«

»

Jun ০৯

জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’একটি শ্রেষ্ঠ সমকামী কবিতা !!!

13_index

কবি জীবনানন্দ দাশ ও তার ‘বনলতা সেন’ কবিতা বাংলা সাহিত্যে একটি বহুল আলোচিত বিষয় । তার কাব্যে কারণে-অকারণে তরু-গুল্ম-লতা-পাতা ঝোপঝাড়ের এত বর্ণনা পাওয়া যায় যে তাকে কবি না বলে একজন অকৃত্রিম বনসংরক্ষক বা ফরেষ্ট গার্ড বলে ভ্রম হতে পারে। বাংলাভাষার কোন কবির সম্ভবত এত গাছপালার নাম-ধাম জানা নেই।

কবি তারই অকৃত্রিম পুরুষ বন্ধু বনলতা সেন বাবুকে নিয়ে রচিত ‘বনলতা সেন’ বাংলা সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠ সমকামী কবিতা !! বহুল আলোচিত কবিতা বলেই এর ব্যাপক বিচার-বিশ্লেষণ প্রয়োজন। দীর্ঘদিন থেকে কবিতাটি একইভাবে পাঠ করা হচ্ছে। বেশীরভাগ পাঠক কবিতাটি সম্পর্কে পূর্ব-ধারণা নিয়ে কবিতাটি পাঠ করছেন। যার ফলে কবিতাটি তার বহুমাত্র্র্রিক ব্যাখা-বিশ্লেষণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।’বনলতা সেন’কে ঘিরে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন নীচে তুলে ধরলামঃ-

বনলতা সেন কি নারী না পুরুষ কবিতটিতে তা স্পষ্ট নয়।”অন্ধকার বিদিশার নিশার মত চুল” এবং “শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মত মুখ” এবং “পাখীর নীড়ের মত চোখ” নারী/পুরুষ যে কারো থাকতে পারে। বরং দীঘল কেশ,কাজল-টানা চোখ এর কথা উল্লেখ থাকলে বনলতা সেন যে আসলেই একজন নারী তা নিশ্চিত হওয়া যেত।
পুরো কবিতায় বনলতা সেন কর্তৃক কোন মণীয় পোষাক যেমন, শাড়ীর আচল, স্তন-আবরণী উড়না/উত্তরীয় এসবের বর্ণনা নাই। এছাড়া কোনরকম প্রসাধনী/অলংকার ব্যবহারের বর্ণনা নাই। বাঙালী নারী প্রসাধন-প্রিয়,বিশেষ করে সুন্দরী নারীরা এ ব্যাপারে আরো সচেতন। বনলতা সেন পুরুষ বলেই কি এসব কবির নজরে আসেনি ?

কবি কি সমকামী ছিলেন ? যতদূর জানা যায় কবির সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্ক ভাল ছিল না, তাই কি গৃহত্যাগী বিবাগী কবি তার পুরুষ বন্ধু বনলতা সেন বাবু’কে অন্ধকারে আকাঙ্খা করেন ?

 শুধু চুল,মুখ ও চোখের বর্ণনা নারী দেহের সৌন্দর্য বর্ণনার জন্য যথেষ্ট কিনা ? নারী দেহের আকর্ষণীয় প্রত্যঙ্গ যেমন, বিল্ব স্তন, পদ্মযোনী, গুরু নিতম্ব এসব বর্ণনার অনুপস্থিতি কি তার নারী-সৌন্দর্যের ঘাটতি কিংবা বনলতা সেন বাবু একজন পুরুষ একথার ইঙ্গিত দেয় না?

পাখীর নীড় বলতে আমরা দেখি, কুড়িয়ে আনা খড়কুটোর নিশ্চল নিষ্প্রাণ বিবর্ণ স্তূপ।কাজেই পাখীর নীড়ের মত চোখ বলতে চোখে-ছানিপড়া ভাবলেশহীন বৃদ্ধার চোখের কথাই মনে আসে।

 “অন্ধকার বিদিশার নিশার মত চুল” এবং “শ্রাবস্তীর কারুকার্যের মত মুখ” সার্বজনীন উপমা কিনা? [সোনালী চুল ইংরেজদের প্রিয় এবং সরল মুখশ্রী অনেকের পছন্দ]
 “অন্ধকার বিদিশার নিশা” দ্বারা নিষ্প্রদীপ বিদিশা নগরীকে বুঝায় না। কাজেই ঘন-কালো চুলের উপমা হিসেবে এটা সঠিক নয়।
 অন্ধকারে বনলতার সাথে সাক্ষাৎ করে বনলতার সৌন্দর্য সম্পূর্ণ অবলোকন করা সম্ভব কিনা?

 বনলতা সেনের প্রতি কবির প্রেম কি একতরফা?
বনলতা কি শুধুই সৌন্দর্যময়ী না প্রেমময়ী? বনলতা সেন চরিত্রে প্রেম ও সৌন্দর্যের অসম সংমিশ্রণ পরিলক্ষিত হয়।
 জীবনানন্দের প্রতি বনলতা সেনের প্রকৃতই প্রেম নাকি একজন চরম হতাশাগ্রস্থ পুরুষের প্রতি সহানুভূতি?
 কবি বনলতা সেনকে কেন অন্ধকারে আকাঙ্খা করেন? [ ডঃ আকবর আলী, প্রাক্তন উপদেষ্টা,তত্ত্বাবধায়ক সরকার টিভি চ্যানেলে একই প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন]

 বনলতা কি বিবাহিতা না কুমারী? কবির সাথে এই সম্পর্ক কি পরকীয়া?
 কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিলেন বনলতা সেন, এই শান্তি কি শুধুই মানসিক নাকি দৈহিক যৌন তৃপ্তি?
 নাটোরের বনলতা সেন কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েছিলেন,তবে কবি আর কোথায় শান্তি পেতে ব্যর্থ হয়েছেন?
 হাজার বছরের ক্লান্ত কবি মাত্র দুদন্ড শান্তি পাওয়ার কথা অতৃপ্তির সাথে অভিমান-ভরে জানিয়েছেন। কবির এই অপূর্ণ প্রাপ্তির বেদনা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করে। কবিতাটিতে প্রাপ্তির চেয়ে প্রত্যাশাই প্রধান্য পেয়েছে।
 নাটোরের বনলতা সেন এর সাথে কবির কি নাটোরেই দেখা হয়েছিল নাকি অন্য কোথাও…
 কবি যে সময়ের নাটোরের বনলতা সেন এর কথা বলেছেন সে সময়ে নাটোরে সেন বংশীয়া সম্ভ্রান্ত সুন্দরী রমণী বসবাস করতেন বলে জানা যায় না।

 “বনলতা সেন” কবিতা জুড়ে একজন পর্যটকের বর্ণনা প্রাধান্য পেয়েছে নাকি একজন প্রেমিকের উচ্ছাস প্রাধান্য পেয়েছে?
 কবি কি শুধুই ভ্রমণ-ক্লান্ত ছিলেন নাকি দেহে-মনে অতৃপ্ত ছিলেন?
 বনলতার সাথে কবির এই মিলন দুটি অসমবয়সী নর-নারীর মিলন কিনা,কারণ দীর্ঘ পথচলার শেষে কবি বনলতা সেনের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। আর সেজন্যই কি অসমবয়সী কবিকে দু’দন্ড শান্তি দিয়েই বনলতা সেন আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন?
 কবি কি শেষ পর্যন্ত একজন প্রত্যাখাত পুরুষ ? জীবনানন্দ ছিলেন দাশ বংশীয় আর বনলতা ছিলেন সেন বংশীয়া- এ জন্যই কি বননলতা অসবর্ণ সম্পর্কে সম্মত হননি।

 কবিকে বনলতা সেনের তির্যক প্র্রশ্ন– এতদিন কোথায় ছিলেন’? বনলতা সেন কি কবিকে সন্দেহ করতেন? মনে হয় অন্ধকারে সাক্ষাৎ করতে আসায় বনলতা সেন কবির উপর খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন।
 বনলতা সেন কবিকে খুব বেশী ভালবাসতেন বলে মনে হয় না। কারণ কবি এতদিন কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে ও কেমন ছিলেন জানতে চাওয়া হয়নি। কাজেই দীর্ঘ অদর্শনের পর নায়ক-নায়িকার আবেগময় সাক্ষাৎ এখানে অনুপস্থিত।
 বনলতা সেন কি কবিকে অনাগ্রহের সাথে বরণ করেছিলেন ,না হয় মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে সাদর অভ্যর্থনার বর্ণনা কবিতাটিতে অনুপস্থিত কেন?
 অন্ধকারে কবির উপস্থিতি টের পেয়ে ও বনলতা কেন প্রদীপ জ্বালেননি ? অন্ধকারের সাক্ষাৎ পর্বটি প্রচলিত নৈতিকতা-বিরোধী কিনা?

 “ডানায় রোদের গন্ধ মুছে ফেলে চিল”–’রোদের রঙ’ এর জায়গায় ‘রোদের গন্ধ’ লেখার মত ভুল তথ্য কি একজন কবির কাছ থেকে আদৌ প্রত্যাশিত ? কবি কি বর্ণান্ধ ছিলেন?
 তাছাড়া কবির চিন্তাধারায় যথেষ্ট অসামঞ্জস্যতা বিদ্যমান। হাজার বছর পথ হাটার কথা বলে পরক্ষণেই জলপথে সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগরের বর্ণনা দিয়েছেন। মনে হয় কবি চিন্তার খেই হারিয়ে ফেলেছেন।
 মালয় সাগরের আদৌ কোন ভৌগলিক অস্তিত্ব আছে কিনা? এখানে কবির ভৌগলিক জ্ঞানের দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়।

 কবির ভৌগলিক বর্ণনা প্রাচীন এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সীমিত — তাহলে এই বর্ণনা কিভাবে সকল দেশ কালের পুরুষের প্রতিনিধিত্ব করে? এটি এশিয়াবাসী হতাশাগ্রস্থ পুরুষের নারীর কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ।
 বনলতা সেন কবিতায় সাগর,সবুজ ঘাসের দ্বীপ,হালভাঙা নাবিক,নদীর উল্লেখ থেকে সমুদ্রগামী জাহাজে দীর্ঘদিন নারীসঙ্গবর্জিত নাবিকদের কথা মনে আসে। এটি স্থলভাগের পুরুষের স্বগতোক্তি কখনো নয়। সার্বজনীন পুরুষ এখানে অনুপস্থিত।
 কবি মাত্র্র হাজার বছর পৃথিবীর পথে হেটেছেন– এ দ্বারা কবি হাজার বছরের পুরুষের কথাই বলেছেন,বক্তব্যটি সর্বকালের পুরুষকে ধারণ করেনি।
 কবিতাটিতে আদিম যুগের শিকারী ও শিকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। পুরুষ শিকারী তার নারী শিকারকে খুজে বেড়ায়। এখানে ও নারী পুরুষের অসম আচরণ পরিলক্ষিত হয়। অর্থ্যাৎ পুরুষ সকর্মক নারী অকর্মক/নিষ্ক্রিয়।
 ‘মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন’ থেকে বোঝা যায় কবি ও বনলতা সেন সম্ভবত খুব ঘনিষ্ট ছিলেন না, না হলে উভয়ে পাশাপশি না বসে মুখোমুখি বসেছিলেন কেন? অর্থ্যাৎ বনলতা সেন কবির থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।

 বনলতা সেন চরিত্রটি (সুন্দরী,অহংকারী,পুরুষবিদ্বেষী যিনি পুরুষকে দুদন্ড শান্তি দিয়েই ছুড়ে ফেলে দেন এবং স্থায়ীভাবে গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক) যা সুন্দরী নারীদের বহুগামীতার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেয়।
 জীবনানন্দ চরিত্রটি (ভীতু,হতাশাগ্রস্থ,অতিমাত্রায় নারীপ্রেমিক যিনি নারীকেই শান্তি-স্বরূপা বলে মনে করেন,ঈশ্বর কিংবা প্রকৃতি তাকে কোন শান্তি দিতে পারে না) যিনি নারীর নিকট কাতর আবেদন-নিবেদনে অভ্যস্ত এবং নারীকে স্থায়ীভাবে অধিকার করতে জানেন না।
 বনলতা সেন কবিতায় ধূসর জগত,অন্ধকার বিদিশার নিশা,থাকে শুধু অন্ধকার– এসব বর্ণনা থেকে বলা যায় এটি একটি বিবর্ণ বর্ণের কবিতা।

 তাই সবশেষে বলা যায় হাজার বছর ধরে অনোন্যপায় পুরুষ যে নারীর আকাংখা করে এসেছে তাকে না পেয়ে কল্পনায় কিছু সুখ খুজে নিয়ে বাচতে চেয়েছে। একজন কবি হযত হাজার বছর নারীর সন্ধান করে ক্লান্ত হয়ে বনলতা সেন এর নিকট আশ্রয় চেয়েছেন কিন্তু একজন প্রকৃত নারীর সন্ধান লাভের জন্য পুরুষ জাতিকে হয়তো অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে বনলতা সেনই সর্বশেষ ও চূড়ান্ত কাম্য নারী হতে পারে না।।

 

১১ comments

Skip to comment form

  1. 10
    Anonymous

    he is a goat.Jibonanondo is unparallel

     

  2. 9
    নাছির আহমদ

    সময় নষ্ট করলাম।

     

  3. 8
    নাহিন রহমান

    ভাই, আপনি অসাধারন মস্তিষ্ক নিয়া জন্মিয়েছেন-
    যে তাজমহলেরর সামনে দাঁড়ায়ে বলবে-
    “উহু! সেরকমটা হয়নি-
    এ পাথরটা দেখলে?… কেমন বাঁকা?… শাজাহান একটা পাথরের বস্তাই বানিয়েছে”
    সৌন্দর্যবোধ হল একটা অনুভূতি-
    অনুভব করতে শিখুন-
    তখন রৌদ্রের গন্ধ পাবেন-
    অযৌন নারী পাবেন,
    --
    পারলে জীবনবাবুর অধ্যাপক কবিতাটা পড়েন-

  4. 7
    Al Murshed

    নির্ভীক আস্তিক,
    আপনি ছদ্মনামে যেই হয়ে থাকুন- আমার সম্পর্কে আপনার আদৌ কোন  ধারণা নেই তা স্পষ্ট বোঝাই যাচ্ছে। সদালাপে আপনার আবির্ভাব হবার আগে আমি ব্লগ লিখতাম। সদালাপের ব্লগ লেখকদের তালিকায় আল মোর্শেদ নামে যার লেখাগুলো আছে আমি সেই ব্যক্তি। আমার সম্পর্কে আরো জানার আগ্রহ থাকলে জনাব রায়হান সাহেবের কাছ হতে জেনে নিন। আপনার প্রতিটি বাক্যের উপযুক্ত উত্তর আমি দিতে পারি ।তবে শেখ শাদীর উপদেশ অনুসরণ করাই শ্রেয় মনে করছি। আর Online Trolling কী জিনিস সে বিষয়ে আপনার স্পষ্ট ধারণা আছে বলে মনে হয় না ।
     

  5. 6
    Al Murshed

    ধার্মিক মুসলিমের কবিতা পড়ার বা বোঝার দরকার পড়ে না। আবার কোন ধার্মিক মুসলিম যে ভাল কোন কবিতার স্বাদ নিতে পারবেন না -এমনও কোন কথা নেই। এটা যার যার ব্যক্তিগত রুচির ব্যাপার।আর কবি জীবনানন্দ দাশ কতো বড় মাপের কবি ছিলেন সেটা যে কোন বাংলা -ভাষাভাষী কবিতা প্রেমিক বাংগালি/বাংলাদেশি স্বীকার করবেন। আপনি ধার্মিক হয়ে থাকলে এবং কবিতার কোন বোধ না থাকলে ধর্ম নিয়ে লিখলেই তো পারেন। জীবনানন্দ দাশ বাংলাদেশের মাটির একজন খাঁটি সন্তান ছিলেন। তিনি একজন প্রকৃতি প্রেমিক কবি ছিলেন। কোন দিন মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন বলে জানি না। শুধু তিনি হিন্দু ছিলেন বলেই কী আপনি এমন সব কথা লিখলেন যা পড়ে কবিতার সমালোচনা করার যোগ্যতা তো দূরের কথা- আপনার যে কোন কবিতার বোধ নেই তাই স্পষ্ট হয়ে গেছে। কথাগুলি কড়া মনে হলেও না লিখে পারলাম না। সদালাপে এ ধরণের আবর্জনা কীভাবে ছাপা হলো তাও বুঝতে পারলাম না । এ ধরণের লেখা সদালাপের মান কমিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

    1. 6.1
      নির্ভীক আস্তিক

      মোরশেদ ভাই কেমন আছেন ? শরীল সাস্থ্ ভাল তো ? ধার্মিক শুঁকতে শুঁকতে দেখি একদম সদালাপে এসে পড়লেন।  এই লেখকের সমালোচনা অনেক মুসলমানরা ধার্মিকরা তো করেছেনই। উপরের মন্তব্যগুলো দেখুন। সদালাপের কর্তামশাই এসেওতো শাসিয়ে দিলেন এবারের মত করে, এরপরে আবার করলে উনাকে কানমলা দিবেন এমনকি প্রয়োজনে আরো কঠোর হবেন। তা আপনার নাস্তিক্তাবোধকে(আপনাকে কেন নাস্তিক পাঠা ডাকছি তা নীচে ব্যক্ষা করছি) আবার ঘষেটি বেগমের মত "এখানে ধর্ম আর কবিতাবোধ কে গুলিয়ে" ছাইপেষ আজেবাজে  মন্তব্য করতে কে বলল?

        ধার্মিক মুসলিমের কবিতা পড়ার বা বোঝার দরকার পড়ে না। আবার কোন ধার্মিক মুসলিম যে ভাল কোন কবিতার স্বাদ নিতে পারবেন না -এমনও কোন কথা নেই।

      কেন দরকার পড়ে না ? আপনার এই অনুসিদ্ধান্তের হেতুটা কি? এখানে সমালোচক কি হিন্দু মুসলিম অথবা হিন্দুত্ব আর ইসলাম এনেছেন ? দরকার পড়ে না বলেই আবার পরক্ষনে বললেন "পারবেন না এমন কোন কথা নেই।"

      আর কবি জীবনানন্দ দাশ কতো বড় মাপের কবি ছিলেন সেটা যে কোন বাংলা -ভাষাভাষী কবিতা প্রেমিক বাংগালি/বাংলাদেশি স্বীকার করবেন।

      জী, এবং তাই তার রচনার সমালোচনা এর আগেও সদালাপের অনেক ধার্মিক মুসলমান লেখকরা করেছেন এবং তার অনেক পোষ্ট সদালাপের নিয়মিত ধার্মিক-সঞ্চালক-মুসলমান লেখকগন এড়িয়ে চলেন শুরু থেকেই। উপরের সমালোচনাই তার অনেক প্রমাণ। এর আগেও এম আহমদ ভাই সহ অনেকেই সমালোচনা করেছেন।

      আপনি ধার্মিক হয়ে থাকলে এবং কবিতার কোন বোধ না থাকলে ধর্ম নিয়ে লিখলেই তো পারেন।

      ব্যক্তি ধার্মিক হওয়ার সাথে কবিতার বোধ না থাকার সম্পর্ক কি? সম্পর্ক না থাকলে এখানে এই আপনি সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব এখানে এই কথা টানলেন কেন? লেখক কি ইসলামকে সামনে রেখে তার "গরু খোঁজা" থেকে প্রাপ্ত অনুসিদ্ধান্ত এখানে টেনেছেন ? কোন অংশে সেটি মনে হয়েছে একটু উল্লেখ করেন তো দেখি।

      কোন দিন মুসলিম বিদ্বেষ নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন বলে জানি না। শুধু তিনি হিন্দু ছিলেন বলেই কী আপনি এমন সব কথা লিখলেন যা পড়ে কবিতার সমালোচনা করার যোগ্যতা তো দূরের কথা-

      মুসলিম বিদ্বেষীপনা করেছেন বলেইযে অথবা জীবনান্দ হিন্দু বলেই যে এই প্রাবান্ধিক কবিতার অমন সমালোচনা করেছেন তা আপনার কাছে কেন মনে হল? রচানাটির কোন অংশ থেকে সেটি মনে হয়েছে? এই রচনার পরিসরে আপনার এই মন্তব্য যে একটি Trolling সেটি বুঝতে পারছেনতো। অপ্রাসাঙ্গিক মন্তব্য করা অথবা Context এর বাহিরে এসে ধর্ম নিয়ে টানাটানি করা মৌলবাদী নাস্তিক সম্প্রদায়ের একটি স্বভাবজাত মূদ্রাদোষ বলেই কি আপনি অমন মন্তব্য বলছেন ? এখনি বলার দরকার নেই, একটি সময় নিয়ে ভেবে বলুন।

      আপনার যে কোন কবিতার বোধ নেই তাই স্পষ্ট হয়ে গেছে। কথাগুলি কড়া মনে হলেও না লিখে পারলাম না।। সদালাপে এ ধরণের আবর্জনা কীভাবে ছাপা হলো তাও বুঝতে পারলাম না । এ ধরণের লেখা সদালাপের মান কমিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

       আমার কষ্ট হলেও ই অংশের সাথে অনেকখানি একমত তাই এখানে ইস্তফা না দিয়ে পারলাম না। No hurt feelings.

       

  6. 5
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    মুক্তমনার আকাশ মালিক টাইপ বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা। দেখা যাচ্ছে- কল্পনায় মনমত রঙ মাখিয়ে ব্যক্তি চরিত্র কলুষিত করতে ইসলাম-বিদ্বেষী হওয়া নেসেসারি কন্ডিশন নয়। আশাকরি লেখক সদালাপের পাঠক-পাঠিকাদের মন্তব্যগুলি মনযোগ সহকারে পড়ছেন ও এ ব্যাপারে ভবিষ্যতে সতর্ক হবেন। সুলতা নিয়ে সেতো একরকম ছিল, এখন আবার বনলতার পিছনে কেন? এটিকে রম্য রচনা বলে হালকা করার সুযোগও পেলাম না। ধন্যবাদ। সম্পাদক, সদালাপ।      

  7. 4
    সাদাত

     সাহিত্য সমালোচনা করতে চান, ভালো কথা; কিন্তু সেই সমালোচনার তো একটা ন্যূনতম মান থাকতে হবে।

  8. 3
    Lutfunnesa

    সাহিত্য কোন ব্যক্তিগত আক্রমনের বিষয় নয়।  একজন লেখক কবে কি করেছিলেন,  তারসাথে কার ঘনিস্টতা ছিল তার ব্যক্তিগত জীবন কেমন ছিল  এ সব তার  সাহিত্যের মানদণ্ড হতে পারে না।  বনলতাসেন সমকামি কবিতা নাকি সাভাবিককামি কবিতা এসব অবান্তর প্রশ্ন।

  9. 2
    নির্ভীক আস্তিক

    মো; মিজানুর রহমান চৌধুরী নামে কোন একজন সদালাপ পাঠক এর আগে আপনার "বনলতা সেন কে ঘিরে অনেক অমীমাংসিত প্রশ্ন" শীর্ষক প্রবন্ধে একটি মন্তব্য করেন যেখানে তিনি ব্যাক্ষা করেন কবিতার ভাববস্তু এবং সেখান থেকে নির্দিষ্ট কোন অনুসিধান্তে পোঁছানোর জটিলতা নিয়ে। তিনি খুব সুন্দরভাবেই ব্যাক্ষা করেছিলেন কিন্তু আপনি তার মন্তব্যের জবাব না দিয়ে আপনার গড়া অনুসিদ্ধান্তে পৌঁছালেন।

    আমি মিজানুর রহমান চৌধুরী ভাইয়ের মন্তব্যটি এখানে আবার দিচ্ছি আর সেই সাথে সদালাপের সম্পাদককে বিনীত অনুরোধ করছি এধরনের পোষ্ট সদালাপে নিয়মিত আসার ফলে সদালাপের Reputation কোন ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন  হতে পারে কিনা ভেবে দেখার জন্য। এর আগেও সদালাপের  নিয়মিত লেখকদের এই লেখকের সমালোচনা করতে দেখেছি।

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ফেরত এক প্রবীন বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপকের মুখে এর ভিন্ন এক আঙ্গিক পর্যালোচিত হয়েছে। সবিশেষ আলোচনায় না গিয়ে অনেক আগে শোনা বিবৃতিটি এরকমঃ

    " বনলতা সেন আর কেউ নন, সে হলো আমাদের এই বাংলা ভাষা। হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় এই বাংলার মাটিতে ঠাঁই গেঁড়েছে উপমায় নাটোরের সেই নিবিড় প্রকৃতির আসনে, সে-ই নাটোরের বনলতা সেন যেন ! এখানে শান্তির নীড় খুঁজে পেয়ে সবুজ ঘাসের দেশ এই বাংলায় স্থায়ী হলো এই অঞ্চলের মাটি ও মানুষের মাঝে। বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে ছিলেন–এই সেই পথ চলার একটা ধাপ, সেই অশোক লিপির ভাষার ধারাবাহিকতায় আজকের এই বাংলা ভাষা ! সমস্ত ব্যস্ততার শেষে সমস্ত পাখি যখন ঘরে ফিরে, এই ভাষার আয়োজন ভাবে, লিখনীতে মানুষের মাঝে একান্তে প্রকাশের ধারায় এক হয়ে যায়। এই হঠাৎই যেন অভাবনীয়কে পাওয়া যেন, তাই প্রশ্ন, এই ভাবের ভাষার প্রকাশের স্বরূপকেই প্রশ্ন, 'এতদিন কোথায় ছিলেন?' আর সেই ভাষারই একান্ত অবস্থান, মনের কথায় একান্তে, নিবিড়তায় সবকিছু গুটিয়ে যাওয়ার পর মানুষের পরম মরম প্রকাশের অভিব্যক্তিতে মুখোমুখি, কবি এখানেই  তাকে পেয়েছেন একান্তে।" 

     

    কবিতা কি বোঝায়? কবিতা আসলে কি যে বোঝায় তা সম্ভবত যিনি কবি তাঁর উপরেও নির্ভর করেনা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর সাহিত্য সমালোচনায় তাঁর নিজের কবিতার উপরেও এই স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছিলেন। কথা হচ্ছিল তখন সোনার তরী লিখনী নিয়ে। একেকজন যখন একেকভাবে ব্যাখা বিশ্লেষণ করে যাচ্ছিলেন, তিনি ঐটুকুতেই সন্তষ্ট ছিলেন, যে এই কবিতা যদি আর কিছু না বুঝালেও শুধু একটি কল্পচিত্রও তৈরি করে, সে-ই যথেষ্ট। কবিতা লেখার স্বাধীনতা কবির আছে, কিন্তু এর ব্যাখ্যার স্বাধীনতা কবিরও ততটুকু নেই যতটুকু পাঠকের রয়েছে। এর উপলব্ধি, উপমা আঙ্গিক যেভাবে যার কাছে যেরূপ ফুটে উঠে সেইটুকুই তাঁর জন্যে যথেষ্ট।

     

    কাব্য প্রেমিকদের জন্য এই প্রশস্তিই যথেষ্ট, কাব্য কোন কিছু বুঝায় না। অনুভবই এর আঙ্গিক। যে যেভাবেই গ্রহণ করুক। 'কবি মনোভূমি, রামের জন্মভূমি অযোধ্যা হতে সত্য জেনো'–কবির এই কথা কবির বেলায় যতটুকু সত্য পাঠকের জন্যেও ততটুকু সত্য, যে যেভাবে অনুভব করবে, হোক তা মূর্ত কিংবা বিমূর্ত যেকোন রূপের। তাঁর স্পর্শ যদি পাঠক চিত্তে ভালো লাগার অনুরণন তোলে, তা-ই যথেষ্ট কাব্যের জন্যে, শিল্প-সাহিত্যের জন্যে।

     

    কবিতা একটা রূপময় অবস্থা তুলে ধরে, পাঠক তাঁর একটা কাঠামো কল্পণা করে নেয়। সর্বোপরি, পাঠক হৃদে তাঁর স্থানই কবিতার জন্যে যথেষ্ট। এর বাইরের সাহিত্য সমালোচনা সমালোচকদের কিংবা সাহিত্যের সমালোচকদের "ব্রেইনের এক্সারসাইজ' এর জন্যে নির্ধারিত থাকুক। "

    ধন্যবাদ সবাইকে।

  10. 1

    তরু মানব

Leave a Reply

Your email address will not be published.