«

»

Jul ০৮

নারীরা কি পাঁজরের হাঁড়ের তৈরী; বিচার-বিশ্লেষণঃ

মুক্তমনা ভাইয়েরা নারীর অধিকার নিয়ে লড়ে চলেছেন। তারা নিজেদের নারীর অধিকার আদায় সম্পর্কে খুবই সক্রিয় বলে দাবি করে। তারা সমাজ থেকে নারী কেন্দ্রিক যাবতীয় কুসংস্কারকে দূর করতে চান। যদি সত্যিই এটা তাদের উদ্দেশ্য হয় তবে এতে আমি সাহায্য করতে চাই।তাই আমি আজ সমাজের কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করতে চাই। পাশাপাশি মুক্তমনা ভাইদের একটি ভুল ধারণাও দূর করতে চাই। তাদের দাবি ইসলামে নারীদের অবমাননা করা হয়েছে,হাদিসে আছে নারীদের পাঁজরের হাঁড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে।প্রথমত, নারীরা যদি পাঁজরের হাঁড় দ্বারা তৈরীই হয়,তাহলে এতে তাদের অবমাননা হয় কিরূপে? এটা একটা প্রশ্ন রয়ে গেল?আর এখানে গভীরভাবে বিষয়টি উপলব্ধি না করলে বোঝা যাবে না। হুমায়ুন আজাদ, তিনিও তার ” নারী” বইটিতে ইসলামে নারীর অবমাননার মাপকাঠি হিসেবে উক্ত হাদিসটি পেশ করেছেন।চলুন আমরা একটু গভীরভাবে হাদিসটির মর্মকথা উপলব্ধি করিঃ

হাদিসটি আগে দেখে নিঃ
৪৮০৭ ইসহাক ইব’ন নসর (রহঃ) আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে আল্লাহ এবং আখিরাতের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন আপন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। আর তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করবে। কেননা, তাদেরকে সৃষ্টী করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে এবং সবচেয়ে বাঁকা হচ্ছে পাঁজরের ওপরের হাড়। যদি তুমি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সে ভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে। অতএব, তোমাদেরকে ওসীয়াত করা হল নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করার। (সহিহ বুখারী)
শেষের লাইনটি উল্লেখ করতে তাদের দেখি না। এভাবে সত্য গোপন করার উদ্দেশ্য কী? প্রশ্ন রয়ে গেল..

হাদিসটির কয়েকটি অংশ আবার আলাদা করে উল্লেখ করছিঃ
✔ তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করবে।
✔ তাদেরকে সৃষ্টী করা হয়েছে পাঁজরের হাড় থেকে।
✔ তুমি তা সোজা করতে যাও, তাহলে ভেঙে যাবে। আর যদি তুমি তা যেভাবে আছে সে ভাবে রেখে দাও তাহলে বাঁকাই থাকবে।
✔ তোমাদেরকে ওসীয়াত করা হল নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যহার করার।

এ হাদিসটি স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছে নারীদের সাথে আমাদের কিরুপ ব্যবহার করা উচিত।অথচ কেবল ২ নং পয়েন্টটা উল্লেখ করে বাকি অংশগুলো গোপন করা হয়।কেন জানি না?প্রশ্ন রয়ে গেল?

হুমায়ুন আজাদ তিনিও তার “নারী” বইটিতেও একই কাজ করেছে।আর একটা ভুল তারা করে তা হলো, উল্লিখিত হাদিসটি বুখারী শরিফের ৪৮০৭ নং হাদিস,অথচ বুখারী শরিফে ৪৮০৬ নং হাদিসটি গোপন করা হয়! কিন্তু কেন গোপন করা হয়? কি এমন বলা হয়েছে তাতে?চলুন দেখি..

নিচে হাদিসটি উল্লেখ করছিঃ

৪৮০৬ আবদুল আযীয ইব’ন আবদুল্লাহ (রহঃ) হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি তোমরা তাকে একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে লাভবান হতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভবান হতে হবে। (বুখারী)

নিশ্চয় হাদিস দুইটির মধ্যেকার পার্থক্য খুঁজে পেয়েছেন।
একটি হাদিসে বলা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের মতো এবং আর একটি হাদিসে বলা হচ্ছে পাঁজরের হাঁড় হতে সৃষ্টি।এখন হাদিস দুইটির পক্ষে অনেকগুলি ব্যাখ্যা হতে পারে।আমি সেগুলো উল্লেখ করবো তবে তার আগে দেখে নি কুরআন কি বলে?

আগে বলে নি পাঁজরের হাঁড়ের প্রসঙ্গ খ্রিষ্টানধর্মগ্রন্ধ ও ইহুদি ধর্মগ্রন্থে আরো রঙচঙ মাখা অবস্থায় পাওয়া যায়।এখন পাঁজরের হাঁড়ের কথা কেন বলা হল?
“এটা এভাবে বলা যায় যে, হাদিসটি দ্বারা মহিলাদের সাথে ব্যবহারের একটা স্কেল পাওয়া যায়।এখানে মস্তিষ্কের কোনো অংশের কথা বলা হয়নি,যাতে নারীকে মাথায় চাপানো না হয়, পায়ের নিচের কোনো অংশের কথা বলা হয় নি,যাতে তাদের পদদলিত না করা হয়।তাদের পাঁজরের হাঁড়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে; যা পুরুষের হৃদয়ের নিকটবর্তী।সত্রীর স্থান স্বামীর হৃদয়ে, তার সাথে সদ্ব্যবহার করবে, তার ক্ষমতার অধিক চাপ সৃষ্টি করবে না,তার সাথে ইনসাফ করবে এটাই হাদিসটির মূল শিক্ষা।

এখন দেখি কুরআন হযরত হাওয়া (আঃ) এর সৃষ্টি সম্পর্কে কি বলা হয়েছেঃ
সূরা নিসার এক নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺭَﺑَّﻜُﻢُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺧَﻠَﻘَﻜُﻢْ ﻣِﻦْ ﻧَﻔْﺲٍ ﻭَﺍﺣِﺪَﺓٍ
ﻭَﺧَﻠَﻖَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺯَﻭْﺟَﻬَﺎ ﻭَﺑَﺚَّ ﻣِﻨْﻬُﻤَﺎ ﺭِﺟَﺎﻟًﺎ ﻛَﺜِﻴﺮًﺍ ﻭَﻧِﺴَﺎﺀً
ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﺗَﺴَﺎﺀَﻟُﻮﻥَ ﺑِﻪِ ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺣَﺎﻡَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻛَﺎﻥَ
ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺭَﻗِﻴﺒًﺎ
“হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর।যিনি তোমাদের একই ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার সহধর্মিনী সৃষ্টি করেছেন।যিনি তাদের দু’জন থেকে পৃথিবীতে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। সেই আল্লাহকে ভয় কর,যার নামে তোমরা একে অপরের
কাছে আবেদন কর। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করাকে ভয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।” (৪:১)

Allah Says in the Holy Quran Chapter 4 Surah Nisaa verse 1:
O mankind! Reverence your Guardian-Lord Who created you (all) from a single ‘nafs’ , and from it (the nafs) created his mate (Hawwa) , and from them twain scattered countless men and
women. Reverence Allah through Whom ye demand your mutual (rights), and (reverence) the wombs (that bore you): for Allah ever watches over you.

কুরআনেও বলা হচ্ছে হযরত আদম (আঃ) থেকে হযরত হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে;তবে কোন প্রক্রিয়ায় তা মহান আল্লহ উল্লেখ করেন নি।

যুক্তিখন্ডনঃ✪ হযরত হাওয়া (আঃ) পাঁজরের হাঁড় থেকে সৃষ্টি করা হয়; তবে এখানে অবমাননার কি আছে আমি জানি না?
আল্লাহ বলেন-‘কর্দমকে-ছাঁচে আকার দিয়ে,
শব্দকারী মাটি হতে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে।’ [সুরা হিযর,আয়াত ২৬]
এখন প্রশ্ন,
হযরত হাওয়া (আঃ) কে যদি পাঁজরের হাঁড় থেকেই সৃষ্টি করা হয় তাহলে কাকে অবমাননা করা হল?হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হলো মাটি দিয়ে হযরত হাওয়া (আঃ) কে পাঁজরের হাঁড় দিয়ে; তাহলে এখানে অবমাননা পরিমাপের মাপকাঠি কি?প্রশ্ন রয়ে গেল?

দেখে তো মনে হচ্ছে হযরত আদম (আঃ) কেই অবমাননা করা হয়েছে!(নাউজুবিল্লাহ)।কারণ আদম আঃ কে পচা কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।শয়তান যেমন তার সৃষ্টি আগুন থেকে বিধায় গর্ব করে জান্নাত থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, ঠিক তেমনি নারীদের উসকে দিয়ে একই পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।সৃষ্টিকর্তা আমাদের এ থেকে রক্ষা করুন।

আমি শুরুতেই বলেছি কিছু কুসংস্কার আমিও দূর করবঃ

১.হযরত হাওয়া (আঃ) ও পাঁজরের হাঁড় নিয়ে কিছু কথা প্রচলিত আছে।যেমনঃ নারীদের পাঁজরের হাঁড়ের সংখ্যা পুরুষের হাঁড়ের সংখ্যার চেয়ে একটি বেশি।এ কথাটি অযৌক্তিক।নারী-পুরুষের পাঁজরের হাঁড়ের সংখ্যা সমান।বাবার যদি এক আঙ্গুল কাটা থাকে; তার মানে এ নয় যে,সন্তানও এক আঙ্গুল কাটা বাদে জন্মাবে! এটা অযৌক্তিক।এ রকম কথা কুরআন হাদিসে কোথায় পাবেন না।

২.আরেকটি প্রচলিত কথা যেমন হযরত আদম (আঃ) ঘুমিয়ে ছিলেন এবং তার বাম পাঁজরের পিছন হতে হযরত হাওয়া (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে।তারপর আদমের ঘুম ভেঙ্গে তাকে দেখলে তিনি আকৃষ্ট হোন এবং তার মধ্যে ভালবাসার সৃষ্টি হয়।এ কথাগুলো পুরোপুরি বাইবেলের; এটা বাইবেলের গল্প মানুষের মধ্যে প্রচলিত ছিল।

2:21 And the LORD God caused a deep sleep to fall upon Adam, and he slept: and he took one of his ribs, and closed up the flesh instead thereof.

2:22 And the rib, which the LORD God had taken from man, made he a woman, and brought her unto the man.

2:23 And Adam said, This is now bone of my bones, and flesh of my flesh: she shall be called Woman, because she was taken out of Man. (Genesis)

৩.আর বিভিন্ন তাফসীরে এ ধরণের হাদিস দেখবেন যা হয়তো সাহাবীরা বর্ণনা করেছেন।তবে সেগুলো রাসূল সাঃ এর সূত্রে বর্ণনা করা হয় নি; বরং আহলে কিতাবদের সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ভুল থাকা স্বাভাবিক।

৪৮০৭ নং হাদিসে বলা হচ্ছে পাঁজরের হাঁড় হতে সৃষ্টি করা হয়েছে।পাঁজরের একটা কনসেপ্ট কুরআনেও আছে।সূরা তারিক এর ৫ থেকে ৭নং আয়াতে আল্লহ কি বলছেন দেখিঃ
ﻳَﺨْﺮُﺝُ ﻣِﻦ ﺑَﻴْﻦِ ﺍﻟﺼُّﻠْﺐِ ﻭَﺍﻟﺘَّﺮَﺍﺋِﺐِ ﺧُﻠِﻖَ ﻣِﻦ ﻣَّﺎﺀ ﺩَﺍﻓِﻖٍ
ﻓَﻠْﻴَﻨﻈُﺮِ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥُ ﻣِﻢَّ ﺧُﻠِﻖَ
“অতএব, মানুষের দেখা উচিত কি বস্তু
থেকে সে সৃজিত হয়েছে। সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও পাঁজরের মধ্য থেকে।”
এখন মহান আল্লাহ এ বিষয়ে কি বলতে চাচ্ছেন তা হয়তো ভবিষ্যত্বে আমরা জানতে পারব।

বিভ্রান্তির নিরসনঃ উপরে হাদিস দুইটিতে একটিতে পাঁজরের হাড় হতে সৃষ্টির করেছেন আরেকটিতে বলা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের মতো।অনেক scholar এটার আক্ষরিক অর্থই মেনে নিয়েছেন।কারণ এ কথার স্বরুপ আজও অজানা।তবে অনেকে এটা মেনে নেন নি।তারা বলেছেন, এখানে পাঁজরের হাঁড় কথাটি সাংকেতিক ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ হাদিসটিতে প্রথম অংশে বলা হচ্ছে নারীদের সাথে সদ্ব্যবহার কর; আর শেষ অংশেও ঠিক একই নির্দেশনা।আর ৪৮০৬ হাদিসটিতে তো বলা হচ্ছেই পাঁজরের হাড়ের মতো!

এবং একটি শক্তিশালী যুক্তি হলো created from সৃষ্টি করা হয়েছে বলতে এটা জরুরি না যে,নারী সৃষ্টির উপাদান পাঁজরের হাড়।বরং এখানে তাদের প্রকৃতি বা ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে।এবং তাদের যুক্তি আরো শক্তিশালী হয় কুরআনের এ আয়াত দ্বারা- সূরা আম্বিয়ার ৩৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে-
ﺧُﻠِﻖَ ﺍﻟْﺈِﻧْﺴَﺎﻥُ ﻣِﻦْ ﻋَﺠَﻞٍ ﺳَﺄُﺭِﻳﻜُﻢْ ﺁَﻳَﺎﺗِﻲ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺴْﺘَﻌْﺠِﻠُﻮﻥِ
‏( 37 )
“মানুষ দ্রুততাপ্রবণ সৃষ্টি।
“Man was created of haste (i.e.,
impatience).” [al-Anbiyaa’, 37]

এখানে বলা হচ্ছে man was created of haste.কিন্তু মানুষ তৈরীর উপাদান তো তা(দ্রুততা) নয়।বরং এটা মানুষের প্রকৃতি বা ব্যবহার, বৈশিষ্ট্য।সুতরাং সৃষ্টি মানে এটা নয় যে তা সৃষ্টির উপকরণ।আর যদি হয়েও থাকে তবে তা নারীর মর্যাদার জন্য হানিকর বলে মনে করি না।
ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

মহান আল্লহ সুপরিকল্পনাকারী ও সুকৌশলী ও ক্ষমাশীল।

৩৪ comments

Skip to comment form

  1. 16
    এম_আহমদ

    একটি হাদিসে বলা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের মতো এবং আর একটি হাদিসে বলা হচ্ছে পাঁজরের হাড় হতে সৃষ্টি।

    ভাই সুন্দর পোষ্ট হয়েছে। আরবিতে ‘উহ্য’ বা ellipses (omission)  এর ব্যবহার ব্যাপক। আরবি ভাষায় এটা এক বৈশিষ্ট্য যে এতে অন্যান্য ভাষার চাইতে উহ্য শব্দ, বাক্য এবং ধারণার ব্যবহার খুব বেশি হয়। বক্তা কখনো বক্তব্যের ধারা চালিয়ে যেতে, কখনো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে, শ্রোতার মনোযোগ নিবদ্ধ রাখতে, কখনো অলংকারিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে এবং কখনো শ্রোতার স্কীল ও জ্ঞানকে বিবেচনা করে অর্থাৎ শ্রোতা ‘অমনিতেই বুঝে নেবে’ -এমন ধারণা প্রেক্ষিতে  এবং অপরাপর কারণে উহ্যের ব্যবহার হয়ে থাকে। কোরানে যখন একদল ইয়াহুদীদের ব্যাপারে বলা হয়েছিল, ‘তোমরা নিন্দিত বানর হয়ে যাও’(২:৬৫)। তখন এই স্থানে অনেক মুফাসসির অর্থ করেন ‘তোমরা নিন্দিত বানর “মত” হয়ে যাও’। এখানে তারা كَ (‘মত’, ‘ন্যায়’) কথাটি উহ্য ধরেন। ইসলাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়লে অনেক ভাবার্থ তার pristine  স্থান থেকে ধরতে অনেকই ব্যর্থ হন, যেমনটি আজও হয়ে যাচ্ছে।

    ঈদ মোবারক।

     

    1. 16.1
      রিজভী আহমেদ খান

      ঈদ মুবারক।ভাইয়া আপনার কমেন্ট ও তো খুব সুন্দর হচ্ছে। ইচ্ছা হচ্ছে কপি করে পোস্টে সংযোজন করে নি। জাযাকাল্লাহ

  2. 15
    জুবায়ের আহসান

    “যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা”…

  3. 14
    মিলন

    ভাই, ইচ্ছা তো করছে আপনার সব আয়াতেরই ব্যাখ্যা করি। কিন্তু উক্ত আয়াত সমুহ আমার রিপ্লের মধ্যে পরে না, তাই বোবা হয়ে থাকলাম।

  4. 13
    মিলন

    রিজভী আহমেদ খান@ আদমের বাম পাঁজরের হার থেকে হাওয়া সৃষ্টি, ইসলামে এটা সর্বজন স্বীকৃত, কিন্তু আপনি সেখানে সম্ভাবনা কেন দেবেন? নাকি ধর্মের এই বিষয়টাতে আপনি কনফিউজড?

    শয়তানের শয়তান হবার প্রসংগে আপনি বলেছেন যে, শয়তান যে শয়তান হবে, আল্লাহ তা আগে থেকেই জানতেন। এটা অবশ্য কোরানেও আছে যে, আল্লাহ সর্বজ্ঞ। তাহলে একটা বিষয়ে আমি বড়ই কনফিউজড, আসাকরি আপনার নিকট সমাধান পাবো।

    মানুষকে আল্লাহ স্বাধীন করে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু বলা হয় যে, ফেরেসতারা স্বাধীন নয়। কেবল মাত্র আল্লাহর হুকুম ব্যতিত আর কোন কিছু করার ক্ষমতা তাদের নাই। শয়তান একটা সময় জ্বিন ছিল, পরে ইবাদতের দরুন আল্লাহ খুশি হয়ে তাঁকে ফেরেসতাদের সর্দার নিয়োগ করলেন। যাক সে সব কথা। আপনি শুধু এটা বলেন যে, শয়তান যদি পরাধীন হয়, তাহলে তার পাপের দায়ভার কেন তার হবে? কেননা, গাড়ি দূর্ঘটনায়, দোষী গাড়ি হয় না, হয় চালক।

    আবার, শয়তান যদি স্বাধীন হয়, তাহলে আল্লাহ সর্বজ্ঞ হোন কিরুপে? আশাকরি ব্যাখ্যা করবেন বিষয়টা।

    1. 13.1
      আব্দুল আওয়াল সুমন

      @মিলন: তারা কি আপনা-আপনি সৃজিত হয়ে গেছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা? (তুরঃ ৩৫)।
      নিশ্চয় রাত দিনের পরিবর্তনের মাঝে এবং যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীনে, সবই হল নিদর্শন সে সব লোকের জন্য যারা ভয় করে। (ইউনুসঃ ৬)।
      তোমাদের কাছে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে নিদর্শনাবলী এসে গেছে। অতএব যে প্রত্যক্ষ করবে, সে নিজেরই উপকার করবে এবং যে অস্বীকার করবে, সে নিজেরই ক্ষতি করবে। (আনআমঃ ১০৪)।
      আমি আমার নিদর্শনসমূহ থেকে তাদেরকে ফিরিয়ে রাখি, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে গর্ব করে। যদি তারা সমস্ত নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে ফেলে তবুও তারা বিশ্বাস করবে না। (আরাফঃ ১৪৬)।
      যাদের ব্যাপারে তোমার পালনকর্তার সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়ে গেছে তারা ঈমান আনবে না। যদি তাদের সামনে সমস্ত নিদর্শনাবলী এসে উপস্থিত হয় তবুও, যতক্ষণ না তারা দেখতে পাবে বেদনাদায়ক আযাব। (ইউনুসঃ ৯৬)।
      তার চেয়ে বড় জালেম আর কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে? (ইউনুসঃ ১৭)।
      তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের মোকাবেলায় কোন কাজেই আসেনা। (ইউনুসঃ ৩৬)।
      তারা বলে আমাদেরকে পুনর্বার কে সৃষ্টি করবে? বলুন, যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন। (বনী ইসরাইলঃ ৫১)।
      যারা পরকালে বিশ্বাস করেনা তাদের অন্তর সত্য বিমুখ এবং অহংকারী। (নাহলঃ ২২)।

      সুশৃঙ্খল এই মহাবিশ্ব, সৌরজগত, বসবাসযোগ্য এই পৃথিবী এমনি এমনি হয়নি, একজন সৃষ্টিকর্তা অবশ্যই আছেন। স্রষ্টা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান তিনি আমাদেরকে দেননি। তাই স্রষ্টা সম্পর্কে না ভেবে সৃষ্টি দ্বারা তাঁকে উপলব্ধি করাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

      আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সুন্দরতম অবয়বে সৃষ্টির সেরা করে বানিয়েছেন এবং অপরিসীম নেয়ামত দান করেছন। তাই আমাদের উচিত তাঁর ইবাদত করে এসব নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা।

      যদি আল্লাহর নেয়ামত গননা কর, তবে গুনে শেষ করতে পারবেনা। নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত অন্যায়কারী, অকৃতজ্ঞ। (ইব্রাহীমঃ ৩৪)।
      তিনি যদি রিযিক বন্ধ করে দেন, তবে কে আছে যে তোমাদেরকে রিযিক দান করবে? (মূলকঃ ২১)।
      আল্লাহ ব্যতীত এমন কোন স্রষ্টা আছে কি যে আসমান ও যমীন থেকে রিযিক দান করেন? (ফাতিরঃ ৩)।

      যে ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে তার জন্য আছে ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা। (হজ্জ্বঃ ৫০)।
      মুমিনদের সাহায্য করা আল্লাহর দায়িত্ব। (আর রূমঃ ৪৭)।
      আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি লাভ করে। (রাদঃ ২৮)।

      যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদে স্থান দেব, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। কত উত্তম পুরস্কার। (আনকাবুতঃ ৫৮)।

      অতএব যথাযথভাবে আল্লাহর ইবাদত করলে মানুষ পৃথিবীতে সম্মানজনক রিযিক, আল্লাহর সাহায্য এবং শান্তি লাভ করবে আর পরকালে জান্নাতে অনন্ত জীবন। এর চেয়ে বেশি মানুষের জীবনে আর কি চাওয়ার থাকতে পারে?

    2. 13.2
      রিজভী আহমেদ খান

      @মিলন,

      আদমের বাম
      পাঁজরের হার থেকে হাওয়া সৃষ্টি,
      ইসলামে এটা সর্বজন স্বীকৃত?
      আমার জানা ছিল না। এমন হলে তো আমি এ বিষয়ে লেখার চিন্তাও করতাম না! জানি না ব্লগটি পুরো পড়েছেন কিনা? তাই সর্বজন স্বীকৃত হওয়ার দলিল দিয়ে আমার ভোতা মুখ থোতা করে দিন।

  5. 12
    Monowar Bin Zahid

    আমার জানা মতে আধুনিক কিছু স্কলার এই বিষয়টাকে নতুন ব্যাখ্যার মাধ্যমে পুরো অন্য দিকে নিয়ে যান। তাদের মতে এটা পুরোটাই রুপক।

    1. 12.1
      রিজভী আহমেদ খান

      রূপক হবার সম্ভাবনা কিন্তু আমিও উপস্থিত করেছি।

  6. 11
    এম ইউ আমান

    কাদা-মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে- এখানে ‘পচা’ কাদামাটি বলে এক্সট্রাপোলেশন করার বেসিস অনুপস্থিত। ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনায় এ বিষয়গুলিতে সতর্ক না হলে পরে ঝামেলার সৃষ্টি হয়।

    ব্যক্তিগতভাবে এই পোষ্ট থেকে আমার টেক হলো-

    মানুষ ম্যাটার থেকে তৈরি, এনার্জি থেকে নয় (ইন কনট্রাস্ট উইথ জ্বীন, যা এনার্জি থেকে তৈরি)।

    নারীদের কিছু জিনিস হয়তো পুরুষেরা বুঝতে পারবে না। দেবা না জানন্তি কুতো মনুষ্য! সেক্ষেত্রে জোর-জবরদস্তি করতে গেলে সুবিধা না হয়ে বরং সমস্যা হতে পারে।  নবীর উপদেশ- নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করার। এরকম উপদেশ তিনি বিদায় হজ্জ্বের ভাষণেও দিয়েছেন।

    নারীরা পাঁজরের হাড় থেকে তৈরীই হোক, বা কাদামাটি থেকেই হোক, পুরুষদের থেকে ইনফেরিয়র হবে কেন এটি বুঝতে অপারগ। মেয়েরা ইনফেরিয়র এটা মনে করি না। যেমন মনে করি না পুরুষেরা নারীদের থেকে ইনফেরিয়র; যদিও আদম (আঃ) এর পর  থেকে সকল পুরুষ মেয়েদের-মায়েদের গর্ভে বড় হয়।

  7. 10
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    @প্রদীপ

    ইসলাম সম্পর্কে স্পেসিফিক অভিযোগ নিয়ে আসুন। অভিযোগের পক্ষে দলীল-প্রমাণ উল্লেখ করুণ। সদালাপের লেখকদের সেগুলির উত্তর জানা থাকলে, তাঁরা সাধারণত উত্তর দিয়ে থাকেন। ব্লাঙ্কেট অভিযোগ, বা একসাথে অনেকগুলি অভিযোগ করলে আলোচনা এগিয়ে নেয়া কঠিন হয়- বেশীরভাগ ক্ষেত্রে ডিজেনারেট করে।

    আপনার মন্তব্যে অনুগ্রহ করে নির্দেশিত বিষয়গুলি লক্ষ্য করুণ-

    লেখক কি দাবি করেছেন যে তিনি জ্ঞানী? তা যদি না হয়, তাহলে তাঁকে অনর্থক অনেক জ্ঞানী বলার প্রয়োজন নেই।

    কোরাণের যে আয়াতগুলি থেকে আপনি আপনার কমেন্টে উল্লেখিত উপরুক্ত সিদ্ধান্তগুলি নিয়েছেন- সেগুলি (অন্ততঃ কয়েকটি) উল্লেখ করুন। কার কার লেখা নবীর জীবনী আপনি সঠিক বলে মনে করেন সেটি উল্লেখ করুণ। আবুল কাশেমের লেখালেখির সাথে সদালাপে আমরা প্রায় এক যুগকাল পরিচিত। সেই সূত্রে তাকে আমরা ইসলাম বিষয়ে অথরিটি মনে করি না। কোরাণ- হাদিসে যেহেতু আপনার এক্সেস আছে- অন্যের মুখে ঝাল না খেয়ে, ইসলাম বিষয়ে আপনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ-আপত্তি রেফারেন্স সহকারে, কপি-পেষ্ট না করে, বরং সময় নিয়ে যাচাই বাছাইয়ের ডিউ ডিলিজেন্স করে একটি পোষ্টের মাধ্যমে সদালাপে আসুন। অন্যথায় এরকম আলোচনা এই পোষ্টের কমেন্ট সেকশনে ভাল হয় না।

    ধন্যবাদ, সম্পাদক, সদালাপ।

     

    1. 10.1
      সরকার সানজিদ আদভান

      আপনাদের "ইসলামিক ডাটাবেজ" বিভাগটা দেখলাম সম্পূর্ণ খালি।সেখানে দুটো পেজ আছে এবং একটি পোস্টও নেই।আমি অনুরোধ করছি উক্ত বিভাগটা চালু করতে।

      আমার ব্যক্তিগত মতামতঃ

      সেখানের কমেণ্ট সদালাপের কমেণ্ট বিভাগে দেখা যাবে না এবং সেখানের পোস্ট হোম পেজে আসবে না।যেহেতু সেখানে অনেক লেখা/মন্তব্য দেয়া হবে।আরেকটি বিষয় সেটা হচ্ছে উক্ত বিভাগটি ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব হিসেবে সংরক্ষণ লেখা দেয়ারও ব্যবস্থা করা উচিৎ যেহেতু এই প্রচেষ্টা থাকবে যে উক্ত বিভাগে ইসলামের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগের জবাব থাকবে।

      আশা করি আমার আবেদনটা যাচাই করে পদক্ষেপ নিবেন।ধন্যবাদ

       

       

  8. 9
    Mohsin

    can I share it in my fb timeline????

    1. 9.1
      রিজভী আহমেদ খান

      সিউর

  9. 8
    প্রদীপ

    আপনেতো অনেক জ্ঞানী আমাদের একটু বলুনতো দেখি কোরান পড়লেই দেখা যান আল্লাহ তার বেশির ভাগ আয়াতে বলেগেছেন আমাকে ভয় করো,মুমিনদের দিয়েগেছে অফুরন্ত লোভ, বিধর্মীদের জন্য ছারিয়ে গেছে হিংসাত্বক ঐশী বানী। এগুলোর মানে কি? আল্লাহ যদি সকলের সৃষ্টিককর্তা ও সকলের বিচারক হয় তাহলে তাকে কেন মুসলিমদের পক্ষে সব সুবিধার বানী আর বিধর্মীদের পক্ষে কেন সব হিংসাত্বক বানী পাঠতে হলো? সৃষ্টিকর্তার মধ্যে মানুষ সুধু প্রেম,ভালোবাসা, ক্ষমা এই গুনগুলো খুজে পেলেইতো তাকে ঈশ্বর বলে মেনে নিবে। ভয়,হিংসা, লোভ এগুলোর কোন প্রয়োজন হয়না। নবিকে দিয়ে তিনি ধর্ম প্রচার করার সময় বিধর্মীদের প্রতি কি ধরনের আচারন করেছেন তা নবির সঠিক জিবনী পড়লেই বুঝাযায়। আর মেয়েদের মর্যাদার কথা বলছেন কোরান ও হাদিসের আলকে লেখা আবুল কাশেমে “ইসলামের বর্বরতা নারী অধ্যায় 1-20 ” পড়ুন দেখুন প্রকৃত সত্যটা কি? সত্য কথা বল্লেই তো বলবেন ওরা কাফের, নাস্তিক, ব্লোগার। তাহলে কি ইসলাম নায়ে সত্য কথা বলা যানবেনা। এটাই চরম সত্য। এই কথা গুলো একদিন না একদিন মানুষ জেনে যাবে এই ভয়েই নবিজী ঐশী দিয়ে বলেগেছেন ইসলাম নিয়ে কেউ সমলচনা করলে তাকে হত্যা করা ইসলামের ধর্ম। আবার পরক্ষনেই বলেগেছেন সকল কিছুর বিচারক আল্লাহ এখন আপনের কাছে আমার প্রশ্ন আল্লাহ যদি সকল কিছুর বিচারক হয় তাহলে সমলচনা কারির বিচারের ভার কেন মুমিনদের দিয়েগেছেন । ভবিষ্যৎ এর কি ভয় তার মধ্যে ছিলো? সম্ভব হলে জানাবেন কিন্তু? কেননা কোরান পড়ে খুবেই চিন্তিত হয়ে পড়েছি কিকরে একজন সৃষ্টিকর্তা বিধর্মীর ধংসের সকল ধরনের সুব্যবস্থা করেগেছেন তার ঐশীবানী দ্বারা। এধরনের বানী রক্ষার কারনেই মুসলিমরা আজ বিধর্মীদের প্রতি এমন হিংসাত্বক কাজ করে জোরকরে ধর্মান্তরিত করছে যেমন নবিজী নিজেই শুরু করেছিল সেই 570 খৃস্টাব্দে।

    1. 8.1
      সরকার সানজিদ আদভান

      প্রথমত,কুরআনে মুসলিমদের জন্য রয়েছে লোভ এবং কাফেরদের জন্য রয়েছে শুধুই হিংসা সংক্রান্ত আয়াত এরকম হাওয়ায় কথা না বলে দয়া করে আয়াতের রেফারেন্স দিন।কারণ কুরআনে মুসলিমদেরও একই বিষয় ভয় দেখানো হয়েছে এবং সাবধানও করা হয়েছে।আর লোভের কথা যদি আপনি বলেন তাহলে বলতে হবে আপনি একজন Hypocrite।কারণ আপাতদৃষ্টিতে লোভ একটি খারাপ বিষয় হলেও কিছু বিষয়ে লোভ মোটেও খারাপ না।এর মানে এই না লোভ খারাপ।Exception লোভ কল্যাণকর।খেয়াল করলে দেখা যায় মানুষের প্রতিটি কাজের পিছনেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লোভ আছে।এখন সেটা কীসের উপর লোভ সেটার উপর নির্ভর করে লোভ খারাপ কি ভাল।আপনি যে লোভের কথা বলছেন সেখানে খারাপ কিছু দেখাতে পারবেন?

      দ্বিতীয়ত,নারীকে নিয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে সব অভিযোগের জবাব এখানে পাবেন http://signofquran.com
      যেহেতু আপনি নির্দিষ্টভাবে কোন অভিযোগ করেন নি বরং একটি বইয়ের রেফারেন্স দিয়েছেন

      তৃতীয়ত,আপনি যেরূপ মন্তব্যটা করলেন সেটা ঠিক কত কতটুকু নির্ভরযোগ্য? আমি বোঝাতে চাচ্ছি আপনি কি নিজেও জানেন আপনার মন্তব্য সঠিক কি না? নাকি মনে যা চেয়েছে তাই মন্তব্য করে দিলেন?

      •আমরা মুসলিমরা ২০০ বছর ভারত শাসন করেছি।আমরা ইচ্ছা করলে প্রতিটি ভারতীয়কে মুসলিম বানাতে পারতাম জোর করে ইসলাম গ্রহণ করিয়ে।ভারতীয়রা সাক্ষ দেয় তাদের জোর করে ইসলাম গ্রহণ করানো হয় নি।

      •আমরা মুসলিমরা ৮০০ বছর স্পেন শাসন করেছি।এখন কয়জন মুসলিম আছে স্পেনে?

      •মালেশিয়াতে ৫০% জনসংখ্যাই মুসলিম।কোন মুসলিম সেনাবাহিনী মালেশিয়াতে গিয়েছিল?

      •ইন্দোনেশিয়া হচ্ছে বর্তমানে সবচেয়ে বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।কোন মুসলিম সেনাবাহিনী ইন্দোনেশিয়ায় গিয়েছিল?

      •সৌদি আরবে যেখানে কিনা ইসলামের পুনর্জাগরণ হয় সেখানে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ কপ্টিক খ্রিষ্টান।অর্থাৎ তারা গোষ্ঠীর মাধ্যমে খ্রিষ্টান

      •আজ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত যে ধর্ম বাড়ছে,ধর্মান্তরিত দিক দিয়ে অর্থাৎ Fastest Growing Religion according to convertion তা হচ্ছে ইসলাম।ইউরোপীয়ান দেশগুলোতেও (যেমন যুক্তরাষ্ট্রে) ইসলাম Fastest Growing Religion।ইউরোপের দেশগুলোতে কারা তাদের জোর করে ইসলাম গ্রহন করাচ্ছে?

  10. 7
    আবদুল্লাহ আল-মাসউদ

    জাযাকাল্লাহ

    1. 7.1
      Masud

      জাযাকাল্লাহ,

      সরকার সানজিদ আদভান

      আপনার উত্তরটা সত্যি অসাধারন

  11. 6
    মিলন

    আপনার লেখাটা ভালো লাগলো। কিন্তু আরো কয়েকটা বিষয় জানালে উপকৃত হতাম।

    ১। আদমের পাঁজরের হার থেকে হাওয়া সৃষ্টি। তাহলে কি আদমের পাঁজরের হারের সংখ্যা একটা কম ছিল? যদি না থাকে, তাহলে পাঁজরের হার দিয়ে হাওয়া সৃষ্টির পরেও, হার কেন কমে গেল না?

    ২। আদৌ কি হার থেকে একটা মানুষকে সৃষ্টি সম্ভব? বিজ্ঞান কি বলে এই বিষয়ে? এটা কি শুধুই ধর্মের অলৌকিকতা, নাকি বিজ্ঞান সম্মত?

    ৩। শয়তান যদি আদম হাওয়াকে ধোঁকা দেয়ার দরুন দুনিয়ায় না পাঠাতো, তবে আদম হাওয়া দুনিয়ায় আসত কি অযুহাতে? আর যদি আদম হাওয়া দুনিয়ায় না আসত, তাহলে নবী ই বা আসতেই কিরুপে? যদি এসব কাহিনী নাই ই হবে, তাহলে আল্লাহ আগে থেকেই পৃথিবী, জান্নাত জাহান্নাম তৈরি করে রেখেছিলেন কার জন্য? এসব থেকে এটাই স্পষ্ট যে, উক্ত ঘটনা গুলো অবশ্যই ঘটত। তাহলে শয়তান কি আল্লাহর উদ্দেশ্যই সফল করল না? সেক্ষেত্রে শয়তান দোষী হয় কিরুপে?

    ৪। আপনি বলেছেন, “নারীকে পাঁজরের হারের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা পুরুষের হৃদয়ের নিকটবর্তী।” হৃদয় বলতে আপনি কি হৃদপিন্ডের কথা বুঝিয়েছেন? যেটা কেবল মাত্র পাম্পের সাহায্যে শরীরে রক্ত প্রবাহ সচল রাখে। হৃদয় আর মন নামক দুটি শব্দকে কি আপনি এক মনে করেন? যদি এক মনে করেন, তাহলে মন থাকে মস্তিষ্কে, পাঁজরের কাছে নয়। আর যদি ভিন্ন মনে করেন, তাহলে হৃদয়ের আলাদা ব্যাখ্যা প্রদান করবেন দয়া করে, যা কিনা হাওয়ার প্রতি আকর্ষন সৃষ্টি করেছিল। হৃদপিন্ডে আকর্ষনাভূতি আছে কি নাই, সেটাও জানাবেন দয়া করে।

    ৫। আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে পঁচা কাদামাটি হতে, হোক সেটা পঁচা কাদামাটি, তবুও তো অন্য মানুষ থেকে ধার করতে হয় নি। কিন্তু, হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আদমের হার থেকে, এখানেই তো নারী জাতিকে ঋনী করে রাখা হয়েছে। পুরুষের শরীরের সামান্য অংশ হতে নারী সৃষ্টি। বলা হয়, নারী পুরুষের অর্ধাংগিনী, তাহলে বাঁকি অর্ধেক গেল কোথায়?

    ৬। বর্তমানে সৃষ্ট নারীও কি পুরুষের হার থেকে সৃষ্টি?

    1. 6.1
      রিজভী আহমেদ খান

      আমি সম্ভাবনা দিয়েছি নারী হাঁড় হতে সৃষ্টি হতেও পারে,নাও পারে। কিন্তু আপনি তো দেখছি মেনেই নিয়েছেন আমি নারীদের হাঁড় থেকে সৃষ্টি বলেছি। হৃদয়ের নিকটবর্তী বলতে আমি কি বুঝিয়েছি তা কিন্তু স্পষ্ট। আপনি অন্য অর্থ দিয়ে যদি বাকবিতণ্ডায় জড়াতে চান সে সময় আমার নেই।
      ১ নং প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই, কারণ কুরআন হাদিস থেকে আমি এমন কোনো তথ্য পাই নি,বরং এটা লোক মুখে প্রচলিত তাই আমি এটার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।

      ২ নং প্রশ্ন- আবার বলছি আপনি ধরেই নিয়েছেন নারীরা হাড় থেকে সৃষ্টি। এবং বিজ্ঞান এখনো এ তথ্যকে বাতিল করেছে কিনা জানি না! যদি না করে থাকে তাহলে ভবিষ্যত্বে আমর তা জানতে পারব।

      ৩ নং প্রশ্ন- শয়তান যে শয়তান হবে এটা পূর্বে আল্লাহ জানলেও শয়তানের শয়তান হবার পিছনে শয়তান নিজেই দায়ী। ঠিক তেমনি ঘটনাটি ঘটবে তা নির্ধারিত হলেও সেটার আনজাম দেবার জন্য শয়তানই দায়ী। যে জাহান্নামে এটা নির্ধারিত হলেও জাহান্নামে যাবার জন্য সেই দায়ী।কারণ আল্লাহ জানতেন উক্ত ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করবে না।

      ৪ নং নিয়ে উপরে বলেছি, ৫ নং একই কথা আপনি ধরেই নিলেন হযরত হাওয়া হাঁড় থেকে সৃস্টি। তাহলে তো হযরত আদমও পঁচা মাটির কাছে ঋণী। কি বলেন?

      ৬ নং উত্তর- না

    2. 6.2
      Rasel

      মিলন:

      আপনি বললেন,  //আদৌ কি হার থেকে একটা মানুষকে সৃষ্টি সম্ভব? বিজ্ঞান কি বলে এই বিষয়ে? //

      কেন সম্ভব না শুনি? হযরত আদম (আ.) এর হাড়/পাজড় থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে তা থেকে ক্লোনিং-এর মাধ্যমে হযরত হাওয়াকে (আ.) সৃষ্টি করা কী স্রষ্টার পক্ষে খুব কঠিন কিছু??  (ক্লোনিং-এর কথাটা স্রেফ যুক্তির খাতিরে বললাম, স্রষ্টার কাছে ক্লোনিং অপেক্ষা আরোও উন্নততর প্রযুক্তি জানা থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।)

      দ্বিতীয়ত: আপনি বললেন, //শয়তান যদি আদম হাওয়াকে ধোঁকা দেয়ার দরুন দুনিয়ায় না পাঠাতো, তবে আদম হাওয়া দুনিয়ায় আসত কি অযুহাতে?//

      — অযুহাতের কী অভাব আছে না-কি?? আদম-হাওয়াকে বেহেশতের যে স্থানে রাখা হয়েছিল সে স্থানে তাদের পরীক্ষা করার জন্য একটি নিষিদ্ধ বৃক্ষ রাখা হয়েছিল এবং সাথে সাথে শয়তানকেও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল তাদের প্ররোচনা করার জন্য। সুতরাং তর্কের খাতিরে যদি বলি, আদম-হাওয়া যদি শয়তানের ফাঁদে পা না দিতেন এবং  নিষিদ্ধ বৃক্ষ-এর ফল ভক্ষণ না করতেন তাহলে তারা হয়তো সেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অবস্থান করতে পারতেন। কিন্তু তাঁদের পরবর্তী বংশধররা যে সেই নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করত না, তা আপনি নিশ্চিত হলেন কীভাবে?  

      তৃতীয়ত: আপনি আদম-হাওয়াকে ‍দুনিয়াতে প্রেরণের কথা উল্লেখ করে বললেন, শয়তান না-কি আল্লাহর উদ্দেশ্য সফল করেছে!!

      আচ্ছা, আপনাকে একটি প্রশ্ন করি, পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত অনেক গর্হিত/পাপ কাজ সংগঠিত হচ্ছে। তার মানে আপনি কী বলতে চাচ্ছেন যে, এসব গর্হিত/পাপ কাজ আল্লাহর উদ্দেশ্য সফল করার জন্য সংগঠিত হচ্ছে??

      আশা করি উপরের সব প্রশ্নের উত্তর দিবেন।।

      1. 6.2.1
        হাবিব

        @ Rasel ভাই, আপনার যুক্তিগুলো ভালো লাগলো। জাযাকাল্লাহ ।

  12. 5
    মাহাথির তুষার

    কি আর বলি

  13. 4
    এম_আহমদ

    ভাল লেখা হয়েছে। ধন্যবাদ।
     

    1. 4.1
      রিজভী আহমেদ খান

      জাযাকাল্লাহ ভাই এম আহমদ

  14. 3
    mamun

    কোন হাদিস মানতে দ্বিধা হলে বলা হয়, এটা সহি হাদিস না। এসব নিয়ে আবার খুন খারাবী হয়।

    1. 3.1
      রিজভী আহমেদ খান

      mamun@ এখানে অস্বীকারও করা হয় নি, খুন খারাবীও করা হয় নি।

  15. 2
    মরুঝড়

    মাশা আল্লাহ , অনেক ভালো লাগলো। খুব সুন্দর ব্যাখ্যা।
     

    1. 2.1
      রিজভী আহমেদ খান

      জাযাকাল্লাহ খাইরান।

  16. 1
    সরকার সানজিদ আদভান

    মাশাল্লাহ,ভাল লেগেছে। সদালাপে আপনাকে স্বাগতম

    1. 1.1
      রিজভী আহমেদ খান

      আমি তো একটু পুরাতন হয়ে গেছি। @ সানজিদ ভাই

      1. 1.1.1
        রিজভী আহমেদ খান

        নাম: রিজভী আহমেদ খান
        নিবন্ধন তারিখ: মার্চ ২৩, ২০১৫
        URL: https://
        http://www.facebook.com/100008554126363

        1. 1.1.1.1
          সরকার সানজিদ আদভান

          আমি উক্ত কমেণ্টটা মুছে ফেলতে চেয়েছিলাম কিন্তু পারি নি।বিষয়টা আমি মন্তব্যের পরেই খেয়াল করেছিলাম

        2. রিজভী আহমেদ খান

          ঠিক আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.