«

»

Feb ২৪

মাইণ্ড-বডি প্রবলেম: কিছু ভাবনা (২)

মানুষের ইন্টেলিজেন্সের অন্যতম একটি প্রমাণ হলো বিভিন্ন বিষয়কে পরস্পর 'এসোসিয়েট' করতে পারার যোগ্যতা। যেমন: মানুষ তার মুখ দিয়ে উচ্চারিত কতগুলো শব্দ (Sound)-কে বিভিন্ন ব্যাক্তি, বস্তু, ক্রিয়া, বিশেষণ ইত্যাদির সাথে এসোসিয়েট করতে পারে (ধ্বনি)। আবার এই শব্দগুলোকে বিভিন্ন বক্ররেখার তথা প্রতীকের(symbol)-এর সাথে এসোসিয়েট করতে পারে (বর্ণ)। মানুষ এই এসোসিয়েশনগুলো ব্যবহার করে কোন একটি ঘটনাকে বর্ণনা করতে পারে।কোন একটি ঘটনাকে বুঝতে গেলেও মানুষের এই এসোসিয়েশনগুলো তথা ধ্বনি ও বর্ণ ব্যবহার করে। অর্থাৎ মানুষের বুদ্ধিমত্তার অংশ হলো তার ভাষা ব্যবহারের যোগ্যতা। 

কিন্তু প্রশ্ন হলো একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম কি এসোসিয়েট করার বিষয়টি করতে পারবে? এসোসিয়েট করার যোগ্যতাটি কি গণনাযোগ্য (Calculable)? আরও সাধারণভাবে বললে কম্পিউটারের কি মন(Mind) থাকতে পারে? আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের প্রবক্তাদের অন্যতম কাজ এ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা। মাইণ্ড যদি একটি উচ্চমার্গীয় প্রোগ্রাম হয় তাহলে মেন্টাল এক্টিভিটি হলো উক্ত প্রোগ্রামের এক্সিকিউশন। কম্পিউটেশনাল থিওরী অব মাইণ্ড এর প্রবক্তা জেরী ফোডোর ও হিলারী পুটনামদের মতে আমাদের মস্তিষ্কের এলগোরিদমগুলোই হলো মাইণ্ড। (হিলারী পুটনাম অবশ্য পরবর্তীতে নিজেই এর যথেষ্ট সমালোচনা করেছেন)। [১]

মাইণ্ডের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ‘Understanding’ বা ‘বোঝা’। Strong Artificial Intelligence(Strong AI)- এর প্রবক্তাদের মতে কম্পিউটারের মন থাকা সম্ভব। সুতরাং কম্পিউটার ‘বুঝে’। কম্পিউটারের বোঝার বিষয়টি পরীক্ষা করার জন্য অ্যামেরিকান ফিলোসোফার জন সার্ল-এর একটি সুন্দর থট এক্সপেরিমেন্ট আছে যাকে বলে সার্ল-এর চাইনিজ রুম। অর্থাৎ সার্লকে যদি একটি আবদ্ধ ঘরে রেখে কতগুলো চাইনিজ লেখা ইনপুট দেয়া হয় এবং চাইনিজ অক্ষরগুলোকে ব্যবহার করার জন্য কিছু ইন্সট্রাকশন দেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী একটি ‘আউটপুট’ বাইরে দিতে বলা হয়- সার্ল সেটি করতে পারবেন। কিন্তু চাইনিজ ভাষা সম্পর্কে কোন প্রকার ধারণা না থাকায় তিনি পুরো প্রক্রিয়াটিতে চাইনিজ লেখাগুলোর কিছুই বুঝতে পারবেন না। কম্পিউটারও ইনস্ট্রাকশনগুলোকে এভাবে ‘ম্যানিপুলেট’ করতে পারবে এবং একটি আউটপুট দিতে পারবে, কিন্তু কিছু বুঝতে পারবে না। 

স্ট্রংএআই-এর প্রবক্তারা অবশ্য বলছেন এখানে ‘বোঝা’ শব্দটিকে ‘আলাদা’ করে ফেলা হচ্ছে। হতে পারে আমাদের ব্রেইনে লেখার প্যাটার্নগুলোকে নিয়ে আলগারিদমের কাজ করাটাই হচ্ছে বোঝা। তবে জন সার্ল বলছেন এটাও একধরনের কার্টেসিয়ান ডুয়ালিজম। যেখানে আলগরিদমটাই ‘মাইণ্ড স্টাফ’ এর মত কাজ করছে, যা ‘ম্যাটার’-এর সাথে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত না। [২]

তবে আমি ভাবছিলাম আমার ব্রেইন যদি একটি কম্পিউটার ধরে নেই এবং এতে যে কোন প্যাটার্নের এসোসিয়েশনকে শেখার প্রোগ্রামিং করা থাকে এবং আমি যদি উক্ত প্যাটার্ণ সম্পর্কে জেনে থাকি (তথা শিখে থাকি) তাহলে সেই এসোসিয়েশনের আলোকে উক্ত প্যাটার্ন বা সিম্বল ব্যবহার করে দেয়া কোন লেখার অর্থ ‘আমি বুঝতে পারবো’। কিন্তু, এই যে এসোসিয়েশন করার কাজটা, এটা কি স্ট্রংএআই হিসেবে আমি করতে পারবো?

আমি মাতৃভাষা বাংলা দিয়ে ‘চিন্তা’-র কাজটি করি। আমি এখন মনের ভাব প্রকাশ করতে চাইলে বাংলা অক্ষর ব্যবহার করছি। কিন্ত ইচ্ছে করলে আমি অন্য কিছু সিম্বল তৈরী করার ক্ষমতা রাখি এবং সেগুলোতে কিছু অর্থ Attribute করার (তথা এসোসিয়েট করার) যোগ্যতা রাখি। কিন্তু স্ট্রংএআই কি সেটা পারবে?

আত্মা ও মন নিয়ে পড়তে গিয়ে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছি, পড়ছি এবং আরো পড়বো ইনশাল্লাহ। এ বিষয়ে আপনাদের কোন চিন্তা আছে?

 

রেফারেন্স:

১. http://en.wikipedia.org/wiki/Computational_theory_of_mind

২. Roger Penrose, The emperor's New Mind, Oxford University Press, Oxford, p-24-25.  

 

১ comment

  1. 1
    এম_আহমদ

    ভাষা ও মাইন্ড বিষয় চৈতন্যের প্রকৃতির (nature of consciousness) সাথে জড়িত। চৈতন্য বা চেতনা কীভাবে অস্তিত্বের অনুভূতিতে আসে? এখানে ‘আমি’ কে, কীভাবে আমাকে আমি অপরাপর সবাই থেকে আলাদা করে নিজেকে পার্থক্যে নিয়ে আসি? এই প্রসেসের সাথে ভাষা এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমার নামের সাথে যে কয় ধরণের প্রতীক রয়েছে বা থাকতে পারে (সিম্বোলিক, আইকনিক, ফনেটিক্স অথবা কার্টুনের মত অঙ্কিত ইন্ডেক্সিক্যাল) সবটি বিপরীত থেকে আমি যে/যা নই সেই অসংখ্য প্রতীকের মোকাবেলায় এসেছে অর্থাৎ আমি আনোয়ার নই, দিলওয়ার নই, সানওয়ার নই ইত্যাদি। প্রতীকী অর্থ নিয়ে আমার অপর লেখায় কিছু আলোচনা এসেছে (এখানে ও এই ব্লগের ৪.১ কমেন্টের দ্বিতীয় আলোচনা, ‘যৌক্তিক সমস্যা’)। তাহলে দেখা যাবে একটি শব্দ যখন তার বিপরীত  শব্দ ভাণ্ডার  যেগুলো সে নয় তাদের মোকাবেলায় অর্থ নির্ধারণ করছে তখন তার ‘অর্থ’ তার মধ্যে নয় বরং যে বা যা সে নয় সেখানে, সেই ‘নেটওয়ার্কে’ নিহিত। তারপর সেখানে অপরাপর অর্থের ডিমেনশন থাকে। প্রধান দুটি ডিমেনশন হচ্ছে সিঙ্ক্রনিক ও ডায়াক্রনিক। মনে করেন আপনি আমার বাসায় এসে আমাকে বলতে শুনেছেন ‘বিড়ালটা’। তারপর আমি আর কিছুই বলিনি। এখানে কোনো ক্রিয়াপদ নেই। অতীত বর্তমান, ভবিষ্যৎ -কোনো কালেই যেন শব্দের সম্পর্ক সৃষ্টি হচ্ছে না এবং ‘জাগতিক’ সম্পর্কও সৃষ্টি হচ্ছে না। কিন্তু এখানে আমার পরিবারের লোক হয়ত সেই শব্দের অর্থ সাপ্লাই করতে পারে। এখানে কাল ও জাগতিক যে সম্পর্ক এবং তা যেভাবে আমাদের চৈতন্যের সাথে সম্পর্কিত হয় কম্পিউটার কীভাবে তা ধারণ করবে সেটা বুঝা মুস্কিল অনুভূত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.