«

»

Jul ১২ ২০১৫

প্রাকৃতিক, অপ্রাকৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক! (পর্ব ১)

[ বিঃদ্রঃ সাইটেসনের স্বাভাবিক নিয়ম এখানে প্রয়োগ করা হয়নি। লেখার ভিতরেই বিভিন্ন লিংক অনেকের বিরক্তির কারন হতে পারে। কিন্তু এই কাজ করার পিছনে উদ্দেশ্য ছিল যাতে সকলে লেখাতে ব্যাবহার করা থিওরি এবং যুক্তিগুলোর উৎস খুব সহজে এবং দ্রুত খুঁজে পেতে পারে। ]

mount-everest-1

প্রাকৃতিকতা বলতে কি বুঝ?

সাধারনভাবে বলতে গেলে এই প্রশ্নের উত্তর আসবে যে, যা কিছু প্রকৃতিতে ঘটে থাকে তাই প্রাকৃতিক।

তাহলে অপ্রাকৃতিকতা কি জিনিস?

প্রাকৃতিকতার ঠিক উল্টোটা অর্থাৎ যা প্রকৃতিতে ঘটে না তাই অপ্রাকৃতিক।

কিন্তু সমস্যা হল যে আমরা আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখতে পাই সবকিছুই প্রকৃতির ভিতরেই রয়েছে। তার মানে আমাদের চারপাশে যা কিছু রয়েছে তার সবকিছুই প্রাকৃতিক হবে। আর যা প্রকৃতিতে ঘটে না তাই অপ্রাকৃতিক।

কিন্তু অপ্রাকৃতিক কোন ঘটনা যদি আমরা কখনও দেখি তাও কিন্তু আমাদের প্রকৃতির ভিতরেই ঘটবে। তার মানে হল যে, আমরা অপ্রাকৃতিক কোন ঘটনা চোখের সামনে ঘটতে দেখার সাথে সাথে তা প্রকৃতির অংশ হয়ে যাবে এবং প্রাকৃতিক একটি ঘটনায় পরিনত হবে।

একটি উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাপারটিকে আরও একটু পরিষ্কার করছি।

স্বাভাবিক একজন মানুষকে যখন একটি পাহাড় এবং একটি পিরামিড দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয় যে এর মধ্যে কোনটি প্রাকৃতিক এবং কোনটি অপ্রাকৃতিক তখন তৎক্ষণাৎ তার উত্তর হবে – পাহাড় প্রাকৃতিক এবং পিরামিড অপ্রাকৃতিক।

পাহাড় কেন প্রাকৃতিক সে সম্পর্কে কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই তাও বলে রাখছি, প্রকৃতিতে পাহাড়কে যেহেতু স্বাভাবিকভাবে দেখা যায় তাই পাহাড় প্রাকৃতিক।

আর পিরামিড অপ্রাকৃতিক হবার কারন তা মানব সৃষ্ট একটি কাঠামো।

কিন্তু পিরামিড তো প্রকৃতির ভিতরেই অবস্থান করছে। আবার মানুষ নিজেও প্রাকৃতিক জীব। আর পিরামিড মানুষেরই সৃষ্ট কাঠামো যা তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই।

সুতরাং পিরামিডও অবশ্যই প্রাকৃতিক, যেহেতু তৈরি করার পর এখন এটি প্রকৃতিরই একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসলে সম্পূর্ণ ব্যাপারটি শব্দ নিয়ে খেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। মানুষ নিজেদের বোঝার সুবিধার জন্য প্রাকৃতিক এবং অপ্রাকৃতিক এই দুটি শব্দ ব্যাবহার করছে। কিন্তু কোন কিছুই যেহেতু প্রকৃতির বাহিরে ঘটতে পারে না সেহেতু সব কিছুই প্রাকৃতিক হতে বাধ্য।

তার মানে প্রকৃতিতে ঘটে এমন অপ্রাকৃতিক কোন কিছুর অস্তিত্বই আসলে নেই।

pirmide-azteca

প্রশ্ন আসতে পারে, প্রাকৃতিকতা এবং অপ্রাকৃতিকতা নিয়ে এত আলোচনা কি বাংলা একাডেমীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণার জন্য?

নাকি বাংলা ভাষাকে আরও উন্নত করে তোলার জন্য একটি বৈপ্লবিক প্রচেষ্টা?? angry

নাকি মানুষের মানসিক অবস্থা নিয়ে খেলাধুলা করার চেষ্টা করা হচ্ছে এখানে??? indecision

এগুলোর কোনটিই আসলে লেখার উদ্দেশ্য নয়।

সত্যি কথা হল যে ভাষাবিজ্ঞান বা ব্যাকরণ এর উন্নতকরণের বিন্দুমাত্র প্রচেষ্টা লেখকের করার ইচ্ছা নেই। এর একটি কারন হতে পারে ব্যাকরণের প্রতি লেখকের অভক্তি! তবে লেখার মূল উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি যদি বাংলা ভাষায় কোন ধরণের অভাবনীয় বিপ্লব সঙ্ঘটিত হয় তাতে ক্ষতি কি!?! যে ব্যাকরণে লেখকের এত অভক্তি সে ব্যাকরণকেই যদি নিজের মত করে পরিবর্তন করে নেওয়া যায় তাহলে তো ভালোই!

এই লেখাটি মূলত বর্তমানের বহুত আলোচিত একটি বিষয় নিয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে আলোচনার জন্য লেখা হয়েছে।

আর বিষয়টি হল – হোমোসেক্সুয়ালিটি বা সমকামীতা।

জী হ্যাঁ!

পৃথিবীর অন্যতম সুসভ্য দেশ আমেরিকাতে কিছুদিন আগে সর্বসম্মতভাবে সমকামী বিবাহ বৈধকরণ এবং এ ব্যাপারে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের সমর্থন দান একটি বিশ্বব্যাপী তর্ক-বিতর্কের জন্ম দান করে। এই তর্ক বিতর্ক শেষ পর্যন্ত ৩য় বিশ্বযুদ্ধের কারন হিসেবে পরিণত না হলেই আমরা সকলে স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়তে পারি।

যাই হোক, তাহলে এবার বহুল আলোচিত ও সকলের পছন্দের একটি প্রশ্ন এখানে এনে দাঁড় করাচ্ছি। প্রশ্নটি হল –

সমকামীতা কি প্রাকৃতিক?

উপরের আলোচনাতে প্রাকৃতিকতা ও অপ্রাকৃতিকতা সম্পর্কে যে বিশ্লেষণ দেখানো হয়েছিল তা থেকে নির্দ্বিধায় মেনে নিতে হবে যে সমকামীতা প্রাকৃতিক। যেহেতু সমকামীতা প্রকৃতিতে দেখা যায় তাই এই নিয়ে দ্বিমত পোষণ না করাই ভালো।

কিন্তু তার মানে এই না যে লেখক নিজে সমকামীতাকে সমর্থন জানাচ্ছেন। cheeky

না! এর মানে এও না যে লেখক সমকামীতাকে সমর্থন না জানিয়ে প্রকৃতির বিরুদ্ধাচারন করছেন। wink

তাহলে এর মানে কি? indecision

এর মানে হল যে লেখক একটু ভিন্ন দিক থেকে আলোচনার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছেন! devil

যেহেতু সমকামীতাকে আমরা আমাদের চারপাশের পরিবেশে দেখতে পাচ্ছি সেহেতু একে অপ্রাকৃতিক বলা সম্ভব নয়। কারন প্রকৃতিতে অপ্রাকৃতিক কোন কিছুই দেখা সম্ভব নয়। অপ্রাকৃতিক কোন কিছু দেখা গেলেই সাথে সাথে তা প্রকৃতির অংশ হয়ে যাবে।

তাহলে একটু ভিন্নভাবে প্রশ্নটি করা যাক।

সমকামীতা কি প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবে হয়?

এবারে প্রশ্নটি মোটামোটি সঠিকভাবে করা সম্ভব হয়েছে। কোন কিছু প্রকৃতিতে ঘটা আর প্রকৃতিতে স্বাভাবিকভাবে ঘটা দুটির মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ তো আছেই মহাকাশ পাতাল তফাৎ থাকলেও থাকতে পারে।

এখন সুশীল সমাজ আবার প্রশ্ন তুলতে পারেন যে, স্বাভাবিক এবং অস্বাভাবিক বলতে কি বুঝায়? কিন্তু এখন আর ভাষা নিয়ে খেলাধুলা করার সময় সুযোগ কোনটাই নেই বলে সরাসরি কিছু উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমেই স্বাভাবিকতা এবং অস্বাভাবিকতাকে বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হল।

সুতরাং আমরা পুনরায় পাহাড় এবং পিরামিডের তুলনামূলক উদাহরণটি একটু টেনে আনছি আমাদের আলোচনায়।

মাউন্ট এভারেস্ট দেখে যে কেউ বলবে যে এটি প্রকৃতির স্বাভাবিক একটি কাঠামো। কিন্তু একটি পিরামিড দেখে সবাই বলবে যে এটি মানব সৃষ্ট একটি কাঠামো।

এ থেকেই কি স্বাভাবিক আর অস্বাভাবিক কিছুটা বোঝা যাচ্ছে না? যদি না যায় তাহলে আরও উদাহরণ আছে।

প্রত্যেক জীব দেহের বৃদ্ধির জন্যই কোষ বিভাজন ঘটে একটি নির্দিষ্ট হারে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি নির্দিষ্ট পরিমাণেই ঘটে। কিন্তু যখন অতিরিক্ত দ্রুত বা অতিরিক্ত আস্তে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে তখন তা দেহের জন্য ক্ষতির কারন হয়ে দাঁড়ায় এবং তাকে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন বলা হয়। অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন থেকে টিউমার এবং এমনকি ক্যানসারও হতে পারে।

আশা করি এবারে অস্বাভাবিকতা এবং স্বাভাবিকতা সম্পর্কে ধারনা পরিষ্কার হয়েছে। তবুও ক্যানসার নিয়ে সামান্য কিছু আলোচনা করা যাক।

বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা মোটামোটিভাবে একমত যে ক্যানসার একটি মানব সৃষ্ট রোগ। মূলত ক্যানসার অবস্থায় দেহের কোন একটি অংশের বৃদ্ধি অস্বাভাবিক গতিতে হতে থাকে অর্থাৎ অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন ঘটে।

সূত্রঃ

১। Scientists suggest that cancer is purely man-made (phys.org)

২। Cancer Is a Man-Made Disease, Controversial Study Claims (livescience.com)

৩। Cancer 'is purely man-made' say scientists after finding almost no trace of disease in Egyptian mummies (dailymail.co.uk)

৪। The History of Cancer (cancer.org)

ক্যানসার মানব সৃষ্ট রোগ হলেও বর্তমানে এটি প্রকৃতিরই একটি অংশ। কিন্তু সেই সাথে এটি যে জীব দেহের জন্য অস্বাভাবিক একটি প্রাকৃতিক ঘটনা সে ব্যাপারে আশা করি কেউ দ্বিমত পোষণ করবেন না।

 

যাই হোক, স্বাভাবিকতা ও অস্বাভাবিকতা কি এই ব্যাপারটি বোঝার পরে আমরা এখন এটা বোঝার চেষ্টা করবো যে সমকামীতা স্বাভাবিক নাকি অস্বাভাবিক।

হুট করে কোন ধরণের সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছে যাব না বরং যতটা সম্ভব যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণ ও আলোচনার মাধ্যমে আমরা ধাপে ধাপে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত গ্রহন করার চেষ্টা চালাবো।

 

অনেকে বলে থাকে যে একজন মানুষ কেন আরেকজন মানুষের প্রতি আকর্ষিত হয় সেটা খুব রহস্যময় একটি ব্যাপার এবং সেই রহস্যের একটি অংশই সমকামীতা ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু বিজ্ঞানের চোখে রহস্যময় বলে কিছুই নেই। সকল কিছুর পিছনেই কোন না কোন কারন অবশ্যই রয়েছে এবং সেই কারণটি জানা মাত্রই রহস্যভেদ হয়ে যাবে। আমরা যদি জানার চেষ্টা করি যে মানুষ কেন সমকামী হয় সেজন্য আমাদের আগে জানতে হবে যে মানুষ কেন একজন আরেকজনের প্রতি যৌনাকর্ষণ লাভ করে। নারী পুরুষের আকর্ষণ দিয়েই প্রথমে ব্যাপারটি শুরু করা যাক।

 

প্রথমত নারী পুরুষ কেন একে অপরের প্রতি আকর্ষিত হয় সেটা বোঝা খুব একটা কঠিন ব্যাপার নয়। একে রহস্যময় বলার কোন প্রয়োজন নেই কারন এ সম্পর্কে বহু গবেষণা হয়েছে এবং বহু রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। একজন বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে সব কিছুর পিছনেই কোন না কোন কারন আছে এমনভাবেই চিন্তা করা উচিৎ।

এখনও এই ব্যাপারটি সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে না পারা গেলেও অন্তত এটা বোঝা গিয়েছে যে উভয়ের দেহের গঠনই মূলত তাদেরকে একে অপরের দিকে আকর্ষিত করে। মূলত যৌন জননের মাধ্যমে বংশ বৃদ্ধিই মানুষের যৌন আকাঙ্খা উপস্থিত থাকবার মূল কারন। নারী এবং পুরুষ একে অপরের মানসিকতা, আচার আচরণ ইত্যাদির দিকেও আকর্ষিত হয়। এছাড়াও নারী এবং পুরুষ একে অপরের ঘ্রান থেকেও আকর্ষিত হয়। বিপরীত লিঙ্গের ঘ্রান ঘ্রান গ্রন্থিতে গেলে তাদের যৌন গ্রন্থিসমূহ উদ্দীপিত হয়। কিছু মহিলাদের ক্ষেত্রে এমন হয় যে নির্দিষ্ট কোন প্রকারের গন্ধ পেলে তাদের যৌন স্নায়ুসমুহ প্রতিক্রিয়া করা শুরু করে যার ফলে তাদের হ্রিদস্পন্দন বৃদ্ধি পায়, রক্তচাপ বেড়ে যায়, যৌন অঙ্গসমূহে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পায়, ডিম্বাণুর উৎপাদন বৃদ্ধি পায় ইত্যাদি আরও অনেক প্রক্রিয়াই দেহাভ্যন্তরে ঘটে। একই কথা এমনকি ছেলেদের ক্ষেত্রেও খাটে এবং সেটা আরো বেশি করে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে নারীরা সেইসব পুরুষদের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয় যারা জেনেটিকালি তাদের থেকে আলাদা এবং এই তথ্য তারা পায় তাদের ঘ্রান গ্রন্থির মাধ্যমে। দেখা গিয়েছে যে বিশেষ ধরনের কিছু ঘ্রান মানুষের সেক্সুয়াল এট্রাকসনের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

এই লিংক সমূহে সামান্য ব্যাখ্যা দেওয়া আছে যে কেন এবং কিভাবে নারী পুরুষ ঘ্রান দ্বারা একে অপরের প্রতি আকর্ষিত হয়ঃ

১। Why Are Men Attracted To The Way A Woman Smells? (ezinearticles.com)

২। What do women find attractive about a man's smell? (howstuffworks.com)

৩। Why Women Are Naturally More Attracted to Sweaty Men – Sexual Attraction Mysteries Explored (ezinearticles.com)

৪। Why do men smell different from women? (howstuffworks.com)

৫। Body odor and subconscious human sexual attraction (Wikipedia.org)

প্রাণীদের টেস্টস্টেরন বা এনড্রোজেন হরমোন [ছেলেদের ক্ষেত্রে] এবং ইসট্রোজেন হরমোন [মেয়েদের ক্ষেত্রে] তাদের ইমোশনাল ড্রাইভকে প্রভাবিত করে। এই হরমোনসমূহের ফলেই মানুষের যৌন আকাঙ্খা জাগে। এই হরমোনসমূহ কমে গেলে সাধারনত যৌনাকাঙ্খা কমে যায় [ছেলেদের ক্ষেত্রে]। এই হরমোনসমূহ বেশি মাত্রায় বেড়ে গেলে যৌন আগ্রহ মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়। আবার হরমোনসমূহ খুব বেশি মাত্রায় বেড়ে গেলে তখন একজন মানুষ হয়ত উভয় লিঙ্গের দিকেই আকর্ষিত হতে পারে যৌন আকাঙ্খা পুরনের উদ্দেশ্যে।

সূত্রঃ

Estrogen and Testosterone Hormones – The Importance of Estrogen (howstuffworks.com)

testosterone-estrogen-hormons

কিন্তু সেটা মোটেও স্বাভাবিক ব্যাপার নয়। এই ক্ষেত্রে ধর্ষণ করার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং যে কোন নারী পুরুষেরই ধর্ষিত হবার সম্ভাবনা থাকে। অনেক সময় অল্পবয়স্ক ছেলেমেদের দিয়ে এসকল মানুষেরা তাদের আকাঙ্খা চরিতার্থ করতে পারে। এখন এই অতিরিক্ত যৌনকাঙ্খা স্বাভাবিক নয় কারন এখানে হরমোনের অতিরিক্ত উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় অসুস্থতা বা ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য হরমোনের ব্যাল্যান্স নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আর এতে করে আমাদের হরমোনসমূহের স্বাভাবিক কার্যাবলী বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমনকি আমাদের সেক্সুয়াল ইন্টারেস্ট বা পছন্দ পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। মানে সোজা কথায় বিপরীত লিঙ্গের পরিবর্তে সমলিঙ্গের দিকে অথবা এমনকি উভলিঙ্গের দিকেও আকৃষ্ট হতে পারে এধরনের মানুষ!

সূত্রঃ

Estrogen and Testosterone Hormones – Hormones (howstuffworks.com)

যেহেতু ব্যাপারটি স্বাভাবিক নয় এবং অতিরিক্ত অথবা অস্থিতিশীল হরমোনের প্রভাবে ঘটছে তাই এটি এক প্রকারের শারীরিক অসুস্থতাই। যদি এটি অসুস্থতা না হয় তাহলে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন, টিউমার এগুলোকে কিভাবে অসুস্থতার পর্যায়ে নেওয়া যায়? এমনকি ক্যানসারের ক্ষেত্রেও একই কথা খাটে যেহেতু ক্যানসার অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফসল।

 

প্রশ্ন আসতে পারে – সেক্স হরমোনের পরিমান বৃদ্ধি পেলে তো বিপরীত লিঙ্গের দিকেই শুধুমাত্র আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবার কথা, সম বা উভলিঙ্গের দিকে কিভাবে আকর্ষণ জাগে?

মূল ব্যাপারটি হল যে সেক্স হরমোনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি মানুষের সেক্স ড্রাইভের তৎপরতাকে বাড়িয়ে দেয়। যদিও যৌন আকর্ষণ এবং কাজক্রমের ক্ষেত্রে সেক্স হরমোনই একমাত্র ফ্যাক্টর নয় কিন্তু অন্যতম একটি ফ্যাক্টর। এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে সেক্স ড্রাইভ উদ্দীপিত হয়ে যৌন আকাঙ্খাও অস্বাভাবিক মাত্রায় বাড়িয়ে দিতে পারে। বেশিরভাগ স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে সেক্স হরমোন সরাসরি যৌন আচরন নিয়ন্ত্রণ করে না বরং এদের মূল কাজ হল আসলে সেক্সুয়ালি মোটিভেট বা যৌন কাজে আগ্রহী করা।

সূত্রঃ

Sexual motivation and hormones (wikipedia.org)

এখন প্রশ্ন হল যে, যৌন আকাঙ্খা বা সেক্সুয়াল ডিজায়ার বেড়ে গেলে ধর্ষণের প্রবৃত্তি বেড়ে যেতে পারে খুব বেশি হলে, কিন্তু সমকামীতা বা উভকামীতা কিভাবে দেখা দেয়?

এই ব্যাপারটি আসলে কিছুটা পরিস্থিতিগত যৌন আচরনের (Situational sexual behavior) সাথে সম্পর্কযুক্ত। এর মানে হল যে কিছু কিছু পরিস্থিতিতে মানুষ এমন ধরনের যৌন আচরন প্রদর্শন করে যা সে স্বাভাবিক পরিস্থিতে কখনও করতো না। যেমন, বিভিন্ন দেশের অনেক জেলখানাতেই দেখা যায় যে বেশ কিছু হেটেরোসেক্সুয়াল মানুষেরাই হোমোসেক্সুয়াল আচরন প্রদর্শন করে। প্রিজন সেক্সুয়ালিটিতে (Prison sexuality) এই ব্যাপারটি লক্ষ করা যায়।

প্রিজন সেক্সুয়ালিটি সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণা ও অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্য এখানে পাওয়া যাবেঃ

১। Women prisoners: Sex in prison is commonplace, the male inmates just hide it more than girls (The Telegraph)

২। Many prison inmates are 'gay for the stay' (THE INDEPENDENT)

৩। No Escape – Male Rape in U.S Prisons: PREFACE (hrw.org)

৪। No Escape – Male Rape in U.S Prisons: RAPE SCENARIOS (hrw.org)

৫। Prison rape (wikipedia.org)

৬। Christine A. Saum et al., Sex in Prison: Exploring the Myths and Realities, 75 PRISON J. 413 (1995) (ACADEMIC ARTICLES – justdetention.org)

 

[বিঃদ্রঃ হেটেরোসেক্সুয়াল মানে যারা শুধুমাত্র বিপরীত লিঙ্গের প্রতিই যৌন আকর্ষণ লাভ করে এবং হোমোসেক্সুয়াল মানে যারা শুধুমাত্র সমলিঙ্গের প্রতি যৌন আকর্ষণ লাভ করে। আর বাইসেক্সুয়াল মানে যারা উভয় লিঙ্গের প্রতিই যৌন আকর্ষণ লাভ করে।]

 

কেন  এই ব্যাপারটি তাহলে ঘটে?

ব্যাপারটি বুঝতে আসলে খুব একটা মাথা খাটানো লাগে না। যখন একজন মানুষের সেক্সুয়াল ডিজায়ার বা যৌন আকাঙ্খা এতই বেড়ে যায় যে তা নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলে যায় তখনই তারা সাধারনত তাদের স্বভাবজাত আচরনের বাহিরে গিয়ে এই কাজ করে।

কারন তাদের আকাঙ্খা পূরণ করা লাগবে!

সেক্স হরমোনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিও একই ধরনের প্রভাব বিস্তার করে মানুষের আচরনের উপরে। যদি স্বাভাবিক পন্থায় বিপরীত লিঙ্গের মাধ্যমে সে তার আকাঙ্খা পূরণ করতে না পারে তাহলে অবশ্যই তাকে ভিন্ন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। এবং এধরনের ভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে সমকামী আচরণও থাকতে পারে। তবে এধরনের আচরন স্থায়ী না হবার সম্ভাবনাই বেশি। কারন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তাদের এধরনের আচরন করার কথা না। কিন্তু এধরনের ঘটনা অতিরিক্ত ঘটলে স্থায়ী অভ্যাসে পরিণত হয়ে যেতে পারে কি? হয়তো হ্যাঁ হয়তো না!

যাই হোক, আমরা বুঝতে পারলাম যে অতিরিক্ত সেক্স হরমোন বৃদ্ধির কারনে অথবা সেক্সুয়াল ডিজায়ার পূরণ করতে না পারলে অনেক সময় সমকামী ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এধরনের চিন্তাভাবনা অথবা ঘটনাকে ছদ্ম সমকামীতা (Pseudo-homosexuality) বলা হয়।

অস্বাভাবিক উচ্চ মাত্রার যৌন আকাঙ্খার ফলে সমকামী আচরন কোন মানুষের মধ্যে দেখা যাওয়া মানে হল যে তার মধ্যে সাময়িক এক প্রকারের অস্বাভাবিকতা দেখা দিয়েছে। ঠিক যেমন অস্বাভাবিক যৌন আকঙ্খার ফলে ধর্ষণ প্রবণতা আমাদের কাছে অস্বাভাবিক। আর উচ্চ মাত্রার যৌন আকাঙ্খার ফলে যদি এধরনের আকাঙ্খা স্থায়ী রূপ ধারন করে তাহলে বুঝতে হবে যে তা শারীরিক সমস্যায় রূপান্তরিত হয়েছে।

 

সবশেষে আমরা উপসংহারে আসতে পারি যে, উচ্চমাত্রার সেক্স হরমোনের প্রভাবে সেক্স ড্রাইভের তৎপরতা যদি অতিরিক্ত পরিমানে বেড়ে যায় এবং তার ফলস্বরূপ যদি সমকামীতা দেখতে পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই সেটি একটি অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক ব্যাপার।

 

পরবর্তী পর্বে আলোচনা করা হবে সেক্সুয়াল এট্রাক্সনের জেনেটিক ফ্যাক্টরসমূহ নিয়ে এবং একটি সিদ্ধান্তে আসার চেষ্টা করা হবে এই ব্যাপারে যে, সমকামীতা কি আসলেই জেনেটিক কি না!

চলবে…

৩০ comments

Skip to comment form

  1. 11
    madhumangal saha

    @MAHAFUJ ,,,,,,,,,,,,,SOME TIMES I COMMENT AGAINST YOU,, BUT IN THIS MATTER ABOUT HOMOSEXUALITY I AM FULLY APPRECIATE WITH YOU ………… I THINK YOU KNOW THE LINE IN HINDI LANGUAGE ””’ AGAR PEAR MA BIGHER JATI HA TO DAT NA MA SUDHER BI HOTA HA .. WHICH IS IN BENGALI FORMS ””SOJA AUNGALA GHEE NA UT LA AUNGUL BAKATA HOI… NOW AT PRESENT IN OUR COUNTRY HOMOSEXUALITY IS PUNISHABLE OFFENCE . BUT I DON’T KNOW HOW MANY TIMES WE WILL PROTECT THESE LAW… SOME SO CALLED,, ”’BUDDHIJIBI”(I HAVE NO KNOWN WHO ARE BUDHIJIBI) THEY ARE NOT ONLY SUPPORTED BUT ALSO FIGHT TO PROTECT ABOUT HOMOSEXUALITY ..SO I THINK WE INVITE OUR DEATH-SENTENCE ..I AM AWAITING FOR YOUR VIEW .. THANKS.. WISH YOU ””AUSHMAN-BHABO”[LONG -LIFE]

    1. 11.1
      মাহফুজ

      এ বিষয়ে সহমত প্রকাশের জন্য প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

      সবার মত সব সময় এক রকম নাও হতে পারে। জানা-বোঝা, বোধ ও বিশ্বাসের তারতম্যের কারণে মানুষ ভিন্ন মত ও পথের পথিক হয়। আর বুদ্ধিজীবি মহলও এর বাহিরে নয়। হয়ত আজকে যা ভুল ভাবছেন, কাল তা ঠিক মনে হতে পারে। আবার অতীতে ও বর্তমানে যা সঠিক ও স্বস্থিকর মনে হয়েছে এবং হচ্ছে, ভবিষ্যতে যে তা ভুল ও অস্বস্থিকর মনে হবে না তা বলা যায়না। মানুষের জ্ঞান ও বোধের উন্নয়নের সাথে সাথে বিশ্বাস ও ভাল লাগারও মানোন্নয়ন ঘটতে পারে। আর তাই আমার সাথে কেউ ভিন্ন মত পোষণ করলেই তাকে আমি প্রতিদ্বন্দী ভাবি না।

      অধৈর্য ও হতাশা নয়, ধৈর্য ও সাহসের সাথে সত্যের খোঁজ করলে শান্তি মেলে।

      ধন্যবাদ ও শুভকামনা

  2. 10
    madhumangal saha

    thanks ,,,I WANT LEARN MORE .

    1. 10.1
      মাহফুজ

      @madhumangal saha

      Homosexuality ‘may be triggered by environment after birth'

      প্রতিবেশ ও পরিবেশগত কারণে মানুষ সমকামিতার মত আসক্তিতে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে। অথচ মানব স্বভাব-বিরুদ্ধ এই আসক্তিকে অনেকেই অসুস্থতা হিসেবে চালিয়ে দিতে চান। যা মোটেই ঠিক নয়। বরঞ্চ এই আসক্তির কারণে মানুষের মাঝে নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা দানা বাধে। ফলে স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হয়। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এরূপ অস্বাভাবিক আচরণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আগমনকে বাধাগ্রস্ত এমনকি ধংসের মুখে ফেলে দিতে পারে। তাই সমকামি অভ্যাসকে প্রতিহত করতে হলে প্রতিবেশ ও পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখার ব্যাবস্থা নিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় এটির নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে তথ্য সংযোজন করতে হবে। প্রতিষ্ঠিত কোন ধর্মমতেই সমকামিতা গ্রহণযোগ্য নয়, বরং অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই বিশেষভাবে ধর্মীয় প্রচারের মাধ্যমে সামাজকে সচেতন করে তুলতে হবে। এরপরও যারা সমকামিতায় আসক্ত হবে তাদের জন্য অনুকম্পা নয় বরং প্রয়োজনে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের মধ্যে যারা ভুল বুঝতে পারবেন তাদেরকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবদ্ধ রেখে এই আসক্তি থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সুধরানোর সুযোগ দেয়া যেতে পারে। তবে কেউ ভুল স্বীকার না করলে এবং ফিরে আসার জন্য সচেষ্ট না হলে সমাজিক বিপর্যয় রোধের জন্য প্রয়োজনে তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিতে হবে। এরপরও চুপিসারে কেউ মহান স্রষ্টার কল্যাণময় বিধানকে উপেক্ষা করে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করতে চাইলে তার জন্য মহান আল্লাহতায়ালার ফয়সালাই যথেষ্ট।

      এখানে আমন্ত্রণ- Punish the homosexuals / সমকামীদের সাজা চাই

  3. 9
    ফারহান খান

    পাভেল ভাই এর নাম্বার টা পেতে পারি ??

    1. 9.1
      পাভেল আহমেদ

      তার থেকে বরং নিচে আমার ফেইসবুক প্রোফাইলের লিংকটা দিলাম, চাইলে এড হতে পারেন! :3

      https://www.facebook.com/pavelssj

      এন্ড এত দেরিতে রিপ্লাইয়ের জন্য দুঃখিত। :/

      আসলে এখন ঠিক সময় করতে পারি না এবং সদালাপেও ঠিক ওরকমভাবে আসা হয় না! 🙁

  4. 8
    Rasel

    পাভেল আহমেদ:

    যদিও পাখি সংক্রান্ত, তথাপি মনে হলো নীচের লিংকটি আপনার কাজে লাগতে পারে:-

    Mercury Poisoning Makes Birds Act Homosexual

    http://news.nationalgeographic.com/news/2010/12/101203-homosexual-birds-mercury-science/

     

    1. 8.1
      পাভেল আহমেদ

      লেখাটি দিয়ে বেবেশ ভালো কাজ করেছেন রাসেল ভাই! 🙂

      আমার লেখাতে কাজে লাগানো যাবে!! 😀

      ধন্যবাদ!!! ^_^  

      আর আমার এই লেখাটি এডিট করে আরও কিছু তথ্য যুক্ত করে দিয়েছিলাম যাতে আমার বক্তব্য আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়।

      ইচ্ছা করলে পড়ে দেখতে পারেন।

  5. 7
    ডাক্তার আতিক

    একটা স্টাডিতে দেখা যায় গে সমকামীদের ৯০% এনাল সেক্স এ অভ্যস্থ। কিন্তু এনাল সেক্সের মারাত্নক স্বাস্থ্য ঝুকি আছে।

    এনাল ক্যানেলে হার্পিস ভাইরাস, হিউম্যান প্যপিলমা ভাইরাস, হেপাটাইটিস ভাইরাস থেকে শুরু করে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। এনাল সেক্সের ভয়াবহতা যানতে নীচের লিংক দেখুন--

    http://www.webmd.com/sex/anal-sex-health-concerns

    মানুষের স্বভাব হচ্ছে সে যখন কোন অগ্রহনযোগ্য আচরনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তার আচরন অন্যদের কাছে গ্রহনযোগ্য করার জন্য নানা উপায় খুজে পেতে চেষ্টা করে। দীর্ঘদিন থেকে সমকামী সোসাইটি সেই চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তারা বিপুল পরিমান ডলার ব্যয় করেছে এই খাতে। ২০১৩ সালে আমেরিকা এলজিবিটি রাইট প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছে, টিভি চ্যানেল খুলেছে। আর তথাকথিত মুক্তমনা স্মাজ, মিডিয়া, ধর্ম্বিদ্যেষী আর নাস্তিক স্মাজ তাদেরকে সাপোর্ট দিয়েছে।

    কথায় আছে একটা মিথ্যাকে বার বার প্রচার করে প্রবাদে পরিনত করা সম্ভব।

    ম্যাগাজিন, মিডিয়া আর কিছু সাইন্টিস্ট মিলে একটা মিথ্যাকে সত্য হিসেবে বার বার প্রচার করতে থাকলে , সেই মিথ্যাকে অস্মীকার করা সাধারন মানুষের জিন্য খুবই কঠিন । ঠিক এটাই ঘটেছে সমকামিতার বেলায়।

    নীচের বইটি পড়ান অনুরোধ করছি--

    https://books.google.com.bd/books?id=U4-KAwAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=homosexulity+natural&hl=en&sa=X&redir_esc=y#v=onepage&q=homosexulity%20natural&f=false

    এই অদ্ভুত মিথ্যার পৃথিবীতে দিনকে রাত , রাতকে দিনে পরিণত করা আসলে খুব কঠিন কিছু নয়। যদি থাকে পর্যাপ্ত ডলার, মিডিয়া আর ভাড়াটে সাইন্টিস্ট।

     

     

    1. 7.1
      শাহবাজ নজরুল

      আপনি এই বিষয়ে একটা সাজানো ও কম্প্রিহেনসিভ লেখা দিন। ব্লগে এই বিষয়ে অন্তত একটা বেশ ভালো বিজ্ঞানভিত্তিক লেখা থাকা প্রয়োজন। 

      1. 7.1.1
        Rasel

        আমি শাহবাজ ভাইয়ের সাথে একমত। আপনি যেহেতু মেডিকেল প্রফেশনাল, তাই এ বিষয়ে আপনার দক্ষতা অন্যদের চাইতে বেশী থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। এ বিষয়ে লেখার জন্য আপনাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। ধন্যবাদ।

        1. 7.1.1.1
          ডাক্তার আতিক

          <p>ধন্যবাদ শাহবাজ নজরুল আর রাসেল ভাইকে। আমি অবশ্যই আপনাদের অনুরোধ রাখতে চেষ্টা করব। আমি আসলে ব্লগে লিখালিখি করে অভ্যস্ত নই। সদালাপে শামসুল আরেফিন ভাই কিছু ব্লগ লিখেছেন। আমি আসলে তার অনুরোধেই কয়েকটি মন্তব্য করেছি। কিছুটা সময় নিয়ে হলেও সমকামিতা নিয়ে কিছু লিখতে পারলে নিজেকে অবশ্যই ভাগ্যবান মনে করব।</p>

        2. পাভেল আহমেদ

          আসলেই এই বিষয়ে বায়োলজি ফিল্ডের মানুষদের কিছু লেখালেখি দরকার আছে। আতিক ভাই আপনি সদালাপে এই বিষয়ে কিছু লেখালেখি করলে সকলেই উপকৃত হত! 🙂

  6. 6
    শাহবাজ নজরুল

    উপরের কমেন্ট গুলো পড়া ছাড়াও এই লিঙ্কটা ভালোভাবে পড়ে দেখেন রায়হান ভাই। আমাদের ইসলামে দেখানো সীমার বাইরে যাবার সুযোগ নেই। 

    http://muslimmatters.org/2015/07/20/debating-homosexuality/

     

  7. 5
    আরিফ

    সমকামিতা নিয়ে লিখা এই বইটি পড়লে আশা করি সদালাপের পাঠকেরা অনেক গুরুত্বপুর্ন তথ্য পাবেন--

    https://books.google.com.bd/books?id=xw-H04MwJGAC&printsec=frontcover&dq=children+from+homosexuality&hl=en&sa=X&redir_esc=y#v=onepage&q=children%20from%20homosexuality&f=false

     

     

    1. 5.1
      পাভেল আহমেদ

      বইটি বেশ তথ্যবহুল মনে হচ্ছে । কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে। ধন্যবাদ! 🙂

  8. 4
    এস. এম. রায়হান

    শাহবাজ ভাই,

    মনের অজান্তে হলেও আমরা যেন এমন কিছুকে (তাও আবার নাম-সূত্র-বিহীন উড়ো চিঠির মতো কিছু একটা) সমর্থন না দেই যেটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিজেদের দিকেই বুমেরাং হয়। যেমন:

    -- একই 'যুক্তি' অনুযায়ী বিষমকামিতাও কিন্তু 'অস্বাভাবিক' প্রমাণ হয়, যেহেতু বিষমকামীদের মধ্যেও বিভিন্ন প্রকার যৌন রোগে আক্রান্ত রুগী আছে। মোট জনসংখ্যার হিসাবে বিষমকামীদের মধ্যে যৌন রুগীর সংখ্যা বরং অনেক বেশী হবে। তবে শতকরা হিসাবে LGBT-দের মধ্যে যৌন রুগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশী হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে পুরো মনুষ্য সম্প্রদায়ের মধ্যেই কম-বেশী যৌন রুগী আছে, কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে নয়।

    -- অভিজিৎ রায় কিন্তু ঠিক এভাবেই দেড়-দু বিলিয়ন মুসলিমদের মধ্যে থেকে কতিপয় মুসলিম নামধারীর দ্বারা সংঘটিত জঙ্গী-সন্ত্রাসী বা অপ্রীতিকর ঘটনাকে পুঁজি করে ইসলামকে একটি 'ভাইরাস' এবং ইসলামে বিশ্বাসীদেরকে 'ভাইরাসে আক্রান্ত রুগী-জঙ্গী-সন্ত্রাসী' প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে, এবং সেটা করা হয়েছে বিজ্ঞানের নামেই। আমরা কিন্তু তাকে সমর্থন দেইনি। বরঞ্চ আমরা তার এই ধরণের 'যুক্তি'কে কু-যুক্তি, প্রতারণা, ইত্যাদি বলেছি।

    -- আমরা যেন সংখ্যাগুরুর বড়াই দেখিয়ে কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ডিমোনাইজ বা ডি-হিউম্যানাইজ না করি। তাতে সারা বিশ্বে সংখ্যালঘুদের (দুর্বলের) উপর সংখ্যাগুরুদের (সবলের) যে অত্যাচার-নির্যাতন চলছে তাতে মৌনভাবে সমর্থন দেয়া হবে।

    -- কোরআনের কোথাও কিন্তু সমকামিতাকে 'অপ্রাকৃতিক' বা 'অস্বাভাবিক' বা 'রোগ' বা 'মানসিক রোগ' জাতীয় কিছু বলা হয়নি। কাজেই আমরা যেন জোর করে কিছু একটা প্রমাণ করার চেষ্টা না করি।

    সমকামিতা সম্পর্কে বিভিন্ন মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো দেখতে পারেন-

    The American Psychological Association, the American Psychiatric Association, and the National Association of Social Workers state:

    In 1952, when the American Psychiatric Association published its first Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders, homosexuality was included as a disorder. Almost immediately, however, that classification began to be subjected to critical scrutiny in research funded by the National Institute of Mental Health. That study and subsequent research consistently failed to produce any empirical or scientific basis for regarding homosexuality as a disorder or abnormality, rather than a normal and healthy sexual orientation. As results from such research accumulated, professionals in medicine, mental health, and the behavioral and social sciences reached the conclusion that it was inaccurate to classify homosexuality as a mental disorder and that the DSM classification reflected untested assumptions based on once-prevalent social norms and clinical impressions from unrepresentative samples comprising patients seeking therapy and individuals whose conduct brought them into the criminal justice system.

    In recognition of the scientific evidence,[135] the American Psychiatric Association removed homosexuality from the DSM in 1973, stating that "homosexuality per se implies no impairment in judgment, stability, reliability, or general social or vocational capabilities." After thoroughly reviewing the scientific data, the American Psychological Association adopted the same position in 1975, and urged all mental health professionals "to take the lead in removing the stigma of mental illness that has long been associated with homosexual orientations." The National Association of Social Workers has adopted a similar policy.

    Thus, mental health professionals and researchers have long recognized that being homosexual poses no inherent obstacle to leading a happy, healthy, and productive life, and that the vast majority of gay and lesbian people function well in the full array of social institutions and interpersonal relationships.[2]

    [4] The longstanding consensus of research and clinical literature demonstrates that same-sex sexual and romantic attractions, feelings, and behaviors are normal and positive variations of human sexuality.[136] There is now a large body of research evidence that indicates that being gay, lesbian or bisexual is compatible with normal mental health and social adjustment.[4] The World Health Organization's ICD-9 (1977) listed homosexuality as a mental illness; it was removed from the ICD-10, endorsed by the Forty-third World Health Assembly on 17 May 1990.[137][138][139]

    The appropriate application of affirmative psychotherapy is based on the following scientific facts:[136]

    -- Same-sex sexual attractions, behavior, and orientations per se are normal and positive variants of human sexuality; in other words, they are not indicators of mental or developmental disorders.

    -- Homosexuality and bisexuality are stigmatized, and this stigma can have a variety of negative consequences (e.g., Minority Stress) throughout the life span (D'Augelli & Patterson, 1995; DiPlacido, 1998; Herek & Garnets, 2007; Meyer, 1995, 2003).

    -- Same-sex sexual attractions and behavior can occur in the context of a variety of sexual orientations and sexual orientation identities (Diamond, 2006; Hoburg et al., 2004; Rust, 1996; Savin-Williams, 2005).

    -- Gay men, lesbians, and bisexual individuals can live satisfying lives as well as form stable, committed relationships and families that are equivalent to heterosexual relationships in essential respects (APA, 2005c; Kurdek, 2001, 2003, 2004; Peplau & Fingerhut, 2007).

    -- There are no empirical studies or peer-reviewed research that support theories attributing same-sex sexual orientation to family dysfunction or trauma (Bell et al., 1981; Bene, 1965; Freund & Blanchard, 1983; Freund & Pinkava, 1961; Hooker, 1969; McCord et al., 1962; D. K. Peters & Cantrell, 1991; Siegelman, 1974, 1981; Townes et al., 1976).

    https://en.wikipedia.org/wiki/Homosexuality

    1. 4.1
      Rasel

      @ এস. এম. রায়হান ভাই, 

      -- আমার করা মন্তব্যটি ‘নাম-সূত্র-বিহীন উড়ো চিঠি’র মতো কিছু নয়। যে ডাক্তারের ফেইসবুক পোস্ট হতে আমি মন্তব্যটি কপি করেছি, তার পোস্ট-লিংক নীচে দেওয়া হলো, আপনি চাইলে উনার সাথে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারেন:-

      https://www.facebook.com/sabbir.ahsan.71/posts/799683480144737

      -- দ্বিতীয়ত: আপনি বললেন যে, // একই 'যুক্তি' অনুযায়ী বিষমকামিতাও কিন্তু 'অস্বাভাবিক' প্রমাণ হয়, যেহেতু বিষমকামীদের মধ্যেও এইডস থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার যৌন রোগে আক্রান্ত অনেক রুগী আছে।// 

      আমার মন্তব্যের কোথাও কিন্তু ‘এইডস রোগ’ বা ‘বিভিন্ন প্রকার যৌন রোগে’ আক্রান্ত হয় বলেই  সমকামীদের ‘অস্বাভাবিক’ বলা হয়নি বা বিষমকারীরা যে এসব যৌন বাহিত রোগ হয় না, তাও কিন্তু অস্বীকার করা হয়নি! 

      বরং বলা হয়েছে, 

      //সমকামীদের এইডস হয় বহুগুন বেশী। বিশ্বের মাত্র ১.৮% লোক সমকামী হলেও এইডস রোগীর শতকরা ৬৪ জন সমকামী।//

      বা,

      //অপরদিকে প্রাকৃতিক নিয়মানুসারে নারীপুরুষের মেলামেশা হলে এসব সম্ভাবনা অনেক কম।// 

      অর্থাত, সমকামী কর্তৃক এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা যে বেশী থাকে, সে কথাই এখানে বলা হয়েছে মাত্র! যেটি আপনি আপনার মন্তব্যেও স্বীকার করেছেন!  ‘এইডস রোগ’ বা ‘বিভিন্ন প্রকার যৌন রোগে’ আক্রান্ত হয় বলেই  সমকামীদের ‘অস্বাভাবিক’ বলা হয়নি এখানে।

      -- তৃতীয়ত: আপনি বললেন যে, ‘আমরা যেন সংখ্যাগুরুর বড়াই দেখিয়ে কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ডিমোনাইজ বা ডি-হিউম্যানাইজ না করি!!’ 

      বাহ: আপনার যুক্তি অনুসারে তো তাহলে ধর্ষক, অজাচারে অভ্যস্ত ব্যক্তি বা চোর-ডাকাত, খুনীকেও ডিমোনাইজ বা ডি-হিউম্যানাইজ করা যাবে না! এসব ‍দুষ্টু লোকদেরও ‘সংখ্যালঘু’ তকমা লাগিয়ে দিয়ে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাস্তায় নামতে হবে দেখছি! 

      হাঁ, আপনি যদি বলতেন যে, সমকামীতা  একটি রোগ এবং এই রোগে আক্রান্তদের চিকিতসা প্রয়োজন, তাহলে হয়তো আমি আপনার মতকে সমর্থন দিতে পারতাম।

      -- চতুর্থত: আপনি আপনার মন্তব্যে ইংরেজিতে করা মন্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, সমকামীতাকে `Mental Disorder' বা ‘মানসিক বৈকল্য’ -এর তালিকা হতে বাদ দেওয়া হয়েছে।  

       দেখুন, এই পোস্টের কোথাও  বা আমার মন্তব্যের  কোথাও কিন্তু সমকামীতাকে `Mental Disorder' ‘মানসিক বৈকল্য’ বলে আখ্যায়িত করা হয়নি! বরং বলা হয়েছে যে, হরমোনের হ্রাস-বৃদ্ধির কারণে সেক্সচুয়াল ইন্টারেস্ট বা টেস্ট পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে! অর্থাত, সমকামীতা মূলত: একটি শারিরবৃত্তীয় ব্যাপার বা এক ধরনের  শারিরীক রোগ, যা কি-না চিকিতসা করলে ভালো হয়ে যেতে পারে!

      আর, সমকামীরা যে  বিভিন্ন ধরনের ভয়াবহ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয় তা তো একটি প্রমাণিত সত্য, এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই! নীচের লিংকগুলি দেখুন, সমকামী ব্যক্তি তাদের অভ্যাসগত কারণে কি কি মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে তার ব্যাখ্যা করে হয়েছে এখানে :-

      1) http://psychcentral.com/lib/higher-risk-of-mental-health-problems-for-homosexuals/

      2) http://www.narth.org/docs/whitehead.html

      3) http://www.mygenes.co.nz/mental_ill.htm

      4) http://www.apa.org/monitor/feb02/newdata.aspx

      -- পঞ্চমত: আপনি বললেন, ‘কোরআনের কোথাও কিন্তু সমকামিতাকে 'অপ্রাকৃতিক' বা 'অস্বাভাবিক' বা 'রোগ' বা 'মানসিক রোগ' জাতীয় কিছু বলা হয়নি।’

      তো এর দ্বারা কী প্রমাণিত হয়? কোরআনে তো ব্যভিচারকেও 'অপ্রাকৃতিক' বা 'অস্বাভাবিক' বা 'রোগ' বা 'মানসিক রোগ' জাতীয় কিছু বলা হয়নি! তাই বলে ব্যভিচার-সমকামীতা কী হালাল হয়ে গেছে?

    2. 4.2
      ডাক্তার আতিক

      পেশাগত কারনে আমাকে হাসপাতালের সাথে যুক্ত থাকতে হয়। আমার ইয়ারমেট রাসেল হাসপাতালে একদিন রক্তাত্ব অবস্থায় ভর্তি হল। দেখি ওর পায়ূপথ ফেটে গেছে,মারাত্বক রক্ত ঝড়ছে। জজ্ঞাসা করতেও ওর সমকামী অভ্যাসের কথা বলল। সেদিন ভীষন অবাক হয়েছিলাম। মানুষ কিভাবে এরকম আচরন করে?

      আর আজকে আমেরিকায় সমকামী বিয়েকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। কারন তাদের মতে এটি স্বাভাবিক আচরন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে মানুষের ফিজিক্যাল মেকআপ কেন সমকামিতার উপযোগী নয়?

      — মেডিকেল সাইন্স থেকে আমরা যানি মানুষের পায়ূপথ যৌন ক্রিয়া করার উপযুক্ত নয়। পায়ূপথে লুব্রিকেশনের কোন ব্যবস্থা নেই। একজন পুরুষের ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি লম্বা উত্থিত শিশ্নু পার্টনারের মলদ্বারে প্রবেশ করালে সেখানে ইঞ্জুরী বা ক্ষত হতে বাধ্য। কাজেই স্বাভাবিকভাবে এ ধরনের আচরন কিভাবে করা যেতে পারে?

      — মেয়েদের যনীদ্বারের অবস্থান, ডিজাইন আর লুব্রিকেশন ব্যবস্থা এমনভাবে যে এটি যৌনক্রিয়া করার  উপযুক্ত। কিন্তু একজন লেসবিয়ান বা গে কিভাবে তাদের যৌন ক্রিয়া করতে পারে, তা আমার বোধগম্য নয়।

      —শিশ্নু, যোনীদ্বার এগুলো খুবই সংবেদনশীল যায়গা। শুধুমাত্র ফ্রিকশনের মাধ্যমে যৌন আনন্দ পেতে চাইলে এসব যায়গায় ক্ষত হতে বাধ্য।

      —আমেরিকা সমকামী বিয়েকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে সমকামিতা স্বাভাবিক এমন ভাবাটা মুর্খতা।

      কারন হিউম্যান কনফিগারেশন এ ধরনের আচরনের উপযুক্ত নয়।

      —--তাই বিষয়টি নিয়ে সবাইকে গভীরভাবে ভাবতে উনুরোধ করব।

       

  9. 3
    এস. এম. রায়হান

    বেশ ঝড়ঝড়ে লেখা। পড়তে যেয়ে জায়গায় জায়গায় উপস্থাপনার জন্য মজাও পেলাম। তবে লেখার শেষের দিকে টেস্টোস্টেরনের উপর ভিত্তি করে যা বলতে চেয়েছেন সে ব্যাপারে আরো পড়াশুনা ও  চিন্তাভাবনা করে নিশ্চিত হওয়ার জন্য বলছি। টেস্টোস্টেরনের মাত্রা হ্রাস-বৃদ্ধির সাথে একজন মানুষের যৌন আকাঙ্খারও হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। অর্থাৎ টেস্টোস্টেরনের সাথে যৌন আকাঙ্খা সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। এটা নিয়ে মেডিক্যাল সায়েন্স থেকে শুরু করে এই দুনিয়ার কারোরই মনে হয় কোনো দ্বিমত নেই।

    কিন্তু আপনি যেটা বলতে চেয়েছেন সেটা হচ্ছে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ার কারণে একজন মানুষের সেক্সুয়্যাল অরিয়েন্টেশন পরিবর্তন হয়ে যায় বা যেতে পারে। অতিরিক্ত যৌন আকাঙ্খার কারণে একজন মানুষ বিভিন্নভাবে (বিপরীত লিঙ্গের সাথে, সমলিঙ্গের সাথে, পশুর সাথে, মাস্টারবেশনের মাধ্যমে, ধর্ষণের মাধ্যমে, ইত্যাদি) তার যৌন চাহিদা নিবারণ করতে পারে। কিন্তু টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ার কারণে একজন মানুষের সেক্সুয়্যাল অরিয়েন্টেশন পর্যন্ত পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে -- অর্থাৎ টেস্টোস্টেরনের সাথে সেক্সুয়্যাল অরিয়েন্টেশনও সম্পর্কযুক্ত -- এই ধরণের কথা এই প্রথম শুনলাম। পরের পর্ব পোস্ট করার আগে এই ব্যাপারটা আগে নিশ্চিত করেন। যদি মনে করেন আপনি কারো লেখা পড়ে ভুল বুঝে বা ভুলভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেক্ষেত্রে মূল লেখা এডিট করলে ভালো হয়। অন্যথায় টেস্টোস্টেরনের উপর ভিত্তি করে দাবিটা অর্থহীন ও বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়বে। আপনি যেহেতু অ্যাকাডেমিক পন্থায় লেখালেখি করেন এবং লেখাটি যেহেতু সদালাপে পোস্ট করেছেন সেহেতু বিষয়টা নিয়ে ভেবে দেখবেন।

    1. 3.1
      পাভেল আহমেদ

      রায়হান ভাই আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ! 🙂

      সদালাপে এখনও পর্যন্ত আপনার সবচেয়ে বেশি লেখা রয়েছে এবং সদালাপে আপনি একটিভ একজন সদস্য হওয়ায় আপনার কমেন্ট সব সময়ই আশা করি লেখাতে। লেখাটি আপনার কাছে উপভোগ্য হয়েছে জেনে খুশি হলাম!! ^_^

      যাই হোক, আমার লেখার ব্যাপারে ফিরে আসি।

      আমার লেখাতে কিন্তু সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন চেঞ্জের ব্যাপারে বলা হয়নি। বলা হয়েছে সেক্সুয়াল টেস্ট চেঞ্জ। দুটি একই ব্যাপার আবার বলা যায় একই না।

      হরমোনসমূহ খুব বেশি মাত্রায় বেড়ে গেলে তখন একজন মানুষ হয়ত উভয় লিঙ্গের দিকেই আকর্ষিত হতে পারে যৌন আকাঙ্খা পুরনের উদ্দেশ্যে।

      কথাটি কিন্তু সত্যি। অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়ে গেলে আকর্ষিত হতে পারে বা আকাঙ্খা পুরনে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে পারে। তার মানে অবশ্যই হরমোনাল লেভেল কমে গেলে এরকম আকাঙ্খা কমে যায়। লেখাতে কোন খুঁত নেই।

      আর এতে করে আমাদের হরমোনসমূহের স্বাভাবিক কার্যাবলী বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমনকি আমাদের সেক্সুয়াল ইন্টারেস্ট বা পছন্দ পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। মানে সোজা কথায় বিপরীত লিঙ্গের পরিবর্তে সমলিঙ্গের দিকে অথবা এমনকি উভলিঙ্গের দিকেও আকৃষ্ট হতে পারে এধরনের মানুষ!

      একই কথা এই বক্তব্যের ক্ষেত্রেও খাটে। সাময়িক সময়ের জন্য এমনটা হতে পারে।

      তবে ভ্রুনে হরমোন অস্বাভাবিক মাত্রায় প্রয়োগ করলে যে বাচ্চার সমকামী হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায় সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

      তবে হ্যাঁ! হরমোনাল লেভেলের অস্বাভাবিকতার জন্য সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেসন পরিবর্তনের একেবারেই যে সম্ভাবনা নেই তাও কিন্তু আবার নয়।

      কিন্তু আমার লেখাতে এসব কিছুই বলা হয়নি। আমার লেখাতে সিমপ্লি বলা হয়েছে যে, হরমোনাল লেভেল বেড়েছে? তার মানে সমস্যা হতে পারে। এটা কিন্তু বলা হয়নি যে এটাই একমাত্র কারন বা কারণটা পার্মানেন্ট। তবে পার্মানেন্ট হলেও কিন্তু হতে পারে।

      হরমোনাল ইমব্যাল্যান্স এর কারনে সেক্সুয়াল টেস্ট চেঞ্জ এটা আসলে কমন একটা নলেজ। এই নিয়ে বহু আগে থেকেই গবেষণা চলছে এবং বর্তমানে স্বীকৃত। এটাই যে হোমসেক্সুয়াল বা বাইসেক্সুয়াল হবার একমাত্র কারন তা কিন্তু নয়। কিন্তু এটা যে একটা কারন সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। 

      যাই হোক, বলা হয়ে থাকে যে এমন কোন প্রজাতি নেই যেখানে সমকামীতা পরিলক্ষিত হয় নি। কিন্তু আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো গবেষণাগারে জোর করে করা হয়েছে। গবেষণাগারে পশুদের উপরে জন্মের আগে স্টেরয়েড প্রয়োগ করে তাদেরকে সমকামীতে পরিনত করা গিয়েছে। তবে এটা ছাড়াও আরও পদ্ধতি আছে।

      সূত্রঃ

      https://en.wikipedia.org/wiki/Homosexual_behavior_in_animals#Research

      অনেক স্কলারই এই মতামত দিয়েছেন যে সেক্স হরমোনের পরিবর্তনের কারনেই সমকামীতা দেখা দেয়। এছাড়াও দেখা গেছে যে হেটেরোসেক্সুয়াল স্ত্রী পশুদেরকে চিকিৎসার জন্য টেস্টোস্টেরন দেওয়া হলে তা তাদের মধ্যে হোমসেক্সুয়াল আচরন বৃদ্ধি করে। আর গর্ভবতী হেটেরোসেক্সুয়াল পশুর ক্ষেত্রে এরকম করা হলে বাচ্চা দেওয়ার পরে বাচ্চারও হোমোসেক্সুয়াল হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। সূত্রঃ

      https://en.wikipedia.org/wiki/Homosexual_behavior_in_animals#Physiological_basis

      এছাড়াও ৬ টি ভিন্ন ভিন্ন স্টাডির লিংক দিচ্ছি মানুষের ক্ষেত্রে হরমোন এবং সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন নিয়ে। এখানে সরাসরি সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন এর সাথে হরমোনের সম্পর্ক নিয়েই গবেষণা করা হয়েছে।

      ৩ টি ১৯৯৫ সালের এবং ৩ টি ২০০৩ সালের।

      ১৯৯৫ সালের গুলোতে বলা হয়েছে যে এর সাথে হরমোনের সম্পর্ক নেই।

      কিন্তু ২০০৩ সালের গবেষণাগুলোতে উদাহরন সহ দেখানো হয়েছে যে সম্পর্ক রয়েছে।

      সূত্রঃ

      http://borngay.procon.org/view.answers.php?questionID=000020

      বর্তমানের নতুন হাইপোথিসিসও হরমোনের অস্বাভাবিকতাই সাজেস্ট করছেঃ

      http://scitechdaily.com/homosexuality-might-develop-in-the-womb-due-to-epigenetic-changes/

      http://www.sciencedaily.com/releases/2000/03/000330094644.htm

      তবে আমার এই লেখাটিতে সম্পূর্ণ ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করা হয়নি। আমার সম্পূর্ণ লেখাটি আরও অনেক বড় এবং নিয়মিত তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। লেখার বিভিন্ন জায়গাতেই বারবার হরমোনাল ইমব্যাল্যান্স এর প্রসঙ্গ এসেছে এবং একটু একটু করে আলোচনা করা হয়েছে। কিন্তু লেখাটি বেশি বড় হয়ে যাওয়ায় খণ্ড খণ্ড করে দিতে বাধ্য হচ্ছি! -_-

      যদিও শুরুতে আমি শুধুমাত্র একটি লেখাই দিতে চেয়েছিলাম!! :/

      যতদূর জেনেছি, জন্মের আগে অস্বাভাবিক হরমোনের প্রভাবে হোমো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং তা জন্মের পরে যাদের অস্বাভাবিক হরমোন দেওয়া হয় তাদের তুলনায় পার্মানেন্ট হয়। যাই হোক, পরবর্তী লেখাগুলোতে আরও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে বিভিন্ন দিক নিয়ে এবং সবশেষে একটি সামারি পর্ব বের করা হবে যেখানে সবগুল পর্ব একসাথে বাঁধা হবে!!! 😀

      দরকার হলে এই লেখাটিও একটু আপডেট করে নিব যাতে মানুষ আরও পরিষ্কারভাবে ব্যাপারগুলো বুঝতে পারে। 😛

      1. 3.1.1
        এস. এম. রায়হান

        আমার লেখাতে কিন্তু সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন চেঞ্জের ব্যাপারে বলা হয়নি। বলা হয়েছে সেক্সুয়াল টেস্ট চেঞ্জ। দুটি একই ব্যাপার আবার বলা যায় একই না।

        সেক্সুয়্যাল অরিয়েন্টেশন আর সেক্সুয়্যাল টেস্ট তো এক জিনিস না। যাহোক, আপনি মনে হচ্ছে একাধিক বিষয়কে এক সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন। আবারো বলছি- যৌন আকাঙ্খা বেড়ে যাওয়ার কারণে একজন মানুষ (নারী বা পুরুষ) বিভিন্নভাবে (বিপরীত লিঙ্গের সাথে, সমলিঙ্গের সাথে, পশুর সাথে, মাস্টারবেশনের মাধ্যমে, ধর্ষণের মাধ্যমে, ইত্যাদি) তার যৌন চাহিদা পূরণ করতে পারে। কিন্তু এর উপর ভিত্তি করে তার সেক্সুয়্যাল অরিয়েন্টেশন নির্ধারণ করা যাবে না। উদাহরণস্বরূপ:

        -- যৌন আকাঙ্খা পূরণের জন্য কেউ তাৎক্ষণিকভাবে একজন মেয়েকে ধর্ষণ করতে পারে। কিন্তু এর উপর ভিত্তি করে বলা যাবে না যে, তার সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন পরিবর্তন হয়ে সে ধর্ষকামী হয়ে গেছে। উল্লেখ্য যে, বাস্তবে কেউ নিজেকে যেমন 'ধর্ষকামী' বলে দাবি করে না তেমনি আবার কেউ সারা জীবন ধরে ধর্ষণের কাজে নিয়োজিতও থাকে না। ধর্ষণ হচ্ছে একটি তাৎক্ষণিক বা সাময়িক 'অ্যাক্ট', কোনো রকম সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন নয়।

        -- যৌন আকাঙ্খা পূরণের জন্য কেউ পশুর সাথে সেক্স করতে পারে, কেউ কেউ করছেও। কিন্তু তার মানে এটা বলা যাবে না যে, তার সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন পরিবর্তন হয়ে সে পশুকামী হয়ে গেছে।

        -- জেলখানা-সহ যে সকল জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদেরকে বন্দী করে রাখা হয় সেই জায়গাগুলোতে পুরুষে-পুরুষে যৌন কাজ বেশি হয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাদের সকলেই সেক্সুয়্যাল অরিয়েন্টেশন অনুযায়ী সমকামী। বিভিন্ন কারণেই দু'জন পুরুষ বা দু'জন নারী যৌন কাজে লিপ্ত হতে পারে; কিন্তু স্রেফ যৌন কাজে লিপ্ত হতে দেখে কারো সেক্সুয়্যাল অরিয়েন্টেশন নির্ধারণ করা যাবে না। সেক্সুয়্যাল অরিয়েন্টেশন চোখে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো কিছু নয়।

        আপনি যে উদাহরণগুলো দিয়েছেন সেগুলোর সবই হরমোনের কারণে সাময়িক পরিবর্তন। সেক্সুয়্যাল অরিয়েন্টেশন বিষয়টা সম্পর্কে আরেকটু চিন্তাভাবনা করে ভেবে দেখুন আপনি আসলে টেস্টোস্টেরনের উপর ভিত্তি করে কী প্রমাণ করতে চাচ্ছেন। ধন্যবাদ।

        1. 3.1.1.1
          পাভেল আহমেদ

          রায়হান ভাই বলতে বাধ্য হচ্ছি যে আপনি আমার লেখার উদ্দেশ্য বুঝতে পারেননি। আপনি যা বললেন সেটাই তো আমি আমার লেখাতে বললাম! এমনকি উপরের কমেন্টেও উল্লেখ করে দিয়েছিলাম ব্যাপারটি।

          আপনি নিজেও তো এমনকি আমার কমেন্টের ওই অংশটুকু কোট করলেন!

          আপনার বক্তব্য আর আমার লেখার বক্তব্যের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আমার সম্পূর্ণ লেখাটি ভালভাবে আরেকবার পড়ে দেখুন। এখানে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন চেঞ্জের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি বরং বলা হয়েছে টেস্ট চেঞ্জ অথবা সমকামী আচরনের ব্যাপারে বলা হয়েছে। লেখাটি পড়লে স্পষ্টই বোঝা যাবে যে সমকামী আচরন আর সমকামীতা এক জিনিস নয়। শেষে আমি এমনকি উল্লেখও করে দিয়েছিলাম যে এই ব্যাপারটিকে ছদ্ম সমকামীতা বলা হয়। -_-

          কেন আমি আমার লেখাতে সমকামী আচরনের ব্যাপারে উল্লেখ করেছি?

          যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে সমকামীতাকে তারা যতটা ফ্রিকোয়েন্ট বলে মনে করে ততটা নয়। আর যেসকল সমকামীতা মানুষের মধ্যে দেখা যায় তার মধ্যে অনেক ঘটনাই সাময়িক সময়ের জন্য ঘটে অথবা কোন নির্দিষ্ট কারনে ঘটে। অর্থাৎ সমকামীতা প্রকৃতিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও স্বাভাবিকভাবে যে ঘটে না আমার লেখার মাধ্যমে এই ব্যাপারটি অনেকাংশে প্রমান হয়।

          সবশেষে আবার বলছি লেখাতে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশনের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি বলা হয়েছে সমকামী আচরনের ব্যাপারে!

  10. 2
    Rasel

    //আর এতে করে আমাদের হরমোনসমূহের স্বাভাবিক কার্যাবলী বাধাগ্রস্ত হতে পারে এমনকি আমাদের সেক্সুয়াল ইন্টারেস্ট বা পছন্দ পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। মানে সোজা কথায় বিপরীত লিঙ্গের পরিবর্তে সমলিঙ্গের দিকে অথবা এমনকি উভলিঙ্গের দিকেও আকৃষ্ট হতে পারে এধরনের মানুষ!//

     

    — হাঁ, এটিই পোস্টের মূল বক্তব্য। সমকামী ব্যক্তি অসুস্থ।

     

    যাহোক, সমকামীতার ব্যাপারে একজন ডাক্তারের বক্তব্য দেখুন:- (সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের ফেইসবুক স্ট্যাটাস হতে নেওয়া)

     

     

    “কয়েকমাস আগে আমার চেম্বারে এক যুবক এসেছিলো।

    তার লিঙ্গ দিয়ে দুর্গন্ধ পুঁজ পড়ত। সাথে লিঙ্গে ঘা ছিল। যুবকটি অবিবাহিত।সে যে সমকামী তা আমার কাছে স্বীকার করেছিল। রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে সিফিলিস, গনেরিয়া, প্রস্রাবে ইনফেকশ ও হেপাটাইটিস বি পেয়েছিলাম।

    বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে—-

    (১) সমকামীদের এইডস হয় বহুগুন বেশী। বিশ্বের মাত্র ১.৮% লোক সমকামী হলেও এইডস রোগীর শতকরা ৬৪ জন সমকামী।
    (২) তারা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস নামক ভয়ানক ভাইরাসে আক্রান্ত।
    (৩) সিফিলিস, গনেরিয়া, হেপাটাইটিস সহ অন্যান্য যৌন রোগে তারা আক্রান্ত।
    (৪) তাদের নানা ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী। যেমন- পায়ুপথের ক্যান্সার (৩৭ গুণ), হডকিনস লিম্ফোমা (৪গুন), টেস্টিস ক্যান্সার (৩গুন)।
    (৫) গে বাউল সিনড্রোম নামক জটিল রোগে তারা আক্রান্ত হয়। এতে পায়ুপথ দিয়ে রক্ত পরে, বদহজম, পেট ব্যাথা, ডায়রিয়া ইত্যাদি হয়।
    (৬) তাদের আত্মহত্যা করার প্রবণতা সাড়ে ছয় গুণ বেশী।
    (৭) তাদের আয়ুষ্কাল গড়ে ১৩ বছর কম হয়। 
    (৮) তারা নানা ধরণের ভয়াবহ মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়।

    অপরদিকে প্রাকৃতিক নিয়মানুসারে নারীপুরুষের মেলামেশা হলে এসব সম্ভাবনা অনেক কম। কারণ আল্লাহ্‌ মেয়েদের যৌনাঙ্গ এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে সেটা যৌনমিলনের ফলে আঘাতপ্রাপ্ত হয় না, সেখানে জীবাণু ধ্বংসের জন্য নানা রকমের পদার্থ থাকে যা পায়ুপথে থাকে না।

    আল্লাহ্‌ প্রতিটি জীবকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। প্রকৃতির দিকে তাকালে দেখা যায় যে সব পশুপাখি নারী ও পুরুষের মাঝে যৌনমিলনের মাধ্যমে তাদের বংশধারা টিকিয়ে রাখে। কোথাও এর কোন ব্যাতিক্রম হয় না।

    কিন্তু পশুর চেয়েও অধম কিছু মানুষ প্রকৃতির এই নিয়ম ভেঙ্গে সমকামিতায় মেতে উঠে নিজের ধ্বংস ডেকে আনছে। যদি সবাই সমকামী হয়ে যেত তাহলে মানব প্রজাতি কিছুদিনের ভিতর বিলুপ্ত হয়ে যেত।”

    1. 2.1
      শাহবাজ নজরুল

      বৈজ্ঞানিক ভাবে সমকামিতা যে অস্বাভাবিক ও এর অসংখ্য ঋণাত্মক দিক আছে তা এই কমেন্ট থেকে জানা গেল।  এ নিয়ে গোছানো একটা লেখা কি পোস্ট করা যায়?

    2. 2.2
      পাভেল আহমেদ

      মন্তব্য করার জন্য ধন্যবাদ রাসেল ভাই! 🙂

      আসলেই সমকামীতা প্রকৃতির একটি অস্বাভাবিক অসুস্থতা। সেই অসুস্থতা যে শুধু শারীরিকই তা কিন্তু নয়।

      সেটা মানসিক অথবা এমনকি শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সম্মিলিত রূপও হতে পারে।

      এখন অনেকে হয়তো বলবেন যে সমকামীতা আসলে বিকৃত রুচির একটি রূপ!

      কিন্তু বিকৃত রুচি, সর্বক্ষণ অসুস্থ চিন্তাভাবনা এগুলোও কি মানসিক সমস্যার একটি রূপ নয়?

      সমকামীতাকে এমনকি সামাজিক ব্যাধি বা অসুস্থতা বললেও ভুল কিছু হবে না বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে!!

      আপনি জনৈক ডাক্তারের স্ট্যাটাস সেয়ার করে ভালো করেছেন কিন্তু সেই সাথে তার পোস্টের লিংক অথবা আইডির লিংক সেয়ার দিলেও ভালো করতেন! :/

      অন্তত নামটা সেয়ার করেন যদি কোন অসুবিধে না থাকে।

      সমস্যা থাকলে অবশ্য দরকার নেই

      1. 2.2.1
        Rasel

        ভাই পাভেল,

        ডাক্তারের পোস্ট লিংক এইখানে:-

        https://www.facebook.com/sabbir.ahsan.71/posts/799683480144737?comment_tracking=%7B%22tn%22%3A%22O%22%7D&pnref=story

         

        1. 2.2.1.1
          পাভেল আহমেদ

          ধন্যবাদ! 🙂

          এরপর থেকে এভাবে সোর্স উল্লেখ করে দিয়েন।

          আর ঈদ মুবারাক!! 😀
           

  11. 1
    Monowar Bin Zahid

    লিখার শুরুতে ভেবেছিলাম শেষে হয়তো আপনি সমকামীতাকে অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা বলবেন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে আপনি উহাকে রোগ বা অসুস্থতা বলে আখ্যায়িত করেছেন। ব্যাপারটি আমার নিকট গুজামিল হয়ে গেলো। দয়া করে লিখার শেষ অংশটি মন্তব্যের ঘরে সামারাইজ করবেন কি?

    1. 1.1
      পাভেল আহমেদ

      গোঁজামিল কিভাবে হল সেই ব্যাপারটি ব্যাখ্যা করবেন কি?

      কমেন্টে আমি আর কিছু লিখতে চাচ্ছি না কারন যা বলার আমি মূল পোস্টের ভিতরেই বলে দিয়েছি।

      যদি হরমোনাল ইমব্যালেন্স অসুস্থতা না হয় তাহলে অসুস্থতার সংজ্ঞা কি?

      আর তাছাড়াও অসুস্থতার একটি রূপ হিসেবে সমকামীতা বা উভকামীতা দেখা দিতে পারে এই ব্যাপারটিই লেখাতে পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দেওয়া আছে।

      অর্থাৎ হরমোনাল ইমব্যাল্যান্সের কারনে যদি সমকামীতা দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই সেটি এক প্রকারের অসুস্থতা।

      আরও জানার জন্য আমার দেওয়া লিংকগুলোতে জেতে পারেন। লেখার ভিতরে লিংকগুলো আমি দিয়েছি এজন্যই যাতে আমার কথার সত্যতা মানুষ সহজেই এসব জায়গায় গিয়ে জাচাই করতে পারে। এবং আপনার ধারনা ঠিকই আছে। সমকামীতা প্রকৃতির একটি অস্বাভাবিক ঘটনাই যেহেতু হরমনাল ইমব্যালেন্স দেহে স্বাভাবিকভাবে ঘটে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.