«

»

May ১৬ ২০১৭

একটি মোটামোটি মোটিভেসনাল পোস্ট খুব সম্ভবত!

তোমার আশেপাশের সাধারন মানুষগুলো অসাধারনভাবে তোমাকে Di মোটি VAT ED করার জন্য রীতিমত উঠেপড়ে লাগবে। চেষ্টা করবে তাদের নিজেদের চিন্তাধারার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তোমাকে সাধারনের পর্যায়ে নামিয়ে আনতে।

সেক্ষেত্রে তোমার কি করা উচিত?

এক করা যায় যে চারদিক থেকে ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ে হাল ছেড়ে দেওয়া এবং তাদের ইচ্ছানুসারেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়া।
অথবা আর এক করা যায় যে সব কিছু ছেড়েছুড়ে দিয়ে হিমালয়ে গিয়ে সন্ন্যাস জীবনযাপন করা।
(বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হিমালয় বেশি দূরবর্তী অথবা ব্যয়বহুল হলে কেওক্রাডং বা তাজিওডং দিয়েও কাজ চালানো যেতে পারে।  )

[অথবা হজ ছাড়া হাজীও হয়ে যেতে পারো চাইলে!  ]

কিন্তু তুমি কি সত্যিই এসকল কাজগুলো করতে চাও?

যদি করতে চাও কোন সমস্যা নেই। বরং অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু প্রস্তুতি নিতে হবে বাকি অর্ধেক সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য। 🙂 

কিন্তু তুমি যদি এসকল পথের কোনটাই বেছে নিতে না চাও তাহলে তোমার জন্য রয়েছে কঠিনতম একটি পথ।

তৃতীয় পথটি হল সবচেয়ে কঠিন যা কিনা তোমাকে বারংবার হতাশ হতে বাধ্য করবে।
তৃতীয় পথটি কি তা জানতে চাও?

তৃতীয় পথটি হল সকলের তাচ্ছিল্য, কানাঘুষা, বাধা-বিপত্তি, অপমান সকল কিছুকে দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করে আপন মনে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়া।

কেন?

যাতে কোন একদিন তুমি সফল হয়ে ওইসব মানুষের সামনে গিয়েই তাচ্ছিল্যের হাসি হাসার মত ক্ষমতা অর্জন করতে পারো।
হাসিটি যে হাসতেই হবে এমন কোন কথা নেই। কিন্তু তোমাকে সে এবিলিটি অর্জন করতে হবে। যাতে প্রয়োজন পড়লে ঠিকই বলতে পারো – “আমি সঠিক ছিলাম আর তোমরাই ছিলে ভুল। আমি আমার কাজ করে দেখিয়েছি। তোমরা এখনও কি বলতে চাচ্ছ যে তোমরা সঠিক?” (এরপর তাচ্ছিল্যের হাসি হপে!  )

তুমি যে কাজে ভালো বা যে কাজ করতে ভালো লাগে সে কাজেই লেগে থাকো। যে কাজে তোমার PASSION আছে সে কাজের পিছনে তুমি বহু সময় নষ্ট করছো। বহু রাত না ঘুমিয়ে কাটিয়েছ তোমার সেই শখ বা HOBBY এর পিছনে। বহু সকাল, দুপুর, বিকাল ও সন্ধ্যা তুমি এর পিছনে চিন্তা করে কাটিয়েছ।
সময় নষ্ট করা বন্ধ করে দাও।

কোন কিছুর পিছনে আজাইরা টাইম দিয়ে তোমার কোন লাভ নেই যদিও তোমার ভালোবাসা এর প্রতি অনেক বেশি।  

তোমার প্যাশন বা নেশাকে পেশায় রূপান্তর করে ফেলো। (অবশ্যই মাদক দ্রব্য জাতীয় নেশা না!  )

তুমি যদি তোমার ইতিমধ্যে প্যাশন আছে এমন কোন কাজকেই সারা জীবনের জন্য বেছে নাও তাহলে সবচেয়ে ভালো ফলাফল সেখান থেকেই আসবে। কারন কাজটি তুমি করতে পছন্দ কর!  কাজ করতে কারই বা ভালো লাগে বল?  (Exception is not an example!  )
কিন্তু তুমি এমন একটা কাজ বেছে নিয়েছ যা তোমার ভালো লাগে। এর থেকে এফিসিয়েন্ট প্রোডাক্টিভিটি আর কিভাবে পাওয়া যেতে পারে?

তোমাকে বহু প্রলোভন দেখানো হবে, অমুক জায়গায় ভালো সেলারি, তমুক জায়গায় ভালো সুযোগ সুবিধা। কিন্তু এতসব সুযোগ সুবিধা দিয়ে তুমি কি করবে যদি কাজই ভালো না লাগে?

একটু পর্যবেক্ষণ করে দেখো যারা তোমাকে প্রলোভন দেখাচ্ছে তাদের নিজেদের কি কোন প্যাশন কোনকালে ছিল?

তাদের জীবনের লক্ষ বা উদ্দেশ্যটা কি?

ভালো চাকরি করা, ভালো টাকা পয়সা কামানো এবং…..

আর কি?

সামান্য একটু পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণই তাদের সাথে তোমার পার্থক্যটাকে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরবে। 

তোমার YOUTH এবং PASSION কে ফলো করে তুমি কাজ করতে থাকো। উন্নতি অবশ্যই করবে, দক্ষতা অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। যদি না হয়, যদি তোমার আগ্রহ হারিয়ে যায়, এক সময়ের ভালো লাগা কাজটি করতে আর ভালো না লাগে তার মানে বুঝতে হবে যে তুমি কখনই কাজটির জন্য সঠিক মানুষ ছিলে না।

কোন কাজে হুট করে ঝাঁপিয়ে পড়বে না। ভেবে দেখো যে তুমি কি সত্যিই কাজটি করতে চাও? যদি মনে হয় যে কাজটি করে তুমি আনন্দ পাবে তাহলে আর দ্বিধা করার কোন প্রয়োজন নেই। কারও দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে আগে নিজে পরিষ্কারভাবে চিন্তা করে নাও যে তুমি নিজে কি চাও। মনে রাখবে আমরা মানুষেরা খুব সহজেই অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে যাই। ব্যাপারটি যে খুব একটা খারাপ বা দোষের তা নয়, বরং ক্ষেত্র বিশেষে এই ব্যাপারটিই সবচেয়ে ভালো।

কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে তোমাকে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হবে। তা না হলে তুমি অন্যের উপর সিদ্ধান্তের দায়ভার এবং দোষ চাপিয়ে দেওয়ার একটা সুন্দর অজুহাত পেয়ে যাবে।

তবে ভালো খারাপের পার্থক্যটা অবশ্যই মনে রাখবে। এই পার্থক্যকরনই মানুষকে জন্তু জানোয়ারের থেকে আলাদা করে  তুলেছে। কাজের ক্ষেত্রে আমাদের মোরালীটি বা নৈতিকতা যদি কাজ না করে, কোন ধরনের ইথিকাল বাউন্ডারি বা সীমানা যদি নির্ধারণ না করা থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই কোন না কোন পর্যায়ে আমাদের উপরেই এসে পড়বে। সীমানা নির্ধারণ করা থাকলেই শুধু হবে না বরং সেই সীমানার মধ্যে থেকেই কাজ করতে হবে। কিন্তু এই নৈতিকতার সীমানা কোথা থেকে আসবে? 

মনে রাখবে মানবতা বলে কিছুরই অস্তিত্ব নেই কারন এটি মানব সৃষ্ট একটি শব্দ যার অর্থ ও প্রয়োগ স্থান এবং সময়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়।

অতএব আর সবার মত সাধারন না হয়ে অসাধরনের দিকে হাত বাড়াও। প্রত্যেক মানুষেরই অসাধরন হবার বৈশিষ্ট্য রয়েছে কিন্তু হতে পারে সামান্য কিছু মানুষ। একারনেই অসাধারন এত অসাধারন! কিন্তু তুমি যদি সাধারনেই সন্তুষ্ট থাকতে চাও তাহলে সেটা হবে আরও একটা অসাধারন ব্যাপার। 
সেক্ষেত্রে তোমার জন্য রয়েছে একরাশ শুভেচ্ছা এবং অনুপ্রেরণা। 

বিঃদ্রঃ প্রথম তিনটি অপশন ছাড়াও আরও একাধিক অপশন রয়েছে যেমন সারাদিন ঘুমানো, সার্কাসে যোগ দেওয়া ইত্যাদি কিন্তু পাঠকদের সময় এবং লেখার সাইজের কথা বিবেচনায় রেখে শুধুমাত্র বেসিক অপশনগুলোই হাইলাইট করা হয়েছে! 

IF YOU CAN'T FIGURE OUT YOUR PURPOSE, FIGURE OUT YOUR PASSION. FOR YOUR PASSION WILL LEAD YOU DIRECTLY TO YOUR PURPOSE.

FIGURE OUT YOUR PASSION!

১৩ comments

Skip to comment form

  1. 5
    DreamTouch

    Valo laglo article ti pore.

    1. 5.1
      পাভেল আহমেদ

      ধন্যবাদ 🙂
      আশা করি আমার মানবতা নিয়ে আপনার কোন সন্দেহ নেই 😉 

  2. 4
    মাহফুজ

    //একেক মানুষ কথাকে একেকভাবে ইউজ করে। ঠিক যে কারনে এই কয়েকদিন ধরে আমাদের মধ্যে কমেন্ট চালাচালি হচ্ছে এবং ফাইনালি আপনি কনক্লুসনে গেলেন যে আমি মানবতা বিরোধী। এখন আপনি বলুন আমি যেখানে ভালো খারাপের পার্থক্য মনে রাখার কথা বলেছি সেখানে কিভাবে আমাকে আপনার মানবতা বিরোধী মনে হয়?// 

    ভালো খারাপের পার্থক্য করার জন্য ‘মানবতা’ মানবিক বৈশিষ্ট্য মাত্র। ভালো খারাপের সীমানা নির্ধারক নয়। মুসলিমদের জন্য ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যার সীমানা নির্ধারক হলো স্রষ্টা প্রেরিত মহাগ্রন্থ আল-কোরআন। এটি সমগ্র মানব জাতিকে সরল ও শান্তির পথে চলার আহ্বান জানায়। যা সত্য ও ন্যায়ের মানদণ্ড।

    মানুষ কথাকেই শুধু নয়, আরও অনেক কিছুকেই ভিন্নভাবে ইউজ করতে পারে। ইসলামের নাম নিয়ে পবিত্র কোরআনের নির্দেশনাকে ভিন্নভাবে ব্যবহার করে যদি কোন দল বা গোষ্ঠি নিজেদেরকে মুসলিম পরিচয় দিয়ে বৈরি আচরণে লিপ্ত হয়, মানুষের উপর অন্যায়ভাবে জুলুম চালায়, তাহলে কি সেটা কোরআনের দোষ হয়ে যাবে? পৃথিবীতে এ ধরনের অনেক নজির যে আছে তা নিশ্চয় আপনাকে বলার অপেক্ষা রাখেনা। কিন্তু তার জন্য কি সরাসরিভাবে কোরআনকে ইনভ্যালিড বলা ঠিক হবে? বরং যারা কোরআনকে ইনভ্যালিড বলবে, তাদেরকে ‘কোরআন বিরোধী’ বলাটাই তো স্বাভাবিক। আশাকরি আমার বক্তব্যটা বুঝতে পেরেছেন। 

    আপনি বলেছেন- //মনে রাখবে মানবতা বলে কিছুরই অস্তিত্ব নেই, কারন এটি মানব সৃষ্ট একটি শব্দ যার অর্থ  প্রয়োগ স্থান এবং সময়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়।//

    আমার মনে হয় বক্তব্যটা এরূপ হলে সবার বুঝতে সুবিধা হত- [‘মানবতা’ মানব সৃষ্ট একটি শব্দ। স্থান এবং সময়ভেদে এর অর্থ ও প্রয়োগ কিছুটা ভিন্নতর হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। সুতরাং একজন মুসলিম হিসেবে মানবতার বৈশিষ্ট্যকে কে কিভাবে ব্যবহার করছে তা কোরআনের নির্দেশনার আলোকে যাচাই করে তবেই এর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।]

    সামান্য আলাপচারিতার কারনে ভাই ভাই সম্পর্কে আঁচড় লাগতে পারেনা। অবশ্যই আমরা ভাই ভাই।

    ধন্যবাদ ও শুভকামনা- এখানে আমন্ত্রণ

    1. 4.1
      পাভেল আহমেদ

      এভাবে কথা চালাচালির কারনে একটা সুবিধা অবশ্য হয়েছে।

      আমার পোস্টে একগাদা কমেন্ট হয়ে গেছে আর পোস্টের ভিউ বেড়ে গেছে 😛 
      জানেন তো প্রচারেই প্রসার! 😉

      আমার বেশিরভাগ পোষ্ট আসলে সাইন্টিফিক এন্ড লজিক বেইজড হয়। পূর্ববর্তী পোস্টগুলো যদি পড়েন তাহলেই বুঝতে পারবেন।

      কিন্তু যখন আমি কিছুটা ফিলসফিকালের দিকে অথবা মোটিভেসনাল টাইপের লেখার দিকে যাই তখন কিছু কিছু কথা ধোঁয়াটে রেখে দিই। তবে আগে পরে আমি হিন্ট রেখে দিই যাতে মনে হয় যে আগের ও পরের কথাগুলোর সাথে মাঝের এই কথাটা বিরোধী। যাতে করে মানুষ চিন্তা করতে বাধ্য হয় যে এখানে কি হচ্ছে!

      ঠিক যেমন -- 

      আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্ত বর্ণণা করেন-যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।

      -- সূরা ইব্রাহিম, আয়াত ২৫

       

      আর আরেকটা ব্যাপার হল আপনি যে বললেন কুরআনের ভুল ব্যাখ্যার ব্যাপারে ওইটাও আসলে মানবীও এরর। ওই যে আপনাকে বললাম অনেকে ভালো খারাপের পার্থক্য ধরতে পারে না। এখন অনেক মানুষ আছে যারা কুরআনের বানী ব্যাবহার করে হিংসার বানী ছড়ায় এবং ভালো ভালো কিছু মানুষকে পুতুল বানিয়ে নিজেদের ফেইক জিহাদে শরীক করে, সুইসাইড বম্বিং এ পাঠায়। যারা সুইসাইড বম্বিং এ যায় তাদের অনেকের হয়তো অতীতের খুব খারাপ কোন অভিজ্ঞতা আছে যা তাদেরকে এইসব কোরআন বিরোধী কাজকে সঠিক মনে করে করতে উদ্বুদ্ধ করে। দেখা যায় যে মূল হোতা যারা তারা ভালমতোই জানে যে কুরআনের এই কথা এই মিনিং করে না। কিন্তু এতে তাদের কিছু আসে যায় না কারন তাদের স্বার্থ হাসিল হলেই হল। মাঝখান দিয়ে তারা নিরীহ কতোগুলো মানুষকে ভুল পথে গাইড করে। এই কারনে মানুষের দরকার সঠিক পরিবেশ এবং সঠিক গাইডেন্স। এই দুটো জিনিসের অভাবে এবং অবশ্যই অনেক ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবোঝির কারনে বর্তমান পৃথিবী এত অশান্তিতে আছে।

  3. 3
    মাহফুজ

    জী, পাভেল ভাইজান,

    আপনার প্রশ্নের উত্তর দিলাম-

    //ভাইজান কয়েকটা প্রশ্ন আপনাকে জিজ্ঞাসা করি উত্তর দেন। তবে শেষ পর্যন্ত আসলে প্রশ্ন একটাই মাত্র।//

    হাঁ ভাইজান, অবশেষে বোঝা গেল যে পোষ্ট জুরে যত কথা বলেছেন তার মূল বক্তব্য একটাই- ‘মানবতা মানিনা, মানবনা’

    //মানবতার সংজ্ঞা কি?//

    ভাইজান, মানবতার সংজ্ঞাটা তো আমিও আপনার কাছ থেকে জানতে চেয়েছি। আমি তো তাও বলেছি। কিন্তু আপনি তো খামখা বিরোধীতা আর প্রশ্নের পর প্রশ্নই করে যাচ্ছেন।

    //কে দিয়েছে?//

    যেই দেক না কেন, এর বৈশিষ্ট্যটা কিরূপ সেটাই বড় বিষয়।

    //তার এই সংজ্ঞা আমাদেরকে কেন মানতে হবে?//

    আপনার মানতে ইচ্ছে হলে মানবেন, না হলে মানবেন না্।

    //যে আইনের কথা বলছেন সে আইন কারা বানিয়েছে?//

    যে সমাজে যে আইন প্রতিষ্ঠিত ও বলবৎ আছে, তা যারাই বানাক না কেন, সেই সমাজে বাস করতে হলে আইন তো মানতেই হবে।

    //কোন আইনের বলে আমি কাদেরকে শাস্তি দেব? যেই আইনে ধর্ষকের জন্য ২/৩ বছরের শাস্তি এবং কপিরাইটের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড সেই শাস্তি?//

    হাঁ, আপাতত যে সমাজে যেরূপ আইন প্রতিষ্ঠিত ও বলবৎ আছে সেই আইনের বলেই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

    //নাকি যেই আইনে ধর্ষণের শাস্তি পাথর নিক্ষেপ সে শাস্তি?//

    যেই আইনে ধর্ষণের শাস্তি পাথর নিক্ষেপ শুধু নয়, বরং পাথর নিক্ষেপ করে ধর্ষককে মেরে ফেলা। হাঁ, এই আইন যে সমাজের জনগণের মাঝে প্রতিষ্ঠিত থাকবে, সেখানে এরূপ শাস্তিই দিতে হবে।

    [মানবতা’ শব্দটির মৌলিক রূপটি অর্থাৎ এর বেসিক প্রোপার্টিস (compassion, brotherly love, fellow feeling, humaneness, kindness, kind-heartedness, consideration, understanding, sympathy, tolerance, goodness, good-heartedness, gentleness, leniency, mercy, mercifulness, pity, tenderness, benevolence, charity, generosity, magnanimity)]

    //ভালো কথা।//

    হাঁ, ভালই তো। খারাপ তো কিছু দেখছিনা।

    //এগুলো যে মানবতার অংশ সেটা কে নির্ধারণ কোরে দিয়েছে?//

    আবারও একই রকম প্রশ্ন। আরে ভাইটি, যেই নির্ধারণ করে দিক না কেন, এর বৈশিষ্ট্যটা কেমন সেটাই বড় কথা।

    //এখানে প্রত্যেকটা ওয়ার্ড কোন কোন ক্ষেত্রে ইউজ করা সম্ভব? এগুলোর অর্থই বা কি?//

    হায় হায়! কোন ওয়ার্ডের কি অর্থ এবং তা কিভাবে ইউজ করবেন সেটাও আমাকেই বলে দিতে হবে? তখন আবার একটা করে ওয়ার্ড ধরে ধরে বলবেন, “এই ওয়ার্ডে ঐ অর্থটা কে দিয়েছে? ঐ ওয়ার্ডে এই অর্থটা কে দিয়েছে? ওরা দিলে এসব আমি মানব কেন?”

    একজন সিরিয়াল কিলার নিছক আনন্দের জন্য খুন করেছে কিন্তু সেও কম্পেসনের, কন্সিডারেসনের টলারেন্স এবং সিম্পথির যোগ্য হতে পারে না কি? যদি পারে তাহলে কেন এবং যদি পারে না তাহলে কেন পারে না?

    একজন সিরিয়াল কিলার যে নাকি নিছক আনন্দের জন্য খুন করল, যে কোন আইনেই তার শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। সে যদি জীবিত অবস্থায় ধরা পড়ে তাহলে বিচার চলাকালিন সময় পর্যন্ত মেরে ফেলার বিধান কোন আইনেই নেই। বরং তার বাঁচার জন্য যা প্রয়োজন তাই তাকে দিতে হবে।

    //humaneness বলতে কি বোঝাচ্ছে?//

    humaneness -- the quality of compassion or consideration for others (people or animals) মানবিকতা- সমবেদনা/ দয়া করা এবং অন্যের ইচ্ছা ও অনুভূতিকে মূল্য দান করার মত গুনাবলী

    //আমরা মানুষেরা জটিল অংক করতে পারি যা অন্য প্রাণীরা পারে না। তাহলে অংক করাও কি হিউম্যাননেসের অংশ?//

    রোবটও অংক করতে পারে। কিন্তু সেটা হিউম্যাননেসের অংশ নয়। বরং মানুষের মত অংক করাটাই হিউম্যাননেসের অংশ। কারণ তার মধ্যে সৃজনশীলতা থাকে। আর সৃজনশীলতা মনুষেরই গুন হিসেবে মানবতার একটি বৈশিষ্ট্য।

    //টলারেন্স মানবতার অংশ। ভালো কথা।//

    অবশ্যই ভাল কথা।

    //কিন্তু কি টলারেট করবো আমরা?//

    আমরা বলতে কি বোঝাচ্ছেন? আর কি টলারেট করার কথা বলছেন সেটাই বা কে জানে!

    //একজন মানুষ নিয়মিত আমার চোখের সামনে আরেকজনের উপরে টর্চার চালাচ্ছে সেটা টলারেট করবো? যদি করি তাহলে কেন করবো এবং যদি না করি তাহলে কেন করবো না?//

    ওহ! এই কথা। উপায় না থাকলে তো অনেক সময় অনেক কিছুই টলারেট করতেই হয়। খামকা টর্চার যদি চলতেই থাকে এবং তার মাত্রা যদি বাড়তেই থাকে, তাহলে টলারেট করার সীমা একদিন ভেঙে যেতেই পারে। তখন আপনি কি করবেন তা নির্ভর করছে আপনার ক্ষমতার উপরে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বিদ্রোহ করেন। আবার কেউ আত্মহত্যা করে বসেন। আশাকরি একজন বিশ্বাসী নিশ্চয় আত্মহত্যার পথে পা বাড়াবেন না।

    //এখানে আরও কথা আছে।//

    হাঁ বুঝতেই পারছি, এ ধরনের কথা ও প্রশ্ন কখনো শেষ হয়না।

    //একজন অপরাধীকে যখন ধরা হয় তখন অনেক সময় কথা আদায়ের জন্য টর্চার করা হয়। অনেক সময় কি বেশীরভাগ সময়েই আসলে করা হয়। এটা কি মানবতার পক্ষে নাকি বিপক্ষে? যদি পক্ষে তাহলে কেন পক্ষে এবং যদি বিপক্ষে তাহলে কেন বিপক্ষে?//

    একজন অপরাধী যখন ধরা পরে তখন তার কাজ হলো সত্য তথ্য দিয়ে সেই প্রশাসনকে সহায়তা করা। আর সহায়তা করলে তো টর্চার করার দরকারই হবেনা। বরং সে আদর যত্নই পাবে। আর সহায়তা না কররে তো বৃহত্তর স্বার্থে টর্চার করার প্রয়োজন হতেই পারে। সেক্ষেত্রে এটি মানবতার বিপক্ষে নয়। যদি কেউ মানবতার গান গেয়ে সেই অপরাধীর পক্ষ নেয়, তাহলে সেই তথাকথিত মানবতাবাদীদেরকে মুখোশধারী হিসেবেই ধরে নিতে হবে।

    //এমন যদি হয় যে ওই একজনকে টর্চার করে আমরা তথ্য নিয়ে ১০ জনের জীবন বাঁচাতে পারবো তাহলে কি মানবতার দৃষ্টিতে এটা সঠিক?//

    হাঁ আগেই বলেছি, বৃহত্তর স্বার্থে তা সঠিক।

    //আবার যে ১০ জনের জীবন বাঁচাচ্ছি তারা যদি ড্রাগের ব্যাবসায়ি হয় যারা হাজার হাজার জীবন ধংস করেছে? তখন কি করা উচিত এই মানবতার দৃষ্টিকোন থেকে?//

    যদি আরও দশজন অপরাধীকে (যেমন ড্রাগের ব্যাবসায়ী) ধরার জন্য এক অপরাধীকে টর্চার করেন তাহলে তা ঠিক আছে। এরপর মানবতার দৃষ্টিকোন থেকেই সেই ১০ জন ড্রাগের ব্যাবসায়ীর জন্যও বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

    //একজন মুসলিম হিসেবে আপ্নই মানবতার কথা বলছেন। কিন্তু কোনটা কিসের উপর ভিত্তি কোরে তৈরি?

    মানবতা ইসলামের ভিত্তিতে নাকি ইস্লাম মানবতার ভিত্তিতে?//

    হাঁ, একজন মুসলিম হিসেবে আমি সেই মানবতার কথা বলছি যা আমি ইসলামে আছে এবং ইসলামের মূল ভিত্তি হলো মহান স্রষ্টা প্রেরিত জ্ঞানগর্ভ কোরআন। আর এই সার্বজনিন জীবন বিধান থেকেই আমি মানবতার শিক্ষা পেয়েছি।

    //সোজা ভাষায় আমার প্রশ্ন হল মানবতা জিনিসটাকে আপনি কিসের ভিত্তিতে বা কিসের প্রেক্ষাপটে ডিফাইন করছেন অথবা কার দেওয়া ডেফিনেসন দিয়ে জাস্টিফাই করছেন? আপনার নিজের দেওয়া ডেফিনেসন হলে কেন মানুষকে সেটা মানতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিন তারপরে আমি ব্যাখ্যা করছি কেন মানবতা নামক শব্দটি ভ্যালিড নয়।//

    আমি আমার বুঝ ও ক্ষমতা অনুসারে সোজা ভাষায়ই আপনার সবগুলো প্রশ্নের জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমি বিশ্বাস করি যে, ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকেও মানব সমাজের মাঝে ‘মানবতা’ ইনভ্যালিড নয়। কারণ আমি একজন মুসলিম হয়েও আমার সৃজনশীল চেতনাকে এখনও হারিয়ে ফেলিনি এবং ধর্মান্ধ হয়ে যাইনি। এরপর আমার আর কিছু বলার নেই। আপনার কাছেও এ বিষয়ে আর কোন ব্যাখ্যা জানার প্রয়োজনও নেই। আপনার পোষ্টে আপনি যা খুশি তাই বলতেই পারেন। তবে আমার এ মন্তব্যটা যে আপনার জবাব রেডি নো হওয়া পর্যন্ত অর্ধ  প্রকাশিত অবস্থায় ঝুলে থাকবে, তা আমি জানি।

    ধন্যবাদ ও শুভকামনা-

  4. 2
    মাহফুজ

    মি. পাভেল আহমেদ,

    আপনার পোষ্টটিতে তো এই একটি শব্দ (মনবতা) বাদেও আরও অনেক শব্দ আছে। সেগুলো সম্পর্কে যে আমি ভাল লাগার অর্থাৎ একমত হওয়ার কথাটা প্রথমেই বলেছি, তা নিশ্চয় আপনি দেখেছেন।

    তবে ‘মনবতা’ শব্দটার মাঝেই যদি আপনার পোষ্টের মূল বক্তব্য নিহিত থাকে তাহলে অবশ্য খারাপ লাগারই কথা।

    পশ্চিমারা, সুশীল সমাজের মানুষেরা, অমুকেরা বা তমুকেরা হয়ত সঠিকভাবে না জেনেই ইসলামের রীতিনীতিকে মানবতা বিরোধী বলছে। কিন্তু শুধুমাত্র সে কারণেই ‘মানবতা’ বলে কিছুই নেই এরূপ বলাটা কি সঠিক হবে?

    ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ‘মানবতা’ নিশ্চয় একজন মানুষেরই (রোবট/ এলিয়ন/ পিশাচ নয়) বেসিক প্রোপার্টিস এর মধ্যেই পড়ে। সুতরাং মানুষের মাঝে মানবতার (মনুষ্যত্ব/ মনুষতা) (the quality of being humane; benevolence) গুনাবলী ক্রিয়াশীল থাকুক সেটাই সবার কাম্য হওয়া উচিত।

    একেক জনের দৃষ্টিতে ভালো ও আদর্শ মানুষের সজ্ঞা একেক রকম হলেও তার সার্বজনীন ভাব কিন্তু স্বমূলে পাল্টে যাবেনা। তেমনি মানবাতার নামে যে যা কিছুই করুক না কেন তাতে কি ‘মানবতা’ শব্দটির মৌলিক রূপটি অর্থাৎ এর বেসিক প্রোপার্টিস (compassion, brotherly love, fellow feeling, humaneness, kindness, kind-heartedness, consideration, understanding, sympathy, tolerance, goodness, good-heartedness, gentleness, leniency, mercy, mercifulness, pity, tenderness, benevolence, charity, generosity, magnanimity) পাল্টে যাবে?

    মানবতার খাতিরে যা খুশি তাই করা কিংবা বলা আর ‘মনবতা’ নিশ্চয় এক বিষয় নয়। মানবতার নাম নিয়ে কেউ ডাকাতি/ রাহাজনী/ খুন-খারাবির মাধ্যমে অপরের সম্পদ হরণ করে কিংবা ঘুষ খেয়ে বা দুর্নীতি করে অঢেল টাকা কামিয়ে তা থেকে দান খয়রাত করলে পৃথিবীর কোন সভ্য সমাজই তাকে মানবতাবাদী কর্ম হিসেবে মেনে নেবে না। হয়ত সুবিধা ভোগীরা সাময়িকভাবে সেই ডাকাত/ খুনি/ ঘুষখোর/ দুর্নীতিবাজদের গুনগান গাইতেই পারেন। কিন্তু সকল আইনেই সেই ডাকাত ও খুনিদের জন্য শাস্তির বিধানই আছে। আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মাঝে যদি মানবতার লেশমাত্র বর্তমান থাকে, তাহলে মনবতা বিরুদ্ধ কর্মের জন্য অবশ্যই যথাযথ শাস্তিই বিধান করবেন। আর যদি তারা তা না করে অনুকম্পা প্রদর্শন করেন, তাহলে তারা নিশ্চয় মানবতার নয়, বরং মানবতা বিরোধীদের দোষর হিসেবেই আখ্যায়িত হবেন। মানবতা বিরোধী কর্ম করার ও সেই কর্মকে প্রশ্রয় দেয়ার জন্য নিশ্চয় তাদেরকে এদিন নয়ত সেদিন শাস্তি ভোগ করতেই হবে।

    মানবতার নামে কে কি করল শুধুমাত্র তাদের দিকে তাকিয়ে আমি একজন মুসলিম হিসেবে অপরকে নিশ্চয় মনবতা বিমুখ হওয়ার কথা বলতে পারিনা। বরং মানবতার নামে যেন অন্তত কোন অমানবিক কর্ম করা না হয় সে বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শই দিয়ে যাব। ‘মানুষ’ হোক সে সাধারন কিংবা অসাধারন, সবার মাঝে যেন ‘মানবতা’ সদা জাগ্রত থাকে সেই কথাই বলব।

    ধন্যবাদ ও শুভকামনা-

    1. 2.1
      পাভেল আহমেদ

      ভাইজান কয়েকটা প্রশ্ন আপনাকে জিজ্ঞাসা করি উত্তর দেন। তবে শেষ পর্যন্ত আসলে প্রশ্ন একটাই মাত্র।

      মানবতার সংজ্ঞা কি?

      কে দিয়েছে?

      তার এই সংজ্ঞা আমাদেরকে কেন মানতে হবে?

      যে আইনের কথা বলছেন সে আইন কারা বানিয়েছে?

      কোন আইনের বলে আমি কাদেরকে শাস্তি দেব?

      যেই আইনে ধর্ষকের জন্য ২/৩ বছরের শাস্তি এবং কপিরাইটের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড সেই শাস্তি?

      নাকি যেই আইনে ধর্ষণের শাস্তি পাথর নিক্ষেপ সে শাস্তি?

       

      মানবতা’ শব্দটির মৌলিক রূপটি অর্থাৎ এর বেসিক প্রোপার্টিস (compassion, brotherly love, fellow feeling, humaneness, kindness, kind-heartedness, consideration, understanding, sympathy, tolerance, goodness, good-heartedness, gentleness, leniency, mercy, mercifulness, pity, tenderness, benevolence, charity, generosity, magnanimity)

       

      ভালো কথা।

      এগুলো যে মানবতার অংশ সেটা কে নির্ধারণ করে দিয়েছে?

      এখানে প্রত্যেকটা ওয়ার্ড কোন কোন ক্ষেত্রে ইউজ করা সম্ভব?

      এগুলোর অর্থই বা কি?

      একজন সিরিয়াল কিলার নিছক আনন্দের জন্য খুন করেছে কিন্তু সেও কম্পেসনের, কন্সিডারেসনের টলারেন্স এবং সিম্পথির যোগ্য হতে পারে না কি?

      যদি পারে তাহলে কেন এবং যদি পারে না তাহলে কেন পারে না?

      humaneness বলতে কি বোঝাচ্ছে?

      আমরা মানুষেরা জটিল অংক করতে পারি যা অন্য প্রাণীরা পারে না। তাহলে অংক করাও কি হিউম্যাননেসের অংশ?

      টলারেন্স মানবতার অংশ। ভালো কথা।

      কিন্তু কি টলারেট করবো আমরা?

      একজন মানুষ নিয়মিত আমার চোখের সামনে আরেকজনের উপরে টর্চার চালাচ্ছে সেটা টলারেট করবো?

      যদি করি তাহলে কেন করবো এবং যদি না করি তাহলে কেন করবো না?

      এখানে আরও কথা আছে।

      একজন অপরাধীকে যখন ধরা হয় তখন অনেক সময় কথা আদায়ের জন্য টর্চার করা হয়। অনেক সময় কি, বেশীরভাগ সময়েই আসলে করা হয়। এটা কি মানবতার পক্ষে নাকি বিপক্ষে?

      যদি পক্ষে তাহলে কেন পক্ষে এবং যদি বিপক্ষে তাহলে কেন বিপক্ষে?

      এমন যদি হয় যে ওই একজনকে টর্চার করে আমরা তথ্য আদায় কোরে ১০ জনের জীবন বাঁচাতে পারবো তাহলে কি মানবতার দৃষ্টিতে এটা সঠিক?

      আবার যে ১০ জনের জীবন বাঁচাচ্ছি তারা যদি ড্রাগের ব্যাবসায়ি হয় যারা হাজার হাজার জীবন ধংস করেছে?

      তখন কি করা উচিত এই মানবতার দৃষ্টিকোন থেকে?

      একজন মুসলিম হিসেবে আপনি মানবতার কথা বলছেন। কিন্তু কোনটা কিসের উপর ভিত্তি করে তৈরি?

      মানবতা ইসলামের ভিত্তিতে নাকি ইসলাম মানবতার ভিত্তিতে?

       

      সোজা ভাষায় আমার প্রশ্ন হল মানবতা জিনিসটাকে আপনি কিসের ভিত্তিতে বা কিসের প্রেক্ষাপটে ডিফাইন করছেন অথবা কার দেওয়া ডেফিনেসন দিয়ে জাস্টিফাই করছেন?

      আপনার নিজের দেওয়া ডেফিনেসন হলে কেন মানুষকে সেটা মানতে হবে?

       

      এই প্রশ্নের উত্তর দিন তারপরে আমি ব্যাখ্যা করছি কেন মানবতা নামক শব্দটি ভ্যালিড নয়।

      1. 2.1.1
        মাহফুজ

        জী, পাভেল ভাইজান,

        আপনার প্রশ্নের উত্তর দিলাম-

        //ভাইজান কয়েকটা প্রশ্ন আপনাকে জিজ্ঞাসা করি উত্তর দেন। তবে শেষ পর্যন্ত আসলে প্রশ্ন একটাই মাত্র।//

        হাঁ ভাইজান, অবশেষে বোঝা গেল যে পোষ্ট জুরে যত কথা বলেছেন তার মূল বক্তব্য একটাই- ‘মানবতা মানিনা, মানবনা’

        //মানবতার সংজ্ঞা কি?//

        ভাইজান, মানবতার সংজ্ঞাটা তো আমিও আপনার কাছ থেকে জানতে চেয়েছি। আমি তো তাও বলেছি। কিন্তু আপনি তো খামখা বিরোধীতা আর প্রশ্নের পর প্রশ্নই করে যাচ্ছেন।

        //কে দিয়েছে?//

        যেই দেক না কেন, এর বৈশিষ্ট্যটা কিরূপ সেটাই বড় বিষয়।

        //তার এই সংজ্ঞা আমাদেরকে কেন মানতে হবে?//

        আপনার মানতে ইচ্ছে হলে মানবেন, না হলে মানবেন না্।

        //যে আইনের কথা বলছেন সে আইন কারা বানিয়েছে?//

        যে সমাজে যে আইন প্রতিষ্ঠিত ও বলবৎ আছে, তা যারাই বানাক না কেন, সেই সমাজে বাস করতে হলে আইন তো মানতেই হবে।

        //কোন আইনের বলে আমি কাদেরকে শাস্তি দেব? যেই আইনে ধর্ষকের জন্য ২/৩ বছরের শাস্তি এবং কপিরাইটের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড সেই শাস্তি?//

        হাঁ, আপাতত যে সমাজে যেরূপ আইন প্রতিষ্ঠিত ও বলবৎ আছে সেই আইনের বলেই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

        //নাকি যেই আইনে ধর্ষণের শাস্তি পাথর নিক্ষেপ সে শাস্তি?//

        যেই আইনে ধর্ষণের শাস্তি পাথর নিক্ষেপ শুধু নয়, বরং পাথর নিক্ষেপ করে ধর্ষককে মেরে ফেলা। হাঁ, এই আইন যে সমাজের জনগণের মাঝে প্রতিষ্ঠিত থাকবে, সেখানে এরূপ শাস্তিই দিতে হবে।

        মানবতা’ শব্দটির মৌলিক রূপটি অর্থাৎ এর বেসিক প্রোপার্টিস (compassion, brotherly love, fellow feeling, humaneness, kindness, kind-heartedness, consideration, understanding, sympathy, tolerance, goodness, good-heartedness, gentleness, leniency, mercy, mercifulness, pity, tenderness, benevolence, charity, generosity, magnanimity)

        //ভালো কথা।//

        হাঁ, ভালই তো। খারাপ তো কিছু দেখছিনা।

        //এগুলো যে মানবতার অংশ সেটা কে নির্ধারণ কোরে দিয়েছে?//

        আবারও একই রকম প্রশ্ন। আরে ভাইটি, যেই নির্ধারণ করে দিক না কেন, এর বৈশিষ্ট্যটা কেমন সেটাই বড় কথা।

        //এখানে প্রত্যেকটা ওয়ার্ড কোন কোন ক্ষেত্রে ইউজ করা সম্ভব? এগুলোর অর্থই বা কি?//

        হায় হায়! কোন ওয়ার্ডের কি অর্থ এবং তা কিভাবে ইউজ করবেন সেটাও আমাকেই বলে দিতে হবে? তখন আবার একটা করে ওয়ার্ড ধরে ধরে বলবেন, “এই ওয়ার্ডে ঐ অর্থটা কে দিয়েছে? ঐ ওয়ার্ডে এই অর্থটা কে দিয়েছে? ওরা দিলে এসব আমি মানব কেন?”

        একজন সিরিয়াল কিলার নিছক আনন্দের জন্য খুন করেছে কিন্তু সেও কম্পেসনের, কন্সিডারেসনের টলারেন্স এবং সিম্পথির যোগ্য হতে পারে না কি? যদি পারে তাহলে কেন এবং যদি পারে না তাহলে কেন পারে না?

        একজন সিরিয়াল কিলার যে নাকি নিছক আনন্দের জন্য খুন করল, যে কোন আইনেই তার শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। সে যদি জীবিত অবস্থায় ধরা পড়ে তাহলে বিচার চলাকালিন সময় পর্যন্ত মেরে ফেলার বিধান কোন আইনেই নেই। বরং তার বাঁচার জন্য যা প্রয়োজন তাই তাকে দিতে হবে।

        //humaneness বলতে কি বোঝাচ্ছে?//

        humaneness -- the quality of compassion or consideration for others (people or animals) মানবিকতা- সমবেদনা/ দয়া করা এবং অন্যের ইচ্ছা ও অনুভূতিকে মূল্য দান করার মত গুনাবলী

        //আমরা মানুষেরা জটিল অংক করতে পারি যা অন্য প্রাণীরা পারে না। তাহলে অংক করাও কি হিউম্যাননেসের অংশ?//

        রোবটও অংক করতে পারে। কিন্তু সেটা হিউম্যাননেসের অংশ নয়। বরং মানুষের মত অংক করাটাই হিউম্যাননেসের অংশ। কারণ তার মধ্যে সৃজনশীলতা থাকে। আর সৃজনশীলতা মনুষেরই গুন হিসেবে মানবতার একটি বৈশিষ্ট্য।

        //টলারেন্স মানবতার অংশ। ভালো কথা।//

        অবশ্যই ভাল কথা।

        //কিন্তু কি টলারেট করবো আমরা?//

        আমরা বলতে কি বোঝাচ্ছেন? আর কি টলারেট করার কথা বলছেন সেটাই বা কে জানে!

        //একজন মানুষ নিয়মিত আমার চোখের সামনে আরেকজনের উপরে টর্চার চালাচ্ছে সেটা টলারেট করবো? যদি করি তাহলে কেন করবো এবং যদি না করি তাহলে কেন করবো না?//

        ওহ! এই কথা। উপায় না থাকলে তো অনেক সময় অনেক কিছুই টলারেট করতেই হয়। খামকা টর্চার যদি চলতেই থাকে এবং তার মাত্রা যদি বাড়তেই থাকে, তাহলে টলারেট করার সীমা একদিন ভেঙে যেতেই পারে। তখন আপনি কি করবেন তা নির্ভর করছে আপনার ক্ষমতার উপরে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বিদ্রোহ করেন। আবার কেউ আত্মহত্যা করে বসেন। আশাকরি একজন বিশ্বাসী নিশ্চয় আত্মহত্যার পথে পা বাড়াবেন না।

        //এখানে আরও কথা আছে।//

        হাঁ বুঝতেই পারছি, এ ধরনের কথা ও প্রশ্ন কখনো শেষ হয়না।

        //একজন অপরাধীকে যখন ধরা হয় তখন অনেক সময় কথা আদায়ের জন্য টর্চার করা হয়। অনেক সময় কি বেশীরভাগ সময়েই আসলে করা হয়। এটা কি মানবতার পক্ষে নাকি বিপক্ষে? যদি পক্ষে তাহলে কেন পক্ষে এবং যদি বিপক্ষে তাহলে কেন বিপক্ষে?//

        একজন অপরাধী যখন ধরা পরে তখন তার কাজ হলো সত্য তথ্য দিয়ে সেই প্রশাসনকে সহায়তা করা। আর সহায়তা করলে তো টর্চার করার দরকারই হবেনা। বরং সে আদর যত্নই পাবে। আর সহায়তা না কররে তো বৃহত্তর স্বার্থে টর্চার করার প্রয়োজন হতেই পারে। সেক্ষেত্রে এটি মানবতার বিপক্ষে নয়। যদি কেউ মানবতার গান গেয়ে সেই অপরাধীর পক্ষ নেয়, তাহলে সেই তথাকথিত মানবতাবাদীদেরকে মুখোশধারী হিসেবেই ধরে নিতে হবে।

        //এমন যদি হয় যে ওই একজনকে টর্চার করে আমরা তথ্য নিয়ে ১০ জনের জীবন বাঁচাতে পারবো তাহলে কি মানবতার দৃষ্টিতে এটা সঠিক?//

        হাঁ আগেই বলেছি, বৃহত্তর স্বার্থে তা সঠিক।

        //আবার যে ১০ জনের জীবন বাঁচাচ্ছি তারা যদি ড্রাগের ব্যাবসায়ি হয় যারা হাজার হাজার জীবন ধংস করেছে? তখন কি করা উচিত এই মানবতার দৃষ্টিকোন থেকে?//

        যদি আরও দশজন অপরাধীকে (যেমন ড্রাগের ব্যাবসায়ী) ধরার জন্য এক অপরাধীকে টর্চার করেন তাহলে তা ঠিক আছে। এরপর মানবতার দৃষ্টিকোন থেকেই সেই ১০ জন ড্রাগের ব্যাবসায়ীর জন্যও বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

        //একজন মুসলিম হিসেবে আপ্নই মানবতার কথা বলছেন। কিন্তু কোনটা কিসের উপর ভিত্তি কোরে তৈরি?

        মানবতা ইসলামের ভিত্তিতে নাকি ইস্লাম মানবতার ভিত্তিতে?//

        হাঁ, একজন মুসলিম হিসেবে আমি সেই মানবতার কথা বলছি যা আমি ইসলামে আছে এবং ইসলামের মূল ভিত্তি হলো মহান স্রষ্টা প্রেরিত জ্ঞানগর্ভ কোরআন। আর এই সার্বজনিন জীবন বিধান থেকেই আমি মানবতার শিক্ষা পেয়েছি।

        //সোজা ভাষায় আমার প্রশ্ন হল মানবতা জিনিসটাকে আপনি কিসের ভিত্তিতে বা কিসের প্রেক্ষাপটে ডিফাইন করছেন অথবা কার দেওয়া ডেফিনেসন দিয়ে জাস্টিফাই করছেন? আপনার নিজের দেওয়া ডেফিনেসন হলে কেন মানুষকে সেটা মানতে হবে? এই প্রশ্নের উত্তর দিন তারপরে আমি ব্যাখ্যা করছি কেন মানবতা নামক শব্দটি ভ্যালিড নয়।//

        আমি আমার বুঝ ও ক্ষমতা অনুসারে সোজা ভাষায়ই আপনার সবগুলো প্রশ্নের জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমি বিশ্বাস করি যে, ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকেও মানব সমাজের মাঝে ‘মানবতা’ ইনভ্যালিড নয়। কারণ আমি একজন মুসলিম হয়েও আমার সৃজনশীল চেতনাকে এখনও হারিয়ে ফেলিনি এবং ধর্মান্ধ হয়ে যাইনি। এরপর আমার আর কিছু বলার নেই। আপনার কাছেও এ বিষয়ে আর কোন ব্যাখ্যা জানার প্রয়োজনও নেই। আপনার পোষ্টে আপনি যা খুশি তাই বলতেই পারেন। তবে আমার এই মন্তব্যটা যে আপনার জবাব রেডি নো হওয়া পর্যন্ত অর্ধ  প্রকাশিত অবস্থায় ঝুলে থাকবে, তা আমি জানি।

        ধন্যবাদ ও শুভকামনা-

        1. 2.1.1.1
          পাভেল আহমেদ

          মাহফুজ ভাইজান কিছুটা কাছাকাছি এসেছেন আপনি। একটু দয়া করে পুরো লেখাটা পড়বেন যদি আপনার ভুলটুকু ভাঙ্গাতে চান।

          কিন্তু সমস্যা হল যে আপনি শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত আমাকে ভুলই বুঝে গেলেন!

          হাঁ ভাইজান, অবশেষে বোঝা গেল যে পোষ্ট জুরে যত কথা বলেছেন তার মূল বক্তব্য একটাই- ‘মানবতা মানিনা, মানবনা’

           

          আপনাকে ডিসএপয়েন্ট করতে বাধ্য হচ্ছি আমি। আমার কোন পোস্টে বা কথায় কোনকালেই মানবতা বিরোধী কথা ছিল না। ইনফ্যাক্ট আপনি যা প্রচার করতে চাচ্ছেন সেইম জিনিসটা আমিও চাই।

          কিন্তু সমস্যা হল যে আপনি মানবতা নামক এই ওয়ার্ডতার উপরে বেশি জোর দিচ্ছেন যেখানে এর কোন অস্তিত্বই নেই। কিন্তু এর অস্তিত্ব নেই মানে কি? আপনি কি একটুও বোঝার চেষ্টা করেছেন যে এর অর্থ কি দাঁড়াতে পারে? অথবা আমি কোন দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে কথাটা বলেছি সেটা বোঝার চেষ্টা করেছেন?

          আমি গত কয়েকদিন যাবত এই সিম্পল জিনিসটা বোঝানর ট্রাই করছি কিন্তু আপনি একদম লিটারেল ওয়ার্ড এর উপরে বেশি জোর দিচ্ছেন। 

          যে কারনে আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম -- 

          এখানে প্রত্যেকটা ওয়ার্ড কোন কোন ক্ষেত্রে ইউজ করা সম্ভব? এগুলোর অর্থই বা কি?

          কিন্তু উত্তরে কি পেলাম আমি?

          হায় হায়! কোন ওয়ার্ডের কি অর্থ এবং তা কিভাবে ইউজ করবেন সেটাও আমাকেই বলে দিতে হবে? তখন আবার একটা করে ওয়ার্ড ধরে ধরে বলবেন, “এই ওয়ার্ডে ঐ অর্থটা কে দিয়েছে? ঐ ওয়ার্ডে এই অর্থটা কে দিয়েছে? ওরা দিলে এসব আমি মানব কেন?”

           জি ভাইয়া আপনাকেই বলে দিতে হবে কারন একেক মানুষ কথাকে একেকভাবে ইউজ করে। ঠিক যে কারনে এই কয়েকদিন ধরে আমাদের মধ্যে কমেন্ট চালাচালি হচ্ছে এবং ফাইনালি আপনি কনক্লুসনে গেলেন যে আমি মানবতা বিরোধী।

          কিন্তু মূল ব্যাপারটা বোঝানর চেষ্টা করছি আমি।

          যদি একটু বোঝার চেষ্টা করেন তাহলে খুবই ভালো হয়। কারন সিলি একটা ব্যাপার নিয়ে আমরা দুইজন তর্ক করে যাচ্ছি এবং আপনি আমার উপরে একটা মিথ্যা অপবাদও দিয়ে দিলেন অথচ আমার দৃষ্টিভঙ্গী ধরতে পারলেন না।

           

          আমি মানবতা সম্পর্কে আমার বিখ্যাত (!) লাইনটা লেখার আগে লেখছিলাম -- 

          তবে ভালো খারাপের পার্থক্যটা অবশ্যই মনে রাখবে। এই পার্থক্যকরনই মানুষকে জন্তু জানোয়ারের থেকে আলাদা করে  তুলেছে। কাজের ক্ষেত্রে আমাদের মোরালীটি বা নৈতিকতা যদি কাজ না করে, কোন ধরনের ইথিকাল বাউন্ডারি বা সীমানা যদি নির্ধারণ না করা থাকে তাহলে সেটা অবশ্যই কোন না কোন পর্যায়ে আমাদের উপরেই এসে পড়বে। সীমানা নির্ধারণ করা থাকলেই শুধু হবে না বরং সেই সীমানার মধ্যে থেকেই কাজ করতে হবে। কিন্তু এই নৈতিকতার সীমানা কোথা থেকে আসবে? 

          তো আসলেই এই নৈতিকতার সীমানা কোথা থেকে আসবে? কে আমাকে ভালো খারাপের পার্থক্য দেখিয়ে দিবে? কে বলে দিবে যে পর্ণগ্রাফি নিয়ে বিজনেস করা যাবে না। কে বলে দিবে যে আমার এলকোহল জাতীয় দ্রব্য নেওয়া যাবে না।

          এখন আপনি বলুন আমি যেখানে ভালো খারাপের পার্থক্য মনে রাখার কথা বলেছি সেখানে কিভাবে আমাকে আপনার মানবতা বিরোধী মনে হয়? 

          ওকে এরপরে চেষ্টা করেছি একটা হিন্ট দেওয়ার যে কিভাবে আপনি ভালো খারাপের পার্থক্য খুজে পাবেন। আপনি নিশ্চয়ই এটা মানবেন যে প্রত্যেক মানুষের চিন্তা এক রকমের হয় না। আমি একভাবে চিন্তা করছি এবং বলছি যে মানবতার অস্তিত্ব নেই অথচ আমি বলছি ভালো খারাপের সীমানা নির্ধারণ করে রাখতে।

          আপনি চিন্তা করছেন আরেকভাবে এবং আমার চিন্তা দেখে বলছেন যে আমি মানবতা না মানা এক ঘাড়ত্যাড়া।

          জী না ভাই আমি ইদানীংকালের ডিপ্রেসড ছেলেপেলেদের মত না এবং ওই বয়সটাও আমি পার করে এসেছি। সদালাপে আমি অনেক আগে থেকেই জুনিয়র হিসেবে লেখতাম রায়হান ভাই, সাইদ ভাই, জিয়া ভাই এদের পাশাপাশি কিন্তু ২০১৫ সালের পরে আমার আর কোন লেখা দেওয়া হয়নি। এতদিন পরে এসে আমি একটু জাস্ট নিজের অভিজ্ঞতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটা মোটিভেসনাল পোষ্ট দেওয়ার ট্রাই করেছি। যাতে করে ছেলেপেলেরা হতাশ না হয়ে নিজের মত করে কাজ চালিয়ে যায়।

          কিন্তু সমস্যা হল যে আমাদের দেশের ছেলেপেলেদের একটু শর্টকাটে কাজ করার ফন্দিফিকির থাকে।

          আপনি হয়তো জানেন না যে অনেক ছেলেই পর্ণ জাতীয় বিজনেসের সাথে জড়িত হয়ে টাকা পয়সা কামাচ্ছে। অনেকে এতে দোষের কিছু দেখছে না। আবার অনেকের শুরুতে ইথিকস ওইভাবে শুরুতে কাজ করলেও পরে টাকার জন্য ওই ইথিকস গিলে ফেলে। তো এই জন্য আমি তাদেরকে ভালো খারাপের সীমানা নির্ধারণের জন্য বলেছিলাম।

          কিন্তু এই ভালো খারাপ তারা কিভাবে নির্ধারণ করবে?

          যেমন ধরেন এক আমি আপনিই একটা মানবতা নামক ওয়ার্ড নিয়ে তর্ক করতে করতে শেষ। সেখানে আপনি কি একবার চিন্তা করে দেখেছেন যে প্রত্যেক মানুষ যাদের চিন্তা ভাবনা আলাদা, তাদের ভালো খারাপের ধারনাও আলাদা হতে পারে?

          একজন গ্রামের ছেলের কাছে যা খারাপ তা আবার একজন শহরের ছেলের কাছে নরমাল একটা জিনিস হতে পারে।

          বর্তমানে মুভিতে আমরা এমন অনেক দৃশ্য দেখতে পাই যেগুলা খুবই নরমাল লাগে। যেমন নায়ক নায়িকা থাকবে, একসাথে গান গাইবে, একজন আরেকজনের সাথে ভালবাসার কথা বলবে ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো আসলে কি পরিমানের খারাপ সেটা চিন্তা করে দেখেছেন আশা করি?

          কিন্তু আধুনিক সমাজের কাছে এগুলো ভালো জিনিস। ছেলে মেয়েদের ফ্রি মিক্সিং, মেয়েদের ফ্রি ওমেন হয়ে মিডিয়াতে প্রবেশ করা সব কিছুকেই বেশ স্বাস্থ্যকর এবং সমাজ কল্যাণ মূলক বলে মনে করা হয়।

          পরিমিত এলকোহল গ্রহনকে ভালো মনে করা হয়। ছেলেমেয়েদের বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড থাকা তো ডাল ভাত ব্যাপার।

          এদের মধ্যে অনেকের ধারনা যে জাস্ট কমিটমেন্ট ঠিক থাকলেই হয়, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

          এখন হাজার জনের হাজার মত। কোনটা সঠিক।

          আমি আপনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে -- 

          কে দিয়েছে?

          মানবতার সংজ্ঞার কথাই জিজ্ঞাসা করছিলাম আমি অবশ্যই।

          আপনি কি উত্তর দিলেন?

          যেই দেক না কেন, এর বৈশিষ্ট্যটা কিরূপ সেটাই বড় বিষয়।

          কিন্তু ভাই এর বৈশিষ্ট্যগুলো কি?

          আপনি যে বেসিক ট্রেইটগুলোর কথা বললেন আরেকজন মানুষের কাছে সেগুলো সবগুলো গ্রহনযোগ্য নাও হতে পারে। আগেই বললাম যে সব মানুষ একভাবে চিন্তা করে না। এবং এই কারনেই আমি চেষ্টা করছি বুঝানোর এত বড় একটা মিথ্যা অপবাদ পাবার পরেও। আমি আমার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে জানি যে রাগ করে আমার কোন লাভ নেই। যখন একজন মানুষ ভুল বুঝবে তখন তার সাথে রাগ করলে তা শেষ পর্যন্ত ঘৃণায় গিয়ে গড়ায়। কিন্তু আপনাকে আমি কোন দুঃখে ঘৃণা করবো?

          যেখানে আপনি আর আমি সেইম জিনিসটাই প্রচার করার ট্রাই করছি?

           

          যাই হোক আমি এটাও রিয়েলাইজ করেছি যে মানবতার সংজ্ঞা একেক জায়গায় একেক রকমের।

          এই কারনেই আমার সলিউসন ছিল -- 

          মনে রাখবে মানবতা বলে কিছুরই অস্তিত্ব নেই কারন এটি মানব সৃষ্ট একটি শব্দ যার অর্থ ও প্রয়োগ স্থান এবং সময়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়।

          এরপরে আপনি আমাকে কমেন্ট করে দিলেন  -- 

           মানবতা বলে যদি কিছুরই অস্তিত্ব না থাকে, তাহলে তো মানুষেরই অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। এটি মানব সৃষ্ট একটি শব্দ হলেও  মানবতা বলতে তো সেই সব গুণাবলী/ বৈশিষ্ট্যকেই বোঝায় যেগুলো না থাকলে একজন মানুষ আর মানুষ থাকতে পারেনা। যেমন প্রেম, সমবেদনা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ইত্যাদি। যা মানুষকে রোবট, এলিয়ন কিংবা পিশাচদের থেকে আলাদা কোরে তোলে। সুতরাং মানবতাহীন ব্যক্তি অসাধারণ কিংবা সাধারণ যেমনই হোক না কেন, মানুষ হতে পারেনা।

          ফানি ব্যাপার হল যে আমি নিজেও মানুষকে জন্তু জানোয়ার থেকে আলাদা হিসেবে তুলে ধরেছি কিন্তু এই ব্যাপারটা না দেখে ঢালাওভাবে আমার সম্পর্কে আপনি মন্তব্য করে যাচ্ছেন। একটু দুঃখই পেয়েছি একজন মানুষ আরেকজনকে কিভাবে জাজ করে সেটা দেখে। 🙁 

          যাই হোক কিন্তু আসল কথা হল যে মানবতাকে কোনভাবেই আমরা ভালো খারাপের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরতে পারবো না। আপনি যেভাবে কম্পেসনকে সংজ্ঞায়িত করছেন অন্য কেউ আপনার মত সংজ্ঞা নাও দিতে পারে। এবং অতীতে যেই সংজ্ঞাটা দিয়ে থাকুক সে সর্বজান্তা না যে তার এই সংজ্ঞা সঠিক হবে। 

          একজন মানুষ হয়তো চিন্তা করবে অন্য মানুষের উপকার করবো আমি। কিন্তু আরেকজন চিন্তা করবে যে আমি শুধু আমার পরিচিত মানুষের উপকার করবো এবং এতে করে যদি অপরিচিত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমার কোন সমস্যা নেই। আরেকজন মানুষ হয়তো সেইম চিন্তা করবে শুধুমাত্র তার ফ্যামিলিকে কেন্দ্র করে। আবার আরেকজন চিন্তা করবে যে তার নিজের উপকার হল মূল কথা। অন্য কার কি হল তাতে কিছু আসে যায় না।  এরা প্রত্যেকেই কিন্তু মানুষ। এবং আমি আপনার কথা সাথে একমত যে মানুষ রোবট না। আর রোবট না বলেই সে কখনও গণ্ডির ভিতরে থাকে না। আর গণ্ডির ভিতরে থাকে না বলেই এত মানুষের এত মত দেখা যায়।

           

          এই ব্যাপারগুলো আমি চাচ্ছিলাম যে ইউথরা যেন চিন্তা ভাবনা করে এর করে।

          এজন্য আপনার প্রথম কমেন্ট এর জবাবে আমি কুরআনের আয়াতও দিয়েছিলাম -- 

          নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে
          — নাহল ১৬ঃ১২

          কিন্তু আমি ব্যার্থ হয়েছি বোঝা যাচ্ছে। 

          আমার মানবতার অস্তিত্ব নেই মানে তাহলে কি?

          এখনও বুঝতে পারেননি?

          তাহলে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

          মানবতাকে কখনই সমগ্র মানব জাতি ভালো খারাপের সীমানা নির্ধারণের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরতে পারবে না।

          কেন পারবে না?

          কারন মানবতা এমন একটা জিনিস যা একেক জায়গায় একেক রকমের। অনেক সময় মানুষ নিজের সুবিধার জন্য একে নিজের মত করে পরিবর্তন করে দেয়। আমাদের দুই গ্লোরিয়াস বিশ্বযুদ্ধ এর সবচেয়ে বড় দুটি প্রমান। 

          অর্থাৎ মানবতার এখানে অস্তিত্ব নেই। মানে আপনি ভালো খারাপের সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একে অস্তিত্বহীন নির্ধারণ করে কাজ করবেন। এটা যে সবাই করছে সেটা না। এটা আমার পার্সোনাল অপিনিওন।

          কেন আমি তাহলে এই অপিনিওন দিলাম?

          একটা উদাহরন দিয়ে বুঝাই।

          পশ্চিমা মানবতা পর্ণগ্রাফি নিয়ে কিছু বলে না। তারা ধর্ষণের শাস্তি থেকে কপিরাইটের আইন লঙ্ঘনের শাস্তিকে বড় করে দেখে।

          আপনি হয়তো এক্ষেত্রে বলবেন -- 

          যেই আইনে ধর্ষণের শাস্তি পাথর নিক্ষেপ শুধু নয়, বরং পাথর নিক্ষেপ করে ধর্ষককে মেরে ফেলা। হাঁ, এই আইন যে সমাজের জনগণের মাঝে প্রতিষ্ঠিত থাকবে, সেখানে এরূপ শাস্তিই দিতে হবে।

          কিন্তু যদি আমরা সমগ্র মানব জাতির কথা চিন্তা না করে শুধুমাত্র গোষ্ঠীর কথা হিসাব করি তাহলে কিভাবে হবে। 

          আমি গোঁড়া ধার্মিক না।

          ইনফ্যাক্ট আমি ঠিকমতো নামাজও পড়ি না। কিন্তু আমি জানি কোনটা সঠিক কোনটা ভুল।

          কিভাবে জানি?

          সোজা কোথায় ইসলাম হল আমার স্ট্যান্ডার্ড। এছাড়া আর কি স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরতে পারি আমরা?

          ইসলাম হল সেই নিয়ম কানুনের সেট যেটা আল্লাহ্‌ তাআলা সমগ্র মানব জাতির জন্য প্রেরন করেছেন।

          তাহলে আমরা একে বাদ দিয়ে অন্য কোন জিনিসটাকে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরতে পারি?

          গৌতম বুদ্ধ তো অনেক জ্ঞানী ছিলেন। তার কথাকে স্ট্যান্ডার্ড হিসাবে ধরব?

          তাহলে তো ইসলাম বিরোধী বেশ কিছু কাজ করতে হবে।

          তাহলে কি কিছু কথা ফলো করবো আর কিছু করবো না?

          সেটা কিভাবে হয়?

          এর মানে তো হল যে আমি আমার সুবিধামত তার কথাকে ব্যাবহার করছি। যা আমার পছন্দ তা পালন করছি আর যা পছন্দ না তা পালন করছি না।

          কিন্তু ইসলামের নিয়ম কানুনে এরকম কোন সুযোগ নেই। আপনাকে মানতে হলে পুরাটাই মানতে হবে। খারাপ কাজ করতে গেলে এটা যেনেই করতে হবে যে আপনি খারাপ কাজ করছেন। যেমন আমি নামাজ নিয়মিত পড়ি না। আমি একে জাস্টিফাই করছি না। আমি বলছি যে আমি খারাপ কাজ করছি কিন্তু ভবিষ্যতে আশা কছি রেগুলার হতে পারবো।

           

          কিন্তু আপনি একবার জাস্ট ধর্মহীন একটা সমাজের কথা কল্পনা করুন। কোন সৃষ্টিকর্তা নেই আমাদের কাজ কর্ম রেগুলেট করার। কারো ভিতরে কোন পাপবোধের ভয় নেই। সবাই জানে যে মৃত্যুর পরের আর কোন জীবন নেই।

          তার মানে কি?

          তার মানে হল যে কেউ যা খুসি তাই করতে পারবে। কারন অন্য কে কি বলল তাতে কার কি আসে যায়। মূল ব্যাপারটা হল শেষ পর্যন্ত একটু ভালভাবে বেঁচে থাকা। মানবতা তাহলে এখানে কি রূপে দাঁড়িয়ে আছে?

          যে ব্যাপারটি হাইলাইট করার জন্য আমি আমার পোস্টে বলেছিলাম -- 

          তাদের জীবনের লক্ষ বা উদ্দেশ্যটা কি?

          ভালো চাকরি করা, ভালো টাকা পয়সা কামানো এবং…..

          আর কি?

           

           যেকোনো সমাজ বিজ্ঞানীরা একবাক্য দিয়ে স্বীকার করেন যে ধর্মের কারনেই আমাদের সমাজ গড়ে উঠতে পেরেছে। 

           

          আমি আসলে কথা খুব বেশি আর বাড়াতে চাচ্ছি না।

          আপনি শেষে দিয়ে আপনার রিসেন্ট কমেন্টে বলেছিলেন যে -- 

          আমি বিশ্বাস করি যে, ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকেও মানব সমাজের মাঝে ‘মানবতা’ ইনভ্যালিড নয়।

          কথাটি আসলে ভুল। ইসলাম মানবতাকে সাপোর্ট করে না। বা ইসলাম মানবতার শিক্ষাও দেয় না। স্বয়ং ইসলাম নিজেই সমগ্র মানব জাতির জন্য আল্লাহ্‌ প্রদত্ত এক ও একমাত্র স্ট্যান্ডার্ড মানবতা। যদি আপনি আল্লাহ্‌ ও কুরআনে বিশ্বাস করেন তাহলে আপনি অবশ্যই বিশ্বাস করতে বাধ্য থাকবেন যে কুরআন সমগ্র মানব জাতির জন্য একমাত্র পূর্ণ দ্বীন প্রেরন করা হয়েছে। তার মানে হল যে অবশ্যই সমগ্র মানব জাতির আচার আচরনের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে থাকবে ইসলাম।
          আমি কিন্তু এখানে মানুষের অভ্যন্তরের ভালো গুনগুলোর অস্তিত্বকে অস্বীকার করছি না। কিন্তু অস্বীকার করছি মানুষের হাতে মানুষের আচরন জাস্টিফাই করাকে। মানুষের মধ্যে ভালো গুন যেমন আছে তেমনি খারাপ গুনও আছে। তারা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে। কিন্ত অনেকেই ভালো খারাপের পার্থক্যকরন করতে পারে না। বিশেষ করে কিছু কিছু জায়গায় ভালো খারাপের পার্থক্যকরন করা মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। সুতরাং মানুষের আচরণকে গাইড করার জন্য অবশ্যই কোন একটা স্ট্যান্ডার্ড লাগবে এবং ওই স্ট্যান্ডার্ডই আসল মানবতা।
           

          একটা ছোট উদাহরন দিয়ে আমাদের আলোচনা শেষ করতে পারি।

          আমাদের ধর্মহীন পৃথিবীতে একটু ফেরত আসি। ধরা যাক আমাদের মধ্যে কোন ধর্মের জ্ঞান নেই।

          একজন খুনি ও ধর্ষক।

          তাকে আপনি শাস্তি দেবার দায়িত্ব পেলেন।

          আপনি শাস্তির চিন্তা করবেন একভাবে।

          আমি পেলে আমি করবো আরেকভাবে।

          হিটলার পেলে অন্য একভাবে করবে।

          গৌতম বুদ্ধ আর মহাত্মা গান্ধী দায়িত্ব পেলে হয়তো ক্ষমাই করে দিবেন।

          কিন্তু কার সিদ্ধান্ত সঠিক?

          আমাদের কারোই না!

          তাহলে কার?

          কার আবার? মহান আল্লাহ তাআলার। 🙂

           

          আরেকটা কথা শেষ করার আগে। 

          তবে আমার এ মন্তব্যটা যে আপনার জবাব রেডি নো হওয়া পর্যন্ত অর্ধ  প্রকাশিত অবস্থায় ঝুলে থাকবে, তা আমি জানি।

          দুঃখের বিষয়  হল যে আমার নিজের প্রত্যেকটা কমেন্টও এরকম অর্ধ প্রকাশিত অবস্থায় ঝুলে থাকছে! 😛
          আমার এই পোষ্ট ব্লগে প্রকাশ পেতে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় নিয়েছে।

          সদালাপের সিস্টেমে বেশ ভালো পরিমানে বাগ আছে সেটা আমি আগে থেকেই টের পেইয়েছিলাম কিন্তু সেটা মনে হয় একটু পরিবর্তিত হয়েছে বা বৃদ্ধি পেয়েছে। খুব সম্ভবত টানা ২ বছর ব্লগে ইন একটিভ থাকার কারনে আমার একাউন্টে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। কমেন্ট ঝুলে থাকবে কি না সেটার উপরে আমার নিজের কোন হাতই নেই! 😛 

          আপনাকে ধন্যবাদ

          আশা করছি এবার বুঝতে পেরেছেন আমার বক্তব্য এবং দৃষ্টিভঙ্গী এবং আমরা আবার মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই হয়ে যাবো ^_^ 

          এর থেকে ভালভাবে মনে হয় না আমি আর কখনও বোঝাতে পারবো। তারপরেও যদি আপনি না বোঝেন…..
          .
          .
          .
          .
          .
          …..তাহলে মনে রাখবেন নানা মানুষের নানা মত এবং তাদের বিভিন্ন বিষয় দেখার ভঙ্গিও নানা ধরনের হয় যার কারনে কোন বিষয় সম্পর্কে তাদের ব্যাখ্যাও ভিন্ন ভিন্ন ধরনের হয়।
          সো আমার কথার ভিন্ন ব্যাখ্যা আপনি পেতেই পারেন নো প্রব্লেম। 🙂

  5. 1
    মাহফুজ

    ভাল লাগলো।

    তবে নিচের বক্তব্যটার সাথে একমত হতে পারলাম না-

    //মনে রাখবে মানবতা বলে কিছুরই অস্তিত্ব নেই, কারন এটি মানব সৃষ্ট একটি শব্দ যার অর্থ ও প্রয়োগ স্থান এবং সময়ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়।//

    মানবতা বলে যদি কিছুরই অস্তিত্ব না থাকে, তাহলে তো মানুষেরই অস্তিত্ব থাকার কথা নয়। এটি মানব সৃষ্ট একটি শব্দ হলেও  মানবতা বলতে তো সেই সব গুণাবলী/ বৈশিষ্ট্যকেই বোঝায় যেগুলো না থাকলে একজন মানুষ আর মানুষ থাকতে পারেনা। যেমন প্রেম, সমবেদনা, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ইত্যাদি। যা মানুষকে রোবট, এলিয়ন কিংবা পিশাচদের থেকে আলাদা কোরে তোলে। সুতরাং মানবতাহীন ব্যক্তি অসাধারণ কিংবা সাধারণ যেমনই হোক না কেন, মানুষ হতে পারেনা।

    ধন্যবাদ ও শুভকামনা-

    1. 1.1
      পাভেল আহমেদ

      মানবতা বলে কিছুই নেই কারন মানবতার সকল প্রোপার্টি মানুষের নির্ধারণ করা  
        এবং একেকজনের কাছে তা একেক রকমের। মানবতা শব্দটি দ্বারা আমরা কোনভাবেই ভালো খারাপ নির্ধারণ করতে পারবো না। কারন একজনের কাছে যা খারাপ আরেকজনের কাছে আবার তাই ভালো। একমাত্র মানব গোষ্ঠীর থেকে বাহিরে কেউ অর্থাৎ একজন থার্ড পার্টি অবজারভার যে কিনা সমগ্র মানব জাতিকে একত্রে অবজারভ করতে পারেন এরকম কারো পক্ষেই সম্ভব ভালো খারাপের নির্ধারণ করে দেওয়া। 
      একমাত্র ইসলামের আলোকেই এই ব্যাপারটা সম্ভব এবং এখানে মানবতা নামক ফেইক এই ওয়ার্ডটির কোন ভূমিকাই নেই। 
      ধন্যবাদ! 

      নিশ্চয়ই এতে জ্ঞানীদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে
      -- নাহল ১৬ঃ১২

      1. 1.1.1
        মাহফুজ

        মি. পাভেল আহমেদ,

        আপনার দৃষ্টিতে মানব রচিত মানবতার প্রোপার্টিগুলো কি কি?

        ইসলামের দৃষ্টিতে ‘মানবতা’ ফেইক ওয়ার্ড হতে যাবে কেন? ইসলামে কি প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষা দেয়া হয়না?

        ইসলামের মৌল গ্রন্থ আল-কোরআনে মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য যে নির্দেশনা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে তাতে কি মানবতার প্রোপার্টিগুলো নেই?

        মানবতা বিরোধী অপরাধ ও অনৈতিক কর্মের জন্য কি স্রষ্টার বেধে দেয়া মানদন্ডের আলোকে ইহকালে বিচারের মাধ্যমে যথোপযুক্ত সাজা দেয়ার কোন নির্দেশনাই নেই?

        জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কি মানুষকে অবজার্ভ করা হচ্ছেনা?

        একালে মানুষেরা তাদের নিজ নিজ অবস্থা ও যোগ্যতা অনুসারে কে কিরূপ বিশ্বাস ও কর্ম করল এবং দোষ-গুন, পাপ-পূণ্য অর্জন করল তার উপর ভিত্তি করেই কি স্রষ্টা পরকালে চূড়ান্ত ফায়সালা দান করবেন না?

        একালে কোন ধরনের মানবতা বিরোধী অপরাধ করার পরও মুসলিমের ঘরে কেবলমাত্র মুসলিম নাম নিয়ে জন্ম নেয়ার কারণে কি সেদিন কেউ পার পাবে? আবার আমল ও আখলাকে সাচ্চা মুসলিমের উপর যারা অন্যায়ভাবে জুলুম করবে তাদেরকেও কি ছেড়ে দেয়া হবে?

        প্রকৃত ইসলাম কখনই রোবট, এলিয়ন, পিশাচ কিংবা মানবতা বিরোধী হওয়ার শিক্ষা দেয়না, বরং স্রষ্টা পেরিত জীবন বিধানে মানুষকে মানবিক গুনাবলী (যেমন- মায়া, মমতা, ভালবাসা, দয়া, দানশীলতা, নম্রতা, ভদ্রতা, ধৈর্য, ত্যাগ, শিষ্টাচার, নৈতকতা, পরোপকারিতা, সত্যবাদীতা ইত্যাদি) গঠনের শিক্ষাই দেয়া হয় এবং সর্বক্ষণ অবজার্ভও করা হয়।

         

         

        1. 1.1.1.1
          পাভেল আহমেদ

          দেখেছেন সাধারন একটা ওয়ার্ড এর ডিস্কাসনে আমরা একমত হতে পারছি না। আমার উল্লেখ করা মূল ব্যাপারটা আপনি ধরতে পারেননি। এর কারন হল আমরা দুজন দুই ধরনের দৃষ্টি ভঙ্গি দিয়ে দেখছি। 

          আপনি দেখছেন মানবটা নামক এই শব্দটাকে মানুষের বেসিক প্রবৃত্তি হিসাবে ধরে কথা বলছেন আর আমি একে দেখছি একটা ওয়ার্ড প্লে হিসাবে।

          ইসলাম কি শিক্ষা দেয় এবং কি দেয় না সেটা সম্পর্কে আমি ভালমতোই অবগত আছি এবং আমার কোন লেখাতে এর বিপক্ষে কোন কথা দেখা যাবে না।  

          ইসলামের মৌল গ্রন্থ আল-কোরআনে মানুষের জীবন পরিচালনার জন্য যে নির্দেশনা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে তাতে কি মানবতার প্রোপার্টিগুলো নেই?

           যদি আপনি মানবতাকে একজন ভালো মানুষের বেসিক প্রোপার্টি হিসাবে ধরেন তাহলে আছে।

          কিন্তু একজন ভালো মানুষের সংজ্ঞা কি?

          মানুষেরা ভালো একজন মানুষের যে সংজ্ঞা দেয় সেটাই কি ভালো মানুষ?

          আদর্শ মানুষ কি জিনিস?

          আমরা বাংলাদেশে ভালো ও আদর্শ মানুষ বলতে যে জিনিস বুঝি আমেরিকাতেও কি একই জিনিস বুঝে?

          সেইম কি ইসরাইলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?

          একজন সিরিয়াল কিলারের দৃষ্টিকোন থেকে আদর্শ মানুষের সংজ্ঞা কি হতে পারে?

          একজন ধর্ষক একে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবে?

          আমরা মানুষেরা এই আদর্শ ভালো মানুষের সংজ্ঞা নির্ধারণ করার কে?

          একজন একে একভাবে সংজ্ঞায়িত করছে আরেকজন আরেকভাবে।  ঠিক যেমন আমরা এখানে কমেন্ট যুদ্ধ করছি।

          তাহলে সঠিক কে এখানে?

          ভালো খারাপ নির্ধারণ করার অধিকার কি মানুষের নাকি মহান আল্লাহ্‌ তাআলার?

          যখন পশ্চিমারা এবং সুশীল সমাজের মানুষেরা বলে যে ইসলামের রীতিনীতি মানবতা বিরোধী তখন কি এই প্রশ্ন মনে আসে না যে মানবতা নামক জিনিসটা কি এবং এর অস্তিত্বই বা কোথায়?

          মানুষ যখন মানবতার খাতির বা মানবতার জন্য এই ধরনের শব্দ ব্যাবহার করে তখন তা যে কত বড় একটা ইলুসন সেটা তারা ধরতে পারে না। কারন শব্দটির সঠিক কোন অর্থই নেই। এখন অবশ্য আপনি যদি বলেন যে ইসলামের নিয়ম অনুসারে ভালো কাজ করা এবং আমল করা মানবতা তাহলে অবশ্য আলাদা কথা। কারন মহান আল্লাহ্‌ তাআলা যিনি কিনা আমাদের সৃষ্টি কর্তা এবং পালন কর্তা তিনি স্বয়ং আমাদের কাজের সীমানা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। অতএব তা মানতে আমাদের কারও কোন সমস্যা থাকতে পারার কথা না।

          কিন্তু আমরা নিজেরা যখন ইসলাম এবং কুরআনকে ধর্তব্যের মধ্যে না এনে মানবতার খাতিরে কিছু একটা করি সেটা সবসময় ইসলাম অনুসারে সঠিক নাও হতে পারে। 

          আশা করি আমার বক্তব্য ধরতে পেরেছেন।

          ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.