«

»

Aug ২০ ২০১৪

একজন ইসলাম বিরোধীর সাথে একটি অনর্থক আলোচনা পর্ব ৫ (শেষ পর্ব)

গত ৪ টি পর্বে (পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩ এবং পর্ব ৪) এস. এম. রায়হান ভাইয়ের একটি পোস্টে আমার এবং বিদ্রোহীর বিশাল ও অনর্থক আলোচনার বিশাল একটি অংশ তুলে ধরা হয়েছিল। এবারের পর্বে সেই আলোচনারই সর্বশেষ অংশ তুলে ধরা হবে। এই আলোচনার শুরুর দিকে মিরাজ, সাইদ ভাই এবং সাওন হোসাইন এর অংশগ্রহণ ছিল।

 

মিরাজ

এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ৪:৫১ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

বিদ্রোহী ভাই আপনাকে পাভেল যথাযথ রেফারেন্স দিসে! দেখি আপনি আগে ওইগুলার লাইন বাই লাইন উত্তর দিতে পারেন কিনা! আপনার আগের কমেন্টগুলা দেখে মনে হচ্ছে না আপনি উত্তর দিতে পারবেন! তাও আমি একটা কথা বলছি আপনাকে! আপণি বললেন! 

"দু:খিত ভাই, আমি আপনার মত চোখ থাকতেও অন্ধ নই। আমি মুহাম্মদকে ডিফেম করছি না। কুরান, হাদিস ও তাফসির থেকে কিছু বিষয় বোঝার চেষ্টা করছি মাত্র।"

কিন্তু ভাই আমি দেখছি আপনি কিছু বুঝার চেষ্টা করসেন না! আপনি ভুল ধরতে চাইতেছেন! কোন একদিন কোন এক ইসলাম বিরোধী নাস্তিক হয়ত আপনাকে এই টপিক টা বলছিল! আপনি সেইটা নিয়া আর কিছু না দেইখা না বুইঝা শুরু করসেন! এমন কি আপনাকে পাভেল যখন বুঝাইতে চাইল, ব্যাখ্যা দিতে চাইল! আপনি পাভেল রে বলেন সে বেশি বুঝে কিনা! সে বুঝে অ্যান্ড খুব ভালই বুঝে! বাট আপনি যে না বুইঝা ফাল পারতেছেন সেইতাও যারা যারা আপনার কমেন্ট অ্যান্ড যুক্তি পড়বে তারাও বুঝবে! আর ভাই! যারা ইসলাম , কুরআন শরীফ এবং মহানবী (সঃ) এর ভুল ধরতে চায়, তারা আসলে পুরা ব্যাপারগুলা না বুঝে শুনেই আলোচনা করতে আসে! কারন তাদের জানার সীমানাটা সীমিত! একটা পিঁপড়া কে এক গ্লাস পানির মধ্যে ছেড়ে দিলে সে যেমন মনে করে যে হায় হায় এত বেশি পানি! কিন্তু সে জানেই না যে মহা সাগর বলে কিছু আসে! আপনার অবস্থা এখন সেই রকম। 

আবদুল্লাহ সাঈদ খান

এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ১১:০৪ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

আপনি বললেন, আপনার উদ্দেশ্য তাফসীর থেকে কিছু বোঝা কিন্তু শুরু করলেন তাফসির ইবনে কাছিরের সুরা আহযাবের ৫২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যার আংশিক উল্লেখ করে। এছাড়া পাভেল আহমেদ -এর মন্তব্য থেকেও পরিস্কার আপনি স্কিপ কোটিং করছেন ডিফেম করার উদ্দেশ্যে। না হলে আয়াতটির অধিকতর গ্রহনযোগ্য ব্যাখ্যাটি যেটি অধিকাংশ আলেম, এমনকি সাহাবারা পর্যন্ত স্পষ্ট করে গেছেন সেটাই আপনার 'বোঝার' জন্য যথেষ্ট হত। আপনি চোখের সামনে দিয়ে মিথ্যাচার করছেন। ইন ফ্যাক্ট 'মিথ্যাচার করাটা'  আপনার ধর্মীয় কর্তব্যের মধ্যে পড়ে বোধ হয়। 

আবারও বলছি, আপনি যে মিথ্যাচার করছেন এটার প্রমানের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আপনি বললেন আপনার উদ্দেশ্য তাফসীর থেকে কিছু বোঝা কিন্তু শুরু করলেন তাফসির ইবনে কাছিরের সুরা আহযাবের ৫২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যার আংশিক উল্লেখ করে। এরপর যখন দেখিয়ে দেয়া হল যে আপনি আংশিক উল্লেখ করেছেন, আপনার তথাকথিত প্রশ্নের উত্তরগুলো ঐ তাফসিরেই দেয়া আছে, তখনই প্রসঙ্গ পাল্টে অন্য বিষয় টেনে আনলেন। এতে স্পষ্ট যে আপনার উদ্দেশ্য তর্ক করা এবং রাসূলকে ডিফেম করা এবং প্রমাণিত হয় আপনার 'বোঝার' উদ্দেশ্যটি সর্বৈব মিথ্যা।

সাওন হোসাইন

এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ৪:৪৪ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

:O :O বিদ্রোহী, আপনি কি নাস্তিক হওয়ার পূর্বে মুসলিম ছিলেন? কাম ব্যাক টু ইসলাম। ইউ উইল বি ওয়েল্কামড। এরকম হানাহুদা অন্ধ তর্ক করে কি লাভ বলুন?

পাভেল+সাইদ ভাই, এরপর এত পরিশ্রম করে তর্ক করার আগে নাস্তিকদের সাথে চুক্তি করে নিবেন। হেরে গেলে ইউ হ্যাভ টু কাম ব্যাক ইন ইসলাম

বিদ্রোহী

এপ্রিল ৯, ২০১৩ at ১:২৩ অপরাহ্ন (UTC 6)

মি: শাওন,
আপনি যদি নিরেট মূর্খ আর গোয়ার না হন, আপনার বোঝা উচিত পাভেল ও সাইদ সাহেব বহু আগেই হেরে গেছেন। পরে যেসব করে চলেছেন সেটাতে তারা ইসলামের বরং বারটা বাজাচ্ছেন।ওনারা ওনাদের বক্তব্যে যে সব বিষয় প্রতিষ্ঠিত করেছেন তা হলো –
১। কোরানের আয়াতের বহু রকম ব্যখ্যা বা অর্থ করা যায় যা কোরানের সাথে স্ববিরোধী,যেমন -And We have sent down on thee the Book making clear everything, and as a guidance and a mercy, and as good tidings to those who surrender. S Nahl- 16:89
উক্ত আয়াতে বলছে- আমি তোমাদের কাছে প্রতিটি বিষয়কে সুস্পষ্ট করে প্রেরণ একটি কিতাব প্রেরণ করেছি।
অথচ উক্ত পাভেল ইবনে কাথির ও মারেফুল কোরান  এ দুই তাফসির দিয়ে প্রমান করলেন  যে কোরানের আয়াতের বহুরকম অর্থ করা যায় অর্থাৎ আয়াতের বক্তব্য সুস্পষ্ট নয়।
আর একটা আয়াত –
তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। সুরা আল ইমরান -৩:৭
এখানে বলা হচ্ছে কিছু আয়াত আছে যা রূপক কিন্তু তার অর্থ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। সুতরাং আমরা যে ৩৩:৫০,৫১,৫২ আয়াত গুলো নিয়ে আলোচনা করলাম সেগুলো কোন রূপক আয়াত নয়। আর তাই তা খুব পরিস্কার যা বুঝতে কোনই কষ্ট হয় না। কিন্তু দেখা গেল তার পরেও দুইজন তাফসির কার দুইরকম অর্থ করেছেন।
২। তাদের দাবী ও ব্যখ্যা অনুযায়ী আল্লাহ নবীকে যথেচ্ছ বিয়ে করার অনুমতি বহাল রেখেছিলেন। এর মাধ্যমে নবির চরিত্রকে কলুষিত করেছেন। কারন এর ফলে প্রশ্ন উঠছে- নবীর কাজ কি খালি বিয়ে করা ছিল ? তার অসংখ্য বিয়ের দরকারই বা কি ছিল ? এভাবে যে মানুষ অসংখ্য বিয়ে করবেন তিনি কিভাবে দুনিয়াতে সর্বকালের একজন আদর্শ মানুষ হন ? এছাড়াও সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন ওঠে- আল্লাহ কিভাবে এত দ্রুত তার বানী পরিবর্তন করেন ? তিনি একবার বলছেন যথেচ্ছ বিয়ে কর, আর একবার বলছে না আর বিয়ে করো না। শ্বাশ্বত আল্লাহর বানী হবে শ্বাশ্বত , কিন্তু কোরানে দেখা যাচ্ছে আল্লাহ যেন চঞ্চল মতি মানুষের মতই শুধু একের পর এক তার বানী পাল্টে ফেলছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে – এসব আল্লাহর বানী কি না।
৩। তারা প্রমান করেছেন যে খুব জড়াখিচুড়ী ও আগোছাল ভাবে কোরানকে সংকলন করা হয়েছিল। তাদের দাবি ৫২ নং আয়াত আগে নাজিল হয়েছিল আর ৫০ নং আয়াত পরে। অথচ সংকলনের সময় এলোমেলো হয়ে গেছে। এটা কোরানের বিশুদ্ধতাকে মিথ্যা প্রমান করে। তাদের দাবী গ্রহন করলে ইবনে কাথিরের এ ব্যখ্যাও গ্রহন করতে হবে কারন তারা বলেছেন যে তারা ইবনে কাথিরের বক্তব্যকে যথার্থ মনে করেন। সে বক্তব্যটা হলো –
সুরা আহযাবের একে বারে প্রারম্ভেই নিচের তাফসির আছে –
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে -হযরত উবাই ইবনে কাব ( রা) হযরত যির(রা) কে জিজ্ঞেস করলেন: "সুরায়ে আহযাবে কতটি আয়াত গণনা করা হয়? " উত্তরে তিনি বলেন- " তিহাত্তর টি" । তখন হযরত উবাই ইবনে কাব ( রা) বলেন — "না না আমি তো দেখেছি যে এ সূরাটি প্রায় সুরা বাকারার মত ছিল। " পৃষ্ঠা নং-৭৩৩, খন্ড-১৫শ, তাফসির ইবনে কাথির, অনুবাদ : ড. মুজিবুর রহমান।
তার অর্থ কোরানের শুধুমাত্র সূরা আহযাবেই প্রায় ২০০ এর অধিক আয়াত সংকলিত হয় নি , কারন সূরা বাকারাতে মোটা ২৮৬ টি আয়াত বিদ্যমান এবং এটাও তারা বিশ্বাস করেন। এর পরেও যদি আপনারা দাবি করেন – কোরান খুব বিশুদ্ধভাবে সংকলিত হয়েছিল সেটা যে কত বড় ডাহা মিথ্যা কথা সেটা আমার বক্তব্য নয়, খোদ ইবনে কাথিরের বক্তব্য। শুধুমাত্র একটি সূরার যদি এ অবস্থা হয় বাকী সূরাগুলোর  না জানি কি অবস্থা তা আল্লাহই জানে। সুতরাং তাদের ব্যখ্যা ও বিশ্বাস অনুযায়ী কোরান মোটেও বিশুদ্ধভাবে সংকলিত হয় নি, এবং এটাও কুরানের মূল বক্তব্যের সাথে স্ববিরোধী কারন আল্লাহ বলেছে-
আমি কোরান নাজিল করেছি আর আমি এর সংরক্ষক  সূরা হিজর -১৫:০৯
তাহলে বোঝা যাচ্ছে কোরান আল্লাহর বানী নয় , আল্লাহর বানী হলে বর্তমান কোরান সংকলনের সময় অত সংখ্যক আয়াত   বাদ যেত না, আল্লাহই কোন না কোনভাবে সেগুলো কোরানে সংকলন করত। যেহেতু দেখা যাচ্ছে বর্তমান কোরানে বহু সংখ্যক আয়াত সংকলন বাদ পড়েছে তাহলে অন্তত: পক্ষে উক্ত ১৫:০৯ আয়াত আল্লাহর বানী হতে পারে না , কারন উক্ত বানী অনুযায়ী আল্লাহ নিজেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ  আল্লাহ কোন কাজে ব্যর্থ হতে পারে না। কিন্তু তারা এতটাই নির্বোধ যে সেটা  চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়ার পরেও বুঝতেই পারছেন না।
৪। ওনাদের বোধ বুদ্ধি এতটাই ভোতা যে , ওনারা বুঝতে পারছেন না যে আমার মূল বক্তব্য হলো কোরান কোন আল্লাহর বানী নয়, বরং সেটা মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী যা তিনি তার প্রয়োজন মত  মানুষের সামনে আল্লাহর বানী বলে চালিয়েছেন- এটাই প্রমান করা। কুরান মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী বলেই সময়ে সময়ে দরকার মতো তিনি তা পরিবর্তন করেছেন যা আমার দেখছি উক্ত ৩৩: ৫০,৫১,৫২ আয়াতে।
এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন , কে জিতেছে আর কে হেরেছে। এ থ্রেডে ওনাদের সাথে আর আলোচনা করতে আমার ইচ্ছা ছিল না, কারন দেখলাম তারা এতটাই অন্ধ ও ভোতা যে স্বয়ং আল্লাহ এসেও যদি তাদেরকে কোন কিছু বলে তাও তারা বিশ্বাস করবেন না।

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ২:৫০ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

//মি: শাওন,
আপনি যদি নিরেট মূর্খ আর গোয়ার না হন, আপনার বোঝা উচিত পাভেল ও সাইদ সাহেব বহু আগেই হেরে গেছেন।//

বিদ্রোহী সম্ভবত নিজে যেমন অন্যদেরও ঠিক তেমনই মনে করেন। এমনকি তিনি নিজের হারটাকেও এমনকি অন্যদের উপরে চাপিয়ে দিতে চাচ্ছেন! অবশ্য অনেকেই নিজের হারটাকে সহ্য করতে পারে না!!

//পরে যেসব করে চলেছেন সেটাতে তারা ইসলামের বরং বারটা বাজাচ্ছেন।//

কে যে বারোটা বাজানোর চেষ্টা করছে সেটা তো সকলেই বুঝতে পারছে।

// কোরানের আয়াতের বহু রকম ব্যখ্যা বা অর্থ করা যায় যা কোরানের সাথে স্ববিরোধী,যেমন -And We have sent down on thee the Book making clear everything, and as a guidance and a mercy, and as good tidings to those who surrender. S Nahl- 16:89
উক্ত আয়াতে বলছে- আমি তোমাদের কাছে প্রতিটি বিষয়কে সুস্পষ্ট করে প্রেরণ একটি কিতাব প্রেরণ করেছি।//

কুরআনের আয়াতের বক্তব্যকে যে সুস্পষ্ট এটা যে ব্যাক্তি আউট অফ কনটেএক্সট লাইন পড়ে এবং স্কিপ কোটিং করে তার পক্ষে কোনক্রমেই বোঝার কথা না। আল্লাহ্‌ তাঁর বক্তব্যকে সুস্পষ্টভাবেই উপস্থাপন করেছেন কিন্তু বিদ্রোহীর মতো কিছু আল্লাহ্‌ বিদ্রোহীই এই সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকে এড়িয়ে গিয়ে নিজের মতো করে একটি ব্যাখ্যাকে বেছে নিচ্ছেন। এই কথার পরে বিদ্রোহী অবশ্য বলতে পারেন যেঃ

//আমি বস্তুত কোন কথাই বলিনি, শুধুমাত্র ইবনে কাথিরের কিছু ব্যখ্যা ও বোখারি শরিফ থেকে কিছু হাদিস দেখিয়েছি মাত্র।//

অথচ ইবনে কাসীরও ২য় ব্যাখ্যাটিকে গ্রহন করেছিলেন এবং ২য় ব্যাখ্যাটি সঠিক হতে পারে বলেই তিনি একেও নিজের তাফসীরে রেখেছিলেন। তাঁর নিজের তাফসীর থেকেই যেসকল সাক্ষ্য প্রমান পাওয়া যায় তা থেকেই বোঝা যায় যে ২য় ব্যাখ্যাটিই বেশি গ্রহণযোগ্য এবং শক্তিশালী। ইসলামে কুরআনের আয়াত ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে অথবা হাদিস বর্ণনা করার ক্ষেত্রে যত ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায় সবই সংরক্ষণ করা হয় এমনকি যদিও এটা প্রমান হয়ে যায় যে সেটা জাল হাদিস বা ব্যাখ্যা হয় তবুও। এটা করার কারনে যুগে যুগে ইসলামকে কিভাবে অপব্যাবহার করা বা বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছিল সেটা সম্পর্কে মানুষ ধারনা পায়।

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ২:৫৮ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

//অথচ উক্ত পাভেল ইবনে কাথির ও মারেফুল কোরান এ দুই তাফসির দিয়ে প্রমান করলেন যে কোরানের আয়াতের বহুরকম অর্থ করা যায় অর্থাৎ আয়াতের বক্তব্য সুস্পষ্ট নয়।//

উক্ত পাভেল?!?!?!?!?!

যাই হোক, দুই ধরনের ব্যাখ্যা থাকা আর ২টি ব্যাখ্যাই মিথ্যা হওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। যেমন কোন একটি ঘটনার অসংখ্য ব্যাখ্যা যে কেউই দিতে পারে কিন্তু কেবলমাত্র এক ধাঁচের ব্যাখ্যাই সঠিক হবে। লজিকাল দিক দিয়ে এবং সাক্ষ্য প্রমাণের দিক দিয়ে ২য় ব্যাখ্যাটিই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী সুতরাং অবশ্যই আমরা সেটাই গ্রহন করবো। যেমন আকাশের মেঘ কি জিনিস এর ব্যাখ্যা কেউ হয়তো দিতে পারে যে মেঘ হল আকাশে ভাসমান আইসক্রিম, অনেকে ব্যাখ্যা দিতে পারে যে মেঘ হল দেবতাদের বাহন, কেউ কেউ ব্যাখ্যা দিতে পারে যে মেঘ হল এক প্রকার তুলা ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের সাক্ষ্য প্রমাণ থেকে আমরা জানি যে মেঘ হল জলীয় বাষ্পের একটি রূপ। সুতরাং আমরা যুক্তি প্রমাণ যে দিকে নির্দেশ করছে সেই ব্যাখ্যাটিই নিচ্ছি। কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারনে বিদ্রোহীর এই কাজটি করতে গেলেই চুলকাচ্ছে!

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:০৭ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

২য় ব্যাখ্যাটি হল আল্লাহ্‌ কেবল মহানবী (সঃ) এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট সংখ্যক নারীর বাহিরে আর সকল নারীকে বিয়ে করা হারাম ঘোষণা করেছেন। এই ব্যাখ্যাটি যারাই করেছেন তারা সকলেই সূরা আল আহজাবের ৫০, ৫১ ও ৫২ নম্বর আয়াতকে একসাথে হিসাব করেই করেছেন। আর এভাবে হিসাব করাটাই যৌক্তিক যেহেতু এগুলো একই সূরার একই বিষয় সম্পর্কিত ক্রমিক আয়াত। কুরআনের বিভিন্ন আয়াত নাজিলের সাক্ষী হলেন সাহাবীরা এবং মহানবীর (সঃ) বিভিন্ন স্ত্রীরা বিশেষ করে হজরত আয়েশা (রাঃ)। সুতরাং তাঁরাই কুরআনের ওই সকল আয়াত নাযিল হবার কারন সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন। আর ৫২ নম্বর আয়াতের ক্ষেত্রে তাফসীর ইবনে কাসীর এবং তাফসীরে মা’আরেফুল কুরআন থেকে জানা যায় যে বিভিন্ন সাহাবীগন এবং মহানবীর (সঃ) স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) যিনি কুরআনের আয়াত সমূহ নাজিলের অন্যতম একজন সাক্ষী এবং হাদিসসমূহের অন্যতম একজন বর্ণনাকারিণী তাঁদের রেওয়াত ২য় ব্যাখ্যাটিকেই সমর্থন জানায়। অর্থাৎ হাদিস এবং বিভিন্ন আলেমদের কথা অনুসারে ২য় ব্যাখ্যাটিই সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী। এছাড়াও ২টি ব্যাখ্যার মধ্যে আমরা সেটিকেই নিব যার সাথে আমরা ঘটনাপ্রবাহের মিল পাব। এই আয়াত নাজিল হবার পরেও যেহেতু মহানবী বিয়ে করেছেন তার মানে হল যে এই আয়াতের জন্য ২য় ব্যাখ্যাটিই প্রযোজ্য হবে। এটা বুঝার জন্য আইনস্টাইন হওয়া লাগে না।
অবশ্য বিদ্রোহী তার কমেনটের মধ্যে অসত্য একটি কথা বলেছেন। আর সেটি হলঃ

//অধিকাংশ ইসলামি স্কলাররাই উক্ত আয়াত দিয়ে বুঝিয়েছেন যে এটা দিয়ে আল্লাহ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছে।//

কিন্তু আমি পূর্বের কমেন্টসমূহেই প্রমাণ করে দিয়েছিলাম যে কথাটি মিথ্যা একটি কথা। বরং অধিকাংশ ইসলামী স্কলাররাই উক্ত আয়াত দিয়ে এটা বুঝিয়েছেন যে ৫০ নম্বর আয়াতে উল্লেখিত নারীরা ছাড়া আর সকলেই হারাম। কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারনে বিদ্রোহী নিজের অসত্য তথ্যের কথাটি বেমালুম চেপে গেলেন।

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:১৪ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

// তাদের দাবী ও ব্যখ্যা অনুযায়ী আল্লাহ নবীকে যথেচ্ছ বিয়ে করার অনুমতি বহাল রেখেছিলেন। এর মাধ্যমে নবির চরিত্রকে কলুষিত করেছেন। কারন এর ফলে প্রশ্ন উঠছে- নবীর কাজ কি খালি বিয়ে করা ছিল ? তার অসংখ্য বিয়ের দরকারই বা কি ছিল ? এভাবে যে মানুষ অসংখ্য বিয়ে করবেন তিনি কিভাবে দুনিয়াতে সর্বকালের একজন আদর্শ মানুষ হন ? এছাড়াও সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন ওঠে- আল্লাহ কিভাবে এত দ্রুত তার বানী পরিবর্তন করেন ? তিনি একবার বলছেন যথেচ্ছ বিয়ে কর, আর একবার বলছে না আর বিয়ে করো না। শ্বাশ্বত আল্লাহর বানী হবে শ্বাশ্বত , কিন্তু কোরানে দেখা যাচ্ছে আল্লাহ যেন চঞ্চল মতি মানুষের মতই শুধু একের পর এক তার বানী পাল্টে ফেলছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে — এসব আল্লাহর বানী কি না।//

এর আগের একটি কমেন্টে বিদ্রোহী নিজেই আমাকে বলেছিল যে আমার কথা নাকি অপ্রাসঙ্গিক ছিল।

তিনি এপ্রিল 8, 2013 at 12:13 এর কমেন্টে বলেছিলেনঃ

//আপনি তার কোন উত্তর না দিয়ে বিশা্ল এক নিবন্ধই লিখে ফেললেন। যা ছিল রীতিমতো অপ্রাসঙ্গিক।//

তার কথাবার্তা পড়ে যদিও মনে হয়েছিল যে তিনি অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা পছন্দ করেন না (যদিও আমার কথাবার্তা অপ্রাসঙ্গিক ছিল না) কিন্তু সমস্যা হল তিনি নিজেই বারবার মহানবীর বিয়ের কথা বলে তাঁর চরিত্র নিয়ে প্রশ্নও তুলছেন। অথচ এখানে কথা হচ্ছে এই নিয়ে যে আল্লাহ্‌ মহানবীকে (সঃ) বিয়ে করতে অনুমতি দিয়েছেন কিনা? এর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর আমি তাফসীর থেকে ও লজিক থেকে দিয়ে দিয়েছি এবং একই সাথে বিদ্রোহীর অসংখ্য স্ববিরোধী কথা বার্তা ও অসঙ্গতির উল্লেখ করে দিয়েছি। কিন্তু তিনি সেটা ঢাকার জন্যই বারবার মহানবীর (সঃ) চরিত্র নিয়ে প্রশ্নও তুলছেন। মহানবী (সঃ) কেন এতোগুলো বিয়ে করেছেন সেটা যদি জানতে তিনি চান তাহলে সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি আলোচনার টপিক। কিন্তু তিনি বারবার এক টপিকের মধ্যে অন্যান্য টপিক ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। সম্ভবত তিনি ভেবেছিলেন যে মহানবীর (সঃ) চরিত্র নিয়ে প্রশ্নও তুললে আমরা সকলেই উত্তেজিত হয়ে স্বাভাবিক বিচার বুদ্ধি হারিয়ে আলোচনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলবো। তবে এটা অবশ্য ইসলাম বিরোধীদের অনেকগুলো চোরামির মধ্যে একটি। যদি কেউ মহানবীর (সঃ) বিবাহ করার কারন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে বলে রাখছি যে সদালাপে ইতিমধ্যেই এ নিয়ে লেখালেখি হয়ে গিয়েছে এবং সেখানে কারণগুলো দেখানো হয়েছে। সুতরাং বিদ্রোহীকে আমি অনুরোধ করছি যে দয়া করে বিদ্রোহ করে বায়াসড মনোভাব না নিয়ে নিরপেক্ষ মনে লেখাগুলো পড়ুন।

তবে বিদ্রোহীর জন্য একটি প্রশ্ন।
আর সেটি হলঃ

নবীজির (সঃ) চরিত্র যদি কলুষিতই হয়ে থাকে তবে তিনি বিয়েই বা করতে গেলেন কেন আর বিয়ে করে এতোগুলো নারীর দায়িত্বই বা নিতে গেলেন কেন?
তিনি যদি চাইতেন তাহলে তো ইচ্ছামতো নারী ভোগ করতে পারতেন (নাউজুবিল্লাহ)। বিয়ে না করে এই কাজ করলে তো তার স্ত্রীদের ভরন পোষণ করার এবং অন্যান্য আনুসঙ্গিক দায়িত্ব নেবারও প্রয়োজন পড়তো না।

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:২১ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

//কারন এর ফলে প্রশ্ন উঠছে- নবীর কাজ কি খালি বিয়ে করা ছিল ?//

বিদ্রোহীর কথানুসারে শুধু বিয়ে করার পাশাপাশি তিনি যে মদিনাকে নেতৃত্ব দিয়ে শত্রুদের হাত থেকে বহুবার রক্ষা করেন, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীদেরকে প্রতিহত করেন, বিনা রক্তপাতে মক্কা বিজয় করেন ইসলামী শাসন ব্যাবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন সেটা মনে হয় বিদ্রোহী জানেন না। ইসলামী শাসন ব্যাবস্থার মধ্যে রয়েছে – নারীদের উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা, সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করা, কন্যা সন্তানের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করা, এতিমদের অধিকার নিশ্চিত করা, মাতা-পিতার অধিকার নিশ্চিত করা, মদ, জুয়া, ব্যাভিচার ইত্যাদি হারাম করা, জাকাত প্রদান করে গরিবদের সাহায্য করা, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা সহ আরও অসংখ্য ব্যাপার। মহানবী তাঁর জীবনকালেই বিয়ে করা ছাড়াও এসকল কাজই করে গিয়েছেন। সুতরাং বিদ্রোহীর প্রশ্নের উত্তর হল যে নবীর বিয়ে করা ছাড়াও আরও অসংখ্য কাজ ছিল।

//এভাবে যে মানুষ অসংখ্য বিয়ে করবেন তিনি কিভাবে দুনিয়াতে সর্বকালের একজন আদর্শ মানুষ হন?//

বায়াসড ভাবে চিন্তা করলে তো এরকম কথা মাথায় আসবেই।

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:২৬ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

//এছাড়াও সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন ওঠে- আল্লাহ কিভাবে এত দ্রুত তার বানী পরিবর্তন করেন ? তিনি একবার বলছেন যথেচ্ছ বিয়ে কর, আর একবার বলছে না আর বিয়ে করো না। শ্বাশ্বত আল্লাহর বানী হবে শ্বাশ্বত , কিন্তু কোরানে দেখা যাচ্ছে আল্লাহ যেন চঞ্চল মতি মানুষের মতই শুধু একের পর এক তার বানী পাল্টে ফেলছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে — এসব আল্লাহর বানী কি না।//

পুনরায় বিভ্রান্তিকর স্ববিরোধী একটি বক্তব্য। আমার প্রত্যেক কমেন্টের মুল যুক্তিই ছিল যে মহানবীকে (সঃ) আল্লাহ্‌ বিয়ে করতে নিষেধ করেননি। আর তাছাড়াও এই পয়েন্ট তিনি শুরুও করেছিলেন এই যুক্তি দিয়েই।
দেখা যাক যে তিনি কি বলেছিলেনঃ

//তাদের দাবী ও ব্যখ্যা অনুযায়ী আল্লাহ নবীকে যথেচ্ছ বিয়ে করার অনুমতি বহাল রেখেছিলেন। এর মাধ্যমে নবির চরিত্রকে কলুষিত করেছেন। কারন এর ফলে প্রশ্ন উঠছে- নবীর কাজ কি খালি বিয়ে করা ছিল ? তার অসংখ্য বিয়ের দরকারই বা কি ছিল ? এভাবে যে মানুষ অসংখ্য বিয়ে করবেন তিনি কিভাবে দুনিয়াতে সর্বকালের একজন আদর্শ মানুষ হন ? এছাড়াও সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন ওঠে- আল্লাহ কিভাবে এত দ্রুত তার বানী পরিবর্তন করেন?//

মানে তিনি শুরু করলেন এই বলে যে – তাদের দাবী ও ব্যখ্যা অনুযায়ী আল্লাহ নবীকে যথেচ্ছ বিয়ে করার অনুমতি বহাল রেখেছিলেন। এর মাধ্যমে নবির চরিত্রকে কলুষিত করেছেন।

কিন্তু এই কমেন্টেরই একটু নিচে আবার প্রশ্ন করলেন যে – এছাড়াও সবচেয়ে গুরুতর যে প্রশ্ন ওঠে- আল্লাহ কিভাবে এত দ্রুত তার বানী পরিবর্তন করেন ?

তিনি তাহলে আসলে কোন আর্গুমেন্ট ফলো করছেন? এই আর্গুমেন্ট যে আল্লাহ্‌ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেননি নাকি এই আর্গুমেন্ট যে নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। যদি তিনি এটা মেনে নেন যে নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেননি আল্লাহ্‌ তাহলে তার কমেন্টের ২য় অংশ ইনভ্যালিড হয়ে যায় আর যদি তিনি মেনে নেন যে আল্লাহ্‌ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেননি তাহলে তার কমেন্টের প্রথম অংশটি ইনভ্যালিড হয়ে যায়। যদি তিনি এটা ধরে নেন যে আল্লাহ্‌ নবীকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন তাহলে তার কাছে আমার এই ষষ্ঠমবারের মতো এই একই প্রশ্নও যেটা তিনি বারবার এড়িয়ে যেতে চাচ্ছেনঃ

আপনি কি তাহলে আল্লাহ্‌র উপরে বিশ্বাস করেন? যদি না করেন তাহলে মহানবী কি নিজেই নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছিলেন?? যে ব্যাক্তি বহু বিবাহ করতে এত আগ্রহী (আপনার কথা অনুসারে) তিনি কোন দুঃখে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারতে যাবেন অর্থাৎ কেন তিনি নিজে নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করবেন??? যদি তিনি নিজে নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করেই থাকেন তাহলে কেন পুনরায় বিয়ে করলেন???? আর নিজে নিজেকে নিষেধ করার পরে যেহেতু তিনি বিয়ে করেই ফেলেছেন তাহলে তিনি কেন পূনরায় কুরআনের আয়াত নাজিল করে নিজের বিবাহকে বৈধ করলেন না?????

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:২৮ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

//আর একটা আয়াত –
তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেনঃ আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নেরা ছাড়া অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। সুরা আল ইমরান -৩:৭
এখানে বলা হচ্ছে কিছু আয়াত আছে যা রূপক কিন্তু তার অর্থ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। সুতরাং আমরা যে ৩৩:৫০,৫১,৫২ আয়াত গুলো নিয়ে আলোচনা করলাম সেগুলো কোন রূপক আয়াত নয়। আর তাই তা খুব পরিস্কার যা বুঝতে কোনই কষ্ট হয় না। কিন্তু দেখা গেল তার পরেও দুইজন তাফসির কার দুইরকম অর্থ করেছেন।//

পুনরায় একটি অসত্য কথা! ৩৩:৫০,৫১,৫২ এই আয়াত সমূহের ক্ষেত্রে ২ জন তাফসীরকার দুই রকম বক্তব্য করেননি বরং প্রত্যেকেই এই দুই ধরনের ব্যাখ্যাই দিয়েছেন। তবে লজিকাল হিসাবে এবং হাদিসের সাক্ষ্য প্রমাণের দিক থেকে ২য় ব্যাখ্যাটিই সবচেয়ে সঠিক। এখন ধরা যাক কোর্টে খুনের মামলা চলছে। কালপ্রিট হিসাবে দুই জনকে সন্দেহ করা হয়েছে। দুই জনের বিপক্ষেই সাক্ষ্য, প্রমাণ, মোটিভ ও লজিক আছে। এখন মোটিভ, লজিক এবং সাক্ষ্য প্রমাণ যে কালপ্রিটের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ও শক্তিশালী হবে নিশ্চয়ই সেই কালপ্রিটেরই শাস্তি হবে? নাকি বিদ্রোহী উভয়কেই শাস্তি দিতে বা উভয়কেই ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাফসিরকাররা নিরপেক্ষভাবে সাক্ষ্য প্রমাণ সহ সকল ধরনের ব্যাখ্যা দিয়ে দেন। আমরা যারা পাঠক তাদের কাজ হল সেই সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে লজিক ব্যাবহার করে সঠিক ব্যাখ্যাটি গ্রহন করা। সূরা আল আহজাবের ৫২ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যা ২ ভাবে দেওয়া যায়। ১ম ব্যাখ্যাটি হল এই যে মহানবীকে আল্লাহ্‌ বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যাটি তখনই করা হয় যখন সূরা আল আহজাবের ৫২ নম্বর আয়াতের পূর্বের দুইটি আয়াত বাদ দিয়ে আয়াতটিকে ব্যাখ্যা করা হয়। কিন্তু এমন কাজ অর্থাৎ এরকম ব্যাখ্যা পৃথিবীর যেকোনো কথা দ্বারাই করা যায়। যেমন বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি কোন ভাষন দেন তাহলে সেই ভাষনের লাইন আউট অফ কনটেক্সট উল্লেখ করে এবং স্কিপ কোটিং করে অনেকভাবে উপস্থাপন ও ব্যাখ্যা করা সম্ভব। স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষই এই ব্যাপারটি সম্পর্কে অবগত আছে।

আমি এখানে একটি উদাহরন দিচ্ছি। ধরা যাক বিদ্রোহী আর্মিতে সৈনিক হিসাবে কাজ করেন। তার কমান্ডিং অফিসার তাকে বলল যেঃ

অমুক কাজটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ।
এই কাজটা না পারলে তোমার খবর আছে।
তোমাকে আমি ফায়ারিং স্কোয়াড দিয়ে মারব।

এই কথাটির ব্যাখ্যা যদি বিদ্রোহীকে দিতে বলা হয় তাহলে সম্ভবত তিনি কুরআনকে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন ঠিক সেভাবেই এক লাইন এক লাইন করে ব্যাখ্যা করবেন এবং আউট অফ কনটেক্সট করে তিন নম্বর লাইনটার ব্যাখ্যা দিবেন যে কমান্ডিং অফিসার তাকে খুন করতে চায়! ফলস্বরূপ তিনি কমান্ডিং অফিসারের নির্দেশের প্রথম ২টা লাইন স্কিপ করার কারনে কমান্ডিং অফিসারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করবেন ঠিক যেমনটি তিনি এখানে আল্লাহ্‌ ও তাঁর নবীর বিরুদ্ধে করছেন

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে বিদ্রোহী কুরআনের কথা সুস্পষ্ট নয় বলে যে অপপ্রচার চালাতে চাচ্ছেন তা কতটা ভ্রান্ত একটি ধারনা। অবশ্য ইসলামের বিরোধীরা যুগ যুগ ধরেই এভাবেই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:৩৪ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

//৪। ওনাদের বোধ বুদ্ধি এতটাই ভোতা যে , ওনারা বুঝতে পারছেন না যে আমার মূল বক্তব্য হলো কোরান কোন আল্লাহর বানী নয়, বরং সেটা মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী যা তিনি তার প্রয়োজন মত মানুষের সামনে আল্লাহর বানী বলে চালিয়েছেন- এটাই প্রমান করা। কুরান মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী বলেই সময়ে সময়ে দরকার মতো তিনি তা পরিবর্তন করেছেন যা আমার দেখছি উক্ত ৩৩: ৫০,৫১,৫২ আয়াতে।//

সম্ভবত তিনি আমার করা প্রশ্নগুলো দেখেননি অথবা বাংলা ভাষা পড়তে বিদ্রোহীর সমস্যা আছে। তা নাহলে আমার তার বিভ্রান্তিকর ও স্ববিরোধী কমেন্ট দেখে আমি যে এতবার প্রশ্ন করলাম সেটার কোন উত্তর পেলাম না কেন?

//কুরান মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী বলেই সময়ে সময়ে দরকার মতো তিনি তা পরিবর্তন করেছেন যা আমার দেখছি উক্ত ৩৩: ৫০,৫১,৫২ আয়াতে।//

এখানে ঠিক কি পরিবর্তন করা হয়েছে ঠিক বোঝা গেল না অবশ্য বিদ্রোহীর মতো অন্ধ মানুষের চোখ দিয়ে দেখলে সেটা বোঝাও যাবে না। তাহলে এবার একটু দেখা যাক যে সূরা আল আহজাবের ৫০, ৫১ ও ৫২ নম্বর আয়াতে ঠিক কি বলা হয়েছেঃ

৫০) হে নবী! আপনার জন্য আপনার স্ত্রীগণকে হালাল করেছি, যাদেরকে আপনি মোহরানা প্রদান করেন। আর দাসীদেরকে হালাল করেছি যাদেরকে আল্লাহ্ আপনার করায়ত্ত করে দেন এবং বিবাহের জন্য বৈধ করেছি আপনার চাচাতো ভগ্নি, ফুফাতো ভগ্নি, মামাতো ভগ্নি, খালাতো ভগ্নিকে যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। কোন মুমিন নারী যদি নবীর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে, নবী তাকে বিবাহ করতে চাইলে সেও হালাল। এটা বিশেষ করে আপনারই জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়। আপনার অসুবিধা দূরীকরণের উদ্দেশ্যে। মুমিনগণের স্ত্রী ও দাসীদের ব্যাপারে যা নির্ধারিত করেছি তা জানা আছে। আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, দয়ালু।

দেখা যাচ্ছে যে এখানে আল্লাহ্‌ নবীর জন্য ক্যাটাগরি ভাগ করে দিচ্ছেন যে কোন কোন ক্যাটাগরিতে তিনি বিয়ে করতে পারবেন।

৫১) আপনি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দূরে রাখতে পারেন এবং যাকে ইচ্ছা কাছে রাখতে পারেন। আপনি যাকে দূরে রেখেছেন তাকে কামনা করলে তাতে আপনার দোষ নেই। এতে অধিক সম্ভাবনা আছে যে, তাদের চক্ষু শীতল থাকবে, তারা দুঃখ পাবে না এবং আপনি যা দেন, তাতে তারা সকলেই সন্তুষ্ট থাকবে। তোমাদের অন্তরে যা আছে আল্লাহ্ জানেন। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সহনশীল।

দেখা যাচ্ছে যে এখানে আল্লাহ্‌ স্ত্রীদের মধ্যে যে কাউকে দূরে বা কাছে রাখার অনুমতি দিয়েছেন যদিও মহানবী তাঁর সকল স্ত্রীকেই সমানভাবে সময় দিতেন।

৫২) এরপর আপনার জন্য কোন নারী হালাল নয় এবং তাদের পরিবর্তে অন্য স্ত্রী গ্রহন করাও হালাল নয় যদিও তাদের রূপ লাবণ্য আপনাকে মুগ্ধ করে, তবে দাসিদের ব্যাপার ভিন্ন। আল্লাহ্ সর্ব বিষয়ের উপর সজাগ নজর রাখেন।

দেখা যাচ্ছে যে মহানবীর জন্য এখানে বিয়ের জন্য পূর্বের ক্যাটাগরি বাদে আর সকল ক্যাটাগরিকে ফরবিডেন বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সুতরাং এখানে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে কুরআনের আয়াতের মাধ্যমে নির্দেশের কোন পরিবর্তন আসেনি শুধুমাত্র নির্দেশটা আরও আপডেটেড ও স্পেসিফিক হয়েছে মাত্র।

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:৩৭ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

//কুরান মুহাম্মদের নিজ মুখের বানী বলেই সময়ে সময়ে দরকার মতো তিনি তা পরিবর্তন করেছেন যা আমার দেখছি উক্ত ৩৩: ৫০,৫১,৫২ আয়াতে।//

আশ্চর্য ব্যাপার হল যে এই বক্তব্যটি বিদ্রোহীর পূর্বেকার বক্তব্যের সাথে মিলছে না!

এর আগের কমেন্টগুলিতে তিনি বলেছিলেন যেঃ

//আপনার কাছে একটা ছোট্ট্ দাবী করেছিলাম — আ্ল্লাহ যে ৩৩:৫২ আয়াতের বিধান বাতিল করে তার নবীকে আবারও যেমন ইচ্ছা খুশী বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন সেই আয়াতটা কুরান থেকে দেখান।//

এখন আমরা ধরে নিলাম যে বিদ্রোহী সত্যি কথা বলছেন। অর্থাৎ ধরে নিলাম যে কুরআন মহানবীর (সঃ) নিজের মুখের বানী (নাউজুবিল্লাহ) এবং একই সাথে কুরআনে মহানবীর (সঃ) বিয়ে নিষেধ করার আয়াত বাতিল করে কোন নির্দেশ বা আয়াত নাজিল হয়নি। তাহলে বিদ্রোহীর কাছে প্রশ্ন এই যেঃ
কুরআন যদি মহানবীর মুখের বানীই হয় এবং সময়ে সময়ে দরকার মতো তিনি যদি তা পরিবর্তনই করে থাকেন তবে কেন তিনি নিজে নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করলেন যেখানে তিনি আপনার কথা অনুসারে বহুবিবাহে আগ্রহী একজন ব্যাক্তি ছিলেন? আর যদি আপনার কথামতো মহানবী নিজে নিজেকে বিয়ে করতে নিষেধ করেও থাকেন তবে কেন তিনি নিজে নিজের কথা অমান্য করে পুনরায় বিয়ে করলেন? আর যেহেতু তিনি পুনরায় বিয়ে করেই ফেলেছেন তাহলে দরকার মতো কুরআনের আয়াত পরিবর্তন করে সেটাকে বৈধ করে নিলেন না কেন?

সুতরাং বিদ্রোহী যে কথাটি বলেছেন অর্থাৎ মহানবী নিজের ইচ্ছামতো নির্দেশ পরিবর্তন করেছেন বলে তিনি যে দাবিটি করেছেন সেটা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা!

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:৪০ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

//এখন আপনিই সিদ্ধান্ত নিন , কে জিতেছে আর কে হেরেছে। এ থ্রেডে ওনাদের সাথে আর আলোচনা করতে আমার ইচ্ছা ছিল না, কারন দেখলাম তারা এতটাই অন্ধ ও ভোতা যে স্বয়ং আল্লাহ এসেও যদি তাদেরকে কোন কিছু বলে তাও তারা বিশ্বাস করবেন না।//

হেরে গেলে আসলেই আলোচনার মুড নষ্ট হয়ে যায় তাই না?! তবে এখন আর না। আমি অবশেষে উপসংহারে আসতে চাই। আর আমার উপসংহারটি হলঃ

এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন , কে জিতেছে আর কে হেরেছে। বিদ্রোহী এতটাই অন্ধ ও ভোতা যে স্বয়ং আল্লাহ এসেও যদি তাকে কোন কিছু বলে তাও তিনি বিশ্বাস করবেন না।

অবশ্য একজন বোকা ইসলাম বিরোধীর ও আল্লাহ্‌ বিদ্রোহীর কাছ থেকে আর কিই বা আশা করা যায়?!?!?!?!?!

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে যে বিদ্রোহী কুরআনের কথা সুস্পষ্ট নয় বলে যে অপপ্রচার চালাতে চাচ্ছেন তা কতটা ভ্রান্ত একটি ধারনা। অবশ্য ইসলামের বিরোধীরা যুগ যুগ ধরেই এভাবেই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

পাভেল

এপ্রিল ১০, ২০১৩ at ৩:৩১ পূর্বাহ্ন (UTC 6)

//৩। তারা প্রমান করেছেন যে খুব জড়াখিচুড়ী ও আগোছাল ভাবে কোরানকে সংকলন করা হয়েছিল। তাদের দাবি ৫২ নং আয়াত আগে নাজিল হয়েছিল আর ৫০ নং আয়াত পরে। অথচ সংকলনের সময় এলোমেলো হয়ে গেছে। এটা কোরানের বিশুদ্ধতাকে মিথ্যা প্রমান করে। তাদের দাবী গ্রহন করলে ইবনে কাথিরের এ ব্যখ্যাও গ্রহন করতে হবে কারন তারা বলেছেন যে তারা ইবনে কাথিরের বক্তব্যকে যথার্থ মনে করেন। সে বক্তব্যটা হলো –
সুরা আহযাবের একে বারে প্রারম্ভেই নিচের তাফসির আছে –
মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে -হযরত উবাই ইবনে কাব ( রা) হযরত যির(রা) কে জিজ্ঞেস করলেন: “সুরায়ে আহযাবে কতটি আয়াত গণনা করা হয়? ” উত্তরে তিনি বলেন- ” তিহাত্তর টি” । তখন হযরত উবাই ইবনে কাব ( রা) বলেন — “না না আমি তো দেখেছি যে এ সূরাটি প্রায় সুরা বাকারার মত ছিল। ” পৃষ্ঠা নং-৭৩৩, খন্ড-১৫শ, তাফসির ইবনে কাথির, অনুবাদ : ড. মুজিবুর রহমান।//

পুনরায় একটি অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য। যেখানে কথা হচ্ছে মহানবীকে আল্লাহ্‌ বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছিলেন কিনা সেটা নিয়ে সেখানে এসব কথা টেনে আনাটা আসলেই অপ্রাসঙ্গিক। কেন কুরআনের সংকলন আগোছালোভাবে হয়েছিল (বিদ্রোহীর কথা অনুসারে!) সে সম্পর্কে আমার ধারণা সদালাপে ইতিমধ্যেই লেখা হয়ে গিয়েছে। আর নবম শ্রেণীর ইসলাম শিক্ষা বইতেও এমনকি সংক্ষেপে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। সুতরাং আমি আর কষ্ট করে এখানে ব্যাখ্যা দিতে গেলাম না।

//এবং এটাও কুরানের মূল বক্তব্যের সাথে স্ববিরোধী কারন আল্লাহ বলেছে-
আমি কোরান নাজিল করেছি আর আমি এর সংরক্ষক । সূরা হিজর -১৫:০৯
অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য। যাই হোক, এই আয়াত অনুসারে কুরআন সংরক্ষিতই রয়েছে কারন আল্লাহ্‌ আমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দেওয়ার পরে আল কুরআন আর একবিন্দু পরিবর্তিত হয়নি। সুতরাং বিদ্রোহী যে কথাটি বলেছেন অর্থাৎঃ
তাহলে বোঝা যাচ্ছে কোরান আল্লাহর বানী নয় , আল্লাহর বানী হলে বর্তমান কোরান সংকলনের সময় অত সংখ্যক আয়াত বাদ যেত না, আল্লাহই কোন না কোনভাবে সেগুলো কোরানে সংকলন করত।//

এই কথাটি ইনভ্যালিড। কারন আল কুরআনের কোন আয়াত রহিত করা হবে বা কোন আয়াত পরিবর্তন করা হবে সেটা আল্লাহই ভালো জানেন। সুতরাং কুরআনকে চূড়ান্তভাবে নাজিল করে তিনি যখন আমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দেন সেটাই হল পুরনাঙ্গ আল কুরআন এবং আল্লাহ্‌ সেটারই সংরক্ষণকারী। যেহেতু প্রায় ১৪০০ বছর আগে সংকলিত আল কুরআনের সাথে এখনকার সময়ের সকল কুরআনের হুবহু মিল রয়েছে সেহেতু এ থেকেই আমরা প্রমাণ পাই যে আল্লাহ্‌ কুরআনকে সংরক্ষণ করেছেন। তবে এর আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা আমার ধারণা সদালাপেই আছে। সুতরাং কষ্ট করে যে কেউ ইচ্ছা খুজে পড়ে নিতে পারে।

//কারন উক্ত বানী অনুযায়ী আল্লাহ নিজেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ আল্লাহ কোন কাজে ব্যর্থ হতে পারে না। কিন্তু তারা এতটাই নির্বোধ যে সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দেয়ার পরেও বুঝতেই পারছেন না।//

দুঃখের বিষয় হল যে বিদ্রোহীর মতো গোঁয়ার গোবিন্দ আর গবেট মানুষের যাদের সাধারণ বিচার বুদ্ধি নেই তারা আসলে ইসলাম সম্পর্কে যে কি ধারণা রাখে সেটা এই কমেন্ট পড়লেই বোঝা যায়।

 

এবং এভাবেই বিদ্রোহীর মত একজন জ্ঞানী গর্দভের সঙ্গে একটি অযৌক্তিক আলোচনায় তার সকল অযৌক্তিক এবং অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তার জবাব দেওয়া শেষ হয়! -_-

THE END!

গত পর্ব (৪র্থ পর্ব) – একজন ইসলাম বিরোধীর সাথে একটি অনর্থক আলোচনা পর্ব ৪

৬ comments

Skip to comment form

  1. 3
    কিংশুক

    ভবঘুরে বিদ্রোহী ডজন ডজন নিক নিয়ে সারাদিন ফেসবুক, আমু, সামুতে ল্যাদায়। যতই ভুল ধরিয়ে দেন ল্যাদানো থামবেনা। ওরা পেইড এজেন্ট।

    1. 3.1
      পাভেল আহমেদ

      অন্তত মানুষকে যাতে বিভ্রান্ত না করতে পারে সে চেষ্টা তো করা যায়। মানুষ যাতে করে এই লেখা পড়ে বুঝতে পারে যে কত প্রকারে ইসলাম বিরোধীরা চেষ্টা করে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সেটা জন্যই এই লেখাটি লেখা। যাই হোক, কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে! 🙂

  2. 2
    শাহবাজ নজরুল

    আপনি বিরাট অক্ষরে THE END লিখে দিলেও বিদ্রোহীরা কখনো তাদের প্রতারনার সমাপ্তি ঘোষণা করেনা, করবেও না। যুক্তিবাদী বলে পরিচয় দিলেও যখন যুক্তিতে পরাজিত হয় তখন পরাজয়ও স্বীকার করেনা। বিদ্রোহী আমু, সামুতে অন্তত ৫০ টা  নিক নিয়ে দিনরাত মিথ্যার গোলা বর্ষণ করেই যাচ্ছে। 

    1. 2.1
      পাভেল আহমেদ

      অন্তত এই আলোচনা সমাপ্ত হয়েছে সেটা বুঝানো তো গেল! 😛

      তবে আশা করা যায় যে ভবিষ্যতে এই লোক আজাইরা মিথ্যা কথাগুলো বলার আগে একটু ভেবে চিনতে কাজটা করবে! 😀

  3. 1
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    আসলেই বৃথা আলোচনা। তবে তার থেকে কিছু পাওনা হয়ে যায় বটে -- যেমন আমরা এই সুযোগে কিছু জানার সুযোগ পেলাম। ওরা তর্ক করার জন্যে তর্ক করে -- জানার জন্যে করে না।
     

    ভাল থাকবেন। 

    1. 1.1
      পাভেল আহমেদ

      আসলেই অনেক কিছু জানার সুযোগ পাওয়া গিয়েছে। এই লোকের সাথে তর্ক করতে করতে আমার এই বিষয় নিয়ে বেশ খানিকটা ঘাটাঘাটি করতে হয়েছিল। ফলে অনেক কিছু জানতে পেরেছিলাম। এভাবে ঈমান আরও শক্তিশালী হয়ে গিয়েছে।! 🙂 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published.