«

»

Aug ২৭

কোরানের আলোকে ইহুদী (ইসলাম এবং ইহুদী)

বর্তমান কালে অনেক ক্ষেত্রে মনে হয়, ইহুদীদের সাথে মুসলমানদের প্রচন্ড বৈরী সম্পর্ক, শত্রুভাবাপন্ন। অনেকেই দাবী করেন, ইহুদীদের প্রতি মুসলমানদের এই বিদ্বেষ কোরান থেকে শিক্ষা প্রাপ্ত। কোরান কি আসলেই তাই শিক্ষা দেয়? কোরানে কি আসলেই ইহুদীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা apes and swine, যা অনেকেই দাবী করেন?

এক কথায় উত্তর, ‘না’। কোরানের কোথাও ইহুদীদের apes and swine  বলা হয় নি বা তাদেরকে ঘৃনা করতে বলা হয় নি। এই প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে আমরা দেখবো, পুরো কোরানে ইহুদীদের সম্পর্কে কি বলা আছে?

পুরো কোরানে প্রায় ৬০ টির মতো আয়াত আছে যেখানে ইহুদীদের প্রতি বা ইহুদীদেরকে নিয়ে বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আয়াতে শুরু করা হয়েছে, ‘হে বনী ইসরাইল’ শব্দ দিয়ে, বাকী গুলোতে বলা হয়েছে, ‘ইহুদী’ (yahud) বা ‘তারা, যারা ইহুদী’ (alladhina hadu)- এই ভাবে। এছাড়া আরো কিছু জায়গায় ইহুদীদের এবং খ্রিস্টানদেরকে একসাথে বোঝানোর জন্য বলা হয়েছে, ‘কিতাবপ্রাপ্ত জাতি’ (ahl al-kitab) এবং ‘তারা, যারা কিতাবপ্রাপ্ত হয়েছে’ (alladhina utu al-kitab)। এছাড়াও কোরানো এক ডজনেরও বেশিবার ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ ‘তৌরাত’-এর নাম এসেছে, এসেছে তাদের নবী দাউদ (আঃ) এবং মুসা (আঃ)-এর নাম। এ সমস্ত আয়াত ছাড়াও কোরানের ১৭ নম্বর সুরাটি সম্পূর্ণ ইহুদীদের নিয়েই, যার নাম ‘সুরা বনী ইসরাইল’।

কোরানে ইহুদীদের সম্পর্কে কি বলা হয়েছে, তা ভালোভাবে বোঝার জন্য আমরা আগে জানতে চাই ধর্ম নিয়ে কোরানে কি বলা হয়েছে। কোরান অনুযায়ী সঠিক ধর্ম হচ্ছে ‘আল্লাহর কাছে আনুগত্য প্রকাশ করা’ (Submission to God)। এরাবিক ‘الإسلام‎’ শব্দটির আভিধানিক অর্থও হচ্ছে Submission surrender to God. এই অর্থে যারা আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল তারা সবাই মুসলিম। এভাবে কোরান অনুযায়ীই ইসলাম হচ্ছে এমন একটি ধর্ম যে ধর্মের অনুসারী আদম থেকে নুহ, নুহ থেকে ইব্রাহীম, ইব্রাহীম থেকে মুসা,ইসা, মুহাম্মদ সবাই (10:71-72, 84; 2:128-131; 5:110-111)। এভাবেই পার্থক্য করা সম্ভব কোরানে ব্যবহৃত ‘মুসলিম’ শব্দ, যেটা as a generic name, অর্থাৎ যারা ‘আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল’, তাদের সাথে, যারা ‘মুসলিম’, যেটা as a proper noun, অর্থাৎ যারা মুহাম্মদের অনুগামী, যে ধর্ম ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে চলে আসছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে,  তাহলে কি কাউকে ‘মুসলিম’ (generic name) হবার জন্য ‘মুসলিম’ (proper noun) হতে হবে? একজন ইহুদী, যে মুহম্মদকে একজন নবী বলে এবং কোরানকে আল্লাহর বানী বলে তার কি ইসলামে convert হওয়ার প্রয়োজন আছে? কোরানের আলোকে এর উত্তরটি খুবই চমকপ্রদ এবং সেটা হচ্ছে ‘না’।

কোরান অনুযায়ী মুহম্মদের পূর্বের সকল নবীই ‘মুসলিম’ এবং তারা, যারা সেইসব নবীদের বিশ্বাস করেছেন এবং অনুগামী হয়েছেন। বরঞ্চ ইহুদীরা কোরানে বিশেষভাবে সম্মানিত হয়েছে এইভাবে—

"O children of Israel, remember my favor which I bestowed upon you, and that I favored you above all creation." (Qur'an 2:47, 2:122).

কোরানে ইহুদীদের এই বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্তির ব্যাপারে এবং তাদের সাথে অঙ্গীকারের ব্যাপারে আরো বলা হয়েছে,

O children of Israel, indeed we delivered you from your enemy and made a covenant with you on the right side of the mountain, and we sent down for you manna and quails. (20:80)

Indeed we gave the children of Israel the Book, and wisdom, and the prophecy, and we provided them with good things and favored them above all creation. (45:16)

We made a covenant with the children of Israel: "Serve none except God. Be good to parents, relatives, orphans, and the poor. Speak kindly to people. Establish prayer and give alms." Afterward, you turned away, except a few of you, and you were averse. (2:83)

কোরান এখানে ইহুদীদের বিশেষ সম্মান এবং অঙ্গীকারের কথা বলেছে, ইহুদীদেরকে সমালোচনামূলক  কথা কোন জায়গায় আছে? শেষ আয়াতের (2:83) শেষের দিকে বলা হয়েছে, ‘Afterward, you turned away, except a few of you, and you were averse.’—সেটা হচ্ছে এই বিশেষ সম্মান এবং অঙ্গীকার দেওয়া সত্বেও যারা সেটাকে ভঙ্গ করে তাদের ব্যাপারে। এই প্রসঙ্গে সুরা বাকারাতে আরো আছে—

Moses came to you with clear proofs, yet you took the calf [for worship] in his absence, and you turned wicked. (Qur’an 2:92)

We made a covenant with you, that you not shed each others’ blood, nor evict each other from your homes. You agreed and bore witness. Yet it is you who are killing each other and evicting a group among you from their homes, supporting each other against them unlawfully and aggressively; and if they should come to you as captives you would ransom them—while evicting them was unlawful for you. Do you then believe in a part of the Book and disbelieve in the other? (Qur’an 2:84-85)

You have known those among you who violated the Sabbath, so we said to them: “Be despicable ape.” (Qur’an 2:65)

দেখুন, শেষ আয়াতটিতে কিন্তু বলা হয়েছে, যারা ‘সাব্বাথ’ ভঙ্গ করে তারা ‘despicable ape’, অর্থাৎ এটা কিন্তু ইহুদীদেরকে বলে নি, বলা হয়েছে তাদেরকে,  যারা তাদের ধর্মীয় আচরন পালন করেনি (সাব্বাথ- ইহুদীদের একটি ধর্মীয় আচরণ)।

কোরানের আরেক জায়গায় কিন্তু ‘Apes and swine’ কথাটা এসেছে, কিন্তু সেটা ইহুদীদের সাথে সম্পর্কযুক্ত  নয়-

Shall I inform you of something worse in the sight of God: those whom God has cursed and with whom he is angry, and he has made some of them apes and swine and servants of evil. These are in a worse position and more astray from the even path. (5:60)

এই আয়াতটা কিন্তু সামগ্রিকভাবে সবার জন্যই বলা হয়েছে, কিন্তু অনেকে বলে থাকেন এখানে ইহুদীদেরকে নিয়ে বলা হয়েছে।  এর আগের দুটো আয়াত লক্ষ্য করুন,

O you who believe, do not befriend those who make a mockery of your religion from among those who were given the Book before you or the disbelievers. Reverence God, if you are truly believers. When you call to prayer they make a mockery and a game of it. This is because they are a people who do not understand. (5:57-58)

লক্ষ্য করুন, বলা হয়েছে, যারা আহলে কিতাবধারী (ইহুদী এবং খ্রিস্টান), এবং যারা অবিশ্বাসী, তারা যদি মুহম্মদের ধর্ম (যা islam, as a generic name) নিয়ে mockery (উপহাস) করে, তাহলে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। এই আয়াতে আহলে কিতাবধারী হিসেবে ইহুদীদেরও বোঝানো হয়েছে, কিন্তু কোনোমতেই 5:60- এ ইহুদীদের উদ্দেশ্য করা বলা হয় নি। আমি আগেই বলেছি, কোরানে ইহুদীদের নিয়ে আয়াতগুলোতে তাদের কি কি নামে সম্বোধন করা হয়েছে। তাই 5:60 আয়াতে উল্লিখিত apes and swine  অবশ্যই ইহুদীদেরকে নিয়ে নয়, বরং যাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ নাযিল হয়েছে, তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা (আর যারা আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল নয়, তাদের প্রতিই অভিশাপ নাজিল হয়েছে)। এখানে অবশ্যই বলার অপেক্ষা রাখেনা, শুধুমাত্র ‘মুসলিম’ রাই (proper noun) আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল নয়, বরং প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ইহুদী এবং খ্রিস্টানরাও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল।  এরূপ প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের, যারা আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল, তাদের উদ্দেশ্যে কোরানে আছে–

They are not all alike; among the people of the Book there is an upstanding community. They recite God's revelations through the night, and they fall prostrate. They believe in God and the last day. They advocate good and forbid evil, and they hasten to do good works. These are among the righteous. Whatever good they do will not be denied. God knows those who are reverent. (Qur'an 3:113-115)

Surely those who believe, those who are Jews, the Sabians, and the Christians, whoever believes in God and the last day and does good, has nothing to fear nor will they grieve. (Qur'an 5:69)

অর্থাৎ, তারাও ভালো কাজের ফলাফল পাবে (যদিও তারা ‘মুসলিম’- as proper noun, নয়)।

এমনকি কোরানে ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোরান অবিকৃত তৌরাতের (লক্ষ্য করুন, বিকৃত তৌরাত নয় কিন্তু) সম্পূরক। বরঞ্চ কোরানে ইহুদীদেরকে ক্রিটিসাইজ করে একটা আয়াত আছে, এটা নাযিল হয়েছিলো, যখন মদীনার ইহুদীরা তৌরাত থাকা সত্বেও মুহাম্মদের কাছে বিচারের জন্য আসে-

How do they make you a judge while they have the Torah in which is God’s law? Then they turn back after that—these are not believers. (Qur’an 5:43)

লক্ষ্য করুন, এখানে কিন্তু তৌরাতের গুরুত্বই বর্ননা করা হয়েছে। এর পরের আয়াতেই আরো পরিস্কার ভাবে বলা হয়েছে—

We sent down the Torah, in which there is guidance and light, by which the prophets who submitted judged the Jews, as did the rabbis and the priests, according to what they were required to observe of God’s Book, and thereunto were they witnesses. So do not fear people, but fear me, and do not sell my signs for minor gain. Whoever does not judge by what God has sent down are disbelievers. (5:44)

এই সমস্ত আয়াত দ্বারাই বোঝা যাচ্ছে, যারা প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ইহুদী এবং খ্রিস্টান, তাদের সম্পর্কে কোরানে কোনোরূপ সমালোচনামূলক কোনো কথা বলা হয়নি। কোনো আয়াতে ইহুদী বা খ্রিস্টানদের ঘৃনা করতেও বলা হয় নি।

অনেকে কোরানের কিছু আয়াতের কথা বলে, সেখানে হয় তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আগের আয়াত বা পরের আয়াত বাদ দেয়, নতুবা তরজমার সময় কোনো শব্দ উহ্য রাখে। আরবি এমন একটি ভাষা যে ভাষায় একই শব্দের উচ্চারনের তারতম্যের জন্য পুরো বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে, এমনকি অনেক শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থবোধক একাধিক অর্থ হয়। কোরান তরজমা করার সময় অনেকেই এই ভাষাগত সুযোগ গ্রহন করে বিভ্রান্তির চেষ্টা করে, যা কোনোভাবেই উচিত নয়।

কোরানে যদি ইহুদী বা খ্রীস্টানদের নিয়ে বলা হতো যে, তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখো না, {অনেকেই নিচের আয়াতগুলোর উদাহরণ দেন—

O you who believe, do not take certain Jews and Christians as allies; these are allies of one another. Those among you who ally themselves with these belong with them. GOD does not guide the transgressors. (5:51)— এক্ষেত্রে তরজমাতে certain- শব্দটি কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে উহ্য রাখেন।

You would see many of them allying themselves with those who disbelieve. Miserable indeed is what their hands have sent forth on behalf of their souls. GOD is angry with them and, consequently, they will abide forever in retribution.(5:80) — এখানে who disbelieve- বলতে প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ইহুদী এবং খ্রীস্টানদের বলা হয় নি, সেটা আমি আগেই ব্যাখ্যা করেছি ।}

তাহলে আল্লাহ কোরানে বলতেন না-

 "And (Lawful in marriage are) chaste women from among the believers and chaste women from among those who were given the Scripture before you" [Holy Quran: Surah Al-Maidah 5:5]

এখানে কিন্তু those who were given the Scripture before you- বলতে ইহুদী এবং খ্রীস্টাদেরকেই বোঝানো হয়েছে। আমি যদি তাদের সাথে বন্ধুত্বই না রাখতে পারি, তাহলে তাদেরকে বিয়ে করার অনুমতি দিলো কেনো কোরানে?

অনেকে বলে থাকেন, কোরানে বাবা বা মা অবিশ্বাসী হলে (লক্ষ্য করুন, বলছে না যে, বাবা  বা মা যদি প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ইহুদী এবং খ্রীস্টান হয়) বিশ্বাসী সন্তানকে বলা হয়েছে না কি তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করার জন্য। উদাহরণ দেওয়া হয় নিচের আয়াতটির—

O you who believe, do not ally yourselves even with your parents and your siblings, if they prefer disbelieving over believing. Those among you who ally themselves with them are transgressing. (9:23)

তারা কিন্তু এর পরের আয়াতটি কখনো উল্লেখ করবে না, যেটা হলো—

If your parents, your children, your siblings, your spouses, your family, the money you have earned, a business you worry about, and the homes you cherish are more beloved to you than GOD and His messenger, and the striving in His cause, then just wait until GOD brings His judgment." GOD does not guide the wicked people. (9:24)

 এ প্রসঙ্গে কোরানে আরো আছে—

We enjoined man to show kindness to his parents, for with much pain his mother bears him, and he is not weaned before he is two years of age. We said: ‘Give thanks to Me and to your parents. To me shall all things return. But if they press you to serve besides Me deities you know nothing of, do not obey them. Be kind to them in this world, and follow the path of those who turn to Me. To Me you shall return, and I will declare to you all that you have done.’( S. 31:14-15; cf. 29:8)

এই আয়াতগুলোর ব্যবহার তারা কখনো করতে চায় না, কেনো?

ইসলাম কখনোই ধর্মান্ধতা বা অসহনশীলতাকে প্রশ্রয় দেয় না। এ ব্যাপারেও কোরানে বলা হয়েছে–

We have sent down the Book to you in truth, verifying what is before it of the Book and a standard of comparison for it; therefore judge between them by what God has sent down, and do not follow their low desires, turning away the truth that has come to you; for each of you we have ordained a law and a way of doing things. If God wished, He would have made you a single community, but he tests you according to what he has given you, so compete with each other in doing good. Your return is to God, and then He will let you know about that in which you differed. (Qur'an 5:48)

তাই পরিশেষে আমি বলতে চাই, আমার এই স্বল্প বিদ্যায় আমি কোরানের কোথাও দেখেনি – কোরান প্রকৃত ধর্মপ্রাণ ইহুদীদেরকে ঘৃনা করতে শেখায় বা ইহুদীদেরকে  apes and swine  বলেছে। বরং কোরানে ইহুদীদের সম্পর্কে আমরা ভালো কথাই দেখতে পাই, যেমন দেখতে পাই প্রকৃত ধর্মপ্রাণ খ্রীস্টানদের নিয়েও, (কোরানে ঈসার মা বিবি মরিয়মকে নিয়েও একটি সুরা আছে)।

৯ comments

Skip to comment form

  1. 7
    Anonymous

    ভাই, ইহুদী ও খ্রীস্টানদের বিয়ে করা নিয়ে জানতে চাচ্ছিলাম……করা যায় কি না, এ বিষয়ে কোরআনে কি বলা আছে?

     

     

     

     

     

     

  2. 6
    নিউটন গোপ

     

  3. 5
    আল মামুন

    সদালাপ 

    অনুচ্ছেদ টি পাঠ করে খুব ভাল লাগল । তবে লেখকের প্রতি আমার সবিশেষ জোড়ালো আবেদন : আমরা সাধারণত:বাংলা ভাষা সহজে বুঝতে পারি । তাই যদি কোরআনের আয়াত গুলি আরবি হরফে তুলতেন এবং আয়াত গুলির অর্থ প্রথমে বাংলায় ও পরে ইংরেজিতে অনুবাদ করতেন . তবে আরো ও গ্রহণ যোগ্য হত । তাই আমাদের জন্য উপরোক্ত পাঠ টি দয়া করে ঐ ভাবে সাজিয়ে লিখে দিলে বাধিত হব ॥

  4. 4
    masum

    @এস. এম. রায়হান
    খ্রীষ্টান, বর্ণহিন্দু, ও মুসলিম নামধারীনাস্তিকরাই ইহুদীদের পক্ষ হয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বেশি প্রপাগাণ্ডা ছড়ায়।
    *ভাই কিছু মুসলিম আলেম আছে যারা ইহুদিদের খুব খারাপ বলে (প্রমাণ চাইলে দিতে পারি). আমি মনে করি বংশগত ভাবে কেউ অপরাধি হয় না আল্লাহ তায়ালা কোথাও এমন কথা বলেননি।

    1. 4.1
      নির্ভীক আস্তিক

      কিছু আলেম আছেন যারা ইহুদিদেরকে খারাপ বলেন

      হুম আছেন, কিন্তু সেটা অন্যায় এবং ভুল । Genaralized  করে চিন্তা করেন এরকম মানুষের অভাব নেই । ভাল এর ক্ষেত্রে Generalization করাতে আপত্তি নেই, কিন্তু খারাপ এর বেলায় এটা করা নিন্দনীয় এবং আমাদের সাবধান থাকা উচিৎ । যেমন- বাংলাদেশিরা দেশ প্রেমিক-- সত্য !  কিন্তু তাই বলে সব বাংলাদেশি দেশ প্রেমিক নয় এরপরেও এ প্রশংসা আমরা দাবি করতে পারি কারন আমাদের সে ইতিহাস আছে । মুসলমানরা ধর্মপ্রাণ, সাহসী, আমানতদার, এবং সভ্যতার দিক থেকে শালিন- কিন্তু তাই বলে সব মুসলিম নয়, এরপরেও আমরা এই দাবি করতে পারি কারন আমাদের এমন ইতিহাস আছে । ইহুদীরা জ্ঞানি ও বুদ্ধিমান -- সত্য, কারন তাদের সে ইতিহাস আছে। কিন্তু বাংলাদেশে যেমন রাজাকার আছে, মুসলমানদের মধ্যে তেমনি বাংলাভাই-রা আছে, ইহুদিদের মধ্যে তেমনি জায়নবাদি আছে । তাই সমালোচনা করার ক্ষেত্রে আমাদের সাবধান থাকা উচিৎ যেন তার পরিধি কেবল যারা অন্যায় করছে তাদের পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে ।

      তবে  ঠিক এর চাইতেও বেশি নাস্তিক আছেন যারা মুসলিম/ধার্মিক মানুষ দেখলেই মনে করেন এরা সব ছাগু, মাথায় বুদ্ধি সুদ্ধি কম, ধর্ম মানে তাই বিজ্ঞান জানেনা । ব্লগ জগতের নাস্তিক প্রগতিশিল শিক্ষিত ব্লগার দেরই এরকম অজস্র মন্তব্য আমি আপনাকে দেখাতে পারব । অবুঝ আর নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা বেশি তাই হিসেব হবে শিক্ষিত এর সাথে শিক্ষিত এর । আপাতত শিক্ষিত নাস্তিকদের অবস্থান-ই আমার কাছে নিন্দনীয় ।

  5. 3
  6. 2
    ফারুক

    সালামুন আলাইকুম। এনিয়ে লেখা নিচের পোস্টটি পড়ে দেখতে পারেন।
     
    Meaning of Jews in the Holy Quran:

  7. 1
    ইমরান হাসান

    ভালো লেগেছে নিয়াজ ভাই। এই যে ইহুদিরা এমন প্রোপ্যাগান্ডা ছড়াচ্ছে, এদের পিছনে আছে মূলত জায়নবাদি প্রোপ্যাগান্ডা। এদের অনেকেই অন্ধ মুসলিম বিদ্বেষী হয়ে গড়ে আর বেড়ে উঠে। আমি অনেক ইংলিশ সাইটে এদের কুৎসিত রূপ দেখেছি। আপনার লেখাটা এদের জন্য একটা ভালো জবাব হতে পারে তবে আপনার লেখাটাতে বিশ্লেষণটা একটু গাড় হলে ভালো লাগতো। লেখার জন্য 

    1. 1.1
      এস. এম. রায়হান

      ইহুদীদের চেয়ে কিছু জায়নবাদী খ্রীষ্টান, বর্ণহিন্দু, ও মুসলিম নামধারী নাস্তিকরাই ইহুদীদের পক্ষ হয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বেশি প্রপাগাণ্ডা ছড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.