«

»

Apr ২২

দেশের কথা ভাবুন

দেশটা যাচ্ছে কোন দিকে? মহাজোট সরকারের শেষ বছরে এসে দেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতিতে মহাজট লেগে যাচ্ছে- অবস্থাদৃষ্টে তাই-ই মনে হচ্ছে। বিরোধীদলের ক্রমাগত হরতালে দেশের অর্থনীতি এবং উন্নয়ন শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। কাগজে-কলমে দেশের প্রবৃদ্ধি যতই বাড়ছে বলে দেখানো হচ্ছে বা দেখা যাচ্ছে- আসল চেহারাটা কি, তা বোধ করি পজিশন অপজিশন কেউই ভাবেছে না। উভয়ের লক্ষ্য একটাই- যে কোন ভাবেই হোক ক্ষমতার মসনদে আরোহন করা। মহাজোট সরকারের সবচেয়ে বড় শরীক আওয়ামী লীগ আগামীতে আবারো ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করছে এবং করবে; সাদা চোখে এটাই সবাই দেখতে পায়। অপর দিকে বিরোধী ১৮ দলীয় জোটের বৃহৎ দল হিসেবে জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় এটাই স্বাভাবিক পন্থা। তবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অস্বাভাবিক যে বিষয়টি আপামর জনসাধারণ বুঝতে পারছে তা হলো- ক্ষমতায় টিকে থাকা বা ক্ষমতায় ফিরে আসার জন্য এ বৃহৎ দল দু’টি যা করছে, তাতে ক্ষতি হচ্ছে সামগ্রীক অর্থে দেশের এবং দেশের সাধারণ মানুষের। বিএনপিকে ভুলে গেলে চলবে না, তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন আওয়ামী লীগের দেশ অচল করার প্রক্রিয়ার পর একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে তাদের পথ চলতে হয়েছিল। একই ভাবে বিএনপির একই কার্যক্রম এবং তত্বাবধায়ক সরকারের পরে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগকে ভীষণ এক দূর্বল অর্থনীতি নিয়ে দেশ চালাতে হয়েছে। স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে এ দু’টি দল যখন যুথবদ্ধ আন্দোলন করেছিল জামায়াতকে সাথে নিয়ে সেই নব্বই দশকে; তারপর ক্ষমতায় এসে বিএনপিকেও মোকাবেলা করতে হয়েছিল দূর্বল অর্থনীতি।
 
সংবিধান থেকে তত্ত্বাাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দেয়ার পর সেই ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য বিএনপি মূলত আন্দোলন শুরু করে বর্তমান মহাজোট সরকারের বিরুদ্ধে। এর সাথে যোগ হয়েছে মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য বিচার কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে জামাতের আন্দোলন। এক পর্যায়ে মানবতা বিরোধী অপরাধের রায় ঘোষণা হলে জামায়াত মরিয়া হয়ে ওঠে বিচার প্রক্রিয়া বাতিল করার জন্য। প্রাকারান্তরে জামায়াতের প্রতিটি কর্মসূচীতে বিএনপি ও তার সহযাত্রীরা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে তা সমর্থন করে। ফলে হরতাল, ভাংচুরসহ শুরু হয় হত্যাকান্ড। উভয়পক্ষই এ সব কাজের জন্য একে অপরকে দায়ী করে চলেছে। মাঝখানে প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। প্রসঙ্গত বলতে হয়, চর দখল প্রক্রিয়ায় লাভবান কোন না কোন ভন্ডাামী, প্রাণ দেয় তাদের লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা অথবা সাধারণ মানুষ।
 
গণতন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা। বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশে যা কখনোই দৃশ্যমান হয়নি। বরং বলা যায়, আমাদের দেশের গণতন্ত্র হচ্ছে নির্বাচিত স্বৈরতান্ত্রিকতার এক জলন্ত প্রমান।প্রথমত ক্ষমতাশীন দল, সেটা যে দলই হোক- তাদের দলের ভেতরেই গণতন্ত্রের প্রকৃত চর্চা নেই। বৃহৎ দু’টি দলেই চলছে এক ব্যক্তির ক্ষমতার দাপট। এ কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবেন না যে, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি- কোন দলেই এমন কেউ নেই যে দলীয় প্রধানের মতের বাইরে কোন গঠনমূলক মত প্রদানে সাহসী। বিএনপির আত্মপ্রকাশ সেনানিবাসে, তবে শুরু থেকে আওয়ামী লীগ ছিল গণতান্ত্রিক দল,যে দলে নিয়মিত কাউন্সিল হতো এবং নেতা নির্বাচনও হতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। আওয়ামী লীগে এখন আর সেই দিন নেই; কাউন্সিল হলেও দলীয় দলীয় নেতা নির্বাচন করেই তাদের দায়িত্ব শেষ করে থাকে।পরে দলীয় প্রধান কেন্দ্রীয় কমিটি ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা তিনিই মনোনয়ন দিয়ে থাকেন। এমনকি এ বছর দেখা গেল দলের ঢাকা মহানগরে কারা নেতৃত্বে আসবে, তাও দলীয় প্রধানের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিএনপির অবস্থা আরো ভয়াবহ, সেখানে কেবল দলীয় কেন্দ্রীয় কমিটি নয়, অঙ্গসংগঠনের নেতা নির্বাচনও দলীয় প্রধানের ইচ্ছাধীন; তার দপ্তর থেকেই নেতা নির্বাচন করে নাম ঘোষণা করা হয়।এ দু’টি দলের কাছ থেকে দেশ পরিচালনায় আর যাই হোক গণতান্ত্রিক আচরণ আশা করা যায় না বলেই প্রতীয়মান হয়। মন্ত্রিপরিষদের কথা যদি বলি, গণতান্ত্রিক দেশে সরকার পরিচালিত হয় মন্ত্রিপরিষদ দ্বারা এবং সেই মন্ত্রিপরিষদ আবার নির্বাচিত সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। আমাদের দেশে তা হচ্ছে কেবল প্রধানমন্ত্রী দ্বারা। ছোট-খাট বিষয়েও এখানে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার আর বাংলাদেশের বর্তমান সংসদীয় সরকারের পার্থক্য থাকলো কোথায়? আমাদের দেশে সংসদে নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ কেবল আর্টিকেল ৭০ এর বাধ্যবাধকতায় সংসদে দাড়িয়ে সরকার প্রধানের প্রশংসা করা এবং কদাচিৎ নিজ এলাকার সমস্যার কথা বলা ছাড়া আর কিছু বলতে সক্ষম নন বলেই মনে হয়। এমনি অবস্থায় জনগণের কথা ভাববার সময় বা ফুসরৎ তাদের আছে বলে মনে হয় না। তাইতো, বৃহৎ দল দু’টি যখন ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত তখন দেশের কথা ভাববার মত কাউকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে উঠেছে। এ মুহূর্তে আমরা ভরসা করতে পারি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ব্যবসায়ীদের ওপর। তারাই কেবল উদ্যোগ নিতে পারেন, দেশে ব্যবসা করা মত সুন্দর পরিবেশ তৈরীতে উভয় পক্ষকে আহ্বান জানাতে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সংগঠন এফবিসিসিআই এবং গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যদি এ দল দু’টিকে বর্তমান অবস্থায় ব্যবসার চরম দুর্গতির কথা তাদের বোঝাতে সক্ষম হন কোনও ভাবে যে, এভাবে চললে আগামীতে ব্যবসায়ীরা সরকার পরিচালনার জন্য নিয়মিত কর প্রদানের সক্ষমতাও হারাবে। বিশেষত রফতানী নির্ভর ব্যবসাগুলো বাজার হারিয়ে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়বে যে, তাদের ব্যবসা পরিচালনার মত কোন অবস্থাই থাকবে না। বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে কোন আমদানীকারক দেশই আমাদের জন্য বসে থাকবে না। প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে হয়, হরতাল অবরোধে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয় রফতানী ব্যবসা।  দেশের ভেতরের কথাইবা বাদ দেই কি করে। কাচামালের ব্যবসাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় হরতাল-অবরোধে। দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে, যেটাই হোক না কেন লাগাতর হরতাল বা অবরোধে এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বাধা দেয়া হলে ব্যবসার ক্ষতিতো হবেই। স¤প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে দেখা গেছে, পরিবহন ব্যবস্থা অচল থাকার কারণে কৃষক  উৎপাদিত কাঁচা পণ্য সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারায় কি ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। একই সাথে ভোগ্যপণ্য ব্যবহারকারীগণ, বিশেষত শহরে বসবাসরত সাধারণ মানুষকে কতটা চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে এ কারণে।পাশাপাশি হরতাল-অবরোধের কারণে নিয়ত ধ্বংসের মুখোমুখি হচ্ছে জান ও মাল। প্রতিটি হরতালে আমাদের চোখের সামনে জ্বলে-পুড়ে ছাড়খার হচ্ছে কোটি কোটি টাকার যানবাহন।  এগুলো ক্ষতিপূরণ হবে কি করে? যারা এর মালিক, যারা এগুলোর উপর জিবিকা নির্বাহ করে; তাদের অবস্থাইবা কি হবে?দেশের বড় দল দু’টো কি কখনো তা ভেবে দেখেছ বা দেখছে? কথায় কথায় আমাদের নেতারা বলে থাকেন, দলের চেয়ে দেশ বড়। একথা যদি তারা অন্তর দিয়ে বলে থাকেন, তাহলে দেশের সার্বিক ক্ষতি সাধন করে কোন্ গণতন্ত্র বাস্তবায়ন করতে চান, তা সাধারণ মানুষ বোঝে না, বুঝতে চায় না। জনগণ চায় শান্তি পূর্ণভাবে বাঁচতে, নিরাপদে পথে চলতে, স্বল্পমূল্যে দু’টো শাক-ভাত (ডাল এখন এতটা দামী যে ডাল-ভাত বলতে সাহস হয়না) খেয়ে বেঁচে থাকতে।
 
ইতোমধ্যে ব্যববসায়ীরা নড়েচড়ে বসেছেন। আমরা দাবী করছি ব্যবসায়ীরা দুই প্রধান দলের নেতৃবৃন্দকে এক টেবিলে এনে দেশকে সার্বিক ক্ষতির হাত থেকে উদ্ধারের জন্য প্রাণান্ত প্রচেষ্টা নেবেন।সপ্তাহজুড়ে হরতাল করে আর যাই হোক দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব নয়, রাজনৈতিক নেতারা না বুঝলেও ব্যবসায়ী নেতা তা বুঝতে সক্ষম হবেন, এটা আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা ইতোমথ্যে শিক্ষা-ব্যবসাসহ যতসব ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি, সেগুলো পুষিয়ে নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে যাতে টিকে থাকতে পারি,সেদিকে রাজনৈতিক নেতারাও মনযোগী হবেন এটাই কাম্য। নয়তো আগামীতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে দারুন এক ভয়াবহ সময়। দেশবাসী এমন সঙ্কট আর দেখতে চায় না।

১২ comments

Skip to comment form

  1. 7
    নুরুল্লাহ মাসুম

    আমার বলার কিছু নেই। সদালাপে মন্দালাপ করছেন কে বা কারা, তা দেখবেন মডারেটর বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটরগণ। আমি যা লিখেছি, বিশ্বাস এবং ভাবনা থেকেই লিখেছি। আলোচনা চলতে পারে। তবে ভাষার দিকটায় লক্ষ্য রাখা সকলের কর্তব্য। আমি সদালাপে যখন লেখা শুরু কনি, সে সময়ে এটা চালাতেন জিয়া ভাই, পরে আমান ভাই দাযীত্ব নেন। আশা করি সদালাপে অসদাচরণ হলে তিনি তা দেখবেন। আস্তিক বা নাস্তিক নিয়ে আমি কিছু বলিনি। আমি দেশের কথা, দেশের মঙ্গলের কথা বলেছি। দেশটাকে নিয়ে ভাবতে ক্ষমতাশীন ও বিরোধী দলকে সমস্য উত্তরণে আহ্বান জানিয়েছি। কে ক্ষমতায় থাকলো বা থাকলো না, তা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই……… আমি রাজনীইত করি না। সাধারণ মানুষ হিসেবে দেশে শান্তিতে বাস করার জন্য দারুন  দুশ্চিন্তায় আছি। জানি এধরণের লেখালেখি দিয়ে হয়ত কিছু হবে না, তবু বলার একটা জায়গা তো পেলাম……… যদি এতে কারো বোধদয় ঘটে……. এই আর কি। সবাই ভাল থাকুন।

  2. 6
    sami23

    রাজনৈতিক সংকট অস্থিরতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণ এবং সমাধান সহজসাধ্য বলে মনে হয় না।একদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের জোটের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় পুনর্প্রবর্তন অন্যদিকে সরকারে সমর্থিত ১৪  দলের জোটের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধী অনড় অবস্থান দেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কে অবনতির দিকে ধাবিত করতেছে।হরতাল এখন নিয়মিত ঘটনায়ে রূপ নিয়েছে।অন্যদিকে শাহবাগ কেন্দ্রিক প্রজন্ম এবং হেফাজত ইসলামের আন্দোলন  সংকটকে বহুমাত্রিক সমস্যার দিকে ধাবিত করেছে।দেশের সর্বত্র সংঘাত,হানাহানি,লাশ  এখন নিয়মিত সংবাদ।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে থেকে মুক্তিলাভের উপায় কি?একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে সংলাপের মাধ্যমে পথ তৈরি করা।এ জন্য সরকারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে অগ্রসর হতে হবে। বিকাশমান গণতন্ত্রের কাঠামোকে শক্তিশালী করণের জন্য সরকার এবং বিরোধী দলকে পরস্পরের প্রতি সহনশীল এবং জাতীয় স্বার্থে অপরের মতের প্রতি সম্মান দেখানটা জরুরী।তাহানা হলে অস্থিতিশীল ও শঙ্কায় ময় পরিস্থিতি বেরিয়ে আসাটা কষ্টকর।চলমান রাজনৈতিক সংকট দুর করতে হলে সরাসরি সংলাপের কোন বিকল্প নেই।তবে দল বা ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে প্রাধান্য দিয়ে সংলাপকে অগ্রসর হতে হবে।

  3. 5
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আমার ভুল হয়েছে, ক্ষমা চাই সকল সদালাপ ভাইদের কাছে আমার ভাষা সংযত না হওয়ার জন্য।

    রাজনীতিবিদ-দের অন্তরে বসবাস শয়তানগুলো-কে আমি দেখতে পাই। এইজন্য নিজের ধৈর্য প্রায়ই হারিয়ে ফেলি।

    আমরা কেউ নিজের সুরক্ষা অবস্থান ত্যাগ করতে চাই না। আর এটা ত্যাগ না করলে, সাধারণ মানুষের চরম বাস্তবতার জ্ঞান জানা যাবে না।

    আবারও সকল ভাইদের কাছে ক্ষমা চাই আমার মন্দ ভাষার জন্য।

    1. 5.1
      এস. এম. রায়হান

      মানুষ ভুল করতেই পারে, আর নিজের ভুল বুঝতে পেরে তার জন্য ক্ষমা চাওয়া একটি মহৎ গুণ। তবে একই ভুলের যেনো পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

      1. 5.1.1
        জান্নাতুন নাঈম

        সূরা আয্ যুমার এর কিছু আয়াতঃ
         
        ﴿إِن تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنكُمْ ۖ وَلَا يَرْضَىٰ لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ ۖ وَإِن تَشْكُرُوا يَرْضَهُ لَكُمْ ۗ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ ۗ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّكُم مَّرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ﴾
        ৭) যদি তোমরা কুফরী করো তাহলে আল্লাহ তোমাদের মুখাপেক্ষী নন৷কিন্তু তিনি তাঁর বান্দার জন্য কুফরী আচরণ পছন্দ করেন না৷আর যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো তাহলে তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করেন৷আর কেউ-ই অপর কারো গোনাহের বোঝা বহন করবে না৷অবশেষে তোমাদের সবাইকে তোমাদের রবের কাছে ফিরি যেতে হবে৷ তখন তিনি জানাবেন তোমরা কি করছিলে৷ তিনি মনের খবর পর্যন্ত জানেন৷
        .
        ﴿وَإِذَا مَسَّ الْإِنسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّهُ مُنِيبًا إِلَيْهِ ثُمَّ إِذَا خَوَّلَهُ نِعْمَةً مِّنْهُ نَسِيَ مَا كَانَ يَدْعُو إِلَيْهِ مِن قَبْلُ وَجَعَلَ لِلَّهِ أَندَادًا لِّيُضِلَّ عَن سَبِيلِهِ ۚ قُلْ تَمَتَّعْ بِكُفْرِكَ قَلِيلًا ۖ إِنَّكَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ﴾
        ৮) মানুষের ওপর যখন কোন বিপদ আসে,তখন সে তার রবের দিকে ফিরে যায় এবং তাঁকে ডাকে৷কিন্তু যখন তার রব তাকে নিয়ামত দান করেন তখন সে ইতিপূর্বে যে বিপদে পড়ে তাঁকে ডাকছিলো তা ভুলে যায় এবং অন্যদেরকে আল্লাহর সমক্ষ মনে করতে থাকে যাতে তারা আল্লাহর পথ থেকে তাকে গোমরাহ করে।(হে নবী,) তাকে বলো, তোমার কুফরী দ্বারা অল্প কিছুদিন মজা করে নাও৷ নিশ্চিতভাবেই তুমি দোযখে যাবে৷
        ..
        ﴿قُلْ يَا عِبَادِ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا رَبَّكُمْ ۚ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ ۗ وَأَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةٌ ۗ إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ﴾
        ১০) [হে নবী, (সা)] বলো, হে আমার সেসব বান্দা যারা ঈমান গ্রহণ করেছো তোমাদের রবকে ভয় করো৷
        ﴿وَأُمِرْتُ لِأَنْ أَكُونَ أَوَّلَ الْمُسْلِمِينَ﴾
        ১২) আমাকে এ আদেশও দেয়া হয়েছে যেন আমি সবার আগে মুসলমান হই৷
        ﴿قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ﴾
        ১৩) বলো, আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই তাহলে আমার একটি ভয়ানক দিনের ভয় আছে৷
        .
        ﴿قُلِ اللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًا لَّهُ دِينِي﴾
        ১৪) বলে দাও, আমি আনুগত্যসহ একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর দাসত্ব করবো৷
        .
        ﴿فَاعْبُدُوا مَا شِئْتُم مِّن دُونِهِ ۗ قُلْ إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ أَلَا ذَٰلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ﴾
        ১৫) তোমরা তাঁর ছাড়া আর যাদের ইচ্ছা দাসত্ব করতে থাকো৷ বলো, প্রকৃত দেউলিয়া তারাই যারা কিয়ামতের দিন নিজেকে এবং নিজের পরিবার-পরিজনকে ক্ষতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে৷ ভাল করে শুনে নাও, এটিই হচ্ছে স্পষ্ট দেউলিয়াপনা৷
        ﴿لَهُم مِّن فَوْقِهِمْ ظُلَلٌ مِّنَ النَّارِ وَمِن تَحْتِهِمْ ظُلَلٌ ۚ ذَٰلِكَ يُخَوِّفُ اللَّهُ بِهِ عِبَادَهُ ۚ يَا عِبَادِ فَاتَّقُونِ﴾
        ১৬) তাদেরকে মাথার ওপর থেকে এবং নীচে থেকে আগুনের স্তর আচ্ছাদিত করে রাখবে৷ এ পরিণাম সম্পর্কেই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ভীতি প্রদর্শন করেন, হে আমার বান্দারা, আমার গযব থেকে নিজেদের রক্ষা করো
        .
        ﴿وَالَّذِينَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوتَ أَن يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوا إِلَى اللَّهِ لَهُمُ الْبُشْرَىٰ ۚ فَبَشِّرْ عِبَادِ﴾
        ১৭) কিন্তু যেসব লোক তাগুতের দাসত্ব বর্জন করেছে এবং আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছে তাদের জন্য সু-সুংবাদ৷ [হে নবী (সা)] আমার সেসব বান্দাদের সুসংবাদ দিয়ে দাও৷
        ﴿الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ ۚ أُولَٰئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمْ أُولُو الْأَلْبَابِ﴾
        ১৮) যারা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনে এবং তার ভাল দিকটি অনুসরণ করে৷ এরাই সেসব মানুষ যাদের আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন এবং এরাই বুদ্ধিমান৷
        ﴿أَفَمَنْ حَقَّ عَلَيْهِ كَلِمَةُ الْعَذَابِ أَفَأَنتَ تُنقِذُ مَن فِي النَّارِ﴾
        ﴿أَفَمَن شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ فَهُوَ عَلَىٰ نُورٍ مِّن رَّبِّهِ ۚ فَوَيْلٌ لِّلْقَاسِيَةِ قُلُوبُهُم مِّن ذِكْرِ اللَّهِ ۚ أُولَٰئِكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ﴾
        ২২) আল্লাহ তা’আলা যে ব্যক্তির বক্ষ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং যে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত আলোতে চলছে সেকি (সে ব্যক্তির মত হতে পারে যে এসব কথা থেকে কোন শিক্ষাই গ্রহণ করেনি?) ধ্বংস সে লোকদের জন্য যাদের অন্তর আল্লাহর উপদেশ বাণীতে আরো বেশী কঠোর হয়ে গিয়েছে৷ সে সুস্পষ্ট গোমরাহীর মধ্যে ডুবে আছে৷
         
        ﴿كَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَأَتَاهُمُ الْعَذَابُ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُونَ﴾
        ২৫) এদের পূর্বেও বহু লোক এভাবেই অস্বীকার করেছে৷ শেষ পর্যন্ত এমন এক দিন থেকে তাদের ওপর আযাব আপতিত হয়েছে৷ যা তারা কল্পনাও করতে পারতো না৷
        .
        ﴿فَأَذَاقَهُمُ اللَّهُ الْخِزْيَ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ ۚ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ﴾
        ২৬) আল্লাহ দুনিয়ার জীবনেই তাদেরকে লাঞ্ছনার শিকার করেছেন আখেরাতের আযাব তো তার চেয়েও অধিক কঠোর৷ হায়! তারা যদি তা জানতো৷
        .
        ﴿فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَذَبَ عَلَى اللَّهِ وَكَذَّبَ بِالصِّدْقِ إِذْ جَاءَهُ ۚ أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِّلْكَافِرِينَ﴾
        ৩২) সে ব্যক্তির চাইতে বড় জালেম আর কে যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছে এবং তার সামনে যখন সত্য এসেছে তখন তা অস্বীকার করেছে? এসব কাফেরের জন্য কি জাহান্নামে কোন জায়গা নেই?
        .
        ﴿وَالَّذِي جَاءَ بِالصِّدْقِ وَصَدَّقَ بِهِ ۙ أُولَٰئِكَ هُمُ الْمُتَّقُونَ﴾
        ৩৩) আর যে ব্যক্তি সত্য নিয়ে এসেছে এবং যারা তাকে সত্য বলে মনে নিয়েছে তারাই আযাব থেকে রক্ষা পাব।  
        ﴿لَهُم مَّا يَشَاءُونَ عِندَ رَبِّهِمْ ۚ ذَٰلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ﴾
        ৩৪) তারা তাদের রবের কাছে যা চাইবে তা-ই পাবে৷এটা সৎকর্মশীলদের প্রতিদান৷
        ﴿أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَهُ ۖ وَيُخَوِّفُونَكَ بِالَّذِينَ مِن دُونِهِ ۚ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ﴾
        ৩৬) [হে নবী, (সা)] আল্লাহ নিজে কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? এসব লোক তাকে বাদ দিয়ে তোমাদেরকে অন্যদের ভয় দেখায়। অথচ আল্লাহ যাকে গোমরাহীতে নিক্ষেপ করেন তাকে কেউ পথপ্রদর্শন করতে পারে না,
        .
        ﴿إِنَّا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ لِلنَّاسِ بِالْحَقِّ ۖ فَمَنِ اهْتَدَىٰ فَلِنَفْسِهِ ۖ وَمَن ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا ۖ وَمَا أَنتَ عَلَيْهِم بِوَكِيلٍ﴾
        ৪১) [হে নবী (সা)] আমি সব মানুষের জন্য এ সত্য (বিধান সহ) কিতাব নাযিল করছি৷ সুতরাং যে সোজা পথ অনুসরণ করবে সে নিজের জন্যই করবে৷ আর যে পথভ্রষ্ট হবে তার পথভ্রষ্টতার প্রতিফলও তাকেই ভোগ করতে হবে৷ তার জন্য তুমি দায়ী হবে না৷
        ﴿اللَّهُ يَتَوَفَّى الْأَنفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا ۖ فَيُمْسِكُ الَّتِي قَضَىٰ عَلَيْهَا الْمَوْتَ وَيُرْسِلُ الْأُخْرَىٰ إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ﴾
        .
        ﴿فَإِذَا مَسَّ الْإِنسَانَ ضُرٌّ دَعَانَا ثُمَّ إِذَا خَوَّلْنَاهُ نِعْمَةً مِّنَّا قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَىٰ عِلْمٍ ۚ بَلْ هِيَ فِتْنَةٌ وَلَٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ﴾
        ৪৯) এ মানুষকেই যখন সামান্য মসিবতে পেয়ে বসে তখন সে আমাকে ডাকে৷ কিন্তু আমি যখন নিজের পক্ষ থেকে নিয়ামত দিয়ে তাকে সমৃদ্ধ করি তখন সে বলে ওঠেঃ এসব তো আমি আমার জ্ঞান-বুদ্ধির জোরে লাভ করেছি৷ না, এটা বরং পরীক্ষা৷ কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না৷
         ﴿قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ﴾
        ৫৩) (হে নবী,) বলে দাও, হে আমার বান্দারা যারা নিজের আত্মার ওপর জুলুম করেছো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না৷ নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করে দেন৷ তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু৷
        ﴿وَأَنِيبُوا إِلَىٰ رَبِّكُمْ وَأَسْلِمُوا لَهُ مِن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ﴾
        ৫৪) ফিরে এসো তোমারে রবের দিকে এবং তাঁর অনুগত হয়ে যাও তোমাদের ওপর আযাব আসার পূর্বেই৷ তখন কোন দিক থেকেই আর সাহায্য পাওয়া যাবে না৷
        .
        ﴿وَاتَّبِعُوا أَحْسَنَ مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَأَنتُمْ لَا تَشْعُرُونَ﴾
        ৫৫) আর অনুসরণ করো তোমাদের রবের প্রেরিত কিতাবের সর্বোত্তম দিকগুলোর-  তোমাদের ওপর আকস্মিকভাবে আযাব আসার পূর্বেই- যে আযাব সম্পর্কে তোমরা অনবহিত থাকবে৷
        .
        ﴿أَن تَقُولَ نَفْسٌ يَا حَسْرَتَا عَلَىٰ مَا فَرَّطتُ فِي جَنبِ اللَّهِ وَإِن كُنتُ لَمِنَ السَّاخِرِينَ﴾
        ৫৬) এমন যেন না হয় যে, পরে কেউ বলবেঃ “আমি আল্লাহর ব্যাপারে যে অপরাধ করেছি সে জন্য আফসোস৷ বরং আমি তো বিদ্রূপকারীদের মধ্যে শামিল ছিলাম৷”
        .
        ﴿أَوْ تَقُولَ لَوْ أَنَّ اللَّهَ هَدَانِي لَكُنتُ مِنَ الْمُتَّقِينَ﴾
        ৫৭) অথবা বলবেঃ “কতই না ভাল হতো যদি আল্লাহ আমাকে হিদায়াত দান করতেন৷ তাহলে আমিও মুত্তাকীদের অন্তরভুক্ত থাকতাম৷”
        ( আল্লাহ্‌ আমাদের প্রত্যেককেই মুত্তাকীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন, আমীন!)

  4. 4
    শাহবাজ নজরুল

    মাসুম ভাই, বেশ ভালো লিখেছেন। এই লেখাতে আছে দেশের অধিকাংশ মানুষের মনের আকাঙ্খার প্রতিফলন। মনে হয়না আপনার মতামতের সাথে কোনো সেন্সিবল লোক দ্বিমত পোষণ করবেন। কিন্তু তারপরেও সাধারণ লোকের কথা শোনে কে? একই চক্রে দেশ চলছে গত ২২ বছর। বিরোধী দলে থাকলেই সংসদ বর্জন, হরতাল, জ্বালাও পোড়াও। আর সকারী দলে থাকলে দলীয়করন, নিপীড়ন এর যেকোনো মূল্যে ক্ষমতা আকড়ে থাকা। দেশের কথা ভাবতে বলেছেন? কে ভাবে দেশের কথা!!! সবাই আছে নিজের তালে -- নিজের আখের গোছাতে। জানিনা এই সমস্যার শেষ কোথায়। আল্লাহর সহায়তা চাচ্ছি -- উনি যাতে আমাদের এই সমস্যা থেকে উত্তরণ করেন।

  5. 3
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    @তাজুল ইসলাম
    ভাষা ব্যবহারের সংযত হওয়ার অনুরোধ করছি। নেতা কখনই নেতা হয় না যতক্ষন জনগন তাদের নেতা মানে -- স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে ৯ বছরের সংগ্রাম করে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর  জনগন ভোট দিয়ে এই দুইনেত্রীকে নেতা বানিয়েছে -- তাদের বিষয়ে অশোভন শব্দ ব্যবহার সুরুচির পরিচায়ক নয়।
     
    আশা করি সদালাপের সম্পাদক মহোদয় বিষয়টির দিকে দৃষ্টি দেবেন।
    ধন্যবাদ।  

  6. 2
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    আপনি ভাবছেন তো?আপনি ভাবা শুরু করলে আমিও বিস্‌মিল্লাহ্‌ বলে ভাবা শুরু করতে পারি।cheeky

  7. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ক্ষমতার নেশার ভিতরে যে একবার ‘প্রভুত্ব’ মজা পাইছে, এর কাছ থেকে স্বয়ং ইবলিসও লজ্জায় পালায়। ওই ২ বেটি ও তাদের চেলাদের কাছে ১৬ কোটি মানুষের জীবনের মূল্য নেই। রাজনীতিবিদ-দের কাছ থেকে পজিটিভ কিছু আশা না করে, আপনি বরং মুক্ত-মনার নাস্তিক-দের ধার্মিক বানানোর চেষ্টা করে দেখতে পারেন, হইত কিছু পেলে পেতেও পারেন।

    1. 1.1
      জান্নাতুন নাঈম

      ভাই, মাফ করবেন। ''সদালাপ'' এ এসে যদি দেখি মন্দ আলাপের ঘনঘটা…    সদালাপে আসার সদিচ্ছা কি বাড়বে না কমবে?
      আমরা যতই বলি, রাজনীতিবিদদের খারাপ দিকগুলুর কথা- এর দায়বদ্ধতা দেশের সব ভোটারের উপরও পড়ে। নির্বাচন যদি সুস্ঠ না হয় তাহলেও ষড়যন্ত্রকারীদের একটা বড় অংশ সংবিধান অনুযায়ী এদেশের নাগরিক।
      আমরা খুব রাজনীতি সচেতন, কিন্তু প্রয়োজন অনুপাতে নয় এবং সঠিক সময়ে নয়। দুদিন পরে সব সচেতনতা বরফের মত গলে যায়!  দুদিন কেন আজই যদি এই দুজনের কেউ একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন, কয়জনে পারব তাদের সামনে হক কথা বলতে ? অথবা তাদের সাথে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করতে?
      তখন হয়ত অজুহাত দিব,'' দেখা করলে কি হবে! মনে মনে খুব বকেছি। কি পেয়েছে দেশটাকে, হ্যাঁ?''
      আর কাউকে আল্লাহ্‌ যদি উপর্যুপরি অপরাধের কারণে অন্তরে সিলগালা করে দেন, তাকে ধার্মিক বানানোর চেষ্টাটা পণ্ডশ্রম। বড়জোর সতর্ক করা যেতে পারে। আমরা এই চেষ্টাটা নিজেকে 'মুসলিম-পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণকারী' করার কাজে ব্যায় করতে পারি। হাতেগোনা কয়েকজন মুক্তমনাদের চিন্তার আগে একবার ভাবি আমরা মুসলিম হিসেবে কতটুকু মানসম্পন্ন? আমরা সত্যিকার অর্থে মুসলিম হলে ১ জন ৩৩ জনের উপরে বিজয়ী হতে পারতাম !! অথবা ২০ জন ২০০ জনের উপর বিজয়ী হতে পারতাম !!
      আমাদের শত্রু আমাদের মনে- শিরায় শিরায় প্রবাহিত শয়তান। জিহাদটা আগে নিজেকে দিয়ে শুরু করি এবং পাশের জনকে সাহায্য করি এব্যাপারে। নবী করিম (সঃ) বলেছেন, 'প্রত্যেক মুমিন একে অপরের আয়না'।কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। এটা বাস্তব সত্য যে, আমার ভুল আমার চোখে সবচেয়ে কম পড়বে। সদালাপের সবাই আমাকেও সাহায্য করবেন।
      আমরা এভাবে সফল হলে- রাজনীতিবিদের আসনে সংশোধনের জন্য ভবিষ্যতে আর মানুষ পাওয়া যাবেনা, ইনশাল্লাহ !!! কারণ, 'মুসলিম'দের শাসক 'মুহসিন -আল্লাহ্‌র প্রিয় বান্দাহ' হওয়াটাই স্বাভাবিক। আল্লাহ্‌ আমাদের মজবুত ঈমান এবং মুহসিন শাসক দিন, আমীন।
       

      1. 1.1.1
        শাহবাজ নজরুল

        থাম্বস আপ। আজকাল কার সমস্যা হচ্ছে কেউ মন দিয়ে অন্য লোকের কথা শুনতে চাননা -- সবাই যা মনে আসে তাই বলে ফেলেন। এভাবে তির্যক ভাষা ব্যবহার করলে তা আমাদেরকে পরস্পরের থেকে আরো দুরে ঠেলে দেবে।

        আমাদের শত্রু আমাদের মনে- শিরায় শিরায় প্রবাহিত শয়তান। জিহাদটা আগে নিজেকে দিয়ে শুরু করি এবং পাশের জনকে সাহায্য করি এব্যাপারে।

        একেবারে মনের কথা বলেছেন। এই ফোরামে আশা করি সবাই ভালো শব্দ ও ম্যানার ব্যবহার করে কথা বলবেন। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।

    2. 1.2
      এস. এম. রায়হান

      ওই ২ বেটি ও তাদের চেলাদের কাছে ১৬ কোটি মানুষের জীবনের মূল্য নেই।

      nonono

Leave a Reply

Your email address will not be published.