«

»

May ১৮

অবিশ্বাসের দর্শন (কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন!)

[অবিশ্বাস- শুরুটা অ উপসর্গ যোগে, মানে নাই, এর আবার দর্শন- কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন!]

রসময়গুপ্তের মত মুসলিম ও ইসলাম নিয়া আজাকাল দু’এক কথা বললেই নাস্তিক হওয়া যায়- বাংলা নেটে ঘুরলে এটা চোখে না পড়ার কথা না। সস্তা হ্যাংলামোর জন্য তাদের অনেক সময় দৌড়ের উপর থাকতে হয়। তাতে তো আর রসের ভাণ্ডার খালি হয় না! বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে কায়দা করে এখান ওখান করে রংচটাইলেই আস্তিকতা তথা ইসলামের শ্রাদ্ধ করা হয়! আস্তিকতা খারাপ আর সেটাই নাস্তিকতা!

আসলে সেটা ছাড়া তাদের আর বিশেষ  উপায়ও দেখি না। তালগাছটা বগলে রাইখা ‘বারডেন অব প্রুফ’ আস্তিকদের দিয়া দাও- স্রষ্টা আছে বইলা আস্তিকরা যখন বলে তখন সেটা তারাই প্রমাণ করুক! আবেগ অনুভূতি দেখা যায় না কেবল বিশ্বাস করা যায়, স্রষ্টাও বিশ্বাসের জিনিষ। সমস্যা হইল আবেগ অনুভূতিরে বিশ্বাস করলেও নাস্তিক হওয়া যায়, কিন্তু স্রষ্টারে বিশ্বাস করলে নাস্তিক হওয়া যায় না! কথা হইল স্রষ্টারে প্রমাণের দায় আস্তিকদের কেন! আপনে স্রষ্টায় বিশ্বাস করেন, যেটা শতকরা ৯৯% মানুষই কোন না কোনভাবে করে। এখন তাদের কাছে যদি বলে স্রষ্টা নাই, তাইলে প্রমাণের দায়টা তাদের (আস্তিকদের) উপর কেমনে পড়ে!

নাস্তিকদের খেদ ইসলাম ও মুসলিম নিয়া, তাই লোকে তাগোরে ইসলাম বিদ্বেষী কয়! তারা বুইঝা পায় না যেই আল্লাহ মানুষরে আগুনে পুড়ানোর ভয় খাওয়ায়, ভয়ানক শাস্তির কথা কয় তারে ভালবাসা যায় কেমনে! পিতা কিন্তু পুত্ররে শাসায়- তুই যদি পড়ালেখা ঠিকমত না করস আজ থিকা তোর খাওয়া বন্ধ। যদি ঐ বাউন্ডুলেটার সাথে তোরে আর দেখি তাইলে মাইরা তক্তা কইরা ফালামু! বাপে আসলে খাওয়া বন্ধ করে নাই, মারছে তয় তক্তা বানায় নাই। বাপে খারাপ, আল্লায়ও খারাপ! অবশ্য তখন মনে হয় নাস্তিকগো ঈমান, ঈমানদার মুসলিমগো চাইতেও বেশী-জাহান্নামের আগুনের প্রতি তাগো কি অগাধ বিশ্বাস!

আমজনতা বইলা প্রায়ই টাস্কি খাই, নাস্তিকরা মনে হয় সব বিজ্ঞানের ছাত্র। এইটাতো সম্ভব না! কলা, বাণিজ্য, সাহিত্যওয়ালা নাস্তিকদের যাদের বিজ্ঞানের সাথে সম্পর্ক নাই তারা নাস্তিক হয় কেমনে! পরে জানলাম বিজ্ঞান না জানলেও সমস্যা নাই- বিজ্ঞানমনস্ক হইতে হইবে! বিজ্ঞানের ‘ব’ না জানলেও বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া যায়- অনারারি ডিগ্রীর মত! এই বিজ্ঞান-মনস্করাই বাংলাদেশে নাস্তিকতার আলো ছড়াইতেছে! সমাজতান্ত্রিক নাস্তিকরাও বিজ্ঞান ছাড়া চলতে পারে নাই! শুধু সমাজতন্ত্রে কি আর যুত আছে- তাই ‘বৈজ্ঞনিক’ ল্যাঞ্জাটা আগে লাগাইয়া নাম দিছে বৈজ্ঞনিক সমাজতন্ত্র- কিম্ভূতকিমাকার অবস্থা। সমাজতন্ত্র কেমনে বৈজ্ঞনিক হয় সেইটা এখনো বুঝি নাই বিজ্ঞান-মনস্কের মত কিছু একটা হয়তো! বিজ্ঞানের প্রতি আপামর নাস্তিকদের এই মোহ নিয়া কৌতুহল এখনও শেষ হয় নাই।

নিম্নমানের জিনিষের প্রতি নাস্তিকদের আসক্তি তীব্র- অবাক হবার কিছু নেই! যেকোন নাস্তিকরে প্রশ্ন করেন কুরআন ও হাদিস কেমন মানের বই। শতকরা একশত জনই বলবে- অতি নিম্নমানের। এবার তার ওয়ালে যান বা তার গ্রুপে যান বা তার দ্বিপদী, চতুষ্পদী বিচরণক্ষেত্রে যান, তার ব্যস্ততা নিম্নমানের জিনিষ নিয়া! তাদের জন্য একটা উচ্চমানের বই লেখা আসলেই জরুরী হইয়া পড়ছে!

তাদের রুচির কথা যখন আসলোই তখন গোমুত্র না হইলেও উটের মুত্র আলোচনার দাবী রাখে, সেটা দিয়াই শেষ করব। মুসলিমদের কাছে উটের মুত্র প্রিয় না হইতে পারে কিন্তু নাস্তিকদের কাছে কিন্তু ঠিকই আছে! নবী একটা পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে কিছু লোককে উটের মুত্র পান করতে বলছেন। তিনি যেহেতু এইটারে নিষিদ্ধ করেন নাই, তাগো (নাস্তিকদের) কথামতো মুসলিমদের উটের মুত্র পান যেন ফরয হইয়া পড়ছে! ভাইবা দেখলাম ঘটনার মধ্যে একটু প্যাঁচ আছে! উটের মুত্র খাওয়া লোকগুলা আসলে মুসলিম না, মুনাফিক! মুনাফিকদের উটের মুত্রে নাস্তিকরা তাই ভাগ চায়!!!

২০ comments

Skip to comment form

  1. 8
    Moijn Uddin Ahmed

    ওরে আবাল লেখক…  বিজ্ঞান মানে তো তোর স্কুলের পদার্থ/ রসায়ন/ জীব বিজ্ঞান বই না… কলা, বাণিজ্য, সাহিত্য পরলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিন্তা করতে পারবে না তোর কে কইসে!!!…

    1. 8.1
      শামস

      হাহাহাহাহা……… জ্ঞানী ভাই রাগেন ক্যান!
      বাই দ্যা বাই, জ্ঞানী ভাই, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিন্তা করে কেমনে, একটু যদি বৈজ্ঞনিকভাবে বুঝাইয়া দিতেন!
       
       

    2. 8.2
      আহমেদ শরীফ

      @ Moijn Uddin Ahmed

      এই যে মিঃ 'বিরাট বাল' মগাচিপের প্রোপিক কখন লাগাইলি ধার নিয়া ? নাকি তুই নিজেই ননীগোপাল মগাচিপ ? বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়া ছাড়া 'বিজ্ঞানমনষ্ক' হওয়া, সংষ্কৃতির 'স' না বুইঝা 'সংষ্কৃতিমনা' হওয়া, গণিতশাস্ত্রের ন্যূনতম তত্বজ্ঞান ব্যতীত 'গণিতমনষ্ক' হওয়া কিংবা ইতিহাসের কিছুই না জাইনা 'ইতিহাসশাস্ত্রমনষ্ক' হওয়া আর তোমার মতন হিজড়া হইয়া 'পিরীতিমনষ্ক' হওয়া যে একই জিনিস এইটা বুঝস রামছাগল?

      না বুঝলে অন্যখানে গিয়া মর। এইটা কাউয়াগো কবরস্থান না।

      1. 8.2.1
        মোঃ তাজুল ইসলাম
  2. 7

    'আরো সোজা করে বললে বলা যায়, নাস্তিক হইলেই বিজ্ঞানমনা হওয়া যায়!'--nicely described, thanks.

  3. 6
    রণ

    সামস ভাই সেইরকম হয়েছে। আপনার লেখা পড়ে আমি সদালাপে একাউন্ট-ই খুলে ফেললাম।
    পিলাচ + +

    1. 6.1
      শামস

      @রণ,
      সদালাপে স্বাগতম। আমাদের সাথে থাকুন।
       
       

  4. 5
    সাদাত

    পরে জানলাম বিজ্ঞান না জানলেও সমস্যা নাই- বিজ্ঞানমনস্ক হইতে হইবে! বিজ্ঞানের ‘ব’ না জানলেও বিজ্ঞানমনস্ক হওয়া যায়- অনারারি ডিগ্রীর মত! এই বিজ্ঞান-মনস্করাই বাংলাদেশে নাস্তিকতার আলো ছড়াইতেছে!

    আরো সোজা করে বললে বলা যায়, নাস্তিক হইলেই বিজ্ঞানমনা হওয়া যায়!

    1. 5.1
      ইমরান হাসান

      এক্কেরে সঠিক কথা বলছেন সাদাত ভাই  নাস্তিক হইলেই বিজ্ঞানমনা হওয়া যায়!

    2. 5.2
      শামস

      @সাদাত,
      যাক আপনারে পাওয়া গেল- একটা পার্টি দেয়া দরকার!
       
      এটা ঠিক বলছেন। অক্ষামের ক্ষুর দিয়া বাকী সব কাইটা কুইটা এই সরলটাই থাকে-

      আরো সোজা করে বললে বলা যায়, নাস্তিক হইলেই বিজ্ঞানমনা হওয়া যায়!

  5. 4
    আলোক যাত্রী

    পুরাই মুলিবাশা দিছেন ভাই … মজা পাইলাম …  

    1. 4.1
      শামস

      রসময়গুপ্তের রস ছাড়াই আপনি মজা পাইছেন এজন্য আপনাকে ধন্যবাদ!

  6. 3
    স্যাগেশাস শহীদ

    ///আমজনতা বইলা প্রায়ই টাস্কি খাই, নাস্তিকরা মনে হয় সব বিজ্ঞানের ছাত্র।///

    Not just student, they all are Scientist…:p

    1. 3.1
      শামস

      @স্যাগেশাস শহীদ,
      হুম! অনারারী (!) সাইন্টিস্ট!

  7. 2
    এস. এম. রায়হান

    'অবিশ্বাসের দর্শন' আর 'মাকাল ফলের দর্শন' একই কথা। তবে যারা ধর্মের মতো করে 'অবিশ্বাসের দর্শন' প্রচার করছে তারা আসলে পরোক্ষভাবে সনাতন ধর্মের প্রচারক -- তাদের দাবি অনুযায়ীই সনাতন ধর্মে আস্তিকতা ও নাস্তিকতা উভয়ই আছে। এমনকি আমু ব্লগে এক ব্রাহ্মণের দাবি অনুযায়ী সনাতন ধর্মে নাস্তিকরাও নাকি স্বর্গে যাবে! কতটা 'মানবিক ও সহিষ্ণু' ধর্ম চিন্তা করেন। তার এই দাবি নিয়ে কোন একজন নাস্তিকও প্রতিবাদ করেনি। বাংলা নাস্তিকরা তাহলে কারা বুঝতেই পারছেন। তাদের বিশ্বস্ত মুখপাত্র আঃ মাহমুদ তো এই কথা শুনে মহা খুশী- এই ভেবে যে তার স্বর্গ নিশ্চিত। সেই ব্রাহ্মণের পদতলে মাথা রেখে তার সাথে সুর মিলিয়ে সে মুসলিমদেরকে ভণ্ড, মিথ্যাবাদীও বলেছে।

    মুনাফিকদের উটের মুত্রে নাস্তিকরা তাই ভাগ চায়!!!

    1. 2.1
      শামস

      @এস.এম.রায়হান,
      তাদের দাবি অনুযায়ীই সনাতন ধর্মে আস্তিকতা ও নাস্তিকতা উভয়ই আছে। এমনকি আমু ব্লগে এক ব্রাহ্মণের দাবি অনুযায়ী সনাতন ধর্মে নাস্তিকরাও নাকি স্বর্গে যাবে! 
       
      হাহাহাহাহহাহ……

  8. 1
    জনিকা

     
    হুমমম….মনের খেদ ঝাড়লেন…:) আসলে "চোরে না শোনে ধর্মের বাণী"।
     
    "উটের মুত্র খাওয়া লোকগুলা আসলে মুসলিম না, মুনাফিক! মুনাফিকদের উটের মুত্রে নাস্তিকরা তাই ভাগ চায়!!!" ভালো বলেছেন…(এডিট করেছেন বোধহয়) আগের কথাটাও মন্দ ছিল না! এরা ভ্রাতাই।
     
    ভালো থাকুন।
    (একটু বানান সতর্কতা :))

    1. 1.1
      ইমরান হাসান

      আর কি বলব এদের জন্য। আমাদের শ্রদ্ধেয়(!) আসিফ মামা তো এটাকে অন্ধকার চিরে বেরিয়ে আসা আলোকরশ্মি নাম দিতেও  দ্বিধা বোধ করেননি। এই একটা বই কে নিয়ে নাস্তিকেরা লাফালাফি করে পুরো ব্লগ নোংরা করে ফেলছে। এটাকে ঠেকানোর জন্য বিশ্বাস এর দর্শন লিখা উচিত নাতো  তেনারা আমাদেরকে গণ্ডমূর্খ মনে করবেন 

      1. 1.1.1
        শামস

        @ইমরান হাসান,
        আপনি যেই বই এর কথা বলছেন সেটার ব্যাপারে ধারণা নাই! এটা ইসলাম বিদ্বেষী নাস্তিকদের সাধারণ দর্শনের (!!) উপর হালকার উপর ঝাপটা!
        তাদের ভিত্তি থাকে কিভাবে? আসলে এরা ইসলাম বিদ্বেষী, আগেতো নাস্তিক হবে তারপরই না দর্শন!

    2. 1.2
      শামস

      @জনিকা,
      তাদের উচুমার্গের দর্শনের উপর একটু আলোকপাত করলাম আরকি!
      ভালো থাকুন।
       

Leave a Reply

Your email address will not be published.