!!! কাজ যত রাতদিন করিনা কেন, সেলারি যেমন বাড়েনি, তেমন বাড়েনি সুযোগ সুবিধা, কোন ঈদ বোনাস, বার্ষিক বোনাস, অর্জিত ছুটি, অসুস্থতাজনিত ছুটি, ক্যাজুয়েল ছুটি কিচ্ছু আমাদের কপালে জুটেনি!
রান্না বান্না কিভাবে করছে তা দেখতে একদিন ক্যান্টিনের কিচেনের ভিতর আসি, শ্রীলংকানদের জন্য রান্না করা হচ্ছে। দাঁড়িয়ে দেখতে পাই, সেফ আহমদ ; ক্রমান্বয়ে লাল মরিচের গুড়ো, কালো গোলমরিচের গুড়ো, প্রচুর লবঙ্গ এবং তার সাথে কেজি পরিমাণ কাঁচামরিচ বিরাট হাণ্ডির ভিতর ছেড়ে দিতে! এত এত মরিচ তরকারিতে দেয়া দেখে আমি আঁতকে উঠি! ভাবি, এক তো গরমের দেশ, তার উপর এত ঝাল! খেলে নির্ঘাত এদের শরীর খারাপ হয়ে যাবে। কাজে অনুপস্থিতির হার বেড়ে যাবে। চিকিৎসা খাতে ব্যয় বেড়ে যাবে। সেফকে নির্দেশ দেই এখন থেকে এত ঝাল দেয়া চলবেনা। কম ঝাল দিয়ে রান্না করবে ।
দুপুরবেলা লাঞ্চের সময় ক্যান্টিনের ভিতর খাবার নিয়ে গণ্ডগোল! তারা সেফ আহমদকে তেড়ে মারতে যায়! কেন সে তাদের তরকারি এই ভাবে রান্না করেছে? আহমদ সাফ জানিয়ে দেয়, তোমরা আমার সাথে কথা না বলে, মুনিম স্যারের সাথে গিয়ে কথা বলো। তিনি আমাকে এই ভাবে রান্না করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
শ্রীলংকান মেয়েরা খালি প্লেট নিয়ে আমার কাছে চলে এসেছে! তার মানে তারা না খেয়ে তাদের খাবার ডাস্টবিনে ফেলে এসেছে! অনুযোগ করে বলে, কেন রান্নায় ঝাল কম দিতে বলেছি? জিজ্ঞাসা করি, কি সমস্যা হয়েছে? ইনপুট-গার্ল কল্যাণী বলে, মুনিম স্যার কারি ওয়াতুরা, রসাই নেহি! পানি পানি স্বাদ লাগছে!! মেয়েরা বুঝতে পারে যে আমি তাদের খাদ্যাভ্যাস জানিনা তাই এই ভাবে নির্দেশ দিয়ে ফেলেছি।
বললাম, এই ভাবে ঝাল খেলে তোমরা তো অসুস্থ হয়ে পড়বে?
কল্যাণী বলে, স্যার আমাদের চৌদ্দপুরুষ এই ভাবে ঝাল খেয়ে আসছে, আমাদের কোন অসুবিধা হয়না। সাথে সাথে আরো জানায়- এই ভাবে ঝাল খেয়ে আমাদের দেশের লোকেরা একশত বছর পর্যন্ত বেচে থাকে!
বললাম- দুঃখিত! আমি তোমারদের ভালো ভেবেই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম। ঠিক আছে তোমাদের মতই রান্না হবে।
শারজার স্বেচ্ছা বন্দী জীবনে যাতে কিছুটা আনন্দ ফুর্তির সুযোগ মিলে এর জন্য বস ঘোষণা করলেন ; মাঝে মধ্যে আমাদের নিয়ে শিক্ষা সফর আর পার্টির ব্যবস্থা করবেন । কিছুদিন আগে মোশাররফের মৃত্যুর কারণে আমাদের সবার মনে একটি মানসিক চাপ পড়েছে! প্রবাস জীবনে প্রিয় মানুষজন ছাড়া মৃত্যু কল্পনা ভয়ানক বেদনা দায়ক বলে মনে বাজে। কাজেই কিছু করার আশু দরকার ছিলো, যাতে করে ওয়ার্কারদের মন থেকে মৃত্যু চিন্তা দূর করা যায় এবং মনোবল চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে। শ্রীলঙ্কান জিএম সুধাত, বসকে পরামর্শ দেয় আগামী ১লা জানুয়ারী তো খুব কাছে, এইদিন উপলক্ষে আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা যেতে পারে ।
ফ্যাক্টরিতে ঘোষণা করে দেয়া হয় যে, আগামী ১লা জানুয়ারি ১৯৯২ খ্রিঃ রোজ বুধবার বিকাল তিনটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত নিউ ইয়ার ইভেন্ট পালন করা হবে।
ওয়ার্কারদের মধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে । বিশেষ করে, এই সব অনুষ্ঠানে শ্রীলংকান মেয়েরা অভিজ্ঞ। তারা নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে নতুন জামা কাপড় সাজগোজের জিনিষপত্র সংগ্রহের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ে।
উৎসব উদযাপন নিয়ে ভাববার মত অবসর ছিলোনা। মাথার মধ্যে শুধু ডেইলি আউটপুটের টার্গেট, বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট কোয়ালিটি কন্ট্রোল। সিপমেন্ট এর জন্য টাইম মত লাইন থেকে মাল কি ভাবে বের হবে। আমার দিবস রজনী এইসব চিন্তা করে পার করে দিচ্ছি । এই অনুষ্ঠানকে উটকো ঝামেলা মনে হচ্ছে!
ব্যানার লেখা, ফ্যাক্টরি সাজানো এই সব কিছু শুধাতই করে যাচ্ছে! শুধু দেখছিলাম, ছেলে মেয়ে মিলে তুমুল উৎসাহের সাথে, কাজের পর কি ভাবে, সারা ফ্লোরকে তারা সাজাচ্ছিলো।
১লা জানুয়ারি ১৯৯২ প্রচলিত সাল!
নববর্ষের দিন হলেও ক্ষমা নেই! এই দিনও অর্ধেক বেলা ঠিক কাজ করিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আপ যো মেরে মীত না হতে,
হুঠোপি মেরে গীত না হতে
জীবন হে কিয়া গীত বিনা
জীবন হে কিয়া গীত বিনা
হামনা ডরে দুনিয়াকি ছিতাম সে
আহ! কি মিলে হার এক গম সে !

সবে মাত্র স্পেশাল মেন্যু দিয়ে লাঞ্চ সেরে কিছুটা বিশ্রামের জন্য বিছানায় কাত হয়ে বিশ্রাম নিচ্ছি। ফ্লোরে রাখা লাউডস্পিকার থেকে গম গম স্বরে ভেসে এলো দিভিয়া ভারতী অভিনীত জনপ্রিয় গীত ফ্লিমের গান।
শারজাহ ফ্যাক্টরিতে ওয়ার্কারদের বিনোদনের জন্য কোন মাধ্যম ছিলোনা, তবে মাঝে মধ্যে বন্ধের সন্ধ্যায় ভিসিআর চালিয়ে হিন্দি ফ্লিম দেখার মওকা পাওয়া যেত। এই সময়ের ক্রেজ মাধুরী দীক্ষিত আর দিভিয়া ভারতী অভিনীত হিন্দি ফ্লিম।
ইচ্ছা ছিলো এই উৎসবে যোগ না দিয়ে, ঘুমিয়ে রেস্ট নিয়ে এই সময় টুকু পার করে দেব। শুধু ফর্মালিটি বজায় রাখতে অনুষ্ঠানের শেষের দিকে একবার গিয়ে আসবো। কিন্তু দিভিয়ার আহ্বান মূলক গান শুনে সিদ্ধান্ত বদল করে ফেলি। কাপড় পরে আস্তে আস্তে করে ফ্লোরে প্রবেশ করি। ঘড়ির কাটা ঠিক তিনটার সময় বস সুধাতকে সাথে নিয়ে মঞ্চে চলে আসেন। লাউড স্পিকার আপাততঃ বন্ধ করা হলো। ফ্লোরে বাঙ্গালী অবাঙ্গালী মানে শ্রীলঙ্কান, ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানী ছেলে মেয়েদের উদ্দেশ্যে বস হ্যাপি নিউ ইয়ারের শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রেখে সবাইকে অনুরোধ করলেন, যাতে সবাই মনপ্রাণ দিয়ে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
বড় অবাক করার মত বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশী মানুষেরা , দেশের বাইরে থাকলে, বাঙ্গালী, পাকিস্তানী,ভারতীয় আর শ্রীলঙ্কান সবাই মিলে, এক ছাদের নিচে আনন্দ ফুর্তি করতে কোন অসুবিধা বোধ না। তাতে বাঙ্গালীদের চেতনা দণ্ডেও কোন আঘাত আসেনা। কিন্তু বাঙ্গালীরা দেশে থাকে তখন তাদের সাথে নাচা হাসা কথা বলা দুরের কথা, কেউ কেউ পাকিস্তানী, কেউ কেউ ভারতীয়দের নাম পর্যন্ত শুনতে চায়না। বরং পাকিস্তানী আর ভারতীয় যেন একটি জাতিয় গালি হয়ে দাঁড়িয়েছে!
কয়েক কেস হ্যানিক্যান বিয়ার, কয়েক কেস কোকাকোলা কয়েক কেস সাদা পানি কে যেন কাটিং টেবিলের উপর এসে রেখেছে! যেহেতু এই আসরে শ্রীলঙ্কান, ইন্ডিয়ান এবং পাকিস্তানিরা আছে তাই ভাবলাম তাদের জন্য বোধ কর্তৃপক্ষ এই সবের আয়োজন করেছেন।
কোথায় ভিনদেশী? মুহুর্ত্যের মধ্যে বাংলাদেশী ছেলেরা কাড়াকাড়ি করে বিয়ারের সব ক্যান নিয়ে যাচ্ছে দেখতে পাচ্ছি। ফ্লোরের লাউডস্পিকার থেকে তখন প্রচণ্ড কান ফেটে যাওয়া আওয়াজে বেজে চলছে-
দেখা হ্যাঁ পহেলেবার
সাজান কি আখু মে প্যায়ার
তব যাকে আয়া মেরে
বেচেইন দিল কো কারার
দিলবার তো যে মিলনে কো কব সে
তা মে বে কারার।
হরিলুটের উৎসব দেখে আমি আমার গলা ফাটিয়ে বেকুব উজবুক ছেলেদেরকে এইগুলো নিতে মানা করি, বলি- তোমরা অভ্যস্ত নও, তোমরা এইগুলো পান করবেনা প্লিজ! কে শুনে কার কথা! আজ যেন সবাই বন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়েছে। আজ এখানের সবাই স্বাধীন, আজ এখানে সবাই রাজা তাদের রাজার রাজত্বে। আমার চিৎকার শুনার মত কেউ না থাকলেও সাদা পানি আর কোকাকোলার অক্ষত কেসগুলো যে আছে তা বুঝতে পারছি!
শ্রীলঙ্কান শিবির থেকে একজন দুইজন করে মেয়ে নাচতে নামে। এই ভাবে অনেক মেয়েই নাচতে শুরু করে। মেয়েরা বসকে অনুরোধ করে তাদের সাথে নাচতে আসার জন্য। বস আর সুধাত নাচতে নামেন। মেয়েরা এবার ছোট বসকেও টেনে নিয়ে আসে নাচতে।
বাংলাদেশী শিবিরের ছেলেরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলোনা তারা নাচতে নামবে কিনা বা বস মেয়েদের সাথে নাচতে অনুমতি দিবেন কিনা! যখন দেখতে পেলো যে, বস, জিএম আর ছোট বস নাচতে নেমে পড়েছেন! তারাও পঙ্গপালের মত একসাথে নাচতে ঝাঁপিয়ে পড়ে! সে এক এলাহি কারবার! তাদের নাচের মুদ্রা তাল আর অঙ্গভঙ্গি দেখে মনে হয় এই ছেলেগুলো জীবনে কোথাও নাচেনি, এখানে যে যেভাবে পারছে তালে বেতালে খেমটা নাচ শুরু করে দিয়েছে। ততক্ষণে বিলাতি পানির ক্রিয়া ভালো ভাবে শুরু হয়ে গেছে! আমি খুব উদ্বেগের মধ্যে পড়ি, ক্ষুধার্ত ছেলেরা যদি তাদের ফ্রিডমের মাত্রা অন্যদিকে চালিয়ে দেয় তখন কি ভাবে তা সামাল দেয়া যায়!
আমি আর রয় দর্শকের মত গ্যালারিতে বসে ছিলাম। লক্ষ্য পাগল ছেলে গুলো কি করছে! অনেক মেয়ে এসেছিলো নাচে যোগ দিতে কিন্তু নাচের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অত্যধিক লাজুকতার জন্য তাদের আহ্বান বিনীত ভাবে ফিরিয়ে দেই।
বস এবং ছোট বস প্রাথমিক জড়তা কাটিয়ে উঠে সত্যিকার ভাবে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে শুরু করেন। তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ থেকেই বুঝা যাচ্ছে! বস তো ফ্রি স্টাইলে দুহাত শূন্যে প্রসারিত করে, হিপ্পি হিপ্পি ইয়া ইয়া, করে ঘুরে ঘুরে ধৈ ধৈ করে নেচে চলছেন । ছোট বস এই জগতে নতুন অভ্যাস ছিল না, তিনিও এলো পাতাড়ি তালে পা ফেলে ফেলে নেচে যাচ্ছেন।
বাঙ্গালী ছেলেদের কথা কি বলব! মদ, মানবী, মনোহারী গান আর ফ্রিডম। তারা নৃত্যের উদ্দাম বন্যায় পেঁজা পেঁজা তুলার মত ফ্যাক্টরির ফ্লোরে মেঘ হয়ে ভাসছে। কে কি করছে, কেমন ভঙ্গিমা নাচছে, তার কোন ডেফিনিশন আমি দিতে পারবনা। কারণ আমার ফরটিন জেনারেশনের কেউও কখনো নৃত্য করেছেন তা আমার ফেমেলীর হিস্ট্রিতে পাইনি! শ্রীলংকান মেয়েরা যথার্থই ডান্সে পারঙ্গম। গানের তালে তালে, ছন্দের দোলায় দুলে দুলে নাচছে। আমাদের ছেলেদের কেঁচকি নাচ দেখে ওরা খুবই এনজয় করছে।
রয়, আমাকে আঙ্গুল দিয়ে গুঁতো মেরে ফিস ফিস করে বলল- স্যার, দেখছেন? দেখছেন? বস বুড়ো বয়সে কি করছেন?
জিজ্ঞাস করি, বসকে নিয়ে তোর আবার কি হলো?
দেখতে পাচ্ছেননা ? না আপনিও মাল খেয়ে হুঁশ হারিয়ে বসে আছেন? দেখছেন না? বস তো এতক্ষণ শুধু ঐ একটি মেয়েটির সাথেই ডান্স ক্রে চলছেন ?
হ্যাঁ আমি খেয়াল করে দেখি, আরে হ্যাঁ, তাইতো বস তো শুধু চান্দ্রা ফার্নাদোজের সাথেই ডান্স করছেন। এরোমার সাথে সুধাত ।
রয় বলল- স্যার কাবাবের মধ্যে হাড্ডি ফেলতে পারবেন না?
বললাম- তুই ফেলতে পারিস না?
রয় তার বাবরি চুলে ঝাঁকি মেরে বলল- বস আমাকে সোজা টিকিট হাতে ধরিয়ে দিবে। যান না স্যার, প্লিজ! আজ তো ভাল এক সুযোগ পাওয়া গেল! আজকে তো বস সবাইকে বলে দিয়েছেন, মন খুলে আনন্দ উপভোগ করতে।
এখানে যত মেয়ে আছে তাদের মধ্যে চান্দ্রা ও এরোমাই সুন্দরী এবং অল্প বয়সী। যদিও পাসপোর্টে তাদের বয়স বিশ উল্লেখ থাকলেও তাদের ছিমছাম দেহ বল্লরীর জন্য ষোল বছর বয়সী মনে হয়।
সাজগোজ করার জন্য চান্দ্রাকে মাধুরী দীক্ষিত মনে হচ্ছে। কি করে কি হল জানিনা। লাফ দিয়ে টেবিল থেকে নেমে দাঁড়ালাম। রয়ও ঠেলে দিল মেয়েদের মধ্যে, সামনে পড়ল মনরী, কিন্তু একনায়িকা নামের মেয়েটি ঝট করে হাত বাড়িয়ে টেনে নিয়ে গেল তার কাছে, বলল- স্যার আমার সাথে কিছুক্ষণ ড্যান্স করুন প্লিজ!
বললাম- আমি তো ড্যান্স জানিনা একনায়িকা!
বলল- এই সব ড্যান্স জানতে হয়না স্যার ঝুলে ঝুলে হাত পা ছুঁড়লেই হয়। কিন্তু আমার হাত পা যেন ভারি লাগছে!
এ ভাবে ঘুরে ঘুরে, একে একে কল্যাণী, কুমারী, চামেলি, সব মেয়েদের কিছুক্ষণ নেচে নেচে সময় দিতে হচ্ছে । এক সময় মিষ্টি মুখ মেয়ে এরোমা যার গভীর কালো চোখে সব সময়ে দুষ্টুমি ভরা চাহনি থাকে, সে মেয়েটি জিএম শুধাতকে ছেড়ে আমার সাথে নাচতে আসে।
শুধু একজন এলোনা।
সে হল চান্দ্রা, চান্দ্রা ফার্নান্দো ।
মনে প্রাণে চাচ্ছিলাম অন্য মেয়েদের মত সেও চলে আসুক।
না সে আসল না। বুঝলাম আসার সম্ভাবনাও নাই! অজান্তে মনে জিদ চেপে বসল। এর মধ্য বস রিফ্রেশ হতে অফিসে গেলেন, এখন চান্দ্রা সঙ্গী ছাড়া একা একা নাচছে। আমি চান্স নিয়ে নিলাম। ঝট করে চান্দ্র্রার একটা হাত ধরে আমার আমার হাত দিয়ে উঁচু করে ধরি, যদিও চান্দ্রা এমন ঘটনার জন্য প্রস্তুত ছিলনা। তথাপি ত্বরিত গতিতে, আমার উঁচানো হাতের মধ্যে হাত রেখে, বল ডান্সের ভঙ্গিমায় পাঁক খেল। তাই দেখে ছেলে মেয়ে সবাই তালি বাজাতে লাগল। ছেলেদের মধ্যে কারা কারা তুমুল উত্তেজিত হয়ে জোরে জোরে শিষ বাজতে থাকে। পাশে ছিলো একনায়িকা বলে উঠে, আগে বলছিলে যে আপনি ড্যান্স জানেন না! এখন দেখি হিরোর মত নাচতে জানো!
তান- তানা-, না – না- তান – তানা না – না- করে নেচে যাচ্ছি, চান্দ্রা বলে- মুনিম স্যার, বস আসলে কিন্তু রাগ করবে ! এবং শ্রীলংকান ছেলেরাও সহজ ভাবে নিচ্ছে না! যে কোন সময় একটা ডিশিম ডাশিম লেগে যেতে পারে । প্লিজ! মাইন্ড করবেন না। আমাকে ছেড়ে দিন!
সুধাত শ্রীলংকান জিএম, ফ্লোরে ফিরে এসে বুঝে গেছে পরিস্থিতি। এরোমাকে ঠেলে দিল আবার আমার দিকে, যাতে বস রেগে গিয়ে এই অনুষ্ঠানকে পণ্ড না করে দেন কিংবা শ্রীলংকান বনাম বাঙ্গালীর মধ্যে ফাইট শুরু না হয়ে পড়ে। এরোমা কাছে পৌঁছার আগে ইয়ামুনা এসে বলল- মুনিম স্যার সব মেয়েদের সাথে আপনি ড্যান্স করেছেন এবার আসেন আমরা একসাথে ডান্স করি। বললাম- তোমার মেগাওত্ত্বা আইয়া /ভাইয়া রাগ করবেনা তো!!! চলবে-

Leave a Reply

Your email address will not be published.