«

»

Oct ১১

বিদেশী হত্যা এক নতুন ষড়যন্ত্র

ব্লগার হত্যা,বিদেশী হত্যা আর কত ঘটনা লাগবে বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে? বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র প্রমাণ করার জন্য বড় একটি ষড়যন্ত্র ব্লগার হত্যার মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল।আর ব্লগার হত্যার পেছনে আল-কায়দা আর আনসারুল্লাহর বার বার দায় স্বীকারও ব্যাপারটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলে।কিন্তু যখন দেখা গেল 'ব্লগার হত্যা' বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায় তেমন একটা প্রভাব ফেলে নি তখন নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হলো বিদেশী হত্যা।ইতালিয়ান নাগরিক হত্যায় এই ষড়যন্ত্র না দেখা গেলেও,জাপানি নাগরিক হত্যায় ঠিকই এটা পরিষ্কার হয়ে উঠেছে যে এগুলো কোন আইএস,আল-কায়দা বা কোন সন্ত্রাস/জঙ্গি সংগঠন করছে না।বাংলাদেশে একটি জঙ্গি রাষ্ট্র প্রমাণ করার জন্য এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।বাংলাদেশে কোন আইএস,আল-কায়দা নেই।এ বিষয়ে জাপানি নাগরিক হোশি কোনিওর হত্যার পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায়।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের (৪/১০/১৫-পৃ;১,১১ কলাম ৪) হেডলাইনে জাপানি নাগরিক হত্যার সাথে 'আইএসের স্বীকার' লেখা থাকলেও তেমন কোনো সূত্র দেয়া হয় নি।বরং পুরো খবরে কোথাও আইএসের স্বীকারের বক্তব্য তুলে ধরা হয় নি।যদি আমি মেনেও নেই আল-কায়দা বা আনসারুল্লাহ ইত্যাদি কোন জঙ্গি সংগঠন এটা করেছে(দায় স্বীকার করেছে) তবুও এটা বিশ্বাসযোগ্য হয় না।কারণ বাংলাদেশ প্রতিদিনে ঠিক পরের দিনই (০৫/০৮/১৫-পৃ;১,২ কলাম ৪) এ প্রকাশ করা হয় যে হোশি কোনিও তিন মাস আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।মজার ব্যাপারটি হচ্ছে,আইএসের দায় স্বীকারের ব্যাপারটা পরদিন সম্পূর্ণভাবে অবহেলা করা হয়েছে এ খবরটি প্রকাশের পর।তাছাড়া ইতালি নাগরিক হত্যায় টেলিভিশন মিডিয়ায় যতটা না প্রভাব দেখা যাচ্ছে,জাপানি নাগরিক হত্যায় তা আংশিক গুরুত্বও দেয়া হচ্ছে না।

এসব ঘটনা থেকে প্রমাণ হয় যে আল-কায়দা,আইএসের দায় স্বীকার এগুলো False Flag ছাড়া আর কিছুই না।কিন্তু এ বিষয়ের সত্যতা যদি বের করতে হয় তবে অবশ্যই কিছু বিষয় লক্ষণীয়।

• বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করাতে কাদের লাভ আছে ?

• আইএস,আল-কায়দা (না থাকা সত্ত্বেও) এদের অস্তিত্ব প্রমাণে কারা নিয়োজিত আছে?

• কারা বারবার দেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর (আইএস,আল-কায়দা) অস্তিত্বের পক্ষে লেখা,বক্তব্য বা বিবৃতি দিচ্ছে?

এগুলো বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বিষয়গুলো হয়তবা বোধগম্য হবে।কিন্তু এখন কথা হচ্ছে মিডিয়া এবং ইসলাম বিদ্বেষীরা কীভাবে হত্যাগুলোর সাথে ইসলামের ট্যাগ দিবে।তাদের জন্য এটা বড়ই চিন্তার বিষয়

 

2015-10-07_bss-56_552945

৫ comments

Skip to comment form

  1. 5
    সরকার সানজিদ আদভান

    কিংশুক ভাই, আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

  2. 4
    কিংশুক

    আল কায়েদার ওসামা বিন লাদেন ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, আরাকানি রোহিংগা, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, জিনজিয়াং, চেচনিয়া সহ সারাবিশ্বে গণতন্ত্র, নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে মুসলিম নির্যাতন বন্ধ না হওয়ার জন্য ইউএস নেটো জাতিসংঘকে দায়ী করে তথাকথিত গ্লোবাল জিহাদের মধ্যেই সমাধান বলে সন্ত্রাস জংগিবাদের দিকে মুসলিম তরুণদের আহ্বান জানাতো। আলজেরিয়া, মিসর সহ অনেক মুসলমান দেশের তরুণরা দেখলো গণতান্ত্রিক ভাবে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। চেচেন, বার্মা, ফিলিপাইনি, থাই, জিনজিয়াং, কাশ্মীরীরা তরুনরা দেখলো সংখ্যা গুরুরা মুসলিম অঞ্চলে সেটেলার সংখ্যা গুরুর পূর্ণবাসন করে করে মুসলিম নির্যাতন চালিয়ে দেশত্যাগে বাধ্য করে নিজ ভূমে সংখ্যালঘু বানিয়ে দিচ্ছে । মধ্য এশিয়ার কমুনিষ্ট সৈরাচাররা পুলিশি রাষ্ট্র বানিয়ে রেখে ইসলাম পন্থী সহ সবার অধিকার হরণ করে রেখেছে। এইসব অঞ্চলের নিজেদেরকে অত্যাচারের শিকার মনে করা মুসলিম তরুনদের অনেকেই আল কায়েদাকে বিপ্লবী সংগঠন ভেবে সন্ত্রাসী আল কায়েদার আদর্শকে অধিকার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ ঠাউরে নিয়ে ইরাক আফগানিস্তান সিরিয়ায় তাদের ভাষায় ‘ক্রুসেডার-জায়োনিস্ট-কমুনিস্ট-মুর্তাদ’ জোটের বিরুদ্ধে লড়াই/জিহাদ করছে। শুধু শক্তি, অস্ত্র, গোয়েন্দা দিয়ে জংগিবাদ শেষ করা যাবেনা। উপরে যাই হোক ভিতরে ভিতরে বেশীরভাগ মুসলিম দেশে পশ্চীমা স্ট্রেটেজী মার খাচ্ছে । মুসলমানদেরকে হুমকি ধমকি দিয়ে উত্তেজিত না করে মুসলমানদের মন জয় করতে না পারলে তথাকথিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পশ্চিমারা কোনওদিনও জিতবেনা। অধিকাংশ মুসলিম দেশের মতোই বাংলাদেশও ভিতরে ভিতরে যথেষ্ট অশান্ত। ফলে জংগিবাদের সত্যিকারের হুমকি বাংলাদেশে নাই বলা যাবেনা। কেউ যদি মনে করে ইসলাম বিদ্বেষ প্রচার করে, মাদ্রাসা শিক্ষার বিরোধিতা করে, সেকুলারিজম চালু করে বাংলাদেশকে জংগিবাদ মৌলবাদের হুমকি মুক্ত করবে তাহলে তাঁকে রামছাগল বলা ছাড়া কোন উপায় নাই। বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান উপমহাদেশে ইসলামের ভিত এতই শক্ত যে, এখানে এখন স্বয়ং ব্রাহ্মণ্যবাদী বিজেপি ভারত, ই উএসএ, রাশিয়া চাইলেও তা পারবেনা। সবাই মিলে এত বছর ধরে সকল প্রকার পরিকল্পনা অর্থ শ্রম দিয়ে আফগানিস্তানেই পারছেনা। যাদের আক্কেল আছে তাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট ।

  3. 3
    কিংশুক

    সোভাগ্যের কথা মুল ধারার ইসলাম কোন কালেই জংগিবাদ সমর্থন করেনা। আহলে সুন্নাহ জংগিদেরকে ইসলামের শত্রু মনে করে কারন ইসলাম শান্তির ধর্ম। বিশ্বে 1/ 1000 এরও কম আল কায়েদা আই এস আছে । কিন্তু বিশ্বে ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র চলতে থাকলে জংগি বাদ পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব না। এ সমস্যা অস্ত্র শক্তি দিয়ে শেষ হবেনা।

  4. 2
    কিংশুক

    দেশে আল কায়েদা/আইএস পন্থী কেউই নাই এরকম বলাটাও সত্যকে অস্বীকার করা হবে। আছে কিন্তু অতি কম। এই অতি কম থাকলে কোনও দেশ জংগি রাষ্ট্র হয়ে যায়না। সেভাবে হিসাব করলে ইউএসএ, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া সবাই জংগি রাষ্ট্র । বিশেষতঃ মুসলিম রাষ্ট্রে যদি গণতান্ত্রিক ভাবে ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ না থাকে, ইসলাম পন্থী হলেই দমনপীড়নের স্বীকার হয়, সেকুলারিজমের নামে নাস্তিকতার পৃষ্ঠপোষকতা করা হয় অর্থাত্ সেকুলার সংবিধান ধর্ম ভিত্তিক পরিচয় দমন করেতখন ক্ষুব্ধ মুসলিম তরুণদের মাঝে জংগিবাদ প্রচার করে ফাঁদে ফেলা যায় । আরব আফ্রিকার অনেক দেশেই তা হয়েছে । নানান রকম জাতীয়তাবাদ, আধুনিকতা, প্রগতিশীলতার নামে, কমুনিজমের নামে ইসলামি পরিচয় স্বাভাবিক ভাবে ভুলিয়ে দেওয়া যায়না কারন অন্য ধর্মের সাথে ইসলামের মৌলিক পার্থক্য হলো ইসলাম একটি দ্বিন অর্থাত্ জীবন বিধান যার সাথে অর্থনীতি, রাজনীতি, আইন কানুন জড়িত । যখন বৈশ্বিক কারনে মুসলিমদের দেজাতিসংঘের চাহিদা অনুযায়ী সিডো সনদ, মানবাধিকার এর নামে কোরআন হাদিস বিরোধী নারী নীতি, ধর্মহীন শিক্ষানীতি, জাহিলিয়াতের যুগের মতো নগ্নতা মদ জুয়া রাষ্ট্রীয় ভাবে হয় তখন ইসলাম পন্থীরা ইসলাম হুমকির মুখে মনে করে। এখন মুসলিম দেশে ঐ সেকুলারিজম রাখার একমাত্র উপায় সাভেক সোভিয়েত মধ্য এশিয়ার মুসলিম দেশগুলির একনায়ক সৈরশ্বাসক কমুনিষ্টদের নিপীড়ন মূলক 100% পুলিশি রাষ্ট্র কায়েম। আর ইসরাইল রাষ্ট্র যতদিন থাকবে ততদিন মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমা বিরোধ থাকবেই। কাশ্মীর ও বিজেপির কারনে ভারত বিরোধিতা থাকবেই। সমাধান নাই।

  5. 1
    Sajib

    আজ ইসলাম একটা গভীর ষড়যন্ত্রের ক্রান্তিক্ষণে। আজ যখন যেখানেই হত্যা,ঘুম বা ছিনতাই অপরাধজনক কাজ সংগঠিত হচ্ছে তার সাথে ইসলামের তকমা লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে মুসলিমরা তাদের মুসলিম বলে পরিচয় দিতে ভয় পাচ্ছে। কিছু দিন আগে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মুশফিকুর কোরবানির একটা ছবি আপলোড করেছিলো পরে হিন্দু ধর্মের লোকদের অনুভূতিতে আঘাত লাগবে ভেবে সরিয়ে নেয়। তারপর ইন্ডিয়াতে গরু কোরবানি নিষিদ্ধ করা হলো। কিন্তু যখন বাংলাদেশের স্কুল কলেজ, রাস্তা, বাজার দখল করে ঢাক ঢোল পিটিয়ে পূজা করা হয় তা কি মুসলিমিও ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত হানে না। অবশ্যই হানে কারণ ইসলামে মূর্তিপূজা নেই। কই মিডিয়া তা নিয়ে কিছু লেখেনা কেন? যখন মোদি বাংলাদেশ সফরে আসলো তখন তিনি প্রথম মন্দিরে গেল পূজা করতে আর বাংলাদেশের সকল হিন্দুদের খবর নিলো। ইসলামি দেশের কয়জন নেতা আগে নামাজ পড়ে মুসলিমদের খবর রাখে? আসলে আজ আমরা মুসলিমরা ঐক্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছি যা আমাদের পতনের কারণ হবে। যেখানে বিধর্মীরা বিধর্মগুলো ইসলামকে ধ্বংস করার ছক তৈরি করছে। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন, আমিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.