«

»

Jan ১৫

কবি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাসুম এর সাক্ষাৎকার

ব্লগ জগতে অতটা সুনাম না থাকলেও ইসলামিক কবি হিসেবে বেশ সুনাম আছে ইংরেজী বিভাগের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মাসুমের।অনেক উচ্চমানের কবিতা,গল্প,উপন্যাস লেখা সত্ত্বেও তার খ্যাতি খুবই কম।কোচিং,টিউশনি এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমেই তার দিন শুরু আর শেষ।খুলনার সাতক্ষীরা জেলায় থাকেন।বেশ সহজ সরল এবং সাদামাটা জীবনযাপন করেন তিনি।ফেসবুকে তার "কুরআনের অলৌকিকত্ব" কবিতাটি আলোড়ন সৃষ্টি করে।অনেকে কবিতাটি নিজের নামে বলেও চালিয়ে দেয়।উনারই ছোট একটি সাক্ষাৎকার যার মাধ্যমে উনাকে নিয়ে এবং উনার লেখা নিয়ে অনেকেরই সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে।

– আপনি কত বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন?
~ এই তো আমি যখন ক্লাস সেভেন এ পড়ি
– কবিতাটির নাম কি ছিল? কি নিয়ে ছিল?
~ নাম ছিল "মা" একচল্লিশ লাইন। দু:খের কথা হারিয়ে ফেলেছি।একটা লাইন এরকম- মায়ের হাতের রান্নার ঘ্রাণ, খেলে জুড়ায় মন ও প্রাণ!
– কখনো আপনার কবিতা বই,ম্যাগাজিন বা পত্রিকা ইত্যাদি তে প্রকাশ হয়েছে? হলে সেটার নাম কি?
~ ক্লাস এইটে কি নাইনে থাকতে একটা ডায়েরিতে কবিতা লিখতাম। কাব্যগ্রন্থ বানাবো ভেবেছিলাম সেই নাইনেই। নাম দিয়েছিলাম- তীরের পাখি" মা কবিতাটি একটা বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশে দেওয়াল পত্রিকায় দিয়েছিলাম। বাট বড় হওয়ায় প্রকাশ করেনি। আঞ্চলিক পত্রিকাতেও দেওয়ার চেষ্টা করেও যেন করা হয়নি।
– এই পর্যন্ত আপনার কবিতা সংখ্যা কত?
~ কবিতার সংখ্যা তো গুনে রাখিনি। তবে আড়াইশর মত হবে।তার বেশিও হতে পারে।
– আপনার নিজের লেখা প্রিয় কবিতা?
~ আসলে থিম অনুযায়ী ফেভারিট হয়। এক এক থিমে এক একটা ফেভারিট। কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি?
– আপনার কবিতা লেখার প্রেরণা কে দিয়েছে?
~আমার প্রেরণা ছিল জীবনবোধ, প্রকৃতি।আর সবই আল্লাহর ইচ্ছা আর বই পড়া ফেভারিট হওয়ায় লেখায় আগ্রহ জন্মায় আরো
– আপনি অনেক প্রেমের কবিতা লিখেন কেন?
~ সব ধরনের কবিতা লিখি। যুবক সম্প্রদায় এ কবিতা বেশি পছন্দ করে। আর প্রেমের কবিতা বেশ মজার, পড়তে ও লিখতে। এতে পাঠক তৈরী করা যায়। আমি মুলত প্রেমের কবিতায় কোথাও না কোথাও ইসলামি একটা চিত্র বা বিশ্বাস ঢুকিয়ে দেই। এটাই আমার নতুনত্ব!
– অনেকে মনে করেন যেহেতু আপনি ইসলাম নিয়েই বেশি কবিতা লিখেন এবং প্র্যাক্টিসিং মুসলিম তাই আপনার প্রেম নিয়ে কবিতা না লেখাই শ্রেয়।এ বিষয়ে কি বলতে চান?
~ আসলে আমি মনে করি প্রেম নিয়ে অশ্লীল কিছু, আর যা কামনা উদ্রেক করে তা রচনা করা ঠিক নয়। প্রেম যদি স্বামী স্ত্রীর মাঝে হয়, আর বিরহের প্রেক্ষাপট নিয়ে হয় যা খুবই মার্জিত ও শিক্ষনীয় তা লেখা খুবই মন্দ না। তবে আমি এটা শ্রেয় মনে করলেও কিছু নির্দিষ্ট কারনে বাদ দিতে পারছি না। কারনটা আগেই বলেছি উপরে।
– আপনার কবিতা নিয়ে যেমন আলোচনা রয়েছে তেমনি সমালোচনাও থাকার কথা।কিন্তু আপনার সমালোচনা নেই বললেই চলে।আপনি এটাকে কীভাবে দেখেন এবং এর কারণ কি বলে মনে করেন?
~ আমি এ বিষয়ে খুবই হতাশ! তবে সমালোচনা নেই এমন না। অনেক বড় মাপের বিশ্লেষক আবুল কইয়্যুম আমার প্রত্যকটি কবিতার সমালোচনা করেছেন। উনি বলেন সব কবিতায় মান খুঁজতে গেলে হবে না। বিশেষ করে ধর্মীয় উজ্জীবিত করণ কবিতা। এটাই আমার প্লাস পয়েন্ট। ধর্মীয় বলে মান নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। নতুবা আমার কবিতা এমন সমালোচিত হত যে লেখার আর আগ্রহ থাকত কিনা কে জানত?
– গল্প বা উপন্যাস লেখার কোনো ইচ্ছা আছে কি? নাকি কবি হয়েই থাকতে চান? অনেকেই আপনাকে গল্পকার এবং ঔপন্যাসিক হিসেবে দেখতে চান।
~ আমি গল্পকার হতে চাই, ঔপন্যাসিকও । আমার এ পর্যন্ত প্রায় পঁচিশটার মত গল্প আছে। উপন্যাস লেখা শুরু করেছিলাম। তবে সময়ের অভাবে আর আগানো হয় নি। তবে লেখার খুবই আগ্রহ আছে।
– অনেকেই আপনাকে নিজের ধারণা,জীবনের ঘটনা এবং ইচ্ছা প্রকাশ করে সেটা দিয়ে কবিতা,গল্প ইত্যাদি লিখতে বলে।তখন আপনার কেমন লাগে?
~ খুবই ভাল লাগে তখন। কারো জীবনী আমার কলমে উঠে আসবে এটা তো খুবই আনন্দের ব্যাপার!
– এরকম কতগুলো অনুরোধ পেয়েছেন? কতগুলো গ্রহণ করেছেন?
~ এরকম তিন চারটি করেছি। আর একটা গ্রহণ করেছিলাম তা এখনও লেখা হয়নি। আর সেটা হল হতাশাচক্র। আর অনুরোধ করেছিল সাক্ষাতকার গ্রহণকারী!
– আপনার অনেক ভক্তকূল আপনাকে কবিতা,গল্প,উপন্যাস,প্রবন্ধ ইত্যাদি বই আকারে প্রকাশ করতে বলে।কিন্তু এখনও আমরা আপনার লেখা কোনো  বই পাই নি।আপনি কি এভাবেই আপনার ভক্তদের নিরাশ করে রাখবেন?
~ কখনই না। বই প্রকাশ করার ইচ্ছা আছে। সামর্থ্য হলেই।
– কবিতা লেখার জন্য কি কি গুণ থাকা দরকার? বা কবিতা লিখতে হলে কি কি করা উচিৎ? যেমন তেমন না,আপনার মতো কবিতা।
~ আসলে কবিতা লিখতে যে গুন সবচেয়ে বেশি দরকার সেটা হচ্ছে অনুভূতি, আর বিষয় নির্দিষ্টকরণ। যদি কবিতার থিমটা সুন্দর হয় আর অনুভূতি গভীর থাকে, এর সাথে প্রাকৃতিক চিত্রকল্প বা উপমা ব্যবহার করলেই সুন্দর একটা কবিতা হয়ে যাবে ইন শা আল্লাহ। আর সর্বোপরি সৎ উদ্দেশ্য থাকতে হবে। আশা করা যায় সে ভাল লেখা উপহার দিতে পারবে ইন শা আল্লাহ!
– আপনি ত একজন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম হিসেবে হৃদয় কাঁপানো প্রেমের কবিতা লিখেন।অনেকে বলে,"হুজুর মানুষের মনে প্রেম ভালোবাসা নেই" এ ব্যাপারে আপনার কি মত?
~ কথাটা মোটেও ঠিক না। মানুষ মাত্রই প্রেম থাকবে, ভালবাসা থাকবে। হুজুর আর সাধারন বলে কোন তফাৎ নেই। বরং হুজুরদের মনে ভালবাসার খনি থাকে। সবাইকে দিতে পারে না, দেখাতে পারে না বলে এরকম মনে হয়। কিন্তু হুজুরদের প্রিয় মানুষেরা ঠিকই ভালবাসা পায়। যেমন আমার সাক্ষাত গ্রহণকারী পাচ্ছে।
– জ্বি ধন্যবাদ।আমিও আপনাকে ভালোবাসি।এটা অনেকেরই প্রশ্ন,"আমি কবিতা লিখি কিন্তু খুব খারাপ হয়।বলার মতো না।কিন্তু আমি কবিতা লিখতে চাই।আমি কি করব?"
~ সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,পাছে লোকে কিছু বলে। আমি কাক তাই বলে কি ডাক ছেড়ে দেব? কা কা করাই তো কাকের সৌন্দর্য! এই কা কা ডাকেই কাকের অনুভূতি প্রকাশ করে। সে শান্তি পায়। সুতরাং এগিয়ে যেতে হবে। সব কথা কানে নিতে নেই।
– আপনি ত নিজেই একজন কবি।নিজের লেখা ছাড়া যেহেতু আপনি নিজের নির্দিষ্ট কোনো কবিতা বিশেষভাবে পছন্দ করেন না,আপনার কোন কবিতা সবচেয়ে প্রিয়? আর আপনার প্রিয় কবি?
~ আমার প্রিয় কবি জসিমউদ্দিন। তার "কবর" কবিতাটি আমার খুবই প্রিয়।
– আপনার ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান?
~ আমি বলতে চাই- সুস্থ থাকার জন্য চাই সুস্তি মন আর দেহ। আর সুস্থ মানসিকতার জন্য চাই সুসাহিত্য। তাই আমার পাঠকদের বলব সুসাহিত্য পড়ুন। যারা প্রকৃত জীবনের সন্ধান দেয়, সত্য ভাবতে শেখায়, সত্যের কাছে পৌছে দেয় তাদের লেখা পড়ুন। তাদের উৎসাহিত করুন। মনে রাখবেন দুর্জন বিদ্যান হলেও সঙ্গ পরিত্যাজ্য!
– ধন্যবাদ আপনার এতো মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য।
~ তোমাকেও ধন্যবাদ আমার মত নগণ্য মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published.