«

»

May ২৯

নাস্তিক হতে চাননা কেন?

নাস্তিক হওয়ার সুবিধা অনেক। দেখুন নাম যশ কে না চাই। ইদানিং যারা ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতেছে তারাই খ্যাতি পাচ্ছে। আপনি যদি ‍নাস্তিক হন তাহলে দেশের বড় বড় ব্লগ সাইটে আপনার লেখা গুরুত্ব সহকারে ছাপা হবে। আপনি হয়তোবা একজন নাম করা বুদ্ধিজীবিও হতে পারেন। সাদা কোন চাদর গায়ে জড়িয়ে ঘুরবেন, সবাই বাহবা দিবে আর বলবে সাদা মনের মানুষ। আপনাকে ধর্মীয় কোন আচার অনুষ্ঠান পালন করতে হবে না, তাহলে আপনার গাটেঁর পয়সাও বাচঁবে।

দেখছেন নাস্তিক হওয়ার কত সুবিধা, তাহলে আপনি কেন হবেন না।

দেশের কিছু নাম করা ব্লগ সাইট আপনাকে নাস্তিকতার সার্টিফিকেট দিবে। তারপর আপনার আর চিন্তা নেই। আপনি যা বলবেন তাই অমৃত মনে হবে। তারা আল কোরআন ও আল হাদিস নিয়ে আলোচনা করে। তারা আল কোরআনের ব্যাখ্যা দেয়। তারা আল কোরআনের ভুল নাকি খুঁজে পেয়েছে।

যাক আসল কথায় ফিরে আসি। আমার ছোট বেলার একটা কথা মনে পড়ে গেল। আমি তখন ক্লাস ফোর কি ফাইভ এ পড়ি। তখন আমি আমার বিজ্ঞান বইয়ের ভুল খুঁজে পেলাম। আমি বইয়ে পড়ি, পানির মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে পানি অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনে বিভক্ত হয়। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিলাম প্রমাণ করবো। একটা ইলেকট্রিক তার নিয়ে পানিতে দিলাম। তারপর বিদ্যুৎ সংযোগ করলাম। না কোন পরিবর্তন লক্ষ করলাম না। অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন পেলাম না। তারপর পানিতে হাত দিতে গিয়ে শক্ খেলাম। যা এখনো মনে হলে ভয়ে শিউরে উঠ%E সেদিন কত বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। আমি জানতাম না যে শুধু বিদ্যুৎ চালনা করলেই হয় না।

আমার জন্য অল্প বিদ্যা ভয়ংকর হয়ে দাড়িয়ে ছিল । এই ঘটনা আর সেকুলার ভাইদের আল কোরআন ও হাদিস নিয়ে গবেষনা একই রকম । তারা কোরআন একটু পড়ে তাও আবার না বুঝে , কিন্তু বুঝা ও লেখার চেষ্টা করে অনেক বেশী ।

তারা সব সময় বিজ্ঞানের দোহাই দেয় । তারা বলে ইসলাম বিজ্ঞানের পরিপন্থী । তাই যদি হয় তাহলে তাদের অনুরোধ করবো তারা যেন নিউটনের গতির সূত্র ভূলে যায় । কারণ এটা তাহলে মিথ্যা প্রমানিত হবে ।

আমরা নিউটনের গতির প্রথম সুত্র থেকে জানি
” বাহ্যিক কোন বল প্রয়োগ না করলে স্থির বস্তু চিরকাল স্থির ও গতিশীল বস্তু সূষম দ্রুতিতে চলতে থাকবে “

আমরা কম বেশি সবাই মোটামুটি বিগ ব্যাং সম্পর্কে জানি । মহা বিস্ফোরণ  তত্ত্ব  অনুসারে মহাবিশ্ব  একটি  অতি  ঘন  বিন্দুবৎ  অবস্থা  থেকে  উৎপত্তি  লাভ  করেছে। উইকিপিডিয়া থেকে কিছু অংশ নিচে দেওয়া হলো

এই তত্ত্ব বলে আজ থেকে প্রায় ১৩. বিলিয়ন বছর পূর্বে এই মহাবিশ্ব একটি অতি ঘন এবং উত্তপ্ত অবস্থা থেকে সৃষ্টি হয়েছিল বিজ্ঞানী এডুইন হাবল প্রথম বলেন, দূরবর্তী ছায়াপথসমূহের বেগ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এরা পরষ্পর দূরে সরে যাচ্ছে অর্থাৎ মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বের ফ্রিদমানল্যমেত্র্‌-রবার্টসনওয়াকার মেট্রিক অনুসারে এটি ব্যাখ্যা করা হয়েছে এই তত্ত্বসমূহের সাহায্যে অতীত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সমগ্র মহাবিশ্ব একটি সুপ্রাচীন বিন্দু অবস্থা থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে এই অবস্থায় সকল পদার্থ এবং শক্তি অতি উত্তপ্ত এবং ঘন  একটি ক্ষুদ্র কনা অবস্থায় ছিল কিন্তু অবস্থার আগে কী ছিল তা নিয়ে পদার্থবিজ্ঞানীদের মধ্যে কোন ঐক্যমত্য নেই

 

তাহলে বলুন,  সেই দিন কেন মহা বিস্ফোরণ ঘটেছিল ? কারণ বল প্রয়োগ না করলে তো ঐ শক্তি কনার কোন পরিবর্তন হতো না । আর ঐ পুঞ্জিভূত শক্তি কনা কে সৃষ্টি করলো ?

কিছুদিন আগে স্টিফেন হকিং তার নতুন থিউরিতে বললেন যে, ঐ পুঞ্জিভূত শক্তি যদি ধনাত্বক চার্জ ধরা হয় তবে মহা বিশ্বে সমপরিমান ঝনাত্বক চার্জ ছড়ানো আছে । মানে ঐ দুই ধনাত্বক ও ঝনাত্বক চার্জ যুক্ত করলে মান আসে শূন্য । তার মানে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে শূন্য থেকে ।
তাহলে অনুগ্রহ করে উত্তর দিবেন শূন্য কে ধনাত্বক ও ঝনাত্বক দুই ভাগে ভাগ করলো কে ?

সৃষ্টির প্রাথমিককালে মহাবিশ্ব সুষম এবং সমতাপীয় রূপে একটিই অতি উচ্চ শক্তি ঘনত্ব এবং উচ্চ তাপমাত্রা চাপবিশিষ্ট পদার্থ দ্বারা পূর্ণ ছিল মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১০৪৩ সেকেন্ড পর পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো কার্যকারিতা লাভ করে তাই এই সময়কে প্ল্যাংকের সময় বলা হয় প্ল্যাংকের সময়ের প্রায় ১০৩৫ সেকেন্ড পর একটি দশা পরিবর্তন তথা অবস্থান্তর অবস্থার সূচনা ঘটে যার ফলে মহাজাগতিক স্ফীতি শুরু হয় এই সময় মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে শুরু করে সময় থেকে মূলত মহাবিশ্বের exponential সম্প্রসারণ শুরু হয়

আপনারা তো বিজ্ঞানমনস্ক, দয়া করে বলুন না প্ল্যাংকের সময় ও এর পূর্ববর্তী সময়ে কি ঘটেছিল ? আপনারা হয়তো বলবেন তখন সময় কে শূন্য ধরা হয় । কিন্তু বিজ্ঞানইতো বলে সময় কখনও শূন্য হতে পারে না । আবার বলা হয় প্ল্যাংকের সময়ের পর থেকে পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্র কার্যকর । তাহলে যে বিজ্ঞানকে ভিত্তি ধরে আপনারা  বলেন স্রষ্টা বলে কেউ নেই , সেই বিজ্ঞান কেন প্ল্যাংকের সময়ে অনুপস্থিত  ? যার নিজের অস্তিত্ত কিছু সময়ের জন্য বিলীন ছিল । ব্যাপারটা কেমন যেন হলো না ? একেক সময় একেক কথা । ইসলাম কখনো বিজ্ঞানের পরিপন্থি নয় । বরং ইসলামই পৃথিবী সৃষ্টির প্রকৃত ইতিহাস ব্যক্ত করেছে ।

তাদের মতে স্রষ্টা বলে কেউ নেই । থাকলে তো স্রষ্টাকে দেখা যেত ।

 

“ ১৫৩/يَسْأَلُكَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَن تُنَزِّلَ عَلَيْهِمْ كِتَابًا مِّنَ السَّمَاء فَقَدْ سَأَلُواْ مُوسَى أَكْبَرَ مِن ذَلِكَ فَقَالُواْ أَرِنَا اللّهِ جَهْرَةً فَأَخَذَتْهُمُ الصَّاعِقَةُ بِظُلْمِهِمْ ثُمَّ اتَّخَذُواْ الْعِجْلَ مِن بَعْدِ مَا جَاءتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ فَعَفَوْنَا عَن ذَلِكَ وَآتَيْنَا مُوسَى سُلْطَانًا مُّبِينًا
অর্থাৎ;-আপনার নিকট আহলে কিতাবরা আবেদন জানায় যে, আপনি তাদের উপর আসমান থেকে লিখিত কিতাব অবতীর্ণ করিয়ে নিয়ে আসুন বস্তুতঃ এরা মুসার কাছে এর চেয়েও বড় জিনিষ চেয়েছে, বলেছ প্রকাশ্যে আল্লাহকে দেখাও।। অতএব তাদের উপর বজ্রপাত হয়েছে তাদের পাপের দরুন অতঃপর তাদের নিকট সুষ্পষ্ট প্রমান নিদর্শণ প্রকাশিত হবার পরেও তারা গোবৎস্যকে উপাস্য রূপে গ্রহন করেছিল তাও আমি ক্ষমা করেছিলাম এবং আমি মূসাকে প্রকৃষ্ঠ প্রভাব দান করেছিলাম

যাকে দেখা যায় না তাকে তারা স্রষ্টা মানতে নারাজ । তাহলে আপনাদের অনুরোধ করবো দয়া করে স্টিফেন হকিং এর একটা কথাও বিশ্বাস করবেন না । কারণ উনি তো না দেখেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য নিয়ে থিউরি দিয়েছে । উনিতো বিগ ব্যাং দেখেননি এবং বর্তমানেও যা কিছু বলতেছেন তা নিজের চোখে না দেখে । কারন তো জানেনই , উনি একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ।

এখন আপনারই সিদ্ধান্ত নিন নাস্তিক হবেন কিনা ।

৪ comments

Skip to comment form

  1. 3
    রাইসুল করিম রিয়াদ

    সবাইকে ধন্যবাদ । এটা ছিল সদালাপে লেখা আমার প্রথম পোষ্ট । আপনাদের সাড়াতে আমি আরো লেখার অনুপ্রেরনা পেলাম ।

  2. 2
    এস. এম. রায়হান

    সদালাপে স্বাগতম।

    লেখাটা অসমাপ্ত মনে হচ্ছে?

    1. 2.1
      রাইসুল করিম রিয়াদ

      দুঃক্ষিত, এস এম রায়হান ভাই ।
      লেখাটা পুরোটা প্রকাশে একটু সমস্যা হয়েছিল । তাই পুনরায় আবার যুক্ত করলাম । আশা করি এখন পুরোটা পড়তে পারবেন ।

  3. 1
    করতোয়া

    এখন অবম্য একজন স্বঘোসিত নাস্তিকের চেয়েও স্বঘোষিত "সমাকামী" বেশী সমাদ্রিত ও মূল্যায়িত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.