«

»

Jun ১৮

বর্তমান সামাজিক সংগঠন এবং কিছু কথা

-দোস্ত টাকা আছে?
~কীসের জন্য?
-দানের জন্য। "ক" তে টাকা দিবি?
~সরি আমি অলরেডি "খ" এ টাকা দিচ্ছি
-আমাদেরকেও কিছু দে
~তোদেরকে দিব মানে? আমি ত অলরেডি "খ" তে টাকা দিচ্ছি
-হ্যাঁ কিন্তু বেশি বেশি দান মানে বেশি বেশি সওয়াব।
~আমার যতটুকু ইচ্ছা দিয়েছি।দান কখনো জোর জবরদস্তি করে হয় না।তাছাড়া আমি "ক" তে দেই বা "খ" তে দেই মূল কাজ ত গরীবদেরই সাহায্য করা……….
-না তাও…..
~আমার "ক" পছন্দ না

এখানে "ক" এবং "খ" হচ্ছে দুটি ভিন্ন সামাজিক সংগঠন যারা গরীবদের খাওয়ানো,কাপড় দেয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে থাকে বা করে বলে দাবী করে।এক কথায় "Social Organization" ।বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই "Social Organization" এর ধারণাটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।হুজুগে বাঙালির মত "গরীবদের" সাহায্য করব ভেবেই অনেকে এগুলোর সাথে জড়িয়ে পড়ছে।আবার অনেকে জনপ্রিয়তা,টাকার লোভ ইত্যাদি পার্থিব এবং ব্যক্তিগত অসৎ স্বার্থসিদ্ধির জন্যও এই কাজ করছে।মূলত আমার লেখাটা এই Social Organization নিয়েই।

লেখাটির শুরুতে যে কথোপকথনটি দেখেছেন সেটা আমার এবং এরকমই এক Social Organization এর সদস্যের মধ্যে।গোপনীয়তা রক্ষা করতে এখানে আমি  Screenshot ব্যবহার করি নি।যদিও ছবি Blur করে দেয়া যেত তাও দেই নি।যেহেতু ঘটনাটা খুব অস্বাভাবিক না এবং বেশ প্রচলিত একটি ঘটনা এবং অনেক স্থানেই ঘটে থাকে তাই এর প্রমাণ দেয়া লাগবে না বলে মনে করি।বর্তমানে অনলাইনে রক্ত দানের মত ভালো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।যেকোনো সময় ফেসবুকে বা কোনো গণযোগাযোগমাধ্যমে রক্ত,শীতবস্ত্র,খাবার,ত্রাণ ইত্যাদির ব্যবস্থা করা যাচ্ছে।কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ একেও নিজের অসৎ উদ্দেশ্যের অস্ত্র বানিয়ে নিয়েছে।

আমি আগে থেকেই জানিয়ে দিচ্ছি আমি কোনো সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত না এবং নির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের পক্ষপাতিত্ব বা বিরোধীতা করছি না এবং কোনো নির্দিষ্ট সংগঠনের নাম উল্লেখ করছি না।কোনো সংগঠনের সাথে মিলে গেলে লেখকের সেই সংগঠন না বরং সেই সংগঠনের কাজকর্মের(অসৎ) সাথেই সমস্যা।

এবার মূল কথায় আসি।অধিকাংশ সংগঠনগুলোই(আমাদের উত্তরা এলাকাতে) পরিচালিত হয় কিশোর-কিশোরীদের দ্বারা যারা কিনা সর্বোচ্চ কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর।এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।বয়স না, মানুষ বিচারই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিৎ।সমস্যা হলো এই সংগঠনগুলোর প্রতিষ্ঠা যারা করে তাদের অধিকাংশের উদ্দেশ্যই থাকে "সাহায্য করব" এটা না বরং নিজে প্রতিষ্ঠিত হবো,সমাজে নিজের একটা "Image" বানাবো,Facebook এ ছবি আপ্লোড দিব,Works at "ক",Volunteer at "খ",Representative at "গ",President at "ঘ" ইত্যাদি।হ্যাঁ কিন্তু এমন মানুষও আছে যারা সত্যিই ভালো কাজ করার জন্যই এসব সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে এবং গরীবদের সাহায্য করার জন্যই এসব সংগঠনে যোগ দেয়।কিন্তু এই সংগঠনগুলো আদৌ কি গরীবদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে নাকি অন্যান্য উদ্দেশ্য আছে সেগুলোও বিবেচনা করা উচিৎ।

পরের যে বিষয়টি সেটা হচ্ছে এদের নিজস্ব Logo,Franchise ইত্যাদি।আমার এই বিষয়টা কোনোভাবেই বোধগম্য হয় না যে এদের কেনো নিজেদের সংগঠনের নামে Logo বানিয়ে শার্ট,প্যাণ্ট বানাতে হবে?আবার সেগুলোই গরীবদের দিতে হবে এবং নিজেদেরও পড়তে হবে? কেন ভাই? সংগঠনের নাম না দিয়ে কি গরীবদের সাহায্য করা যায় না?হয়ত বলবেন ভাই এতে জনপ্রিয়তা বাড়বে এবং আমাদের আরও মানুষ সাহায্য করতে আসবে।আমি বলি,"রাখেন আপনার ২ নম্বরী যুক্তি" আপনি কি মনে করেন দরিদ্র মানুষের অভাব পড়েছে? রাস্তায় বের হইলেই দেখা যায় দরিদ্র মানুষ।প্লাস আপনি কি মনে করেন আপনাদের সংগঠনকে দান করার জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছে? মোটেই না।যাদের সাহায্য করার ইচ্ছা আছে তারা কোনো না কোনো ভাবে সাহায্য করেই।তাদের কোনো সংগঠন লাগে না।যারা যাকাত দেয়,ফিতরা দেয়,ভিক্ষা দেয়,গরীবদের খাওয়ায় তারা কোনো সংগঠনের জন্য অপেক্ষা করে না যে হ্যাঁ উমুক সংগঠন আসবে এবং উমুক সংগঠনকে যাকাত,ফিতরা,ভিক্ষা,গরীবদের খাওয়ানোর জন্য খাবার দিব।

এখন হয়ত অনেকে বলবেন,"ছবি আপ্লোড দেই যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে তাদের টাকাটা আমরা মেরে দিচ্ছি না।তাদের টাকাটা ঠিক জায়গাতেই পৌছেছে" বাহ! ভাজ্ঞিস ক্যামেরা আবিষ্কার হয়েছে,ফেসবুক,ইন্সটা আবিষ্কার হয়েছে নাহলে জানতামই না যে আদৌ আমাদের দান ঠিক জায়গায় যাচ্ছে নাকি।আরে ভাই অযুহাতকে আর কত যুক্তি বা কারণ নাম দিয়ে চালিয়ে দিবেন? উমার ইবন আব্দুল আজিজের নাম শুনেছেন? ইসলামের ৫ম খলিফা বলা হয় যাকে।তার সময় যাকাত দেয়ার মতো মানুষই পাওয়া যেত না।কই তার সময় ত ক্যামেরা,ইন্সটা কিছুই ছিল না।তাহলে তারা কীভাবে সঠিক মানুষদের কাছে ত্রাণ,যাকাত পৌছে দিল।তাছাড়া বিশ্বে এত গরীবদের কাছে ত্রাণ যাচ্ছে,যাকাত-দান যাচ্ছে কই কত জায়গায় মানুষ প্রমাণ চায় যে তাদের টাকাগুলোর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে কিনা?কয়জন আছে যারা যাকাত,দান,ভিক্ষা দিয়ে সেগুলো সঠিক মানুষের কাছে গিয়েছে কিনা তার প্রমাণস্বরূপ হিসাব চায়?আসলে কথা এইটা না।কথা হচ্ছে আমরা সমাজসেবা করছি এটা ত মানুষদের দেখাতে হবে,ফেসবুকে পোস্ট দিতে হবে,জনপ্রিয়তা লাভ করতে হবে এবং মানুষের সামনে একজন মহামানব হিসেবে খ্যাতি লাভ করতে হবে।

ক্যামেরা যখন ছিল না তখনও ভন্ডামি ছিল এবং ক্যামেরা আবিষ্কারের পরও ভন্ডরা রয়ে গেছে।বরং আরও বেড়ে গেছে।এই বিষয়ে একটা প্রশ্ন,"আপনারা যেসব মানুষকে খাওয়াচ্ছেন,সাহায্য তারা যে সত্যিই গরীব এবং আদৌ ভন্ড না এটা প্রমাণ করতে পারবেন?"পারবেন না।এটা সম্ভব না আমিও জানি।এর উত্তরে বলবেন,"বিশ্বাস এবং উদ্দেশ্য" যেই কথাটা বের করার জন্য আমার এতো লেখা।আপনি যদি সৎ উদ্দেশ্যে একজন ভন্ডকে সাহায্য করলেও সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।অন্যদিকে অসৎ উদ্দেশ্যে একজন ভালো মানুষকে সাহায্য করলেও আপনি একজন নিম্ন মানসিকতার মানুষ বলেই বিবেচিত হবেন।

আরেকটি বিষয়।সেটা হচ্ছে এসব সংগঠনের Marketing Manager ও আছে।শুধু তাই না এই রমযান মাসেই এসব সংগঠনগুলোর হয় ইফতার পার্টিসহ নানা অনুষ্ঠান।Event এর কথা না হয় বাদই দিলাম।ব্যাপারগুলো বুঝছেন? এরা অলাভজনক সামাজিক সংগঠনের নাম করে কি ধরণের হারাম ব্যবসা শুরু করেছে?একটা উদাহরণ দেই।রোজ ফিলিস্তিনিদের,মিয়ানমারের  রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার মানুষ তাদের সাধ্যমত ত্রাণ পাঠাচ্ছে যদিও যথেষ্ট না।এসব ত্রাণ যেসব মানুষ পাঠাচ্ছে তাদের কতজনের ত্রাণ পাঠানোর জন্য ফেসবুকে ছবি দিয়ে পোস্ট দিয়েছে বা নিজেদের Logo,Franchise বানায় প্রচার করছে?

এরাই প্রকৃত সমাজসেবক,এরাই প্রকৃত মানবতাবাদী,এরাই মানুষ।এদের মত সমাজসেবকই দরকার।তাদের প্রতি রইল আমার অসীম শ্রদ্ধা।যাদের উদ্দেশ্য শুধু এতটুকু-"সাহায্য করব।গরীবদের উদ্ধার করব।অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াব"।আর কিছু না।

"যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান-খয়রাত কর, তবে তা কতইনা উত্তম। আর যদি খয়রাত গোপনে কর এবং অভাবগ্রস্তদের দিয়ে দাও, তবে তা তোমাদের জন্যে আরও উত্তম। আল্লাহ তা’আলা তোমাদের কিছু গোনাহ দূর করে দিবেন। আল্লাহ তোমাদের কাজ কর্মের খুব খবর রাখেন।"(সূরা বাকারাহ,আয়াত-২৭১)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.