«

»

Apr ১৪

ইসলামের ভিত্তি, মূলমন্ত্র

সৃষ্টির শুরু থেকেই দীনুল হকের ভিত্তি হচ্ছে তওহীদ অর্থাৎ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এই কলেমাটি, এ নিয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই। তওহীদ ব্যতীত কোন ইসলামই হতে পারে না, তওহীদই ইসলামের প্রধান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, বর্তমানে তওহীদ সম্পর্কে যে ধারণা করা হয় (আকীদা) তা ভুল। বর্তমানের মুসলিমদের কাছে তওহীদ মানে আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করা এবং তাঁর ইবাদত বা উপাসনা করা। ‘তওহীদ’ এবং ‘ওয়াহদানিয়াহ্’ এই আরবী শব্দ দু’টি একই মূল থেকে উৎপন্ন হলেও এদের অর্থ এক নয়। ‘ওয়াহদানিয়াহ্’ বলতে বোঝায় মহাবিশ্বের স্রষ্টা আল্লাহ যে একজন তা বিশ্বাস করা (একত্ববাদ-Monotheism), পক্ষান্তরে ‘তওহীদ’ মানে ঐ এক আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া, তাঁর ও কেবলমাত্র তাঁরই নিঃশর্ত আনুগত্য করা, তাঁর হুকুম ছাড়া অন্য কারো হুকুম না মানা।

 

আরবের যে মোশরেকদের মধ্যে আল্লাহর শেষ রসুল (সা.) এসেছিলেন, সেই মোশরেকরাও আল্লাহর একত্বে, ওয়াহদানিয়াতে বিশ্বাস করত, কিন্তু তারা আল্লাহর হুকুম, বিধান মানতো না অর্থাৎ তারা আল্লাহর আনুগত্য করত না। তারা তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও সামষ্টিক জীবন নিজেদের মনগড়া নিয়ম-কানুন দিয়ে পরিচালনা করত। এই আইনকানুন ও জীবন ব্যবস্থার উৎস ও অধিপতি হিসাবে ছিল বায়তুল্লাহ, কা’বার কোরায়েশ পুরোহিতগণ, সমাজপতিগণ। মূর্তিপূজারী হওয়া সত্ত্বেও তাদের এই ঈমান ছিল যে, এ বিশ্বজগতের স্রষ্টা আল্লাহ একজনই এবং তাদের এই ঈমান বর্তমানে যারা নিজেদেরকে মো’মেন মুসলিম বলে জানে এবং দাবি করে তাদের চেয়ে কোন অংশে দুর্বল ছিল না (সূরা যুখরুফ ৯, আনকাবুত ৬১, লোকমান ২৫)। কিন্তু যেহেতু তারা আল্লাহর প্রদত্ত হুকুম মানতো না, তাই তাদের ঐ ব্যক্তিগত বিশ্বাস ছিল অর্থহীন, নিষ্ফল এবং স্বভাবতঃই আল্লাহর হুকুম না মানার পরিণতিতে তাদের সমাজ অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, নিরাপত্তাহীনতা, সংঘর্ষ ও রক্তপাতে পরিপূর্ণ ছিল, এ জন্য আরবের ঐ সময়টাকে আইয়্যামে জাহেলিয়াত বলা হয়। আল্লাহর হুকুমের প্রতি তাদেরকেসহ সমগ্র মানবজাতিকে ফিরিয়ে আনার জন্যই আখেরি নবী (সা.) প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি (সা.) এসে আইয়্যামে জাহেলিয়াতে নিমজ্জিত ঐ জাতিটিকে আল্লাহর হুকুমের প্রতি ফিরিয়ে আনলেন, ফলশ্রুতিতে অন্যায় অশান্তিতে নিমজ্জিত সেই সমাজটি নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, সুখ-সমৃদ্ধিতে পূর্ণ শান্তিময় (ইসলাম অর্থই শান্তি) একটি সমাজে রূপান্তরিত হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং আল্লাহর আনুগত্য না করা অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম না মানাই ছিল তাদের কাফের মোশরেক হওয়ার প্রকৃত কারণ। বর্তমানের মুসলিমরা উপলব্ধি করতে পারছে না যে প্রাক-ইসলামিক যুগের আরবের কাঠ পাথরের মূর্তিগুলিই এখন গণতন্ত্র, সাম্যবাদ, এক নায়কতন্ত্র, রাজতন্ত্র ইত্যাদির রূপ ধরে আবির্ভূত হয়েছে এবং মুসলিম জনসংখ্যাটি আল্লাহর পরিবর্তে এদের তথা এদের প্রবর্তক ও পুরোধা ‘পুরোহিতদের’ আনুগত্য করে যাচ্ছে। এই প্রতিটি তন্ত্র আলাদা আলাদা একেকটি দীন (জীবনব্যবস্থা), ঠিক যেমন দীনুল হক ‘ইসলাম’ও একটি জীবনব্যবস্থা। পার্থক্য হলো, এই মানবরচিত দীনগুলি মানবজীবনের বিশেষ কিছু অঙ্গনের, বিশেষ কিছু বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে, কিন্তু সঠিক সমাধান দিতে পারে না আর ইসলাম মানবজীবনের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় থেকে শুরু করে সামষ্টিক অঙ্গনের সকল বিষয়ে সুঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা দিয়ে থাকে। বর্তমানের মুসলিম নামক জনসংখ্যাটি এই সকল মানবরচিত তন্ত্রের প্রতিমার আনুগত্য করে সেই পৌত্তলিক আরবদের মতই শেরক ও কুফরে নিমজ্জিত হয়েছে। আল্লাহর রসুল এসে মোশরেক আরবদেরকে আল্লাহর তওহীদের ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সেখানে আল্লাহর একত্ববাদ (ওয়াহদানিয়াত) প্রতিষ্ঠা করেন নি, কারণ আল্লাহর একত্ববাদের বিষয়ে সেই মোশরেকদের আগে থেকেই সুদৃঢ় ঈমান ছিল। তারা তাদের দেবদেবীর কোনটিকেই আল্লাহ মনে করত না, স্রষ্টা বা প্রভুও ভাবত না, তারা সেগুলির পূজা করত এই বিশ্বাসে যে সেগুলি তাদেরকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করবে এবং তাদের হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে (সুরা ইউনুস- ১৮, সুরা যুমার- ৩)। সুতরাং মূর্তি পূজার নেপথ্যে তাদের প্রকৃত উপাস্য আল্লাহই ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে যে মতবাদগুলির আনুগত্য করা হচ্ছে এর মধ্যে কোথাও আল্লাহর স্থান নেই, এগুলি আল্লাহর অস্তিত্ব সম্পর্কেই সম্পূর্ণ নির্বিকার। ফলে বর্তমানের মো’মেন মুসলিম হবার দাবিদারগণ যে শেরক ও কুফরে লিপ্ত তা নিঃসন্দেহে ১৪০০ বছর আগের আরবদের শেরক ও কুফরের চেয়েও নিকৃষ্টতর। 

এই যে আমি এ বিষয়কে কার্যতঃ শেরক ও কুফর বলছি, আমার এ কথার গুরুত্ব ও দায়িত্ব সম্পর্কে আমি সম্পূর্ণ সচেতন। তবে পাঠককে সনির্বন্ধ অনুরোধ করছি এ ব্যাপারে আপনার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার আগে এ বক্তব্যের পক্ষে যে যুক্তিগুলি পেশ করছি সেগুলি একটু গভীরভাবে ভেবে দেখার জন্য। যদি এ জনসংখ্যাটি প্রকৃত মো’মেন, মুসলিম ইত্যাদি হয়ে থাকে তাহলে কোর’আনের অনেক আয়াত মিথ্যা হয়ে যায়, যা হওয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। আল্লাহ ওয়াদা করেছেন- তোমরা যদি মো’মেন হও তবে পৃথিবীর কর্তৃত্ব তোমাদের হাতে দেব যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দিয়েছিলাম (সূরা নূর ৫৫)। তাঁর ওয়াদা যে সত্য তার প্রমাণ নিরক্ষর, চরম দরিদ্র, সংখ্যায় মাত্র পাঁচ লাখের উম্মতে মোহাম্মদীর হাতে তিনি অর্ধ-পৃথিবীর কর্তৃত্ব তুলে দিয়েছিলেন। প্রশ্ন হলো, আমরা নিজেদের মো’মেন বলে দাবি করি, তাহলে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পৃথিবীর কর্তৃত্ব, আধিপত্য আমাদের হাতে নেই কেন? সেই সর্বশক্তিমান আল্লাহ নিশ্চয় তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যতিক্রম করেন না। তিনি আরও বলেছেন, তিনি মো’মেনদের ওয়ালী (বাকারা ২৫৭)। ওয়ালী অর্থ- অভিভাবক, বন্ধু, রক্ষক ইত্যাদি। আল্লাহ যাদের ওয়ালী তারা কোনদিন শত্রুর কাছে পরাজিত হতে পারে? তারা কোনদিন পৃথিবীর সর্বত্র অন্য সমস্ত জাতির কাছে লান্ছিত, অপমানিত হতে পারে? তাদের মা-বোনরা শত্রুদের দ্বারা ধর্ষিতা হতে পারে? অবশ্যই নয়। এর একমাত্র জবাব হচ্ছে- আমরা যতোই নামাজ পড়ি, রোযা রাখি, যতোই হাজার রকম ইবাদত করি, যতোই মুত্তাকী হই, আমরা প্রকৃত মো’মেন নই, প্রকৃত মুসলিম নই, আমরা জাতিগতভাবে শিরক ও কুফরে নিমজ্জিত। 

আমরা ইসলামের ভিত্তি থেকেই সরে গেছি। ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে তওহীদ অর্থাৎ আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, এটাই ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী মোহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত এ কলেমাই এই দীনের অপরিবর্তনীয় ভিত্তি যাতে কোন দিনই “ইলাহ” শব্দটি ছাড়া অন্য কোন শব্দই ব্যবহৃত হয় নি। আল্লাহই আমাদের একমাত্র উপাস্য, স্রষ্টা, পালনকর্তা তাতে কোন সন্দেহ নেই, তবে এগুলি স্বীকার করে নেওয়া এই দীনের ভিত্তি নয়, কলেমা নয়। বরং কলেমা হচ্ছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহকে ইলাহ হিসাবে না মেনে কেউ মো’মেন হতে পারবে না।

কলেমায় ব্যবহৃত ‘ইলাহ’ শব্দের প্রকৃত অর্থ, ‘যাঁর হুকুম মানতে হবে’ (He who is to be obeyed)। শতাদ্বীর পর শতাদ্বীর কাল পরিক্রমায় যেভাবেই হোক এই শব্দটির অর্থ ‘হুকুম মানা বা আনুগত্য’ থেকে পরিবর্তিত হয়ে হয়ে গেছে ‘উপাসনা, বন্দনা, ভক্তি বা পূজা করা (He who is to be worshiped)। যেভাবে ‘হেদায়াহ’ (সঠিক দিক নির্দেশনা) শব্দটি প্রায়োগিক অর্থে ‘তাকওয়া’য় রূপান্তরিত হয়েছে, আকীদা আর ঈমান অভিন্ন বিষয়ে পরিণত হয়েছে ঠিক সেভাবেই ইলাহ শব্দের অনুবাদ পৃথিবীর সর্বত্র মা’বুদ বা উপাস্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সারা দুনিয়ায় খ্রিষ্টানদের প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাগুলিতে কলেমার অর্থই শেখানো হয় – লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মানে আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই। কোর’আনের ইংরেজী অনুবাদগুলিতেও কলেমার এই অর্থই করা হয় (There is none to be worshiped other than Allah)। এর ভেতরকার ভুল এবং অসঙ্গতিটি দিবালোকের মতো পরিষ্কার। ‘উপাস্য’ কথাটির আরবী হচ্ছে ‘মা’বুদ’, তাই “আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই” এই বাক্যটিকে আরবী করলে দাঁড়ায় “লা মা’বুদ ইল্লাল্লাহ’, যা কখনও ইসলামের কলেমা হয় নি, আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী মোহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত কোন নবীই এই কলেমা নিয়ে আসেন নি, কোন অমুসলিম এই কলেমা পড়ে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ (উপাস্য) নেই’ ঘোষণা দিয়ে মুসলিম হতে পারবে না। এই ভুলের পরিণাম যে কত সুদূর প্রসারী ও দুর্ভাগ্যজনক দেখুন! কলেমার ‘ইলাহ’ শব্দটির অর্থ ভুল বোঝার ভয়াবহ পরিণতি এই হয়েছে যে সম্পূর্ণ মুসলিম জনসংখ্যাটি এই দীনের ভিত্তি থেকেই বিচ্যুত হয়ে গেছে, ফলে তারা মো’মেন হবার প্রথম শর্ত থেকেই সরে গেছে। এই ভুলের আরও মারাত্মক এক পরিণতি হয়েছে। সেটা হলো ‘ইলাহ’ শব্দের অর্থ পাল্টে যাওয়ায় এই মুসলিম জনসংখ্যার কলেমা সংক্রান্ত ধারণাই (Conception, আকীদা) পাল্টে গেছে, যে মহাগুরুত্বপূর্ণ আকীদা ভুল হলে সকল ফকীহগণের সর্বসম্মত অভিমত হচ্ছে, সকল আমল অর্থহীন হয়ে যায়, এমনকি ঈমানেরও কোন মূল্য থাকে না। বর্তমানে এই জাতির আকীদায় আল্লাহর হুকুম মানার কোন গুরুত্ব নেই, তাঁর উপাসনাকেই যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। কলেমার অর্থ সম্পর্কে এই ভুল আকীদা এই জনসংখ্যার আত্মায় এবং অবচেতন মনে গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে। ফলে সারা দুনিয়াতে এমন কোন দল নেই, এমন কোন রাষ্ট্র নেই যারা তাদের সামষ্টিক, জাতীয় জীবনে আল্লাহর হুকুম মেনে চলছে, যা কিনা ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর আদেশ নিষেধ মানার চেয়ে বহুগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য। জাতীয় জীবনে আল্লাহকে অমান্য করে তার বদলে উপাসনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ইত্যাদি দিয়ে আসমান জমীন ভর্তি করে ফেলা হচ্ছে, কিন্তু সেই পর্বত সমান উপাসনাও বিশ্বময় তাদের করুণ দুর্শশার প্রতি দয়াময় আল্লাহর কৃপাদৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে, বিজাতির হাতে তাদের অবর্ণনীয় নিপীড়ন, লাঞ্ছনা, পরাজয়, অপমান, নিগ্রহ বন্ধ তো হচ্ছেই না, বরং দিন দিন আরো বেড়ে চলছে।

‘ইলাহ’ শব্দের অর্থ যে ‘আনুগত্য করা’, উপাসনা করা নয় তা কোর’আনের বহু আয়াত থেকে বোঝা যায়। সূরা ফাতাহ’র ১৭নং আয়াতে আল্লাহ বলছেন, ‘যে আল্লাহ এবং তাঁর রসুলের আনুগত্য করে (হুকুম মানে) আল্লাহ তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ এখানে জান্নাতে যাওয়ার পূর্বশর্ত আল্লাহ দিলেন, যে আনুগত্য করে (হুকুম মানে), বললেন না যে, ‘ইবাদত, উপাসনা করে।’ এখানে তিনি অন্য কোন আমলের কথাও বললেন না, না সালাহ কায়েম, না যাকাত প্রদান, না হজ্ব, না সওম, অন্যান্য ছোটখাটো আমলের তো কথাই নেই। তিনি জান্নাত প্রদানের ওয়াদা করলেন শুধুই তাঁর এবং তাঁর রসুলের আনুগত্যের বিনিময়ে, হুকুম মানার বিনিময়ে। সূরা নেসার ৬৯নং আয়াতটি দেখুন, আল্লাহ বলছেন, ‘যে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের হুকুম মান্য করবে সে নবী, শহীদ, সিদ্দিক ও সালেহীনদের সঙ্গে (অর্থাৎ জান্নাতে) থাকবে।’ এখানেও ‘আনুগত্য করা’ ছাড়া আর কোন শর্ত আল্লাহ দেন নি। সুতরাং কলেমায় ব্যবহৃত ‘ইলাহ’ শব্দের অর্থ ‘উপাস্য’ হওয়া সম্ভব নয়, এর অর্থ অবশ্যই ‘যার আনুগত্য করা হয়, হুকুম পালন করা হয়’। আল্লাহর দাবি হচ্ছে, প্রথমে মানুষকে এই অঙ্গীকারে আবদ্ধ হতে হবে যে আল্লাহ যা হুকুম করবেন তাই সে মেনে নিবে এবং তাঁর আনুগত্য করবে। তারপর এই চুক্তি বাস্তবায়নকল্পেই সে আল্লাহর ইবাদত করতে বাধ্য, কারণ আল্লাহর হুকুম হচ্ছে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা। তাহলে বোঝা গেল, প্রথম কাজ আল্লাহর আনুগত্য মেনে নেওয়া, তারপরে তাঁর ইবাদত করা। সূরা আম্বিয়ার ২৫ নং আয়াতটি দেখুন, আল্লাহ বলছেন, “আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নেই, সুতরাং তাঁর ইবাদত করো।” যদি ইবাদত করাই প্রথম ও প্রধান কাজ হতো তাহলে আয়াতটি হতো এমন যে, “আল্লাহ ছাড়া মা’বুদ (ইবাদত, বন্দনা পাওয়ার অধিকারী) কেউ নয়, সুতরাং তাঁরই আনুগত্য করো”, আরবীতে লা মা’বুদ ইল্লাল্লাহ, ফা আত্তাবিয়্যুহু। কিন্তু কোর’আনে এমনটা একবারও বলা হয় নি। সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ ‘ইলাহ’ এবং ‘মা’বুদ’ শব্দ দু’টি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেছেন কারণ এদের অর্থও সম্পূর্ণ আলাদা। 

মোটকথা, আমরা যারা নিজেদেরকে কেবল মুসলিমই নয়, একেবারে মো’মেন ও উম্মতে মোহাম্মদী বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, তারা প্রকৃত মো’মেন, মুসলিম আছি কি না তা বিবেচনা করতে হবে। আল্লাহ বলছেন, ‘আল্লাহ যা নাযেল করেছেন সে অনুযায়ী যারা হুকুম (বিচার ফায়সালা) করে না তারা কাফের, জালেম, ফাসেক (সূরা মায়েদা ৪৪, ৪৫, ৪৭)। এই আয়াতগুলিতে ‘হুকুম’ শব্দটি দিয়ে কেবল আদালতের বিচারকার্যই বোঝায় না, ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক অর্থাৎ সামগ্রিক জীবন তাঁর নাযেল করা বিধান অর্থাৎ কোর’আন (এবং সুন্নাহ) মোতাবেক পরিচালনা করাকেও বোঝায়। মো’মেন মুসলিম হবার দাবিদারগণ এখন আর একটি সু-সংহত উম্মাহরূপে নেই, তারা ভৌগোলিকভাবে পঞ্চাশটিরও বেশি জাতিরাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে ইউরোপীয় খ্রিষ্টান, ইহুদি ও পৌত্তলিকদের দাসে পরিণত হয়েছে, তাই তারা তাদের সামষ্টিক কার্যাবলী আল্লাহর নাযেলকৃত বিধান দিয়ে ফায়সালা করে না। ফলশ্রুতিতে তারা ফাসেক (অবাধ্য), জালেম (অন্যায়কারী) এবং কাফেরে (প্রত্যাখ্যানকারী) পরিণত হয়েছে। আল্লাহ প্রদত্ত বিধানগুলিকে অপাংক্তেয় করে রেখে তারা ইহুদি-খ্রিষ্টানদের আইন, কানুনগুলি নিজেদের দেশে প্রবর্তন করে তা দিয়ে সামষ্টিক কার্যাবলী পরিচালনা করছে।

এতক্ষণে নিশ্চয়ই আমরা পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছি যে তওহীদ ও দীন যে দুটি ভিন্ন বিষয় এবং এ দুটির তফাৎ কী। তওহীদ হচ্ছে ভিত্তি এবং দীন হচ্ছে এই ভিত্তির উপর নির্মিত অবকাঠামো, দালান। তওহীদ হচ্ছে, “একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য সকল সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করা এবং প্রতিটি বিষয়ে তাঁর হুকুমের আনুগত্য করা। সংক্ষেপে জীবনের সর্বক্ষেত্রে তাঁর ও তাঁর রাসূলের হুকুম মানা, প্রতিটি বিষয়ে যেখানেই তাঁর কোন বক্তব্য আছে তা বিনা প্রশ্নে, বিনা দ্বিধায় মেনে নেওয়া। যে বিষয়ে তাঁর অথবা তাঁর রসুলের কোন বক্তব্য নেই সে বিষয়ে, তা ব্যক্তিগত হোক বা সমষ্টিগত, আমরা স্বাধীনভাবে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি।” 

আসুন আমরা কলেমাতে ফিরে আসি, তওহীদে ফিরে আসি, প্রকৃত মো’মেন হই, প্রকৃত মুসলিম হই, জান্নাতের পথ সুগম করি।

৮ comments

Skip to comment form

  1. 5
    ইসলাম কিংডম

    প্রয়োজনীয় পোস্ট

  2. 4
    কিংশুক

    দুঃখিত লেখাটা চার লাইন বেশী বুজা মুসলিম ব্রাদারহুডি/জামাতি কোন গুরুর লেখা হতে পারে। উনারা অবশ্য জংগি নন ও গণতন্ত্র বিরোধীও নন। এখানে যেহেতু গণতেন্ত্রকেও জাহিলিয়াত বলা হয়েছে(জাহিলিয়াতে কোন দেশে গণতন্ত্র ছিল? সব দেশে রাজতন্ত্র /সাম্রাজ্য বাদ ছিল)।

     

     

     

  3. 3
    কিংশুক

    আপনি প্রথমেই বর্তমানের মুসলমানদের আকিদা ভুল বলে ঘোষণা করলেন। অথচ এখনও বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ ইসলামি স্কলার আছেন ও জানপ্রান দিয়ে ইসলামের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।আপনি কি এ শতাব্দির নবী না মুজাদ্দিদ (নাউজুবিল্লহ)? তা ইসলামকে চৌদ্দশ বছরের ইতিহাসে তো লক্ষ লক্ষ আলেম আক্বিদা, ফ িকাহ, ত াফসির, হাদিস, সি রাত বিষয়ে পড়ালেখা, গবেষণা তে জীবন উৎসর্গ করে গেছেন। আপনার এই আকিদার বিষয়ে তো কোন আকিদা বিশারদ যেমন : আশাআরী, মাতুরিদি,মুতাজিলি, গাজ্জালি, শিয়া  ইত্যাদি আকিদা বিশারদ বা ইলমে কালাম বিশারদরা  কেউই কিছু বলে যাননি। লা ইলাহা……অর্থাত্ কালেমার অর্থ স্বয়ং রাসুল সাঃ এর হাদিস, সাহাবা, তাবেয়িন, তাবে তাবেয়িনদের মধ্যের হাজারো স্কলারদের কারো সাথেই আপনার ব্যাখ্যা মিলবেনা। আল্লাহ্ র সাথে শরীক করে অন্য কোন ইশ্বর/দেবতা, আল্লাহর পুত্র এর ইবাদত না করা অর্থাত্ একমাত্র আল্লাহ্ কেই একমাত্র উপাস্য,প্রতিপালক বলে মেনে নেওয়া,  অন্য উপাস্য গুলি মনগড়া মিথ্যা বলে মেনে নেওয়ার কথাই কোরআন ও হাদিসে রয়েছে । আরবের মুশরিকরা আল্লাহ্ কে একমাত্র উপাস্য ও পালন কর্তা মানতো না। আরও অনেক দেব দেবীর পুজা করতো। পরকাল, তাকদির,  বেশেশত,দোযখ, পুনরুত্থান  ইত্যাদি ঈমানের মূল জিনিস গুলিই বিশ্বাস করতোনা। নবীজি সাঃ এর হাজারো মোজেজা ,নিজেদের ধর্ম গ্রন্থের বর্ণনা দেখে মোহাম্মদ সাঃ সত্য নবী জেনেও অস্বীকার করতো বলেই তারা কাফির বা গোপনকারী ছিল । ঈমাণ কাকে বলে সে বিষয়ে কোরআন ও সহিহ মুতাওয়াত্তির হাদিসে স্পষ্ট বলা আছে। ইসলাম কাকে বলে তাও বলা আছে। কোরআন শরীফ রিডিং পড়লেও ঈমাণ,:ইসলাম,  কাফেরদের বিশ্বাস সব জানা যায় । আপনি কোরআন রিডিং পড়েছেন বলেও মনে হয়না। সুরা মায়েদার ঐ আয়াতগুলি ইহুদিদের সম্পর্কে এবং ঐ আয়াতগুলি নাজিলের শানে নুজুল বড় ঘটনা বলে লিখলামনা, নিজেই পড়ে নিবেন। ইহুদিরা নিজেদের ধর্ম গ্রন্থ বিকৃতি, হালাল হারাম পরিবর্তন,  সুদের ব্যবসা, ধনী গরিবের জন্য আলাদা বিচার,  হযরত উযায়ের কে ইশ্বর পুত্র,  অনেক নবী রাসুল হত্যা,  ধর্ম গ্রন্থের যতটুকু নিজের পক্ষে হয় তা মানা ও বাকিটা পরিবর্তন করে দেওয়া,  আল্লাহর গ্রন্থের চেয়ে নিজেদের  লোভী রাব্বিদের কথাকেই বেশী প্রাধান্য দেওয়া, পর কাল, পুনরুত্থান ঠিকমতো না মানা, প্রতারণা, চরম ইসলাম নবী সাঃ বিদ্বেষ, মোহাম্মদ সাঃ কে হত্যার আপ্রাণ ষড়যন্ত্র ইত্যাদি অনেক কারনে এমনিতেই কাফের। মুসলমান যদি ঈমানের বিষয় গুলি বিশ্বাস করে,    ফরজকে অস্বীকার না করে তাহলে সে হাজার ও কবিরা গুনাহ করলেও মুসলমানই থাকে, কাফের হয়না। আপনি নিজে কোন ইসলামি স্কলার না, অথচ সমগ্র মুসলিম বিশ্বকেই তাকফির করে ফেললেন। গত তেরশ বছর এই সমস্যা ছিলনা। হঠাত্ করে বিগত শতাব্দীতে জাহিলিয়াতের এইসব নতুন থিসিস নিয়ে কিছু নব্য পন্ডিতদের জন্ম হয়েছে । এই লেখাটা নিশ্চিত আপনার নিজের মৌলিক লেখা না।কোন খারেজি কুত্তা জ ংগির লেখা যা আপনি কপি পেষ্ট করেছেন । এভাবেই খারেজি কুত্তা জংগিরা মুসলমানদের তরুণদের জংগি বানিয়ে নিরীহ মুসলমান নারী,শিশুকে বোমা মারে, মসজিদে বোমা মারায়। সদালাপে উম্মাহর আহলে সুন্নাহর জামাত ভাংগা, তাকফিরি, খারেজি কুত্তা বাল কায়েদা, আইএস ইত্যাদি মতবাদী উগ্র জংগিদের আদর্শের কোন ইসলাম বিকৃতি কারী  লেখা ছাপা উচিত না। অনেক কম জানা কিশোর,তরুণ এ সব পড়ে জ্ঞানের জাহাজ! জংগি মতবাদী হতে পারে। এমন অনেক সহীহ হাদিসও আছে যে আল্লাহ্ কে একমাত্র রব ও মোহাম্মদ সাঃ কে আল্লাহর রাসুল বলে বিশ্বাস করলে দোযখের আগুন হারাম হয়ে যাবে।

     

    1. 3.1

      Well said কিংশুক bhai,

      Jajak-Allahu-Khayrun

  4. 2
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    চমৎকার কিছু বিষয় এসেছে লেখায়। মুলে ফিরে যাওয়া এবং আত্ন-জিজ্ঞাসার মাধ্যমে ভুলত্রুটি বের করে তার নিয়ে কাজ করার বিপরীতে সব কিছু জন্যে অন্যের দিকে আংগুল তুলে নিজেদের ভুলগুলো এড়িয়ে যাওয়ার যে প্রবনতা দেখছি -- তার থেকে বের হওয়া একটা পথ এই লেখায় এসেছে। 

     

    আপনার লেখায় একটা বিশেষ সাহসী কথা এসেছে -- যা আমাদের সবার ভাবা উচিত:

     প্রশ্ন হলো, আমরা নিজেদের মো’মেন বলে দাবি করি, তাহলে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পৃথিবীর কর্তৃত্ব, আধিপত্য আমাদের হাতে নেই কেন? 

    -- এই আত্নজিজ্ঞাসার জন্যে যে সাহস দরকার তা এখনও আমরা অর্জন করতে পারিনি। 

     

    যাই হোক -- আমার শেষ লেখায়ও একই প্রশ্ন তুলেছিলাম -- সুরা আন-নুরের আয়াত ৫৫ থেকেই এই প্রশ্ন করা যায় -- আল্লাহর প্রতিশ্রুত খেলাফত মুসলিমদের হাতে নেই কেন? 

    সবশেষে একটা বিষয় -- সুরা নুরের আয়াতের যে রেফারেন্স দিয়েছেন -- তাতে শুধু ঈমান নয় -- তার সাথে আরেকটা শর্ত আছে -- তা হলো -- আমালুস সালিহা (সৎ কর্ম) করা। অবশ্যই কোরানে ইমানের সাথে আমালুস সালিহার বিষয়টা বেশ কয়েকবার এসেছে। দয়া করে আয়াতটা ঠিক করে দেবেন।

    "তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকতৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য।" (সুরা আন-নুর আয়াত ৫৫)

     

    1. 2.1
      মাহফুজ

       //"তোমাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্ব দান করবেন। যেমন তিনি শাসনকতৃত্ব দান করেছেন তাদের পূর্ববতীদেরকে এবং তিনি অবশ্যই সুদৃঢ় করবেন তাদের ধর্মকে, যা তিনি তাদের জন্যে পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়-ভীতির পরিবর্তে অবশ্যই তাদেরকে শান্তি দান করবেন। তারা আমার এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। এরপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে, তারাই অবাধ্য।" (সুরা আন-নুর আয়াত ৫৫)

      ………………..

      প্রশ্ন হলো, আমরা নিজেদের মো’মেন বলে দাবি করি, তাহলে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পৃথিবীর কর্তৃত্ব, আধিপত্য আমাদের হাতে নেই কেন?// 

      //////////////

      আসুন! বিষয়টি একটু ভেবে দেখি-

      *এই আয়াতে কি নামমাত্র শাসনকর্তৃত্ব দান করার ওয়াদা করা হয়েছে?

      *নাকি এখানে প্রতিনিধিত্ব দান করার কথা বলা হয়েছে?

       

      ক) পৃথিবীর (রাজতন্ত্রী/ বামপন্থী/ ডানপন্থী) শাসনকর্তৃত্ব = বাদশাহ/ প্রেসিডেন্ট/ প্রধানমন্ত্রী

      খ) আল্লাহর মনোনীত ইসলাম ধর্ম অর্থাৎ কেবলমাত্র আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারীদের জন্য প্রেরিত আল-কোরআনের জীবন ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব= খলিফা

      ……………………………………….

      ক) এর ক্ষেত্রে যারা নামমাত্র বিশ্বাসী, কিন্তু ভাল ভাল কাজ (আল্লাহতায়ালা যে সব কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন) করেন না কিংবা যারা বিশ্বাসী নয় কিন্তু ভাল ভাল কাজ করেন, তারা জনগণের ভোট নিয়ে বা না নিয়েই ক্ষমতায় বসুক না কেন, তারা পৃথিবীতে শাসনকর্তৃত্বের অধিকারী হতে পারলেও আল্লাহর মনোনীত দ্বীন-ইসলামের প্রতিনিধি হতে পারবেন না। কেননা আল্লাহতায়ালা তাদের হাতে তাঁর মনোনীত দ্বীন-ইসলামের প্রতিনিধিত্ব দান করার অঙ্গিকার করেন নাই।

       

      খ) এর ক্ষেত্রে যারা বিশ্বাসী এবং ভাল ভাল কাজ (আল্লাহতায়ালা যে সব কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন) করেন, আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে তাদেরকে তাঁর মনোনীত দ্বীন-ইসলামের প্রতিনিধিত্ব দান করবেন বলে ওয়াদা করেছেন।

       

    2. 2.2
      কিংশুক

      আল্লাহর ওয়াদা শতভাগ সত্য ।  মহান আল্লাহ্ তায়ালা গরীব, নিতান্ত স্বল্পসংখ্যক সাহাবী রাঃ কে শাসনকতৃত্ব তো দিয়েছিলেনই। মক্কা মদিনার সাধারণ একেকজন ব্যক্তি রোমান বাইজেনটাইন, পারসিয়ান সাম্রাজ্য বিজয় করে আরব, এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপের নানান দেশের গভর্নরও হয়েছিলেন। সেই ঈমাণ, আমল, নৈতিকতার ধারেকাছেও এখনকার মুসলমানরা নাই। ইউরোপিয়ান ও আমেরিকানরা ঈমাণ ছাড়া অন্য সকল মানবিকতার দিক দিয়ে বর্তমানের মুসলমানদের চেয়ে এগিয়ে । তাঁরা  যেহেতু সৎ কাজের প্রতি ফল দুনিয়াতেই পাবে সেহেতু দুনিয়ায় ক্ষমতা,  সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য তাদের হাতে। 

  5. 1
    মাহফুজ

    সার্বিকভাবে আপনার আলোচনা ভাল লাগলো।

    তবে ইলাহ অর্থাৎ উপাস্য সম্পর্কে আমার মতামত ব্যক্ত করছি-

    উপাসনা অর্থাৎ ইবাদত হলো শুধুই এক আল্লাহর জন্য, অন্য কারো উপাসনা বা ইবাদত নয়। তাই আল্লাহতায়ালাকে একমাত্র ইলাহ (114:3:1-ilāhi / 6:19:32 ilāhun) মেনে কেবলমাত্র তাঁরই ইবাদতের শর্তে একমাত্র মহান আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ করার জন্যই ইসলামের ছায়াতলে আসার অঙ্গিকার গ্রহণ করতে হয়। সুতরাং আমাদের ইলাহি/ ইলাহুন অর্থাৎ উপাস্য কেবলমাত্র মহান আল্লাহ, তাই শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করতে হবে এবং তাঁর প্রেরিত বিধি বিধান মেনে চলার মাধ্যমে আনুগত্যও করতে হবে। একজন প্রকৃত মুসলিম কখনই আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করবে না। এমনকি রাসূলকেও (সাঃ) যদি কেউ উপাস্য হিসেবে মনে করেন তাহলে সে আর মুসলিম থাকতে পারবেনা, বরং অংশিবাদীদের অন্তর্ভূক্ত বলে বিবেচিত হবে। আল্লাহর আনুগত্য করার মানে হলো জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর প্রেরিত বিধান বাস্তবায়ন করার জন্য সচেষ্ট থাকা। আর রাসূলের (সাঃ) আনুগত্য করার মানে হলো (০৪:৬৪) আল্লাহ যে বিধান দিয়েছেন সেই মোতাবেক রাসূলের নির্দেশ মেনে চলা। তেমনি নেতার আনুগত্য করতে গেলেও আল্লাহর বিধানের মধ্যে থেকেই তার আনুগত্য করতে হবে। একইভাবে পিতামাতা, শিক্ষক ও গুরুজনদের আনুগত্য করার ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য হবে। ক্ষেত্র ও পাত্র ভেদে যার জন্য যতটা আনুগত্য করার প্রয়োজন সেটাই প্রযোজ্য হবে। সুতরাং একমাত্র ইলাহি/ ইলাহুন অর্থাৎ উপাস্য মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত নয় এবং তাঁর নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে অন্য কারো আনুগত্যও গ্রহণযোগ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.