«

»

Apr ২৮

রবীন্দ্র সমালোচনা- অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক কেন রবীন্দ্রনাথকে বড় মানুষ ভাবতেন না?

বাংলা সাহিত্যে পদার্পণ মানে আপনি ইতোমধ্যে রবীন্দ্রনাথ পাঠ করে ফেলেছেন। বঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য পাঠ মানে-লবনহীন তরকারী। কোন এক অদৃশ্য হাত বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ পাঠ বাধ্যগত করেছেন। সেই ছোটবেলায় শুরু জাতীয় সংগীত "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি" থেকেই আপনার আমার রবীন্দ্রনাথ পাঠ শুরু হয়েছে। এরপর "ব্যক্তিস্বাধীনতা" বোধ হওয়ার আগ পর্যন্ত ইচ্ছা হোক আর অনিচ্ছা হোক রবীন্দ্রপাঠ বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক শ্রেণীর পাঠ্য বইতে রবীন্দ্রনাথ থাকবেই। সরকার পাল্টালে শ্রেণী বিশেষ প্রবন্ধ-কবিতা পাল্টে যায়, কোন কোন পূর্ববঙ্গের লেখকও হয়তো পাতা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। রাজনৈতিক দাঁড়িপাল্লায় এক সময় অদৃশ্য হয়ে যাবে আল-মাহমুদ ও সোনার নোলক। ইতোমধ্যে ফররুখ আহমেদকে খুঁজে পাচ্ছিনে পাঠ্য বইতে। কিন্তু পাঠ্যবইতে রবীন্দ্রনাথ থেকেই যাবে, থাকতেই হবে থাকা চাই-ই চাই। মাদ্রাসা শিক্ষাতেও রবীন্দ্রনাথ স্থান পেয়েছে শুনেছি। শুনে ভালোই লেগেছে। মাদ্রাসা ছাত্ররা স্যেকুলার হবে, মাদ্রাসা ছাত্ররা রবীন্দ্রনাথ জানবে রবীন্দ্রনাথ পড়বে। রবীন্দ্রনাথ থাকবে তাদের কল্পনায় মহাপুরুষ হিসাবে। যদিও রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের জমিদার এবং তাঁর পূর্বপুরুষের ভিটে পূর্ববঙ্গে থাকা সত্ত্বেও পূর্ববঙ্গের প্রজাদের ছেলেমেয়ের জন্য কোন পাঠশালা, মক্তব বা অন্যকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়েননি বা তাতে সাহায্যও করেননি। তবুও রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গে বাধ্যতামূলক ভাবতেই কী ভালো লাগে! কেন রবীন্দ্রনাথকে বাধ্যতামূলক করা হল? এ প্রশ্নের জবাবে রবীন্দ্র ভক্তদের কাছ থেকে আমি যে জবাব পেয়েছি তা উদ্বৃত করলাম-

"রবীন্দ্রনাথ (১৮৬১-১৯৪১) থাকবেই বা না কেন! এক দৃষ্টিতে দেখতে গেলে যেভাবেই হোক তিনি বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ করেছেন। বাংলা সাহিত্যকে তিনি সারাটা জীবন দিয়েই গেছেন। তিনি বাংলা সাহিত্যে বাঙ্গালীদের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ১৩টি উপন্যাস, ৩৮টি নাটিকা, ৩৬টি প্রবন্ধ, ৯৫টি ছোটগল্প, ১৯১৫টি গান ও ২০০০টি ছবি উপহার দিয়েছেন। তাঁর সাহিত্যের গুণগত মান নিয়ে কে আছে প্রশ্ন তোলার? এখনো কি জন্ম হয়েছে সে ধূর্যটির?"

হ্যাঁ বন্ধুটির দাবী একেবারে অমূলক নয়। রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে বাংলা সাহিত্য সমৃদ্ধ নয়। কবি হিসাবে তিনি খুবই পরিশ্রমী ছিলেন, কারণ সাহিত্য করতে তিনি তাঁর জীবনে প্রচুর সময় পেয়েছেন যা অন্যরা খুবই কম পেয়েছেন বাংলা সাহিত্যের জগতে। পারিবারিক সূত্রে জমিদার হওয়ায় রবীন্দ্রনাথের ধনসম্পদের কোন পিছুটান ছিলোনা। তাই সাহিত্যের পিছনে তিনি তাঁর সারাটা জীবন ব্যয় করেছেন। কিংবা তাঁর লেখার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো কোন ধূর্যটি অবশিষ্ট নেই। থাকলেও তাঁরা চাপা পড়ে আছেন বা তাদের চাপা দেয়া হয়েছে। একথা সর্বমহলে সর্বজনবিদিত যে রবীন্দ্রনাথের লেখার কদর তাঁর নোবেল প্রাপ্তির পরে হয়েছে। এর আগে তাঁর কোন গ্রন্থ ফ্লপ হওয়ার ভয়ে কোন প্রকাশক ছাপতে চাইতো না। সে সময়কার সাহিত্যিকগণ রবীন্দ্রনাথকে নিতান্তই অশিক্ষিত ভাবতেন।

"ঠাকুর নোবেল প্রাইজ প্রাপ্তির পূর্বে প্রায় অশিক্ষিত ব্যক্তি হিসাবে গণ্য হতেন। আমার ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার বাংলা প্রশ্নপত্রে ঠাকুরের একটি রচনা থেকে উদ্বৃতি দিয়ে সেটাকে বিশুদ্ধ ও সাধু বাংলায় লেখার নির্দেশ ছিল।" [জাস্টিস আব্দুল মওদুদ, মধ্যবিত্ত সমাজের বিকাশ; সংস্কৃতি রূপান্তর-পৃষ্ঠা ৪০৮]

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নাতী সুরেশচন্দ্র সমাজপতি, ১৩১৯ বঙ্গাব্দ কার্তিকের সাহিত্য সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে মন্তব্য করলেন,

"ইংল্যাণ্ডে রবীন্দ্রনাথ সম্বর্দ্ধনার খবরে দেখিতেছি- ইংল্যাণ্ডের অনেক সুধী স্বীকার করিতেছেন যে, রবীন্দ্রনাথ বর্তমান যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ও ভাবুক-এ বিষয়ে তাঁহার তুল্য দ্বিতীয় ব্যক্তি জগতে কোন দেশে নাই। আনন্দের কথা নয়? তবে কিনা দেশের লোক এতদিন তাহা বুঝতে পারে নাই। ইদানীং রবীন্দ্র ভক্তবৃন্দের বগলেই বিরাজ করেন দর্শন দুর্ঘট। বিস্ময়ের কথা এই যে, দেখিতে দেখিতে জগতের সাহিত্য এত দরিদ্র -প্রায় দেউলিয়া হইয়া গিয়াছে যে রবীন্দ্রনাথ সর্বশ্রেষ্ঠ বলিয়া পরিগণিত হইলেন। কোন কোন সুধী এই জগতব্যাপী কবি জরিপের সার্ভেয়ার ছিলেন,তাহা বলিতে পারিনা। যাঁহারা আমাদের ধন্য করিলেন, তাঁহারাই ধন্য।" [জোতির্ময় রবী ও কালো মেঘের দল; পৃঃ ৯-১০]

পত্রিকায় তাঁর লেখা ছাপা হত কিন্তু গ্রন্থাকারে কবির লেখা সে নিজের টাকাতেই অথবা আত্মীয়েরা ছাপাতো। ১৮৯৬ সালে তাঁর ভাগ্নে একটি বই ছেপেছিল যা সেলফেই সাজানো ছিলো কেউ কেনেননি।

"শুনা যায়, সেই বইয়ের বোঝা সুদীর্ঘকাল দোকানের শেল্ফ ও তাঁহার চিত্ত কে ভারাতুর করিয়া বিরাজ করিতেছিল।" [ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ: অমিতাভ চৌধুরী-পৃঃ৭৮]

এমন সময়ও কবির অতিবাহিত হয়েছে যে, অর্ধেক দামে তাঁর বই বিক্রি করতে হয়েছে, বা এক তৃতীয়াংশ দামে তাঁর গ্রন্থের কপিরাইট বিক্রি করেছেন।

"১৮৯৬ সালে 'রবি মামার' প্রথম কাব্যগ্রন্থগুলি প্রকাশ করেন তিনিই। তারপর বহুবছর রবীন্দ্রনাথ কে এ বিষয়ে অনেকটা নিজের উপরই নির্ভর করতে হয়েছে। নিজের খরচে তিনি বইয়ের পর বই ছেপেছেন। ….রবীন্দ্রনাথের বই অনেক সময় বিক্রি করতে হয়েছে অর্ধেক দামেও। তা নিয়ে সেকালে কম ঠাট্টা বিদ্রুপ হয়নি। …১৯০০ সালে কবির বন্ধু প্রিয়নাথ সেন কে তিনি লিখেছিলেন 'ভাই, একটা কাজের ভার দেব?…আমার গ্রন্থাবলি ও ক্ষণিকা পর্যন্ত সমস্ত কাব্যের কপিরাইট কাউকে ৬০০০ টাকায় কেনাতে পারো? আমার গ্রন্থাবলি যা আছে সে এক তৃতীয়াংশ দামে দিতে পারব(কারণ এটাতে সত্যের অধিকার আছে, আমি স্বাধীন নই, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে লোকে কিনবে সে ঠকবেনা। …আমার প্রস্তাবটা কি তোমার কাছে দুঃসাধ্য ঠেকেছে? যদি মনে কর ছোটগল্প এবং বউ ঠাকুরাণীর হাট ও রাজর্ষি কাব্যগ্রন্থাবলীর চেয়ে খরিদ্দারের কাছে বেশি সুবিধাজনক প্রতিভাত হয় তাহলে তাতেও আমি প্রস্তুত আছি। কিন্তু আমার বিশ্বাস কাব্যগ্রন্থগুলোই লাভজনক। এই রকম নানা ঝামেলার মধ্যে কবির বই প্রকাশ করতে হয়েছে।" [ইসলাম ও রবীন্দ্রনাথ; অমিতাভ চৌধুরী-পৃঃ৭৯]

কবির উপর এই অভিযোগও ছিলো যে তাঁর যাবতীয় সৃষ্টিই নকল! এই অভিযোগটি তোলেন -কালীপ্রসন্ন বিদ্যাবিশারদ তাঁর মিঠা কড়াতে। "জ্যোতির্ময় রবী ও কালো মেঘের দল" গ্রন্থের ১১১ পৃষ্ঠায় সুজিত কুমার সেনগুপ্ত একটি লেখায় দেন, "স্রেফ টাকার জোড়ে ওঁর লেখার কদর হয়।" আবার বলেন, "রবীন্দ্রনাথের প্রায় যাবতীয় সৃষ্টিই নকল। বিদেশ থেকে ঋণ স্বীকার না করেই অপহরণ।" কালীপ্রসন্ন বিদ্যাবিশারদ তাঁর মিঠে কড়াতে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে প্যারোডি কবিতাও লিখলেন "রবিরাহু" ছদ্মনামে। "জ্যোতির্ময় রবী ও কালো মেঘের দল" গ্রন্থের সৌজন্যে আমি কবিতাগুচ্ছের উদ্বৃতি দিচ্ছি।

১নং কবিতাঃ

ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ বঙ্গের আদর্শ কবি।

শিখেছি তাঁহারি দেখে তোরা কেউ কবি হবি?

'কড়ি ও কোমল' পড় 'পুরো সুর' চাস্ যদি।

পড়ে যা আমার টোলে দেখে যা কবিত্ব নদী।

সে যে রবী-আমি রাহু,

তুল্য মূল্য সবাকার

ধনী সে-দরিদ্র আমি

সে আলো-এ অন্ধকার।

২নং কবিতাঃ

(১) মৌলিকতা পথের ধারে গড়াগড়ি খায়।

ও তার অনুবাদের বিষম ঠেলায় ব্রহ্মা লজ্জা পায়।।

চুনোগলি হার মেনেছে মৌলিকতা দেখে।

যত মুদিমালা বাংলা পড়ে রবি ঠাকুর লেখে।।

(২) আয় তোরা কে দেখতে যাবি,

ঠাকুর বাড়ির মস্ত কবি!!

হায়রে কপাল হায়রে অর্থ!

যার নাই তার সকল ব্যর্থ!!

(৩) কেমন ভাষা বিদ্যা খাসা

দেখ কেমন সং এগো

রোগা হাড়ে তাই বেঁচে গেল

প্রমাদ অঙ বঙ পঙে গো।

বিদ্যাবিশারদ বা অন্যান্য রবী-সমালোচকরা এ কথাটা একেবারেই যে বিদ্বেষ থেকে লিখেছেন বা যাচাই বাছাই না করেই বলে ফেলেছেন, এটা বলা বোকামী। রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলী (দ্য সং অফারিংস) এর জন্য যখন নোবেল পেলেন তখন পশ্চিমা সাহিত্যিকগণ রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে নকলের অভিযোগ আনেন। তাঁর "দ্য সং অফারিংস" (গীতাঞ্জলী) এর ২৬ নং কবিতা ও ইংরেজী বাইবেলের "সং অফ সলোমন" এর ৫:২৬ নং শ্লোকের মিল দেখান তাঁরা। তাঁরা গীতাঞ্জলীর ৮৬ নং কবিতা ও খ্রীষ্টিও গান "Canticle" এর হুবহু মিল দেখান। "আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ" এর ১৪৫ নং পৃষ্ঠায় এর আলোচনা করেন শ্রী নীরদচন্দ্র চৌধুরী। রবীন্দ্রনাথের প্রমাণিত একটি নকল কবিতা হলো "ভারত তীর্থ"। যা কবি "জালালুদ্দিন রুমি"র একটি কবিতার হুবহু নকল। নিচে দুটো কবিতা'ই উদ্বৃত করা হোলো:

বায্ আঁ,বায্ আঁ

হর আচে হাস্তী বায্ আঁ।

গর কাফির হর গবরওয়া

বোত পরস্তি বায্ আঁ।

ই দরগাহ মা দরগাহে

ন-উম্মিদ নীস্ত

শতবার গর তাওবাহ শিকস্তী বায্ আঁ

-জালালুদ্দিন রুমি

এই কবিতার নকল রবীন্দ্রনাথের কবিতাটি হলো-

এসো হে আর্য,এসো হে অনার্য-

হিন্দু মুসলমান,

এসো এসো আজ তুমি ইংরাজ

এসো এসো খ্রীষ্টান।

মা'র অভিষেকে এসো এসো ত্বরা

মঙ্গলঘট হয়নি যে ভরা-

সবার পরশে পবিত্র করা তীর্থ নীরে

এই ভারতের সাগরতীরে।

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর [দ্রঃএ এক অন্য ইতিহাস;পৃঃ ১৬৯-৭০]

রবীন্দ্রনাথের "চিত্রা" কাব্যের "এবার ফিরাও মোরে' এবং "মানসী" কাব্যের "বধূ' কবিতা দুটির ভাব ইংরেজ কবি শেলী ও ওয়ার্ডওয়ার্থের কবিতার নকল। [দ্রঃঐ] নারায়ণ বিশ্বাস এবং প্রিয়রঞ্জন সেন প্রমাণ করেন “গোরা” এবং “ঘরেবাইরে” নকল। কালী মোহন ধরে দেন রবীন্দ্রনাথের কবিতার নকল। এবং অমিতাভ চৌধুরীর লেখায় প্রমাণিত হয়, যার জন্য কবি নোবেল পান সেই গীতাঞ্জলী নামটাই নকল করা! [দ্রঃঐ]। রবীন্দ্রনাথের একটি নকলের কথা বলেন আহমেদ ছফা তাঁর একটি সাক্ষাৎকারে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন রাসেল, অশীষ এবং ব্রাত্য রাইসু। বাউলদের নিয়ে কথা বলার ফাঁকে রাইসু বলেন-

"রাইসু: আমার মনে হয় ছফা ভাই, এইখানে বাউলরাই হইছে সবচেয়ে বড় এলিট।

ছফা: এলিটিজম হচ্ছে একটা জিনিস, যখন একটা অংশে নিজেদের আইডেনটিটি এসার্ট করতে করতে তাঁরা মনে করে যে দে আর বেস্ট ফর সামথিং। বাউলদের এই যে স্যেকুলেড মানসিকতা। এইটা আমি খুব অপছন্দ করি। দেখ, জেনরা মনে করে সমস্ত বস্তু সত্তার মধ্যে প্রাণ আছে। এই কাঠটার মধ্যেও প্রাণ আছে। প্রাণের যে ভেরিয়েশন, সেটা হচ্ছে ডিগ্রি এবং স্টেজের। সেজন্য উর্দুতে একটা শের আছে 'সে মুক্তাতেই নেই, সে পাথরেও নেই, সে নানা বর্ণে দীপ্ত'।

রাইসু: এটারই উল্টো করে রবীন্দ্রনাথ বলতেছেন, তোমারই স্পর্শে পান্না হল সবুজ।

ছফা: রবীন্দ্রনাথ এটা গ্যেটের সেকেন্ড পার্ট থেকে চুরি করছে।

রাইসু: রবীন্দ্রনাথ তো তাইলে বড় কিছু ছিল না।

ছফা: এগজাক্টলি, এই যে বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়ে তালি দেওয়ার ক্ষমতা এটাই মানুষকে বড় করে।"

[দ্রঃ উত্তরখন্ড আহমেদ ছফা; পৃঃ-২৩২; অধ্যায়-একদিন আহমদ ছফার বাসায় আমরা]

রবীন্দ্রনাথের নকল বিষয়ক আলোচনা এখানেই সমাপ্ত করতে চাই। এ বিষয়ে লিখতে বসলে ছোটখাট একটা বই'ই হয়ে যাবে। যে বিষয়ে আজ লিখতে বসেছি সেটাই এখন সামনে আনা সমীচীন মনে করছি। প্রয়াত বাংলা সাহিত্যিক আহমেদ ছফা প্রণীত "যদ্যপি আমার গুরু" বইটি সম্প্রতি পাঠ করলাম। আহমেদ ছফা তাঁর গুরু অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাথে দীর্ঘ জীবনে পরিচয়ে যে কথাবার্তা চালিয়েছেন তা তুলে ধরেছেন। বইটিকে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের সাক্ষাৎকারের বই বলা যায়। বইটির পৃষ্ঠা ৬০-এ নজর পড়তেই চমকপ্রদ একটি কথা দৃষ্টিগোচর হলো। রবীন্দ্রনাথের বিষয় আলোচনা উঠলে ছফা জানতে চান রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে উনার মতামত। এছাড়াও ছফা রবীন্দ্রনাথ বড় মানুষ কি-না এর বিষয়ে ইঙ্গিত দিলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন,

"রবীন্দ্রনাথ বড় লেখক, মানুষ হিসাবে রবীন্দ্রনাথ বিদ্যাসাগর কিংবা তাঁর মত মানুষের ধারে কাছেও আসতে পারেন না। বড় লেখক আর বড় মানুষ এক নয়। বড় লেখকদের মধ্যে বড় মানুষের ছায়া থাকে।"

জাতীয় অধ্যাপক এখানে কি বোঝাতে চেয়েছেন সেটা কারো বোঝার বাকি নেই। সমাজ সংস্কার বা সাহিত্যের উন্নতিতে রবীন্দ্রনাথের তেমন কোন হাত নেই। এই যে হালের রবীন্দ্রপ্রেমীদের উদ্ভট দাবী সেটা তিনি একেবারই ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছেন। রবীন্দ্র ভক্তরা দাবী করেন, "রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষা বাঁচিয়ে রেখেছেন।" এ বিষয়ে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে আহমেদ ছফা প্রশ্ন করলে উনি নিঃসঙ্কোচে বলেন- "বাংলা ভাষাটা বাঁচাইয়া রাখছে চাষাভুষা, মুট মজুর-এরা কথা কয় দেইখ্যাই ত কবি কবিতা লিখতে পারে। "[দ্রঃ আহমেদ ছফার ঐ বই পৃঃ ৬০-৬১]

এই কথাটির আরো ভালো বিশ্লেষণ করা যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন দিয়ে। মানুষ হিসাবে তিনি বড় ছিলেন কি-না। বড় ভাইয়ের বৌয়ের সাথে পরকীয়া অতঃপর নিজের বিয়ে, বিয়ের পর কাদম্বরি (বৌদি) দেবীর আত্মহনন তাঁর বড় মানুষ হওয়ায় যথেষ্ঠ প্রতিবন্ধক হিসাবে কাজ করেছে। এ বিষয়ে শ্রী নীরদচন্দ্র চৌধুরী লিখলেন- "১৮৮৩ সনের ডিসেম্বর মাসে ২২ বৎসর ৮ মাস বয়স্ক রবীন্দ্রনাথের সহিত একটি বারো বৎসরের বালিকার বিবাহ হয়। উহার চার মাসের মধ্যে ১৮৮৪ সনের এপ্রিল মাসে জ্যোতিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঁচিশ বৎসর বয়স্কা পত্নি কাদম্বরী দেবী আত্মহত্যা করিলেন।" তিনি আরো লিখলেন- "জ্যোতিন্দ্রনাথের সংসারের সহিত রবীন্দ্রনাথ ১৮৮১ সনের মাঝামাঝি হইতে ১৮৮৩ সনে বিবাহ হইবার সময় পর্যন্ত যেভাবে যুক্ত ছিলেন তা হতে এই জনশ্রুতি বাঙালী সমাজে ভিত্তিহীন বলিয়া মনে হইলো না। তাহার উপরে কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুর সতেরো বৎসর পরে ১৯০১ সনে রবীন্দ্রনাথ 'নষ্টনীড়' গল্পটি প্রকাশ করিয়া এই জনশ্রুতির গৌণ প্রমাণ দিয়া ফেলিলেন।" [আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ -পৃঃ ২৭-২৮]

এই ফাঁকে বলে রাখি, রবীন্দ্রনাথকে বর্ণবাদ-বিরোধী হিসাবে উপস্থাপন করলেও রবীন্দ্রনাথ কিন্তু কোন নমঃশূদ্রের মেয়েকে স্ত্রী-রূপে গ্রহণ করেননি। রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালীনি দেবী ছিলেন পীরালী ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে। কাজেই জাতপাত প্রথা থেকে রবীন্দ্রনাথ বের হতে পেরেছিলেন কি-না সেও ভাববার বিষয়। সে সময় সাহিত্যাঙ্গনে এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। কারণ, দুধে-আলতা, স্মার্ট বিলেত ফেরত জমিদার পুত্র রবীন্দ্রনাথের কপালে জুটলো কৃষ্ণাকায় এক অশিক্ষিত নারী! মৃণালীনির চেহারা সুরত তেমন ভালো না হলেও পীরালি ব্রাহ্মণ বলেই রবীন্দ্রনাথ একে বিয়ে করেন। এ নিয়ে হেমেন্দ্র প্রসাদ লেখেন- "বউ তেমন সুবিধের হয়নি। সুন্দরী নয় মোটেই।" মৃণালীনি দেবীর গায়ের রং যে তেমন ভালো ছিলোনা সে বিষয়ে হেমেন্দ্র প্রসাদ বলেন- "বউয়ের মুখশ্রী বা দেহের গঠন সাদা মাটা পাঁচপাঁচী। গায়ের রং শ্যামবর্ণ ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।" তেমন শিক্ষিতও ছিলেন না দেবী। একমাত্র পীরালি ব্রাহ্মণ বলেই যে তিনি মৃণালিনী দেবীকে বিয়ে করেন এ নিয়ে হেমেন্দ্র প্রসাদ বলেন- "বাংলা অক্ষর পরিচয়টুকু বউয়ের কোন রকম হয়েছে। ঐ পরিবারে শিক্ষাদীক্ষার কোন চলন নেই। মুশকিল হলো এই যে, ধনী জমিদার হলেও পীরালি ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে সবাই দিতে চায় না, কিনা।" মৃণালীনি দেবীর গায়ের রং, তাঁর বংশ মর্যাদা বা শিক্ষা-দীক্ষা টেনে আনার মানে এই না যে আমি তাঁকে ছোট করে দেখছি। রবীন্দ্রনাথ জাতপাতের উর্দ্ধে যেতে পেরেছিলেন কি-না সে বিষয়ে আলোকপাত করার জন্যই এ বিষয়টা টানলাম। রবীন্দ্রনাথ বর্ণবাদের উর্দ্ধেই যদি হবেন তাহলে তাঁর লেখা কাব্য নাটক, কবিতায় মুসলমানদের ম্লেচ্ছ, যবন বলবেন? তাঁর কন্ঠরোধ প্রবন্ধে মুসলমানদের নীচু জাত, ইতর, নিম্ন শ্রেণীর বলে মন্তব্য করেন [রবীন্দ্র রচনাবলীর ১০ম অংশের ৪২৮ পৃষ্ঠায় দ্রষ্টব্য ]। আরো বর্ণবাদ প্রকাশ পায় রবীন্দ্রনাথ প্রণীত "ইংরেজী সহজ শিক্ষা"য়। আমি এখানে কিছু তুলে ধরছি সেখান থেকে শুধুমাত্র বাংলায়:

• "সুশ্রী মেয়েটির গাধা আছে। • গরীব ছেলেটির একটি নৌকো আছে। • নিষ্ঠুর মানুষটির একটি মাদুর আছে। • দরিদ্র মেয়েটির একটি ছোটো বিছানা আছে। • খাটো মানুষটির একটি সুন্দর পাখি আছে। • বিশ্রী ছেলেটির একটি উঁচু ডেস্ক আছে। • পাতলা মানুষটির (একটি) উঁচু বড় নাক আছে। • গরীব ছেলেটির একটি পুরানো খারাপ কলম আছে।" [পৃষ্ঠা ১৬ -ইংরেজী সহজ শিক্ষা; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]

কাজেই রবীন্দ্রনাথকে বর্ণবাদ-বিরোধী বলা মূলো গিলানো ছাড়া আর কিছুতো ধরা যায় না। এছাড়াও তাঁর বড় হওয়ার বাঁধা হিসাবে ছিলো জমিদারগিরি, ইংরেজ-তোষণ, নোবেল নিয়ে তদবীর ফিকির, উদ্বৃতি না দিয়ে লেখার জোড়াতালি এবং ক্ষেত্র বিশেষ মুসলমান ও হিন্দু বিদ্বেষীতা। জমিদারগিরি ছিলো তাঁর অন্য আরেক রূপ। কবিতায় এই রূপ পাঠকরা দেখতে পাননা বিধায় রবীন্দ্রনাথের দুষ্টু স্বত্ত্বা তাঁরা দেখতে পান না কিংবা অত্যন্ত সুচারু ভাবে এড়িয়ে যান। শ্রী নীরদ চৌধুরী রবীন্দ্র বিদ্বেষীদের মত রবীন্দ্র ভক্তদের মধ্যেও একটা দিক দেখতে পেয়েছেন যে, এঁরা সুক্ষ্মভাবে রবীন্দ্রনাথের দোষ এড়িয়ে যান। কবি হিসাবে যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে "বড় মানুষ" হিসেবে পূজো করে আসছেন, "জমিদার" হিসাবে তাঁরা কি রবীন্দ্রনাথকে পূজো করতে পারবেন? রবীন্দ্রনাথ দফায় দফায় পূর্ববঙ্গ এস্টেট এর কর, খাজনা বৃদ্ধি করেছেন। তাঁর পাশাপাশি মুসলমান প্রজাদের কাছ থেকে পূজাপার্বণ এর খাজনা আদায় করেছেন বেআইনি ভাবে। এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কিছু উদ্বৃতি দিচ্ছি- "১৮৯৪ সনে রবীন্দ্রনাথ চাষীদের খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, খাজনা আদায়ও করেছিলেন। "[দ্রঃ- শচীন্দ্র অধিকারি, শিলাইদহ ও রবীন্দ্রনাথ পৃঃ ১৮, ১১৭]। রবীন্দ্রনাথ ২ বার করে খাজনা আদায় করতেন।

"সব জমিদার খাজনা আদায় করতেন একবার রবীন্দ্রনাথ করত দুইবার। একবার জমির খাজনা দ্বিতীয় বার কালী পূজার সময় চাদার নামে খাজনা।" [দ্রঃইতিহাসের নিরিখে রবীন্দ্র-নজরুল চরিত, লেখক সরকার শাহাবুদ্দীন আহমেদ ]

এখানে আলোচনার আগে তাঁর পিতামহ ও পিতা দেবেনের প্রজাহিতৌষিতা একটু তুলে ধরার দরকার পড়লো। ঠাকুর বংশের প্রজাপীড়নের কথা সাংবাদিক/বাউল কাঙাল হরিণাথ তাঁর গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় তুলে ধরেছিলেন। "কাঙাল হরিণাথের অপ্রকাশিত ডায়েরী, চতুষ্কোণ" আষাঢ় ১৩৭১ সংখ্যা থেকে তুলে ধরা হলো- "ইত্যাদি নানা প্রকার অত্যাচার দেখিয়া বোধ হইলো পুষ্করিণী প্রভৃতি জলাশয়স্থ মৎসের যেমন মা বাপ নাই; পশুপক্ষী ও মনুষ্য যে জন্তু যে প্রকারে পারে মৎস ধরিয়া ভক্ষণ করে; তদ্রুপ প্রজার স্বত্ত্ব হরণ করিতে সাধারণ মানুষ্য দূরে থাকুক যাহারা যোগী ঋষি ও মহা বৈষ্ণব বলিয়া সংবাদপত্র ও সভা সমিতিতে প্রসিদ্ধ, তাঁহারাও ক্ষৎক্ষামোদর।" পিতামহ দ্বারকানাথ আর পিতা মহর্ষি(!)দেবেন এর মত তিনিও প্রজাদের চাবুক পেটা করেছেন, পায়ে দলেছেন লাথি মেরেছেন এমনকি প্রজাদের বাড়িঘর ও জ্বালিয়ে দিয়েছেন! "কিন্তু তাঁর ঔদার্য ও মানবিক বোধের ঐশ্বর্য সত্বেও জমিদার ও জমিদারীর যে ঠাঁট যা সামন্ত সম্পর্কের একটি অঙ্গ, তা তিনি বর্জন করতে পারেন নি। জমিদারের ক্ষমতা আড়ম্বর ও দাপট সম্পর্কে প্রজাদের ভীতি থেকেই গেছে।" [ডক্টর পোদ্দার; পৃঃ২০]

রবীন্দ্র ভক্তরা একথা প্রচার করে বেড়ায়, প্রজাদের সুবিধার্থে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গে 'কৃষিব্যাঙ্ক' একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন। মূলে কার সুবিধা হলো, কাদের ধন সম্পদ বৃদ্ধি পেলো সে কথা কোন রবীন্দ্র ভক্ত জানলেও আড়াল করে যাচ্ছেন নাকি জানেন না এ প্রশ্ন থেকেই গেলো। "কলকাতার কিছু বন্ধুবান্ধব যোগাড় করে তাঁদের সঙ্গে কবি নিজেকে যুক্ত করে একটি সুদের কারবার শুরু করেছিলেন-তার নাম দিয়েছিলেন 'কৃষিব্যাঙ্ক'। তাঁরা শতকরা সাত টাকা সুদ দিয়ে মূলধন যোগাড় করেছিলেন। আর কবি তাঁর জমিদারিতে গরীব প্রজাদের কাছ থেকে সুদ নিতেন শতকরা ১২ টাকা।" [ডক্টর পোদ্দার; পৃঃ২২]। কবির জমিদার সত্ত্বার আলোচনায় কবিকে বড় মানুষ হিসাবে ভাবায় যথেষ্ট অসততা আছে। মূর্তিপূজো-বিরোধী মুসলমানদের কাছ থেকে মূর্তিপূজোর চাঁদা আদায়, আবার কবিতায় সেই মুসলমানদের ম্লেচ্ছ, যবন, নীচ ইত্যাদি বলে গালাগাল নিম্ন মানুষিকতা নয় কি? এছাড়াও কবি কলকাতায় করেছেন মুসলিম-বিরোধী জনসভা।

গোঁড়া হিন্দু কর্তৃক গরু বাঁচাতে পৃথিবীর মাটিতে ভারতবর্ষের পূণায় সর্বপ্রথম "গো রক্ষক্ষিণী সভা" নামে যে জনসভাটি ১৮৯৩ সনে হয় সেটির প্রতিষ্ঠা করেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ! [দ্রঃএ এক অন্য ইতিহাস] তবে তিনি যে একমাত্র মুসলিম সম্বন্ধেই বিদ্বেষভরা লেখা লিখেছেন তা নয়। তাঁর কিছু কিছু বক্তব্যে তিনি হিন্দু ধর্ম এবং হিন্দু জাতীকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি! তাঁর নাটক “অচলায়তন”-এ তিনি হিন্দু ধর্মকে চরমভাবে আঘাত হানেন! আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ থেকে এর উদ্বৃতি দিচ্ছি- “রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ধর্মকে আঘাত করেছিলো তাঁর নাটক অচলায়তনে। সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক -সুরেশচন্দ্র সমাজপতি এর বিরুদ্ধে লিখলেন-রবীন্দ্রনাথ মেটারলিঙ্ক হইতে পারেন, কিন্তু হিন্দুধর্ম সমাজকে আক্রমণ করিবার অধিকার তাহার নাই। “[আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ-পৃঃ৫৪]

ফ্যাসিবাদী মুসোলিনির মহৎকর্মের কথা কে না জানে! কিন্তু আমাদের কবি মুসোলিনি-প্রেমে মজলেন যে তিনি তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে গেলেন! কবি একসময় ইতালি যান এবং সেখানে বসে ফ্যাসিবাদী মুসোলিনির খুব প্রশংসাও করেন! সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর রবীন্দ্র রাজনীতি গ্রন্থের পৃষ্ঠা ১-এ এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন- "১৯২৬ সালে কবি ইতালি যান মুসোলিনির আমন্ত্রণে, এবং আথিথীয়তায় মুগ্ধ হয়ে মুসোলিনির প্রশংসা করেন।" ১৯০৫ সালে করলেন বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা। বিরোধিতা করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে যে জনসভা হয় তাঁর সভাপতি ছিলেন স্বয়ং কবি। "শত হইলেও প্রজা। আর প্রজার বাচ্চারা কেন উচ্চশিক্ষিত হইব" এই মানুষিকতা আশাকরি কবির ভিতর ছিলো না। এসব নিয়ে কয়েকটি পর্বে লিখতে চাই। "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় রবীন্দ্রনাথ এর অবস্থান" এবং "রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান" বিষয় দুটো পর্বাকারে লিখতে চাচ্ছি। এই দুটো বিষয়ে বিস্তারিত বলার ক্ষেত্র এখানে নয়।

নোবেল প্রাপ্তির আগে রবীন্দ্রনাথের যেমন লেখার কদর হয়নি তেমনি নোবেল প্রাপ্তির আগে রবীন্দ্রনাথের মধ্যে প্রকৃত রবীন্দ্রনাথ এর জন্ম হয়নি। তাই দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথের নোবেল প্রাপ্তির পরের লেখাগুলো আগের লেখার সাথে সাংঘর্ষিক। যে কারণে তিনি মুসলমানদের ম্লেচ্ছ, যবন, তস্কর বলে গালাগাল দিয়েছেন ঠিক একই কারণে তিনি মুসলমানদেরকে আবার হিন্দুদের চেয়ে একধাপ আগানো সহযোদ্ধা হিসাবে দেখেছেন। নোবেল প্রাপ্তির আগে উনি ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মদ(সঃ)কে নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে বল্লেন-

"কোরআন পড়তে শুরু করেছিলুম কিন্তু বেশিদূর এগুতে পারিনি আর তোমাদের রসুলের জীবন চরিতও ভালো লাগেনি।" [ দ্রঃ বিতণ্ডা, লেখক সৈয়দ মুজিবুল্লা, পৃ -২২৯ ]

নোবেল প্রাপ্তির পর তিনি মুহম্মদ(সঃ)-এর প্রশংসায় ঈদে মিলাদুন্নবীতে লেখাও পাঠিয়েছেন। স্ববিরোধিতা বলি আর সুন্দর করে 'ভুল বুঝতে পারার জন্য' বলি এই কারণে রবীন্দ্রনাথকে 'বড় মানুষ' বলার বেলায় একটু ভেবেচিন্তেই বলতে হবে। যদি তাঁকে মুসলমানদের প্রতি পরবর্তীকালে সদয় হওয়ার জন্য বড় মানুষ বলি, কিংবা পরবর্তীকালে ইংরেজ বিরুদ্ধবাদ এর জন্য বড় মানুষ বলি তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, "পূর্ববঙ্গেরর প্রজাদের জন্য জমিদার সাহেব কি করেছিলেন?" পূর্ববঙ্গে জমিদারী করার সময় অভূতপূর্ব সম্মান (রবীন্দ্র পত্রাবলি পড়ুন) পাওয়ার পরও পূর্ববঙ্গের জন্য তিনি কি করেছেন বা কোন উপকারটায় এসেছেন? আরো প্রশ্ন থেকে যায়, কেন তিনি মুসলমানদের প্রতি পূর্বে বিষোদগার ছড়ালেন? কেন ইংরাজ তোষামোদ করলেন? নিজে শ্রেফ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য? যদি তাই হয় তাহলে বড় মানুষ তাঁকে কিভাবে বলব? রবীন্দ্রনাথ নোবেল পাওয়ার আগ পর্যন্ত ইংরেজদের নিয়ে 'টু' শব্দটি পর্যন্ত করেননি! বরঞ্চ বিভিন্ন ইস্যুতে বিপ্লবীদের খাটো করেছেন। এমন এমন সব কবিতা ইংরেজদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন যাতে ইংরেজদের অধিষ্ঠিত করেছেন "ভগবান" এর আসনে! ঠিক নোবেল প্রাপ্তির পরপরই কেন ইংরেজদের ভগবান থেকে যবনে নামালেন? এর আগে কেন করেন নি? কারণ কি এই যে, "রবীন্দ্রনাথ জানতেন একবার নোবেল পেলে সেটা আর ফেরৎ নেয়া যায় না, তাই তিনি এখন ইংরেজদের চৌদ্দপুরুষ করলেও পাছে নোবেল খোয়া যাবেনা!" এই ফাঁকে বলে রাখি, বলা হয় যে রবীন্দ্রনাথ নাকি কোন এক বিপ্লবী হত্যার প্রতিবাদে ইংরেজদের দেয়া নাইট উপাধি ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য এই যে, নোবেলের মত 'নাইট' উপাধি একবার পেলে আর ত্যাগ করা যায়না! রবীন্দ্রনাথের ঐ একই সময় ইউসুফ আলী নামক স্যার উপাধিপ্রাপ্ত এক মুসলমানও নাইট উপাধি পেয়েছিলেন। কিন্তু বিপ্লবের মুখে উনিও নাইট উপাধি ত্যাগ করতে চাইলেন। নাইট উপধি ত্যাগ নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় উনি আর ত্যাগ করতে পারেননি। সেসময় রবীন্দ্রনাথের নাইট উপাধি ত্যাগের খবর নিয়ে ভারতবর্ষে হুলস্থূল হয়ে গিয়েছিল। তাই স্যার ইউসুফ আলী রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখে নাইট উপাধি ত্যাগের টিপস জানতে চাইলে রবীন্দ্রনাথ জানালেন, শত চেষ্টা করেও এই উপাধি ইংরেজদের ফিরিয়ে দেয়া যায়নি। এই বিষয়ে "এ এক অন্য ইতিহাস" গ্রন্থে গ্রন্থাকার বিশদ আলোচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ ও ইউসুফ আলীর চিঠির হুবহু ছবি দিয়ে। রবীন্দ্রনাথের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে তাঁর স্ববিরোধিতা হোক আর সুন্দর করে 'ভুল' হোক, যে কোন কারণেই তাঁকে বড় মানুষ বলা যায় না। রবীন্দ্রনাথ নিজেই তাঁর বড় মানুষ হওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাই যাঁরা সাহিত্যের পাল্লায় ফেলে রবীন্দ্রনাথকে একজন বড় মানুষ হিসাবে উপস্থাপন করছেন তাঁদের জ্ঞাতার্থে প্রখ্যাত কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ এর এই কথাটুকু রেখে লেখাটার সমাপ্তি ঘটালাম। সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর রবীন্দ্র রাজনীতি গ্রন্থে বলেন-

"ধরা যাক, একজন কথাশিল্পী এমন এক কাহিনী লিখলেন যেখানে প্রধান চরিত্র বিপ্লবী-বিদ্রোহী ও কুসংস্কারেরর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে লেখক নিজে সুবিধাবাদী সমাজের শত্রুদের সঙ্গে একাসনে তাঁর অবস্থান এবং প্রগতিবিরোধী-তাহলে কি তাঁকে আমরা মহৎ ব্যক্তি বলব?"

১৬ comments

Skip to comment form

  1. 8
    শামীম আহমেদ

    ধন্যবাদ সজল আহমেদ, আপনার লেখার জন্য। আসলে আমাদের দেশে রবীন্দ্রনাথ নিয়ে এত মাতামাতি হচ্ছে যে, একরকম অলিখিত আইন পাশ হয়ে গেছে যে, "ইনাকে নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না"।

    হ্যাঁ, বাংলাভাষা চর্চায় রবীন্দ্রনাথের গুরুত্ত্ব অস্বীকার করা যায়না। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে তাকে নিয়ে আমাদের দেশে যে মাতামাতিটা হয়, তাতে যতটা না ভাষা চর্চা হয়, তার চেয়ে অনেক গুন বেশী হয় পৌত্তলিকতা চর্চা। মিডিয়া থেকে শুরু করে রমনা বটমূল, ছায়ানট ইত্যাদি স্থানে রবীন্দ্র চর্চার নামে পৌত্ত্বলিকতাই চর্চা করা হয়। তার দর্শন, জীবনাদর্শ ইত্যাদি এমনভাবে বলা হয় যেন এগুলো পালন না করলে প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না। রবীন্দ্রনাথে কর্মে যতই মাধুর্য থাক, এই পৌত্তলিকতার জন্যই আমাদের জন্য তাকে "আমাদের জীবনের অংশ" টাইপ মনে করা উচিৎ হবেনা। বরং রবিঠাকুর হচ্ছেন,বাংলা ভাষার অন্যান্য  কবি সাহিত্যিকদের মতই একজন।

     

    রবীন্দ্র চর্চার নামে বাংলাদেশের ইসলাম বিদ্বেষী মুক্তমণাদের চেতনাকে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যই এই ধরনের লেখা খুবই প্রয়োজন।

    1. 8.1
      সজল আহমেদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ।

  2. 7
    হাফিজ

    রবীন্দ্রনাথকে আমি খুব বড়ো মাপের সাহিত্যিক মনে করি। সাথে সাথে এটাও বিশ্বাস করি তার সমালোচনা করা যাবে। মানবীয় দুর্বলতা থাকতেই পারে। সেটা থাকা  দোষের কিছু না , তবে সেটা যদি থাকে তাকে অস্বীকার করাটা দোষের।

    তার সমন্ধে পজিটিভ কিছু কমেন্ট
    * সারা পৃথিবীতে এমন সাহিত্যিক কমই আছে যে এমন সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে দ্ৰিপ্পমান
    * পরিমানে এতো লিখা পৃথিবীর খুব কম সাহিত্যিক লিখেছেন
    * পরিশ্রমী , এক বইতে লিখেছিলো উনি জীবনে কখনো দুপুরে ঘুমাননি
    * রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প তুলনাহীন।

    তার সমন্ধে নেগেটিভ কিছু কমেন্ট
    * ব্রিটিশ অনুরাগী , পঞ্চম জর্জকে উদ্দেশ করে গান লিখেছিলেন।  শরৎচন্দ্রের পথের দাবি ব্রিটিশরা ব্যান্ড করে দিলে রবীন্দ্রনাথ সেটাকে সমর্থন করেন।  আমাদের কোনো লেখক যদি পাকিস্তানকে সমর্থন করতো তাহলে আমরা কি তার গুষ্ঠি উদ্ধার করতাম না ?
    * তার বড়ো ভাই পূর্ববঙ্গ থেকে খাজনা আদায় করতে ব্যর্থ হয়।  পরে রবীন্দ্রনাথ সেটাতে সফল হন
    *  পূর্বপুরুষদের কীর্তি কীর্তিমান নয়। তার দাদার ইংল্যান্ড প্রস্টিটিউট এর বেবশা ছিল।  (বিস্তারিত দেখুন গোলাম আলী মুর্তজার বই ইতিহাসের ইতিহাস ,  , চেপে রাখা ইতিহাস , বজ্রকলম  ইত্যাদি )
    * রবীন্দ্রনাথের বিয়ের পর তার ভাবি আত্মহত্যা করলে ঠাকুর বাড়ি থেকে পত্রিকায় চাপ দেয়া খবরটি না ছাপার জন্য।
    * অন্যের কিছু লেখা নিজের নামে চালিয়েছিল,। তার সাগর পরিমান লেখার মধ্যে সেটা খুবই নগন্য
    * সে ছিল একজিবিশনিষ্ট (একসময়ের প্রচন্ড রবীন্দ্রভক্ত সাঈদ মুজতাবি আলী বলেন)
    * জমিদার হলে জমিদারির বিরুদ্ধে বলা যাবে না ,এটা মহতের লক্ষণ হতে পারে না। তলস্তয় জমিদার হবার পরেও সারা জীবন জমিদারির বিরুদ্ধে লিখেছেন।  

    রবীন্দ্রনাথ বড় মাপের সাহিত্যিক , কবিগুরু এগুলো বলায় কোনো সমস্যা নাই , কিন্তু সে অনুসরণীয় নয়।

     

     

     

     

    1. 7.1
      সজল আহমেদ

      পাঠ ও জ্ঞানগর্ভ মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

      রবীন্দ্রনাথকে আমি খুব বড়ো মাপের সাহিত্যিক মনে করি। সাথে সাথে এটাও বিশ্বাস করি তার সমালোচনা করা যাবে। মানবীয় দুর্বলতা থাকতেই পারে। সেটা থাকা দোষের কিছু না , তবে সেটা যদি থাকে তাকে অস্বীকার করাটা দোষ

      সহমত পোষণ করছি।

       

      * সারা পৃথিবীতে এমন সাহিত্যিক কমই আছে যে এমন সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে দ্ৰিপ্পমান

      * পরিমানে এতো লিখা পৃথিবীর খুব কম সাহিত্যিক লিখেছেন

      রবীন্দ্রনাথ এর মত সাহিত্যিক পৃথিবীতে কম থাকতে পারে তবে,লেখার পরিমাণ দিয়ে সাহিত্যিক পরিমাপ এর সাথে একমত নও।গান্ধীজি তাঁর জীবনে ২৮০০০ পৃষ্ঠা লিখিয়েও প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিক হতে পেরেছেন কিনা সে প্রশ্ন থেকে যায়।

      * পরিশ্রমী , এক বইতে লিখেছিলো উনি জীবনে কখনো দুপুরে ঘুমাননি

      সাহিত্যের জন্য এই পরিশ্রম করলে নিঃসন্দেহে সেটা প্রশংসার যোগ্য।

      * রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প তুলনাহীন।

      তুলনাহীন কিনা জানিনা।আমার ও বেশ লাগে তবে তাঁর ছোট গল্প নিয়েও অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে।

      * ব্রিটিশ অনুরাগী , পঞ্চম জর্জকে উদ্দেশ করে গান লিখেছিলেন। শরৎচন্দ্রের পথের দাবি ব্রিটিশরা ব্যান্ড করে দিলে রবীন্দ্রনাথ সেটাকে সমর্থন করেন। আমাদের কোনো লেখক যদি পাকিস্তানকে সমর্থন করতো তাহলে আমরা কি তার গুষ্ঠি উদ্ধার করতাম না ?

      পাকিস্তান সমর্থনকারী লেখকদের ছুড়ে অলরেডি ফেলা হয়েছে।আল মাহমুদের মত শক্তিমান দেশপ্রেমিক কবিকে ও জামাত সাপোর্টার বলে এক কোনে ফেলে রাখা হয়েছে।তবে রবীন্দ্রনাথ এর বেলায়-

      “কবিগণ সেখানেই নীরব!

      * তার বড়ো ভাই পূর্ববঙ্গ থেকে খাজনা আদায় করতে ব্যর্থ হয়। পরে রবীন্দ্রনাথ সেটাতে সফল হন

      তাঁর পিতামত ও পিতা ও এ ক্ষেত্রে সফল ছিলো।তবে সেটা রবীন্দ্রনাথ এর উপর বর্তাবেনা।আমরা দেখতে পারি তাঁ দোষগুণ। আহমেদ শরীফের রবীন্দ্র সমালোচনার কিছু অংশ উদ্বৃত করলাম;

      রবীন্দ্রনাথ তাঁর অন্তরের গভীরে প্রোথিত সামন্ত-বেণে-বুর্জোয়াচেতনা ও স্বার্থবোধ শেষাবধি পরিহার করতে সমর্থ হননি। একজন কারখানা মালিক যেমন তার শ্রমিকদের দাবী আদায়ের মিছিলে সামিল হতে পারে না, সামন্ত বেণে-বুর্জোয়া-জমিদার রবীন্দ্রনাথও তেমনি পারেননি দুস্থ-দুঃখী-চাষী-মজুরের শোষণ-পীড়ণ জর্জরিত জীবনের আলেখ্য আঁকতে। এ হচ্ছে শ্রেণীক ও ব্যক্তিক স্বার্থ চেতনার বন্ধন। নইলে যে রবীন্দ্রনাথ প্রমত্তা পদ্মায় জেলে-মাঝিকে ডুবে মরতে দেখেছেন, পদ্মার যমুনার তীর ভাঙনে হাজার হাজার গরিব চাষী-মজুরকে নিঃস্ব হতে উদ্বাস্তু হতে দেখেছেন, দেখেছেন স্বচ্ছল চাষীকে সপরিবারে পথে দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করতে, প্রত্যক্ষ করেছেন দুর্ভিক্ষে অনাহারে-অপুষ্টিতে-তুচ্ছ রোগে ভুগে ভুগে অকালে অপমৃত্যু কবলিত হতে হাজার হাজার নিঃস্ব-নিরন্ন-নিরক্ষর-নির্বিরোধ মানুষকে। আরো দেখেছেন তাঁরই হুকুমে বা সম্মতিতে তাঁরই গোমস্তাদের খাজনার দায়ে তাঁরই গরিব প্রজার ঘটি-বাটি ক্রোক করতে, প্রজাকে ভিটে-ছাড়া করতে, বারবার দেখেছেন ঝড়-খরা-বন্যা তাড়িতি মানুষের চরম দুঃখ-দুর্দশা ও অপমৃত্যু–সেই রবীন্দ্রনাথের বিপুল-বিচিত্র রচনায় এদের নাম-নিশানা মাত্র নেই কেন! বোঝা গেল, শোষক তিনি যত বড়ো মহাপুরুষই হোন, শোষিতের পক্ষে লড়াই দূরে থাক, তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশেও অনীহ।

      [‘রবীন্দ্র সাহিত্য ও গণমানব’]

       

      তার দাদার ইংল্যান্ড প্রস্টিটিউট এর বেবশা ছিল। (বিস্তারিত দেখুন গোলাম আলী মুর্তজার বই ইতিহাসের ইতিহাস , , চেপে রাখা ইতিহাস , বজ্রকলম ইত্যাদি )

      রবীন্দ্রনাথ এর দাদা, বাবা কি করলো সেটা তাঁর ওপর বর্তাবেনা।এটা উদ্বৃত না করলেও পারতেন।

       

      * রবীন্দ্রনাথের বিয়ের পর তার ভাবি আত্মহত্যা করলে ঠাকুর বাড়ি থেকে পত্রিকায় চাপ দেয়া খবরটি না ছাপার জন্য।

      কারণটা জানা কদম্বরী দেবীর সাথে কবির প্রণয় ঘটেছিলো।উপরে আমার লেখায় কিছুটা উদ্বৃতি দিয়েছি।

       

      * অন্যের কিছু লেখা নিজের নামে চালিয়েছিল,। তার সাগর পরিমান লেখার মধ্যে সেটা খুবই নগন্য

      এক বালতি দুধে এক ফোটা টক্সিন যথেষ্ট নয় কি?

      * সে ছিল একজিবিশনিষ্ট (একসময়ের প্রচন্ড রবীন্দ্রভক্ত সাঈদ মুজতাবি আলী বলেন)

      জানা ছিলোনা।তবে এটা জানতাম;মুজতবা আলী বিশ্বভারতীর ছাত্র ছিলেন।

      * জমিদার হলে জমিদারির বিরুদ্ধে বলা যাবে না ,এটা মহতের লক্ষণ হতে পারে না। তলস্তয় জমিদার হবার পরেও সারা জীবন জমিদারির বিরুদ্ধে লিখেছেন।

      আপনার দাবী সত্য নয় যদি এই মন্তব্য দ্বারা বুঝাতে চান “রবীন্দ্রনাথ জমিদারি নিয়ে কিছু লিখেননি”।রবীন্দ্রনাথ জমিদারীর বিরূদ্ধে লিখেছেন।তবে তাঁর লেখালেখির পরিমাণ এর সাথে সেটা ধরার মত না।আবু সাঈদ জিয়া উদ্দিন ভাইয়ের মন্তব্য থেকে সেটার উদ্বৃতি দিচ্ছি-

      “আমি জানি জমিদার জমির জোঁক। সে প্যারাসাইট, পরাশ্রিত জীব।আমরা পরিশ্রম না করে, উপার্জন না করে, কোন যথার্থ দায়িত্ব গ্রহণ না করে ঐশ্বর্য ভোগের দ্বারা দেহকে অপুট ও চিত্তকে অলস করে তুলি।যারা বীর্যেরর দ্বারা বিলাসের অধিকার লাভ করে আমরা সে জাতির মানুষ নই। প্রজারা আমাদের অন্ন জোগায় আর আমলারা আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেয়- এর মধ্যে পৌরুষও নেই, গৌরবও নেই (কালান্তর,পৃঃ ২৯৪)।

      রবীন্দ্রনাথ এর জমিদারি নিয়ে এই লেখাটির কারণ আমার যদিও জানা নেই।

      রবীন্দ্রনাথ বড় মাপের সাহিত্যিক , কবিগুরু এগুলো বলায় কোনো সমস্যা নাই , কিন্তু সে অনুসরণীয় নয়।

      বড় মাপের সাহিত্যিক এ আমার কোন আপত্তি নেই।তবে কবিগুরুতে কিঞ্চিত সংশয় আছে।গান্ধীজিও তাঁকে গুরুদেব ডাকতেন। তবে কোন কারণে জানা নেই। কবিগুরুতে আমার সংশয়-উনাকে কালি দাস,আলাওয়াল,নজরুল,ভরতচন্দ্র,সগীর,রায়গুণাকর প্রমুখ কবির ও গুরু ধরা হয় কিনা?

       

       

  3. 6
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    রবি ঠাকুরের লেখার সমালোচকের সংখ্যাও কিন্তু কম ছিলো না -- আজও আছে। তবে ব্যক্তি রবি ঠাকুরের সমালোচনা করার লোক খুবই কম। কারন বিষয়টা অনেকটা হীনমন্যতার নিদর্শন বটে। বাংলা সাহিত্য আর ভাষায় রবীন্দ্রনাথের অবস্থান নিয়ে কোন সংশয় বোধ মনে হয় সবচেয়ে কঠিন সমালোচকেরও নেই।

    অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের নাম করে আপনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকর সম্পর্কের নিজের মনোভাবটাই প্রকাশ করলেন -- সেটাই ভাল। আমরা আরেকজন রবীন্দ্র সমালোচক পেলাম। ভাগ্য ভাল যে এই সুযোগে কাজী নজরুল ইসলামকে টেনে আনেননি।

    যাই হোক আপনার সমালোচনার মুল বিষয় হলো রবি ঠাকুর জমিদার ছিলেন। সেই জন্যে উনি খারাপ মানুষ ছিলেন। জমিদার সন্তান জমিদার হবে এইটাইতো স্বাভাবিক নয় কি? উনার জন্যে বরঞ্চ বিপ্লবী হয়ে জমিদারী ছেড়ে প্রজা হওয়াই ছিলো অস্বাভাবিক। রবি ঠাকুরে জমিদারী নিয়েও অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে -- সেই বিষয়ে যাচ্ছি না।

    তবে জমিদারী সম্পর্কে উনার একটা মন্তব্য দেখতে পারি -- জমিদারী প্রথার বিরুদ্ধে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি নির্মম সত্য কথা বয়ান করে গেছেন। তিনি বলেছেনঃ

    “আমি জানি জমিদার জমির জোঁক। সে প্যারাসাইট, পরাশ্রিত জীব।আমরা পরিশ্রম না করে, উপার্জন না করে, কোন যথার্থ দায়িত্ব গ্রহণ না করে ঐশ্বর্য ভোগের দ্বারা দেহকে অপুট ও চিত্তকে অলস করে তুলি।যারা বীর্যেরর দ্বারা বিলাসের অধিকার লাভ করে আমরা সে জাতির মানুষ নই। প্রজারা আমাদের অন্ন জোগায় আর আমলারা আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেয়- এর মধ্যে পৌরুষও নেই, গৌরবও নেই (কালান্তর,পৃঃ ২৯৪)।

    -- সেই সময়ের শত শত জমিদার ছিলো -- তাদের কেউই সাহিত্য চর্চাও করেনি -- তাদের অনুশোচনাও দেখিনি। বোধ আর উপলদ্ধির কারনেই উনি বাংলা সাহিত্যের সর্বোচ্চ আসনে বসেছেন।

    যাই হোক -- আমার গ্রামে একটা কথা চালু আছে -- মানুষ উঁচু গাছেই ঢিল মারে -- কিছু পাবার আশায়। রবি ঠাকুরে বিশালতাই সমালোচকদের ঈর্ষার কারন -- এই ছাড়া আর কি!

    আমার মন্তব্য করার সময়ই আরেকটা গানের কথা মনে পড়লো -- সেইটা বরঞ্চ দেখি --

    অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে—
    নির্মল করো, ঊজ্জ্বল করো, সুন্দর করো হে॥
    জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে।
    মঙ্গল করো, নিরলস নিঃসংশয় করো হে॥
    যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধ।
    সঞ্চার করো সকল কর্মে শান্ত তোমার ছন্দ।
    চরণপদ্মে মম চিত নিস্পন্দিত করো হে।
    নন্দিত করো, নন্দিত করো, নন্দিত করো হে॥

    -- তাই যেন হয়। আমাদের মনের ক্ষদ্রতার দিয়ে যেন আমরা কারো বিশালতাকে ঢাকতে না যাই -- সেইটা আমাদেরই দৈন্যতার প্রকাশ হয়ে উঠবে।

    1. 6.1
      সজল আহমেদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      রবি ঠাকুরের সমালোচনকের সংখ্যাও কিন্তু কম নেই — আজও আছে। তবে ব্যক্তি রবি ঠাকুরের সমালোচনা করার লোক খুবই কম। কারন বিষয়টা অনেকটা হীনমন্যতার নিদর্শন বটে। বাংলা সাহিত্য আর ভাষায় রবীন্ত্রনাথের অবস্থান নিয়ে কোন সংশয় বোধ হোক সবচেয়ে কঠিন সমালোচকেরও নেই।

      ১.কেন এবং কোন যুক্তির উপর নির্ভর করে আপনি বলছেন “ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ এর সমালোচনা হীনমন্যতার নিদর্শন”? রবীন্দ্রনাথ এর ব্যক্তিগতজীবন যদি ত্রুটিপূর্ণ হয় তাহলে কেন তাঁর সমালোচনা করা যাবেনা? তাহলে কি আপনি বলতে চাচ্ছেন যারা রবীন্দ্রনাথ এর ব্যক্তিগত ত্রুটিগুলো নিয়ে সমালোচনা করেছেন -সবাই মনের দিক থেকে হীনমন্যতা প্রদর্শন করেছেন? ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে, কিন্তু তাঁর কুখ্যাতি ইতিহাস থেকে ছেটে না ফেলে প্রকাশ করা কি হীনমন্যতার নিদর্শন হবে?

      ২.বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবস্থান নিয়ে আমার সংশয় এখানে প্রকাশ পেয়েছে কিনা বুঝতে পারছিনা।তবে আমি লেখায় যে উদ্বৃতি দিয়েছি সবগুলোরই দ্রষ্টব্য দিয়েছি।তথ্যসূত্র হলো ইতিহাসের প্রাণ আর সে তথ্যসূত্রে যদি রবীন্দ্রনাথ এর অবস্থান সাহিত্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাহলে কিছু করার নেই।শ্রেফ সাহিত্যে তাঁর অবদান, সামান্য প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় আমি তা চেঁছে ফেলে দিতে পারিনা!

      অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের নাম করে আপনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকর সম্পর্কের নিজের মনোভাবটাই প্রকাশ করলেন — সেই ভাল। আমরা আরেকজন রবীন্দ্র সমালোচক পেলাম। ভাগ্য ভাল যে এই সুযোগে কাজী নজরুল ইসলামকে টেনে আনেননি।

      ৩.হতে পারে নিজের মনোভাব এর কিঞ্চিত বা পূর্ণ প্রকাশ।তবে আমি রবীন্দ্র সমালোচক কিনা এই বিষয়ে আমার নিজেরই সংশয় রয়েছে বেশ,কারণ আমি রবীন্দ্রনাথ পাঠ ও করি, সাহিত্যরস নিই।ত্রুটিহীন রবীন্দ্রনাথ এর প্রসংশা ও করতে চাই।আমি রবীন্দ্রনাথ কে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেখি।রবীন্দ্রনাথ এর ত্রুটি ঝেড়েমুছে পাঠ আমার পক্ষে সম্ভবনয়।
      ৪.নজরুল রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে সেরকম কোন মন্তব্য করেছেন কিনা আমার জানা নেই,তবে চাইলেই শরৎচন্দ্রকে টানতে পারি।

      যাই হোক আপনার সমালোচনার মুল বিষয় হলো রবি ঠাকুর জমিদার ছিলেন। সেই জন্যে উনি খারাপ মানুষ ছিলেন। জমিদার সন্তান জমিদার হবে এইটাইতো স্বাভাবিক নয় কি? উনার জন্যে বরঞ্চ বিপ্লবী হয়ে জমিদারী ছেড়ে প্রজা হওয়াই ছিলো অস্বাভাবিক।

      ৫.জমিদার সন্তান জমিদার হবেন এটাও যেমন অস্বাভাবিক নয় তেমনি জমিদার পুত্র যদি প্রজাহিতৌষী না হয়ে অত্যাচরী হোন, তাঁর ও তো সমালোচনা হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়।আবার জমিদারীর তল্পিতল্পা গুটিয়ে প্রজা হওয়া অস্বাভাবিক হোলেও প্রজাদরদী হওয়া স্বাভাবিক ছিলো।প্রজাদের মাথায় কাঠাল ভেঙ্গে নিজের পুত্রের জন্য সম্পত্তি না গড়লেও তিনি পারতেন কিনা? এটা তাঁর জন্য অস্বাভাবিক ছিলোনা;

      “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রাইভেট সেক্রেটারী অমিয় চক্রবর্তী একবার বিশাল জমিদারীর একটি ক্ষুদ্র অংশ দরিদ্র প্রজাসাধারণের জন্য দান করার প্রস্তাব করেছিলেন।ঠাকুরমশাই ইজিচেয়ারে আধাশোয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বলেছিলেন, “বল কিহে অমিয়। আমার রথীন (কবির বেঁচে থাকা পুত্রের নাম) তাহলে খাবে কী?[দ্রঃ অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচনা থেকে উদ্ধৃত পুস্তক ‘রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক চিন্তাধারা: আবু জাফর]

      তবে জমিদারী সম্পর্কে উনার একটা মন্তব্য দেখতে পারি —
      জমিদারী প্রথার বিরুদ্ধে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি নির্মম সত্য কথা বয়ান করে গেছেন। তিনি বলেছেনঃ
      “আমি জানি জমিদার জমির জোঁক। সে প্যারাসাইট, পরাশ্রিত জীব।আমরা পরিশ্রম না করে, উপার্জন না করে, কোন যথার্থ দায়িত্ব গ্রহণ না করে ঐশ্বর্য ভোগের দ্বারা দেহকে অপুট ও চিত্তকে অলস করে তুলি।যারা বীর্যেরর দ্বারা বিলাসের অধিকার লাভ করে আমরা সে জাতির মানুষ নই। প্রজারা আমাদের অন্ন জোগায় আর আমলারা আমাদের মুখে অন্ন তুলে দেয়- এর মধ্যে পৌরুষও নেই, গৌরবও নেই (কালান্তর,পৃঃ ২৯৪)।
      -- সেই সময়ের শত শত জমিদার ছিলো — তাদের কেউই সাহিত্য চর্চাও করেনি — তাদের অনুশোচনাও দেখিনি।
      যাই হোক — আমার গ্রামে একটা কথা চালু আছে — মানুষ উঁচু গাছেই ঢিল মারে — কিছু পাবার আশায়। রবি ঠাকুরে বিশালতাই সমালোচকদের ঈর্ষার কারন — এই ছাড়া আর কি!

      ৬.উনি জমিদারী নিয়ে বেশ লিখলেন বটে অনুশোচনাও করলেন বটে তবে প্রজাদের উপর জোড় করা সম্পদ কি উনি প্রজাদের ফিরিয়ে দিলেন? উনি জমিদারী নিয়ে লিখলেন বটে, কিন্তু জমিদারী সে সময়ই ছাড়লেন কি?
      আমার লেখার শেষে সৈয়দ আবুল মকসুদ এর বই থেকে এইটুকু আপনার অবশ্যপাঠ্য-

      “ধরা যাক, একজন কথাশিল্পী এমন এক কাহিনী লিখলেন যেখানে প্রধান চরিত্র বিপ্লবী-বিদ্রোহী ও কুসংস্কারেরর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে লেখক নিজে সুবিধাবাদী সমাজের শত্রুদের সঙ্গে একাসনে তাঁর অবস্থান এবং প্রগতিবিরোধী-তাহলে কি তাঁকে আমরা মহৎ ব্যক্তি বলব?’

      ৭.আমি রবীন্দ্রনাথ কে নিয়ে কোন কিছু পাবার আশায় লিখিনি,বা রবীন্দ্রনাথের সমালোচনা করলেই আমি বিভিন্ন মহল থেকে বাহবা পাব এমন আশা ও করিনা।যদি আমাকে আপনি আপনার উল্লেখ্য ব্যক্তিদের কাতারে ফেলে দেন তো সেটা আমার জন্য দুঃখজনক ও লজ্জাকর ব্যাপার।বাকিরা তাঁর প্রতি ঈর্ষান্বিত(আপনার মতে) হলেও আমি কোন ঈর্ষা থেকে লিখিনি বরঞ্চ আমি একজন ভালো রবীন্দ্র পাঠক হয়ে লিখেছি।

      আমাদের মনের ক্ষুদ্রতা দিয়ে যেন আমরা কারো বিশালতাকে ঢাকতে না যাই — সেইটা আমাদেরই দৈন্যতার প্রকাশ হয়ে উঠবে।

      ৮.যদি আমাদের মনের ক্ষুদ্রতা শ্রেফ মিথ্যে হোলে সেটা দৈন্যতার প্রকাশ হতে পারে।কিন্তু সে যদি প্রমাণিত সত্য হয় আর সেজন্য যদি তাঁর কিছুটা ত্রুটি ধরা পরে তাহলে আমরা কেন বিশালতা রক্ষা করতে সেগুলো চেপে যাব?সর্বোপরি-রবীন্দ্রনাথ একজন মানুষ দেবতা তো নন যে তাঁর ভুল হবেনা।আর ভুল হলে তাঁর আলোচনা-সমালোচনা অত্যাবশ্যক। যেহেতু তিনি আমাদের সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।আপনাকে আবারো ধন্যবাদ পাঠ ও সমালোচনার জন্য।ভালো থাকুন।

  4. 5
    সত্য সন্ধানী

     রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচুরির ব্যাপারটা আগেই জানতাম আমার সোনার বাংলা গান টি থেকে। তবে এবার আপনি একেবারে সবিস্তারে আরো অনেক প্রমান দিলেন। লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।

    তবে সে কবিতা চুরি করুক বা যাই করুক, তার কবিতা গুলির ( বা তার নামে যেগুলি চলে)  মধ্যে যেগুলো বিতর্কিত বা ধর্ম বর্ন বিদ্বেষী না সেগুলো আমার খুব ভাল লাগে। সাথে তার গান সুর!

    1. 5.1
      সজল আহমেদ

      পাঠ ও মন্ত্যব্যের জন্য ধন্যবাদ।ভালো থাকুন।

  5. 4
    এস. এম. রায়হান

    ১মত- আর দশজন বিখ্যাত ব্যক্তির মতো রবীন্দ্রনাথের সমালোচনার নামেও অনেক কিছুই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সদালাপের এই লেখায় সেগুলো যাচাই করা হয়েছে কি-না, জানা নেই। আমি নিজে কখনো সেগুলো যাচাই করে দেখিনি, বা দেখার প্রয়োজনও মনে করিনি। 

    ২য়ত- অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক (বা অন্য যেকেউ) কাউকে বড় মানুষ মনে করতেন কি-না, তার উপর ভিত্তি করে সে বড় মানুষ বা ছোট মানুষ হয়ে যায় না। এভাবে কাউকে বড় বা ছোট প্রমাণ করা যৌক্তিক হেত্ত্বাভাসের মধ্যে পড়ে।

    ৩য়ত- রবীন্দ্রনাথের মতো জমিদারী ও হাতে অঢেল সময় থাকলে যেকেউ কবিতা-গল্প-গান-নাটক-ইত্যাদি লিখতে পারতো/পারবে, এইটাও ভুল যুক্তি। অনেকেরই জমিদারী ও হাতে অঢেল সময় থাকা সত্ত্বেও তারা সারা জীবনে তেমন কিছুই হয়তো করতে পারেনি।

    তবে প্রজাদের উপর রবীন্দ্রনাথের আরোপ করা কর নিয়ে সমালোচনা করা যেতেই পারে। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর যে অভিযোগ দাঁড় করানো যায় সেটি হচ্ছে তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর প্রতি অমানবিক আচরণ। মৃণালিনী দেবীকে ১০-১১ বছর বয়সে বিয়ের পর থেকে ১৪-১৫ বছরের মধ্যে পর-পর ৫টি সন্তান নেওয়া, এক পর্যায়ে মৃণালিনী দেবীর অসুস্থ হয়ে পড়া, ডাক্তারের কাছে না নিয়ে যেয়ে নিজেই টোটকা চিকিৎসা করা, এবং অবশেষে মাত্র ৩০ বছর বয়সে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া।

    আর এটাও সত্য যে, খোদ পশ্চিম বঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে রবীন্দ্রনাথের জায়গায় রাখা হলেও বাংলাদেশের এক শ্রেণীর রবীন্দ্র-পূজারী তাঁকে পরোক্ষভাবে দেবতার আসনে বসিয়ে দিয়ে সারা বছর ধরে তাঁর গুণগান গায়। এমনকি সেই পূজারীদের কাছে 'খাঁটি বাঙালি' হওয়ার #১ শর্ত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের প্রতি অন্ধ সমর্থন/আনুগত্য। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এহেন বাড়াবাড়ি দেখতে দেখতে কেউ কেউ তাঁর সমালোচনা শুরু করেছে।

    1. 4.1
      সজল আহমেদ

      পাঠ ও মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ।রায়হান ভাই আপনার মন্তব্যর পুর্ণাঙ্গ জবাব দিতে একটু দেরী হবে এর জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত

      1. 4.1.1
        সজল আহমেদ

        ১মত- আর দশজন বিখ্যাত ব্যক্তির মতো রবীন্দ্রনাথের সমালোচনার নামেও অনেক কিছুই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। সদালাপের এই লেখায় সেগুলো যাচাই করা হয়েছে কি-না, জানা নেই। আমি নিজে কখনো সেগুলো যাচাই করে দেখিনি, বা দেখার প্রয়োজনও মনে করিনি।

        আমি প্রায় সবগুলোই যাচাই করেই লেখাটি লিখতে বোসেছিলাম।এর জন্য রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক বেশ কয়েকটি বই আমার পড়তে হয়েছে।তবে সব বই’ই কিনে পড়া হয়নি,ইন্টারনেট থেকে কিছু ডাউনলোড ও করতে হয়েছে।এখানে যেসব তথ্য আমি উপস্থাপন করেছি সবগুলো তথ্যই আমি ঐসব বই থেকে পেয়েছি।নিজ থেকে আগ বাড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ এর ব্যাপারে কোন মন্তব্য আমি করিনি।এই লেখার তথ্যসূত্র বিষয়ক চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে আমি প্রস্তুত।

        ২য়ত- অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক (বা অন্য যেকেউ) কাউকে বড় মানুষ মনে করতেন কি-না, তার উপর ভিত্তি করে সে বড় মানুষ বা ছোট মানুষ হয়ে যায় না।

        উপরে জিয়া ভাই স্পষ্ট করেছেন অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক কে টেনে নিজের মনোভাবটাই আমি উপস্থাপন করেছি।

        ৩য়ত- রবীন্দ্রনাথের মতো জমিদারী ও হাতে অঢেল সময় থাকলে যেকেউ কবিতা-গল্প-গান-নাটক-ইত্যাদি লিখতে পারতো/পারবে, এইটাও ভুল যুক্তি। অনেকেরই জমিদারী ও হাতে অঢেল সময় থাকা সত্ত্বেও তারা সারা জীবনে তেমন কিছুই হয়তো করতে পারেনি।

        “রবীন্দ্র দেবতা আমাদের দীর্ঘ জীবনে কি না দিয়েছেন? তাঁর সমালোচনা মূর্খতা বৈ কিছু না’ যখন এমন কোন কথা সামনে হাজির হয় আর যদি সে প্রশ্ন বের হয় কোন পূজারীর থেকে তাহলে তাঁকে জবাব দেয়ার জন্য এ ছাড়া আমার আর কিছু বলার থাকেনা।হ্যাঁ বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান অস্বীকার করার মত নয়।তবে,সেগুলোকে পুঁজি করে সাহিত্যিক দেবতা বানানোর কোনন মানে নেই।মহাত্মা গান্ধীজি দীর্ঘ জীবনে আটাশ হাজার পৃষ্ঠা লিখেছেন, তাই বলে তাঁকে হিন্দি সাহিত্যে পূজো করা হয়না।

        তবে প্রজাদের উপর রবীন্দ্রনাথের আরোপ করা কর নিয়ে সমালোচনা করা যেতেই পারে। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে আরেকটি গুরুতর যে অভিযোগ দাঁড় করানো যায় সেটি হচ্ছে তাঁর স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর প্রতি অমানবিক আচরণ। মৃণালিনী দেবীকে ১০-১১ বছর বয়সে বিয়ের পর থেকে ১৪-১৫ বছরের মধ্যে পর-পর ৫টি সন্তান নেওয়া, এক পর্যায়ে মৃণালিনী দেবীর অসুস্থ হয়ে পড়া, ডাক্তারের কাছে না নিয়ে যেয়ে নিজেই টোটকা চিকিৎসা করা, এবং অবশেষে মাত্র ৩০ বছর বয়সে অসুস্থতাজনিত কারণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া।

        ভালো একটা পয়েন্ট দাঁড় করলেন।স্ত্রী মৃণালীনি দেবীর প্রতি এমন অমানবিক আচরণের কারণে রবীন্দ্রনাথ এর নামের পাশে পূজারীরা “ছোট মানুষ’ যোগ করবেন কিনা প্রশ্ন রইলো!আরো একটা পয়েন্ট;একমাত্র রবীন্দ্রনাথ এর কারণে দুটো অল্পবয়সী নারীর মৃত্যু হয়েছিলো।১ম হলো তাঁর বৌদী কাদম্বরী দেবী ২য়ত তাঁর নিজের স্ত্রী।

        আর এটাও সত্য যে, খোদ পশ্চিম বঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে রবীন্দ্রনাথের জায়গায় রাখা হলেও বাংলাদেশের এক শ্রেণীর রবীন্দ্র-পূজারী তাঁকে পরোক্ষভাবে দেবতার আসনে বসিয়ে দিয়ে সারা বছর ধরে তাঁর গুণগান গায়। এমনকি সেই পূজারীদের কাছে ‘খাঁটি বাঙালি’ হওয়ার #১ শর্ত হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের প্রতি অন্ধ সমর্থন/আনুগত্য। বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এহেন বাড়াবাড়ি দেখতে দেখতে কেউ কেউ তাঁর সমালোচনা শুরু করেছে।

        পশ্চিমবঙ্গে রবীন্দ্রনাথ নিয়ে ১০০ ভাগের ১০ ভাগ মাতামাতি হয় কিনা যতটা বাংলাদেশে হয়!কেউ আছেন যাঁরা রবীন্দ্রনাথ কে “স্যেকুউলার’ বানানোর চেষ্টা করছেন ইদানিং।আবার কেউ কেউ আছেন রবীন্দ্রনাথ এর এতটুকু দোষ ও সহ্য করতে পারেন না।কুলদা নামের এক ব্লগার রবীন্দ্রনাথ কে এমন পর্যায়ে নিতে চাচ্ছেন যেখানে দেবতারা থাকেন।রবীন্দ্রনাথ সমালোচকদের তিনি “মূর্খ’ হিসাবে উপস্থাপন করছেন।সম্প্রিতি রবীন্দ্র সমালোচনার দায়ে ফারহাদ মজহার এবং রাইসু কে তিনি গালাগালি করতেও ছাড়েননি।পূজারীদের দাবী অনুযায়ী -রবীন্দ্র সমালোচনা যাঁরাই করেন তাঁরা নাকি সূত্র যেচে করেন না!কুলদার দাবী অনুযায়ী, রবীন্দ্রনাথকে সর্বপ্রথম নাকি সমালোচনার মুখে ফেলেছেন আহমেদ শরীফ!অথচ দেখা গেছে, আহমেদ শরীফের অনেক আগ থেকেই খোদ রবীন্দ্রনাথ এর আমল থেকেই তাঁর সমালোচনা হচ্ছে।
        হ্যাঁ এরা মনে করে,আপনি খাঁটি বাঙ্গালী তখনই হতে পারবেন যখন আপনি রবীন্দ্রনাথ এর পূজো পাঠ শুরু করবেন।এদের এহেন বাচ্চাসূলভ আচরণ, হাসির খোড়াক বটে!

  6. 3
    শামস

    এমন একটা সময়ে লেখাটা দিলেন যখন জানা গেল কাসেম বিন আবু বকর দারুণ হিট! আসলে সে হিট অনেক আগেই। কিন্তু আমাদের প্রগতিশীল সেক্যুলার সমাজ পশ্চিমের সংবাদপত্রে তাকে পজেটিভলি প্রকাশ করায় কি যেন হারানোর ভয়ে ভীষণ মনোক্ষুন্ন হয়েছে। এদের কাছে চৌর্যবৃত্তি করা বিকৃত রুচির হুমায়ূন আজাদ সাহিত্যগুণে ভরপুর।

    হুমায়ুন আহমেদ এর সাহিত্যগুণ না জেনেই তার অনেক বই একসময় পড়তাম, অনেকেই পড়তো এবং এখনও পড়ে।   লেখকের বই এর জনপ্রিয়তা নির্ভর করে লেখক তার পাঠকমন্ডলীর সাথে কতটুকু সম্পর্ক তৈরী করে তার সাহিত্যগুণ দিয়ে নয়। হুমায়ূন আহমেদ সেই সম্পর্কটা করেছিলেন মূলত শহুরে মধ্যবিত্তের সাথে, যারা মূলত বই পড়ে, অজপাড়াগায়ের মানুষদের জন্য নয়। অপরদিকে  হুমায়ুন আজাদ সেই সম্পর্কটা করেছিলেন খুব ক্ষুদ্র এবং বিকৃত মস্তিষ্কের কিছু লোকদের কাছে। অবশ্য এর বাইরেও কিছু লোক পাওয়া যাবে, যারা মুলত নিজেদের দাবী করে প্রগতিশীল, সেক্যুলার, আর এই যত্রতত্র সেগুলা আওড়ায়। 

    রবীন্দ্রনাথ নিয়ে এ লেখার মাধ্যেমে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা দিক সম্পর্কে জানলাম। তবে রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে সে জোতদারশ্রেণীর, ঠাকুর বংশ মানেই ভারতীয় উপমহাদেশের নিষ্ঠুর একটা শ্রেণি। মজার ব্যাপার হল, আমাদের বামরাও তারে মাথায় তুলে নাচে, তারাই ভালো জানে কেন করে। জোতদারির পড়ন্ত সময়ে এই ঠাকুরদের শক্তি কমে যাওয়ায় নিষ্ঠুরতাও কমে যায়। তারপরও এই রবি ঠাকুররা দুইবার খাজনা আদায় করে থাকলে সেটা সেই সময়ে বিশেষ একটা কিছু। এরা প্রতিনিধিত্ব করে শাসক শ্রেণির, হিন্দু-মুসলমান মূখ্য নয়! তবে সামাজিক কারণেই মুসলিমরা হয়তো তার কাছে গুরুত্ব পায়নি। বিশেষত পূর্ববঙ্গের মুসলিমরা ছিল হিন্দুদের নিচের দিকের জাত থেকে ধর্মান্তরিত হওয়ারা। ফলে তারা আলোচনায় আসবে কিভাবে, আর এই অবহেলিত মুসলিম শ্রেণীতো তার বই পড়ার পর্যায়েও নাই।   

    1. 3.1
      সজল আহমেদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ শামস।

      এমন একটা সময়ে লেখাটা দিলেন যখন জানা গেল কাসেম বিন আবু বকর দারুণ হিট!

      আসলে লেখাটি আমি পাঠিয়েছিলাম কাসেম বিন আবুবাকার হিট হওয়ার আগেই।সদালাপের টেকনিক্যাল সমস্যার দরুন লেখাটি তাদের ইমেইলে পৌঁছতে সময় লেগে যায়। আর এমন সময় লেখাটা সদালাপে পৌঁছুলো এবং পোষ্ট হলো যখন কিনা আবুবাকার,হুমায়ুন আহমেদ ও রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যালোচনা তুঙ্গে।
      আসলে সে হিট অনেক আগেই। কিন্তু আমাদের প্রগতিশীল সেক্যুলার সমাজ পশ্চিমের সংবাদপত্রে তাকে পজেটিভলি প্রকাশ করায় কি যেন হারানোর ভয়ে ভীষণ মনোক্ষুন্ন হয়েছে। এদের কাছে চৌর্যবৃত্তি করা বিকৃত রুচির হুমায়ূন আজাদ সাহিত্যগুণে ভরপুর।
      তবে এই লেখার পিছনে আবুবাকার কে টানার কোন মানুষিকতা আমার নেই।রবীন্দ্রনাথের সাথে আবুবাকার এর তুলনা আমি দেবোও না।রবীন্দ্রনাথ ও আবুবাকার দুজনার অবস্থান দুটো দিকে।”আবুবাকার হিট অনেক আগেই’ সম্প্রিতি পত্রিকা মারফত জেনেছি কারণ প্রেমের উপন্যাসে আমার কোন কালেই ঝোঁক ছিলোনা।আমি গ্রামেই থাকি, কিন্তু এপর্যন্ত তাঁর কোন উপন্যাস আমার পড়া হয়ে ওঠেনি।অনেক কে দেখেছি কাসেম হুমায়ুন আহমেদ এবং রবীন্দ্রনাথ কে এক কাতরে রেখে আলোচনা করছেন।সেটা তাদের ব্যাপার, আলোচনা চালাতে কোন অসুবিধা নেই। তবে কাসেম কে তাদের কাতারে ফেলায় আমাদের স্যেকুলারগণ যে মনোক্ষুন্ন হয়েছেন এটা নজরে পরলো।উপর্যুপরি কাসেম নামের জামাত কে অমুক কে “আমাগো রবীন্দ্রনাথ এর লগে তুলনা দেয় কি সব্বোনাশ’ ইত্যাদি মন্তব্য স্যেকুলারদের মুখে শোনার পর আমি যারপরনাই আশ্চর্য!এদের স্যেকুউলারিত্ব নিয়ে আমি বেশ সন্দিহান ও।আবার কাসেম কে চটি লেখক,জামাতি হেফাজতি বলেও অনেকে গালাগাল দিচ্ছেন।এর মূলে রয়েছে দাসত্বতা।

      লেখকের বই এর জনপ্রিয়তা নির্ভর করে লেখক তার পাঠকমন্ডলীর সাথে কতটুকু সম্পর্ক তৈরী করে তার উপর সাহিত্যগুণ দিয়ে নয়। হুমায়ূন আহমেদ সেই সম্পর্কটা করেছিলেন মূলত শহুরে মধ্যবিত্তের সাথে, যারা মূলত বই পড়ে, অজপাড়াগায়ের মানুষদের জন্য নয়।

      খাঁটিকথা।

      অপরদিকে হুমায়ুন আজাদ সেই সম্পর্কটা করেছিলেন খুব ক্ষুদ্র এবং বিকৃত মস্তিষ্কের কিছু লোকদের কাছে। অবশ্য এর বাইরেও কিছু লোক পাওয়া যাবে, যারা মুলত নিজেদের দাবী করে প্রগতিশীল, সেক্যুলার, আর এই যত্রতত্র সেগুলা আওড়ায়।

      এখানেই আজাদ ভক্ত ও স্যেকুউলারদের দুর্বলতা।তারা নিজেদের জন্যই সাহিত্য চর্চা করেন।এরা মনে করে তাদের ঘরনার যারা আছেন একমাত্র তাঁরাই মূল সাহিত্যিক, বাকিরা সব চটি সাহিত্যিক,অমুকরে তমুকরে।এসব বিকৃত মস্তিষ্কজাতদের নিয়ে অাফসান চৌধুরী নামক এক ব্যক্তি এনটিভি অনলাইনে একটা লেখা লিখেছেন;

      ভদ্দরলোক ভাই ও বোনেরা, আপনাগো বই কেউ পড়ে না। আপনারা নিজেরাও পড়েন না, কেনা তো দূরের কথা। আপনারা পয়সা দিয়া সমালোচনা লেখান। উপসচিবরে তেল মাইরা পুরস্কার নেওয়ার চেষ্টা করেন। রেস্টুরেন্টে বইয়া আড্ডা দেন, মদ খান, প্রেম আর পরকীয়া করেন। আর শেখ হাসিনারে প্রশংসা কইরা ভাবেন যে উনিই আপনাগো রক্ষা করব। সেই শেখ হাসিনা চইলা গেছে আপনাগো ফালায় দিয়া। তাঁর বেস্ট ফ্রেন্ড এখন হেফাজত।
      সেই হেফাজত আর কওমি মাদ্রাসারে তাই সমানে গালি দিতাছেন। অবশ্য রইয়া-সইয়া। কারণ আপা যদি চেইত্যা যায়, সেই ভয়ও আছে। আপনাগো কেউ পাত্তা দেয় না, যহন নিজেদের লোক নিজেগো পাত্তা দেয় না, তহন শেখ হাসিনার কি ঠ্যাহা পড়ছে আপনাগো পাত্তা দেওয়ার? আপা ঠিকই বুঝছে আপনাগো দিয়া কাম হইব না।
      ২. চাকরি, সুবিধা, ফ্ল্যাট, অনুষ্ঠানে দাওয়াত, সফর, বিভিন্ন পুরস্কারের পেছনে দৌড়াইতে দৌড়াইতে ভুইল্লাই গেছিলেন যে আপনাগো পায়ের নিচে কোনো মাটি নাই। যেইডা ভাসে পানিতে, হেইডারে কচুরিপানা কয়। কাসেম বিন আবুবাকাররে এত যে গালি দিতাছেন দরজা-জানালা খুইলা, একবার কি ভাবছেন, আপনারা হগলে মিল্লা যত বই লিখছেন তার বিক্রি কাসেম্মার একখান বইয়ের থন কম বিক্রি। পালান ভাইসাবরা। আপনাগো দিন শ্যাষ। মাইন্না লন, বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হইতাছে কাসেম বিন আবুবাকার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ে সাধারণ মানুষগো কাছে তাঁর দাম বেশি। হুঁশ কইরা হিসাব কইরেন।
      ৩. এই কাসেম্মা বুইড়া নাকি চটি লেহে, বোরকা পইরা যৌনকর্ম করে! আবার ধর্মের কথা কয়। এইডা দেইখা আপনাগো বুক জ্বইলা যাইতাছে। কারণ আপনারা করেন এই সব কু-কাম, লেখেনও মাঝে-মধ্যে। কিন্তু তাও কেউ পাত্তা দেয় না। যতক্ষণ না শাহাবুদ্দীন নাগরী কিসিমের পাবলিক ধরা পইড়া যায়। তা ভাই ভদ্দর লোকগণ, একটা কাসেম বিন আবুবাকারের লাহান বই লিখা দ্যাখেন তো, একশ বই বিক্রি করতে পারবেন কি না। আপনারা তো পুলিশের পাহারা না হইলে সাংস্কৃতিক বিপ্লব করতে পারেন না। আপনারা বুড়া কাসেমের সাথে লইড়া একবার দেহান পাবলিকরে।
      ৪. আসল কথা হইল, আপনারা হইতাছেন শহরের মধ্যবিত্ত ভদ্দরনোক। রবীন্দ্র-জীবনানন্দ শ্রেণির পার্টি। আপনাগো লেহায় যেই সব উহ! আহ! আহে হেগুলা গাও-গ্রামের মুরখ্য মানুষ পড়তে চায় না। যেহানে আপনারা নিজেরাই পড়তে চান না, হেরা পড়ব ক্যান? কাসেম্মা হেই মানুষগো জন্য লিখতাছে, হেগো ভাষায়, হেগো চিন্তায়, হেগো সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা লইয়া। হেরা পড়ছে, খুশি হইছে। আপনাগো এত লাগে ক্যান?
      কাসেম্মা কইছে কখনো, আমারে বাংলা একাডেমি পুরস্কার দেন? আপনারা কন, আপনারা চান, হেয় চায় না। হের পাবলিক আছে, আপনাগো নাই। এই জন্য এত কষ্ট হইতাছে? এককাঠি মাইরা তারে কেউ কেউ জামাতি বানাইছেন, হেফাজতি বানাইছেন। ফেসবুকে সুবহানাল্লা প্রচুর কিছু লিখছেন গালি দিয়া। হেয় লিখছে? ফেসবুকের বাইরেও যে দুনিয়া, যেমন ধরেন গার্মেন্টসের আপারা। যারা তার বই পড়ে, তাগো কিছু আসে-যায় না আপনার পোস্টে। আপনারা তো ফ্রেন্ড-আনফ্রেন্ড লইয়াই আছেন। যতজন আপনাগো লাইক দেয় একটা পোস্টে, তার চেয়ে বেশি লোক আপনাগো বই পড়ে?
      ৫. এই দেশের অর্থনীতিতে গাও-গ্রামের মানুষের উন্নতি হইছে। বিশেষ কইরা ১৯৯০ সালের পরে। বর্তমান সরকারের টাইমে হেইডা আরো বাড়ছে। হেরা হাতে কিছু পয়সা পাইছে, লেহাপড়া শিখছে, বই পড়ে আপনাগো চেয়ে বেশি। এতে তো খুশি হওনের কথা আপনাগো। অসুবিধা হইল, আপনারা আপনাগো লাইগাই লেখেন, পাবলিকের জন্য না। পাবলিক বইলা যে কিছু আছে, এটাই মানতে চান না। আপনাগোর সিলসিলা কলকাতার ভদ্দরনোকের সিলসিলা, সুনীল-হুমায়ূনের সিলসিলা, শহরের মানুষগো সিলসিলা। ওই সিলসিলার এহন জানাজা হইতাছে। শুনতে পাইতাছেন? আর যেই মানুষটা ওই জানাজায় ইমামতি করতাছে, হের নাম কাসেম বিন আবুবাকার।
      শেষ কথা চটি লইয়া। আমগো দেশের বেশির ভাগ মানুষ বিশেষ কইরা ভদ্দর লোকেরা ইন্টারনেটে গিয়া কী দ্যাখেন হেইডা জানেন না? হের নাম পর্নো, আপনারা কাসেম্মার একটা কিস সহ্য করতে পারেন না। আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পর্নো দ্যাহেন, তাতে কোনো অসুবিধা নাই? আপনাগো কী নামে ডাকুম। রবীন্দ্রনাথের যুগের শেষ হইছে। এহন কাসেম্মার যুগ। সালাম দেন।[আফসান চৌধুরী:২৯ এপ্রিল ২০১৭

      তবে রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে সে জোতদারশ্রেণীর, ঠাকুর বংশ মানেই ভারতীয় উপমহাদেশের নিষ্ঠুর একটা শ্রেণি।

      এক্সাক্টলি!ঠাকুর বংশের দ্বারকানাথ থেকে শুরু করে আমাদের কবি পর্যন্ত সবাই সামাজিক,রাজনৈতিকভাবে নিষ্ঠুর ছিলেন।দ্বারকানাথ ঠাকুরের নিষ্ঠুরতা এমন পর্যায়ে গিয়েছিলো যে, তিনি নীলকরদের প্রসংশা করেছেন, প্রজাদের নীলচাষে বাধ্য করেছেন।এমনকি তাঁর পঁচিশের অধিক নীল ফ্যাক্টরি ছিলো।আরো ছিলো ৩০ এর অধিক পতিতালয় এবং অাফিম এর বিজনেস।মহাঋষি খ্যাত লোকটির নিষ্ঠুরতার কথা এই পোষ্টেই বিদ্যমান।ঠাকুর পরিবারের এমন কেউ নেই যারা নিষ্ঠুরতার সীমা ছাড়িয়ে যাননি!

      মজার ব্যাপার হল, আমাদের বামরাও তারে মাথায় তুলে নাচে, তারাই ভালো জানে কেন করে। জোতদারির পড়ন্ত সময়ে এই ঠাকুরদের শক্তি কমে যাওয়ায় নিষ্ঠুরতাও কমে যায়। তারপরও এই রবি ঠাকুররা দুইবার খাজনা আদায় করে থাকলে সেটা সেই সময়ে বিশেষ একটা কিছু।

      আমাদের বামরা তাঁরে মাথায় তুলে এমন নাচন নাচে যে রবীন্দ্রনাথ এর বিপক্ষে যখন কিছু উপস্থাপিত হয় তখন সেটা প্রমাণিত সত্য হলেও সেটাকে প্রোপাগান্ডা বলতে দ্বীধান্বিত হন না!রবীন্দ্রনাথ শুধুমাত্র যে দুইবার খাজনা নিতেন শুধুমাত্র এখানেই তাঁর প্রজাপীড়নের ইতিহাস শেষ নয়!প্রজাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে পয়সা আদায়(ধুলাকর,ভাগারকর অন্যান্য কর),প্রজারা এর বিদ্রোহ করলে প্রজাদের ডাবল ডান্ডা মেরে দমন করা, মুসলামানদের বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেয়া ও প্রজাদের ডাবল মূলো গিলিয়ে ডাবল সুদের বিজনেস এর কথাও এখন বেরোচ্ছে ইতিহাসের গোপন কোটর থেকে।আর আমাদের স্যেক্যুউলার নামধারীরা ইয়া দেড়শ পৃষ্ঠার রবীন্দ্র জীবনি লিখলেও বেমালুম চেপে যাচ্ছেন এসব!শেষমেষ মঞ্চে উঠে এই বলে বক্তব্য শেষ করে “আমাগো রবীন্দ্রনাথ কেন পড়ানো হইতাছেনা বেবাক শিক্ষালয়ে?’

      এরা প্রতিনিধিত্ব করে শাসক শ্রেণির, হিন্দু-মুসলমান মূখ্য নয়! তবে সামাজিক কারণেই মুসলিমরা হয়তো তার কাছে গুরুত্ব পায়নি। বিশেষত পূর্ববঙ্গের মুসলিমরা ছিল হিন্দুদের নিচের দিকের জাত থেকে ধর্মান্তরিত হওয়ারা। ফলে তারা আলোচনায় আসবে কিভাবে, আর এই অবহেলিত মুসলিম শ্রেণীতো তার বই পড়ার পর্যায়েও নাই।
      যুক্তিযুক্ত কথা বলেছেন।

  7. 2
    এম ইউ আমান

    তীব্র রবীন্দ্রভক্ত যেমন আছেন, তেমনি তাঁর সমালোচকও আছেন। রবীন্দ্রনাথের ভক্ত হওয়া সহজ- এ তাঁর গুণের জন্য। তার লেখার সমালোচনা করা কঠিন- এজন্য লেখার সমালোচক কম। জীবদ্দ্বশায়, বাংলা সাহিত্যের ডিভেইলপিং স্টেজে, গুটিকয় সমালোচক ছিলেন,- তাঁরা রবীন্দ্রনাথের তুলনায় পরবর্তীতে তেমন নাম করতে পারেননি। অধুনা নামকরা সমালোচকদের একজনকে আমরা চিনি- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- (…রবীন্দ্র রচনাবলী ধুলায় গড়ায়), পরে ভুল বুঝতে পেরে ‘দেশ’ পত্রিকায় বেশ বড় প্রবন্ধ লিখে প্রায়শ্চিত্ত করেছিলেন।
    সজল আহমেদের লেখাটিতে কিছু বালখিল্যতা দেখা যায়ঃ
    ১। রবীন্দ্রনাথ অশিক্ষিত ছিলেন।
    রবীন্দ্রনাথ তো বলেননি যে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। একচুয়ালি তিনি ইউসিএল (ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন)- এ ভর্তি হয়েছিলেন কিন্তু নোবেল প্রাইজ পাওয়ার আগে বা পরে কখনো সে ডিগ্রি কমপ্লিট করেননি। ফলে প্রচলিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় তিনি শিক্ষিত ছিলেন না। কিন্তু এটিতো কোন গর্হিত অপরাধ নয়।
    ২। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের জন্য কিছু করেননি।
    করবেন কি করে তখন তো বাংলাদেশ ছিল না। তিনি ১৯৪১ সালের জুলাই মাসে, “…অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে// সে পায় তোমার হাতে// শান্তির অক্ষয় অধিকার” লিখে পরপারে চলে গেলেন। ইন্ডিয়া-পাকিস্তান হল ১৯৪৫ সালে, মৃত্যুর চার বছর পর। তার আরো ২৬ বছর পর বাংলাদেশ হল। তিনি যখন বেঁচে ছিলেন তখন বাংলাদেশ আর বাংলা (পশ্চিম বাংলা) আলাদা ছিলো না। যা কিছু করেছিলেন বা করতে পেরেছিলেন তা তিনি অবিভক্ত বাংলার জন্যেই করেছিলেন। এছাড়া, দু’বংগ ভাগে তার সমর্থন ছিল না। বংগভঙ্গের বিরুদ্ধে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণও করেছিলেন। ফলে, বিশ্বভারতী- শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাস, ও বিশ্বভারতী- শিলাইদহ ক্যাম্পাস এরকম দু’টি বিশ্ববিদ্যালয় একসাথে করার মত বুদ্ধি হয়তো করে উঠতে পারেননি।
    … চলবে

    1. 2.1
      সজল আহমেদ

      পাঠ ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।আমি আপনাকে পয়েন্ট ধরে জবাব দিচ্ছি।প্রথমে আপনি দাবী করলেন-
      তার লেখার সমালোচনা করা কঠিন- এজন্য লেখার সমালোচক কম।
      বর্তমানে তাঁর সমালোচকের সংখ্যা কম থাকলেও থাকতে পারে তবে রবীন্দ্রনাথ এর লেখার মোটেই কম সমালোচক ছিলোনা সেসময়।বরংচ তাঁর ভক্তের তুলনায় সমালোচক ছিলো বেশি-

      অবশ্য ইহাদের(বিদ্বেষীদের)প্রতিপক্ষও যে ছিল না তাহা নয়,অর্থাৎ ভক্তও তাঁহার জুটিয়াছিল।ইহারা বিদ্বেষীদদের তুলনায় সংখ্যায় অনেক কম হইলেও দলে নিতান্ত অল্পসংখ্যক ছিল না।তবে ইহাদের দ্বারাও রবীন্দ্রনাথ হিত হয় নাই।ইহারাও তাঁহার যে-রূপ প্রচার করিয়াছিল তাহা অন্ধ স্তবকের প্রশস্তি ভিন্ন কিছু নয়।এমন কি, এই রবীন্দ্রভক্তি এমনই বাক্যভঙ্গী ও আচরণে প্রকাশ পাইত যে, উহাকে হাস্যস্পদ করা নিন্দাকারীদের পক্ষে খুবই সহজ হইত।[আত্মঘাতী রবীন্দ্রনাথ ;নীরদ চন্দ্র চৌধুরী-পৃঃ৩ ভূমিকা থেকে]

      এখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে রবীন্দ্রভক্তের চেয়ে রবীন্দ্র বিদ্বেষী বা সমালোচক সংখ্যায় ছিলো বেশি।কাজেই আপনার দাবীর প্রামাণ্য সূত্র দিলে বাঁধিত থাকব।
      জীবদ্দ্বশায়, বাংলা সাহিত্যের ডিভেইলপিং স্টেজে, গুটিকয় সমালোচক ছিলেন,- তাঁরা রবীন্দ্রনাথের তুলনায় পরবর্তীতে তেমন নাম করতে পারেননি। অধুনা নামকরা সমালোচকদের একজনকে আমরা চিনি- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- (…রবীন্দ্র রচনাবলী ধুলায় গড়ায়), পরে ভুল বুঝতে পেরে ‘দেশ’ পত্রিকায় বেশ বড় প্রবন্ধ লিখে প্রায়শ্চিত্ত করেছিলেন।

      রবীন্দ্র সমালোচকরা পরবর্তীতে ধোপে টিকলো কি টিকলোনা, নাম কাম করতে পারল কি পারলোনা সেটাও আলোচনার বিষয়।তবে কি,তাঁরা মিথ্যে বলেছেন এমনটাও তো বলা যাবেনা।সুনীলের ভুল করে ক্ষমা চাওয়ার মানে এই নয় যে, বাকি সমালোচকরাও ভুল করেছিলেন।সুনীল এমনিতেই তথ্যসূত্রের ধার ধারতেন না যার দরুন লালনকে তিনি “কর’ বানিয়ে ছেড়েছেন। সবাই’ই যে ভুল করেননি তাঁর বড় প্রমাণ; কবি নিজের সমালোচনা একেবারেই পছন্দ করতেন না[দ্রঃ এ এক অন্য ইতিহাস;অনন্য রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুরবাড়ি অধ্যায়]।তাঁর নামে ছড়ানো বিদ্বেষগার যেগুলো মিথ্যে মনে হয়েছে তিনি সেগুলোর বিপক্ষে কলম ধরেছেন।একবার তিনি, তাঁকে নিয়ে নিয়ে একটি গল্প লেখার কারণে মানহানি মামলাও করেছেন হেমেন্দ্রর বিরুদ্ধে।[দ্রঃজ্যোতির্ময় রবী ও কালো মেঘের দল] কিন্তু বাকি সমালোচনার তিনি জবাব দিলোনা কেন যদি সসমালোচকদের ভুল হয়?

      সজল আহমেদের লেখাটিতে কিছু বালখিল্যতা দেখা যায়ঃ
      ১। রবীন্দ্রনাথ অশিক্ষিত ছিলেন।
      আমি কখনোই রবীন্দ্রনাথ কে সরাসরি অশিক্ষিত বলিনি।আমি বোঝাতে চেয়েছি-রবীন্দ্রনাথ ঐ সময়ে সাহিত্যাঙ্গনের কর্তাদের কর্তৃক অশিক্ষিত বলে গণ্য হতেন।আমার বক্তব্য এখানে স্পষ্ট; “সে সময়কার সাহিত্যিকগণ রবীন্দ্রনাথকে নিতান্তই অশিক্ষিত ভাবতেন।’এই প্রসঙ্গ এর জন্য টানা যে,রবীন্দ্রভক্তরা কবিগুরু থেকে রবীন্দ্রনাথ কে এখন বিদ্যেগুরুতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।তাঁদের সেই গুরুকেই কিনা পূর্বকালে অশিক্ষিত ভাবতেন”

      ২। রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের জন্য কিছু করেননি।
      করবেন কি করে তখন তো বাংলাদেশ ছিল না। তিনি ১৯৪১ সালের জুলাই মাসে, “…অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে// সে পায় তোমার হাতে// শান্তির অক্ষয় অধিকার” লিখে পরপারে চলে গেলেন। ইন্ডিয়া-পাকিস্তান হল ১৯৪৫ সালে, মৃত্যুর চার বছর পর। তার আরো ২৬ বছর পর বাংলাদেশ হল।

      আমার লেখায় “বাংলাদেশ’ শব্দটি নেই তবুও আপনি প্রয়োগ করলেন কেন বুঝলাম না!আমি বাংলাদেশ এর বদলে এখানে পূর্ববঙ্গ লিখেছি ঠিক এই কারণেই যে রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশ দেখেন নি।

      এছাড়া, দু’বংগ ভাগে তার সমর্থন ছিল না। বংগভঙ্গের বিরুদ্ধে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণও করেছিলেন

      ১৯০৫ সালের দু’বঙ্গ দুভাগে সমার্থন ছিলোনা আমি যদি বলি তাঁর স্বার্থের কারণে? সিংহভাগ জমিদারী ছিলো পূর্ববঙ্গ এস্টেট এ।কেউ কি চাইবে নাকি তাঁর সম্পত্তি জলে যাক? বঙ্গভঙ্গের সাথে বাঙ্গালী মুসলমানদের স্বার্থ জড়িত ছিলো,তাহলে বঙ্গভঙ্গের বিরোধীতার কারণে রবীন্দ্রনাথের “বঙ্গভঙ্গ’ বিরোধীতা কি আমি প্রশ্নবিদ্ধ করবনা? তিনি যদি অবিভক্ত বাংলার জন্যই করেন তাহলে ১৯১২ সালে কেন ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করলেন?

  8. 1
    সজল আহমেদ

    ধন্যবাদ।এখন দেখছি আইডি ঠিক করে দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.