«

»

Jan ০৬

ইসলাম এবং মূতা বিয়ে

এই প্রবন্ধের বিভাগসমূহ-

১। মূতা বিয়ে কি?

২। মূতা বিয়ে কেন বৈধ ছিল এবং এর বৈধতার পিছনে কি উদ্দেশ্য ছিল?

৩। মূতা বিয়ের নিষিদ্ধকরণ

৪। শিয়াদের মূতা বিয়ে এবং কুরআন

৫। মূতা কখনোই পতিতাবৃত্তি হিসেবে কুখ্যাত ছিল না

১। মূতা বিয়ে কি?

মূতা বা ﺔﻌﺘﻣ একটি আরবী শব্দ যার অর্থ 'রমণ','মজা' ইত্যাদি যখন সেটা পার্থিব বাসনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।যখন বিয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় তখন সেটা নির্দেশ করে সাময়িক বিয়ে বা এমন একটি বিয়ে যার তালাক নির্ধারিত যদি না স্বামী-স্ত্রী সেটিকে স্থায়ী বিয়েতে পরিণত না করে।মূতা বিয়ের পরেও একজন নারীকে তিন মাস ইদ্দত অপেক্ষা করতে হবে পুনর্বিবাহের জন্য।তাই এটি একটি বৈধ তালাক।

২। মূতা বিয়ে কেন বৈধ ছিল এবং এর বৈধতার পিছনে কি উদ্দেশ্য ছিল?

মূতা একটি সাময়িক সমাধান ছিল যা রসূল মুহাম্মদ(স) মুসলিমদের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল।এটি অনুমোদন করা হয়েছিল মূলত ব্যভিচার,ধর্ষণ এবং পতিতাবৃত্তি থেকে বিরত থাকার জন্য।সাময়িক বিয়ে বৈধ করা হয়েছিল যেন বিবাহিত নারীরা তাদের স্বামীদের খুঁজতে সক্ষম হয় মূলত সে সময় যখন পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা অনেকে বেড়ে গিয়েছিল।এ কারণেই মূলত বহু বিবাহ ইসলামে অনুমোদিত।তাছাড়া এতিমদের রক্ষণাবেক্ষণ,লালন-পালন ইত্যাদির জন্যও একজন স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকত মূলত সে সময় যখন এতিমদের লালন-পালন করতে স্বামী-স্ত্রীদের সমস্যায় পড়তে হতো যুদ্ধের পর।আবার এই কারণেও বিধবা এবং এতিমদের সংখ্যা আগের থেকেও অনেক বেড়ে যায়।আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা বলেন,

"If ye fear that ye shall not be able to deal justly with the orphans, marry women of your choice, Two or three or four; but if ye fear that ye shall not be able to deal justly (with them), then only one,or that your right hands possess, that will be more suitable, to prevent you from doing injustice."(Sura Nisa,4:3)

আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা আমাদের এতিমদের দেখাশোনা করতে বলেছেন।আমাদের এতিমদের ভরণপোষণ দেয়া,আদর-যত্ন করা,অর্থ-সম্পত্তির রক্ষা করা,অবহেলা এবং অন্যায়-অবিচার থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।পবিত্র কুরআনের উক্ত আয়াতসমূহ দেখুন 47:22-23, 4:2, 4:10, 17:34, 4:3, 4:6, 4:8-9, 4:127, 6:152, 2:177, 2:215, 2:83, 2:220, 9:24, 17:26, 90:11-17, 4:36, 29:8, 46:15-17, 76:7-10, 4:127, 2:83, 16:90, 17:23-24, 30:38, 31:14, 89:17-20, 93:9-11, 107:1-3

যদি কোনো পুরুষ এতিমদের লালন-পালন করতে সমস্যায় পড়ে যায় তবে সে সর্বোচ্চ ৪টি স্ত্রী রাখতে পারবে।মূতাও একটি সামাজিক সমাধান ছিল যার মাধ্যমে বিধবা নারীরা সহায়তা,ভরণপোষণ এবং সুরক্ষা পেয়েছিল।

৩। মূতা বিয়ের নিষিদ্ধকরণ

যখন রসূল মুহাম্মদ(স) দেখলেন কিছু মুসলিম বিষয়টির অপব্যবহার করতে যাচ্ছে তখন তিনি মূতা বিয়ে নিষিদ্ধ(হারাম) করে দিলেন।

Narrated Abdullah: "We used to participate in the holy wars carried on by the Prophet and we had no women (wives) with us. So we said (to the Prophet ). "Shall we castrate ourselves?" But the Prophet forbade us to do that and thenceforth he allowed us to marry a woman (temporarily) by giving her even a garment, and then he recited: "O you who believe! Do not make unlawful the good things which Allah has made lawful for you.""(Sahih Bukhari,6:60:139)

Narrated 'Abdullah: "We used to participate in the holy battles led by Allah's Apostle and we had nothing (no wives) with us. So we said, "Shall we get ourselves castrated?" He forbade us that and then allowed us to marry women with a temporary contract (2) and recited to us: — 'O you who believe ! Make not unlawful the good things which Allah has made lawful for you, but commit no transgression.' (5.87)"(Sahih Bukhari,7:62:130)

"Rabi' b. Sabra reported that his father went on an expedition with Allah's Messenger (may peace be upon him) during the Victory of Mecca, and we stayed there for fifteen days (i. e. for thirteen full days and a day and a night), and Allah's Messenger (may peace be upon him) permitted us to contract temporary marriage with women. So I and another person of my tribe went out, and I was more handsome than he, whereas he was almost ugly. Each one of us had a cloaks, My cloak was worn out, whereas the cloak of my cousin was quite new. As we reached the lower or the upper side of Mecca, we came across a young woman like a young smart long-necked she-camel. We said: Is it possible that one of us may contract temporary marriage with you? She said: What will you give me as a dower? Each one of us spread his cloak. She began to cast a glance on both the persons. My companion also looked at her when she was casting a glance at her side and he said: This cloak of his is worn out, whereas my cloak is quite new. She, however, said twice or thrice: There is no harm in (accepting) this cloak (the old one). So I contracted temporary marriage with her, and I did not come out (of this) until Allah's Messenger (may peace be upon him) declared it forbidden"(Sahih Muslim,8:3253)

Narrated Jabir bin 'Abdullah and Salama bin Al-Akwa': "While we were in an army, Allah's Apostle came to us and said, "You have been allowed to do the Mut'a (marriage), so do it." Salama bin Al- Akwa' said: Allah's Apostle's said, "If a man and a woman agree (to marry temporarily), their marriage should last for three nights, and if they like to continue, they can do so; and if they want to separate, they can do so." I do not know whether that was only for us or for all the people in general. Abu Abdullah (Al-Bukhari) said: 'Ali made it clear that the Prophet said, "The Mut'a marriage has been cancelled (made unlawful)."(Sahih Bukhari,7:62:52)

৪। শিয়াদের মূতা বিয়ে এবং কুরআন

শিয়াদের কাছে মূতা এমন একটি বিয়ে যার তালাক নির্ধারিত।যদিও পবিত্র কুরআন এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন মত পোষণ করে।তালাক সম্পর্কে আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা বলেন,

"You bear no sin if you divorce your wives as long as you have not had (a sexual) contact (with them), and before settling (the amount of) the nuptial premium (for them). Yet, you should make provisions for them (even then); the affluent in keeping with his means, and the poor according to what he can afford. A fair provision is an obligation upon the pious"(Sura Baqara,2:236)

তাই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর দায়িত্বহীন তালাকের জন্য উক্ত ব্যক্তি অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে।উপরোক্ত আয়াত বিষয়টি পরিষ্কার করে দেয়।

আরও পর্যালোচনা করা যাক।

"Oh prophet, (and Oh you believers)! If you (must) divorce your women, divorce them for a (prescribed) period. Count the period (correctly). Fear Allah, your Lord, and do not _ unless they have committed a flagrantly immoral act _ expel your divorced women out of their homes. The women too should not leave their homes. These are the confines of Allah. Anyone overstepping the limits of Allah actually commits an outrage upon himself. You do not know! (During that period),Allah may well bring about something (to cause reconciliation between the husband and wife).(Sura Talaq,65:1)

"At the end of the (prescribed) period, either hold back your women (in wedlock) lawfully, according to the well-known (prescribed) manner, or make the divorce final in accordance with the well known (prescribed) way. Take two of your fair minded (and respected) men as your witnesses.(Oh witnesses)! Bear the witness truthfully for the sake of Allah! Those who believe in Allah, and the life-to-come, are hereby being asked to heed. Allah will provide a way out for the one who fears Him!"(Sura Talaq,65:2)

উপরোক্ত আয়াত দুটি লক্ষ্য করলে বোঝা যায় তালাক ইসলামে শুধু নিরুৎসাহিতই করা হয় না বরং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে তালাক দিতে হয়।তাছাড়া Sura Talaq,65:2 এ আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা তালাকের জন্য দুইজন নির্ভরযোগ্য সাক্ষী প্রদানের কথা বলেছেন।শিয়াদের মূতা বিয়ে এবং তালাকে কোনো সাক্ষী থাকে না যা আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার আইনের বিরুদ্ধে Sura Talaq,65:2। শিয়াদের মূতা বিয়ে মোটেই ইসলামিক না।বরং সহীহ হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায় রসূল মুহাম্মদ(স) মূতা বিয়ে নিষিদ্ধ করে দেন যখন কিছু মুসলিম বিষয়টির অপব্যবহার করতে যাচ্ছিল।

"And if you divorce your wives before having (sexual) contact, but after settling (the amount of) the nuptial premium, then you are liable to pay half of the stipulated amount. (However), there is no harm if the woman gives up her half, or (there is no harm if the groom,) the one who is responsible for tying the wedding knot (pays the full amount and) waives his half. (For the groom) to forgo (his half) is closer to piety. But do not (forgo or) forget to show courtesy (and kindness) to one another. Indeed, Allah (vigilantly) watches everything you do."(Sura Baqara,2:237)

যদি সে ১ ঘণ্টার জন্যও আপনার স্ত্রী হয় তবুও মোহরের অর্ধেক সম্পত্তি তার অধিকার।এভাবেই ইসলামে বিয়েকে মর্যাদা দেয়া হয়।

"The divorced woman has a right to a reasonable livelihood; and (to provide) it is an obligation upon the pious."(Sura Baqara,2:241)

উপরোক্ত আয়াতটিতে আদেশ দেয়া হয়েছে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বর্তমানে যাকে আমরা ভরণপোষণের খরচ বলি।আরও একটি প্রমাণ ইসলামে বিয়ে কতটা পবিত্র এবং সম্মানিত।

"(Remember), if you are in doubt about the ‘iddat.’ of your women, _ either because they are past the age, or haven’t yet started to menstruate _ it lasts three months. The ‘iddat’ for the pregnant women (is three months, or it) lasts till the termination of pregnancy. (iddat: the period after divorce during which a woman is forbidden to remarry). Allah (grants a leeway and) makes matters easy for the one who fears Him."(Sura Talaq,65:4)

"(During the period of ‘iddat’) have the (divorced) women live where you live, as your resources allow. Do not abuse and mistreat them, in order to harass them. If they happen to be carrying (your) child, then spend and bear their expenses till they carry their pregnancies to term. If they are nursing (your child), then compensate them in a fair and equitable manner. Settle the issue (of compensation) between you and your (former) wives amicably. Should the matter (of compensation) be difficult (and hard to resolve), then any other woman may nurse the child"(Sura Talaq,65:6)

এবং আরও ভরণপোষণের খরচ এবং বিয়েকে আরও মর্যাদা দেয়া এবং তালাককে আরও নিরুৎসাহিত করা।

৫। মূতা কখনোই পতিতাবৃত্তি হিসেবে কুখ্যাত ছিল না

মূতা পতিতাবৃত্তি হিসেবে কুখ্যাত ছিল না কারণ-

(ক) এটি একটি বৈধ বিয়ে ছিল

(খ) বিয়ের বাহিরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে ইসলামিক আইন অনুসারে শাস্তি পেতে হত।সেটা ১০০ কশাঘাতই হোক বা রজম হোক।

(গ) তালাকপ্রাপ্ত নারী আবার বিয়ে করতে হলে তিন মাস ইদ্দতের অপেক্ষা কতে হত।

"(Remember), if you are in doubt about the ‘iddat.’ of your women, _ either because they are past the age, or haven’t yet started to menstruate _ it lasts three months. The ‘iddat’ for the pregnant women (is three months, or it) lasts till the termination of pregnancy. (iddat: the period after divorce during which a woman is forbidden to remarry). Allah (grants a leeway and) makes matters easy for the one who fears Him.(Sura Talaq,65:4)

(ঘ) রসূল মুহাম্মদ(স) মূতা নিষিদ্ধ(হারাম) করে দেন যখন তিনি দেখলেন কিছু মুসলিম সেটার অপব্যবহার করতে যাচ্ছিল Sahih Bukhari,7:62:52,Sahih Muslim,8:3253

তাই যদিও কিছু মুসলিম মূতার অপব্যবহার করতে যাচ্ছিল ইসলামের এই উদ্দেশ্য ছিল না।এটা সাধারণের মাঝে বিয়ে এবং তালাককে কেন্দ্র করে অপব্যবহারের স্বরূপ।তাছাড়া দায়িত্বহীন তালাক দেয়াও ইসলামে হারাম (৪ বিভাগে দেখানো হয়েছে),এবং অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা মূতা বিয়ে নিষিদ্ধ করেছেন রসূল মুহাম্মদ(স) এবং পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে(৩ ও ৪ বিভাগ)।

(ঙ) অনুমোদিত বিষয়ের মধ্যে আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালার কাছে সবচেয়ে অপছন্দীয় হচ্ছে তালাক।এবং বিষয়টা অদ্ভূত বা বিস্মিত হবার কি আছে? যেখানে আল্লাহ সুবহানাওয়াতায়ালা নিজে বলেছেন যে বিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্র একটি চুক্তি।স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে করা চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী।

"And how could ye take it when ye have gone in unto each other, and they have Taken from you a solemn covenant?"(Sura Nisa,4:21)

৮ comments

Skip to comment form

  1. 4
    rafi

    apni mone hoy muta er sathe hilla biye miliye feltesen. muta karjokor kora hoy khaybar e raid korar shomoy, tokon kisu companion onekdin dhore moruvumi te wife sara silo, tara rasul er kase muta biye korar permission chay, tini 3 din porjonto ei permission den. tarpor muta bondo kore dewa hoy. ar apni je talak prapto mohila, bidhoba, rapem fornication er example dilen ta shotto noy. muta abu bokor er amol porjonto cholesilo tarpor umar sheta officialy off kore.

  2. 3
    মাহফুজ

    আপনার উল্লেখিত ২ নং পয়েন্টটা সম্পর্কে আপনি কতটা (২। যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র) অবগত আছেন?

    আপনি নিশ্চয় জানেন, মদ হারাম হওয়া সম্পর্কিত বিধান বাস্তবায়ন করার প্রাথমিক পর্যায়ে একজন নও মুসলিমের জন্য প্রথমত মদ্যপ অবস্থায় নামাজের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করা হয়? 

    বিষয়টি সম্পর্কে এখানে বলার চেষ্টা করেছি- মাদক-মুক্ত সমাজ চাই

     

    আল-কোরআনে ইসলাম পূর্ব অধিকারভুক্ত ক্রীতদাসী এবং যুদ্ধবন্দী  নারীদেরকে مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ/ ma malakat aymanuhkum/ মা- মালাকাত আইমানুকুম  অর্থাৎ 'ডান হাতের অধিকারভুক্ত' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাহেলি যুগে দাসপ্রথার ব্যাপক প্রচলন ছিল। তাই ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম পূর্ব অধিকারভুক্ত দাসীদের সাথে শুধুমাত্র তাদের মালিকদের যৌন সম্পর্কের বিষয়টি সরাসরি নিষিদ্ধ করার ব্যপারে আল-কোরআনে হঠাৎ করে কোন বিধান দেয়া হয় নাই। কারণ হঠাৎ করে এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা তৎকালিন সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে মোটেই যুক্তিযুক্ত হত না। (কিন্তু বিবাহ বহির্ভূত সকল প্রকার অবৈধ সম্পর্ক অর্থাৎ ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল-সূরা বণী ইসরাঈল- (১৭ : ৩২) অর্থ- আর তোমরা  ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল ও মন্দ পথ।)। বরং দাসমুক্তির নামে কোনরূপ হটকারী সিদ্ধান্ত দেয়া হলে এবং হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক দাস-দাসীকে রাস্তায় বের করে দিলে নব্য ও উদিয়মান রাষ্ট্রের মাঝে ব্যপক বিপর্যয় ঘটে যাওয়াটা মোটেই অস্বাভাবিক ছিলনা। পৃথিবীর ইতিহাসের পাতা ঘাটলে সেই প্রমাণই মেলে। তাই দাসপ্রথাকে নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে তখনকার দাসপ্রথায় অভ্যস্ত সমাজ থেকে ধীরে ধীরে তা বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ বলেই আমি বিশ্বাস করি।

     

    তবে ইসলামের পক্ষে যুদ্ধ অর্থাৎ 'জিহাদ/ কিতাল' সংঘটিত হলে বর্তমান ও ভবিষ্যতে সব সময়ই যুদ্ধবন্দী হতে পারে। সাধারণত অমুসলিমরাই যুদ্ধবন্দী হয়। কিন্তু এই অমুসলিম যুদ্ধবন্দীনিদের সাথে তাদের অভিভাবকরা কি এখনও বিবাহ ছাড়াই যৌন সম্পর্ক করতে পারবে?

     

    ইসলামি জীবনধারায় অভ্যস্ত কোন মুসলিমের জন্য কোন স্বাধীন নারীকে কৃত্রিমভাবে ডান হাতের অধিকারভুক্ত অর্থাৎ দাসী বানিয়ে তার সাথে উপপত্নীর ন্যায় আচরণ করার সুযোগ নেই। এ বিষয়টি বুঝতে হলে ধৈর্য সহ দাসপ্রথা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন কি বলে তা অনুধাবন করার চেষ্টা করতে হবে। তবে অন্তরে খাঁটি বিশ্বাস না থাকলে কিন্তু সবই বৃথা।

    এখানে আমন্ত্রণ- ইসলাম কি দাসপ্রথাকে আদৌ সমর্থন করে?

  3. 2
    Momotaz Begum

    জনাব  মাহফুজ, 

    দুঃখিত!  আপনার মন্তব্য মূলত কু-যুক্তির সমাহার ছাড়া কিছু না। অনেকটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতই হাস্যকর। 

    ইসলাম ধর্মে বিয়ে বহিঃভুত যৌনতার বিষয়ে হাত সাফাই করতে যেয়ে আপনি সূরা সূরা আরাফ ৩৩ এবং সূরা বণী ইসরাঈল ৩২ উপস্থাপন করেছেন।  বেশ তো।

    কিন্তু দেখুন- 
    সূরা আরাফ ৩৩ স্রেফ হালাল/হারাম সংক্রান্ত। যেটি আলচ্য বিষয়ের সাথে যায় না, অপ্রাসঙ্গিক।  আমরা এখানে ক্যাটাগোরিক্যালি পুরুষের বিয়ে বহিঃভুত যৌনতা বিষয়ে আলাপ করছি।

    আর সূরা বণী ইসরাঈল ৩২ (যার সঠিক বাংলা অনুবাদ- আর ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।) হাঁ এটি কিছুটা প্রাসঙ্গিক,  এখানে ব্যাভিচার করতে বারণ করা হয়েছে।  কিন্তু ইসলাম ধর্মে ব্যাভিচারের মাত্রা কি?  এই মাত্রা কে নির্ধারণ করে দিবে?   

    তাহলে দেখা যাক ব্যাভিচার(বিয়ে বহিঃভুত যৌনতা) বিষয়ে আল্লাহ স্বয়ং কি বলেন- 

    সূরা মুমিনূন ১-৭ : 
    ১। মুমিনগণ সফলকাম হয়ে গেছে,
    ২। যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র;
    ৩। যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,
    ৪। যারা যাকাত দান করে থাকে
    ৫। এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।
    ৬। তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।
    ৭। অতঃপর কেউ এদেরকে ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালংঘনকারী হবে।

    তো,কি বুঝা গেল?  প্রকৃত অর্থে সূরা মুমিননূন ১-৭ মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিন'দের প্রতি একটি সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা। যেখানে কোন রাখঢাক না করে দাসীদের সাথে পুরুষের বিয়ে বহিঃভুত যৌনতাকে অতিরস্কারযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে-  স্ত্রীদের পাশাপাশি দাসীদেরসাথে মুমিন পুরুষের অবাধ যৌনতা ব্যাভিচার তো নয়ই, বরংচ হালাল, অতিরস্কার যোগ্য এবং আল্লাহর নির্দেশ। বিষয়টি এতোটাই BLACK & WHITE যে এখানে আর কোন অতিরিক্ত ব্যাখ্যা(ধানাইপানাই)'র সুযোগ নেই। 

    তাই বলছি- হাতের তুবড়ি মেরে সূরা আরাফ ৩৩(আলচ্য বিষয়ে অপ্রাসঙ্গিক), সূরা বণী ইসরাঈল ৩২ (অতি দুর্বল হাত সাফাই) হাজির/নাজির করে সূরা মুমিনূন ১-৭ উড়িয়ে দেয়া যাবে না। 

    তো মাহফুজ ভাই, বিষটি এ ভাবে দেখুন-  
    সূরা মুমিনূন ১-৭ এ : বিনয়-নম্র নামাজের কথা বলা হয়েছে, যা বহাল আছে। অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত থাকার কথা বলা হয়েছে, যা বহাল আছে। যাকাত দেয়ার কথা বলা হয়েছে, যা বহাল আছে।  তো এ ক্ষেত্রে হটাৎ করে মালিকানাভুক্ত দাসীদের সাথে অসংযত যৌনতার অতিরস্কারযোগ্য  বিষটি উধাও হয়ে যাবে ক্যান?? কোন লজ্জায়???????

    ধন্যবাদ।

    জনাব সম্পাদক- আগের মন্তব্যটি মুছে দিন, প্লিজ। নাম টাইপ করতে যেয়ে একটু ভুল হয়েছে। তাই। ধন্যবাদ।

    1. 2.1
      মাহফুজ

      আপনার উল্লেখিত ২ নং পয়েন্টটা সম্পর্কে আপনি কতটা (২। যারা নিজেদের নামাযে বিনয়-নম্র) অবগত আছেন?

      আপনি নিশ্চয় জানেন, মদ হারাম হওয়া সম্পর্কিত বিধান বাস্তবায়ন করার প্রাথমিক পর্যায়ে একজন নও মুসলিমের জন্য প্রথমত মদ্যপ অবস্থায় নামাজের নিকটবর্তী হতে নিষেধ করা হয়? 

      বিষয়টি সম্পর্কে এখানে বলার চেষ্টা করেছি- মাদক-মুক্ত সমাজ চাই

       

      আল-কোরআনে ইসলাম পূর্ব অধিকারভুক্ত ক্রীতদাসী এবং যুদ্ধবন্দী  নারীদেরকে مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ/ ma malakat aymanuhkum/ মা- মালাকাত আইমানুকুম  অর্থাৎ 'ডান হাতের অধিকারভুক্ত' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাহেলি যুগে দাসপ্রথার ব্যাপক প্রচলন ছিল। তাই ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলাম পূর্ব অধিকারভুক্ত দাসীদের সাথে শুধুমাত্র তাদের মালিকদের যৌন সম্পর্কের বিষয়টি সরাসরি নিষিদ্ধ করার ব্যপারে আল-কোরআনে হঠাৎ করে কোন বিধান দেয়া হয় নাই। কারণ হঠাৎ করে এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে তা তৎকালিন সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে মোটেই যুক্তিযুক্ত হত না। (কিন্তু বিবাহ বহির্ভূত সকল প্রকার অবৈধ সম্পর্ক অর্থাৎ ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল-সূরা বণী ইসরাঈল- (১৭ : ৩২) অর্থ- আর তোমরা  ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা অশ্লীল ও মন্দ পথ।)। বরং দাসমুক্তির নামে কোনরূপ হটকারী সিদ্ধান্ত দেয়া হলে এবং হঠাৎ করে বিপুল সংখ্যক দাস-দাসীকে রাস্তায় বের করে দিলে নব্য ও উদিয়মান রাষ্ট্রের মাঝে ব্যপক বিপর্যয় ঘটে যাওয়াটা মোটেই অস্বাভাবিক ছিলনা। পৃথিবীর ইতিহাসের পাতা ঘাটলে সেই প্রমাণই মেলে। তাই দাসপ্রথাকে নিরুৎসাহিত করার মাধ্যমে তখনকার দাসপ্রথায় অভ্যস্ত সমাজ থেকে ধীরে ধীরে তা বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ বলেই আমি বিশ্বাস করি।

       

      তবে ইসলামের পক্ষে যুদ্ধ অর্থাৎ 'জিহাদ/ কিতাল' সংঘটিত হলে বর্তমান ও ভবিষ্যতে সব সময়ই যুদ্ধবন্দী হতে পারে। সাধারণত অমুসলিমরাই যুদ্ধবন্দী হয়। কিন্তু এই অমুসলিম যুদ্ধবন্দীনিদের সাথে তাদের অভিভাবকরা কি এখনও বিবাহ ছাড়াই যৌন সম্পর্ক করতে পারবে?

       

      ইসলামি জীবনধারায় অভ্যস্ত কোন মুসলিমের জন্য কোন স্বাধীন নারীকে কৃত্রিমভাবে ডান হাতের অধিকারভুক্ত অর্থাৎ দাসী বানিয়ে তার সাথে উপপত্নীর ন্যায় আচরণ করার সুযোগ নেই। এ বিষয়টি বুঝতে হলে ধৈর্য সহ দাসপ্রথা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন কি বলে তা অনুধাবন করার চেষ্টা করতে হবে। তবে অন্তরে খাঁটি বিশ্বাস না থাকলে কিন্তু সবই বৃথা।

      এখানে আমন্ত্রণ- ইসলাম কি দাসপ্রথাকে আদৌ সমর্থন করে?

      1. 2.1.1
        জামশেদ আহমেদ তানিম

        @মাহফুজ ভাই এই লোকের সাথে তর্ক করার কোন যৌক্তিকতা নাই। এ আপনার যুক্তি মানবে না বরং প্যাচাতে থাকবে, এটা হলো মূত্রমণা। (পেঁচার সাথে তুলনা করতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু তাতে পেঁচারই অপমান) এটাকে বলেন দূর হ শয়তান, তোর সাথে কিসের কথা?

        1. 2.1.1.1
          মাহফুজ

          মহান আল্লাহর কিতাব আল-কোরআন থেকে কিছু উপদেশবাণী তুলে ধরছি। আশাকরি অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন-

          (১৬:৮২) অর্থ- অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার কর্তব্য তো কেবল সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া মাত্র।

          (১৬:১২৫) অর্থ- তোমার পালনকর্তার পথের দিকে আহবান কর প্রাজ্ঞতা, বিচক্ষণতা ও ভাল উপদেশ শুনিয়ে এবং তাদের সাথে আলোচনা কর উত্তম পন্থায়। নিশ্চয় তোমার পালনকর্তাই ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জ্ঞাত রয়েছেন, যে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে এবং তিনিই ভাল জানেন তাদেরকে, যারা সঠিক পথে আছে।     

          (১৬:১২৬) অর্থ- আর যদি তোমরা প্রতিশোধ না্ও, তবে প্রতিশোধ নিও ঠিক তেমনিভাবে, যতটা ক্লেশ তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, অবশ্যই তা ধৈর্যশীলদের জন্য অতি উত্তম।

          (১৬:১২৭) অর্থ- ধৈর্য ধারণ কর। তোমার সহিষ্ণুতা তো আল্লাহ ব্যতীত নয়, তাদের আচরণে দুঃখ করো না এবং তাদের চক্রান্তের কারণে মনঃক্ষুণ্ন হইও না।

          (১৬:১২৮) অর্থ- নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন যারা সাবধান হয় এবং যারা সৎকর্মশীল।

          (২৯:৬৯) অর্থ- আর যারা আমার জন্য চেষ্টা-সাধনা/ সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করবই। নিঃসন্দেহে আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন।

          (৪২:৪৮) অর্থ- যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আমরা তো তোমাকে তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। তোমার উপর কোন দায়িত্ব নেই তাদের কাছে পৌঁছে দেয়া ছাড়া। আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই, তখন সে উল্লসিত হয়, আর যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের কোন অনিষ্ট ঘটে, তখন মানুষ অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।

          (০৩:১০৪) অর্থ- আর তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আহবান জানাবে সৎকর্মের প্রতি, নির্দেশ দেবে ভাল কাজের এবং বারণ করবে অন্যায় কাজ থেকে, আর তারাই হলো সফলকাম। 

           (০৩:১৮৬) অর্থ- নিশ্চয় তোমাদেরকে পরীক্ষা করা হবে তোমাদের ধন-সম্পদে এবং তোমাদের জীবন সম্পর্কে এবং নিঃসন্দেহে তোমরা শুনবে পূর্ববর্তী আহলে কিতাবদের কাছে এবং অংশীবাদিদের কাছে অনেক কষ্টদায়ক উক্তি। আর যদি তোমরা ধৈর্য্য ধারণ কর এবং সাবধান হও, তবে তা হবে দৃঢ়সংকল্পের ব্যাপার। 

          (২৩:৭২) অর্থ- তুমি কি তাদের কাছে কোন প্রতিদান চাও? তোমার প্রতিপালকের প্রতিদানই উত্তম এবং তিনিই উত্তম জীবিকাদাতা।     

          (১৬:৮২) অর্থ- অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তোমার কর্তব্য তো কেবল সুস্পষ্ট বাণী পৌঁছে দেয়া মাত্র।

          (৭৮: ১৭) অর্থ:- নিশ্চয়ই বিচার দিবস নির্ধারিত রয়েছে।

          (৭৮: ৩৯) অর্থ:- এই দিবস সত্য। সুতরাং যার ইচ্ছা সে তার পালনকর্তার পানে ঠিকানা খুঁজে নিক।

    2. 2.2
      Human

      এই  Momotaz Begum  (ছুপা ):

      নীচের ব্লগটি পড়ে তারপর মন্তব্য করুন। ইসলামে দাসী পত্নী এবং স্ত্রীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। নীচের ব্লগটি খুব মন দিয়ে পড়ুন:

      http://www.shodalap.org/bngsadat/25753/

       

  4. 1
    মাহফুজ

    বর্তমানে যে সমাজের মাঝেই 'মুতা' নামক বিয়ের প্রচলন থাক না কেন, ইসলামে এটি আদৌ বৈধ কিনা সে সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসতে হলে একমাত্র মাবুদ মহান আল্লাহর বিধান আল-কোরআনকে সর্বোচ্চ মাপকাঠি হিসেবে মেনে নিতে হবে।

     

    ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে মালিকরা তাদের দাসীদের সাথে নিজেরাই শুধু নয়, অন্যের সাথেও যৌনকর্মে বাধ্য করত এবং পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে অর্থ কামাই করা দোষের মনে করা হত না। তাছাড়া একজনের অধিকারে থাকা দাসী এমনকি স্ত্রীকেও অপরজনের সাথে বদল কোরে সাময়িক ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপনের রেওয়াজ চালু ছিল। একই ভাবে বলা যায় যে, পূর্ব থেকে চলে আসা প্রথাগত কারণে সমাজে 'মুতা' নামক সাময়িক সম্পর্ক স্থাপনেরও হয়ত প্রচলন ছিল।  কিন্তু এই স্বেচ্ছাচারিতাকে গ্রহণ নয় বরং অচিরেই তা বর্জন করার পদক্ষেপ নেয়া হয়। সে কারনেই সমসাময়িক কিছু হদিছে এসবের বৈধতার ইংগিত থাকলেও বেশিদিন তা স্থায়ী ছিলনা অর্থাৎ অন্যান্য হাদিছে তা স্পষ্টভাবে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তাছাড়া পবিত্র কোরআনে 'মুতা' নামক অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন সংক্রান্ত কোনরূপ ইংগিতই নেই।  কাজেই আল-কোরআনের ভিত্তিতে তা হালাল কিংবা হারাম মনে করার কোন সুযোগ কণনই ছিলানা, এখনও নেই এবং থাকবেও না। তাই  ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী জীবনধারায় অভ্যস্তদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম কবুল করতেন, তাদের জন্য সাময়িকভাবে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং এরূপ অনাকাঙ্খিত অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষে কিছুটা শৃঙ্খলা ও নিয়মের মধ্যে বেধে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। --

    সূরা আল মু'মিনুন ২৩: ৫-৭ (মক্কায় অবতীর্ণক্রম-৭৪) ও সূরা আল মাআ'রিজ ৭০: ২৯-৩১ (মক্কায় অবতীর্ণক্রম-৭৯) --

    (৭০:২৯) অর্থ- এবং যারা তাদের লজ্জা-স্থানের হেফাযত করে,

    (৭০:৩০) অর্থ- তবে তাদের স্ত্রী অথবা তাদের (مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ) 'ডান হাতের অধিকারভুক্ত' ব্যতীত, তখন বাস্তবিকই তারা তিরস্কৃত হবে না।

    (৭০:৩১) অর্থ- এরপর যারা এর বাহিরে অন্য কিছু অন্বেষণ করে, তারাই সীমা-লঙ্ঘনকারী

     

    এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হলো যে, কোন মালিক মুসলিম হলে এবং তার স্ত্রী ছাড়াও ডান হাতের অধিকারভুক্ত কোন নারী (দাসী) থাকলে তিনি ইসলাম গ্রহণের পর থেকে ঘনিষ্ট সম্পর্ক স্থাপনের জন্য আপন স্ত্রী এবং অধিকারভুক্ত নারী (দাসী) ছাড়া অন্য কারো দ্বারস্থ হতে পারবেন না। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, এই নির্দেশনা শুধু তাদের জন্যই নয়, বরং এরূপ স্বেচ্ছাচারী জীবনধারায় অভ্যস্ত সকল সময়ের ও সকল স্থানের সেই ব্যক্তিদের জন্যও প্রযোজ্য হবে, যারা সেই ভ্রান্তপথ থেকে ফিরে এসে আল-কোরআনের জীবন বিধান অনুসারে সরল পথে চলার জন্য ইসলাম কবুল করতে চান। কিন্তু তাই বলে ইসলামি জীবনধারায় অভ্যস্ত কোন মুসলিমের জন্য স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কোন স্বাধীন নারীকে কৃত্রিমভাবে ডান হাতের অধিকারভুক্ত অর্থাৎ দাসী বানিয়ে তার সাথে উপপত্নীর ন্যায় আচরণ করার কিংবা 'মুতা' নামক সাময়িক বিয়ের নামে অশ্লীলতা করার কোন সুযোগ তখনও যেমন ছিলনা, তেমনি এখনো নেই।

     

    আল-কোরআনের প্রাথমিক পর্যায়ে অবতীর্ণ অর্থাৎ মক্কী সূরায় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল/লজ্জাজনক বিষয়সমূহও হারাম করা হয়েছে এবং অবৈধ যৌন সংগম অর্থাৎ ব্যভিচারের কাছেও যেতে নিষেধ করা হয়েছে-

    ৭ নং সূরা আরাফ (মক্কায় অবতীর্ণক্রম-৩৯)

    ৩৩: অর্থ- তুমি বলে দাও, আমার পালনকর্তা হারাম করেছেন যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল/লজ্জাজনক বিষয়সমূহ এবং সকল গোনাহ এবং অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করা, আল্লাহর সাথে অংশীদার করা,  যে বিষয়ে  তিনি কখনো কোন সনদ অবতীর্ণ করেননি এবং আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে এমন সব কথা বলা, যার ব্যাপারে তোমাদের কোন জ্ঞানই নাই।

    ১৭ নং সূরা বণী ইসরাঈল (মক্কায় অবতীর্ণ ক্রম-৫০)

    ৩২: অর্থ- আর তোমরা অবৈধ যৌন সংগম/ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয় এটা একটা অশ্লীল পাপাচার ও মন্দ পথ।

     

    সুতরাং এর পর থেকে ইসলামি জীবনধারায় অভ্যস্ত কোন মুসলিমের জন্য বিবাহিত স্বামী-স্ত্রী ছাড়া অন্য কিছু অন্বেষণ করার কোন অপশন খোলা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published.