«

»

Aug ৩০

অভিজিৎরা একজন প্রমাণিত ধর্ষক ও খুনী ধর্মগুরু গুরমিত রামের “সমালোচনা” করছে – হেঁহেঁহেঁ!

ঈশ্বর দাবিদার ভারতীয় ধর্মগুরু গুরমিত রাম সম্পর্কে যারা কিছুই জানেন না, তারা আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত গুরমিত রামের দ্বারা ধর্ষণের শিকার এক নারীর করুণ চিঠি'টা আগে পড়ে নিতে পারেন। অন্যথায় এই পোস্টের মর্মার্থ বুঝতে সমস্যা হতে পারে।

নিচে ধর্মগুরু গুরমিত রাম সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু তথ্য তুলে ধরা হলো:

– গুরমিত রাম একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ধর্মগুরু। তার প্রায় ছয় কোটি ভক্ত আছে।

– নিজেকে ঈশ্বর দাবি করে। ভক্তরাও তাকে ঈশ্বরের মতো করেই বিশ্বাস করে।

– ডজন ডজন নারী ভক্ত তথা সেবাদাসীকে খুন করার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করেছে। আর এগুলো করা হয়েছে শ্রীকৃষ্ণের নামে। তার ভাষায়, "শ্রীকৃষ্ণও ঈশ্বর। তাঁর ৩৬০ জন গোপী ছিলেন। যাঁদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ প্রেমলীলা করতেন। আমাকেও সবাই ঈশ্বর বলে মানে।"

– তার কু-কীর্তি ফাঁস করে দেয়ার জন্য এক সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।

– ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে Z ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।

– ২০১৪ সালে তার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ট্যুইট ভাইরাল হয়েছে।

– তার অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। খুব সম্ভবত মাত্র দশ বছরের জেল হয়েছে।

– ধর্মকে পুঁজি করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে।

– তার ভক্তদের তাণ্ডবে অনেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে। ইত্যাদি। ইত্যাদি।

নিচের লিঙ্কগুলোতে আরো বিস্তারিত পাওয়া যাবে-

সাধক, নায়ক, ধর্ষক…

ভক্তদের কাছে তিনি ভগবানের দূত 'ইনসান'

কে এই ধর্মগুরু?

ধর্মগুরুর ভক্তদের তাণ্ডব

ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে রায়, বিক্ষোভে নিহত অনেক

গুরমিত রামের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর পুরনো ট্যুইট ভাইরাল

‘বাবা’র কাছে এসে বৌ হারালেন কমলেশ

পাঠক বুঝতেই পারছেন গুরমিত রাম কতবড় ও কত প্রভাবশালী একজন ধর্মগুরু। বর্তমান বিশ্বে অন্য কোনো ধর্মে তার পর্যায়ের কোনো ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে এত বড় বড় অপরাধের পক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। অথচ অভিজিৎ রায়-রা এই ধর্মগুরুকে আহমদ শফী, ফরহাদ মজহার, ও দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর সাথে তুলনা করেছে!!! কেউ কেউ আরো একধাপ এগিয়ে যেয়ে গুরমিত রামকে খোদ (ইসলামের) নবীর সাথে তুলনা করেছে!

পয়েন্টস টু বি নোটেড:

– আহমদ শফীর বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ বা হত্যা বা অন্য কোনো অপরাধের পক্ষেও কোনো প্রমাণ নেই।

– ফরহাদ মজহারের বিরুদ্ধেও আদালতে ধর্ষণ বা হত্যার কোনো প্রমাণ নেই। তাছাড়া ফরহাদ মজহার কোনো আলেম বা মুফতি বা ধর্মগুরুও না। এমনকি উনি আদৌ ইসলামে বিশ্বাসী কি-না, এ নিয়েই কানা-ঘুষা আছে। 

– দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়েছে সেগুলোর সবই '৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ঘটনা। সেই সময় সাঈদীর বয়স ছিল ৩০। স্বাভাবিকভাবেই সেই সময় সাঈদী কোনো জনপ্রিয় ধর্মগুরু ছিলেন না। কাজেই সেই সময় সাঈদীর কোটি কোটি ভক্ত থাকার প্রশ্নই ওঠে না।

এবার 'নাস্তিক-মুক্তমনা-যুক্তিবাদী-ইত্যাদি'রূপী অভিজিৎ রায়-রা গুরমিত রামের মতো একজন ধর্মগুরুর 'সমালোচনা'র নামে কী বলে, দেখা যাক! উল্লেখ্য যে, এদের সকলেই একেকজন 'অভিজিৎ রায়' তথা অভিজিৎ রায়ের মানসিকতার। সত্যি বলতে, বাংলা অন্তর্জালে এই ধরণের নীচু মানসিকতার ধূর্তামী অভিজিৎ রায়ই প্রথম শুরু করেছে।

 

এই সুপ্রীতি ধর হচ্ছেন মিশন্যারী অভিজিৎ রায়ের নারী ভার্শন! মিশন্যারী অভিজিৎ রায় যেমন 'মুক্তমনা' নামে একটি সাইট খুলে ফতোয়া দিয়েছিল এই বলে যে, 'মুক্তমনা' হতে হলে 'নাস্তিক' হতেই হবে – সুপ্রীতি ধরও তেমনি উমেন চ্যাপ্টার নামে একটি সাইট খুলে ফতোয়া দিয়েছেন এই বলে যে, 'নারীবাদী' হতে হলে 'নাস্তিক' হতেই হবে! যাইহোক, গুরমিত রামের পুরো নাম হচ্ছে গুরমিত রাম রহিম সিং। সুপ্রীতি ধর তার 'রাম রহিম সিং' নামটা উল্লেখ করে তিনটা ধর্মকেই 'আকাইম্যা ধর্ম' আখ্যা দিয়েছেন! ব্যাস! গুরমিত রাম ও তার ধর্মের চরম সমালোচনা হয়ে গেল! কূট-কৌশলের দিক দিয়ে অভিজিৎ রায়ের পুরোপুরি নকল! এদের সকলেই আসলে একই মানসিকতার। নিচের পোস্টগুলোতেও তার প্রমাণ আছে।  

 

এই পোস্টে গুরমিত রামের সমালোচনা করা হয়েছে, নাকি (মুসলমান) সাঈদী ও (মুসলমান) ফ্রড(?) মজহারকে আক্রমণ করা হয়েছে – ঠিক পরিষ্কার না! একই মানসিকতার প্রতিফলন!

 

উপরের পোস্টদাতার নাম দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হতে পারেন। এইটা আসল নাম না ছদ্মনাম, কে জানে! তবে এই পোস্টেও একই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

 

এখানেও কূট-কৌশলের প্রতিফলন! আগেই উল্লেখ করেছি যে, সাঈদীর অপরাধের ঘটনা ১৯৭১ সালের। তখন সাঈদীর এই চেহারা ছিল না। অথচ তার সাম্প্রতিক ছবির সাথে গুরমিত রামের সাম্প্রতিক ছবি দেখিয়ে মুসলিমদের মধ্যেও গুরমিত রামের অস্তিত্ব প্রমাণ করা হয়েছে!

 

উপরের ভূয়া আইডিটার আড়ালে আছে কোনো এক অভিজিৎ রায়। গুরমিত রামকে নিয়ে পোস্টে 'নবী' শব্দটা এসেছে মোট ৭ বার! 'আল্লাহ' শব্দটা এসেছে ১ বার। 'পীর' শব্দটা এসেছে ৩ বার। 'আউলিয়া' শব্দটা এসেছে ১ বার। এই পোস্টে অভিজিৎ রায়দের কিছু মন্তব্য নিচে তুলে দেওয়া হলো-

Sourav Banerjee রাম রহিমকে দুদিন বাদে সবাই হয়তো ভুলে যাবে। কিন্তু ১৫০০ বছর আগের সেই পিশাচকে কি কেউ ভুলবে এত তাড়াতাড়ি। এরা যুগ যুগ ধরে মানুষ হত্যা করেই চলেছে ধর্মের নামে।

Mohamed Rohijul Islam এই রাম রহিমের সাথে ঠিক ১৪০০ বছর আগের মোহাম্মদের কোন তফাত নেই। দুইটাই সাইকোপ্যাথ।

আরেকটা ব্যাপার, এরা প্রত্যকেই নায়ালিস্ট(Nihilist)। এদের কোন ধরনের এথিকাল ব্যাকগ্রাউন্ড ছিলনা। নিজের স্বার্থ এর জন্য হেন কোন কাজ নেই এরা করতে পারেনা। মোহাম্মদ, রাম রহিম সবাই Nihilist.

Poresh Roy রহিম আবার কিভাবে ধর্মগুরু হল?? এটা তো জঙ্গি সন্ত্রাসী মুসলিম ফ্যাসিবাদী যুদ্ধবাজ নেতা। আর একটা মোল্লার বাচ্চা দাঙ্গা করবে, ধর্ষক হবে এটাই স্বাভাবিক। এদের বাড়িতে নিজের মা-বোনকে ধর্ষণ করে হাতেখড়ি হয়, এরপর খালাতো, চাচাতো, মামাতো বোন, নিকটাত্মীয়দের ধর্ষণ করে, এরপর জংলী কুত্তার মত শিকার করতে বাইরে বের হয়। ছেলে শিশু, বাছুর, গাধা, ভেড়া পর্যন্ত মুসলমানদের নোংরা দৃষ্টি থেকে রেহাই পায় না।

Saad Julkarnain মুহাম্মদ এযুগে জন্মাইলে তাকে বনু কুরায়জার গণহত্যার দায়ে ফাঁসিই দেওয়া হত, গনিমতের মাল খাওয়ার শখ মিটিয়ে দিত।

এখানে 'Mohamed Rohijul Islam' ও 'Saad Julkarnain' নামে ভূয়া আইডি দুটির আড়ালে আছে কোনো দু'জন অভিজিৎ রায়। গুরমিত রামকে নিয়ে পোস্টে দেখা যাচ্ছে অভিজিৎ রায়-রা ইসলামের নবীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে! 

তাহলে অভিজিৎ রায়দের পোস্টগুলো থেকে যা বুঝা গেল তা হচ্ছে- একজন গুরমিত রামের বিপরীতে ইসলামে শত শত 'গুরমিত রাম' আছে! আর ইসলামের নবী হচ্ছেন গুরমিত রামের চেয়েও অনেক গুন খারাপ! এই হচ্ছে অভিজিৎ রায়দের ভাষায় গুরমিত রাম ও তার ধর্মের চ্রম সমালোচনা! এরা পারেও বটে! একেবারে শিশুবেলা থেকে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মনে হয়!

বিলিয়ন ডলার পয়েন্ট: শ্রীকৃষ্ণের উদাহরণ দিয়ে ধর্মগুরু গুরমিত রামের ডজন ডজন নারী ভক্তকে খুনের হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, তার কু-কীর্তি ফাঁস করে দেয়া সাংবাদিককে হত্যা, এবং আদালতে তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পর তার ভক্তদের তাণ্ডবে প্রায় ৩০ জন মানুষ নিহত ও অনেকে আহত হওয়া সত্ত্বেও 'নাস্তিক-মুক্তমনা-যুক্তিবাদী-বিগ্যানমনস্ক'রূপী অভিজিৎ রায়দের কেউই এখানে 'বিশ্বাসের ভাইরাস' খুঁজে পায়নি!!! এত বড় একটা ঘটনার পরও 'ধর্ম' একটি ভাইরাস বা ক্যান্সার হয়ে যায়নি! এমনকি ধর্মের নামে ধর্ষণ-খুন হওয়া এতবড় একটি ধর্মীয় ঘটনা নিয়ে মুক্তমনা ব্লগে একটিও পোস্ট আসেনি! অথচ মুসলিম নামধারীদের দ্বারা সংঘটিত প্রায় যেকোনো অপরাধের মধ্যেই অভিজিৎ রায় 'বিশ্বাসের ভাইরাস' আবিষ্কার করে পোস্ট দিয়েছে, আর তার খৎনাধারী পূজারীরা তাকে অন্ধভাবে সমর্থন দিয়েছে!

'নাস্তিক-মুক্তমনা-নারীবাদী'রূপী অভিজিৎ-সুপ্রীতি গ্যাং আর তাদের খৎনাধারী পূজারীদের মধ্যে দিনের আলোর মতো পার্থক্যটা সকলেরই ইতোমধ্যে বুঝে যাওয়ার কথা।

১৯ comments

Skip to comment form

  1. 18
    এস. এম. রায়হান

    কৃষ্ণের অনুকরণে ১৬ হাজার নাবালিকা ও মহিলার প্রতি আসক্তি! ধর্মগুরু গুরমিত রামের পর বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিত নামে আরও এক ভারতীয় ধর্মগুরুর উদয়! — http://zeenews.india.com

    ১৬ হাজার মহিলার প্রতি আসক্তি! রাম রহিমের পর আরও এক ‘বাবা’র উদয়!

    আশ্রমের আবাসিকদের অভিভাবরা অভিযোগ জানিয়ে মামলা করেন দিল্লি হাইকোর্টে। কয়েকজন আইনজীবী ও দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়ালকে নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করতে বলে আদালত।

    নিজস্ব প্রতিবেদন:  একের পর এক ধর্ষক বাবার উদয়। গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের পর এবার বাবা বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিত।

    অভিযোগ আসছিল দীর্ঘদিন ধরেই। দিল্লির রোহিণীতে আধ্যাত্মিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নাবালিকা ও মহিলাদের আটকে রেখে যৌন শোষণ করছেন স্বঘোষিত বাবা বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিত। আশ্রমের ওই মেয়েদের তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হত না। সূর্যের আলো ঢোকে না এমন একটি ঘরে তাঁদের আটকে রাখা হত বলে অভিযোগ।  ছিল না মেয়েদের স্নানের কোনও গোপনীয়তাও। বীরেন্দ্র দীক্ষিত এই সব মেয়ের অভিভাবকদের বুঝিয়ে আশ্রমে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতেন। স্ট্যাম্প পেপারে লিখিয়েও নিতেন। জানা গিয়েছে, ১৬ হাজার মহিলার প্রতি আসক্তি ছিল ওই ‘বাবা’র।

    আশ্রমের আবাসিকদের অভিভাবরা অভিযোগ জানিয়ে মামলা করেন দিল্লি হাইকোর্টে। কয়েকজন আইনজীবী ও দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়ালকে নিয়ে একটি প্যানেল গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করতে বলে আদালত। তার পরেই অভিযান। উদ্ধার করা হয় ৪১জন নাবালিকাকে। খতম বাবার সব জারিজুরি। গত মঙ্গলবার ওই আশ্রমে প্রথম অভিযান চালায় দিল্লি পুলিসের একটি দল। আশ্রমের বিভিন্ন জায়গায় ওষুধ ও ইনজেকশনের সিরিঞ্জ পড়ে থাকতে দেখেন তদন্তকারীরা।

    চৌঠা জানুয়ারির মধ্যে বাবা বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিতকে আদালতে হাজির করাতে সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ধর্ষক বাবা।

  2. 17
    এস. এম. রায়হান

    40 girls rescued from Delhi Rohini ashram of 'godman' obsessed with having 16,000 women companions — IndiaToday

    Authorities rescued 40 girls from Virendra Dev Dikshit's Adhyatmik Vishwa Vidyalaya ashram in Rohini, Delhi where the 'godman' is believed to have illegally confined minors.

    A team of senior officials in Delhi, including Delhi Commission for Women chief Swati Maliwal, last evening, rescued as many as 40 girls from an ashram in the national capital's Rohini area, news agency ANI reported today.

    The Rohini ashram is run by a self-styled godman called Virendra Dev Dikshit, a 'baba' believed to be obsessed with the idea of having 16,000 women with him.  

    Why 16,000? Because, according to some beliefs, that is the number of wives that lord Krishna had.

    Mail Today had first reported about the raids on Rohini's Adhyatmik Vishwa Vidyalaya ashram earlier this week. With authorities then scouring a maze of rooms in search of victims and other evidence, the exact number of girls being held at the ashram wasn't immediately known.

    As of last updating this report, it wasn't clear who was part of the team that rescued the 40 girls from the Rohini ashram last night.

    The Delhi High Court, earlier this week, had asked the Central Bureau of Investigation to look into a bunch of complaints filed by a group of parents alleging that Virendra Dev Dikshit was sexually exploiting a number of minor girls and women being held at the Rohini ashram.

    Authorities first raided Dikshit's Adhyatmik Vishwa Vidyalaya on Tuesday when they found a massive stock of what seemed to be medicines and syringes was found, Mail Today reported. Following the raids, it was discovered that the girls at the Rohini ashram were housed in inhumane conditions.

    The girls were not permitted to meet their relatives or friends and were confined to cramped spaces with no sunlight, with metal grills blocking their exit. Swati Maliwal had said earlier this week that the girls appeared to be minors and called for an age-verification test, Mail Today reported.

     The Mail Today report reveals a chilling modus operandi allegedly used by Virendra Dev Dikshit to get parents to send girls to his ashram. The parents claim Dikshit made them sign a stamp paper stating they willingly handed over their daughter(s) to him.

    Once in his ashram, the girls would allegedly be sexually assaulted.  And once they turned 18, Dikshit would allegedly make them sign a paper that said they were willingly staying with him, says the Mail Today report.

    Allegations also are that the parents of the girls were asked to keep sending donations in large amounts to the Rohini ashram, purportedly for the upkeep of their daughters.

    http://indiatoday.intoday.in/story/girls-rescued-from-rohini-ashram-of-virendra-dev-dikshit/1/1115842.html

  3. 16
    চমকপ্রদ

    মানুষ কুকীর্তির বেলায় নিজের সাথে অন্যকে শরীক বানাতে চায়। আর সুকীর্তির বেলায় আরেকজনেরটার সাথে নিজের নাম জুড়ে দিতে চায়।

  4. 15
    এস. এম. রায়হান

    ভারতে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার আরও এক ধর্মগুরু বাবা সিয়ারাম দাস

    প্রথম আলোঃ ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং দুই অনুসারীকে ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর এবার একই অভিযোগ উঠল আরও এক ‘স্বঘোষিত বাবার’ বিরুদ্ধে। উত্তর প্রদেশের সীতাপুরের কথিত ওই ধর্মগুরু বাবা সিয়ারাম দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার ২১ বছর বয়সী এক তরুণী সিয়ারামের (৬০) বিরুদ্ধে তাঁকে আট মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন। ওই তরুণী ডিগ্রি শ্রেণির শিক্ষার্থী।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, সিয়ারাম আশ্রম, স্কুল ও ডিগ্রি কলেজসহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। এ ছাড়া লক্ষ্ণৌ, বারবাঁকি, আগ্রা ও হাতরাস জেলায় তাঁর অনেক সম্পত্তি রয়েছে।

    ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর অভিযোগ, দূরসম্পর্কের এক আত্মীয় সিয়ারামের অনুসারী রিন্টু সিংয়ের কাছে তাঁকে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। রিন্টু মিশরিখ এলাকায় সিয়ারামের শ্রী চন্দ্র ভগবান ইন্টার কলেজের ব্যবস্থাপক। গত বছর রিন্টু ওই তরুণীকে সিয়ারামের কাছে নিয়ে যান। পরে সিয়ারাম তাঁকে আটকে রাখেন।

    তরুণী বলেন, তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে। প্রায় আট মাস আটকে রেখে বাবা সিয়ারাম তাঁকে ধর্ষণ করেছেন। এ ছাড়া আশ্রমে আটকে থাকা অবস্থায় অপরিচিত অনেকেও তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, কোনোমতে ওই তরুণী সম্প্রতি সিয়ারামের আশ্রম থেকে পালাতে সক্ষম হন। গত সোমবার রাতে তিনি পুলিশকে টেলিফোনে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। অভিযান চালিয়ে আগ্রা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    মিশরিখ থানার কর্মকর্তা অশোক কুমার সিং বলেন, সিয়ারাম আগ্রায় জমিজমাসংক্রান্ত কাজে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিতাপুরে সিয়ারামের দখলে থাকা সম্পদের হিসাব নিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

    পুলিশ জানায়, সিয়ারামের কলেজে তাঁর একটি শোয়ার ঘর রয়েছে। সেখান থেকে কিছু কাপড় জব্দ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া রিন্টু ও ওই তরুণীর দূরসম্পর্কের আত্মীয়কে গ্রেপ্তারে চেষ্টা করছে পুলিশ।

    এর আগে দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে করা দুটি মামলায় গত ২৫ আগস্ট দোষী সাব্যস্ত করা হয় হরিয়ানার কথিত ধর্মগুরু রাম রহিমকে। তাঁকে দুটি মামলায় ১০ বছর করে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন সিবিআই আদালত।

    ২০ সেপ্টেম্বর রাজস্থানের কথিত ধর্মগুরু কৌশলেন্দ্র প্রপানাচার্য ফলাহারি মহারাজের (৭০) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন তাঁরই অনুসারী এক তরুণী।

    তবে দেশটিতে এমন কর্মকাণ্ড শুধু রাম রহিম ও কৌশলেন্দ্র প্রপানাচার্য ফলাহারি মহারাজই ঘটাননি, তাঁদের আগেও অনেক ‘ধর্মগুরু’ এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন। অনেকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। কথিত এসব ধর্মগুরুর মধ্যে আছেন ওডিশার সন্তোষ রাউল ওরফে সারথি বাবা, মধ্যপ্রদেশের লাল বুলচান্দনি ওরফে লাল সাঁই, বেঙ্গালুরুর স্বামী নিত্যানন্দ, কেরালার তিরুঅনন্তপুরমের স্বামী গঙ্গেশানন্দ, রাজস্থানের আশারাম বাপু, তাঁর ছেলে নারায়ণ সাঁই, হরিয়ানার সন্ত রামপাল, তামিলনাড়ুর স্বামী প্রেমানন্দ, উত্তর প্রদেশের প্রেমানন্দ মহারাজ, উত্তর প্রদেশের চিত্রকূটের স্বামী ভীমানন্দজি মহারাজ প্রমুখ।

  5. 14
    এস. এম. রায়হান

    ভারতের আরেক ধর্মগুরু ফলাহারি মহারাজের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ

    ভারতের আরেকজন স্বঘোষিত ‘ধর্মীয় গুরু’ এর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ফলাহারি মহারাজ নামে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে ২১ বছর বয়সী এক তরুণীকে ধর্ষণ করেছেন তিনি। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি একথা জানায়।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়,  অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। শনিবার তাকে গ্রেফতার করে আলওয়ার হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    জয়পুরে আইন নিয়ে পড়াশোনা করা ওই নারী ১১ সেপ্টেম্বর ফলাহারি মহারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ থেকে জানা যায় ৭ আগস্ট ওই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিলো। তিনি আলওয়ারে ওই গুরুর আশ্রমে টাকা অনুদানে গিয়েছিলেন তিনি।

    ওই নারী জানান, রাতে সেখানে থাকতে রাজি হওয়ার পর ধর্ষণের শিকার হন তিনি।  মহারাজ তাকে মামলা না করারও হুমকি দিয়েছিলেন।

    এর আগে গতমাসে বিতর্কিত ‘গুরু’ গুরমিত রাম রহিম সিংকে ধর্ষণের অভিযোগে ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।

  6. 13
    এস. এম. রায়হান

    ভারতীয় ‘ধর্মগুরু’দের সম্পদের পরিমাণ

    ভারতীয় বাবাদের সম্পত্তির পরিমাণ শুনলে চমকে উঠবেন!  দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন হুবহু তুলে ধরা হলো-

    ১. বাবা রামদেব : ভারতের পতঞ্জলি ব্র্যান্ড, পতঞ্জলি যোগপীঠ এবং দিব্যা যোগী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা বাবা রামদেবের সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি রুপি।

    ২. মা অমৃতানন্দময়ী : ভারতসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় তিন কোটি ভক্ত রয়েছে মাতা অমৃতানন্দময়ীর। তার সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি রুপি। নিজের নামে স্কুল, কলেজ, টিভি চ্যানেলও রয়েছে তার।

    ৩. শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর : আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রী রবিশঙ্করের বাৎসরিক আয় প্রায় হাজার কোটি। বিশ্বের ১৫১টি দেশে প্রায় তিন কোটি সদস্য রয়েছে আর্ট অব লিভিং ফাউন্ডেশনের।

    ৪. শ্রী আশারাম বাপু : আলোচিত এবং বিতর্কিত ধর্মগুরুদের মধ্যে অন্যতম আশারাম বাপু। এই মুহূর্তে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে জেলে রয়েছেন তিনি। সারা ভারতে বাপুর ৩৫০টি আশ্রম রয়েছে। রয়েছে ১৭ হাজার বাল শঙ্কর কেন্দ্রও। এই মুহূর্তে তার বাৎসরিক আয় প্রায় ৩৫০ কোটি রুপি।

    ৫. গুরমিত রাম রহিম সিং : সম্প্রতি দুইটি ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ২০ বছর জেলের সাজা পেয়েছেন বাবা রাম রহিম। ডেরা সাচ্চা সৌদার কর্ণধার রাম রহিমের সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি রুপি। তার ডেরাতে রয়েছে ৭০০ একর চাষযোগ্য জমি, স্কুল, কলেজ, মাল্টিপ্লেক্স, রেস্তোরাঁ, রির্সোট, শপিংমল, হাসপাতাল এমনকী পেট্রোল পাম্পও। ভারতসহ বিদেশে ২৫০টি আশ্রম রয়েছে রাম রহিমের।

    (ঢাকাটাইমস/৩১আগস্ট/জেএস)

  7. 12
    এস. এম. রায়হান

    ধর্মগুরুর ডেরায় পানির নিচে ‘যৌন গুহা’

    ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের হরিয়ানার সিরসার ডেরায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। ভারতের বিতর্কিত এই ধর্মগুরুর বিলাসী জীবনের নানা কাহিনি প্রকাশ পাচ্ছে। তাঁর ডেরায় পানির নিচে গোপন ‘সেক্স কেভ’ বা ‘যৌন গুহার’ সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    আজ শুক্রবার রাম রহিমের ডেরায় শত শত আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ ও ভিডিওচিত্র সাংবাদিকের বিশাল একটি দল অভিযান চালায়। মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা সম্পদ খোঁজার জন্য সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল খননযন্ত্র। 

    গোপন গুহায় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করতেন রাম রহিম। জোর করে সেখানে নারীদের নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্তা করা হতো। ডেরার প্রাসাদ চত্বরে যে সুইমিং পুল রয়েছে, তার নিচেই ওই ‘যৌন গুহা’ গড়ে তুলেছিলেন ডেরাপ্রধান রাম রহিম। 

    অভিযানের প্রথম দুই ঘণ্টার মধ্যে ডেরা থেকে অর্থ, নিষিদ্ধ মুদ্রা, হার্ড ডিস্ক, কম্পিউটারসহ বিপুল পরিমাণ অর্থ জব্দ করা হয়। প্রায় ৮০০ একর জায়গার ওপর গড়ে ওঠা ‘ডেরা সচ্চা সৌদা’র দুটি কক্ষ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে সাবেক বিচারপতি এ কে এস পাওয়ারের নেতৃত্বে ডেরার বাইরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, কমান্ডো, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রস্তুত ছিল।

    ডেরার ভেতর দুই অনুসারীকে ধর্ষণের দায়ে গত সপ্তাহে ‘রকস্টার গুরু’ রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

    রাম রহিমের ওই ডেরায় আইফেল টাওয়ার, তাজমহল, ক্রেমলিন ও ডিজনি ওয়ার্ল্ডের অনুকরণে স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। ডেরার ভেতরের ওই ডিজনি ওয়ার্ল্ডে রাম রহিমের পালক মেয়ে হানিপ্রীত ইনসানের প্রবেশাধিকার ছিল। এ ছাড়া অল্প কয়েকজন বিশ্বস্ত সহযোগী ছাড়া সেখানে আর কারও প্রবেশাধিকার ছিল না। এ ছাড়া সাত তারকা মানের ‘এমএসজি রিসোর্ট’ এবং সব জায়গায় ডেরাপ্রধানের পোস্টার লাগানো আছে। ডেরার ভেতরে রয়েছে একটি ‘আন্তর্জাতিক স্কুল’, দোকান, একটি হাসপাতাল, একটি স্টেডিয়াম, ঘরবাড়ি এবং একটি সিনেমা থিয়েটার, যেখানে রাম রহিমের ‘এমএসজি’ চলচ্চিত্রগুলো দেখানো হয়।

    ডেরার ভেতরে একটি গোলাপি ভবন রয়েছে, যা রাম রহিমের কুখ্যাত ‘গুফা’ (গুহা) নামে পরিচিত। ওই বাড়িতেই তাঁর নারী অনুসারীদের ধর্ষণ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সবকিছুই অনুসন্ধান করা হবে। হরিয়ানার পুলিশপ্রধান বি এস সন্ধু বলেন, ‘ডেরা প্রাঙ্গণ একটি বিশাল এলাকা। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় লাগবে।’

    এ অভিযানকে কেন্দ্র করে ডেরা এলাকার কাছাকাছি একাধিক তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের সহিংসতা রোধে সিরসা শহরে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের পাশাপাশি ৪০ সোয়াত কমান্ডো, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ডগ স্কোয়াড সতর্ক অবস্থায় আছে।

    গত ২৫ আগস্ট সিবিআইয়ের বিশেষ আদালতে রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার দিন পঞ্চ কুলা ও সিরসায় বড় আকারের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তখন ৩৮ জন নিহত হয় বলে পুলিশ জানায়। তখন থেকেই হরিয়ানাজুড়ে শতাধিক স্থানে পুলিশ অভিযান চালায়। কয়েকটি স্থান থেকে অস্ত্রও পাওয়া গেছে। 

    গত ২৫ আগস্ট দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন রাম রহিম। এরপর দুটি মামলায় ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। 

    তথ্যসূত্র: জি নিউজ।

  8. 11
    এস. এম. রায়হান

    নারীদের ধর্ষণ করে ‘শুদ্ধ’ করতেন গুরমিত রাম!

    ডেরায় নারীদের ধর্ষণ করে ‘শুদ্ধ’ করতেন বলে অনুসারীদের কাছে দাবি করতেন রাম রহিম। দুই অনুসারীকে ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বিরুদ্ধে আদালতে এমনই তথ্য দেন ধর্ষণের শিকার এক নারী। আরও অনেকের মতো এই নারীও রাম রহিমের ডেরার ‘সাধ্বী’ ছিলেন।

    ওই নারী আদালতে বলেন, রাম রহিম নারী অনুসারীদের ধর্ষণের আগে বলতেন, তাঁরা পূর্বের কৃতকর্মের জন্য অপবিত্র হয়ে আছেন। তিনি ‘ঈশ্বর’, তাঁর সঙ্গে থাকলে ওই নারীরা ‘শুদ্ধ’ হবেন। পূর্বের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা মিলবে এতে।

    আদালতের রায়ে ওই নারীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ধর্ষণের ঘটনার আগে ওই নারীকে কিছু ‘সাধ্বী’ জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে পিতাজি (রাম রহিম) তাঁকে ‘মাফি’ দিয়েছেন কি না? তবে সে সময় তিনি এ প্রশ্নের অর্থ বুঝতে পারেনি। ওই নারীদের কাছে মানে জানতে চাইলে তাঁরা হাসতেন।

    ১৯৯৯ সালের ২৮ ও ২৯ আগস্ট ওই নারীর ডাক পড়ে রাম রহিমের ডেরায়। সেদিন কী ঘটেছিল, তার বর্ণনা দেন ওই নারী। রাম রহিম তাঁকে ধর্ষণ করেন। আর এর পরেই তিনি বুঝতে পারেন ‘মাফি’র অর্থ কী।

    দ্বিতীয়বার যখন রাম রহিমের কক্ষে ওই নারীর ডাক পড়ে, তিনি যেতে চাননি। পরে বাধ্য হয়ে তাঁকে যেতে হয়। তিনি সবকিছু তাঁর ভাইয়ের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেন রাম রহিমকে। ওই নারীর ভাইও রাম রহিমের ডেরায় থাকতেন। জবাবে রাম রহিম বলেন, তোমার ভাই এ কথা বিশ্বাস করবে না। আর যদি বিশ্বাস করে, তাহলে তাঁকে হত্যা করা হবে।

    ওই নারী বলেন, দ্বিতীয়বারের প্রায় ছয় মাস পর আবারও রাম রহিমের কক্ষে ডাক পড়লে তিনি তাঁর ভাইকে সবকিছু খুলে বলেন। পরে ওই ভাই তাঁর আরও দুই বোনসহ ডেরা থেকে পালিয়ে যান।

  9. 10
    Saddam hossain Pavel

    ধন্যবাদ রায়হান ভাই, খুব সুন্দর উপস্হাপনা করেছেন। আপনার লেখাগুলো আমার কাছে খুবই ভাল লাগে। সত্যি বলতে গেলে 'সদালাপের' প্রত্যেকটা লেখকদ্বয়-কে আমার খুব ভাল লাগে। আমি সদালাপ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।

    আমি একটি  বিষয় লক্ষ্য করলাম, 'মুক্তমনা গং'-এর সকলেই ছুপা হিন্দু এবং ইসলাম বিদ্বেষী ; এদের  যত  চুলকানি সব ইসলামকে ঘিরে-ই।  এখন প্রশ্ন রয়ে যায় , এই সকল 'নাস্তিক লেবাসধারী ইসলাম বিদ্বেষীরা'  কিসের  উদ্দেশ্যে  ইসলাম  বিদ্বেষীতা  করছে? বিনিময়টা কী?

    আমরা না হয়  ইালাম  প্রচার  করছি  সওয়াব/জান্নাতের  আশায়। কিন্তুু 'মুক্তমনারা' ইসলাম বিদ্বেষীতা করছে কিসের আশায়? নাস্তিকতা প্রচার করছে কিসের আশায়? নাকি ইনারা একেকজন খৃষ্টান মিশনারিদের দালালা?

     

  10. 9
    এস. এম. রায়হান

    রাম রহিমের এক মরিচ হাজার রুপি!

    একটি কাঁচা মরিচ কত রুপি খরচ করে কিনবেন—এমন প্রশ্নের উত্তর আসবে হয়তো, একটি মরিচ বিক্রি করবে কে? হ্যাঁ, একটি মরিচও বিক্রি হয়, তাও আবার হাজার রুপি দামে। দুই অনুসারীকে ধর্ষণের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং ভক্তদের কাছে একটি কাঁচা মরিচ এক হাজার রুপিতে বিক্রি করতেন। শুধু মরিচ নয়, মটরশুঁটি, বেগুন, পেঁপেও প্রায় এমন দামে বিক্রি করতেন তিনি।

    হরিয়ানায় সিরসার ডেরায় রাম রহিম সবজি চাষ করতেন। আর সেই সবজি প্রায় সোনার দামে ভক্তদের কাছে বিক্রি করতেন। ভারতীয় নিউজ চ্যানেল এবিপি নিউজে এ কথা জানানো হয়। এবিপিতে প্রচারিত সংবাদের একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, রাম রহিমের ডেরার ভেতরে বিশাল বাগান। সেই বাগানে সবজির চাষ করতেন রাম রহিম। জমি চাষ, মই দেওয়াসহ সবজিখেতের পরিচর্যা অন্যদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নিজেই করতেন। আর ওই সবজি চড়া মূল্যে ভক্তদের কাছে বিক্রি করতেন তিনি।

    ওই ভিডিওচিত্রে বলা হয়, রাম রহিম তাঁর ভক্তদের বলতেন, ডেরার বাগানের সবজি হলো ‘ঈশ্বরের প্রসাদ’। ভক্তরাও তা বিশ্বাস করতেন। আর এই সুযোগেই সোনার দামে তাঁদের কাছে সবজি বেচতেন রাম রহিম। ডেরার ভেতর একটি কাঁচা মরিচের বিক্রি হতো এক হাজার রুপিতে। মটরশুঁটির ১০টি দানার মূল্য দুই হাজার রুপি, একটি ছোট্ট বেগুন এক হাজার রুপি। এ ছাড়া বেগুনের আকার বড় হলেই দ্বিগুণ হারে দাম বেড়ে যেত। একটি পেঁপে পাঁচ হাজার আর দুটি টমেটো দুই হাজার রুপিতে বিক্রি হতো। ডেরার বিশ্বস্ত এক ভক্তকে দিয়ে অন্য ভক্তদের বাড়ি বাড়ি ওই সবজি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতেন রাম রহিম। মাসে দুবার এই সবজি ভক্তদের কাছে সরবরাহ করা হতো। ভক্তরা ডেরার বাগানের মটরশুঁটির একটি দানা কিনতে পারলেই নিজেকে ধন্য মনে করতেন। ‘ঈশ্বরের প্রসাদ’ মনে করে সব ভক্তই ওই সবজি কিনতেন। আর এভাবে ভক্তদের সঙ্গে প্রতারণা করে লাখো অর্থ হাতিয়ে নিতেন রাম রহিম।

    গত ২৫ আগস্ট দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় রাম রহিমকে। এরপর নেওয়া হয় রোহতক শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের সানোরিয়া কারাগারে। এতে রাম রহিমের সমর্থকেরা পঞ্চকুলা এলাকায় তাণ্ডব শুরু করেন। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩১ জন নিহত ও ২৫০ জন আহত হন। পরে ২৮ আগস্ট রাম রহিমকে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন সিবিআই আদালত।

  11. 8
    হাফিজ

    খুবই ভালো হয়েছে লেখাটি।

  12. 7
    Md Amir

    ধন্যবাদ রায়হান ভাই । অনেক কিছু জানলাম।

  13. 6
    এস. এম. রায়হান

    স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে ‘আত্মঘাতী’ নিয়োগ ডেরায়! চাঞ্চল্যকর নথি প্রকাশ্যে

    -- আনন্দবাজার পত্রিকা

    আত্মঘাতী বাহিনী শুধু সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর থাকে না। ধর্মগুরুদেরও থাকে।

    ডেরা সচ্চা সৌদার প্রধান জেলে যাওয়ার পর থেকে ডেরার যে সব গোপন নথিপত্র সামনে আসছে, তা থেকেই উঠে আসছে এই তথ্য। রীতি মতো ‘আত্মঘাতী বাহিনী’ তৈরি করে ফেলেছিলেন ডেরা অনুগামীরা। স্ট্যাম্প পেপারে হলফনামা লিখে ‘আইনসম্মত’ ভাবে ‘আত্মঘাতী বাহিনী’র সদস্য করা হয়েছিল অনেককে। বাবা রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার তদন্ত গতি পেতেই সেই বাহিনীকে আবার সক্রিয় করে তোলা হচ্ছিল। গোয়েন্দাদের কাছে তেমনই খবর ছিল। এ বার হাতেনাতে তার প্রমাণও মিলতে শুরু করেছে।

    ‘‘ডেরা সচ্চা সৌদা যে মানবতার জন্য কাজ করে, সেই মানবতার জন্য আমি আমার জীবনকে উৎসর্গ করেছি। আমি যদি কোনও দুর্ঘটনায় বা অন্য কোনও কারণে মারা যাই, তা হলে আমিই তার জন্য দায়ী থাকব। আমার মৃত্যুর জন্য অন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না। ডেরা সচ্চা সৌদাও আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে না। আমার মৃত্যুর জন্য আমার উত্তরসূরিরা বা আমার পরিবারের কেউ ডেরা সচ্চা সৌদাকে দায়ী করতে পারবে না।’’ হরিয়ানার সিরসার এক বাসিন্দার সই করা হলফনামা এটি। রেজিস্টার্ড স্ট্যাম্প পেপারের উপর এই বয়ান লিপিবদ্ধ। নীচে সই করেছেন ইন্দু নামে এক জন।

    একটা নয়, এই রকম হলফনামা শ’য়ে শ’য়ে রয়েছে বলে খবর। গুরমিত রাম রহিম সিংহ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ধর্ষণ মামলায় জেলে গিয়েছেন। তার পর থেকেই সিরসায় ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দফতরের অন্দরমহলের নানা চাঞ্চল্যকর খবর বাইরে আসতে শুরু করেছে। ডেরা সচ্চা সৌদার জন্য তাঁরা মরতে প্রস্তুত এবং মৃত্যুর জন্য মৃত নিজেই দায়ী থাকবেন, এমন বয়ানে অনুগামীদের দিয়ে সই করিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, এই তথ্য সাম্প্রতিকতম সংযোজন।

    গুরমিত রাম রহিম সিংহের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত গতি পেতেই আত্মঘাতী বাহিনীকে সক্রিয় করে তোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের দাবি। যাঁরা হলফনামায় তথা সুইসাইড নোটে সই করছিলেন, তাঁরা যে কোনও অঘটন ঘটাতে প্রস্তুত ছিলেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল। তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলা চালাতেও এই ডেরা অনুগামীরা প্রস্তুত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

    ২০০৫ সালে শীলা রানি নামে এক ডেরা অনুগামী হলফনামায় সই করে আমরণ অনশনের কথা ঘোষণা করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। সিরসার বাসিন্দা শীলা রানি হলফনামায় লিখেছিলেন, ‘‘প্রায় তিন বছর ধরে সিবিআই ডেরার বিষয়ে তদন্ত করছে এবং তদন্তকারীরা ডেরা প্রধানকে, ডেরার ম্যানেজারদের এবং সেবাদারদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। কারও কাছ থেকে কোনও চাপে না পড়েই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সিবিআই মামলাগুলি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমি অনশন করব। তাতে যদি আমি মারা যাই, তা হলে তার জন্য আমি নিজেই দায়ী থাকব…।’’

    পুলিশ-প্রশাসন ডেরা সচ্চা সৌদার এই ‘আত্মঘাতী বাহিনী’র কথা জানত না, এমন কিন্তু নয়। গোয়েন্দাদের কাছে খবর আগেই ছিল। মোকাবিলার কৌশলও সম্ভবত স্থির করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও অকাট্য প্রমাণ হাতে ছিল না। রাম রহিম গ্রেফতার হওয়ার পর খুলে গিয়েছে প্যান্ডোরার বাক্স।

  14. 5
    এস. এম. রায়হান

    ধর্মগুরু রাম রহিমের আচরণ জঙ্গলের জানোয়ারের মতো: ভারতের আদালতের বিচারক -- BBC বাংলা

    দুজন নারী শিষ্যকে ধর্ষণের দায়ে ভারতের বিতর্কিত ধর্মীয় গুরু গুরমিত রাম রহিম সিং-কে ২০ বছরের সাজা দিয়েছে দেশটির আদালত।

  15. 4
    এস. এম. রায়হান

    ধর্মগুরু গুরমিত রামের ডেরায় মিলল বিপুল পরিমাণ কনডম!

    দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের দায়ে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া ভারতের কথিত ধর্মগুরু রাম রহিমের ডেরায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কনডম ও জন্মনিরোধক ওষুধ জব্দ করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই)।

    হাফিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা এম নারায়ণ একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন।

    এম নারায়ণ বলেন, ‘তাঁর (রাম রহিম) কক্ষে বিপুল পরিমাণ কনডম ও জন্মনিরোধক বড়ি মজুত করা ছিল। তিনি একজন উন্মাদ। বন্য পশুর মতো।’

    এদিকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রায় ঘোষণার সময় আদালতে গুরমিত রাম রহিম নিজেকে নপুংসক বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সাল থেকে আমি শারীরিকভাবে অক্ষম, নপুংসক। আমার পক্ষে কাউকে ধর্ষণ করা সম্ভব নয়।’ এ সময় আদালত বলেন, আপনি মিথ্যে বলছেন, কারণ আপনার সন্তান আছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা এম নারায়ণ ও তাঁর তদন্তদলকে রাম রহিমের সমর্থকেরা হুমকি দিচ্ছেন। এরপরই নারায়ণ সিরসার ডেরায় রাম রহিমের বিলাসী জীবনের বিস্তারিত বিবরণ দেন।

    নারায়ণ বলেন, যৌন নির্যাতনের কারণে ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ২০০ নারী রাম রহিমের ডেরা ছেড়ে গিয়েছিলেন। তদন্ত সংস্থা সিবিআই তাঁদের মধ্যে মাত্র ১০ জনকে খুঁজে পেয়েছে। তাঁদের মধ্যেও মাত্র দুজন নারীকে দিয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করাতে পেরেছে।

    মামলার এই প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ডেরার ভেতর রাম রহিম মধ্যযুগীয় রাজাদের মতো জীবনযাপন করতেন। তাঁর কক্ষ সব সময় নারীদের (সাধ্বী) দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকত। রোজ রাত ১০টার দিকে তিনি প্রধান সাধ্বীকে ফোন করে একজন অল্প বয়সী মেয়েকে তাঁর কক্ষে পাঠানোর জন্য বলতেন। ধর্ষণ মামলায় রায় হওয়ার পর ডেরা থেকে ১৮ জন নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তারাও ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না, তা জানতে ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হবে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, রাম রহিমের এই কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনেকেই জানতেন। কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করায় তিনি অগণিত মানুষের প্রিয় হয়ে ওঠেন। দেশজুড়ে তাঁর লাখো অনুসারী তৈরি হয়। যা ছিল একটি বিশাল অঙ্কের ভোট ব্যাংক। এই ভোট ব্যাংককে কাজে লাগাতে অনেক রাজনীতিক ও সাংসদেরাও রাম রহিমের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মুখ বুজে থাকতেন।

    নারায়ণ বলেন, তবে এ ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সব বাধা উপেক্ষা করে আইনের পথে চলতে তিনি সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

    গত শুক্রবার দুই নারী ভক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয় রাম রহিমকে। এরপর নেওয়া হয় রোহতক শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের সানোরিয়া কারাগারে। এতে রাম রহিমের সমর্থকেরা পঞ্চকুল এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩১ জন নিহত ও ২৫০ জন আহত হয়। পরে গত সোমবার রাম রহিমকে দুটি মামলায় ১০ বছর করে ২০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেন সিবিআই আদালত।

  16. 3
    এম_আহমদ

    প্রথমে আপনার লেখাটির প্রশংসা করি, কেননা এই ধরণের লেখায় চলতি বিষয়ের উপর হিস্টরিওগ্রাফির মত একটা কাজ হয়ে যায় –এতে উদাহরণসহ অনেক ঘটনা একত্রে দেখার সুযোগ থাকে। আপনার হাতে ভন্ডমনাদের অনেক নামি-বেনামি গরিলা প্রোপাগান্ডা  ও মিথ্যাচারের ইতিহাস উদ্ধৃতিসহ এই সদালাপে লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। এবারে আমরা যে কয়টি চান্দুর উদ্ধৃতি পাচ্ছি এরা হল:

    Supriti Dhar

    Kuloda Roy

    Omar Farooq Lux

    Rajesh Paul

    Susupto Pathok

    Sourav Banerjee

    Mohamed Rohijul Islam

    Poresh Roy

    Saad Julkarnain

    এই চান্দুগুলো হিন্দু ধর্মের কাহিনীতে লজ্জিত হয়ে ইসলামকে এসোসিয়েট করতে চাচ্ছে, অর্থাৎ তারা বলতে চাচ্ছে এখানকার অপ্রিয় কাণ্ড দেখে আপনাদের চোখ যেন এখানেই নিবদ্ধ হয়ে না যায়; চোখগুলো অন্য দিকে নিবদ্ধ করুন। ইসলামের দিকে একটু তাকান। দেখুন সেখানে শফি রয়েছেন, সাইদী রয়েছেন, ধর্ম-গুরু ফরহাদ মাযহার রয়েছেন! এই চান্দুদের কাণ্ডজ্ঞান ও যুক্তির নমুনা এভাবেই। এভাবেই তারা বিদ্বেষ প্রচার করে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

    তবে ধর্মগুরু গুরমিতের ব্যাপারটিকে আমি ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখি। এটা সত্য হয়ে থাকতে পারে যে সে কিছু নারীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক ছিল। এমন কাজ অনেক খ্রিষ্টীয়ান কনভেন্টে হত, এবং এখনও মাঝে মধ্যে হয় বলে শুনা  যায়। তবে, আনন্দ বাজারে প্রকাশিত চিঠির বিবরণ আমার কাছে সন্দেহ জনক। ওই মেয়েটিও অন্যান্য মেয়েদের মত হয়ত “গুরমিত-ঈশ্বরের”সাথে সানন্দে সময় কাটিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু যা প্রায়ই হয়ে থাকে তা হল ঈর্ষা, বিবাদ ইত্যাদি। এই জাতীয় কোন কিছু কোন পর্যায়ে ঢুকে গিয়ে থাকতে পারে যা একাধিক স্ত্রীদের ক্ষেত্রে, এমন কি এক স্ত্রীর ক্ষেত্রেও স্বামী-স্ত্রীতে ঘটে। তারপর উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং এক পর্যায়ে পায়তারা চলে কে কাকে কীভাবে ধ্বংস করবে তার। ঐ মেয়েটির চিঠিতে দেখা যায় গুরুমিত তাকে ‘ধর্ষণ’ করার আগে রাত ক্ষমতার ফিরিস্তি দিচ্ছে, তার গুণ্ডা দিয়ে কাকে কাকে খুন করিয়েছে –এমনসবের উদাহরণ টানছে: তাকে বাগিয়ে আনার জন্য। কিন্তু গুরমিত যে ক্ষমতার অধিকারী সেই ভিত্তি সামনে রাখলে তার জন্য এত বকবক করার দরকার হয় না, তার নিজেকে খিনি, ধর্ষক, মন্দ-লোক ইত্যাদি সামনে আনতে হয় না। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক যে ঐ কনভেন্টে গুরুমিত মহারাজ। তার সাথে রাত্রি যাপনের জন্য অনেক মেয়ে আগ্রহীই থাকবে। সেখানে এই কাজের সহায়ক একটি নারী-রিজিম থাকবে। সুতরাং ওই গল্পে আমি সন্দিহান। গল্পটি মামলা করার নিমিত্তে সাজানো –তা সততই দেখা যাচ্ছে।

    আমাদের গত শতাব্দীর শেষ থেকে ধর্ম নির্মূলের একটি বৈশ্বিক আন্দোলন শক্তভাবে চলছে। মিডিয়া এর পুরোহিত। কোথাও কিছু ঘটলে তা বড় আকারে আস্তিকদের বিপক্ষে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে প্রচার করা হয়। হিন্দু ধর্মে যে যৌন-নৈতিকতা রয়েছে তাতে প্রেমলীলা সেই নৈতিকতাকে বিদ্ধ করে বলে মনে হয় না। তারপর বাকি থাকে গুরমিত সত্যিই জোরপূর্বক সেই কাজটি করেছিল কি না। তার কনভেন্টে যে সংস্কৃতি তৈরি হয়ে থাকবে এবং তাতে তাকে অর্থাৎ গুরমিত-ঈশ্বরকে নিভৃতে পাওয়ার আবেগও বড় আকারে গড়ে উঠে থাকবে এবং তার সাথে যৌন-সম্পর্কে আধ্যাত্মিকতার সম্পর্ক ও আত্মিক উন্নতির কথাও ‘বাতাসে’ উড়ে বেড়াবে। All these come in a package in such places, contexts and cultures. সুতরাং আমি বলব কোথায় কোন দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং গুরমিতের কপাল পুড়েছে!  

    নারী নিয়ে খেলা এক সাংঘাতিক বিষয়। গুরমিত কোন ছাই, অনেক বড় বড় রাজত্ব, এটাকে কেন্দ্র করে ধ্বংস হয়েছে, অনেক বড় বড় সেনাবাহিনী নারী-কাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে পরাজিত হয়েছে।  

    1. 3.1
      এস. এম. রায়হান

      আপনার বিস্তারিত মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      …সুতরাং ওই গল্পে আমি সন্দিহান। গল্পটি মামলা করার নিমিত্তে সাজানো –তা সততই দেখা যাচ্ছে।

      প্রথমত- দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে গুরমিত রামের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

      দ্বিতীয়ত- ঘটনা শুধু একজন নারীকে নিয়ে নয়। আদালতে কমপক্ষে দু'জন নারী সাক্ষী দিয়েছে। সেই সাথে কিছু প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে আরো অনেক নারীই তার ধর্ষণ-লালসার শিকার হয়েছে। কিন্তু জীবনের ভয়ে তারা মুখ খোলেনি।

  17. 2
    মজলুম

    তারা যতই নিজেদের মুক্তমনা বলুক না কেন, এরা আসলে ডগমাটিক। এদের মূল ডগমা হলো ইসলাম এবং মুসলিমরাই সবচেয়ে খারাপ। সেই ডগমা থেকে এরা অমুসলিমদের খারাপ কর্মকান্ডে ইসলাম ও মুসলিমদের ঢুকিয়ে দিয়ে বুঝাতে চায় আসলে মুসলিমরাই খারাপ। প্রি-কনচিভ নোশনেই বা ডগমাটিক বিশ্বাস ইসলাম ও মুসলিমদের উপর থাকায় এমন হয়, তাই এরা যতই নিজেদের মুক্তমনা বলে দাবী করুক তা হলো চরম মিথ্যা। তাছাড়া সাইকোলোজীক্যালী মানুষদের পক্ষে মুক্তমনা তথা ফ্রী থিংকিং কখনৈ সম্ভব না। হার্ভার্ডের সাইকোলোজি প্রফেসর একটা বই ও লিখেছেন এটা নিয়ে।

    এর বাইরে আছে ছদ্ববেশী হিন্দুত্ববাদি কাপুরুষগুলো। নামে বেনামে আইডি খুলে এরা ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ব মিথ্যাচার করে যাচ্ছে রাত দিন। যতই দিন যাচ্ছে এরা ততই কুৎসিত হতে কুৎসিততর হয়ে যাচ্ছে।

    এদের জন্য অবশ্যই খুশির খবর, রাম রহিম সিং এখন ভারতের নেক্সট প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্যে পারফেক্ট ক্যান্ডিডেট। ২০০২ সালে সে দাঙ্গা আর ধর্ষন করে প্রধানমন্ত্রী হয়েছে মোদি, আর রাম রহিম সিংতো বিভিন্ন কুকর্মের সূচক আর মানদন্ডে মোদি থেকেও এগিয়ে আছে।

  18. 1
    এস. এম. রায়হান

    ধর্মগুরু গুরমিত রামের দ্বারা ধর্ষণের শিকার এক নারীর করুণ চিঠি, পড়লে শিউরে উঠবেন!
    ——————————
    শ্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী
    প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লি
     
    আমি পঞ্জাব থেকে আসা মেয়ে। সিরসা (হরিয়ানা)-র ডেরা সচ্চা সৌদায় একজন সাধ্বী হিসেবে সেবা করে চলেছি গত ৫ বছর ধরে। আমার মতো আরও কয়েকশো মেয়ে এখানে রয়েছেন, যাঁরা প্রতি দিন ১৮ ঘণ্টা করে সেবা করে চলেছেন।

    কিন্তু এখানে আমরা যৌন নির্যাতনের শিকার। ডেরায় মেয়েদের ধর্ষণ করেন ডেরা মহারাজ (গুরমিত সিংহ)। আমি একজন স্নাতক। ডেরা মহারাজের উপরে আমার পরিবারের অন্ধ বিশ্বাস। পরিবারের সেই অন্ধবিশ্বাসের জেরেই আজ আমি একজন সাধ্বী। সাধ্বী হওয়ার বছর দুয়েক পর এক দিন রাত ১০টা নাগাদ হঠাৎ এক মহিলা ভক্ত আমার ঘরে আসেন। জানান, মহারাজ আমাকে ডেকেছেন। মহারাজ স্বয়ং ডেকে পাঠিয়েছেন শুনে খুব উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলাম। সাধ্বী হওয়ার পর সেটাই তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে তাঁর ঘরে ঢুকি। দেখলাম ওনার হাতে একটা রিমোট এবং টিভিতে তিনি ব্লু ফিল্ম দেখছেন। বিছানায় তাঁর বালিশের পাশে একটা পিস্তল রাখা ছিল। এ সব দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম। এর পর মহারাজ টিভিটা বন্ধ করে দেন। আমাকে ঠিক তাঁর পাশে নিয়ে গিয়ে বসান। খাওয়ার জন্য এক গ্লাস জল দেন। তার পর খুব আস্তে করে বলেন, ডেকে পাঠানোর কারণ আমাকে তিনি নিজের খুব কাছের বলে মনে করেন। এটাই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা।

    এর পরই তিনি এক হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে তাঁর আরও কাছে টেনে নেন। কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলেন, আমাকে তিনি হৃদয়ের গভীর থেকে ভালবাসেন। আমার সঙ্গে সহবাস করতে চান। বলেন, তাঁর শিষ্যা হওয়ার সময়ই আমার সমস্ত সম্পদ, আমার শরীর এবং আত্মা তাঁর কাছে উৎসর্গ করেছি এবং তিনি তা গ্রহণও করেছেন। আমি বাধা দিলে তিনি বলেন, ‘আমি ঈশ্বর, এতে তো কোনও সন্দেহ নেই।’ আমি তাঁকে বলি, ঈশ্বর কখনও এ রকম করেন না। আমাকে বাধা দিয়ে তিনি বলেন:

    ১) শ্রীকৃষ্ণও ঈশ্বর। তাঁর ৩৬০ জন গোপী ছিলেন। যাঁদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণ প্রেমলীলা করতেন। আমাকেও সবাই ঈশ্বর বলে মানে। এতে এত অবাক হওয়ার কিছু নেই।

    ২) আমি তোমাকে এখনই এই পিস্তল দিয়ে খুন করতে পারি। তোমার লাশ এখানেই পুঁতে দেব। তোমার পরিবারের প্রতিটা সদস্য আমার অন্ধ ভক্ত। তুমি খুব ভাল করেই জানো, তাঁরা কখনই আমার বিপক্ষে যাবেন না।

    ৩) সরকারের উপরেও আমার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। পঞ্জাব, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রের অনেক মন্ত্রীও আমার কাছে আসেন। আমার প্রতি তাঁদের ভক্তি দেখান। রাজনীতিবিদরা আমার কাছ থেকে সাহায্য নিতে থাকেন। সুতরাং তাঁরাও আমার বিরুদ্ধে কোনও রকম পদক্ষেপ করবে না। আমি তোমার পরিবারের সদস্যদের সরকারি চাকরি কেড়ে নেব এবং তাঁদের সেবাদার দিয়ে খুন করাব। আর সেই খুনের কোনও প্রমাণ থাকবে না। তুমি খুব ভাল করেই জানো, ডেরা ম্যানেজার ফকিরচাঁদকেও আমি গুন্ডা দিয়ে খুন করিয়েছি। এখনও সেই খুনের কিনারা হয়নি। ডেরার দৈনিক আয় এক কোটি। এই টাকা দিয়ে আমরা রাজনীতিক নেতা, পুলিশ এমনকি বিচারক সকলকেই কিনে ফেলতে পারি।

    ঠিক এর পরই মহারাজ আমাকে ধর্ষণ করেন। গত তিন বছর ধরেই মহারাজ এ ভাবে আমাকে ধর্ষণ করে আসছেন। প্রতি ২৫ থেকে ৩০ দিন অন্তর আমার পালা আসে। আমি জানতে পেরেছি, আমার মতো যত জন সাধ্বীকে তিনি তলব করেছেন, তাঁদের সকলকেই ধর্ষণ করেছেন। বেশিরভাগেরই বয়স এখন ৩০ থেকে ৪০। বিয়ের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। তাঁদের কাছে এখন ডেরার এই আশ্রয় ছাড়া আর কোনও অবলম্বন নেই।

    এই সমস্ত মহিলাদের বেশিরভাগই শিক্ষিত। কারও স্নাতক তো কারও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। কিন্তু তাঁরা তা সত্ত্বেও এই নরকবাস করছেন। কারণ একটাই, মহারাজের উপরে তাঁদের পরিবারের অন্ধ বিশ্বাস। আমরা সাদা পোশাক পরি, মাথায় স্কার্ফ বাঁধি, পুরুষদের দিকে চেয়ে দেখি না। পুরুষদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে ৫-১০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখি। কারণ, এ সবই মহারাজের ইচ্ছা। তাঁর কথা মতোই আমরা এখানে চলাফেরা করি। সাধারণ মানুষ আমাদের দেবী গণ্য করেন। কিন্তু তাঁরা জানেন না, ডেরাতে আমরা আসলে রক্ষিতা। ডেরা এবং মহারাজের আসল সত্যিটা আমি আমার পরিবারকে জানানোর চেষ্টা করেছিলাম। তাতে তাঁরা আমাকেই বকাবকি করেন। জানান, ডেরায় স্বয়ং ঈশ্বরের (মহারাজ) বাস। সুতরাং এর থেকে ভাল জায়গা আর নেই। এবং ডেরা সম্পর্কে যেহেতু আমার মনে খারাপ ধারণা জন্মেছে, তাই আমার উচিত ‘সতগুরু’-র নাম করা। শেষ পর্যন্ত আমাকে মহারাজের সমস্ত আদেশ পালন করতেই হয়, কারণ আমি সব মিলিয়ে অসহায়।

    এখানে কাউকেই অন্যদের সঙ্গে বেশি কথা বলতে দেওয়া হয় না। পাছে ডেরার সত্য ফাঁস হয়ে যায়, তাই টেলিফোনেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। কোনও সাধ্বী যদি মহারাজের এই আচরণ ফাঁস করে দেন, তাহলে মহারাজের আদেশ মতো তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয়। কিছু দিন আগে, ভাতিন্দার এক তরুণী মহারাজের এই সমস্ত নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানান। মহারাজের নির্দেশে সমস্ত সাধ্বী মিলে তাঁকে বেধড়ক পেটান। মেরুদণ্ডে গুরুতর চোট নিয়ে তিনি এখন শয্যাশায়ী। তাঁর বাবা ডেরায় কাজ করতেন। কাজে ইস্তফা দিয়ে বাড়ি ফিরে যান। মহারাজের ভয়ে এবং আত্মসম্মানের কথা ভেবে মুখ খোলেননি।

    একই ভাবে, এই নির্যাতনের শিকার হন কুরুক্ষেত্রের এক তরুণীও। ডেরা ছেড়ে বাড়ি চলে যান তিনি। তাঁর কাছ থেকে এ সব কথা জানার পর তাঁর ভাইও ডেরার কাজ থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে যান। পঞ্জাবের সঙ্গরুর এক তরুণী সাহস করে বাড়ি ফিরে ডেরার ভয়ঙ্কর দিকটা সবাইকে জানিয়েছিলেন। পর দিনই ডেরার অস্ত্রধারী সেবাদার বা গুন্ডারা তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যান। মুখ খুললে তাঁকে খুনের হুমকি দেন।

    একই ভাবে মানসা, ফিরোজপুর, পাতিয়ালা এবং লুধিয়ানা থেকে এখানে আসা তরুণীরাও ভয়ে ডেরা নিয়ে কিছু জানাতে চাননি। তাঁরা ডেরা ছেড়ে চলে গিয়েছেন। কিন্তু তার পরও খুন হওয়ার ভয়ে মুখ বন্ধ করে আছেন। সিরসা, হিসার, ফতেয়াবাদ, হনুমানগড় এবং মেরঠের তরুণীরাও মুখে কুলুপ এঁটে রয়েছেন।

    আমিও যদি আমার নাম জানাই, তাহলে আমাকে এবং আমার পরিবারকে খুন করা হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থেই এই সত্য আমি সামনে আনতে চাই। এই মানসিক চাপ আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। খুব বিপদে রয়েছি। সংবাদমাধ্যম বা সরকারি কোনও সংস্থা যদি তদন্ত চালায়, তা হলে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন সাধ্বী এগিয়ে এসে এই সত্য জানাবেন আমি নিশ্চিত। আমাদের ডাক্তারি পরীক্ষা করা হোক। আমরা আদৌ সাধ্বী কি না তা জানা হোক। পরীক্ষায় যদি প্রমাণ হয় যে আমদের কুমারিত্ব নেই, তাহলে তদন্ত করে জানা হোক, কে আমাদের সতিত্ব হরণ করেছেন।

    তাহলেই সত্য বাইরে আসবে। মহারাজ গুরমিত রাম রহিম সিংহই যে আমাদের জীবন নষ্ট করেছেন তার প্রমাণ মিলবে।
     
    (২৫.০৯.২০০২ সালে ‘দেশ সেবক’ নামক পত্রিকায় এই চিঠিটা প্রকাশ পায়। মহারাজ রাম রহিমের নির্যাতন আর মেনে নিতে না পেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিটি লিখেছিলেন এক তরুণী সাধ্বী। সেই চিঠির খবর প্রকাশ্যে আসার পরই রাম রহিমের বিরুদ্ধে পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে সিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেয়।)

    সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Comments have been disabled.