«

»

Aug ২০

জঙ্গি আতঙ্কে সারাবিশ্ব, আশঙ্কামুক্ত নয় বাংলাদেশও

সম্প্রতি আইএস প্রসঙ্গে বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে সারা পৃথিবীতে নতুনভাবে জঙ্গিবাদের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খবরে বলা হয়, “২০২০ সালের মধ্যে ভারতসহ বিশ্বের বিশাল অংশ দখলে নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক স্টেট (আইএস)।

 

পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণ ভূমির একটি মানচিত্রও প্রকাশ করেছে এই জঙ্গি গোষ্ঠী, বিবিসির সাংবাদিক এন্ড্রু হোসকেনের ‘এম্পায়ার অব ফেয়ার: ইনসাইড দ্য ইসলামিক স্টেট’ শীর্ষক নতুন একটি বইয়ে এটি প্রকাশ করা হয়েছে।

 

মানচিত্রে দেখা গেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আইএস ভারতীয় উপমহাদেশের অধিকাংশ এলাকা দখলে নেওয়াসহ মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং ইউরোপের বেশ কিছু স্থানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করেছে।” এই সংবাদ প্রকাশের পর থেকে এশিয়ার দেশগুলোতে জঙ্গি হামলার আতঙ্ক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

 

গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে ভারতে রেড এলার্ট জারি করা হয়। সংবাদে প্রকাশ, “ভারতের নৌ ঘাঁটিতে হামলা চালাতে পারে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের মাত্র একদিন আগে শুক্রবার এমন আশঙ্কার কথা জানায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আশঙ্কা করা হয়েছিল, আল-কায়েদার হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে মুম্বাই ও কেরালায় ভারতীয় নৌবাহিনীর ঘাঁটিসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থাপনা। গত কয়েক মাসের গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভারতের নৌবাহিনীর স্থাপনা এবং অনিরাপদ জলসীমায় জঙ্গি হামলা হতে পারে। যদিও ভারতে স্বাধীনতা দিবসে তেমন হামলার ঘটনা ঘটে নি কিন্তু তবু আশঙ্কা রয়েই গেছে।

 

সম্প্রতি সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হয়েছে পাঞ্জাবে। পাকিস্তানের পাঞ্জাবে আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রদেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্নেল (অব.) সুজা খানজাদাসহ কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছে। গত রবিবার খানজাদার নিজের গ্রামের বাড়িতে একটি রাজনৈতিক বৈঠকের সময় এ হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে প্রদেশের সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ শওকতও রয়েছেন।

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে দেশটির ইংরেজি দৈনিক ডন জানিয়েছে, নিষিদ্ধ জঙ্গি দল লস্কর-ই-জাংভি এই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে। গত জুলাই মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে দলটির প্রধান মালিক ইসহাক নিহত হওয়ার পর সুজাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

 

পাকিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের জঙ্গি হামলা হয়ে আসছে। এর আগেও এ ধরনের হামলা অনেকবার হয়েছে। পাকিস্তানের পোশোয়ারে সেনাবাহিনী পরিচালিত একটি স্কুলে গতবছর ১৭ ডিসেম্বরে তালেবান হামলায় ১৩২ শিশু শিক্ষার্থীসহ ১৪১ জন নিহত হয়। আহত হয় ১২৪ জন। নিহত শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগের বয়স ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। পাকিস্তান তেহরিক ই-তালেবান (টিটিপি) এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে। এছাড়াও চলতি বছরের ১৩ মে পাকিস্তানের বন্দরনগরী করাচিতে, তালেবান জঙ্গিদের গুলিতে, অন্তত ৪৭ বাস যাত্রী নিহত হয়, আহত হয় আরও ২৪ জন। হতাহতদের সবাই, ইসমাইলি শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য ছিল। করাচির সাফুরা চৌরঙ্গি এলাকায় বাসটিতে হামলা চালায় জঙ্গিরা। তখন নিজস্ব বাসে প্রার্থনার জন্য যাচ্ছিলো ইসমাইলি সম্প্রদায়ের সদস্যরা। পরে, এক বিবৃতিতে, এর দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালেবান।

 

শিয়া-সুন্নি দাঙ্গা, মসজিদে, স্কুলে, বাজারে, পার্কে, বাড়িতে ইত্যাদি স্থানে জঙ্গি হামলা সে দেশে সাধারণ ঘটনা হয়ে গেছে। কিন্তু পাঞ্জাবের এই ঘটনা ও সম্প্রতি আইএস এর এই সংবাদে পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্কজনক অবস্থা বিরাজ করছে।

 

এদিকে সর্বশেষ গত সোমবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কেন্দ্রস্থলে হিন্দুদের একটি উপাসনালয়ের কাছে মোটরসাইকেলে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে তিন বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। একটি উদ্ধারকারী সংস্থা আহতের সংখ্যা ৮১ উল্লেখ করে। আহতদের বেশিরভাগই চীন ও তাইওয়ানের বলে জানানো হয়েছে গণমাধ্যমের খবরে। শিদলোম এলাকার এরাওয়ান মন্দিরে এ হামলা হয়।  পরদিন মঙ্গল দ্বিতীয় দফায় বোমা হামলা হয় থাইল্যন্ডে যদিও এ দিন কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে হামলার ধরন দেখে অনেকেই জঙ্গি হামলা বলে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

 

এটা কিন্তু অত্যন্ত উদ্বিগ্নকর ঘটনা, কেননা ব্যাংককে এ ধরনের ঘটনা সম্প্রতি আমরা ঘটতে দেখি না। দক্ষিণ এশিয়ায় বেশ কিছু জঙ্গি গোষ্ঠী রয়েছে যারা বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্নভাবে জঙ্গি হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে কিন্তু খোদ ব্যাংককে এ ধরনের ঘটনা অতি সম্প্রতি এই প্রথম।

 

এদিকে নাইজেরিয়ার সশস্ত্র ইসলামিক গোষ্ঠী বোকো হারামের হামলায় গত তিন মাসেরও কম সময়ে নিহত হয়েছে সহস্রাধিক। নাইজার সীমান্তে বর্নো প্রদেশে সোমবারের এক হামলায়ও নিহত হয় বেশকিছু বেসমারিক নাগরিক। নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, কেনিয়াসহ আফ্রিকান বেশ কিছু দেশে বোকো হারাম, আল-শাবাবসহ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীর এ তৎপরতা তো বর্তমানে অতি স্বাভাবিক ঘটনা। ইউরোপ পর্যন্ত জঙ্গি হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

 

এক কথায় সারাবিশ্ব এখন জঙ্গিবাদের আতঙ্কে আছে। বিশেষ করে আইএস এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমদিকে অনেকেই মনে করেছিল যে, আইএস হলো সিরিয়া সরকারের বিরোধী সাধারণ কোনো জঙ্গি সংগঠন। তখন আইএস নামে তাদের কেউ চিনত না। কিন্তু পরবর্তীতে তারা একের পর এক ভূখণ্ড দখল করে নিয়ে এখন তারা খোদ ব্রিটেনের চেয়েও আয়তনে বড় একটি স্বঘোষিত রাষ্ট্র। তারা বিশাল তেল সম্পদের মালিক। বিশ্বে এর পূর্বে এমন অর্থনীতিকভাবে সমৃদ্ধ কোনো জঙ্গি সংগঠনের উদ্ভব ঘটেনি। একটি রিপোর্টে প্রকাশ তাদের প্রায় ৫০ হাজার নিয়মিত সৈন্য রয়েছে।

 

 

এখন বিশ্লেষকগণ আইএস নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন। তারা মনে করছেন, এই মুহূর্তে আইএসকে থামানো না গেলে ভবিষ্যতে তাদের চূড়ান্ত উত্থান ঠেকানো সম্ভব হবে কিনা তা চিন্তার বিষয়। আইএসকে নির্মূল করবার কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। পরাশক্তিধর দেশগুলো তাদের অস্ত্র-ব্যবসা চাঙ্গা করার জন্যই আইএসকে তৈরি করেছে বলে অনেকেই মনে করেন। কাজেই তারা একে নির্মূল করতে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেবে না এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া আইএস ইতোমধ্যেই যে শক্তি সঞ্চয় করেছে তাতে খুব সহজে তাকে যে দমন করা সম্ভব নয় তা এখন অনেকেই স্বীকার করবেন। তাকে দমন করতে যে পরিমান অর্থিক ক্ষতি হবে, তাকে দমন করলে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হবে অস্ত্র-ব্যবসার। কাজেই অলাভজনক এই ক্ষাতে পশ্চিমাবিশ্ব শক্তি ও অর্থ কোনোটাই ব্যয় করতে চাইবে না। আর পশ্চিমা বিশ্ব যদি উদ্যোগী না হয় তবে এ দায় পড়ে মুসলিম বিশ্বের, যাদের জন্য আইএস সবচেয়ে বড় হুমকি। কিন্তু মুসলিম বিশ্বে এমন কোনো রাষ্ট্র কি আছে যে এককভাবে আইএসকে দমন করতে সক্ষম? আবার এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মুসলিম বিশ্ব শিয়া-সুন্নিসহ নানা ইস্যুতে ঐক্যহীন। সম্প্রতি তারা ঐক্যবদ্ধভাবে বড় কোনো পদক্ষেপ নিয়ে সফল হয়েছে এমন চিত্র দেখা যায় নি।

 

তাহলে আইএসের উত্থান কি ঠেকানো সম্ভব নয়? এ বিষয়ে গাউস রহমান পিয়াল অনূদিত ফরাসি দার্শনিক সেসিল ফাবগে এর একটি লেখা গত সোমবার কালের কণ্ঠে উপ সম্পাদকীয় কলামে ছেপেছিল। সেখানে লেখক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন “শুধু যুদ্ধ দিয়ে ইসলামিক স্টেটের মূলোৎপাটন সম্ভব, এমনটিও আমি বিশ্বাস করি না। অসংখ্য মানুষের সমর্থন আছে সংগঠনটির প্রতি। তাদের অনেকেই মনে করে, সিরিয়ার ক্ষমতা থেকে আসাদকে যদি কেউ ক্ষমতাচ্যুত করার তাকত রাখে সে হচ্ছে আইএস। ইসলামিক স্টেট নৃশংসতা চালিয়ে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আধিপত্য গেড়ে বসছে। সারা দুনিয়া থেকে জঙ্গি আমদানি করার যোগ্যতাটি তাদের আছে। তেল পাচার করে ও অজ্ঞাত বেশুমার ব্যক্তির আর্থিক বদান্যতায় তারা প্রতিমাসে কোটি কোটি ডলারের তহবিল গড়ারও সক্ষমতা রাখে।”

 

আইএস এর অস্তিত্বের অর্থ হলো একটা ভয়ঙ্কর পরিণতি বিশ্বকে ভোগ করতে হবে। হয় তাদেরকে নির্মূল করার জন্য গোটা বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, পরোক্ষ-প্রত্যক্ষভাবে সকলকে অংশগ্রহণ করতে হবে না হলে একে একে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি তার পেটে চলে যেতে থাকবে। আর তারা যেভাবে হাদীস মিলিয়ে মিলিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে আকৃষ্ট করছে তাতে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ যে তাদের দলে যোগদান করবে এ সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তখন তাদেরকে দমন করার প্রচেষ্টা মানেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনী। এটা এক ভয়াবহ আতঙ্কের বিষয়, চিন্তার বিষয়। এ বিষয়টি উড়িয়ে দ্ওেয়া যায় না।

 

 

প্রেক্ষিত বাংলাদেশ:

বাংলাদেশেও ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলমান। এদের মধ্যে বিরাট একটি শ্রেণি ধর্মের ব্যাপারে অনুভূতিশীল। এই শ্রেণিটির ধর্মবিশ্বাসকে ভুল খাতে প্রবাহিত করে মূলত জঙ্গিবাদের সৃষ্টি করা হয়। তাদের সামনে ইসলামের বিকৃত ব্যাখ্যা প্রদান করে কখনো ক্ষমতাসীন তথা রাষ্ট্রশক্তিকে আবার কখনো নির্দিষ্ট কোনো সম্প্রদায়কে ইসলাম বিদ্বেষী হিসাবে উপস্থাপন করে তাদেরকে জেহাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়, বিভিন্ন জঙ্গি কর্মকাণ্ড ঘটানো হয়।

 

যখন পৃথিবীর কোথাও একটি নির্দিষ্ট আদর্শের উত্থান ঘটে তখন তাদের দ্বারা অন্যান্য অঞ্চলেও ঐ একই আদর্শের মানুষগুলি অনুপ্রাণিত হয় এবং সেই আদর্শ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়। কাজেই আইএস-এর উত্থান মানেই পৃথিবীর প্রতিটি মুসলিম দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটার সম্ভানা বৃদ্ধি পাওয়া। সুতরাং আমাদের দেশেও যে এই জঙ্গিবাদের ঢেউ লাগবে না এটা বলা যায় না। এ কারণে আমাদেরকে এখনই সচেতন হতে হবে।

 

আমাদের এই দেশকে নিরাপদ করা আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব। আমরা এখন নীরব থাকতে পারি না, চুপ থাকতে পারি না। আমাদের দেশের মিডিয়াগুলি অন্যান্য চুরির খবর, দুর্নীতির খবর, ডাকাতির খবর, রাজনীতিক হানাহানির খবর যেভাবে ফলাও করে প্রচার করে, তাতে এখন তারা প্রান্তিক হয়ে গেছে। এখন মিডিয়াগুলোর অধিকাংশই দলবাজীতে ব্যস্ত। কেউ সরকারি দলের লেজুরবৃত্তি করে আবার কেউ বিরোধী দলের আজ্ঞাবাহী হিসাবে কাজ করে। কেউ সরকারকে কোনঠাসা করার জন্য ছোট খবরকে বিরাট করে প্রচার করে আবার কেউ সরকারের অন্যায় কাজগুলির ব্যাপারেও মুখে কুলুপ এটে বসে থাকে। কেউ বিরোধী দলের ছোট খবরকে বিশাল করে প্রচার করে তো কেউ তাদের নানাভাবে হেয় করবার চেষ্টা করে। কিন্তু এখন এসব খবরের চাইতে বরং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে সচেতন করে তোলা প্রত্যেকের দায়িত্ব, বিশেষ করে লেখক, ব্লগার, সাংবাদিক ও সুশীল শ্রেণি এই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না।

 

দেশের আপামর জনতাকে আন্তর্জাতিক এই ভয়াবহ ইস্যুটি সম্পর্কে সজাগ ও সতর্ক করা জরুরী বলে আমরা মনে করি। এ ব্যাপারে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সুশীল সমাজ, ছাত্র, শ্রমিক, এক কথায় সর্বশ্রেণির জনগণের জন্য সজাগ ও সচেতনতা অবলম্বন করা খুবই জরুরি।

 

 

৫ comments

Skip to comment form

  1. 5
    কিংশুক

    শুধু খারেজীরা না ওহাবীরাও মাজার ভাংগে। বাংলাদেশ এর চাঁদপুরের মতলবে লেংটা পীরের মাজারে যেমন 10 লাখ মুরিদ গাঁজা খেয়ে নেচে গেয়ে শিরক করে ফিরে ওসব ঠেকাতে মাজার ভাংগা হয়। আইএস খারেজি।

  2. 4
    মজলুম

    খারেজী সম্প্রদায় উত্থানের সূচনা:

     

    রাসুল (সাঃ) এর অফাতের পর রাসুল (সঃ) এর সকল ভবিষ্যত বানী সত্য প্রমানিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত খারেজীদের  আত্ব প্রকাশ ঘটে।হিজরি ৩৭ সালে একটি কাহিনী খারেজীদের সম্পর্কে সকল ধারণা স্পষ্ট হয়।

     

    হযরত আলী (রঃ) শাসনের সময় ইসলামের খলিফার নির্ধারণের মুসলমানরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে ।একটি দল হল হযরত আলী (রঃ) এবং অন্য দল হল মুয়াবিয়া (রাঃ)। ক্রমে অবস্থা রক্তক্ষয়ীতে রুপ লাভ করে (৬৫৭ সালের জুলাই মাসে আলীর সাথে মুয়াবিয়ার ‘সিফফিন’ নামক স্থানে যুদ্ধ হয়) , তখন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ  বন্ধের   জন্য হযরত আলী (রঃ) দুই জন বিচারক নিয়োগ দিলেন ,একজন হযরত আলী (রঃ) পক্ষ থেকে অন্য জন মুয়াবিয়ার (রাঃ) পক্ষ থেকে।সিফফীন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর শাম ও ইরাকের সকল সাহাবীদের ঐক্যমত্যে বিচারব্যবস্থা পৃথকীকরণ এবং আলী (রা:) এর কূফায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

     

     

    তখনই খারেজী সম্প্রদায় আলী (রা:) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে হারূরা প্রান্তরে এসে বসতি স্থাপন করে। সেনাবাহিনীতে তাদের সংখ্যা আট হাজার ছিল।বিচ্ছিন্নতার সংবাদ পেয়ে হযরত আলী (রা:) ইবনে আব্বাস (রা:)-কে তাদের কাছে পাঠান। ইবনে আব্বাস (রা:) বুঝিয়ে শুনিয়ে তাদের থেকে দুই হাজারকে আলী (রা:) এর অনুসরণে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। অতঃপর আলী (রা:) কুফার মসজিদে দাড়িয়ে দীর্ঘ ভাষণ দিলে মসজিদের এক কোনায়- “লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ” (আল্লাহ্‌র বিধান ছাড়া কারো বিধান মানি না, মানব না) স্লোগানে তারা মসজিদ ভারী করে তুলে। আলী (রা:) এর দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়- “আপনি বিচারব্যবস্থা মানুষের হাতে তুলে দিয়েছেন?! আল্লাহ্‌র বিধানে অবজ্ঞা প্রদর্শনের দরুন আপনি মুশরেক হয়ে গেছেন…!!”

     

    খারেজীদের বক্তব্য , “হযরত আলী (রঃ) বিচারের দায়িত্ব মানুষের উপর নেস্ত করেছেন, কিন্তু বিচারের মালিক আল্লাহ্‌।আল্লাহ্‌ ছাড়া কারোও ফয়সালা মানা যাবে না ।“সিদ্ধান্ত তো আল্লাহ্ ছাড়া কারোর নয়” (إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ  ৬:৫৭)।

    এই আয়াতের হুকুম ভংগ করেছেন।  তাই বিচারক নিয়োগ কুরআন পরিপন্থী ।  সুতরাং আপনি কুফরি করেছেন এবং আপনি কাফের হয়ে গেছেন ,আপনাকে  তওবা করে পুনরাই ইসলাম গ্রহন করতে হবে। ”।অথচ সত্য হল মানুষের মধ্যে ফয়সালার  জন্য মানুষকেই বিচারক হতে হবে।আর ফয়সালা হবে আল্লাহ্‌র আইন অনুসারে ।এই খারিজীরা নিজেদের নির্বুদ্ধিতা  ধর্মীয় গোঁড়ামিতে রূপদান করে এবং মুসলমানদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনা করে।  

     

    তখন আলী (রা:) বললেন- তোমাদের ব্যাপারে আমরা তিনটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি:

    ১. মসজিদে আসতে তোমাদের আমরা বারণ করব না।

    ২. রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে তোমাদের বঞ্চিত করব না।

    ৩. আগে-ভাগে কিছু না করলে আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না।

     

    কিছুদিন পর সাধারণ মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষ করত: তারা আব্দুল্লাহ্‌ বিন খাব্বাব বিন আরিত (রা:)-কে হত্যা করে তার স্ত্রীর পেট ফেড়ে দু-টুকরা করে দেয়।আলী (রা:) জিজ্ঞাস করেন, আব্দুল্লাহ্‌কে কে হত্যা করেছে? জবাবে তারা- আমরা সবাই মিলে হত্যা করেছি- স্লোগান দিতে থাকে। এরপর আলী (রা:) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেন। নাহরওয়ান অঞ্চলে তাদের সাথে মুসলমানদের তুমুল যুদ্ধ হয়। যুদ্ধ সমাপ্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে খারেজীরা পরাজিত হয় খারেজি সম্প্রদায়ের ফেতনাও সাময়িক ভাবে খতম হয়ে যায়।

    পরজিত খারেজিদের বংশধর ও অনুসারীরা এরপরেও বিভিন্য সময় আত্বপ্রকাশ করে এবং ফিতনা ফাসাদ বাধাতে উদ্যত হয়।

     

    খারেজিদের কিছু বৈশিষ্ট্যঃ

     

    খারেজিদের উতপত্তি হবে পূর্ব দিক থেকে (রিয়াদ ইরাক ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল)

     

    তারা বয়সে হবে নবীন ও তরুণ যারা নিজেদের অনেক জ্ঞ্যানী ভাববে।

     

    খারেজিরা মুসলমানদেরকে যেকোনো গুনাহের (বিশেষ করে গুনাহে কবিরা ) জন্য কাফের বলে সম্বোধন করে।এবং সামান্য ব্যাপারে কুফরের ফতোয়া দেয়।

     

    তারা মুসলমানদের হত্যা করবে শুধু মাত্র ধর্মীয়  মতের অমিলের (কিভাবে ইবাদত / শাসন করা হবে এই বিষয়ে ) কারনে। কিন্তু তারা কাফের , মুশরিক , কবর ও মূর্তি পূজারী দের ছেড়ে দিবে

    তারা মুসলিমদের প্রতি হবে কঠোর কাফেরদের প্রতি হবে নমনীয়।

     

    তারা কথায় কথায় মুসিলমদের তাকফীর করবে।(বিদাতি কাফের বলে সম্বোধন করবে)।

     

    তারা হবে ইবাদতে  অন্যদের চেয়ে অগ্রগামী কিন্তু নিজদের ইবাদতের জন্য হবে অহংকারী।

     

    তারা কুরান পড়বে কিন্তু কুরান বুঝবেনা বরং উল্টোটা বুঝবে।

     

    তারা সর্বোত্তম কথা বলবে কিন্তু সর্ব নিকৃষ্ট কাজ করবে।

     

    কুরানের যেসব আয়াত কাফের জন্য প্রজজ্য তা তারা অজ্ঞ মুসলিমদের উপর প্রয়োগ করবে।

     

    পৃথিবীতে  সব সময়ই খারেজি আকিদার লোক থাকবে এবং সর্বশেষ এদের মধ্য থকেই দাজ্জালের আবির্ভাব হবে

     

     

    খারেজি চিনার উপায়ঃ

     

     

    ১. হযরত আলী(রাঃ):

    অতীতের খারেজী সম্প্রদায়রা ইসলামের ৪র্থ খলিফা হযরত আলী(রাঃ) মুশরিক এমনকি কাফির বলতেও দ্বীধাবোধ করত না। খারেজী সম্প্রদায়ের সাথে উনার বিশাল যুদ্ধে উনি এদের পরাজিত করেন। তাই খারেজি সম্প্রদায়রা উনার প্রশংসামূলক যে সব সহীহ হাদীস আছে সেগুলোকে জাল-যয়ীফ হিসেবে প্রচারণা চালায় এবং যারা উনার প্রশংসা করে তাদেরকে শিয়া-সূফী মনে করে। অতীতের খারেজী সম্প্রদায়রা উনার বিরোধীতা করত directly আর এখনকার খারেজিরা করে indirectly।

     

    ২.ইমাম হাসান হোসেন (রাঃ)

    রাসুল (সঃ) এর দৌহিত্র জান্নাতের পুরুষদের সর্দার ইমাম হাসান হোসেন খারেজিদের চোখের  কাটা।অতীতের  খারেজিরা ডাইরেক্টলি ইমাম হাসান হোসেনের বিষাদগার করত। বর্তমান খারেজীরা তাদের বিষাদগার করার সাহস পাই না বটে তবে তাদের প্রশংসাকারীদের কশিয়া বলে অভিহিত করে।

     

    .খারেজীরা আমীরে মুয়াবিয়া (রাঃ) কে কাফের মনে করে কিন্তু তার ছেলে ইয়াজিদকে পাক্কা মুসলিম মনে করে।কারন মুয়াবিয়ার (রাঃ) এর সাথে খারেজিদের যুদ্ধ হয়েছিল,আবার ইয়াজিদ খারেজিদের জানের দুশমন ইমাম হাসান হোসেনকে হত্যা করেছিল।খেয়াল করলে দেখবেন খারেজিরা ইয়াজিদের নামের পাশে (রাঃ)! লাগায়।

     

    ৪.ইমাম আবু হানিফা(রঃ):

    নার সাথে খারেজী-মুতাজিলা সম্প্রদায়ের অনেক বাহাস হয়েছিল। সে সবের একটি বাহাসেও খারেজীরা উনার সাথে পেরে উঠে নি। তাই খারেজীরা উনাকে পছন্দ করত না ও উনার নামে বানোয়াট কথা ছড়াত। আজকের খারেজি সম্প্রদায়ের অনেকেই উনাকে পছন্দ করে না ও উনার নামে বানোয়াট কথা ছড়ায়

     

     

    ৫.ইমাম আশ’আরী (রঃ) এবং ইমাম মাতরুদী(রঃ):

     

    ইমাম আশ'আরী(রঃ) এর সম্পূর্ণ নাম ইমাম আবু আল-হাসান আল-আশ'আরি(রঃ) এবং পরবর্তিতে তিনি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল(রঃ) এর পাশাপাশি ৩য় শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হিসেবে স্বীকৃত পান সমস্ত আলেমগণের নিকট।ইমাম আশারী(রঃ) এক সময় খারেজী-মুতাজিলা ছিলেন। কিন্তু পরবর্তিতে তিনি এই সম্প্রদায়ের আক্বীদা যে কতটা ভ্রান্ত তা বুঝতে পেরে এদের সংস্পর্শ তো ত্যাগ করেনই সেই সাথে এদের বিরুদ্ধে বই লিখে এদের আক্বীদা সংক্রান্ত সমস্ত ভ্রান্ত মতবাদকে খন্ডন করে অসংখ্য বই রচণা করেন। ইমাম মাতরুদী(রঃ) ও ঠিক একই কাজ করেছিলেন। যার কারণেই খারেজী-মুতাজিলারা উনাকে একদমই পছন্দ করত না।

    আজকের খারেজি সম্প্রদায়ের অনেকেই উনাকে পছন্দ করে না; উল্টা ইসলামী আক্বীদাগুলোকে নিজেদের সুবিধামত কখনও ‘আশ’আরী আক্বীদা’, আবার কখনওবা ‘মাতরুদী আক্বীদা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সাধারণ মানুষদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে চলেছে।বর্তমান জামানার খারেজিরা এই দুই মহান ঈমামের নাম শুনলেই চে চে করে উঠে।

     

  3. 3
    মজলুম

    টুকে নেওয়া আর্টিক্যাল: জেনে নিন খারেজিদের সম্পর্কে,

    ইসলামের প্রথম বাতিল দল খারেজী।রাসুল (সঃ) এর ওফাতের পর হযরত আলি (রাঃ) এর খিলফাতকালে এই দলটির উথান হয়।এই দলটি সম্পর্কে আল্লাহ তার রাসুল (সঃ) কে আগে ভাগেই জানিয়েছিলন,এবং রাসুল (সঃ) সাহাবীদের নিকট এই দলটি সম্পর্কে বিস্তারিত ভবিষ্যত বাণী করে যান যাতে উম্মাতে মুহাম্মাদি (সঃ) সচেতন হতে পারে।কয়েক দশক পরেই রাসুল (সঃ) এর ভবিষ্যৎ বাণী সত্য প্রমাণিত হয় এবং খারেজিদের আত্বপ্রকাশ ঘটে।এরপর যুগ যুগ ধরে এই খারেজীরা মুসলিমদের মধ্যে ফিতনা ফাসাদ করেই যাচ্ছে।হযরত আলি (রাঃ) এর জামানা থেকে আজও পৃথিবিতে খাওরাজ বিদ্যমান।খারেজিদের হাতেই খোলাফায়ে রাশেদা শহীদ হয়।খারেজিদের হাতেই ১৪০০ বছর ধরে চলমান খিলাফার পতন হয়,খারেজীদের কারনেই বর্তমানে খিলফার যে সূর্য পুনরায় জেগে উঠেছিল তা অস্তমিত হওয়ার পথে।

     

    খারেজি নামকরণঃ  খারেজী আরবি শব্দ যা  এসেছে খারাজা  থেকে,যার অর্থ বেরিয়ে পড়া মূলত যারা কোরআন ও হাদিসের পথ থেকে বেরিয়ে পড়ে তাদেরকে খারেজী বলা হয়।এজন্যও খারেজী বলা হয় করন তারা বেরিয়ে পড়েছে  হত্যার উদ্দেশে সমকালীন সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মানুষকে।এছাড়াও যারা ( লোক বা গুষ্টি বা দল ) ইসলামের পক্ষে কাজ করে বা করার জন্য চেষ্টা করে ,কিংবা  ইসলামকে পূর্ণ বা আংশিক ভাবে মেনে চলে তাদেরকে যারা কাফের মনে করে তাদের তাদের কে খারেজী বলা হয়।

     

     

    খারেজীর আত্মপ্রকাশঃ

     

    জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ হতে বর্ণীত ,এক লোক রাসুল মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে জেরানা নামক স্থানে দেখা করেন। জেরানা নামক স্থানটি হল সেই জায়গা যেখানে  রাসুল মুহাম্মদ (সঃ) হুনায়নের যুদ্ধে প্রাপ্ত গনিমতের মাল বণ্টন করছিলেন ।সাহাবী বেলাল (রঃ) এর কাপড়ের উপর রুপার টুকরা গুলো  রাখা ছিল। নবীজি সেইখান থেকে মুষ্টি বদ্ধ ভাবে মানুষকে দান করছিলেন। তখন উপস্থিত ঐ লোক বললঃ- “হে মুহাম্মদ আপনি আল্লাহ্‌কে ভয় করুন ও ইনসাফ করুন”

     

    রাসুল মুহাম্মদ (সঃ) বলেনঃ ধ্বংস তোমার জন্য ।আমি যদি ইনসাফ না করি তবে কে ইনসাফ করবে? আল্লাহর শপথ! তোমরা আমার পর এমন কোন ব্যক্তি পাবে না যে আমার চেয়ে অধিক ন্যায় পরায়ণ হবে।সাথে সাথে ওমর (রঃ) (মতান্তরে খালিদ বিন ওয়ালিদ ) বলেন হে রাসুল আপনি অনুমতি দিন আমি এই মুনাফিককে হত্যা করি। রাসুল মুহাম্মদ (সঃ) বলেনঃ না, আমি আল্লাহ্‌র কাছে আশ্রয় চাই । যদি এমন কর তবে মানুষ বলবে আমি আমার সাহাবীদের হত্যা করি ।ঐ লোক চলে যাওয়ার পর ,তিনি আরও বলেন, এই লোকটা ও তার কিছু সঙ্গী থাকবে যারা কোরআন পড়বে কিন্তু কোরআন তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা ইসলাম থেকে এমন ভাবে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর ধনুক থেকে বের হয়ে যায়।[মুসলিম শরীফ][নাসায়ী শরীফ পৃষ্ঠা ৩০৮]

     

    এই লোকের বংশধর ও অনুসারীরাই হচ্ছে খারেজি।এরা কেমন হবে কি করবে রাসুল (সাঃ) এ সম্পর্কে বিস্তারিত বলে যান।

     

    মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করে রাসুল মুহাম্মদ (সঃ)  বলেন,অদূর ভবিষ্যতে আমার উম্মতের মধ্যে মতানৈক্য ও ফিরকা সৃষ্টি হবে।এমন এক সম্প্রদায় বের হবে যারা সুন্দর ও ভাল কথা বলবে।আর কাজ করবে মন্দ।তারা কোরআন পাঠ করবে-তা তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না।তারা দ্বীন অর্থাত্‍ ইসলাম থেকে এমনিভাবে বেরিয়ে যাবে,যেভাবে তীর শিকারী থেকে বেরিয়ে যায়।তারা সৃষ্টির সবচেয়ে নিকৃষ্ট।ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে এবং যুদ্ধে তাদের দ্বারা শাহাদাত বরণ করবে।তারা মানুষকে আল্লাহর কিতাব(কোরআন)-এর প্রতি দাওয়াত দেবে,অথচ তারা আমার কোন আর্দশের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।যে ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে লড়বে সে অপরাপর উম্মতের তুলনায় আল্লাহ তায়ালার অনেক নিকটতম হবে।সাহাবায়ে কেরাম বললেন,হে আল্লাহর রাসুল (দঃ)! তাদের চিহ্ন কি? হুজুর করীম (দঃ) উত্তরে বললেন,অধিক মাথা মুন্ডানো।(আবু দাউদ শরীফ,পৃষ্ঠা ৬৫৫,মিশকাত শরীফ,পৃষ্ঠা ৩০৮)

     

    মুহাম্মদ (সঃ)  আরো বলেন, ‘শেষ যামানায় একদল তরুণ বয়সী নির্বোধ লোকের আবির্ভাব ঘটবে, যারা সর্বোত্তম কথা বলবে। তারা ইসলাম থেকে এত দ্রুত গতিতে বের হয়ে যাবে, যেমন তীর ধনুক থেকে বের হয়ে যায়। তাদের ঈমান তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তোমরা তাদেরকে যেখানেই পাবে সেখানেই হত্যা করবে। কারণ যে তাদেরকে হত্যা করবে তার জন্য ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট নেকী রয়েছে’।

    [বুখারী হা/৩৬১১, ৫০৫৭, ৬৯৩০; মুসলিম হা/২৫১১; আবূদাঊদ হা/৪৭৬৭; নাসাঈ হা/৪১০২; মিশকাত হা/৩৫৩৫]

     

    অন্য বর্ণনায় আছে, রাসুল মুহাম্মদ (সঃ) বলেন, ‘তোমরা তাদের সালাতের তুলনায় তোমাদের সালাতকে তুচ্ছ মনে করবে, তাদের সিয়ামের  তুলনায় তোমাদের সিয়ামকে এবং তাদের আমলের তুলনায় তোমাদের আমলকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে…। তারা মুসলমানদেরকে হত্যা করবে এবং মূর্তিপূজকদের ছেড়ে দিবে…’। [বুখারী হা/৫০৫৮; মুসলিম হা/২৪৫৩ ও ২৪৪৮; মিশকাত হা/৫৮৯৪]

     

     

    মূসা ইবনে ইসমাইল(র)………..­ইউসায়ের ইবনে আমর(রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাহল ইবনে হুনায়েফ (রা) কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি নবী(সা)কে খারিজীদের সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন কি? তিনি বললেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি। আর তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) তাঁর হাত ইরাকের দিকে বাড়িয়েছিলেন যে, সেখান থেকে এমন একটি কাওম বের হবে যারা কুরআন পড়বে সত্য, কিন্তু তা তাদের গলদেশ অতিক্রম করবেনা। তারা ইসলাম থেকে বেরিয়ে য়াবে যেমন তীর শিকার ভেদ করে বেরিয়ে যায়।

     (সহিহ বুখারী, খন্ড ৮, অধ্যায় ৮৪, হাদিস ৬৮)

     

    মুসনাদে আহমাদের অন্য বর্ণনায় এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাঃ বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ব দিক থেকে আমার উম্মতের মধ্যে এমন একদল লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা কোরান তেলাওয়াত করবে কিন্তু কোরানের বানি তাদের কণ্ঠনালি অতিক্রম করবে না। যত বারই তাদের কিছু অংশের প্রাদুর্ভাব দেখা যাবে ততবারই তারা ধ্বংস (হত্যা করা) হয়ে যাবে। এভাবে রাসুল সাঃ দশ বার বলার পরে বলেন, 'যত বারই তাদের কিছু অংশের আবির্ভাব হবে ততবারই তারা ধ্বংস (হত্যা করা) হয়ে যাবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদেরই একটি গোষ্ঠীর মধ্যে দাজ্জালের আবির্ভাব হয়।

     

  4. 2
    মজলুম

    আই এস হলো খালি কলসির মতো, এটা বাজে বেশী আবার মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা বাজায় ও বেশী। অনেকদিন ধরে এদের পর্যাবেক্ষন করেছি! এমনকি এই সদালাফে এদের পক্ষে কমেন্ট ও করেছি। এরা হলো খাঁটি খারেজীদের দল। আর খারেজীরা হলো ইসলামের প্রথম চরম পন্হী সন্ত্রাসী দল যারা সাহাবীদের পরবর্তী জেনারেশন হতে শুরু হয়েছিলো। এই খারেজীদের কাছে হত্যা করা ছাড়া আর কোন সমাধান নাই। খারেজীরা আল্লাহর রাসূল ও তার সাহাবীদের ছেয়েও বড় মুসলমান সাজতে চায়। এরা নিজেরা শুধু নিজেকে ছাড়া আর সবাইকে কাফের ঘোষনা দিয়ে হত্যা করে, হোক সে মুসলিম বা নন-মুসলিম।  এরা হযরত আলী (রাঃ) কে কাফির ঘোষনা দিয়ে হত্যা করেছে। সাদ বিন ওয়াক্কাস হলেন ইরাককে পারসিয়ান সম্রাজ্য হতে মুক্ত করা সাহাবি। আর খালিদ বিন ওয়ালিদ হলো সিরিয়াকে রোমান সম্রাজ্য হতে মুক্ত করা সাহাবি। তারপর এই দেশগুলো সাহাবি দ্বারা, তাবেয়ীন দের দ্বারা, তাবে তাবেয়িনদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। এই সাহাবীরা যাদের মতো মুসলমান কেয়ামত পর্যন্ত হবেনা এরা কোন পুরাতন ভাস্কর্য, পুরাকীর্তি ও স্থাপনা সমৃদ্ধ ধ্বংস করেনি। ইয়াজিদি সম্প্রদায়কে মুসলিমরা ১৪০০ বছর ধরেই শাসন করেছে, কোন ইসলামি খলিফা এদের সাথে অবিচার করেনি। কিন্তু এই খারেজী স্টেটের খারেজীরা যা সাহাবীরা করেনি, তাবেয়ীন রা করেনি, তাবে তাবেয়িনরা করেনি তা ওরা করছে। নিরিহ ইয়াজিদি নারী, পুরুষ, শিশুদের যে লোহমর্ষক অ্ত্যাচার এরা করেছে ইসলামের নাম দিয়ে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

    অনেকেই হয়তো বলবেন আমি মিডিয়া যা বলে তাই বলছি, একটুও না। ওদের প্রত্যেকটা ম্যাগাজিন বের হলেই আমি পড়ি, ওদের গোপন ওয়েবসাইট গুলো দেখি। এদের কথা হলো যেই এদের পক্ষে নাই সেই কাফির। যেহেতু সে কাফির তাই তাকে হত্যা করা ফরজ। এরা মিডল ইস্টের সব দেশের মধ্যে শিয়া-সুন্নি গৃহযুদ্ব শুরু করার জন্যে সৌদি ও কুয়েতে শিয়া মসজিদে নিরিহ শিয়াদের আত্বঘাতি হামলায় হত্যা করছে।  এমন কোন অপকর্ম নেই যে তারা করেনি। এরা শাইখ ইয়াসীর কাদরী ও শাইখ হামজা কে হত্যা করার ঘোষনাও দিয়েছে।

    এদের কাছে যখন রেফারেন্স চাই ওদের কর্মকান্ডের পক্ষে তখন ওরা কি তাজখেরাতুল মাজখেরাত বইয়ের রেফারেন্স নিয়ে আসে। মূল বিষয় হলো কোরান হাদিসের বাইরে গিয়ে তাজখেরাতুল মাজখেরাতের কোন মূল্য নাই। ভাগ্য ভালো যে ওয়েব ফোরামে আমারে ব্যান মারে, সামনে পাইলে আমার মাথা দেহ হতে বিচ্ছিন্ন করে দিতো।

    তবে আশার কথা হলো, এরা বেশিদিন টিকবেনা। যে কোন চরমপন্হি মতবাদ হিউম্যান সিভিলাইজেশানের সাথে যায় না। তাই ইসলামের প্রথম যুগে খারেজীরা টিকেনি, বিংশ শতকের প্রথম দিকে চরমপন্হী এনারকিস্টরা টিকেনি, নাৎসি মতবাদ টিকেনি, জাপানি সুপ্রিম রেইস ও টেকেনি। এরা নিজ হতেই জ্বলেপুড়ে নিজেরাই ছাই হয়ে শান্ত হবে।

     

  5. 1
    কিংশুক

    ফালতু বিশ্লেষন। পাকিস্তানের শিয়া বিরোধী জংলি হামলার কারন একরকম। কারন সেখানে প্রায় 10% শিয়ার সাথে রাজনীতি, ক্ষমতা, ইতিহাস, প্রতিবেশী ইরান অনেক কিছু জড়িত। ভারতে ভারত বিভাগ, কাশ্মীর, হিন্দুত্ববাদী বিজেপি, রাজনীতি, ইতিহাস আলাদা। নাইজেরিয়া, সোমালিয়া ইতিহাস, আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি আলাদা। ঐসব অঞ্চলের মানুষের উপর দীর্ঘ দমন পীড়ন, বৈষম্য এর ইতিহাসও
    আলাদা ।মধ্যপ্রাচ্যের শিয়া সুন্নি বিরোধ, আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক রাজনীতি আলাদা । আরব, ইজরায়েল জাতীয়তাবাদ, ইতিহাস, সমাজতন্ত্র আলাদা । থাইল্যান্ডের রাজনীতির, ক্ষমতার বিবাদ আলাদা । সব কিছু জংগিবাদের ঘাড়ে চাপানো বোকামি । বাংলাদেশ এ শিয়া নাই, খনিজ সম্পদ না থাকার মতোই, আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তেমন গুরুত্ব প্রভাব নাই, প্রতিবেশী বড় দেশকে জি হুজুর করে থাকায় ভয়ের কোনও কারন নাই। ভয় কেবল ক্ষমতার লড়াই কেন্দ্রীক অপরাজনীতি, সরকারের ইসলাম বিরোধীদের তোয়ালে কারনে মূলধারার ইসলামিক দলের সদস্যরা না কোনদিন চরমপন্থীরা দিকে ঝোঁকে। গণতন্ত্র না থাকলে বিরোধী দল চরমপন্থা নিতে পারে ।

Comments have been disabled.