«

»

May ১৩

রাসূলুল্লাহ্ সাঃ-এঁর পদ্ধতিতে মু’মিনের নামায-২

নামাযের মর্যাদা ও গুরুত্ব:

ক. নামায শ্রেষ্ঠ ইবাদত

নামায তাওহীদের অত্যাবশ্যকীয় বহিঃপ্রকাশ ও ঈমানের চিরন্তন ও চিরস্থায়ী নিদর্শন। আকীদা-বিশ্বাসের দৃষ্টিকোন থেকে যদি তাওহীদ সমগ্র দ্বীনের উৎসমূল হয়, তবে আমলের দৃষ্টিকোণ থেকে নামায পুরো দ্বীনের আমলী বুনিয়াদ। সুতরাং নামায কায়েম করা পুরো দ্বীনকে কায়েম করার শামিল। নামায শুধুমাত্র মুমিনের জন্য উৎকৃষ্ট আমলই নয় বরং সকল কল্যাণকর আমলের ভিত্তিমূল। সমস্ত শরীরের মধ্যে মাথার মর্যাদা যেমন তদ্রপ দ্বীন ইসলামে নামাযের মর্যাদা। এ কারণে আমাদের সালেহীনগণ নামাযের নামকরণ করেছেন “মীযান” বলে। তাই একজন লোকের মুসলিম আর কাফির হওয়ার মধ্যে পার্থক্যকারী মানদন্ড হলো নামায। গুরুত্বের দৃষ্টিকোণ থেকেই কুরআন নামায আদায়ের জন্য ‘আদায় করার’ মত সাধারণ শব্দ ব্যবহার না করে ‘মুহাফাজাত’ বা সংরক্ষণ এবং ‘ইক্বামত’ বা প্রতিষ্ঠা শব্দ ব্যবহার করেছে। যার মর্ম এইযে, নামায যেন তেন করে পড়াই ফরয নয়, বরং পূর্ণ মনোযোগ, একাগ্রতা, যত ও গুরুত্ব সহকারে আদায় করা অত্যাবশ্যক বা ফরয।

খ. ঈমানের পরে প্রথম দাবী হলো নামায কায়েম করা

ঈমান আনার পরে একজন মু’মিনের জীবনের প্রথম দাবী হলো সে নামায কায়েম করবে।

আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন-
انني انا الله لا اله الا انا فاعبد ني واقم الصلواة لذكري
‘‘নিশ্চয় আমি আল্লাহ্। আমি ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই। অতএব, শুধু আমারই ইবাদত কর এবং আমার স্মরনার্থে নামায কায়েম কর”।

গ. নামাযের সংরক্ষণ ও স্থায়িত্বের উপর শরীয়তের স্থায়িত্ব:
ইরশাদ হচ্ছে,
حافظوا علي الصلوات و الصلوة الوسطي وقوموا لله قنتين
‘‘তোমরা সমস্ত নামাযের প্রতি যতœবান হও, বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসর) নামাযের প্রতি এবং আল্লাহর সামনে তোমরা বিনীত ভাবে দাঁড়াও।

হুজুর সা. বলেছেন-
الصلواة عماد الدين فمن اقامها اقام الدين ومن تركها فقد هدم الدين
‘‘নামায হলো দ্বীনের খুঁটি, যে ব্যক্তি নামাযকে কায়েম করলো বস্তুতঃ সে দ্বীনকেই কায়েম করল। আর যে ব্যক্তি এই নামাযকে ছেড়ে দিল, সে দ্বীনকেই ধ্বংস করল।”

ঘ. মু’মিন ও কাফিরের মধ্যে পার্থক্যকারী মানদন্ড হচ্ছে নামায:

হাদীসে ইরশাদ হয়েছে,
بين الرجل وبين الكفر والشرك ترك الصلاة
‘‘মু’মিন ও কাফির-মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে নামায পরিত্যাগ করা। অর্থাৎ মু’মিনেরা নামায পড়ে, আর কাফির-মুশরিকরা নামায পড়ে না।

রাসুলুল্লাহ সা. আরো বলেছেন,
العهد الذى بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر-
‘‘আমাদের ও তাদের (অমুসলমানদের) মধ্যকার পার্থক্য সূচক অঙ্গীকার হচ্ছে নামায। যে ব্যক্তি নামায পরিত্যাগ করবে সে কাফির হয়ে যাবে।

ঙ. বান্দা ও তার প্রতিপালকের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনকারী নামায:

নবী করীম সা. ইরশাদ করেছেন,
الصلواة معراج المؤمنين
‘‘নামায হলো মু’মিনের মি’রাজ।’

হুজুর সা. আরো বলেছেন,
ان احدكم اذا صلي يناجي ربه
‘‘নিশ্চয় তোমাদের কেউ যখন নিবিষ্ট চিত্তে নামায আদায় করে তখন সে তার প্রভূর সাথে নির্জনে কথা বলে।

চ. রাসূলুল্লাহ’র সা. সর্বশেষ নছীহত নামায কায়েম করা:

রাসূলে কারীম সা. এর ইনতিকালের সময় তাঁর উম্মতের জন্য সর্বশেষ নছীহত এবং অঙ্গীকার ছিল।
اتقوا الله في الصلواة وفيما ملكت ايما نكم
‘‘তোমরা নামায ও তোমাদের দাস-দাসীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর”।

ছ. কিয়ামত দিবসে সর্বপ্রথম হিসাব হবে নামাযের:

রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন,
ان اول ما يحاسب به العبد يوم القيامة صلوته فان صلحت فقد افلح وانجح وان فسدت فقد خاب و خسر-
‘‘কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামায সম্পর্কে হিসাব নেয়া হবে। যদি যথাযথ ভাবে নামায আদায় হয়ে থাকে তবে সে কামিয়াবী ও সফলতা অর্জন করবে। আর যদি নামায নষ্ট হয়ে থাকে (অর্থাৎ যথাযথ ভাবে আদায় না করে থাকে) তবে সে ব্যর্থ ও বিপর্যস্ত হবে।
এ হাদীসে একথা একেবারে পরিস্কার যে, অন্য সকল ইবাদত নামাযের উপর নির্ভরশীল। যদি নামায সঠিক হয় তবে তার সকল ইবাদতই সঠিক হবে এবং অন্য সকল হিসাব-নিকাশ সহজ হবে এবং সে নাজাত পাবে। আর এর ব্যতিক্রম হলে তা বয়ে আনবে তার জন্য নিষ্ফলতা ও অকৃতকার্যতা।

আজ প্রকাশ হলো ২য় কিস্তি।

১ comment

  1. 1
    এস. এম. রায়হান

    সদালাপে স্বাগতম।
    আপনার নামের দুই পাশে যে ‘^‘ দিয়েছেন তা দেখতে খারাপ লাগছে। চিহ্নগুলো উঠিয়ে দিলে ভাল হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.