«

»

Jan ৩০

আমরা কি যথার্থ ইসলাম অনুসরণ করছি?

রাসুল সাঃ মুসলিমদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তোমার অমুসলিমদেরকে দান খয়রাত করবেনা।

এই নির্দেশের কারণে মুসলিমরা দরিদ্র মুর্তি পূজারী প্রতিবেশীদেরকে দান খয়রাত করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

রাসুল সাঃ এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন একটি আয়াত নাজিল করেন, সে আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন (বিশ্ব ভ্রহ্মান্ডের বিধাতা) বলেন-

“তাদেরকে সৎপথে আনার দায় তোমার (মুহাম্মদ সাঃ) নয়। বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন”। (২-২৭২)

মানে, মুর্তিপূজারীদেরকে ইসলামে দাখেল করা বা মুসলিম বানানোর দায় রাসুল সাঃ এর নয়। এই এখতিয়ার একান্ত আল্লাহর। তিনিই একমাত্র স্বত্ত্বা কাকে ইসলামে দাখেল করবেন, কাকে মুর্তিপূজারী করে রাখবেন।

এই আয়াত নাজিল হবার পরপরই রাসুল সাঃ মুসলিমদেরকে নির্দেশ দিলেন, হ্যা তোমরা তোমাদের প্রতিবেশী বিপন্ন অসহায় মুর্তিপূজারীদেরকেও দান খয়রাত করতে পারবে।

ইসলাম যদি দাবি করে যে সে বিশ্বজনীন ধর্ম, তাহলে তো তাকে সারা বিশ্বের মুসলিম আর অমুসলিমকে এক চোখে দেখতে হবে।

আমার প্রশ্ন তাহলে আজকের বিশ্বের মুসলিমরা কোন ইসলাম অনুসরণ করছেন? কেন অন্য ধর্মীদেরকে ঘৃণার চোখে দেখেন?

যে সব লোক আজ ইসলামে নেই, তার দায় তো আমাদের নয়, সে ব্যক্তি কাল কিয়ামতের ময়দানে, সে তার দুনিয়ার কৃত কর্মে জবাবদিহি করবে, সে ব্যক্তি যে অমুসলিম তার জন্য তো আল্লাহ আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না?

আল্লাহ পাক রাসুল সাঃ বলছেন, তোমার দায়ীত্ব ইসলামের পথে আসার জন্য লোকদের কাছে আমন্ত্রণ পৌছে দেয়া, তোমার দায়ীত্ব ইসলাম কি? অন্য ধর্মের চেয়ে ইসলামের মাহাত্ম কোথায় তা বুঝাবার চেষ্টা করে যাওয়া। পুলিশের মত জোর করে মুসলিম বানানো নয়।

আমরা মুসলিম বলে নিজদেরকে দাবি করি, তাদের উচিত আল্লাহ যে নির্দেশ রাসুল সাঃ দিয়েছেন, সেটি পালন করে যাওয়া। যারা শক্তি প্রয়োগ করে বিধর্মীদেরকে মুসলিম করতে চান তারা তো আসলেই আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন।

কোন মুসলিম তার প্রতিবেশী অমুসলিমকে ঘৃণা করতে পারেনা। সে হুকুম আল্লাহ দেননি।

দুঃখের ইসলামের এই প্রেমের, এই ভালোবাসার বাণী কেউ প্রচার করেনা, না মুসলিম না অমুসলিম, আজকের বিশ্বের মুসলিমদের অনৈসলামিক কার্যকলাপকে অমুসলিমরা ইসলাম বলে প্রচার করে যাচ্ছে, যার দায় অমুসলিমদের চেয়ে হাজার গুণ দায় মুসলিমদের উপর বর্তায়।

আজকের বিশ্বের মুসলিমদের মধ্যে কিছু মুসলিম নামাজ রোজা হজ আর জাকাতকে আকড়ে ধরে থাকলেও অন্যান্যদিকে তারা প্রকৃত ইসলামের নীতিমালা থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে, আর বেশির ভাগ মুসলিম তো তা পালন করেনা। যার কারণে বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা অমুসলিমদের হাতে নির্জাতিত হচ্ছে, আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণেই আজ আল্লাহ মুসলিমদের সাহায্যে এখন আর এগিয়ে আসছেন না।

আল্লাহতালা মুসলিমদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের সাথে আমরা যুদ্ধ করবো, যারা আমাদের ইসলাম ধর্ম পালনে বাধা দেয়, যারা ইসলাম ধর্ম পালনের কারণে আমাদেরকে আমাদের জন্মভূমি থেকে বিতড়িত করেছে। ইসলাম পালন করা অপরাধে আমাদেরকে হত্যা করেছে তাদের সাথে। (২ঃ১৯০/১৯১/১৯২)

আল্লাহ আমাদেরকে নির্দেশ দেননি, সেই সব অমুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করতে যারা আমাদের ধর্ম পালনে বাধা না দেয়, ইসলাম পালনের অপরাধে আমাদেরকে হত্যা করেনা, আমাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেনি। (৬০ঃ৮)

আল্লাহ আমাদেরকে আমাদের অমুসলিম প্রতিবেশীর সাথে প্রতিবেশী সূলভ ভালো ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছেন, তারা সংখ্যালঘু হলে তাদের জান মাল আর ইজ্জতের নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

যদি প্রতিবেশী অমুসলিম দেশে, সংখ্যালঘু সকল মুসলিমদেরকে সেদেশের অমুসলিমরা হত্যা করে বসে, তারপরও মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশে বসবাসরত অমুসলিমদের প্রতি প্রতিশোধ নেয়া তো দুরের কথা, তাদের একটি চুলও ছিঁড়ে ফেলার হুকুম আল্লাহ আমাদেরকে দেননি। বরং তাদেরকে নিরাপত্তা দেয়ার দায় মুসলিমদের উপর ন্যাস্ত। যে সব মুসলিম আল্লাহর এই নির্দেশ অমান্য করবেন তার জন্য কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহর কাছে মুসলিমদেরকেই জবাবদিহি করতে হবে।

মুসলিমদের বুঝা দরকার আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে সারা পৃথিবীর মানুষকে মুসলিম বানিয়ে ফেলতে ১৪শত বছরের দরকার পড়তোনা। সেই কবেই সারা পৃথিবীর মানুষ মুসলিম হয়ে যেতো।

মুসলিমদের আরো বুঝা দরকার যে, সারা বিশ্বের লোকদেরকে মুসলিম বানানো ইসলামের লক্ষ্য নয়। ইসলামের লক্ষ্য সারা বিশ্বে এক অদ্বৈত শাসন প্রতিষ্ঠার। কারণ ইসলাম বিশ্বাস করে সারা পৃথিবীতে এক একক অদ্বৈত শাসনের অধীনে না আসা পর্যন্ত পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবেনা।

মুসলিমদেরদেরকে সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য যার যার সাধ্যমত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাতারাতি ইসলাম প্রতিষ্ঠার কোন হঠকারী পন্থা গ্রহণ না করতেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মুসলিমদের কর্তব্য সে প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাওয়া, যদি আপনার এই প্রচেষ্টায় পৃথিবীর বুকে ইসলাম কায়েম হয়ে যায়, তাহলে আলহামদুলিল্লাহ! আর যদি না হয় তার জন্য আল্লাহ আপনাকে পাকড়াও করবেন না। ধন্যবাদ।

১৮ comments

Skip to comment form

  1. 18
    মুনিম সিদ্দিকী

    @jahir: আপনি যখন বলেননি বলে এত নিশ্চিত হয়ে আছেন, তাহলে এই নিশ্চয়তার পক্ষে দলিল দেখানতো?

  2. 17
    jahir

    রাসুল সাঃ মুসলিমদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তোমার অমুসলিমদেরকে দান খয়রাত করবেনা।. ei kothar proman dekate parben ? uni konodin emon kisu bolen nai

  3. 16
    মুনিম সিদ্দিকী

    @মোহাম্মদ আসাদ আলী: ভাই আসাদ আলী, আপনার উদ্দেশ্য আর আমার উদ্দেশ্য এক নয়। আমি বরাবর সর্বক্ষেত্রে মধ্য পন্থায় বিশ্বাসী। আল্লাহ আপনাকে আমাকে সত্য জানার সহায়তা করুন ! আমিন। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া না আমি না আপনি সত্য অনুধাবন করতে সক্ষম হতে পারি। ধন্যবাদ।

  4. 15
    মুনিম সিদ্দিকী

    @তাজুল ইসলাম: ভাই, ও্য়ালিকুম আস সালাম। ভাই আমাদের উদ্দেশ্য যেন হয় যে আমাওরা যে কোন বিতর্ক করিনা কেন তা যেন আল্লাহ আর তার রাসুল সাঃ সন্তুষ্ঠি লাভের জন্য, ইসলামের কল্যাণের জন্য কোন অবস্থায় যাতে তর্কের জন্য না হয়।
    ভাই এমন বিজ্ঞ কোন আলিম ব্যক্তিত্ব নই যে শান্তির ডেফিনেশন আপনাকে দিতে পারবো। একজন মূর্খ এবং দুর্বল ইমানের মুসলিম হিসাবে ইমানের অংগ হিসাবে মানতে হয় যে, ইসলাম পৃথিবীতে এসেছে সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য। সমাজে , দেশে দেশ পৃথিবীতে আল্লাহর আইনে পরিচালিত হয় তাহলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে, আর ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে দেশে পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি আসবে। এইটি তর্কের বিষয় নয় এইটি বিশ্বাসের বিষয়। ধন্যবাদ।

  5. 14
    মুনিম সিদ্দিকী

    @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন: ভাই ফেসবুকের “এসো বাগান করি” গ্রুপ নিয়ে এত ব্যস্ত যে আমি এইদিকে এসে যে আপনার প্রশ্নের জবাব দেবো সে সময় পাচ্ছিনা ভাই। আপনি যদি অন্টারিওতে ফুলের বা সবজির বাগান করেন, তাহলে আমাদের গ্রুপে যোগ দিতে অনুরোধ রইল। ধর্ম নিয়ে মারামারি নেই, রাজনীতি নিয়েও মারামারি নেই। আমরা সবাই বৃক্ষপ্রেমি।

    এবার আসি আপনার প্রশ্নের জবাবে। জিয়া ভাই প্রশ্নের জবাব আপনি আমার চেয়ে বেশী জানেন বলে আমার বিশ্বাস। আল কোরানের বহু আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করে জানিয়েছেন সারা আল্লাহর সারা বিশ্বের সব কিছু আল্লাহর। আল্লাহ সব কিছু সৃষ্টি করেছেন তার আনুগত্য করার জন্য। শুধু তাই নয় আল্লাহ মুমিনদের জানিয়ে দিয়েছেন বিশ্বের সব কিছু পরিচালনা করা মুমিনের দায়ীত্ব।

    আল্লাহ যে ভাবে সুলাইমান আঃ আর জুলকারনাইন আঃ কে দুনিয়া শাসনের দায়ীত্ব দিয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই দুনিয়া পরিচালনার জনু মুমিনদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন।

    আল্লাহ যখন বলেন এই দুনিয়া একমাত্র তার সার্বভৌমত্ব তখন দুনিয়া রাসুল সাঃ এর অধিন হয়ে যায়। রাসুল সাঃ আল্লাহ প্রেরণ করেছেন সারা দুনিয়ার মানুষের জন্য। সারা দুনিয়াতে আল্লাহর শাসন কায়েমের জন্য।

    আপনি তো হাদিসে পেয়েছেন যে ইমাম মাহদী আঃ সারা দুনিয়া শাসন করবেন। না এই হাদিস নিয়ে আপনার অবজেকশন আছে?

    এখানে সংক্ষিপ্ত জবাবে আমি ব্যখ্যা বিশ্লেষণ করে বুঝাতে পারবোনা, যদি আল্লাহর হুকুম থাকে যদি আমাকে দিয়ে এই বিষয়ে লেখানোর কুদরতের মর্জি হয়, তাহলে স্ববিস্তারে ব্লগকারে লিখে এই সদালাপে পোস্ট করবো। এখানে কয়েকটি আয়াত আর হাদিস উল্লেখ করছি, পড়ে বুঝার চেষ্টা করবেন।

    ১ । “নভোমন্ডল ও ভুপৃষ্ঠে যা কিছু আছে, সব তাঁরই এবং আল্লাহই অভাবমুক্ত প্রশংসার অধিকারী।” সুরা হজ্জ আয়াত ৬৪

    ২।তুমি কি দেখ না যে, ভূপৃষ্টে যা আছে এবং সমুদ্রে চলমান নৌকা তৎসমুদয়কে “আল্লাহ নিজ আদেশে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন” এবং তিনি আকাশ স্থির রাখেন, যাতে তাঁর আদেশ ব্যতীত ভূপৃষ্টে পতিত না হয়। নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি করুণাশীল, দয়াবান।। সুরা হজ্জ আয়াত ৬৫

    ৩। তোমাদেরকে আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কিসে বাধা দেয়, যখন আল্লাহই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উত্তরাধিকারী? সুরা আল হাদিদ আয়াত ১০
    ৪। “নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই আল্লাহর। আল্লাহ অভাবমুক্ত, প্রশংসিতঃ। সুরা লুকমান আয়াত ২৬
    ৫। “তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে”। সুরা আত তাওবা আয়াত ৩৩

    এবার হাদিস দেখুন,

    “Verily Allah has shown me the eastern and western part of the earth, and I saw the authority of my Ummah (nation) dominate all that I saw.” (Saheeh Muslim, hadeeth #2889)

    আল কোরানের আয়াত থেকে প্রমাণ করা যাবে যে, আল্লাহর নির্দেশ যে এক আল্লাহর শাসনে দুনিয়াকে নিয়ে আসার নির্দেশ আছে , তার মানে নয় সারা পৃথিবীর মানুশকে মুসলিম বানিয়ে ফেলা। ধন্যবাদ।

  6. 13
    মুনিম সিদ্দিকী

    @মজলুম: ভাই দেরিতে ধন্যবাদ বলার জন্য দুঃখিত!

  7. 12
    মুনিম সিদ্দিকী

    @আবদুল আউয়াল: ভাই দুঃখিত! আমি ফেসবুকে এমন ব্যস্ত যে সময় বের করে সদালাপে আসতে পারছিনা। হ্যা ভাই আপনি ঠিক বলেছেন। আমরা আল্লাহর দ্বীনকে কঠিন করে ফেলেছি। ধন্যবাদ।

  8. 11
    মজলুম

    @মুনিম সিদ্দিকী: আপনার পোষ্ট ঐ দিন সকালে দেখেছি আর আসাদ আলীর কমেন্ট ও। দুই জনকেই নিয়ে আলাদাভাবে কমেন্ট করবো ভাবছিলাম পরে সময় করে। আমি অভ্রু দিয়ে লিখতে জানিনা, এখনো আগের মতো সামহয়্যারইনব্লগের ফোনেটিক বর্নমালা দিয়ে লিখে এখানে এনে কমেন্ট বা পোষ্ট করি। দ্বিতীয়বার আবার চেক করিনা, সেজন্যে আমার লেখাগুলোর বাক্য গঠনে মাঝে মাঝে ভুল দেখবেন। সেই জন্যে ঐ দুইলাইন কমেন্টে আপনাকে কোট করে আসাদ আলীর সহমত বললেও তাকেই এড্রেস করে কমেন্ট লেখা হয়ে যায়।

    আপনার পোষ্ট নিয়ে আমার কোন দ্বিমত নাই। যেটুকু সঠিক হয়নি তা বলেছি আর আপনি সংশোধন করে নিয়েছেন। এটাই হলো ঈমান আর নিফাকের মধ্যে পার্থক্য। সেজন্যে ভুল ধরিয়ে দিলেও হেজবুতেরা মানে না, কিন্তু যাদের ঈমান আছে তারা তা মেনে নেয়।
    আপনি বা আমি যদি মুসলিমদের সমালোচনা করি তার কারন আমরা মুসলিমদের ভালো চাই, তাদের মুসলিম মনে করি। কিন্তু একজন ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিক যদি মুসলিমদের সমালোচনা করে, কারন সে মুসলিমদের ঘৃনা করে, মুসলিমদের বেঠিক মনে করে। তেমনি মুসলিমদের সমালোচনা করে আপনার লিখা ও হিজবুতের লেখার মধ্যে অবশ্যই পার্থক্য আছে। আপনি মনে করেন মুসলিমরা হয়তো পাপী কিন্তু ইসলাম বিকৃত হয়ে গেছে বা মুসলিমরা সব কাফির হয়ে গেছে ভাবেন না। কিন্তু হেজবুতীরা তা বিশ্বাস করে। তাই আপনার কিছু বলা এবং হেজবুতিদের কিছু বলার মাঝে পার্থক্য আছে।

  9. 10
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    মুনিম ভাই, আসসালামু আলাইকুম।

    “শান্তি” জিনিষ-টা কি? শান্তি-কে কিভাবে চিহ্নিত করে বা বুঝা যায়? শান্তি-কে কিভাবে পরিমাপ হয়? শান্তির উৎপত্তি কোথায় এবং এটা কিভাবে সৃষ্ট হয়?
    যত মানুষ-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে “শান্তি” কি? বেশীর ভাগ মানুষ ‘আত্মতৃপ্তি’-কে শান্তি বলে দেয়। কেউ অন্য রকম ধারন পোষন করে। কিন্তু কাউকে গ্রহন্যোগ্য উত্তর দিতে দেখা যায় না।

    “শান্তি” কি জিনিষ??

  10. 9
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আসসালামু আলাইকুম মুনিম ভাই, অনেকদিন পর লেখা দিলেন।

    আপনার লেখা মুল বিষয়ের সাথে একমত। এর সাথে কিছু যোগ করতে চাই। । ইসলামের অনুসরন (যাকে শরিয়া হিসাবে বলা হয়) তা দুইটা হাতের মতো। একটা হাতের সাথে সম্পর্ক স্রষ্টার (ইমান, সালাত, রোজা হজ্জ্ব, যাকাত) আর অন্যহাত হলো সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত (আদল, আখলাক, মুয়ামেলাত ইত্যাদি)।

    রোজা, নামাজ নিয়ে যত বেশী আলোচনা শুনেছি -- সুদ-ঘুষ বিষয়ে তত কম আলোচনা শুনেছি। বস্তুত বাংলাদেশে ইসলাম চর্চা মুলত আনুষ্ঠানিকতায় গিয়ে পৌছেছে। ঈদের মুলত তাৎপর্য থেকে অনেক দুরে গিয়ে ঈদের নাটক নিয়ে ব্যস্ত বাংলাদেশে -- সেখানে কোন পাত্রপাত্রী ইসলামের বাহ্যিক চর্চা পর্যন্ত দেখানো হয় না।

    যাই হোক -- আরেকটা প্রশ্ন:

    “মুসলিমদের আরো বুঝা দরকার যে, সারা বিশ্বের লোকদেরকে মুসলিম বানানো ইসলামের লক্ষ্য নয়। ইসলামের লক্ষ্য সারা বিশ্বে এক অদ্বৈত শাসন প্রতিষ্ঠার। কারণ ইসলাম বিশ্বাস করে সারা পৃথিবীতে এক একক অদ্বৈত শাসনের অধীনে না আসা পর্যন্ত পৃথিবীতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবেনা।”

    -- এই্ অদ্বৈত শাসনের থিয়োরীর ভিত্তিটা কি? কোন দলিলের ভিত্তিতে “স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্টার” এই থিয়োরী উপস্থাপন করলেন -- তা যদি একটা আলোচনা করতেন। স্থায়ী শান্তি বলতে কি বুঝাচ্ছে? কোন দলিলে স্থায়ী শান্তির কথা বলা আছে যদি একটু আলোকপাত করেন -- তা হলে সন্দেহ দুর হয়।

    ধন্যবাদ।

  11. 8
    আবদুল আউয়াল

    আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন কে সবচেয়ে ভাল কাজ করে। (মূলকঃ ২)

    আল্লাহপাক চান আমরা বেশি বেশি ভাল কাজ করি। এক হাদীসে রাসূল ﷺ বলেছেন, সবচেয়ে ভাল কাজ হল ওয়াক্তমত সালাত আদায় করা। (আবু দাউদ- ৪২৬)

    সর্বোত্তম আমল সম্পর্কে রাসূল ﷺ অন্য হাদীসে বলেছেন, তুমি লোকদের পানাহার করাবে এবং সালাম দিবে, তোমার পরিচিত কিংবা অপরিচিত যেই হোক না কেন। (মুসলিম ইফা- ৬৭)

    এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল সর্বোত্তম মুসলিম কে? রাসূল ﷺ বললেনঃ সেই ব্যক্তি যার মুখ ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে। (মুসলিম ইফাঃ ৬৮)

    রাসূল (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না যতক্ষন না ঈমান আনবে আর তোমরা ঈমানদ্বার হতে পারবে না যতক্ষন না একে অন্যকে ভালবাসবে। আমি কি তোমাদের তা বাতলে দেব যা করলে তোমাদের পারস্পরিক ভালবাসা সৃষ্টি হবে? তা হল, তোমরা পরস্পর বেশি সালাম বিনিময় করবে। (মুসলিম ইফা- ১০০)

    আর আমরা আল্লাহর কাছে চাই জান্নাত।

    আল্লাহতা’লা বলেছেন, “যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে তারাই জান্নাতে যাবে।” (বাক্বারাঃ ৮২)

    আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, এক বেদুইন রাসূল ( ﷺ) এর কাছে এসে আরয করল, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমাকে এমন আমল বলে দিন যা করলে আমি জান্নাতে দাখিল হতে পারব। তিনি বললেন, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করবে, আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামায আদায় করবে, ফরজ যাকাত আদায় করবে, রমজান মাসে রোজা রাখবে। সেই ব্যক্তি বলল, আল্লাহর কসম করে বলছি, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, আমি এর উপর কখনো কিছু বাড়াব না এবং তা থেকে কমও করব না।
    লোকটি একথা বলে চলে যাচ্ছে, নবী (ﷺ) বললেন, কেউ যদি জান্নাতি লোককে দেখতে ইচ্ছা করে তাহলে এ লোকটিকে দেখে নিক। (মুসলিম ইফা- ১৫)

    দ্বীন ইসলাম খুবই সহজ। অজ্ঞতার কারণে মুসলিমরা এই সহজ দ্বীনকে কঠিন করে ফেলেছে।

  12. 7
    আবদুল আউয়াল

    @আসাদ আলি, মুনিম ভাই কোন দলের নাম নেন নি, তাই সমস্যা হয়নি। এ কথাগুলো বলার পর আপনি হেযবুত তাওহীদের দিকে সবাইকে দাওয়াত দিতেন, সেটাই সমস্যা। যতদিন নিরপেক্ষভাবে লিখেছেন কেউ বিরুধীতা করেনি, হেযবুত তাওহীদের নাম নেওয়ার পরই সবাই বিরুধীতা করছে। আপনার লেখা পড়ে মেধাবী বলে মনে হয়, কিন্তু এরকম একটা গোমরাহ দলের খপ্পরে কিভাবে পড়লেন সেটাই বুঝতে পারছি না!

    দলাদলি করা ঠিক নয়। আল্লাহতা’লা বলেন, “নিশ্চয়ই যারা নিজেদের ধর্মকে পৃথক পৃথক করে ফেলেছে এবং দলে দলে বিভক্ত হয়েছে তাদের সাথে আপনার কোন সম্পর্ক নেই।” (আনআমঃ ১৫৯)

  13. 6
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    মুনিম ভাই, আসলে যেটা ঘটেছে তা হচ্ছে আমি মন্তব্য করার সময় আপনার লেখা থেকে যে কয় লাইন কোট করেছি সেটাকে মজলুম ভাই আমার নিজের লেখা মনে করেছেন। হয়ত তিনি আপনার পুরো লেখাটি পড়েন নি। পড়লে আপনাকে সম্বোধন করেই মতামত জানাতেন।

    আপনার এই পোস্টের সাথে মোটামুটি আমি একমত। তবে এই পোস্টের বেশ কিছু বাক্য আছে, শব্দ আছে, যেগুলো আপনি লিখেছেন বলে সবাই স্বাভাবিকভাবে নিচ্ছে ও নিবে। কিন্তু এই বাক্যগুলোই যদি আমি ব্যবহার করতাম তাহলেই সেটা নিয়ে ‍চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হত, বিবর্ধক কাঁচ দিয়ে তার অন্তনির্হিত সত্যতা পরীক্ষা করে দেখা হত।

  14. 5
    মুনিম সিদ্দিকী

    @মুনিম সিদ্দিকী: ভাই মজলুম এই ব্লগ আমার এই ব্লগে কিছু ভুল হলে তা আমাকে এড্রেস করে বলা কি উচিত ছিলোনা? না আপনি মনে করছেন যে আমিই আসাদ আলী? ধন্যবাদ।

  15. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    শ্রদ্ধেয় সদালাপের বিজ্ঞ বন্ধুরা, এই লেখাটি আমার ফেসবুকের নোট ছিলো, শুধুমাত্র আর্কাইভ করতে এখানে পোষ্ট করেছি। আমি কোন পক্ষ নিয়ে এই নোট এখানে পোস্ট করিনি। আশাকরি আমার এই পোষ্ট নিয়ে সন্দেহ পোষণ করবেননা। আমার বক্তব্য যদি বেঠিক হয় তাহলে গঠণ মুলক ভাবে ভুল ধরিয়ে দিন। আমি আমার লেখা সংশোধন করে নিব ইনশাল্লাহ।

  16. 3
    মুনিম সিদ্দিকী

    @মজলুম: @ ভাই মজলুম বাক্যটি সংশোধণ করা হয়েছে। (((((আজকের বিশ্বের মুসলিমদের মধ্যে কিছু মুসলিম নামাজ রোজা হজ আর জাকাতকে আকড়ে ধরে থাকলেও অন্যান্যদিকে তারা প্রকৃত ইসলামের নীতিমালা থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে, আর বেশির ভাগ মুসলিম তো তা পালন করেনা।))))) ধন্যবাদ।

  17. 2
    মজলুম

    @মোহাম্মদ আসাদ আলী: আপনি বরাবরই ভুল তথ্য নিয়ে হাজির হন আপনাদের দলের ফিরকাবাজি জায়েজ করতে। বাংলাদেশের মুসলিমদের মধ্যে কতো ভাগ ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে? ১০% এর মত হবে এভারেজ। ফজরের নামাজের সময়তো মসজিদে লোকই হয়না, ইমাম আর মোয়াজ্জেন সহ কয়েকজন বুড়ো লোক মিলে ফজরের নামাজ পড়ে। রোজার মাসে নামাজীর সংখ্যা বাড়লেও ঈদের দিন হতে শেষ। আর অনেকে রোজা রাখে কিন্তু নামাজ পড়েনা। এবার আসেন যাকাতের ব্যাপারে। যাকাত দেওয়ার উপযুক্ত মুসলিমদের মধ্যে ৫% ও যাকাত দেয়না। হয়তো অনেকেই দান সদকা করে, কিন্তু যাকাতের হিসেব করে সম্পদের ২.৫% দেয়না। তাই ওটাতে যাাকাত আদায় হয়না। এই হিসেবটা একটু কমবেশী হবে অন্যান্য মুসলিমদেশগুলোতেও। যারা ইসলামের মূল ভিত্তিই পালন করেনা এস এ হোল, তারা অন্য ইসলামী আদেশ পালন করবে কিভাবে।

    বাই দ্যা ওয়ে, আপনি শামস ভাই, নজরুল ভাই আর আহমেদ ভাইয়ের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন না কেনো? আর জবাব না দিতে পারলে তওবা করে ফেরকাবাজি হতে বেরিয়ে আসুন।

  18. 1
    মোহাম্মদ আসাদ আলী

    আজকের বিশ্বের মুসলিমরা নামাজ রোজা হজ আর জাকাতকে আকড়ে ধরে থাকলেও অন্যান্যদিকে তারা প্রকৃত ইসলামের নীতি মালা থেকে অনেক দূরে সরে এসেছে, যার কারণে বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা অমুসলিমদের হাতে নির্জাতিত হচ্ছে, আল্লাহর আদেশ অমান্য করার কারণেই আজ আল্লাহ মুসলিমদের সাহায্যে এগিয়ে আসছেন না।

    সহমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published.