«

»

Feb ১৯

উম্ম হারাম (রাঃ) ও ইসলাম বিদ্বেষীদের তিল ও তাল

সদালাপে জনাব মাঈনুল আহসানের নবীজীর যত বিয়ে: সামাজিক সংস্কার ও দায়বদ্ধতার অনন্য দৃষ্টান্ত শিরোনামে একটি পোস্টে হাদিস সংক্রান্ত বিষয়ে আইভি তার ব্যক্তিগত কিছু মত ব্যক্ত করেন। এতে উদাহরণস্বরূপ একটি হাদিস উপস্থাপন করেন। কিন্তু উনি যে দৃষ্টিকোণ থেকে হাদিসটি উত্থাপন করেছেন তাতে-

১। হাদিসকে নিয়ে অজ্ঞ ও কম জানা দুর্বল ঈমানের মুসলিমদের দিলে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।

২। শঙ্কা করছি যে এই হাদিসকে নিয়ে এন্টি মুসলিমরা রাসুল (সাঃ) এঁর চরিত্র মোবারককে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

৩। কেউ কেউ ইউরোপিয়ানদের সদ্য ধারণকৃত মূল্যবোধ নামক আফিম পান করেছেন এবং সেই আফিমের নেশার ঘোরে তাদের দিলেও হাদিস নিয়ে সংশয়ের ঘুনপোকা দংশন শুরু করেছে।

৪। কেউ কেউ একদিকে বাপ-দাদার ধর্মকে ত্যাগ করতে পারছেন না আবার আধুনিক মানসিকতার মানদণ্ডে যে ঘটনাগুলোকে বর্বর আদিম মনে করেন সেই সব ঘটনাকে মেনে নিতেও পারছেন না।

৫। কেউ কেউ এই দ্বন্দ্বে পড়ে হাদিস নামক ইসলামের ২য় উৎসের উপর নিজ জ্ঞানকে সেন্সরশিপের চাকু বানিয়ে ইসলামকে খৎনা করে ইউরোপীয়করণ করতে লেগেছেন।

এতসব কথা সামনে রেখে আমি বক্ষস্থিত হাদিসটির একটা ব্যাখ্যা দিতে যাচ্ছি। প্রথমত আইভি যেভাবে মঈনুল আহসানের পোস্টে হাদিসটি উপস্থাপন ও মন্তব্য করেছেন তা তুলে ধরছি-

একজন নবী হিসেবে মুহম্মদ  (সাঃ) সম্পর্কে যা বলা আছে কোরানে, হাদিসের আলোকে আমরা সেই নবী মুহম্মদকে খুঁজে পাই না। একটি হাদিস উদাহরণ  হিসেবে দেই আরেকটু পরিষ্কারভাবে আমার কথা বোঝানোর জন্য।

বুখারী (Ref: 9.130) : আনাস বিন মালিক কর্তৃক বর্ণিত যে,আল্লাহ্‌র মেসেঞ্জার প্রায়ই Um Haram bint Milhan কাছে বেড়াতে যেতেন এবং সে ছিল Ubada bin As-Samit এর স্ত্রী। একদিন নবী তার সাথে দেখা করতে গেলেন এবং তিনি তাকে খাওয়ানোর পর মাথার উকুন বাছতে লাগলেন (পরস্ত্রী কি এই ভাবে মেহমানদারী করে!)। আল্লাহর নবী ঘুমিয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর হাসিমুখে জেগে উঠলেন

এরপর আইভি হাদিসটির মনগড়া মূল্যায়ন যেভাবে করেছেন-

এটা সত্যি কল্পনা করা কষ্ট যে  নবীজিকে আরেক জনের স্ত্রী উকুন বেছে দিচ্ছে, যেখানে কোরান বিশ্বাসী নারী-পুরুষ কে দৃষ্টি এবং আচরণকে সংযম করতে বলেছে। সেখানে এই হাদিসটি দিব্যি পর পুরুষ এবং পর নারীর ঘটনাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এই হাদিসের মানে কি? এই হাদিসের প্রচারক অবশ্যই দায়বদ্ধ তার হাদিস প্রচার-প্রসারের জন্য। যারা ইসলামের দলিল বা হাদিস লিখেছেন তাদের প্রতিটি কাজ অবশ্যই দেখা উচিত কোরান, যুক্তি, বিচারশক্তি এবং বুদ্ধির (common-sense) মাধ্যমে।

এবং হাদিস যে গ্রহণযোগ্য নয় তার সমর্থনে আবার অন্য এক হাদিস উপস্থাপন করেও ফেলেছেন (!)-

হযরত উমর বলেছিলেন, আল্লাহর বই-ই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আমি মনে করি নবীর  যোগ্য সঙ্গী হিসেবে তাঁর এই কথাটি আমরা মেনে চলতে পারি। আমরা যতদিন ভাবব যে হাদিস ছাড়া আমদের দ্বীন অসম্পূর্ণ, তত বেশিদিন আমাদের এই ভুলের বোঝা বয়ে চলতে হবে। কোরানকে আমরা সার্বজনীন জানি। তাই  ইসলামিক শিক্ষাটা হাদিস নির্ভর হওয়া উচিত না।

আইভির উল্লেখিত হাদিস এবং উনি যেভাবে হাদিসের মূল্যায়ন করেছেন তা পড়ে আমার মনে খটকা লাগলো! কারণ আমরা জানি যে ইসলামে নিষিদ্ধ গায়ের মাহরাম নারী-পুরুষ একা-একি সহ অবস্থান করা নিষিদ্ধ। যে মহা মানবের কাছ থেকে এই আইন আমরা লাভ করেছিলাম আর তিনি কিনা সে আইন নিজে ভঙ্গ করে গেলেন! আর তা কেমন করে হতে পারলো! আমরা তো এমন কথা আর কখনও শুনি নাই বরং আমরা তো এমন হাদিস জানি, যাতে উল্লেখ আছে যে-

 রাসুল সাঃ রমজান মাসে মসজিদে ইতেকাফে ছিলেন।  সাফিয়া রাঃ কোন কাজে এসেছিলেন। রাসুল সাঃ যখন সাফিয়া রাঃ উনার ঘরে পৌঁছে দিচ্ছিলেন তখন সেই পথ দিয়ে ২ জন আনসার পুরুষ তাদের পাশ কেটে যাচ্ছিল। রাসুল সাঃ তখন উনার সাথের মহিলা যে উনার স্ত্রী সে কথা সেই লোকটিকে জানিয়েছিলেন, যাতে সে লোকটির মনে রাসুল সাঃ ও সাফিয়া রাঃকে নিয়ে কোন সন্দেহ না আসে।

উক্ত হাদিসে যেখানে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে যাতে অন্যের ভুল বুঝার অবকাশ না থেকে সে জন্য সেই ইহুদির কাছে যেচে সাফিয়া রাঃ যে অন্য কোন বেগানা মেয়ে নয়, তাঁরই স্ত্রী, তা জানাতে অবহেলা করলেন না। সেই রাসুল সাঃ কেমন করে আরেক জনের স্ত্রী দ্বারা নির্জনে চুল আঁচড়িয়ে নিতে পারলেন! এবং ঐ মহিলার ঘরে একা শুয়ে থাকলেন!

এই যে উম্ম হারাম (রাঃ) যাকে নিয়ে অপপ্রচার আর রাসুল (সাঃ) এঁর পবিত্র চরিত্র নিয়ে ভ্রুক্রুটি নেট জুড়ে প্রচার করা হচ্ছে সেই মহিলা কে ছিলেন তা আমাদের জানা দরকার!

কে এই উম্ম হারাম বিনত মিলহান (রাঃ)

উম্ম হারাম (রাঃ) ছিলেন মদিনার প্রখ্যাত খাযরাজ গোত্রের নজ্জার বংশের মেয়ে। তিনি ছিলেন একজন খোদা ভীরু, জ্ঞানী এবং পুণ্যবান মহিলা। তাঁর মধ্যে ছিল বিপুল উদারতা, পরার্থপরতা এবং আত্মত্যাগের সহজাত প্রবণতা। উম্ম হারাম (রাঃ) ছিলেন সেই আনসার মহিলা যিনি রাসুল (সাঃ) মদিনায় আগমনের পূর্বে শুধু ইসলাম গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হন নাই বরং প্রকাশ্যে নতুন ধর্মের ঘোষণা দিতে দ্বীধাবোধ করেন নাই। এ জন্য আনসার নারীদের মধ্যে উম্ম হারাম (রাঃ) এক অনন্য মর্যাদার অধিকারিণী ছিলেন। তিনি মনে-প্রাণে আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন যে তিনি যেন ইসলাম কায়েমের লড়াইয়ে শাহাদাৎ লাভ করেন।

উনার প্রথম স্বামী ছিলেন আমর বিন কাইস বিন জাহিদ (রাঃ)। তাদের প্রথম পুত্রের নাম কাইস বিন আমর বিন কাইস (রাঃ)। দ্বিতীয় পুত্রের নাম আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ)। তাঁর স্বামী এবং ১ম পুত্র ১৩ই মার্চ ৬২৪ (খ্রিঃ)বদর ও ১৯শে মার্চ ৬২৫ (খ্রিঃ) ওহুদের যুদ্ধে শরীক হন এবং ওহুদে তাঁর স্বামী এবং ১ম পুত্র শাহাদাৎ বরণ করেন। (আল্লাহ তাদের দরজাকে বুলন্দ করুন আমিন)

ওহুদের যুদ্ধে ৭০ জন সদস্য সাদাত প্রাপ্তির কারণে ছোট্ট নব গঠিত মুসলিম সংঘ নতুন ধরণের সংকটে পতিত হয়। সেই সব শহীদদের পরিবার পরিজনরা প্রিয়জন হারানোর গভীর শোকে পতিত হয়। এই সব অসহায় শহীদদের পরিবার পরিজনের জন্য মানসিক, পারিবারিক, সামাজিক নিরাপত্তা সহ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নানামূখী কর্মৎপরতা পরিচালিত করতে হয়েছিল। (এই উপলক্ষ্যে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন নাজিল হয়)। নবগঠিত মুসলিম সংঘের এই শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতে ৬২৫ (খ্রিঃ) জুলাই মাসে বি’র মাউনার সাথে মুশরিকরা বিশ্বাসঘাতকতা করে ৬৮ জন মুসলিমকে হত্যা করে। ঐ মিশনে উম্ম হারাম রাঃ এর ২ ভাই, হারাম বিন মিলহান (রাঃ) এবং সালীম বিন মিলহান (রাঃ) ছিলেন। তাঁরাও বদর এবং ওহুদ যুদ্ধ করে ছিলেন। বীর মাউনার কাপুরুষিত আক্রমণে এই দুই ভাই শহীদ হোন। (আল্লাহ তাদের দরজাকে বুলন্দ করুন আমিন)। দুই ভাইদ্বয় শহীদ হবার কারণে উম্ম হারামা (রাঃ) এর এক বোন ছাড়া আপন কেউ আর বেঁচে ছিলেন না। তারা নিঃস্ব রিক্ত হয়ে পড়েন। তখন থেকে রাসুল সাঃ তাদেরকে স্বান্ত্বনা আর সাহস দিতে প্রায়ই তাদের ঘরে যাওয়া শুরু করেন।  পরবর্তীতে উম্ম হারাম (রাঃ) আবার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন।

মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কা থেকে হিজরত করে প্রথম কয়েকদিন মদিনার উপকণ্ঠের কুববা পল্লীতে অবস্থান নিয়েছিলেন। কুব্বা পল্লীতে গাছপালা সমৃদ্ধ সবুজ উদ্দ্যান ছিল তাই রাসুল (সাঃ) প্রায়ই প্রখর-দুপুরে গরমের সময় কুবাতে হয় উম্ম হারামের ঘরে না নয় তাঁর বোন উম্ম সুলাইম (রাঃ) এঁর ঘরে বিশ্রাম নিতেন। রাসুল (সাঃ) এঁর খেদমত করার সুযোগ পাওয়াকে তাঁরা (দুই বোনই) সম্মানিত বোধ করতেন।

যেহেতু এই হাদিসে ওবায়দাহ বিন সামিত (রাঃ) এঁর নাম উল্লেখ করা আছে এবং তিনি কেমন স্বামী যিনি তার স্ত্রীকে দিয়ে রাসুল সাঃকে সেবা কররা সুযোগ করে দিয়েছিলেন! এই পর্যায়ে আমরা উম্ম হারাম (রাঃ) এঁর ২য় স্বামী নিয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই।

উম্ম হারাম (রাঃ) এর দ্বিতীয় স্বামী ওবায়দাহ বিন সামিত (রাঃ) এঁর সাথে ইসলামের তথা রাসুল (সাঃ) এঁর এক বিশেষ সম্পর্ক ছিল। কারণ রাসুল (সাঃ) নবুয়াত প্রাপ্তির এগারটি বছর নিজের জন্মভুমি মক্কার মানুষদের ইসলামের দাওয়াত দিয়েও তেমন ব্যাপক ভাবে সাড়া পাচ্ছিলেন না। বরং নব ধর্মে দীক্ষিত মুসলিমরা তাদের জান মাল নিরাপদে রেখে মক্কায় বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। যখন এই নতুন মিশনের জন্য রাজনৈতিক কোন আশ্রয় একান্ত জরুরী হয়ে উঠেছিল, ঠিক তখন, ৬২০ খৃষ্টাব্দে, মদিনা থেকে আগত ৬ জনের একটি দলের সাথে আচানক ভাবে মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর পরিচয় ঘটে, তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেন। তারা রাসুলের (সাঃ) দাওয়াতকে মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করেন এবং রেসালতকে গভীরভাবে উপবদ্ধি করেন। তারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসুল (সাঃ)-কে প্রতিশ্রুতি দেন যে আগামী বছর হজ্জে আরও লোক নিয়ে তার কাছে আসবেন। এই ৬ জনের সাক্ষাৎ ছিল ইসলামের ইতিহাস, বরং বলা ভাল এই পৃথিবীর ইতিহাসে, এক যুগান্তকারী টার্ণিং পয়েন্ট। এই ৬ জনের একজন ছিলেন ওবায়দাহ বিন সামিত (রাঃ)। তিনি ৬২১ খ্রিঃ দ্বিতীয় মিশনে আকাবায় প্রথম ইসলাম গ্রহণকারী যে ১২ জন রাসুল (সাঃ) এঁর প্রতি আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলেন সেই ১২ জনের একজন তিনিও ছিলেন এবং ৬২২ খ্রিঃ তৃতীয় মিশনেও যে ৭২ জন এসে চূড়ান্ত শপথ নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন। এর থেকে প্রমাণিত হয় যে এই ওবায়দাহ বিন সামিত রাঃ শুধু শুধু একজন সাহাবী ছিলেন না, তিনি এমন এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি রাসুল (সাঃ) এঁর পয়গাম নিয়ে মদিনাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন, রাসুল (সাঃ) এঁর নবুওয়াতী মেনে নিয়ে ইসলামকে নিজের দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করতে এবং তাতে তিনি সফলও হয়েছিলেন যার ফলে মাত্র ৬ জন থেকে ১২ জন, ১২ জন থেকে ৭২ জনে উন্নত হয়েছিল তাদের সাংগঠনিক শক্তি।  রাসুল (সাঃ) মদিনা গমনের পূর্বে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেবার জন্য মদিনার যে ১২ জন অধিবাসী সদস্যে্কে যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছিলেন সেই ১২ জন আহ্বায়কদের একজন ছিলেন ওবায়দাহ বিন সামিত (রাঃ)। যেদিন যে নামাজের মধ্যে মুসলিমদের কেবলার দিক পরিবর্তন করা হয়েছিল সেই জামাতেও তিনি শরীক হবার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন। রাসুল (সাঃ) তাঁকে জাকাত কালেক্টর নিয়োগ করেছিলেন। ইসলামী খেলাফতের খলিফাগণ উনাকে সম্মানজনক ভাবে রাষ্ট্রিয় দায়ীত্ব পালনে নিয়োগ করেছিলেন। এই সাহাবার নেতৃত্বে একদিন আরব উপদ্বীপ অতিক্রম করে ইসলামের আলো বহির্বিশ্বে প্রবেশ করেছিল।

ওবায়দাহ বিন সামিত (রাঃ) যেমন স্ত্রীর প্রতি আদর্শ একজন স্বামী ছিলেন, তেমনি সন্তানদের কাছে একজন আদর্শ বাবাও ছিলেন। নিজ ঔরসের সন্তান মুহাম্মদ বিন ওবায়দাহ (রাঃ) এর প্রতি যেমন করে পিতৃত্বের দায়িত্ব পূর্ণ করেছিলেন ঠিক একই ভাবে উম্ম হারাম (রাঃ) এর আগের পক্ষের সন্তান আব্দুল্লা বিন আমর (রাঃ) পিতৃত্বের ভালবাসা দিতে কার্পণ্য করেন নাই।  

এবার আবার ফিরে আসছি উম্ম হারাম (রাঃ) এর দিকে-

ইসলামের জন্য সেদিন যারা নিঃস্ব ও রিক্ত হস্তে মদিনায় এসেছিলেন আনসাররা তাদের আতিথেয়তায় আত্মত্যাগের যে বিমল উদারহরণ রেখেছিলেন ইসলামের ইতিহাসে তা এক অমর অধ্যায়। সেই আথিতেয়তায় উম্ম হারাম (রাঃ) ছিলেন এক অনন্য অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। আনসারদের এই বদান্যতা ও অবদানের কথা আল কোরআন এভাবেই উল্লেখ করে-

যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে মদিনায় বসবাস করেছিল এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছিল, তারা মুহাজিরদের ভালবাসে, মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে, তজ্জন্যে তারা অন্তরে ঈর্ষা পোষণ করে না এবং নিজেরা অভাবগ্রস্ত হলেও তাদেরকে অগ্রাধিকার দান করে। যারা মনের কার্পণ্য থেকে মুক্ত, তারাই সফলকাম। (৫৯:৯)

এখানে “ভালবাসা” শব্দটির দিকে মনোনিবেশ করা প্রয়োজন। আল্লাহ যাদের অন্তরাত্মায় পবিত্রতা দান করেননি, তাদের কাছে ঈমানের দ্বার কোনদিন খুলবে না। আনসারদের বদান্যতা এবং আত্মত্যাগের কারণে আল্লাহ পাক তাঁদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তা উপরের আয়াতে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। মদিনার আনসাদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ আর সেবায় যেমন পুরুষরা ছিল তেমনি ছিল নারীরাও। আনসার নারী পুরুষদের মধ্যে সেবা আর আত্মত্যাগে কোন পার্থক্য ছিলনা।

রাসুল (সাঃ) এঁর জন্য অধিক ভালবাসা এবং অধিক ত্যাগকারীদের মধ্যে উম্ম হারাম এঁর পরিবার অগ্রগামী ছিলেন। এর জন্য উম্ম হারাম (রাঃ) এঁর পরিবার নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এঁর কাছ থেকে একাধিকবার দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্য লাভের আশীর্বাদ বা দোয়া পেয়েছিলেন, যেরূপ দোয়া বা আশীর্বাদ খুব অল্প লোকের সৌভাগ্যে এসেছিল। এটাই হচ্ছে উম্ম হারাম (রাঃ) ও তাঁর বোন উম্ম সুলাইম (রাঃ) এঁর মর্যাদা ও ধর্মীয় অবস্থান। তাঁদের ঈমানের অবস্থান এমন ছিল যে যখনই রাসূল (সাঃ) তাঁদের ঘরে আসতেন, তাঁরা সে আগমনকে আল্লাহর তরফ থেকে রহমত বলে জ্ঞাপন করতেন এবং রাসূল (সাঃ)-কে তাঁদের হৃদয় উজাড় করে সেবা করতেন। এগুলো ঈমানের বিষয়। যাদের এসব বুঝার জ্ঞান আল্লাহ দেননি তাদেরকে অন্য কেহ দিতে পারবেনা। ধর্মীয় বিষয়ে যাদের সন্দেহ রয়েছে সে সন্দেহ উকি ঝুঁকি মারার অসংখ্য স্থান রয়েছে। কেবল নিষ্কলুষ আত্মা ছাড়া ঈমানের পথ রুদ্ধ। 

এবারে আইভি যে হাদিসটির উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন, সেই হাদিসটি আবার উপস্থাপন করতে যাচ্ছি-

বুখারী (Ref: 9.130) : আনাস বিন মালিক কর্তৃক বর্ণিত যে,আল্লাহ্‌র মেসেঞ্জার প্রায়ই Um Haram bint Milhan কাছে বেড়াতে যেতেন এবং সে ছিল Ubada bin As-Samit এর স্ত্রী। একদিন নবী তার সাথে দেখা করতে গেলেন এবং তিনি তাকে খাওয়ানোর পর মাথার উকুন বাছতে লাগলেন (পরস্ত্রী কি এই ভাবে মেহমানদারী করে!)। আল্লাহর নবী ঘুমিয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর হাসিমুখে জেগে উঠলেন

আইভি যে হাদিসটি উপস্থাপন করেছেন তা তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতে পারেননি, আংশিকভাবে তা করেছেন। শুধু যতটুকু প্রকাশ করলে ইসলাম বিদ্বেষীদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ হতে পারে, এবং দূর্বলমনা ঈমানের মনে সন্দেহের ধূম্রর্জাল ফেলতে পারে, ততটুকুই। এটা একটা খেলা। বরং বলতে পারেন, 'কৌশল'। তবে ইসলাম বিদ্বেষীরা যাতে তাদের প্রতারণায় ধরা খেতে না পারেন সে জন্য উদ্ধৃতির শেষে [—] অনেক কিছু উহ্য রেখে কথা বলেন। আইভি তা না করে উদ্ধৃতির শেষ করেছেন বড় একটি ড্যাস চিহ্ন দিয়ে!!! এবারে আমরা পাঠকদেরকে পুরো হাদিসটি দেখাতে যাব-

আনাস বিন মালিক রাঃ  কর্তৃক বর্ণিত যে,আল্লাহ্‌র মেসেঞ্জার প্রায়ই উম্ম হারাম বিনত মিলহানের বাড়িতে বেড়াতে যেতেন এবং তিনি  ছিলেন ওবায়দাহ বিন সামিত রাঃ এর স্ত্রী। একদিন নবী তার সাথে দেখা করতে গেলেন এবং তিনি তাকে খাওয়ানোর পর মাথার উকুন বাছতে লাগলেন । আল্লাহর নবী ঘুমিয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর হাসিমুখে জেগে উঠলেন।  উম্ম  হারাম জানতে চাইলেন-ইয়া রাসুলুল্লাহ  কিসের  জন্য আপনি হাসলেনজানালেন যে- তিনি স্বপ্ন দেখেছেন উনার কিছু  অনুসারী আল্লাহর জন্য জেহাদ করতে  জাহাজের মধ্যে মধ্য সাগরে ভাসছে যেমন করে রাজা/বাদশাহ সিংহাসনে  উপবিষ্ট দেখায়।  উম্ম হারাম  বলেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করেন যাতে আমি ঐ অভিযাত্রী দলের একজন হতে পারি! রাসুল সাঃ উম্ম হারামের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করতে আল্লাহর কাছে দোয়া করে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। এবং আবার হাসি মুখে জেগে উঠেন। আবার উম্ম হারাম রাসুল সাঃকে জিজ্ঞাস করেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ কিসের জন্য আপনি হাসলেন? রাসুল সাঃ ঠিক আগের মত জানালেন- তিনি স্বপ্ন দেখেছেন উনার কিছু  অনুসারী আল্লাহর জন্য জেহাদ করতে  জাহাজের মধ্যে মধ্য সাগরে ভাসছে যেমন করে রাজা/বাদশাহ সিংহাসনে  উপবিষ্ট দেখায়।  উম্ম হারাম আবার   বলেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ আল্লাহর কাছে আমার জন্য দোয়া করেন যাতে আমি ঐ অভিযাত্রী দলের একজন হতে পারি! এবার রাসুল সাঃ বলেন- হ্যাঁ তুমি সেই দলের প্রথম জন হবে।

উম্ম হারাম রাঃ রাসুল সাঃকে  এই হাসির কি কারণ তা জানতে চাইলেন! রাসুল জানালেন যে তিনি স্বপ্নে দেখেছেন যে উনার উম্মত অতি শীঘ্র সাগর পাড়ি দিয়ে ইসলামকে অন্য দেশে পৌঁছে দিবেন। (Bukhari: Book 9: Volume 87: Hadith 130)

এই হাদিসের ঘটনাটি তখন সংঘটিত হয়েছিল যখন নবী করিম সাঃ ৭ই মার্চ ৬৩২ খ্রিঃ-এ বিদায় হজ্ব শেষ করে মদিনায় এসে পৌছান। মদিনায় পৌছেই রাসুল (সাঃ) অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এর ২ মাস পরে ৭ই মে ৬৩২ খ্রিঃ-এ তিনি ইন্তেকাল করেন। হাদিসের বর্ণনায় অসুস্থকালিন রাসুল (সাঃ) এঁর সেবার কথা উঠে এসেছে।

উপরে আমাদের উম্ম হারাম (রাঃ) এঁর উপর বিবরণ/ব্যাখ্যা পাঠ করার পর পাঠকেরা হাদিসটির অন্তর্নিহিত ব্যাপার অবগত হয়ে থাকবেন। আইভি যেভাবে বিষয়টিকে আংশিকভাবে উপস্থাপন করে নিজে বিরূপ মন্তব্য করেছেন এবং যাতে অন্যরাও হাদিসের মৌলকতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করে হাদিস ত্যাগে ব্রতি হয় সেই চেষ্টা করেছেন বলেই আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে। (আল্লাহ ভাল জানেন) তবে একজন মুসলিমার এহেন অপপ্রয়াস করা দেখে আমরা মর্মাহত!

এরপরও হাদিসটির ব্যাপারে যাদের মনে ভুল বুঝাবুঝির অবসান না হয়ে থাকলে তাদের জন্য আমরা অতিরিক্ত কিছু তথ্য দিচ্ছি যাতে করে আর কোন সংশয়ের অবকাশ না থাকে। 

১। এই উম্ম হারাম (রা:) ছিলেন আনাস বিন মালিক (রাঃ) এঁর আপন খালা। আনাস (রাঃ)-কে উনার মা উম্ম হারাম (রাঃ) বোন উম্ম সুলাইম (রাঃ) মাত্র ১২ বছর বয়সে রাসুল (সাঃ) এঁর খেদমতে নিয়োজিত করেছিলেন।

২। উম্ম হারাম (রাঃ) ছিলেন রাসুল (সাঃ) এঁর দাদা আব্দুল মোতালিবের সৎ বোন মুলাইকাহর মেয়ে। তাতে তিনি সম্পর্কে হোন রাসুল (সাঃ) এঁর ফুফু।

৩। উম্মু হারাম (রাঃ) এঁর বাবা মিলহান বিন খালিদ ছিলেন মদিনার খাযরাজের উপগোত্র বানু নাজ্জারের লোক। বানু নাজ্জার গোত্র ছিল রাসুল (সাঃ) এঁর মা আমেনা বিবির বংশ।

৪। উম্ম হারাম দুধ খালা ছিলেন। অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) এঁর মা যে মহিলার দুধ পান করেছিলেন সেই মহিলার দুধ উম্ম হারাম (রাঃ) পান করেছিলেন।

অতএব উম্ম হারামের সাথে, উভয় দিক দিয়ে (রক্ত এবং দুধ) তাঁর সম্পর্ক মুহরিম ছিল। কাজেই রাসুল (সাঃ) উম্ম হারামের সেবা গ্রহণ করে ইসলামী শরিয়তের কোন আইন লংঘন করেন নাই।

রাসুল (সাঃ) যখন কুবায় যেতেন তখন তিনি তাঁর দাদি মুলাইকাহর ঘরে নামাজ আদায় করতেন। সেই নামাজে আনাস বিন মালিক (রাঃ) তাঁর মা উম্ম সুলাইম (রাঃ) ও খালা উম্ম হারাম (রাঃ) শরীক হতেন।

এই কুবার উম্ম সুলাইমের (সাঃ) বাড়িতে মারিয়া (রাঃ) মিশর থেকে এসে উঠেছিলেন এবং এই হাদিসের ঘটনা উল্লেখের সময়ও মারিয়া রাঃ সেখানে ছিলেন।

আমার প্রবন্ধ এখানে শেষ হয়ে যাবার কথা থাকলেও পাঠককে এই মহিষী  মুসলিম নারী যোদ্ধার বাকি কাহিনী বর্ণনার লোভ সামলাতে পারছি না।

খলিফা উসমান (রাঃ) এর শাসনামলে ৬৪৮/৪৭ খলিফা উসমান রাঃ মুয়াবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রাঃ)-কে সাইপ্রাসে ইসলামকে নিয়ে যেতে অনুমতি দান করেন। মুয়াবিয়া (রাঃ) নৌবাহিনী গঠন করে উম্ম হারাম (রাঃ)এঁর স্বামী ওবায়দাহ বিন সামিত (রাঃ)-কে উক্ত বাহিনীর জেনারেল করে সাইপ্রাস অবরোধে প্রেরণ করেন। অবরোধের প্রেক্ষিতে মুসলিম বাহিনীর নিকট সাইপ্রাস আত্মসমর্পণ করে। এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে রাসুল (সাঃ) এঁর স্বপ্ন পরিপূর্ণ হয়। উম্ম হারাম (রাঃ) সেই অভিযানে তাঁর জেনারেল স্বামীর সাথে ছিলেন। তখন তিনি ছিলেন ৭০ এর এক বৃদ্ধা। বিজিত বাহিনী যখন দক্ষিণ সাইপ্রাসের লারনকার সল্ট লেকের পশ্চিম তীর দিয়ে প্রবেশ করছিল তখন তিনিও গাধায় চড়ে সেই বাহিনীর সাথে শহরে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গাধার পিঠ থেকে পিছলে মাটিতে পড়ে যান। যার প্রেক্ষিতে তিনি শাদাৎ বরণ করেন। যে কারণে উম্ম হারামকে (রাঃ) সাগর জেহাদের প্রথম শহীদ হিসাবে সম্মানিত করা হয়।

তিনি যে স্থানে শাহাদাত লাভ করেন সেই স্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।  আজও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ শ্রদ্ধা জানায় সেই মাজারে। 

 

৬৭ comments

Skip to comment form

  1. 28
    Ahmed

    কমেন্ট করতে পারছিনা, বিরক্তি কর, বিস্তারিত লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ 

  2. 27
    কাজী আতীক

    আমি নিজে ইসলাম ধর্ম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই।তবে একটি বিষয় খুবই ভালো ভাবে জানি যে কোরআন বা হাদিসের আলোচনা তাদেরই করা উচিৎ যারা কেবল আরবি ভাষাই শুধু নয় কোরআনিক আরবিরও পুরো জ্ঞান রাখেন । মুল আরবি কোরআনের আয়াত বা হাদিস প্রথমে  হুবহু উল্লেখ করতে হবে। হ্য।তারপর এর অনুবাদ এবং সব শেষ এর বিশ্লেষণে যেতে পারেন। হাদিসের ক্ষেত্রে পুরো রেফারেন্স এবং কোরআনের ক্ষেত্রে আয়াতটি নাজিল হবার কারন উল্লেখ করা জরুরী।কেনল মাত্র অনুবাদ নির্ভ্রর জ্ঞান নিয়ে এ সমস্ত স্পর্শ কাতর বিষয় এড়িয়ে চলা বাঞ্ছনীয়।

    ঈমানের ক্ষেত্রে রসুল (দঃ) এর উপর পুর্ন ঈমান না থাকলে অর্থাত তিনি মোহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ এবং আল্লাহর রসুল এই পুরো অবস্তাটা শতকরা ১০০ ভাগ কথা কাজে বিশ্বাস প্রতিষ্টা করতে যারা ব্যর্থ হবেন তারা কোনো ভাবেই মুসলমান নন। কেবল রসুল (দঃ) ই নন তাঁর কোন সাহাবির প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করলেও ইমান থাকবেনা। কেবল আল্লাহ(তাঃ)র উপর ইমান এনে ইমানদার হওয়া যায়না ঠিক তেমনি হাদিস বাদ দিয়ে কেবল কোরআন মেনেও মুসলমান হওয়া যায় না।

    সব সন্তানই বাবার পরিচয় বহনকারী। কিন্তু মায়ের প্রতি সামান্য সন্দেহ পোষণ করলে সে যেনো নিজেকে জারজ হিসাবে প্রতিষ্টিত কোরল।ঠিক সে ভাবে যে রসুল (দঃ) এর প্রতি সামান্যতম সন্দেহ পোষণ করলো, আপনা আপনি কাফিরের দলভুক্ত হয়ে গেলো।

    মুনিম সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করার জন্য।

    1. 27.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনি এসেছেন। আমার লেখা কষ্ট করে পড়েছেন এবং মুল্যবান কমেন্টও করেছেন তাঁর জন্য আতীক ভাই আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। 

  3. 26
    ইফতি আবীর

    মুনিম ভাইকে অনেক ধন্যবাদ । ইদানিং মনটা খুব অস্থির ছিল। …এমন প্রয়াসের সংস্পর্শে এসে শান্ত হল । কেন হল জানি না , এটুকু জানি আমাকে আপনাদের সাথে রাখুন । সকল অপচেষ্টা আর বিভ্রান্তির অবসান হক । জয় হক সত্যের …।

     

    1. 26.1
      ইফতি আবীর

      দুঃখিত , নামের বানান ভুলের জন্য । শব্দটা মুমিন ভাই নয় 'মুনিম' ভাই হবে ।

    2. 26.2
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনাকে সাদরে স্বাগতম ভাই। আপনি থাকুন আমাদের সাথে। ধন্যবাদ।

  4. 25
    Mainul Ahsan

     
    নির্দিষ্ট হাদীসটার উপর এটা একটা বিস্তারিত উপস্থাপনা। এ জন্যে মু’মিন সিদ্দিকী ভাই-এর অবশ্য প্রাপ্য বিশাল এক ধন্যবাদ। হাদীস যে কতটা ব্যপক তথ্য সমৃদ্ধ এই লিখাটা তারই একটা প্রমাণ।
    সাগর-মহাসাগরের তীরে অলস বসে থেকে ঢেউয়ের পরে ঢেউ গুনা আর সেই সাগর থেকে পরিশ্রম করে মুক্তা আহরণ করা এক জিনিস নয়। নেট-সভ্যতার এই যুগে আঙ্গুলের ডগায় সব তথ্য পেয়ে আমরা নিজেদেরকে খুবই পরিণত ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু সেই তথ্য ভান্ডারকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করে তা থেকে প্রয়োজনীয় যথাযথ জ্ঞান আহরণ করতে যে কিছুটা হলেও পরিশ্রম করা দরকার সেটা আজ আমরা ভুলতে বসেছি। আর সেটাই হচ্ছে হাদীসের মত সুসমৃদ্ধ জ্ঞান ভান্ডার নিয়ে অযথা বক্তব্য ও সমালোচনার অন্যতম প্রধান কারণ।
    নিয়মিত নামাজ-রোজা করা অনেক ভাল মুসলমানকেও ইদানীং এমন বিভ্রান্ত হতে দেখা যায় অহরহ। এদের এইসব বিভ্রমের মানে এই নয় যে এরা সবাই মুনাফেক, ইসলাম বিদ্বেষী বা ইসলাম বিরোধীদের দোসর। আর তাই আমি মনে করি কোরআন-হাদীস ভিত্তিক আলোচনা ও বিশ্লেষণগুলো সঠিক তথ্য সমৃদ্ধ হওয়াটাই যথেষ্ট, এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কাউকে টার্গেট করা বস্তুতঃ অপ্রয়োজনীয়।উপরন্তু অজানা কাউকে টার্গেট করে লিখতে গেলে লিখাটা ঐ ব্যক্তি বিষয়ে ‘অমূলক ধারণা নির্ভর’ হয়ে উঠতে পারে, যা কিনা ‘অহেতুক মিথ্যাচার’ পর্যন্তও গড়াতে পারে।
    নির্দিষ্ট কাউকে বা কারো বক্তব্যকে টার্গেট করে লিখার সূত্রপাত করা হলেও প্রবন্ধের মধ্যে তাদের বিষয়ে যে কোন ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ আলোচনা উহ্য রাখতে পারলে রচনার গ্রহণযোগ্যতা ব্যপকতর হয় বলেই আমার ধারণা।        

    1. 25.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      সালাম। আপনাকে স্বাগতম

      নির্দিষ্ট কাউকে বা কারো বক্তব্যকে টার্গেট করে লিখার সূত্রপাত করা হলেও প্রবন্ধের মধ্যে তাদের বিষয়ে যে কোন ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ আলোচনা উহ্য রাখতে পারলে রচনার গ্রহণযোগ্যতা ব্যপকতর হয় বলেই আমার ধারণা।   

       
      আপনার এই কথার মর্ম আমি ঠিক মত ধরতে পারিনাই।  আমার এই প্রবন্ধগুলো সবই এন্টি ইসলাম, এন্টি মুহাম্মদ সাঃ, এন্টি হাদিস, এন্টি কোরআনীদের অপপ্রচারের জবাবে আমি তৈরি করে থাকি।  যদিও আমি যা বলার চেষ্টা করছি, সে রকম  অনেক জবাব ইংরেজি ভাষায় নেটে ছড়িয়ে আছে, আর আরবী ভাষায় তো ব্যাপক ভাবে আছে। কিন্তু দূর্ভাগ্য আমাদের বাংলা ভাষায় নেটে তেমন জবাবী লেখা তেমন নেই। যেমন ধরুন এই উম্ম হারাম রাঃ নিয়ে বাংলা ভাষায় রাসুল সাঃ এর পবিত্র চরিত্র মোবারককে কটাক্ষ করা হয়, কিন্তু তার জবাবে জবাবী কোন পোস্ট বাংলা নেট জগতে পাওয়া যাচ্ছিলনা। কারণ যেই কম জানা বা দূর্বল ঈমানের তরুণ এই অপপ্রচার পড়বে, সে অবশ্যই বিচলীত হয়ে পড়বে, তখন সে এর সমাধান নেটে খুজতে থাকবে, আর যদি জবাব না পায় তাহলে এই নিয়ে তার মনে হীনমণ্যতা থেকে যাবে।
      কাজেই কেউনা কেউ তো বাংলা ভাষাভাষীর জন্য এই জবাবী লেখা লিখে যেতে হবে। আলহামদু লিল্লাহ বেশ কিছু  ভাই এই পথে নেমেছেন এবং তারা তাদের সাধ্যমত চেস্টা করে চললেন। ভাই আমি তাদের জ্ঞানে মানে শিক্ষায় দীক্ষায় এক বারে নগণ্য। তবুও কুজোর চিৎ হয়ে শুয়ার মত আমার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
      তাই এই জবাবী পোস্ট গুলো কারো না কারো বক্তব্যের বা অপপ্রচারণা না ভুল প্রচারণার জবাব ভিত্তিক হয়ে পড়ে। তবে আলোচনার বিষয়ে লেখকের করার কিছু নেই, সে গুলো নির্ভর করে যারা আলোচনা করেন তাদের মর্জি বা জ্ঞানের বা বুঝার উপর ।
      ধন্যবাদ।

  5. 24
    করতোয়া

    @মুনিম
    আমার "এক রাজা ও একটি গাছের বীজ" নামক একখান পোষ্টে যেভাবে ফারুক ভাই এর সাথে ক্যাচাল হয়েছিল তার একপর্যায়ে আমি ফারুক ভাইকে ইঙ্গিতে প্রশ্ন করেছিলাম তার তরিকা সম্পর্কে। আমার একটা ধারনা ততক্ষনে জন্মেছিল। উনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
     
    মুনিম ভাই আপনার এই পোষ্টে শেষ মেস ফারুক ভাই বলেইছেন যে তিনি সেই তরিকার মানুষ যারা "কোরআন অনলি" প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাসী। এরা আল্লাহ'র সায়েন্টিফিক ডেফিনিশন (ন্যাচারাল) এর আর এক সিউডু ভার্সন। নাস্তিকরা দুই ধাপে ধর্মের বিরুদ্ধাচারন করে। যেমন প্রথমে প্রোপাগেট করবে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করতে। তারপর ধর্ম যখন আলাদা হবে তখন বলবে রাষ্ট্রই মূখ্য ধর্ম নয়। এরা হচ্ছে তিন ধাপে নাস্তিকতা প্রচার করে। প্রথম ধাপে কোরআন থেকে মোহাম্মদকে পৃথক করবে, তারপর কোরআন থেকে আল্লাহ'র নাম "ন্যাচারাল" শবদা দিয়ে প্রতিস্থাপন করবে। এটা এখন আমেরিকায় নতুন এক ধরনের মুসলিম জাত উদ্ভব হয়েছে। অনেক এক্ট্রিম খৃীষ্টান গ্রুপ এদের অর্থনৈতিক সাপোর্ট। এরা রাষ্ট্রে সকল ধর্মের ধর্মীয় চর্চায় সমান ও স্বাধীন অধিকারে বিশ্বাসী নয় কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী।

    1. 24.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনার এই পোষ্টে শেষ মেস ফারুক ভাই বলেইছেন যে তিনি সেই তরিকার মানুষ যারা "কোরআন অনলি" প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাসী। এরা আল্লাহ'র সায়েন্টিফিক ডেফিনিশন (ন্যাচারাল) এর আর এক সিউডু ভার্সন। নাস্তিকরা দুই ধাপে ধর্মের বিরুদ্ধাচারন করে। যেমন প্রথমে প্রোপাগেট করবে ধর্মনিরপেক্ষতার নামে রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করতে। তারপর ধর্ম যখন আলাদা হবে তখন বলবে রাষ্ট্রই মূখ্য ধর্ম নয়। এরা হচ্ছে তিন ধাপে নাস্তিকতা প্রচার করে। প্রথম ধাপে কোরআন থেকে মোহাম্মদকে পৃথক করবে, তারপর কোরআন থেকে আল্লাহ'র নাম "ন্যাচারাল" শবদা দিয়ে প্রতিস্থাপন করবে। এটা এখন আমেরিকায় নতুন এক ধরনের মুসলিম জাত উদ্ভব হয়েছে। অনেক এক্ট্রিম খৃীষ্টান গ্রুপ এদের অর্থনৈতিক সাপোর্ট। এরা রাষ্ট্রে সকল ধর্মের ধর্মীয় চর্চায় সমান ও স্বাধীন অধিকারে বিশ্বাসী নয় কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী।

       
      আসল যায়গায় আপনি পৌছতে পেরেছেন! আসলে যত সুন্দর কথা তারা বলে না কেন তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে ধর্ম থেকে দূরে নিয়ে যাওয়া।  অনেক বছর আগে এক নাস্তিক আমাকে বলেছিল যে- ধর্ম হলো বিশ্বাসের সমষ্টি!!! লাইক পিয়াজ!!! যদি এক এক করে পিয়াজের খোসা তুলে নেয়া যায় তাহলে একদিন পেয়াজ হাপিস হয়ে যাবে ঠিক তেমন করে একটি একটি বিশ্বাসে ফাটল ধরানো যায় তাহলে একদিন ব্যক্তির দিল থেকে ধর্ম বিশ্বাস হাপিস হয়ে যাবে।
      তবে ফারুক ভাইকে আমি সেই দলের বিশ্বাস করতে পারিনা! কোথায় যেন সমস্যা আছে! উনার কপালে আমি নামাজ পড়া জনিত দাগ দেখেছি, ফটোতে তে। উনার পরিবারের মেয়েদেরকে দেখেছি শরিফ কাপড় পড়তে! তাই উনার কথা বার্তাতে কিছু মিলাতে পারছিনা!
      না এই ২ আয়াত উনাকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে-
      ১। কিতাবে কোন কিছুই আমি বাদ দেইনি (সুরা আন আম -৩৮)
      ২। আমি মুসলিমদের জন্য প্রত্যেক বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথ নির্দেশ, দয়া ও সুসংবাদ স্বরূপ তোমার প্রতি কিতাব নাজিল করলাম।"( আন নাহাল-৮৯)
      ফারুক ভাই বুঝতে পারছেন না যে, আল কোরআনের বানী বিশ্বজনীন এবং চিরস্থায়ী নির্দেশনামা করে আল্লাহ পাঠালেও তা কোন পাহাড়ের চূড়ায় লিখিত তৈরী বই আকারে পাঠান নাই!  তা পাঠিয়েছিলেন- একটি বিশেষ যুগে একটি মাত্র বিশেষ জাতির নিকট সেই বিশেষ জাতির নিজস্ব ভাষায়।  রাসুল সাঃ ছিলেন সেই বিশেষ জাতির একজন। এবং উনার সাহাবীরা ছিলেন সেই যুগের সেই জনপদের এবং সেই ভাষা ভাষী মানুষ কাজেই তাদের কাছে কোরআনের বানী বুঝতে পারাটি ছিল খুব সহজ! কিন্তু আমরা ইতিহাসে কি দেখি! দেখি যে তারা সেই ভাষা ভাষী হবার পর কোরআনের ব্যাখ্যার জন্য রাসুল সাঃ এর কাছে ধারস্থ হতে হয়েছে!  রাসুল সাঃ যে ফায়সালা বা ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেইটিকে চরম সত্য বলে মেনে নিয়েছেন।
      আর এই মেনে নেবার নির্দেশ আল্লাহ আল কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন-
      "আল্লাহ মু'মিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য হতে তাদের নিকট রাসুল পাঠিয়েছেন, যে তার (আল্লাহর) আয়াত সমূহ তাদের নিকট তিলাওয়াত করে, তাদেরকে পরিশোধন করে এবং কিতাব ও হিকমাহ শিক্ষা দেয়, (সুরা আল-ইমরান-১৬৪)
      শুধু তাই নয়- আর কারো ব্যাখ্যা যে গ্রহণ যোগ্য হবেনা তাও উল্লেখ করে দিয়েছেন এই আয়াতে-
      'তারা কখনও মু'মিন হতে পারবেনা- যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের মধ্যকার পারস্পরিক মতবিরোধের মীমাংসার ভার তোমার উপর অর্পণ না করে, অতঃপর তুমি যে সিদ্ধান্ত দেবে সে সম্পর্কে নিজেদের মনে দ্বিধা অনুভব না করে এবং সর্বান্তকরণে তা মেনে নেয়"।(সুরা আন নিসা --৬৫)
      উপরের আয়াত থেকে আমরা জানতে পারি যে- স্বভাষী স্ব সময়ের মানুষ হয়েও সাহাবীরা তাদের মত করে কোরআনের ব্যাখ্যা দেবার অধিকার ছিলনা। তাহলে ১৫শত বছর পরের মানুষ হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাষী মানুষ হয়ে আমরা কোন অধিকারে কোরআনের আয়াতের মনগড়া ব্যখ্যা দেবার অধিকার রাখি?
      ধন্যবাদ।

  6. 23
    মুনিম সিদ্দিকী

    @ ফারুক ভাই,
    আপনি আমাকে পাগল বললেন! এই আপনার কুরআনি শিক্ষা!
    আপনার কোরআন আপনাকে দাওয়াতী কাজে প্রতিপক্ষের সাথে কি ভাবে ব্যবহার করতে নির্দেশ দেয় তা কি আপনার জানা আছে! না থাকলে পড়ে নেন-

    আল্লাহ তায়ালা কুশলী ও মধুর ভাষায় ইসলামের প্রতি মানুষকে আহবান করার আদেশ দিয়েছেন: “হিকমতের সাথে ও সদুপদেশ দ্বারা তোমার প্রভুর দিকে (মানুষকে) আহবান জানাও এবং সদ্ভাবে (উৎকৃষ্টতম ও সুবিবেচনা প্রসূত পন্থায়) তাদের সাথে আলোচনা করো।”(১৬:১২৫)

    আর আমি তো স্বীকার করি আমি মুসলিম, আর আপনি তো জানেন সাধ্যমত আমি ইসলামের নামে যে সব রটনা করা হয় তার জবাব দেবার চেষ্টা করে যাচ্ছি। অথচ আপনি আমাকে পাগল বললেন- কোরআন পড়ে দেখুন যে ফেরাউন কাফির ছিল তার সাথে আল্লাহ মুসা আঃকে ভাল ভাবে নম্র ভাবে কথা বলতে নির্দেশ দিয়েছিলেন-

     “তোমরা দ’জনেই ফেরাউনের কাছে যাও। কেননা সে সকল সীমা লংঘন করেছে। তোমরা তার সাথে নম্রভাবে কথা বলবে সম্ভবত সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় করবে (আল্লাহকে)।” (২০: ৪৩-৪৪)

    আপনাকে দাদী নানীকে বিয়ে করতে হবে সেইটি আমার মূল কথা ছিলনা। সেই কথা যে আপনার বুঝে আসেনাই তা ভাবতে পারছিনা।
    আপনি সুরা নিসার ২৩ নং আয়াত দিয়ে আমাকে বলছেন যে- মুহরাম কে কে তা আল্লাহ নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন তাই আমাকে নতুন করে আর কোন মুহরম আবিষ্কার করতে হবেনা।
    আপনার উল্লেখিত আয়াতে- ৪:২৩ তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে
    ১। তোমাদের মাতা,
    ২।তোমাদের কন্যা,
    ৩। তোমাদের বোন,
    ৪।তোমাদের ফুফু,
    ৫।তোমাদের খালা,
    ৬।ভ্রাতৃকণ্যা;
    ৭। ভগিনীকণ্যা
    ৮। তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে,
    ৯।তোমাদের দুধ-বোন
    ,১০। তোমাদের স্ত্রীদের মাতা,
    ১১,তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।
    আর ২৪ নং আয়াতে আছে-
    ১২।  সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ;
     আপনার দাবী মতে যা এই ৩ আয়াতে উল্লেখ নাই তারা গায়ের মুহরম! তাই আমি প্রশ্ন রেখেছিলাম কোরানের এই আয়াতে কেন পুরো কোরাআনের কোথাও তো নানী দাদীর মুহরম এই মর্মে কোন কথা উল্লেখ নাই! আপনার দাবীর কারণে যেহেতু আপনি বলেছেন যাদের নাম নাই তারা গায়ের মুহরম, তো গায়ের মুহরম কে বিয়ের কথা বললে বা প্রস্থাব দেওয়া মাত্র আপনি তেলে বেগুনের জ্বলার মত জ্বলে  উঠলেন কেন?
    আবারও বলছি -- পিছলাবেন না! আপনাকে বলতে হবে নানী দাদী মুহরম না গায়ের মুহরম আর তা শুধু কোরআন থেকে!!!!  ধন্যবাদ।

    1. 23.1
      ফারুক

      @মুনিম সিদ্দিকী, সালামুন আলাইকুম।

      আপনি আমাকে পাগল বললেন! এই আপনার কুরআনি শিক্ষা!

      এর ভিতরে আপনি কুরানিক শিক্ষাকে টেনে আনছেন কেন? আপনার সাথে আমার অনেকদিনের পরিচয়। আমাকে আপনি অনেক জায়গায় ডিফেন্ড ও করেছেন। আপনার সাথে মতের মিল না হলেও , আপনাকে ভালা পাই। আদর করে আপনাকে পাগল বলেছি , এতে যে মাইন্ড করে বসবেন , তা মাথায় আসে নি। যাই হোক মনে কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত। নিজ গুনে ক্ষমা করে দিয়েন।
       
      নারে ভাই আমি তেলে বেগুনের জ্বলার মত জ্বলে  উঠিনি। আমার ১ম কমেন্ট টি দেখুন শাহভাজ নজরূলকে করা। উনি অহেতুক আমার নাম টেনে এনে মতামত না জানতে চাইলে , সত্যি বলছি আমি এই পোস্টে কমেন্ট করতাম না। কমেন্ট না করলে আবার উনি ভেবে বসবেন  , আমি মেনে নিয়েছি আপনার বক্তব্যকে। সে কারনেই এড়িয়ে যেতে পারি নি।
       

      জনাব এন্টিভণ্ডের এই আবিষ্কারের পরে অবশ্য আইভীকে ওই বিষয়ে আর কোথাও কথা বলতে দেখিনি। তাতে ধারণা করা যায় যে তিনি হয়তো এন্টিভণ্ডের যুক্তি মেনে নিয়েছেন। তেমনিভাবে, আমাদের আশা থাকবে আইভী, ফারুক বা অন্য কারুর উম্ম হারাম ও রাসুলুল্লাহর সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলার থাকলে এখানে এসে বলুন। নিজের আগের অবস্থানে স্থবির থাকতেই হবে এমন অনড় অবস্থান নিয়ে বসে থাকলে অবশ্য তর্ক করা বৃথা।

       
      বিতর্ককে আমি কখনো ব্যক্তিগতভাবে নেই না, যে কারনে কোন গালি আমাকে স্পর্ষ করে না। পিছলানোর কিছু নেই। আমার বুঝ অনুযায়ী- যদি কোন পাগল তার নানি/দাদিকে বিয়ে করতে চায় , তাহলে সে সেটা করতে পারে। এ ব্যাপারে আল্লাহর তরফ থেকে কোন কোরানিক বিধি নিষেধ নেই।
       
      ভাল থাকুন। সম্ভবত এটাই আমার শেষ জবাব এই পোস্টে , যদি না আমাকে বাধ্য করেন।

      1. 23.1.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        আমার বুঝ অনুযায়ী- যদি কোন পাগল তার নানি/দাদিকে বিয়ে করতে চায় , তাহলে সে সেটা করতে পারে। এ ব্যাপারে আল্লাহর তরফ থেকে কোন কোরানিক বিধি নিষেধ নেই।

        বাহ! এ কেমন কোরআন ! যে কোরআন বলে মায়ের বোনকে বিয়ে করতে পারবেনা কিন্তু মায়ের মাকে বিয়ে করতে পারবে!
        এ কেমন কোরআন! যে কোরআন বলে বাবার বোনকে বিয়ে করতে পারবেনা কিন্তু বাবার মাকে বিয়ে করতে পারবে!!!
        এইবার কিন্তু আমার মাথা আউলা করে দিলেন ফারুক ভাই!!
         

  7. 22
    শামস

    মুনিম ভাই,
    আপনার লেখাটি খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ার সময় পেলাম।
    আরো কিছু হাদিসের মত এই হাদিসটি নিয়ে অনেক জল ঘোলা করা দেখলাম অনেকদিন যাবৎ। আজ আপনার লেখাটি পড়ে আমার মত অনেকেরই যাদের ধর্মজ্ঞান কম তাদের দ্বিধাদ্বন্দ কিছুটা হলেও কমবে। শেয়ার দিচ্ছি।
    আপনি লিখুন, শুভকামনা থাকল।
     
     

    1. 22.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাই আমার জন্য দোয়া করবেন। যাতে আমাদের অগোচরে পড়ে থাকা তথ্য গুলো তুলে ধরতে পারি। ধন্যবাদ।

  8. 21
    MuZahid Rasel

    মুনিম ভাই ,ভাল লাগল।আপনার কলমযুদ্ধ চালিয়ে যান।সত্যের জয় হবেই ইনশাআল্লাহ।

    1. 21.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      মন্তব্য রাখার জন্য ধন্যবাদ।  আপনার তো নেটে বিশাল এলাকা আছে তাই আমাদের লেখা গুলো সেই এলাকায় ছড়িয়ে দিলে খুশী হব।

  9. 20
    Syed Ahmed Salimuddin Sultan

    It is a good idea to present Islam in front of the people who speak in Bangla. You should present the original information and the perfect meaning. Try to encourage to learn more. You know "KNOWLEDGE IS POWER". Muslim people are lacking behind in knowledge. Muslims have enough wealth but have not enough knowledge to control them from the grasping mentality of Israel and USA. I hope you will highlight these things and encourage all the people to learn more.
    Thanks,
    Syed Ahmed Salimuddin Sultan

    1. 20.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য এবং মূল্যবান কমেন্টের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। দোয়া করবেন চেষ্টা চালিয়ে যাবার।

  10. 19
    এম_আহমদ

    @ফারুক from 14.2.2.1
    আমি আমার নিজের উপদেশ কীভাবে ভঙ্গ করেছি সেকথা জানি না। তবে এটা শেষের দিকে বলে দিলে চলবে। আমি আমার প্রশ্নের উত্তর পাইনি। প্রশ্নটি ছিল এই যে যেহেতু “সব কিছুই (আপনার মতে) মিথ্যা বানোয়াট ইতিহাসের উপরে ভিত্তি করে রচিত  এবং  যেখানে মুহম্মদ নামে কোন নবী বা রসূল ছিলেন কিনা  সে বিষয়েই আপনি নিশ্চিত নন, সেখানে এই ধর্মীয় পরিসরে কীসের ভীত্তিতে দুধ-সম্পর্কিত মুহরিমের ব্যাপার ‘অসঙ্গতিপূর্ণ’ ঠেকায়? আপনার ১ম ও ২য়, ৩য় মন্তব্যে যে সব ঐতিহাসিক ধারনা ও মূল্যায়ণী ধারণা দিয়েছেন  –তার কারণ কী মুনিম ও শাহবাজ নামক দুই ব্যক্তি, যে আমাকে এই দুটি নাম বললেই আপনার ১ম, ২য়, ৩য় (14.2) মন্তব্যের অসংগতি মিটিয়ে যাবে? এই দুই ব্যক্তি কি আপনার মত মুহাম্মদ নামক কোন ব্যক্তির ব্যাপারে সন্দিহান যে আপনার ইতিহাস-বিবর্জিত কোরান নামক একটি বইয়ে কোন কিছু না পেলে তাদের অবস্থান সঙ্গতিহীন হয়ে পড়বে?
    ২। আপনার সাথে আমার কথার স্থান শুধু ততটুকুই যতটুকু আমার প্রশ্ন ধারণ করে। আপনার কোরানে কি আছে কি নাই, সে প্রশ্ন আমাকে করার কোন দরকার নেই।
    ৩। আমার প্রশ্নকে কাটছাট করে উত্তর দেয়া আমি পছন্দ করিনি। টুকরো করে আমার প্রশ্নকে অন্যদিকে নেয়াও পছন্দ করিনা। হয় কোন উত্তর দেয়া হবে, না হয় নাই। এখানে কোন জোরাজোরি নেই। দলীলের ব্যাপারে আমার প্রেক্ষিত এসেছে এভাবে, ‘কোন ধর্মের বই থেকে উদ্ধৃত করা হল? এর সাথে কি মুহাম্মদ নামক কোন নবী/রসূলের সম্পর্ক আছে? এটা কার জন্য বিবেচ্য দলীল?’  [আগের কথাগুলো বিবেচনায় রাখবেন]।  যে কোরানের সাথে মুহাম্মদের সম্পর্কে নেই আপনি কিভাবে জানলেন যে সেই কোরান মুনিম ও শাহবাজের দলিল হবে? এই কোরানে কারা বিশ্বাস করে?
    আমার প্রশ্নের উত্তর ‘দেবারই’ চেষ্টা করবেন। খামাখা এদিক সেদিকে গিয়ে লাভ নেই। আমি শুধু ‘অসংগতির’ প্রকৃত স্থানটি দেখতে এসেছি, দীর্ঘ কোন আলোচনা উদ্দেশ্য নয়। কারণ  ‘অসংগতিমূলক’ প্রশ্নটির আগ পর্যন্ত আপনার অবস্থানের কোন অসংগতি দেখা যায়নি, বিশ্বাস আপনার যাই হোক। আমার নারিং বিরিং করার উদ্দেশ্য অবশ্যই নেই।

    1. 19.1
      ফারুক

      @এম_আহমদ,  সালামুন আলাইকুম।
      আমার ও নারিং বিরিং করার উদ্দেশ্য অবশ্যই নেই। আমার তো মনে হইতেছে কোন কাট ছাট ছাড়াই আপনার প্রশ্নের উত্তর আমি যথাযথভাবেই দিয়েছি। তারপরে ও যদি আপনাকে সন্তুষ্ট করতে না পারি , সেটা আমার অক্ষমতা।
      আপনি ঠিক কি জানতে চান , সেটা একটু খোলাসা করে বলুন। আমি চেষ্টা নিব সরাসরি উত্তর দিতে।
      ভাল থাকুন।
       
       
       
       

      1. 19.1.1
        এম_আহমদ

        আমি 14.2.2.1 পয়েন্টের পর (19 এ) অনেক খোলাসা করার পরও যখন আপনার কাছে খোলাসা হচ্ছে না, তখন এর সমাধান নেই; তাই থাক। তবে কখনও খোলাসা হলে উত্তর দিতেও পারেন।

  11. 18
    মোঃ মাছুম বিল্লাহ

    ভাই আমার ও মনে হচ্ছিল আপনি আমাকে আক্রমণ করবেন। এতে আপনার কোনো দোষ নেই আমার কমেন্ট গুলো পড়্লে তাই মনে হয়। আল্লাহ তা ইয়ালাই ভালো জানেন কার ইমান কামন। তবে আমার কাছেতো কমপিউটার নেই অনলাইনে লেখা কনভের্ট করে পোস্ট করতে হয়। আর এজন্য মনের ভাব বোঝাতে বার বার ব্যার্থ হৈ।
    আপ্নি প্রথমের দিকে বার বার বল্ছেন বিস্বাস কর্তে। কিন্তু আমি কিছুতেই মান্তে পার্ছিলাম না যে আমাদের প্রিয়ো নবী কোনো বেগানা নারির দ্বারা মাথাই উকুন দেক্ছিল। পরে দেখি তিনি বেগানা নন। এই লাইন গুল দেখার পর আমার চন্চল মন টা সম্পূর্ন সান্তো হয়ে গেলো
    >১। এই উম্ম হারাম (রা:) ছিলেন আনাস বিন মালিক (রাঃ) এঁর আপন খালা। আনাস (রাঃ)-কে উনার মাউম্ম হারাম (রাঃ) বোন উম্ম সুলাইম (রাঃ) মাত্র ১২ বছর বয়সে রাসুল (সাঃ) এঁর খেদমতে নিয়োজিতকরেছিলেন।
    ২। উম্ম হারাম (রাঃ) ছিলেন রাসুল (সাঃ) এঁর দাদা আব্দুল মোতালিবের সৎ বোন মুলাইকাহর মেয়ে। তাতে তিনি সম্পর্কে হোন রাসুল (সাঃ) এঁর ফুফু।
    ৩। উম্মু হারাম (রাঃ) এঁর বাবা মিলহান বিন খালিদ ছিলেন মদিনার খাযরাজের উপগোত্র বানু নাজ্জারের লোক।বানু নাজ্জার গোত্র ছিল রাসুল (সাঃ) এঁর মা আমেনা বিবির বংশ।
    ৪। উম্ম হারাম দুধ খালা ছিলেন। অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) এঁর মা যে মহিলার দুধ পান করেছিলেন সেই মহিলার দুধ উম্ম হারাম (রাঃ) পান করেছিলেন।
    অতএব উম্ম হারামের সাথে, উভয় দিক দিয়ে (রক্ত এবং দুধ) তাঁর সম্পর্ক মুহরিম ছিল। কাজেই রাসুল (সাঃ) উম্ম হারামের সেবা গ্রহণ করে ইসলামী শরিয়তেরকোন আইন লংঘন করেন নাই।<

    দোয়া করবেন আমার জন্য আল্লাহ জেন আমাকে ঈমানের পুর্নতা দান করেন

    1. 18.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আমাদের জন্য ও দোয়া করবেন। ভাল থাকুন।

  12. 17
    মোঃ মাছুম বিল্লাহ

    যোগ বিয়োগ কর্তে গিয়ে সেই কথাটা দিতেই ভুলে গেছি। কথাটা হল-

    অতএব উম্ম হারামের সাথে, উভয় দিক দিয়ে (রক্ত এবং দুধ) তাঁর সম্পর্ক মুহরিম ছিল। কাজেই রাসুল (সাঃ) উম্ম হারামের সেবা গ্রহণ করে ইসলামী শরিয়তের কোন আইন লংঘন করেন নাই।

    1. 17.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      হ্যা তাতো উল্লেখ করেছি। এবং শেষে করেছি । এর জন্য করেছি যে, এই আইন গুলো আমাদের সাধারণ মানুষের জন্য । নবীর সঃ এর মত পবিত্র চরিত্রবান মানুষের জন্য নয়। নবীকে যদি প্রমাণ দিয়ে চরিত্রবান হতে হয় তাহলে আমরা কেমন করে উনার কথা উপর বিশ্বাস করে আল্লাহ , কোরআন বিশ্বাস করলাম? একজন মুমিন মুসলিমের জন্য এই দলিলের কোন প্রয়োজন পড়ে না। আমি এইগুলো শেষে উল্লেখ করেছি শুধু দূর্বল ইমানের মুসলিমদের জন্য। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  13. 16
    মোঃ মাছুম বিল্লাহ

    ভাই এই কথা গুল আগে দিয়ে দেন। আমি মোবাইল থেকে ব্রাউজ করি কখোন পুরো টা পড়ি কখোন পড়িনা। প্রথমে মনে হচ্ছিল আপ্নি যাকরে হোক বঝাতে চাচ্ছেন পরে এটা দেখে পরিস্কার হয়ে গেল। তাই বল্ছি এটা আগেই দিয়ে দেন। কারন আমার মত অনেকেই আছে।

    1. 16.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আগে কি দেব একটু বুঝিয়ে বলবেন কি? ধন্যবাদ।

  14. 15
    শাহবাজ নজরুল

    এই আত্মসমর্পণের মাধ্যমে রাসুল (সাঃ) এঁর স্বপ্ন পরিপূর্ণ হয়। উম্ম হারাম (রাঃ) সেই অভিযানে তাঁর জেনারেল স্বামীর সাথে ছিলেন। তখন তিনি ছিলেন ৭০ এর এক বৃদ্ধা। বিজিত বাহিনী যখন দক্ষিণ সাইপ্রাসের লারনকার সল্ট লেকের পশ্চিম তীর দিয়ে প্রবেশ করছিল তখন তিনিও গাধায় চড়ে সেই বাহিনীর সাথে শহরে প্রবেশ করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু গাধার পিঠ থেকে পিছলে মাটিতে পড়ে যান। যার প্রেক্ষিতে তিনি শাদাৎ বরণ করেন।

     
    সম্মুখ সমরে অংশ নেয়া এই অনন্য সাধারণ সাহাবিয়াতের জন্যে আজীবন অবনত মস্তকে বিনম্র শ্রদ্ধা। এই সময়ের নারী যোদ্ধাদের শতাংশও যদি আজকের পুরুষদের থাকতো!!! ভাবা যায় ৭০ বছর বয়সে জীবনে সাগর না দেখা শুষ্ক মরুর নারী সাগর পাড়ি দিয়েছেন স্বামীর পাশাপাশি। মাপা যায় কী ইসলাম ধর্মের জন্যে তাদের একাগ্রতার গভীরতাকে?

    1. 15.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      সহমত!!!

  15. 14
    শাহবাজ নজরুল

    কিন্তু উনি যে দৃষ্টিকোণ থেকে হাদিসটি উত্থাপন করেছেন তাতে-
    ১। হাদিসকে নিয়ে অজ্ঞ ও কম জানা দুর্বল ঈমানের মুসলিমদের দিলে বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে।
    ২। শঙ্কা করছি যে এই হাদিসকে নিয়ে এন্টি মুসলিমরা রাসুল (সাঃ) এঁর চরিত্র মোবারককে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
    ৩। কেউ কেউ ইউরোপিয়ানদের সদ্য ধারণকৃত মূল্যবোধ নামক আফিম পান করেছেন এবং সেই আফিমের নেশার ঘোরে তাদের দিলেও হাদিস নিয়ে সংশয়ের ঘুনপোকা দংশন শুরু করেছে।
    ৪। কেউ কেউ একদিকে বাপ-দাদার ধর্মকে ত্যাগ করতে পারছেন না আবার আধুনিক মানসিকতার মানদণ্ডে যে ঘটনাগুলোকে বর্বর আদিম মনে করেন সেই সব ঘটনাকে মেনে নিতেও পারছেন না।
    ৫। কেউ কেউ এই দ্বন্দ্বে পড়ে হাদিস নামক ইসলামের ২য় উৎসের উপর নিজ জ্ঞানকে সেন্সরশিপের চাকু বানিয়ে ইসলামকে খৎনা করে ইউরোপীয়করণ করতে লেগেছেন।
     

    আপনার এই পর্যবেক্ষণ গুলো অসাধারণ। পয়েন্টগুলো আজকের দ্বিধাগ্রস্ত কোরান’ অনলিদের জন্যে পুরোপুরি খাটে। এর মধ্যে কয়েকটা পয়েন্ট তারা বারবার নিয়ে আসে, যেমন,
     
    ১। লক্ষ লক্ষ হাদীস কীভাবে এলো?
    ২। হঠাৎ করে কীভাবে ২০০-২৫০ বছর পরে হাদীস শাস্ত্রের আবির্ভাব হয়?
    ৩। ইমাম রাজীর নিজের স্বীকারোক্তি, অর্থাৎ তিনি নিজে নাকি শেষ জীবনে বলেছিলেন, বড় ইমামেরা যা লিখেছেন তা সবই নাকি ভাওতাবাজি (ঈমাম কাঠিরের নামও তিনি তাতে যোগ করে দেন)।

    হাদীস বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকেই এই সমস্ত প্রশ্নের সম্মুখীন যে কেউ হতে পারেন। অবশ্য হলে অসুবিধা নেই। মুক্ত মন নিয়ে, হাদিস সম্পর্কে আসল জ্ঞান অর্জনের ইচ্ছে নিয়ে এগুলেই হবে। যেমন, যতদুর মনে পড়ে আইভী-ই সদালাপের আগের ভার্শানে বিতর্কের এক পর্যায়ে ঈমাম রাজির স্বীকারোক্তির কথা বলেছিলেন। ডা. সাব্বিরের ঈমাম রাজীর স্বীকারোক্তি নিয়ে লেখাটাকে গভীর গবেষণার মাধ্যমে খণ্ডন করেন ‘এন্টিভণ্ড’। উইকিতেও ডা. শাব্বিরের এই লেখাটার সমালচনা করা হয়। জনাব এন্টিভণ্ডের এই আবিষ্কারের পরে অবশ্য আইভীকে ওই বিষয়ে আর কোথাও কথা বলতে দেখিনি। তাতে ধারণা করা যায় যে তিনি হয়তো এন্টিভণ্ডের যুক্তি মেনে নিয়েছেন। তেমনিভাবে, আমাদের আশা থাকবে আইভী, ফারুক বা অন্য কারুর উম্ম হারাম ও রাসুলুল্লাহর সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলার থাকলে এখানে এসে বলুন। নিজের আগের অবস্থানে স্থবির থাকতেই হবে এমন অনড় অবস্থান নিয়ে বসে থাকলে অবশ্য তর্ক করা বৃথা।

    1. 14.1
      এম_আহমদ

      @শাহবাজ নজরুল:
      এন্টিভণ্ড ভাইয়ের “কোরান-অনলি ড. শাব্বির আহমেদ-এর রেফারেন্স জালিয়াতি” লেখাটি এই মাত্র পড়লাম। খুবই গুরুত্বপূর্ণ লেখা। এটা আরেকবার রিসাইকল হওয়া দরকার।

    2. 14.2
      ফারুক

      @শাহবাজ নজরুল,

       তেমনিভাবে, আমাদের আশা থাকবে আইভী, ফারুক বা অন্য কারুর উম্ম হারাম ও রাসুলুল্লাহর সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলার থাকলে এখানে এসে বলুন। নিজের আগের অবস্থানে স্থবির থাকতেই হবে এমন অনড় অবস্থান নিয়ে বসে থাকলে অবশ্য তর্ক করা বৃথা।

      ছালাম। আমাকে আবার এর ভিতরে কেন টেনে আনলেন বুঝলাম না। আমি সাধারনত এই সব পোস্টে কমেন্ট করি না , কারন হলো --
      ১) এই সকল পোস্টের বিষয়বস্তু , অভিযোগ , পাল্টা অভিযোগ সব কিছুই মিথ্যা বানোয়াট (আমার মতে) ইতিহাসের উপরে ভিত্তি করে রচিত। সত্য ইতিহাস যেখানে জানি না , সেখানে সেই ইতিহাস নিয়ে বাগবিতন্ডা করা , আমার কাছে সময়ের অপচয়।
      ২) যেখানে মুহম্মদ নামে কোন নবী বা রসূল ছিলেন কিনা  সে বিষয়েই আমি নিশ্চিত নই , সেখানে তার মাথার উকুন কে বেছে দিত সেটা্তো অনেক পরের ব্যাপার। কোরানে যে নবী/রসূলের কথা বলা হয়েছে তার নাম যে মুহাম্মদ এমন আয়াত এখনো খুজে পাই নি।
      ৩) আমি মনে করি কোরানে বর্ণীত নবী/রসূলের নাম যদি মুহাম্মদ হয়েও থাকে , তাহলেও মুহম্মদের ব্যাক্তি চরিত্র কেমন ছিল সেটা জানা বা না জানার উপরে আমার পরকালের মুক্তি নির্ভর করে না। পরকালে মুহম্মদের নিজের কার্যকলাপের জবাব মুহাম্মদ নিজে দেবেন , আমাকে এব্যাপারে জিজ্ঞাসাও করা হবে না বা আমাকে দায়ী ও করা হবে না।
      এই পোস্টের অসঙ্গতি যেটা আমার চোখে ধরা পড়েছে -- দুধ খালা বা মায়ের গোষ্ঠির কেউ বা দুর সম্পর্কের ফূপু যে মুহরিম হয় , এমনটা জানা ছিল না। কোন দলিল কি আছে এ ব্যাপারে?

      1. 14.2.1
        মুনিম সিদ্দিকী

        সালাম ফারুক ভাই।
        আপনার সাথে কথা বলার আগে আপনার কাছে থেকে জানতে চাই ১। আপনার ধর্ম বিশ্বাস কি?  কোন তথ্যকে আপনি আপনার বিচারের মানদন্ড বলে মানেন তারপর আপনার সাথে বাকি কথা বার্তা।
         

        এই পোস্টের অসঙ্গতি যেটা আমার চোখে ধরা পড়েছে — দুধ খালা বা মায়ের গোষ্ঠির কেউ বা দুর সম্পর্কের ফূপু যে মুহরিম হয় , এমনটা জানা ছিল না। কোন দলিল কি আছে এ ব্যাপারে?

        আপনি যেখানে হাসিদকে ইতিহাস হিসাবে মানেন না সেখানে আপনাকে কি দলিল দেব?
        আপনাকে প্রশ্ন করতে পারি সৎ বোন কি বিয়ে করা যায়? যদি না যায় তাহলে কি বাবার সৎ বোন বিয়ে করা যায়? তাহলে কি দাদার সৎ বোন বিয়ে করা যায়?
        উম্ম হারাম রাঃ দাদা আব্দুল মোতালিবের সৎ বোন ছিলেন। তাহলে তাকে কেমন বিয়ে করা যায়?
        আর দুধ ভাই বোনের মধ্যে বিয়ে না হলে দুধ খালাকে কেমন করে বিয়ে করা যায়?

        1. 14.2.1.1
          ফারুক

          @মুনিম সিদ্দিকী, সালামুন আলাইকুম।
          কোরানে পরিস্কার বলা আছে , কারা মুহরিম। এর বাইরে যদি আপনি কাউকে মুহরিম বানাতে চান  সেটা আপনার ইচ্ছা এবং তার দায় দায়িত্ব ও আপনার উপরেই বর্তায়।
          ৪:২২ যে নারীকে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছে তোমরা তাদের বিবাহ করো না। কিন্তু যা বিগত হয়ে গেছে। এটা অশ্লীল, গযবের কাজ এবং নিকৃষ্ট আচরণ।
          ৪:২৩ তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকণ্যা; ভগিনীকণ্যা তোমাদের সে মাতা, যারা তোমাদেরকে স্তন্যপান করিয়েছে, তোমাদের দুধ-বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা অতীত হয়ে গেছে। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাকরী, দয়ালু।
          ৪:২৪ এবং নারীদের মধ্যে তাদের ছাড়া সকল সধবা স্ত্রীলোক তোমাদের জন্যে নিষিদ্ধ; তোমাদের দক্ষিণ হস্ত যাদের মালিক হয়ে যায়-এটা তোমাদের জন্য আল্লাহর হুকুম। এদেরকে ছাড়া তোমাদের জন্যে সব নারী হালাল করা হয়েছে, শর্ত এই যে, তোমরা তাদেরকে স্বীয় অর্থের বিনিময়ে তলব করবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য-ব্যভিচারের জন্য নয়। অনন্তর তাদের মধ্যে যাকে তোমরা ভোগ করবে, তাকে তার নির্ধারিত হক দান কর। তোমাদের কোন গোনাহ হবে না যদি নির্ধারণের পর তোমরা পরস্পরে সম্মত হও। নিশ্চয় আল্লাহ সুবিজ্ঞ, রহস্যবিদ।

        2. মুনিম সিদ্দিকী

          কোরআন যদি আক্ষরিক ভাবে মানেন তাহলে তো ভাই আপনি আপনার আপন নানী বা দাদী কে বিয়ে করে দেখান তো! কারণ কোরআনে কোথায়ও নানী দাদীর কথা লিখা নেই।
          তো আপনি কি আপনার নানী কিংবা দাদীকে বিয়ে করতে রাজী আছেন ?????
          আপনাকে চ্যালেঞ্জ দিলাম আপনার কোরআন থেকে নানী দাদী যে মুহরম তা প্রমাণ করুন!!!

        3. ফারুক

          @মুনিম সিদ্দিকী
          সালামুন আলাইকুম।
          কোরানের বিপরীতে যেয়ে চ্যালেন্জ দেয়ার আগে ,  একটু সরেজমিনে অনুসন্ধান করা কি উচিৎ ছিল না ?
          আমার পক্ষে নানি দাদিকে বিয়ে করা সম্ভব নয় , কারন-
          ১) আমার নানি দাদি বেচে নেই।
          ২) নানি দাদি দুরে থাক , ওই বয়সি কোন নারীকে (এদের ব্যাপারেও কোরানে নিষেধাজ্ঞা নেই) আমি কেন , কেউ বিয়ে করবে কিনা বা আপনার মতো পাগল ছাড়া কেউ বিয়ের চিন্তা মাথায় আনবে কিনা তা নিয়ে আমার ঘোরতর সন্দেহ আছে।
          ৩)  সব কথার শেষ কথা --
           

          ১৬:১১৬ তোমাদের মুখ থেকে সাধারনতঃ যেসব মিথ্যা বের হয়ে আসে তেমনি করে তোমরা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে বল না যে, এটা হালাল এবং ওটা হারাম। নিশ্চয় যারা আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা আরোপ করে, তাদের মঙ্গল হবে না।

      2. 14.2.2
        এম_আহমদ

        @faruk
        আমি মাঝে এসে কথা বলতে কেমন লাগবে জানি না। তবে আপনার প্রথম মন্তব্য থেকে ২য় মন্তব্যতে যেন অসংগতির ব্যাপার রয়েছে। প্রথমত আপনার ‘অসংগতিমূলক প্রশ্নটি’ অসংগতিপুর্ণ ঠেকেছে।
        ১। আপনার কাছে যেহেতু “সব কিছুই (আপনার মতে) মিথ্যা বানোয়াট ইতিহাসের উপরে ভিত্তি করে রচিত, এবং  যেখানে মুহম্মদ নামে কোন নবী বা রসূল ছিলেন কিনা  সে বিষয়েই আপনি নিশ্চিত নন, সেখানে এই ধর্মীয় পরিসরে কীসের ভীত্তিতে দুধ-সম্পর্কিত মুহরিমের ব্যাপার অসঙ্গতিপূর্ণ ঠেকায়? এখানে ব্যাপার কী?
        ২। তারপর শেষের মন্তব্য কোন ধর্মের বই থেকে উদ্ধৃত করা হল? এর সাথে কি মুহাম্মদ নামক কোন নবী/রসূলের সম্পর্ক আছে? এটা কার জন্য বিবেচ্য দলীল?

        1. 14.2.2.1
          ফারুক

          @এম_আহমদ,  সালামুন আলাইকুম।

          আমি মাঝে এসে কথা বলতে কেমন লাগবে জানি না।

          আমার তো ভালই লাগছে , তবে আপনি নিজের দেয়া উপদেশের বিপরীতে এসে যে আমার সাথে বিতর্কে নেমেছেন , সেটা আমাকে আশ্চর্যান্বীত ও করেছে।

          প্রথমত আপনার ‘অসংগতিমূলক প্রশ্নটি’ অসংগতিপুর্ণ ঠেকেছে।

          শাহবাজ নজরুল সাহেব আমার নামোল্লেখ করে মন্তব্যটি না করলে বোধহয় ‘অসংগতিমূলক প্রশ্নটি’ করা হোত না।
          ১) আমি যতদুর জানি শাহবাজ নজরুল ও মুনিম , দুজনেই কোরান মানেন। একারনেই কোরান থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে পোস্টের অসঙ্গতিকে ধরিয়ে দেয়া কর্তব্য মনে করেছি।
          ২) শেষের মন্তব্য কোরান থেকে উদ্ধৃত করা হল। এর সাথে মুহাম্মদ নামক কোন নবী/রসূলের সম্পর্ক আছে কি না , আমার জানা নেই। কারন কোরানে কোথাও খুজে পাই নি ,  কোরানে যে নবী/রসূলকে উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে , তার নাম ছিল মুহাম্মদ। আপনি যদি খুজে পান , তাহলে দয়া করে জানালে বাধিত হব।

          এটা কার জন্য বিবেচ্য দলীল?

          যারা কোরানে বিশ্বাস স্থাপন করেছে , তাদের জন্য বিবেচ্য দলীল।

          যারা কোরানে বিশ্বাস স্থাপন করেছে , তাদের জন্য বিবেচ্য দলীল।
           

    3. 14.3
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়া এবং কমেন্ট সংযোজনের জন্য ধন্যবাদ।

  16. 13
    majid biswas

    বরাবরের মত খুবই ভাল, যৌক্তিক, বিশ্লেষণ মূলক হয়েছ। ধন্যবদ

    1. 13.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

  17. 12
    deshi

    @ br munim
    You indicated in this webpage conversation that you would write an article on our prophet's (pbuh) many marriages and his strength equivalent to 30 men while commenting on one writer's article on this topic.  Looking forward to your write ups.

    1. 12.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ইচ্ছা আছে! আল্লাহ তৌফিক দিলে অবশ্য পাবেন। ধন্যবাদ।

  18. 11
    মহিউদ্দিন

    মুনিম ভাই, গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়ের সুন্দর উপস্থাপনা করেছেন। আসলে ইসলাম সর্ম্পকে যেখানেই কোন মনগড়া ব্যখ্যা দিয়ে যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রচেষ্টা করে সেখানে একজন মুমিনের দায়িত্ব হল তার স্বাধ্যমত প্রচেষ্টা করা যাতে মানুষ সঠিক তথ্য জানতে পারে। আল্লাহ আমাদের সকলকে এ ব্যপারে আরো বেশী বেশী যোগ্যতা দান করুন সে দোয়া করি।
    ধন্যবাদ

    1. 11.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আমিন!!!

  19. 10
    ashrafmahmud

    তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপনায় (Presentation) একটু ভিন্নতা থাকলে ভাল হোত। যেমনঃ প্রবন্ধের অনেক পরে আপনি লিখেছেন -- QUOTE অতএব উম্ম হারামের সাথে, উভয় দিক দিয়ে (রক্ত এবং দুধ) তাঁর সম্পর্ক মুহরিম ছিল। কাজেই রাসুল (সাঃ) উম্ম হারামের সেবা গ্রহণ করে ইসলামী শরিয়তের কোন আইন লংঘন করেন নাই। UNQUOTE
    অর্থাৎ আপনি Presentation -এ Inductive Method / Style ফলো করেছেন। ব্যাখ্যা করলে বলা যায় -- আপনি প্রথমে ইতিহাসের খুঁটিনাটি তথ্য, ঘটনা এবং প্রাসঙ্গিক যুক্তি তুলে ধরেছেন এবং তারপর কনক্লুশানে এসেছেন। 
    আমি মনে করি লেখাটি Deductive Method / Style -- এ লিখলে ভালো হোত। অর্থাৎ মূল সত্যটি তুলে ধরে, নজরে এনে পরে ইতিহাসের খুঁটিনাটি তথ্য, ঘটনা এবং যুক্তি উপস্থাপন করলে যথাযথ হোত। ফলে কেউ পুরো প্রবন্ধ না-পড়লেও অন্ততঃ এটুকু জানা হয়ে যায় যে "ঘটনার সত্যতা কি বা কারণ কি" Please don't take it otherwise. This is my personal opinion. It is absolutely your discretion. Never mind.
    আর, আপনার নিচের  কথাগুলো ভালো লেগেছে। এগুলো ক্লাসিক। দীর্ঘদিন কথাগুলোর আবেদন, গুরুত্ব, সত্যতা এবং বাস্তবতা থাকবে।
    যেমন —
    ৩। কেউ কেউ ইউরোপিয়ানদের সদ্য ধারণকৃত মূল্যবোধ নামক আফিম পান করেছেন এবং সেই আফিমের নেশার ঘোরে তাদের দিলেও হাদিস নিয়ে সংশয়ের ঘুনপোকা দংশন শুরু করেছে।
    ৪। কেউ কেউ একদিকে বাপ-দাদার ধর্মকে ত্যাগ করতে পারছেন না আবার আধুনিক মানসিকতার মানদণ্ডে যে ঘটনাগুলোকে বর্বর আদিম মনে করেন সেই সব ঘটনাকে মেনে নিতেও পারছেন না।
    ৫। কেউ কেউ এই দ্বন্দ্বে পড়ে হাদিস নামক ইসলামের ২য় উৎসের উপর নিজ জ্ঞানকে সেন্সরশিপের চাকু বানিয়ে ইসলামকে খৎনা করে ইউরোপীয়করণ করতে লেগেছেন।
     
    অনেক অনেক ধন্যবাদ।

    1. 10.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনার পরামর্শ আগামীতে মাথায় রাখতে চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ!

      1. 10.1.1
        ashrafmahmud

        যে কোন লেখা  Deductive Style-এ হবে, না Inductive Style-এ হবে, তা নির্ধারণ করবে, সিদ্ধান্ত নেবে লেখক নিজে। তবে, কোন্ লেখা কোন্ ষ্টাইলে হবে তা' অনেকটা নির্ভর করে বিষয়ের গুরুত্ব, দৈর্ঘ্য, পরিসর, কোন-শ্রেণীর-পাঠক, ইত্যাদি আরও নানান কিছু বিবেচনা করে। কোন লেখা Deductive এবং Inductive উভয়ের সমন্বয়েও হতে পারে। কবিতায় যেমন বলা হয় আধার ও আধেয়, প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রেও Content ও Structure। কোন লেখার Content যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি Structure-ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র Structure / Presentation -এর দূর্বলতার কারণে গুরুত্বপূর্ণ কোন বিষয় / লেখা মাটি হয়ে যেতে পারে। পাঠকের ধৈর্য্যচ্যুতি হতে পারে। তাই জ্ঞান আহরণ যেমন প্রয়োজনীয়, জ্ঞান বিতরণ / পরিবশনার ষ্টাইল সম্পর্কে অবগত হওয়াও সমধিক গুরুত্বপূর্ণ।
        লেখালেখির ষ্টাইল নিয়ে বাংলাদেশের একজন লেখকের বই আছে। সম্ভব হলে সংগ্রহ করে নিয়ে পড়তে পারেন।
        1.  A Systematic Approach to Critical Reasoning and Analytical Ability.
        2.  Tactics for Effective  Reading and Critical Thinking.
        3.  Effective Writing Skills for Advanced Learners.
        WRITER
        S.M. ZAKIR HUSSAIN
        রোহেল পাবলিকেসন্স, বাংলা বাজার, ঢাকা
        জ্ঞানকোষ প্রকাশনী, বাংলা বাজার ঢাকা। 
        ধন্যবাদ।

  20. 9
    Ruhul Amin Rushd

    ইসলামের বিষেয় বিভ্রান্তি দূর করতে আল্লাহ আপনাকে আরো বেশি বেশি লেখা তাওফিক দান করুন। আমিন।

    1. 9.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  21. 8
    এস. এম. রায়হান

    রমজানে মাসে রাসুল সাঃ মসজিদে ইতেকাফে ছিলেন। সে সময় সাফিয়া রাঃ কোন কাজে এসেছিলেন। রাসুল সাঃ যখন সাফিয়া রাঃ উনার ঘরে পৌঁছে দিচ্ছিলেন তখন সেই পথ দিয়ে ২ জন আনসার পুরুষ তাদের পাশ কেটে যাচ্ছিল। রাসুল সাঃ তখন উনার সাথের মহিলা যে উনার স্ত্রী সে কথা সেই লোকটিকে জানিয়েছিলেন, যাতে সে লোকটির মনে রাসুল সাঃ ও সাফিয়া রাঃকে নিয়ে কোন সন্দেহ না আসে।

    এই হাদিসের রেফারেন্স দিলে ভাল হতো।

    1. 8.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      হাদিস শুনে বা পড়েছিলাম। নেটে খুজ করে হাদিসিটিকে পেলেও তার রেফারেন্স নাম্বার বের করতে পারিনাই। আপনার অবগতির জন্য মুল হাদিসটির কপিপেস্ট দিলাম।

      Al-Husayn Ibn Ali, may Allaah be pleased with him, reported: “Safiyyah the wife of the Prophet sallallaahu alayhi wa sallam came and visited him during his I’tikaaf in the mosque during the last ten days of Ramadhaan. She spoke with him for a while, then she stood up to go home. The Prophet sallallaahu alayhi wa sallam stood up with her to walk her back, then when she reached the door of the mosque, by the door of Umm Salamah, two men of the Ansaar passed by and greeted the Prophet, sallallaahu alayhi wa sallam, and rapidly moved away. The Prophet, sallallaahu alayhi wa sallam, said to them: “Wait, this is Safiyyah bint Huyay.” They said: “Subhaanallaah, O Messenger of Allaah!” They felt distressed (that he thought they might think something bad). The Prophet, sallallaahu alayhi wa sallam, said: “The devil is as close to a man as his blood.” In another report: “The devil flows through the veins of a man like blood. I was afraid that the devil might cast some evil ideas into your hearts.”  [Al-Bukhaari and Muslim]

  22. 7
    সরোয়ার

     ইতিহাস-নির্ভর লেখাটির জন্য মুনিম ভাইকে স্যালুট।http://www.shodalap.org/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_rose.gif আইভি'দের শুভবুদ্ধির উদয় হোক।  

    1. 7.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

  23. 6
    সাইফ সাইমুম

    খণ্ডিত জ্ঞান নিয়ে ইসলামের ব্যাখ্যা করা যে উচিত না, সেকথা ইসলাম্বিদ্বেষীরা জেনেও না জানার ভান করে থাকে। এরকম ইসলামবিদ্বেষীরা, যারা ইসলামের অপব্যাখ্যায় মশগুল, তারা সব দেশে সব যুগেই ছিলো, এই যুগে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এদের মুখোশ খুলে দেয়া আমাদের ঈমানী দায়িত্ব। সেই দায়িত্বটা পালন করেছেন মুনিম ভাই আপনি। শুভকামনা আপনার জন্য।

    1. 6.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      আপনার জন্য শুভ কামনা ভাই।

  24. 5
    এস. এম. রায়হান

    বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য ধন্যবাদ।

    এর আগেও সদালাপে কারো এক লেখার মন্তব্যের ঘরে মিস আইভি একই হাদিসের নামে নবীজীকে নিয়ে ক্যারিকেচার করেছিলেন। তখনই উনাকে আমি একটি প্রশ্ন করেছিলাম। উনি আজ পর্যন্তও আমার সেই প্রশ্নের কোন জবাব না দিয়ে এতদিন পর এসে আবারো একই মন্তব্য করেছেন! খুব সম্ভবত মন্তব্যটি ছিল সদালাপের পুরাতন ব্লগে, ফলে এখন আর পাওয়া যাবে না। প্রসঙ্গক্রমে প্রশ্নটি আবারো করছি-
     
    ইসলাম বিদ্বেষীদের কারো লেখায় মিস আইভি'র উদ্ধৃত হাদিসের নামে নবীজীকে নিয়ে ক্যারিকেচার নজরে পড়েনি। অন্যদিকে পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সাথে নবীজীর বিয়েকে কেন্দ্র করে ইসলাম বিদ্বেষীরা নানা রকম কুৎসা রটায় ও সমালোচনা করে থাকে। বিষয়টি যেহেতু কুরআনেই উল্লেখ আছে সেহেতু মিস আইভির কাছে প্রশ্ন হচ্ছে, উনি পালক পুত্রের তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীর সাথে নবীজীর বিয়ে নিয়ে কোন রকম হীনমন্যতায় ভোগেন কিনা?

    1. 5.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      দেখি আইভি কি জবাব নিয়ে আসেন। ধন্যবাদ।

  25. 4
    হালিম

    লেখাটি বেশ ভালো এবং তথ্যপূর্ণ। এমন প্রয়াস চলতে থাক।

    1. 4.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ধন্যবাদ।

  26. 3
    মোঃ মোস্তফা কামাল

    মুনিম ভাই, বরাবরের মতই দারুণ! ইসলামের যেকোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপনি সাজিয়ে ও যুক্তি দিয়ে যেভাবে তুলে ধরেন সেটার যাযাক আল্লাহ খায়ের! আপনি নিশ্চয়ই দেখেছেন আবুল কাশেম নিজ মন মত বিকৃত করে রাসুল(সাঃ)এর চরিত্র নিয়ে অপবাদ দিয়েছেন। ধন্যবাদ এন্টিভণ্ড, উনি তাকে স্বীকার করাতে বাধ্য করছেন যে আদৌ ইতিহাসে এভাবে লিপিবদ্ধ নেই। আবুল কাশেম এটা নিজ ধারণায় নয়া ইতিহাস রচনা করেছেন।

    যদি কিছু মনে না করেন সামুর এই লিংকটা দয়া করে দেখবেন;
    http://www.somewhereinblog.net/blog/asksumon0000/29542234

    এই লেখক ভদ্রলোক বলছেন দাড়ি রাখা ওয়াজিব। আবার ইউটিউবে আব্দুর রহিম গ্রীণ বলছেন ফরজ। অথচ সারা জীবন শুনে আসলাম এটা সুন্নত। আমি যদি ভুল না হয়ে থাকি দাড়ি রাখার বিষয়ে রাসুল(সাঃ) এটাকে ফরজ বা ওয়াজিব বলেছেন তা আমার জানা নেই। এই বিষয়ে কিছু বলবেন কি?

    1. 3.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      পড়ার জন্য আর কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ।

  27. 2
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    চমৎকার আরেকটা লেখা পেলাম মুনিম ভাই। ধন্যবাদ। 
     
    বাহ্যিক চাপ আর জ্ঞানের সুষ্পষ্ট দিক নির্দেশনা না থাকলে এমনই হয়। যতটুকু ইতিহাস জানি -- ইসলাম প্রসারের সাথে সাথে এর বিরোধীরা প্রথমদিকে কোরানের আয়াত নিয়ে নানান প্রচার প্রচারনা চালিয়েছে। সফলও হয়েছে অনেক। 
    এখন কোরান যেহেতু সব ভাষায় অনুদিত এবং বহুল পঠিত -- তাই কোরআন নিয়ে বিতর্ক তেমন সুবিধার হয় না -- তাই হাদিস -- বিশেষ করে নিজের মতো করে টেইলর মেইড হাদিস দিয়ে অনেকেই বিতর্ক করার সুযোগ করে। 
     
    এক সময় এরাও থেমে যাবে -- কিন্তু ইসলামের সমালোচনা থামবে কি? মনে হয় না। কোরানে সেই রকমই নির্দেশনা আছে -- 
     
     
     

    সূরা আল বাক্বারাহ (The Cow )

    (2:13) "আর যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবেঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত! মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না।"

    সুতরাং শেষ দিন পর্যণ্ত এই বিতর্ক চলবেই। কারন এই স্বঘোষিত বুদ্ধিমানরা বোকাদের জ্ঞান দানের মহান দায়িত্ব পালন করেই যাবে। 

    1. 2.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ঠিক বলেছেন! থামানো যাবেনা কিন্তু আমাদেরও থামা উচিত হবেনা। পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  28. 1
    এম_আহমদ

    ভাই, আমার কাছে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হয় এই যে কিছু লোক যখন নিজেদেরকে মুসলমান ভাবে, আবার রাসূলের (সাঃ) ব্যাপারে অথবা মহান কোন সাহাবীদের (সাঃ) ব্যাপারে এমন অমর্যাদাকর কথা বলে যা বলাতেই তাদের ঈমান হারানোর প্রবল সম্ভাবনা এসে যায়।  আদব ব্যতীত ঈমান নেই। ওদের আদবের স্থানটা  যে কোথায় বলা মুস্কিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে আল্লাহ নিজেই আদব শিখিয়েছিলেন, তাই তার আদবী মর্যাদা ছিল অতি উঁচু মাত্রায়।

    1. 1.1
      মুনিম সিদ্দিকী

      ভাই এদের কথা তো আমি উল্লেখ করেছি আমার এই পোস্টে-

      ৩। কেউ কেউ  ইউরোপিয়ানদের সদ্য ধারণ কৃত মূল্যবোধ নামক আফিম পান করেছেন এবং সেই আফিমের নেশার ঘোরে তাদের দিলেও হাদিস নিয়ে সংশয়ের গুণ পোকা দংশন শুরু করেছে।
      ৪। কেউ কেউ একদিকে বাপদাদার  ধর্মকে ত্যাগ করতে পারছেন না আবার আধুনিক মানসিকতার মানদণ্ডে যে ঘটনা গুলকে বর্বর আদিম মনে করেন সেই সব ঘটনাকে মেনে নিতেও পারছেন না।
      ৫। কেউ কেউ এই দ্বৈত ধন্ধে পড়ে হাদিস নামক ইসলামের ২য় উৎসের উপর নিজ জ্ঞান কে সেন্সরশিপের চাকু বানিয়ে ইসলামকে খৎনা করে ইউরোপীয় করণ করতে লেগেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.