«

»

Sep ০৯

বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত আমাদের এই পৃথিবী- উদ্দেশ্যহীন নয়তো! – ৩

১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হবার পর, সারাবিশ্বব্যাপী সেটি (SETI) তার টেলিস্কোপ বসিয়েছে ভিনগ্রহের প্রাণীর সন্ধানে। ‘সেটি’র সাথে সাথে ‘এস্ট্রোবায়োলজী’ নামে বিজ্ঞানের এক নতুন শাখার ভিত রচিত হয়, মহাকাশ গবেষণা পায় নতুন মাত্রা। ভিনগ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের প্রশ্নে পৃথিবীর সাথে সাদৃশ্যতা খোঁজা থেকে বিজ্ঞানীরা এখনও বের হয়ে আসতে পারেনি, আর এতে প্রধান অনুঘটক হিসাবে থাকে ‘পানির অস্তিত্ব’। অবশ্য ব্যতিক্রম আছে সামান্যই। ব্যতিক্রমীদের মতে, অন্য গ্রহের প্রাণীরা হয়ত পৃথিবীর মত নাও হতে পারে, হতে পারে তারা অন্য উপাদানে তৈরী এবং অন্যরকম। জ্যোতির্বিদরা এপর্যন্ত আনুমানিক ৪০০এর মত গ্রহ পেয়েছেন যেখানে প্রাণ থাকার সম্ভবনা থাকতে পারে। এর মধ্যে আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী মঙ্গলকে নিয়ে তাদের আশাবাদ সবচেয়ে বেশী, কারণ এর ‘পানির অস্তিত্ব’। প্রফেসর ফিলিংগারও মনে করেন মংগলই হবে এলিয়েন প্রাণ পাওয়ার সবচেয়ে বেশী সম্ভাবনাময়। যদিও অতিমাত্রায় মিথেন গ্যাসের উপস্হিতি এই সম্ভবনাকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে বৈকি।

তৎকালীন ইউএসএসআর এর কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক দিয়ে মহাশুন্যে মানুষের যে অভিযান শুরু হয় তা আর সেখানেই থেমে থাকেনি। এর পরপরই রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগীতামূলকভাবে পাঠাতে থাকে একের পর এক মহাকাশযান। এর সূত্র ধরে পৃথিবীর বাইরে চাঁদে প্রথম পদার্পন ১৯৬৯ সালে। যদিও এনিয়ে সন্দেহের তীর বিদ্ধ করেছেন কেউ কেউ আর তা খুব যৌক্তিক ও চমকপ্রদ। তবে যে খুব গুরুত্বপূর্ণ জিনিষটি সামনে চলে আসে তা হল, এই সব মহাকাশ গবেষণার কারণে আমাদের সামনে উন্মোচিত হয় আনুমানিক দুই হাজার বছরের অনেক মিথ এর। মানুষ নতুন করে ভাববার প্রয়াস পায়। একসময় বিজ্ঞানমহলে ধারণা ছিল আমাদের এই বিশ্ব পৃথিবীকেন্দ্রিক যাতে ব্যাপক ভুমিকা রেখেছিলেন টলেমি ও এরিস্টটলরা। খুব আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল ১৮০০ বছর যাবৎ তা-ই ছিল পাশ্চাত্য মহাকাশবিজ্ঞানের ভিত্তি!!! ১৫৪৩ সালে পোলিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলাস কোপার্নিকাস তার ‘অন দ্যা রেভুলুশন অব দ্যা হেভেনলি স্ফেয়ারস (On the Revolution of the Havenly Sphares)’ বইতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনেন। তিনি মত দেন পৃথিবী স্হির নয় বরং সূর্যকে কেন্দ্র করে সোলার সিস্টেমে অবিরত ঘুরছে। এটা হাজার বছর ধরে চলা বিজ্ঞানের এক প্রতিষ্ঠিত মতবাদের বিপক্ষে অধিক গ্রহণশীল নতুন এক দিকনির্দেশনা যা পরবর্তী চারশো বছর যাবৎ পরিপূর্ণতা পেয়েছে। এর পরে ১৯২৯ সালে হাবলের টেলিস্কোপ প্রথমবারের মত বিশ্বের আসল পরিব্যাপ্তি নিয়ে চাক্ষুস প্রমাণ হাজির করে, যা এক কথায় বলতে গেলে কল্পনারও অতীত। তাছাড়া, আগে ধারণা করা হত আমাদের গ্যালাক্সি এক কোণে এবং এরপর আর কিছু নেই, হাবলের টেলিস্কোপ এধারণায়ও ভুল ভাংগায়। এই মহাবিশ্ব বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি ও নক্ষত্র নিয়ে গঠিত। এইসব আবিষ্কারের পর্যালোচনায়, আপাতদৃষ্টিতে দেখলে আমাদের পৃথিবীর মর্যাদা ও গুরুত্ব কিছুটা হলেও ম্রিয়মান হয়েছে বলা যায়। তবে এখানেই শেষ নয়! (চলবে…)