«

»

Oct ১৯

বাইবেল কি ইসহাককে(আ) কুরবাণী করার কথা বলে?

অনেক আগে থেকেই আব্রাহামিস্টদের মধ্যে ইব্রাহিম(আ) তাঁর কোন পুত্রকে কুরবাণী করার কথা ছিল এ নিয়ে বিতর্ক আছে।এদের মধ্যে এমন অনেকে ছিল যারা এই দাবী করেছিল যে ইব্রাহিমের(আ) ইসহাককে(আ) কুরবাণী করার কথা ছিল।তাদের এমন দাবীর সূত্র হচ্ছে বর্তমানের বিকৃত বাইবেল।খ্রিষ্টান মিশনারীরা ত এমন দাবী করে থাকে ইসলামিক সূত্র অনুসারেও ইসহাককেই(আ) কুরবাণী করার কথা ছিল এবং ইসমাঈলকে(আ) কুরবাণী করার ঘটনা বানোয়াট ছাড়া আর কিছুই না।তার সাথে তারা এমন দাবীও যোগ করে দেয় যেহেতু কুরআনে কুরবাণীর উক্ত স্থান এবং ঘটনায় ইসমাঈল(আ) এর নাম নেই তাই সে হিসেবে বাইবেল কুরআনের চেয়ে শ্রেয়।

এই ঘটনার ভিন্নমত কোনভাবেই কুরআনকে ঈশ্বরের বাণী হিসেবে ভুল প্রমান করে না এবং বাইবেলকেও কুরআনের চেয়ে উচ্চতর প্রমাণ করে না।কিছুসময়ের জন্য যদি ধরেও নেই যে ইসহাককেই(আ) কুরবাণী করার কথা ছিল তাও সেটা বাইবেলকে কোনভাবে উচ্চতর প্রমাণ করে কিনা তা যাচাই করা যাক।মুসলিমরা বিশ্বাস করে যে বাইবেলের কিছু অংশ আল্লাহর হতে পারে এবং কুরআনও একই কথায় দাঁড়ায় যে বাইবেল বিকৃত হয়ে গেছে এবং বাইবেলের জন্য রক্ষক হয়ে থাকে।

"আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী।" (সূরা মায়িদ্বাহ,৫:৪৮)

কাকে কুরবাণী করার কথা ছিল এটা গুরুত্বপূর্ণ না।গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ঘটনাটির শিক্ষা।ইসমাঈল(আ) বা ইসহাক(আ) যেই হোক না কেন,এটা অধুনা মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার জন্যই মিশনারীদের আস্ফালন, যেহেতু আগে মুসলিমদের মধ্যে এ নিয়ে ভিন্নমত ছিল।ভিন্নমত থাকলেও তা ঘটনার শিক্ষা এবং কুরআন ও হাদিস এবং ইসলাম যে সত্য এবং স্বয়ং আল্লাহর নাযিলকৃত ধর্ম এতে কোন প্রভাব ফেলে না।যেহেতু মিশনারীদের আস্ফালন লক্ষ্য করা যায় যে বাইবেল উচ্চতর তাহলে যাচাই করা যাক কোন ঘটনার বর্ণনায় কোনটা উচ্চতর হয়।কুরআন নাকি বাইবেল।কুরবাণীর আগে পিতা-পুত্রের কথোপকথন লক্ষ্য করা যাক কুরআন ও বাইবেলের মাধ্যমে:

“And Isaac said to his father Abraham, ‘My father!’ And he said, ‘Here am I, my son.’ He said, ‘Behold, the fire and the wood, but where is the lamb for a burnt offering?’Abraham said, ‘God will provide for himself the lamb for a burnt offering, my son.’ So they went both of them together.” – [Genesis 22:7-8]

উপরের আয়াতে দেখুন,ইব্রাহিম(আ) তাঁর ছেলেকে মিথ্যা কথা বলছে যে ঈশ্বর ভেড়া দিবেন কুরবাণীর জন্য।এর মাধ্যমে বোঝা যায় এই কাহিনীটি শিক্ষণীয় কোন ঘটনা হতে পারে না।ইব্রাহিম(আ) কি জানত ইসহাক(আ) পালিয়ে যাবে যদি তাঁকে বলা হত তাঁকে কুরবাণী করা হবে?ইসহাক(আ) কি তাহলে তাঁর ইচ্ছা ঈশ্বরের কাছে আত্মসমর্পণ করত না?কিছু খ্রিষ্টানরা হয়ত বলবেন যে এখানে ইব্রাহিম(আ) আগে থেকেই জানত ঈশ্বর ভেড়া দিবেন,তাই এখানে তিনি কোন মিথ্যা কথা বলেন নি।কিন্তু এখানে তাহলে যে সমস্যা দেখা যায়,যদি ইব্রাহিম(আ) জানত যে ঈশ্বর ভেড়া দিবেন তাহলে এটা ইব্রাহিম (আ) এর জন্য পরীক্ষা হয় কীভাবে?Genesis 22:1 এ কিন্তু ঠিকই এ ঘটনা ইব্রাহিম(আ) এর জন্য একটি পরীক্ষা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে কুরআনের বর্ণিত ঘটনায় পিতা-পুত্রের কথোপকথন দেখুন-

"অতঃপর সে যখন পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হল, তখন ইব্রাহীম তাকে বললঃ বৎস! আমি স্বপ্নে দেখিযে, তোমাকে যবেহ করছি; এখন তোমার অভিমত কি দেখ। সে বললঃ পিতাঃ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চাহে তো আপনি আমাকে সবরকারী পাবেন।"(সূরা আস সাফাত,৩৭:১০২)

এখানে দেখুন ইব্রাহিম(আ) তাঁর ছেলেকে সত্যি বলছে(কুরবাণীর কথা) এবং তাঁর মতামত জানতে চাচ্ছে।এখানে পুত্রটিকে এমন একজন মানুষ হিসেবে দেখা যাচ্ছে যে কিনা তাঁর ইচ্ছা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করবে ইব্রাহিম(আ) এর মত এবং তাঁর পিতাকে সে বলছেও যে সে আল্লাহর আদেশের প্রতি অনুগত থাকবে এবং সহনশীলতা দেখাবে।উপরের আয়াত দুটি তুলনা করলে বোঝাই যায় কোন বর্ণনা(কুরআন/বাইবেল) উচ্চতর।

খ্রিষ্টান মিশনারীরা তাবারি,কুর্তুবি, তানউইর আল-মিকবাস মিন তাফসির ইবন আব্বাস এবং তাফসির আল-জালালাইন আর হামযা ইউসূফের একটি কথার অডিও রেকর্ড দেয় সূত্র হিসেবে 'কোন পুত্রকে কুরবাণী করার কথা ছিল' এটা প্রমাণ করার জন্য যে এ নিয়ে ভিন্নমত ছিল।এছাড়া তারা মুহাম্মদ হুকাঈলের লেখা "The Life of Muhammad(pbuh)" থেকেও কিছু সূত্র দেয়।তাদের অপচেষ্টা সম্পূর্ণই ব্যর্থ।কয়েকজন লোকের বক্তব্য থেকে রেফারেন্স দিয়ে কোনভাবেই প্রমাণিত হয় না যে ইসমাঈলকে(আ) কুরবাণী করার কথা ছিল না এবং কুরআন আল্লাহর বাণী না এবং বাইবেল ঈশ্বরের বাণী।এক দিকে মিশনারীরা,যারা ইসহাককে(আ) কুরবাণী করার কথা ছিল বলে মনে করেন শুধু তাদের বক্তব্যের সূত্র দেন আর অন্যদিকে যারা ইসমাঈলকে(আ) কে বলেছেন তাঁদের উপেক্ষা করে।কে ইসমাঈল(আ) বলেছে আর কে ইসহাক(আ) বলেছে এমন বক্তব্য থেকে সূত্র দেয়া বোকামি ছাড়া আর কিছু না।তাছাড়া এমনও বক্তব্য আছে যেখানে দুজনেরই নাম এসেছে।তাই কাকে কুরবাণী করা হয়েছিল এটা জানতে হলে কুরআন ও বাইবেলের মাধ্যমেই বের করতে হবে।তাছাড়া কুরআনে বর্ণিত ঘটনাই যে উচ্চতর এবং শিক্ষণীয় অন্যদিকে বাইবেলে সম্পূর্ণ বিপরীত সেটা আমি আগেই প্রমাণ করেছি।কুরআন যে ইসমাঈলকেই(আ) কুরবাণী করার কথা বলে এই বিষয়টা আমি এ লেখায় নিয়ে আসব না যেহেতু আমার মূল লেখা "বাইবেল" কে নিয়ে।কিন্তু কেউ যদি দ্বিধাবোধ করে তবে তারা এ লিঙ্কে ভিসিট করুন http://www.shodalap.org/sarker-sanjid/29515 ।এখানে আমি প্রমাণ করেছি যে ইসমাঈলকেই(আ) কুরবাণী করার কথা ছিল(কুরআনের বর্ণনা অনুসারে)

যা হোক,মূল বিষয়ে ফিরে যাওয়া যাক-বাইবেল কি ইসহাককে(আ) কুরবাণী করার কথা বলে কি না।এ প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে কোন বাইবেলের সূত্র ধরে প্রশ্নটি করা হয়েছে।যদি আমরা বর্তমানের বিকৃত বাইবেলের কথা বলি তবে হ্যাঁ, তা ইসহাককেই(আ) কুরবাণী করার কথা বলে।কিন্তু যদি ঈশ্বরের নাযিলকৃত অবিকৃত বাণীর কথা বলি তবে না,তা ইসহাককে(আ) নির্দেশ করে না।

প্রমাণ? সেটা ত একই বিকৃত বাইবেলেই।বাইবেল এই ঘটনাটির বর্ণনা দেয় এইভাবে-

He said, “Take your son, your only son Isaac, whom you love, and go to the land of Moriah, and offer him there as a burnt offering on one of the mountains of which I shall tell you.” – [Genesis 22:2]

বাইবেল অনুসারে ইসমাঈল(আ) ইব্রাহিম(আ) এর প্রথম সন্তান।তাঁর বেশ কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর ইসহাক(আ) জন্মগ্রহণ করেন।সুতরাং ইসমাঈলই(আ) ছিল ইব্রাহিমের(আ) একমাত্র সন্তান।তাই যখন বাইবেল বলে "your only son" তখন সেটা ইসমাঈলকেই(আ) নির্দেশ করে।মানবস্পর্শে এসে নামের পরিবর্তন ঘটলেও মূল অংশে ঠিকই ইসমাঈল(আ) এর নাম পরিবর্তন হয় নি।হিব্রুতে "only" বা "একমাত্র" বোঝাতে "ইয়াওখিদ" বা "yachyid"(pronunciation:yaw-kheed) ব্যবহৃত হয় (defined by 'Brown-Driver-Briggs')।যার অর্থ 'only,one,solitary,unique and only begotten son'।Begotten son তাকেই নির্দেশ করে যার বাবা তার মায়ের সাথে সঙ্গম করার ফলে উক্ত সন্তানটির জন্ম হয়েছে।উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি কাউকে "Begotten Son" বলেন তবে তার অর্থ এই যে Biologically আপনি তার বাবা/মা এবং আপনি তার বাবা/মা এর সাথে সঙ্গম করেছেন।আশা করি বিষয়টি বোধগম্য হয়েছে।এই কথাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে স্বয়ং বাইবেলও ইসমাঈলকেই(আ) নির্দেশ করছে।লক্ষ্য করি যে বাইবেল ইব্রাহিমের(আ) একমাত্র সন্তানকে কুরবাণী করার কথা বলছে যা ইসমাঈলকেই(আ) নির্দেশ করে।যদি বাইবেল ইব্রাহিমের(আ) স্ত্রী সাহরাহর একমাত্র সন্তানের কথা বলত তাহলে মিশনারীদের দাবীটা অন্তত হাস্যকর মনে হত না।অবশ্য মিশনারীরা কখনোই এটা মানবে না এবং বলবে যে হাজেরা ইব্রাহিমের(আ) স্ত্রী ছিল না এবং শুধু একজন সহবাসী ছিল(নাউযুবিল্লাহ)।অবশ্য বাইবেল ঠিকই হাজেরাকে ইব্রাহিমের(আ) স্ত্রী বলে।দেখা যাক বাইবেল কি বলে ইব্রাহিম(আ) আর হাজেরার সম্পর্কে-

And Sarai, Abraham's wife, took her slave-girl, Hagar, the Egyptian, and gave her to her husband Abraham to be his wife – [Genesis 16:3]

দ্রষ্টব্য যে,হাজেরাকে দেওয়া হয়েছিল ইব্রাহিমের(আ) স্ত্রী হওয়ার জন্য।এখানে হিব্রু শব্দ 'ইশষো' বা 'ishshaoh'(pronounced:ish-shaw),“Brown-Driver-Briggs’ Hebrew Definitions” অনুসারে এই শব্দটির অর্থ দেয়া হয়েছে এভাবে- Woman, wife, female, woman (opposite of man), wife (woman married to a man), female (of animals), each/every (pronoun)।সুতরাং দেখা যাচ্ছে,এ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ "স্ত্রী/পত্নী/wife" অন্য কোনো অর্থ না যা মিশনারীরা সাধারণ মানুষদের বিভ্রান্ত করতে ব্যবহার করে।সুতরাং,হাজেরা ইব্রাহিমের(আ) স্ত্রী ছিল না এবং ইসমাঈলকে(আ) জারজ সন্তান বলাটা মিথ্যা,বানোয়াট,অযৌক্তিক এবং আষাঢ়ে গল্প ছাড়া কিছুই না।“Matthew Henry’s Commentary on the Whole Bible” দেখা যাক,বাইবেলের এই বিখ্যাত ব্যাখ্যাকর ইব্রাহিম(আ) ও হাজেরার সম্পর্কের ব্যাপারে কি বলে-

We have here the marriage of Abram to Hagar, who was his secondary wife. Herein, though some excuse may be made for him, he cannot be justified, for from the beginning it was not so; and, when it was so, it seems to have proceeded from an irregular desire to build up families for the speedier peopling of the world and the church

কিংবা “Adam Clarke’s Commentary on the Bible” দেখা যাক-

And Sarai, Abram’s wife, took Hagar – and gave her to her husband – to be his wife – There are instances of Hindoo women, when barren, consenting to their husbands marrying a second wife for the sake of children; and second marriages on this account, without consent, are very common.

এর মাধ্যমে ইব্রাহিম(আ) আর হাজেরার মধ্যে সম্পর্ক সম্পষ্ট হয়ে ওঠে।বোঝা যায়,সত্যিই হাজেরা বৈধ স্ত্রী এবং ইসমাঈল(আ) বৈধ পুত্র ছিল।কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায়,ইসমাঈলই(আ) ইব্রাহিমের(আ)একমাত্র সন্তান তথা "the only begotten son" ছিল ইসহাকের(আ) জন্মের পূর্বে।সুতরাং এ কথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে Genesis 22:2 এ ইসহাকের(আ) নাম আসার কারণ বাইবেলের বিকৃতি।আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করা যাক যেখানে মিশনারীরা 'ইশষো' বা 'ishshaoh'(pronounced:ish-shaw) শব্দটিকে "সহবাসী" বা "উপপত্নী" হিসেবে উল্লেখ করে,সেখানে বাইবেলের কোথাও এ শব্দটির এমন অর্থ পাওয়া যায় না।মিশনারীরা এটা ব্যবহার করে অসহায়ত্বের কারণে এবং সম্মান বাঁচাতে।

সাধারণত,খ্রিষ্টানরা দাবী করে বাইবেল অনুসারে সাহরাহ ইব্রাহিমের(আ) বৈধ স্ত্রী।অবশ্য বাইবেল সম্পূর্ণ বিপরীতটাই বলে।

Genesis এর ১২ অধ্যায়,ইব্রাহিম(আ) এবং সাহরাহ মিশরে যান এবং সেখানে গিয়ে ভয় পান যদি মিশরের অধিবাসী জেনে যায় সাহরাহ তাঁর স্ত্রী তবে তারা তাঁকে মেরে ফেলবে।তাই তিনি সাহরাহকে তাঁর বোন বলে পরিচয় দিতে বলেন।এখানে দেখা যাচ্ছে ইব্রাহিম(আ) জীবন বাঁচানোর জন্য বাঁধ্য হয়ে মিথ্যা কথা বলেছেন।তাই আমি এ বিষয়ে তর্কে যাব না।যাই হোক,অদ্ভূত অংশ হচ্ছে এই যে;পরে সাহরাহকে ফেরাউনের (মিশরের বাদশাহদেরকে ফেরাউন বলা হত।সুতরাং ফেরাউন বলতে শুধু মূসা{আ} এর সময়কার ফেরাউন বোঝায় না।ফেরাউন এক ধরনের উপাধি বা Title) বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় যেখানে জেহভাহ/Jehovah(ইহুদীদের বিশ্বাস অনুসারে তাদের সৃষ্টিকর্তা) ফেরাউনের বাসায় প্লেগ-রোগ পাঠান যা ফেরাউনকেও আক্রান্ত করে।ফেরাউন পরে ইব্রাহিমকে(আ) জিজ্ঞেস করেন কেন তিনি সাহরাহকে তার(ফেরাউনের) কাছে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিলেন না।যাই হোক,ফেরাউন তাঁদের যেতে দেয় এবং তাঁরা চলে যায়।

Genesis এর ২০ অধ্যায়ে ঠিক এরকম একটি ঘটনা ঘটে।যেখানে ১২ অধ্যায়ের মত একই কারণে সাহরাহকে ইব্রাহিম(আ) নিজের বোন হিসেবে পরিচয় দেন।আবু মালেক(Abimelech) সাহরাহকে নিয়ে যায় এবং সেই রাতে আবু মালেক স্বপ্নে দেখে,সাহরাহ ইব্রাহিম(আ) এর স্ত্রী এবং তাঁকে ফেরত না দিলে আবু মালেক মারা যাবে।আবু মালেক ইব্রাহিমকে(আ) একই প্রশ্ন করে এবং ইব্রাহিমও(আ) ঠিক একই উত্তর দেন যে তিনি তাঁর জীবনরক্ষার জন্য এমন করেছিলেন।কিন্তু এবার তিনি এ কথা বলার পাশাপাশি একটি নতুন কথা যোগ করে দেন-

And yet she really is my sister, daughter of my father; only not daughter of my mother. And she became my wife. – [Genesis 20:12]

ইব্রাহিম(আ) ব্যাখ্যা করেন যে সাহরাহ তাঁর অর্ধেক বোন।তাহলে বিকৃত বাইবেলের বর্ণনা অনুসারে ইসহাককে(আ) একজন অযাচারের মাধ্যমে জন্ম হওয়া সন্তান হিসেবে নির্দেশ করে?মিশনারীরা ইসমাঈলকে(আ) অবৈধ সন্তান বলে যেখানে বাইবেল ঠিকই ইসমাঈলকে(আ) ইব্রাহিমের(আ) বৈধ সন্তান বলছে অন্যদিকে সাহরাহ এবং ইব্রাহিমের(আ) সম্পর্কের ব্যাপারে বাইবেলের বক্তব্য যেন তাদের চোখেই পড়ে না।মিশানারীদের অনুযায়ী, যদি ইসমাঈলকে(আ) ইব্রাহিমের(আ) আসল সন্তান বলা না যায়,যেহেতু তাদের মত অনুযায়ী হাজেরা ইব্রাহিমের(আ) বৈধ স্ত্রী ছিল না তবে ইসহাককেও(আ) তাঁর আসল সন্তান বলা যায় না যেহেতু তিনি অযাচারের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছেন(বিকৃত বাইবেলের বর্ণানুসারে)।এখন হয়ত মিশনারীরা এমন দাবী করবে যে,সে সময় অনুযায়ী এটা আল্লাহর কাছে বৈধ ছিল।যদি তাই হয় তবে,কিছুক্ষণের জন্য ধরে নিলাম হাজেরাকে শুধু সন্তান প্রসবের জন্য রাখা হয়েছিল; তবে কেন মিশনারীদের এটা মানতে কষ্ট হয় যে সেই সময় অনুযায়ী এই সম্পর্কটা আল্লাহর কাছে বৈধ ছিল?

যাই হোক,আমরা দেখেছি যে হাজেরা ইব্রাহিমের(আ) বৈধ স্ত্রী ছিল যা মিশনারীদের এই দাবীটিকে ধ্বংস করে দেয় যে ইসমাঈল(আ) প্রথম সন্তান হতে পারে না।নিশ্চয়ই,ইসমাঈলই(আ) ইব্রাহিমের(আ) প্রথম সন্তান এবং তাঁকেই কুরবাণী করার কথা ছিল।

ইসহাককে(আ) কুরবাণী করার ব্যাপারে বাইবেলের বক্তব্য নিয়ে পর্যালোচনা শেষ করার আগে আমার এ বিষয়ে কিছু প্রশ্ন,যুক্তি এবং পয়েণ্ট।

১) "কাকে কুরবাণী করার কথা ছিল?" এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নাকি "ঘটনাটির শিক্ষা কি?" এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ?

২)নৈতিক শিক্ষার পরীক্ষায় কি বাইবেলের বর্ণনা পাশ করে?

৩)বাইবেলের বর্ণানুসারে আমরা এ ঘটনা থেকে কোন নৈতিক শিক্ষা পাই? যদি হ্যাঁ তবে কি?

৪)বাইবেলের বর্ণানুসারে ইব্রাহিম(আ) যদি প্রথম থেকেই জানত যে আল্লাহ পশু দিবেন কুরবাণীর জন্য,তবে এটা কীভাবে তাঁর জন্য পরীক্ষাস্বরূপ হলো?

৫)যদি "৪ নং" পয়েণ্ট ঠিক না হয় এবং ইব্রাহিম(আ) ইসহাককে(আ) মিথ্যা বলেন,তবে এ মিথ্যা বলার কারণ কি? তাহলে কি বাইবেলের বর্ণানুসারে ইসহাক(আ) আল্লাহর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণ করত না? তাহলে কেনই বা ইব্রাহিম(আ) মিথ্যা বললেন?

৬)নৈতিক শিক্ষার আদালতে কোন বর্ণনা উচ্চতর? কুরআন নাকি বাইবেল?

৭)বাইবেলের বর্ণানুসারে সাহরাহই ইব্রাহিম(আ) এর হাজিরার বিয়ে দেন।যা বাইবেলে স্পষ্ট।তবে ইসমাঈলকে(আ) প্রথম বৈধ সন্তান বলা যাবে না কেন?

৮)ইসমাঈল(আ) যদি উপপত্নীর সন্তান হওয়ার জন্য "প্রথম বৈধ সন্তান" না হতে পারে তবে অযাচারের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া ইসহাক(আ) (বাইবেলের বর্ণানুসারে) কীভাবে "প্রথম বৈধ সন্তান হয়" ?

৯) সেই সময় অনুযায়ী যদি ইব্রাহিম(আ) আর সাহরাহর বিয়ে এবং সন্তান বৈধ হতে পারে তবে হাজেরা আর ইব্রাহিমের(আ) বিয়ে এবং সন্তান বৈধ হতে পারবে না কেন?

১০) যদি ধরেও নেই যে সময় অনুসারে ইব্রাহিম(আ) আর সাহরাহর বিয়ে বৈধ হলেও হাজেরার বিয়ে বৈধ না,তবে কি ইব্রাহিম(আ) পাপী হন না?

১১) যদি হাজেরা এবং ইব্রাহিম(আ) এর বিয়ে অবৈধ হয় এবং ইব্রাহিম(আ) পাপী হন তবে বাইবেলে কোথায় তাঁদের বিয়েকে অবৈধ বলা হয়েছে?

১২)যদি সে সময় সাহরাহর এবং ইব্রাহিমের(আ) এর বিয়ে বৈধ হয়,তবে বাইবেল কোথায় সেটা ঘোষণা করে?

১৩)বাইবেল অনুসারে যদি ইব্রাহিম(আ) পাপী না হন এবং যদি হাজেরা তাঁর বৈধ স্ত্রী হয়ে থাকে এবং ইসমাঈল(আ) বৈধ সন্তান হয়ে থাকে তবে কীভাবে ইব্রাহিমের(আ) একমাত্র সন্তান ইসহাক(আ) হয়?

১৪)ইসহাক(আ) যদি একমাত্র সন্তান না হয়(Logically,literally and biologically) তবে কাকে কুরবাণী করার কথা?

১৫)যেহেতু বাইবেলের বর্ণানুসারে ইব্রাহিম(আ) আগে থেকেই জানত ঈশ্বর কুরবাণী করার জন্য পশু দিবেন তাহলে এখানে কুরবাণীর ঘটনাটাই নেই।অন্যদিকে কুরআন স্পষ্টভাবে ইব্রাহিম(আ) এর স্বপ্নের কথা বলছে এবং তা ইসমাঈলকে(আ) জানানোর কথাও বলছে।

১৬)বাইবেলে আল্লাহর কাছে ইসহাকের(আ) আত্মসমর্পণের কথা সম্পূর্ণ অস্পষ্ট যেখানে পিতা-পুত্র উভয়ই জানত যে আল্লাহ পশু দিবেন।যা "পরীক্ষা" শব্দটির মূল মন্ত্রটিই ধ্বংস করে দেয়।অন্যদিকে কুরআনে ঘটনাটি "পরীক্ষা" শব্দটির মূল মন্ত্র বজায় রাখে।যেখানে কিনা পিতা পুত্রকে কুরবাণী করার কথা জানায় এবং পুত্রও রাজি হয়ে যায়।পরিশেষে আল্লাহ তাঁদেরকে পরীক্ষার বিষয়টি জানান।

বিঃদ্রঃ আমি একটা বিষয়ে পরিষ্কার করতে চাই যে আমি ইব্রাহিম(আ),ইসহাক(আ) ও ইসমাঈল(আ) কে ভালোবাসি এবং আমি বিশ্বাস করি না যে বাইবেল ঈশ্বরের বাণী।সুতরাং বাইবেলের যে তথ্যগুলো দিলাম সে অনুসারে কিন্তু ইব্রাহিম(আ),ইসহাক(আ) ও ইসমাঈল(আ) এর বিষয়গুলো একজন মুসলিম অনুযায়ী সম্পূর্ণ বানোয়াট।যেহেতু এটি একটি বিকৃত কিত্বাব।তাই এসব তথ্যের উপর আমি ঈমান আনি না।তবে যেকোনো ইসলাম বিদ্বেষীর জন্য এ বিষয়গুলো মানতে বাধ্য।

৬ comments

Skip to comment form

  1. 4
    BN TIPS BLOG

    লেখাটা অসাধারণ হইছে ।এ নিয়ে শাহবাজ নজরুল নামক একজন লিখকের কয়েকটা সিরিজ পড়ছিলাম সেই সিরিজ গুলায় পাই পাই কইরা বিশ্লেষন করা হইছে আপনি যদি এর সাথে আরো তথ্য যোগ আরো কিছু জানতে পারতাম।ধন্যবাদ এটাও খারাপ হয়নাই ।

  2. 3
    শাহবাজ নজরুল

    এ বিষয়েই মুক্তমনার বিশেষজ্ঞ(?) লেখক, জনাব 'ভবঘুরে' ইসহাক (আ.) কেই যে কোরবানী দেয়া হয়েছিল তা নিয়ে সত্য-মিথ্যার মিশেল দিয়ে জগাখিচুড়ি মার্কা একটা পোষ্ট দেয়। তার জবাবে আমিও ৩ পর্বের একটা সিরিজ লিখেছিলাম। দেখা যেতে  পারে। 

    পর্ব -- ১, পর্ব -২ , পর্ব -৩  

    1. 3.1
      সরকার সানজিদ আদভান

      আমি আপনার লেখার নিয়মিত পাঠ্ক ভাই।এটা পড়া হয় নি।ইনশাল্লাহ সময় হলে পড়বো।

  3. 2
    শাহবাজ নজরুল

    এই বিষয়ে বেশ ক'বছর আগে একটা বিশ্লেষনধর্মী লেখা দিয়েছিলাম --  আপনার পড়া হয়েছে কিনা জানিনা। নানা সূত্রের বিবরণ, প্রমান থেকে এটা মোটামুটি পরিষ্কার যে, ইসহাক (আ.) কে কোরবানী দেয়া হয়েছিল -- এই অংশটুকু বাইবেলে অনেক পরে জোর করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। আর এজন্যেই বাইবেলে কাকে কোরবানী দেয়া হয়েছিল -- তা'নিয়ে অনেক অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

    http://www.shodalap.org/snazrul/803/

     

     

    1. 2.1
      সরকার সানজিদ আদভান

      ধন্যবাদ ভাই,আমি আপনার এ লেখাটা পড়েছি

  4. 1
    Shahriar

    Jajak-allah

Leave a Reply

Your email address will not be published.