«

»

Dec ০২

বাংলাদেশের রাজধানী হবে কোন্ ঢাকা?

গত সপ্তাহে ঢাকা মহানগরী দু’ভাগ করা হলো। গঠিত হলো ঢাকা উত্তর এবং ঢাকা দক্ষিন। বলা হয়েছে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দু’ভাগ করা হয়েছে- আমরা জানি না, মহানগরী এলাকার মূল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াসা, ডিপিডিসি, ডেসকো প্রভৃতি সংস্থাগুলোও দ্বিখন্ডিত হবে কিনা? ঢাকা মহানগর পুলিশ বা ডিএমপিও দ্বিখন্ডিত হবে কি না, তাও আমরা জানি না। অবশ্য কোন কালেই এসব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বা নিয়ন্ত্রণে ছিলনা। সাবেক মেয়র মরহুম মোহাম্মদ হানিফ অবশ্য চেষ্টা করেছিলেন মেট্রোপলিটন সরকার গঠনের- তারই দল আওয়ামী লীগ সে উদ্যোগ সে সময়ে সমর্থন করেনি। তাহলে সিটি কর্পোরেশনের কাজটা মূলত ট্রেড লাইসেন্স দেয়া আর পরিচ্ছন্নতা অভিজানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। হয়তো ভবিষ্যতে বর্ণিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও দ্বিখন্ডিত হবে।
এবার প্রশ্ন উঠছে- অভিজ্ঞমহল জানতে চাইছেন বা বিশ্ববাসী জানতে চাইবে- বাংলাদেশের রাজধানী হবে কোন ঢাকা? ঢাকা উত্তর না ঢাকা দক্ষিন? আমাদের জানামতে বিশ্বের কোন দেশের রাজধানী নগরে একাধিক সিটি কর্পোরেশন নেই। লন্ডন বা ওয়াশিংটন ডিসি বা নয়া দিল্লীতেও রয়েছে একটি মাত্র স্থানীয় সরকার- সেটা সিটি কর্পোরেশন বা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বা অন্য যে কোন নামে। ঢাকা নিশ্চয়ই লন্ডন বা ওয়াশিংটন ডিসি’র থেকে বড় নগরী নয়। তাহলে কেন ঐতিহ্যবাহী ঢাকা নগর, যেটি মোঘল আমলে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল- দু’ভাগ করতে হবে? সাদা চোখে মনে হচ্ছে- ক্ষমতাসীন দল নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য এ কাজটি করেছে। প্রধানমন্ত্রী এও বলেছেন, টাকা থাকলে ঢাকাকে চার ভাগে ভাগ করা হতো। আমাদের ভাগ্য ভাল, বেশী টাকা আমাদের সরকারের নেই, নইলে হয়তো ঢাকা নগরী আট বা ষোল ভাগে ভাগ হয়ে যেত!
প্রধানমন্ত্রী বলছেন, সরকারের টাকা নেই; এখন দু’টো ঢাকার জন্য দু’জন মেয়র ও সম্ভবত বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুন সংখ্যক কাউন্সিলর এর জন্য যে অতিরিক্ত টাকার দরকার হবে- তা আসবে কোত্থেকে? এখানে গৌরি সেনের ভ‚মিকায় কাকে দেখা যাবে?
বিদেশী কোন রাষ্ট্রীয় অথিতি বা বিশেষ কোন ব্যক্তিকে নগরের চাবি প্রদানের যে রেওয়াজ রয়েছে- সেক্ষেত্রে কোন নগরের চাবি আমরা দেব? হাস্যকর বিষয় বটে!
মোদ্দাকথা হচ্ছে- সরকার যে কারণেই ঢাকা সিটি কর্পোরেশন ভাগ করুক না কেন, সাধারণ মানুষ ভাবছে- এটা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে; দু’টো না হোক অন্তত একটির শীর্ষ পদে নিজেদের লোক বসানো সহজ হবে। তবে সার্বিকভাবে সরকারের ব্যয় বাড়বে এবং সে ব্যয়ের বোঝা আম-জনতার ঘারেই চাপবে নিঃসন্দেহে- যা সাধারণ মানুষ কখনোই চায় না।

৫ comments

Skip to comment form

  1. 5
    তামীম

    সহমত। রাজনৈতিক/দলীয় স্বার্থ-ই বাংলাদেশের যেকোন রাজনৈতিক দলের প্রধাণ বিবেচ্য। এই বিষয়টা আর একবার প্রমাণ হয়ে গেল।

  2. 4
    শামস

    হুম, সরকারের এত ভাববার সময় কই। কিছু লাভের জন্য ভাগ করার দরকার, তাই আগেভাগে ভাগের কাজটা করে ফেলছে। দেখা যাবে এখনকার বিরোধীদল ক্ষমতায় যেতে পারলে সেই লাভের কারণেই জোড়া লাগানো বাদ দিয়ে দিবে! রাজনীতিতে সবই সম্ভব

  3. 3
    বুড়ো শালিক

    আসলে সরকার সম্ভবত ঢাকা ভাগ বলতে ‘ঢাকায় দেয়া সার্ভিস ভাগ’ বুঝাতে চাইছে। তাও, ব্যাক্তিগতভাবে আমি এতে কোন লাভ দেখি না…

  4. 2
    এম ইউ আমান

    অনেকদিন পরে সদালাপে আপনার লেখা পড়লাম। একটা জিনিস বুঝতে পারছিনা, এ পর্যন্ত কাওকে ডিসিসি -এর এই বিভাজনকে সাপোর্ট করতে দেখলাম না। তাহলে সরকার কেন এটা করছে? বেশী মানুষ যদি সাপোর্ট না করে তাহলে তারা পরে ভোটে জেতবার আশা করছেই বা কেন? যদিও অনেকে বলছেন, এটা ঢাকা ভাগ। ব্যক্তিগতভাবে ব্যাপারটিকে এতোটা সহজে দেখতে রাজী নই। এক কলমের খোঁচায় ঐতিহ্যবাহী একটি শহর ভাগ হয়না। কেও করার চেষ্টা করলেও তা টেকে না- আরেক কলমের খোঁচায় আবার তা জোড়া লেগে যাবে। সদালাপে আগের মত নিয়মিত হবেন বলে আশা রাখি।

  5. 1
    সরোয়ার

    সদালাপে স্বাগতম।  এগুলো আগে আলোচনা হলে ঢাকাকে এত সহজে দু'ভাগ করা যেত না।

Comments have been disabled.