«

»

May ১১

ফাইলোজেনেটিক ট্রি এবং বিবর্তনবাদ

আপনারা যারা বিবর্তনবাদীদের সাথে তর্কে লিপ্ত হয়েছেন বা নিজেরা ঘাঁটাঘাঁটি করেছেন তারা ‘ফাইলোজেনেটিক্স’ সম্পর্কে জেনে থাকবেন। আপনারা হয়তো বিভিন্ন সময় লক্ষ্য করে থাকবেন এমন কতগুলো ছবি, যেখানে আছে কয়েকটি সরলরেখার গাছ (Phylogenetic Tree) যেগুলোর একপ্রান্তে আছে কতগুলো প্রজাতি এবং আরেকপ্রান্তে সরলরেখাগুলো একটি মূল তৈরী করেছে। উক্ত মূলে আছে একটি সম্ভাব্য ‘কাল্পনিক’ প্রজাতি (Hypothetical Last Common Ancestor)।

বিবর্তনবাদীদের প্রদর্শিত ফাইলোজেনেটিক ট্রি দেখলে মনে হয় যেন তারা বিবর্তনের বিশাল এক প্রমাণ নিয়ে হাজির হয়েছে। বিশেষ করে একটি প্রজাতির সাথে আরেকটি প্রজাতির ‘বিবর্তনীয় সম্পর্ক’ (Evolutionary Relationship) এমনভাবে প্রকাশ করা হয় যেন তা বিবর্তনের ইতিহাস সুস্পষ্ট করে দিচ্ছে।

বিবর্তনবাদীদের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো বিজ্ঞানের মোড়কে প্রতারণা। তাদের এই স্ট্র্যাটেজি বুঝা আরও সহজ হয় যখন ফাইলোজেনেটিক্স বিষয়টির একটু গভীরে যাওয়া যায়। ফাইলোজেনেটিক্স তৈরী করতে যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হয় সেগুলোর জটিলতা অনেক। জটিল এবং সাধারণের জন্য দূর্বোধ্য কতগুলো শব্দের ব্যবহার আছে। যেমন: Maximum Parsimony Analysis, Maximum Likelihood Analysis, Distance Based Methods (Bayesian Analysis, UPGMA etc) ইত্যাদি। কিন্তু এত জটিল জটিল শব্দের পিছনে আছে একটি সহজ ‘ধারণা’ (Assumption)।

(এবার একটু লক্ষ্য করে) উক্ত ধারণাটি হলো: ‘যে প্রজাতিগুলোর সাদৃশ্যপূর্ণ গঠন আছে (Homologous Structure) সে প্রজাতিগুলো বিবর্তনীয়ভাবে পরস্পরের নিকটবর্তী।' হ্যাঁ পাঠক ভাল মত খেয়াল না করলে হয়ত আপনি বিষয়টি ধরতে পারবেন না। বিবর্তনবাদীরা এখানে ‘সাদৃশ্যপূর্ণ গঠন’কে বিবর্তনের প্রমাণ হিসেবে ধরে নিয়েছেন!! অথচ, সাদৃশ্যপূর্ণ গঠন কখনই বিবর্তনবাদের প্রমাণ নয়। কারণ সাদৃশ্যপূর্ণ গঠনের আরেকটি বিকল্প ব্যাখ্যাকে তারা ইচ্ছা করেই এড়িয়ে গেছেন। সেটি হলো ‘Common Design’। হ্যাঁ, এই বিকল্প ব্যাখ্যাকে বাতিল করতে হলে দেখাতে হবে জেনেটিক লেভেলে বিবর্তনের ম্যাকানিজমগুলো কাজ করে। অর্থাৎ দেখাতে হবে যে, 'মিউটেশন’ এমন কিছু ভ্যারিয়েশন তৈরী করতে পারে ধাপে ধাপে যেগুলো নতুন কার্যকরী প্রোটিনসমষ্টি তৈরী করতে সক্ষম, তথা বাহ্যিকভাবে নতুন 'বডি প্ল্যান' তৈরী করতে সক্ষম। অথবা, দেখাতে হবে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে নির্মিত বিভিন্ন ফাইলোজেনেটিক ট্রিগুলো সংগতিপূর্ণ (Congruent)।

যারা মিউটেশন সম্পর্কে পড়ালেখা করেছেন তারা জেনে থাকবেন মিউটেশন ধাপে ধাপে নতুন ও সম্পূর্ণ ভিন্ন ফাংশনের প্রোটিন তৈরী করতে পারে না। [১] বরং একটি এনজাইমকে (প্রোটিন) ভিন্ন ফাংশনের এনজাইমে পরিবর্তন হতে হলে অনেকগুলো মিউটেশন একসাথে হতে হবে। ডগলাস এক্স ও এন গজার দেখিয়েছেন যে, একটি ফাংশনাল এনজাইমকে আরেকটি ফাংশনাল এনজাইমে পরিণত করতে ৫টি বা তার অধিক সাইমালটেনিয়াস ও স্পেসিফিক মিউটেশন লাগবে। [২] মাইকেল বিহের স্টাডি থেকে আমরা জানি, একই সাথে চারটির বেশী মিউটেশন প্রয়োজন হলে এবং তা র‍্যাণ্ডমলি হতে হলে পৃথিবীর বয়স সীমা পার হয়ে যায়। [৩] কিন্তু কোষের নতুন কোন কাজ একটি এনজাইমের উপরতো নির্ভর করেই না, বরং অনেকগুলো এনজাইমের সামগ্রিক সহযোগিতায় একটি নতুন ফাংশন তৈরী হয়। এরূপ অনেকগুলো নতুন ফাংশনযুক্ত কোষের সমন্বয়ে তৈরী হয় নতুন ফাংশন বা বৈশিষ্ট্য-যুক্ত টিস্যু। আর এ ধরণের টিস্যুগুলোর পারস্পরিক সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত যোগাযোগের মাধ্যমেই শুধু হবে রিঅর্গ্যানাইজেনশ, এবং রিঅর্গ্যানাইজেশন ছাড়া নতুন বডি প্ল্যান আসা সম্ভব নয়। এমনকি অন্যান্য জেনেটিক ম্যাকানিজমগুলোও প্রজাতিতে ইতোমধ্যে বিদ্যমান জেনেটিক তথ্য ওলট-পালট করা ছাড়া নতুন কার্যকরী তথ্য যোগ করতে অপারগ।

যাই হোক, বিবর্তনবাদীরা ফাইলোজেনেটিক এনালাইসিসে কি করে তা বুঝার জন্য ‘ম্যাক্সিমাম পার্সিমনি এনালাইসিস’ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। ধরুন আপনি তিনটি প্রাণী ‘ক’, ‘খ’ এবং ‘গ’ নিয়ে তুলনা করবেন। এক্ষেত্রে প্রথমে আপনাকে 'ক', 'খ' ও 'গ' প্রাণীত্রয়ের কিছু বৈশিষ্ট্য ঠিক করতে হবে। ধরি, একটি বৈশিষ্ট্য প্রত্যেকটি প্রাণীর-ই আছে সেটিকে দেই নাম্বার ‘১’। অতঃপর, আরেকটি বৈশিষ্ট্য শুধু 'খ' এবং 'গ'-এর আছে, এদের দেই নাম্বার ‘২’। আরেকটি বৈশিষ্ট্য আছে শুধু ‘গ’-এর নাম্বার দেই ‘৩’। এখন আমাদের কাজ হবে প্রাণী ‘ঘ’ এর সাথে এদের তুলনা করা। প্রাণী ‘ঘ’ হলো আমাদের গ্রুপের বাইরের (Outgroup) প্রাণী। 'ঘ'-র তিনটি বৈশিষ্ট্যের কোনটিই নেই। এভাবে চিহ্নায়িত করে আমরা নিচের ছকটি পাব:

          ১        ২        ৩

ঘ        ০        ০        ০

ক       ১        ০        ০

খ        ১        ১        ০

গ        ১        ১        ১

সুতরাং আমাদের ফাইলোজেনেটিক ‘ট্রি’ হবে এরকম:

 

 

অর্থাৎ, আমাদের ফাইলোজেনেটিক ট্রি অনুসারে, 'ক', 'খ' এবং 'গ' একটি ‘হাইপোথিটিক্যাল কমন এনসেস্টর’ থেকে এসেছে। এরপর 'ক' এবং 'খ' ও 'গ'-এর বিবর্তনীয় লিনিয়েজ ভাগ হয়ে গেছে। 'খ' এবং 'গ'-এর হাইপোথিটিক্যাল কমন এনসেস্টর থেকে পরবর্তীতে 'খ' এবং 'গ' ভাগ হয়ে গেছে। জ্বি ভাই/বোন, অবাক হবেন না। এভাবেই তৈরী হয় ফাইলোজেনেটিক ট্রি। আর গাছের প্রতিটি শাখার গোড়ায় লাগিয়ে দেয়া হয় ‘হাইপোথিটিক্যাল কমন এনসেস্টর’। [৪]

 

 

এবার উপরের ছবিটি দেখুন। [৫] এটাকে বলে 'Consensus Phylogeni of All Life'। লক্ষ্য করে দেখুন, রেখাগুলো যেখানে বিভক্ত হয়েছে, সেই জায়গাগুলোর হাইপোথিটিকাল প্রজাতিগুলোর ফসিল কিন্তু এখনও কাল্পনিক পর্যায়েই আছে।

মজার ব্যাপার হলো, এই অধিকাংশ ‘হাইপোথিটিক্যাল কমন এনসেস্টর’দের কোন ফসিল এভিডেন্স নেই। একটি বিষয় ভেবে দেখুন, আপনি যদি এরকম একটি ফাইলোজেনেটিক ট্রি নিয়ে চিন্তা করেন তাহলে আপনি আশা করবেন ফসিল এভিডেন্সে যতই আমরা পিছনের দিকে যাব ততই এমন কতগুলো ফসিল পাবো যেগুলোর আকার আকৃতির সাথে বর্তমান কোন প্রাণীর আকার আকৃতির মিল নেই। অন্য কথায় আমরা বর্তমানে যে জীবগুলো পাচ্ছি সেগুলোর বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন (হেটারোজেনাস), কিন্তু পেছনের দিকে গেলে ফসিলে আমরা এমন কতগুলো জীব পাব যেগুলোতে হয় উক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয় আছে অথবা তারা একই ধরণের বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন (হোমজেনাস)। অর্থাৎ জিওলজিকাল হিস্ট্রির প্রথম দিকে আমরা কখনই জীবজগতের ‘পর্ব’ (Phylum) গুলোকে আলাদা করতে পারবো না, বরং যতই সময় যাবে পর্বগুলো তাদের পৃথক বৈশিষ্ট্যসহ স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করবে। কিন্তু ক্যামব্রিয়ান পিরিয়ডে মাত্র ৩০ মিলিয়ন বছরের ব্যবধানে (৫৩০ মিলিয়ন বছর পূর্ব থেকে ৫০০ মিলিয়ন বছর পূর্ব) প্রায় ২৫টি পর্ব পাওয়া যায়। জিওলজিক্যাল পিরিয়ডে এটি খুবই সংক্ষিপ্ত সময়।

মলিকিউলার ফাইলোজেনি-ও অনেকটা উপরোক্ত নিয়মে করা হয়। এক্ষেত্রে, দুটো প্রজাতির ‘হোমোলোগাস’ প্রোটিনের এমাইনো এসিড সিকোয়েন্স অথবা তাদের জিন সিকোয়েন্স নিয়ে এনালাইসিস করে ইভলুশনারী ট্রি তৈরী করা হয়। যেমন ধরুন বিভিন্ন প্রজাতির থেকে ‘হিমোগ্লোবিন’-এর এমাইনো এসিড সিকোয়েন্স নিয়ে ফাইলোজেনেটিক স্টাডি করা হলো। এক্ষেত্রে উক্ত প্রজাতিগুলো কবে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং তাদের 'হাইপোথেটিকাল লাস্ট কমন এনসেস্টর' কত বছর আগে জীবিত ছিলো এগুলোর একটি হিসাব বেরিয়ে আসে। মজার বিষয় হলো উক্ত প্রজাতিগুলো থেকেই যদি অন্য একটি এনজাইম (যেমন: সাইট্রোক্রোম সি) নিয়ে স্টাডি করা হয় তাহলে দেখা যায় তাদের ফাইলোজেনেটিক ট্রি একই ধরণের ফলাফল বা সময়সীমা দেখাচ্ছে না। একইভাবে, প্রজাতির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে যে ফাইলোজেনেটিক ট্রিগুলো তৈরী করা হয়েছে সেক্ষেত্রেও দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন ফাইলোজেনেটিক ট্রি-র মধ্যে সামঞ্জস্য নেই। অথচ, বিবর্তনের মাধ্যমে নতুন 'বডি প্ল্যান' তৈরী হয়ে থাকলে প্রজাতির যে বৈশিষ্ট্য নিয়েই ফাইলোজেনেটিক ট্রি করা হোক না কেন, সেগুলো একই ধরণের বা সামঞ্জস্যপূর্ণ চিত্র দেখানোর কথা, একই সময়ে গিয়ে লাস্ট কমন এনসেস্টরকে নির্দেশ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা পাওয়া যায় না। স্টিফেন সি. মেয়ার তার বই 'Darwin's Doubt'-এ বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছেন। [৬]

অতএব পাঠক, বুঝে নিন আপনার সামনে যদি ফাইলোজেনি নামক কোন শব্দ প্রকাশ করা হয়, অবুঝের মত বিভ্রান্ত হবার কিছু নেই। ফাইলোজেনী ডারউইনবাদকে প্রমাণ করে না।

সংযোজন(১২/০৫/২০১৪): পাঠক, প্রথমোক্ত ছবিটার দিকে আবার লক্ষ্য করুন। ছবিটা থেকে ইচ্ছা করলে এভাবেও চিন্তা করার সুযোগ আছে যে, যদিও আমরা চূড়ান্ত 'লাস্ট কমন এনসেস্টর' সম্পর্কে জানি না, কিন্তু 'ক', 'খ' এবং 'গ' এর লাস্ট কমন এনসেস্টর হিসেবে 'ক'-কে বিবেচনা করতে পারি। সেক্ষেত্রে এভাবে ব্যাখ্যা দেয়া যায় যে,  কোন এক সময় 'ক' প্রজাতির পপুলেশনের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বা পৃথক হয়ে গেছে, এরপর উক্ত প্রজাতির মধ্যে সৃষ্ট ভ্যারিয়েশনের মধ্য দিয়ে বৈশিষ্ট্য '২'-এর আবির্ভাব ঘটেছে এবং 'খ' প্রজাতি তৈরী হয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে নির্বাচিত হয়ে টিকে গেছে। ঠিক একই ভাবে ‘খ’ থেকে একটি সাবপপুলেশন 'গ'-তে পরিণত হয়েছে। সমস্যা হলো, এ ধরনের ‘ট্রি’ কনস্ট্রাকশনে বৈশিষ্ট্য ‘১’ ‘২’ ও ‘৩’-এর আবির্ভাবকে ‘বিবর্তনের’ ফসল হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছে। কিন্তু উপরে আমরা দেখেছি র‍্যানডম আনগাইডেড বিবর্তন আনবিক পর্যায়েই নতুন ফাংশনযুক্ত এনজাইম বা প্রোটিন তৈরী করতে অক্ষম। সুতরাং, নতুন একটি বৈশিষ্ট্য (যেমন: পাখির ডানার মাংসপেশী, নার্ভ ইত্যাদি)তৈরী করতে যে পরিমান নতুন সুসংগঠিত তথ্য জিনোমে সুশৃংখলভাবে প্রবেশ করাতে হবে তা আনগাইডেড বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ায় সম্ভব নয়।

এবার আমরা দ্বিতীয় ছবিটা পুনরায় দেখি। ছবি অনুযায়ী, বহুকোষী প্রাণী স্পঞ্জ-এর একটি সাবপপুলেশনে প্রথম সুগঠিত ‘অঙ্গ’ হিসেবে স্নায়ুতন্ত্র এবং/অথবা সংবহনতন্ত্র (আদিমপ্রকৃতির) আবির্ভূত হয়ে অন্যান্য জীবের বিবর্তন হয়। এছাড়াও স্পঞ্জের পরেই সুগঠিত দৈহিক আকৃতি ও বডি সিমেট্রির আবির্ভাব হয়। আমরা জানি স্পঞ্জ পরিফেরা পর্বের অন্তর্ভূক্ত এবং এর কাছাকাছি পর্ব হল নিডারিয়া (জেলি ফিস, হাইড্রা, কোরাল, সামুদ্রিক এনেমোন) । পরিফেরা ও নিডারিয়ার পর্বের দুটো সরলতম প্রজাতির মধ্যেও কিছু মৌলিক পার্থক্য আছে। যেমন: নিডারিয়া পর্বের বৈশিষ্ট্য হল ‘নিডোসাইট’ কোষের উপস্থিতি, সরলতম স্নায়ু জাল, মুখবিবরের অবস্থান, সুনির্দিষ্ট শারীরিক আকৃতি(Body Shape)ইত্যাদি। আবার পরিফেরা পর্বের টানেল সিস্টেম নিডারিয়াতে নেই। সুতরাং একটি সরলতম স্পঞ্জকেও বিবর্তিত হয়ে নিডারিয়াভুক্ত প্রাণীতে পরিনত হতে হলে জিনোমে উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর সুবিন্যস্ত আবির্ভাব ঘটাতে হবে। মজার ব্যপার হলো ‘হোক্স’ জিন ক্লাস্টার যা এমব্রায়োনিক ডেভেলপমেন্টের সময় শারীরিক আকৃতি তৈরী নিয়ন্ত্রণ করে, তার প্রথম আবির্ভাব নিডারিয়াতে। কোন র‍্যানডম মিউটেশনের মধ্য দিয়ে যে এ ধরনের জেনোমিক ইনফরমেশন ইনফিউশন সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য।

চলুন, আমরা জোনাথান বার্ডের সাথে স্পঞ্জ (পরিফেরা) এবং কোরাল (নিডারিয়া)-এর বৈচিত্রপূর্ণ জগতে ঘুরে আসি।

স্পঞ্জ

https://www.youtube.com/watch?v=m8a0oNsDEx8

কোরাল

https://www.youtube.com/watch?v=EO_Zc5XH6e0

 

রেফারেন্স:

[১] Behe MJ. Experimental Evolution, Loss-of-function Mutations, and “The First Rule of Adaptive Evolution”. The Quarterly Review of Biology. 2010 December (Cited 2014 May 11]; 85(4):419-45. Available at: http://www.lehigh.edu/~inbios/pdf/Behe/QRB_paper.pdf  

[২] Gauger, A., Axe, D.. The Evolutionary Accessibility of New Enzymes Functions: A Case Study from the Biotin Pathway. BIO-Complexity, North America, 2011, apr. 2011. Available at: http://bio-complexity.org/ojs/index.php/main/article/view/BIO-C.2011.1.

[৩] Michael J. Behe, Edge of Evolution, FreePress, NY, 2008, p-142. 

[৪] Greg Krukonis, Tracy Barr; Phylogenetics: Reconstructing the Tree of Life; Evolution for Dummies; Wiley Publishing Inc. Indianapolis, Indiana.

[৫] ছবিসূত্র: http://www.talkorigins.org/faqs/comdesc/phylo.htm

[৬Stephen C. Meyer, Darwin’s Doubt, HarperCollins publishers, Seattle, WA, 2013, p-130-131.

১২ comments

Skip to comment form

  1. 5
    শাহবাজ নজরুল

    বরাবরের মতই অসাধারণ লেখা। কিছু কমেন্ট -- ১. ফাইলোজেনেটিক ট্রি বৃহতার্থে কেবল বাইনারি কেন? মানে -- প্যারেন্ট নোড কেবল মাত্র একটি সন্তান প্রজাতি উপহার দিয়ে আর বিবর্তিত হয় না কেন? এই বাস্তবতা কি মৌলিক বিবর্তনী টেনেটের সাথেই বিপ্রতীপ নয়? ২. জিন ভিত্তিক ফায়লোজেনেটিক ট্রি কি তৈরী করা হয়েছে? এর সাথে প্রজাতির সাযুজ্য-ভিত্তিক বৃক্ষের মিল বা অমিল কতটুকু? অমিল থাকলে রিকনসিলিযেশন কিভাবে করা হচ্ছে? ৩. আপনার লেখাগুলো একসাথে করে একটা বই বের করেন, ইনশাল্লাহ। --শাহবাজ 

    1. 5.1
      আবদুল্লাহ সাঈদ খান

       

      শাহবাজ ভাই, অসংখ্য ধন্যবাদ কিছু প্রশ্ন রাখার জন্য। প্রশ্ন না করলে ব্রেইনস্টর্মিং হয় না। আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো আলাদা পোস্ট দেয়ার দাবী রাখে। তারপরও সংক্ষেপে কিছু কথা বলি-

      ১. অত্যন্ত চমৎকার একটি পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন। বিবর্তনতত্ত্ব অনুযায়ী পরিবর্তিত পরিবেশে যেহেতু একটি প্রজাতির মিউটেটেড সাবপপুলেশন ভিন্ন প্রাকৃতিক পরিবেশে সারভাইভাল এডাভানটেজ পেয়ে টিকে যায়, সেহেতু ‘ইনসিপিয়েন্ট’ (নতুন প্রজাতিতে পরিণত হবে এমন) প্রজাতিতে পরিণত হয়। ফাইলোজেনির এই ট্রি অনুযায়ী আমরা দেখছি প্যারেন্ট প্রজাতি আর পরিবর্তিত হচ্ছে না। (অন্যকথায় বিবর্তনবাদীরা ‘ধরে নিচ্ছে’ প্যারেন্ট প্রজাতি হয় নতুন পরিবেশের সম্মুখিন হয় নি অথবা প্যারেন্ট প্রজাতির বৈশিষ্ট্যগুলোর সারভাইভাল পাওয়ার খুব বেশী)। কিন্তু বিবর্তনবাদীদের দাবী অনুযায়ী, যেহেতু প্রজাতির বৈশিষ্ট্য খুব ফ্লেক্সিবল সেহেতু পরিবর্তিত পরিবেশে প্যারেন্ট প্রজাতির পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ার কথা অথবা প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে প্যারেন্ট প্রজাতির বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কথা। অর্থাৎ, ফাইলোজেনেটিক্স বিবর্তনের মৌলিক টেনেটের সাথে বিপ্রতীপ চিত্র দেখাচ্ছে। বিবর্তনবাদীদের উপস্থাপিত প্রমানাদিতে এ ধরনের আরও ফাঁক ফোকর আছে। যেমন ফসিল এভিডেন্সে যে গ্র্যাডুয়েল ফসিল রেকর্ড পাওয়ার কথা, তা কিন্ত নেই। বরং যে কোন জিওগ্রাফিক স্তরে একটি প্রজাতি পূর্ণাঙ্গ গঠন সহকারে হঠাৎ আবির্ভূত হয় এবং বিলু্প্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের গঠন একই থাকে। এ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেই স্টিফেন জে গোল্ড ফসিল এভিডেন্সে ‘সাডেন এপেয়ারেন্স’ এবং ‘স্ট্যাসিস’-এর কথা বলেন। এবং বিবর্তনের পর্যায়ক্রমিকতার এই অনুপস্থিতিকে সারকামভেন্ট করার জন্য ‘পাঙ্কচুয়েটেড ইকুইলিব্রিয়াম’-এর তত্ত্বের অবতারণা করেন। (অর্থাৎ তবু ম্যাক্রো-বিবর্তনকে সত্য ধরতে)

      ২. জিন ভিত্তিক বা প্রোটিনের এমাইনো এসিড ভিত্তিক ফাইলোজেনেটিক ট্রি তৈরী করাই মলিকিউলার ইভুলিউশনিস্টদের কাজ। জার্নাল অব মলিকিউলার ইভুলিউশনের মত লিটারেচারের অধিকাংশ রিসার্চ-ই এসব নিয়ে। এ সম্পর্কে মাইকেল বিহের একটি পর্যালোচনা আছে:

      “None of the papers discussed detailed models for intermediates in the development of complex biomolecular structures. In the past ten years JME has published over a thousand papers. Of these, about one hundred discussed the chemical synthesis of molecules thought to be necessary for the origin of life, about 50 proposed mathematical models to improve sequence analysis, and about 800 were analyses of sequences. There were ZERO papers discussing detailed models for intermediates in the development of complex biomolecular structures. This is not a peculiarity of JME. No papers are to be found that discuss detailed models for intermediates in the development of complex biomolecular structures in the Proceedings of the National Academy of ScienceNatureScience, the Journal of Molecular Biology or, to my knowledge, any science journal whatsoever.”
      (Source: http://www.arn.org/docs/behe/mb_idfrombiochemistry.htm)

      অন্যদিকে মরফোলজিকাল ফাইলোজেনেটিক ট্রি এবং মলিকিউলার ফাইলোজেনেটিক ট্রি যে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সেটা বিবর্তনবাদীরা রিকনসিল করে (অধিকাংশ ক্ষেত্রেই) ‘লুকানোর’ মাধ্যমে। উপরে এম_আহমদ ভাইয়ের কমেন্টের রিপ্লাইয়ের শেষের দিকে ক্যাসে লাসকিনের যে লিংকটি দিয়েছি ওখানে এ ব্যপারে ভালো আলোচনা আছে।

  2. 4
    এম_আহমদ

    Science in evolutionary theory

    বিবর্তনবাদী পক্ষ থেকে কেবল এই চার্ট সেই চার্ট, এই টেবল, সেই টেবল তৈরি হয়ে আসছে। কিন্তু তাদের ধারনার পক্ষের transitional (fossil) evidence বেরিয়ে আসছে না। মাইনর পরিবর্তন দেখিয়ে মেজর পরিবর্তনের induction নেয়া হচ্ছে। এখানেই থিওরির ‘বৈজ্ঞানিক’ সমস্যা। মূল থেকে এই থিওরির বিপক্ষে যেসব dispute উত্থাপিত হচ্ছে সেগুলো resolve হচ্ছে না, বরং এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

    কোনো একটি থিওরি পরিপূর্ণভাবে প্রামাণিক না হলে অথবা তার বিভিন্ন সেকশনে ভুল ধরা পড়লে তাকে সঠিক অর্থে ‘প্রমাণিত সত্য’ বলা যায় না। এটা এ পর্যন্ত তেমন বৈজ্ঞানিকও হয় না, যদিও শুনতে মানানসই লাগে। তবে বিজ্ঞানী বসে থাকবেন না -বাস্তবতার সঠিক ব্যাখ্যা উদ্ঘাটনে অন্য পথ অবলম্বন করবেন। কিন্তু ভুল প্রমাণের পরও, অথবা থিওরির বিভিন্ন অংশ অপ্রামাণিক থাকার পরও, তিনি যদি আগের স্থানে জেদি হয়ে থাকেন অথবা জেদি হয়ে আগের ধারণায় জোড়া-তালি দিতে শুরু করেন তবে বুঝতে হবে যে আলোচ্য থিওরিতে ‘বিজ্ঞানের’ বাইরে অন্য কিছু আছে এবং সেই বস্তুই তার কাছে বিজ্ঞানের চাইতেও মূল্যবান। কার্ল পপারের দৃষ্টিতে কোনো একটি থিওরি বৈজ্ঞানিক হতে হলে কয়েকটি মূল নীতি থাকতে হয়। এদের মধ্যে নিম্নক্ত কয়টি কথা জরুরি: (4) A theory which is not refutable by any conceivable event is non-scientific. Irrefutability is not a virtue of a theory (as people often think) but a vice.

    (5) Every genuine test of a theory is an attempt to falsify it, or to refute it. Testability is falsifiability; but there are degrees of testability: some theories are more testable, more exposed to refutation, than others; they take greater risks.  …

     (7) Some genuinely testable theories, when found to be false, are still upheld by their admirers – for example by introducing ad hoc some auxiliary assumption, or by re-interpreting the theory ad hoc in such a way that it escapes refutation. Such a procedure is always possible, but it rescues the theory from refutation only at the price of destroying, or at least lowering, its scientific status. (I later described such a rescuing operation as a ‘conventionalist twist’ or a ‘conventionalist strategem.)

    ((Cited in Fisher, A. (1988), The Logic of Real Arguments, Cambridge: Cambridge University Press, pp.115-116)

    কিন্তু জেদি বিবর্তনবাদীরা যেন এই থিওরিকে refute করতে দিচ্ছেন না। থিওরি-গৃহের এদিক ভাঙ্গলে জোড়া-তালি দিচ্ছেন, ওদিক ভাঙ্গলে scaffolding উপর দাঁড় করিয়ে রাখছেন। অর্থাৎ এখানে ad hoc assumption নিয়ে আসছেন, সেখানে reinterpret করছেন আর এভাবে চলছেই। বিষয়টা কত না সুন্দর হত যদি তারা এই থিওরির যে পরিমাণ অংশ evidential, তা যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন, সেটুকু নিয়ে নিষ্ঠার পরিচয় দিতেন এবং বলতেন যে আমরা এই থিওরির উপর tentatively কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু এখানে নিষ্ঠার অভাব। যেখানে evidence -এর প্রয়োজন সেখানে যুক্তি দেখিয়ে কী লাভ?

    পল আব্রামসন গাছে চড়ে এভাবে একটু মজাক করছেন, rel="nofollow">The Evolutionary Tree of Life

    1. 4.1
      আবদুল্লাহ সাঈদ খান

      এম_আহমদ ভাই, আপনার প্রতিটি মন্তব্য থেকে কিছু না কিছু শেখা যায়। আপনার কাছ থেকে ভবিষ্যতে আরও শেখার অপেক্ষায় রইলাম।

      ………………………….

      আনুসঙ্গিক কিছু কথা-

      বিবর্তনবাদীরা ফাইলোজেনেটিক্স ট্রি তৈরীর বিষয়টিতে যে বেসিক এসাম্পশন নিয়ে কাজ করে সেটি হলো- সমরূপী অঙ্গগুলো কমন এনসেস্ট্রির উদাহরণ। কিন্তু এই এসাম্পশনটি সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত নয়। কারণ, হোমোলোগাস (সমরূপী) গঠনের অন্যতম প্রধান আরেকটি কারণ হতে পারে কমন ডিজাইন। যেমন: পাবলো পিকাসো যখন চিত্রকর্মে এবস্ট্রাকশন আনতে গিয়ে কিউবিজম নিয়ে আসলেন তখন তিনি তার ছবিগুলোতে একটি কমন ডিজাইন বা প্যাটার্ন ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ একজন ডিজাইনার চাইলে তার প্রত্যেকটি কর্মে কমন ডিজাইন ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি এমনও হতে পারে যে, ডিজাইনার তার সকল ডিজাইনে একটি কমন ম্যাসেজ দিতে চাচ্ছেন। (বায়োলজিকাল স্ট্রাকচারে এমন একটি ম্যাসেজ নিয়ে চিন্তা করেছেন, ওয়াল্টার রিমাইন। তিনি তার প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘বায়োটিক ম্যাসেজ’। তিনি বলতে চাচ্ছেন যে, স্রষ্টা তার সৃষ্টির কমন ডিজাইনের মধ্যে একটি ম্যাসেজ দিয়ে রেখেছেন। সংক্ষেপে এখানে দেখতে পারেন: http://www.genesispark.com/essays/message-theory/)

      আমরা জানি, রিজনিং অনেক সময় লজিকাল হলেও কনক্লুশন ভুল হতে পারে। কিন্তু সেই ভুল কনক্লুশনকে ভিত্তি করে যখন সায়েন্টিফিক কমিউনিটির বড় একটি অংশ রিসার্চে ব্যস্ত থাকে তখন তাদের উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যেতেই পারে।

      বিবর্তনবাদীরা হোমোলজিকে কমন ডিসেন্ট-এর প্রমাণ বলতে গিয়ে যে একটি বড় ফ্যালাসী কমিট করছেন, সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না। ধরুন আমি বললাম,

      প্রেমিজ-সকল স্কুলছাত্র কলম ব্যবহার করে

      অবজারভেশন-নাজমুল ভাই কলম ব্যবহার করে

      কনক্লুশন- নাজমুল ভাই একজন স্কুলছাত্র।

      এখানে রিজনিং লজিকালী ঠিক আছে। কিন্তু উপসংহার অসত্য। কারণ এখানে ‘ফ্যালাসী অব আনডিসট্রিবিউটেড মিডল’ কমিট করা হয়েছে। এখানে যে ‘ডিসপিউটেবল’ রিজনিংটি উহ্য আছে তা হলো:

      প্রেমিজ- সকল স্কুলছাত্র কলম ব্যবহার করে

      (হিডেন প্রেমিজ– সকল কলম ব্যবহার কারী স্কুলছাত্র)

      অবজারভেশন- নাজমুল ভাই কলম ব্যবহার করে

      কনক্লুশন- নাজমুল ভাই একজন স্কুলছাত্র।

      স্পষ্টতই লুকানো রিজনিংটি ভুল। এবার দেখি কিভাবে বিবর্তনবাদীরা এই ফ্যালাসী কমিট করেন-
       

      প্রেমিজ- একই পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হলে সকল জৈবিক গঠনে সমরূপতা থাকবে

      অবজারভেশন- সকল জৈবিক গঠনে সমরূপতা আছে

      কনক্লুশন- সকল জৈবিক গঠন একই পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছে

      ফ্যালাসী অব আনডিসট্রিবিউটেড মিডল:

      প্রেমিজ- একই পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হলে সকল জৈবিক গঠনে সমরূপতা থাকবে

      (হিডেন প্রেমিজ- সমরুপ গঠন কেবল বিবর্তনের মাধ্যমে আসে)

      অবজারভেশন- সকল জৈবিক গঠনে সমরূপতা আছে

      কনক্লুশন- সকল জৈবিক গঠন একই পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হয়েছে

      অর্থাৎ, এই লজিকে এমন একটি প্রেমিজ আছে যেটা বিতর্কের উর্দ্ধে না। বরং সমরূপ গঠন যে কমন ডিজাইনের মাধ্যমে আসে এটা আমরা মানুষ নামক ইন্টেলিজেন্ট স্বত্তার কাজে কর্মে অহরহ দেখতে পাই।

      এছাড়াও বিবর্তনবাদীরা বিবর্তনের প্রমাণ দিতে গিয়ে ‘চাক্রিক যুক্তি’ ব্যবহার করেন। আসুন দেখি কিভাবে-

      (একই পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তন হল- কমন এনসেস্ট্রি। গাঠনিক সাদৃশ্যতা হল-হোমোলজি)

      ১. প্রাণীজগতের গাঠনিক সাদৃশ্য একই রকম হওয়ার কারণ কি?- একই পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তন (হোমোলজি > কমন এনসেস্ট্রি)

      ২. একই পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তনের প্রমাণ কি?- প্রাণীজগতের গাঠনিক সাদৃশ্য (কমন এনসেস্ট্রি > হোমোলজি)

      অর্থাৎ, ‘যেটা নিজেই বিবর্তনের প্রমাণ সেটা নিজেই বিবর্তনের ফসল’। এভাবে কার্যত আমি একটি এসাম্পশনকেই রি-স্টেট করলাম। কিছু প্রমাণ করলাম না। অথচ এই সার্কুলার এসাম্পশনের উপর চলছে ফাইলোজেনেটিক ট্রি তৈরীর কাজ।

      যাই হোক, এসাম্পশন দিতে কোন সমস্যা নেই। কারণ, ইনডাকটিভ রিজনিং-এ- আমি একটি এসাম্পশন দিতে পারি এবং সেই এসাম্পশন থেকে একটি প্রেডিকশন দিতে পারি। যদি প্রেডিকশন সবগুলো এক্সপেরিমেন্টেশনে সত্য হয় তাহলে এসাম্পশন ভ্যালিড হবে। ঠিক একইভাবে, “একই পূর্বপুরুষ থেকে বিবর্তিত হলে সকল জৈবিক গঠনে সমরূপতা থাকবে” এই এসাম্পশনের উপর ভিত্তি করে আমি প্রেডিকশন(বা হাইপোথিসিস) দিতে পারি যে, জৈবিক গঠনের বিভিন্ন এসপ্যাক্ট-এর উপর ভিত্তি করে নির্মিত ফাইলোজেনেটি ট্রিগুলো কনগ্রুয়েন্ট পিকচার দিবে। এরপর এই প্রেডিকশন টেস্ট করতে পারি, ফাইলোজেনেটিক ট্রি তৈরী করে এবং এগুলো তুলনা করে। যদি তারা কনগ্রুয়েন্ট হয় তাহলে এসাম্পশন সত্য হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। অন্যকথায়, এই এসাম্পশনের উপর ভিত্তি করে নির্মিত সবগুলো ফাইলোজেনেটিক ট্রি যদি কনগ্রুয়েন্ট পিকচার দেয় তাহলে কমন ডিসেন্টের পক্ষে কনক্লুশন স্ট্রং হবে। কিন্তু বাস্তবতা হল, ফাইলোজেনেটিক ট্রিগুলো শুধু ইনকনগ্রুয়েন্ট-ই না, বরং কন্ট্রাডিকটরি। যেমন: মলিকিউলার ফাইলোজেনেটিক ট্রি ও এনাটমিকাল ফাইলোজেনেটিক ট্রির মধ্যে কন্ট্রাডিকশন অহরহ পাওয়া যায়। যদিও বিবর্তনবাদীরা দাবী করে এর উল্টো এবং কন্ট্রাডিকশগুলো প্রচার করে না।  (ক্যাসে লাসকিনের এই আর্টিকেলটিতে এ সম্পর্কে চমৎকার একটি আলোচনা পাবেন: A primer on the tree of life; http://www.discovery.org/a/10651)  

      1. 4.1.1
        এম_আহমদ

        কিছু সুন্দর উদাহরণ এনেছেন তাই ভাবলাম এই প্রসঙ্গে আরও দু/চারটা কথা সংযুক্ত করি।  প্রথমে বলি যে প্রেমিসেস এবং কনক্লুশনের যে উদাহরণ দিয়েছেন সেই ভিত্তিতে যদি কোনো কমপ্লেক্স বিষয়ের প্রেমিসেসকে নানান তথ্য, উদাহরণ ও ব্যাখ্যায় এক চ্যাপ্টার ব্যাপী দীর্ঘায়ত করা হয় এবং পরে কমপ্লেক্স সিদ্ধান্তসমূহ আরও কয়েক পাতায় বিস্তৃত করা হয় তবে সাধারণ মানুষ আনডিসট্রিবিউটেড মিডল যে কোথায় সে কথার খেই হারিয়ে ভুলে কনক্লুশনের উপরই ফোকাস করবে। এই জাতীয়  যৌক্তিকতার আরেকটি হাস্যকর উদাহরণ হয় এভাবে:  (a) All women are mortal (b) the American President is mortal, therefore, (c) the American President is a woman!

        Inductive reasoning এর উপরে আগের ধারণাকে আরেকটু প্রসারিত করি। ডেভিড হিউমই Induction based (repeated) observation কে empirical ধারণা করতেন। পপার এটাকে ভুল মনে করেন। ডেভিড হিউমই ১৮শো শতাব্দীর প্রথম ব্যক্তি যিনি নিজেকে নাস্তিক বলে জাহির করেন। এই কথাটিও তাৎপর্যপূর্ণ।

        Inductive empiricism এর ধারণা-পদ্ধতিতে repeated observation থেকে universal theory তে উপনীত করা হয় এবং এই পদ্ধতিতে ‘জ্ঞান’ অর্জের ধারণা রাখা হয়। পপারের ধারণায় observation এর মাধ্যমে থিওরি প্রতিষ্ঠিত হয় না (অর্থাৎ observation  থেকে থিওরি আসে না)। Theories are not derived from observation because theorising is prior to observation. We cannot observe without theories. And when we have a theory, we only see what we intend to see.  আপনি দেখতে পাচ্ছেন সমস্যা কোন দিকে যাচ্ছে? বিবর্তনবাদীরা আগ থেকেই কিছু জিনিস দেখতে মরিয়া হয়ে পড়ে আছে। যেকোনো মূল্যে তা সে দেখতে চায়!ভূতের ধারণা নিয়ে মধ্যরাতে অপেক্ষা করতে থাকলে যেকোনো আওয়াজেই ভূত ভূত অনুভূত হবে। আর সকাল বেলায় গল্প হবে নিরেট বাস্তবতার। যদি ওখানে ভূত না থাকল, তবে বিড়ালের মত আওয়াজ হবে কেন? (তবে refutation এ তা নিরসন করতে পারেন –যা পপারের থিওরিতে আসে)।

        Inductive empiricism এর ব্যাপার হল এই যে এখানে particular instance observation থেকে general ধারণায় উপনীত হওয়া হয় এবং অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সকল instances এই অবজারভেশনের আওতাভুক্ত হয় (অর্থাৎ যেসব instances আমরা সর্বাবস্থায় observe করি নাই তাও মেনে নিতে হয়। ধরেন, (ক) like magnetic poles always repel. আমরা যখন magnet bars ঝুলিয়ে বার বার দেখি তখন  (ক)তে যে ধারণা দাঁড় করিয়েছি তার প্রমাণ পাই। কিন্তু এখানে যে tentative অবস্থা সেই খেয়াল আমরা এই empiricism এ হারিয়ে বসি। আমরা এখনও মেগনেটের এই অবস্থা সর্বাবস্থায়, সর্বত্র, (in all space) সব কন্ডিশনে পরীক্ষা করতে পারিনি। মঙ্গল গ্রহে মেগনেট বার (magnet bar) কী এই বৈশিষ্ট্য দেখাবে? অথবা আমাদের সৌর জগত পাড়ি দিয়ে বা গেলাক্সি পাড়ি দিয়ে এই বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাবে? অথবা মেগনেটের অতি ক্ষুদ্র বারেও (bar) কি তা দেখা যাবে? আমরা কি তা observe করেছি? যদি না করে থাকি, তবে  like magnetic poles always repel –এটা কীভাবে বলতে পারি? Always হল কীভাবে? Repetition অবজারভ করে ‘চিরন্তন’ (universal) কথা বলাতে সমস্যা থেকে যায়। খৃষ্টমাস টার্কি repeatedly খাবার পাওয়া observe করে এই নিয়ম ‘সর্বদা’ চলতে থাকার induction নেয়া কি হবে? এখানে empiricist epistemology (a specific theory of knowledge, or things that are counted as knowledge) সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে। যে বস্তু পরিপূর্ণভাবে প্রমাণিত নয় তা ‘বিজ্ঞান’ হবে কেমনে?  (তবে হ্যাঁ, অনেককিছু tentatively গ্রহণ করা যেতে পারে)। পপার বলেন বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অবজারবেশনভিত্তিক inference থেকে হয় না। বরং conjecture এবং refutation থেকে হয়। আমার আগের মন্তব্যে ব্যবহৃত উদ্ধৃতির কথা স্মরণ করুন। পপারের এই জ্ঞানগত দিগকে rationalist epistemology বলে উল্লেখ করা হয়। যে কোনো থিওরির উলটা একটি instance ই থিওরিকে ধ্বংস করে দিতে পারে (কিন্তু বিবর্তনবাদীরা ১০টা পেলেও হাল ছাড়বে না)। পপারের কথা হচ্ছে we see, we conjecture and then we try to ‘refute’ vigorously what we initially held.  কোথাও থিওরি আগে আনাতেও অসুবিধে নেই। কিন্তু বার বার নিজ ধারণা প্রতিষ্ঠিত করার চাইতে বার বার চেষ্টা করে দেখা হবে সেই ধারণাকে ‘refute’ করা যায় কি না। এখানেই rationalist epistemology ভিন্নতায় আসে। এটা Induction এর উলটা। আপনি বিবর্তনের বিপক্ষে evidence পেয়েও নাছোড় বান্দা হয়ে থাকবেন, ধারণায় কোনো পরিবর্তন আনবেন না, এটা কোন ধরণের বিজ্ঞান হবে?  

        1. 4.1.1.1
          আবদুল্লাহ সাঈদ খান

          এম_আহমদ ভাই, দারুন আলোচনা। অসংখ্য ধন্যবাদ সুন্দর কথাগুলো বলার জন্য্। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। 

  3. 3
    mehedibayyenah

    জাজাকাল্লাহ খাইরান 

    1. 3.1
      আবদুল্লাহ সাঈদ খান

      শুকরিয়া। 

  4. 2
    এস. এম. রায়হান

    সাধারণের কাছে দূর্বোধ্য টার্ম 'ফাইলোজেনেটিক্স'-এর নামে বিবর্তনবাদীদের ভুং-ভাং নিয়ে অল্প কথায় লেখাটি চমৎকার হয়েছে।

    1. 2.1
      আবদুল্লাহ সাঈদ খান

      অথচ, ইভুলিউশনের জার্নালগুলোর অধিকাংশ গবেষণাই হচ্ছে এই 'ফাইলোজেনেটিক ট্রি' বের করা। যেটির বেসিক এসাম্পশনই প্রশ্নবিদ্ধ তার পিছনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ। তদুপরি, সবগুলো ফাইলোজেনেটিক ট্রি কনগ্রুয়েন্ট কোন রেজাল্ট দিলেও কথা ছিলো। কিন্তু কন্ট্রাডিকশনগুলো সম্পর্কে এরা একেবারে চুপ।  

  5. 1
    ইমরান হাসান

    অ্যান্টি হিউম্যান সেরাম এর বিষয়টিকে আরেকটু সহজ ভাবে ব্যাখা করলে ভালো হত। আসলে বিবর্তন আর ডারউইন বাদ এক জিনিস না সেটা অনেক অনেক দিন আগে থেকেই আমি জানি ; এর পরেও তারা এমন প্যাচ লাগানোর চেষ্টা কেন করে বুঝি না।

     দুইটা বিপরীতমুখি প্রাণীর বোন ম্যারো পারস্পরিক ভাবে মিশ্রিত করলে পারে যে অধক্ষেপ টা পড়ে সেটাকে তারা অ্যান্টি হিউম্যান সেরাম এর উদাহারন বলে অনেক দিন আগে থেকেই প্রচার করে আসছে কিন্ত সেটা কি করে কাজ করে প্রাণীদের মধ্যে এটা কিন্ত এর আগে আমি জানতাম না। 

    জাজাকাল্লাহ খাইরান এর ফাইলোজেনেটিক্স এর প্রবলেম টা আমার সামনে এক্সপজ করার জন্য। 

    1. 1.1
      আবদুল্লাহ সাঈদ খান

      ইমরান হাসান, এন্টি হিউম্যান সিরামের বিষয়টি সম্পর্কে আরেকটু বিস্তারিত বললে ভালো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.