«

»

Nov ১২

ঠাকুরপারা এবং একটি সাম্প্রদায়িকতার উত্থান

(ছবিঃ বিডিনিউজ২৪ডটকম)

গত ১০ ই নভেম্বর ২০১৭ শুক্রবার জুমুআর নামাজের পরে ধর্ম নিয়ে কটুক্তির দায়ে রংপুর গঙ্গচড়া থানার ঠাকুর বাড়িতে হামলা করে এবং সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় এর ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয় একদল মুসল্লি। বিডিনিউজ, বিবিসি, যুগান্তর ও কালেরকন্ঠের বরাতে এ পর্যন্ত যতদূর জেনেছি ঘটনাটি ঘটেছে কোন একক ব্যক্তির কারণে। ঘটনার সাথে পুরো ঠাকুরবাড়ি জড়িত তো নয়ই উপরন্তু পুলিশের গুলিতে হাবিবুর রহমান নামে একজন মুসল্লি নিহত ও ১১ জন মুসল্লি হয়েছেন।

"শুক্রবার জুমার নামাজের পর হঠাৎ স্থানীয় কিছু মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে এসে রাস্তা অবরোধ করেছে। একটি মিছিলের বড় অংশ গিয়ে হিন্দু পাড়ায় আক্রমণ করে। হিন্দু পাড়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ তখন বাধা দেয়। বাধা না মেনে যখন তারা দুএকটি বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে, তখন পুলিশ শটগানের গুলি চালায়।" [ বিবিসি :১১ ই নভেম্বর ]

ধর্মাবমননাকারী মানে মূল দায়ী ব্যক্তিও এই লেখাটি লেখা পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি যাতে ঘটনাটি আরো ঘোলাটে হয় এবং ওই গ্রামে ধর্মাবমাননাকারী বর্তমানে থাকছেন ও না তিনি ঠাকুর পারার বাসিন্দা মাত্র। তিনি থাকেন অন্যত্র:

"পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জে ফতুল্লার একটি গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করেন টিটু রায়। থাকেন সেখানেই। তিনি পাগলাপীর ঠাকুরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। '' [কালেরকন্ঠঃ http://www.kalerkantho.com/online/national/2017/11/10/563904 ]

 

প্রাপ্ত খবর সমূহ থেকে ঘটনাটি কোনন কারণে ঘটে তা জানা যাক। মূল ঘটনাটি জানার জন্য আমি ৪টি পত্রিকার অনলাইন ভার্সনের সহায়তা নিয়েছি। খবর ২ টির প্রামাণ্য লিংক সহ নিচে উদ্বৃত করা হোলো। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম লিখেছে,

 

"গঙ্গাচড়া থানার ওসি জিন্নাত আলী বলেন, ঠাকুরপাড়ার এক যুবক গত সপ্তাহে তার ফেইসবুক পেইজ ধর্ম অবমাননামূলক ছবি পোস্ট করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। '' [বিডিনিউজঃ http://www.bdnews24.com/samagrabangladesh/detail/home/1419556]

 

বিবিসি লিখেছে,

 

"পুলিশ বলছে, ঐ হিন্দু গ্রামের একজন ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননামূলক পোস্ট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে সেখানে হামলা করা হয়। পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বিবিসি বাংলাকে জানান, যার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেই টিটু রায়ের বাড়ি গঙ্গাচড়ার ঠাকুরবাড়ি গ্রামে হলেও তিনি সেখানে থাকেনা। নারায়ণগঞ্জে বসবাস করেন। টিটু রায়ের কথিত এক ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সেখানে কদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। কয়েকদিন আগে তথ্য প্রযুক্তি আইনে এ নিয়ে একটি মামলাও করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ আসামীকে ধরা হবে বলে কথা দেন। ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, "শুক্রবার জুমার নামাজের পর হঠাৎ স্থানীয় কিছু মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে এসে রাস্তা অবরোধ করেছে। একটি মিছিলের বড় অংশ গিয়ে হিন্দু পাড়ায় আক্রমণ করে। হিন্দু পাড়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ তখন বাধা দেয়। বাধা না মেনে যখন তারা দুএকটি বাড়ি-ঘরে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে, তখন পুলিশ শটগানের গুলি চালায়। খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, পুলিশের গুলিতে একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন বলে তারা খবর পাচ্ছেন। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তিনি জানান হামলাকারীদের সংখ্যা ছিল কয়েকশো।'' [বিবিসিঃ http://www.bbc.com/bengali/news-41945538 ]

আমরা প্রাপ্ত খবর সমূহতে স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছি, ফেসবুকে ব্লাসফেমী করেছে টিটু রায় নামক কোন একক ব্যক্তি। এর সাথে না জড়িত গঙ্গাচড়ার আক্রান্ত ঐ হিন্দু সম্প্রদায়, না জড়িত টিটু নামক ঐ ব্যক্তির পরিবার। তাহলে দেখা যায় যারা জড়িত নয় তাঁদের আক্রমণ করা শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন নয় মানবাধিকার লঙ্ঘন এর চরম পর্যায়! হিন্দু বাড়িতে হামলা করা হয় হযরত মুহম্মদ (সাঃ) কে অবমাননা করার দায়। উল্লেখযোগ্য হলো,

[ক] যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা হযরত মুহম্মদ (সাঃ) এর কোন অবমাননা করেননি। এমনকি আক্রমণের আগে টিটু রায়ের ঐ অবমাননাকর স্ট্যাটাসের সমার্থক ও তাঁরা ছিলেন না।

[খ] পুলিশ শুধুমাত্র টিটুকে ধরার আশা দিয়েছিলো, কিন্তু ঘটনা ঘটার আগে তাঁরা ঘটনাটি আমলে নেয়নি বা নিতে নিষেধ করা হয়েছে। এবং ঘটনার আগেই তাঁরা আচ করতে পেরেছিলেন কেননা সাম্প্রদায়িকতার আগুনে ৫ দিন ধরে দাহ্য কাঠখড় দেয়া হচ্ছিলো। ৫ দিন ঘটনাটি গোল পাকানো সত্ত্বেও মুসল্লিদের এরা কন্ট্রোলে রাখতে ব্যর্থ হন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দানেও তাঁরা সম্পূর্ণ রূপে নিজেদের ব্যর্থতার পরিচয় দেন। উল্লেখ্য, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ২০১৭ নভেম্বর ১০ শুক্রবার দুপুরেও চাঁদপুর পুলিশ লাইন্সে নবনির্মিত গেইট ও মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, "দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশিরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।'' [কালেরকন্ঠ] বিদেশিদের আর কি দোষ? তাঁরা তো আর দেশের অভ্যান্তরিন খোঁজখবর রাখেন না, বড়জোড় জঙ্গী দমনের খবর শোনেন বা দেখেন। আর বিদেশিদের খুশি রাখার মূল ফর্মূলাই হলো "ইসলামি জঙ্গী'' দমন। পুলিশ দেশের আইন শৃঙ্খলা, পরিস্থিতি দমনে এতটাই পারফেক্ট যে পরিস্থিতি যাইহোক ওনারা রাইফেল তাক করে গুলি ছুড়তে কিঞ্চিৎ অপেক্ষা করেন না! রংপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার প্রাণপণ চেষ্টা না করেই ওনারা সরাসরি বুলেট ব্যবহার করেছেন এবং ওনাদের বুলেটের আঘাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে ও বেশ কিছু লোক আহত ও হয়েছেন! আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই যে, এই মৃত্যু জবাবদিহিতাও করতে হবে না তাদের! শ্রেফ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা বলে পাশ কাটিয়ে যাবেন বা গেছেন। এবং তাদের টিটুকে ধরতে ব্যর্থ হওয়ার ফলাফল ১০ ই নভেম্বরের ঘটনা।

[গ] যে মুসল্লিরা হামলা করেছে তাঁরা ধর্ম (কোরান, হাদীস, ইজমা, কিয়াস) বা ইসালামী ব্লাসফেমি সম্বন্ধে সামান্যতম ধারণাও রাখে না। বাঙালী মোসলমানের সমস্যা হলো তাঁরা প্রচণ্ড সাম্প্রদায়িক মনোভাবের সাম্প্রদায়িকতা এদের চরিত্রগত। এবং ধর্মের নামে তাঁরা অধিকাংশ সময়ই সাম্প্রদায়িকতা চর্চা করে এবং তাদের চিন্তা শক্তি একেবারে নিম্ন লেভেল এর দার্শনিক অবস্থান একই। যার দরুন আগপাছ না ভেবে বা ধর্মে কী বল্ল না বল্ল তার দিকে দৃষ্টিপাত না করেই তাদের সাম্প্রদায়িক, কমজ্ঞান চরিত্রের উন্মেষ ঘটায়। ঘটনাপ্রবাহের চিন্তা নেই। পাশাপাশি ইসলাম বিষয়ে অতটা না জানায় তাঁরা সাম্প্রদায়িকতাকে পাশ কাটিয়ে এখনো ভালো মুসলমান হতে পারেনি। এরা না করেছে ইসলামি শিক্ষা গ্রহণ, না পেরেছে চরিত্রগত সাম্প্রদায়িকতা ঝাড়তে। তাঁরা মুখে মুখে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের গান গায়, কিন্তু তাদের চরিত্র সম্পূর্ণ রূপে ইসলাম ধর্ম কে কলুষিত করে। ইসলাম কখনোই বলে না "অন্য সম্প্রদায়ের কোন একক ব্যক্তি যদি অাল্লাহ্, পয়গম্বরদের অবমাননা করে তবে ঐ সম্প্রদায়ের সকল ব্যক্তি এর দায় বহন করবে।'' খৃষ্ট ধর্মের মতো ইসলামে "পিতা পুত্রের পাপের দায়ভার নিবে '' এমন কোন সিস্টেম নাই। উপরন্তু ইসলাম বলে একমাত্র অপরাধীর শাস্তি হোক। এবং সে শাস্তির ভার বহন করবে রাষ্ট্র, কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নও। ব্লাসফেমির ক্ষেত্রে ইসলাম আপেডেটেড না হলেও "ব্যক্তির দায় গোষ্ঠীর ওপর'' এমন ব্যাকডেটেড ও নয়। কোরানে ব্লাসফেমি নিয়ে দুটো আয়াত উল্লেখযোগ্যঃ

 

"যারা আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে সচেষ্ট হয়, তাদের শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ানো হবে অথবা তাদের হাত-পা-সমূহ বিপরীত দিক থেকে কেটে দেয়া হবে অথবা দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। এটি হল তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা আর পরকালে তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর শাস্তি। কিন্তু যারা তোমাদের গ্রেফতারের পূর্বে তওবা করে; জেনে রাখ, আল্লাহ ক্ষমাকারী, দয়ালু। ” (৫.৩৩-৩৪)

 

আয়াতটির যেখানে

 

"যারা'' ব্যবহার করেছে ওখানে বিভ্রান্তিতে পরলে জেনে রাখা ভালো, ওখানে একক ব্যক্তি হলে একক ব্যক্তি। ২জন হলে ২ জন। ২ জনার বেশি হলে দুজনার বেশি। তবে আল্লাহ্ শুধুমাত্র এদের (ব্লাসফেমিকারীদের) শাস্তির কথায়ই উল্লেখ করেনি। আল্লাহ্ এদের ভুল স্বীকার করার ও সুযোগ দিয়েছেন উপরের উদ্বৃত আয়াতে এটা খোলাখুলি বলা হয়েছে "কিন্তু যারা তোমাদের গ্রেফতারের পূর্বে তওবা করে; জেনে রাখ, আল্লাহ ক্ষমাকারী, দয়ালু। '' যদি এরা ভুল স্বীকার করে তাহলে এদের শাস্তি রদ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আরেকটি আয়াতে এটা স্পষ্টঃ “ নিঃসন্দেহে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয় – আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনে এবং পরকালে অভিশাপ দেন, এবং তাদের জন্য অবমাননাকর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। যদি এই প্রতারকেরা , আর ঐ সব লোকেরা যাদের অন্তরে কলুষতা আছে, এবং ঐ সকল লোকেরা যারা শহরে মিথ্যা সংবাদ রটিয়ে থাকে তারা, (তাদের এসব কাজ থেকে) বিরত না হয়, তাহলে আমি অবশ্যই আপনাকে তাদের উপর শক্তিশালী করে দেবো: এরপর তারা শহরে আপনার কাছে অতি অল্পকালই অবস্থান করতে পারবে: তারা তাদের নিজেদেরকে অভিশপ্ত অবস্থায় পাবে: যেখানে তাদের পাওয়া যাবে, তাদেরকে আটক করা হবে এবং মারধর করা হবে (নির্দয়ভাবে)। '' (৩৩.৫১-৬১)

 

লক্ষ্য করুন, "এবং ঐ সকল লোকেরা যারা শহরে মিথ্যা সংবাদ রটিয়ে থাকে তারা, (তাদের এসব কাজ থেকে) বিরত না হয়, তাহলে আমি অবশ্যই আপনাকে তাদের উপর শক্তিশালী করে দেবো'' এখানে ঐ সকল লোকদের বিরত থাকার সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাহলে টিটু রায় নামক লোকটিকেও প্রথমবার আক্রমণ করলে সেটা বৈধ হতো কিনা প্রশ্ন থেকে যায়। উপরন্তু তাকে এ কাজ থেকে বিরত থাকার সুযোগ দেয়া যাবে। সে যাইহোক আলোচ্য বিষয়ে আসি। টিটুর ফেসবুক আইডি থেকে যে পোস্টটি দেয়া হয়েছে পোস্টটির দায়ভার কোনভাবেই ঠাকুরপারা নিবে না। এর একমাত্র দায়ভার টিটুর। জবাবদিহিতাও টিটু করবে। কিন্তু টিটুকে ধরতে পুলিশ দেরী করায় ঠাকুর পারা পোড়ানোর ঘটনাটি ঘটেছে। টিটুকে যদি পুলিশ তখনই গ্রেপ্তার করে চলমান আইনের আওতায় আনতো তবে মুসল্লিদের সাম্প্রদায়িক হামলার ইন্ধন যোগানোর পেছনের প্লেয়াররা এই পিছু হটতো।

[ঘ] স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তি ও সংসদ সদস্য বিষয়টি ঘটার আগে জানতেন না। বিষয়টি পাঁচদিন গোল পাকালেও।

[ঙ] টিটু অশিক্ষিত। টিটু পড়ালেখা জানে না।

 

ভাবতে পারেন, আক্রান্ত মানুষগুলো ঠিক কতটা অসহায় হয়? বাংলাদেশের বা বিশ্বের সংখ্যালঘুরা এখন রাজনৈতিক কারণে অসহায়। আর রংপুরের ঘটনাটা তার আরো একটা বড় উদাহরণ। নিছক ধর্মাবমাননার জন্য একটা সম্প্রদায়ের উপর হামলা হয়না এর পেছনে অবশ্যই পলিটিকস জড়িত থাকে। রংপুরের ঘটনায় সন্দেহের তালিকাতে রাজনীতিই থাকে। বর্তমানে ভাত আনতে পান্তা ফুড়ানোর বাজারে উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক দলের ইন্ধন ছাড়া নীরিহ মুসল্লি কর্তৃক নিরীহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে আক্রমণ একটি অবিশ্বাস্য ও আষাঢ়ে গল্প ছাড়া আর কিছু নয়। সবচেয়ে বেশি ২টি বিষয়ের ওপর আমাদের সন্দেহের দৃষ্টি নিক্ষেপ করা যাক:

 

[১] বিষয়টি নিয়ে ৫ দিন ধরে এলাকায় বোঝাপড়া চলেছে। এমনকি থানায় এটি নিয়ে একটি মামলাও হয়েছে টিটুর বিরূদ্ধে। অথচ এই বিষয়টি নাকি স্থানীয় মোড়ল শ্রেণী অর্থাৎ স্থানীয় নেতাদের কাছে গেছেন । স্থানীয় গণ্য নেতারা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জানেন না!

[২] টিটু পড়ালেখাই জানে না [যুগান্তর]

 

প্রথমত, যদি ৫ দিন এই বিষয়টিকে নিয়ে তালগোল পাকানো হয় তাহলে স্থানীয় গণমান্য নেতা ও সংসদ সদস্য জানেন না এটি নিছক কৌতুক বৈ আর কী হতে পারে? দ্বিতীয়ত, টিটু যদি পড়ালেখাই না জানে তবে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কে বা কারা এই কাজটি করেছে, তাদের ফায়দা কী? এসব এখন কোটি ডলারের প্রশ্ন! এই সংঘবদ্ধ মুসল্লিদের কে বা কারা পিছনে সংঘবদ্ধ ইন্ধনদাতা হিসাবে ছিলো সেটা জানা এখন মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এ হামলার দরুন সবচে উপকার পেয়েছে ঐ সংঘবদ্ধ ইন্ধনদাতা গোষ্ঠী। ভারত এবং বাংলাদেশে এ পর্যন্ত যতগুলো সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে তার পিছনে একটা না একটা রাজনৈতিক দলের হাত ছিলোই! হয় তারা সরাসরি হামলায় ইন্ধন যোগায় নতুবা মুখবুজে হামলার সমর্থন দেয়। সাম্প্রদায়িক হামলা শুধুমাত্র ধর্মের কারণেই সৃষ্টি হয় না এর পিছনে জড়িত থাকে বিভিন্ন ইস্যু। এর শুরু হয় ধর্মকে পুঁজি করে এবং অবশ্যই সংখ্যাগুরু যাতে অধিকাংশের সমার্থন পাওয়ায় কোন অসুবিধারই সৃষ্টি না হয়। আমরা যদি বাবরি মসজিদ নিয়ে দাঙ্গার দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো, ওপারে দাঙ্গার সংখ্যাগরিষ্টদের হোতা ছিলো বিজেপি এবং এপারে সংখ্যাগরিষ্টদের সমার্থন হারনোর ভয়ে দুটো প্রধান রাজনৈতিক দলই মুখে কুলুপ সেটে ছিলেন! ব্লাসফেমি সৃষ্টির ইতিহাসে রাজনীতির ছড়াছড়ি। ব্লাসফেমির ইতিহাসে দেখা যায় এর উদ্ভব হয়, অত্যাচারী সামন্ত রাজাদের এবং চার্চের যাজকদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেছেন বা আঙুল তুলেছেন তাদের রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে একেবারে খুন করার মাধ্যমে। যাজকরা এবং রাজারা তাদের প্রভাবের বিপক্ষে আঙুল তোলাদের আইন কর্তৃক খুন করিয়ে জনগণের কাছে ভালো হয়ে থেকেছেন এবং জনগণকে ধর্মের নামে মূলো খাওয়ানোর মেডিসিন হিসাবে ব্লাসফেমির প্রয়োগ করেছেন। ব্লাসফেমির উদ্ভব হয়েছিল প্রাচীন ও মধ্যযুগে। ১ হাজার ৪৫০ বছর আগে ৫৬০ সালের পর রোমের সামন্ত রাজারা প্রতিক্রিয়াশীল মৌলবাদী খ্রিষ্টান ক্যাথলিক চার্চের যাজকদের সহায়তায় এর উদ্ভব ঘটায়। এইভাবে ধর্মের গণ্ডির বাইরে গিয়ে ধর্মীয় আইন তৈয়ার হয়। বাইবেলের এমন অনেক আয়াত আছে যা পরিবর্তিত হয়েছে শুধুমাত্র চার্চ/রাজাদের সুবিধা অসুবিধার উপর ভিত্তি করে। ধর্মের নামে যে সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি হয় সেটা হয় ধর্মের বাইরে গিয়ে। সাম্প্রদায়িকতার পিছনে একটা সংঘবদ্ধ ইন্ধন দাতা থাকে যাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা বিভিন্ন সময় দেখি মূর্তি ভাঙচূড়, হিন্দু জমি ভোগ দখল, মসজিদে শূয়োরের মাথা ইত্যাদি। এগুলো হলো সাম্প্রদায়িক কলহ বাঁধাবার চক্রের কাজ। নিশ্চই মুসল্লিরা এই ধরনের চক্রের দ্বারা প্রতারিত হয়েছে। টিটুও ঠিক একই রকম বলি হতে পারে। কাজেই এটির সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার একান্ত কাম্য। আর অবশ্যই আক্রান্ত হিন্দুদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং ভারতীয় হাই কমিশন যেন এ বিষয়ে কোনমতে নাক গলাতে না পারে, যেন কোন দল এ নিয়ে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি না করতে পারে সে দিকে নজর রাখতে হবে।

২৫ comments

Skip to comment form

  1. 13
    Ahmed

    ইসলাম ধর্ম একটি বিষবৃক্ষ। ঊষালগ্নে আলী-আয়শা যুদ্ধ, রক্তপাত, হানাহানি, কাড়াকাড়ি…. দিয়ে ইসলামী অশুভ যজ্ঞের যাত্রাশুরু। সেই ধারাবাহিকতায় আজ শতধা বিভক্ত মুসলিমরা সভ্য পৃথিবীর জন্য আতংক।  এই তো সেদিন মিশরের সিনাই প্রদেশে ইসলামী যজ্ঞে স্বগোত্রীয়(যেমনটি করেছে আলী-আয়শা) ৩৫০টি নিরীহ প্রান কেড়ে নিল খোদ মসজিদের ভিতর। গতকাল পাকিস্তানের পেশোয়ারে মুমিন-মুমিন ফ্যাসাদে ১২ জন ছাত্রের জীবন গেল। এগুলো এখন আর খবর না, মুসলিমদের দৈনন্দিন বিষয়। 
    তবে এতকিছুর পরও মুসলিমরা মোটেও বিচিলিত নয় কারণ তাদের পেয়ারে নবী মোহাম্মদ এমনটি ভবিষ্য বাণী করে গেছেন-
    "বনূ ইসরাঈলের যে অবস্থা এসেছিল অবশ্যই আমার উম্মাতের মধ্যে অনুরূপ অবস্থা আসবে। এমনকি তাদের কেউ
    যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে থাকে তবে আমার উম্মাতেরও কেউ তাতে লিপ্ত হবে। বনী
    ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উম্মাত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে…"  তিরমিযি, হাদিস: ২৬৪১)

     

    1. 13.1
      চমকপ্রদ

      ওগুলো ইসলামের ঊষালগ্নের ঘটনা নয়, বরং অস্তকালের ঘটনা। ইসলাম যদি বিষবৃক্ষই হতো, তাহলে এর শুরুতেই শুভ ফলের পরিবর্তে অশুভ ফল দেখা যেত। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-ই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি সাধারণ মানুষের জীবনে পূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত করেছেন, সেই সাথে মানুষের জীবনকে অভাবমুক্তও করেছেন। খলীফা উসমানের সময়ের অর্ধকাল পর্যন্ত যা বহাল ছিল।

  2. 12
    Ahmed

    অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে রক্ত পিপাশু মুসলিমরা আর কত নিরীহ মানুষ খুন করবে? নিজ ধর্মের ক্যানসার থেকে এই মূর্খরা কবে মুক্তি পাবে?? 

  3. 11
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    Most of the comments of this post are marked for removal due to policy violation. A comment is removed entirely if it contained any form of

    1. disrespect to the Creator

    2. to any person who is widely revered, and recognized by a large group of people

    Besides, comments containing 'personal attacks' and 'vulgar words' are removed. Furthermore, comments unrelated to this post are removed, since this led to gross degeneracy of discussions. Sadly, this resulted in removal of some insightful and informative comments as well. Respective commentators are requested to discuss specific issues in separate future posts. Thank you.

    Sincerely,

    Editor, Shodalap

    1. 11.1
      চমকপ্রদ

      আপদটাকে বিদায় করার জন্য ধন্যবাদ। আল্লাহ ও রসূলের (সা.) প্রতি অশোভনীয় পোস্ট এ পেজের সৌন্দর্যকে মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করছিল। এছাড়া আমাদের সময় ও পরিশ্রমও নষ্ট হয়েছে এসবের পিছনে। যদিও অন্ধ বিদ্বেষপরায়ণ দুর্বৃত্ত লোকটার কোন কথায় আমরা লা-জওয়াব হয়ে যাইনি, প্রত্যেকটি অপপ্রচারের যথোপযুক্ত জবাব দিয়ে খণ্ডন করতে সমর্থ হয়েছি, কিন্তু এভাবে অনির্দিষ্টকাল একটা লোকের প্রত্যেকটা ফালতু পোস্টের জবাব দেবার জন্য আমাদের সকল কাজ ও বিশ্রাম বাদ দিয়ে ব্যস্ত থাকাটা বিড়ম্বনার বিষয় ছিল। এ পেজ থেকে অনাহূত ও অনাকাঙ্ক্ষিত জীবটার বিদায়ে আমরা এক অনাবশ্যক পেরেশানি থেকে রেহাই পেয়েছি।

      তবে সদালাপ কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ থাকবে যেকোন পেজ বা পোস্ট মুছে দেবার পূর্বে নোটিশ দিয়ে সবাইকে অবহিত করার জন্য। কারণ, অপপ্রচারকারীদের ডকুমেন্ট কিন্তু আগে থেকেই তৈরি থাকে বা মুখস্থ থাকে, কপি পেস্ট মারে বা মুখস্থ লিখে থাকে। অপরদিকে আমাদেরকে ওসবের জবাব তৈরি করতে হয়েছে উপস্থিতভাবে মাথা খাটিয়ে, যা প্রতিদিন Backup রাখাটাও সম্ভব হয়ে ওঠে না। কাজেই এমন যেন না হয়, দুর্বৃত্তরা ঠিকই তাদের ডকুমেন্টগুলো সুরক্ষিত রেখে দিল ভবিষ্যতে কোথাও পোস্ট করার জন্য, কিন্তু আমাদের সুচিন্তিত মূল্যবান পাল্টা মন্তব্যগুলো হারিয়ে গেল। আমি অবশ্য গুগল ক্যাশ থেকে অধিকাংশ মন্তব্য কপি করে নিয়েছি। সদালাপ কর্তৃপক্ষের ঘোষণাটি দেখার পর অফলাইনে ব্রাউজ করে সর্বশেষ ডাটার কপি নিতে পারতাম, যেটা ভুলবশত করা হয়ে ওঠেনি।

    2. 11.2
      সত্য সন্ধানী

      আস সালামু আলাইকুম, অনেক ধন্যবাদ শ্রদ্ধ্যেয় সম্পাদক সাহেব কে  সমস্যার সমাধান করার জন্য।

       সদালাপের একজন পাঠক হিসাবে এবং একজন মুসলিম হিসাবে আমার বিনীত আবেদন থাকবে যে ভবিষ্যতে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পাশাপাশি,

      নবী করীম সাঃ কে নিয়েও ছাপার অযোগ্য কোন কথাবার্তা (যেগুলা স্বাভাবিক ভাবেই মুসলমান দের ধর্মানুভুতি মারাত্বক ভাবে আহত করে) কঠিন ভাবে মডারেশন করা হবে। 

      ভবিষ্যতের শান্তি আর ব্লগের পরিবেশ কে স্থিতিশীল রাখতে এসব সবচেয়ে জরুরী বলেই। অসংখ্য ধন্যবাদ আবারো ব্লগের সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য!

  4. 10
    চমকপ্রদ

    সত্যসন্ধানী ভাই,

    আপনি ঠিকই ধরেছেন। এ ধরনের বিশেষ চালাকি হয়তো পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই আছে। আমি ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবেও দেখেছি, কিছু মতলববাজ মানুষ আছে যারা জালেমের সাথে ঠিকই খাতির রেখে চলে, এমনকি জুলুমের কাজে উৎসাহও যুগিয়ে থাকে; কিন্তু যখন মজলুমকে বাঁচাতে এগিয়ে যেতে চাই বা জালেমের আসল পরিচয় উদঘাটন করতে চাই, তখন ধর্মের দোহাই দিয়ে (বলাবাহুল্য, ধর্মের নামে মিথ্যা, মনগড়া ও খণ্ডিত ব্যাখ্যাপ্রসূত উক্তি দিয়ে) উদারতার বাণী শুনিয়ে আমাকে ক্ষান্ত রাখে।

  5. 9
    সত্য সন্ধানী

    @madhumomgol Saha,জবাব টা আমি দিতাম না , আপনার প্রতি ব্যক্তি গত কোন ক্ষোভ থেকে নয়, শুধুমাত্র আমি প্রচন্ড বিরক্ত কিছু কিছু ব্যাপার নিয়ে(সেটাও আপনার উপর না;ভিন্ন জিনিস)।

    তবে সোজা ভাষায় একটা কথা বলি আর তা হল আপনার প্রশ্নে কিছু চালাকি আছে। আর এই চালাকিটা হল, মুসলিম দের নির্যাতিত হতে হবে শান্তি পুর্ন ভাবে' এই টাইপ চালাকী।তবু জবাব দেব দয়া করে পুরাটা পড়বেন (  ব্রাকেট অংশ সহ)

    অতীতেও আপনি ইসলাম সম্পর্কে বেশ কিছু খোচা দিয়েছেন, তাচ্ছিল্যও করেছেন, অন্য অনেকে তার থেকেও অনেক বেশি করেছে, সেগুলোর জবাব কিন্তু এখানে সবাই ভদ্র ভাবেই দিয়েছেন।

    এখানে 'ahmed' নিক টা কিন্তু রসুল সাঃ কে শুধু ভন্ড টাইপ গালি দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং যেসব বলেছে সেসব বলার আগে ছুপা নাস্তিক ব্লগ গুলাও হয়ত ২য় বার ভেবে দেখবে।

    যাই হোক এসব আগেই এক মন্তব্যে বলেছি। আরেকটা কথা একটু ভেঙে  বলি শোনেন।

     আমি যা বলেছি সেটা শুধু ঐ হতভাগা কে থামাবার জন্য,অন্য কিছু নয়, যেটা ব্লগ কর্তৃপক্ষ আগেই করতে পারতেন, ধরে নিলাম আমাদের আবেদন চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল।

    (পরেও আল্লাহ পাক সম্পর্কে কিছু বলেছে সে, তবে কিছু বলা আর শালীনতার সব সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া এক নয়, তাই বুঝতে পারছি কর্তৃপক্ষ হয়ত মডারেশন করছেন এখন।)

    এটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, প্রত্যেক ক্রিয়ার একটা সমান আর বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।

    আমি সমান না অনেক অনেক কম বলেছি।

     

    এবার আসি সদালাপ প্রসংগে।

    একজন মাত্র লোকের কথা কখনই ব্লগের ভাষা হতে পারে না। কেউ যদি নিজেকে নামায় সেটা আমি নামিয়েছি নিজেই নিজেই নিজেকে এর বেশি কিছু না।এখানে সদালাপের দায় নেই যে দায় আপনি দিলেন।

      আমি এতে বিশেষ লজ্জিতও না, কারন আমি আত্মরক্ষা করেছি আর শান্তি পুর্ন ভাবে নির্যাতিত হতে চাই নি। ( ঐ লোক টি মন্তব্যের নামে নির্যাতন করছিল)।

    ব্যক্তি গত ক্লীন ইমেজ নিয়ে আমি চিন্তিত না, তবু ক্ষমা চেয়েছিলাম আগেই কারন সদালাপে অনেক বড় ভাই রা আছেন যাদের লেখা দ্বারা আমি নানা ভাবে অনুপ্রানিত।

    যাই হোক ব্লগের ভয়েস আর ব্যক্তি গত ভয়েস নিয়ে যেটা বললাম। একজন পুরানো ব্লগারের কথাই যেখানে ব্লগ হোস্টের কথা হতে পারে না, সেখানে আমার মত শিডিউল কাস্ট/নমশুদ্র/দলিত শ্রেনীর ব্লগার যার ক্ষমতা খালি এর ওর ব্লগে যেয়ে লেখা গুলি পড়ে দু একটা কমেন্ট করার মধ্যে সীমিত, তার নিজেকে নিচে নামানোর ব্যাপার টা কিভাবে সদালাপের নিজেকে নামানো হল (আপনার ভাষায়) সেটা আমি বুঝতে অক্ষম।

    যাক আবার বলি আমি সদালাপের কিছু না, কোনদিন ছিলাম না, কোন দিন হতেও পারব না।

     

    সদালাপে আমি শুধুই একটা ছদ্ম নিক মাত্র আর সদালাপের সাথে আমার যোগ সুত্র ও ঐ একটাই আর সেটা হল,  'লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ।' আর আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াহ দাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্নাহ মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসুলুহু।

    আর এই বিশ্বাস আমার কাছে অনেক বড়। না আমি মাদ্রাসায় পড়া কেউ নই, খুব বেশি পুন্যবান কেউ না,জেনারেল শিক্ষা ছাড়া ধর্ম শিক্ষাও বেশি নাই।

     তবু ওই যে বললাম 'লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ', আর, 'আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহ দাহু লা শারিকা লাহু,ওয়া আশ হাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু' এই কথা গুলি আমার পরিচয়, আমার অস্তিত্ব, আর এগুলা নিয়ে আমি গর্বিত।

    (শুধু আল্লাহ নন রসুল সাঃ কে গালি দেয়াও আমার কাছে সমান অপরাধ আর ব্লাসফেমী। আমি সালাফী পরিবার থেকে এটা আগে বলেছি। তবে রসুল পাকের ব্যাপারে আমি পুরা শিয়া বা বেরেলভী, শুধ মাত্র রসুল নুরের তৈরী এই কথা বিশ্বাস করা বাদ দিয়ে।

    আধুনিক অনেক মুসলিম হয়ত বেশি আল্লাহ ভক্তির জোশে ( হোয়াট দ্য হেল???রসুল বাদ দিয়ে আল্লাহ ভক্তি আবার কি জিনিস?) রসুল কে আমাদের পর্যায়ে নামিয়ে আনার দুঃসাহস দেখায়, কিন্তু আমি বলছি যে কোর আনুল কারীম আমার বা অন্য দের উপর নাজিল হয়নি, এইটা নাজিল হয়েছে রসুল সাঃ এর উপর, যিনি আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তি,তাই তাঁর বিরুদ্ধে মাত্রাতিরিক্ত বাড়া বাড়ি আক্রমন এর পালটা জবাব দেয়া আমার কর্তব্য!)

     

    আর এই গর্বের যায়গাটায় কেউ মারাত্বক জখম করলে পালটা আঘাত করা আমার মানবিক অধিকার‍, আর এই 

    অধিকার আমি ছেড়ে দেব না ছদ্ম ভদ্রতার খাতিরে।

    নিজেকে 

    ব্যখ্যা করতে গিয়ে অযথাই পোষ্ট সমান মন্তব্য করে অনেককেই হয়ত বিরক্ত করলাম, সে জন্য ক্ষমা প্রার্থী।

    ধন্যবাদ ভাল থাকেন।

  6. 8
    Madhumangal Saha

    @ সত্যসন্ধানী ,মুস্লিমদের কিছু কিছু কালচার আমার ভাল লাগে না ,তার বিরুধ্যতা আমি করি,আমার লেখার প্রতীবাদ সাদালাপ এর পাঠকরা করেন, সেটা তাঁদের অধিকার ,সমালোচনাটাও আমার অধিকার্‌ ্‌, "Ahomed" জানিনা সে কে , তবে "সাদালাপ" যে ভাষাই উত্তর করেছে তাতে সাদালাপের একজন পাঠক হিসাবে নিজের গালে নিজেই চপেটা ঘাত করলাম্‌, আমার আর কিছু বলার নেই, আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা প্রাথি ,কাওকে আঘাত করার উদ্দশে আমি  লিখিনি, বাস্তবতা বিচার  করা লিখেছি ,  আমি ঠিক  না ভুল সেটা সময় বলবে ,বুঝতে পারলাম না সাদালাপ কেন নিজেকে "আহমেদ" এর স্তানে নিয়ে গেলো নাকি সাদালাপ নিজে সেটাই ্‌, কখন ভাবিনি সাদালাপ কে এই ভাবে বলব ।আপনার সবাই ভাল থাকুন ,।

  7. 7
    Mahir Adnan

    ভাল লাগল ☺ 

  8. 6
    আনোয়ার হোসেন শ্রাবন।

    ধর্মে শান্তি না অশান্তি?

    আজ মিশরের সিনাই প্রদেশে ভয়াভহ মসজিদ বোমা হামলায় প্রায় ২৫০ জন মুসুল্লি নিহত হয়েছেন। ঐ মসজিদে মূলত সুফী-সেক্ট এর মুসলিমরা প্রর্থনা করতেন। সদালাপের মুসলিম ভাইদের কাছে প্রশ্ন ইসলাম ধর্মে মুসলমানদের এই অন্ত দ্বন্দরের উৎস কোথায়? বারবার এমনটি হচ্ছেই, বিরাম নেই। কেন? অন্যের উপর দোষ চাপিয়ে বিষয়টি পাশকেটে যাবেন্না আশা করি। 

    1. 6.1
      চমকপ্রদ

      পানির অপর নাম জীবন। তবে তা হতে হবে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি। দূষিত পানির নাম মরণ। এর জন্য পানি দায়ী নয়, বরং পানির দূষণ দায়ী। যারা পানিকে দূষিত করেছে, দায়ী শুধুমাত্র তারাই।

      1. 6.1.1
        Ahmed

        স্বচ্ছ সুপেয় পানি যখন ইসলামের কলসিতে রাখা হয় কেবল তখনই জীবাণু আক্রান্ত হয়, মারাত্মক জেহাদী পোকায় কিলবিল করে।  ঘটনা কি?? 

        1. 6.1.1.1
          চমকপ্রদ

          স্বচ্ছ সুপেয় পানি বলতে বুঝিয়েছি ইসলামকে। এই ইসলাম নামক পানি যখন কোন অপাত্রে রাখা হয়, এর সাথে যখন বাড়াবাড়ি, সীমালংঘন ও চরমপন্থা নামক ভাইরাসগুলো সংমিশ্রিত হয়, তখন সেটা কলুষিত হয়।

  9. 5
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    ভাই, ওয়ালাইকুমুস সালাম।

    নবী(সা) সম্পর্কে বাজে কথা বললে ধৈর্য ধারন করা কঠিন। আমরা মুসলমান; আমরা আমাদের নিজেদের জানের চেয়েও নবী(সা)-কে বেশি ভালবাসি। পুর্বেও অনেক নির্বোধ এই সাইটে আগমন করেছিল। সদালাপের শ্রদ্ধেয় সিনিয়র ভাইগন জবাব দিয়েছেন। এবারও এই নির্বোধকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে তারপরও সে তার ক্যাসেট বাজিয়ে চলছে। এরা জেনেশুনে ভেজাল করে মজা নেওয়ার চেষ্টা করে। আর আমিও ভুল করেছি এই বেকুব-রে গালি দিয়ে। আল্লাহ্‌ আমাদের ধৈর্য শক্তি আরো বাড়িয়ে দিন এবং ওদের হেদায়েত দান করুণ।

    ভবঘুরে আর কাঠমোল্লা একই ব্যক্তি। সুষপ্ত, কাঠমোল্লা… টাকার বিনিময়ে ইসলামের বিরুদ্ধে লিখে নয়ত এত স্ট্রেন্থ পাওয়ার কথা না। আপনাকে ধন্যবাদ।

  10. 4
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    সোনাগাছিতে বেলুন ফাইট্টা তোর জন্ম হইছিল শুয়রের বাচ্চা। সদালাপে আইসা নবী(সা)-কে সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে যাচ্ছিস। সব উত্তর দেওয়া হয়েছে অনেক আগেই এই সদালাপে। তারপরও কাঠমোল্লার মত এখানে আইসা কা কা করতেছিস।

     

     

    1. 4.1
      Ahmed

      চালাক মোল্লারা নবী মোহাম্মদের সব আকাম-কুকামের ধানাইপানি হাতসাফাই উত্তর দিয়ে দিসেন। সুতরাং চ্যাপ্টার ক্লোজ।

  11. 3
    মোঃ তাজুল ইসলাম

    এবং আরেকটি অনুরোধ, মন্তব্যগুলো আসেন্ডিং অর্ডার অর্থাৎ পূর্বের ফরম্যাটে নিয়ে আসলে সুন্দর হয়। পড়তে সুবিধা হয়। বিবেচনার জন্য দরখাস্ত। ধন্যবাদ।

  12. 2
    Mijan

    তথা কথিত মুসল্লী, পোড়ানো হিন্দু বাড়ি সবই কোন তুখোড় খেলোয়াড়ের পাতানো কি-না তাই বা কে বলবে? আইসেসের পোষ্ট মর্টেম হয়ে গেছে; যখন মানুষ আইসিসের স্রষ্টাকে চিনে গেছে তখন আইসিস চ্যাপ্টারও শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের জঙ্গী জঙ্গী খেলাও সে রকমই মনে হচ্ছে। অবস্থা দেখে কেন জানি মনে হয়  এক একটা নাটক মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন।

  13. 1
    চমকপ্রদ

    ফরাসীদের একটি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নীতিমালা আছে:- "আমাকে ভালো না বাসার অধিকার তোমার আছে, কিন্তু আমাকে Respect না করার অধিকার তোমার নেই।" তবে শুধু একটা জায়গাতে এ নীতির ব্যতিক্রম করা চলে। কোন মানুষকে Respect না করার অনুমতি না থাকলেও শুধু একটা মানুষকে অসম্মান করার অনুমতি সেখানে আছে— সেই ১৪০০ বছর আগের মানুষটিকে।

    একমাত্র ইসলাম ছাড়া আর সবখানে সবার বাক স্বাধীনতা আছে, সবকিছু নিয়ে সবার সমালোচনার অধিকার স্বীকৃত- এ দাবি সত্য নয়। ইউরোপে গিয়ে হোলোকাস্টের ঘটনা নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেই দেখুন না, হাজতের বাইরে থাকতে পারেন কিনা। ইউরোপ-আমেরিকায় বাচ্চাকে টিকা না দিয়ে থাকতে পারবেন? না, পারবেন না। তবে সমকামিতা করতে কোন বাধা নেই।

    এ তো গেল ইউরোপ-আমেরিকায় মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকারের অবস্থা। আর আপনাদের সবচাইতে প্রিয় নাস্তিক শাসিত দেশগুলোর দিকে তাকান। চীনের লী পেং বা উত্তর কোরিয়ায় বসে কিময়ের নামে সমালোচনা দূরে থাকুক, তার কোন সিদ্ধান্তের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে দেখুন তো, কল্লাটা ধড়ের উপর থাকে কিনা!

    এবার আসি সূরা মায়দাহ'র ৩৩-৩৪ আয়াতের প্রসঙ্গে। এখানে যুদ্ধের কথা বলা আছে। সাধারণ মাত্রার গঠনমূলক সমালোচনা যুদ্ধের আওতায় পড়ে না। যুদ্ধ বলতে বোঝায় জীবন ও সম্ভ্রমের উপর শারীরিক আক্রমণ, অথবা মুখের কথা বা লেখনীর দ্বারা চরম অশ্লীল অবমাননাকর আক্রমণ। এছাড়া ধর্ম গ্রহণ ও ধর্ম পালনে জোরপূর্বক বাধা প্রদানও যুদ্ধের অন্তর্ভুক্ত।

    আরেকটা কথা বলি, পৃথিবীর আর সব ধর্মমত, তত্ত্ব, তথ্য, রীতিনীতি, আদর্শ, দর্শন, শাস্ত্র, সংবিধান, চ্যাটার এসবের সাথে আল্লাহ ও রসূলের মর্যাদার তুলনা চলে না। নীলক্ষেতের জাল সার্টিফিকেট আর বোর্ডের অথোরাইজড সার্টিফিকেট এক জিনিস নয়। আপনি নীলক্ষেতে বসে সার্টিফিকেট বানালে বা ওখান থেকে সার্টিফিকেট সংগ্রহ করলে আপনাকে পুলিশ বা র‍্যাবে ধরে নিয়ে যাবে। কিন্তু আপনার আইনসিদ্ধ অরিজিনাল সার্টিফিকেট কেউ কেড়ে নিয়ে গেল আপনি তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন। রাস্তার কোন মহিলা এসে ঘরের বউয়ের সমান মর্যাদা দাবি করলে সেটা হবে অনধিকার আবদার ও হাস্যকর আবেদন।

    1. 1.1
      Ahmed

      দেখুন, ইউরোপের হলকাস্ট একটি পৈচাশিক, নিষ্ঠুর, নির্মম মানবিক বিপর্যয়ের বাস্তব ইতিহাস। সুতরাং এটিকে কটাক্ষ করা মানে বিশ্ব মানবতাকে অবজ্ঞা করা। যে কারনে হলকাস্ট ডিনাই করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। রোগ প্রতিরোধক টিকা যৌক্তিক কারণেই বাধ্যতামুলক।  কিন্তু এগুলোর সাথে ইসলাম অবমাননা এক পাল্লায় মাপা যাবে না। আপনার রাসুল চাঁদ মামাকে দ্বিখন্ডিত করেছেন, পাংখ্যাওয়ালা খচ্চরের পিঠে মহাশুন্য ভ্রমন করেছেন…… এমন সব আবলতাবল রম্য রচনার বিরুদ্ধে হাসি, তামাসা, টিটকারী, টিপ্পনি হ্তেই পারে। হওয়াটাই স্বাভাবিক এবং হবেই। আপনি চাইলেই জোর করে মুখ বন্ধ করতে পারবেন্না।  এ নিয়ে আর কোন কথা চলে না, ফুলস্টপ।

      নীলক্ষেতের জাল সার্টিফিকেট প্রসঙ্গ : 

      দেখুন, আজকের পৃথিবীর সবচেয়ে পশ্চাদপদ, সবচেয়ে অজ্ঞমূর্খ, সবচেয়ে অশিক্ষিত, সবচেয়ে অথর্ব, সবচেয়ে অপদার্থ, সবচেয়ে , পরনির্ভরশীল, সবচেয়ে বিজ্ঞান বিমুখ, সবচেয়ে দাঙ্গাবাজ……….. জনগোষ্টির কাছেই কেবল আপনার আল্লা-রাসুলের মর্যাদা সবার উপরে থকবে সেটাই স্বাভাবিক। সে তুলনায় পৃথিবীর সবচেয়ে অগ্রগামী সভ্যভব্য, সুশিক্ষিত মানুষের ধর্মমত, তত্ত্ব, তথ্য, রীতিনীতি, আদর্শ, দর্শন, শাস্ত্র, সংবিধান, চ্যাটার……. যদি নীলক্ষেতের জাল সার্টিফিকেট হয়ে থাকে তাহলে সেটিই ভাল। ধন্যবাদ।

      1. 1.1.1
        চমকপ্রদ

        হলোকাস্টকে অস্বীকার করলে বিশ্ব মানবতার অবমাননা হয়। কিন্তু ইহুদী মায়ের সন্তান কার্ল মার্কসের উদ্ভাবিত নাস্তিকতা ও কমুনিজমের অনুসারীরা যখন কোটি কোটি মানুষকে হত্যা করে গোটা দুনিয়ার মানুষকে নাস্তিক কমুনিষ্ট বানাতে  চায়, তখন তাতে মানবতার কোন ক্ষতি হয় না! বার্মার নাস্তিক্যবাদী কমুনিষ্ট শাসকদের হাতে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ জাতিগত নির্মূল অভিযানের শিকার হলে সেই ভিকটিমরা যখন মানবতাবাদের ধ্বজাধারী নাস্তিকদের কাছে সহানুভূতির পরিবর্তে বিদ্রূপ পায়, তখন তাতে মানবতার অবমাননা হয় না! আর আপনি ইউরোপের বাক স্বাধীনতার বিষয়ে একটা ব্যাখ্যা দিলেও আপনাদের সবচেয়ে প্রিয় নাস্তিক তথা কমুনিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন।

        আপনার রাসুল চাঁদ মামাকে দ্বিখন্ডিত করেছেন, পাংখ্যাওয়ালা খচ্চরের পিঠে মহাশুন্য ভ্রমন করেছেন…

        আমাদের রসূল কোন প্রাগৈতিহাসিক পৌরাণিক চরিত্র নন। তাঁর জীবনের ঘটনাবলী শুধু ধর্মগ্রন্থ বা পুঁথি আকারে নয়, বরং ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবেই নথিবদ্ধ। চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হবার ঘটনা মুসলিম-কাফের নির্বিশেষে প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনেই ঘটেছিল এবং কাফেররা এটাকে যাদু আখ্যায়িত করেছিল- এটা ঐতিহাসিকভাবেই প্রমাণিত। আফ্রিকার জঙ্গলের যে মূর্খ মানুষটি রকেট, মহাশূন্যযান বা কম্পিউটার সম্পর্কে জানে না, তার কাছে বর্তমানের চন্দ্র ভ্রমণ বা মহাকাশ গবেষণার গল্প শোনালে কিংবা কম্পিউটারের কার্যক্ষমতার বিবরণ দিলে সে আপনাকে বেকুব পাগল ঠাওরাবে এটা নিশ্চিত। অনুরূপভাবে, রসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঊর্ধ্বালোক ভ্রমণের বিষয়টিও আপনাদের কাছে হাস্যকর পাগলামি মনে হতেই পারে। কারণ, আপনারা এ সম্পর্কে হয় অজ্ঞ, অথবা উদ্দেশ্যমূলক মতলবের তাড়িত হয়ে জেনেশুনে উড়িয়ে দিয়ে থাকেন। মহাবিশ্ব বলে একটা কিছু সৃষ্ট হয়েছে- একথা যদি সত্য হয়, তাহলে এর স্রষ্টা এই সৃষ্ট এরিয়ার মধ্যে যাকে ইচ্ছা যখন খুশি ঘুরিয়ে দেখাতে পারেন, এটা অবিশ্বাস করার কিছু নেই। রসূল (সা.) যখন ঊর্ধ্বলোক ভ্রমণের বিষয় বর্ণনা করেছিলেন, তখন অবিশ্বাসীরা মহাকাশ ভ্রমণ তো দূরের কথা, জেরুজালেম ভ্রমণের ঘটনাই বিশ্বাস করতে চায়নি। অথচ আজ মক্কা থেকে জেরুজালেম ভ্রমণ তিন ঘন্টার ব্যাপারও নয়। তখনকার মানুষের কাছে না হয় বিষয়টা বোধগম্য ছিল না। কিন্তু এখনকার দিনের বিজ্ঞান জানা জ্ঞানপাপী মানুষগুলো মহাকাশ ভ্রমণের ঘটনা জানার পরও কিভাবে তা অস্বীকার করে? আর আপনি কোন্‌ বিষয়টা বিশ্বাস করবেন বা না করবেন, সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু যারা বিশ্বাস করে, তাদের কাছে এ নিয়ে হাসি, তামাসা, টিটকারী, টিপ্পনি চালাতেই থাকবেন, এমন স্বেচ্ছাচারিতা ও হঠকারিতাপূর্ণ জেদ ধরা যুক্তিসঙ্গত নয়।

        যাদেরকে আপনি পশ্চাদপদ, সবচেয়ে অজ্ঞমূর্খ, সবচেয়ে অশিক্ষিত, সবচেয়ে অথর্ব, সবচেয়ে অপদার্থ, সবচেয়ে  পরনির্ভরশীল বলছেন, তারা কিন্তু এমন ছিল না। তাদেরকে এরূপ করা হয়েছে শত বছরের জুলুম ও শোষণের মাধ্যমে। আর এটা করেছে আপনার বর্ণিত  সভ্যভব্য, সুশিক্ষিত, উন্নতরা। এ থেকে রবী ঠাকুরের সেই পংক্তিটিই মনে হয়, "তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে।" আর বিজ্ঞানে উন্নতির একতরফা ক্রেডিটটা আজকের সভ্য জগতের উপর দিয়ে দেয়াটা হচ্ছে সেই শাশুড়ীর মত আচরণ, যে কিনা বউকে দিয়ে খাবার তৈরি করিয়ে পরিবেশনের কাজটি নিজে করে বাহবা নিয়ে নেয়, আর বউকে অকম্মা অথর্ব প্রমাণ করে ছাড়ে।

      2. 1.1.2
        Ahmed

        এম_আহমদ

      3. 1.1.3
        Ahmed

        @ এম_আহমদ, 

         

        "সৌদি আধুনিক উন্নত দেশসমূহের একটি। অপরাপর দেশসমূহের মত সেখানেও কিছু ভাল/মন্দ আছে, এবং সেখানেও আইনের মাধ্যমে সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে –গাড়ী চালানোর অধিকারও একটি। ‘মুক্ত পরিবেশে নারীর চলা ফেরা নিষিদ্ধ’ -এটা মূর্খামি।"

         

        ঠিক তাই। আমরা ২১ শতকের গ্লোবালাইজেশনের সভ্য যুগে বসবাস করি। আমিও চাই সৌদি আরব উন্নত বিশ্বের কাতারে চলে আসুক। সভ্য হোক, আধুনিক হোক। মোহাম্মদ এবং আল্যাজুজুর ইসলামি গিলোটিন ছিন্ন ভিন্ন করে আধুনিক বিজ্ঞান ভিত্তিক মুক্ত চিন্তার উন্মেষ ঘটুক সে দেশে। সিন্দাবাদ দৈত্যের মত ঘাড়ের উপর চেপে বসা মধ্যযূগীয় ইসলামকে টয়লেট বোলে ফ্লাশ করে মুসলিমরা পরিশুদ্ধ হোক। 

         

        তাহলে কী কী বস্তুকে টুয়লেে ফ্লাস করতে হবে তার কয়েকটি মাত্র পর্যালোচনা করা যাক : 

         

        ১। সূরা ৩৩:৩৩- তোমরা(নবীস্ত্রীগন) গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।  

         

        ২। আল-বুখারি (১৭৯২) এবং মুসলিম (২৩৯১) বর্ণনা করেছেন ইবন ‘আব্বাস(রা) থেকে। তিনি বলেছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ“কোন মহিলা মাহরাম ছাড়া ভ্রমণ করবেনা এবং কোন পুরুষ কোন মহিলার কাছে যাবে না যদি না তার(মহিলার) সাথে মাহরাম থাকে।’

         

        ৩। রাসুল(সঃ) বলেন নারী হল গোপনীয় সত্ত্বা। যখন সে ঘর থেকে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে দৃষ্টি উচু করে তাকাতে থাকে। (তিরমিযি১/২২২)

         

        ৪। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নারীরা হচ্ছে চাদর এবং যদি সে গৃহের বাইরে যায় তবে শয়তান খুশি হয় (তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে বলে)। সে (নারী) আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না যতটা সে গৃহে থেকে করতে পারতো।” (ইবনে হিব্বান ও ইবনে আবী খুযাইমাহ, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলা আস সহীহাহ ২৬৮৮)

         

        ৫। তিনি নবী(সাঃ) নারীদের মসজিদে সালাত আদায়ের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে বলেছিলেন, “তাদের গৃহই তাদের জন্য উত্তম।” (আবু দাউদ ৫৬৭)

         

        ৬। আবু হুরায়ররা (রাদিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "মহান আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি যে নারী ঈমান রাখে, তার মাহরামের সঙ্গ ছাড়া একাকিনী এক দিন এক রাতের দূরত্ব সফর করা বৈধ নয়।’’

        (সহীহ বুখারীঃ হাদীস ১০৮৮, সহীহ মুসলিমঃ ১৩৩৯, জামে তিরমিযীঃ হাদীস ১০৭০, সুনানে আবু দাউদঃ হাদীস ১৭২৩, ইবনে মাজাহঃ হাদীস ২৮৯৯, মুসনাদে আহমদঃ হাদীস ৭১৮১, ৭৩৬৬, ৮২৮৪, ৮৩৫৯, ৯১৮৫, ৯৩৭৪, ৯৮৪৮, ১০০২৯, ১০১৯৭, মুওয়াত্তা মালিকঃ হাদীস ১৮৩৩)

         

        উল্লেখযোগ্য : আল্যা এবং নবী মোহাম্মদের উপরের কোটেশেনগুলোর গায়ে ইহুদী-নাসারা-নাস্তিকের প্রস্তিতকৃত লেবেল এটে দিয়ে ইতিমধ্যেই DISCARD করে পরিশুদ্ধ হয়ে থাকেন তা হলে আমার পক্ষথেকে আপনাকে ধন্যবাদ। 

      4. 1.1.4
        চমকপ্রদ

        Ref: 1.1.1.15 by Ahmed

        ধূর্ত শিয়াল লম্পট কোথাকার! বর্ণিত আয়াত ও হাদীসগুলো ফেলে দিলে তোর মত ওঁৎ পেতে থাকা শকুনদেরই ষোলকলা পূর্ণ হয়। বর্তমান দিনকালের প্রেক্ষিতে উক্ত বিধানগুলোর প্রয়োজনীয়তা আরো বেশি প্রমাণিত হয়। কিন্তু তোর মতন সুযোগসন্ধানী গণধর্ষণকারী লুচ্চাদের কাছে এ নিয়মগুলো তিতাই লাগবে- এটা নিশ্চিত।

        সবাই সাবধান থাকেন, এই ছদ্মবেশী দুর্বৃত্তটি চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করার ধান্ধায় আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.