«

»

Nov ১৮ ২০১২

বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ৫ – কোষের জটিলতা ৪(সরলতম কোষের জটিলতম সমস্যা!)

(চতুর্থ পর্বের পর)

গত পর্বে দেখানো হয়েছিল যে শুধুমাত্র ন্যূনতম অপরিহার্য অঙ্গাণুগুলো দিয়েও যদি কোষ গঠন করা হয় তবুও সেটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে চান্স দ্বারা সৃষ্টি হবার জন্য যথেষ্ট সরল নয় বরং একটু বেশিই জটিল। যদিও সেই জটিলতাকে সামান্য পরিমাণেই বর্ণনা করা হয়েছিল এমনকি তবুও তা ছিল যথেষ্ট পরিমানে জটিল। এখন আমরা শেষবারের মত দেখার চেষ্টা করবো যে একটি কোষের সরলতা সর্বনিম্ন কোন পর্যায়ে যেতে পারে।

 

প্রথমেই আমরা চিন্তা করি সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেনের কথা। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, অপরিহার্য ও জটিল একটি অংশ। আমরা ধরে নি যে সর্বপ্রথম কোষে এই অংশটি অত্যন্ত সরল প্রকৃতির ছিল। কিন্তু একটি কোষ যত সরলই হোক  না কেন এই অংশটি বা এই ধরনেরই কোন অংশের উপস্থিতি কোষে অবশ্যই থাকতে হবে। কোষে কোন না কোন ধরনের বাহ্যিক আবরনী থাকতেই হবে যা কোষের অভ্যন্তরীণ অঙ্গাণুসমূহকে বিভিন্ন প্রতিকূলতা যেমন- তাপমাত্রা, আলট্রাভায়োলেট রশ্মি এবং রেডিয়েশন ইত্যাদি থেকে রক্ষা করবে। এছাড়াও এই আবরণী কোষের বাহির থেকে ভিতরে এবং ভিতর থেকে বাহিরে রাসায়নিক পদার্থের আসা যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করবে। অর্থাৎ এই আবরণী কোষের জন্য এক প্রকারের ডিফেন্স সিস্টেম বা সুরক্ষা প্রক্রিয়া এবং একই সাথে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের আসা যাওয়ার জন্য এক ধরনের অটোম্যাটিক গেটওয়ে হিসেবে কাজ করবে। কোষের যদি এসকল কাজের জন্য কোন ধরনের আবরণী না থাকে তাহলে কোষ হয় প্রতিকূল পরিবেশের প্রভাবে অথবা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থের সাথে বিক্রিয়া করতে করতে ধ্বংস হয়ে পড়বে। সুতরাং আদি কোষের জন্য অবশ্যই প্রতিকূল পরিবেশ এবং রাসায়নিক পদার্থের থেকে রক্ষা করতে পারার মত কোন ধরনের আবরণী থাকা অপরিহার্য।

 

এবার একটু সাইটপ্লাজমের কথা চিন্তা করা যাক। সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন একে ঘিরে থাকে। এটি মূলত কোষের মূল দেহটিকে গঠন করে। কোষের অভ্যন্তরস্থ সকল অঙ্গাণুসমুহ এই সাইটোপ্লাজমেই ভেসে থাকে। এটি কোষের মূল কাঠামো গঠন করে বলেই একে জীবনের ভৌত ভিত্তি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এখন প্রথম কোষ যতই সরল হোক না কেন এর একটি নির্দিষ্ট বডি স্ট্রাকচার বা দেহ কাঠামো লাগবেই। কারন তা না হলে কোষ তার অভ্যন্তরস্থ অঙ্গাণুসমূহ ধারণ করার মত কিছুই পাবে না, কোষ নড়াচড়া করতে পারবে না, খাদ্য গ্রহন করতে পারবে না, বিভাজিত হতে পারবে না। মোট কথা কোন ধরনের কোষ দেহ না থাকলে কোষ বলে কিছুই গঠিত হবে না, হবে না কোষের বংশ বৃদ্ধি। অতএব কোষের কোন ধরনের বিবর্তনও হবে না। সুতরাং প্রথম কোষে অবশ্যই কোন ধরনের সরল কোষদেহ থাকা প্রয়োজনীয় যেখানে থাকবে কিছু সরল অঙ্গাণু।

 

এখন চিন্তা করা যাক কোষের শক্তি উৎপাদনের ব্যাপারে। একটি কোষকে বেঁচে থাকতে হলে অবশ্যই শক্তি উৎপাদনের প্রয়োজন পড়বে। এই শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি ধাপে হবে। প্রথম ধাপে কোষকে খাদ্য বা এমন কোন কিছু গ্রহন করতে হবে যা থেকে শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব। এরপর দ্বিতীয় ধাপে কোষ ওই খাদ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে শক্তিতে রূপান্তর করবে। এই শক্তি দিয়ে কোষের সমস্ত জৈবিক কাজ সম্পাদিত হবে। এই শক্তি কোষকে বেঁচে থাকতে, বিভাজিত হতে বা বংশবৃদ্ধি করতে, খাদ্য সংগ্রহ করতে এবং দেহের সকল অঙ্গাণুসমূহের কার্যকলাপ চালু রাখতে ব্যবহৃত হবে। শক্তি উৎপাদনের জন্য প্রথমেই কোষের এমন ধরনের কোন ডিটেকশন বা শনাক্তকরণ সিস্টেম থাকা লাগবে যা দ্বারা খাদ্যকে শনাক্ত করা যাবে। তবে তারও আগে দেহের যে খাদ্য বা শক্তির প্রয়োজন হয়েছে সেটা জানান দেওয়ার জন্যও কোষের ভিতরে আলাদা একটি সিস্টেম থাকা লাগবে যা হবে অনেকটা ফুয়েল মিটার এর মতই যা কিনা আবার জ্বালানির প্রয়োজনে জ্বালানি ফুরানোর আগেই অ্যালার্ম বা সতর্ক সংকেত দান করে। খাদ্য গ্রহন করার জন্য কোষকে প্রথমে খাদ্যের কাছে যাওয়া লাগবে। খাদ্যের কাছে যাওয়ার জন্য আবার কোষের চলন ক্ষমতা থাকা লাগবে যা সর্বপ্রথম কোষের জন্য অত্যন্ত অস্বাভাবিক হবে। ব্যাপারটা অনেকটা শিশুর জন্ম নেওয়ার সাথে সাথেই হাটা-চলার ক্ষমতা রপ্ত করার মত হবে! তবে এক্ষেত্রে কোষের চলনের ব্যাপারটি বাদ দেওয়া যায় এই চিন্তা করে যে বিবর্তনবাদীদের মতবাদ অনুসারে এক ধরনের কেমিক্যাল সুপ(অবশ্যই খাওয়ার সুপ নয়!) বা রাসায়নিক দ্রবনের মধ্যে প্রথম কোষের উৎপত্তি ঘটে। সুতরাং এই ধারনা করে নেওয়া যায় যে প্রথম কোষ উৎপন্ন হবার পর এই দ্রবনের রাসায়নিক দ্রব্যাদি থেকেই শক্তি উৎপাদনের উপাদান গ্রহন করতো। তাই চলনের প্রয়োজন পড়ত না। যাই হোক এরপর খাদ্যকে ভক্ষন বা গ্রহন করার জন্য আবার আর একটি সিস্টেম থাকা লাগবে। মানে ব্যাপারটা যেন এমন যে একটি শিশু জন্মের পরপরই নিজের খাদ্য নিজেই সনাক্ত ও জোগাড় করে নিজের হাতে খাওয়া শিখে গেছে! এরপর লাগবে এই খাদ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে শক্তিতে রূপান্তর করার মত কোন ধরনের সিস্টেম। অর্থাৎ কোষটিকে হতে হবে কোন ধরনের আণুবীক্ষণিক কেমিক্যাল ফ্যাক্টরির মত। এই শক্তি আবার কোথাও জমা রাখা লাগবে কারন তা না হলে শক্তি উৎপাদনের সাথে সাথেই তা ক্ষয় হয়ে যাবে এবং কোষের কার্যক্রম চালানোর জন্য আর কোন শক্তি থাকবে না। তার মানে কোষের শক্তি জমা রাখার জন্য রিচারজেবল ব্যাটারির মত একটি সিস্টেম থাকা লাগবে। আবার এই শক্তি সমগ্র কোষে বণ্টনের জন্য ইউপিএস(UPS) বা আইপিএস(IPS) এর মত আর একটি সিস্টেম থাকা লাগবে। শক্তি উৎপাদনের এই প্রক্রিয়ায় কিছু বর্জ্য অবশ্যই উৎপন্ন হবে। এই বর্জ্য কোষ থেকে বের করে দেবার জন্য আবার আর একটি সিস্টেম থাকা লাগবে যা একটি আণুবীক্ষণিক গারবেজ ডিসপোজাল সিস্টেমের সাথে তুলনীয়। অর্থাৎ আমরা কোষের সম্পূর্ণ খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়াটিকে একটি মাইক্রোস্কোপিক অটোম্যাটিক পাওয়ার প্ল্যান্ট বা স্বচালিত আণুবীক্ষণিক শক্তিকেন্দ্রের সাথে তুলনা করতে পারি। এই শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়াটি অবশ্যই কোষে থাকা লাগবে, কারন তা না হলে সেই কোষ তৈরি হবার একটি নির্দিষ্ট সময় পরই ধ্বংস হয়ে যাবে বিবর্তন বা বংশবৃদ্ধি না করেই। এখন এখানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। সর্ব প্রথম কোষ সৃষ্টি হলে এর অঙ্গাণুসমূহ সচল রাখার জন্য এবং এমনকি শক্তি উৎপাদনের জন্যও প্রাথমিক কিছু পরিমানে জমাকৃত ব্যাবহারযোগ্য শক্তি প্রয়োজন।
কিন্তু সেই প্রাথমিক ব্যাবহারযোগ্য জমাকৃত শক্তি কোষের অভ্যন্তরে কোথা থেকে এলো?!?

 

এবার কোষের বংশবৃদ্ধির কথাটা একটু ভাবা যাক। বর্তমান সময়ের সকল এককোষী প্রাণীরা বংশবৃদ্ধি করে কোষ বিভাজন দ্বারা। প্রথম কোষেও তার ব্যাতিক্রম হবার কথা না। বিশেষ করে যেহতু এই কোষই তৎকালীন সময়ের একমাত্র জীবিত কোন কিছু। প্রথম কোষের মডেল যদি বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম না হয় তাহলে বিবর্তনবাদ সাথে সাথে ভেঙ্গে পড়বে। সুতরাং প্রথম কোষে একদম শুরুতে অবশ্যই বিভাজন বা বংশবৃদ্ধির একটি সিস্টেম থাকা লাগবে। যদি প্রথম কোষের বিভাজন সিস্টেম শুরু থেকেই না থাকে তাহলে সে কোষের কোন ধরনের বিবর্তন বা পরিবর্তন হবার আগেই কোষের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।

 

এখন কোষের নিয়ন্ত্রক নিয়ে একটু কথা বলা যাক। একটি কোষ যত প্রাচীন এবং সরলই হোক না কেন কোষে অবশ্যই একটি কেন্দ্রীও নিয়ন্ত্রক থাকতে হবে যা কোষের সমস্ত অঙ্গাণু ও সিস্টেমের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করবে এবং তাদের মাঝে সমন্বয় সাধন করবে। এই নিয়ন্ত্রক না থাকলে কোষের অঙ্গাণুসমূহের কাজকর্মে কোন মিল থাকবে না। তখন দেখা যাবে কোন কারন ছাড়াই কোষ খাদ্য গ্রহণ করছে এবং খাদ্য গ্রহন করে শক্তি উৎপাদনের পরিবর্তে সম্পূর্ণটাই বর্জ্য হিসেবে বের করে দিচ্ছে। এমনও হতে পারে যে রাসায়নিক দ্রব্যটি কোষের জন্য প্রয়োজনীয় তাকে কোষের আবরণী প্রবেশ করতে দিচ্ছে না কিন্তু যে রাসায়নিক দ্রব্য বিপদজনক তাকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। এধরনের অবস্থা হলে অত্যন্ত দ্রুত কোষ ধ্বংস হয়ে যাবে। সুতরাং কোষের অবশ্যই একটি কেন্দ্রীও নিয়ন্ত্রকও থাকতে হবে।

 

এবার আসা যাক কোষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ডিএনএ এর বিষয়ে। ডিএনএ হল মূলত এক ধরনের ইন্সট্রাকশন সেট বা নির্দেশাবলীর গুচ্ছ। একে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এর সাথে তুলনা করা যায়। প্রথম কোষ সৃষ্টি হবার সময়ই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিএনএ তৈরি হতে হবে। কারন একটি কোষ কি করবে, এর বৈশিষ্ট্য কি হবে, এর প্রতিটি অঙ্গাণু কিভাবে কোন কাজ করবে এবং এই কোষ দেখতে কেমন হবে এসমস্ত কিছুই ডিএনএ নির্ধারণ করে। এছাড়াও কোষ বিভাজন এবং বিভাজনের সময় কোষের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিভাজিত কোষে প্রেরণও ডিএনএই করে থাকে। সুতরাং অবশ্যই কোষে ডিএনএ উপস্থিত থাকতে হবে, তা না হলে কোনভাবেই জীবিত ও কর্মক্ষম কোষ গঠিত হতে পারবে না। কিন্তু ডিএনএ হল কোষের সবচেয়ে সূক্ষ্ম ও জটিলতম অংশ। এখনও পর্যন্ত প্রকৃতিতে জড় বস্তু থেকে ডিএনএ সৃষ্টি হবার কোন প্রমাণ বা নিদর্শন পাওয়া যায়নি। আধুনিক বিজ্ঞানীরাও বহু বছর ধরে চেষ্টা করা সত্ত্বেও কোন ডিএনএ অণু তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। এখানেই ব্যাপারটি শেষ নয়। এমনকি জীবদেহেও এখনও পর্যন্ত নতুন বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কোন ডিএনএ অণু সৃষ্টি হবার রেকর্ড পাওয়াও যায়নি বা কৃত্রিমভাবে জীবদেহেও সৃষ্টি করা যায়নি। পূর্বে যে সকল ডিএনএ জীবদেহে বিদ্যমান ছিল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শুধুমাত্র সেসকল ডিএনএই জীবদেহে উৎপাদিত হয়। আর জীববিজ্ঞানীদের জন্য আরও বড় খারাপ ব্যাপার হল যে তারা এমনকি অতি চেনা পরিচিত ডিএনএ এরও সামান্য একটা অণু সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি নতুন কোন ডিএনএ সৃষ্টি করা তো দূরে থাক।
সুতরাং সৃষ্টির শুরুতে প্রথম ডিএনএ কিভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে চান্স দ্বারা সৃষ্টি হল সেটা বিশাল একটা প্রশ্নের বিষয়।

এবার উপরের সম্পূর্ণ লেখাকে একটু অন্যভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

সৃষ্টির প্রথম কোষের কাল্পনিক মডেলটিকে মূলত ৩ টি অংশে বিভক্ত করছিঃ

১) কোষ আবরণী এবং ২) কোষ দেহ ৩) কোষ অঙ্গাণুসমূহ

এই কাল্পনিক মডেলটি যাতে ধ্বংস না হয়ে যায় তার জন্য এর যেসকল ক্রিয়াকলাপ বা সিস্টেমের প্রয়োজন সেগুলো হলঃ

১) সুরক্ষা সিস্টেম ২) শক্তি উৎপাদন সিস্টেম ৩) শক্তি সংরক্ষণ সিস্টেম ৪) বর্জ্য অপসারণ সিস্টেম ৫) শক্তি বণ্টন সিস্টেম ৬) কোষ বিভাজন সিস্টেম ৭) নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারি সিস্টেম।

শক্তি উৎপাদন সিস্টেমের অভ্যন্তরে আবার কতগুলো পৃথক পৃথক সিস্টেম থাকবে। সেগুলো হলঃ

১) খাদ্য বা শক্তি উৎপাদক দ্রব্যের প্রয়োজনীয়তা সনাক্তকরণ সিস্টেম ২) খাদ্য সনাক্তকরন সিস্টেম ৩) খাদ্য গ্রহন সিস্টেম ৪) খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সিস্টেম

এখানে যেসকল সিস্টেমের কথা বলা হল সবগুল সিস্টেমই কোষের জন্য অপরিহার্য। একটি সিস্টেমও যদি কোষ থেকে বাদ পড়ে যায় তবে বংশবৃদ্ধি করা ছাড়াই কোষের মডেল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

ব্যাপারটি নিয়ে পুনরায় সামান্য আলোচনা করা যাক। কোষের জীবিত থাকার জন্য এবং অঙ্গানুসমুহু চালনা করার জন্য প্রয়োজন শক্তি। তাই শক্তি উৎপাদনের একটি প্রক্রিয়া থাকা লাগবে। শক্তি উৎপাদনের জন্য শক্তি উৎপাদক বস্তু সনাক্তকরণ, গ্রহন ও প্রক্রিয়াজাতকরন করা লাগবে। এরপর এই শক্তিকে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা লাগবে। সংরক্ষিত শক্তিকে প্রয়োজন অনুসারে সমগ্র কোষদেহে সরবরাহ করার সিস্টেম থাকতে হবে। খাদ্য বা শক্তি উৎপাদক দ্রব্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় অবশেষ হিসেবে কিছু না কিছু উৎপন্ন হবে যাকে আমরা বর্জ্য পদার্থ হিসেবে ধরতে পারি। এই বর্জ্য পদার্থ অবশ্যই নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া থাকা লাগবে কারন কোষের ভিতর অবশ্যই অসীম জায়গা নেই। আর কোষের ভিতরে বর্জ্যের পরিমাণ বাড়তে থাকলে কোষের কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি হবে এবং শেষ পর্যন্ত কোষের  অভ্যন্তরে আর কোন কিছু প্রবেশেরই স্থান থাকবে না। তাই এর নিস্কাসন জরুরি। কোষের শক্তির জন্য খাদ্য গ্রহন এবং বর্জ্য অপসারনের জন্য কোষের আবরণী গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। কোষের বংশবৃদ্ধির জন্য অবশ্যই একটি বিভাজন প্রক্রিয়া থাকা লাগবে। তা না হলে তথাকথিত বিবর্তন কিভাবে সম্ভব হবে? আর এসকল কাজকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। এবং তার জন্য কোষে নিয়ন্ত্রক থাকা লাগবে। তা না হলে কোষের অঙ্গাণুসমূহ হয় সমন্বয়হীন উল্টাপাল্টা আচরন করবে অথবা কোন কাজই করবে না। যেহেতু ডিএনএ হল কোষের গঠন ও কার্যকলাপের বেসিক ইন্সট্রাকশন সুতরাং কেন্দ্রীও নিয়ন্ত্রকে ডিএনএ বিদ্যমান থাকবে অথবা ডিএনএ নিজেই হবে কেন্দ্রীও নিয়ন্ত্রক। তাহলে দেখাই যাচ্ছে যে প্রথম কোষকে যতটা সরল বলা হয়েছিল তা মোটেও ততটা সরল তো নয়ই বরং এতগুলো সিস্টেম সম্বলিত একটি কোষ যথেষ্ট পরিমাণে জটিল হবে।

পরিশেষে আমি বলতে চাই যে সৃষ্টির শুরুতে বিনা কোন নিয়ন্ত্রণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুধুমাত্র চান্স বা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে কোষ গঠিত হওয়া সম্ভব না। কারন কোষের উল্লেখিত সকল সিস্টেমের যেকোনো একটিও যদি বাদ পড়ে তাহলেই আর জীবন্ত কর্মক্ষম কোষ সম্ভব হবে না। আর এতগুলো সিস্টেম বিশিষ্ট কোন জটিল গঠন কখনই চান্স দ্বারা গঠিত হওয়া সম্ভব নয় বিশেষ করে যেহেতু বিবর্তনবাদের মূল কথাই হল বিবর্তনের মাধ্যমে সরল থেকে জটিল গঠনের দিকে যাওয়া। যদি একটি সরল অঙ্গাণু থেকে কোষের শুরু করতে হয় তাহলে তার সাথে অন্যকোন অঙ্গাণু যুক্ত হবার পূর্বে বা তার থেকে অন্য অঙ্গাণু সৃষ্টি হবার পূর্বেই তার অস্তিত্ব ধ্বংস হয়ে যাবে।
 

সুতরাং বিবর্তনবাদের সময়ের সাথে চান্স দ্বারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎপন্ন সরল কোষ থেকে জীবনের শুরু হবার মতবাদটি সম্পূর্ণরূপে ভুল।

আগামী পর্বঃ

বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ৬

১২ comments

Skip to comment form

  1. 5
    শামস

    বিশাল কর্মযজ্ঞ! কি মজা, বিবর্তনবাদে এমনি এমনি এই কর্মযজ্ঞ চলতে পারে। এইসব আবার বিশ্বাস না করলে বিজ্ঞান- মনষ্ক হওয়া যায় না!
    এ সিরিজটা তুলনামূলকভাবে বুঝার জন্য সহজ।
    ধন্যবাদ, পরের পর্বের অপেক্ষায়।
     

    1. 5.1
      পাভেল আহমেদ

      লেখাটি পড়ার জন্য অত্যন্ত ধন্যবাদ।

  2. 4
    এস. এম. রায়হান

    সুতরাং বিবর্তনবাদের সময়ের সাথে চান্স দ্বারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উৎপন্ন সরল কোষ থেকে জীবনের শুরু হবার মতবাদটি সম্পূর্ণরূপে ভুল।

    আপনার খবর আছে কইলাম। আমগো দম-মারো-দম ধর্মের আশেকে রাসূল এখন থেকে ১০০ বছর পরে যেয়ে তার 'ইসলাম প্রিয়' (!) ভাইদের মুখে কথা গুঁজে দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন-

    আদিল মাহমুদ এর জবাব:
    নভেম্বর ১৮, ২০১২ at ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

    …একই ভাবে ১০০ বছর পরের ইসলাম প্রিয় ভাইরাও আজকের দিনে যারা ধর্মের নামে বিবর্তনবাদ বিরোধী লেখা লিখে বিপুল জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন তাদের লেখাও অশিক্ষিত কাঠমোল্লার কথা বলে উড়িয়ে দেবে…

    আশেকে রাসূলের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী আপনি একজন অশিক্ষিত কাঠমোল্লা! এবার ঠ্যালা সামলান।

    1. 4.1
      শামস

      @ এস. এম. রায়হান,
      বিবর্তনবাদকে প্রমাণের জন্য তারা একডাল থেকে আরেকডালে লাফায়, এর পরিবর্তন চোখে পড়ার মত। নতুন নতুন তত্ব দিয়ে একাকার অবস্থা। যেমন ধরুণ একসময় রাসায়নিক বিবর্তনবাদ দিয়ে মনে করা হচ্ছিল আর পায় কে। জীবাষ্ম নিয়ে দু'নম্বরী ও এটা অপ্রতুল বলে এখন সবকিছু মাইক্রোইভ্যুলুশনে শুরু ও শেষ করতে চায়, ট্রাঞ্জিশনাল জীবাষ্মের কথা উঠলে বলে এর দরকার নেই, কারণ প্রমাণ দিতে পারে না। কত রং দেখুন, ১০০ বছরও অপেক্ষা করতে হয় না। কিন্তু দাসমনোবৃত্তির কারণে অনেক কিছুই দেখতে পায় না। নিজে কিছু বুঝুক বা না বুঝুক মনিবরা বুঝে, তারা সমর্থন করে, তাই তাদের পক্ষ নিয়ে কিছু বলা আরকি।
       
       

      1. 4.1.1
        পাভেল আহমেদ

        নিজেরাই অন্ধ আর আমাদেরকে বলে কিনা অশিক্ষিত। কি আজব কথা বার্তা। অথচ পুরা বিবর্তনবাদই যে বহু অনুমানের উপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে আছে সেটা আর তারা দেখতে পায় না !!!!!

    2. 4.2
      পাভেল আহমেদ

      কি আর করার ভাই যারা নিজেরাই অশিক্ষত আর অন্ধ তারা তো এসব বলবেই। বিবর্তনের মূল ব্যাপারগুলো তারা নিজেরাই বুঝে না আবার অন্য কেউ বিবর্তনের বিপক্ষে কথা বললে তাদেরকে অশিক্ষিত বলে মনে করে। কি দিনকাল পড়ল !!!!!

  3. 3
    এস. এম. রায়হান

    চলুক…

    1. 3.1
      পাভেল আহমেদ

      চলবে….

  4. 2
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    আপনাকে ধন্যবাদ, সুন্দর করে এই জটিল জিনিষগুলো তুলে ধরার জন্য। “বিবর্তনের পথ ধরে” বইটির লেখিকা-কে আপনার লেখাগুলো খাওয়ানো উচিত। রসের ডিব্বার লেখা-গুলো দ্বারা এই লেখিকা-কে  উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয়েছে।

    1. 2.1
      পাভেল আহমেদ

      আপনাকেও ধন্যবাদ। রসের ডিব্বার লেখা আমিও পরেছি কিছু। বেশ মজা পেয়েছিলাম !!!!!

  5. 1
    মো: মেরাজ হোসাইন বেপারী

    অনে জটিল কথা আমার মত অনেকের কাজে আসবে। আমি লেখাটি পড়ে অনেক উপকৃত হয়েছি। আপনারাও পড়েন অনেক উপকারে আসবে।

    1. 1.1
      পাভেল আহমেদ

      শুনে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম যে আমার লেখা কারও উপকারে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.