«

»

Aug ২৮

বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত আমাদের এই পৃথিবী- উদ্দেশ্যহীন নয়তো! – ২

চারদিকে বিরাজমান আপাতদৃষ্টিতে দেখা অসীম এই বিশ্বব্রহ্মান্ডে প্রাণের সম্ভবনা আসলেই কতটুকু! যতটুকু জানা গেছে তাতে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত প্রায় পুরোটাই ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত। পাশ্চাত্য সভ্যতার মধ্যে প্রাচীন গ্রীকরাই প্রথম পৃথিবীর বাইরে অগণিত গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের ধারণা দেন। এর অনেক পরে ষোলশতকে, পূর্বে ধারণাকৃত পৃথিবী-কেন্দ্রিক বিশ্বের বিপরীতে সূর্য-কেন্দ্রিক সিস্টেম ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের ব্যাপারে নতুন গবেষণার দ্বার খুলে দেয়। পরবর্তীতে রাশিয়ার স্পুটনিক ১৯৫৭-১৯৫৮ সালের দিকে মহাশুন্যে অভিযান চালিয়ে যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে। মহাবিশ্ব সম্পর্কে কার্যকরভাবে আমাদের ধারণায় ব্যাপক পরিবর্তন আসতে শুরু করে তখন থেকেই।

মহাবিশ্বে এই প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে বিজ্ঞানমহলে উৎসাহের সীমা পরিসীমা নেই। তবে তাদের মধ্যে কার্ল স্যাগানের নাম না নিলেই নয়। অত্যন্ত মেধাবী এই বিজ্ঞানীর মহাকাশ গবেষণায় অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর প্রকাশিত বই এর সংখ্যা ২০ এবং জার্নাল পেপার ৬০০-র অধিক। মহাবিশ্বে আমাদের এই পৃথিবীর বিশেষ সুবিধাজনক অবস্হাকে তিনি গুরুত্বহীন হিসাবে দেখেছিলেন। অবশ্য এর পরে অনেক জল গড়িয়েছে। মহাকাশে প্রাণের ব্যাপারে তাঁর বেশ কিছু মন্তব্য সুধীমহলে অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তিনি বিখ্যাত হয়ে আছেন তাঁর বিশেষ উক্তির জন্য: “অসাধারণ দাবীর প্রয়োজন অসাধারণ প্রমাণ।” তবে মজার ব্যাপার হল, যারা মহাবিশ্বের এই বিশালতাকে নাস্তিক্যবাদের সহায়ক ভেবে প্রচার চালাচ্ছেন তাদের থেকে কার্ল স্যাগান বিপরীত অবস্হানেই ছিলেন। বিশ্বাসের নিরিখে তিনি নিজেকে নাস্তিক না বলে সংশয়বাদী বলেই পরিচয় দিতেন এবং নাস্তিকদের জ্ঞানের পরিধি নিয়েও তার সংশয় ছিল। তিনি মনে করতেন একজন নাস্তিককে নিশ্চিতভাবে জানতে হবে যে ঈশ্বর নেই! তার মতে এটা অসম্ভব, আর তাইতো নাস্তিকদের ‘গন্ডমূর্খ’ বলেও অভিহিত করেন। তাঁর নিজের উক্তিতে:

An atheist has to know a lot more than I know. An atheist is someone who knows there is no God. By some definitions atheism is very stupid.

ভাবা যায়, আজ যারা স্বগর্ভে নিজেদের নাস্তিক বলে পরিচয় দেয় তারা কার্ল স্যাগান থেকে কতইনা জ্ঞানী!!! তবে নিয়মিত মারিজুয়ানা নেয়া কার্ল স্যাগান অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের ব্যাপারে একটু বেশীই বাড়িয়ে বলে ফেলেছিলেন। অবশ্য এরজন্য তাকে সমালোচনার মুখাপেক্ষীও হতে হয়েছিল অনেক।

শুধু কার্ল স্যাগানই নয়, অন্যান্য নামী-দামী বিজ্ঞানীদের সাথে যোগ দিয়েছেন বর্তমান সময়ের সেরা পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং। ডিসকভারী চ্যানেলের ধারণকৃত এক তথ্যচিত্রে তাঁর এলিয়েনদের এই পৃথিবীতে আগমনকে কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের সাথে তুলনা করাকে অতিরঞ্জিত হিসাবে দেখছেন অনেকেই। ভিনগ্রহে প্রাণের উৎসের খোঁজে নিবেদিতপ্রাণ প্রতিষ্ঠান ‘সেটি’ (SETI)’র সিনিয়র জোতির্বিদ সেথ শোসটাক একে শ্রেফ অপ্রয়োজনীয় ভয় বলে অভিহিত করেছেন। কারণ পৃথিবী থেকে বিবিসি, সিএনএন, বিমানবন্দেরর রাডার ইত্যাদির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই অনেক ‘সিগন্যাল’ মহাশুন্যে ছড়িয়ে পড়েছে যা এতোদিনে ৮০ আলোকবর্ষ দূরে পৌছে যাবার কথা। কিন্তু প্রত্যুত্তরে এখন পর্যন্ত সেরকম কিছুই ধরা পড়েনি! (চলবে…)

Leave a Reply

Your email address will not be published.