«

»

Apr ০৭

অভি-পূজারীদের ভাষাতেই বলা যাক: এতো বেশি অন্যায় প্রকৃতি হয়তো সহ্য করেনি!

চোখের সামনে হুমায়ুন আজাদের রক্তাক্ত দেহ, রাজীবের রক্তাক্ত লাশ, এবং জাফর উল্লাহ, মীজান রহমান, ও ভিক্টর স্টেঙ্গারের মৃত্যু নিয়ে লেখাগুলোতে অত্যন্ত সুকৌশলে তার ইসলাম-বিরোধী খেলা অনেকেই দেখেছেন। এমনকি কোনো কোনো লাশের মুখে ইসলাম ও মুসলিম-বিরোধী কথাবার্তা পর্যন্ত গুঁজে দেয়া হয়েছে। এ কেমন মানসিকতা! অথচ নিজের প্রথম স্ত্রীর 'অকস্মাৎ' মৃত্যু ও মুক্তমনা ব্লগার 'ঈশ্বরহীন'-এর আত্মহত্যা নিয়ে এক লাইনও লিখা হয়নি। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাছাইকৃত কিছু মানুষের রক্তাক্ত দেহ ও লাশ নিয়ে নোংরা খেলা খেলতে খেলতে শেষ পর্যন্ত নিজের রক্তাক্ত লাশ-ই অন্যের নোংরা খেলার শিকারে পরিণত হলো। প্রকৃতির কী নির্মম পরিহাস!

চোখের সামনে 'নারীবাদী' সেজে ইরানিয়ান আইনে রেহানা জব্বারীর মৃত্যুদণ্ডকে ইসলামিক আইনের নামে চালিয়ে দিয়ে এবং দিনে দুপুরে ডাহা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়ে ব্যভিচারের উপর কোরআনের আয়াতকে ধর্ষণ-এর নামে চালিয়ে দিয়ে ইসলামকে একটি 'ভাইরাস' প্রমাণের খেলা অনেকেই দেখেছেন।

চোখের সামনে 'নাস্তিকবাবু' সেজে বিভিন্ন জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলাকে পুঁজি করে বিজ্ঞানের মোড়কে ইসলামকে একটি 'ভাইরাস' ও মুসলিমদেরকে 'ভাইরাসে আক্রান্ত রুগী-জঙ্গি-সন্ত্রাসী' বানানোর খেলা অনেকেই দেখেছেন। অথচ ভারতে খাগড়াগড় ঘটনা নিয়ে কোনো এক ভারতীয় ব্লগারের লেখাতে একজন হিন্দুর নাম আসাতে রেগেমেগে আগুন হয়ে তাকে 'মুসলিম' প্রমাণ করে দিয়ে শেষে বলা হয়েছে, "আমি জানি, সন্ত্রাসীর কোন দেশ নেই, নেই কোন ধর্ম।" এতবড় মহা-প্রতারণা প্রকৃতি সহ্য করে কী করে! তাছাড়া সে মনেপ্রাণে বাংলাদেশি না ভারতীয় ছিল, সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চোখের সামনে বিন লাদেনের বাড়িতে 'পর্ণগ্র্যাফিক ম্যাটেরিয়ালস'-এর খবরকে পুঁজি করে মুসলিমদেরকে ঢালাওভাবে 'পর্ণগ্র্যাফিতে আসক্ত' বানানোর খেলা অনেকেই দেখেছেন। অথচ ভারতে একের পর এক ধর্মগুরুর সেক্স-স্ক্যাণ্ডাল (ভিডিও ও ছবি-সহ) প্রকাশ হওয়ার পরও বালিতে মাথা গুঁজে থাকা হয়েছে।

চোখের সামনে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবী তিতুমীরকে 'ওয়াহাবী মিলিট্যান্ট' (তার ভাষায় 'জঙ্গি-সন্ত্রাসী') বানিয়ে দেয়ার খেলা অনেকেই দেখেছেন। এমনকি ইসলাম-ওয়াচ সাইটের 'এক্স-মুসলিম' দাবিদার জায়নবাদী-হিন্দুত্ববাদী'দের এজেন্ট এম.এ. খানের লিখা “Islamic Jihad: A Legacy of Forced Conversion, Imperialism, and Slavery" নামক বইকে রেফারেন্স বানিয়ে উপমহাদেশের প্রায় সকল সুফী-সাধককে 'ইসলামিক মিলিট্যান্ট' বানিয়ে দেয়ার খেলাও অনেকেই দেখেছেন।

যেখানে ধর্ম-বর্ণ-আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে সারা বিশ্ব জুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৬ কোটি মানুষ মারা যাওয়া সত্ত্বেও কতিপয় মৃতদেহকেই হয়তো মেডিক্যালে দান করা হয়, সেখানে চোখের সামনে 'মানবতাবাদী' সেজে মরণোত্তর দেহদান নিয়ে লেখায় চরম প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মুসলিমদেরকে আক্রমণের খেলা অনেকেই দেখেছেন।

চোখের সামনে ইসলামের নবীকে একজন 'দানব' ও 'অতি নিকৃষ্ট' কিছু একটা বানিয়ে দেয়ার খেলা, কোরআনের আয়াতের নামে ডাহা মিথ্যাচার কিংবা অপব্যাখা করে ও আউট-অব-কনটেক্সট-এ চেরি পিক করে কোরআনকে 'নারী-বিদ্বেষী', 'বিধর্মী-বিদ্বেষী', 'ভায়োলেন্ট', 'অমানবিক', 'অবৈজ্ঞানিক', ইত্যাদি বানিয়ে দেয়ার খেলা অনেকেই দেখেছেন।

চোখের সামনে সারা বিশ্বের মুসলিম ও খ্রীষ্টান নামধারী ইসলামবিদ্বেষীদের প্রমোট করা এবং তাদের দিয়ে ইসলামকে আক্রমণের খেলা অনেকেই দেখেছেন। এমনকি ইসলাম ও মুসলিম-বিরোধী আমেরিকান কমেডিয়ান বিল মাহেরকে দিনের পর দিন ধরে প্রমোট করাও অনেকেই দেখেছেন।

চোখের সামনে বাংলাদেশিদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে 'মহা-মানবতাবাদী' সেজে পাকিস্তানের বিতর্কিত মালালা ইউসুফজাইকে প্রমোট, এবং সেই সাথে পাকিস্তানী পারভেজ হুডবয়, ইউনুস শেখ, ও আলি রিজভী'র মতো ইসলামবিরোধী নাস্তিকদেরকে প্রমোট করাও অনেকেই দেখেছেন। অথচ পকিস্তানী বিজ্ঞানী আব্দুস সালাম ছিলেন তার কাছে 'অচ্ছুৎ' জাতীয় কিছু একটা। বিশেষ কিছু প্রাণী যেমন নর্দমায় খাদ্য খুঁজে বেড়ায়, সেও তেমনি সারা দুনিয়া জুড়ে 'ইসলাম-বিরোধী খাদ্য' খুঁজে বেড়িয়েছে।

চোখের সামনে জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত বা সন্দেহভাজন মুসলিম নামধারীদেরকে 'সহি ইসলামের অনুসারী সহি মুসলিম' আখ্যা দিয়ে বাকি দেড়-দু বিলিয়ন মুসলিমকে বুশের আবিষ্কৃত 'মডারেট মুসলিম' বানিয়ে দিয়ে সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে হাসিঠাট্টা আর উপহাস-বিদ্রূপের দৃশ্য এত তাড়াতাড়ি কেউ ভুলে যায়নি। কথায় আছে না: যত হাসি তত কান্না, বলে গেছেন রামসন্না।

চোখের সামনে একের পর এক ছদ্মনামে ইসলামের নবী, কোরআন, হারুন ইয়াহিয়া, জাকির নায়েক, ও মুসলিম ব্লগারদেরকে আক্রমণ ব্যক্তি-আক্রমণের দৃশ্য অনেকেই দেখেছেন। হাতেনাতে ধরা খেয়েও চোরের মায়ের বড় গলা কিংবা ডাহা মিথ্যাচারের কথা সহজে ভুলে যাওয়ার মতো নয়।

চোখের সামনে সদালাপের লেখকদেরকে 'ছাগু-সন্ত্রাসী' বানিয়ে দিয়ে তাদেরকে কৌশলে এড়িয়ে যেয়ে ফারাবী সম্পর্কে আগে থেকে জেনেশুনেও ফেসবুকে তার সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে হত্যার হুমকি খেয়ে সেটিকে পুঁজি করে পশ্চিমা মিডিয়াতে বাংলাদেশে ইসলামিক জঙ্গীবাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করার খেলা অনেকেই দেখেছেন।

চোখের সামনে বুয়েট ও ঢাবি'র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদেরকে স্রেফ বিশ্বাসী হওয়ার কারণে 'মৌলবাদী-ধর্মান্ধ' বানিয়ে দেয়ার খেলা অনেকেই দেখেছেন।

চোখের সামনে ভারতীয় গায়ক কবীর সুমনের ধর্মান্তরকে মেনে নিতে না পেরে প্রতিহিংসাবশত সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে তাকে একাধারে 'ভণ্ড', 'অমানবিক', 'ছাগু', 'বামছাগল', 'দূর্জন', 'অধঃপতিত', 'বাতিল মাল', 'ময়রা', 'ভাইরাসে আক্রান্ত', 'ক্যান্সারে আক্রান্ত', ও সর্বোপরি 'শত্রু' (কাদের শত্রু?) বানিয়ে দেয়ার অতি সাম্প্রতিক খেলাও অনেকেই দেখেছেন। এক্ষেত্রেও সে মনেপ্রাণে বাংলাদেশি না ভারতীয় ছিল, সেই প্রশ্নটা চলে আসে।

সর্বোপরি- হিন্দু পরিবারের প্রথম স্ত্রীর 'অকস্মাৎ' মৃত্যু থেকে শুরু করে তার সম্পর্কে সকল প্রকার তথ্য (নাম, ছবি, ইত্যাদি) গোপন রেখে মুসলিম নামধারী বামপন্থী নাস্তিক স্ত্রীকে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়ে, তার সাথে একের পর এক অভিসারের ছবি প্রকাশ করে, এমনকি ফেসবুকের কভার ফটোতে দু'জনার ছবি লটকাইয়া রেখে মুসলিমদেরকে 'কাঁচকলা' দেখানোর খেলাটা নিঃসন্দেহে 'অভিনব' ছিল।

ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি… এত কিছুর পরও আমি তার এহেন অনাকাঙ্খিত মৃত্যু স্বপ্নেও আশা করি নাই। বুদ্ধিবৃত্তিক ও সততার দিক দিয়ে লড়াইয়ে আমাদের কাছে সে ছিল জীবন্মৃত, পরাজিত সৈনিক। সত্যি বলতে, এক পর্যায়ে সে আমাদের কাছে বিনোদনের বস্তু হয়ে উঠেছিল। একদিকে মিথ্যাচার, ভণ্ডামী, প্রতারণা, আর অন্যদিকে যুক্তিবিদ্যায় দুর্বল হওয়ার কারণে একটা সময় পর সে আমাদের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোরই সাহস পেত না, যদিও একের পর এক ছদ্মনামে আমাদেরকে হেয় করে ব্যক্তি-আক্রমণ অব্যাহত রাখা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, এক পর্যায়ে নিজ ব্লগেই তার অবস্থা বেশ শোচনীয় হয়ে পড়েছিল। এটা বুঝতে পেরে ব্লগে কম সময় দিয়ে ফেসবুকে ইসলাম-বিরোধী প্রপাগ্যাণ্ডা শুরু করে। এর মধ্যে আবার আস্তিক-নাস্তিক ইস্যুতে কয়েকজন সেক্যুলার সিলেব্রিটির সাথে বিশাল ক্যাচালে জড়িয়ে পড়ে ফেসবুকেও তার অবস্থা করুণ হতে থাকে। এজন্য তড়িঘড়ি করে বিজ্ঞানের মোড়কে 'বিশ্বাসের ভাইরাস' নামে বই লিখে মিশন্যারী কায়দায় নতুন নতুন শিকারের খোঁজে মাঠে নেমে পড়ে, আর সেটাই হয়তো তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

যাহোক, এই ধরণের জীবন্মৃত কাউকে হত্যা করে আমাদের বিশাল ক্ষতি ছাড়া সামান্যতমও কোনো লাভ হয়নি। তাছাড়া কোনো পরাজিত সৈনিকের এভাবে অপমৃত্যু দেখে প্রকৃত বীর কখনো খুশী হতে পারে না। তথাপি অপ্রত্যাশিত ঘটনা যেহেতু ঘটেই গেছে, তা যে কারণের হোক না কেন, এবং সারা বিশ্বের কেউই যেহেতু তাকে রক্ষা করতে পারেনি, সেহেতু এই বিচার-বহির্ভূত চোরাগুপ্তা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাওয়া ছাড়া আমাদের করার কিছুই নাই।

১৮ comments

Skip to comment form

  1. 12
    Mohammad

    অসাধারণ।

  2. 11
    এস. এম. রায়হান

    একদিকে মিথ্যাচার, ভণ্ডামী, প্রতারণা, ও যুক্তিবিদ্যায় দুর্বলতা তো ছিলই, তবে এগুলো ছাড়াও অভি আরেক দিক দিয়ে আমাদের কাছে ধরা ছিল। সেটি হচ্ছে নিজেকে (স্বঘোষিত) নাস্তিক দাবি করা। মুসলিমদেরকে 'বিজ্ঞান-বিরোধী' প্রমাণ করার জন্য আগেভাগেই নিজেকে 'নাস্তিক' দাবি করে সবচে' বড় ধরাটা সে খেয়েছিল। কেননা স্রষ্টার ব্যাপারে বিজ্ঞানের অবস্থান হচ্ছে অজ্ঞেয়বাদ (Agnosticism), নাস্তিকতা নয়। এজন্য বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের কেউই স্বঘোষিত নাস্তিক ছিলেন না। যার কারণে অভি তার অন্ধ মুরিদদের সামনে বিজ্ঞানের বুলি আউড়ালেও আমাদের সামনে এসে বিজ্ঞান নিয়ে কিছু বলার সাহস পেত না, যদিও আমাদের অনেকের চেয়ে বিজ্ঞানের কতিপয় বিষয়ে তার পড়াশুনা বা দখল বেশি ছিল। এই বিষয়টা নিয়ে পদার্থবিদ ও অজ্ঞেয়বাদী ড. অপার্থিব জামান এবং ঢাবি'র পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও অজ্ঞেয়বাদী ড. তানভীরের সাথে অভি'র একাধিকবার বিতর্কও হয়েছে। অভি ও অপার্থিব জামানের মধ্যে সর্বশেষ বিতর্ক এক পর্যায়ে অসহিষ্ণুতায়ও রূপ নেয়। তারপর থেকে অপার্থিব জামানকে মনা ব্লগে আর লেখালেখি করতে দেখা যায়নি।

  3. 10
    শামস

    নাস্তিকতা ধর্মের বিরোধী একটা মতবাদ! বিধর্মী যেমন আছে, তাদের যেমন মতবাদ আছে নাস্তিকতাও সেরকমই! অথচ অভিজিৎ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের কার্যকলাপে তার জীবিতাবস্থাতেই 'নাস্তিকতা' এদেশে গালি হিসেবে প্রতিষ্ঠীত হয়ে গেছে। নাস্তিকতার আরো বিকৃতরূপ 'মুক্তমনা' গালিরও অযোগ্য! 

    অভিজিতের দল পরাজিত, সেটা আগেই ছিল। ভাবের প্রকাশ যাদের এতো অসভ্য, বিকৃত, বিকারগ্রস্থ তাদের পরাজয় হবে নাতো কার হবে। 

    বাংলাদেশে বিচার চাইতে হয়, হত্যার পর বিচার হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না, বিচার চাওয়াটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ফলে হত্যা নিয়ে যেমন সংশয় থেকে যাচ্ছে, তেমনি এটা নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সমস্ত উপায়গুলোও থেকে যাচ্ছে।

    1. 10.1
      শাহবাজ নজরুল

      অভিজিৎ ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের কার্যকলাপে তার জীবিতাবস্থাতেই 'নাস্তিকতা' এদেশে গালি হিসেবে প্রতিষ্ঠীত হয়ে গেছে। নাস্তিকতার আরো বিকৃতরূপ 'মুক্তমনা' গালিরও অযোগ্য!

              থাম্বস আপ … (অ.ট. -- ইমোটিকন আসছেনা কেন?)

  4. 9
    ফিরোজ

    একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস- ওহে নাস্তিকের দল!..

    কার স্ট্যাটাস সেটি উল্লেখ না করা, স্ট্যাটাসটিতে নাস্তিক ও বিদ্বেষী-নাস্তিকদের মধ্যে তফাত না করা, সর্বোপরি সূত্রহীন 'হ্যাস্টি জেনারেলাইজেশন'-এর জন্য মন্তব্যটি সরিয়ে নেওয়া হল। [সম্পাদক, সদালাপ]

  5. 8
    এস. এম. রায়হান

    অভি-পূজারীদের মনোবৈকল্যতার কিছু নমুনা:

    ১. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের দেবতুল্য গুরুজী 'বুদ্ধিবৃত্তিক নাস্তিক' (Intellectually fulfilled atheist!) ছিলেন, যদিও তার মৃত্যুর পর কোনো মিডিয়া বা লেখাতেই তাকে 'নাস্তিক' হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়নি! যাহোক, অভি-পূজারীদের কাছে 'বুদ্ধিবৃত্তিক নাস্তিক' কী জিনিস আর অভি'র সারা জীবনের লেখাতে নাস্তিকতার পক্ষে এমন কোনো যুক্তি দেয়া হয়েছে কি-না যেটি তার নিজস্ব চিন্তাপ্রসূত, জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না! তাছাড়া কিছু নির্বোধ নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ২. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'বিজ্ঞানমনস্ক' ছিলেন। কিন্তু কিছু বিজ্ঞান-বিরোধী নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৩. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'যুক্তিবাদী' ছিলেন। কিন্তু কিছু অ-যুক্তিবাদী নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৪. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'অসাম্প্রদায়িক' ছিলেন। কিন্তু কিছু সাম্প্রদায়িক নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৫. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'প্রগতিশীল' ছিলেন। কিন্তু কিছু প্রতিক্রিয়াশীল নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৬. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'মুক্তচিন্তার মানুষ' ছিলেন। কিন্তু কিছু বদ্ধ চিন্তার নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৭. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'সেক্যুলার' ছিলেন। কিন্তু কিছু নন্‌-সেক্যুলার নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৮. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী 'মানবতাবাদী' ছিলেন। কিন্তু কিছু মানবতা-বিরোধী নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ৯. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজীর পরিণতি গ্যালিলিওর মতো হয়েছে। কিন্তু কী এমন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ফলস্বরূপ তাদের গুরুজীর এই পরিণতি হলো, তার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়া হয় না!

    ১০. অভি-পূজারীদের দাবি অনুযায়ী তাদের গুরুজী ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষী ছিলেন না। কিন্তু কিছু ইসলাম ও মুসলিম-বিদ্বেষী নাস্তিকের নাম জানতে চাওয়া হলে কোনো জবাব পাওয়া যায় না!

    ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি… ভাইরাসে আক্রান্ত অভি-পূজারীদের দাবির আসলে কোনো শেষ নাই। কিছু মজার (ডাহা মিথ্যা) দাবিও আছে। অভি-পূজারীরা তাদের গুরুজীকে একই সাথে 'সাধু-সন্ন্যাসী' ও 'কৃষ্ণের চেয়েও বড় দেবতা' জাতীয় কিছু একটা বানিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। কথায় বলে- লেবু বেশি কচলালে তিতা হয়ে যায়।

  6. 7
    শামসুল আরেফিন

    একটি অসাধারণ পোস্ট উপহার দেবার জন্য রায়হান ভাইকে ধন্যবাদ। একটা সময় আমিও পারিবারিকভাবে নাস্তিক প্রকৃতির ছিলাম। কিন্তু নানান ঘটনা পরম্পরায় আমার জীবনের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে। একটা সিরিজ পোস্ট শুরু করেছিলাম। নাম- আমার যত সংশয়। সময়ের অভাবে সেটি লিখতে পারছি না। সময় পেলে সেটি অবশ্যই লিখব।

  7. 6
    এস. এম. রায়হান

    অভি ছিল বাংলা অন্তর্জাল জগতের সবচেয়ে বড় ধর্ম-ব্যবসায়ী। যেখানে সদালাপের এতগুলো লেখক মিলে দীর্ঘ ১২-১৩ বছরে একটি বইও প্রকাশ করেনি বা করতে পারেনি, সেখানে অভি একাই ১০টি বই প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন ব্লগ-পেজে নামে-বেনামে নিয়মিত সময় দিয়েও এত অল্প সময়ে ১০টি বই প্রকাশ করতে হলে কী পরিমাণ খাটাখাটনি আর সময় ব্যয় করতে হবে, তা সহজেই অনুমেয়। সেই ১০টি বইয়ের মধ্যে ৮-৯টিতেই ধর্মীয় প্রসঙ্গ এসেছে। আর তার লেখায় ধর্মীয় প্রসঙ্গ মানেই হচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে ভুল-ভাল-মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে মুসলিমদের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।

    উল্লেখ্য যে, বৌদ্ধ পরিবারের কেউ তাদের ধর্ম ত্যাগ করে নাস্তিক বা মুক্তমনা হয় না। আজ পর্যন্ত কোনো ইহুদী বা খ্রীষ্টানকে স্ব-ধর্ম ত্যাগের ঘোষণা দিয়ে অভি'র মুক্তমনা মুরিদ হতে দেখা যায়নি। আর হিন্দু ধর্মে তো আস্তিকতা ও নাস্তিকতা উভয়ই আছে -- এটা আস্তিক-নাস্তিক নির্বিশেষে তাদেরই দাবি। কাজেই অভি ছিল মূলত একজন আধুনিক মিশন্যারী, যে বিজ্ঞানের মোড়কে ইসলাম ও বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ-অসচেতন মুসলিমদেরকে নাস্তিকতায় ধর্মান্তরিত করার মিশনে ছিল।

    সত্যি বলতে, হিন্দুত্ববাদের ইতিহাসে অভি ছিল সবচেয়ে বড় মিশন্যারী। তার মুরিদদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক থেকে শুরু করে শত শত শিক্ষিত খৎনাধারী আছে, যাদের মধ্যে মুসলিম নামধারী অনেক নারীও আছে। এমনকি স্বামী বিবেকানন্দ কিংবা হালের দীপক চোপড়ার মতো বিখ্যাত ব্রাহ্মণ ধর্মগুরুদেরও কোনো খৎনাধারী মুরিদ খুঁজে পাওয়া যাবে না। অভি এটা খুব ভালো করেই জানত। এজন্য সে নাস্তিকতা ও বিজ্ঞানকে পুঁজি করে মিশন্যারী কাজ চালিয়ে গেছে। ফলাফল তো হাতেনাতেই দেখা যাচ্ছে। শত শত শিক্ষিত খৎনাধারীরা আল্লাহ-রাসূল'কে প্রত্যাখ্যান করার ঘোষণা দিয়ে তাকে 'প্রভু' বা 'আইকন' হিসেবে মেনে নিয়েছে। দু'দিন বাদে এই খৎনাধারী নাস্তিকরা তার পূজা করা শুরু করলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। প্রকৃতপক্ষে, তার খৎনাধারী মুরিদদের জন্য একজন 'বিজ্ঞানমনস্ক দেবতা'র দরকার ছিল। সেটা মনে হচ্ছে তারা পেয়ে গেছে। তাদের কথাবার্তা থেকেও এটা অনুমান করা যায়।

  8. 5
    তমাল

    অভিজিত রায়কে নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভেংগে দিয়েছেন আমারব্লগের বিখ্যাত ব্লগার ডাক্তার আইজুদ্দিন-

    https://www.facebook.com/RussellRahmanHW/posts/10153837348119057?fref=nf

    https://www.facebook.com/photo.php?fbid=508337582631749&set=a.145027158962795.21573.100003665348785&type=1

    1. 5.1
      শামস

      দুই বছরে দেশে কতো পরিবর্তন হয়েছে, আইজুদ্দিনরাও সোজা বাংলায় কথা বলে!

      http://s1068.photobucket.com/user/Shams7861/media/Aiju_0.jpg.html  

      1. 5.1.1
        শাহবাজ নজরুল

        বিবর্তনবাদী বলে কথা … 

  9. 4
    আব্দুর রহমান আবিদ

    বুদ্ধিবৃত্তিক ও সততার দিক দিয়ে লড়াইয়ে আমাদের কাছে সে ছিল জীবন্মৃত, পরাজিত সৈনিক।

    যাহোক, এই ধরণের জীবন্মৃত কাউকে হত্যা করে আমাদের বিশাল ক্ষতি ছাড়া সামান্যতমও কোনো লাভ হয়নি। তাছাড়া কোনো পরাজিত সৈনিকের এভাবে অপমৃত্যু দেখে প্রকৃত বীর কখনো খুশী হতে পারে না। তথাপি অপ্রত্যাশিত ঘটনা যেহেতু ঘটেই গেছে, তা যে কারণের হোক না কেন, এবং সারা বিশ্বের কেউই যেহেতু তাকে রক্ষা করতে পারেনি, সেহেতু এই বিচার-বহির্ভূত চোরাগুপ্তা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাওয়া ছাড়া আমাদের করার কিছুই নাই।

    কনক্লুশন চমৎকার হয়েছে। ধন্যবাদ।

  10. 3
    শাহবাজ নজরুল

    ফরিদ আহমেদের বাংলাদেশ নিয়ে সমস্যা জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের নিয়ে না বরং হিজাব আর টুপি নিয়ে। দেখেন 'ছাগলের চারণভূমি'তে কেন উনি যেতে চাননা --

    কাজী নাজিয়া মুস্তারী আক্ষেপ করে লিখেছেন,
    আগে বাইরে গেলে কোনো ঝামেলা হলে প্রতিবাদ করতাম, এমনকি যখন স্কুলে পড়ছি তখনও ক্লাসের টিচাররা বলত রাস্তায় কেউ ঝামেলা করলে চিল্লায়ে লোক জড়ো করবে, দেখবে আর কোনো বিপদ হবেনা, কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরা আলাদা চিল্লায়ে মরে গেলেও কেউ আসবে না, আসলেও মজা দেখে মোবাইলে ছবি তুলে ভিডিও করে চলে যাবে…বাইরে যেতেই ভয় লাগে, প্রতিবাদ তো দুরে থাক, আর হিজাবি ও দাড়িটুপির সংখ্যা এত বেশি যে মনে হয় এই বুঝি পাশে এসে বোমা ফাটায়ে দিলো।

    মুক্তমনার লেখক এবং শিল্পী আসমা সুলতানা মিতা গত বছর দেশে গিয়েছিলেন। দেশ সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা একেবারেই সতেজ এবং টাটকা। সেই তিনি বলেছেন,

    আমি গিয়েছিলাম ৫ বছর পরে গত বছর – মাত্র ১০ দিন থেকেছি । থাকতে পারবেন না ভাইয়া । নিতান্ত যদি কোনো অনুভূতি না থাকে কারো হৃদয়ে বা সহ্য ক্ষমতা অসম্ভব রকমের বেশী হতে হবে । মহিলারা শুধু হিজাবই পরে না; সে এক কিম্ভুতকিমকিার সাজগোজ। এমনকি বাচ্চাদের হিজাব পরা বাধ্যতা মূলক স্কুলে ভর্তি হবার জন্য । আরো অনেক কিছু… মানুষ সব ওভার স্মার্ট ;

    কৃষ্ণা চক্রবর্তী গায়েন অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলেছেন,
    এ এক গভীর দুঃখের বোধ নিয়ে আমরা সবাই চিরকাল দেশ ছেরে প্রবাসে থাকার পন করেছি। ভীষন কষ্টের যখন দেখতে পাচ্ছি যে দেশের আলো বাতাসে আদরে বড় হয়েছি সেখানে ফিরে যাবার রাস্তা আমাদের নেই এবং এইসব ছাগল না তারাই আমাদের কে যেতে দেবেনা যারা তথাকথিত প্রগতিশীল চেতনার ঠিকা নিয়েছে এবং প্রকারান্তরে অভিজিতদা ও বাবুর খুনের জাস্টিফিকেশন দিয়ে যাচ্ছে!

    এই সমস্ত লোকেরা বিকারগ্রস্ত, ভাইরাসে আক্রান্ত মানসিক রোগী। রোগের নামও আছে -- সুপিরিয়রিটি কমপ্লেক্স Superiority complex is a psychological defense mechanism in which a person's feelings of superiority counter or conceal his or her feelings of inferiority.

    বাংলাতেও এই প্রজাতির লোকদের জন্যে নিখুঁত একটা প্রবচন আছে --

    উত্তম নিশ্চিন্তে চলে অধমের সাথে -- যিনি মধ্যম তিনিই চলেন তফাতে!!

    1. 3.1
      মহাকাব্য

      আপাতত ফরিদ সাহেবদের উচিৎ হবে মংগলগ্রহ বা চাঁদে গিয়ে বসবাস করার চেষ্টা করা। কারণ আজকাল ইউরোপ-আমেরিকার রাস্তা-ঘাটেও প্রচুর হিজাব পরা, দাড়ি রাখা লোকজনের দেখা মিলছে। আর মসজিদের কথা তো বাদই দিলাম। যেখানে মুসলিম সেখানেই মসজিদ। ফিজি আইল্যান্ডের ছোট্ট দ্বীপেও মসজিদ আছে।

      তাছাড়া ইদানিং কিছু পরিসংখ্যান বলছে- সামনে নাকি পৃথিবী মুসলমান দিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। তার মানে তো সেই টুপি, দাড়ি, হিজাব আর মসজিদ। কাজেই মনে হয় না এই ধরনীপৃষ্ঠে ওদের খুব বেশী শান্তি মিলবে।

    2. 3.2
      এস. এম. রায়হান

      অভি হত্যাকাণ্ডের পর এই লোকটা এত বেশি 'আতঙ্কগ্রস্ত' হয়ে পড়েছেন কেন, তা কোনোভাবেই মাথায় আসছে না। তাছাড়া অভি হত্যাকাণ্ডের বেশ আগে থেকে অভির সাথে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। কিন্তু হত্যাকাণ্ড ঘটনার পর পরই নতুন করে মনাব্লগের দায়িত্ব নিয়ে ভোল পাল্টে ফেলা হয়েছে। বুশ প্রশাসন যেভাবে ৯/১১-কে পুঁজি করে আমেরিকার সাধারণ জনগণের মনে 'মুসলিমাতঙ্ক' সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল, এই লোকটাও মনে হচ্ছে অভি হত্যাকণ্ডকে পুঁজি করে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের মনে একই আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টায় আছেন।

      1. 3.2.1
        সত্য সন্ধানী

        ****তাছাড়া অভি হত্যাকাণ্ডের বেশ আগে থেকে অভির সাথে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল।****
        রসুনের কোয়া গুলোর গোড়া কিন্তু একটাই। এদের মধ্যে যতই টানাপোড়েন চলুক না কেন আমার মনে হয় যে এরা রসুনের কোয়ার মত।
        তবে ফরিদ আহমেদ আগে বেশ উদারপন্থী ছিল(মুসলমান ও ইসলামের ক্ষেত্রে), তার কিছু লেখা আর মন্তব্য পড়ে এমন মনে হয়েছে। তবে ওইযে আসলে মনে হয় যে সবার গোড়া প্রায় এক রসুনের মত,শুধু একটু এদিক সেদিক আরকি!

  11. 2
    এম_আহমদ

    বেশ হয়েছে। সার্বিক জ্ঞান-মুক্ত-মনাদের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য সুন্দর হয়ে এসেছে। এরা মানবতাবাদী দাবি করে কিন্তু এপর্যন্ত বাংলায় মুসলিম মানবগুলো যে কতভাবে মরল/মারা হল, নৃশংসভাবে রক্তে গড়াগড়ি গেল, ধর্মের বাইরেও তো এরা মানুষ কিন্তু কই আমি তাদের কাউকে এদের প্রতি দরদ দেখিয়ে কোনো কথা বলতে দেখি নি। বরং উল্টোটাই দেখেছি। আজ তারা আর অমুসলমানগণ ব্যতীত বাংলাদেশে আর মানুষ নেই –এই দেশ হচ্ছে ছাগলের চারণভূমি! ওরে মানবতাবাদী! সার্বিক জ্ঞান থেকে মুক্ত হওয়া মনাগুলো তাদের নিজেদের ফিল্ডেইবা কোন্‌ অবদান রাখল?    

    হুমায়ূন আজাদের লেখায় কোন্‌ নতুন চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে? হুমায়ুনের নারীবাদ হচ্ছে ১৯৬০-৭০ এর দশকের ইউরোপীয় নারীবাদীদের লেখার চর্বিত চর্বণ। ১৯৮০ দশক থেকে আমরা নারীবাদে নানান ভাঙ্গন বিবর্তন দেখি, নানান রূপ দেখি, সেই ভিন্নতা বাংলায় নেই। বঙ্গাল মুল্লুকে কেউ একটা কিছু চালিয়ে দিতে পারলে অনেক সময় তা বাঁশের চেয়ে কঞ্চি দৃঢ় হয়ে যায়। কে একজন (সম্ভবত শফিক রেহমান) ভ্যালেন্টান-ডে দিছে চালিয়ে আর এটা এখন ইউরোপের চেয়েও ভাল চলছে বাংলাদেশে। আরজ আলীও একজন অতি বড় দার্শনিক! যদিও (সময়ের বিবেচনায়) ‘নির্মূল’ আন্দোলনের উৎপত্তিলগ্নে তার লেখাটি প্রকাশ পেয়েছে (১৯৯৩) কিন্তু ওখানে দর্শনের অতি পুরাতন কথাবার্তাই স্থান পেয়েছে এবং তাও নিম্নমানের লেখা। আমার কেন যেন মনে হয় আরজ আলীর সামান্য কিছু লেখার সাথে অপরাপর নাস্তিকগণ এডিট ও সম্প্রসারণ করে আরজ আলীর আড়ালেই তা প্রকাশ করেছে।

  12. 1
    Lutfunnesa

    Excellent perception. No one can escape from the revenge of nature. Everything must have an effect on others, nothing goes in vain in this world. If you hate others, mock others, insult others, nature will take the revenge in its own way. So please love people whether he is ignorant, believer, non-believer, foolish like goat, stupid like dunkey, blind etc. After all they are all human being at the end of the day. Making argument and showing hatred is not the same thing. I can't hate anyone because he is ten times inferrior than me in every aspect. Maybe I am not an enlightened person never heard about the name of science, literature, culture, civilization but I have my own right to believe anything. You can't prove me as a non-human being for my blind belief. It can't be an act of any civilized people.

Comments have been disabled.