«

»

Feb ০৫

মুসলিমরা কি অমুসলিমদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে পারেনা?

ইসলামের প্রসারের শুরু থেকে ইসলাম বিরোধীরা, ইসলাম বা মুসলিমদেরকে ‘হেট মঙ্গার’ জাতি বলে প্রচার করছে! বলা হচ্ছে যে, মুসলিমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি মনে-প্রাণে ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করে। এর জন্য নাকি আল-কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে, যা একজন মুসলিমকে অবশ্যই পালন করতে হবে! আর তাদের অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে তারা যে সকল আয়াত তুলে ধরেন সেগুলোর মধ্যে সূরা আল-মায়েদার ৫:৫১ আয়াত উল্লেখযোগ্য (যে ভাবে বর্তমানে বাংলায় অনুবাদ আছে)-

হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদের বন্ধু এবং অভিভাবক রূপে গ্রহণ করো না। তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু এবং অভিভাবক। এবং তোমাদের মধ্যে যে কেহ তাদের [বন্ধু এবং অভিভাবক রূপে] গ্রহণ করবে, সে তাদেরই একজন হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অন্যায়কারীকে [সুপথে] পরিচালিত করেন না। (কোরআন ৫:৫১)

উপরের আয়াত ইংরেজ অনুবাদকগণ friend শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। এবং বাংলা  অনুবাদকগণও friend শব্দটি বাংলা প্রতিশব্দ 'বন্ধু' শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। আর কেউ কেউ মূল আরবি শব্দটির মানে যে নিছক বন্ধু নয় তা বুঝতে পেরে 'অভিভাবক' শব্দ ব্যবহার করে থাকেন। তবে যেহেতু নিন্দা রটনাকারীরা আসল শব্দ ব্যবহার করলে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হবেনা তাই  আরবি শব্দের অনেক গুলো প্রতিশব্দের মধ্যে যে প্রতিশব্দ দিয়ে তাদের উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় সেই প্রতিশব্দ ব্যবহার করে যান। এই আয়াতের বেলাও সঠিক context প্রকাশ কারক প্রতিশব্দটি ব্যবহার না করে বিভ্রান্ত সৃষ্টির জন্য friend /বন্ধু শব্দটি আকছার ব্যবহার করেই থাকেন! আর যেহেতু আমাদের মাতৃভাষা আরবি না হওয়ার কারণে আমাদের অনেক আরবি ভাষা জ্ঞান সম্পন্ন বিজ্ঞ ব্যক্তিও এই বিভ্রান্ত সৃষ্টিকারী প্রতিশব্দ গুলো অবলীলায় ব্যবহার করে আসছেন। পৃথিবীর প্রতিটি ভাষাতে কিছু কিছু শব্দ আছে যা বানান এক হলেও প্রয়োগের ভিন্নতায় ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে থাকে। আবার কিছু শব্দ আছে যা অন্য ভাষায় তার প্রতিশব্দ পাওয়া যায় না। বাংলায় যেমন-নেংটি,লেংটি,প্যাচকুন্দা ইত্যাদি, এই শব্দটির প্রতি শব্দ আরবি কিংবা ইংরেজিতে পাওয়া যায় না। তেমনি ইংরেজি টেবিল, চেয়ার যার প্রতিশব্দ থাকলেও তা হু বহু ভাবে প্রকাশ করতে অক্ষম। আমাদের আলোচ্য শব্দটি  কোরআনে 'আউলিয়া শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, কিন্তু সাদিক শব্দটি ব্যবহার করা হয় নাই ।' সাধারণতঃ সবাই জানেন যে- আরবিতে ‘বন্ধু’ শব্দের সরল প্রতিশব্দ হল ‘সাদিক’,  পুরুষ বন্ধু : sadeek /sədi:k/ صديق or saheb /sɑ:heb/  صاحب

নারী বন্ধু : sadeeka /sədi:ka/ صديقة or saheba /sɑ:həbə/ صاحبة

উপরের আয়াতটি গভীরভাবে খেয়াল করুন, আল্লাহ পাক কোরআনের এই নির্দিষ্ট আয়াতগুলোতে ‘সাদিক’ ব্যবহার না করে ‘আউলিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। কিন্তু সাদিককে 'সাদিক' না বলে 'আউলিয়া' শব্দটি ব্যবহার করা হল কেন? [দেখুন]

এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আমাদের ‘আউলিয়া’ শব্দটির অর্থ জানতে হবে। আরবি ‘অলি’  শব্দটি বহুবচনে ‘আউলিয়া’ হয়েছে। তাহলে দেখি ‘অলি’ শব্দটি দিয়ে কি বুঝায়? আমাদের দেশে যারা একসময় ধর্ম প্রচার করতে এদেশে এসেছিলেন তাদেরকে প্রচলিত ভাষায় পীর,দরবেশ,আউলিয়া বা অলি বলে থাকি কিন্তু তাদের কেন অলি বা আউলিয়া বলা হয় সেটি ভিন্ন প্রসঙ্গ বিধায় এখানে আলোচনা করছিনা।  আবার আমাদের দেশে বিয়ে-সাদির আক্দ পড়ানোর সময় বর বা কনে পক্ষের ২ জন মুরুব্বিকে অলি নিযুক্ত করতে হয়, যাদের তত্ত্বাবধানে আক্দ সম্পাদন করা হয়। তিনি বাবা, চাচা, মামা, ভাই বা অন্য কেউ হতে পারেন। ‘অলি’ মানে ‘অভিভাবক’ বা ‘তত্ত্বাবধায়ক’ কাউকে বুঝানো হয়। অলি’র বহুবচন আউলিয়া- মানে অভিভাবকগণ বা তত্ত্বাবধায়কগণ।

 এই আয়াতের নাজিলের প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখে বিবেচনা করলে যে কেউ বুঝতে পারবে এই আয়াতে 'আউলিয়া' শব্দ দ্বারা 'নিরাপত্তা দানকারী' বোঝাচ্ছে। গোত্র ভিত্তিক আরবে তখন গোত্রীয় রীতি নীতিতে এই রকম প্রথা ছিল যে-গোত্রের চরম শত্রুকে যদি তাদের গোত্রের কোন ব্যক্তি জীবন রক্ষার নিরাপত্তা দান করত তাহলে ঐ গোত্রের কেউ ই সেই শত্রুকে হত্যা বা অত্যাচার করতে পারতোনা।

যেমন রাসুল সাঃ  ইসলাম প্রচার শুরু করার পর উনার বিরুদ্ধে গোটা মক্কার মুশরিকরা শত্রুতা পোষণ করতে থাকে, কিন্তু উনাকে উনার আপন চাচা কুরাইশ নেতা আবু তালিব নিরাপত্তা দিয়ে উনার অলি হয়েছিলেন যার কারণে মক্কার কাফিরগণ রাসুল সাঃএর কোন ক্ষতি করতে পারে নাই।

 আউলিয়া শব্দের  ৪টি শব্দের প্রতিশব্দ পাওয়া যায়, যেমন- মিত্র (allies), বন্ধু (friend), অভিভাবক (guardian) ও নিরাপত্তা দানকারী (protectors)। এবং অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই চারটি প্রতিশব্দের যে কোন একটি বা একত্রে চারটি প্রতিশব্দকে প্রয়োগ করা যাবে।

এবার আল-কোরআনের সূরা মুমতাহিনার ১৩ নং আয়াত দেখা যাক-

হে বিশ্বাসীগণ! যে সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহ্‌ রুষ্ট হয়েছেন, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। ইতিমধ্যে তারা পরলোক সম্বন্ধে নিরাশ হয়েছে, যেমন নিরাশ হয়েছে অবিশ্বাসীরা কবরস্থদের বিষয়ে। (কোরআন ৬০:১৩)

এখানে দেখুন আল্লাহ বলছেন- লা তাতাওয়াল্লু (তাতাওয়াল্লু শব্দটি এসেছে আউলিয়া থেকে) কাওমান (কওম)। আল্লাহ এখানে স্পষ্ট করে শুধু সম্প্রদায়ের সাথে মিত্রতা না করতে বলছেন, কিন্তু এখানে ব্যক্তিগতভাবে কোন ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির সামাজিক বন্ধুত্বের ব্যাপারে কিছু নির্দেশ দেন নাই। এক সম্প্রদায় আরেক সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব শব্দ নয় মিত্রতা শব্দটির ব্যবহার  অধিক গ্রহণ যোগ্য হবে। [দেখুন]

আমি মনে করি সর্ব ক্ষেত্রে ইংরেজি বা বাংলা অনুবাদ আমাদের রেফারেন্স হতে পারেনা, তাই অনুবাদ যদি মূল প্রেক্ষাপটকে যথার্থ ভাবে প্রকাশ করতে না পারে তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই মূল আরবি শব্দটিকে গ্রহণ করতে হবে। এক ভাষা থেকে অন্য ভাষার সঠিক রূপান্তর করা সম্ভব না হওয়া জন্য বিশেষ করে কোরানিক আরবি সাহিত্যের ক্ষেত্রে ইসলামি বিশেষজ্ঞরা সব সময় অনুবাদের সাথে মূল আরবিকে মিলিয়ে দেখার উপদেশ দিয়ে আসছেন। এজন্য আমি মনে করি উপরোক্ত আয়াতে মিত্র/ নিরাপত্তা দানকারী প্রতিশব্দ ব্যবহার করা হলে সঠিক হবে, যা ইংরেজিতে Allies/ Protectors বুঝায়।

অতএব, উপরোক্ত দুটি আয়াত থেকে দেখা যায় যে, এখানে আরবিতে আউলিয়া = অভিভাবক/নিরাপত্তা দানকারী হিসাবে দেখানো হয়েছে (৫:৫১) এবং এই নির্দেশ নিছক ব্যক্তি পর্যায়ে নয়, এটি দেওয়া হয়েছে গোত্র গতভাবে (৬০:১৩)। তাই স্বাভাবিকভাবে আরবিতে বন্ধু বলতে যে শব্দ (সাদিক) ব্যবহার করা হয়, উপরোক্ত দুটি আয়াতের একটিতেও তা ব্যবহার করা হয়নি!

এবার দেখা যাক ৫:৫১ আয়াতটি কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে- অর্থাৎ কখন, কোথায় এবং কি প্রয়োজনে নাজিল হয়েছিল। আপনারা জানেন- ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে- মদিনা উপত্যকায় বসবাসকারী প্রভাবশালী দুই গোত্র বানু আওস ও বানু খাযরাজ এক দীর্ঘ স্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, সে যুদ্ধ ১২০ বছর ধরে চলে ৬১৭ খৃঃ বোথা যুদ্ধের মাধ্যমে কোনরূপ আপাততঃ বিরতি নিয়েছিল। সেই যুদ্ধের ফলাফল গোটা মদিনা উপত্যকা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল।

 সে যুদ্ধে একদিকে ইহুদি গোত্র বানু নাদর,  বানু কুরাইযা ও বেদুঈন গোত্র মুযাইনা বানু আওসদের পক্ষে অন্য দিকে ইহুদি গোত্র বানু কাইনুকা ও বেদুঈন  জুহাইনা,আশজা গোত্র বানু খাযরাজদের পক্ষে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। মোট কথা সে যুদ্ধের ফলে গোটা মদিনা উপত্যকার জনজীবনে দীর্ঘ স্থায়ী অশান্তি বিরাজ করছিল, তদুপরি বোথা যুদ্ধে দুই পক্ষের প্রধান নেতা নিহত হওয়ায় গোত্রদ্বয় নেতৃত্বহীন হয়ে গোটা অঞ্চল এক অরাজক অবস্থায় পতিত হয়।

মদিনার ইহুদিরা তারা তাদের ব্যবসায়ীক স্বার্থে এই ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত জিয়ে রাখে, যাতে  তাদের মদের ব্যবসা সূদের ব্যবসাও অস্ত্রের ব্যবসা রমরমা ভাবে চলতে পারে। এর ফলে মদিনার আরবরা যুদ্ধের খরচ চালাতে সুদ কারবারির কাছে নিজেদের সহায় সম্পদ হারাতে হারাতে মদের নেশায় বুঁদ পড়ে থাকে। তখন তাদের মধ্যে নেতৃস্থানীয় জ্ঞানী লোকজন গোত্র থেকে গোত্রের হানাহানি জনিত এই অস্বাভাবিক অবস্থা থেকে মুক্তি জন্য দল গোত্র নিরপেক্ষ মুক্তির দিশারীকে খুঁজতে থাকে।

আর এই যুগ সন্ধিক্ষণে অন্যদিকে  রাসুল সাঃ তৌহিদের আমন্ত্রণ মক্কাবাসীদেরকে দিয়ে চলছিলেন। তখন  মদিনার কিছু লোক হজ উপলক্ষে মক্কায় আসে, সে সময় তাদের সহিত রাসুল সাঃ সাক্ষাৎ ঘটে, তারা রাসুল সাঃএর দাওয়াত গ্রহণ করে, পরের বছর আবার এক বৃহত্তর দল মদিনা থেকে মক্কায় এসে রাসুল সাঃ আনুগত্যতা স্বীকার করে, উনাকে সদল বলে মদিনায় গিয়ে তাদেরকে নেতৃত্ব দেবার আমন্ত্রণ জানায়।

ঠিক ঐ সময়ে তারা রাসুল সাঃকে মদিনায় যাবার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল যখন মক্কাতে শান্তিপূর্ণ ভাবে ইসলাম প্রচার করা যাচ্ছিলোনা। যারা নতুন ধর্ম গ্রহণ করেছিল তাদের প্রতি মক্কার মুশরিক কুরাইশরা অমানবিক ভাবে অত্যাচার অবিচার করে চলছিল। নও মুসলিমদের বাধ্য করা হচ্ছিল হয় তারা নতুন ধর্ম ত্যাগ করবে নতুবা মরবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে তারা রাসুল সাঃ কে হত্যা করে ধরা থেকে  সদ্য ভূমিষ্ঠ ইসলাম নির্মূল করার সিদ্ধান্তও নিয়ে তা কার্যকর করতে লোক পাঠিয়েছিল।

সেই পরিস্থিতি মক্কার মুসলিমদেরকে তাদের সহায়, সম্পদ, ভিটেমাটি ফেলে জন্মভূমি থেকে দেশান্তরী হতে হয়েছিল। সেই দেশান্তরী মানুষদের তখন মদিনাবাসী আওস ও খাযরাজ গোত্র মদিনাতে আশ্রয় দিয়েছিল এবং নিরাপত্তা দিয়েছিল।

 মুসলিমরা মদিনায় আশ্রয় নেবার সাথে সাথে ঐ নগরীর ৮টি প্রধান গোত্র ও মক্কা থেকে আগত মুসলিম মিলে কনফেডারেশন গড়ে তোলা হয়। এই কনফেডারেশনের সংবিধান হিসাবে  জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের সহিত ২০ ধারার একটি শান্তিচুক্তি প্রণয়ন করা হয়েছিল। প্রধান ধারাটি ছিল মদিনা কনফেডারেশনের সকল গোত্র,বংশ ধর্ম তথা আরব, বেদুঈন,ইহুদি খৃষ্টান,মুশরিক মিলে নতুন চুক্তির বলে এখন থেকে একক উম্মাহ লোক হিসাবে পরিগণিত হবে এবং এই উম্মাহ ভিতরে কোন প্রকার গোত্রীয়/ধর্মীয় হানাহানিই চলবেনা।   উম্মাহর  ঐ চুক্তিতে এই মর্মেও শর্ত ছিল যে- এই কনফেডারেশন ভুক্ত যে কোন গোত্র ও ধর্মীয় গোষ্ঠী যদি বহিরাগত শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়, তাহলে সবাই মিলে তা প্রতিহত করতে হবে। এবং এই ফেডারেশনের অধীনের কেউ কখনো চুক্তি ভুক্ত গোত্রের কোন দুশমনদেরকে সাহায্য করতে পারবেনা। চুক্তি ভুক্ত গোত্রগণ একে অপরের সহিত যুদ্ধও করতে পারবেনা। এবং নিজদের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে রাসুল সাঃ সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে মান্য করতে হবে।

 ইহুদীদের মধ্যে বানু কাইনুকাইরাই প্রথম মুসলিমদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে যুদ্ধ বাধিয়েছিল। ইসলাম-পূর্ব সময় থেকে মদিনার খাযরাজ গোত্রের সাথে এই ইহুদী বানু কাইনুকাদের মৈত্রীতা ছিল।তারা পরস্পর পরস্পরের (protectors) ছিল। তাই ঐ মিত্রতার শর্ত ছিল- কাইনুকাইরা আক্রান্ত হলে তাদের মিত্ররাও এদের রক্ষা করতে এগিয়ে যেতে হবে। যেহেতু রাসুল সাঃ নেতৃত্বে ইসলাম গ্রহণের ফলে মদিনার সকল মুশরিক গোত্র এক উম্মাহতে অঙ্গীভূত হয়ে যাওয়ার কারণে তাদের পূর্বকৃত মিত্রতা অকার্যকর হয়ে গেলেও যখন মুসলিমদের সাথে বানু কাইনুকাদের যুদ্ধ বেঁধে যায় তখন কিছু খাযরাজদের মধ্যে পূর্বের মিত্রতা জনিত দুর্বলতা প্রকাশ পায়। আর এই অবস্থায় আল-কোরআনের এই আয়াত দিয়ে আল্লাহ উম্মাহর কি করতে হবে তার স্পষ্ট নির্দেশ বলে দিয়েছিলেন। কাজেই আমার দৃষ্টিকোণ থেকে এই আয়াত নাজিলের প্রেক্ষাপটে একটি অনুবাদ এভাবে হতে পারে-

হে মুমিনগণ! তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে তোমাদের মিত্র করনা এবং তাদের নিরাপত্তা প্রদানকারী (Protectors) হবে না। তারা পরস্পর পরস্পরের মিত্র এবং নিরাপত্তা প্রদানকারী। এবং তোমাদের মধ্যে যে কেহ তাদেরকে নিরাপত্তা প্রদান করিবে সে তাদেরই একজন হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ অন্যায়কারীকে পরিচালিত করেন না।

এন্টি মুসলিমরা ইসলামকে হেয় করার উদ্দেশ্য পূর্ণ হয় এমন অনুবাদিত আয়াত পেলে তৎক্ষণাৎ তুলে নিয়ে আসেন। আর দিকে দিকে প্রচার করতে লেগে পড়েন। তাদের প্রতি আমার প্রশ্ন-একটি ইংরেজি কবিতাকে  খুব সহজে ডিকশনারি গেটে বাংলায় অনুবাদ করা গেলে সেটি কি ১০০ভাগ আসল ইংরেজি কবিতার ভাব লক্ষ্য প্রকাশ করতে পারবে! নিশ্চয় না! অনুবাদ কর্মটি খুব জটিল! এজন্য অনুবাদকারীকে ইংরেজি ভাষায় ইংরেজদের মত করে বুঝার ক্ষমতা থাকতে হবে। ইংরেজিতে শতকরা একশতে একশত নাম্বার পেতে হবে নতুবা কবিতাটি কবিতা না হয়ে ফুলকপি বাঁধাকপি ধরণের কবিতায় পর্যবেশিত হবে।

আল-কোরআনের বেলা অনুবাদ কর্মটি আরও জটিল, কারণ আল কোরআনের ভাষা, ভাষার অলংকরণ, বাক্য প্রয়োগের ধারা ইত্যাদি সমকালীন আরবি সাহিত্যের নয়। এটি ১৫শত বছর আগের কোরেশী আরবি ভাষা বিন্যাস, সে সময়ের মানুষের বুঝার উপযোগী বাক্য প্রয়োগ, অলংকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল। কাজেই একজন অনুবাদকে শুধু আরবিতে পারদর্শী হলেই হবেনা ১৫ শত বছর আগের কুরাইশী আরবি সাহিত্যে প্রচুর দখল রাখতে হবে।

আল-কোরআনের কোন এক আয়াত পড়েই কেউ তাৎক্ষণিক ভাবে তাসলিমা নাসরীনদের মত সিদ্ধান্ত আসা বেকুবি হবে।  আল-কোরানের সব আয়াত গুলোর কোন একক প্রেক্ষাপটে নাজিল হয় নাই বা মুসা নবী আঃ কাছে তৌরাত যে ভাবে নাজিল হয়েছিল সে ভাবে একবারে তা নাজিল হয় নাই। আল কোরআন দীর্ঘ ২৩ বছরে অল্প অল্প করে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিল। তাই প্রাথমিক দিকের নাজিল কৃত অনেক আয়াত ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের প্রেক্ষাপটে তাই শেষের দিকে এসে অনেক আয়াত পরিবর্ধন হয়ে নতুন আয়াত দ্বারা পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল। তাই কোন এক আয়াত পড়েই আহা পাইছিরে বলে ঝাপ দেবার আগে এই বিষয়ে অন্য আয়াত গুলোও পড়ে নেয়া উচিত!

 কোরানিক সুনান হল- কোন এক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার আগে আল কোরআনের একাধিক আয়াতকে সামনে এনে বিচার বিশ্লেষণ করে তবেই সিদ্ধান্তে আসতে হয়। তবে খুব গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করা উচিত যে- কোরানিক ঐতিহাসিক সেই প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করলে মূল অর্থ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।  কিন্তু এই অজ্ঞতাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেবার পরও একে নিয়ে চর্বিত-চর্বণ কপটতার শামিল। দুঃখজনক হলো এই চর্চা জণ্ডিস খানরা ব্লগগুলোতে আজকাল অনেকে করে চলছেন!!!

 একজন সঠিক মুসলিম জানেন যে- একজন অমুসলিমদের প্রতি একজন মুসলিমের সম্পর্ক কেমন হবে, তার স্পষ্ট দিক-নির্দেশনা আল্লাহ পাক আল-কোরআনে দিয়ে রেখেছেন! বাস্তব সত্য হচ্ছে যে- নানাবিধ প্রতিকূলতার জন্য পৃথিবীর প্রতিটি ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির, সম্প্রদায়ের সাথে সম্প্রদায়ের, রাষ্ট্রের সাথে রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেনা। কিন্তু তার মানে এই নয় যে- বন্ধুত্ব নেই বলে তারা পরস্পরের দুশমন হয়ে যায়। বন্ধুত্ব অনেক প্রকার হতে পারে। ব্যক্তিক, সামাজিক, ব্যবসায়িক, পেশাভিত্তিক, রাষ্ট্রিক ও আন্তর্জাতিক। তবে যদি ধরে নেয়া হয় যে- এই আয়াত দ্বারা ব্যক্তি সহিত ব্যক্তির বন্ধুত্বকে নিষেধ করা হয়েছে, তবে সেই নিষেধ হবে আত্মিক বন্ধুত্বতা করার উপর, আর আত্মিক বন্ধুত্বের জন্য অবশ্য বেশ কিছু শর্ত পূরণ হবার দাবি রাখে।

ব্যক্তি, সম্প্রদায়, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব বজায় সম্পর্কে আল-কোরআনে আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে- যে সব অমুসলিম, ব্যক্তি, সম্প্রদায়, রাষ্ট্র, ও আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করবে, আমরা যেন তাদের সাথেও ভাল ব্যবহার করি। যারা জানেন না- তাদের জানার জন্য আমি এখানে তার উল্লেখ করছি। উপরের বহুল আলোচিত আয়াতের কিছু পরের আয়াত নং ৫৭-৫৮ তে আল্লাহ পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন, কাদের সাথে এক জন মুসলিম বন্ধুত্ব করতে পারবে বা পারবেনা-

হে মুমিনগণ, আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর যখন তোমরা নামাযের জন্যে আহবান কর, তখন তারা একে উপহাস ও খেলা বলে মনে করে। কারণ, তারা নিবোর্ধ। (৫:৫৭-৫৮)

উপরের আয়াতের আলোকে যদি দেখি তাহলে শুধু ইহুদি নাসারা নয়, যারা যেখানেই হোক এমনকি এই ব্লগেও আমার ধর্মকে উপহাস করে, আমাদের রাসুল সাঃ কে নিয়ে খারাপ উক্তি করে, আমাদের বিশ্বাসকে ভ্রান্ত বলে, আর সে যদি মুসলিম মা-বাবা'র সন্তানও হয়ে থাকে কিংবা আমার আপন ভাই হয়ে থাকে তার সাথেও আমাদের আত্মিক সম্পর্কযুক্ত বন্ধুত্ব হতে পারেনা।

আর যদি কোন ইহুদি-নাসারা কিংবা নাস্তিক যিনি আমার ধর্ম, আমার বিশ্বাস, আমার রাসুল সাঃ, আমার কিতাব নিয়ে নীরব থাকেন, কোন ধরণের নেগেটিভ আচরণ না করেন, তাহলে আত্মিক না হলেও সামাজিক বন্ধুত্ব করতে আপত্তি থাকার কথা নয়। এই নীতি ব্যক্তিক, সামাজিক, রাষ্ট্রিক ও আন্তর্জাতিক সকল ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

সূরা আল-মুমতাহিনার ৯ নং আয়াতে আল্লাহ নিষেধ করেন-

আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত করেছে এবং বহিস্কার কার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম। (৬০:৯)

আবার একই সূরার ৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন কাদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা যাবে-

ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন। (৬০:৮)

উপরোক্ত আয়াত দ্বারা- পানি থেকে তেল যেমন আলাদা হয়ে থাকে, তেমনি অমুসলিমদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা আর না রাখার নির্দেশ স্পষ্ট হয়ে গেছে। একজন স্বল্প জ্ঞানী লোকও বুঝতে পারবেন যে- এই আয়াত দ্বারা আল্লাহ ইহুদি খ্রিষ্টানদের মধ্যে এক ক্ষুদ্র মানব গোষ্ঠীকে বোঝাচ্ছেন যারা মুসলিমদের সাথে সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। এখনও পৃথিবীতে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বেধে গেলে স্বদেশী সদস্য কেউই তখন আক্রমণকারীদের সাথে মিত্রতা রাখতে পারবেনা, কেউ যদি করে বসে তাকে সবাই মীরজাফর বলে ঘৃণা করবে, এবং রাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে শাস্তি দিতে দ্বিধা করবেনা।

-আমি আবারও বলছি ৫.৫১ কোরআনের  আয়াত দিয়ে কোনভাবেই পৃথিবীর যে কোন মতবাদে বিশ্বাসী ভাল, সভ্য ও শান্তিকামী মানুষদের বুঝানো হয়নি।

১১৬ comments

Skip to comment form

  1. 37
    Mujibur Rahman

    After a long time very incidentally I found  ur blog who share it with me,but I am astonished to see ur capacity to explain Quranic verse & today I understood this verse & its reality.On behalf of whole muslim community I pray for u & request u to continue ur khedmot for Islam.

    1. 37.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  2. 36
    Tafsirul Alam

    খুব ভালো লিখেছেন। অনেক ধন্যবাদ। বিশেষ করে এই লেখার শেষ দিকে যে দু'টো আয়াত উল্লেখ করেছেন তা খুব ভালো লেগেছে। তবে, 'তৌহিদ'এর চেয়ে 'তাওহীদ' লিখলেই ভালো হতো।

    1. 36.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়া এবং পরামর্শের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার বাকি লেখা গুলো পড়ে আপনার অভিমত জানালে খুশী হব।

  3. 35
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    মুনিম ভাই, আমিতো লেখতেই চাই কিন্তু আমার লেখার অধিকার কেড়ে নিছেন সম্পাদক! এখন উনি যদি ব্লক করে রাখেন তো কিভাবে লেখব? এটা একধরণের স্বৈরাচারী আচরণ! জিয়া সাহেব আলীগের প্রতি অন্ধভক্ত স্বরুপ বিএনপিকে একহাত নিবেন কিন্তু আমি লিখলে বৈষম্যের শিকার। কি করব বলেন? সদালাপকে অনেক ভালবাসি সেটার মূল্যায়ন হল না।
    তার উপর উনি বলেছেন লেখা ই-মেইলে পাঠালে এডিট করে ছাপাবেন। তাই এমনই একটি লেখা পাঠিয়েছি(ছবি ব্যাতীত);
    http://www.somewhereinblog.net/blog/Bangladesh_Zindabad/29538258
    কিন্তু এই লেখা ছাপানোতো দূর উনি এখন পর্যন্ত ই-মেইলের জবাব দেন নি!

    1. 35.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আসলে বিষয়টি এই ভাবে ভাববেন  না। আমিও আমার আগের লেখাটি নিয়ে হতাশায় পড়েছিলাম। লেখা পাঠিয়ে অনেক অপেক্ষা করে দেখি যে লেখা আর পোস্ট হয় না। আমাকে অনেক আগে সদালাপের একজন সম্মানিত সদস্য জানিয়েছিলেন যে , আমান ভাই আমাকে সদালাপে লিখতে আহ্বান জানিয়েছেন। সেই আমি যখন সদালাপে আসলাম ,  লিখা দিলাম কিন্তু তার কোন সাড়া পাচ্ছিলাম  না তখন হতাশ হয়ে  গিয়েছিলাম।  পরে দেখি আমাকে  সরাসরি  পোস্ট করার অধিকার দেয়া হয়েছে। 
      উপরের ঘটনা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য যে আপনি যা বলছেন সেটি সত্য না হতে পারে।  আমি যা বুঝেছি যে, আমান ভাই সদালাপের জন্য টাইম দিতে পারছেন না। সে কারণে হয় তো এমন হচ্ছে।
      এই বিষয়ে আমান ভাইকে বলব তিনি যেন মডারেশন করার জন্য অন্য একাধিক ব্যাক্তিকে দায়ীত্ব দেন। তাহলেই সাদালাপ আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
      তবে দয়াকরে ব্যক্তিকে নয়  বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
      ধন্যবাদ।

  4. 34
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    মুনিম ভাই সদালাপে আপনেকে লেখতে দেখ খুব ভাল লাগল। অনেক দিনের আশা ছিল সদালাপে আপনার লেখা দেখতে পাব। আশা করি ইনশাল্লাহ এখানে নিয়মিত লিখবেন। ধন্যবাদ।

    1. 34.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।
      আপনি আসুন এখানে নিয়মিত লেখুন। আলোচনায় অংশ নিন। সদালাপ যেন সদা প্রাণবন্ত হয়ে থাকে এই প্রচেষ্টা জারি রাখতে চেষ্টা করে যাবেন।

  5. 33
    ফোরকান

    এই পোষ্টটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখা যার কারণে পোষ্টটি মুখস্তের মত রাখতে হল।

    1. 33.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাই দোয়া রাখবেন আল্লাহ্‌ যেন আমাকে সত্যের পক্ষে লড়তে জ্ঞানএবং সাহস দান করেন। ধন্যবাদ।

  6. 32
    এম ইউ আমান

    মূল লেখা ও প্রাসঙ্গিক আলোচনাগুলি আগ্রহ নিয়ে পড়ছি। রেফ্লেকসনের অনেক কিছু রয়েছে। লেখক মুনিম সিদ্দিকীর লেখার সাথে আগে সামান্য পরিচয় ছিল ফুয়াদ- এর পাঠানো যায়নাব (রাঃ)কে নিয়ে সব রটনার প্রকৃত ঘটনা লেখাটির মাধ্যমে। এক্ষণে লেখককে সশরীরে সদালাপে দেখে ভাল লাগছে। এম আহমেদ সাহেবের কথাগুলি অনেক পড়াশোনা ও গভীর চিন্তার প্রকাশ। সিদ্দিকী-আহমেদ জুটিকে গর্ডন গ্রিনীজ – ডেসমন্ড হেইন্সের মত মনে হচ্ছে (অবশ্যই তারা যখন ফর্মে ছিলেন )।
    আরসাফি সাহেবের লেখার মধ্যে দু’ ধরণের বিপরীতার্থক টোন লক্ষ্য করছি। সদালাপের পাঠকেরা বেশীরভাগই বিশ্বাসী। আমাদের বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হয় আপনি জানতে এসেছেন; অযথা দূর থেকে ঢিল ছুঁড়ে ঢেউ তোলার জন্য নয়। আলোচনায় এক্টিভলি অংশগ্রহণ করছেন বলে সে বিশ্বাস পোক্ত হচ্ছে। ফলে, মুনিম সাহেবের অন্যান্য ইস্যুতে এক এক করে উত্তর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি একটি চমৎকার অপরচুনিটি হতে পারে। সেই সাথে যদি আহমেদ সাহেব সহ অন্যান্যদের বোনাস কমেন্টগুলি থাকে তাহলে সাধারণ পাঠকদের সদালাপ পড়তে আসা স্বার্থক হয়।  
    তবে শো স্টিল করেছেন, মহিউদ্দিন সাহেব। গেস্ট এপিয়ারেন্স-এ এসে ‘আমীর, ফকির যে কেউ-এর সহজ ভিসার’ যে ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন তা মন ছুঁয়ে গেছে।   

    1. 32.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আলহামদুলিল্লাহ!  যার বাগানে পদচারণা করছি  আর হোস্টের দেখা পাচ্ছিলাম না। মনে বিরাট এক কিন্তু  বিরাজ করছিল!  এবার এর থেকে মুক্তি দিলেন আমান ভাই। আপনি আমার লেখা আপনার ভাল লাগে শুনে প্রচুর উৎসাহ পেলাম।
      আহমদ ভাই  অনেক অনেক জ্ঞানী  এবং  উচ্চশিক্ষিত সজ্জন ব্যক্তি উনার জ্ঞানের কণা মাত্র আমার কাছে নাই। এই অসম জ্ঞান শিক্ষার দুই দিগন্তের ২ জন এক যায়গায় এক বলে আমার মনে হয়। খোলে দেখার প্রবল ইচ্ছা! দেখি সেখানে কি আছে ,সেই গভীরে কি ছিল বা কি হয়েছিল সেদিন!
      আর এর জন্য পোস্টমর্টেম করতে দুঃসাহস করে ফেলি মাঝে মধ্যে!
      আমান ভাই এই ভাবে মাঝে মাঝে আমাদেরকে এই ভাবে উৎসাহ দিয়ে যাবেন। ধন্যবাদ।
       

      1. 32.1.1
        এম ইউ আমান

        আল্লাহ মাফ করুন। এই খোলা বাগান আপনাদের। আমি শুধুমাত্র এর বর্তমান মালী।      
         

        1. 32.1.1.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          যাক আপনি যখন অনলাইনে আছেন তখন কয়েকটি অসুধিধার কথা জানানোর লোভ সামলাতে পারছিনা।
          ১। সদালাপে কমেন্ট ট্র্যাক করার কোন ওয়ে নাই। যেমন একটি পোস্টে অনেক গুলো কমেন্ট পড়েছে, তার ফলো আপে যদি কয়েক জন কমেন্ট করেন তাহলে সর্ব শেষ জনের কমেন্ট শুধু সাম্প্রতিক উইজেডে দেখা যাবে বাকি গুলো দেখা যাবেনা। তাই অনেকের রিসেন্ট কমেন্ট অগোচরে চলে যায়, যার ফলে তার উত্তর দেয়া সম্ভব হয় না।
          এই সমস্যার সমাধাণ করতে প্রত্যেক ব্লগারের নিজস্ব ব্লগে শুধু ঐ ব্লগারে পোস্টে করা রিসেন্ট কমেন্ট গুলো শো করলে ভাল হয়।
          ২। কমেন্টে ইমেজ অডিও ভিডিও এড করার প্লাগিন থাকলে ভাল হয়।
          ৩। সদালাপের সদস্যদের অনলাইনে কারা আছেন তা দেখালে সদালাপে একা একা লাগা ভাব কেটে যাবে।
          ৪। ভিন্নমতের লোকদেরকে এখানে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা, নতুবা মনে হয় যেন দেয়ালের সাথে কথা হচ্ছে। যেহেতু আপনি বাগানের কেয়ারটেকার সেহেতু আপনাকে ব্যক্তি উদ্দোগ এই বিষয়ে নেয়া দরকার বলে আমার মনে হচ্ছে।
          ধন্যবাদ।

  7. 31
    মহিউদ্দিন

    @ashrafi

     …সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে।"

    এ কথাটা অমুসিমদের প্রতি অমানবিক এটাই যদি আপনার যুক্তি হয় তাহলে বলুনতো আমেরিকায় কি যে কেউ ঢুকতে পারে?
    সে জন্য লাগে ভিসা তাই না?

    মক্কা মদীনায় যেতেও লাগে একটি ভিসা তা না হলে আপনি যত বিত্তবানই হন না কেন ডুকতে পারবেন না।
    শুনা কথা একবার ভারতের প্রধান মন্ত্রী নেহেরু নাকি সৌদীর বাদশাকে বলেছিলেন মক্কা মদীনায় যাবার অনুমতি দিতে কিন্তু বাদশা সে অনুমতী দিতে পারেন না্ই কেননা নেহেরুর ছিলনা সে ভিসা আর সে ভিসা হচ্ছে আপনি প্রকাশ্যে বলবেন "আমি স্বাক্ষী দেই এ পৃথিবীতে কোন উপাশ্য নাই একমাত্র আল্লাহ ছাড়া ও মোহম্মদ (সঃ) আল্লাহর রাসুল" যা আরবীতে বলা হয়,"..লা ইলাহা ইল্লালাহ, মোহাম্মদুর রাসুল আল্লাহ"। কোন প্রধানমন্ত্রী,রাজা বাদশা কিংবা কর্পোরেট জায়েন্ট হতে হবে না। আপনি আমীর, ফকির যে কেউ হন না কেন সে ভিসা নিলে মক্কা-মদীনার দরজা আপনার জন্য খোলা।

    1. 31.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      @মহিউদ্দিন:  বাহ আপনি কি সহজ কথায় এমন জটিল করা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মাত করে দিলেন! ধন্যবাদ।

       

  8. 30
    ফোরকান

    অসাধারন মুনিম ভাই, যৌক্তিক বিশ্লেষন চালিয়ে যান। সাথেই আছি।

    1. 30.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      স্বাগতম ফোরকান ভাই! দোয়া করবেন যাতে আল্লাহ আমাকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দান করেন।   আরো দোয়া করবেন আমার লেখার দ্বারা যেন  ইসলামের মুসলিমের, আল্লাহ ও তার রাসুল সাঃ কোন ক্ষতি না হয় যায়। ধন্যবাদ।

  9. 29
    মুনিম সিদ্দিকী

    @ এম আহমদে ভাই আমি জানি, জেনেও প্রশ্ন করেছি এই আয়াত নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক বিভ্রান্তি হচ্ছে তাই তা আলোচনার দরকার।
    আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে।   অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?   ৫৪-১৭
     
    আমরা যখন এই আয়াত উদৃতি করি তখন খণ্ডিত ভাবে এই আয়াতের প্রথম অর্ধেক কোট করি কিন্তু ২য় অর্ধেক কোট করিনা।
    এখানে সহজ বলতে তা পড়তে মনে রাখতে  বলা হয়েছে তারপর প্রশ্ন করা হয়ে আমাদের মধ্যে কি কোন চিন্তাশীল ব্যক্তি আছেন এই আয়াতের মানে নিয়ে চিন্তা করে আয়াতের আসল অর্থ বুঝার চেস্টা করতে?
    ধন্যবাদ।

  10. 28
    ঈশ্বর

    @ এস এম রায়হানঃ আপনি বলেছেনঃ
    এই ধরণের বা আরো ভয়ঙ্কর কথাবার্তা অন্যান্য ধর্মেও আছে। কিন্তু মনাদের মতো আপনিও সেদিকে আগ্রহী নন।
    প্রস্নঃ  কোন ধরনের? ভাল ধরননের না ভয়ঙ্কর ধরনের? কথাটা মনে রাখলাম। অন্য কোন ব্লগে আপনারে যদি কথাটা মনে করাইয়া দেই, পিছলাইয়েন না। 

    1. 28.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনি আলোচনার সুবিধার্তে রায়হান ভাইয়ের  কমেন্ট  ১২ . ২ এর প্রতি মন্তব্যে এই প্রশ্ন করলে ভাল হতো, তাতে পাঠকদের খেই হারাতে হতনা। ধন্যবাদ।

      1. 28.1.1
        এম_আহমদ

        ঠিক আছে ভাই, প্রত্যেকের ইচ্ছার একটা স্বাধীনতা তো আছেই। তবে অন্যত্র যদি সেই একই সার্কাস চালানো না হয়, তবেই ভাল। মূল কথা হল এই যে, যেকোন  প্রাচীন কালের বই পুস্তক পড়তে হলে, বুঝতে হলে অনেক জটিল পথ পাড়ি দিতে হয়, তা যে কেবল ধর্মীয় পুস্তকের বেলায় প্রযোজ্য, এমন নয় বরং সেক্যুলার পুস্তকের বেলাও। কিছু কথা মনে উকি দিচ্ছে তাই বলে যাচ্ছি, অমনি অমনি। ধরুন হোমারের ইলিয়াড। আপনি কেবল অনুবাদ দেখলেই চলবে না। অনুবাদ দিয়ে বইটিকে access ই করা যাবে না। বরং পাঠের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আপনাকে সেই সময়ের রাজনৈতিক অবস্থা, রেষারেষির অবস্থানাদি বুঝতে হবে। বইটির কাল বুঝতে হবে, setting বুঝতে হবে। তারপর কবি যে শুধু জয়/পরায়ের theme আনেননি বরং যুদ্ধ, সমাজ, সামাজিক নৈতিকতা, বিজিত/পরাজিতের অবস্থা ইত্যাদি এনেছেন, এসবের পরিমণ্ডল দেখতে হবে। এই লেখার কারণ, সেকালের রাজনীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ বুঝতে হবে। সেদিনের যুদ্ধ বুঝতে হবে –এগুলো ভাল করে অধ্যয়ন না করলে সেই বাস্তবতার সাথে আমাদের সময়ের বাস্তবতা বুঝা যাবে না।
         
        ইলিয়াডের তুলনায় ধর্মগ্রন্থাদি, তা কোরান হোক, বেদ হোক, বাইবেল হোক –এগুলোতে আরও টেকনিক্যাল জটিলতা থাকে। এদের অর্থ স্থানে স্থানে ‘পিয়াজের’ মত হয়, layer এর পর layer থাকে, অর্থের গভীরতা থাকে, যে বাক্য আপাতত সহজ মনে হবে, তার আসল অর্থ এত সহজ নাও হতে পারে। ধর্মগ্রন্থ এক ধরনের কালীন ও ‘গ্রন্থিয় tradition’ বহন করে। অনেক সময় অনেক কিছু সহজে accessible হয় না, এর জন্য persevere করতে হয়। কোরানের ব্যাপারটা আরেকটু আলাদা। যে সমাজে এই গ্রন্থ নাজিল হয় –সে সমাজ literate ছিল না। ওটাকে আরবী সমাজ বিজ্ঞানে বলা হয় আল-হাদারাহ আস-শাফাহিয়্যাহ (الحضارة الشفاهية)/স্মৃতি/মৌখিক পদ্ধতিতে তথ্য সংরক্ষণের সভ্যতা, যা তখন লিখিত পদ্ধতিতে উত্তরণ করছিল। এর লিখিত রূপ, বাণীর পদ্ধতি, style, সেকালের মৌখিকতা, কাব্যিক রূপ, এবং পূর্বকালের ঐশী বাণীর আচরণের সাথে দেখতে হয়, যদিও তার আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। এর পর আসে ব্যাকরণ, অলংকার, proverbial, রূপকতা ইত্যাদি। কেননা কোরান বলছে এটা আরবী কোরান, অর্থাৎ আরবী ভাষার সব বৈশিষ্ট্য রয়েছে তার সবই এখানে সমন্বিত। ২৩ বৎসরের নানান যুদ্ধ, নানান সংগ্রাম, নানান পরিস্থিতির দীর্ঘ পরিসরে এর প্রায় সাড়ে ছয় হাজার আয়াত নাজিল হয়েছে। এসব আয়াতের নানান প্রেক্ষিত রয়েছে, এক আয়াত অন্য আয়াতের মধ্যে কখনো মাস থেকে বছরের দূরত্ব রয়েছে। এই আয়াতগুলোর আইনি, সামাজিক, নৈতিক ও আন্দোলনী নির্দেশনার প্রেক্ষিতে হয়েছে। কখনো কোন আয়াতের আইনী দিক অন্য আয়াতের দ্বারা রহিত হয়েছে, কখনো বর্ধিত হয়েছে –এটা ছিল একটি living text.
         
        এত সব সমস্যা ও জটিলতা সামনে রেখে এক ব্যক্তির যার কোন জ্ঞান শুধু এতটুকু যে সে ‘অনুবাদ’ পড়েছে এবং সে এখন আপনার সাথে বিতর্ক করতে চায়, আপনি কী করবেন? অথবা হাবে-ভাবে দেখাচ্ছে যে সে আপনাকে lesson দিতে এসেছে, তখন কী করা যাবে? আমার মনে হয় তার পরিবর্তে আপনিই পালিয়ে যাওয়া উচিত। আমরা এখন এই বাস্তবতায় এসে পৌঁছেছি! আমি এগুলো এখানকার ‘আশারফি’ নিককে লক্ষ্য করে বলছি না, বরং ইন্টারনেটে এটাই হচ্ছে একটা বাস্তবতা।  
         
        ভাষান্তর বা translation হচ্ছে এক বিরাট বিদ্যা। এর উপর graduation হয়, মাস্টার্স হয় পি এইচডি হয়। এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কিছু অনুবাদ করা এক কঠিন কাজ। যে কারণে অনেক বই বিভিন্ন জন অনুবাদ করে থাকেন। চার্লস বোডলেয়ারের কবিতা ‘আলবাট্রস’ –কে কত অনুবাদক যে অনুবাদ করেছেন আল্লাহই জানেন। এর কারণ কী? কারণ হচ্ছে ভাষার রূপকতা ধরা, তার অর্থের সমৃদ্ধতা ধরা, উদ্দেশ্য বুঝা, টেক্সটের কালচার বুঝা –এগুলো সহজ কাজ নয়। যাদের ভাষাতাত্ত্বিক সাধারণ জ্ঞান নেই কিন্তু নাস্তিকদের প্রোপাগাণ্ডা সাহিত্য পড়ে, কিছু শব্দ ও বাক্য আত্মস্থ করেছেন কিন্তু এই বাক্যাবলির পিছনে কি ধারনাগত ইতিহাস কাজ করছে, কী ব্যাপকতা রয়েছে, কথায় পার্থক্য ও সমন্বয়ের স্থান রয়েছে –এসবের সাধারণ ধারনাই নেই, সে শুধু বিতর্ক করার উত্তেজনায় তাড়িত, এদের হাতেই সমাজ সভ্যতায় ফাটল আসে তারাই এর মূল culprit.

        1. 28.1.1.1
          এম_আহমদ

          উপরোক্ত মন্তব্যের স্থান হচ্ছে 27.1 এ, এখানে নয়। ভুলে এসেছে।

        2. 28.1.1.2
          মুনিম সিদ্দিকী

          আল্লাহ্‌ তো বলেছেন-

           

          17

          আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্যে। অতএব, কোন চিন্তাশীল আছে কি?
           

          তাহলে আপনি কোরআন বুঝতে এত কঠোরতা আরোপ করছেন কেন?

        3. এম_আহমদ

          কোরানের বিভিন্ন নাম রয়েছে এবং তাতে একেক ধরণের বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। তাজকিরার স্থানটি হচ্ছে সহজ, আল্লাহকে সকাল সন্ধ্যায় স্মরণ করা, তেলায়াৎ করা, বিভিন্ন narrative এর আলোকে চিন্তা করা, বর্ণিত কাহিনী বার বার পাঠ করা –এর সবই হচ্ছে সেই অংশ। কিন্তু এত্থেকে আইনি চিন্তা, শরিয়ার দিক নির্ণয়, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বিষয়াদি নির্ধারণ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিভিন্ন দিগন্ত উন্মোচন –এসব ভিন্ন বস্তু। এর জন্য প্রয়োজন meticulous studyর.এর বাইরে কোন পথ নাই, এই পদ্ধতিগত পথ যেমন সেক্যুলার তেমন ধর্মীয়।
           
          এই ব্যাখ্যাটির স্থান কঠিন। চিন্তা করে বলার প্রয়োজন। তবে এক্তহা বলা যায় যে প্রত্যেক ব্যক্তি যদি, প্রয়োজনীয় স্কিল ও জ্ঞান অর্জনের আগেই, কোরান পাঠে নিজ নিজ স্বাধীন পদ্ধতি অবলম্বন করে, তবে দেশ ও সমাজে আল্লাহর নামে anarchy সৃষ্টি হবে। এই anarchic বাস্তবতা এড়াতে ঐতিহ্যের পথে চলতে হবে, সবাই যে পথে চলেছে, সে পথে, এটাই beaten track (সুন্নাহ)। এর জন্য প্রয়োজন সেই নীতি মালার যার কথা আলোচনা করেছি। প্রতিষ্ঠিত চলার পথ ত্যাগ করে, যদি প্রত্যেক মুসলমানের ব্যক্তিগতভাবে নিজ নিজ পথ অবলম্বন করার ইখতিয়ার থাকে, তবে সে ইখতিয়ার বাইরের লোকেরও থাকতে হবে।
           
          তবে আমি কোরানকে তালাবদ্ধ করার কথা বলছি না। কোরান priestly অথবা ব্রাহ্মণ্যবাদি এক চেটিয়া, একক শ্রেণী/গ্রুপ অধিকারের কথা বলছি না। উল্লেখিত স্কিল ও জ্ঞান যে কেহ আয়ত্ত করতে পারে, এটা শুনতে পাহাড় লাগলেও আসলেও পাহাড় নয়। প্রত্যেক দিন সামান্য সামান্য করে কোরানের ভাষা, উলুমুল কোরান, সেদিনের ইতিহাস, হাদিস –ইত্যাদি আত্মস্থ করা পাহাড় নয়। এগুলো সব মুসলমানের আয়ত্ত করা উচিৎ।  তাজকিরাতের পথ যেমন সহজ, কোরানের অন্যান্য পথও আস্তে আস্তে সহজ হতে পারে যদি চলতে থাকা যায়। আল্লাহ বলেন যারা আমার পথে সাধনা করে আমি তাদের জন্য পথ খুলে দেই। যখন তা খুলা হয়ে যায়, তখন তা হয়ে পড়ে সহজ। এখানেই সহজ হওয়ার দ্বিতীয় অর্থ।  আমাদের মনে রাখতে হবে যে কোরানের সব কথার অর্থ একেবারে direct নাও হতে পারে। ওয়াল্লাহু আ’লাম।

    2. 28.2
      সদালাপ কর্তৃপক্ষ

      অনুগ্রহ করে আপনার নিকটি পরিবর্তন করুন। ঈশ্বর বলেছেন… দেখতে ইনএপ্রোপ্রিয়েট মনে হয়। 

    3. 28.3
      এস. এম. রায়হান

      প্রস্নঃ কোন ধরনের?

      কোরানের যে আয়াতগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে নিজের মতো করে যেভাবে ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে, সেই ধরণের।

      ভাল ধরননের না ভয়ঙ্কর ধরনের?

      কোন্‌ ধরণের দেখতে চান? এটি নির্ভর করছে ব্যক্তিবিশেষ ও নিজস্ব ব্যাখ্যার উপর।

      কথাটা মনে রাখলাম। অন্য কোন ব্লগে আপনারে যদি কথাটা মনে করাইয়া দেই, পিছলাইয়েন না।

      পিছলানোর স্বভাব তো মনে হচ্ছে আপনার। অন্যথায় অন্য কোন ব্লগে আমাকে [ভবিষ্যতে] মনে করাইয়া দেয়ার কথা বলে এই মন্তব্য করতেন না। পুরাই বিনোদন। কোন্‌ কোন্‌ ব্লগে কী কী নিকে লিখেন, বাই দ্য ওয়ে।

  11. 27
    এম_আহমদ

    @ arshafi
     

    [Comment 27]
    আমি আশা করেছিলাম এর পর ওই বাণীগুলোর সঠিক অবস্থান নির্ণয় করে [শত্রুর স্থান?] ঝাকে ঝাকে ইসলামের শান্তির, পরমতসহিষ্ণুতার ,শান্তিপুর্ণ সহাবস্থানের বাণী গুলো আসবেআমি নিজেও উপকৃত হব শান্তির ইসলামের যুক্তিতে । …

     
    এবারে শুনেন, আপনি শান্তির বাণী শুনতে ও উপকৃত হতে আসেন নি। মিথ্যা কথা। আপনি এসেছিলেন কোরানকে ঘৃণার পুস্তক দেখাতে, কিন্তু পারেননি, সেই জ্ঞান এবং বিদ্যা আপনার নেই। আপনার প্রথম entry-তে (comment 7) ছিল কোরানের ডজন খানেক আয়াত। এগুলো তাদের প্রেক্ষাপট বহির্ভূতভাবে তুলে আনেন,  ‘বিশেষণ’ দেখাতে, কোরানকে ঘৃণার পুস্তক হিসেবে দেখাতে। দ্বিতীয়বার (comment 12) এসেছেন ব্যাপকভাবে অমুসলমানদের প্রতি কোরানের ঘৃণা-বিদ্বেষ দেখাতে, মক্কা/মদিনায় ঢুকতে না দেয়ার প্রসঙ্গ তুলে ঘৃণা প্রমাণ করতে। জানাজার উদাহরণ টেনেছেন, (অথচ আপনার অজ্ঞতা যে ঐ ব্যক্তি অমুসলমান ছিলেন না),   মৃতের প্রতি ঘৃণা দেখাতে, ‘সারা দুনিয়ার প্রতি’ কোরানের বিদ্বেষ দেখাতে। তৃতীয়বার এসেছেন (comment 15) নিজ যুক্তি যথার্থ প্রমাণ করতে, মুনিম ভাইকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে। চতুর্থবার (comment16) এসেছেন গোটা ইসলামকে সর্বোধ্বংসি একটি মন্দ ধর্ম দেখাতে,  ইসলাম যেখানে গিয়েছে সেখানে সভ্যতা ধ্বংস করেছে –এগুলো দেখাতে। পঞ্চমবার এসেছেন পূর্বের সব মন্তব্যগুলোকে (7,12, 15 & 16) justify করতে। এখানকার interpretative অবস্থান apologetic দেখাতে। (Apologetic কথার উত্তর একটু পরে দিচ্ছি)। আপনি কি শান্তি, সহিষ্ণুতার ধর্ম দেখতে এসেছিলেন, উপকৃত হতে এসেছিলেন? মিথ্যা কথা।
     
    আপনার মিশন এখানে দাঁত গাড়তে পারে নি, কেননা কোরানের উপর আপনার জ্ঞান নেই, অনুবাদ ছাড়া কোরানের আয়াতের পটভূমিতে যাওয়ার ক্ষমতা নেই, তাই ধানাই-পানাই দিয়ে কাজ সমাধা হয়নি। সব পটভূমি রেখে, ‘ওয়ালী’ শব্দের যাবতীয় অর্থ বাদ দিয়ে, যদি এককভাবে ‘বন্ধু’ও ধরা হয়, তবুও আপনার মিশন successful হয়না। কেউ কারো বন্ধু নয় বলে কি ঘৃণার পাত্র হয়ে যায়? তার সাথে কী আর কোন relation থাকতে পারেনা? ‘হয় বন্ধু, না হয় ঘৃণা?’ আপনার মাথা examine করান। ‘অমুক আমার বন্ধু নয়, সে আমাকে ঘৃণা করে’, এটা তো কোন বেওকুবও মনে করেনা। কোরান হচ্ছে ইসলামী শরিয়ার একটি মৌলিক উৎস। আর শরিয়ার বিষয়বস্তু আসে স্থান,কাল ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে। এই আয়াতের প্রেক্ষিত কি, স্থান কি, কাল কি?  কোন বিশেষ অবস্থার কথা বলেছে? আপনার মত একজন ফাজিল এসে যদি আমাদের সামনে কোরানের ব্যাখ্যা দিতে শুরু করে, আর বলে, ‘আমি মনে করি এই, আমি মনে করি সেই’ –তখন তাকে কি বলতে হবে?
    আপনি যে মিশন নিয়ে (7,12, 15 & 16) এখানে এসেছিলেন, এই জায়গাটি [সদালাপ] সেই ধরণের স্থান নয়। এখানে ‘হতোস্মি’ না হওয়া ছাড়া উপায় নেই।  কোন কাজে ব্যর্থ হয়ে আবেগের আশ্রয় নিতে নেই। বরং সাহসিকতার সাথে নিজ দুর্বলতা স্বীকার করাতেই ঢের মর্যাদা। বলুন, যে কাজে এসেছিলেন সেই কাজই করেছেন। ব্যর্থ হয়েছেন, তাই কি পূর্বের উদ্দেশ্য বদলিয়ে অন্য সূর ধরবেন? এর অবকাশ কোথায়? –সব কথাই তো লিখিত , প্রকাশিত। সততা যদি সামান্যতম থেকে থাকে এবং কোরানের ৬-১০৮ আয়াত যদি সত্যি ‘ভাল ও সুন্দর’ মনে হয়ে থাকে, (যা কেবল আপনি ছাড়া আর কেউ উদ্ধৃত করতে পারেনি), তাহলে এক কাজ করেন, ভেবে দেখেন, মুসলমান হতে পারেন কীনা। ব্যর্থ মুসলমানদেরে বাদ দিয়ে, আপনি নিজেই তার ঝাণ্ডা এগিয়ে নেন। কিন্তু এটাও ছিল আবেগী কান্না। কোন মূল কথা নয়, কোন recognition নয়, বরং ব্যর্থতা ঢাকার ভিন্ন স্বর। আসল কথা পরবর্তী বাক্যে, ‘এটা কোরানের দ্বৈত-রূপ’ যা অনেককে (অর্থাৎআপনার মত লোকদেরে) ‘বিব্রত’ করে।
     

    [Comment 24, মুনিম ভাইকে লক্ষ্য করে ]
    আপনার সমস্যাটি বুঝি । এই একবিংশ শতাব্দীতে এরকম সাম্প্রদায়িক উক্তি  হজম করা মুস্কিল।’ [কী রে পণ্ডিত!]
     

    আপনি কিছুই বুঝতে পারেন নি। You are reading your own mind, your own assumption.এই বিশ্ব জগত বিভিন্ন ‘সম্প্রদায়ে’ বিভক্ত। কেউ আস্তিক, কেউ নাস্তিক, কেউ সেক্যুলারিষ্ট, কেউ হিউমেনিষ্ট, কেউ সেক্যুলার হিউমেনিষ্ট, সবার অবস্থানই ‘সাম্প্রদায়িক’, সবার বক্তব্যেই নিজেদের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও আদর্শের প্রতিফলন ঘটে, there is no single soul outside of belief and value systems.আপনি যে বিদ্যা দেখাতে এসেছেন তা outdated। অতিরিক্ত কসরত করে লাভ নেই। যারা নিজেদের discursive system  বুঝতে ব্যর্থ, কেবল তারাই vigorously অপরকে নিজের ‘Other’ করে দেখে। মুনিম সাহেব কোন সম্প্রদায়ের মোকাবেলায় বা ‘ভয়ে’ apologetic হবেন? কি বলতে চাচ্ছেন আপনি? এই assumption-ই ভুল, নিজেকে শুধরান। কিছু নাস্তিক ও রাজনৈতিক মতলববাজ ধর্মীয় সম্প্রদায়কে ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে মনোতৃপ্তি খুঁজে, যেন তারা নিজেরা ‘সম্প্রদায়ের’ ঊর্ধ্বে, তাদের কোন আদর্শ নেই, বিশ্বাস নেই, মূল্যবোধ নেই। এসব দুর্বল কথা। বলি, বরং মানুষ হন, মানুষের ধর্মগ্রন্থাদী ও তাদের মুল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবার চেষ্টা করুন।
     
    এই একাবিংশতে এসে অপরের ধর্মগ্রন্থ ও তাদের বিশ্বাস/ধর্ম নিয়ে যেসব কথা বলছেন, তা ‘ইতরামি’, মানুষ হন, দৃষ্টি খানিক প্রশস্ত করুন। কোরান কাউকে গালি দেয় না, ঘৃণা শিখায় না। এসব বিকৃতি উদ্ভাবন করে যে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন –তা বর্জন করে মানবতার কাতারে আসুন। মুসলমান হওয়ার দরকার নেই। আমার এক বন্ধু বলেছিল, মিশনারিরা অনেকটা বেহায়া হতে হয়। এটার যে একটা প্রেক্ষিত থাকতে পারে -তা আপনাতে দেখলাম। এই দুর্বল অবস্থার উপর থেকে মিশন চালাতে পারবেন বটে কিন্তু ‘হতোস্মি’ হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই।
     

    1. 27.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      এম আহমেদ ভাই আমার মনে হয় আশ্রাফি ভাই আপনাকে জবাব দেবার মত ক্ষমতা নাই থাকলে অবশ্য দেবার চেষ্টা করতেন। ভাবছিলাম এক জমজমাট আলোচনা হবে যা থেকে আমরা অনেক সত্য জানতে পারতাম। কিন্তু আশ্রাফ সাব অফ যাবার কারণে আমরা বঞ্চিত হলাম।

  12. 26
    arshafi

    এই ব্লগে সবার প্রতি-যারা আমার মন্তব্যে মন্তব্য করেছেন ।
    সদালাপে মুনিম সিদ্দীকি এর ব্লগটি পড়ার পর মুসলিম -অমুসলিমদের সম্পর্ক  বিষয়ে আরও কিছু বিষয়ে পরিস্কার হবার কারনেই আমি কোরানে বিধর্মীদের গালাগাল সম্পর্কিত আয়াতগুলোর কিছু ভগ্নাংশ তুলে বলতে চেয়েছিলাম-
    এই যদি হয় পরধর্ম সম্পর্কে পরম করুণাময়ের মন্তব্য ,তাহলে তাদের শত্রু(৫:৫১) বলাই তো সঙ্গত ।
    আমি আশা করেছিলাম এর পর ওই বাণীগুলোর সঠিক অবস্থান নির্ণয় করে ঝাকে ঝাকে ইসলামের শান্তির, পরমতসহিষ্ণুতার ,শান্তিপুর্ণ সহাবস্থানের বাণী গুলো আসবে । আমি নিজেও উপকৃত হব শান্তির ইসলামের যুক্তিতে ।
     কিন্তু হা হতোষ্মি !  পরবর্তিতে তিনি নিজে এবং ব্লগের অন্যান্য সবাই সেই অসহিষ্ণুতার  গীতই গেয়েছেন সমস্বরে । আমি এখন ভাবছি তবে কি সেইসব  সমালোচকদের কথাই ঠিক হলো যারা কোরানকে একটি বিধর্মীবিদ্বেষী গ্রন্থ বলে ? কোথায় তারা উদ্ধৃত আয়াতগুলো কে কালের পরিপ্রেক্ষিত, সমগ্রতারবিচার ও শব্দার্থের বিভিন্নতার কথা বলে নতুন ব্যখ্যা দেবেন ,-তানা করে সবাই সেগুলো জাস্টিফাই করা শুরু করলো ।আমি তাই হতাশ ।
    একজন তো বলেই বসলেন-‘ ওরা তো অধম ,অধমকে অধম বলব  নাতো কি উত্তম বলবো ?’আরেকজন বললেন  --  যে অপবিত্র তাকে অপবিত্র বলাতে অফেন্ড ফিল করার কোন কারন নাই। আরেকজন টিটকারি মারলেন-ফেল্টুসকে কেউ উত্তম ছাত্র বলবে না বরং ছাত্রদের অধমই বলবে।
    তো শান্তির গ্রন্থ পড়ে তার অনুসারীদের এমন অশান্তিময় বাক্যবাণ হলে অশান্তিই বাড়বে
     ঠিক আছে পার্থিব মানুষ নাহয় বললো –কিন্ত পরম করুনাময় আল্লাহ? তিনিও কি করে এত কটুভাষী হতে পারেন । আমি তাই আশা করেছিলাম সবাই বলবেন আসলে ,-এইভাবে বলা হয়নি ,বা অনুবাদের ভুল বা এই ভাবে বুঝতে হবে-ইত্যাদি । কোরান থেকেই কোট করে বলতো পারতো-
    ‘তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না, যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে।  ৬:১০৮   কোরানের এই সুরায় ভিন্নধর্মীদের  মন্দ বলতে নিষেধ করা হয়েছে  ।
    কিন্তু এই সুন্দর আয়াতটি কেউ উল্লেখও করলেন না । 
    হয়তো কোরানের এই দ্বৈত রূপ অনেক কে বিব্রত করে । কিন্ত দুই দৃষ্টিভঙ্গি একসাথে সঠিক হতে পারেনা । সেক্ষেত্রে কোরানে এই সাংঘর্ষিক আয়াত সম্পর্কে ‘সময়ের পরিপ্রেক্ষিতের যুক্তিটা আনতে পারি । আমরা কোরানের সেই অমর বাণী তুলে আনতে পারি-  
     ‘আমি ইচ্ছে করলে সবাইকে একজাতি করতে পারতাম (কিন্তু করিনি-)-যাতে ভালো কাজে তোমরা প্রতিযোগিতা করতে পার ,—-পুরো আয়াতটি মূহুর্ত মনে করতে পারছিনা বলে দু;খিত ।
     এরকম আরও আছে । কিন্ত সেসব কেউ বলছেনা – কেন । বরং উল্টে এমন সব বক্তব্য দিচ্ছেন যে, সে সব  পড়লেও মনটা খারাপ হয়ে যায় । এই কি শান্তিময় ইসলাম  আর তার সব শান্তিবাহিনীরা?

    1. 26.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @Arshafi,
      আপনি কি আমাদের উত্তর দিচ্ছেন ? শুধু দেখলাম মুনিম ভাইয়ের সাথেই আলোচনা করছেন, সেখানে আর নাক গলানো আমার আর ভাল লাগেনি। তার উপর মুনিম ভাইয়ের মত বয়স্ক ব্যক্তিকে আপনি ভাই মুনিম বলে সম্বোধন করছেন, সেখানে থেকেই বুঝা যায় আপনি একটি ডমেনেটিং ভাব নিয়ে আসছেন।

      ইসলাম এমন কিছু নয় যে খালি দয়া আর দয়া বলে যাবে। নজরুল ইসলাম যেমন বলেন রহমান কি রুদ্র নন। আল্লাহর দয়া, শাস্তির চেয়ে বেশী, কিন্তু আল্লাহ পাক শাস্তিও দেন। তিনি কিছু বলতে কারো পরোয়া করেন না, এবং কোন কিছুর জন্য তিনি জবাবদিহিতা করতে বাধ্য নন। আপনাদের মন জয় করার জন্য ইসলাম মধুর মধুর কথা বলবে এমন আশা করছেন কেন?

      উপরের লেখায় মিথ্যাচারের জবাব দেওয়া হয়েছে। আওলিয়া শব্দ নিয়ে এত ত্যানা পেছানোর কি আছে? যে কোন বাঙ্গালি মানুষ আওলিয়া শব্দের অর্থ জানে, এই জন্য বেশী কিছুর দরকার নেই। আঞ্চলিকতায় দেখা যায়, মুরীদানগন তাদের পীর দের আউলিয়া বলে থাকে, এবং তার আদেশ নিষেধ যথা সম্ভব মেনে চলে, নিজের বিবেকের উপর আউলিয়ার বিবেকের প্রাধান্য দেয়, এবং সে যা বলে তাই সাধারণত্ব করে। সেই ক্ষেত্রে যেকোনো গ্রাম্য লোক আউলিয়া শব্দের অর্থ বুঝবে, তবে ধান গাছে তক্তা হয় কি না জানে না, এমন শহুরে লোকের কথা ভিন্ন।

      -মানুষ মানুষের বন্ধু হবে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম, বন্ধু করার ব্যাপারে কে কোন ধর্মের তা কেউ দেখে না, দেখার কথাও নয়। তা মুসলমানরাও দেখে না, সাধারণত্ব অন্যরাও দেখে না, বাকিদের ব্যাপার জানি না। ইসলাম অনুসারে যেকোনো সময় যেকোনো কাছের ব্যক্তি প্রতিবেশী হিসাবে গণ্য হয়, এবং প্রতিবেশীর মর্যাদা ইসলামে আলাদা ভাবে লিপি বদ্ধ আছে। আপনার বন্ধুটি অফকোর্স আপনার প্রতিবেশীও। তাই প্রতিবেশীর হক সে পায়, আর বন্ধুত্বের ভালবাসার ইনসাফও সে পায়। রসূল সাঃ এর আপন চাচা আবু তালিব মুসলিম ছিলেন না, কিন্তু রাসূল সাঃ এর সাথে কি তার ভাল সম্পর্ক ছিল না? তাই বরং মেনে নিন, মানুষ হিসাবে মুসলিম-অমুসলিম সাধারণ বন্ধু হতে পারে। এই বিষয় নিয়ে প্যাঁচাল করে লাভ নেই।

      -নতুন একদল মানুষ বের হয়েছে, যারা আল্লাহ পাক কে চিকিৎসক এর মত বানিয়ে নিয়েছে, নিজের বিপদে আল্লাহ পাক সাহায্য করবেন, কিন্তু সেই ব্যক্তি যা ইচ্ছা তাই করবে, আর মাঝে মধ্যে আল্লাহ পাকের নামে মধুর মধুর কথা শুনবে। আর আল্লাহ পাক সাহায্য না করলেই, আল্লাহ পাকের উদ্দেশ্যে এক রাশ হতাশার বানী শুনাবে। আজব।

      1. 26.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        মুনিম আর ভাই মুনিম বলায় কিছু যায় আসেনা। তিনি হয়তো আমার পুর্ব পরিচিত, তাই মুনিম না বলে ভাই বলে সম্মানই দিয়েছেন বলে আমি মনে করছি। কিন্তু অবাক হচ্ছি তিনি কেন আপনাদের কারো কমেন্টের জবাব দিচ্ছেন না!!!

    2. 26.2
      শামস

      @arshafi,
      ১.

      আমি কোরানে বিধর্মীদের গালাগাল সম্পর্কিত আয়াতগুলোর কিছু ভগ্নাংশ তুলে বলতে চেয়েছিলাম

      আপনি কিছু আয়াতকে একজায়গায় ডাম্প করতে চাচ্ছেন আর দেখাতে চাচ্ছেন যেগুলো গালাগাল। কিন্তু এগুলোর প্রেক্ষাপট বলার পরই আপনি এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাচ্ছেন! আহমদ সাহেব তার ২০ নম্বর মন্তব্যে নির্দিষ্ট করে আয়াতগুলোর প্রেক্ষাপট দেখিয়েছেন, এর বিপরীতে আপনার কি অভিমত, তা জানাচ্ছেন না। আহমদ সাহেব ভুল বলে থাকলে তা যেমন ধরিয়ে দিচ্ছেন না, তেমনি ঠিক  বলে থাকেন, তার জন্য সামান্যতম সৌজন্যও দেখাচ্ছেন না! ব্লগে কিছু লোক আছে যাদের একটা টেকনিক হল, ধর্মীয় পজেটিভ কোন ব্লগ থাকলে সেগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ত্যানা প্যাচঁচানো। আমার ব্লগে এটা করে হর্তাকর্তাদের সমর্থন নিয়ে। তারা তাদের জ্ঞানের দৌড় জানে, তাই চর্বিত চর্বণ করে যায়। আপনি যদি সেরকম না হন, তাহলে আয়াতগুলোর ব্যাপারে আপনার প্রেক্ষাপট নির্দিষ্টভাবে জানতে চাই, ঢালাওভাবে কিছু না। ঢালাওভাবে করাটা স্থুলতা, সাধারণ পাঠকেরও চোখ এড়াবে না, আর এর দ্বারা নিজের অবস্থান ও আদর্শকেই (তা যাই হোক) প্রশ্নবিদ্ধ করবেন।
      ২.

      আরেকজন বললেন  --  যে অপবিত্র তাকে অপবিত্র বলাতে অফেন্ড ফিল করার কোন কারন নাই।

      এর কারণটাও আহমদ সাহেব আগেই বলেছেন। কিন্তু আপনি সেদিকে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপও করছেন না। আপনার মতামত কি তাতো জানাবেন, নাকি??? আহমদ সাহেবের এব্যাপারে ভাল বলেছেন, তার মন্তব্য থেকে তুলে দিলাম-

      একজন মুসলমানও স্ত্রী সহবাসের পর গোসলের আগ পর্যন্ত অপবিত্র থাকে। তখন কী সে ঘৃণার পাত্র হয়ে যায়? বেওকুবরা না বুঝে ‘বুঝ-বহির্ভূত’অঙ্গন নিয়ে কথা বলতে যায়। স্থান, কাল ও বস্তুতে ধর্মী পরিসরে পবিত্রতা ও পবিত্রতার ধারণা ও ‘বিশ্বাস’ প্রচলিত ধর্মগুলিতে কীভাবে কাজ করে, কী ভাবে এই ধর্ম বিশ্বাসীরা তাদের বিশ্বাসের প্রেক্ষিতে এই বাস্তবতাকে (reality) হৃদয়ঙ্গম করে, সেদিকে না গিয়ে শব্দ ও বাক্য নিয়ে নাদানি করার অভ্যাসকে কোরান এক ধরণের রোগ বলেও উল্লেখ করে।

      আপনিতো আলোচনা বা যুক্তির ধার ধারছেন?
      ৩.

      আমি তাই আশা করেছিলাম সবাই বলবেন আসলে ,-এইভাবে বলা হয়নি ,বা অনুবাদের ভুল বা এই ভাবে বুঝতে হবে-ইত্যাদি । কোরান থেকেই কোট করে বলতো পারতো-
      ‘তোমরা তাদেরকে মন্দ বলো না, যাদের তারা আরাধনা করে আল্লাহকে ছেড়ে। তাহলে তারা ধৃষ্টতা করে অজ্ঞতাবশতঃ আল্লাহকে মন্দ বলবে।  ৬:১০৮   কোরানের এই সুরায় ভিন্নধর্মীদের  মন্দ বলতে নিষেধ করা হয়েছে  ।
      কিন্তু এই সুন্দর আয়াতটি কেউ উল্লেখও করলেন না । 
      হয়তো কোরানের এই দ্বৈত রূপ অনেক কে বিব্রত করে । কিন্ত দুই দৃষ্টিভঙ্গি একসাথে সঠিক হতে পারেনা ।

      আপনার বলার এই ধরণ দেখে হাসি পেল। আপনি আমাদের শিখিয়ে দিচ্ছেন কিভাবে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে হয়, এর জন্য কোরানের আয়াতইতো আছে। কিন্তু কেউ যদি ঐ ৬ঃ১০৮ আয়াত উল্লেখ করত, তারপর আপনি কি বলতেন তার পরেই উল্লেখ করেছেন। কাকের খড়ের নীচে সাবান লুকানোর কথা মনে পড়ল, জানেন আশা করি। কুরান রাখ-ঢাক করে এভাবে কিছু বলাকা সমর্থন করে না, এর অনুসারীরা যদি সেই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কাজটা না করে সেটাই হবে সঠিক। পৌত্তলিকতাকে কোরান নির্দিষ্ট করে নিষিদ্ধ করেছে, এটা যদি পৌত্তলিকদের খারাপ লাগে তাতেও কিছু করার নেই।
      ৪.

      বরং উল্টে এমন সব বক্তব্য দিচ্ছেন যে, সে সব  পড়লেও মনটা খারাপ হয়ে যায় ।

      আপনার যদি মন খারাপ হয়ে থাকে সত্যিই দূঃখিত। আপনি বারবার আলোচনার পয়েন্ট থেকে বিচ্যুত হয়ে ঢালাওভাবে অভিযোগ করছেন এবং এসব অভিযোগ খন্ডানোর ব্যাপারে আপনার মতামতও জানাচ্ছেন না (যেভাবে খন্ডন করা হয়েছে তা কি সঠিক বা বেঠিক, বেঠিক হলে কেন), সামান্য সৌজন্যতাও দেখাচ্ছেন না। এরকম ব্যবহার দ্বারা অন্যরা যে অফেন্ডেড হতে পারে তা কি বিবেচনায় রেখেছেন?
      ধন্যবাদ।
       
       
       

    3. 26.3
      মুনিম সিদ্দিকী

      @Arshafi,
      সদালাপে মুনিম সিদ্দীকি এর ব্লগটি পড়ার পর মুসলিম -অমুসলিমদের সম্পর্ক  বিষয়ে আরও কিছু বিষয়ে পরিস্কার হবার কারনেই আমি কোরানে বিধর্মীদের গালাগাল সম্পর্কিত আয়াতগুলোর কিছু ভগ্নাংশ তুলে বলতে চেয়েছিলাম-
      এই যদি হয় পরধর্ম সম্পর্কে পরম করুণাময়ের মন্তব্য ,তাহলে তাদের শত্রু(৫:৫১) বলাই তো সঙ্গত ।
      আমি আশা করেছিলাম এর পর ওই বাণীগুলোর সঠিক অবস্থান নির্ণয় করে ঝাকে ঝাকে ইসলামের শান্তির, পরমতসহিষ্ণুতার ,শান্তিপুর্ণ সহাবস্থানের বাণী গুলো আসবে । আমি নিজেও উপকৃত হব শান্তির ইসলামের যুক্তিতে ।
       
      কিন্তু হা হতোষ্মি !  পরবর্তিতে তিনি নিজে এবং ব্লগের অন্যান্য সবাই সেই অসহিষ্ণুতার  গীতই গেয়েছেন সমস্বরে । আমি এখন ভাবছি তবে কি সেইসব  সমালোচকদের কথাই ঠিক হলো যারা কোরানকে একটি বিধর্মীবিদ্বেষী গ্রন্থ বলে ? কোথায় তারা উদ্ধৃত আয়াতগুলো কে কালের পরিপ্রেক্ষিত, সমগ্রতারবিচার ও শব্দার্থের বিভিন্নতার কথা বলে নতুন ব্যখ্যা দেবেন ,-তানা করে সবাই সেগুলো জাস্টিফাই করা শুরু করলো ।আমি তাই হতাশ ।
      ১। আমি প্রথমেই আপনাকে বলেছিলাম আপনি  আমার আলোচিত ৫-৫১ আয়াতে  থাকেন। এইটির উপর আলোচনা শেষ হোক।
      ২। তারপর আপনি ক্রমান্নয়ে আপনার আয়াত গুলো দিন আমরা চেষ্টা করে দেখব আপনার কথার জবাব দেয়া যায় কিনা?
      ৩। কিন্তু আপনি তা না করে আবার এক বাঞ্চ অভিযোগ নিয়ে উপস্থিত হলেন।
      ৪। এইগুলো না করে তখন যদি এখন যা বলেছেন ---অমুসলিমদের সম্পর্ক  বিষয়ে আরও কিছু বিষয়ে পরিস্কার হবার কারনেই আমি কোরানে বিধর্মীদের গালাগাল সম্পর্কিত আয়াতগুলোর কিছু ভগ্নাংশ তুলে বলতে চেয়েছিলাম-
      এই যদি হয় পরধর্ম সম্পর্কে পরম করুণাময়ের মন্তব্য ,তাহলে তাদের শত্রু(৫:৫১) বলাই তো সঙ্গত ।
      আমি আশা করেছিলাম এর পর ওই বাণীগুলোর সঠিক অবস্থান নির্ণয় করে ঝাকে ঝাকে ইসলামের শান্তির, পরমতসহিষ্ণুতার ,শান্তিপুর্ণ সহাবস্থানের বাণী গুলো আসবে । আমি নিজেও উপকৃত হব শান্তির ইসলামের যুক্তিতে । এই কথা গুলো বলতেন তাহলে আমরা আপনার উদ্দেশ্য বুঝতে পারতাম আর সে ভাবে উত্তর দিতে চেষ্টা করতাম। সময়ের কথা সময়ে না উপস্থাপন না করে-

      ৫। আপনি তখন নতুন করে নিয়ে আসলেন মক্কাতে অমুসলিমদের ঢুকতে না দেবার অন্য প্রসংগ!  আমার প্রবন্ধ বন্ধুত্ব নিয়ে আর আপনি এক এক সময় এক এক প্রসঙ্গ উপস্থাপন করে চলেছেন। তার মানে আপনি চাচ্ছেন যে কোরআনকে ইসলামকে হেটমুংগার প্রমাণ করতে। এইটি আপনার সরলতা না  বক্রতা তা এইখানের পাঠক গণ ভাল ভাবে বুঝতে পেরেগেছেন।।

      ৬। আমরা মক্কায় ঢূকার ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়েছি।ঙ্কিন্তু সেটি আপনার মনপূত হয় নাই। হবেওনা কারণ তালগাছ আপনার চাই
      ৭। আপনি আমার প্রসঙ্গে বলেছেন যে আমিও অসহিষ্ণু ভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছি! অবাক হলাম! আমিতো আপনাকে যা বলছি বিনীত ভাবেই বলেছি। শুধু বলছি এক এক করে আসেন আলোচনা করি । কিন্তু আমি সে কথা শুনেনাই। বরং আমার আহ্বানকে আপনি পাত্তা নাদিয়ে আরও একাধিক অভিযোগ নিয়ে আসছেন। তার মানে ইসলাম সম্পর্কে আপনার সব নেতিবাচক ধারনা এই খানে খালাস করতে চাচ্ছেন। এই অবস্থার পরও এই থ্রেড আমি থামিয়ে না দিয়ে আপনার সাথে আলোচনা চালিয়ে যাবার পথ খুলা রেখে আছি ! আর সেখানেও আপনি অসহিষ্ণুতা দেখতে পাচ্ছেন।
      সদালাপ একটি উন্মুক্ত ব্লগ সেখানে অশ্লীলতা বাদে যে কেউ তার মতামত  বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার অধিকার রাখে। কাজেই আমার এই থ্রেডে কেউ যদি কোন অফেন্সিভ কথা বলে থাকে তাহলে আপনি তাকে তার সমুচিত জবাব দিতে কে বারণ করছে!

      একজন তো বলেই বসলেন-‘ ওরা তো অধম ,অধমকে অধম বলব  নাতো কি উত্তম বলবো ?’আরেকজন বললেন  --  যে অপবিত্র তাকে অপবিত্র বলাতে অফেন্ড ফিল করার কোন কারন নাই। আরেকজন টিটকারি মারলেন-ফেল্টুসকে কেউ উত্তম ছাত্র বলবে না বরং ছাত্রদের অধমই বলবে।
      তো শান্তির গ্রন্থ পড়ে তার অনুসারীদের এমন অশান্তিময় বাক্যবাণ হলে অশান্তিই বাড়বে
      ১। দেখুন ইসলাম যীশু খৃষ্টের ধর্ম নয়! যে একজন অন্যায় ভাবে আপনার এক গালে চড় মারবে আর আপনি মহাত্মা হাতেম তাঈ হয়ে আপনার অন্য গাল পেতে দেবেন!  ইসলাম কিসাসের ধর্ম। আপনি আমার গালে অন্যায় ভাবে এক চড় মারলে আমি আপনাকে এক ছড় মারার নির্দেশ ইসলাম আমাকে দিয়েছে। তবে কোন অস্থায় ২ ছড় নয়। কিংবা রামের জন্য সামকে শাস্তি দেয়া যাবেনা।
      বৌদ্ধ যীশুর ওংশান্তি ফর্মুলা শুনতে যত ভাল লাগুক না কেন বাস্তব পৃথিবীতে তা কার্যকরী যে নয় তার প্রমাণ খৃষ্টান বোদ্ধদের দ্বারা সংঘটিত অসংখ্য যুদ্ধ তার প্রমাণ। প্রেম ভালবাসার অহিংসা বানী নিয়ে আমরা যতই লাফাই না কেন, আল্লাহর ভয়, রাষ্ট্রের ভয় আর বিবেকের বোধ ছাড়া পৃথিবীতে শান্তি রাখা যে মোঠেই সম্ভব নয় তার প্রমাণ মানব সমাজে আইনের শাসন মেনে চলার মধ্য দিয়ে। ইসলাম বৈজ্ঞানিক ধর্ম মানব স্বভাব জাত ধর্ম কোন ইউটোপিয়ান ধর্ম নয়। তাই দুষ্টের দমন আর শীষ্টের পালন করাই ইসলাম।
      আমরা তো শান্তি বাদী ধর্ম দেখেছি- যেখানে সাস্ত্রে রক্তপাত নিষিদ্ধ তাই বাস্তবে সেখানে পুড়ে মেরে ফেলা হয়। কারণ সে মৃত্যুতে রক্তপাত নাই তাই সেটি শান্তির ধর্ম। আর একদল স্মরণং গচ্ছামী বলেন সর্ব্ জীবে প্রেমের কথা বলেন –কিন্তু আরকানে রুহিংগা নারীকে ধর্ষণ আর মুসলিমকে হত্যা যত পারেন  করে যাচ্ছেন। আরেক দল গরুর মত পশু  হত্যাতে জীবন উৎসর্গ করেন কারণ গরু দুধ দেয় তাই পশু হয়ে সে মানব জাতীর সমান। কিন্তু শুধু মুসলিম হবার জন্য সেই সব মানুষ যেন মানুষ নয়। পিপড়ার  দুঃখে তাদের গর্তে চিনি বিলিয়ে দেয়া হয়। ইদুরে ধান খেয়ে উজাড় করে দিলেও তাকে হত্যা করা হয় না কারণ সাস্ত্রে আছে প্রান হত্যা নিষেধ কিন্ত মুসলিমরা তো প্রানী নয় তাই সাস্ত্রে তাদের হত্যা করতে নিষেদ করেনা।
       
      সে যায়গায় ইসলাম বলে-
      আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত করেছে এবং বহিস্কার কার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম। (৬০:৯)
      আবার একই সূরার ৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন কাদের সাথে সু-সম্পর্ক রাখা যাবে-
      ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন। (৬০:৮)
      এই শান্তিকালিন নাজিল কৃত আয়াত গুলোর আবেদনের দিকে আপনার চোখ পড়না শুধু যুদ্ধকালিন নাজিল কৃত আয়াতের দিকে আপনাদের দৃষ্টি থাকে, আর মানুষকে বিভ্রান্ত করতে যুদ্ধকালিন আয়াত গুলো ব্লগে কোট করে ইসলাম যে ভায়োলেন্সের ধর্ম তা প্রচার করতে চেষ্টা চালিয়ে যান।
      উপরে যে মাত্র ২টি আয়াত উল্লেখ করেছি আপনি অন্য ধর্ম থেকে এর চেয়ে বাস্তব বাদী দর্শন আর কোথায় আছে দেখাতে কি পারবেন?
       
       
       ঠিক আছে পার্থিব মানুষ নাহয় বললো –কিন্ত পরম করুনাময় আল্লাহ? তিনিও কি করে এত কটুভাষী হতে পারেন ।
      মা বাবা বা শিক্ষক শাসক কে কোন না কোন সময়  অবাধ্য সন্তানের প্রতি বা অবাধ্য রাষ্ট্রের নাগরীকের প্রতি কঠোর হতে হয়।  কারণ কঠোর এর মধ্য দিয়েই বিহত্তর শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। ভাষা কটু বলে যা বলছে তা বস্তু নিরপেক্ষ নয়।
      অধম, বাদর, অপবিত্র গাধা ইত্যাদি বিষেশণ করা হয়েছে যারা মুসলিমদের  সাথে  বার  বার  প্রতারনা   করেছে  চুক্তি ভংগ করেছে এবং তারা  আল্লাহ  ও   মুহাম্মদের   বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। আপনি বলুন ডাকাত কে ডাকাত চোরকে চোর না ডেকে কি ডাকা যায়।  এখানে যারা বিশ্বাস করে আল্লাহ্‌ ইসলাম মুহাম্মদ মিথ্যা তাদের তো এই সব বদার করার কথা নয়। একজন মুসলিম কি তার প্রতিবেশিকে শান্তিকালিন  সময়ে এই ভাবে ডাকে না কোরআনে আল্লাহ্‌ তাদেকে সে ভাবে ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন?
      ইসলাম এই শিক্ষা দেয় যে- প্রতিবেশি রাষ্ট্রে যদি বসবাসকারী সব মুসলিমকে ঐ দেশের বিধর্মী হত্যা করে ফেললেও সেই কারণে ইসলামীদেশের বিধর্মীদের একটি চুলও ছিড়ে নেবার প্রয়োজন এই দেশের মুসলিমদের নেই। সে অধিকার ইসলাম দেয় নাই।  তারপরও কি ইসলামকে বিধর্মী বিদ্ধেষী হেটমুংগার বলতে পারেন?

  13. 25
    মুনিম সিদ্দিকী

    @আরশাফি,

    ভাই মুনিম
    আপনি যদি একটু খেয়াল করেন তো বুঝতে পারবেন আমার যা  প্রশ্ন বা বক্তব্য যাই দিয়েছি তা সবই একটি সূত্র ধরে বা তাকে কেন্দ্র করে ।   আপনার মূল পোস্টএর বক্তব্য ,-যে ইসলাম  ও অন্য ধর্মের সাথে তার সম্পর্ক ,সেটা কি রকম হতে পারে বা কোরান সে ব্যপারে কি বলে । আপনি নিজেও জানেন কোরানের বিশেষ কোন বক্তব্য সবটা এক সুরাতে থাকেনা ।             তাই  ‘খৃষ্টান ও ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব কর না। –এই বক্তব্যের ব্যখ্যা ও  বিচার করতে হবে সামগ্রিক ভাবে নইলে ভুল বোঝা হবে ।

    আমি তো আপনাকে সেই পয়েন্টের মধ্যে থাকতে প্রথম থেকে অনুরোধ করে আছি। কিন্তু আপনি বার বার বিষয় বহির্ভুত বিষয় নিয়েই আসছেন!  কাছে আপনার সাথে আলোচনা করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বে আপনার অযথা জাম্পিং ডামপিং  এর জন্য সে উদ্দেশ্য সফল হচ্ছেনা।

    আপনাকে একটি উদাহরন দিই ( হয়তো আপনিও জানেন )। জেনা করার শাস্তি সুরা নিসায় আছে-‘ তাদের গৃহে অবরুদ্ধ করে রাখবে যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু হয় ’৪:১৫। এই আয়াতটির আলোচনায়  আপনি যদি ২৪:২ কে টেনে না আনেন  তবে তো জেনার শাস্তি মৃত্যু দন্ডই মানতে হবে । এ ক্ষেত্রে পরের আয়াতটি দ্বারা(৮০ বেত্রাঘাত) প্রথমটি  বাতিল ,মনসুখ হয়ে যায়। যদিও বাতিল আয়াতের কথা অনেকে মানেননা। অনেকেই আবার ৫থেকে৫০০ বাতিল আয়াতের কথা বলেন।অবশ্য এইটি ভিন্ন প্রসঙ্গ।

    নিজেই যখন বুঝেন যে এইটি ভিন্ন প্রসঙ্গ তখন এই গুলো অকারণে তোলে আনছেন কেন?

    তাই বিধর্মিদের সাথে ব্যবহার,তাদের সম্পর্কে যত আয়াত আছে সবই বিবেচনায়  আনতে হবে ,নইলে আপনার ব্যখ্যা অপব্যখ্যায় পরিনত হতে পারে ।

    না! আমি আপনার সাথে একমত হয়ে পারছিনা। কারণ আপনি যে সব আয়াত উল্লেখ করেছিলেন তা আপাত দৃষ্টিতে আপনার কাছে একরকম মনে হলে আমার কাছে তা নয়। তার কারন হলো আমাদের দৃষ্টি ভংগি গত ব্যবধাণ!  যেমন আমি যে ভাবে ব্যখ্যা করেছি সেটি হল-ঐ আয়াত দ্বারা  কোরআন কি বুঝাতে চাইছে সেইটি । আর আপনি ব্যাখ্যা করেছেন, যেভাবে আপনার উদ্দেশ্যকে সফল করা যায় সেই ভাবে। এই যে দুই ধারা তা যে আপনিই প্রথম করেছেন তা নতুন নয়। এই ধারা মুসলিম নামধারী অনেক বিজ্ঞ মুফাসসীরগণও করে এসেছেন। আমি বলব তারা যে যুগের প্রতিনিধী  করতেন সে যুগের সমসাময়ীক অন্যান্য জাতি ধর্মের প্রচলিত কিছু যা উনাদের কাছে অধিক মানবিক লেগেছে সেই গুলো উনাদের ব্যাখ্যায় ছায়া ফেলেছে।  তাই আপনি তাদের সে ব্যাখ্যাকে সঠিক মনে করে ধরে নিয়েছেন, অথচ মূল কোরআন কি বলছে তা আপনার কাছে অপব্যখ্যা বলে মনে হচ্ছে।
     

    এই কারনে আমার প্রথম পোস্টটি ছিল কোরানে হিন্দু বৌদ্ধ ইহুদী খৃষ্টানদের সম্পর্কে নানা মন্তব্য –এ সবই  আনতে হবে বন্ধুত্বের আয়াতটির ব্যখ্যায়। বিধর্মীদের সম্পর্কে মনোভাব ব্যক্ত ছিল ওই সব আয়াতে ।

     
    না। আপনি যে সমস্ত আয়াত এনেছিলেন তার দ্বারা সামগ্রিক ভাবে শুধু মাত্র বন্ধুত্বের  সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। অন্যসব আয়াতের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাই আমি আপনাকে অনুরোধ করেছিলাম আসুন আমরা এক এক করে অন্য সব আয়াত ব্যাখ্যা করি, এবং আপনাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম- বলুন কোন আয়াত থেকে শুরু করব আপনি জানান। কিন্তু আপনি তা না জানিয়ে আরও এক বাঞ্জ নতুন প্রশ্ন জুড়ে দিলেন। এর ফলে আপনার সাথে আলোচনা করার ইচ্ছা উভে যায়। তারপরও আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে এবং এম আহমদ ভাই বিস্তারিত ভাবে ৯৮।১ আয়াতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে তার মূল কার্যকরণ তোলে ধরেছেন। কিন্তু আপনি সেখান থেকে জাম্প দিয়ে অন্যত্র চলে আসলেন।  আমাদের এখানে জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করতে এসেছি, কু তর্ক করতে নয়। তাই আপনাদের মত লোকের প্রয়োজন, এর জন্য যে আমাদের যুক্তি যেন অন্ধ বিশ্বাসের তলে হারিয়ে যায় না। আমাদের বিতর্ক শুধু কু তর্ক নয় এই বিতর্ক  আমরাদের গবেষনার অংগ । আপনাদের প্রশ্ন আমাদেরকে প্রশ্নের গভীরে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।  বিতর্ক যাতে কু তর্কে ধুলাবালিতে আচ্ছন্ন হয়ে না যায়  সেই চেস্টা আমাদের করতে হবে।

    আয়াত এর আওলিয়া শব্দের অর্থ সর্বত্র বন্ধু দেখেছি — আমার কাছে সাতটি বাংলা ও দু’টি ইংরেজি কোরান আছে সবকটিতেই অুবাদ করা হয়েছে বন্ধু, --অভিভাবক বা নিরাপত্তাপ্রদানকারি নয়। কেবল ইউসুফ আলী করেছেন একসাথে দুটি- বন্ধু ও নিরাপত্তাকারী । কেউই -অভিভবক বলেনি ।ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), মোবারক করিম গওহর,(কলকাতা )।থানভীর অনুবাদ মুনশী, মুস্তাফিজুর রহমান , ম.মুহিউদ্দীন,( সৌদি অর্থায়নে প্রকাশিত মারেফুল কোরান ), মওলানা আকরম খাঁ(ঝিনুক প্রকাশনী), মওদুদীর তাফহীমুল কোরান ,  ইংরেজি তে সাকির, ইউসুফ আলি । সবাই বলছেন- তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহন করনা এরা সবাই বিদ্যান ,বিশেষজ্ঞ আরবী ভাষায় পন্ডিত ।

    আপনি আমি বাংগালী বাংলা আমাদের মাতৃ ভাষা, সে ভাষায় আমরা যত সহজে ভাব প্রকাশ করতে পারি বা অন্যকে বুঝাতে পারি, লজিক্যালি অন্য ভাষায় যত পারদর্শী হন না কেন সেই ভাবে বুঝাতে বা প্রকাশ করতে সক্ষম হবেন না।
    উদাহরণ স্বরুপ আমাদের দেশের অনেক লোক ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে যখন কোন ইংলিশ সাহিত্যে পড়তে যায় তখন কিন্তু তিনি সব কিছু বুঝতে পারেন না। তখন বাধ্য হয়ে ডিকশনারীর সাহায্য নিতে হয়। তারপর হয়তো তিনি হুবহু অনুবাদ করতে সক্ষম হোন কিন্তু ১০০ ভাগ ভাব লাভ করতে পারেন না। ইংরেজী ভাষা তো মানুষ জীবিকার জন্য বা উচ্চতর শিক্ষার জন্য ব্যবহার করত করতে ইংরেজদের সাথে উঠে বসে অনেক রপ্ত করে নেন। কিন্তু আরবীর বেলায় তা নয়। আরবী যারা ভিন দেশিরা পড়েন তা কোন দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করেন না শুধু মাত্র একাডেমিক কাজের ব্যবহার করেন থাকেন, এর জন্য তাদের দৌড় ডিকসনারী তক থেকে যায়।
    আপনি  তো জানেন প্রাচীন কাল থেকে আরবরা তাদের নতুন জন্মনেয়া বাচ্চাকে মরুভুমিতে পাঠিয়ে দিত শুধু এর জন্য যে যাতে সে বাচ্চা বিশুদ্ধ আরবী ভাষা ব্যবহার করতে শিখে। কাজেই চিন্তা করেন আমরা যারা মাদ্রাসা পড়ে গুঠি কতক বই পড়ে কেমন করে ১০০ ভাগ আরবী ভাষা উপলব্ধি করতে পারবে। এখন যদি কেউ বিশুদ্ধ আরবী ভাষা জানতে চান তাকে একাডেমিক ভাবে তো শিখতে হবে তদূপরি উনাকে উনার ভাষা শিখার স্তর কপ্লিট করার জন্য আরবের কোন অজপাড়া গায়ে দীর্ঘ দিন ঐ এলাকার মানুষের সাথে উঠা বসা করে আরবদের বাক্য প্রয়োগের দ্বারা ইত্যাদি রপ্ত করতে হবে। তখন তিনি বুঝতে পারবেন একাডেমিক শিক্ষা লাভে যা তিনি শিখে ছিলেন আর বাস্তব আরবদের সাথে বাস করে তার উপলব্ধি অনেক পরিশুদ্ধ লাভ করেছে।
    অতএব উপরের উল্লেখিত রা কেউ ই সে ভাবে আরবী রপ্ত করে নাই। তা ছাড়া অনুবাদকের সমসায়ীক রাজনৈতিক জটিলতাও প্রচ্ছন্ন ভাবে উনার অনুবাদে প্রবেশ করতে পারে। এর জন্য আমাদের আলেমদের অনেক বয়ানকে মুল আরবী বাসী মুফাসসীর গণ  গ্রহণ করতে পারেন না।
    আমার এই অভিজ্ঞতা নিজের দীর্ঘ স্থায়ী আরবের ভিন্ন স্থানের অবস্থান এবং আমার সহধর্মীনি নিজে একজন আরব হওয়াতে আমি সহজে তরজমাগত ব্যবধান বুঝতে পারি। কাজেই উপরের তর্জমা কারী গণ কি বলেছেন সেটি মূখ্য নয় আল কোরআন কি বলতে চেয়েছে সেটি ই মূখ্য হওয়া উচিত।
     
     

    আপনার সমস্যাটি বুঝি । এই একবিংশ শতাব্দীতে এরকম সাম্প্রদায়িক উক্তি  হজম করা মুশ্কিল । যে কারনে পাকি
     
    নারীবাদী উযমা মাজহর এর কাছে ‘ধারাবা’ অর্থ প্রহারের বদলে সঙ্গম করা হয় ৪:৩৪, হাবীবুর রহমান  জিহাদ করার অর্থ যুদ্ধ না করে সংগ্রাম করেন ৮:৩৯ ; আবার মোবারকের করীম গওহর ‘ষড়যন্ত্রকারী আল্লাহ’(৮:৩০) থানভীর এর  কাছে হয়ে যান কৌশলী, planners ; সলম অর্থ সুফীদের কাছে শান্তিকামী আর ওহাবিদের কাছে আত্মসমর্পণকারী ; ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ  ধর্ম (দ্বীন) মওদুদীর কাছে এবং ওহাবীদের কাছে হয়ে যায় কর্মফল ১০৯:৬ –সেই একই কারনে এদের সবার  বন্ধু আপনার  কাছে  হয়ে যায় অভিভাবক ।

    না আমি তাদের সাথে একমত নই। এরা যুগের কারণে অন্য সভ্যতার চশমা নিয়ে কোরআনের আয়াতকে ট্যুস্ট করে অনুবাদ করছেন। কোরআনে এদের সম্পর্কে হুশিয়ারী দেয়া হয়েছে- যারা ইচ্ছা করে কোরানের ব্যখ্যাকে ট্যুইষ্ট করবে তাদের জ্ন্য ভয়ানক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তাই যিনি আজকের নারী বাদী চেতনার আলোকে ধারাবার অর্থ সঙ্গম করেন তিনি সত্যের অপলাপ করে থেকেন।  জিহাদ যুদ্ধ নয়। আরবে যুদ্ধ কে হারব বলে কাজেই জিহাদ কি তা নিয়ে লিখতে গেলে আলাদা প্রবন্ধ লিখতে হবে। ষাড়যন্ত্রকারী শব্দটি আমাদের দেশজ ভাবে নেতিবাচক প্রকাশ হলেও আরবী ভাষায় যে তা নেতিবাচক হবে এমনটি কে বলল! কথায় বলে একদেশের বুলি আর এক দেশের গালী। এখানে বলা হচ্ছে মানুষের ক্ষমতা কি এমন ষড়যন্ত্র করতে পারে ! আল্লাহ্‌ তার তোলনায় এর চেয়ে বড়  ষড়যন্ত্র করতে সক্ষম! পুরা কথায় যেটি বুঝা যায় তা হল-মানুষ যত কৌশল প্রয়োগ করে না কেন আল্লাহর দিনকে স্তব্দ করে দিতে কিনতু আল্লাহ্‌ তাদের চেয়ে বড় কৌশলী আল্লাহ্‌ তাদের কৌশলকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিতে সক্ষম। গওহর সাহেব এখানে ভুল তর্জমা করেন নাই।  এই নিয়ে আর কথা বাড়াতে চাই নাই। এখানে এক কথায় সব ব্যখ্যা করা সম্ভব নয়।
     

     এখানে  আপনার ভূমিকা ইসলামের এপলজিস্ট এর ,আপনি ইসলামের কালিমাগুলো দূর করতে চান ,কিন্তু ভুলেও স্বীকার করবেন না যে এসব সংস্কার । কেননা সেটি বললে ইসলামএর পারফেকশন থাকেনা ।ইদানীং অবশ্য এমন অনেক বের হয়েছে ,যারা আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে,আপন রাজনীতির বিশ্বাসের কারণে ক্লাসিক প্রমিত অনুবাদ কে বাদ দিয়ে নতুন অর্থ বের করেন ।

     
    না মোটেই তা নয়। আমি ইসলামের কালিমার দূর করতেছিনা। ইসলামে কোন কালিমা থাকতে পারেনা। ইসলাম এসেছে আল্লাহর কাছ থেকে কাজেই আল্লাহর কোন কালিমা থাকতে পারেনা। তিনি সকল কালিমা থেকে মুক্ত।  যা করছি তাহল নদীতে যুগে যুগে যেমন নানা আগাছা পরগাছা জন্মে তেমনি ইসলামে অনেক আগাছা পরগাছা সেওলা জন্মেছে, যে গুলো মূল ইসলাম থেকে দূরে চলে গেছে তাই আমি চেষ্টা করছি সেই আগাছা পর গাছা থেকে মুক্ত করে ইসলামের আসল রূপ তোলে ধরা।
     

  14. 24
    arshafi

    ভাই মুনিম
    আপনি যদি একটু খেয়াল করেন তো বুঝতে পারবেন আমার যা  প্রশ্ন বা বক্তব্য যাই দিয়েছি তা সবই একটি সূত্র ধরে বা তাকে কেন্দ্র করে ।   আপনার মূল পোস্টএর বক্তব্য ,-যে ইসলাম  ও অন্য ধর্মের সাথে তার সম্পর্ক ,সেটা কি রকম হতে পারে বা কোরান সে ব্যপারে কি বলে । আপনি নিজেও জানেন কোরানের বিশেষ কোন বক্তব্য সবটা এক সুরাতে থাকেনা ।             তাই  ‘খৃষ্টান ও ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব কর না। –এই বক্তব্যের ব্যখ্যা ও  বিচার করতে হবে সামগ্রিক ভাবে ।নইলে ভুল বোঝা হবে ।
    আপনাকে একটি উদাহরন দিই ( হয়তো আপনিও জানেন )। জেনা করার শাস্তি সুরা নিসায় আছে-‘ তাদের গৃহে অবরুদ্ধ করে রাখবে যতক্ষণ না তাদের মৃত্যু হয় ’৪:১৫। এই আয়াতটির আলোচনায়  আপনি যদি ২৪:২ কে টেনে না আনেন  তবে তো জেনার শাস্তি মৃত্যু দন্ডই মানতে হবে । এ ক্ষেত্রে পরের আয়াতটি দ্বারা(৮০ বেত্রাঘাত) প্রথমটি  বাতিল ,মনসুখ হয়ে যায়। যদিও বাতিল আয়াতের কথা অনেকে মানেননা। অনেকেই আবার ৫থেকে৫০০ বাতিল আয়াতের কথা বলেন।অবশ্য এইটি ভিন্ন প্রসঙ্গ।
    তাই বিধর্মিদের সাথে ব্যবহার,তাদের সম্পর্কে যত আয়াত আছে সবই বিবেচনায়  আনতে হবে ,নইলে আপনার ব্যখ্যা অপব্যখ্যায় পরিনত হতে পারে । এই কারনে আমার প্রথম পোস্টটি ছিল কোরানে হিন্দু বৌদ্ধ ইহুদী খৃষ্টানদের সম্পর্কে নানা মন্তব্য –এ সবই  আনতে হবে বন্ধুত্বের আয়াতটির ব্যখ্যায়। বিধর্মীদের সম্পর্কে মনোভাব ব্যক্ত ছিল ওই সব আয়াতে ।
    আয়াত এর আওলিয়া শব্দের অর্থ সর্বত্র বন্ধু দেখেছি -- আমার কাছে সাতটি বাংলা ও দু’টি ইংরেজি কোরান আছে সবকটিতেই অুবাদ করা হয়েছে বন্ধু, -অভিভাবক বা নিরাপত্তাপ্রদানকারি নয়। কেবল ইউসুফ আলী করেছেন একসাথে দুটি- বন্ধু ও নিরাপত্তাকারী । কেউই -অভিভবক বলেনি ।ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), মোবারক করিম গওহর,(কলকাতা )।থানভীর অনুবাদ মুনশী, মুস্তাফিজুর রহমান , ম.মুহিউদ্দীন,( সৌদি অর্থায়নে প্রকাশিত মারেফুল কোরান ), মওলানা আকরম খাঁ(ঝিনুক প্রকাশনী), মওদুদীর তাফহীমুল কোরান ,  ইংরেজি তে সাকির, ইউসুফ আলি । সবাই বলছেন- তোমরা ইহুদী ও খৃষ্টানদের বন্ধু হিসেবে গ্রহন করনা ।এরা সবাই বিদ্যান ,বিশেষজ্ঞ আরবী ভাষায় পন্ডিত ।
    আপনার সমস্যাটি বুঝি । এই একবিংশ শতাব্দীতে এরকম সাম্প্রদায়িক উক্তি  হজম করা মুশ্কিল । যে কারনে পাকি নারীবাদী উযমা মাজহর এর কাছে ‘ধারাবা’ অর্থ প্রহারের বদলে সঙ্গম করা হয় ৪:৩৪, হাবীবুর রহমান  জিহাদ করার অর্থ যুদ্ধ না করে সংগ্রাম করেন ৮:৩৯ ; আবার মোবারকের করীম গওহর ‘ষড়যন্ত্রকারী আল্লাহ’(৮:৩০) থানভীর এর  কাছে হয়ে যান কৌশলী, planners ; সলম অর্থ সুফীদের কাছে শান্তিকামী আর ওহাবিদের কাছে আত্মসমর্পণকারী ; ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ  ধর্ম (দ্বীন) মওদুদীর কাছে এবং ওহাবীদের কাছে হয়ে যায় কর্মফল ১০৯:৬ –সেই একই কারনে এদের সবার  বন্ধু আপনার  কাছে  হয়ে যায় অভিভাবক । এখানে  আপনার ভূমিকা ইসলামের এপলজিস্ট এর ,আপনি ইসলামের কালিমাগুলো দূর করতে চান ,কিন্তু ভুলেও স্বীকার করবেন না যে এসব সংস্কার । কেননা সেটি বললে ইসলামএর পারফেকশন থাকেনা ।ইদানীং অবশ্য এমন অনেক বের হয়েছে ,যারা আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে,আপন রাজনীতির বিশ্বাসের কারণে ক্লাসিক প্রমিত অনুবাদ কে বাদ দিয়ে নতুন অর্থ বের করেন ।
    একটা কথা  ঠিক যে কোরান একটি হলেও এর ব্যখ্যায় কোন দুই মুসলমান এক নয় । এ কথা মওদুদীও বলেছেন(তাফহীমূল কোরানের ভুমিকা) । ওরিয়েন্টলিজম খ্যাত এডওয়ার্ড সাঈদ বলেছেন-
    'ইসলাম প্রত্যেক মুসলমানের কাছেই আলাদা দ্যোতনা নিয়ে হাজির হয়।'
    আরবী ভাষায় এক শব্দের চৌদ্দ রকম অর্থের উপর ভরসা করে; সময়ের পরিপ্রেক্ষিতের কথা বলে ; কনটেক্স্ট এর কথা বলে;সমগ্রতার কথা বলে কোরানের যে কোন অর্থ ১৮০ ডিগ্রী ঘুরিয়ে দেয়া যায় । টিকে থাকার জন্য  কালে এই প্রকার পরিবর্তন চলবেই বিজ্ঞানের সাথে মিলিয়ে চলার জন্য এখন ডিম্বাকৃতি ডিমের কথাও জাকির সাহেব বের করেছেন-ক্লোন করার কথাও নাকি কোরানে আছে- অতএব সমস্যা নাই। বন্ধুকে অভিভাবক করুন –সবই চলবে ।  কারণ  কেউ মানবে, কেউ না ।একটাই অসুবিধা এই রকম অর্থের মানে বদলে বদলে যেতে থাকলে কোরানের মূল অবস্থান কখনই বাহির করা যাবেনা, এবং সবই ধোঁয়াশা হয়ে যাবে ।
    প্রসঙ্গ ধরেই আমার সমস্ত প্রশ্নগুলো করেছিলাম ,আপনি উত্তর না দিয়ে কেবল একটি জায়গায় স্থির  থাকতে চান । তাহলে কি ধরে নেব সে সবের উত্তর আপনার কাছে নাই । পাওয়ার অপেক্ষায় থাকলাম  ।

  15. 23
    সাঈদ চৌধুরী

     
    নাস্তিক ও অবিশ্বাসীদের জন্য এর চেয়ে বর সত্য আর কি হতে পারে ???
    সুরা আল-হেজর ।
    ১।আলিফ লাম-রা । এইগুলো হচ্ছে সেই মহান গ্রন্থ ও সুস্পষ্ট
    কোরআনের আয়াত।
    ২।(এমন একটি দিন অবশ্যই আসবে যেইদিন ) যারা (আল্লাহ তায়ালাকে )অস্বীকার করেছে তারা চাইবে,যদি (সত্যি সত্যিই )তারা মুসলমান হয়ে যেতো!
    ৩।(হে নবী,) তুমি তাদের (নিজ নিজ অবস্থার উপর) ছেড়ে দাও, তারা খাওা দাওয়া করুক, ভোগ উপভোগ করতে থাকুক, (মিথ্যা ) আশা তাদের মোহাছন্ন করে রাখুক, অচিরেই তারা জানতে পারবে (কোন প্রতারণার জালে তারা আটকে পড়েছিল) ।      

    1. 23.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

  16. 22
    সাঈদ চৌধুরী

    জটিল 

  17. 21
    এম_আহমদ

    @মুনিম
    ভাই আবার আসতে হল।

    ইসলাম কিন্তু সম্পূর্ণ পৌত্তলিকতা মুক্ত হতে পারেনি। পৌত্তলিকতার ছাপ অন্যান্য ধর্মেও আছে, ইসলামেও রয়ে গেছে নানা ভাবে।

    উপরের বাক্যটি মিথ্যা। জাহেলী যুগের পৌত্তলিক জীবন ব্যবস্থা ও বিশ্বাস থেকে মুক্ত করতে ইসলামের আবির্ভাব হয়েছিল। ইসলাম তার কাজ পরিপূর্ণ করেছে, এবং দ্বীন-ধর্মকে পৌত্তলিকতা-মুক্ত করেছে। প্রত্যেক ধর্ম ও সমাজ সভ্যতা তার পূর্ববর্তী সমাজ ব্যবস্থার ভাল আচার-আচরণ, বিশ্বাস,কাজ ও প্রথার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। পুরাতন ঘরের কিছু ভাল মাল-মসলা নতুন ঘরে আসায় ঘরটির নতুনত্ব অস্বীকার করা যায়না। ভাষাসহ, শিক্ষা-সংস্কৃতির সব দিকের অবস্থা এইরূপ। আমাদের বাংলার সপ্তাহ, মাস ইত্যাদি নামের সাথে দেবদেবীর ধারণা ছিল। কিন্তু মুসলমানরা যখন এই শব্দগুলি ব্যবহার করতে শুরু করে তখন তাদের ধারণায় সেই দেব-দেবী আসে নি। বরং নতুন ব্যবহারে নতুন ‘অর্থের’ সমাহার হয়েছে। আরবের পৌত্তলিক জাহেলী যুগের অনেক শব্দ, অনেক ধারণা অনেক আচার অনুষ্ঠান  তাদের পূর্বের পৌত্তলিক ধ্যান/ধারণা  বিবর্জিত হয়ে তাওহীদে রূপান্তরিত হয়েছে।আল্লাহ নতুন ধর্মের নতুন ভাষা, নতুন কাপড়-চোপড়,  নতুন ঘর-দোয়ার, নতুন আসবাব-পত্র শ নবীকে পাঠাতে হয়নি, বরং পুরাতনের ভালোকে কেন্দ্র করে নতুনের স্থান হয়েছে। সকল ক্ষেত্রে। ‘আল্লাহ’ যে অর্থে পূর্বে ব্যবহৃত হত সেই অর্থ পরিবর্তিত হয়ে তাওহীদের ধারণায় রূপান্তরিত হয়েছে। চাঁদ, সূর্য, গ্রহ, তারা কোন কিছুই আগের অর্থে থাকে নি, সবই হয়ে পড়েছে ‘এক আল্লাহর’ সৃষ্ট বস্তু, ওরা আল্লাহ তাসবীহ করে, ওরা আল্লাহর অনুগত। যে পৌত্তলিক ধারণা তাদের জীবনের কাজে কর্মে ও প্রাতিষ্ঠানিকতায় কাজ করত তা পরিবর্তিত হয়ে তাওহীদের রূপ নেয়। যে কা’বা ঘর ‘দেব-ধারণায় (deity) রূপান্তরিত হয়েছিল, যার নামে সন্তানের নামকরণ হত ‘আব্দুল কা’বাহ’, সেই ধারণা শেষ হয়। কাবা-গৃহকে তার গোত্রীয় দেবমূর্তির সমাহার হতে মুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পুরানো কা’বা তার আপন স্থানেই ছিল, এখনো আছে। জাহেলী যুগে হজ্জ ছিল, সে হজ্জ এখনও আছে। কিন্তু সেই পৌত্তলিক তালবিয়াহ নেই, সেই পৌত্তলিক বিশ্বাস কোন কাজে নেই। এক আল্লাহ ছাড়া এবং পদে পদে এক খোদা ও তাঁর স্মরণ ছাড়া কোন কাজে, কোন পদক্ষেপে অন্য কারো ইবাদত নেই, স্মরণ নেই। স্থানাদী আছে, তাওহীদবাদী ইব্রাহীমের (আঃ) স্মৃতি চিহ্ন আছে, জামারাত  আছে, কিন্তু সেখানে সেই জামারাতে কঙ্করই মারা হয়, শয়তান ও শয়তানের চির-সাংঘর্ষিক স্মৃতি স্মরণে আনা হয়। এ সবের কোথায়ও পৌত্তলিকতার নাম গন্ধও নেই। এসবের কোন কাজেই জাহেলী যুগের পৌত্তলিক ইবাদত নেই, পৌত্তলিক ধারণা নেই, “পুরো হজ্জটাতেই পৌত্তলিক প্রথার রূপান্তর’ হয়েছে, একত্ববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঘর আছে, মূর্তি নেই, শব্দ আছে আগের ধারণা নেই, কর্মের রূপ আছে (structure), পূর্বের বিশ্বাস নেই। এটাই সত্য, এটাই বাস্তবতা-ভিত্তিক ব্যাখ্যা (reality based interpretation)। তবে এটাও বলা যেতে পারে যে এই হজ্জও পৌত্তলিকতা পূর্বে তাওহীদবাদী ছিল, তারপর পৌত্তলিকতা ঢুকেছে আমর বিন লু'য়াই থেকে।
     
    তবে হ্যাঁ, তাওহীদ ও পৌত্তলিকতার interexchange এর একটা স্থান অন্যত্র আছে –এখানে নেই, মূল ধর্মে নেই। সেই স্থানটি হচ্ছে চিরন্তন (universal)। পৌত্তলিকতা ও তাওহীদ –এই দুই ধরণের বিশ্বাস ও জীবন ব্যবস্থা একে অন্যকে influence করার দ্বান্দ্বিকতা চিরকালের। উভয় স্থানের ব্যাখ্যা এমন রূপলাভ করে আছে যে কেউ কাউকে নিঃশেষ করতে পারবেনা। এখানে এপার ভেঙ্গে এটা ঢুকে, সেখানে ওপার ভেঙ্গে ওঠা ঢুকে। কিন্তু ‘ইসলামে তার প্রাথমিক যুগ থেকে পৌত্তলিকতার কিছু ধারণ করে আছে’ –এমন কথা মিথ্যা। কোরান ও হাদিস পৌত্তলিকতাকে ধরণ করে নেই। মুসলমানদের মধ্যে এখানে সেখানে কোন কাজে কর্মে পৌত্তলিক আচরণ করতে পারে। তবে যে ব্যক্তি ইসলাম ও মুসলমানের মধ্যে পার্থক্য বুঝে না,  তার অনেক কিছুই গোলমাল হওয়ার কথা।
    ইসলামে পৌত্তলিকতা দেখাতে বাঁকা চন্দ্রের ব্যাখ্যা অনভিজ্ঞ। বেবিলনিয়ান আসিরিয়্যানদের চন্দ্র দেবতা কি তাদের এলাকা অতিক্রম করে আস্তে আস্তে হিজাজে ঢুকেছিল, না বরং ইয়ামানী triad  এর চাঁদ, সুরুজ ও উসতারের পৌত্তলিকতার ধারণা migrated হয়ে এখানে, এক কালে ছিল, আবার তা কী সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত সেই অবিকল সে ধারণায় নিয়ে বেঁচেছিল, সব গোত্রে কি তা ছিল, না এখানে সেখানে, সেসব কথায় যাওয়া যেতে পারে, কিন্তু ইসলাম যেহেতু কোথায়ও চন্দ্রের দৈবিকতা ও পূজ্যস্থান রাখেনি, তাই সেই চন্দ্র বাঁকা হোক অথবা সোজা, সে কথা নিরর্থক। প্রাচীন ধারণার ঐতিহাসিকতা খুঁজার জন্য linguistic archaeology-তেও যাওয়া যেতে পারে এই অর্থে, যে অর্থে আমরা (মুসলমানরা) রবি, সোম, মঙ্গল ইত্যাদি বারগুলো দেখি। অর্থাৎ আমরা গ্রামাটিক্যাল usage এ archaeology চালালে আরবীর চাঁদ (ক্বামার) ও সূর্য (শামস) কে পুরুষ শব্দ নারী শব্দে (respectively) পাব যা প্রাচীন কালের প্রথমটির ধারণার চন্দ্রদেব এবং দ্বিতীয়টির ধারণা সূর্যদেবী হিসেবেই পেতে পারি। কিন্তু সেই শব্দ সম্ভার ইসলামে এসে পৌত্তলিক ধারণা ও ইবাদত বিবর্জিত হয়েছে।
     
    সব শেষে কোরানের গীত গেতে এসে আপনার কোরান বিশেষজ্ঞ কত দিকে যাচ্ছেন, এবং আরও যে কত দিকে যাওয়া হবে তা কেবল আল্লাহই জানেন। হয়তবা বিগত হাজার বৎসরের ইসলাম বিদ্বেষী লেখা আপনার ব্লগে ঢালা হবে।

    1. 21.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      উহু! যা দিলেন ! আমার আশ্রাফি ভাই এর আর কি কিছু জানার বাকি থাকতে পারে!!!!

  18. 20
    এম_আহমদ

    @ মুনিম
    ভাই, আপনার কোরান বিশেষজ্ঞের খবর কী? ভেবেছিলাম তার কাছ থেকে context আসবে, গোটা বিশ্ববাসীর ব্যাপার আসবে। কোরান সম্পর্কে না জানা বিষয়াদি আসবে। কিন্তু কিছুই তো এলো না। লক্ষণীয় যে তার উদ্ধৃতিগুলোতেই আয়াতের spec city “স্পষ্ট” ছিল, শুধু ‘খেয়াল করা হয় নি’, cut and paste হয়েছে। ৯৮:০৬ আয়াতের লোকজন ছিল “আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা সত্য-ত্যাগী” –অর্থাৎ তারা  “সকল” আহলে-কিতাবও নয়, “সকল” মুশরেকও নয়।  ৯:২৮ আয়াতের মূল স্থান ‘সারা-বিশ্ব নয়’ বরং মসজিদে হারাম। পরিবত্রতার ব্যাপারে আগে কমেন্ট করেছি।  ২:৬৪ আয়াত সকল ইয়াহুদী নয় বরং একটি ‘বিশেষ এলাকার বিশেষ গ্রুপ’ যারা ‘তাদের ধর্মর’ ধর্ম লঙণ করেছিল, তাদের বলা হয়েছিল তোমরা তোমরা লাঞ্ছিত ‘বানরের মত হয়ে যাও’, বা বানর হয়ে যাও। আরবী فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُواْ قِرَدَةً خَاسِئِينَ বাক্যটি হচ্ছে ‘মিছালী’/parabolic, তাই কেহ কেহ অনুবাদ করেছেন ‘–এর মত’ হয়ে যাও আর কেহ literally ‘হয়ে যাও’)। ওরা ছিল ধর্মীয় বিধান লঙণকারি কিছু জেলে, specificity আয়াতেই স্পষ্ট।  ৫:৬০ এবং ৬২:৫ আয়াতও অনুরূপ যেখানে কেবল ওরাই যারা তাওরাতকে অস্বীকার করেছিল, মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে আত্ম-নিয়োগ করেছিল, তারা। এটাও ছিল specific, কিছু লোক যারা ইয়াদী ধর্মের বিরোধিতা করেছিল। এখানে কথাটি মূলত ইয়াহুদী ধর্মের পক্ষে। এখানে অন্যান্য ধর্মের কেহ নেই, সারা বিশ্ববাসী নেই।
    যারা আল্লাহর আল্লাহর নাফরমানি করে, অবাধ্য হয়, ঈমানদেরকে মারে-ধরে, তাদেরকে ‘অবাধ্য’ নাফরমানই তো বলা হবে, এতে সারা দুনিয়া দুশমন হওয়ার কথা নয়। এগুলো হচ্ছে ধর্মীয় পরিভাষা, সব ধর্মে আছে। এখানে ৫:৫৯, ৩:১১০ আয়াতে আহলে কিতাবের ‘নাফরমানদের’ কথাও বলা হয়েছে। But still specific. যারা আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে, যে তার অপকার করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। এটাই চরম পথভ্রষ্টতা, ২২:১২-১৩, ২১:৯৮, ৮:৫৫, ৮:৫৫, ৯৮:০৬ ইত্যাদির specific. কোরানের আয়াত সেদিন যখন নাজিল হচ্ছিল তখন মুসলমানরা ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার। অপর পক্ষ শুধু আল্লাহর বাণী অস্বীকারই করে ক্ষান্ত হয়নি বরং আল্লাহর বান্দাদের উপর জুলুম করেছে, নির্যাতন করেছে। অমূলকভাবে ব্যঙ্গবিদ্রূপ করেছে। এ সব লোকের ব্যাপারে কোরান কী বলবে? বেহেস্তের সুসংবাদ দেবে? সৃষ্টির সেরা জীব বলবে? কলিয়া কাবারের কথা বলবে? যারা জোর-জুলুম করে, তারা তো ‘নিকৃষ্ট’ লোক, পথভ্রষ্ট লোক, জালিম। আজ যারা সেই অমানবিক জুলুমের পক্ষ অবলম্বন করে, তারাও নিকৃষ্ট, অসভ্য। ১৫ বৎসর পরেও সেই “জালিমদের” উত্তরসূরিরা মানবতা দেখাতে গিয়ে ধর্মীয় নির্যাতনকে সমর্থন করে। প্রাসঙ্গের ডাক তুললে সরে দাঁড়ায়।

  19. 19
    Arafat Bin Sultan

    "ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত করেনি,তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন। (৬০:৮)" অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর গভীরভাবে আলোচনা করার জন্য। 
    গ্যালারিতে আছি। দেখি, কে কি বলেন . . . . . 

    1. 19.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়া আর কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।

  20. 18
    মুনিম সিদ্দিকী

    @ফুয়াদ দীনহীন says:

    Munim Bhai and Koratua Bhai,
    It is true that he has come to learn. So, it is our duty not to judge him but to answer his question logically and politely as far as possible. It's my point of view.
    As far I know about Islam is that anyone who themselves come to learn Islam, deserve priority.

     
    It is human tendency that they do not wanna lose in the logic, but I think, may be he will think later.

    হ্যা ফুয়াদ ভাই আমিও সেই ভাবেই ভাবছি। যতক্ষণ তিনি জানতে চাইবেন ততক্ষণ জবাব দেবার চেষ্টা করে যাব। তবে প্রশ্ন গুলো এক এক করে করতে হবে। ধন্যবাদ।

  21. 17
    আগামী

    প্রথমেই বলে নেই আপনার পোস্টটির উদ্দেশ্য নি:সন্দেহে ভাল। এটা সাধুবাদ পাবার যোগ্য। পাশাপাশি এও বলতে চাই, আপনি এই কথাটি ঠিকই বলেছেন-

    আল-কোরআনের বেলা অনুবাদ কর্মটি আরও জটিল, কারণ আল কোরআনের ভাষা, ভাষার অলংকরণ, বাক্য প্রয়োগের ধারা ইত্যাদি সমকালীন আরবি সাহিত্যের নয়। এটি ১৫শত বছর আগের কোরেশী আরবি ভাষা বিন্যাস, সে সময়ের মানুষের বুঝার উপযোগী বাক্য প্রয়োগ, অলংকরণ ব্যবহার করা হয়েছিল। কাজেই একজন অনুবাদকে শুধু আরবিতে পারদর্শী হলেই হবেনা ১৫ শত বছর আগের কুরাইশী আরবি সাহিত্যে প্রচুর দখল রাখতে হবে।

    কিন্তু আবার আপনিই একটি আয়াতের অনুবাদ করলেন। এটা কি আপনি জ্ঞানত ঠিক করলেন ? মানে ১৫ শত বছর আগের কুরাইশী আরবি সাহিত্যে প্রচুর দখল নিয়ে করলেন ? নাকি একটু স্ববিরোধী হল ?
    এবার আসি আপনার আলোচনার প্রসংগে। কাফেরদের কথা বাদ দিলাম। যখন কোন আলেমে দীন আওলীয়ার অর্থ বন্ধু করেন তখন তাকে কী বলবেন ? ইসলাম বিদ্বেষী ? নাকি মূর্খ ? আমাদের দেশে প্রচলিত অনেক তাফসীর বা অনুবাদেই এই আয়াতে বন্ধু অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং ইসলাম বিরোধীদের দোষ দিবেন কেন ঢালাওভাবে ?
    আমি মনে করি, এই ধরনের আলোচনায় কাউকে কটাক্ষ করা উচিত নয়। নিরাসক্ত দৃষ্টির সাথে ভাষাও ব্যবহার করতে হবে। যাতে কোন ভাবেই আলোচনার সৌন্দর্য নষ্ট না হয়।
    এই আয়াতে আওলীয়া শব্দের অর্থ যাই হোক না কেন, আমি ভেবে দেখেছি এবং পড়ে যতটুকু বুঝেছি তাতে প্রেক্ষাপটই বেশি গুরুত্বপূর্ণ -কোনভাবেই বন্ধু / অভিভাবক নয়।
    আশা করি আমার বক্তব্য স্পষ্ট করতে পেরেছি।
     
     
     

    1. 17.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      কিন্তু আবার আপনিই একটি আয়াতের অনুবাদ করলেন। এটা কি আপনি জ্ঞানত ঠিক করলেন ? মানে ১৫ শত বছর আগের কুরাইশী আরবি সাহিত্যে প্রচুর দখল নিয়ে করলেন ? নাকি একটু স্ববিরোধী হল ?
       
      আপনি যে ভাবে চিন্তা করছেন সে অবশ্য স্ববিরোধ কিন্তু আমার যদিও আরবি সাহিত্যে দখল প্রচুর নেই তথাপি যখন কোন আয়াত নিয়ে আমার মনে সন্দেহ দেখা দেয় তখন এর মূল খুঁজতে শুরু করি, যার জন্য বাংলা ইংরেজি অনুবাদ ছেড়ে মূল আরবিতে প্রাচীন কালীন প্রখ্যাত বিখ্যাতদের তরজমা এবং হালিয়ান আরবি ভাষায় পারদর্শী যারা নেটে বিভিন্ন বি ধর্মীদের জবাব যুক্তিক ভাবে দিয়ে থাকেন তাদের কাছ থেকে যেটি আমার বিবেক বুদ্ধি সত্য এবং ন্যায় সংগত বলে মনে হয় সেই গুলিকেই বাংলায় প্রকাশ করে থাকি।

      এবার আসি আপনার আলোচনার প্রসংগে। কাফেরদের কথা বাদ দিলাম। যখন কোন আলেমে দীন আওলীয়ার অর্থ বন্ধু করেন তখন তাকে কী বলবেন ? ইসলাম বিদ্বেষী ? নাকি মূর্খ ? আমাদের দেশে প্রচলিত অনেক তাফসীর বা অনুবাদেই এই আয়াতে বন্ধু অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং ইসলাম বিরোধীদের দোষ দিবেন কেন ঢালাওভাবে ?

      দেখুন এই প্রশ্নটি আমার মনেও প্রায় আসে, কেন আমাদের উলেমায়ে কেরামগণ সঠিক অর্থ জেনেও উনার প্রটেক্টর ব্যবহার না করে বন্ধু শব্দটি ব্যবহার করে আসছেন। আমার কাছে মনে হয় উনারা সচেতন ভাবে তা করে থাকেন। তাদের হয়তো ভয় মুসলিমরা বিধর্মীদের সাথে অবাধ মেলা মেশা করলে তাদের চিন্তা চেতনায় ভ্রান্তি আসবে সেই চিন্তা ডিফেন্সিভ ভাবে আয়াতকে প্রচার করে থাকেন। এই নীতি ঠিক কি বেঠিক আমি বলতে পারিনা। তবে শুধু কন টেক্সট অনুযায়ী ব্যাখ্যা করেছি। যাতে আমরা আমাদের ধর্মকে ধারণ করেও অন্যান্য ধর্মের লোকদের সাথে সকল ধরণের সামাজিকতা চালিয়ে যেতে পারি।

      আমি মনে করি, এই ধরনের আলোচনায় কাউকে কটাক্ষ করা উচিত নয়। নিরাসক্ত দৃষ্টির সাথে ভাষাও ব্যবহার করতে হবে। যাতে কোন ভাবেই আলোচনার সৌন্দর্য নষ্ট না হয়।

      কটাক্ষ করার আমার উদ্দেশ্য ছিলনা, যদি অজান্তে কাউকে কটাক্ষ করে ফেলি তার জন্য দূঃখিত!

      এই আয়াতে আওলীয়া শব্দের অর্থ যাই হোক না কেন, আমি ভেবে দেখেছি এবং পড়ে যতটুকু বুঝেছি তাতে প্রেক্ষাপটই বেশি গুরুত্বপূর্ণ -কোনভাবেই বন্ধু / অভিভাবক নয়।
      যাক আপনি আসল অর্থ বুঝতে পেরেছেন সেটিই আমার কাম্যতা ছিল। আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য ধন্যবাদ।

  22. 16
    arshafi

    ভাই মুনিম।
    আমার শেষ পোস্টটি সহ সব পোস্টই আপনার প্রতি। আমি যেহেতু আপনার পোসটটির উপর কমেন্ট শুরু করি তাই সবটাই আপনার সাথেই হচ্ছে।শেষ পোস্টটিতে আপনাকে সম্বোধন করতে ভুলে গেছি। এবার আশাকরি এর উত্তর দেবেন ।       এই  সাথে আর একটা পোস্ট দিলাম ।
    ধন্যবাদান্তে।।
     
    আপনি বিবেকানন্দ মিসকোট করেছেন-সব বিশ্বাসই সঠিক এমন কোন কথা উনি বলেন নাই। উনার বিখ্যাত বাণী হলো-
    ‘বহুরূপে সম্মুখে তোমার      ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর?
    জীবে প্রেম করে যেইজন    সেইজন সেবিছে ঈশ্বর ।’
    আপনি যেটা মিন করতে চাইছেন সেটি রামকৃষ্ণের কথা –যত মত তত পথ। এখানে বিশ্বাসের কথা নয় –সেই সত্যের মন্জিলে পৌছানোর পথের কথা বলেছেন ।সত্য একটাই কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পথটা ভিন্ন হতে পারে ।বিবেকানন্দ সব ধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেছেন ,সব ধর্ম সঠিক এমন কিছু বলেন নাই ।
    'মুসলিমরা যদি ঘৃণা করত তাহলে ৭০০ বছর ভারত শাসন করার পর এই দেশে হিন্দু থাকার কথা ছিলনা''।
    মুসলমানরা প্রথম দিকে যত দেশ জয় করেছে তার  সবগুলোরই ভাষা সভ্যতা সং্স্কৃত  নিশ্চিহ্ন করেছে-আরব উপত্যকার নানা  ছাড়াও  মেসোপটেমিয়া,ইরাক, সিরিয়া , তুরস্ক,মিশরীয় সভ্যতা  বাইজেন্তীয়, উত্তর আফ্রিকার দেশ সমূহ সমুলে নিশ্চিহ্ন হয়েছে ভাষা,সংস্কৃতি।
    কেবল পারেনি পারসিক সভ্যতাকে ধ্বংস করতে।পারসীরা যদিও ধর্মটা, নিয়েছে-কিন্ত সভ্যতা সংস্কৃতি নেয়নি ,আরবী ভাষা পরিত্যাগ করেছে ।
    কামাল আতাতুর্ক সমস্ত আরবীয়ানাকে বিদায় করেছে সমূলে।
    ভারত বর্ষে  ইসলাম এসেছিল মুলত: রাজার বেশে রাজ্য বিস্তার করতে। তাই রাজনীতির খাতিরেই তারা জোর জবরদস্তি করেনি ।সেটা ইসলামের গুনে নয় ,রাজাদের রাজ্য শাসন নিমিত্ত পলিটিক্স। নইলে আকবরকে তিনি কোন মুসলমালের দলে ফেলবেন ? যে নিজেইএক নতুনধর্ম তৈরি করেছিল ?
    তা ছাড়া ইরানের মরমীবাদ,গ্রীক নয়া প্লেটোইজম আর ভারতীয় দ্বৈতবাদের মিশেল  হলো ভারতবর্ষের সুফি ইসলাম । যা মূল ইসলাম বলে বেদাত,বিচ্যূতি ।আজও ওহাবিরা পারলে এখনই নিশ্চিহ্ন করে। পাকিস্তানে  তালেবানরা তো এখন সব সুফিদের বোমা মেরে উড়িয়েই দিচ্ছে।
    ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে সুফি ইসলাম গেছে এবং তারা হিন্দু সভ্যতার ঐতিহ্য মেনে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করছে , রামায়ন ওদের ঐতিহ্য ,নাম রাখে সুকর্নপুত্রী,ওদের জাতীয় এয়ারলাইনসের নাম গরূঢ়। সে সব ওদের সহনশীল রাজার কীর্তি।মুল ইসলাম অনেক পরিবর্তিত –অনেক সংস্কৃত ।
    'পৌত্তলিকতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছিল দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্দোলন '-
    ইসলাম কিন্ত সম্পুর্ন পৌত্তলিকতা মুক্ত হতে পারেনি। পৌত্তলিকতার ছাপ অন্যান্য ধর্মেও আছে, ইসলামেও রয়ে গেছে নানা ভাবে ।ইসলাম প্রবর্তনের  আগে থেকেই আরবে হজ্ব প্রথা প্রচলিত ছিল- রমজান মাসের পবিত্রতা ও উপবাস, ক্বাবার চতুর্দিকে সাতবার প্রদক্ষিণ, কালো পাথরে চুম্বন ( হাদিসএ আছে যে ,ওমর বলছেন- আমি যদি রসুলকে পাথর চুমো দিতে না দেখতাম তবে আমি কখনই ওই কালো পাথরে চুম্বন করতাম না ) মাথার কেশ কর্তন,, পশুবলি ,সাফা-মারওয়ায় দৌড়াদৌড়ি , শয়তানের মূর্তিতে ঢেলা মারা সহ প্রাশ পুরো হজটাই পৌত্তলিক প্রথার রূপান্তর
    এই সব প্রথা তার অনুসারিদের পালন করতে অনুমতি দেয়া হয় মক্কা বিজয়ের আগেই  -কেননা হুদায়বিয়ার সন্ধির পরই মুসলিমরা যখন মক্কায় হজ্বে গিয়েছিল সেখানে তো তখনও পৌত্তলিকেরাও উপাসনা করতো ,হজ্ব করতো। তখন একত্রেই সেসব পালন করতো ।
    পরবর্তিকালে অবশ্য কিছু বদল করা হয় ,যেমন কাপড়বিহীন অবস্থায় প্রদক্ষিন করার বদলে সেলাইবিহীন কাপড় পরা চালু হয় । আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলিও তার কোরান ব্যখ্যায় বলেন- সম্পুর্ন প্যাগান হজ্বকেই ইসলামি প্রথা রূপে নেয়া হয় । 
    এ ছাড়া পানি নাকের ভিতর নিয়ে বের করা, দিনের মধ্যে একাধিকবার মক্কার দিকে মুখ করে উপাসনা , ভিক্ষা দেয়া ,শুক্রবারের সমবেত প্রাথর্না প্রভৃতি আরব পৌত্তলিকদের মধ্যে পৌত্তলিক ধর্মেরই অঙ্গ হিসেবে পালিত হত ।
    বিখ্যাত ইসলামি ঐতিহাসিক তাবারি’র ইতিহাসে বলা হয়েছে এক সময় কোরানে আল-লাত, আল-ওজ্জা এবং মানাত কে আল্লাহর কন্যা বলা হয়েছিল এবং তাদের সুপারিশ গ্রহন করার কথাও বলা হয়েছিল সুরা ৫৩:১৯-২০ তে। তার পর অবশ্য মুহম্মদ অবশ্য একে অস্বীকার করে বলেন,- এসবই ‘শয়তানের ভাষ্য’-satanic verses , শয়তানই এসব তার মুখ দিয়ে বলিয়েছেন।পরে নতুন আয়াত এসে তার জায়গায় বসে, বত র্মানে সে ভাবেই আছে । 
    প্রাচীন আরবে বাঁকা চাঁদ ছিল চাঁদদেবতার প্রতীক । সবাই সেটা মানতো। চাঁদের সাথে তারার প্রতীক হচ্ছে আল ইলাহ’র কন্যাদের । মুসলিমরাও এই চাঁদ তারার প্রতীক কে মেনে নিয়েছে ।প্রাচীন পৌত্তলিক আরবী নামও , যেমন আব্দুল্লাহ ,আমিনা এই সবই মুসলিমরা গ্রহন করেছে ।  

    1. 16.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনার এলোপাতাড়ি প্রশ্ন করার স্টাইল দেখে আমার আরেক ছোট ভাই সজল শর্মার আর্গু করার স্টাইল মনে আসছে।
      যাক এই থ্রেডে ৫।৫১ উপর থাকতে হবে, আমি শুধু এই আয়াতটিকে নিয়ে অপপ্রচার কারির জবাব দিয়েছি, এখন আপনি যদি এই থ্রেডে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান তাহলে সোজা কথায় জানানা আমার ৫-৫১ এর ব্যখ্যা কোথায় ভুল হয়েছে!
      আগে ৫-৫১ আয়াত নিয়ে ঐক্য মত বা দ্বিমত পোষণ ঠিক করে তারপর অন্য প্রসংগে আসতে হবে। এখানে কোন বাদরের পিঠা খাবার মত এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াবার উপায় নাই। তাহলে আমাদের আলোচনা অনর্থিক আলোচনা বলে পর্যবেশিত হবে।

       
      আপনি বিবেকানন্দ মিসকোট করেছেন-সব বিশ্বাসই সঠিক এমন কোন কথা উনি বলেন নাই। উনার বিখ্যাত বাণী হলো-
      বহুরূপে সম্মুখে তোমার      ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর?
      জীবে প্রেম করে যেইজন    সেইজন সেবিছে ঈশ্বর ।’
      আপনি যেটা মিন করতে চাইছেন সেটি রামকৃষ্ণের কথা –যত মত তত পথ। এখানে বিশ্বাসের কথা নয় –সেই সত্যের মন্জিলে পৌছানোর পথের কথা বলেছেন ।সত্য একটাই কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পথটা ভিন্ন হতে পারে ।বিবেকানন্দ সব ধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেছেন ,সব ধর্ম সঠিক এমন কিছু বলেন নাই ।
      হতে পারে এইটি রামকৃষ্ণের কিন্তু আপনি ভাল ভাবে জানেন যে বিবেকানন্দ এই ভাবে বলেন নাই! তাহলে বলুন তো বিবেকান্দ যখন সর্ব ধর্মীয় সম্মেলনে আমেরিকা গিয়েছিলেন তখন যখন সব ধর্মের লোকেরা তাদের নিজ নিজ ধর্ম কে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে দাবি করেছিল তখন বিবেকানন্দ কি বলেছিলেন। সব ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বের কথা বলেন নাই । যা বলে তিনি প্রচুর হাততালি পেয়েছিলেন! এই রামকৃষ্ণের কথাটি সেদিন তিনি বলছিলেন তাই যার কথা হয়না কেন এই কথা উনার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পেয়েছিল।
       
       
      বাকি সব প্রশ্ন এক সাথে না করে এইখানে এক এক করে করুন তাহলে উত্তর দেবার চেষ্টা করা হবে।

    2. 16.2
      শামস

      @arshafi,
      সদালাপে স্বাগতম।
      আপনি যদি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে চান তাহলে একটি একটি করে কনটেক্সট নিয়ে পোস্ট দিন। আমার ধারণা এখানে আপনার জিজ্ঞাসা/ভ্রান্তি/অভিযোগ যাই হোক সেগুলোর উত্তর দেবার মত লোক এখানে আছে। কিন্তু আপনাকে কনটেক্সট'এ স্থির থাকতে অনুরোধ করব।
      ভালো থাকুন, ধন্যবাদ।
       

    3. 16.3
      করতোয়া

      @arshafi,
      Could you please explain what do you meant by the term "ISLAM" & "MUSLIM"?

      1. 16.3.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        আমার মনে হয়না তিনি অন্য কারো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে একাধিক ফ্রন্ট খোলবেন!  সত্যি যদি উনার জানানোর বা জানার ইচ্ছা হতো তাহলে প্রথমে আমার মূল আয়াত নিয়ে আলোকপাত করতেন। তিনি তা না করে ব্লগে যে ডিগবাজী খেলা হয় সেই নীতিতে অন্যান্য একাধিক প্রশ্ন রেখে দিলেন। যাতে পাঠককে বিভ্রান্ত করতে পারেন, সেই চেষ্টা তিনি গ্রহণ করেছেন।
        যারা উনার প্রশ্নের উত্তরে জবাব দিয়েছিল সৌজন্যতার খাতিরে তাদেরকেও তিনি আর কিছু না পারেন জানাতে পারতেন যে এখানে ব্লগদাতার সাথে ছাড়া আর কারো সাথে কথা বলব না।
        ১মে তিনি বেশ কয়েকটি আয়াত আনলেন। আমি বললাম = এক একটি করে আয়াত নিয়ে আসেন তাহলে আমার পক্ষে জবাব দিতে সুবিধা হয়, তিনি তা না করে পরে অন্য ত্যান্যা প্যাচানি প্রশ্ন অভিযোগ নিয়ে আসতেছেন। তারপরও আমি বলছি ঠিক আছে আপনার প্রশ্ন / অভিযোগ গুলোর জবাব আমি দেব তবে একটি একটি করে উপস্থাপন করুন। কিন্তু তিনি তা করছেন না। কেন যে এই সোজা অনুরুধকে তিনি মানতেছেন না তা আমি বুঝতেছিনা।

        1. 16.3.1.1
          করতোয়া

          পত্রিকায় লিখতাম সেখানে এ ধরনের বিতর্ক হবার সুযোগ ছিল না। ব্লগে লিখে আর এখন বিবিন্ন ধরনের ইন্টারফেইথ কনফারেন্সে বক্তব্য দেয়া আর আলোচনা থেকে আমার একটা উপলব্ধি হয়েছে যে, কিছু মানুষ আছে যারা জানার জন্য প্রশ্ন করে আর কিছু মানুষ আছে যারা প্রশ্ন করে শুধু ফিতনা ছড়াবার জন্য। তাদের কিভাবে বুঝবেন?
          ১। প্রশ্নের উত্তর দেবার পর দেখবেন কিছু মানুষ আছে যারা আপনার উত্তরে স্যাটিসফাই হয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে তারা আসলেই জানার জন্য প্রশ্নকারী। তাদের ডিল করা সহজ।
          ২। প্রশ্নের উত্তর দেবার পর দেখবেন কিছু মানুষ আছে আপনার উত্তরে স্যাটিসফাই কিনা তা স্বীকার করবে না বরং পাল্টা অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করবে। তখন বুঝবেন এ ধরনের মানুষ আসলে বিতর্ককারী। কোরআনে এই ধরনের লোকদের সঙ্গ ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া আছে।
          এই পোষ্টে Ashfari নিকের মন্তব্যকারী ২য় শ্রেনীর বলেই আমার মনে হয়। 

        2. মুনিম সিদ্দিকী

          আমি নিরাশাবাদি নই । এখনও আশা রাখি তিনি একটি নির্দ্ধারিত ওয়ে আসবেন যাতে উনার সাথে ফল্প্রসু আলোচনা চালিয়ে যাওয়া যাবে।

        3. ফুয়াদ দীনহীন

          Munim Bhai and Koratua Bhai,
          It is true that he has come to learn. So, it is our duty not to judge him but to answer his question logically and politely as far as possible. It's my point of view.
          As far I know about Islam is that anyone who themselves come to learn Islam, deserve priority.

          It is human tendency that they do not wanna lose in the logic, but I think, may be he will think later.

    4. 16.4
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনার সমস্ত প্রশ্ন গুলো আবার পড়ে মনে পড়ে যায় চারবাক ভাই আমাকে একটি বই পাঠিয়েছিলেন -- ইণ্ডিয়ান এক খৃষ্টান লেখকের , সেই বইয়ে এমন সব কথা/ প্রশ্ন/ অপবাদ লেখাছিল।
      আপনার যতটি প্রশ্ন সব প্রশ্নের জবাব কিন্তু নেটে দেয়া আছে। তারপরও একই প্রশ্ন আপনাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য করতে থাকেন। আপনি কি রাজা গনেশের প্রতিভু! যিনি এক সময় মুসলিমদের সাথে প্রতারণা করতে মুসলিম সেঝেছিলেন। পরে যখন আবার স্ব ধর্মে যেতে চেয়েছিলেন তখন ব্রাহ্মমণগণ উনাকে স্ব ধর্মে ফেরত নেয় নাই। তাই আবার মুসলিম হয়ে সাবেক ধর্মের লোকদেরকে এক হাত দেখে নিয়েছিলেন। আপনার কেসটা কি তেমন কিছু!!!!
      আমার এই নাস্তিক বন্ধু যিনি বাংলা নেটে ইসলামের বিরুদ্ধে এমন কিছু নাই যে প্রকাশ করেন না। উনাকে জিজ্ঞাস করেছিলাম ভাই আপনার নাস্তিক হবার ঘটনাটি কি খুলে বলবেন! তার উত্তরে তিনি যা জানালেন তা হল-
      তিনি ছোট বেলা খুব ধার্মীক ছিলেন। রমজানে কয়েক বার কোরআন খতম করতেন। পাচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। কিন্তু যৌবনে কোন কারণে তিনি রোজা রাখতে পারেন নাই তাই দুপুরে খেতে এক  হোটেলে/ রেস্টুরেন্টে পর্দার আড়ালে খাচ্ছিলেন। এমন সময় কিছু দাড়িওয়ালা হুজুর এসে উনাকে গাড়ে ধরে টেনে নিয়ে বাইরে প্রকাশ্যে গরু চোরের মত রোজা মাসে খাবার জন্য পিটিয়েছিল। এবং এর পর থেকে তিনি নাস্তিক হয়ে যান।
      ভদ্রলোকের এই অপমান সত্যি অমানবিক! এই অত্যাচার ক্রাইম। এইটিকে মানা যায় না। কিন্তু রামের অপরাধের জন্য স্যামকে ত্যাগ করতে হবে এই কোন যুক্তি আমার বোধে আসে নাই।
      আপনার জীবনে কি তেমন কোন ঘটনা ঘটেছিল!!!!

  23. 15
    arshafi

    আপনার লেখায় আপনি আমার বক্তব্য গুলো খন্ডন করেননাই,বরং জাস্টিফাই করেছেন। তাতে আমার বক্তব্যটির যথার্থতাই প্রমান হলো।অর্থাৎ আপনার মূল পোস্টে যে বিষয় ছিল-ইসলাম অন্য ধর্মকে ঘৃনা করেনা ,তা আপনি নিজেই নেগেট করলেন । অর্থাৎ আপনি নিজেই প্রমান করলেন যে –ইসলাম আসলেই ঘৃনা করে ।
    অতএব আমার আর বলার কিছু নেই।
     শুধু একটি পয়েন্ট কিছুটা খন্ডাতে চেয়েছেন যে গালাগালিগুলো কোন বিশেষ ধর্মকে নয় ,ব্যক্তিকে।  আপনি  কনটেক্স্ট থেকে বুঝেছেন যে  ওই সব গালাগাল আসলে ব্যক্তির প্রতি ছিল,কোন সমষ্টির বা সম্প্রদায়ের প্রতি নয়।
    এটা আপনি কি বললেন?  তাহলে তো ইসলামের পুরো সংগ্রামকে বিশেষ ব্যক্তির প্রতি বলতে হয় -কোন দর্শন বা বিশ্বাস ,সমাজ বিপ্লবের নয় । কিন্তু ইসলামের আন্দোলন কি ছিল কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে-আপনি কি ইসলামের ইতিহাসটিও ভালো করে পড়েননি ? ইসলাম পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম ।তার সমস্ত সংগ্রাম পৌত্তলিকতা বিনাশের মাধ্যমে কঠিন কঠোর একেশ্বরবাদ প্রতিষ্ঠা । এবং ওই সব উক্তি কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয় ,একটি ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে,পৌত্তলিকদের  সমূলে উৎপাটনই ছিল ইসলামের মিশন ।  
     ব্যক্তি  কিছু  করলে দলের নাম হয় ? আবু সুফিয়ান ,আবু লাহাব, প্রভৃতিরা যা করেছে সব কি ব্যক্তি হিসেবে –পৌত্তলিক হিসেবে নয় ? ওই সব গালাগাল বা বক্রোক্তি কোন ব্যক্তির প্রতি নয় সমগ্র পৌত্তলিক,ইহুদি,নাসারাদের  প্রতি ।
    কনটেক্স্ট খোঁজেন ঠিক আছে । কিন্ত একটা ফিলোসফি তো থাকবে।একটা গাইডলাইন ,মূলকথা তো থাকবে । যদি সবকিছু সময়ের ,কালের পরিপ্রেক্ষিতে বুঝতে হয় তবে তো ইসলামের মূলকথা কিছু থাকে না ।
    সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে   ‘স্ত্রীকে প্রহার করা’  হয়ে যায় সঙ্গম করা । পাকিস্তানি নারিবাদি লেখিকা  Uzma Mazher  4:34 এর অনুবাদ করেছেন –অবাধ্য স্ত্রীদের বোঝাও,তারপর তাদের শয্যা পৃথক কর, অত:পর তাহাদের সহিত সঙ্গম কর ।
    তথ্য –the most misunderstood ayat of th quran by Uzma masher .
     এর কারন বোঝা যায় । এই যুগের মেয়েদের স্ত্রী প্রহার মেনে নেয়া কঠিন,তাই এই জার্গলারি।অথচ নবীজি নিজেই বিদায় হজের বানীতে প্রহারের কথা বলেছেন,তবে মৃদুভাবে যাতে কোন দাগ না হয়ে যায় । এখন আপনিই বলুন অবাধ্য স্ত্রীকে কি প্রহার কবো না সঙ্গম করবো?
    সবকিছু যদি কালের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার করতে হয়, তো তার থেকে আমরা মানদন্ড একটা ঠিক করবো কি করে? স্ট্যান্ডার্ট পাব কি করে। সপ্তম শতকের আরব বেদুইনদের জন্যই ছিল সব নিয়ম কানুন। তো কালের পরিপ্রেক্ষিত বিচার করে আমরা কি সব বাতিল করবো ?
    টিকে থাকতে হলে অবশ্য এইটা জরুরী। এই ক্ষেত্রে আপনার ‘কালিমা দূর’ করার মিশনকে স্বাগত জানাই। কিন্ত আমার সামান্য কিছু প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আপনি যেভাবে ডিফেন্সিভ অবস্থানে চলে গিয়ে কালিমাকে জাস্টিফাই শুরু করলেন তাতে আমি হতাশ হলাম । 

    1. 15.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      @আরশাফি,

      আপনার সাথে আমার কোন আলোচনা হয়নি। আপনার এই মন্তব্যের উপর আমার কিছু কথা না বললেই নয়।

      আপনার মূল পোস্টে যে বিষয় ছিল-ইসলাম অন্য ধর্মকে ঘৃনা করেনা ,তা আপনি নিজেই নেগেট করলেন । অর্থাৎ আপনি নিজেই প্রমান করলেন যে –ইসলাম আসলেই ঘৃনা করে। -আরশাফি

      ইসলাম অন্য কোন ধর্মকে স্বীকার করে না ধর্ম হিসাবে। ইসলাম মনে করে ইসলামই এক মাত্র ধর্ম, আর বাকি ধর্ম গুলোর কিছু ধর্ম ইসলামের বিভিন্ন ভার্সন যা ঐ সময়ের আলোকে এসেছিল এবং কতক ধর্ম ব্যবসায়ীর দ্বারা পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত। ন্যায় বিচারের ব্যাপারে ইসলাম কঠোর, তাই আল্লাহ পাকের ধর্মকে যারা নিজ লাভের জন্য পরিবর্তিত করল, তাদের ব্যাপারে ইসলাম কোন ছাড় দেয় না। কিন্তু যখন মানুষ হিসাবে কেউ ইসলামের কাছে আসে তখন ইসলাম তাকে মানুষ হিসাবেই ত্বরিত করে। সে হিসাবে যেকোনো মানুষ একজন মানুষের বন্ধু হতে পারে, যে কোন মুমিনের বন্ধু হতে পারে। ইসলাম অন্য ধর্মকে ঘৃণা কিভাবে করবে? ইসলাম শুধু ঘৃণা করে ঐসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের যারা অন্যায়কে ন্যায়ের বলে চালিয়ে দেয়। ঐসব ভণ্ডদের এবং এদের বক্তব্য যদি ইসলামে ঘৃণা না করে, তাহলে কিভাবে ইসলাম আল্লাহ পাকের ধর্ম? যদি ইসলাম আল্লাহ পাকের ধর্ম হয়ে থাকে, তাহলে ঐ সব ব্যক্তি এবং তাদের অন্যায়কে অবশ্যই ঘৃণা করতে হবে। ইসলাম কখনও অন্যায়কে ভালবাসতে বলেনি, কখনও করেও নাই।

      কোন ধর্মে যদি Incest এর কথা বলা থাকে, আর ঐ-ধর্মকে যদি ইসলাম মাথায় তুলে নাচে তাহলে এর চেয়ে বড় অধর্ম আর কিছুই হতে পারে না। আপনারা যতই ভাল মানুষী আর সুশীলতার দোহাই তোলেন, ইসলাম কখনই অন্যায়কে প্রশ্রয় দিবে না। আপনার হিংসার আগুন যদি প্রতিটি মুসলিমকে মেরে ফেলার সম্ভাবনা তৈরি করে তবুও ইসলাম অন্যায়কে ঘৃণা করবেই।

      কিন্তু ইসলাম মানুষকে ঘৃণা করে না, মানুষের কর্ম তাকে যা বানিয়ে দেয় তাকেই ঘৃণা করে। ইসলাম কোন ভণ্ডের ধর্ম নয়, যে জনপ্রিয়তা পাবার জন্য বলবে, “সকল ধর্মই সঠিক, মানুষ শুধু ভিন্ন ভাবে ডাকে।” আপনি আগে দেখলাম সূরা কাফিরুন টেনে এনেছেন। তাহলে পুরো সূরাটাই আনেন:

      "বলুন, হে কাফেরকূল, আমি এবাদত করিনা, তোমরা যার এবাদত কর। এবং তোমরাও এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। এবং আমি এবাদতকারী নই, যার এবাদত তোমরা কর। তোমরা এবাদতকারী নও, যার এবাদত আমি করি। তোমাদের কর্ম ও কর্মফল তোমাদের জন্যে এবং আমার কর্ম ও কর্মফল আমার জন্যে।"-সূরা কাফিরুন

      সূরা কাফিরুন পরিষ্কার বলতেছে, তুমি যাহার ইবাদত কর, আমি তাহার ইবাদত করিনা। এটা বলতেছে না তুমিও ঠিক আমিও ঠিক। এই প্রকার রাজনৈতিক ভণ্ডামির স্থান ইসলাম নয়। ইসলামের উপরের আয়াত, ইসলামের কলেমা শাহাদাতকে রেটিফাই করে। লা ইলাহা "নাই কোন ঈশ্বর" জগতের যাবতীয় গডকে অস্বীকার করলেন, তারপরে বললেন ইল্লাল্লাহ "আল্লাহ", এই আল্লাহ কোন আল্লাহ ? মহাম্মাদুর রাসূল্লাল্লাহ, মানে মুহাম্মদ (সঃ) যে আল্লাহ পাকের কথা বলেছেন সেই আল্লাহ পাকই আসল আল্লাহ। ইসলাম সত্য মিথ্যার পরিষ্কার রেখা টানে, আর এই রেখা হল আল কুরানের আল্লাহ, মুহাম্মদ সা: এর আল্লাহই আসল সত্য। বিভিন্ন নবী রাসূল আল্লাহ পাকের এই সত্য প্রচার করেছেন, কিন্তু ধর্ম ব্যবসায়ী রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন প্রকার অন্যায়কারীর দ্বারা সত্য আল্লাহর ধারণাকে বাহির করে যতসব মানব সৃষ্ট আল্লাহ তৈরি করা হয়েছে, তাদের কাউকে আমরা মানিনা।

      1. 15.1.1
        এস. এম. রায়হান

        ইসলাম কোন ভণ্ডের ধর্ম নয়, যে জনপ্রিয়তা পাবার জন্য বলবে, "সকল ধর্মই সঠিক, মানুষ শুধু ভিন্ন ভাবে ডাকে।"

           

      2. 15.1.2
        মুনিম সিদ্দিকী

        সূরা কাফিরুন পরিষ্কার বলতেছে, তুমি যাহার ইবাদত কর, আমি তাহার ইবাদত করিনা। এটা বলতেছে না তুমিও ঠিক আমিও ঠিক। 
         
        সহমত! তোমার যা বুঝ সেই মত তুমি কর! আমার যা বুঝ সে মত আমি করি। ইসলাম বলে নাই তোমার টি ঠিক আমার ঠিক!!! যারা এই সব বলে তারা ভিতরে ইদুর রেখে গর্তের মূখ বন্ধ করার মত করে। এদের নিজস্ব কোন স্বত্ত্বা নেই। লতা জাতীয় উদ্ভিদ! যখন যে অবলম্বন পায় সেটি ধরে বাচতে চায়!

    2. 15.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      উত্তর প্রতি উত্তর করার জন্য আপনি ব্লগীয় নিয়ম নীতি ফলো করছেন না! তাই বুঝা যাচ্ছেনা আপনি কার সাথে কথা বলছেন। জবাব দিতে গেলে যে নাম্বার কমেন্টের উত্তর দিচ্ছেন উক্ত নাম্বার কমেন্টের উপরে ডান কোনে যে রিপ্লাই বাটন আছে সেখানে ক্লিক করে নিদৃষ্ট ঘরে জবাব দিতে হয়। ২য়তঃ সেই মত ফলো করতে না পারলে @ ব্যবহার যার কমেনটের জবাব দিচ্ছেন তার নাম উল্লেখ করতে হয়, যাতে পরিস্কার বুঝা যায় কাকে আপনি প্রশ্ন করেছেন!
      কারো কোন বক্তব্য আপনি দ্বিমত পোষণ করলে সেই বক্তব্যটি কপি করে পেস্ট করে তা বল্ড করে দিতে হয় তাহলে উত্তর দাতা আপনার প্রশ্নটি কি বা কোথায় আপনার দ্বিমত তা বুঝতে পারেন।
      উপরে যা লিখেছেন তা আমি পরিস্কার বুঝতেছিনা এইটি আমার কমেন্টের উত্তরে না অন্য কারো কমেন্টের উত্তরে! আর আমার জন্য হলে সেই দ্বিমত গুলো আমার আমার কোন লাইনের উপর করেছেন তা বুঝে আসছে না।
      আপনি উপরের নিয়মমত আবার এই প্রশ্ন গুলো করুন তারপর জবাব দেবার চেস্টা করব। ধন্যবাদ।

  24. 14
    hasan

    উপরোল্লিখিত আয়াতটি ১৬কোটি বাংলাদেশী মুসলিমকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ভারতের, মার্কিন, রাশার মত কুফ্ফার রাষ্ট্রগুলোকে কখনোই অভিবাবক/প্রটেক্টর/নিরাপত্তাদানকারী বন্ধু রূপে গ্রহণ করা যাবেনা, যারাই আল্লাহর এই আইন ভঙ্গ করবে তারা মূলত তাদেরই অংশ।

    1. 14.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাই হাসান আল্লাহ্‌ আমাদের আরো অনেক নির্দেশ দিয়েছেন- ১। সাধ্যমত প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যাবার। ২। নিজের জান মাল হেফাজতের জন্য হিকমাহ সাথে চলার। ৩। আকল বুদ্ধি খরচ করে চলার। ৪। বিধর্মীদের সাথে এমন ব্যবহার করার যেন আপনার ব্যবহারে যেন আপনার জাতির জীবনে দুর্যোগ নেমে না আসে। ৫। আত্মহত্যা না করার। ৬। পৃথিবীতে ফিতনা ফ্যাসাদ শুরু হয় এমন কাছ থেকে দূরে থাকার। ধন্যবাদ।

    2. 14.2
      করতোয়া

      কিছু কিছু মুসলিম রাস্ট্র আছে যাদের আচরন মুশরিকদের মত তাদের বাদ দিলেন কেন?
      ভারত, রাশা বা আমেরিকাকে মুসলিম দ্বীনের ব্যাপারে অভিভাবক বা বন্ধু ভাবা ঠিক নয় কিন্তু কিন্তু রাষ্ট্রিয় প্রয়োজনে কি হবে? কোন মুসলিম রাষ্ট্রই পুরাপুরি ইসলামিক হুকুমতে কি চলছে?  কোরআনের কিছু কিছু আয়াত আছে যা এখনকার জামানায় কোন দেশেরই প্রেক্ষাপটে আলোচনা করা যায় না এমন কি সো কলড ইসলামিক রাষ্ট্রগুলোতেও। যার কারনে সাধারন মুসলিমদের কাছে এই সব আয়াত কনফিউস মনে হয় এবং এর কারনে বিতর্ক বেশী হয়।

      1. 14.2.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        যথার্থ বলছেন ভাই

  25. 13
    সরোয়ার

    প্রয়োজনীয় লেখা। এক কথায় অসাধারণ।

    1. 13.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      খুব ব্যস্ত বোধহয়! যাক পড়া এবং কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।

  26. 12
    arshafi

    ভাই মুনিম।
    আমি আয়াতগুলো দিয়েছিলাম এইটা বোঝাতে যে অমুসলিমদের কি দৃষ্টিতে দেখা হয় ,তাদের প্রতি কি ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে । শুধুমাত্র ভিন্ন বিশ্বাস থাকার জন্য তাদের নোমরা , unclean, অপবিত্র বলা হয়েছে । এতই নোমরা যে  তাদের মক্কা মদিনা ঢুকতে পর্‌যন্ত দেয়া হয়না । আপনি নিশ্চয়ই বলবেন তাদের শারিরীক ভাবে নোমরা বলা হয়নি , তাহলে কি তাদের বিশ্বাসটিই নোমরা ? আর অন্যের বিশ্বাসের প্রতি এই প্রকার বিদ্বেষ নিয়ে বন্ধুত্ব সম্ভব কি ?এর দ্বারা যে বিদ্বেষ প্রকাশ পেল তা কি বন্ধুত্বসুলভ, নাকি ঘৃনা প্রকাশ ? এই মনোভাব থাকলে তাদের সাথে কি বন্ধুত্ব করা সম্ভব?
    মুসলিম অমুসলিমের সাথে জাগতিক সম্পর্কের কথা বলেছেন- ভিন্নধর্মীদের বিশ্বাসের প্রতি এই প্রকার চরম বিদ্বেষ মনে রাখি তবে ভালো সম্পর্ক কি সম্ভব ? আমি জানি এরপর আপনি ‘লাকুম দ্বীনকুম’ এর উদাহরন দেবেন – যার যার ধর্ম তার তার কাছে । আমিও অনেক সময় এইটি উদ্ধৃত করে ইসলামের সহনশীলতা বোঝাতে চেয়েছি ।কিন্ত ম,মুহিউদ্দীন মারেফুল কোরানে অনুবাদের সময় ধর্মকে বদলিয়ে কর্ম লিখেছেন । তাহলে অর্থ তো পুরা বদলে গেল । মওদুদী এই আয়াতটির ব্যখ্যায় তার তাফহিমূল কোরানে বলেছেন – ইহার অর্থ কাফেরদের সহিত চিরকালের শত্রুতা ।
    বন্ধুত্ব কি ভাবে হবে?
    কোরানে সহনশীলতা বোঝাতে সব সময় কয়েকটি মক্কী সুরার উদাহরন দেয়া হয় । কিন্তু অনেক আলেমের মতেই সেসব জিহাদের আয়াত নাজেল হবার পর বাতিল হয়ে যায় । আপনিই বলুন, যখন বলা হলো –‘আজ হইতে ইসলামকে একমাত্র ধর্ম মনোনীত করিলাম’- এরপর অন্যান্য ধর্ম ও তাদের অনুসারিদের প্রতি আমাদের কি মনোভাব হওয়া উচিৎ । তাদের বিশ্বাস কে বাতিল বলবো , সেসব উৎপাটন করা সর্বপ্রকার ব্যবস্থা নেব, কিন্তু মুখে বলবো -আমি তোমার বন্ধু ,তা কি হয় ?
    আমি আবারও বলছি যে-তবে আপনার উপস্থাপিত কোন আয়াতে কিন্তু কোরআন নির্দেশ করছেনা যে মুশরিকদেরকে মুসলিমরা ঘৃণা করতে হবে
    ব্যাপারটি একটু অন্যভাবে বলি- মনে করুন কোন হিন্দু বা বৌদ্ধ আপনাকে বলছে-
    ‘যারা বিশ্বাস করে তারা নোমরা ,অপবিত্র (৯:২৮); পশুরও অধম(৯৮:৬) ; তারা পুস্তক বহনকারী গাধা (৬২:৫) ; তারা শুয়োর,ঘৃনিত বানর হয়ে যাক(২:৬৪/৬৫) ; তাদের অবস্থা কুকুরের মত,যাকে ক্লেশ দিলে জিহ্বা বের করে হাঁপাতে থাকে;(৭:১৭৫)তোমরা সত্যত্যাগী (৫:৫৯) ;তোমাদের অধিকাংশ যা করে তা নিকৃষ্ট (৫:৬৬) ;তোমরা পাপাচারী (৩:১১০); তোমরা (ভগবানের)পরিবর্তে  এমন কিছুকে ডাক যার ক্ষতি  ওর উপকার অপেক্ষা নিকৃষ্টতর,কত নিকৃষ্ট এ অভিভাবক এবং কত নিকৃষ্ট এ সহচর (২২:১২/১৩) ; তোমরা (ভগবানের) পরিবর্তে যার উপাসনা কর সেসব নরকের ইন্ধন –fire wood of hell (shakir) ; ভগবানের কাছে তোমরা নিকৃষ্ট পশু- the vilest of animal in god’s sight (8:55)—ইত্যাদি , তাহলে একজন মুসলিম হিসাবে তার প্রতি আপনার কি মনোভাব হবে ? ঘৃনা হবে না  কি ?
    শুধু তো জাগতিক নয় , তাদের মৃতদেহকে পযর্ন্ত ঘৃনা করতে বলা হয়েছে –‘ওদের কারও মৃত্যু হলে  তুমি কখনও ওর জানাযায় প্রার্থনা করার জন্য ওর কবর পার্শ্বে দাঁড়াবে না–(৯:৮৪)
    যারা আল্লাহকে মানে না তারাই তো হিন্দু,বৌদ্ধ,খৃষ্টান, তথা অমুসলিম-তারাই তো মুশরিক – তাদের ধর্ম বিশ্বাসই তো নিকৃষ্ট -এর অন্য কোন ব্যখ্যা নেই । কথার ,শব্দের ভিন্নার্থের পোস্ট মডার্ন ব্যখ্যা করে এটাও যদি বদলাতে চান তাহলে ইসলামই থাকবে না ।আপনি যেভাবে sanitized  বা ধৌতকরন করেছেন –তাএ একসময় হয়তো সবই সাদা হবে । সেটি করা ভালো । আমিও সেটাই চাই । সব নির্মল হয়ে সব মানুষের এক মানবধর্ম হলে পৃথিবীতে শান্তি অবশ্যি আসবে।
     তবে আমার মনে হয় অধর্ম , নিকৃষ্ট বলে অমুসলিমদের সম্মিলিত বিশ্বাসকেই মিন করা হয়েছে – কোন ব্যক্তিকে নয় – আপন যা বলতে চাইছেন । আপনি নিজেই লিখেছেন সব পাপ মাফ হলেও শিরকীদের মাফ নাই – আর হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টানরা তো অস্বীকারকারি- শিরকী । তাদের সাথে বন্ধুত্ব হবে কি প্রকারে ?
     
     

    1. 12.1
      এস. এম. রায়হান

      শুধু তো জাগতিক নয় , তাদের মৃতদেহকে পযর্ন্ত ঘৃনা করতে বলা হয়েছে –‘ওদের কারও মৃত্যু হলে তুমি কখনও ওর জানাযায় প্রার্থনা করার জন্য ওর কবর পার্শ্বে দাঁড়াবে না–(৯:৮৪)

      কোরআনের নামে মিথ্যাচার করছেন কেন। মৃতদেহকে ঘৃণা করতে কোথায় বলা হয়েছে? তাছাড়া পুরো আয়াতটি হবে,

      আর তাদের মধ্য থেকে কারো মৃত্যু হলে তার উপর কখনও নামায পড়বেন না এবং তার কবরে দাঁড়াবেন না। তারা তো আল্লাহর প্রতি অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছে এবং রসূলের প্রতিও। বস্তুতঃ তারা না ফরমান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে।

      আপনি গাছেরও খাইতে চান আবার তলারও কুড়াইতে চান? আপনি আল্লাহ এবং রাসূল তথা ইসলামকে অস্বীকার করে না ফরমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবেন, আবার চাইবেন যে মুসলিমরা আপনার মৃতদেহের জন্য নামায পড়ুক এবং কবরে দাঁড়াক! ব্যাপারটা হাস্যকর হয়ে গেল না?

      1. 12.1.1
        সরোয়ার

         আপনি আল্লাহ এবং রাসূল তথা ইসলামকে অস্বীকার করে না ফরমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবেন, আবার চাইবেন যে মুসলিমরা আপনার মৃতদেহের জন্য নামায পড়ুক এবং কবরে দাঁড়াক! ব্যাপারটা হাস্যকর হয়ে গেল না?

        হে হে হে। ব্যাপক বিনোদন! ইসলামে দাখিল হলেই তো সমস্যা চুকে যায়। তাহলে আপনার জন্য আমরাও দোয়া করব @ arshafi

    2. 12.2
      এস. এম. রায়হান

      ব্যাপারটি একটু অন্যভাবে বলি- মনে করুন কোন হিন্দু বা বৌদ্ধ আপনাকে বলছে-
      তোমরা (ভগবানের) পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাক যার ক্ষতি ওর উপকার অপেক্ষা নিকৃষ্টতর,কত নিকৃষ্ট এ অভিভাবক এবং কত নিকৃষ্ট এ সহচর (২২:১২/১৩) ; তোমরা (ভগবানের) পরিবর্তে যার উপাসনা কর সেসব নরকের ইন্ধন –fire wood of hell (shakir) ; ভগবানের কাছে তোমরা নিকৃষ্ট পশু- the vilest of animal in god’s sight (8:55)—ইত্যাদি

      হা-হা-হা! আলি সিনা গুরুর কাছে থেকে ভালই কৌশল রপ্ত করেছেন। তবে আপনি নিজে হিন্দু বা বৌদ্ধ না হয়ে থাকলে তাদের কাউকে আসতে বলেন। মুখপাত্রের সাথে সময় নষ্ট করে লাভ নাই। এগুলো হচ্ছে সাবজেক্টিভ বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার যার উপর সত্য-মিথ্যা নির্ভর করে না। সত্য অনেক সময় তিক্তও মনে হতে পারে কিন্তু তাই বলে তা মিথ্যা হয়ে যায় না। এই ধরণের বা আরো ভয়ঙ্কর কথাবার্তা অন্যান্য ধর্মেও আছে। কিন্তু মনাদের মতো আপনিও সেদিকে আগ্রহী নন।

    3. 12.3
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাই মুনিম।
      আমি আয়াতগুলো দিয়েছিলাম এইটা বোঝাতে যে অমুসলিমদের কি দৃষ্টিতে দেখা হয় ,তাদের প্রতি কি ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে ।

      দেখুন আমি আমার পুর্বের উত্তরে জানিয়েছি যে context জানা ছাড়া এই কোরআনের আয়াত পড়ে ভুল ভাবে আয়াতকে গ্রহণ করতে পারে। তাই  context   জানা ছাড়া কোরআন বুঝার উপায় নাই। এইযে বক্র দৃষ্টিতে অমুসলিমদেরকে দেখা হয়েছে এরা কোন অমুসলিম ছিল কারা ছিল? যাদের প্রতি এই ভাষাগুলো প্রয়োগ করা হয়েছিল তার পিছনে কোন কারণ ছিল তা তো জানার দরকার। এখানে গয়রহ ভাবে বা সমষ্ঠিগত ভাবে কি সেদিন তা বলা হয়েছিল! ইতিহাস জানলে বুঝতে পারবেন এই আয়াতের পিছনে এক বা একাধিক ব্যক্তি ছিল যারা সেদিন মুহাম্মদ সাঃকে দুনিয়া থেকে বিলীন করতে যুদ্ধে নেমে যত ধরণের অত্যাচার অবিচার করার ছিল সেই সব ব্যক্তিরা করেছিল। আর সেই ঘটনার প্রক্ষিতেই সেই সব ব্যক্তিদের উপর এই ভাবে বক্র ভাবে কথা গুলো এসেছিল।
      আর কোরআনের ভাব প্রকাশের স্টাইল এই ভাবে যে –ব্যতিক্রম দু একটি ঘটনা ছাড়া ব্যক্তি স্থান সময় উল্লেখ না করে তা সংক্ষিপ্ত ভাবে প্রকাশ করা। এখনও পৃথিবীতে ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত ঘটনাকে তার দলের নামে, ধর্মের নামে বা জাতীর নামে প্রকাশ করে থাকেন। যেমন আমি মুনিম আমি যদি বি এন পি বা আওয়ামীলীগ করি তখন আমার দ্বারা ন্যায় অন্যায় কিছু ঘটলে খুব কম লোকে জানবে যে সেটি আমি করেছি, কিন্তু ব্যাপক ভাবে লোকে জানবে এই কাজটি আওয়ামীলীগ বা বিএন পি করেছে। ভারতের লোকেরা বলবে বাংলাদেশী করেছে। হিন্দু বলবে মুসলিম করেছে, তার মানে ব্যক্তির কার্যকলাপ তার  বংশ, জাত, অঞ্চল, ধর্মের পরিচয়ে প্রকাশ পেয়ে যায়। তার মানে নয় যে এর জন্য তার বংশ জাত অঞ্চল ধর্ম সমষ্ঠিগত ভাবে করেছে।
      তাহলে কি তাদের বিশ্বাসটিই নোমরা ? আর অন্যের বিশ্বাসের প্রতি এই প্রকার বিদ্বেষ নিয়ে বন্ধুত্ব সম্ভব কি ?এর দ্বারা যে বিদ্বেষ প্রকাশ পেল তা কি বন্ধুত্বসুলভ, নাকি ঘৃনা প্রকাশ ? এই মনোভাব থাকলে তাদের সাথে কি বন্ধুত্ব করা সম্ভব?
      দুনিয়াতে এমন কোন বিশ্বাস নেই যে দাবি করবে (শুধু ব্যক্তি বিবেকানন্দ ছাড়া) তোমার বিশ্বাস সঠিক আমার বিশ্বাসও সঠিক। যেমন সব নদী সাগরে মিলে যায়না তেমনি সব বিশ্বাসও  মিলবেনা। কাজেই পৃথিবী বাস করতে হলে যার বিশ্বাসকে সঠিক মনে করে অন্যকেও তার মত চলতে দিলে দুনিয়াবী বন্ধুত্বে কোন অসুবিধা হবার কথা নয়।
      পরিবার বলেন  দল বলেন আর রাষ্ট্র বলেন –সেখানে এমন সব জায়গা বলেন যে, সেখানে অন্যরা প্রবেশের অধিকার থাকেনা। তেমনি জগতের প্রতি ধর্মের এক বা একাধিক কেন্দ্র থাকে যেখানে অন্য ধর্মের লোকদের প্রবেশের অধিকার দেয়া হয় না।দেয়া না হবার পিছনে ঘৃণা নয় আদর্শের প্রশ্ন, নিরাপত্তার প্রশ্নো জড়িত থাকে।
      আর ইসলাম তো পৌত্তলিকতার অভিশাপ থেকে মুক্ত হয়েছিল দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্দোলন সংগ্রাম আর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ইসলাম যে যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল। কাজেই বিজয়ী দলে ইচ্ছার প্রতিফল হওয়াটি ঘৃণা নয় এইটি ন্যায়ের প্রকাশ।

      মুসলিম অমুসলিমের সাথে জাগতিক সম্পর্কের কথা বলেছেন- ভিন্নধর্মীদের বিশ্বাসের প্রতি এই প্রকার চরম বিদ্বেষ মনে রাখি তবে ভালো সম্পর্ক কি সম্ভব ?
      আপনি যদি সত্য অনুধাবন করে থাকেন তাহলে আপনি জানেন যে কোন মুসলিমই সে আক্রান্ত না হলে সে কখনও বি ধর্মীদের প্রতি বিদ্ধেষ ভাব নিয়ে সদা সর্বদা ব্যস্ত থাকেনা। এই ধরণের ঘৃণার ভাব নিয়ে থাকলে আজ ইসলাম ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া বাংলাদেশে  সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেতনা। মুসলিমরা যদি ঘৃণা করত তাহলে ৭০০ বছর ভারত শাসন করার পর এই দেশে হিন্দু থাকার কথা ছিলনা। যে ভাবে ইউরোপে খৃষ্টানদের শাসনের ফলে সারা ইউরোপে একটি হিন্দুকে(প্যাগান) তারা বাচিয়ে রাখেনাই। তবে সব ধর্ম বা জাত বা দলে গুঠি কিছু ফ্যানাটিক থেকে থাকে যা মূলধারার উপর কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা। মুসলিম ভারতে হিন্দুদের উত্থান, আরবে ইহুদিদের উত্থান স্পনে খ্রিষ্টানদের উত্থানের ইতিহাস কিন্তু এই সব কথিত ঘৃণার কোন চিহ্নিত দেখতে পাওয়া যায় কি?
       আমি জানি এরপর আপনি ‘লাকুম দ্বীনকুম’ এর উদাহরন দেবেন – যার যার ধর্ম তার তার কাছে । আমিও অনেক সময় এইটি উদ্ধৃত করে ইসলামের সহনশীলতা বোঝাতে চেয়েছি ।কিন্ত ম,মুহিউদ্দীন মারেফুল কোরানে অনুবাদের সময় ধর্মকে বদলিয়ে কর্ম লিখেছেন । তাহলে অর্থ তো পুরা বদলে গেল । মওদুদী এই আয়াতটির ব্যখ্যায় তার তাফহিমূল কোরানে বলেছেন – ইহার অর্থ কাফেরদের সহিত চিরকালের শত্রুতা ।
      বন্ধুত্ব কি ভাবে হবে?

      ব্যক্তির ব্যাখ্যাকে সর্ব জন গ্রহণ করতে হবে এমন কোন শর্ত ইসলাম দেয় নাই। আল কোরআনে ৪৪ বার নিজের জ্ঞান বুদ্ধি প্রয়োগ করে সত্যকে ধারণ করার নির্দেশ দেয়া আছে। কাজেই তাদের ব্যাখ্যা কোরানিক নির্দেশ হতে পারেনা।

      কোরানে সহনশীলতা বোঝাতে সব সময় কয়েকটি মক্কী সুরার উদাহরন দেয়া হয় । কিন্তু অনেক আলেমের মতেই সেসব জিহাদের আয়াত নাজেল হবার পর বাতিল হয়ে যায় । আপনিই বলুন, যখন বলা হলো –‘আজ হইতে ইসলামকে একমাত্র ধর্ম মনোনীত করিলাম’- এরপর অন্যান্য ধর্ম ও তাদের অনুসারিদের প্রতি আমাদের কি মনোভাব হওয়া উচিৎ । তাদের বিশ্বাস কে বাতিল বলবো , সেসব উৎপাটন করা সর্বপ্রকার ব্যবস্থা নেব, কিন্তু মুখে বলবো -আমি তোমার বন্ধু ,তা কি হয় ?
       
      দেখুন এই গুলো ব্যক্তির পরকালিন বিশ্বাসের ব্যাপার তাই এই ধারণরা পোষণের জন্য যে সে অন্য ধর্মীদের ঘৃণা করবে তার কোন উদাহরণ কি ব্যাপক মুসলিম জন গোষ্ঠির কাজ থেকে পাওয়া যায়। দয়াকরে ভারত পাকিস্তান বা ইহুদি ফিলিস্তিনীদের ঘটনা টেনে আনবেন না। কারণ ঐগুলো রাজনৈতিক ঘটনা। যেমন ৭১ এর জন্য পাকিস্তানীদের সাথে আমাদের  যে রকম সেই রকম সে গুলো।
      –‘আজ হইতে ইসলামকে একমাত্র ধর্ম মনোনীত করিলাম’- দর্শন একটি বিপ্লবী দর্শন। এটি যতমত তত পথের মত আপোষকামী খিচুরী মার্কা দর্শন নয়। এটি কোন মানব সম্প্রদায়কে একটি মাত্র সোজা সহজ সরল পথের নির্দেশিকা দেয়। যার ইচ্ছা গ্রহন করবে যার ইচ্ছা করবেনা।
      দেখুন জগতের যত ইজম বা মত বাদ এসেছে সব গুলোর লক্ষ্য ছিল গোটা পৃথিবীর মানুষকে ঐ আদর্শের ভিতরে নিয়ে আসা। কারণ যত মত তত বিভেদ আর বিভাজন পৃথিবীতে বিরাজ করে, এবং এই বিভাজন মানব সভ্যতাকে বার বার পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অধুনা সমাজতন্ত্রের কথা ধরুন তাদেরও আদর্শ ছিল যে সারা পৃথিবীকে সমাজতন্ত্রের ভিতরে নিয়ে আসবে, চেষ্টাও করা হয়েছিল, কিন্তু মাত্র ৭০ বছরে তার আতুর ঘরে সে মারা যায়। এখন গণতন্ত্র নামক মতবাদকে দুনিয়া ব্যাপি প্রচলন করার জন্য প্রচেষ্টা চলছে। দেখা যাক কোথা কার পানি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়!
      ইসলামেরও উদ্দেশ ছিল সারা পৃথিবীকে ইসলামের ছায়ার নিচে নিয়ে আসার জন্য সব ধর্ম বর্ণের মানুষদের নিয়ে এক গ্লোবাল উম্মাহ ঘটনের যেখানে কোন আঞ্চলিক রাষ্ট্রে সীমা থাকবেনা। পৃথিবীর মানুষজন বিনা ভিসা পাসপোর্ট এখান থেকে সেখানে অবাধে যেতে পারবে জীবন জীবিকার নিয়োজিত হতে পারবে।
      কিন্তু বিগত ১৫শত বছরে বাস্তব অভিজ্ঞতায় বুঝা যাচ্ছে মহান আল্লাহর সেই ইচ্ছা নাই। তাই বর্তমান মুসলিমদেরকে এই সত্য উপলব্ধি করেই নতুন ভাবে ইসলামি আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে।  যার চেস্টা আমি আমার ক্ষুদ্র শক্তি দিয়ে শুরু করেছি।

      ব্যাপারটি একটু অন্যভাবে বলি- মনে করুন কোন হিন্দু বা বৌদ্ধ আপনাকে বলছে-
      ‘যারা বিশ্বাস করে তারা নোমরা ,অপবিত্র (৯:২৮); পশুরও অধম(৯৮:৬) ; তারা পুস্তক বহনকারী গাধা (৬২:৫) ; তারা শুয়োর,ঘৃনিত বানর হয়ে যাক(২:৬৪/৬৫) ; তাদের অবস্থা কুকুরের মত,যাকে ক্লেশ দিলে জিহ্বা বের করে হাঁপাতে থাকে;(৭:১৭৫)তোমরা সত্যত্যাগী (৫:৫৯) ;তোমাদের অধিকাংশ যা করে তা নিকৃষ্ট (৫:৬৬) ;তোমরা পাপাচারী (৩:১১০); তোমরা (ভগবানের)পরিবর্তে  এমন কিছুকে ডাক যার ক্ষতি  ওর উপকার অপেক্ষা নিকৃষ্টতর,কত নিকৃষ্ট এ অভিভাবক এবং কত নিকৃষ্ট এ সহচর (২২:১২/১৩) ; তোমরা (ভগবানের) পরিবর্তে যার উপাসনা কর সেসব নরকের ইন্ধন –fire wood of hell (shakir) ; ভগবানের কাছে তোমরা নিকৃষ্ট পশু- the vilest of animal in god’s sight (8:55)—ইত্যাদি , তাহলে একজন মুসলিম হিসাবে তার প্রতি আপনার কি মনোভাব হবে ? ঘৃনা হবে না  কি ?

       
      বলবে কি তারা তো এর চেয়ে জঘণ্য ভাবে কথা বিশেষণ করে থাকে। আর যেখানে এই সব প্রয়োগ হয় সেখা্নে ধর্য ধরার যেমন নির্দেশ দেয়া হয়েছে তেমনি মুসলিমদেরকে তা প্রতিরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছে।

    4. 12.4
      এম_আহমদ

      নাসাস্তাং গোঁফতাং ওয়া বরখাস্তাং –তারা আসে, কথা বলে, তারপর চলে যায়!

       
      ১। এখানে আপনি কোরান না বুঝে আগের মত কথা বলে যাছেন। যে ‘মানবতার’কান্নার কসরত করছেন -তার কোন যৌক্তিক অবস্থান নেই। কোরানের এই আয়াতগুলো কি ‘গোটা বিশ্বের অমুসলিমদেরকে’ উদ্দেশ্য করেছে? আপনি তো আগের স্থানেই দাঁড়িয়ে আছেন, অর্থাৎ অনুবাদ পড়ে যা ‘মনে হয়েছে’ –তা থেকে আর নড়তে চাচ্ছেন না। আর আপনি যে সব কথা বলছেন সে সব কথা কোরানের সাথে মিলও খাচ্ছে না। আপনার পড়াশুনা থাকলে আয়াতগুলোর ‘অর্থের’ স্থান প্রথমে establish করতেন। কিন্তু সেদিকেও যাচ্ছেন না। আপনি যদি নিজে এমন কোন ‘খ্যাতিমান’ জাদরেল ব্যক্তিত্ব মনে করে থাকেন  যে আপনার ‘মনে করাকে’ আমরা বিবেচনা করতে হবে, তবে সেই ‘পরিচিতিটা’ উল্লেখ করেন।   
       
      ২। কোন ধর্মের প্রাণ-কেন্দ্রে (মক্কা/মদিনা) ঢুকতে পারলেই বন্ধুত্ব হবে, আর না পারলে তা হবে ‘ঘৃণা’ –এটা কোন ধরণের যৌক্তিকতা? এখানে আপনার logical contrast ও coherence কীভাবে construe হল? আপনি কারো বেডরুমে ঢুকতে পারলে সে আপনার বন্ধু হবে, আর না পারলে, সেখানে ঘৃণার অবকাশ দেখা দেবে –এসব যুক্তি কোন বিদ্যালয়ের? এসব আগড়া বাগড়া ও ধানাই পানাইয়ের স্থান কী এখানে? এই ব্লগীয় পরিসরটি (সদালাপ) যে ভিন্ন, সে কথা মনে হয় খেয়ালে নেই। অমুসলমানরা কী দুনিয়ার বাকী মসজিগুলিতে ঢুকতে পারছে না? ওখানে কেন ঢুকতে দেয়া হয় এবং সেখানে না? তাহলে মুসমানরা কী কোরান অমান্য করে ওগুলোতে ঢুকতে দিচ্ছে? দুনিয়া জুড়া মসজিদগুলোতে ঢুকতে পারায় ‘আপনার ঘৃণা’র সমুঝে কী কোন পার্থক্য সূচিত করে?  
       
      ৩। হ্যাঁ, তবে অপবিত্রতার স্থান আছে। কোরানের বিশ্বাস সিস্টেমে এবং তার আধ্যাত্মিকতায় আল্লাহকে অস্বীকার করা, তাঁর পথ থেকে তাঁর বান্দাদের রুখে দাঁড়ানো,বিরোধীতা করা ইত্যাদি কাজ যাদেরকে এমন অমানবিক পর্যায়ে উপনীত করেছে, তাদের আত্মার অবস্থান ‘পবিত্র’ -এটা ‘বিশ্বাস’ করাতে কোন দোষ নেই।
       
      ৪। ধর্মে ‘পবিত্র ও অপবিত্র’ –এর ধারণা না বুঝে যারা কথা বলতে যায়, তাদের সাথে আলোচনা নিরর্থক। সব ধর্মে পবিত্র/অপবিত্রতার স্থান সুবিশাল। যে ব্যক্তি ধর্মে নেই –তার কাছে কী এগুলোর কোন অর্থ আছে? একজন মুসলমানও স্ত্রী সহবাসের পর গোসলের আগ পর্যন্ত অপবিত্র থাকে। তখন কী সে ঘৃণার পাত্র হয়ে যায়? বেওকুবরা না বুঝে ‘বুঝ-বহির্ভূত’অঙ্গন নিয়ে কথা বলতে যায়। স্থান, কাল ও বস্তুতে ধর্মী পরিসরে পবিত্রতা ও পবিত্রতার ধারণা ও ‘বিশ্বাস’ প্রচলিত ধর্মগুলিতে কীভাবে কাজ করে, কী ভাবে এই ধর্ম বিশ্বাসীরা তাদের বিশ্বাসের প্রেক্ষিতে এই বাস্তবতাকে (reality) হৃদয়ঙ্গম করে, সেদিকে না গিয়ে শব্দ ও বাক্য নিয়ে নাদানি করার অভ্যাসকে কোরান এক ধরণের রোগ বলেও উল্লেখ করে। অন্যান্য ধর্মেও এমন ব্যাখ্যা রয়েছে।
       
      ৫। ইসলাম ধর্ম কিতাবী ধর্মগুলোকে সম্মান দেখিয়েছে। কোরানে অনেক আয়াত রয়েছে। কিতাবী ছাড়াও বাদ বাকী ধর্মের ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাতে বলছে। আপনি কোরান পড়েননি। কোরান বুঝেন নি। কোরান পড়ার ও বুঝার যোগ্যতাও দেখাতে পারছেন না। কোরানের সমুঝের বাইরে আপনি “কী মনে করেন” –তা কোন অর্থবহ কথা নয়। আপনার “মনে করা নিয়ে”আমরা সময় নষ্ট করব না। আপনার বলার ধরন ইঙ্গিত করছে যে আপনি যে বিষয়ে কথা বলছেন, সে বিষয়ে কিচ্ছু জানেন না। আপনি এখন জিহাদ, লাকুম দ্বীনুকুম, বৌদ্ধ-খৃষ্টীয়ান, ‘জানাযা’ ইত্যাদিতে যাচ্ছেন। তারপর এভাবে কোন বিষয়ে স্থিতিশীল আলোচনা ছাড়া, ইসলাম বিদ্বেষী স্তূপীকৃত মিথ্যা রচনা থেকে, একটার পর একটা আনবেন আর ঢালবেন।
       
      ৬। আপনি বরং আগের উদ্ধৃত আয়াতগুলো  কিভাবে সারা বিশ্বের অমুসলিমদেরকে সম্বোধন করেছে –সেটা, একটির পর একটি করে, সেই ‘অর্থের’ স্থান নির্ধারণ করুন, যদি সামর্থ্য থাকে। এগুলোর উপর আলোচনা শেষ হলে, জিহাদে যাওয়া হবে, অন্যান্য ধর্মের ব্যাপারে কোরানের আয়াত দেখা হবে, জানাযার বিষয় দেখা হবে, বন্ধুত্বের বিষয় দেখা হবে। আপনি এখনও কোন যোগ্যতা দেখাতে পারেন নি। আপনি স্থূল অবস্থানে আছেন।  মানবিক অনুভূতি নাস্তিকদের একক কোন ব্যাপার নয়। কোরান যে প্রেক্ষিতে কথা বলে নাই, তা নিয়ে মানবিক কান্নার কোন যুক্তিও নেই।

      1. 12.4.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        ভাই আপনার কমেন্ট পড়ে অবাক হয়ে যাই আমি যে কথা গুলো বলতে চাই কিন্তু আমার প্রকাশ করার অক্ষমতার জন্য যা প্রকাশ করতে পারিনা সেই কথা গুলো আপনি হুবহু প্রকাশ যাচ্ছেন। ঘটনাটি আমার কাছে মুসা নবী এবং হারুণ নবীর মত লাগছে! আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে যেন সত্যে পথে পরিচালিত করতে এই ভাবে পরিপুরক শক্তি হিসাবে রাখেন। আমিন।

      2. 12.4.2
        এম_আহমদ

        সংশোধনঃ পয়েন্ট ৩। হ্যাঁ, তবে অপবিত্রতার স্থান আছে। কোরানের বিশ্বাস সিস্টেমে এবং তার আধ্যাত্মিকতায় আল্লাহকে অস্বীকার করা, তাঁর পথ থেকে তাঁর বান্দাদের রুখে দাঁড়ানো, বিরোধীতা করা এবং অনুরূপ আরও সংখ্য কাজের পর্যায়ে যারা যায়,  তাদের আত্মার অবস্থান ‘অপবিত্র’ -এটা ‘বিশ্বাস’ করাতে কোন দোষ নেই।

    5. 12.5
      করতোয়া

      @ arshafi,
      আমি কোথা থেকে শুরু করবো বুঝতে পাচ্ছি না। আপনার মন্তব্যের তলা থেকেই শুরু করি।

      “যারা আল্লাহকে মানে না তারাই তো হিন্দু,বৌদ্ধ,খৃষ্টান, তথা অমুসলিম-তারাই তো মুশরিক – তাদের ধর্ম বিশ্বাসই তো নিকৃষ্ট -এর অন্য কোন ব্যখ্যা নেই”।

       
      মুশরিক সম্পর্কে আপনার কনসেপ্ট সম্ভবত ঠিক না। মুশরিক তথা হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃীষ্টান সকলেই আল্লাহকে মানে, কেই গড বলে, কেউ লর্ড বলে , কেউ ভগবান বলে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তারা আল্লাহ, লর্ড, গড বা ভগবান যে একক সত্তা এবং তাদের সকল উপাশনার একমাত্র দাবীদার তা মানে না। তারা তাদের লর্ড বা গড বা ভগবানের গায়েবী অস্তিত্বকে মানতে চায় না। তারা চায় এই ভগবান বা গড লর্ড বা অল্লাহ তাদের মাঝে আলু পটলের মত পদার্থ (প্রাকৃতিক বস্তু) হিসেবে চাক্ষুস অবস্থান করবে আর তারা তার আরাধনা করবে। সে কারনে তারা তাদের মধ্যে কোন অতি ধর্ম পরায়ন মানুষকে আল্লাহ’র সন্তান বলে, কোন মূর্তিকে আল্লাহর প্রতিকৃতি বলে, কেউ আবার কোন পায়াস মানুষকে আল্লাহ’র মনুষ্যরুপি জাগতিক অবয়ব মনে করে তাদের পূজা আর্চনা করে। এ কারনেই অনেক মুসলিম আবার দেখবেন ভারতের আজমির শরিফের খাজা নিজাম উদ্দিনের কবর বা সিলেটের শাহজালালের কবরকে উপাশনা করে। কিন্তু প্রকৃত মুসলিমরা একমাত্র আল্লাহ’র একাত্ববাদে মানে। প্রকৃত মুসলিমরা গায়েবী আল্লাহ’র অস্তিত্বকেই বিশ্বাস করে তাদের কাছে আল্লাহ আলু পটলের মত প্রাকৃতিক বস্তু হিসেবে থাক বা না থাক সেটা বিবেচ্য নয়। তাই প্রকৃত মুসলিমরা পায়াস মানুষ মোহাম্মদ বা মোহাম্মদের কবরকে নয় বরং আকাশের দিকে হাত তুলে আরাধনা করে। এখানেই প্রকৃত মুসলিম আর মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য। মুশরিকদের ধর্ম বিশ্বাস-ই তাদের নিকৃষ্টতার কারন নয় বরং তাদের সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে সৃষ্টিকর্তার একাত্ববাদে তাদের বিশ্বাসে নিজেদের অজ্ঞতার কারনে-ই তারা নিজেদেরকে নিকৃষ্টতার পর্যায়ে পৌছিয়েছে, এটা মুসলিমদের দায় নয়। পাগল কি কখনও বোঝে যে সে পাগল? আরো খোলাসা করে বলি, বৌদ্ধ ধর্মের গৌতম বুদ্ধা কি জীবিত অবস্থায় বলেছিলেন তাকে বিশ্ব ভ্রমান্ড বা মানবজাতীর সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তাকে মানতে? যিনি নিজের মৃত্যুকে ঠেকাতে পারেননি তিনি কি করে নিজেই নিজের সৃষ্টিকর্তা হবার দাবী করেন এমন কি সমগ্র মানবজাতীর সৃষ্টিকর্তা হন এই সহজ লজিকটাই আপনি শুধু এখানে বুঝান যদি পারেন। আমি বৌদ্ধধর্মের অনুসারী হব কথা দিচ্ছি। আমি যতদূর জানি বুদ্ধা নিজেও কখনও দাবী করেননি যে তিনি-ই আল্লাহ। বরং তিনি মোহাম্মদের মতই তার (বুদ্ধা’র) সৃষ্টিকর্তার একটি শরিয়ার প্রচারক হিসেবে নিজেকে দাবী করেছিলেন। একই কথা জিজাসের বেলাও সত্য। মুসলিমদের মোহাম্মদ তো নিজের মৃত্যু ঠেকাতেও পারেননি আবার কখনও দাবীও করেননি যে তিনি-ই খোদা। বরং তিনি তার অনুসারী মুসলিমদের বলেছেন “তোমাদের খোদা তিনি যাঁর হাতে তোমাদের এবং আমার জীবন ও মৃত্যু নির্ভর করে”। একই ম্যাসেজ আদম, ইব্রাহিম, মূসা, জিজাসও দিয়ে গেছেন এমনকি বুদ্ধাও দিয়েছেন। হিন্দুদের ভগবত শ্রী কৃষ্ঞও তাই বলেছেন (গীতার শুরুতে কি বলা আছে দেখে নিবেন)। কেউ উল্টা কিছু বলেন নি। এটা আপনাদের মত অতিমানবতাবাদীদের নির্বুদ্ধিতার কারনে কেউ বুদ্ধাকে ভগবান বলছে কেউ জিজাসকে গড বলছে।  আবার মুশরিক বল্লে অফেন্ড হচ্ছেন। আপনিই বলুন খোদা বা লর্ড হবার নূন্যতম কি যোগ্যতা একজনের থাকা উচিত। সেই যোগ্যতা যদি আপনার মধ্যে থাকে অথবা অন্য কোন মানুষ বা  প্রকৃতির মধ্যে থাকে তাহলে আমি আপনাকেই বা সমগ্র মানবতাকেই অথবা আপনার সৃষ্টিকর্তা প্রকৃতিকেই আমার গড হিসেবে পূজা করবো কোন সন্দেহ নাই। গৌতম বুদ্ধা বা জিজাস বা প্রকৃতির যদি সেই যোগ্যতা থাকতে পারে তাহলে অবশ্যই আরো কোন না কোন মানুষের সেই যোগ্যতা থাকা উচিত। এটা সিম্পল লজিক। ইব্রাহিম এর সাথে রাজা নমরুদ এর বাদানুবাদের বিষয়টা জেনে নিয়েন তাহলে বুঝতে পারবেন সৃষ্টিকর্তা হবার যোগ্যতা কি।
       

      “সব নির্মল হয়ে সব মানুষের এক মানবধর্ম হলে পৃথিবীতে শান্তি অবশ্যি আসবে”।
       

      পৃথিবী’র সর্ব প্রথম খুন কে করেছিল এবং কাকে করা হয়েছিল সে ইতিহাস কি আপনার জানা আছে? যদি মানবধর্মেই আপনার বিশ্বাস থাকে আর আদমকে যদি পৃথিবীর প্রথম মানব হিসেবে মেনে নেন। তাহলে শুনুন আদমের এক ব্যাটা অপর ব্যাটকে খুন করে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম মানব হত্যার প্রচলন শুরু করে শুধুমাত্র নারীপ্রীতি’র কারনে খোদা প্রীতি বা মানবশান্তি’র জন্য নয়। সে সময় তো একমাত্র মানবধর্মই ছিল।  মুসলিম বা বৌদ্ধ হিন্দু কোন ধর্মেরই অস্তিত্ব এই মর্তে ছিল না। শুধু ছিল মানবধর্ম আর তার বিপরিতে শয়তানের ধর্ম। আর আপনি দাবী করছেন মানবধর্মই মানব শান্তি আনবে। আর কবে মর্তে মানব শান্তি আইবো? আদমের পর কত ট্রিলিওন বছর পার হইয়া গ্যাছে জানেন? এখনও আশায় আছেন মানবধর্মই এই মর্তে মানবশাস্তি আনবো। সেই আশায় মুখে লেবুন  চুষ ঢুকাইয়া বইসা থাকেন। সেই থেকে আজো কোন মানবই মানবজাতীর জন্য শান্তি আনতে পারে নি। রাশিয়ায় তো লেলিন মানবধর্মই প্রতিষ্ঠিত করেছিল। লেলিনও মানব আবার যাদের জন্য মানবধর্ম চালু করেছিল তারাও মানব। তারপরও সেখানে মানবশান্তি আসলো না কেন? কারন কি? কারন শয়তানের ধর্ম সেই থেকে এখনও আছে বরং মানবধর্ম শয়তানের ধর্মের সাথে মিশে একটা ককটেল সোকলড “মানবতাবাদী” প্রাকৃতিক ধর্মে পরিনত হয়ে গেছে, ফলে আমেরিকার মানব ইরাকের মানবকে হত্যা করছে অবলিলাক্রমে, পাকি মানব বাঙালী মানবকে হত্যা করেছে, রোমান মানব অ-রোমান মানবকে হত্যা করেছে, জার্মান মানব অ-জার্মান মানবকে হত্যা করেছে, ইজরাইলের মানব ফিলিস্তিনী মানবকে হত্যা করছে, সিরিয়া’র আসাদ মানব তারই দেশের অন্য সাধারন মানবদের হত্যা করছে, আর কত উদাহরন দিমু মানবধর্মের ইতিকথা। আসল কারন সবই শয়তান ধর্মের রুপান্তরিত রুপমাত্র। আপনার মত মানবতাবাদীরা এইটা বুঝেন না শুধু আল্লাহ খোদার ধর্মকে দোষ দেন। দোষতো আপনার আমার মত মানবদের মধ্যে। আমরা আল্লাহ’র ধর্মকে বাদ দিয়ে শয়তানের ধর্মে নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছি নিজেদের ডিজিয়ার আর ফ্যান্সির জন্য।

      “ মনে করুন কোন হিন্দু বা বৌদ্ধ আপনাকে বলছে-
      ‘যারা বিশ্বাস করে তারা নোমরা ,অপবিত্র (৯:২৮); পশুরও অধম(৯৮:৬) ; তারা পুস্তক বহনকারী গাধা (৬২:৫) ; তারা শুয়োর,ঘৃনিত বানর হয়ে যাক(২:৬৪/৬৫) ; তাদের অবস্থা কুকুরের মত,যাকে ক্লেশ দিলে জিহ্বা বের করে হাঁপাতে থাকে;(৭:১৭৫)তোমরা সত্যত্যাগী (৫:৫৯) ;তোমাদের অধিকাংশ যা করে তা নিকৃষ্ট (৫:৬৬) ;তোমরা পাপাচারী (৩:১১০); তোমরা (ভগবানের)পরিবর্তে  এমন কিছুকে ডাক যার ক্ষতি  ওর উপকার অপেক্ষা নিকৃষ্টতর,কত নিকৃষ্ট এ অভিভাবক এবং কত নিকৃষ্ট এ সহচর (২২:১২/১৩) ; তোমরা (ভগবানের) পরিবর্তে যার উপাসনা কর সেসব নরকের ইন্ধন –fire wood of hell (shakir) ; ভগবানের কাছে তোমরা নিকৃষ্ট পশু- the vilest of animal in god’s sight (8:55)—ইত্যাদি , তাহলে একজন মুসলিম হিসাবে তার প্রতি আপনার কি মনোভাব হবে ? ঘৃনা হবে না  কি ?”

      আমি একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে তাতে ঘৃণাবোধ করবো না। আর আমাকে সে শিক্ষাও আমার আল্লাহ দেন নাই। কারন আমি জানি কে ঠিক বলছে আর কে বেঠিক বলছে। দেখুন না খৃীষ্টানরা বলে জিজাস তাদের সমস্ত পাপ ধূয়ে মুছে নিজেকে ক্রুশবিদ্ধ করেছে। কাজেই খৃীষ্টান ধর্মের অনুসারীরা মরলেই বেহেশতে যাবে। তাদের কোন জবাবদিহি করতে হবে না। যত জবাবদিহি ঐ জিজাসের করতে হবে। তাই খৃীষ্টানরা যত পারে লুচ্চাগিরি করছে, মানবতা শান্তির জন্য অঘোরে মানব মারছে, একে অপরের সম্পদ লুটেপুটে খাচ্ছে, কোন পাপ নাই তাতে। তারপরও তাদের সমাজে চোর ডাকাত ধরার জন্য পুলিশ পালে, আবার রোগ হলেই মরনের ভয় করে। কেন? পাপ নাই, জবাবদিহিতা নাই, মরলেই বেহেশতে যাবে এক ঝটকায় তাহলে বেটার রোগ হলে মরনের ভয় করে কেন? এই লজিকটা বুঝান তো? খৃীষ্টানরা তো মুসলিমদের মানুষ-ই মনে করে না। তারা তো বলেই মুসলিমরা-ই “এন্টি ক্রাইষ্ট” তাই মুসলিমদের হত্যা করা তাদের ফরজ কাজ, জিজাসের রক্তের বদলা নেবার মত পূন্যের কাজ। এ কথা আমার মনগড়া কথা নয়, আমি এক সময় খৃীষ্টান মিশনারীতে খৃীষ্টান ধর্মের উপর পড়াশুনা করেছিলাম এবং আমার একখান সার্টিফিকেটও আছে। অথচ বাইবেলে এ ধরনের কোন শব্দই পাবেন না। কোরআনের যে সব আয়াতের রেফারেন্স দিয়ে ব্লগ জ্বালাময়ি করে ফেলেছেন তার আসল অর্থকে নিজের স্বার্থে ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে মনগড়া অর্থ করে নিজেরাই নিজেদের প্রতি ঘৃনাবোধ করে অফেন্ড হচ্ছেন। কারন আপনাদের দুর্বলতা আপনারা বোঝেন কিন্তু মানতে চান না। এটা আর কিছু নয় এরোগেন্ট বা ইগো যা শয়তান বা ইবলিসের চরিত্র। এখন যদি কিছু মানুষ এই চরিত্র নিজের মধ্যে ধারন করে ফুলের মত পবিত্র হবার ভান করে তার জন্য হাসি ছাড়া কি উপহার দেয়া যায় বলুন।

      “আপনিই বলুন, যখন বলা হলো –‘আজ হইতে ইসলামকে একমাত্র ধর্ম মনোনীত করিলাম’- এরপর অন্যান্য ধর্ম ও তাদের অনুসারিদের প্রতি আমাদের কি মনোভাব হওয়া উচিৎ । তাদের বিশ্বাস কে বাতিল বলবো , সেসব উৎপাটন করা সর্বপ্রকার ব্যবস্থা নেব, কিন্তু মুখে বলবো -আমি তোমার বন্ধু ,তা কি হয়” ?

      আপনার এই বক্তব্য আমার বোধগম্য হলো না। তবে আমার কথা বলি। যে কোন ধর্ম এবং বিশ্বাস ঐ ধর্মের অনুসারীদের কাছে খুবই পবিত্র ও স্পর্শকাতর একটি বিষয়। যেমন, জন্মদাত্রী মা সন্তানের কাছে খুবই পবিত্র ও স্পর্শকাতর একজন মানুষ। মা সম্পর্কে কোন ধরনের কটুক্তি যেমন একজন সন্তান সহ্য করতে পারে না তেমনি তার ধর্ম ও বিশ্বাস সম্পর্কেও। এ জন্য ইসলামি শরিয়াতে একজন মা’র মর্যাদা সন্তানের জন্য আল্লাহ সোবহানা তালা তাঁর পরেই নির্ধারন করেছেন। ধর্ম ও বিশ্বাসের উপর কোন ধরনের কটুক্তি করলে সেটার ফলাফল কেবল পরস্পরে ঘৃনাই ছড়ায়। এই জন্যই অন্য কোন ধর্ম, বিশ্বাসের উপর কটুক্তি করার থেকে বিরত থাকা বাঞ্চনিয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে বর্তমান যুগে মানবতাবাদীর ব্যানারে প্রতিনিয়ত ইসলাম ধর্ম ও বিশ্বাসের কান্ডারী আল্লাহ ও তার রসুল মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে নানা ধরনের কটুক্তি করা হয় যা শুধু মিথ্যাই নয় কখনও কখনও তা অতিরন্জিত করতঃ বিশ্বাস ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অপব্যবহার করা হয়। অনেকে এটা করে কারন ইসলাম খুব দ্রুত বিস্তারলাভ করছে তা প্রতিরোধ করার প্রয়াসে। তাদের ধারনা ইসলামের শিক্ষা দ্রুত বিস্তার লাভ করলে তাদের প্রচলিত সামাজিক নের্তৃত্ত হাতছাড়া হয়ে যাবে। কারন তারা যে ভাবে সাধারন মানুষের ধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে মানুষকে গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, মানবতা’র নামে এক্সপ্লয়েট করছে তা করতে পারবে না। আবার কেউ কেউ এই বিরোধিতা করছে শুধুমাত্র হিংসা বিদ্বেষের বশবর্তি হয়ে।
       
      আমরা যে ধর্মই অনুসরন করি না, আমরা যদি বিশ্বাস করি এবং ষ্পষ্ট দেখতে পারি যে সেটা ধ্রুব সত্য তাহলে সেটার জন্য আসুন আমরা আমাদের ধর্ম ও বিশ্বাসের জন্য গর্ব করি এবং অপর ধর্ম বা বিশ্বাসকে কটুক্তি না করে বরং আমাদের ধর্ম ও বিশ্বাসকে প্রোপাগেট করি। যারা মানবতাবাদী প্রাকৃতিকবাদী তারা তাদের বিশ্বাসকে যদি সত্য হিসেবেই চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়ে থাকেন তাহলে সেটাকেই প্রোপাগেট করুন অন্য কোন ধর্ম বা বিশ্বাসের লুপহোল খুজে সময় নষ্ট না করে।
       
      একটি প্রবাদ আছে একজন জ্ঞানী মানুষ যখন কোন আঁকা বাঁকা পথ দেখেন তখন তিনি সেই বাঁকা পথ সোজা করার পিছনে সময় নষ্ট করেন না। বরং ঐ বাঁকা পথের পাশে তিনি একটি সোজা সরল পথ সৃষ্টি করে নিজের কাজে অগ্রসর হোন। পরবর্তীতে যে কেউ যখন সেই পথে যায় তারা যেন বুঝতে পারে কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক পথ। যদি সকল ধর্মে এই শিক্ষা দেয়া হয় তাহলে অবশ্যই আমরা একই সমাজে সকল ধর্মের কোনপ্রকার ঘৃণা বৈরিতা ছাড়াই শান্তিপূর্ন সহবস্থান নিশ্চিত করতে পারবো। কখনও কি আমরা শুনেছি যে একজন প্রকৃত মুসলিম, খৃীষ্টান বা জুইশ ধর্মের অথবা হিন্দু বা বৌদ্ধে ধর্মের নেতা, প্রফেট বা সৃষ্টিকর্তাকে নিয়ে কার্টুন তৈরী করেছে বা মকিং করেছে? কেন মুসলিম তা করে না? কারন কোরআনের মাধ্যমে আল্লাহ সোবহানা তালা মুসলিম বিশ্বাসীদের জন্য তা হারাম করে দিয়েছেন। সমাজে যে কোন ধর্ম ও বিশ্বাসীদের ধর্মীয় মত প্রকাশ ও ধর্ম চর্চা করার স্বাধীনতা আর অপর ধর্ম বা বিশ্বাসকে কটুক্তি করা, ঘৃনা করা, মকিং করা, ফ্যাব্রিকেট করার স্বাধীনতা এক বিষয় নয়। প্রথমটি সোজা সঠিক পথ আর দ্বিতীয়টি আঁকা বাঁকা পথ। কাজেই আসুন এই আঁকা বাঁকা পথের পাশে একটি সোজা পথ রচনা করি যাতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সে পথে অগ্রসর হতে পারে সত্যের সন্ধানে জীবনের সত্যিকারের প্রশান্তির লক্ষ্যে।

      “মুসলিম অমুসলিমের সাথে জাগতিক সম্পর্কের কথা বলেছেন- ভিন্নধর্মীদের বিশ্বাসের প্রতি এই প্রকার চরম বিদ্বেষ মনে রাখি তবে ভালো সম্পর্ক কি সম্ভব ? আমি জানি এরপর আপনি ‘লাকুম দ্বীনকুম’ এর উদাহরন দেবেন – যার যার ধর্ম তার তার কাছে । আমিও অনেক সময় এইটি উদ্ধৃত করে ইসলামের সহনশীলতা বোঝাতে চেয়েছি ।কিন্ত ম,মুহিউদ্দীন মারেফুল কোরানে অনুবাদের সময় ধর্মকে বদলিয়ে কর্ম লিখেছেন । তাহলে অর্থ তো পুরা বদলে গেল । মওদুদী এই আয়াতটির ব্যখ্যায় তার তাফহিমূল কোরানে বলেছেন – ইহার অর্থ কাফেরদের সহিত চিরকালের শত্রুতা । বন্ধুত্ব কি ভাবে হবে”?

      আমার উপরের অংশে পরিস্কার করেছি আপনার এই বিষয়টা। কোন মুসলিম অপর ধর্মের অনুসারীদের বিদ্বেষ করার শিক্ষা কোরআন দেয়নি। যেটা আপনার দৃষ্টিতে আসছে সেটা পথভ্রষ্ট মুসলিম নামধারী আপনার মতই ভিন্ন মতের মানুষ। আপনাদের মত মানবতাবাদীদের যেমন জাগতিক মোটিভিশন আছে তাদেরও এমনি জাগতিক মোটিভেশন আছে। যার কারনে আপনারা ও তারা পরস্পরের কাদা ছোঁড়া ছুঁড়ি করছেন। একজন মুসলিমের ব্যানারে অন্য দল মানবতার নামে।
       

      “শুধুমাত্র ভিন্ন বিশ্বাস থাকার জন্য তাদের নোমরা , unclean, অপবিত্র বলা হয়েছে । এতই নোমরা যে  তাদের মক্কা মদিনা ঢুকতে পর্‌যন্ত দেয়া হয়না । আপনি নিশ্চয়ই বলবেন তাদের শারিরীক ভাবে নোমরা বলা হয়নি , তাহলে কি তাদের বিশ্বাসটিই নোমরা ? আর অন্যের বিশ্বাসের প্রতি এই প্রকার বিদ্বেষ নিয়ে বন্ধুত্ব সম্ভব কি ?এর দ্বারা যে বিদ্বেষ প্রকাশ পেল তা কি বন্ধুত্বসুলভ, নাকি ঘৃনা প্রকাশ ? এই মনোভাব থাকলে তাদের সাথে কি বন্ধুত্ব করা সম্ভব”?

       
      আচ্ছা বলুন তো মোহাম্মদ ও তার দলবলকে কেন মক্কা’র কোরেইশরা গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছিল? শুধু কি মোহাম্মদ কোরেইশদের থেকে আলাদা বিশ্বাসের কথা বলেছিল তাই? ইসরাইল কেন ফিলিস্তিনীদের বের করে দিয়েছে? শুধু কি তাই, মদিনার ক্যাম্পে গিয়ে কোরেইশরা যে ভাবে মোহাম্মদের অনুসারীদের চোরাগুপ্ত হত্যা করতো সেই একই ভাবে ইসরাইলও ফিলিস্তিনীদের করছে। আপনাদের মত মানবতাবাদীরা তখন চুপ থাকেন কেন? শুনুন বিশ্বাসের পার্থক্যের কারনে কেউ নোংরা হয় না। কারোর মন ও চেতনা যখন নোংরা চিন্তা ভাবনা করে তখন সেটা তার ব্যবহারে প্রকাশ পায়, আর তখন সে নোংরা হয়ে যায়। একজন চোরের মন কি নোংরা থাকে না পরিস্কার থাকে? আপনি কি একজন চোরকে আপনার বাড়ীতে আশ্রয় দিবেন নাকি তাকে আপনার ব্যবসা দেখাশুনার দায়িত্বে রাখবেন? যে সময় মোহাম্মদকে মক্কা থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল সে সময় যারা এ কাজটি করেছিল তারা ছিল হয় মুশরিক না হয় কাফির। তাদের মনে, চিন্তা চেতনায় ছিল নোংরামী।  তারপর মোহাম্মদ যখন মক্কা বিজয় করলেন আল্লাহ’র সাহায্যে তখন কি এই মুশরিক বা কাফিরদের আর অধিকার থাকে সেই মক্কায় পুনঃপ্রবেশের? হয়তো বলবেন এখন তো কোন খৃীষ্টান বা মুশরিকদের মনে নোংরামী নাই। যেখানে এখনও মোহাম্মদকে নিয়ে কার্টুন আঁকা হয়, মোহাম্মদ এর অনুসারীদের “এন্টিক্রাইষ্ট” হিসেবে মনে মনে ধারনা পোষন করা হয়, মোহাম্মদের অনুসারীদের গায়ে কোর প্রকার বাছ বিচার ছাড়াই টেরোরিষ্ট সিল লাগানো হয় সেখানে আপনি কিভাবে নিশ্চিত হবেন যে তাদের মনে নোংরামী নাই। যিনি আপনার ও আমার সৃষ্টিকর্তা তিনি আপনার ও আমার উভয় এরই মনের কথা জানেন। তিনি-ই জানেন কার মনে কি নোংরামী বসবাস করছে। তাই তিনি-ই তাঁর কিতাবে স্পষ্ট বলে দিয়েছেন মুশরিকদের কখনও এই স্থানে প্রবেশ করতে দিও না। এ আইন তো মুসলিম বা মোহাম্মদ তৈরী করেনি। মুসলিমরা তো শুধু সৃষ্টিকর্তার আদেশ ফলো করছে বেশী কিছু নয়। মুশরিকরা অফেন্ড হচ্ছে ইসলাম সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কারনে। এখানে শারিরক নোংরামী বা বিশ্বাস অবিশ্বাসের বিষয় নয়। বিষয়টা হচ্ছে মন, চিন্তা চেতনার অপবিত্রতা বা নোংরামী যা একজনের ব্যবহারেই প্রকাশ পাচ্ছে। কোন মুসলিম অমুসলিমদের ঘৃনা করে না। বরং অমুসলিমরাই মুসলিমদের ঘৃনা করে নানা ধরনের কার্টুন বানায়।
      আশা করছি বুঝাতে পেরেছি আপনাকে, অবশ্য যদি আপনি বুঝতে চান।
       
      অফটপিকঃ আমি আপনাকে ইতোপূর্বে কয়েকটি সুনির্দৃষ্ট প্রশ্ন করেছিলাম যার উত্তর আপনি দেবার প্রয়োজন বোধ করেননি বরং মুনিমের পোষ্টে লুপহোল খোজায় ব্যাস্ত আছেন এটা ঠিক নয়।
       

       

      1. 12.5.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        করতোয়া ভাই অনেক সময় নিয়ে মূল্যবান রিভিউ করেছেন বুঝতে পারছি। কিন্তু যে মানার নয় সে মানবেনা।
        আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

  27. 11
    এম_আহমদ

    বিদ্বেষের স্বভাব
     
    আল্লাহ একটি ‘নফস’ থেকে মানব জাতি সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে পৃথিবীতে বিস্তৃত করে দিয়েছেন, বা ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার আত্মার উৎকর্ষ সাধনের অনুকূলে কিছু মৌলিক উপাদান দিয়েছেন আবার সেই উৎকর্ষ বিমুখ কিছু উপাদানও সেথায় রেখেছেন, কেননা এই জগত বৈপরীত্যে প্রতিষ্ঠিত অস্তিত্ব, যেমন আলো-আধার, ভাল-মন্দ, দিন-রাত, ফেরেশতা-শয়তান, এ জগত -- সে জগত ইত্যাদি।
     
    আল্লাহ তাদেরকে এই উপাদান ও বৈশিষ্ট্যে সৃষ্টি করেই ছেড়ে দেন নি। বরং তাদের আত্মার সুকর্ষ ও চারিত্রিক সৌন্দর্য বিকাশের পথ দেখাতে যুগে যুগে নবী রাসূল পাঠিয়েছেন। মানুষ তার ‘হওয়ার’ (being) একটি পর্যায় এখানে অতিক্রম করে, এই অবস্থা এখানেই চূড়ান্ত (absolute) নয় -তার শেষ অবস্থান অন্য স্থানে। কোরান যেহেতু কোন নতুন বাণী নয়, বরং পূর্ববর্তী সত্য-সূত্রের সিলসিলায় প্রতিষ্ঠিত –তাই তার বাণীতে মানব জাতির কথাই এসেছে, বিশ্ব মানবকে সম্বোধন করেছে। পবিত্রতার কথা বলেছে, মন্দ কাজ ত্যাগ করার কথা বলেছে, আচরণের বিশুদ্ধতার কথা বলেছে, মিথ্যা ভাষণ ত্যাগ করার কথা বলেছে।   কিন্তু প্রকৃতির সেই নেতিবাচক বিধান অনুযায়ী মানব জাতির একদল লোক আত্মার উৎকর্ষ বিমুখ রয়ে গিয়েছে, শয়তানী চরিত্র ধারণ করেছে, এবং আদম ও শয়তানের আমরণ সংগ্রামে শয়তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এরা যখন কোরানের দিকে তাকায় তখন শয়তানদের প্রসঙ্গে আসা আয়াতের কথা দেখে জ্বালা অনুভব করে, বাকী কোরানকে দেখে না। পক্ষান্তরে তাদের এক-চোখা চাহনি তাদেরকে হেদায়তের পথ থেকে অন্তরায় করে রেখেছে।  বাকী কথা শুনেও শুনবে না, দেখেও দেখবে না, বুঝেও বুঝবে না –যেন এক সুউঁচু প্রাচীর তাদেরকে আলাদা করে রেখেছে। 
     
    কথা হল, যার আত্মা কলুষিত তাকে কী কোরান ‘পবিত্র’ বলবে? যার অন্তঃচক্ষু অন্ধ হয়ে আছে তাকে কী  ‘চক্ষুষ্মান’ বলবে? যে গাধা বই পুস্তক পীঠে নিয়ে ঘুরে তাকে কী ‘পণ্ডিত’ বলবে? যে জীব আল্লাহর পথের পথিকদেরে, শয়তানি জীবন ব্যবস্থা কায়েম রাখার স্বার্থে, রুখে দাঁড়াতে দিন-রাত পাত ক, কোরান কী তাকে ‘উত্তম’ জীব বলবে?

    1. 11.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      যথার্থ বলেছেন।

  28. 10
    Majid biswas

    Excellent!!

    1. 10.1
      মুনিম সিদ্দিকী

  29. 9
    শামস

    @মুনিম ভাই, বরাবরের মত অসাধারণ। খুব ভাল লাগল।

    1. 9.1
      মুনিম সিদ্দিকী

       

      ড়া


      ন্য

      ন্য
      বা

       

  30. 8
    কিংশুক

    http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gifঅসাধারনভাবে বন্ধুত্বের বিষয়টি সুষ্পষ্ট করেছেন, মুনিম ভাই। আপনার এই পোষ্টটি আমার প্রিয় পোষ্টেসমূহের অন্যতম। লেখার জন্য স্যালুট।

    1. 8.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য এবং সুন্দর কমেন্টের জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।

  31. 7
    arshafi

     
    নীচের  আয়াত গুলো একটু ব্যাখ্যা করুন । বিধর্মীদের   প্রতি দেয়া এই বিশেষনগুলো কি সঠিক ?

    আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা সত্যত্যগী , তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম  ৯৮:০৬
     
    Those who reject (Truth), among the People of the Book and among the Polytheists,Will be in hell-fire,to dwell therein (for aye).They are the worst of creatures.-A,Yusuf ali
    Lo! those who disbelieve, among the People of the Scripture and the idolaters, will abide in fire of hell. They are the worst of created beings. -- Pickthall
    Of all creatures are they the worst! -- Rodwell

     

    হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র  ( নাপাক থানভী) সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। ৯:২৮

    ·         ye who believe! Truly
    The Pagans are unclean;
    So let them not,
    After this year of theirs, approach the Sacred Mosque. A.Yusuf ali

    ye who believe! it is only the idolaters who are unclean; they shall not then approach the Sacred Mosque after this year . Palmer

     

    তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলাম , তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।২:৬৪।৬৫

     

    বলুন ,  আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন—--৫:৬০

     

    যাদেরকে তওরাত দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধা, যে পুস্তক বহন করে, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে, তাদের দৃষ্টান্ত কত নিকৃষ্ট।    ৬২:৫
    The similitude of those
    Who were charged
    With the (obligations
    Of the) Mosaic Law,
    But who subsequently failed
    In those (obligations), is
    That of a donkey
    Which carries huge tomes

    (But understands them not). 62:5

    -- Tr. A.yusuf ali

     The likeness of those who are entrusted with the Law of Moses, yet apply it not, is as the likeness of the ass carrying books. Wretched is the likeness of folk who deny the revelations of Allah. And Allah guideth not wrong doing folk.  Tr pickthall

     

    বলুনঃ হে আহলে কিতাবগণ, আমাদের সাথে তোমাদের এছাড়া কি শত্রুতা যে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি আল্লাহর প্রতি, আমাদের উপর অবতীর্ণ গ্রন্থের প্রতি এবং পূর্বে অবতীর্ণ গ্রন্থের প্রতি। আর তোমাদের অধিকাংশই নাফরমান (সত্য ত্যাগী)। ৫:৫৯
    তাদের মধ্যে কিছু তো রয়েছে ঈমানদার আর অধিকাংশই হলো পাপাচারী।  ৩:১১০ 

     

    সে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে, যে তার অপকার করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। এটাই চরম পথভ্রষ্টতা  —--
    সে এমন কিছুকে ডাকে, যার অপকার উপকারের আগে পৌছে। কত মন্দ এই বন্ধু এবং কত মন্দ এই সঙ্গী  ২২:১২-১৩

     

    যারা পরকাল বিশ্বাস করে না, তাদের উদাহরণ নিকৃষ্ট এবং আল্লাহর উদাহরণই মহান, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।  ১৬:৬০

     

    তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের পুজা কর, সেগুলো দোযখের ইন্ধন (আগুন) তোমরাই তাতে প্রবেশ করবে।  ২১:৯৮

     
     

    সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি।    ৮:৫৫

     

    নিশ্চয়ই,আল্লার নিকট তারাই নিকৃষ্ট জীব তারাই ,যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং অবিশ্বাস করে । ৮:৫৫ (অনু মোবারক করিম গওহর)

     

    For the worst of beasts in the sight of God are those who reject Him:
     They will not believe . tr. A.Yusuf ali

     

    Verily, the worst of beasts in God's eyes are those who misbelieve. Palmer

     

    Lo! the worst of beasts in Allah's sight are the ungrateful who will not believe.

    Tr. Pickthall
     

    The vilest of animals in God’s sight are those who disbelieve. shakir

    1. 7.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      স্বাগতম!
      আপুনি একটি নয় একসেট আয়াত উপস্থাপন করে আমার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। দেখুন আমার এই প্রবন্ধের মূল বিষয় হচ্ছে  মুসলিম এবং অমুসলিমের সাথে ইহ জাগতিক সম্পর্ক নিয়ে। এই প্রবন্ধ মোটেই দর্শন নিয়ে নয়। পর লৌকিকতা বা ইসলাম শ্রেষ্ঠ এই জাতিয় কোন দাবি এই পোস্টে করিনাই।
      আমার এই প্রবন্ধ প্রেক্ষাপট হচ্ছে- ৫.৫১ নং আয়াত নিয়ে, যাকে এন্টি ইসলামীরা বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করে থাকেন একমাত্র সেই আয়াত নিয়ে।
      এই ৫.৫১ আয়াতের ব্যাখ্যা করতে আমাকে কত বড় একটি প্রবন্ধ লিখতে হয়েছে। এখন যদি আমি আপনার ১১ টি আয়াতের জবাব দিতে হয় তাহলে আমাকে আরও ১১টি প্রবন্ধ লিখতে হবে। যার জন্য সময়ের দরকার আছে।
      এর চেয়ে ভাল হয় আপনি এই ১১টি আয়াতের মধ্য থেকে  যে কোন একটিকে নিয়ে প্রশ্ন করুন তাহলে আমার জবাব দিতে সহজ হবে।
      তবে আপনার উপস্থাপিত কোন আয়াতে কিন্তু কোরআন নির্দেশ করছেনা যে মুশরিকদেরকে মুসলিমরা ঘৃণা করতে হবে। এই আয়াত গুলোতে উত্তম অধম যে সব বিশেষণ ব্যবহার হয়েছে সেগুলো আল্লাহ্‌ করেছেন তাকে অস্বীকারকারী কিংবা তার সাথে অন্য মিথ্যা (যা ইসলামি দর্শনের দাবি) সৃষ্টিকে শরীক কারীদের প্রতি।
      ইসলামি দর্শনে আল্লাহ্‌ বান্দার সব পাপ মাফ করে দিবেন, কিন্তু উনাকে অস্বীকারকারী, উনার সাথে অংশিদারবাদীদেরকে ক্ষমা করা হবেনা। ইসলামে হাইয়েষ্ট ডিগ্রী অপরাধ হল তাকে অস্বীকার করা এবং তার সাথে কাউকে অংশীদার করা।
      বাস্তব পৃথিবীতেও দেখি যারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করে থাকে তাকে রাষ্ট্র চরম শাস্তি দিয়ে থাকে, সমাজের মানুষ সেই সব অপরাধীদেরকে ঘৃণা করে থাকে, এবং তাদের থেকে নিজদের দূরে রাখে। যারা মালিকের নুন খেয়ে মালিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেনা এবং  মালিকের বিরুদ্ধাচরণ করলে তাদেরকে মীরজাফর নিমকহারাম বলে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
      সেই হেতু যারা আল্লাহকে অস্বীকার করে তার সাথে অন্য কাউকে অংশী করে মৃত্যুর পর তাদের অবস্থান কোথায় হবে তাদের মর্যাদা কি হবে তা তাদেরকে আগাম সতর্ক করতে কোরআনে তা আল্লাহ্‌ উল্লেখ করে দিয়েছেন।  
      যদি এই না হয় তাহলে তো কাফির মুশরিক আর ইমানদারের জন্য কোন ব্যবধান থাকবেনা, আর ব্যবধান না থাকলে তৌহিদেরও দাওয়াত নিয়ে ইসলামের আসার দরকার থাকবেনা। এখানে একটি কথা স্মরণ রাখতে হবে যে- এই নির্দেশ জগতের সকল মানুষের জন্য এমন কি যিনি মুসলিম পরিবারের লোক অথচ আল্লাহর সাথে অন্য কিছুকে শরিক করেন । শরিক মানে শুধু এইটি নয় যে,  মূর্তি পূজা  করা। লা ই লাহা ইল্লাল্লাহ মানে হল আল্লাহ্‌ ছাড়া কোন কাউকে আমি প্রভু মানি না। সে প্রভু হতে পারে টাকা পয়সা, ধন দৌলত, মান সম্মান, অফিসের বস, কারখানার মালিক, জায়গীরদার জমিদার, সন্ত্রাসী, পুলিশ, সৈন্য, মন্ত্রী , প্রেসিডেন্ট , স্বামী, স্ত্রী বাবা মা, যে কেউ। যারাই আল্লাহর উপর ডিফেন্ড না করে জাগতিক এই সবের উপর নির্ভর করবেন তিনিই মুশরিকে রূপান্তরিত হবেন এবং উনার জন্য ঐ আয়াত প্রযোজ্য হবে। কাজেই এই সব আয়াত দ্বারা শুধু মাত্র বিধর্মীদের প্রতি  নয় মুসলিমকুলে জন্মগ্রহণকারীও তার পরিণাম থেকে রেহাই পাবেন না।

      আমি আবারও বলছি যে-তবে আপনার উপস্থাপিত কোন আয়াতে কিন্তু কোরআন নির্দেশ করছেনা যে মুশরিকদেরকে মুসলিমরা ঘৃণা করতে হবে।  
       

    2. 7.2
      এম_আহমদ

      আপনি এখানে একটা নয়, দুইটা নয় বরং নয়টি সূরার নয়টি স্থান উল্লেখ করে (Al-Baqarah2:64-65, Al Imran 3:110, Al-Ma&rsquo 5:60, Al-Anfal 8:55
      At-Tawbah9:28, An-Nahl16:60, Al-Ambiya 21:98, Al-Hajj 22:12-13 Al-Jumuah 62:5) বলছেন, ব্যাখ্যা করুন।

      ১।এটা কী এভাবে ঠিক হল? কী ব্যাখ্যা করবেন? আপনার জানার স্থানগুলো কী? Specific সমস্যা কি? এগুলো জানার জন্য আপনি কী কী করেছেন? আপনার জানার পদ্ধতি কী ছিল এবং যে সৌর্সগুলো আপনি consult করেছেন সেগুলোর ব্যর্থতার স্থান কী ছিল?

      ২। এগুলো present করলে বুঝা যাবে যে কোথা থেকে উত্তর শুরু হতে হবে। আমাদের কাছে সোজা প্রশ্ন করলে, আমরা সোজা উত্তর দেব, ‘এগুলো সঠিক’। তাই প্রশ্ন বিজ্ঞ হতে হবে, অধ্যয়ন ভিত্তিক হতে হবে। আপনি এ পর্যন্ত এগুলো অধ্যয়ন না করে থাকলে, কয়েকদিন ব্যয় করে –তা করুন। তারপর জিজ্ঞাসার স্থান সচেতন করে নিয়ে আসেন। আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে, ইনশাল্লাহ। আমরা কয়েকজন এখানে আছি, যারা বিদ্যার ‘সাগর’ না হলেও অবশ্য ‘জলাশয়’। এই খাজা বাবার দরবার থেকে আশা করা যায় আপনি খালি হাতে ফিরবেন না। তবে আগের কাজ আগে করতে হবে। কোরান যদি কোন স্থানে কিছু মানুষের প্রতি তির্যক কথা বলে থাকে, তবে আর অপরাপর স্থানাদিতে মানব জাতি সম্পর্কে কীরূপ বাণী ব্যক্ত করেছে –সেই স্থানগুলো বিবেচনায় রেখে, specific স্থানের প্রসঙ্গ দেখবেন।

      ৩। তারপর সমাজ ও ভাষাতাত্ত্বিক (socio-linguistic) অবস্থান থেকে বাক্য ও বাক্যের semantic বুঝার চেষ্টা করবেন। কোন বিশেষ বাক্য কোন বিশেষ Addressee দেরকে লক্ষ্য করে কথা বলছে -তা দেখবেন। তখনকার দ্বান্দ্বিক অবস্থান বুঝবেন। এগুলো সহায়ক হবে।

      ৪। আপনি ইয়সূফ আলী ও বয়ানুল কোরানের অনুবাদ উল্লেখ করেছেন, তাঁদের ব্যাখ্যাও দেখবেন, মুফতি মুহাম্মদ শফির ব্যাখ্যা দেখবেন, মুহাম্মাদ আসাদের ব্যাখ্যা দেখবেন, আরও যারা আছেন তাদের ব্যাখ্যা দেখবেন। নিচের দেয়া লিঙ্কে গিয়ে al-Jalalain-এর ও অন্যান্যদের ব্যাখ্যা দেখবেন।
      http://www.altafsir.com/Tafasir.asp?tMadhNo=0&tTafsirNo=0&tSoraNo=1&tAyahNo=1&tDisplay=no&LanguageID=2

      ৫। তাছাড়া ৯৬:০৬ আয়াতের উপর আমার একটি ব্লগ (বেলা শেষে জাহান্নাম) আমুতে দেখতে পারেন। http://00ahmed.amarblog.com//posts/129911/ ব্লগটি দীর্ঘ এবং স্থানে স্থানে কিছু বাক্যের বিন্যাসে অসংলগ্নতা রয়েছে, (এডিট করা হয় নি), তবুও পড়তে অসুবিধা হবে না, আসা করি।

      ৬। ৫:৫১ আয়াতের উপরও আরেকটি ব্লগ এখানে দেখতে পারবেন।
      http://00ahmed.amarblog.com//posts/126986/

      আপনি এগুলো ফলো করে, তারপর ফিরে আসবেন।

      ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন।

      1. 7.2.1
        মুনিম সিদ্দিকী

         
         
        ভাই আপনার আমুব্লগের লিংক  আমার কাছে ওপেন হচ্ছেনা!  আপনার কাছে কি ওপেন হচ্ছে!

      2. 7.2.2
        এম_আহমদ

        আমার লেখাগুলো মনে আমুতে খানিক স্থানচ্যুত হয়ে আছে, এই লিঙ্কে পাবেনঃ
        ৯৬:০৬ http://www.amarblog.com/00ahmed/posts/129911
        ৫:৫১ http://www.amarblog.com/00ahmed/posts/127152

        1. 7.2.2.1
          মুনিম সিদ্দিকী

          আমার প্রবন্ধের সম্পূরক হিসাবে আপনার এই ২ প্রবন্ধ পাঠককে বিষয়ের গভীরে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে । ধন্যবা।

        2. 7.2.2.2
          এম_আহমদ

          5:51 আয়াতের লিঙ্ক আগে ভুল ছিল, এটা এখানেঃ 
          ৫:৫১ আয়াতের ইয়াহুদী-নাসারা
           

    3. 7.3
      এস. এম. রায়হান

      প্রথমত, বাংলা ব্লগে 'আরশাফি' নামে কাউকে ইসলামের বিরুদ্ধে লিখতে দেখা যায় না। ফলে 'আরশাফি' যে অন্য কারো মাল্টিনিক তাতে মনে হয় কোন সন্দেহ নাই। মনা ব্লগে নিয়মিত এই ধরণের সাময়িক নিক গজায়। দ্বিতীয়ত, এই লেখাতে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু না বলে অন্য কারো লেখা থেকে কপিপেস্ট করে ডজন খানেক ভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে এসে লেখক থেকে ব্যাখ্যা চাচ্ছেন। এটি আর যা-ই হোক, কোন যৌক্তিক পন্থা হতে পারে না।

      1. 7.3.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        উনি আর কোন সাড়া না দেয়ায় বুঝা যায় এই পাবলিক এই সদালাপে চোখ রাখেন।  উনার কপি পেষ্টের ধরণে বুঝা গেছে তিনি আমার প্রবন্ধ পড়েন নাই। শুধু " ইসলামের প্রসারের শুরু থেকে ইসলাম বিরোধীরা, ইসলাম বা মুসলিমদেরকে ‘হেট মঙ্গার’ জাতি বলে প্রচার করছে! বলা হচ্ছে যে, মুসলিমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি মনে-প্রাণে ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করে। এর জন্য নাকি আল-কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে, যা একজন মুসলিমকে অবশ্যই পালন করতে হবে! আর তাদের অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে তারা যে সকল আয়াত তুলে ধরেন সেগুলোর মধ্যে সূরা আল-মায়েদার ৫:৫১ আয়াত উল্লেখযোগ্য (যে ভাবে বর্তমানে বাংলায় অনুবাদ আছে)-" পড়ে ই কোরআনের ভিন্ন সুরায়  উল্লেখিত
        তারাই সৃষ্টির অধম। মুশরিকরা তো অপবিত্র ( নাপাক )লাঞ্ছিত বানর । বানর শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন।  সেই গাধা, যে পুস্তক বহন করে, নিকৃষ্টঅধিকাংশই হলো পাপাচারী।   এটাই চরম পথভ্রষ্টতা।  —--কত মন্দ এই বন্ধু , কত মন্দ এই সঙ্গী।   দোযখের ইন্ধন (আগুন)  সবচেয়ে নিকৃষ্ট,  নিকৃষ্ট জীব — বাক্য ও শব্দগুলোকে বল্ড করে বুঝিয়ে দিলেন যে দেখ কোরআনে কেমন সব শব্দ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে শুধু অমুসলিমদেরকে ঘৃণা করার জন্য।
        আসলেই যারা ইসলাম প্রচারকালিন সময়ে কারা প্রতিপক্ষছিল, তারা কেমন করে ইসলামকে নির্মূল করতে চেয়েছিল সে সব ঘটনা না জানেন তারা কোরআনেই এই শব্দ গুলো পড়ে দেখলে বাস্তবতা ধরতে পারবেন না। সম্পুর্ণ ইতিহাস গভীর ভাবে অনুধাবন করতে পারলে এই বিশেষণ গুলো এখন যে ভাবে গায়ে লাগছে সেই ভাবে লাগতোনা।
         
         

    4. 7.4
      এস. এম. রায়হান

      আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা সত্যত্যগী, তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম ৯৮:০৬

      হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র (নাপাক থানভী) সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে। ৯:২৮

      এই আয়াতগুলোতে আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা সত্যত্যগী তাদের কথা বলা হয়েছে। আপনি এই দলের কেউ হয়ে থাকলে স্পষ্ট করে বলুন। আর তা না হলে আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা সত্যত্যগী তাদের উপর ছেড়ে দেন কিংবা তাদেরকে আসতে বলুন, তখন জবাব দেয়া হবে।

    5. 7.5
      এস. এম. রায়হান

      তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলাম, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।২:৬৪।৬৫
      বলুন, আমি তোমাদেরকে বলি, তাদের মধ্যে কার মন্দ প্রতিফল রয়েছে আল্লাহর কাছে? যাদের প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন, যাদের প্রতি তিনি ক্রোধাম্বিত হয়েছেন, যাদের কতককে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিয়েছেন—--৫:৬০

      আপনি যদি কুরআনের এই আয়াতগুলোকে সত্য হিসেবে বিশ্বাস করেন তাহলে তো আল্লাহকেও এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা হিসেবে মেনে নেয়া উচিত! কেননা মানুষকে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করা একমাত্র এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার পক্ষেই সম্ভব। কী বলেন।

    6. 7.6
      এস. এম. রায়হান

      যাদেরকে তওরাত দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধা, যে পুস্তক বহন করে, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে, তাদের দৃষ্টান্ত কত নিকৃষ্ট। ৬২:৫

      আশা করি আপনি সেই পুস্তক বহনকারি মানুষরূপী গাধাদের দলের কেউ নন! উল্লেখ্য যে, বাংলা ব্লগে কিন্তু ধর্মে বিশ্বাসীদেরকে 'ধর্মগাধা' বলা হচ্ছে।

    7. 7.7
      এস. এম. রায়হান

      সে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কিছুকে ডাকে, যে তার অপকার করতে পারে না এবং উপকারও করতে পারে না। এটাই চরম পথভ্রষ্টতা

      আপনার কাছে কী মনে হয়। আপনি কি এটাকে সত্য পথ বলে মনে করেন। কোথায় লিখা আছে প্রমাণ দেখাতে পারবেন?

    8. 7.8
      এস. এম. রায়হান

      নিশ্চয়ই,আল্লার নিকট নিকৃষ্ট জীব তারাই, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে এবং অবিশ্বাস করে। ৮:৫৫

      যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে কি আপনি উৎকৃষ্ট জীব মনে করেন? আপনি নিজেও কি এই 'উৎকৃষ্ট জীব' এর একজন?

    9. 7.9
      করতোয়া

      @arshafi,

      আয়াত ৯৮:০৬
      এই আয়াতে দুটি শব্দ উচ্চারিত হয়েছে। একটি “সত্যত্যাগি” যা একজন মানুষের এ্যাকশন এবং অপরটি “তারাই সৃষ্টির অধম” যা মানুষের “সত্যত্যাগি” এ্যাকশনের জন্য কনসেকোয়েন্স আপনি যাকে বিশেষন বলছেন। এখন আসুন বিস্তারিত আলোচনা করি। “সত্যত্যাগি” বলতে আমার কি বুঝি। যেমন আমার জন্ম দাতা পিতা/মাতা একজন পুরুষ ও একজন নারী-ই হবেন এটা কৃষ্টাল ক্লিয়ার সত্য। এখন যদি আমি এই সত্যকে ত্যাগ করি অর্থ্যাৎ যদি সত্যকে অস্বীকার করি তাহলে কি দাঁড়াবে? সমাজে যারা তার জন্মদাতা পিতা/মাতাকে নিজের পিতা/মাতা হিসেবে অস্বীকার করে তখন তাকে কি আমরা সমাজের “সধম” মানুষ বলি নাকি সমাজের “অধম” মানুষ বলি?

      এখন কোরআনের ৯৮:০৬ আয়াতে সত্য বলতে যা বোঝানো হয়েছে তা হলো, আপনার আমার সৃষ্টিকর্তা বলতে কেবল “একজন-ই” আছেন যিনি আমাদের সকলেরই একমাত্র উপশনার হক্কদার। এই সত্যকে আহলে কিতাব তথা তৌরাহ, প্লাজম, বাইবেল এমন কি কোরআন এর অনুসারীদের বেলাতে যেমন সত্য তেমনি যারা পেগান বা মুর্তিপূজারী যারা সৃষ্টিকর্তার একাত্ববাদের সাথে কাউকে না কাউকে শরিক করে তাদের জন্যও সত্য। এই সত্যকে সৃষ্টির সকল সৃষ্টি যেমন গাছ পালা, পশু পাখি সকলেই সত্য বলেই স্বীকার করছে এমন কি “ইবলিশ” নিজেও যে সয়ং তার সৃষ্টিকর্তার আদেশ অমান্য করেছিল সেখানে আমাদের মত মানুষ নামের সৃষ্টি’র কেউ কেউ যখন এই সত্যকে অস্বীকার করে সত্যকে ত্যাগ করে তখন তাকে সৃষ্টির অধম বলা হচ্ছে এই আয়াতে। অনেকটা নিজের পিতা/মাতাকে অস্বীকার করার কারনে যেমন একজন মানুষ সমাজে অধম মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয় তেমনি মানুষের সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকারকারী মানুষকে সৃষ্টির অধম বোঝানো হচ্ছে।

      আয়াত ৯:২৮
      এই আয়াত বোঝার আগে আমাদেরকে “একাত্ববাদ” শব্দটি বিশদভাবে বুঝতে হবে। একাত্ববাদ হচ্ছে কোন কিছুর ইউনিক অবস্থান। যেমন প্রতিটি জীব-ই জেনেটিক্যালি এক একটি ইউনিক বস্তু। একজন মানুষের জেনেটিক কোড কখনও অপর মানুষের সাথে মিলবে না। আবার মানুষজাতীর জেনেটিক কোড কোন অবস্থাতেই অপর জীব যেমন গাছ, পাখি, পশু প্রভৃতি জাতীর জেনেটিক কোডের সাথে মিলবে না। এই ধারনায় প্রতিটি মানুষ যেমন একে অপর থেকে ইউনিক বা এককসত্বা তেমনি সমগ্র মানবজাতী-ই পশুজাতী বা উদ্ভিদজাতী থেকে সম্পূন্ন আলাদা এককসত্তা। সৃষ্টি’র এই ইউনিক অবস্থাকেই একাত্ববাদ বলা হয়। তেমনি আল্লাহ নিজে একক এবং ইউনিক একটি গায়েবী সত্তা যিনি সৃষ্টি’র সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন যা আমরা সুরা ইখলাস থকে জানতে পারি “কুল হু আল্লাহু আহাদ” (এখানে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে এ প্রশ্ন আলোচ্য বিষয় নয়)। এই ধারনাকে বোধদ্বয় করার নামই হচ্ছে আল্লাহ’র একাত্ববাদে বিশ্বাসী। এখন যারা সৃষ্টিকর্তা হিসেবে আল্লাহ’র গায়েবী সত্বার সাথে আরো কিছু বস্তুগত বা সৃষ্টিকে আল্লাহ’র একক সত্বার অংশ হিসেবে সংযুক্ত করে তখন তাদেরকে মুশরিক বলা হয়। যেমন, খৃীষ্টান ধর্মে যারা আল্লাহ’র গায়েবী সত্বাকে সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মানার পরেও তার সাথে সন্তান হিসেবে সৃষ্টি বা মানুষ “জিজাস”কে অংশীদার হিসেবে সংযুক্ত করতঃ আল্লাহ’র একক সত্বার একাত্ববাদে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। ফলে এদেরকে মুশরিক বলা হয় । তেমনি ইহুদীরা আল্লাহ’র সন্তান হিসেবে নবী উজাইর (আঃ) কে অংশীদার হিসেবে বিশ্বাস করে ফলে তারাও আল্লাহ’র একাত্ববাদে বিশ্বাসী নয়। ফলে এরাও মুশরিক। আবার পেগান বা মুর্তিপূজারী অথবা আগুন পূজারী, গাছ পূজারী, পাহাড় পূজারী ইত্যাদি তারাও আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তা হিসেবে কোন একক সত্বার একাত্ববাদে বিশ্বাসী নয়। তারা সৃষ্টিকে সৃষ্টিকর্তার সাথে সংযুক্ত অংশীদার সত্বা হিসেবে কোন কোন সৃষ্টির উপাশনা করে। ফলে এরাও মুশরিক। অপরদিকে যারা সৃষ্টিকর্তা বলতে যে কিছু গায়েবী সত্বা আছে তা পুরাপুরি অস্বীকার করে তারা মুশরিক না হয়ে কাফির।
      উদাহরন স্বরুপ, একজন বাংলাদেশে অবস্থানকারী মানুষ যে বাংলাদেশ নামের একটি ভূখন্ডের অস্তিত্ব ও তার সংবিধানের প্রতি বিশ্বাস আনবে না তাকে আমরা বাংলাদেশের নাগরিক বলতে পারি না। আবার যে বাংলাদেশের নাগরিক উভয়টিতে বিশ্বাস আনার পরও দেশ ও সংবিধান বহির্ভুত কাজে লিপ্ত হয়ে অপর দেশের স্বার্থে কাজ করে তাকে আমরা দেশদ্রোহী বলে থাকি। এখন দেশদ্রোহী আর মুশরিক একই অর্থে আপনি দেখতে পারেন। অন্যদিকে যে বাংলাদেশের নাগরিক নয় তাকে বাংলাদেশের প্রক্ষাপটে কাফির হেসেব দেখতে পারেন।

      এই আয়াতে মসজিদুল হারামের জন্য মুশরিকদেরকে অপবিত্র ঘোষনা করা হয়েছে। এটা বুঝতে হলে আপনাকে আগে বুঝতে হবে মসজিদুল হারাম কেন গুরুত্বপূর্ন স্থান, অপবিত্র ও পবিত্রতা কি সে সম্পর্কে। সবার আগে আপনাকে বিশ্বাসে আনতে হবে যে আল্লাহ-ই একক সত্বা যিনি এই বিশ্বভ্রমান্ডের সকল সৃষ্টির সৃষ্টিকর্তা এবং একক উপশনার হক্কদার। আল্লাহ যিনি সৃষ্টির একক গায়েবী সত্বা তিনি নিজেই এই মসজিদুল হারামকে নির্বাচন করে দিয়েছেন মানুষের জন্য তার দিকে মুখ করে উপশনার জন্য। এখানে একটু পজ নিন। আমরা মানুষ আমাদের সীমিত জ্ঞানে সবসময় বস্তুগত জিনিষ সব কাজের মাধ্যম হিসেবে খোঁজ করি, এটাই স্বাভাবিক। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের সৃষ্টিকর্তার উপাশনার জন্যও আমরা এমন ধরনের বস্তুগত জিনিষের খোঁজ করি। যার ফলে মূর্তিপূজা বা যে কোন ধরনের বস্তু পূজার সংস্কৃতির ইনভেনশন হয়েছে। এরও আবার ইতিহাস আছে যা এখানে বলছি না বড় হয়ে যাবে। কোরআনের অনুসারীরা যাতে সেই ফাঁদে পা না দিতে পারে সেজন্য আল্লাহ সোবহানা তালা তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যাতে তারা সকলেই একই দিকে মুখ করে আল্লাহ’র উপাশনা করে আর সেটা হলো মসজিদুল হারাম এর দিকে। এটাও ইবাদতের এক ধরনের ইউনিকনেস। ইবাদত কাকে বলে? আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী তার উপাশনা যেমন করা ইবাদত তেমনি তাঁর হুকুম অনুযায়ী খারাপ কাজ থেকে নির্বৃত্ত থাকাটাও ইবাদত। আল্লাহ হুকুম করেছেন কাবা’র দিকে মুখ করে তাঁর উপাশনা করা, কাজেই এটা করা একজন মুসলিমের জন্য ইবাদত। অনেকে বলে মুসলিমরা কাবার পূজা করে। এটা ঠিক নয় কারন মুসলিমরা কাবার দিকে মুখ করে উপাশনা করে, কাবার পূজা করে না। অন্যরা যেমন মূর্তিকে সামনে রেখে (পূর্ব পশ্চিম যে কোন দিক হতে পারে) তার পূজা করে মুসলমানরা তা করে না। বিতর্কের খাতিরে অনেকে বলে ঐ একই কথা। কিন্তু কোন বস্তুর সামনে উপাশনা করা আর কোন দিকে মুখ করে উপাশনা করা একই কথা নয়।

      আবার মসজিদুল হারামে বিচরন করার আগে কিছু পূর্বশর্ত আল্লাহ নিজেই ঠিক করে দিয়েছেন। যেমন, এখানে প্রবেশর আগে আপনাকে আল্লাহ’র নির্দেশিত অনুযায়ী পবিত্র হতে হবে, আপনি হালাল/হারাম কোন ধরনের প্রানীকে হত্যা করতে পারবেন না (মশা মাছি, পিপড়া’র মত ক্ষুদ্র প্রানী গাছ পালা ইত্যাদি), এখানে কোন ধরনের অনৈতিক কথা, আলোচনা, কাজ এমনকি মানসিক চিন্তা ভাবনা করাও নিষিদ্ধ। এমন কি এখানে আপনার হালাল স্ত্রীর সাথে যৌনকাজ বা যৌন উদ্দিপক কথাবার্তাও নিষিদ্ধ শুধু তাই নয় আপনার নিজের সন্তানের সাথে রাগন্বিত ভাষায় দুর্ব্যাবহারও করতে পারবেন না। এখানে প্রতিটি সৃষ্টিই স্বাধীন। পবিত্র হবার পূর্বশর্ত হচ্ছে আপনাকে এই স্থানের অধিকর্তা হিসেবে আল্লাহ’র একাত্ববাদের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করতে হবে। এখন বিবেচনা করে দেখুন মুশরিকরা কি সেই অর্থে পবিত্র না কি অপবিত্র? সুতরাং যে অপবিত্র তাকে অপবিত্র বলাতে অফেন্ড ফিল করার কোন কারন নাই।

      আয়াত ২: ৬৪-৬৫ ও ৫:৬০
      এই আয়াতগুলো নাজিল হয়েছিল ইহুদীদের সাবাত ঘটনার বিষয় আমাদেরকে বোঝাবার জন্য। যাতে আমরা আল্লাহ’র হুকমতের মধ্যে পরিবর্তন না করি।  ইহুদীরা নিজেদের দুনিয়ার আকাঙ্খা ফ্যান্সি বিসর্জন দিতে অনিহার বশবর্তী হয়ে আল্লাহ’র হুকুমতের মধ্যে পরিবর্তন পরিবর্ধন ও সংশোধন করতো।  আল্লাহ তাদের  জন্য শনিবার সব ধরনের দুনিয়ার কাজকর্মের জন্য হারাম করে দিলেন যাতে তারা শুধু আল্লাহ’র উপাশনাই করে। এটা অবশ্য তারা নিজেরাই নিজেদের জন্য করে ফেলছিল বলেই আল্লাহ তাদের জীবনকে আরো কঠিন করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এক ইহুদী মৎসজীবি এই আইনকে বাইপাস করার জন্য এক ধরনের উপায় বের করলো। সে একদিন মাছ ধরে পরদিন তা বিক্রি করে এবং তা দিয়ে সে জীবিকা করে। সে দেখলো শনিবার মাছ ধরতে না পারলে সে রবিবারে কিছু খেতে পারবে না। তার এই ধারনায় সে প্রমান করলো যে তার রিজকের জন্য আল্লাহই যতেষ্ট নয় যা আল্লাহ দাবী করেন। তাই সে শুক্রবার নদীতে জাল ফেলে আসে আর রবিবারে তা থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে। এভাবে সে ভালই চলছিল। একদিন অন্য আর এক জেলে সেটা লক্ষ্য করলো এবং তার সাথে আলোচনা করলো। নতুন জেলে দেখল তাহলে তো সেও এটা করতে পারে। তাতে আল্লাহর হুকুমও পালন হলো আবার নিজের জীবিকাও ঠিক রাখা গেল। এভাবে আস্তে আস্তে সমাজের সকল জেলে বিষয়টি জেনে গেল এবং তারা এটাকে আল্লাহ’র হুকুমত বাইপাস করে নিজেদের আকাঙ্খা বাস্তবায়নের পাথেয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করলো। ব্যাস তখনই আল্লাহ তাদের উপর এজন্য গযব নাজিল করলেন এবং ঐ সব জেলেকে বানর বা শুকুর হবার হুকুম দিলেন।

      আমরা যদি আমাদের দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করি এবং দেশের বিরুদ্ধাচারন করি তবে যদি সরকার আমাদের দেশ থেকে বহিস্কার করে তাহলে কি সেটা সরকারের অন্যায় বলা সমীচীন হবে? বিষয়টি এ রকমই। আমরা এখন সুদের ব্যাবসা কে সাধারন ব্যবসার মত বিবেচনা করে সুদের ব্যাপারে আল্লাহ’র হুকমতকে পরিবর্তনের চেষ্টা করছি বা বাইপাস করার চেষ্টা করছি। আমরা বিবাহ সংক্রান্ত আল্লাহ’র দেয়া ঘোষনাকে বাইপাস করে সমকামিতাকে সামাজিক সীকৃতি দেবার জন্য বিবাহের ডেফিনিশনকেই পরিবর্তন করছি। এ অর্থে আমরা যারা সুদ ব্যবসা বা সমকামিতার স্বপক্ষ নিচ্ছি বা জড়িত হচ্ছি তারা বাস্তবে বানর বা শুকুর না হলেও তারা সামাজিক নৈতিকতার দৃষ্টিতে বানর বা শুকুরের অনুরুপ এ কথাটাই এই আয়াত গুলোর মাধ্যমে আল্লাহ কোরআনের অনুসারীদের বুঝাতে চাচ্ছেন যাতে আমরা অনেকেই অফেন্ড ফিল করছি।

      আয়াত ৬২:০৫
      সরকার জনগনের ট্রাক্সের পয়সায় এবং আপনার অভিভাবক তার কষ্টের পয়সায় আপনাকে ডাক্তারী পড়ালেন যাতে আপনি মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন। আপনি ডাক্তারী পড়ে চাকরী নিলেন পুলিশের যাতে ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে কি আপনার ডাক্তারী বিদ্যা আপনার জন্য কি হলো? এই আয়াতে সেটাই বুঝানো হচ্ছে যে তৌরাহ যাদের দেয়া হয়েছিল তারা সেটা সংরক্ষন না করে তার মধ্যে নিজেদের মত করে পরিবর্তন করেছে ফলে সেটা একটা গাধার পুস্তক বহনের অনুরুপ ছাড়া আর কি হতে পারে। অনেকটা অন্ধের হাতী দেখার মত। এটার দ্বার আল্লাহ কোরআনের অনুসারীদের সতর্ক করে দিচ্ছেন যাতে কোরআনের অনুসারীরা একই কাজ না করে। যার জন্য কোরআনের আলেমদের দায়িত্ব অনেক বেশী। নিজেদের ডিজিয়ার আর ফ্যান্সিকে চরিতার্থ করার জন্য সুদ, সমকামিতা বা অনুরুপ অনৈতিক কাজগুলোর স্বপক্ষে কোরআনের হুকুমতে পরিবর্তন করার ধৃষ্টতা না দেখায়। যদি দেখায় তবে তাদের উপরও একই ধরনের গযব নাজিল হবে।
      আপনার অপর আয়াতগুলো’র ভাবার্থ মোটামুটি একই। মোদ্দা কথা আল্লাহ এই আয়াতগুরোর মাধ্যমে বোঝাতে চান যে সব অপকর্ম মুশরিকরা করেছে তাদের কিতাবে পরিবর্তন করে সে ধরনের অপকর্ম যেন কোরআনে মুসলিমরা না করে। করলে মুশরিকদের মতই শাস্তি ভোগ করতে হবে এই সাদামাটা কথা আশা করছি আপনি বুঝতে পারছেন। এখন এই সব বিশেষনে যদি আপনি অফেন্ড ফিল করেন তবে বুঝতে হবে আপনি ঐ দলে যে দল আল্লাহ’র আইনকে পরিবর্তন করেছে নিজেদের প্রয়োজনে।

      1. 7.9.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        সন্দুর ভাবে তোলে ধরেছেন। ধন্যবাদ।

    10. 7.10
      শেখের পো

      @আরশাফি

      আহলে-কিতাব ও মুশরেকদের মধ্যে যারা সত্যত্যগী , তারা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। তারাই সৃষ্টির অধম।  ৯৮:০৬

      সুরা বাইয়্যেনার ৬ নং আয়াত আপনি এখানে উল্লেখ করেছেন। আপনি এর আগের আয়াতগুলো একটু পড়লে বিষয়টি বুঝতে পারবেন।

      কুরআনে মুল বিষয় মানুষ। মানুষের যত রকম চরিত্র থাকা সম্ভব, তার প্রত্যেকটি সম্পর্কে বর্ণনা কুরআনে আছে।

      আহলে কিতাব হল তারা, যাদের কাছে আল্লাহর কিতাব আছে। আর মুশরিক হল তারা, যারা আল্লাহর সাথে ইবাদাতে কাউকে অংশিদার করে। এরা আল্লাহকে জানে। এখন এদের মধ্যে যারা সত্যকে অর্থাত একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা, ত্যাগ করে, তাহলে তার পরিণতি কি হবে এ আয়াতের শেষে তা বলা হয়েছে।

      যেমন- ছাত্রদের মধ্যে পড়াশুনা করে কেউ পাশ করল, প্রথম, দ্বিতীয়..বা সাধারণ পাশ করল তাদেরকে উত্তীর্ণ বলা হবে আর যারা পরীক্ষায় ফেল করল তাদের ফেল্টুস বলবে। এখন ফেল্টুস কথা শোনা ত তার কৃতকর্ম। ফেল্টুসকে কেউ উত্তম ছাত্র বলবে না বরং ছাত্রদের অধমই বলবে। কিন্তু তাই বলে অন্য ছাত্ররা ফেল্টুস ছাত্রের সাথে মিশবে না বা ঘৃনা করবে এমনটা কি বোঝায়???

      সুতরাং অমুসলিমদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে এ আয়াতের সাথে কোন সমস্যা নেই।

      আপনার অন্য উদ্ধৃতি নিয়ে সময় করে জবাব দেয়া যেতে পারে।

      1. 7.10.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        সত্যি বলেছেন ফেল্টুসকে তো ফেল্টুস বলবে!!! ধন্যবাদ।

  32. 6
    আবদুস সামাদ

    মুনিম ভাইয়ের সুন্দর  বিশ্লেশনের জন্য ধন্যবাদ।

    1. 6.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। তবে আরো বিশদ ভাবে ভাল মন্দ জানতে পারলে খুশি হতাম।

  33. 5
    এস. এম. রায়হান

    ইসলামের প্রসারের শুরু থেকে ইসলাম বিরোধীরা, ইসলাম বা মুসলিমদেরকে ‘হেট মঙ্গার’ জাতি বলে প্রচার করছে! বলা হচ্ছে যে, মুসলিমরা অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি মনে-প্রাণে ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করে।

    সবচেয়ে বড় কৌতুক কী জানেন! যারা মুসলিমদেরকে 'হেট মঙ্গার' বলে অভিযোগ করছে তারা নিজেরাই সবচেয়ে বড় হেট মঙ্গার। যেমন মনাদের দুই বাংলার দুই ধর্মগুরুকে দেখুন- 'চোরের মায়ের বড় গলা'র এক জ্বলন্ত উদাহরণ। প্যাট রবার্টসন, রবার্ট স্পেন্সার, গীয়ার্ট ওয়াইল্ডার্স, জন হ্যাগীর মতো লোকজন মুসলিমদেরকে 'হেট মঙ্গার' বললে যেমন হাস্যকর শুনাবে, মনাদের দুই ধর্মগুরু যখন মুসলিমদেরকে 'হেট মঙ্গার' প্রমাণ করার চেষ্টা করে তখন ব্যাপারটা আরো বেশি হাস্যকর শুনায়।

    মনাদের পশ্চিমা গুরুদেরকে এক নজর দেখুন
     
    প্যাট রবার্টসন ও রবার্ট স্পেন্সার-

    স্টিভেন এমারসন-

    জন হ্যাগী-

    গীয়ার্ট ওয়াইল্ডার্স-

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনার মূল্যবান সংযোজনের অনেক অনেক ধন্যবাদ। আশাকরি বিস্তর আলোচনা চালিয়ে যাবেন।

  34. 4
    নতমুখে

    চমৎকার বিশ্লেষণ মুনিম ভাই, 
    একটা রিকুয়েস্ট- মুসলিমরা কি অমুসলিমদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যেতে পারবে, কোন বাধা আছে কিনা? এই বিষয়ে যদি বিস্তারিত জানাতেন। 
     
    লেখা শেয়ার এ দিলাম।

    1. 4.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাল লেগেছে জেনে আমারও ভাল লাগল!
      ভাই নতমূখে আপনার প্রশ্নের জবাব দেবার যোগ্যতা আমার নেই। আমি কোন ফকিহ নই। এই গুলো আলেমে কেরামগণকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিবেন।
      আমি যা লেখি তা ইসলামী মাসলা মাসায়েল নিয়ে নয়। ইসলামের ইতিহাস নিয়ে। এই ২টি সম্পুর্ণ ভিন্ন দিক।
      যাক আমি যেটি বুঝি যে উৎসবে গেলে আপনার ঈমানে ব্যঘাত ঘটার আশঙ্কা থাকে, বা সেখানে হালাল কৃত খাদ্য না খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে কিংবা সে অনুষ্ঠানে পৌত্তলিকতাকে মদদ দেয় । সেখানে না যাওয়া উচিত। তবে যদি শংকা হয় যে বিধর্মীদের অনুষ্ঠানে কোন প্রকার বিশৃংখলা ঘটবে তাহলে সেখানে শৃংখলা রক্ষার কাজে আপনি যেতে পারেন।

  35. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    অনেক ধন্যবাদ মুনিম ভাই। এইটা একটা ক্লাসিক লেখা। প্রায় মুখস্ত করে রেখেছি। 

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  36. 2
    এম_আহমদ

    এ লেখাটি আমুতে এক সময় বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। আমি সব সময় ব্লগে ঢুকতাম না, দু-একদিন পরপর ঢুকতাম। এক সময় গিয়ে দেখি সেকী তাণ্ডব! এক বিপুল পরিমাণ মন্তব্য, তাও আবার এক ধরনের যুদ্ধের পরিবেশ। আমি হিমশিম খাচ্ছিলাম যে কোথায় মন্তব্য রাখি, কেননা তখন অনেকগুলো ফ্রন্টে কথা হচ্ছিল, আর butting in (হঠাৎ করে কথায় লুকমা দেয়া) করাটাও আমার অভ্যাসে তেমন নেই। যাক সেটা এক স্মৃতি।
    ইসলাম বিদ্বেষীদের সৃষ্ট অসংখ্য বানোয়াট প্রোপাগান্ডাসমূহের মধ্যে এটিও একটি যে কোরান নাকি ঘৃণা বিদ্বেষ শিখায়! এই মিথ্যা কথাটির সমর্থনে তারা কোরানের কিছু আয়াতকে ইতিহাস ও প্রসঙ্গের স্থান থেকে আলাদা করে তাদের নিজেদের বক্র ও হীন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে। এই ব্লগটি তাদের কুটিল পরিকল্পনার স্থানগুলো দেখাতে পেরেছে এবং আয়াতগুলোর আপন আপন ঐতিহাসিক স্থানও দেখাতে পেরেছে। এক দীর্ঘ আলোচনার পর দেখিয়েছে যে আল-কোরান মানুষকে পারস্পারিক ভালোবাসার শিক্ষা দেয় এবং আত্মার পরিচ্ছন্নতার কথা বলে। ব্লগের ভাষায়, “আল-কোরআনে আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যে- যে সব অমুসলিম, ব্যক্তি, সম্প্রদায়, রাষ্ট্র, ও আমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করবে, আমরা যেন তাদের সাথেও ভাল ব্যবহার করি।”
    এই ব্লগটি অনেক মিথ্যাচারিতার মোকাবেলায় জবাব হয়ে কাজ করবে এবং পাঠকরা এত্থেকে উপকৃত হবেন, এটা আশা করি।
    এখন ঠিক ঘুমাবার প্রাক্কালে ব্লগটি দেখছি এবং এই কয়টি কথা রাখছি। আরও দু/একটি দিকের উপর মন্তব্যের ইচ্ছা ছিল -তা অন্য সময়ে এসে করব, ইনশাল্লাহ।

    1. 2.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়েছেন দেখে খুশি হলাম। এবং এই লেখাটি আমুতে দেওয়ায় যে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তাও যে মনে রেখেন দেখে ভাল লাগল। আপনাকেও আমার অন্যান্য পাঠককে একটি কথা বলতে চাই, আমুতে এই প্রবন্ধে যা উল্লেখ করেছিলাম। তার অনেক কিছুকে এই প্রবন্ধে আমি সংযোজন বিযোজন করেছি।
      বিষয়টিকে বুঝাতে আমি এইখানে পুরো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তোলে ধরেছি, যা আমুর এই প্রবন্ধে ছিলনা। তাই অনুরোধ রইল শিরোনাম দেখে না পড়ে কেউ যেন চলে যান না। পড়ে দেখুন বাস্তব চিত্রটি আপনার মানস পটে ভেসে আসবে।
      আমার চিন্তা চেতনা বা অভিজ্ঞতাকে চারিদিকে যততুকু পারা যায় তার চেষ্টা সবাই করবেন এই আশাবাদ রাখছি। ধন্যবাদ।

  37. 1
    তামীম

    অনেক ভাল লাগল আপনার বিশ্লেষণ। এভাবেই ইসলামের বিদ্বেষিদের জবাব দিয়ে যান।

    1. 1.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমারও ভাল লেগেছে। আরও ভাল লাগবে আমার প্রচেষ্টাকে আপনার বন্ধুদের কাছে পৌছে দিলে। ধন্যবাদ।

      1. 1.1.1
        ইরফান

        বেশ কিছু ভুলের সমাধান আছে। ধন্যবাদ আপনাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.