«

»

Dec ১৫

বিয়ে,হিল্লা বিয়ে এবং ব্যভিচারের শাস্তি

এই প্রবন্ধের বিভাগসমূহ-

১। ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে

২। হিল্লা বিয়ে

৩। ব্যভিচারের শাস্তি

 

 

১। ইসলামের দৃষ্টিতে বিয়ে

 

ইসলামে বিয়ে নারী-পুরুষের মধ্যে পবিত্র মিলনকে বোঝায়।বিয়ের মাধ্যমে মানুষ দায়িত্বশীল হয়,অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকে ইত্যাদি মহৎ গুণ নিজের মধ্যে সঞ্চার করে।আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা বলেন,

"And among God's signs is this:  He created for you mates from amongst yourselves (males as mates for females and vice versa) that you might find tranquility and peace in them.  And he has put love and kindness among you.  Herein surely are signs for those who reflect.(Sura Rum,30:21)
 

 

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে করা চুক্তি(বিয়ে) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ( ﺎﻈﻴﻠﻏ ﺎﻗﺎﺜﻴﻣ) যেমন আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা বলেন,

"And how could ye take it when ye have gone in unto each other, and they have Taken from you a solemn covenant?"(Sura Nisa,4:21)
 

Arabic Translation

ﻰﻀﻓﺍ ﺪﻗﻭ ﻪﻧﻭﺬﺧﺎﺗ ﻒﻴﻛﻭ
ﻢﻜﻨﻣ ﻥﺬﺧﺍﻭ ﺾﻌﺑ ﻰﻟﺍ ﻢﻜﻀﻌﺑ
ﺎﻈﻴﻠﻏ ﺎﻗﺎﺜﻴﻣ

 

পবিত্র কুরআনে ﺎﻈﻴﻠﻏ ﺎﻗﺎﺜﻴﻣ শব্দটি তিনবার ব্যবহৃত হয়েছে। Sura Nisa,4:21,Sura Nisa,4:154 এবং Sura Ahzab,33:7 আয়াতে শব্দটি পাওয়া যায়।Sura Nisa,4:154 আয়াতটি দেখা যাক,

"And for their covenant we raised over them (the towering height) of Mount (Sinai); and (on another occasion) we said: "Enter the gate with humility"; and (once again) we commanded them: "Transgress not in the matter of the sabbath." And we took from them a solemn covenant"(Sura Nisa,4:154)

Arabic Translation

ﻢﻬﻗﺎﺜﻴﻤﺑ ﺭﻮﻄﻟﺍ ﻢﻬﻗﻮﻓ ﺎﻨﻌﻓﺭﻭ
ﻢﻬﻟ ﺎﻨﻠﻗﻭ ﺍﺪﺠﺳ ﺏﺎﺒﻟﺍ ﺍﻮﻠﺧﺩﺍ ﻢﻬﻟ ﺎﻨﻠﻗﻭ
ﻢﻬﻨﻣ ﺎﻧﺬﺧﺍﻭ ﺖﺒﺴﻟﺍ ﻲﻓ ﺍﻭﺪﻌﺗﻻ
ﺎﻈﻴﻠﻏ ﺎﻗﺎﺜﻴﻣ
 

আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার ইহুদীদের সাথে সাব্বাতের চুক্তিও  ﺎﻈﻴﻠﻏ ﺎﻗﺎﺜﻴﻣ।এই চুক্তিটি আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার কাছে অত্যন্ত পবিত্র,শক্তিশালী এবং গুরুত্বপূর্ণ ছিল ।তাই রসূল মূসার(আ) কিছু অনুসারী যখন ইচ্ছা করে এ চুক্তি ভেঙে সীমা লঙ্ঘন করে, আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা শাস্তিস্বরূপ তাদের বানর ও শূকরে পরিবর্তন করে দেয়।
 

"And well ye knew those amongst you who transgressed in the matter of the Sabbath: We said to them: "Be ye apes, despised and rejected."(Sura Baqara,2:65)

"Say: "Shall I point out to you something much worse than this, (as judged) by the treatment it received from God? those who incurred the curse of God and His wrath, those of whom some He transformed into apes and swine, those who worshipped evil;- these are (many times) worse in rank, and far more astray from the even path!"(Sura Maidah,5:60)

 

Sura Ahzab,33:7 আয়াতটি দেখা যাক,

" And remember We took from the prophets their covenant: As (We did) from thee: from Noah, Abraham, Moses, and Jesus the son of Mary: We took from them a solemn covenant"(Sura Ahzab,33:7)
 

Arabic Translation

ﻢﻬﻗﺎﺜﻴﻣ ﻦﻴﻴﺒﻨﻟﺍ ﻦﻣ ﺎﻧﺬﺧﺍ ﺫﺍﻭ
ﻰﺳﻮﻣﻭ ﻢﻴﻫﺍﺮﺑﺍﻭ ﺡﻮﻧ ﻦﻣﻭ ﻚﻨﻣﻭ
ﻢﻬﻨﻣ ﺎﻧﺬﺧﺍﻭ ﻢﻳﺮﻣ ﻦﺑﺍ ﻰﺴﻴﻋﻭ
ﺎﻈﻴﻠﻏ ﺎﻗﺎﺜﻴﻣ

 

আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার সাথে নবী-রসূলদের করা চুক্তিও ﺎﻈﻴﻠﻏ ﺎﻗﺎﺜﻴﻣ।এই চুক্তিও আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র।যেহেতু বিয়েও আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার কাছে ﺎﻈﻴﻠﻏ ﺎﻗﺎﺜﻴﻣ।তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই বিয়ে আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার দৃষ্টিতে কতটা পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

২। হিল্লা বিয়ে

 

প্রথমত,ইসলামে 'হিল্লা বিয়ে' বলতে সহীহ হাদিসে বা পবিত্র কুরআনে আদৌ কিছু আছে কি না এ নিয়ে আমার বেশ সন্দেহ।সরাসরি যদি সংজ্ঞা দেই তবে হিল্লা বিয়ে বলতে,"পূর্বে তালাকপ্রাপ্ত স্বামীর কাছে ফিরে যেতে হলে নতুন স্বামীর সাথে বিয়েকে হিল্লা বিয়ে বলে।হিল্লা বিয়ের কথা আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা Sura Baqara,2:230 তে উল্লেখ করেছেন।আপাত দৃষ্টিতে বিষয়টি অদ্ভূত মনে হলেও তীক্ষ্ণ বিবেচনার মাধ্যমে বিষয়টি মোটেই অযৌক্তিক/অমানবিক নয়।

'১' বিভাগে দেখানো হয়েছে ইসলামে বিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র।আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা সাব্বাতের চুক্তি,নবী-রসূলদের চুক্তি এবং বিয়ের চুক্তিকে বোঝানোর জন্য একই শব্দ ব্যবহার করেছেন যার মাধ্যমে বোঝা যায় বিয়ের গুরুত্ব ঠিক কতটুকু।তাই আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার কাছে বিয়ে মোটেই কোনো সামান্য বিষয় নয় যেমনটা বর্তমান যুগে মানুষের মধ্যে দেখা যায়।যেরকম চুক্তি ছেলে-খেলা মনে করে ভেঙে ফেলার জন্য আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা ইহুদীদের এতো বড় শাস্তি দিয়েছেন সেখানে বিয়েকে ছেলে-খেলা মনে করে তা চরিতার্থ করলে অবশ্যই কিছু শাস্তি ত থাকবেই।যারা বিয়েকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তাদের জন্য Sura Baqara,2:230 আয়াতটি বার্তাস্বরূপ এবং যারা বিয়েকে ছেলে-খেলা মনে করেন তাদের জন্য বিষয়টি শাস্তিস্বরূপ।এক কথায় কোনো সচেতন,বিবেকবান মানুষের জন্য কখনোই হিল্লা বিয়ের প্রয়োজন হবে না ইনশাল্লাহ।কারণ ইসলামে তালাক দেয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়ম পালন করতে হয় Sura Baqarah,2:292-232 ।বিয়ের পূর্বে পুনর্মিলনের জন্য তাগাদা Sura Nisa 4:35। এক কথায় তালাকও তীক্ষ্ণ বিবেচনা করে দেয়া হয় যদি সম্পূর্ণ ইসলামী নীতি অনুসারে তালাক দেয়া হয়।এক কথায় এসব নীতি যদি সত্যি অবলম্বন করা হলেও তালাক দেয়ার প্রয়োজন হয় তবে বোঝা যায় উক্ত বৈবাহিক দম্পত্তির সাথে থাকা আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়।তাই উক্ত স্বামী-স্ত্রী নিজেদের জন্য হারাম হয়ে যায়।যেহেতু তারা দুজন দুজনের জন্য হারাম তাই তারা নিজেরা ব্যতীত নতুন জীবন শুরু করতে পারে।এর মানে এই না তালাকপ্রাপ্ত নারীকে জোর করে বিয়ে দেয়া হবে।তালাকপ্রাপ্ত নারী ইচ্ছা করলে অন্য যেকোনো পুরুষের সাথে বৈবাহিক জীবন শুরু করতে পারে।কিন্তু যদি উক্ত নারী-পুরুষ আবার বিয়ে করতে চায় তাহলে বোঝাই যায় তারা ছেলে-খেলা করে নিজেদের তালাক দিয়েছে।ইসলামে বিয়ে ত আর কোনো ছেলে-খেলা না যে যখন চাইলাম তালাক দিলাম আর যখন চাইলাম আবার বিয়ে করলাম।আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার কাছে বিয়ে হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি।এতো গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে ছেলে-খেলা করবে আর কোনো শাস্তি থাকবে না এটা ভাবাটা হাস্যকর।মূলত বিয়ে এবং তালাকের প্রতি মানুষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার জন্যই বোধহয় আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা Sura Baqara,2:230 নাযিল করেছেন।যারা বিয়েকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করবে তাদের কাছে আয়াতটি বার্তাস্বরূপ আর যারা করে না তাদের জন্য শাস্তিস্বরূপ।কোনো মানুষ যদি বিয়েকে দায়িত্বহীনভাবে পালন করে তবে তাদের জন্যই Sura Baqara,2:230 আয়াতটি আপত্তিকর মনে হবে।কিন্তু যারা বিবেকবান তাদের এ আয়াতে কোনোই আপত্তি থাকার কথা নয়।উক্ত আয়াতটি আমাদের এ শিক্ষাও দেয়া যে বিয়ের আগেও বিবেচনা করা উচিৎ এবং তালাকের সময়ও বিবেচনা করা উচিৎ।তালাক দেয়ার পরও চার মাস সময় তাদের থাকে পুনর্মিলনের জন্য তাছাড়া তালাক দেয়ার আগে সর্বোচ্চ যে কাজটি করা হয় তা হলো স্ত্রীকে মায়ের বাসায় পাঠিয়ে দেয়া বা স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকা,আবার পুনর্মিলনের জন্য স্বামী-স্ত্রীর পরিবারের আলোচনা ইত্যাদি ইসলামিক নীতি অনুসরণের পরও যদি তালাকের প্রয়োজন হয় তবে যদি তারা সচেতন হয়ে থাকে Sura Baqara,2:230 নিয়ে তাদের ভাবতে হবে না।আর খাম-খেয়ালি করে বিয়েকে মূল্যহীন মনে করে তালাক দিলে নতুন বিয়ের মাধ্যমে পূর্ব স্বামীর কাছে ফিরে যেতে হবে যদি উক্ত নারী-পুরুষ পুনর্বিবাহের ইচ্ছাপোষণ করে।এটা তাদের জন্য শাস্তিস্বরূপ।আর যেমনটা আমি আগে বলেছি,"কোনো সচেতন মানুষ হলে তার কখনোই হিল্লা বিয়ের প্রয়োজন হবে না" কারণ Sura Baqara,2:230 নিয়মটি বিয়ের আগে,পরে এবং প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে মানুষকে বিয়ের গুরুত্ব বোঝাতে চরম শিক্ষা দেয়।কারণ আপনার কাছে হয়ত বিয়ে ছেলে-খেলা কিন্তু আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার কাছে বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি।

 

 

৩। ব্যভিচারের শাস্তি

 

যেহেতু আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার দৃষ্টিতে বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কারণেই ইসলামে অবিবাহিত ব্যভিচারীদের শাস্তি ১০০টি কশাঘাত এবং বিবাহতদের জন্য পাথ ছুঁড়ে মৃত্যুদন্ড।

"The woman and the man guilty of zina (adultery or fornication),- flog each of them with a hundred stripes: Let not compassion move you in their case, in a matter prescribed by God, if ye believe in God and the Last Day: and let a party of the Believers witness their punishment."(Sura Nur,24:2)

Narrated Jabir bin Abdullah Al-Ansari: "A man from the tribe of Bani Aslam came to Allah's Apostle and Informed him that he had committed illegal sexual intercourse and bore witness four times against himself. Allah's Apostle ordered him to be stoned to death as he was a married Person."(Sahih Bukhari,8:82:805)

কিছু মুসলিম বিশ্বাস করে Sura Nur,24:2 আয়াতটি Sahih Bukhari,8:82:805 এর পাথর মেরে মৃত্যুদন্ডের হাদিসকে বাতিল করে দিয়েছে।একাংশ মুসলিম বিশ্বাস করে যে উক্ত আইনটি তালমুদের(বাইবেলের পুরাতন আইন/তাওরাহ/রসূল মূসার(আ) কাছে পাঠানো আইন) আইন থেকে ধার নেয়া হয়েছে মূলত তখন,যখন কুরআনের সব আয়াত নাযিল হয় নি।তাই এক কথায়,এই আইনটি মূলত তালমুদ থেকে ধার করা হয়েছে।কারণ কোনো বিষয়ে অজ্ঞ থাকলে আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা পূর্বের আইন অনুসরণ করতে বলেছেন।

"And before thee also the messengers We sent were but men,to whom,We granted inspiration: If ye realise this not,ask of those who possess the message."(Sura Nahl,16:43)

 

অবশ্য একাংশ মুসলিম একথাও বিশ্বাস করে Sahih Bukhari,8:82:805 হাদিসটি এখনও আছে এবং Sura Nur,24:2 শুধু অবিবাহিতদের নির্দেশ করে।কিন্তু যে যাই বিশ্বাস করুক,ইসলামে বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি।এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই।

ইসলামে,ইসলামিক আদালত বা রাষ্ট্র রায় কার্যকর করে কোনো ব্যক্তি না।তাই আপনি যদি ব্যভিচারের শিকার হন বা অন্য কেউ যা আপনার জানা আছে তবে আপনার কোনো অধিকার নেই আপনার স্ত্রী বা কাউকে শাস্তি দেয়ার।এরূপ করলে আপনার নিজের উপর চরম দায়ভার নিতে হবে।

পাঠকদের সঠিক বোধগম্যের জন্য আমি নিজের অবস্থানটি তুলে ধরছি।

যেহেতু উভয় পক্ষেরই বেশ শক্ত অবস্থান আছে তাই দয়া,ন্যায়বিচার এবং সন্দেহকে গুরুত্ব দেয়ার খাতিরে আমি ১০০ কশাঘাতের পক্ষপাতিত্ব;সেখানে ব্যভিচারি বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত।আমি একজন নিরপরাধ মানুষকে শাস্তি দেয়ার চেয়ে একজন অপরাধী মানুষকে মুক্তি দিব।এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। যদিও ১০০ কশাঘাতের পক্ষপাতিত্ব করার পিছনেও বেশ কিছু কারণ আছে। রজম/পাথর মেরে মৃত্যুদন্ড দেয়ার হাদিসগুলো যাচাই করা যাক।

Narrated Jabir bin Abdullah Al-Ansari: "A man from the tribe of Bani Aslam came to Allah's Apostle and Informed him that he had committed illegal sexual intercourse and bore witness four times against himself. Allah's Apostle ordered him to be stoned to death as he was a married Person." (Sahih Bukhari,8:82:805)
 

হাদিসটি খেয়াল করুন।

১।লোকটি ব্যভিচার করেছে

২।লোকটি বিবাহিত

৩।লোকটি চারজন সাক্ষী এনেছে

৪। লোকটি নিজে আত্মসমর্পণ করেছে

ঘটনাটি অতিরিক্ত কাকতালীয় হয়ে গেল না? মনে হচ্ছে যেন ঘটনাটির প্রকৃত লেখক কীভাবে লোকটিকে শাস্তি দেয়া যায় এ নিয়ে ব্যস্ত।তার মধ্যে কীভাবে সবগুলো বৈশিষ্ট্য থাকে এটাও একটা বড় প্রশ্ন।পাঠক,একবার নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে চিন্তা করুন,"একজন বিবাহিত লোক অন্য নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে।এরপর সে নিজে তার দোষ স্বীকার করেছে।এতোকিছুর মধ্যে দিয়ে সে চারজন সাক্ষীও পেশ করেছে।"

রজমের শাস্তি নিয়ে যতগুলো হাদিস রয়েছে এসব হাদিসগুলোতেই অন্তঃসারশূন্যতা দেখা যায়।যেহেতু উপরের হাদিসটি অতিরিক্ত কাকতালীয় হলেও মিথ্যা বলা যায় না তাই আমার মনে হয় রজম নিয়ে হাদিস পর্যালোচনা অবিরত থাকা উচিৎ।হাদিসটি দেখা যাক।

Narrated ‘Amru bin Maimun: "During the pre-lslamic period of ignorance I saw a she-monkey surrounded by a number of monkeys. They were all stoning it, because it had committed illegal sexual intercourse. I too, stoned it along with them(Sahih Bukhari,5:58:188)

১। ঘটনাটি কেন হাদিসগ্রন্থে এসেছে সেটাই আমি বুঝতে পারছি না।এখানে রসূল মুহাম্মদের(স) কোনো ভূমিকাই নেই।অথচ হাদিসের সংজ্ঞাই হচ্ছে যা রসূল মুহাম্মদ(স) বলেছেন,অনুমোদন দিয়েছেন ইত্যাদি।

২।উক্ত স্ত্রী বানরটিকে কেন পুরুষ বানরগুলো পাথর মারছিল এ বিষয়টি বর্ণনাকারী কীভাবে জানল?

৩।বানরের আবার অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক বলতে কি বোঝানো হচ্ছে? বানরেরও আবার বিয়ে হয় নাকি?

৪। ঘটনাটি পর্যালোচনার পর্যায়ই যায় না।কারণ ঘটনাটিকে মিথ্যাপ্রমাণই করা লাগে না।

আমি জানি না রজমের শাস্তির বিপক্ষে এর চেয়ে ভালো সূত্র আর আছে কিনা।নিম্নের হাদিসটি স্পষ্টপ্রমাণ করে যে রজম আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার নাযিলকৃত শেষ বাণী,পবিত্র কুরআনের অংশ না।

Hadhrath Umar during his last Hajj as Khalifa:  "Certainly GOD sent Muhammad with the truth, and revealed to him the Book. One of the revelations which came to him was the verse of  stoning. We read it and understood it. The Messenger of GOD stoned and we stoned after him. I am concerned that if time goes on, someone may say, 'By GOD, we do not find the verse of stoning in the Book of GOD;' thus, the Muslims will deviate by neglecting a commandment the Almighty revealed.Stoning is in the Book of GOD. It is the right punishment for a  person who commits adultery if the required witnesses are available,  or there was pregnancy without marriage or adultery is admitted.When the verses "Rajm" [Stoning] and ayah "Rezah Kabir" descended,  they were written on a piece of paper and kept under my pillow. Following the demise of Prophet Muhammad (S) a goat ate the piece of paper while we were mourning.(Sahih Bukhari;Volume 8, pages 209-210, translation by Dr Muhammad Muhsin Khan)

যে হাদিস কুরআনের বিরোধীতা করে সে হাদিস সম্পূর্ণ জাল।এটা হচ্ছে হাদিসের সহীত্ব বিবেচনা করার সর্বপ্রথম ধাপ।যাই হোক না কেন,বর্ণনাকারী যতোই নির্ভরযোগ্য হোক না কেন কুরআনের বিরোধীতা হলে সেই হাদিস কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।এই হাদিস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করাটাই অযৌক্তিক।কেউ যদি এই হাদিস বিশ্বাসও করে তবে তাকে কিছুই বলার নেই।আমি বলব যার বিশ্বাস কুরআনের বিরুদ্ধে যায় তাকে এই হাদিস নিয়ে বিতর্ক না করে ইসলামের দাওয়াত দেয়া উচিৎ।

পাঠক আপনারাই বিচার করুন।রজমের শাস্তি ইসলামের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়ার জন্য কতটা Desperate হয়ে এসব বানোয়াট হাদিস রচনা করা হয়েছে এটা কল্পনাও করা যায় না।যেসব সাহাবীদের মাধ্যমে রজমের ঘটনাগুলো বর্ণিত তাঁদের নিয়ে গভীর গবেষণা করার প্রয়োজন,কে জানে আরও কত কি বের হতে পারে? যদিও যারা কুরআনের বিরুদ্ধে যেতে পারে তাদের পক্ষে সাহাবীদের নিয়ে মিথ্যাচার করাটা তেমন কঠিন কোনো কাজ না।এখানে আমি নির্দিষ্টভাবে কারো উপর আরোপ করছি না।আমি শুধু এতটুকুই বলছি এই হাদিসগুলো বিশদ গবেষণা করা উচিৎ,ইতিহাস ঘাটা উচিৎ ইত্যাদি এবং বের করা উচিৎ হাদিসে এতো মারাত্মক বক্তব্য কীভাবে আসল।আল্লাহই ভালো জানেন আরও কত রহস্য আছে।

যদি ঘটনাগুলো সত্য হয় তবে?

অনেক মানুষ প্রশ্ন করে,"ঠিক আছে মানলাম Sahih Bukhari;Volume 8, pages 209-210, translation by Dr Muhammad Muhsin Khan,Sahih Bukhari,5:58:188 হাদিস বানোয়াট তবে এর জন্য কেন একই বিষয়ের হাদিস বাদ পড়বে? Sahih Bukhari,8:82:805 এবং সাহাবা মায়াজের(র) ঘটনা সম্পর্কে কি বলবেন?

জবাবঃ
রজমের যতগুলো হাদিস আছে প্রতিটি হাদিসেই কোনো না কোনো অন্তঃসারশূন্যতা দেখতে পারবেন।আমি আগেই Sahih Bukhari,8:82:805 এর অন্তঃসারশূন্যতা দেখিয়েছি।সাহাবা মায়াজের(র) ঘটনার দুটি সমস্যা দেখা যায়-

১।হাদিসটি বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ মিলে একটি বড় হাদিস।অর্থাৎ একেকটি বই থেকে ঘটনাটি নেয়া।সরাসারি বর্ণনা কোথাও নেই।

২। সাহাবা মায়াজ(র) অপরাধ করার পর স্বীকার করেন কিন্তু ঘটনার বর্ণনানুসারে তিনি একাধারে কয়েকজনের কাছে পূর্বে কোনো ব্যক্তির কাছে বিষয়টি জানানোর ব্যাপারটি সম্পর্কে মিথ্যা বলেন।

ঘটনাটি জানতে এবং সূত্রসমূহ দেখতে এই লিঙ্কে যান http://www.shodalap.org/bngsadat/17255/

তবুও তর্কের খাতিরে মেনে নিলাম Sahih Bukhari,8:82:805 এবং সাহাবা মায়াজের(র) ঘটনা সত্য।

আমি প্রথমেও এই শাস্তির কথা স্বীকার করেছি যে কুরআনের সব আইন যখন সম্পূর্ণ নাযিল হয় নি তখন তালমুদের শাস্তি থেকে আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা ধার করার অনুমোদন দিয়েছেন।কিন্তু আবারও ইসলামে বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী চুক্তি এবং আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার কাছে খুব পবিত্র।শক্তিশালী এবং গুরত্বপূর্ণ চুক্তির জন্য বিবাহিত ব্যভিচারী ব্যক্তির উপযুক্ত শাস্তি পাথর মেরে মৃত্যুদন্ড যেখানে তালমুদও তা অনুমোদন দেয় Deuteronomy 22:22 ।কিন্তু আবারও আমরা ইহুদী না এবং ইহুদীদের আইন আমাদের জন্য প্রযোজ্য না।কুরআনের আইন সম্পূর্ণ আলাদা এবং তাই হয়তবা আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা কখনোই ব্যভিচারের শাস্তি কুরআনে মৃত্যুদন্ড দেননি।ইসলামের আইন ভিন্ন।হ্যাঁ হাদিস বলে পাথর মেরে মৃত্যুদন্ড দিতে কিন্তু পবিত্র কুরআন তা বলে না।এবং পবিত্র কুরআন সব মিথ্যাপ্রমাণ করে দেয়।কারণ,

"This is the book of which there is no doubt for those who fear God"(Sura Baqara,2:2)

কোনো হাদিস কুরআনকে মিথ্যাপ্রমাণ করে না।এ কারণেই আমি ১০০ কশাঘাত শাস্তির পক্ষে কারণ এটি কুরআন থেকে।আমি যেভাবে বিষয়টা দেখিঃ আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা চাইলে আদেশটি পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করতেন।কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাদিস কুরআনের ব্যাখ্যা দেয়।উদাহরণস্বরূপ কুরআন নামাজ পড়ার আদেশ দেয় এবং হাদিস নামাজ কীভাবে পড়তে হয় তার ব্যাখ্যা দেয়।কিন্তু তা কখনোই পবিত্র কুরআনকে মিথ্যাপ্রমাণ করে না।পাথর মেরে মৃত্যুদন্ড কুরআনকে মিথ্যাপ্রমাণ করার চেষ্টা করে এবং এ কারণেই আমার নজরে এটি ভুল।

এবং আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা সবসময়ই ভালো জানেন এবং আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুক যদি আমি কোনো ভুলের মধ্যে থাকি।

যাই হোক,যে মুসলিম যে অবস্থানেই থাকুক না কেন ইসলামে বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী চুক্তি।কেউ এ বিষয়ে দ্বিমতপোষণ করবে না।

 

বিঃদ্রঃ আরবী অনুবাদ গুলো বুঝতে না পারলে সেগুলো Copy করে নিজের Mobile,Computer ইত্যাদির কোনো Offline file এ Paste করুন।এতেও কাজ না হলে http://quran.com/ বা http://islamawakened.com কিংবা http://www.quraanshareef.org/ দেখে নিন।

৮ comments

Skip to comment form

  1. 4
    Monowar Bin Zahid

    আমার মন্তব্যের মাঝে এটা বলা হয় নি যে আপনার লেখা টি মিথ্যা। বরং আমি শুধু এটা বললাম যে এই ব্যাপারে আপত্তি জানানো হচ্ছে কিছু কাল ধরে এবং জানাচ্ছে আহলে কুরান রা। আমি হক্ক পন্থি কোনো জামাত কে এটার ব্যাপারে এখনো আপত্তি জানাতে দেখি নি। এখানে আমি আসলে আপনার লেখার পক্ষে/বিপক্ষে কিছু বলছি না।

    1. 4.1
      সরকার সানজিদ আদভান

      একজনের জন্য যে হক্বপন্থি আরেকজনের জন্য সে খরেজি।আল্লাহ সুবহানাঅয়াতায়ালাই একমাত্র জানেন কে হক্ক্ব আর কে বাতিল।আহলে কুরআনরাই শুধু আপত্তি করে এটাও ভুল।আপনি কি জানেন answering-christianity.com ও একই মত পোষোণ করে? তাহলে তারাও কি আহলে কুরআন?

  2. 3
    Monowar Bin Zahid

    অনেকদিন থেকে চলে আসা কোনো বিষয়ের উপর যখন কেউ আপত্তি করে তখন দেখতে হয় যে, কে/কারা এর ব্যাপারে ১ম আপত্তি করেছিলো। যদিও ঈদে-মিলাদুন্নবি নামক প্রথার জন্ম হয়েছে অনেক আগে কিন্তু এর ব্যাপারে আপত্তি কিন্তু আজ জানানো হয় নি বরং বহু কাল আগে থেকেই হক্কপন্থি আলিমগণ এর ব্যাপারে আপত্তি করে আসছেন। যখন রজম এর উপর আপত্তি করা হয়, নাসেখ-মানসূখ এর উপর আপত্তি করা হয়, চুরির শাস্তি হাত কাটা এর উপর আপত্তি করা হয় তখন দেখা যায় যে, এগুলির উপর কিছুকাল ধরে আপত্তি জানানো হচ্ছে। তাছাড়া এই বিষয় গুলি আহলে কুরান/কুরান অনলি/কুরানিস্টরা এই যুক্তিতে পরিহার করে যে ”এগুলি কুরানে নেই।”

    1. 3.1
      সরকার সানজিদ আদভান

      প্রথমত,আমি আমার সম্পূর্ণ লেখাতে না রজমের বিরোধীতা করেছি না রজমের ব্যাপারে অস্বীকার করার মতো বক্তব্য স্থাপন করেছি

      দ্বিতীয়ত,আকাশে ঢিল ছুঁড়া এমন মন্তব্য করলেন যেটা কোনোভাবেই এ প্রবন্ধটি মিথ্যাপ্রমাণ করে না।

      তৃতীয়ত,আপনার মত অনুসারে যদি আমি ভুল হই তবে আমার ভুলসমূহ ধরিয়ে দিন।ভুল বুঝতে পারলে আমি সেগুলো কেঁটে দিব

      পরিশেষে,যেহেতু আমার এ সম্পর্কে জ্ঞান নেই তাই আমি তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম রজম নিয়ে আগে কোনো মতবিরোধ হয় নি কিন্তু এখন হয়েছে।প্রশ্ন,”এই কথা অনুসারে কীভাবে প্রবন্ধটি মিথ্যাপ্রমাণিত হয়?”

  3. 2
    মাহফুজ

    //যে হাদিস কুরআনের বিরোধীতা করে সে হাদিস সম্পূর্ণ জাল। এটা হচ্ছে হাদিসের সহীত্ব বিবেচনা করার সর্বপ্রথম ধাপ। যাই হোক না কেন, বর্ণনাকারী যতোই নির্ভরযোগ্য হোক না কেন কুরআনের বিরোধীতা হলে সেই হাদিস কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।//- ঠিক বলেছেন, সহমত

    এখানে আমন্ত্রণ-

    ১/ আপনি কি ভ্রান্ত 'আহলে-কুরআন'?

    ২/ বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের শর্তসমূহ

    ৩/ তিন তালাক ও হিল্লা

    ৪/ ব্যভিচারের শাস্তি 'রজম' এবং আল-কোরআন-

    1. 2.1
      সরকার সানজিদ আদভান

      মন্তব্যের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ মাহফুজ ভাই।আপনার লেখাগুলো বেশ বড় তাই সময় করে পড়ে নিব ইনশাল্লাহ।আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ধন্যবাদ।

  4. 1
    Shahriar

    well write.. but need more thought from others for more clarification.

    jajak-allah.

    1. 1.1
      সরকার সানজিদ আদভান

      http://signofquran.com , http://answering-christianity.com , মুনিম ভাই এবং রায়হান ভাই খুব সম্ভব্ত এ বিষয়ে একমত

Leave a Reply

Your email address will not be published.