«

»

Dec ০৯

হযরত আয়েশা (রা) – ইসলাম প্রচারে তাঁর ভুমিকা ও তাঁর মর্যাদা, পর্ব ২

রাসুল (সা) এর সাথে হযরত আয়েশা (রা) এর সহঅবস্থান দশ বছরের চাইতেও কম। আর এসময়ে তাঁর বয়সও মাত্র নয় থেকে আঠারোর মধ্যে। এত অল্প বয়সের একজন মেয়ের পক্ষে কোরআনের তত্ত্বজ্ঞান কতটুকুই বা উপলব্ধি করা সম্ভব? কিন্তু তিনি আসলে এক ব্যাতিক্রমী পরিপক্কতা ও মেধার অধিকারিনী ছিলেন। আর তাই অল্প বয়স হওয়া সত্তেও তিনি কোরআন, হাদীসের ব্যাক্ষ্যা, ইলমে ফিকাহ ও কিয়াসে অতুলনীয় পারদর্শিতা দেখিয়েছেন।

আল-কোরাআনের তাফসীর-
সহীহ সনদে সাহাবা কেরাম থেকে কোরআনের তাফসীর খুব কমই বর্নিত হয়েছে। যা কিছু বর্নিত হয়েছে তার মধ্যে আয়েশা (রা) তাফসীরমুলক বর্ননা উল্লেখযোগ্য। আর তাই তাফসীরে জালালাইন কিতাবে প্রখ্যাত মুফাস্সির কিরামের যে তালিকা দেয়া হয়েছে, তাতে হযরত আয়েশা (রা) কে তাফসীর কারকদের মধ্যে প্রথম থকে তৃ্তীয় স্থানে রাখা হয়েছে–

grabilla.Hp2880

 

রাসুল (সা) এর বৈবাহিক জীবনে তাঁর অভ্যেস ছিল, যদি কোন আয়াতের অর্থ বোধগোম্য না হত, তবে রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট প্রশ্ন করে যেনে নিতেন।একমাত্র আয়েশা (রা) ছাড়া আর কোন আর কোন স্ত্রীর বিছানায় কোরআন নাযীল হয় নি। তিনি বলেন—সুরা আল বাকারা ও সুরা আন নিসা যখন নাযীল হয় তখন আমি রাসুলুল্লাহ (সা) এর কাছেই ছিলাম। কোরআন কিভাবে , কি তরতীবে নাযীল তার কিছু বর্ণনা তিনি দিয়েছেন।

হযরত আয়েশা(রা) কর্তৃক তাফসিরকৃ্ত আয়াতের বর্ননা দিতে গেলে পোস্টের কলেবর অনেক বড় হয়ে যাবে। তাই শুধুমাত্র তাঁর তাফসিরকৃ্ত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য আয়াতের নাম্বার উল্লেখ করা হল মাত্র—
সুরা আল বাকারা (আয়াত ১৫৮, ২৩৮, ২৮৪) সুরা ইউসুফ (আয়াত ১১০),সুরা আন-নিসা (আয়াত ১২৮) ইত্যাদি। সহীহ বুখারী ও তিরমিজী শরীফের তাফসীর অধ্যায়ে আয়েশা (রা) হতে গৃহীত এইসব আয়াতের তাফসীর বর্নিত আছে।

আল-হাদীসের বর্ণনা—
আগের পোস্টেই বলা হয়েছে যে ,হযরত আয়েশার(রা) বর্নিত হাদীসের সংখ্যা এত বেশী যে, সকল মাহিলা সাহাবী শুধু নন, চার-পাচঁজন পুরুষ সাহাবী ছাড়া আর কেঊই তাঁর সমকক্ষতা দাবী করতে পারেন না। আয়েশা (রা) যেহেতু রাসুল (সা) থেকে সরাসরি হাদীস বর্ননা করেছেন , তাই তাঁর হাদীসগুলোকে বিশারদগন সর্বাধিক বিশুদ্ধ বলে অভিমত দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে হাদীস সমুহের যে ব্যাক্ষ্যা দিয়েছেন সেগুলোই পরবর্তিতে ফকিহ ও মুজতাহীদদের মুলনীতিতে পরিণত হয়েছে।
মুহাদ্দিসে কিরাম হাদীস বর্ননার দিক দিয়ে সাহাবা-কিরামেকে পাচঁটি স্তরে ভাগ করেছেন এবং প্রায় প্রতিটি স্তরে পুরুষ সাহাবাদের সাথে মহিলা সাহাবারাও আছেন। প্রথম স্তরঃ যে সকল সাহাবী (রা) এর বর্নিত হাদীসের সংখ্যা এক হাজার বা তার উর্ধে । হযরত আয়েশা (রা) এই প্রথম স্তরের অন্তর্গত সাহাবাদের একজন।
হজ্জের মূলনীতি
বিদায় হজ্জে প্রায় এক লাখ মুসলমান অংশ গ্রহন করেন। বিদায় হজ্জের সফরে আয়েশা (রা) উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু নারী পকৃতির বিশেষ অবস্থার কারনে হজ্জের কিছু আহকাম পালনে অপারগ হয়ে পড়েন।
এই আয়েশা (রা) এর হাদীস থেকেই হজ্জের অতি জরুরী কিছু মুলনীতি গৃহীত হয়েছে, যেমন—
১/ যে ব্যক্তি হজ্জের সাথে উমরার নিয়্যাত করবে তার জন্য একটি তাওয়াফ ও সাঈ করলে হয়ে যাবে।
২/ উমরা এক বছরে ও এক মাসে দুইবার আদায় করা যায়।
৩/মক্কার বাইরের লোকেরা মক্কা থেকেই ইহরাম বেধে উমরা আদায় করতে পারবেন।
৪/ নারীরা বিশেষ অবস্থায় শুধু কা’বার তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের অন্যসব কাজ আদায় করতে পারবেন।
৫/ নারীদের বিষেশ অবস্থা দেখা দিলে হজ্জের পর উমরার নিয়্যাত করা যায়েজ।
—— ইত্যাদি ইত্যাদি। কাজেই দেখা যাচ্ছে হজ্জের মত গুরুত্বপুর্ন একটি আহকামের বেশ কিছু মুলনীতি আয়েশার (রা) হাদীস থেকে গ্রহন করা হয়েছে , এবং তাঁর বর্নিত হাদীস অনুসারেই মুসলিম বিশ্ব হাজ্জ আদায় করে থাকেন।
ইলমে ফিকাহ ও কিয়াস
রাসুল (সা) এর ওফাতের পর যে কয়েকজন সাহাবী ফিকাহ ও ফতওয়ার কাজ করেছেন তার মধ্যে হযরত আয়েশা(রা) বিশিষ্ট একজন। ফতওয়া দানের ক্ষেত্রে তাঁর মুলনীতি ছিল- প্রথমে তিনি কুরান থেকে সমস্যার সমাধান খুঁজতেন। সেখানে না পেলে সুন্নাহর দিকে দৃষ্টি দিতেন। সেখানেও পুর্ন সমাধান না পেলে বুদ্ধি অনুযায়ী কিয়াস করতেন। আয়েশা (রা) এর বিভিন্ন মতামত ও আমলের বিরা্ট একট অংশ ইমাম মালিক (র) তাঁর ‘আল-মুওয়াত্তা’ গ্রন্থে সংকলন করেছেন।
ইতিহাস থেকে জানা যায় ইলম শিক্ষা ও ফতওয়ার জন্য হযরত উমর (রা),হযরত আবু হুরাইরা (রা),হযরত ইবনে আব্বাস (রা) ও হযরত যায়িদ ইবন সাবিত (রা) ও হযরত আয়েশা (রা)এর পৃথক পৃথক দারগাহ চালু ছিল। তবে সবচেয়ে বড় দরগাটি ছিল আয়েশা (রা) এর হুজরা কেন্দ্রিক সেই বিশেষ স্থানে। মক্কা, তায়িফ, বাহরাইন , ইয়ামান, দামেশক, মিসর, কুফা, বসরা প্রভৃতি শহর থেকে বিপুল পরিমান মানুষ তাঁদের যিয়ারত হাসীলের জন্য ছুটে আসতেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলে আয়েশা (রা) এর নিকট হাজির হতেন ও বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও ফতওয়া চাইতেন। তবে স্বাভাবিক ভাবেই পুরুষের চাইতে মহিলাদের ভীর বেশী হত। তিনি মহিলা বিষয়ক বেশিরভাগ মাসয়ালার সমাধান দিতেন। আর পুরুষ সাহাবী আসলে তিনি হুজরার ভেতরে পর্দার আড়াল থেকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতেন। কখন ও লোকেরা প্রশ্ন করত ও তিনি জবাব দিতেন আবার কখন ও মাসয়ালা নিজেই বিস্তারিত বর্ণনা করতেন ও লোকেরা তা কান লাগিয়ে শুনত।
আয়েশা (রা) প্রতি বছর হজ্জে যেতেন। তাঁর হজ্জের সফরের সময়ও দুর-দুরান্ত থেকে জ্ঞান পিপাসুরা ইলম হাসীলের জন্য তাবুর নিকট জমায়েত হতেন। তিনি লোকদেরকে যে কোন প্রশ্ন করার জন্য উৎসাহিত করতেন এবং বলতেন—তোমরা তোমাদের মায়ের কাছে যে প্রশ্ন করতে পার, তা আমার কাছে ও করতে পার।
যারা শৈশব থেকে হযরত আয়েশা (রা) এর তত্ত্বাবধায়নে বেড়ে ঊঠেন ও পরবর্তীকালে আয়েশা(রা) এর জ্ঞানের বাহক হিসেবে মুহাদ্দিস হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন তাদের কয়েকজনের পরিচয় পেশ করা হল—
১/ ঊরওয়া—ঃ আয়েশা (রা) তাঁর খালা। আয়েশা (রা) ঊরওয়াকে অতি আদর-যত্নে লালন-পালন করেন।এই ঊরওয়াকে সীরাত শাস্ত্রের ইমাম গন্য করা হয়। ইমাম যুহরী ঊরওয়ার ছাত্র ছিলেন।

২/ কাসিম ইবন আহমেদ—আয়েশা (রা) তাঁর ফুফু। মদীনায় সাত সদস্যবিশিষ্ট যে ফকিহদের মজলিস ছিল, তিনি ছলেন তার অন্যতম সদস্য।

৩/ আবু সালাম—তিনি পিতার মৃত্যুর পর আয়েশা (রা) এর তত্ত্বাবধানে বড় হন। তাঁকে মদীনার অন্যতম সেরা আ’লেম হিসেবে গন্য করা হয়।

৪/ মাসরুক ইবনুল আজদা—আয়েশা (রা) তাঁকে ছেলে হিসেবে গ্রহন করেন। তাঁকে ইরাকের শ্রেষ্ঠ ফকিহ হিসেনে গন্য করা হত।

৫/ সাফিয়্যা বিনত শায়বা—হাদীসে প্রায় সকল গ্রন্থে তাঁর বর্ণিত হাদীস সংকলিত হয়েছে। হাদীস সনদে তাকে আয়েশার (রা) বিশেষ শাগরিদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু দাউদের (র) মত বিখ্যাত ব্যাক্তিত্ত্ব সাফিয়্যা বিনত শায়বার নিকট ইলম হাসিল করার জন্য গিয়েছিলেন।

এখানে মাত্র কয়েকজনের নাম উল্লখ করা হল, এছাড়াও আরো অনেকে আছেন। এভাবে ইতিহাস গ্রন্থ থেকে দেখা যায় রাসুলুল্লাহ (সা) এর ওফাত পরবর্তীকালে সাহাবা ইকরাম ও বিপুল পরিমান সাধারন মানুষ আয়েশা (রা) এর সান্নিধানে এসে কোরআন , হাদীসের চর্চা ও মাসলা-মাসায়েল তথা শরীয়া সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করে দারুনভাবে উপকৃত হয়েছেন এবং পরবর্তীতে তাঁরা নিজেরাও এই জ্ঞানের বাহক ও প্রচারক হিসেবে ভুমিকা পালন করেছেন।

আয়েশা (রা) এর আরো কিছু গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা —

১/ ইসলাম পুর্ব জাহেলী যুগের আরবের রীতি-প্রথা ও সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপুর্ন বিবরন তিনি দিয়েছেন, যা ইতিহাস ও হাদীস গ্রন্থসমুহে সংকলিত হয়েছে।

২/ ইসলামের কিছু অতি গুরুত্বপুর্ন ঘটনা, যেমন ওহীর সুচনা পর্ব, ওহীর সময় রাসুল (সা) এর অবস্থা কিরকম হত, নবুওয়াতের সুচনা পর্বের নানা ঘটনা, হিজরতের ঘটনা ইত্যাদির তিনি আনুপূ্র্বিক বর্ণনা দিয়েছেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে এসব ঘটনা যারা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছেন তাঁদের চাইতে হাদীস গ্রন্থে আয়েশা (রা) এর বর্ণনা পরিমানে বেশী।

৩/ কোরআন নাযীলের তারতীব এবং নামাযের পদ্ধতি তিনি বর্ণনা করেছেন।

৪/ বদরের ঘটনা, ঊহুদের অবস্থা, খন্দক ও বনী কুরায়জার কিছু কথা, মক্কা বিজয়কালীন মহিলাদের বাইয়াত, বিদায় হজ্জের বর্ণনা তাঁর কাছ থেকে পাওয়া যায়।

৫/ রাসুল (সা) এর ইবাদতের কথা, তারঁ আদাব-আখলাক, ঘর-গৃহস্থালীর বর্ণনা তিনি দিয়েছেন।

৬/ রাসুলুল্লাহ (সা) এর ওফাতকালীন অবস্থা, দাফন-কাপড়ের ব্যবস্থা, কাফনের কাপড়ের সংখ্যা ইত্যাদি বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা মুসলিম বিশ্ব তারঁ মাধ্যমেই জেনেছে।

৭/ তিনি প্রসিদ্ধ খতিব বা বক্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। আরবী সাহিত্যের প্রাচীন সূ্ত্রসমুহে আয়েশা (রা) এর বেশ কিছু খুতবা ও বক্তৃতা সংকলিত হয়েছে। ‘উটের যুদ্ধের’ সময় তিনি যেসকল খুতবা দিয়েছিলেন তা তাবারীর ইতিহাস গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

৮/ বিভিন্ন খানদানের ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে এবং এতিম শিশুদের তিনি নিজের তত্ত্বাবধানে লালন-পালন করতেন ও শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন, আমি তোমাদের মা। তিনি তাদেরকে মায়ের মতই শিক্ষা দিতেন

তাঁর মৃত্যু —
উম্মুল মু’মেনিন হযরত আয়েশা (রা) ১৩ জুন ,৬৭৮ খ্রষ্টাব্দে ৬৬ বছর বয়সে মদীনায় ইন্তেকাল করেন।
মৃত্যুর পুর্বে তিনি অসীয়াত করে যান যে, আমাকে জান্নাতুল বাকীতে রাসুল (সা)এর অন্যান্য স্ত্রীদের সাথে দাফন করবে। তিনি এশার নামাযের পরে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মদীনায় কান্নার রোল পড়ে যায়। তাঁর নামাযে জানাযায় বিপুল পরিমান লোকের সমাগম হয়। হযরত আবু হুরাইরা (রা) জানাযার নামায পড়ান।

উপরে খুবই সংক্ষেপে মহিওসী নারী মা আয়েশা (রা) এর মর্যাদা ও তাঁর বিভিন্ন অবদান নিয়ে আলোচনা করা হল। বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে আরো অন্তঃত দশটা পোস্ট দিতে হবে যা ব্লগের মত স্বল্প পরিসরে সম্ভব নয়। তবে আশা করি পাঠক মাত্রেই মা আয়েশা (রা) এর ভূমিকা ও মর্যাদা সম্পর্কে কিছুটা ধারনা করতে পেরেছেন।

শেষ করছি তিরমিযী শরীফে বর্ণিত একটি হাদীস দিয়ে- একদিন জিবরাঈল (আ) আয়েশা (রা) এর প্রতিকৃতি সবুজ রেশমের একটি টুকরোয় জড়িয়ে রাসুলুল্লাহ (সা) এর নিকট নিয়ে এসে বললেন—ইনি হবেন দুনিয়া ও আখেরাতে আপনার স্ত্রী। (আত-তিরমিযী- ৩৮৮০)

জান্নাতই হতে পারে উম্মুল মু’মেনিন আয়েশার (রা) প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা প্রাপ্তির উপযুক্ত স্থান। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্টিত করুন। আমিন।

প্রথম পর্ব-

হযরত আয়েশা (রা): ইসলাম প্রচারে তাঁর ভুমিকা ও তাঁর মর্যাদা

 

২ comments

  1. 1
    কিংশুক

    লেখককে অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মা আয়েশা (রা:) এর উচ্চ মর্যাদা, আলেমদের মধ্যে তাঁর এত উপরে অবস্থান সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম যা আগে জানতাম না। জাজাকাল্লাহ।

    1. 1.1
      আরিফ

      ধন্যবাদ কিংশুক ভাই। সত্যিই আমাদের অনেকেরই হযরত আয়েশা(রা) এর উচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে খুব একটা ধারনা নেই। তাঁর সম্পর্কে কিছুটা ধারনা দেবার জন্যই এই পোস্টের অবতারনা। আপনাকে কিছু তথ্য যানাতে পেরে ভাল লাগছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.