«

»

Apr ০৫

অস্বাভাবিক যৌনাচার- বিবর্তনবাদের আলোকে!

সমকামিতাকে প্রায় সব সমাজেই একসময় ‘ট্যাবু’ বা নিষিদ্ধ হিসেবে ধরা হতো, এখন যেরকম অজাচারকে (incest বা অতি নিকট আত্নীয়দের মধ্যে যৌনসম্পর্ক) ধরা হয়। তবে কতদিন কে জানে? বিবর্তনবাদকে ভর করে সমকামিতা এখন তার সেই ট্যাবু থেকে বেরিয়ে আসার অপেক্ষায়। ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হওয়া সত্ত্বেও সমকামীতা বিবর্তনবাদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে। তাই সমকামিতার পর অজাচার বিবর্তনবাদে জায়গা করে নিবে- সেটাই স্বাভাবিক। বিবর্তনবাদ অনুযায়ী মানুষ জৈববস্তু দিয়ে তৈরী উন্নতমানের পশু ছাড়া আর কিছু না। তাই পাশবিকতার চর্চাকে মানবিক আচ্ছাদনে ঢাকলেও সেতো সেই উন্নত পশুই! ফলে পূর্বপুরুষদের বৈশিষ্ট্যকে নিজের মধ্যে ধারণ করাটাও স্বাভাবিকতার পর্যায়েই পড়ে। মানুষের খুব নিকট পূর্বপুরুষ প্রাইমেটদের মধ্যকার সমকামীতাকে লক্ষ্য করে লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনবাদী মনস্তত্ত্ববিদ রবিন ডানবার [১] বলেছেনঃ “শেষ কথা হলো, অন্যান্য প্রাইমেট বিশেষ করে বানরের মধ্যে যা ঘটেছে মানুষের মধ্যেও সেই বিবর্তনীয় ধারাবাহিকতা বিদ্যমান থাকার সম্ভবনা খুব বেশী।”

আনুমানিক ৩০০ এর মত প্রজাতিতে [২] বিজ্ঞানীরা সমকামী আচরণ লক্ষ্য করেছেন, তাদের অনেকের মধ্যে আবার একাধিক যৌনাঙ্গ থাকায় একাধিক যৌনাচারও বিদ্যমান। যেমন, জাপানিজ মাকাকুয়েস এর মধ্যে স্বাভাবিক যৌনাচারের সাথে সাথে সমকামীতার প্রচলন বিরাজমান। বনোবস নামক প্রাণীদের মধ্যে ‘মেয়ে-মেয়ে’ সমকামীতা বিরাজমান। পশুদের মধ্যে বিরাজমান সমকামিতার উপর ভর করে তাকে যদি বিবর্তনবাদের মধ্যে জায়গা দেয়া যায় তাহলে অজাচার নয় কেন! কারণ পশুপাখির মধ্যেতো অজাচারও বিদ্যমান। প্রাণীরা সহজেই অজাচারে জড়িয়ে পড়ে। তবে বংশগত ত্রুটির কারণে বয়স বাড়ার সাথে সাথে অজাচারকে উপেক্ষা করে চলার প্রবণতা থাকে। প্রজাপতির ন্যায় একধরণের পতঙ্গদের (মথ) মধ্যে [৩] ভাই-বোনের ‘যৌনসম্পর্ক’ বিদ্যমান। তাছাড়া প্রাণীদের যৌন সম্পর্কের [৪] কোনো উপায় না থাকালে তারা সহজেই অজাচারে জড়িয়ে পড়ে। আর পোকামাকড়ের ক্ষেত্রে [৫] অজাচারতো খুবই উপকারী! অজাচার এর কারণে পুরুষ বিটলস এর আয়ুষ্কাল সাধারণ সংকরায়নের চেয়ে বেশি। উইস্টে ইনস্টিটিউট এর ডঃ হেলেন কিং ইনব্রিডিং (আন্তঃপ্রজনন বা নিকট আত্নীয়দের মধ্যে যৌনসম্পর্ক দ্বারা সন্তান উৎপাদন) এর মাধ্যমে পাওয়া ইঁদুরের ওজন পাওয়া যায় অনেক বেশী [৬]। অবশ্য প্রাণীদের মধ্যে ‘সঙ্গী’কে শেয়ার করার প্রবণতাও লক্ষ্যণীয়। যেমন ‘মেয়েবাঁদুর’ [৭] তার মায়ের যৌনসঙ্গীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।

অজাচার এর প্রতি একধরণের সহানুভূতির ক্ষেত্র পাশ্চাত্যে দেখা যায়। জার্মানীতে প্যাট্রিক ও সুসান [৮] এর অজাচার এর কাহিনী বেশ আলোড়ন তুলেছিল। প্যাট্রিক ২৩ ও সুসান ১৬ এবং সম্পর্কে ভাই-বোন। ছোটকালে তাদের মধ্যে একটা বিচ্ছেদ ঘটে ও বয়ো:প্রাপ্ত হবার পরই কেবল আবার মিলিত হয়। অবশেষে আবদ্ধ হয় বিবাহ বন্ধনে। অবশ্য এর জন্য তাকে ১৭ মাসের জেলও ভোগ করতে হয়। জার্মানীর গ্রীন পার্টির আইন বিশেষজ্ঞ জেরজি মনটাগ এই সম্পর্ক নিষিদ্ধ করাকে মান্ধাতা আমলের বলে মনে করেন। আবার প্রফেসর লিটলউড মনে করেন এই সম্পর্কটা ক্ষতিকর নয় যতক্ষণ না তারা বাচ্চা না নেয়, আর মত দেন এই যুগে এ সম্পর্ককে অন্যভাবে দেখার। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দিতে ভুলেননি যে তিনি একজন বিজ্ঞানী, নৈতিকতার কাণ্ডারী নন। ড: উইহেলম এর কন্ঠেও ধ্বনিত হয় একই সুর, আর তার কারণ প্রাণীদের মধ্যেও এই ধরণের অজাচার দেখা যায়, যদিও বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ককে এড়িয়ে চলার লক্ষণ দেখা যায়। জার্মানীর মত ইউরোপের অনেক দেশ যেমন, বেলজিয়াম, হল্যান্ড, ফ্রান্সে 'ইনসেস্ট'কে গুরুতর অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করা হয় না। ফ্রান্সে 'অজাচার' বিবাহ [৯] অবৈধ হলেও তাদের দৈহিক সম্পর্কতে নিষেধ নেই। পাশ্চাত্যবিশ্বে অজাচারের পরিমাণ আনুমানিক প্রতি ১০০ জনে ১ জন [১০]।

সমকামীতার পক্ষে প্রচারণার আরেকটি উপায় হল নামীদামী ও প্রতিথযশা মানুষের সমকামী আচরণকে উদাহরণ হিসেবে আনা। যেমন প্লেটো, মাইকেলেন্জো, লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির মত প্রতিথযশা মানুষেরা সমকামী। অজাচার এর বেলায়ও সেভাবে দেখানো যায়। কারণ ইতিহাসে অনেক [১১] স্মরণীয় লোকেরা অজাচার এর চর্চা করেছেন। যেমন ইউরোপের হ্যাপসবার্গ পরিবার [১২] যারা ৫০০ বছর যাবৎ অষ্ট্রিয়া, হাঙ্গেরী, বেলজিয়াম, জার্মানী ও হল্যান্ডে রাজত্ব করেছে শেষপর্যন্ত তাদের স্প্যানিশ বংশধরেরা হঠাৎ করে বিলুপ্ত হয়ে যায়। পরে গবেষণা করে দেখা গেছে শেষ রাজা চার্লস-২ একটি ইনসেস্ট সম্পর্কের ফসল। বিখ্যাত ইংরেজ কবি বায়রণের যৌনসম্পর্ক ছিল তার সৎবোন অগাস্টা লেইগ এর সাথে, কাম্বারল্যান্ডের ডিউক এর যৌনসম্পর্ক ছিল তার বোন সোফিয়ার সাথে, নেপোলিয়নের যৌনসম্পর্ক ছিল তার সৎমেয়ে, বোন ও ভাতিজির সাথে। জার্নাল অব দ্যা আমেরিকান মেডিক্যাল এসোসিয়েশন [১৩] এর প্রকাশিত লেখা থেকে অতিসম্প্রতি জানা গেছে প্রাচীন মিসরীয় ফারাওদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী 'তুতেনখানেম' ছিলেন অজাচার এর ফসল, আর তিনি নিজেও অজাচার-এ জড়িত ছিলেন। তার পিতা-মাতা ছিলেন ভাই-বোন, আর তিনিও বিয়ে করেছিলেন তার আসল অথবা সৎ বোনকে।

সমকামিতা প্রাণীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার প্রধান উপায় বংশবৃদ্ধির পথ আটকে দেয়। তেমনি অজাচারও প্রাণীর মধ্যে বিভিন্ন জীনগত সমস্যা দিয়ে তার অস্তিত্বকে সংকটাপন্ন করে তোলে। যেমনঃ অজাচার এর ফলে চীনে সাউথ চায়না টাইগার [১৪] নিজের অস্তিত্বকে বিপদাপন্ন করেছে। একই কথা খাটে অষ্ট্রেলিয়ান কোয়ালাদের [১৫] বেলায়ও। এই কোয়ালাদের মধ্যে অজাচার এর প্রাদূর্ভাব খুব বেশী হওয়ায় ১৮০০ সালের দিকে তারা দক্ষিণ অষ্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়া থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়। অজাচার নর্দান রকি নেকড়েদেরও [১৬] বিপদাপন্ন করেছে। তাদের মধ্যে শিরঃদাড়াতে জিনগত বিকৃতির লক্ষণ খুজে পাওয়া যায়। ভারতের হিমালয়ের লায়ন সাফারিতে ৫৯টি সিংহের মৃত্যুর জন্য অজাচারকে দায়ী করা হয়। নানা অসুখ বিশুখ ও অস্বাভাবিকতার জন্য এরা অনেক বছর ধরে ভুগে। অজাচার এর ফলে  প্রতি পাঁচ জেনেরেশনে হেট্রোজাইগোসিটি কমে শতকরা ৫০ ভাগ [১৭], আর ১০ প্রজন্মে হেট্রোজাইগোসিটি একেবারে শেষ হয়ে যায়।

উপসংহারে, বিবর্তনবাদ অনুসারে মানুষ প্রাণীর বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় একটি প্রাণী বৈ কিছু নয়। যদিও অন্যান্য পশুপাখীর মধ্যে একটা সময় অজাচারকে বর্জনের একটা লক্ষণ দেখা যায়, কিন্তু যৌনাচারের কোন উপায় না থাকলে অজাচার তাদের জন্য কোন বাধা হয়ে আসে না। পশুপাখির মধ্যে যৌনাচারের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের কার্যকর কোন পদ্ধতিও নেই। তাইতো ‘সাউথ চায়না টাইগার’, অষ্ট্রেলিয়ার ‘কোয়ালা’ কিংবা ভারতের লায়ন সাফারির ‘সিংহ’দের অস্তিত্ব অজাচার এর কারণে হুমকির সন্মুখীন! কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি আয়ত্বে থাকায় অজাচার এর এই ক্ষতিকে সহজেই উপেক্ষা করতে পারে। আর এজন্যই ইউরোপের অনেক দেশেই ইনসেস্টকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত করা হয় না, যদিও সন্তান উৎপাদনকে নিরুৎসাহিত করা হয়। তাছাড়া যেসব কারণ দেখিয়ে সমকামিতাকে বিবর্তনবাদের আলোকে ব্যাখ্যা করে একে সমর্থন জানানো হয়, সেভাবে ‘অজাচার’ এর প্রতি সমর্থনও হয়তো কেবল সময়ের ব্যাপার!

সূত্রঃ

১. http://news.nationalgeographic.com/news/2004/07/0722_040722_gayanimal_2.html

২. http://www.guardian.co.uk/education/2003/aug/14/science.highereducation

৩. http://www.newscientist.com/article/mg20227084.900-incestuous-moths-scrimp-on-sperm.html?DCMP=OTC-rss&nsref=online-news

৪. http://www.livescience.com/health/080116-incest-science.html

৫. http://www.sciencedaily.com/releases/2009/02/090205214410.htm

৬. http://www.thefreelibrary.com/The+benefits+of+inbreeding.-a055806319

৭. http://www.livescience.com/animals/050914_bat_sex.html

৮. http://www.independent.co.uk/news/world/europe/tainted-love-are-we-wrong-to-treat-incest-as-a-taboo-438707.html

৯.  http://www.independent.co.uk/life-style/love-that-dare-not-speak-its-surname-time-to-break-the-taboo-and-review-the-law-against-incest-1409504.html

১০. Incest: An Evolutionary Model, Clive V.J. Welham

১১. http://www.independent.co.uk/news/world/europe/tainted-love-are-we-wrong-to-treat-incest-as-a-taboo-438707.html

১২. http://www.independent.co.uk/news/science/revealed-the-inbreeding-that-ruined-the-hapsburgs-1668857.html

১৩. http://www.scientificamerican.com/article.cfm?id=king-tut-dna

১৪. http://news.xinhuanet.com/english2010/china/2010-02/12/c_13173959.htm

১৫. http://www.telegraph.co.uk/news/worldnews/australiaandthepacific/australia/5441940/Australias-koalas-at-risk-from-inbreeding-warn-experts.htm

১৬. http://www.sciencedaily.com/releases/2009/04/090402171440.htm

১৭. http://www.microbiologyprocedure.com/genetics/inbreeding-outbreeding-and-hybrid-vigour/genetic-effects-of-inbreeding.htm

৩৬ comments

Skip to comment form

  1. 20
    Anonymous

    সুন্দর পোষ্ট। কিন্তু অন্য ধর্ম বা নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কটুক্তি মনের কুত্সিত দিকটাকে উন্মুক্ত করেছে (কমেন্টগুলোতে)। আর ইসলামে মানুষের উত্পত্তি আদম হাওয়া এবং তারপরের ধাপগুলোর স্বীকৃতি আছে। সেগুলো মনে রাখা উচিত। গালি, বুলি, আচার, অনাচার- সময়, দেশ ও কালচার এর উপর নির্ভর করে। আমরা অন্যের সমালোচনার পরিবর্তে নিজের সমালোচনা ও সংশোধনের দিকে মনযোগ দিলে আজ আমাদের অবস্থা আরো উন্নত হবে।

     

  2. 19
    শাহেদ

    আমাদের সমাজে ও হয় কিন্তু মান সম্মান এর ভয়ে কেউ প্রকাশ কর না।

  3. 18
    অপুর্ব

    অজাচার পুর্বে হয়েছে তা ঠিক। বর্তমান এ ও হয় যা মান সমমান এর ভয়ে প্রকাশ করে না। 

  4. 17
    শামস

    পাশ্চাত্য ভ্যালুর অংশ হিসেবে কি পরিগণিত হতে যাচ্ছে? 

    Incest a 'fundamental right', German committee says

     

     

  5. 16
    Israt

    Valo lagto. Thanks ai dhoroner akti post dewar jonno. 

  6. 15
    masud

    ধন্যবাদ

  7. 14
    Engl

    ইসলামকে যেমন কথিতরা বলে মধ্যযুগীয় এ ক্ষেত্রে এরা কি বলবে। আদীমতা? মানুষ জ্ঞান বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্যের, সভ্যতা ইত্যাদির যে জয়গান করে তাহলে সেসব কি ধূলিস্যাৎ? মানব সভ্যতা ইত্যাদি কি তাহলে "পশুত্বের" কাছে পরাজিত?
    তাহলে তথাকথিতদের মানবিকতা, সভ্যতা-ভব্যতার বুলি কোথায় যাবে?

  8. 13
    আহমেদ

    তথ্যবহুল পোস্ট।

    1. 13.1
      শামস

      @আহমেদ,
      ধন্যবাদ।
       

  9. 12
    আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন

    পড়লাম -- জানলাম। ধন্যবাদ। 
     
    কি এক অসহনীয় কাজ যে কিছু মানুষ জেনেশুনে মানুষের উপর পশুত্ব চাপিয়ে দিতে চায়। মুলত এদের নিজের ভিতরের পশুত্বকেই এরা বাইরে আনছে। 

    1. 12.1
      শামস

      @আবু সাঈদ জিয়াউদ্দিন,
      আপনাকেও ধন্যবাদ।
       

  10. 11
    আবদুল্লাহ সাঈদ খান

    সারোয়ার ভাই বলেছেন:

    চিন্তা করতেই হিম হয়ে যাই। বিজ্ঞানের নামে ঘোল খাওয়াতে খাওয়াতে  আজকে এই অবস্থা! পশু-পাখীদের স্বভাব মানব সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে বিবর্তনবাদীদের প্রচেষ্টা দেখার মত। এরাই আবার অগ্রগতির কথা বলে!!
     

    সহমত।

  11. 10
    সদালাপ কর্তৃপক্ষ

    ভাল পর্যবেক্ষণ। একমাত্র আশার কথা, অজাচারকে এখনো কেউ সমর্থন করেনি। আশাকরি অজাচারের মত অনাচার সমর্থনের দুর্মতি সহজে মানুষ সম্প্রদায়ের হবেনা। 

    1. 10.1
      ফুয়াদ দীনহীন

      আমি একজন নাস্তিক প্রচারককে ব্লগে বলতে শুনেছি প্রশ্নের প্রক্ষিতে, যেহেতু তারা উভয়েই প্রাপ্ত বয়ষ্ক, তাই এতে সমস্যা দেখেন না। এখন বুঝেন। লিংকটা রাখলে কপি পেস্ট করে দিতাম। 

    2. 10.2
      শামস

      @এডমিন/এডিটর,
      আপনার সাথে আমিও আশা করি, মানুষ এই বিকৃত রূচিকে স্বাগত জানাবে না। কিন্তু আমি যা বলতে চেয়েছি তা হল, কিছু লোক এখন সমকামিতাকে জায়েয করছে যে যুক্তিতে সেই একই যুক্তিতে জায়েয করার চেষ্টা করতে পারে এই অজাচারকে। যে যুক্তিতে বিবর্তনবাদের আলোকে সমকামীতা সমর্থনীয় সেই একই যুক্তিতেতো অজাচারও সমর্থনীয়! সমকামিতা এখন আমাদের মত তুলনামূলক রক্ষণশীল সমাজে ট্যাবু থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলেও অনেক জায়গাতেই অবস্থা সেরকম নয়।
      তবে এ প্রসঙ্গে যোগ করা যায়, অজাচার এর চর্চা খুব বেশী দেখা যায় আগের দিনের শাসকদের মধ্যে। এটা শাসন ব্যবস্থা ও সম্পদ নিজেদের মধ্যে কূক্ষিগত রাখার একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। তাছাড়া পৌরণিক কাহিনীতেও অজাচারকে পাওয়া যায়।

      যেমন ধরা যাক গ্রীক পৌরণিক বীর ইডিপাসের কথা। সে গ্রীকদের কাছে পূজনীয় ও তাদের রোল মডেল, কারণ সে তার মা'র পক্ষ নিয়ে বারার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। কিন্তু চমকপ্রদ ব্যাপার হল সে তার বাবাকে মেরে মাকে বিবাহ করে!!!
      আবার হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী ব্রন্মাই হল সব কিছুর স্রষ্টা। এই ব্রন্মার মাথার অগ্রভাগ থেকে স্বরশ্বতীর সৃষ্টি। যেইমাত্র তিনি স্বরশ্বতীকে দেখলেন তিনি তাকে পেতে চাইলেন, যদিও তিনি জানতেন যে স্বরশ্বতী তার কন্যা। স্বরশ্বতী তাকে এড়িয়ে চলতে চাইতেন, কিন্তু যেখানেই যান সেখানেই ব্রন্মার মাথা এসে হাজির হয়। এই ব্রন্মা ও স্বরশ্বতীর মিলনের ফলেই এই পৃথিবী ও সব প্রাণীর সৃষ্টি। (হিন্দু গডস, লেখিকা — প্রিয়া হেমেনওয়ে)
      আবার ধরা যাক মিসরীয় দেবতা হোরাসের কথা। সে হল মিশরীয় গড় ওসিরিস ও আইসিস এর সন্তান। এই ওসিরিস ও আইসিস হল আপন ভাই-বোন, মায়ের জড়ায়ূতে থাকার সময় থেকেই এই ওসিরিস ও আইসিসের প্রেমের শুরু! মানে দেবতা হোরাস হল অজাচার (ইনসেস্ট) এর ফসল! মজার ব্যাপার হল, মিশরীয় এই দেবদেবীরা আবার প্রোপিক হিসেবে জনপ্রিয়! এটা হয়তো তাদের রূচিবোধ!!!

      আমার মূল লেখায়ও কিছু উদাহরণ দেয়া হয়েছে।
      ধন্যবাদ।
       
       

    3. 10.3
      Engl

      সভ্যতার এক সময়ে অবাধ যৌনাচার নিষিদ্ধ ছিল এখন কিছুই না, তারপর সমকামিতা নিষিদ্ধ ছিল এখন প্রচলিত হয়েছে এক সময়ে কিছু না হবে। অযাচারের বেলাতেও একই কথা খাটে।

  12. 9
    সরোয়ার

    তাছাড়া যেসব কারণ দেখিয়ে সমকামিতাকে বিবর্তনবাদের আলোকে ব্যাখ্যা করে একে সমর্থন জানানো হয়, সেভাবে ‘অজাচার’ এর প্রতি সমর্থনও হয়তো কেবল সময়ের ব্যাপার!

    চিন্তা করতেই হিম হয়ে যাই। বিজ্ঞানের নামে ঘোল খাওয়াতে খাওয়াতে  আজকে এই অবস্থা! পশু-পাখীদের স্বভাব মানব সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে বিবর্তনবাদীদের প্রচেষ্টা দেখার মত। এরাই আবার অগ্রগতির কথা বলে!!

    1. 9.1
      শামস

      @সরোয়ার,
      খুব ভাল বলেছেন। বিবর্তনবাদী নাস্তিক মনারা দাবী করে বিজ্ঞানই সব। খুব খেয়াল কইরা, বিজ্ঞান কিন্তু নৈতিকতা শিক্ষা দেয় না! তাদের আসলে চালিকাশক্তি বলে কিছু নাই। মূল্যবোধের প্রশ্ন অর্থহীন, কারণ কোথা থেকে আসে তাদের মূল্যবোধ! তবে হ্যা, ভাল নাস্তিক আছে, কোন নাস্তিকও দাবী করতে পারে যে সে এসব বিকৃত রুচিকে অপছন্দ করে। কিন্তু মনে রাখতে হবে তার এই অপছন্দ করায় নাস্তিকতার ভুমিকা নেই, বরং হয়তো সাংঘর্শিক! এ প্রসঙ্গে বলে নেয়া ভাল, আমার এ লেখাটা কোন নাস্তিক বা ভিন্নমতাবলম্বীকে লক্ষ্য করে নয়, তবে নাস্তিকতা ও বিবর্তনবাদের ঢোল খাওয়ানো মতবাদের বিপক্ষে।

  13. 8
    badhonhara

    Nice and informative…..

    1. 8.1
      শামস

      @badhonhara,
      ধন্যবাদ।
       

  14. 7
    মো: মাছুম বিল্লাহ

    ভাই আমার ছোট একটি প্রশ্ন (হয়তো অপ্রাশাংগীক) চাচাতো মামাতো এমন নিকট আত্তীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে তার কোনো একটা প্রজন্ম বিকলাঙ্গো হয়। এটা কি সত্যি?

    1. 7.1
      শামস

      @মোঃ মাছুম বিল্লাহ,

      ভাই আমার ছোট একটি প্রশ্ন (হয়তো অপ্রাশাংগীক) চাচাতো মামাতো এমন নিকট আত্তীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে তার কোনো একটা প্রজন্ম বিকলাঙ্গো হয়। এটা কি সত্যি?

      আমার সেরকম কিছু জানা নেই। খুব সম্ভবত ভুল ধারণা। অজাচারের ফলে পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে জন্মগত অনেক রোগ পাওয়া যায় যা থেকে নিস্তার পাওয়া খুব কঠিন। তবে অনেক সমাজে ধারণা করা হতো কাজিন বিয়ে করলে জন্মগত সমস্যা হয়। হ্যা সামান্য কিছু হয় কিন্তু গণনায় নেবার মত নয়। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডেইন পল ডুনেডিন এর ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসের হামিশ স্পেনসার তাদের করা গবেষণার উপর ভিত্তি করে দাবী করেছেন, কাজিনদের মধ্যে বিয়েতে জন্মগত সমস্যা স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে মাত্র ২ ভাগ এবং বাচ্চার মারা যাবার সম্ভবনা মাত্র ৪.৪ ভাগ বেশী। তবে মজার ব্যাপার হল চল্লিশার্ধো মহিলাদের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে একই রকম সমস্যা হয়। এখানে লিঙ্ক পাবেনঃ

      বিজ্ঞানীদের দাবী অনুসারে কাজিন বিয়ে করাতে কোন সমস্যা নেই
      কাজিন বিয়ে করাতে মেডিক্যালি কোন সমস্যা নেই
      প্রফেসর হামিশের জার্নাল পেপারের সুত্র

      আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
       
       

    2. 7.2
      করতোয়া

      কেন ভাই আপনার কি চাচাত বা মামাত কারোর সাথে ইয়ে আছে নাকি? যাই হোক আমার বৌ আবার মলেকিউলার জেনেটিক্স বিষয়ের গবেষক। তার ভাষ্য অনুযায়ী নিকট আত্নীয় স্বজনের মধ্যে বিয়ে করার ফলে যে সন্তান হয় তাতে  ফ্যামিলি সেগ্রিগেশন কম হয় ফলে অনেক খারাপ জীন এর যৌথ প্রভাবের আশঙ্খা বেড়ে যায়। সেদিক বিবেচনা করলে বিকলাঙ্গ না হোক অন্য যে কোন ধরনের সমস্যা হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে (যদিও তেমন একটা ষ্ট্যাটিসকটিস আপাত নাই)  দূর সম্পর্কের আত্নীয় এর চেয়ে।
       
      কাজেই আপনার চিন্তার কোন কারন আপাতত নাই।

  15. 6
    akeeb

    অনেক সুন্দর লিখেছেন । ইতিহাসের এই বিখ্যাত বেক্তিদের কুকীর্তি জানা ছিলনা 

    1. 6.1
      শামস

      @akeeb,
      ধন্যবাদ পড়া ও মন্তব্যের জন্য.
       

  16. 5
    এম_আহমদ

    Comment1. INCEST
    একজন নাস্তিক তার মায়ের সাথে যৌন-ক্রিয়া করতে কী কোন নৈতিক বাধা থাকতে পারে? ধরুন মা-ছেলে উভয়ই নাস্তিক এবং উভয়ই নিজেদের স্বাধীন বিবেক ও যুক্তির ব্যবহারের পক্ষপাতী। উভয় আধুনিক, বলুন সর্বাধুনিক। উভয়ই ব্যক্তি স্বাধীনতার (individual freedom) ও ব্যক্তি অধিকার (individual/citizen right) –এর কঠোর প্রবক্তা। তারা যৌন কাজকে নিছক একটা আনন্দ, physical and creative exercise হিসেবে ধরছেন। তাদের নিজ ঘরে কেউ দেখারও নেই। তারা কারো কোন ক্ষতি করতে যাচ্ছে না, কারো পাকা ধানে মইও দিচ্ছে না, নিছক আনন্দ করতে যাচ্ছে, পারস্পরকে আনন্দ দিতে যাচ্ছে। তারা Contraceptive এর মাধ্যমে safe sex করবে। এক্ষেত্রে উভয়ই যদি তাদের matured সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সেই কাজটি করতে যায়, তখন তাদেরকে বারণ করার কিছু থাকে? কিচ্ছু না।
     
    Comment2: ভাল লেখা হয়েছে। গুড অয়ার্ক। চালিয়ে যাওয়া হোক। এবারে সময় হলে এই ভিডিওটি দেখে নেবেন।
     http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=o3ZZ5x4JhXw#

    1. 5.1
      শামস

      @এম_আহমদ,
      এটা হলো মূল্যবোধের ব্যপার. তাদের মূল্যবোধ দিনে রাতে পরিবর্তন হয়. আর বিবর্তনবাদতো আছেই, সবকিছুই  তাদের কাছে হালাল হতে পারে.
       

  17. 4
    মুনিম সিদ্দিকী

    এত সব কথা আমার জানা ছিলনা! লেখককে ধন্যবাদ এমন বিষয় উপস্থাপন করার জন্য।

    1. 4.1
      শামস

      মুনিম ভাই, ধন্যবাদ.
       

  18. 3
    শাহবাজ নজরুল

    বিবর্তনবাদীদের ইনসেস্ট নিয়ে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। 'উন্নতমানের পশু' আর 'যোগ্যতর প্রাণীর বেঁচে থাকা' এই দুয়ের সমন্বয়ে নৈতিকতার কোনো স্থান নেই। ব্যপারটার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা চিন্তা করে বিবর্তনবাদীরা বিশেষত বাংলা নাস্তিককুল আপাতত এই নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনা -- তবে কোনো সন্দেহ নাই যে এক সময়ে এটাও ওরা টেবিলে নিয়ে আসবে। এখন আপাতত চলছে 'সমকামিতাকে' প্রমোট করার চেষ্টা। আল্লাচালাইনা নামক জনৈক মুক্তমনা অবশ্য সময় সুযোগ পেলেই সমকামিতাতে লিপ্ত হবেন একথা বুক ফুলিয়েই বলেছেন, আর আরো বলেছেন সুযোগ পাওয়া মাত্রই ইসলামে যা যা নিষিদ্ধ আছে তা সবই করবেন। তাই আশা করা যায়, বাংলা নাস্তিককুল আস্তে আস্তে অজাচার সহ অন্যান্য যা অকাজ আছে, তার সবই করবে। আর যেহেতু পরকালে জবাবদিহিতার প্রশ্ন নেই, তাই যেভাবেই হোক জীবনকে উপভোগ করাটাই তো বুদ্ধিমানের কাজ, তাই না?

    1. 3.1
      শামস

      @শাহবাজ নজরুল,
      ভাল বলেছেন। তাদের মুল্যবোধ এই অজাচারের পক্ষে পরিবর্তন হতে বাধা কোথায়।

    2. 3.2
      মোঃ তাজুল ইসলাম

      @নজরুল ভাই, সন্দেহ নেই, আল্লাচালাইনা একজন মানষিক বিকৃত এবং সর্বদা নিজ-কে বোতলে আবদ্ধ রাখেন। নিচে আহমেদ ভাই-র ১নং কমেন্টটির উত্তর মনার প্রতিষ্ঠাতা মগাজিতের কাছ থেকে শুনলে ভাল লাগত। বেটা “সমকামি” বই-টি লিখছেন অনেক কপি-পেষ্ট করে।

  19. 2
    এস. এম. রায়হান

    সাবলিল ভাষায় তথ্যপূর্ণ লেখাটি দারুণ হয়েছে।

    1. 2.1
      শামস

      @এস. এম. রায়হান,
      ধন্যবাদ।
       

  20. 1
    মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত

    পোস্টটা পড়ে অনেক কিছুই জানলাম। কিন্তু পরমুহূর্তেই ঘৃণায় বাথরুমে গিয়ে বমি করে এলাম।

    1. 1.1
      শামস

      অবশ্যই এটা খুব গর্হিত কাজ। কিন্তু দেখুন, যে যুক্তি দেখিয়ে বিবর্তনবাদী নাস্তিকরা সমকামিতাকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য যুক্তি দেয় একই যুক্তি দেয়া যায় অজাচারের পক্ষে। অজাচারের পক্ষে সাফাই গাওয়া তাদের জন্য ব্যাপার হবার কথা না।

Leave a Reply

Your email address will not be published.