«

»

Oct ২২ ২০১৩

বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ১১ – সম্ভাবনার অসম্ভাব্যতা ৬ (সম্মিলিত হিসাব)

গত পর্বে বিল ডেম্বস্কির (William Dembski) করা হিসাব থেকে ইউনিভার্সাল প্রবাবিলিটি বাউন্ড অর্থাৎ বিশ্বজনীন সম্ভাব্যতার সীমা দেখানো হয়েছিলো। কোন নিয়ন্ত্রণহীন ও এলোমেলো ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতা যদি এই সীমার বাহিরে চলে যায় তাহলে আমরা সেই ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতাকে ধর্তব্যের মধ্যে না এনে একে শূন্য হিসাবে ধরতে পারি।

এবারের পর্বে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে পূর্বের লেখাগুলোকে একত্রিত করে উপস্থাপন করা!!!

বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ৫ লেখাটিতে সবচেয়ে সরলতম কোষের ১টি কাল্পনিক মডেল তৈরি করে দেখানোর প্রচেষ্টা করা হয়েছিলো। আমরা সংক্ষেপে সেই লেখার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরছি। সেই লেখাটিতে সৃষ্টির প্রথম কোষের কাল্পনিক মডেলটিকে মূলত ৩টি অংশে বিভক্ত করা হয়েছিলো।

সেগুলো হলঃ

১) কোষ আবরণী ২) কোষ দেহ এবং ৩) কোষ অঙ্গাণুসমূহ

এই কাল্পনিক মডেলটি যাতে ধ্বংস না হয়ে যায় তার জন্য এর যেসকল ক্রিয়াকলাপ বা সিস্টেমের প্রয়োজন সেগুলো হলঃ

১) সুরক্ষা সিস্টেম ২) শক্তি উৎপাদন সিস্টেম ৩) শক্তি সংরক্ষণ সিস্টেম ৪) বর্জ্য অপসারণ সিস্টেম ৫) শক্তি বণ্টন সিস্টেম ৬) কোষ বিভাজন সিস্টেম ৭) নিয়ন্ত্রক ও সমন্বয়কারি সিস্টেম।

শক্তি উৎপাদন সিস্টেমের অভ্যন্তরে আবার কতগুলো পৃথক পৃথক সিস্টেম থাকবে। সেগুলো হলঃ

 ১) খাদ্য বা শক্তি উৎপাদক দ্রব্যের প্রয়োজনীয়তা সনাক্তকরণ সিস্টেম ২) খাদ্য সনাক্তকরন সিস্টেম ৩) খাদ্য গ্রহন সিস্টেম ৪) খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সিস্টেম

এখানে যেসকল সিস্টেমের কথা বলা হল সবগুলো সিস্টেমই কোষের জন্য অপরিহার্য। ১টি সিস্টেমও যদি কোষ থেকে বাদ পড়ে যায় তবে বংশবৃদ্ধি করা ছাড়াই কোষের মডেল সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে। [বিস্তারিতঃ বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ৫ – কোষের জটিলতা ৪ (সরলতম কোষের জটিলতম সমস্যা)]

?????

অর্থাৎ সবচেয়ে সরলতম কোষটি হল অনেকগুলো সরল এবং জটিল সিস্টেমের সমন্বয়ে গড়ে উঠা ১টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল সিস্টেম। বিবর্তনবাদীরা বলে থাকেন যে বিশাল পরিমানের সময়ের ব্যাবধানে অসংখ্য ধরনের কম্বিনেসন হতে হতে হঠাৎ চান্স দ্বারা তথাকথিত সরল (!) ১ম কোষটির উদ্ভব হয়ে যায়। তাহলে আমরা এবার তাদের এই দাবীটি যাচাই করার চেষ্টা করি।

বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ৯ লেখাটিতে উইলিয়াম বিল ডেম্বস্কির ১টি থিওরি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছিলো, যিনি একই সাথে একজন মনোবিদ, গণিতবিদ, পরিসংখ্যানবিদ, দার্শনিক এবং ধর্ম তত্ত্বের বিশেষজ্ঞ। সেখানে দেখানো হয়েছিলো যে, কোন কিছুর গঠন যদি একই সাথে জটিল ও সুনির্দিষ্ট হয় তাহলে তা কোন অনিয়ন্ত্রিত ও এলোমেলো পদ্ধতি থেকে শুধুমাত্র চান্স দ্বারা সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে না। একে বলা হয় স্পেসিফাইড কমপ্লেক্সিটি। ডেম্বস্কি স্পেসিফাইড কমপ্লেক্সিটি বা সুনির্দিষ্ট জটিলতা থিওরির ব্যাখ্যা সংক্ষেপে এভাবে দিয়েছিলেনঃ

বর্ণমালার কোনো অক্ষরই জটিল নয় কিন্তু সুনির্দিষ্ট। আবার এলোমেলো কতগুলো অক্ষর দ্বারা সৃষ্ট ১টি দীর্ঘ বাক্য সুনির্দিষ্ট নয় কিন্তু জটিল। তবে শেক্সপিয়ারের ১টি সনেট একই সাথে জটিল এবং সুনির্দিষ্ট।

Shakespeare - Sonnet 29

বাস্তব ক্ষেত্রে এমন আরও অনেক ধরনের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। যেমনঃ “I HAVE A PEN” বাক্যের প্রতিটি অক্ষরই সুনির্দিষ্ট অর্থাৎ এদের প্রত্যেকের অর্থ এবং কাজ হবে একদম নির্দিষ্ট কিন্তু এই অক্ষরগুলোর কোনটিই জটিল নয়। আবার এই অক্ষরগুলোকে একত্রে ইচ্ছামতো সাজানো হলে সেটি জটিল হবে কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোন অর্থ বহন করবে না [উদাঃ “AENP IAH EV”]। তবে যখন এই অক্ষরগুলো দিয়ে “I HAVE A PEN” বাক্যটি রচনা করা হয় তখন কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন অক্ষর ব্যাবহার করার কারনে সেটি জটিল তো হবেই সেই সাথে আবার এই বাক্যটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা সিকোয়েন্স অনুসারে সাজিয়ে নির্দিষ্ট গঠন ও অর্থ প্রকাশ করা যায় বলে এটি সুনির্দিষ্টও।

এখন, আমরা জানি যে আমাদের সর্বপ্রথম সরলতম কোষের কাল্পনিক মডেলটি হল অনেকগুলো সরল এবং জটিল সিস্টেমের সমন্বয়ে তৈরি হওয়া ১টি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল সিস্টেম। আবার আমাদের সরলতম কোষের জন্য যে সকল অঙ্গানু, সিস্টেম, ফাংশন রয়েছে তাদের প্রত্যেকটিই অত্যন্ত স্পেসিফিক বা সুনির্দিষ্ট এবং এরা একত্রে যে কোষ গঠন করে তাও আবার অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। এদেরকে স্পেসিফিক বলা হয়েছে কারন এরা সবসময়ই নির্দিষ্ট প্রকারের গঠন এবং ক্রিয়া প্রদর্শন করে থাকে এবং এদের গঠন যদি ভিন্ন হয় তাহলে কাঙ্খিত ফলাফল অর্জন করতে তারা সক্ষম হবে না। এছাড়াও কোষের অঙ্গাণুসমূহ শুধুমাত্র ১টি নির্দিষ্ট বিন্যাস অনুসারে সজ্জিত হয়েই কোষ তৈরি করতে পারে। এই ব্যাপারটিকে একটি কম্পিউটার মাদারবোর্ডের সাথে তুলনা দেওয়া যায়। মাদারবোর্ডের ইলেক্ট্রনিক কম্পোনেন্টগুলোর প্রত্যেকটিই নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে সুনির্দিষ্ট কাজ করে থাকে। একটু ব্যাতিক্রম হলেই মাদারবোর্ড কাঙ্খিত কাজ করতে পারবে না বা সর্ট সার্কিট হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। আর মাদারবোর্ডের গঠন যে অত্যন্ত জটিল তা বলাই বাহুল্য। সুতরাং কম্পিউটারের মাদারবোর্ড হল একই সাথে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল একটি গঠন। অর্থাৎ মাদারবোর্ডের মধ্যে সুনির্দিষ্ট জটিলতা দেখতে পাওয়া যায়।Mother Board

১টি কোষও এর অঙ্গাণুসমূহ নিয়ে ঠিক একইভাবেই কাজ করে থাকে (যদিও বর্তমান সময়ের যেকোনো কোষই ১টি মাদারবোর্ডের থেকে বহুগুনে বেশি সূক্ষ্ম ও জটিল)। তার মানে আমাদের সরলতম কোষের কাল্পনিক মডেলটি অবশ্যই একই সাথে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল।Cellতবে সকল জীবই যে একই সাথে সুনির্দিষ্ট এবং জটিল এই সত্যটি প্রাণের উদ্ভবের গবেষক লেসলি অরগেল এবং পদার্থবিদ পল ডেভিসের বর্ণনা থেকেই জানা যায়। [বিস্তারিতঃ বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ৯ – সম্ভাবনার অসম্ভাব্যতা ৪ (সুনির্দিষ্ট জটিলতা)]

তাহলে স্পেসিফাইড কমপ্লেক্সিটি থিওরি অনুসারে শেক্সপিয়ারের ১টি সনেট যেমন বিশাল সময় যাবৎ কি বোর্ডের বাটনের এলোমেলো চাপের ফলে তৈরি হতে পারে না ঠিক তেমনি এর থেকেও আরও বহুগুনে বেশি জটিল বিন্যাসের অধিকারী সরলতম কোষটিও এলোমেলো ও অনিয়ন্ত্রিত কোন সিস্টেম থেকে তৈরি হতে পারে না।

এবারে আমরা একটু প্রাণের উদ্ভব হবার সম্ভাব্যতাকে গণনা করে দেখানোর চেষ্টা করি।

বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ৭ লেখাটিতে প্রাণ সৃষ্টির সমগ্র সম্ভাব্যতাকে গণনা করে দেখানো হয়নি। শুধুমাত্র দেখানো হয়েছিলো যে মাত্র ১৫০ টি অ্যামিনো এসিড সম্পন্ন ১টি মাত্র প্রোটিন অণু এলোমেলো ও অনিয়ন্ত্রিত ১টি সিস্টেম থেকে সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা ঠিক কতটুকু।

ডগলাস এক্স একজন ক্যালটেক পিএইচডি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার যিনি কেম্ব্রিজে ১৪ বছর যাবৎ কর্মরত ছিলেন। তাঁর হিসাব থেকে দেখা যায় যে এলোমেলো ও অনিয়ন্ত্রিত ১টি সিস্টেম থেকে মাত্র ১৫০ টি অ্যামিনো এসিড বিশিষ্ট ১টি অত্যন্ত ক্ষুদ্রাকারের প্রোটিন অণু গঠিত হতে পারার সম্ভাবনা হল ১/১০^১৬৪!

অর্থাৎ ১টি কর্মক্ষম প্রোটিন সৃষ্টি হতে পারার ঘটনা হল ১০^১৬৪টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১টি ঘটনা। ১০^১৬৪ এর মানে হল ১ এর পরে ১৬৪টি শূন্য আছে এমন একটি সংখ্যা। [বিস্তারিতঃ বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ৭ – সম্ভাবনার অসম্ভাব্যতা ২ (প্রাণরসায়ন ও সম্ভাব্যতা)]Protein

সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জ্ঞান আছে এমন যে কোন মানুষই বলতে পারবে যে এত ক্ষুদ্র সম্ভাব্যতা নিয়ে কখনই কোন কিছু ঘটা সম্ভব নয়। তবে যখনই এই সম্ভাব্যতাকে প্রাণ সৃষ্টির ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয় ঠিক তখনই অনেকের মত বদলে যায়। তখন বিশাল সময় এবং বিশাল আকারের মহাবিশ্বের কথা তুলে বলা হয় যে এই বিশাল সময়ের মধ্যে এত বড় মহাবিশ্বে অবশ্যই সেই ঘটনাটি ঘটার সম্ভাব্যতা বেড়ে যাবে যেহেতু বিশাল সময়ের মধ্যে অসংখ্য স্থানে অসংখ্যবার ট্রায়াল হবে এবং সেখানে অসংখ্য ধরনের কম্বিনেসন সম্পন্ন হবে। কিন্তু গাণিতিকভাবে সত্যিকার অর্থে এমন কোন ধরনের সূত্র বা প্রমান নেই যা দ্বারা এমনটা বলা যায় যে বিশাল সময় ধরে পাশাপাশি অসংখ্য ট্রায়াল হলে কোন ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতা বেড়ে যায়। বরং এটাই দেখা যায় যে বাহির থেকে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ বা প্রভাব না আসলে কোন ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতা কখনই পরিবর্তিত হয় না এবং এটি গাণিতিক ও পর্যবেক্ষণগত উভয় দিক থেকেই প্রমাণিত। কারন প্রত্যেক ঘটন স্থানে সম্ভাব্যতা আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করে। এক স্থানের কম্বিনেসনের কোন প্রভাব অপর স্থানে পড়বে না সম্ভাব্যতার ক্ষেত্রে। কারন যদি এমনকি পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন ১০০ হাজার কোটি স্থানেও অ্যামিনো এসিডের বিক্রিয়া চলতে থাকে তাহলেও তাদের প্রত্যেকটিই হবে একেকটি স্বাধীন বা অনির্ভরশীল ঘটনা।

অনির্ভরশীল ঘটনার সংজ্ঞা হল –

যদি একাধিক ঘটনার মধ্য থেকে কোনটি ঘটার সম্ভাব্যতাই অপর ঘটনাগুলোর উপর নির্ভর না করে তখন ঘটনাগুলিকে পরস্পর স্বাধীন বা অনির্ভরশীল ঘটনা বলা হয়।

যেমনঃ দুটি মুদ্রা নিক্ষেপ করলে ১টি মুদ্রার উপরের দিকে হেড বা টেইল পাওয়ার সম্ভাবনা অপর মুদ্রার উপরের দিকে হেড বা টেইল পাওয়ার সম্ভাবনার উপরে নির্ভর করে না। তাই দুটি মুদ্রায় হেড বা টেইল আসার ঘটনা পরস্পর স্বাধীন বা অনির্ভরশীল।Coin flip
একইভাবে অ্যামিনো এসিডের বিক্রিয়াসমূহ যত জিলিওন জিলিওন স্থানেই হোক না কেন তাদের কারও উপর কারও কোন প্রভাব থাকবে না কারন তারা পরস্পর স্বাধীন ঘটনা।

সম্ভাব্যতা কিভাবে কাজ করে তার কিছুটা ব্যাখ্যা বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ৮ লেখাটিতে দেওয়া হয়েছে। লেখাটি অনুসারে ১৫০টি অ্যামিনো এসিড সম্বলিত ১টি প্রোটিন অণু গঠন হবার সম্ভাব্যতা ১/১০^১৬৪ দ্বারা এটাই বোঝায় যে, ১৫০টি অ্যামিনো এসিড দিয়ে আসলে ১০^১৬৪ সংখ্যক কম্বিনেসন তৈরি করা সম্ভব এবং এর মধ্যে থেকে প্রোটিন সৃষ্টির কম্বিনেশনটি হল সবচেয়ে কম সম্ভাব্যতা সম্পন্ন কম্বিনেশনগুলোর একটি। বাকি কম্বিনেসনগুলোর মধ্য থেকে সিংহভাগ কম্বিনেশনই প্রোটিন তৈরির সম্ভাব্যতা থেকে বেশি সম্ভাব্যতা সম্পন্ন। যার কারনে অ্যামিনো এসিডের কম্বিনেসন এলোমেলো কোন সিস্টেমে তৈরি হতে গেলে অধিক সম্ভাব্যতা সম্পন্ন কম্বিনেসনগুলোই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বার বার দেখা যাবে।

যেমনঃ ১২টি ছক্কা ছোঁড়ার পরে এদের প্রত্যেকটিতে ১২টি ৬ একত্রে আসার সম্ভাব্যতা হল ২১৭ কোটি ৬৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৩৬টি বা প্রায় ১০^৯টি [লগারিদম (log) করে] ঘটনার মধ্যে মাত্র ১টি ঘটনা। শতকরায় হিসাব করলে পাওয়া যায় মাত্র ০.০০০০০০০৪৫% সম্ভাবনা যাকে আমরা শূন্য হিসাবে ধরে নিতে পারি। স্বাভাবিকভাবে এই সম্ভাব্যতাটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এই ঘটনাটি ঘটা প্রায় সম্পূর্ণরূপে অসম্ভব। এছাড়াও আমরা কখনও আমাদের মহাবিশ্বে অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ১২টি ছক্কায় ১২টি ৬ আসার ঘটনাটি ঘটতে দেখিনি। অথবা এধরনের কম সম্ভাব্যতা সম্পন্ন ঘটনাও কখনও আমরা মহাবিশ্বে ঘটতে দেখিনি। যেখানে ১০^৯ এর মতো এত বেশি (!) সম্ভাব্যতা নিয়েও কোন একটি ঘটনা বিশ্বে কখনই ঘটেনি এবং ঘটতে পারবেও না বলেই ধারনা করা যায় সেখানে ১০^১৬৪ এর মতো এত ক্ষুদ্র সম্ভাব্যতা নিয়ে কিভাবে কোন ঘটনা ঘটতে পারে?

Dices

তাহলে এখন মূল প্রশ্ন হল যে ১/১০^১৬৪ সম্ভাব্যতা সম্পন্ন কোন ঘটনা কি ঘটা সম্ভব? এর উত্তর বের করার জন্য ১০০% একুরেট কোন প্রমান বা থিওরি নেই। অবশ্য সম্ভাব্যতার গাণিতিক রূপ তৈরি হয়েছিলো এজন্যই যেন কোন ঘটনা ঘটতে পারবে আর কোনটি পারবে না তা নির্ধারণ করা যায়। সম্ভাব্যতা বেশি হলে বোঝা যায় যে এই ঘটনাটি হয়তো ঘটতে পারে এবং অসংখ্য ট্রায়ালের মধ্যে বেশি সম্ভাব্যতা সম্পন্ন ঘটনার রিপিটেসনই বেশি বেশি করে হয়। [বিস্তারিতঃ বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ৮ – সম্ভাবনার অসম্ভাব্যতা ৩ (ছক্কা বনাম প্রোটিন)]।

তবে কোন এক অদ্ভুত কারনে শুধুমাত্র প্রাণের উদ্ভব এবং বিবর্তন সংক্রান্ত প্রশ্নে সম্ভাব্যতাকে উপেক্ষা করা হয়ে থাকে। যদিও এত কম সম্ভাব্যতা সম্পন্ন কোন ঘটনা এখনও পর্যন্তও আমরা ঘটতে দেখিনি কিন্তু বিবর্তনবাদীদের ব্যাখ্যা অনুসারে বিশাল পরিমান একটা সময় জুড়ে পাশাপাশি অসংখ্য স্থানে ট্রায়াল ঘটতে থাকলে যত কম সম্ভাব্যতাই থাকুক না কেন, যেকোন ঘটনাই ঘটা সম্ভব! তবে এখানেও বিল ডেম্বস্কি একটি সমাধান বের করার চেষ্টা করেছিলেন।

বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ১০ লেখাটিতে ইউনিভার্সাল প্রবাবিলিটি বাউন্ড বা বিশ্বজনীন সম্ভাব্যতার সীমা নামক একটি টার্ম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছিলো। ডেম্বস্কি মূলত ফ্রেঞ্চ গণিতবিদ ইমাইল বোরেলের (Émile Borel) আলোচনা থেকেই এই টার্মটি পান।

ডেম্বস্কির মতে এই লিমিট বা সীমার বাহিরে যদি কোন ঘটনার সম্ভাব্যতা চলে যায় তাহলে সেই সম্ভাব্যতাকে তার নগণ্যতার জন্য আমরা শূন্য হিসাবে ধরতে পারি বা উপেক্ষা করতে পারি।

ডেম্বস্কি কিছু গাণিতিক প্রোপার্টি ব্যাবহার করে সম্ভাব্যতার যে লিমিট নির্ধারণ করেন তা হচ্ছে ১০^১৫০। তার মানে হল আমাদের এই মহাবিশ্বের কোন এলোমেলো ও অনিয়ন্ত্রিত ঘটনা ঘটার সম্ভাব্যতা যদি সর্বোচ্চ ১/১০^১৫০ হয় তাহলে সেই ঘটনাটি ঘটা সম্ভব হলেও হয়তো হতে পারে। কিন্তু যদি সম্ভাব্যতা এর বাহিরে চলে যায় অর্থাৎ কোন ঘটনার সম্ভাব্যতা যদি ১/১০^১৫১ ও হয় তাহলেও এমনকি এই সম্ভাব্যতাকে আমরা উপেক্ষা করতে পারবো। কারন সত্যিকার অর্থে সম্ভাব্যতার সীমাকে এমনকি ১০^১৫০ হিসাবে ধরাটাও অনেক কম হয়ে যায়। [বিস্তারিতঃ বিবর্তনবাদ ও তার সমস্যা ১০ – সম্ভাবনার অসম্ভাব্যতা ৫ (বিশ্বজনীন সম্ভাব্যতার সীমা)]

Universal Probability Bound

আমরা ডগলাস এক্সের হিসাব থেকে পেয়েছিলাম যে ১৫০টি অ্যামিনো এসিডের অণু বিশিষ্ট ১টি মাত্র প্রোটিন অণু গঠিত হবার সম্ভাবনা হল ১/১০^১৬৪। কিন্তু এই সম্ভাবনাটি প্রবাবিলিটি বাউন্ড অর্থাৎ ১০^১৫০ এর অনেক বেশি বাহিরে চলে যায়। সম্ভাব্যতার সীমা অথবা ১৫০ অ্যামিনো এসিড বিশিষ্ট প্রোটিন গঠিত হবার সম্ভাব্যতা অন্ততপক্ষে আরও ১০^১৪ গুন বা ১ কোটি কোটি গুন [১০০০০০০০০০০০০০০] বেশি হলে হয়তোবা ১৫০টি অ্যামিনো এসিড সম্পন্ন ১টি প্রোটিন অণু তৈরি হলেও হতে পারে। সুতরাং আমরা খুব সহজেই ১৫০টি অ্যামিনো এসিড বিশিষ্ট ১টি প্রোটিন অণু সৃষ্টির সম্ভাব্যতাকে উপেক্ষা করে শূন্য হিসাবে ধরতে পারি।

এখন ১২টি ছক্কায় ৬ আসার ঘটনাটির সম্ভাব্যতা প্রায় ১/১০^৯ [০.০০০০০০০৪৫%] এবং এটি ইউনিভার্সাল প্রবাবিলিটি বাউন্ডের ভিতরেই রয়েছে। কিন্তু প্রবাবিলিটি বাউন্ডের এতো ভিতরে থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনাটি আমরা আমাদের মহাবিশ্বে অনিয়ন্ত্রিত কোন পরিবেশে ঘটতে দেখা যায় না। তাহলে প্রোটিন সৃষ্টির মতো মাত্র ১/১০^১৬৪ সম্ভাব্যতা সম্পন্ন একটি ঘটনা যা কিনা প্রবাবিলিটি বাউন্ডের ১০^১৪ গুন বেশি বাহিরে তা কিভাবে ঘটার আশা আমরা করতে পারি? এখানে বিবর্তনবাদীদের যুক্তি অবশ্য থাকতে পারে যে প্রথম প্রোটিন আরও ছোট আকারের ছিল। হ্যাঁ আমরা জানি যে, যদি অ্যামিনো এসিডের ১০০ বা তার অধিক অণু পেপটাইড বন্ধন দ্বারা আবদ্ধ হয় তাহলে যে পলিমার উৎপন্ন হয় তাকেই প্রোটিন বলে। অর্থাৎ স্ট্যান্ডার্ড হিসাব অনুসারে সবচেয়ে ক্ষুদ্র প্রোটিন হল মাত্র ১০০ অ্যামিনো এসিড সম্পন্ন। আর ১০০ অ্যামিনো এসিড সম্পন্ন প্রোটিনের সম্ভাব্যতা হিসাব করলে দেখা যায় যে সেটি প্রবাবিলিটি বাউন্ডের অনেক ভিতরে চলে আসে। যদিও সেই সম্ভাবনা তারপরও অনেক ক্ষুদ্র থাকে এবং ১২টি ছক্কায় একত্রে ৬ আসার ঘটনা থেকেও জিলিওন জিলিওন গুন বেশি ক্ষুদ্র, কিন্তু যেহেতু প্রবাবিলিটি বাউন্ডের ভিতরে তাই একে আমরা ফেলে দিতে পারি না।

অবশ্য ৫০ অ্যামিনো এসিড সম্পন্ন প্রোটিনও রয়েছে যেগুলো আসলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের এবং সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা তুলনামুলকভাবে অনেক কম।

যেমনঃ প্যারামিক্সোভাইরাস পরিবারের (family) মাম্পস ভাইরাসে (MuV) ৫৭ অ্যামিনো এসিড দীর্ঘ এক ধরনের প্রোটিন দেখা যায়। এই প্রোটিনের কার্যকলাপ সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত তেমন কিছু একটা জানা যায়নি। কিন্তু এটা জানা গেছে যে এই ভাইরাসের টিস্যু কালচারের বৃদ্ধির জন্য এই প্রোটিনের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই।

[সূত্রঃ ১) http://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/16439527
        ২) http://jvi.asm.org/content/80/4/1700.short]

তবে এখানে একটা কথা রয়েছে। আর সেটা হল, আমাদের জানা মতে প্রোটিন সর্বোচ্চ ১০০০টি পর্যন্ত বা তার কিছু বেশি অ্যামিনো এসিড দ্বারা গঠিত হতে পারে। গাণিতিকভাবে হিসাব করলে পৃথিবীতে পাওয়া ২০ ধরনের অ্যামিনো এসিড দিয়ে সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য পর্যন্ত মোট ২০^১০০০ [২ এর পরে ১ হাজারটি শূন্য] ধরনের প্রোটিন পাওয়া যেতে পারে।

[সূত্রঃhttp://wiki.answers.com/Q/Why_do_so_many_different_types_of_proteins_exist#slide2]

অনেকের মতে মানুষের দেহে এখনও পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন ধরনের মোট প্রোটিনের সংখ্যা হল ১ লক্ষ।
[সূত্রঃ
http://answers.yahoo.com/question/index?qid=20101002165123AAsqpUw]

তাই সকল ধরনের অ্যামিনো এসিডের কথা চিন্তা করে আমরা গড় হিসেবে ১৫০ অ্যামিনো এসিড সম্পন্ন প্রোটিনের কথা চিন্তা করছি যা আসলে বেশীরভাগ প্রোটিনের তুলনায় আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র। যদি আমরা প্রোটিনের সর্বমোট প্রকারভেদ ১ লক্ষ হিসাবেও ধরি এবং গড়ে প্রত্যেকটিকে ১৫০ অ্যামিনো এসিড দীর্ঘ হিসাবে ধরি তাহলে এলোমেলো পরিবেশ থেকে এই ১ লক্ষ প্রোটিনের আসার সম্ভাবনা হল (১/১০^১৬৪)^১০০০০০ = ১/১০^১৬৪০০০০০! অর্থাৎ ১০^১৬৪০০০০০ টি ঘটনার মধ্যে মাত্র ১টি ঘটনা। ১০^১৬৪০০০০০ মানে ১ এর পরে ১ কোটি ৬৪ লক্ষ শূন্য থাকবে!! আর যদি প্রোটিনের সংখ্যা ২০^১০০০টি অর্থাৎ ১০^১৩০১টি [১ এর পরে ১৩০১টি শূন্য] হয় তাহলে এতোগুলো প্রোটিন প্রকৃতি থেকে এলোমেলো পদ্ধতি দ্বারা আসার সম্ভাব্যতা হল – (১/১০^১৬৪)^১০^১৩০১!!!

এবার তাহলে প্রশ্ন হল যে;  এত কমপ্লেক্স গঠন, ক্ষুদ্র প্রবাবিলিটি, স্পেসিফাইড কমপ্লেক্সিটি এবং প্রবাবিলিটি বাউন্ড এতোগুলো সমস্যা পার হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন একটি পরিবেশ থেকে আমাদের বর্তমান পৃথিবীর প্রায় ১০ হাজার বিলিওন বা ১০ লক্ষ কোটি প্রজাতির উদ্ভব কিভাবে হল?

এবারে  একটি নতুন সংবাদের দিকে যাচ্ছি। নাসা (NASA) আমাদেরকে জানিয়েছে যে ২০৩২ সালে 2013 TV135 নামের একটি গ্রহাণু পৃথিবীর দিকে আসবে। তবে তারা বলেছে যে আমাদের চিন্তার কোন কারন নেই! কেন কারন নেই? এর কারন হল যে এটি পৃথিবীতে আঘাত হানবে না!! এখন প্রশ্ন হল, তারা কিভাবে এত নিশ্চিত হল যে এটি আঘাত হানবে না?! আসলে তারা সেই গ্রহাণুটির গতিপথ, গতিবেগ ইত্যাদি হিসাব করে দেখেছেন যে এটি পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাবনা হল ৬৩০০০ বারের মধ্যে মাত্র ১ বার। এটি আঘাত না হানার সম্ভাবনা হল ৯৯.৯৯৮%। তার মানে আঘাত হানার সম্ভাবনা হল ০.০০২%! [সূত্রঃhttp://news.msn.com/science-technology/nasa-asteroid-coming-back-but-we-dont-need-to-worry]

Asteroid

চিন্তা করা যায়?! এত বিশাল (!) একটি সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও নাসার “স্পেসগার্ড” এর মতো এত বড় একটি প্রোগ্রাম একে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলো!!! যেহেতু তারা ০.০০২% এর মতো এত বড় সম্ভাব্যতাকে উপেক্ষা করতে পারছে তার মানে অবশ্যই ০.০০০০০০০৪৫% সম্ভাবনাকেও খুব সহজেই উপেক্ষা করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ ১২টি ছক্কায় একত্রে ১২টি ছয় উঠার সম্ভাবনাকে আমরা উপেক্ষা করতে পারবো। তাহলে এর থেকেও জিলিওন জিলিওন গুন ক্ষুদ্র সম্ভাব্যতা সম্পন্ন ১৫০ অ্যামিনো এসিড দীর্ঘ ১টি প্রোটিন তৈরি হবার সম্ভাবনাকে আমরা কি করতে পারি? এছাড়াও আমাদেরকে চান্স দ্বারা গড়ে একই আকৃতির অন্ততপক্ষে আরও ১ লক্ষ প্রোটিন উদ্ভবের চিন্তা তো করতেই হবে!!! তবে তার আগে অবশ্য অত্যন্ত জটিল গঠনের অধিকারী সর্বপ্রথম সরল (!) কোষটির উৎপন্ন হবার ব্যাপারে আমাদেরকে চিন্তা করতে হবে, যে কোষের কাল্পনিক মডেলের কথা এই লেখার শুরুর দিকে বলা হয়েছিলো!

যেখানে ক্ষুদ্র সম্ভাব্যতা নিয়ে সম্ভাব্যতার সীমা পার হয়ে মাত্র ১৫০ অ্যামিনো এসিড দীর্ঘ একটি প্রোটিনের উদ্ভব হওয়া সম্ভব নয় সেখানে কিভাবে জটিল একটি যন্ত্রের মতো গঠনের অধিকারী প্রাথমিক কোষের উদ্ভব হতে পারে?!?!?!?!

তাহলে আমরা আমাদের সমগ্র আলোচনা থেকে খুব সহজেই এই উপসংহারে আসতে পারি যে অনিয়ন্ত্রিত ও এলোমেলো কোন পরিবেশ থেকে কখনই প্রাণের উদ্ভব হতে পারে না এবং এলোমেলো পদ্ধতি দ্বারা এই ঘটনা ঘটার মতো যথেষ্ট সময় এখনও পর্যন্ত আমাদের মহাবিশ্বকে দেওয়া হয়নি!!!

এ ভাবেই আমরা বিবর্তনবাদের গোড়ার কথা অর্থাৎ অনিয়ন্ত্রিত ও এলোমেলো পরিবেশে ১টি সরল কোষ থেকে ধাপে ধাপে জীবজগতের উৎপত্তির মতবাদকে সম্পূর্ণরূপে বাদ করে দিলাম।

 

সহায়ক তথ্যসূত্রসমূহঃ

১। ILLUSTRATED FAMILY ENCYCLOPEDIA – CELLS, Page – 190. (First published in Great Briten in 1997 as MILLENNIUM FAMILY ENCYCLOPEDIA, Reprint – 2008)

২। উচ্চ মাধ্যমিক বলবিদ্যা ও বিচ্ছিন্ন গণিত; ৭ম সংস্করণ; লেখক – এম এ জব্বার (২য় অধ্যায় – সম্ভাব্যতা)

৩। উচ্চ মাধ্যমিক বলবিদ্যা ও বিচ্ছিন্ন গণিত; দশম সংস্করণ; লেখক – মোজাম্মেল হক ও হারুনুর রশীদ (২য় অধ্যায় – সম্ভাব্যতা)

৪। উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বিজ্ঞান ২য় পত্র; একাদশ সংস্করণ; লেখক – ডঃ সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও হারাধন নাগ (অধ্যায় ১১ – বায়ো অণুসমূহের রসায়ন)

২৪ comments

Skip to comment form

  1. 9
    nur mohammad

    এগুলো কি বই আকারে প্রকাশ করা যায় না ? আপনার গবেষনার স্বাথকতা আরও বেশি পাওয়া যেত।

     

    1. 9.1
      পাভেল আহমেদ

      আসলে বই আকারে প্রকাশ করতে হলে অনেক এডিটিং এর প্রয়োজন পড়বে। আমি নিজেই জানি যে আমার সকল লেখাতেই কিছু কিছু ভাষাগত সমস্যা রয়েছে। কিছু এক্সপার্ট মানুষের এডিটিং করা লাগবে। আর তাছাড়াও এখনও এই সিরিজটি শেষ হয়নি, এখনও বেশ কয়েকটি পর্ব বাকি আছে।  সিরিজটি শেষ করার পরে হয়তো বইয়ের ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করা যেতে পারে।

      ব্যাপারটি চিন্তা করার জন্য ধন্যবাদ! 🙂

  2. 8
    শামস

    দারুণ এক কাজ করেছেন, পুরাটা পরার সময় এখন নেই, তবে সংগ্রহে রাখছি পরে পড়ব।

    আরো লিখুন।

     

    1. 8.1
      পাভেল আহমেদ

      @শামস:থাঙ্কু শামস ভাই! 🙂

  3. 7
    Shaon Hossain

    পাভেল ভাই। আবার অস্থির একখান পোস্ট দিলেন। পিলাচ লন। 

    1. 7.1
      পাভেল আহমেদ

      ধইন্নাপাতা শাওন ভাই! 😀

  4. 6
    কিংশুক

    মূল পোষ্ট ও মন্তব্য হতে বিবর্তণবাদের অসম্ভাব্যতা সম্পর্কে অনেক কিছু পরিষ্কার হলো। খুবই কাজের পোষ্ট। লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    1. 6.1
      পাভেল আহমেদ

      আপনাকেও ধন্যবাদ! 🙂

      আশা করি লেখাটি কাজে লেগেছে বা লাগবে!! 😀

  5. 5
    Rasel

    পাভেল ভাই:

    আমাদের মত আম জনতা বা ম্যাংগো পিপলের জন্য বিষয়টি আরেকটু সহজভাবে উপস্থাপন করা যাবে কী? যাহোক, কিছু কিছু বুঝেছি তাতেই কাজ হবে ইনশাল্লাহ।

    1. 5.1
      পাভেল আহমেদ

      রাসেল ভাই আমি যতটা সম্ভব সহজ করেই লেখার চেষ্টা করেছি। তবে এই লেখাটা হল আমার ১১ নম্বর লেখা এবং এই লেখাটিতে আমি আমার আগের বেশীরভাগ লেখার সারমর্ম তুলে ধরে এখানে একত্রিত করেছি। লেখাটা সম্পূর্ণ বোঝার জন্য আমি আপনাকে রিকমেন্ড করবো যে, আমি লেখার যে যে স্থানে বিস্তারিত অমুক বিস্তারিত তমুক বলে লিংক দিয়েছি সেখানে সেখানে গিয়ে লেখাগুলো পড়া। আর লেখার নিচের কমেন্টগুলো সহ পড়লে বুঝতে আরও সুবিধা হয়। যেমনঃ সাইদ ভাইয়ের সাথে আমার এই আলোচনার কারনে আরও নতুন অনেক কিছু বের হয়ে এসেছে যেগুলোকে আমি আমার লেখাতে এড করিনি। এই কারনেই বলা হয় যে এক মাথার থেকে একাধিক মাথা অনেক ভালো! 😀

      তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি আমার এই সিরিজের লেখাগুলো একদম প্রথম থেকে পড়ে আসেন। আর আমার লেখাগুলোর সাথে সাথে নিচের কমেন্টে যে আলোচনা হয় সেগুলো পড়লেও আরও ভালো ধারনা হবার কথা। 🙂

  6. 4
    এস. এম. রায়হান

    বাংলা বিবর্তনবাদী গুরুরা তো অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে গর্তে লুকাইছে! কাজেই এখন বিবর্তনবাদ নিয়ে লিখা মানে সময় নষ্ট 😛

    অনেক বড় ও তথ্যবহুল লেখা। সময় নিয়ে পড়তে হবে।

    1. 4.1
      পাভেল আহমেদ

      সকলে মিলে যেভাবে শুরু করেছি আমরা! 😛

      গর্তে মুখ না লুকিয়ে তো আর উপায়ও নেই!!

  7. 3
    আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    সুন্দর ও প্রাঞ্জল উপস্থাপন।
    লেখার কয়েকটি বিষয় আরেকটু ব্যাখ্যা করলে পাঠকদের জন্য বুঝতে সুবিধে হবে।

    ১২টি ছক্কা ছোঁড়ার পরে এদের প্রত্যেকটিতে ১২টি ৬ একত্রে আসার সম্ভাব্যতা হল ২১৭ কোটি ৬৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৩৬টি বা প্রায় ১০^৯টি [লগারিদম (log) করে] ঘটনার মধ্যে মাত্র ১টি ঘটনা।

    এখানে কেউ কেউ বলতে পারেন। যদি ২১৭ কোটি ৬৭ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৩৬টি  ছক্কা একত্রে ছোড়া হয় তাহলে প্রত্যেকবার ছোড়ার পরই ১২টি ছক্কাতে একসাথে ছয় পড়ার একটি ঘটনা থাকবে। এমনকি ছক্কার সংখ্যা যদি কমিয়ে ৫০ কোটি বা আরও নিচে নামানো হয় এবং ছক্কা ছোড়ার সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়া হয় তাহলেও একটি নির্দিষ্ট সময়ে ১২টি ছক্কাতে ছয় পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এ ধরনের সম্ভাব্যতাকে বলে 'কনডিশনাল প্রবেবিলিটি'; অর্থাৎ একটি ঘটনার ঘটার সম্ভাব্যতা নির্ভর করছে এভেইলেবল রিসোর্স এবং রিসোর্স ব্যবহার করার মেথডের উপর। এজন্য ছক্কার এই উদাহরণটি আনলে কেউ কেউ এটিকে প্রোটিন আসার সম্ভাব্যতা সাথের সম্পর্কিত করতে চান না এই ভেবে যে প্রাথমিক 'হাইপোথিটিক্যাল' তথা 'কাল্পনিক' পরিবেশে এমাইনো এসিডতো অনেক ছিল এবং সময় পেয়েছিল ১ বিলিয়ন বছরের (প্রায় ১০^১৩ সেকেণ্ড) কাছাকাছি। এখানে এসেই বিল ডেম্বস্কি এবং ডগলাস এক্সদের হিসেবটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে সর্বচ্চো এভেইলেবল রিসোর্স এবং সর্বচ্চো এভেইলেবল সময় একত্রিক করেও একটি মাঝারি সাইজের প্রোটিন তৈরী হওয়া সম্ভব নয়। 

     

    অবশ্য ৫০ অ্যামিনো এসিড সম্পন্ন প্রোটিনও রয়েছে যেগুলো আসলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের এবং সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা তুলনামুলকভাবে অনেক কম।

    আপনি হয়তো এই প্রেক্ষিতে এটা উল্লেখ করেছেন যে অনেকে বলতে পারে ছোট ছোট প্রোটিনওতো আছে, মাঝারি সাইজের প্রোটিন নিয়ে এত হিসেব নিকেশ কেন। কিন্তু প্রকৃত ব্যপার হল একটি কোষে একটি প্রোটিন একা কাজ করে না। প্রতিটি এনজাইম সিস্টেমে ৫টি বা তার বেশী প্রোটিনের পরস্পর নির্ভরশীল গ্রুপ হিসেবে কাজ করে। এখানে আপনার মামস ভাইরাসের প্রোটিনটিই উদাহরণ হিসেবে আনা যায়। কারণ ভাইরাস পুরোপুরি পরনির্ভরশীল। একা একা বংশবৃদ্ধি করার জেনেটিক প্রোগ্রামিং ভাইরাসে করা হয়নি। সুতরাং  উক্তা ৫৭ এমাইনো এসিডের প্রোটিনের কার্যকলাপ যাই হোক ওটা কাজ করে একটি টোটাল সিস্টেমের অংশ হিসেবে একা একা নয়। এ বিষয়টি কোষের গঠন সংক্রাণ্ত আপনার প্রাথমিক আলোচনা পড়লেও পরিস্কার হয়ে উঠবার কথা। অর্থাৎ ছোট প্রোটিনকে টেনে নিজের অবিশ্বাসকে স্বান্তনা দেয়ার চেষ্টা অর্থহীন। 

    কেউ কেউ আরেকটি বিষয় টেনে আনেন। সেটা হল ম্যাক্স টেগমার্কের মাল্টিভার্স। তারা বোঝাতে চান সম্ভাব্যতা যদি অসীমের মধ্যে একও হয় তবুও অসীম সংখ্যক ইউনিভার্স কল্পনা(!) করলে নাকি সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু উপরে যে কনডিশনাল প্রবেবিলিটির কথা বললাম সেখান থেকেই স্পষ্ট পৃথিবীর আদি পরিবেশে প্রোটিন তৈরী হওয়ার সম্ভাব্যতা নির্ভর করছে পৃথিবীর আদি পরিবেশের রিসোর্সগুলোর উপর, আদি পরিবেশের ফিজিক্যাল কণ্ডিশনের উপর। সুতরাং মাল্টিভার্স দিয়ে হয়ত পৃথিবীর আদি পরিবেশে কিভাবে ফাইন টিউনড হলো তার একটি  কাল্পনিক অপব্যাখ্যা দেয়ার  চেষ্টা করা যেতে পারে, কিন্তু পৃথিবীর আদি পরিবেশের সংক্ষিপ্ত রিসোর্স দিয়ে প্রোটিনের আগমন ব্যাখ্যা করা যায় না।   

     

      

    1. 3.1
      পাভেল আহমেদ

      বিষয়গুলো আরও ভালভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য ধন্যবাদ সাইদ ভাই।

      তবে আমি একটা ব্যাপার বলতে ভুলে গিয়েছিলাম ছক্কার ক্ষেত্রে। আমি মূলত ১২ টি ছক্কার উদাহরন দিয়েছিলাম একটি ভিন্ন কারনে। ব্যাপারটাকে এখন একটু ব্যাখ্যা দিচ্ছি। ধরা যাক, আমি একটা গেম তৈরি করলাম। গেমটি লাক ভিত্তিক রেন্ডম একটি গেম। গেমটিতে বাটন টিপলে একেক সময় একেক রকমের ছক্কার সিকোয়েন্স দেখা যায়। গেমে কন্ডিশন দেওয়া আছে যে,

      ১) যদি ছক্কার সিকোয়েন্সের সবগুলোতেই ৬ উঠে তাহলে গেম ওভার  হবে।
       ২) ছক্কার সংখ্যা কোনক্রমেই ১২ এর কম হওয়া যাবে না।

      এখন যদি একবার বাটন চাপলে ৩ টি ছক্কা দেখা যায় এবং এদের প্রত্যেকটিতেই ৬ উঠে তাহলে আমার গেম অভার হবে না। কারন ১ম কন্ডিশন আসলেও ২য় কন্ডিশন আসেনি।

      আবার ধরি, আরেকবার বাটন চাপের ফলে ১০০ টি ছক্কার সিকোয়েন্স দেখা গেলো। তার মানে এর মধ্যে খুব সহজেই ১২ টি ছক্কা থাকার কথা যেগুলোতে ৬ আসবে। (আরও বেশিও আসতে পারে) কিন্তু এবারও আমার গেম অভার হবে না। কারন ১ম কন্ডিশন। ছক্কার সিকোয়েন্সের সবগুলোতেই ৬ আসতে হবে। যেহেতু আমাদের কাঙ্ক্ষিত ১২ টি ছক্কার সিকোয়েন্সের সাথে আরও অনেক অপদ্রব্য যুক্ত আছে অর্থাৎ ছক্কার অন্যান্য সংখ্যা আছে সেহেতু আমরা কোন পিওর সিকোয়েন্স পেলাম না। ফলে গেম অভারও হল না।

      প্রোটিনের ক্ষেত্রেও আমরা এভাবেই চিন্তা করতে পারি। ১৫০ টি বাম আবর্তে ঘূর্ণায়মান অ্যামিনো এসিডকে পেপটাইড বন্ড দ্বারা আবদ্ধ হতে হবে এবং এই সিকোয়েন্স পিওর হতে হবে। অন্য কোন অপদ্রব্য বা এমনকি অ্যামিনো এসিডও যদি ডান আবর্তের যুক্ত হয় অথবা যদি নন পেপটাইড বন্ড দ্বারা এমনকি বাম আবর্তেরটিও যুক্ত হয় তাহলেই আর প্রোটিন স্বাভাবিক কর্মক্ষম থাকতে পারবে না।

       

      ছক্কা আর অ্যামিনো এসিডের সিকোয়েন্স আসলে এক হিসাবে একইভাবে কাজ করবে। যদি আমরা অ্যামিনো এসিডের নিরবচ্ছিন্ন ও খাঁটি একটি সিকোয়েন্স না পাই তাহলে প্রোটিন আসবে না ফলে প্রাণের উৎপত্তি হুবে না। আবার অ্যামিনো এসিডের পরিবর্তে ছক্কাকে বসানো হলে ১২টি ছক্কার নিরবচ্ছিন্ন (অর্থাৎ ১২টি ছক্কার ১২টি ৬ পাশাপাশি থাকতে হবে) ও খাঁটি সিকোয়েন্স না পেলে আমরা কাঙ্ক্ষিত প্যাটার্ন পাবো না ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফলও অর্জন করতে পারবো না।

      1. 3.1.1
        আবদুল্লাহ সাঈদ খান

        এক্স্যাক্টলি। একটি প্রোটিন একটি নির্দিষ্ট সিকোয়েন্সেই হয় সুতরাং এক্ষেত্রে অতিরিক্ত এমাইনো এসিডের উপস্থিতি তার জন্য সমস্যা সৃষ্টিকারী। এ রকম অসংখ্য কারণ দেখানো সম্ভব কেন প্রোটিন দৈবাৎ তৈরীর সম্ভাব্যতা বিবেচনায় আনাই অর্থহীন। 
         

    2. 3.2
      পাভেল আহমেদ

      আর মাঝারি সাইজের প্রোটিনের ব্যাপারটাকে আমি মূলত এভাবে এক্সপ্লেইন করেছি যে আমরা পৃথিবীর সকল প্রোটিনের জন্য ১৫০ অ্যামিনো এসিডের প্রোটিনকে গড় ধরে হিসাব করেছি। এজন্যই আমি লিখেছিলামঃ

      তবে এখানে একটা কথা রয়েছে। আর সেটা হল, আমাদের জানা মতে প্রোটিন সর্বোচ্চ ১০০০টি পর্যন্ত বা তার কিছু বেশি অ্যামিনো এসিড দ্বারা গঠিত হতে পারে। গাণিতিকভাবে হিসাব করলে পৃথিবীতে পাওয়া ২০ ধরনের অ্যামিনো এসিড দিয়ে সর্বোচ্চ দৈর্ঘ্য পর্যন্ত মোট ২০^১০০০ [২০ এর পরে ১ হাজারটি শূন্য] ধরনের প্রোটিন পাওয়া যেতে পারে। [সূত্রঃ http://wiki.answers.com/Q/Why_do_so_many_different_types_of_proteins_exist#slide2] অনেকের মতে মানুষের দেহে এখনও পর্যন্ত পাওয়া বিভিন্ন ধরনের মোট প্রোটিনের সংখ্যা হল ১ লক্ষ। [সূত্রঃ http://answers.yahoo.com/question/index?qid=20101002165123AAsqpUw] তাই সকল ধরনের অ্যামিনো এসিডের কথা চিন্তা করে আমরা গড় হিসেবে ১৫০ অ্যামিনো এসিড সম্পন্ন প্রোটিনের কথা চিন্তা করছি যা আসলে বেশীরভাগ প্রোটিনের তুলনায় আকারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র। যদি আমরা প্রোটিনের সর্বমোট প্রকারভেদ ১ লক্ষ হিসাবেও ধরি এবং গড়ে প্রত্যেকটিকে ১৫০ অ্যামিনো এসিড দীর্ঘ হিসাবে ধরি তাহলে এলোমেলো পরিবেশ থেকে এই ১ লক্ষ প্রোটিনের আসার সম্ভাবনা হল (১/১০^১৬৪)^১০০০০০ = ১/১০^১৬৪০০০০০! ১০^১৬৪০০০০০ মানে ১ এর পরে ১ কোটি ৬৪ লক্ষ শূন্য থাকবে!!

      এর মধ্যে শুধু ৫০ অ্যামিনো এসিড দীর্ঘ প্রোটিনের উদাহরন টেনে দেখাতে চাচ্ছিলাম যে দেহের প্রধান কার্যকরী প্রোটিনসমূহ আরও বেশি বৃহৎ আকারের হয়ে থাকে।

      তবে হ্যাঁ, একটি প্রোটিন যত বড়ই হোক না কেন সেটা যে আরও বিশাল আকারের একটা সিস্টেমের অংশ এবং এমনকি প্রোটিন উৎপাদনের জন্যও যে প্রচুর পরিমানের প্রোটিনের প্রয়োজন রয়েছে সেই ব্যাপারটা আমার মাথা থেকে লেখার সময় সম্পূর্ণরূপে স্কিপ করেছে। আপনার সংগে আমার সেদিনকার আলোচনাটাও এমনকি পুরো গুলে খেয়ে ফেলেছিলাম! লেখার বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন সময়ে সংযোজন করা হয়েছিলো বলেই হয়তো এই অবস্থা হয়েছে!!

      1. 3.2.1
        আবদুল্লাহ সাঈদ খান

        পুরোপুরি একমত

    3. 3.3
      পাভেল আহমেদ

      এবারে আসা যাক মাল্টিভারসের প্রসঙ্গে।

      এখানে আমি আমার এই লেখাটিতে দেওয়া গ্রহাণুটির উদাহরন টেনে আনতে চাই।

      নাসার স্পেসগার্ড প্রোগ্রাম আমাদেরকে জানিয়েছে যে ২০৩২ সাল নাগাদ একটি গ্রহাণু পিণ্ড পৃথিবীর দিকে আসতে যাচ্ছে। কিন্তু এই নিয়ে চিন্তিত হবার দরকার নেই কারন এটি পৃথিবীতে আঘাত হানার সম্ভাব্যতা হল ৬৩ হাজার বারের মধ্যে মাত্র একবার। মানে আঘাত না হানার সম্ভাব্যতা হল ৯৯.৯৯৮% আর আঘাত হানার সম্ভাব্যতা হল ০.০০২%।

      কিন্তু একজন বিবর্তনবাদীকে এবং ফাইন টিউনিং এর বিরোধীকে এই ঘটনার কথা বললে তো তার আতংকিত হয়ে পড়ার কথা। কারন অসীম সংখ্যক মহাবিশ্বের মধ্যেই হয়তো এই ঘটনাটি ঘটছে। সেক্ষেত্রে হয়তো আমাদের ভাগ্যই এবারে খারাপ হয়ে যাবে। :p

      যাই হোক আমি ভনিতা না করে সরাসরি আমার নিজের ব্যাখ্যায় চলে আসছি।

      ধরি, আমাদের মহাবিশ্বের পাশাপাশি আরও ১০০ হাজার লক্ষ কোটি মহাবিশ্ব রয়েছে যাদের প্রত্যেকটিতেই ১টি করে এমন গ্রহ রয়েছে যার দিকে 2013 TV135 এর মতো একটি গ্রহাণু ছুটে আসছে। আমরা আরও ধরে নিলাম যে প্রত্যেক গ্রহাণুর ক্ষেত্রেই নিজ নিজ মহাবিশ্বের গ্রহকে আঘাত হানার সম্ভাবনা আমাদের মতো করেই ০.০০২%। অর্থাৎ আঘাত না হানার সম্ভাবনা ৯৯.৮৮৯%। যেহেতু মাল্টিভারস থিওরি অনুসারে অসীম সংখ্যক মহাবিশ্বের [যার অর্থ যে আসলে কি কে জানে?!] কথা বলা হচ্ছে সেহেতু এধরনের ১০০ হাজার লক্ষ কোটি মহাবিশ্ব থাকতেই পারে!

      যাই হোক, এখন যদি কেউ বলে যে ১০০ হাজার লক্ষ কোটি ঘটনা পাশাপাশি ঘটার জন্য অন্তত একবার হলেও এই ঘটনাটি ঘটবে সেটা কি খুব একটা যুক্তি সঙ্গত হবে? আমি খুব একটা বড় কোন থিওরির দিকে যাচ্ছি না বা মাল্টিভারস থিওরির বিরুদ্ধে অন্য কোন থিওরি এনে দাঁড়া করানোর চেষ্টাটাও করছি না। আমার প্রথম প্রশ্ন হল যে ১০০ হাজার লক্ষ কোটি মহাবিশ্বের প্রত্যেকটি আলাদা আলাদাভাবে ঘটা ঘটনাগুলি কি একে অপরের প্রতি নির্ভরশীল? যদি হ্যাঁ হয় তাহলে কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য নিঃসন্দেহে না হবে। এবং যদি না হয় তাহলে প্রশ্ন হল যে, কেন পাশাপাশি এই ধরনের ঘটনা অসংখ্যবার ঘটলে যেকোনো একটি স্থানে ঘটে যাবেই?

      এক্ষেত্রে আমি সম্ভাব্যতার একদম বেসিক নিয়মগুলোর একটি এপ্লাই করছি যাকে বলা হয় অনির্ভরশীল ঘটনা।

      অনির্ভরশীল ঘটনার সংজ্ঞা হল –

      যদি একাধিক ঘটনার মধ্য থেকে কোনটি ঘটার সম্ভাব্যতাই অপর ঘটনাগুলোর উপর নির্ভর না করে তখন ঘটনাগুলিকে পরস্পর স্বাধীন বা অনির্ভরশীল ঘটনা বলা হয়।

      যেমনঃ

      দুটি মুদ্রা নিক্ষেপ করলে ১টি মুদ্রার উপরের দিকে হেড বা টেইল পাওয়ার সম্ভাবনা অপর মুদ্রার উপরের দিকে হেড বা টেইল পাওয়ার সম্ভাবনার উপরে নির্ভর করে না। তাই দুটি মুদ্রায় হেড বা টেইল আসার ঘটনা পরস্পর স্বাধীন বা অনির্ভরশীল।

      ঠিক একইভাবে আমাদের কাল্পনিক ১০০ হাজার লক্ষ কোটি মহাবিশ্বের প্রত্যেকটির এই গ্রহাণু সংক্রান্ত ঘটনাই হবে স্বাধীন বা অনির্ভরশীল ঘটনা।

      আবার একইভাবে প্রত্যেক মহাবিশ্বের প্রত্যেক গ্রহের প্রত্যেক বিক্রিয়া স্থানেই সম্ভাব্যতার সূত্র স্বাধীনভাবে এপ্লাই হবে কারন প্রত্যেকটি ঘটনাই হল একেকটি স্বাধীন বা অনির্ভরশীল ঘটনা! যদি তারপরও কেউ বলে যে অনেক সময় ধরে অনেক স্থানে কোন ঘটনা ঘটলে এক সময় না এক সময় ঘটনাটি ঘটতে বাধ্য তা সে যত ক্ষুদ্র সম্ভাব্যতাই হোক না কেন তাহলে তাকে আগে প্রমান করতে হবে যে এরা পরস্পর স্বাধীন ঘটনা নয়। ব্যাপারটা অনেকটা এটা প্রমান করার মতো যে দুটি কয়েন উপরের দিকে ছুঁড়ে মারলাম। এখন একটাতে হেড আসলে আরেকটাতে টেল আসবেই!!!!! 😀

      1. 3.3.1
        আবদুল্লাহ সাঈদ খান

        এই সাধারণ বিষয়টিই নাস্তিকদের মস্তিস্কে ধরা পড়ে না তাদের বিশ্বাসের অন্ধত্বের জন্য।

        1. 3.3.1.1
          পাভেল আহমেদ

          যদি আমরা আসমানের কোন দরজা তাদের সামনে খুলে ধরতাম এবং তারা যদি তাতে আরোহণও করতো তবুও তারা বলতো -- আমাদের চোখ বিভ্রান্ত হয়েছে মোহাচ্ছন্নতায়। বরং আমরা সকলেই জাদুগ্রস্ত হয়েছি।

                           সূরা আল হিজর, আয়াতঃ ১৪ ও ১৫

  8. 2
    এম_আহমদ

    ভাই, এই বিষয়টির উপর এত সুন্দর ও নির্মল উপস্থাপন মুদ্ধ  করেছে। ভাষিক (বাক্যিক) উদাহরণ ও মাদারবোর্ডের উদাহরণ সমঝকে যেন ঘরে নিয়ে আসে। অনেক ধন্যবাদ।   

    1. 2.1
      পাভেল আহমেদ

      লেখাটি ধৈর্য ধরে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ! 🙂

      আপনার মন্তব্য পড়ে মজা পেলুম! 😀

  9. 1
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    পাভেল ভাই, অনেক দিন অপেক্ষা করে ছিলাম আপনার লিখা পড়ার জন্য। অনেক দিন পরে হলেও ধন্যবাদ আপনার পরিশ্রম করে লিখার জন্য।  "মাত্র ১০ টাকায় ঢাকা শহরের একটি ফ্ল্যাট" মাইকের এই লটারীর আওয়াজ যখন  শুনতাম তখন খুব ক্লান্ত অনুভব করতাম। ১৫০ টি অ্যামিনো এসিড থেকে ১ টি প্রোটিন অনু তৈরি করতে যে সম্ভবনার কথা বললেন,  তাতে মনে হয়, মহাবিশ্বের সবচেয়ে  দুরের (১৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ) অবজেক্টে হেঁটে হেঁটে গিয়ে পৌঁছা অনেক অনেক অনেক সহজ। একটি শুক্রানু ও ডিম্বাণু মিলে ১০ মাস ১০ দিনে মহাবিশ্বের সবচেয়ে কমপ্লেক্স জিনিষটি তৈরি হয় সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই এবং তা তৈরি হয় প্রকৃতিগত ভাবে — কথাগুলো যারা বলে তারা-তো আফিম বা গাঁজা খেয়ে কথা বলে না। পাভেল ভাই, আপনিই বলুন তারা কেন এই প্রকৃতির দোহাই দেয়? প্রকৃতি বলতে তারা কি বুঝে? ভাল থাকুন পাভেন ভাই।      

    1. 1.1
      পাভেল আহমেদ

      ধন্যবাদ তাজুল ভাই। আপনারা আমার লেখা পড়েন দেখেই তো আমার পরিশ্রমকে সার্থক হয়। 🙂 লটারির উদাহরণটা পড়ে বেশ মজা পেলাম! ঠিকই বলেছেন!! 😀

      একটি শুক্রানু ও ডিম্বাণু মিলে ১০ মাস ১০ দিনে মহাবিশ্বের সবচেয়ে কমপ্লেক্স জিনিষটি তৈরি হয় সৃষ্টিকর্তা ছাড়াই এবং তা তৈরি হয় প্রকৃতিগত ভাবে — কথাগুলো যারা বলে তারা-তো আফিম বা গাঁজা খেয়ে কথা বলে না। পাভেল ভাই, আপনিই বলুন তারা কেন এই প্রকৃতির দোহাই দেয়? প্রকৃতি বলতে তারা কি বুঝে?

      ছলে, বলে, কৌশলে যেভাবেই হোক তারা স্রষ্টাকে মানুষের মন থেকে মুছে দিয়ে পৃথিবীতে মানুষের তৈরি আইন প্রনয়ন করতে চায়। কিন্তু এদিকে বিজ্ঞান আমাদেরকে একটি সুশৃঙ্খল প্রাকৃতিক পরিবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে যা একজন সুনিয়ন্ত্রক ছাড়া সম্ভব নয়। দুই দিক এক সাথে সামলানোর জন্য তারা মধ্যম পন্থা অবলম্বন করে প্রকৃতির উপরে সকল কিছুর দায় দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে প্রকৃতিকে স্রষ্টার আসনে বসাতে চাচ্ছে। -_- পুনরায় ধন্যবাদ এবং আপনিও ভালো থাকুন! 🙂 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published.