«

»

Jan ২৩

হুমায়ুন আজাদ: মেয়ে মৌলি আজাদের চোখে (১ম পর্ব)

এই লেখাটার সূত্রপাত ২০১২ সালের শুরুর দিকে। তবে মাঝ পথে গিয়ে থেমে গিয়েছিল। এখন আবার শুরু করলাম। ড. হুমায়ুন আজাদ ছিল স্বঘোষিত নাস্তিক। এটা প্রমাণের কিছু নাই। হুমায়ুন আজাদের উপর লেখার ইচ্ছে আমার এখন ছিল না। কিন্তু হুমায়ুন আজাদের ছেলে 'অনন্য আজাদ' নবীজি (সাঃ)-কে নিয়ে খুব নোংরা একটি পোস্ট দিলে আমার খুব মেজাজ খারাপ হয়। তখন ভাবলাম- এর একটি জবাব দেয়া দরকার, তখনই এই লেখাটির উদ্যোগ নিই।

 

হুমায়ুন আজাদের শৈশব:

 

আমি তার কন্যা মৌলি আজদের লিখা বই থেকে তুলে দিচ্ছি-

 

“(হুমায়ুন আজাদ). . . জন্মেছিলেন প্রচন্ড বৈশাখে, ১৩৫৪ সালের ১৪ বৈশাখ, ১৯৪৭ সালের ১৮ এপ্রিল। . . .জন্ম তার নানার বাড়ি গাছপালা ঢাকা গ্রাম কামারগাঁয়ে। . . .ছিলেন তার সব ভাইবোনের মধ্যে বড়। জন্ম তার কামারগায়ে হলেও বেড়ে উঠেছিলেন মূলত রাড়িখাল গ্রামে।” (পৃষ্ঠা-১১)

 

আরো জানা যায় যে, হুমায়ুন আজাদ ১৫ বছর ছিল রাড়িখাল গ্রামে, আর ৪০ বছর ঢাকায়। (পৃষ্ঠা-১২)

 

হুমায়ুন আজাদের নাস্তিকতার সূত্রপাত:

“সেই রাড়িখালের প্রাথমিক বিদ্যালয়েই যে তিনি পেয়েছিলেন তার জীবনের মৌলিক জ্ঞান এবং সেই স্কুলের বিষ্ণুপদ স্যার ও হোসের মাস্টার যে তার জীবনের সব প্রথা ভাঙতে সাহায্য করেছিলেন।” (পৃষ্ঠা-১২)

 

গান্ধা আর ধূমপায়ী হুমায়ুন আজাদ:

“তিনি ঘুম থেকে উঠতেন ছয়টা-আটটার মধ্যে।. . . মুখ হাত ধোবার আগেই তিনি খেতেন চা আর মুড়ি (ছিঃ ছিঃ ওয়াক থ্যু)। সেই সাথে দেখতেন বিবিসি সিএনএন চ্যানেল। হাতে থাকত একাধিক দৈনিক পত্রিকা। সেই সাথে সিগারেট চলতো ধুমসে।” (পৃষ্ঠা-১২-১৩)

 

অসামাজিক এবং ঠোঁটকাটা হুমায়ুন আজাদ:

“. . . প্রয়োজন না থাকলে পারিবারিক কোনো অনুষ্ঠানে তেমন অংশ নিতেন না। মাঝে মধ্যে তার ঠোঁটকাটা কথাবার্তার জন্য আমরা পরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিব্রত হতাম।” (পৃষ্ঠা-১৪)

 

“আমাদের বাসায় ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এক গাদা রাষ্ট্রীয় নিমন্ত্রণ এসে হাজির হতো। চারপাশের সবাইকে তেখতাম সেসব অনুষ্ঠানে যাবার জন্য ব্যকুলতা। কিন্তু বাবা হাসতেন। তার নাকি ঐসব অনুষ্ঠানে গিয়ে এর-ওর হাত ধরাধরি খুব বাজে লাগত। তাই তিনি সেসব অনুষ্ঠানে যেতেন না।” (পৃষ্ঠা-১৭)

 

হুমায়ুন আজাদ কেন কাউকে তোয়াক্কা করত না:

“. . .কাউকে তোয়াক্কা করতেন না…। মাঝে মধ্যে তাকে বলতাম, ‘তুমি এমন কেন, সবার মুখের উপর ঠাসঠাস করে কথা বল? তিনি বলতেন, ‘এসব বলতে সাহস লাগে, আমার কারো কাছে কোন চাওয়া নেই, আমি যা হব/করব তা নিজেই করব তাই কাউকে তোয়াক্কা করি না।’" (পৃষ্ঠা-১৬)

 

হুমায়ুন আজাদের ধর্মীয় আচার:

“তার ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ না থাকলেও তিনি আমাদের খুশি রাখার জন্য প্রতিবার কোরবানীর আগের দিন বাসার সামনের রাস্তা থেকে দুইটা সুন্দর ছাগল কিনে আনতেন, বেঁধে রাখতেন বারান্দায়। আমার ছোট দুই ভাইবোন ব্যস্ত থাকতো ছাগলগুলোকে নিয়ে।” (পৃষ্ঠা-১৮)

 

[অর্থাৎ সন্তানের জন্য হলেও সে ধর্মীয় আচারকে কিছুটা হলেও ধারণ করেছিল/প্রশ্রয় দিয়েছিল! অন্যদিকে তার বইয়ে ছিল সকল ধর্মের/সংস্কার/প্রথার প্রতি চরম বিদ্বেষ এবং বিরোধীতা। এটাকে কী বলা যেতে পারে প্রিয় পাঠক?]

 

হুমায়ুন আজাদের প্রেম এবং বিয়ে:

“১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে এম.এ. ক্লাশে পড়ার সময় আমার মা বাবার প্রথম পরিচয় হয়।. . .মাকে পাবার জন্য বাবা ছিলেন এককথায় নাছোড়বান্দা। মা প্রথম প্রথম রাগ করলেও ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায়। . . .শুনেছি মা’র পরিবার প্রথমদিকে বাবাকে খুব বেশি পছন্দ করেনি কিন্তু যখন তারা দেখেছে বাবা মা’র প্রতি একনিষ্ঠ তখন নানা সম্মতি দিয়েছিলেন এবং তার জন্য বাবাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে দীর্ঘ ৭বছর।”

 

“তাদের যে বিয়ে হয়েছে তাও অনেকটা প্রচলিত প্রথার বাইরে গিয়েই। ১৯৭৫-এর ১২ অক্টোবর মা ও বাবার দুই পরিবারের সম্মতিতে টেলিফোনের মাধ্যমে বিয়ে হয়।. . .বাবা বিয়ের দিন ছিলেন স্কটল্যান্ডে আর মা ঢাকায়।” (পৃষ্ঠা-১৯)

 

[পাঠক! আমি যদ্দুর জানি, ইসলাম মতে, এই ভাবে টেলিফোনে বিবাহ জায়েয নয়। কারণ এতে করে নারী’র উপর নেমে আসতে পারে দারুণ দুর্ভোগ। কয়েকদিন আগে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে আমার পরিচিতের মধ্যে, পরে জানা গেল ছেলেটি ছিল সন্ত্রাসী এবং তার কিছুদিন পরেই তাকে বিদেশেই হত্যা করা হয়। সংসার করার আগেই মেয়েটি হলো বিধবা!]

 

হুমায়ুন আজাদ-এর সাহিত্য নিয়ে তার মেয়ের মূল্যায়নঃ মেয়ের বিরক্তি ও বাবার ক্ষেদোক্তি

“সত্যি বলতে কি বাবার কিশোর সাহিত্য ও কবিতাগুলো আমাকে টানলেও তাঁর উপন্যাসগুলো আমাকে তেমন টানেনি। মনে হত, সংসার সমাজ এগুলোকে তিনি বড় বেশি ভঙুর করে দেখাতে চেয়েছিলেন।”

 

মৌলি আজাদ তার বাবার লেখায় সেক্স-এর প্রাধান্য নিয়ে বলেন-

“আর মাত্রাতিরিক্ত সেক্সের প্রাধ্যান্য থাকত তার উপন্যাসে। তাই মাঝে মধ্যে বিরক্তই হতাম।”

 

বাবার লেখার মূল্যায়ন নিয়ে মৌলি আজাদের সাথে হুমায়ুন আজাদের তর্ক শুনুন-

“একটি উপন্যাস নিয়ে বাবার সাথে আমার একবার তর্ক হয়েছিল। উপন্যাসটির নাম- ‘১০০০০ ও আরো একটি ধর্ষণ’। বাবা সেখানে দেখায় ধর্ষিতা মেয়েটি তার সন্তানকে বটি দিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলে। বাবাকে বলেছিলাম, ‘এত নিষ্ঠুরতা না দেখালেও পারতে।’ বাবা বলেছিল, ‘তুই লিখলে কি করতি।’ বললাম, ‘নিজের সন্তানকে মারতে পারতাম না। তিনি বললেন, ‘তোরা অতি মাত্রায় প্রথাগত।’” (পৃষ্ঠা-২৭)

 

[চলবে- ইনশাআল্লাহ্]

 

[তথ্যসূত্র: হুমায়ুন আজাদ আমার বাবা, মৌলি আজাদ, আগামী প্রকাশনী, ফেব্রয়ারী ২০১১]

১৯ comments

Skip to comment form

  1. 10
    মোঃআজিজুল ইসলাম

    নাস্তিকদের নাস্তিকতার সাক্ষী দিয়েছেন নাস্তিকদেরই সুযোগ্য উত্তরসুরি।অসাধারণ হয়েছে…………………

  2. 9
    মৌসুমী আক্তার

    সত্য বলতে লেখকের কোনো কথাই যুক্তিযুকাত লাগেনি।আপনি নিজেই জানেন যে হুমায়ন আজাদ নাস্তিক ছিলেন।অথচ আপনি তার বিয়েতে বৈধতা টানছেন।অর্থাৎ আপনার মতে, পৃথিবীতে ইসলাম ছাড়া সব ধর্মাবলম্বীরা অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত।আপনি বললেন যে নাস্তিক কুরবানী দেয় কি করে।ভাই তিনি শাকাহারী ছিলেন না এটি মাথায় রাখুন।আপনার যুক্তিগুলো খোড়া ল্যাংড়া।এদের হাঁড়ের চিকিৎসা করুন।

    1. 9.1
      এম_আহমদ

      সত্য বলতে লেখকের কোনো কথাই যুক্তিযুকাত লাগেনি।আপনি নিজেই জানেন যে হুমায়ন আজাদ নাস্তিক ছিলেন।অথচ আপনি তার বিয়েতে বৈধতা টানছেন।অর্থাৎ আপনার মতে, পৃথিবীতে ইসলাম ছাড়া সব ধর্মাবলম্বীরা অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত।

      উলটো কাজটি তো আপনিই করলেন। আপনার হাঁড়ের চিকিৎসা কি করিয়ে এসেছেন? লেখক যদি হুমায়ূন নাস্তিকের বিবাহ বৈধতা নিয়ে ‘ইসলামী দৃষ্টিতে’  সন্দেহ করে থাকেন, তাহলে এই কথাটি কীভাবে হিন্দু, খৃষ্টিয়ান, ইয়াহুদী তথা বিশ্বের সব ধর্মাবলম্বীর বিবাহকে অবৈধ করে? এই হেঁচকা টান তো আপনি দিলেন।

    2. 9.2
      আহমেদ শরীফ

      ভীষণ মজা পেলাম কমেন্ট পড়ে !

      হুমায়ুন শাকাহারী অবশ্যই ছিলেন না কিন্তু শুধু প্রচুর মাংস খাওয়ার জন্যই বছর বছর আস্ত আস্ত গরু জবাই করে গেছেন _ এত বড় আমিষভোজী তিনি ছিলেন জেনে চমৎকৃত হলাম। কুরবানি দেয়া হয় ধর্মীয় কারণে না হলে আস্ত গরু চরম ধার্মিকও সাধারণতঃ সারা বছরে জবাই করেন না কারণ গরুর মাংস বাংলাদেশে সারাবছর সবসময় সবখানে পাওয়া যায়। ধর্মীয় কারণে কুরবানি দিতেন না হুমায়ুন _ কিন্তু যেহেতু শাকাহারী ছিলেন না তাই মাংস খাওয়ার জন্য এত বড় আস্ত গরু জবাই করতেন কুরবানির মওকায় _ আবারও চমৎকৃত হলাম। হুমায়ুনের এই দিকটা অজানা ছিল। যদিও কৌতূহল হচ্ছে আপনি কিভাবে এটা জানলেন সেটা ভেবে। ওনার সাথে একান্ত পারিবারিক-আত্মীয়তার সম্পর্ক না থাকলে জানার কথা নয়। যদি তাই হয় সেক্ষেত্রে হুমায়ুনচরিত সম্পর্কে আরো কিছু আলোকপাত করলে ভাল হয় কারণ হয়তো আপনার মাধ্যমে নতুন আরো কিছু চমকপ্রদ তথ্যের সন্ধান পেয়ে জাতি ধন্য হতে পারে।

      * ইসলাম ধর্মমতে, ইসলামের নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী, ইসলামের সীমারেখার ভেতরে বিবাহ না হলে ইসলামের দৃষ্টিতে সেই 'বিবাহ' বৈধ নয়, হতে পারে না _ এটা সাধারণ মুসলিমরাও জানে। অর্থাৎ সেটি আইনের বা বিশ্বের দৃষ্টিতে 'বৈধ' হলেও ইসলামের দৃষ্টিতে নাও হতে পারে যদি ইসলামের নিয়মানুযায়ী না হয়। এটুকু আপনারও না জানার কথা নয়।

      ** আরেকটি বিষয় জেনে রাখা ভাল _ ইসলামপূর্ব বিবাহ বা দাম্পত্যকে ইসলামে পুরোপুরি অস্বীকার করা হয় না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে কোন একজন মুসলিম হলে আরেকজন না হলে সাধারণভাবে বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যায়। কিন্তু উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করলে নতুন করে বিবাহ পড়ানোর প্রয়োজন হয় না। পূর্বের বিবাহই বহাল থাকে। অর্থাৎ ইসলামে প্রবেশ করলে পুরনো বৈবাহিক সম্পর্ককে সম্মান ও বৈধতা দেয়া হয়।

      *** ইসলামের বিশ্বাস ও নিয়ম অনুযায়ী আল্লাহ যেহেতু সবকিছুর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, মালিক ও দাতা _ তাঁর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাঁর প্রদত্ত নিয়ামাহ ব্যবহার করাই বিধেয়। যারা তা করবে না তারা চোর। অথবা লুটেরা। অর্থাৎ যাঁর জিনিস ব্যবহার করছে তাঁর সন্তুষ্টি ও অনুমতি না নিয়েই অবাধ্য, অকৃতজ্ঞের মত ব্যবহার করতে চায়। সেক্ষেত্রে স্বভাবতঃই সেটা বৈধ হওয়ার কোন সুযোগ থাকে না। চৌর্যবৃত্তির কোন বৈধতা নেই, সম্মানও নেই। আজ হোক কাল হোক একদিন না একদিন চোরের মতোই পরকালে তো বটেই এই দুনিয়াতেও তারা অপদস্থ হয়, হয়ে এসেছে, হচ্ছে এবং হতে থাকবে।

  3. 8
    সজল আহমেদ (পাঠক)

    হাহাহা লেখাটি সংগ্রহে রাখলাম ।ভবিষ্যতে যারা হুমায়ুন আজাদ কে একজন পরিশুদ্ধ লেখক দাবী করবেন তাদের সামনে ইহা ছুড়িয়া দেয়া হৈবেক ।

  4. 7

    খুব ভাল লিখেছেন। ধন্যবাদ ভাই।

  5. 6
    জামশেদ আহমেদ তানিম

    আপনার দ্বিতীয় লেখার অপেক্ষায় আছি।

  6. 5
    নূর মোহাম্মেদ

    ধন্যবাদ পিয়াল ভাই, অন্তরালের সত্য গুলো প্রকাশ করার জন্য।

    1. 5.1
      সামিউর রহমান পিয়াল

      নূর মোহাম্মেদ ভাই,

      অন্তরালের খবর প্রকাশে আছে কি অন্তরায়

      চুপ করে থাকবো আর কোন নওয়াবের মন্ত্রনায়? 😉

      আপনাকেও ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

  7. 4
    শেহজাদ আমান

    হুমায়ুন আযাদের মত নাস্তিকরা যে নিজেরাই একধরণের উগ্র মউলবাদি , তা নাস্তিকেরা অনুধাবণ করতে ব্যারথ হয়েছে…!

    উগ্র মৌলবাদিদের মত উগ্র নাস্তিকেরাও সভ্যতার জন্য সমান ক্ষতিকর ।

    যাই হোক, আসাধারণ একটি লেখার জন্য লেখককে অসংখ্য ধন্যবাদ!

    1. 4.1
      সামিউর রহমান পিয়াল

      শেহজাদ আমান ভাই, আপনি ঠিক বলেছেন। হুমায়ুন আজাদ নিজেও একজন উগ্র মানুষ ছিল। তিনি তার বিপরীত নৈতিকতা পোষণকারীদের প্রতি চরম উগ্র ছিল। মজার ব্যপার হলো- একই ছাদ্রের নীচে থেকে তার মেয়ে যা অকপটে বলতে পেরেছে, সেই সাহসটাও হুমায়ুন আজাদের সাপোর্টারদের নেই। ‘অন্ধত্ব’ যে শব্দটি তারা ধার্মিকদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে, আজ থেকে তাদের ক্ষেত্রেও কেন প্রয়োগ করা হবে না?

      সময় করে পড়ার জন্য আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ! ভাল থাকবেন। দু’আ করবেন।

      1. 4.1.1
        Shehzad Aman

        @piyal: আপনাকেও ধন্যবাদ!

        আসলে আমাদের সমাজে এরকম উগ্র মানুষের অভাব নেই। কেউ যদি তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করে, তবে এদের মাথা খারাপ হয়ে যায়। শুরু করে দেয় উচ্ছৃঙ্খল আর অশ্লীল আচরণ। বেশ কয়েকটি বাংলা ব্লগে লেখালেখি করতে গিয়ে আমার এদের উগতা আর তীব্র প্রতিক্রিয়াশীলতার মুখমুখি হতে হয়েছে।

        কিন্তু, ভাল লাগে যে এই ব্লগে সেরকম উগ্র আর তীব্র প্রতিক্রিয়াশীল লেখালেখি হয়না দেখে…

  8. 3
    মুনিম সিদ্দিকী

    অবশেষে সদালাপে আপনাকে পেলাম!! স্বাগতম!!!!!

     বাঙ্গালীদের নাস্তিকতা চর্চা নিছক দুঃসাহসিক বা হীনমন্যতাজনিত নয়, বাঙ্গালীদের নাস্তিকতা চর্চার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলামের প্রচার প্রসারকে রুখে দেওয়া। আর এই মিশন শুরু হয়েছিলো বঙ্গভঙ্গ রোধ হবার পর থেকে। অবিভক্ত ভারতে যখন মুসলিমদেরকে কংগ্রেসী রাজনীতির আদর্শে পরিচালিত করা সম্ভব হয়নি। তখন ভারতের তদান্তিন বড় বড় হিন্দু চিন্তাবিদ, রাজনৈতিক নেতারা বহু চেষ্টা প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন যাতে করে মুসলিম ঐক্য সংহত না হতে পারে। কিন্তু তাদের সব চেষ্টা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ভারত ভাগ হয়ে যায়।

    তারা এই ভাগকে মনে প্রাণে মেনে নিতে পারেনি। তাদের মনের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়ে যায় যে যবনরা আমাদের দেশ কেড়ে নিয়েছে! এবং নিজদেশে নিজদেরকে পরবাসী মনে করে বঞ্চিত ভাবনায় তারা নিমজ্জিত হয়ে যায়। তখন তারা বুঝতে পারে, মুসলিমদেরকে তাদের কাছ থেকে আলাদা করে রেখেছে শুধু মাত্র ইসলামী মূল্যবোধ।অতএব এই মূল্যবোধ থেকে মুসলিমদের দূরে সরিয়ে আনতে হবে।

     এই দেশ থেকে আমলা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ, ব্যবসা বাণিজ্য, সেবাখাত ইত্যাদিতে যত হিন্দু কর্মচারী কর্মরত ছিলেন তারা শত ভাগ  ৪৭ এ ভারত ভাগের পরপর, অপশন দিয়ে ভারতে চলে গিয়েছিলো। সে কারণে আমাদের থানা গুলোতে পুলিশ শূন্য হয়ে গিয়েছিলো, আইন শৃংখলা রক্ষা করতে মারাত্বক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিলো। সে সময় নতুন দেশ লাভের জজবায় আমাদের দেশে আইন শৃঙ্খলা তেমন অঘটন ঘটেনি, শুধু পুলিশ বিভাগে নয়, রেল, বাস কলকারখানা ইত্যাদিতে জনবল মারাত্বক ভাবে হ্রাস পেয়েছিলো। ঐ ঘাটতি বিহার থেকে আগত মুসলিমদেরকে দিয়ে কোন ভাবে পরিপূর্ণ করা হয়েছিলো। এমন কি ব্যাংক গুলোতে নগদ ১ পয়সা তারা রেখে যায়নি। তখন সরকারী কর্মচারীদের বেতন প্রদান করতে নতুন সরকারের কাছে কিছু ছিলোনা, সেই দূঃসময়ে ইস্পাহানী শিল্প গোষ্ঠি এগিয়ে আসে, ৩ মাসের বেতন তারা পরিশোধ করেছিলো।,

    কিন্তু এত কিছু শূন্যতা করে তারা এই দেশ ছেড়ে গেলেও রহস্যজনক ভাবে  এই দেশ ছেড়ে কোন হিন্দু শিক্ষক ভারতে যাননি!!! এই হুমায়ূন আজাদের মত হাজার হাজার শিশু কিশোর তরুণদের ব্রেইন ওয়াস করতে তারা থেকে গিয়েছিলেন। এবং এই তরুনদেরকে আকৃষ্ট করে রাখতে তখন কৃষ্টি কালচার চর্চার নামে, যাত্রা, নাটক, নাচ গানের অনুষ্ঠান, মেলা খেলা, বটতলা আমতলা বকুলতলা ধরণের  উৎসব আয়োজন বারো মাসে তেরো পর্বণের মত চলতে থাকে। আর পিপিলিকা যে ভাবে আগুনে ঝাপিয়ে পড়ে সে ভাবেই মুসলিম তরুণ তরুনী ঝাপিয়ে পড়ে ইসলামী মুল্যবোধ থেকে দূরে সরে পড়ার উৎসবে।

     

    1. 3.1
      সামিউর রহমান পিয়াল

      মুনিম ভাই, হ্যা। অবশেষে এলাম। ব্লগ লেখার মতো এতোদিন নিজেকে যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

      আপনি ইতিহাস পছন্দ করেন। তাই আপনার কাছ থেকে বাংলাদেশের নাস্তিকতাবাদ প্রচারের ইতিহাস জেনে ভাল লাগল। এক কথায় অসাধারণ।

       

      ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ-কে অনেক আলেম মেনে নিতে পারেনি। আবার এখনও দেখা যায়, ধর্মীয় ভিত্তিতে দেশ ভাগ হওয়াটাকে বাংলাদেশের বেশকিছু চিন্তাবিদ, বুদ্ধিজীবী, রাজনৈতিক নেতা মেনে নিতে পারেন না। তাদের বক্তব্যে তা সুস্পষ্ট বোঝা যায়। যদিও আমি জাতীয়তাবাদী নই, তবুও তাদের কথা প্রসঙ্গে বলতে চাচ্ছি- তাদের তো এটাও মনে রাখা দরকার যে, যদি দেশ ভাগ না হতো তবে এই দেশও হতো না।

       

      ”ইসলামী মূল্যবোধ” ভেঙ্গে দিলেই যে কাজ হবে, এই চিন্তাটা কিন্তু এখন সারাবিশ্বেই মুসলিমদের বিপরীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই এখন যতোটা না অস্ত্রের যুদ্ধ হচ্ছে, তার থেকে বেশি হচ্ছে- প্রযুক্তি, মিডিয়া, তথ্য প্রভৃতির দ্বারা।

       

      পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়ে থাকে যে তারা পরাজিত হয়ে যাবার আগে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে নতুন দেশটাকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে পঙ্গু করে রেখে যেতে চেয়েছিল। তাহলে কাজটা ১৯৪৭-এও ঘটেছিল। তবে ভিন্নভাবে।ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান কথার জন্য। তবে আমার যদ্দুর ধারনা, তিনি পি.এইচ.ডি. করার সময়ই ‘নারীবাদী’ দৃষ্টিভঙ্গি আমদানী করে নিয়ে এসেছিলেন। ট্রাঙ্ক ভর্তি নারীবাদী বই নিয়ে এসেছিলেন। তাই বিদেশীরা যে সালমান রুশদীর মতো তার ব্রেইনটা আগে ওয়াশ করেনি, সেটাই বা বলি কি করে!

    2. 3.2

      Munim Vai, shundhor kore uposthapon korechen. Allah apnar medha bariye din. Ameen.

       

  9. 2
    জাহিদ

    ভাল লেখা হইছে

    1. 2.1
      সামিউর রহমান পিয়াল

      জাহিদ ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ পড়ার জন্য এবং মন্তব্য করার জন্য। পাশে থাকবেন।

  10. 1
    এস. এম. রায়হান

    সদালাপে স্বাগতম। নামটা বাংলায় লিখলে ভালো দেখায়। পুরো নাম লিখলে আরো ভালো হয়।

    1. 1.1
      সামিউর রহমান পিয়াল

      এস. এম. রায়হান ভাই,

      ধন্যবাদ। নামটা দেখি পরিবর্তন করা যায় কিনা। পুরো নাম অনেক বড়। দেখি কতোটুকু দেওয়া যায়।

Leave a Reply to zahidctg Cancel reply

Your email address will not be published.